ফিক্সিং, নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছেন তামিম ইকবাল। ক্রিকেটারদের ‘বেইজ্জত-অপমান’ করা হচ্ছে বলে দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
হার্ট অ্যাটাকের পর শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) প্রথম সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন তামিম। বিসিবির সঙ্গে বৈঠক শেষে এ সময় একাধিক বিষয়ে অসন্তোষের কথা জানান জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক।
মূলত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএলে) তাওহীদ হৃদয়ের নিষেধাজ্ঞা ইস্যু নিয়ে গতকাল (শুক্রবার) বৈঠক বসে মোহামেডান ও বিসিবি। মোহামেডানের জ্যেষ্ঠ ক্রিকেটার তামিমসহ বেশ কয়েকজন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনাটি গত ১২ এপ্রিলের। ডিপিএলে আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচে আইসিসির এলিট প্যানেলের আম্পায়ার সৈকতের সঙ্গে সেদিন তর্কে জড়ান মোহামেডানের অধিনায়ক হৃদয়। শুধু মাঠে তর্কে জড়িয়েই ক্ষান্ত হননি তিনি, ম্যাচ শেষে কিছুটা বিতর্কিত সুরে বলেছিলেন, ‘তিনি (সৈকত) আন্তর্জাতিক আম্পায়ার হলে আমিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।’
ম্যাচ অফিশিয়ালদের সঙ্গে তর্ক ও তাদের কটাক্ষ করার কারণে ২ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পান হৃদয়। তবে তার শাস্তি কমানোর জন্য ডিপিএলের টেকনিক্যাল কমিটির কাছে আবেদন করে মোহামেডান কর্তৃপক্ষ। কমিটি তাতে সাড়া না দিলেও তাদের সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে হৃদয়ের শাস্তি কমিয়ে এক ম্যাচে নিয়ে আসে বিসিবির আম্পায়ার বিভাগ, অথচ এই এখতিয়ার তাদের নেই।
নিয়ম ভেঙে হৃদয়ের এই শাস্তি কমানোর সিদ্ধান্তের কারণে বিসিবির চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন সৈকত। তবে নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে সৈকতের অভিমান ভাঙায় বিসিবির আম্পায়ার বিভাগ এবং সেই এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা নতুন করে দেওয়া হয় হৃদয়কে। এই সিদ্ধান্ত নিয়েই তৈরি হয়েছে জটিলতা।
এ বিষয়ে তামিমের ভাষ্য, ‘হৃদয়ের ইস্যুটা... ওকে দুটি ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। তখন কিন্তু কোনো খেলোয়াড় বা কেউ এটা নিয়ে কথা বলেনি! আম্পায়ার আর ম্যাচ রেফারি মিলে তাকে নিষিদ্ধ করেছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমরা মনে করতে পারি, সিদ্ধান্তটা কঠোর ছিল, কিন্তু এটা নিয়ে আমরা কেউ কোনো কথা বলিনি। তার কিছুদিন পর দেখলাম যে, (নিষেধাজ্ঞা) দুই ম্যাচ থেকে এক ম্যাচ করা হলো; এটা বিসিবি করেছে। তখনও আমরা কেউ কোনো কথা বলিনি। তারপর হৃদয় একটা ম্যাচ না খেলে পরের দুটি ম্যাচ খেলল। স্বাভাবিকভাবে ওর যে শাস্তি ছিল, সেটা সে ভোগ করে নিয়েছে। এখন দুটি ম্যাচ খেলার পর গতকাল শুনলাম যে, তাকে আবার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’
‘এটা কোন নিয়মে, কীভাবে করা হয়েছে—তা আমার জানা নেই। এটা নিয়ে আমরা খুব চিন্তিত ছিলাম। এটা হাস্যকর ছিল। কোনোভাবেই সে নিষিদ্ধ হতে পারে না যে কিনা আগেই (একবার) নিষিদ্ধ হয়েছে। বিসিবি তাকে দুটি ম্যাচ খেলতে দিয়েছে। তাকে আবার আপনি কীভাবে নিষিদ্ধ করতে পারেন?’
এছাড়া, ডিপিএলের চলতি আসরে একটি ম্যাচকে ঘিরে ফিক্সিংয়ের সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। গুলশান ক্রিকেট ক্লাব ও শাইনপুকুরের ম্যাচকে ঘিরে ওঠা সেই সন্দেহের ম্যাচটি নিয়ে বিসিবির তদন্ত চলছে।
তদন্তের অংশ হিসেবে গত ১০ এপ্রিল শাইনপুকুরের দুই ক্রিকেটার রহিম আহমেদ ও মিনহাজুল আবেদীন সাব্বিরকে মিরপুরে ডাকা হয়। এই দুজন স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে উপস্থিত হয়ে বিসিবি কর্মকর্তাদের সামনে বিতর্কিত স্টাম্পিংয়ের সেই ঘটনা পুনরায় মঞ্চায়ন করে দেখান। উইকেটের দুই পাশে দুটি ক্যামেরায় ধারণ করা হয় সেই দৃশ্য। মