বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
১১ আষাঢ় ১৪৩৩

স্বপ্নভঙ্গের বেদনা আর ছয়টি গুলি

বাজ্জোর পেনাল্টি গেল বার উঁচিয়ে, শিরোপার উদযাপন ব্রাজিল গোলকিপারের
আপডেটেড
১৩ নভেম্বর, ২০২২ ১০:০৫
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৩ নভেম্বর, ২০২২ ১০:০৫

মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম বিশ্বকাপ। জুন-জুলাইয়ের টান ভুলে নভেম্বর-ডিসেম্বরেই প্রথম বিশ্বকাপ। আয়োজকদের নিয়ে সবচেয়ে বিতর্ক সৃষ্টিকারীও হয়তো। দেখতে দেখতে অপেক্ষা ফুরিয়ে আসছে, বিশ্বকাপের আর ৭ দিন বাকি। বিশ্বকাপের আগের আসরগুলো নিয়ে ধারাবাহিকের ত্রয়োদশ পর্বে আজ স্মৃতি ফিরছে ১৯৯৪ বিশ্বকাপে।

পূর্বাভাস বুঝি একেই বলে!

পেনাল্টি মিসের দুটি ছবি। এক ছবি দিয়েছিল ১৯৯৪ বিশ্বকাপ শুরুর বার্তা, আরেক ছবি দিয়ে পর্দা নেমেছিল টুর্নামেন্টের। মাহাত্ম্য, গুরুত্ব, প্রভাবের দিক দিয়ে দুই পেনাল্টি মিসের তুলনা চলে না কোনোভাবেই। প্রথম মিসটা দ্বিতীয়টির চেয়ে যোজন যোজন পিছিয়ে।

প্রথম পেনাল্টিটা তো সে অর্থে পেনাল্টিই নয়। সেটি আলংকারিক, আনুষ্ঠানিক। বক্সের ভেতরে থেকে এমনিই একটি শট নেয়া। দ্বিতীয়টি একজন ফুটবলারের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিরোপা নির্ধারণের ঠিক আগ মুহূর্তের। প্রথমটি মিস করা ব্যক্তির কিছুই আসে যায়নি, এখনো মনে পড়লে হয়তো হেসে উড়িয়ে দেন তিনি। পরেরটি যিনি মিস করেছেন, তাকে হতাশার গ্লানি বয়ে বেড়াতে হচ্ছে এখনো। বয়ে বেড়াতে হবে আজীবন।

প্রথমজন ডায়ানা রস। দ্বিতীয়জন রবের্তো বাজ্জো। প্রথমজনকে না চিনলেও সমস্যা নেই, আপনাকে কেউ শূলে চড়াবে না। দ্বিতীয়জনকে ফুটবলপ্রেমী মাত্রই চিনবেন। ফুটবল মাঠে যার নৈপুণ্যকে প্রায়ই ছাপিয়ে যায় ওই পেনাল্টি মিসের হতাশা। ১৯৯৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে বাজ্জোর ওই মিসই নিশ্চিত করেছিল দুই যুগ পর বিশ্বকাপে বিজয়মাল্য শোভা পাচ্ছে ব্রাজিলিয়ানদের গলায়। আর কয় মাস আগেই বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়ের উপাধি পাওয়া বাজ্জোর ইতালিকে ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে।

ডায়ানা রসের পেনাল্টির ওপর অবশ্য বাজ্জোর মতো জাতিগত স্বপ্নের বাঁচা-মরা নির্ভর করছিল না। পেনাল্টিটা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের ওই গায়িকার পারফরম্যান্সের শোভাই বাড়িয়েছিল শুধু। কথা ছিল, গান গাইতে গাইতে বলে লাথি মারবেন ডায়ানা, পোস্টের সামনে গোলকিপার থাকলেও বল আটকানো হবে না। বল জড়াবে জালে, আর সঙ্গে সঙ্গে দুই ভাগ হয়ে যাবে গোলপোস্ট। ডায়ানা সে পেনাল্টি মেরেছিলেন অনেক অনেক বাইরে। তাতে কী! গোলপোস্ট ভাগ ঠিকই হয়েছিল। তা দেখে হয়তো মৃদু হেসেছেন বিশ্বের তাবৎ ফুটবলপ্রেমীরা। যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব দেয়ার খবর শুনে ইউরোপের এক নামকরা সাংবাদিক বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ আয়োজন করা আর আফ্রিকায় আইস-স্কি আয়োজন করার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।’ ডায়ানার মিস দেখে তিনিও ওই হেসে খুন হওয়াদের দলেই ছিলেন হয়তো!


নকআউটে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ কে, সমীকরণ কী বলছে?

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৫ জুন, ২০২৬ ১২:১৩
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা এখন রাউন্ড অব ৩২-এর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।

আগামী ২৯ জুন (সোমবার) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় হিউস্টনে শেষ ৩২-এর ম্যাচ খেলবে সেলেসাওরা। তবে এখনো নিশ্চিত হয়নি তাদের প্রতিপক্ষ। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় ব্রাজিল রাউন্ড অব ৩২-এ মুখোমুখি হবে ‘এফ’ গ্রুপের রানার্সআপ দলের।

বর্তমানে ব্রাজিলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে নেদারল্যান্ডস, জাপান ও সুইডেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় শেষ হওয়া ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচগুলোর পর।

গ্রুপের শেষ রাউন্ডে একই সময়ে মাঠে নামবে নেদারল্যান্ডস ও তিউনিসিয়া, অন্য ম্যাচে মুখোমুখি হবে জাপান ও সুইডেন।

দুই ম্যাচ শেষে ‘এফ’ গ্রুপের অবস্থান নির্ধারণ হবে। বর্তমানে নেদারল্যান্ডস ও জাপান সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষ দুই স্থানে রয়েছে। গোল ব্যবধানেও দুই দল সমান (+৪), তবে বেশি গোল করায় এগিয়ে রয়েছে ডাচরা। অন্যদিকে সুইডেনের সংগ্রহ ৩ পয়েন্ট। তিউনিসিয়া ইতোমধ্যেই বিদায় নিশ্চিত করেছে।

সুইডেনের সমীকরণ

সুইডেন যদি ব্রাজিলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে চায়, তাহলে তাদের জাপানকে হারাতে হবে। একই সঙ্গে নেদারল্যান্ডসকে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে জিততে হবে। সেক্ষেত্রে ডাচরা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে এবং সুইডেন রানার্সআপ হিসেবে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে।

জাপানের সমীকরণ

জাপান যদি সুইডেনকে হারায় এবং নেদারল্যান্ডস ড্র করে বা হেরে যায়, তাহলে জাপান গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে। তখন ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হবে নেদারল্যান্ডস।

নেদারল্যান্ডসের সমীকরণ

নেদারল্যান্ডস জিতলে এবং জাপান ড্র করলে, জাপান রানার্সআপ হয়ে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হবে। তবে দুই দলই একই ধরনের ফল করলে পয়েন্ট ও গোল ব্যবধানের হিসাব সামনে আসবে।

নেদারল্যান্ডস ও জাপান প্রথম ম্যাচে ২-২ গোলে ড্র করেছিল। ফলে হেড-টু-হেডে কোনো দলই এগিয়ে নয়। পয়েন্ট ও গোল ব্যবধান সমান থাকলে মোট গোলসংখ্যা বিবেচনা করা হবে। বর্তমানে সেই হিসেবে নেদারল্যান্ডস ৭ গোল করে জাপানের ৬ গোলের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে।

সম্ভাব্য সমীকরণ এক নজরে

  • নেদারল্যান্ডস জিতলে এবং জাপান জিতলে: প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস বা জাপান (টাইব্রেকারে নির্ধারিত হবে)।
  • নেদারল্যান্ডস জিতলে এবং জাপান-সুইডেন ড্র করলে: প্রতিপক্ষ জাপান।
  • নেদারল্যান্ডস জিতলে এবং সুইডেন জিতলে: প্রতিপক্ষ সুইডেন।
  • নেদারল্যান্ডস ড্র করলে এবং জাপান জিতলে: প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস।
  • নেদারল্যান্ডস ড্র করলে এবং জাপান-সুইডেন ড্র করলে: প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস বা জাপান (টাইব্রেকারে নির্ধারিত হবে)।
  • নেদারল্যান্ডস ড্র করলে এবং সুইডেন জিতলে: প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস।
  • নেদারল্যান্ডস হারলে এবং জাপান জিতলে: প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস।
  • নেদারল্যান্ডস হারলে এবং জাপান-সুইডেন ড্র করলে: প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস।
  • নেদারল্যান্ডস হারলে এবং সুইডেন জিতলে: প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস বা জাপান (টাইব্রেকারে নির্ধারিত হবে)।

এখন দেখার বিষয়, ‘এফ’ গ্রুপের শেষ রাউন্ডের নাটকীয়তা শেষে ব্রাজিলের সামনে দাঁড়ায় কোন প্রতিপক্ষ।


দক্ষিণ কোরিয়াকে স্তব্ধ করে প্রথমবারের মতো নকআউটে দক্ষিণ আফ্রিকা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

মেক্সিকোর মন্টারি স্টেডিয়ামে তলানিতে থেকে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মাঠে নামা দক্ষিণ আফ্রিকা শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে পরাজিত করে এক নতুন রূপকথা লিখেছে। এই স্মরণীয় জয়ের মাধ্যমে ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে বা শেষ ৩২-এ নিজেদের স্থান নিশ্চিত করল আফ্রিকান দেশটি।

ম্যাচের শুরু থেকেই শক্তির বিচারে যোজন যোজন এগিয়ে থাকা দক্ষিণ কোরিয়া মাঠের নিয়ন্ত্রণে আধিপত্য বিস্তার করলেও গোল পেতে ব্যর্থ হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার লড়াকু ফুটবলের সামনে কোরিয়ানদের সব আক্রমণই ভেস্তে যায়। দলের পক্ষে ম্যাচের একমাত্র ও মহামূল্যবান জয়সূচক গোলটি করেন থাপেলো মাসেকো। তবে এই ঐতিহাসিক জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন আফ্রিকান গোলরক্ষক রোয়েন উইলিয়ামস। পুরো ম্যাচজুড়ে তিনি কোরিয়ান স্ট্রাইকারদের সামনে এক দুর্ভেদ্য দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, যার অসামান্য নৈপুণ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের জাল অক্ষত রাখতে সক্ষম হয়।

এই রোমাঞ্চকর ফলাফলের পর দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় অবস্থানে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে এবং পরবর্তী রাউন্ডে তারা শক্তিশালী কানাডার মুখোমুখি হবে। অন্যদিকে, আগে একটি ম্যাচ জেতায় ৩ পয়েন্ট থাকলেও গ্রুপের তৃতীয় স্থানে নেমে যাওয়া দক্ষিণ কোরিয়াকে এখন টুর্নামেন্টে টিকে থাকার জন্য অন্যান্য গ্রুপের ফলাফলের ওপর বা ভাগ্যের ওপর নির্ভর করতে হবে।


নেইমারের ফেরার ম্যাচে ভিনির জোড়া গোলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে ব্রাজিল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

নিজেদের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জুনিয়রকে আবার মাঠে পেতে ব্রাজিলকে অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ ৭৮১ দিন। চোটজর্জর সময় পেরিয়ে তার প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে অবশ্য মাঠের আলোটা কাড়লেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ম্যাথিউস কুনহা। তাদের গোলেই স্কটল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ব্রাজিল।

মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল সেলেসাওরা। মাত্র সপ্তম মিনিটেই ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। স্কটল্যান্ডের সেন্টার-ব্যাক স্কট ম্যাককেনার ভুলে পাওয়া সুযোগটি কাজে লাগাতে ভুল করেননি তিনি। স্কটিশ গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গুনকে কাটিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্রুনো গুইমারেসের বাড়ানো দারুণ ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ভিনি। চলতি বিশ্বকাপে সেটি ছিল তার চতুর্থ গোল।

প্রথমার্ধেই দুই গোলে পিছিয়ে পড়া স্কটল্যান্ড বিরতির পর ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। একের পর এক আক্রমণও চালায় তারা। তবে ব্রাজিলের গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার হয়ে ওঠেন তাদের সবচেয়ে বড় বাধা। গোললাইন থেকে একাধিক বল ফিরিয়ে স্কটিশদের হতাশ করেন তিনি। উল্টো ৬০তম মিনিটে আবারও গোল হজম করে বসে স্কটল্যান্ড। ব্রুনো গুইমারেসের দ্বিতীয় অ্যাসিস্ট থেকে নিজের তৃতীয় গোলটি করেন ম্যাথিউস কুনহা। গোলের পর স্বভাবসুলভ সার্ফার ভঙ্গির উদযাপনে মেতে ওঠেন তিনি, যোগ দেন লুকাস পাকেতাও।

অনেক দিন ধরে নির্ভরযোগ্য নাম্বার নাইন খুঁজতে থাকা ব্রাজিলের জন্য কুনহা যেন হয়ে উঠছেন সেই কাঙ্ক্ষিত সমাধান। আগের ম্যাচে হাইতির বিপক্ষেও জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেও গোল করে নিজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেন এই ফরোয়ার্ড।

ম্যাচে আরও কয়েকটি সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে জয়ের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত ব্রাজিলের। তবে ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবরের পর নেইমারের প্রত্যাবর্তন, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দাপুটে জয় এবং গ্রুপসেরা হয়ে নকআউটে ওঠা, সব মিলিয়ে সন্তুষ্ট থাকারই কথা পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে স্কটল্যান্ডের একের পর এক আক্রমণ সামলে অ্যালিসনের দুর্দান্ত সেভগুলো ব্রাজিলকে বড় স্বস্তি দিয়েছে। স্কটিশ তারকা স্কট ম্যাকটোমিনের একাধিক প্রচেষ্টা রুখে দিয়েছেন তিনি।

পরিসংখ্যানেও ছিল ব্রাজিলের আধিপত্য। প্রথমার্ধে বলের দখলে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে খেলার নিয়ন্ত্রণ নেয় আনচেলত্তির দল। ম্যাচে তারা মোট ২১টি শট নেয়, যার ৮টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে স্কটল্যান্ড ৯টি শটের ৫টি লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে। তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে থেকে শেষ করেছে ব্রাজিল। আর ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থেকে বিদায় নিয়েছে স্কটল্যান্ড।

তবে এই জয়ের আরেকটি বড় গল্প ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ঘিরে। চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করেছেন তিনি। মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে দলের একমাত্র গোল, হাইতির বিপক্ষে আরেকটি গোল, আর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল, সব মিলিয়ে তিন ম্যাচ শেষে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারটিতে।

ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে একটি বিশেষ পরিসংখ্যান আছে। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচে যে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার গোল করেছেন, শেষ পর্যন্ত তার হাতেই উঠেছে বিশ্বকাপের ট্রফি। ১৯৭০ সালে জাইরজিনিও, ১৯৯৪ সালে রোমারিও এবং ২০০২ সালে রোনালদো নাজারিও ও রিভালদো এই কীর্তি গড়েছিলেন। কাকতালীয়ভাবে প্রতিবারই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাজিল। সেই ইতিহাসই এবার নতুন করে আলোচনায় এনে দিয়েছেন ভিনিসিয়ুস।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে চার গোল করা মাত্র চতুর্থ ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার হিসেবেও ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন তিনি। তার আগে এই কীর্তি ছিল জাইরজিনিও, রোনালদো এবং নেইমারের। ১৯৭০ বিশ্বকাপে জাইরজিনিও চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে দুটি এবং ইংল্যান্ড ও রোমানিয়ার বিপক্ষে একটি করে গোল করেছিলেন। ২০০২ সালে রোনালদো তুরস্ক ও চীনের বিপক্ষে একটি করে এবং কোস্টারিকার বিপক্ষে দুটি গোল করেন। ২০১৪ বিশ্বকাপে নেইমার ক্রোয়েশিয়া ও ক্যামেরুনের বিপক্ষে দুটি করে গোল করলেও মেক্সিকোর বিপক্ষে গোল পাননি।

এখন ভিনিসিয়ুসের সামনে আরও বড় মঞ্চ। গ্রুপ পর্বে চার গোল করলেও জাইরজিনিও সেই বিশ্বকাপ শেষ করেছিলেন সাত গোল নিয়ে, আর ২০০২ সালে আট গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন রোনালদো। ফলে নকআউট পর্বে নিজের এই দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রাখতে পারলে শুধু কিংবদন্তিদের পাশে নাম লেখানোই নয়, গোলসংখ্যায় তাদের ছাড়িয়ে যাওয়ারও সুযোগ আছে ভিনিসিয়ুসের সামনে।

নেইমারের প্রত্যাবর্তনের আনন্দ, কুনহার গোলের ধারাবাহিকতা, অ্যালিসনের নির্ভরতা আর ভিনিসিয়ুসের টানা গোল, সব মিলিয়ে ব্রাজিলের শিবিরে এখন নতুন আশার আলো। ইতিহাস যদি আবারও একই পথে হাঁটে, তবে ভিনিসিয়ুসের এই ধারাবাহিকতা সেলেসাওদের ‘হেক্সা’ স্বপ্নকে আরও জোরালো করেই তুলছে।


ডিআর কঙ্গোকে হারিয়ে নকআউট পর্বে কলম্বিয়া

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ফিফা বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে নিজেদের টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী দল কলম্বিয়া। মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘কে’ গ্রুপের অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোকে (ডিআর কঙ্গো) ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। এই জয়ের ফলে প্রথম দল হিসেবে এই গ্রুপ থেকে বিশ্বকাপের শেষ ৩২ বা নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল কলম্বিয়া।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় কলম্বিয়া। তবে প্রথমার্ধে কঙ্গোর জমাট রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসির দুর্দান্ত কিছু সেভের কারণে ডেডলক ভাঙতে পারেনি লাতিন আমেরিকার দলটি। উল্টো ম্যাচের ৮ম মিনিটে দানিয়েল মুনিয়োজের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। ফলে প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয় গোলশূন্য ব্যবধানেই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও কলম্বিয়ার ফরোয়ার্ডদের বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল। অবশেষে ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে ডেডলক ভাঙেন দানিয়েল মুনিয়োজ। ডান প্রান্ত থেকে কলম্বিয়ার আক্রমণভাগের চমৎকার এক বিল্ড-আপে রক্ষণভাগ চিরে বক্সের ভেতর মাপা ক্রস বাড়িয়েছিলেন দলের এক উইঙ্গার। কঙ্গোর ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে পোস্টের খুব কাছ থেকে প্রথম স্পর্শেই দারুণ ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান এই ডিফেন্ডার।

মুনিয়োজের গোলের পর ম্যাচের ৮০ মিনিটে তারকা ফরোয়ার্ড লুইস দিয়াজ আরও একটি দর্শনীয় গোল করলেও সেটিও অফসাইডের ফাঁদে পড়ে বাতিল হয়ে যায়। এরপর ম্যাচের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে কলম্বিয়া। ২ ম্যাচে ২ জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘কে’ গ্রুপের টেবিলের শীর্ষে এখন কলম্বিয়া। অন্যদিকে সমান ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে পর্তুগাল দ্বিতীয়, ১ পয়েন্ট নিয়ে কঙ্গো তৃতীয় এবং কোনো পয়েন্ট না পেয়ে টেবিলের তলানিতে রয়েছে উজবেকিস্তান।


ইংল্যান্ড-ঘানা ম্যাচে আফ্রিকান ‘কালো জাদু’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ও ঘানার মধ্যকার গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হওয়ার পর ফুটবল বিশ্বে এক অদ্ভুত ও রসাত্মক আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। খাতায়-কলমে অনেক এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও ইংলিশরা এই ম্যাচে আফ্রিকার দলটিকে হারাতে পারেনি, এমনকি দলের প্রধান তারকা হ্যারি কেইনও ছিলেন সম্পূর্ণ গোলহীন। থ্রি লায়ন্সদের এমন নিষ্ক্রিয়তার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ক্রীড়া মহলে আফ্রিকান ঐতিহ্যবাহী কালো জাদু বা ‘জুজু’ চর্চা নিয়ে তুমুল আলোচনা ও হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘ডেইলি স্টার’-এর কাছে ম্যাচ শুরুর আগে দেওয়া ঘানার এক তান্ত্রিক ওঝা নানা কিয়াঙ্কু বোন্সামের একটি অদ্ভুত দাবি। তিনি ম্যাচ শুরুর আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে, ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ও তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনের ওপর তিনি এমন এক বিশেষ কালো জাদুর অভিশাপ দিয়েছেন, যার প্রভাবে কেইন এই ম্যাচে কোনোভাবেই গোলের দেখা পাবেন না। পরবর্তীতে ম্যাচের মাঠে হ্যারি কেইনের একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া করার ঘটনা এই দাবিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল করে তোলে।

ম্যাচটিতে ইংল্যান্ড একের পর এক আক্রমণ করলেও ঘানার জমাট রক্ষণভাগের কারণে গোলমুখ খুলতে ব্যর্থ হয়। ম্যাচের শেষভাগে নিকো ও’রেইলির একটি নিশ্চিত হেড গোলপোস্টের ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হওয়ার পর সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্তটি আসে একদম শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগ মুহূর্তে। হ্যারি কেইন গোলপোস্টের একদম সামনে অত্যন্ত সহজ ও ফাঁকা এক সুযোগ পেয়েও বল অবিশ্বাস্যভাবে পোস্টের অনেক ওপর দিয়ে সীমানার বাইরে মারেন। কেইনের মতো বিশ্বমানের স্ট্রাইকারের এমন সহজ মিসের পর গ্যালারিতে ঘানার সমর্থকদের সাদা পাউডার ছিটিয়ে প্রার্থনা করার ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে।

ম্যাচটি ড্র হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিমের বন্যা বয়ে যায় এবং সমর্থকরা রসিকতা করে বলতে থাকেন যে ঘানার ওঝার কালো জাদু সত্যিই কাজ করেছে। ম্যাচ শেষে এই অতিপ্রাকৃতিক ও অদ্ভুত আবহকে অবশ্য হাসিমুখে এবং রসিকতার ছলেই মেনে নিয়েছেন ইংলিশ ফুটবলাররা। দলের তারকা মিডফিল্ডার ডেক্লান রাইস ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমে বলেন, “আমরা শট, হেডার, সেট-পিস—সব কিছু দিয়েই চেষ্টা করেছি কিন্তু কোনোটিই আজ জালে জড়ায়নি। কে জানে, হয়তো ঘানার কালো জাদুই আজ মাঠে কাজ করছিল!”


বিশ্বকাপের ফাইনালে বিজয়ীদের ট্রফি তুলে দেবেন ট্রাম্প: ফিফা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো। মঙ্গলবার (২৩ জুন) আমেরিকান সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খোদ ফিফা প্রধান।

সাক্ষাৎকারে জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো বলেন, “আমরা প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প)-এর সঙ্গে থাকব, ফাইনাল উপভোগ করব এবং অবশ্যই একসঙ্গে বিজয়ীর হাতে ট্রফি তুলে দেব। আমরা সব সময়ই একসঙ্গে আছি।” তাঁর এই বক্তব্যের একটি অংশ পরবর্তীতে হোয়াইট হাউসের অফিশিয়াল ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকেও প্রকাশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০২৬ বিশ্বকাপের এই মেগা ফাইনাল আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ট্রাম্পের ব্যক্তিগত খেলাধুলা প্রীতির কথা সবার জানা থাকলেও এই টুর্নামেন্টের কোনো ম্যাচেই তাঁকে এখন পর্যন্ত মাঠে দেখা যায়নি। ফলে ফাইনালের মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে এক ধরনের ধোঁয়াশা ছিল। ইনফ্যান্তিনোর এই বক্তব্যের মাধ্যমে সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল। এর আগেও এই দুই ব্যক্তিত্বকে বড় কোনো আসরের পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে একসাথে দেখা গেছে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত প্রথম ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে চেলসি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তাঁরা যৌথভাবে পুরস্কার প্রদান করেছিলেন।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যদিও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই ভিডিওটি শেয়ার করা হয়েছে, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেননি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই ক্রীড়া যজ্ঞের সমাপনী দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরব উপস্থিতি ফুটবল বিশ্বের জন্য একটি বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল যেসব দল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ড শেষ হওয়ার আগেই অনেক দলের জন্য বেজে উঠেছে বিদায়ের ঘণ্টা। মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করলেও পর্যাপ্ত পয়েন্ট ও গোলের অভাবে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়েছে বেশ কয়েকটি দল। স্বপ্নভঙ্গের এই তালিকায় সবশেষ যুক্ত হয়েছে মধ্য আমেরিকার দেশ পানামা।

গ্রুপ ‘এল’-এ টিকে থাকার মরণপণ লড়াইয়ে ক্রোয়েশিয়া ও ঘানার কাছে টানা দুই হারে বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হলো পানামার। বৃষ্টিস্নাত ম্যাচে ঘানার বিপক্ষে ১-০ গোলের হার তাদের নকআউটে ওঠার শেষ আশাটুকুও ধূলিসাৎ করে দেয়। বাণিজ্যিক কারণে ম্যাচের মাঝে অতিরিক্ত ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ নিয়ে পানামা কোচ থমাস ক্রিস্টিয়ানসেন ক্ষোভ প্রকাশ করলেও তা মাঠের ফলাফল বদলাতে পারেনি। একইভাবে বিদায় নিয়েছে বিশ্বকাপের ডার্ক হর্স হিসেবে পরিচিত তুরস্ক। আর্দা গুলারদের এই দল দুই ম্যাচে অবিশ্বাস্যভাবে ৬২টি শট নিয়েও কোনো গোল করতে না পারার এক হতাশার রেকর্ড গড়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারের পর ১০ জনের প্যারাগুয়ের বিপক্ষেও গোলশূন্য থাকায় তাদের যাত্রা এখানেই থেমে গেল।

দীর্ঘ ৫২ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফেরা ক্যারিবীয় দেশ হাইতির অভিযানও বেশি দূর এগোতে পারেনি। স্কটল্যান্ডের কাছে ন্যূনতম ব্যবধানে পরাজয়ের পর শক্তিশালী ব্রাজিলের কাছে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে ৮৩ নম্বর র‍্যাঙ্কিংয়ের এই দলটিকে। অন্যদিকে, আফ্রিকার প্রতিনিধি তিউনিসিয়াও একই ভাগ্যের শিকার হয়েছে। সুইডেনের কাছে বড় হারের পর প্রধান কোচ সাব্রি লামুশিকে সরিয়ে হার্ভে রেনার্ডকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। বিশ্বকাপের ১০০০তম ম্যাচে জাপানের কাছে ৪-০ গোলে হেরে তিউনিসিয়াও টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়েছে।

প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া জর্ডান অবশ্য লড়াই করে বিদায় নিয়েছে। আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেললেও তারা মাঠ ছাড়েনি অনায়াসেই। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আলি ওলওয়ান জর্ডানের বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম গোলটি উপহার দেন। আলজেরিয়ার বিপক্ষে লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে হেরে তাদের স্বপ্নভঙ্গ হয়। আপাতত পানামা, তুরস্ক, হাইতি, তিউনিসিয়া এবং জর্ডান—এই পাঁচটি দলের বিদায় নিশ্চিত হয়েছে। গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোর পর এই তালিকায় আরও কিছু নাম যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


ভস্ম থেকে ফিনিক্সের মতো উত্থান, ইতিহাসের নতুন চূড়ায় রোনালদো

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শামীম চৌধুরী

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জন্য বয়স যে শুধুই একটি সাধারণ সংখ্যা, তার প্রমাণ তিনি আবারও দিলেন টেক্সাসের হিউস্টন স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায়। যখন বিশ্বজুড়ে সমালোচকরা তাঁর অবসরের প্রহর গুনছিলেন, ঠিক তখনই ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা ভস্ম থেকে জেগে উঠলেন এক অপরাজেয় ফিনিক্সের মতো। মঙ্গলবার উজবেকিস্তানের বিপক্ষে পর্তুগালের ৫-০ গোলের বিশাল জয়ের রাতে রোনালদো কেবল গোলই করেননি, বরং ফুটবল ইতিহাসের পাতায় খোদাই করেছেন নতুন এক রাজকীয় অধ্যায়।

ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ব্রডকাস্টিং ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে এই পর্তুগিজ মহাতারকা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি ভক্তের উদ্দেশে স্বভাবসুলভ দম্ভ আর দাপটের সঙ্গে বললেন, “আমি ফিরে এসেছি, আমি ফিরে এসেছি।” তাঁর এই ঘোষণায় যেন মিশে ছিল চারদিক থেকে ধেয়ে আসা সব সমালোচনার মোক্ষম জবাব। উল্লেখ্য যে, চলতি বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ছন্দহীন পারফরম্যান্সের কারণে ফুটবল মহলে তাঁকে ‘দলের বোঝা’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। এমনকি শুরুর একাদশে তাঁর জায়গা পাওয়া নিয়েও কড়া প্রশ্ন তুলেছিলেন বিশ্লেষকরা। তবে হিউস্টনে রোনালদো যেন অপেক্ষায় ছিলেন সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য।

ম্যাচের মাত্র ৬ষ্ঠ মিনিটে সমালোচনার সব জাল ছিন্ন করে উৎসবের সূচনা করেন সিআরসেভেন। হোয়াও কানসেলোর নিখুঁত ক্রস থেকে চমৎকার এক ভলিতে গোল করে তিনি ফুটবল ইতিহাসের প্রথম পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন ৬টি বিশ্বকাপে গোল করার অবিস্মরণীয় বিশ্বরেকর্ড গড়েন। এই অনন্য রেকর্ড গড়ার পথে তিনি পেছনে ফেলেছেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসিকে, যিনি ৫টি বিশ্বকাপে গোল করেছিলেন। এখানেই শেষ নয়, ৩৯তম মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজের বুদ্ধিদীপ্ত পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করে পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে কিংবদন্তি ইউসেবিওকে (৯ গোল) ছাড়িয়ে যান তিনি। বিশ্বকাপে এখন রোনালদোর মোট গোল ১০টি।

রোনালদোর এই প্রত্যাবর্তন ছিল হার না মানা এক মানসিকতার প্রতিফলন। ৪১ বছর ১৩৮ দিন বয়সে এই জোড়া গোল করে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে এক ম্যাচে জোড়া গোলের বিশ্বরেকর্ডটিও নিজের করে নিলেন। মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ৩৮ বছর বয়সে জোড়া গোল করে লিওনেল মেসি যে রেকর্ড গড়েছিলেন, পর্তুগিজ মহাতারকা তা মুহূর্তের মধ্যেই ভেঙে দিলেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে রেকর্ড ১৪৫টি গোলের মালিক এই কিংবদন্তি এখন ক্যারিয়ারের ১০০০ গোলের মাইলফলক থেকে মাত্র ২৫ কদম দূরে দাঁড়িয়ে।

পর্তুগালের বড় জয়ের পর তৃপ্ত রোনালদো বলেন, “এটা খুব আনন্দের, তবে সবচেয়ে বড় কথা সমালোচনা পেছনে ফেলে দল জিতেছে এবং আমরা সঠিক কক্ষপথে আছি। আমাদের লক্ষ্য এখন অনেক দূরে।” বর্তমানে ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘কে’ গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে পর্তুগাল। তাঁর এই অসামান্য পারফরম্যান্স নিয়ে ফুটবল বিশ্বে এখন প্রশংসার জোয়ার বইছে। মানুষের মানবিক সামর্থ্য যেখানে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, সেখান থেকেই যেন রোনালদোর জয়যাত্রা শুরু হয়—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সাফল্যের জন্য যাঁর আজীবনের তৃষ্ণা, সেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আবারও প্রমাণ করলেন কেন তিনি বিশ্ব ফুটবলের অনন্য এক নক্ষত্র।


বিশ্ব রেকর্ডের মুকুট মাথায় মেসির নতুন বসন্ত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৪ জুন, ২০২৬ ১০:৪৮
ক্রীড়া ডেস্ক

২৪ জুন—বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৮৭ সালের এই দিনে আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এক বিস্ময় বালক, যার জাদুকরী বাঁ পা পরবর্তীতে ফুটবল খেলার সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছে। তিনি লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। আজ তিনি জীবনের ৩৯তম বসন্তে পা দিলেন। বয়সের ভারকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে আজও তিনি কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়ে রাজত্ব করছেন এক জীবন্ত কিংবদন্তি হিসেবে।

মেসির ফুটবল ক্যারিয়ার যেন এক রূপকথার মহাকাব্য। শৈশবে গ্রোথ হরমোনের মতো গুরুতর শারীরিক সমস্যা জয় করে বার্সেলোনার ‘লা মাসিয়া’ একাডেমি থেকে শুরু হওয়া তাঁর এই যাত্রা আজ ইন্টার মায়ামির মাঠেও একইভাবে উজ্জ্বল। বার্সেলোনার জার্সিতে সম্ভাব্য সকল ক্লাব শিরোপা জয় এবং রেকর্ডসংখ্যক আটটি ব্যালন ডি’অর জিতে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য এক উচ্চতায়। তাঁকে বলা হয় ‘রেকর্ডের বরপুত্র’, কারণ মাঠে নামলেই কোনো না কোনো নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেন তিনি। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরে তিনি কেবল আর্জেন্টিনার ৩৬ বছরের আক্ষেপই মেটাননি, বরং সর্বকালের সেরা নিয়ে সকল বিতর্কের চিরস্থায়ী অবসান ঘটিয়েছেন। বিশেষ করে জন্মদিনের ঠিক দুদিন আগে বিশ্বকাপে নিজের ১৮তম গোল করে মিরোস্লাভ ক্লোসাকে টপকে বিশ্বমঞ্চের সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুট নিজের করে নিয়েছেন তিনি।

সাধারণত ফুটবলারদের ক্যারিয়ার যখন ৩০-এর কোঠায় ফুরিয়ে আসে, তখন ৩৯ বছর বয়সেও মেসি নিজেকে আরও ক্ষুরধার প্রমাণ করছেন। বর্তমান ও গত বিশ্বকাপে তিনি যেভাবে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তা তরুণ ফুটবলারদের কাছে এক বড় দৃষ্টান্ত। চলতি আসরে আর্জেন্টিনার প্রথম পাঁচটি গোলের সবকটিই এসেছে তাঁর পা থেকে, যা তাঁর অতুলনীয় প্রভাবকে আরও একবার বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে। ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর কেবল সেই ক্লাবই নয়, পুরো যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের চেহারাই বদলে দিয়েছেন এই কিংবদন্তি।

বারবার ফাইনালে হেরেও হাল না ছেড়ে ফিরে আসার অদম্য মানসিকতা মেসিকে পৌঁছে দিয়েছে সাফল্যের শিখরে। তাঁর ৩৯তম জন্মদিনে বিশ্বজুড়ে অগণিত ভক্তের প্রার্থনা ফুটবলের এই জাদুকর যেন আরও কিছুদিন তাঁর পায়ের কারিশমা দিয়ে দর্শকদের মোহিত রাখেন। পেলে ও ম্যারাডোনার উত্তরসূরি হিসেবে ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে তাঁর নাম। শুভ জন্মদিন লিওনেল মেসি—ফুটবল প্রেমীদের প্রতিটি মুহূর্ত রাঙিয়ে দেওয়ার জন্য এক বুক কৃতজ্ঞতা। চল্লিশের প্রাক্কালেও ফুটবল বিশ্ব আপনার জাদুর ছোঁয়া উপভোগ করতে চায়।


বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের গোলশূন্য ড্রয়ের বিব্রতকর রেকর্ড

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৪ জুন, ২০২৬ ১০:৪৮
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপের ইতিহাসে গোলশূন্য ড্র করার এক অনন্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়ল ইংল্যান্ড। বোস্টনের সর্বশেষ ম্যাচে ঘানার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করার মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজেদের ১৩তম গোলশূন্য ড্র সম্পন্ন করল থ্রি-লায়ন্সরা। ফুটবল বিশ্বের আর কোনো দলের ন্যূনতম ১০টি ম্যাচও গোলশূন্য ড্র হওয়ার নজির নেই। এই তালিকায় ৯টি গোলশূন্য ড্র নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ব্রাজিল। উরুগুয়ে ৮ বার এবং জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও স্পেন সমান ৭ বার করে এই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছে।

ঘানার বিপক্ষে ম্যাচটি ড্র হওয়ার পর ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল কিছুটা হতাশ কণ্ঠে সংবাদকর্মীদের জানান, গোল না পাওয়ার কারণটি যেন তারা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনকে জিজ্ঞেস করেন। টুখেলের মতে, ইংল্যান্ড গোল করার মতো বেশ কিছু পরিষ্কার সুযোগ পেলেও সেগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, পুরো ম্যাচে ১৯টি শট নিয়েও মাত্র ৩টি লক্ষ্যবস্তুতে রাখতে পেরেছে ইংল্যান্ডের তারকাখচিত আক্রমণভাগ। গত ২৪ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপে এটিই ইংল্যান্ডের প্রথম ম্যাচ যেখানে ১৯টি বা তার বেশি শট নিয়েও তারা জালের দেখা পায়নি। ফরোয়ার্ড বুকায়ো সাকা এবং হ্যারি কেইন কয়েকবার ঘানার গোলরক্ষক বেঞ্জামিন আসারের কঠিন পরীক্ষা নিলেও সফলতা আসেনি।

অন্যদিকে, আফ্রিকান দল ঘানাও ছেড়ে কথা বলেনি। প্রতি-আক্রমণ থেকে তারাও গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল, তবে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ সতর্ক থাকায় বিপদ ঘটেনি। ঘানার গোলরক্ষক তিনটি চমৎকার সেভ করে নিজের দলকে রক্ষা করেন। এর আগে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে উড়িয়ে দেওয়া ইংল্যান্ডকে এ ম্যাচে সেই চিরচেনা ছন্দে দেখা যায়নি। বিশেষ করে ১৯টি শটের বিপরীতে মাত্র ৩টি অন-টার্গেট শট ইংল্যান্ডের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

উল্লেখ্য যে, ১৯৫৮ সালে ব্রাজিল ও সুইডেনের মধ্যকার ম্যাচটি ছিল ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসের প্রথম গোলশূন্য ড্র। সেই ধারায় আজ ইংল্যান্ড ১৩তম বারের মতো ইতিহাস গড়ল। বর্তমানে ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘এল’ গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ইংল্যান্ড। তবে ঘানার বিপক্ষে আজ জয় পেলেই তাদের নকআউট পর্ব নিশ্চিত হয়ে যেত। সমান ৪ পয়েন্ট নিয়েও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় ঘানা রয়েছে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। শেষ ম্যাচে পানামার বিপক্ষে লড়াইয়ের মাধ্যমেই এখন পরের রাউন্ডের ভাগ্য নির্ধারিত হবে টুখেল বাহিনীর।


রোনালদোর জোড়া গোল ও রেকর্ডের রাতে উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে ওড়াল পর্তুগাল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর দ্বিতীয় ম্যাচেই চেনা ছন্দে ফিরেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে তাঁর রেকর্ড গড়া জোড়া গোলের ওপর ভর করে উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে পর্তুগাল। ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা এই ম্যাচেই প্রথম পুরুষ ফুটবলার হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার এক অনন্য ও ঐতিহাসিক কীর্তি গড়েছেন। এই বড় জয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে ওঠার পথে বিশাল এক ধাপ ফেলল সাবেক ইউরোপ চ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই উজবেক রক্ষণভাগের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে পর্তুগাল। ২ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেসের আক্রমণ প্রতিহত হওয়ার পর ৫ম মিনিটে সহজ সুযোগ মিস করেন রোনালদো। তবে ঠিক পরের মিনিটেই (৬ষ্ঠ মিনিটে) জোয়াও কানসেলোর বাড়ানো নিচু ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক গোল করে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন ইতিহাস তৈরি করেন সিআরসেভেন (CR7)। শুরুর এই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ১৭তম মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত নিচু শটে গোল করে পর্তুগালের ব্যবধান ২-০ করেন ডিফেন্ডার নুনো মেন্দেস।

প্রথমার্ধের মাঝপথে উজবেকিস্তান বক্সের বাইরে থেকে গাভিয়েনের এক অবিশ্বাস্য শটে গোল করলেও, বিল্ডআপের সময় কানসেলো ফাউলের শিকার হওয়ায় ভিএআর (VAR) যাচাই করে রেফারি সেই গোলটি বাতিল করেন। এরপর ৩৯তম মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেসের পাস ধরে ডান পায়ের চমৎকার আড়াআড়ি শটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন রোনালদো। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের ১০ম গোল পূর্ণ করে কিংবদন্তি ইউসেবিওকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে পর্তুগালের পক্ষে সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতার নতুন রেকর্ড নিজের করে নেন তিনি। ইনজুরি টাইমে রোনালদোর একটি চিপ গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন উজবেক ডিফেন্ডার খুশানোভ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ৫২ ও ৫৪ মিনিটে ফায়জুল্লায়েভ ও শুকুশভের দুটি বিপজ্জনক আক্রমণ দারুণভাবে নস্যাৎ করে দেয় পর্তুগিজ রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক ডিওগো কোস্তা। এরপর ৬০তম মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেসের কর্নার থেকে জোয়াও ফেলিক্সের চমৎকার ব্যাক-হিল ড্রপ খেয়ে গোললাইনে থাকা খুসানভের গায়ে লেগে প্রতিহত হতে গেলে, দুর্ভাগ্যবশত উজবেক গোলকিপার আব্দুভোখিদ নেমাতভের আত্মঘাতী গোল হিসেবে জালে জড়িয়ে যায়। এর ফলে পর্তুগাল ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এরপর রোনালদো আরও দুইবার হ্যাটট্রিকের কাছাকাছি পৌঁছালেও উজবেক কিপারের চমৎকার সেভে তা আলোর মুখ দেখেনি।

ম্যাচের শেষ দিকে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে আক্রমণভাগ আরও গতিময় করেন রাফা লেয়াও। ৮৭তম মিনিটে নেলসন সেমেদোর একটি কাটব্যাক রোনালদোর উদ্দেশ্যে এলেও তা প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে লেয়াওয়ের সামনে চলে আসে। সুযোগ হাতছাড়া না করে জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে পর্তুগালের ৫-০ ব্যবধানের বিশাল জয় নিশ্চিত করেন এই ফরোয়ার্ড। প্রথম ম্যাচের ড্রয়ের ধাক্কা সামলে এই বিধ্বংসী জয়ের ফলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে গেল রবার্তো মার্তিনেসের শিষ্যরা।


অপ্রতিরোধ্য মেসিকে এমবাপ্পের তাড়া

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোহরাব শাহরিয়ার অভি

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আরও একবার দাপুটে পারফরম্যান্স লিওনেল মেসির। জোড়া গোলে গড়েছেন ইতিহাস। সাবেক জার্মান তারকা মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন লিওনেল মেসি।

চূড়ার সেই আসনে অবশ্য নির্বিঘ্নে থাকতে পারছেন না আর্জেন্টাইন তারকা। তাকে তাড়া করে ফিরছেন ফ্রান্স তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। সর্বোচ্চ গোলের এই রেকর্ডে মেসিকে রীতিমতো চোখ রাঙানি দিচ্ছেন এমবাপ্পে।

মেসির উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের পরই ইরাকের বিপক্ষে মাঠে নামে ফ্রান্স। ঝড়-বৃষ্টিতে পরিবেশ খারাপ হলেও নিজের পারফরম্যান্সে এমবাপ্পে ছিলেন উজ্জ্বল। তিনিও জোড়া গোল করেছেন ইরাকের বিপক্ষে। এতে রেকর্ড গড়েছেন ফরাসি তারকাও।

বিশ্বকাপে ১৪টি গোল নিয়ে ইরাকের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন এমবাপ্পে। ম্যাচের ১৪তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত বাঁ পায়ের শটে গোল করে ফ্রান্সকে লিড এনে দেন তিনি। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপে নিজের গোল সংখ্যা বাড়িয়ে নেন ১৫-তে।

ম্যাচের ৫৪তম মিনিটে ইরাকের ভুল কাজে লাগিয়ে প্লেসিং শটে বল জালে জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল পূর্ণ করেন এমবাপ্পে। এটি ছিল বিশ্বকাপে তার ১৬তম গোল। এই গোলেই নাম যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা ক্লোসার পাশে বসেন এমবাপ্পে।

শুধু ক্লোসার পাশেই নয় লিওনেল মেসিকেও তাড়া করছেন এমবাপ্পে। দুজনের গোলের পার্থক্য এখন দুটি। ফ্রান্সও ইতোমধ্যে নকআউট পর্বে কোয়ালিফাই করেছে। তাই এমবাপ্পের সামনে সুযোগ থাকছে মেসিকে ছুঁয়ে ফেলার। অবশ্য নকআউটে কোয়ালিফাই করা মেসির সামনেও সুযোগ আছে ব্যবধান আরও বাড়ানোর।

ইরাককে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর মেসিকে নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হন এমবাপ্পে। তখনই আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। 'লিও সবসময় গোল করে, সে সবসময়ই করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে, লিও কী করছে সেদিকে যদি আমি মনোযোগ দিই, তাহলে আমাকে আরও বেশি পরিশ্রম করতে হবে।’

এরপর আরও স্পষ্ট করে এমবাপ্পে বলেন, 'আমি সে কী করছে, সেদিকে একদমই তাকাই না। আমি শুধু আমার দলকে সাহায্য করার কথাই ভাবি।’

বর্তমানে ৫ গোল নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এককভাবে শীর্ষে আছেন লিওনেল মেসি (আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩টি ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২টি)।

অন্যদিকে ৪টি করে গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও নরওয়ের আর্লিং হালান্ড। এমবাপ্পে টুর্নামেন্টের প্রথম দুই ম্যাচে দুটি করে মোট চার গোল করেছেন (ইরাক ও সেনেগালের বিপক্ষে)।

শীর্ষ দুই মহাতারকার পেছনে ৩টি করে গোল নিয়ে তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন জার্মানির ডেনিজ উন্দাভ এবং কানাডার জোনাথন ডেভিড। এছাড়া ব্রাজিলের মাতেউস কুনিয়া, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রসহ আরও ১৬ জন খেলোয়াড় ২টি করে গোল নিয়ে এই তালিকায় নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছেন।

এক নজরে ২০২৬ বিশ্বকাপের শীর্ষ গোলদাতার তালিকা:

  • লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা): ৫ গোল
  • কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স): ৪ গোল
  • আরলিং হালান্ড (নরওয়ে): ৪ গোল
  • জোনাথন ডেভিড (কানাডা): ৩ গোল
  • ডেনিজ উন্দাভ (জার্মানি): ৩ গোল

সংক্ষেপে মেসির বিশ্বকাপ পরিসংখ্যান

  • অংশগ্রহণ: ৬টি বিশ্বকাপ (২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২, ২০২৬)।
  • মোট ম্যাচ: ২৮টি (বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ)।
  • মোট গোল: ১৮টি (আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ)।
  • অ্যাসিস্ট: ৮টি।
  • শিরোপা: ১টি (২০২২)।
  • গোল্ডেন বল (সেরা খেলোয়াড়): ২ বার (২০১৪, ২০২২)।
  • ম্যান অফ দ্য ম্যাচ: ১১বার (বিশ্ব রেকর্ড)।
  • মাঠে কাটানো সময়: ২,৪৮৪ মিনিট (বিশ্ব রেকর্ড)।

সংক্ষেপে এমবাপ্পের বিশ্বকাপ পরিসংখ্যান:

  • মোট বিশ্বকাপ: ৩টি (২০১৮, ২০২২, ২০২৬)
  • মোট ম্যাচ: ১৬টি
  • মোট গোল: ১৬টি
  • অ্যাসিস্ট: ৩টি
  • শিরোপা: ১টি (২০১৮)
  • গোল্ডেন বুট: ১টি (২০২২)
  • ম্যান অফ দ্য ম্যাচ:৮বার
  • মাঠে কাটানো সময়:১৩১০ মিনিট


মাঠে নামতে ‘প্রস্তুত’ নেইমার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

দীর্ঘদিন চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকার পর অবশেষে পুরোদমে অনুশীলনে ফিরেছেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। দলের প্রধান ট্যাকটিক্যাল সেশনেও তিনি অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। সতীর্থ গাব্রিয়েল মার্তেনেল্লি জানিয়েছেন, নেইমার বর্তমানে খুব ভালো শারীরিক ও মানসিক অবস্থায় আছেন। ফলে চলমান উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পরবর্তী ম্যাচেই এই অভিজ্ঞ তারকার মাঠে নামার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা সেলেসাও ভক্তদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

২০২৬ বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশ সময় আগামী বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। বর্তমানে দুই ম্যাচে একটি জয় ও একটি ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে রয়েছে স্কটল্যান্ড। ২০২৩ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে হাঁটুর গুরুতর চোটে পড়ার পর থেকে ব্রাজিলের বিখ্যাত হলুদ জার্সি আর গায়ে জড়াতে পারেননি ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

জাতীয় দলের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও নেইমারের সাম্প্রতিক সময়টা বেশ প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেছে। সৌদি আরবের ক্লাব প্রো লিগ ঘুরে ব্রাজিলে ফিরেও চোটের কারণে তাকে ধুঁকতে হয়েছে। তবে গত বছর নিজের শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে ক্যারিয়ারে গতি ফেরাতে সচেষ্ট হন তিনি। চলতি বছর সান্তোসের হয়ে ১৫ ম্যাচে ৬টি গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট করলেও গত ফেব্রুয়ারিতে হাঁটুর অস্ত্রোপচারের পর কখনই টানা চারটি ম্যাচ খেলতে পারেননি বার্সেলোনার এই সাবেক মহাতারকা।

নানা আলোচনা-সমালোচনা সত্ত্বেও নেইমারের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ওপর ভরসা রেখে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে তাকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। অবশ্য টুর্নামেন্টে ব্রাজিলের প্রথম দুটি ম্যাচে (মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ ড্র এবং হাইতির বিপক্ষে ৩-০ জয়) মাঠের বাইরে বেঞ্চে বসেই দলের খেলা দেখতে হয়েছে তাকে। সোমবার স্কটল্যান্ড ম্যাচ সামনে রেখে হওয়া ট্যাকটিক্যাল সেশনে নেইমারের তীব্রতা ও দারুণ পারফরম্যান্স দেখে সতীর্থ মার্তিনেল্লি বলেন, “সে খুবই উঁচু পর্যায়ের পারফরম্যান্স করেছে। আমাদের সাথে থাকার জন্য সে কতটা আগ্রহী, তা আপনারা দেখছেন। তবে সে মূল একাদশে খেলবে কিনা, এই সিদ্ধান্ত কোচের; কিন্তু আমি মনে করি সে এখন দারুণ অবস্থায় আছে।”


banner close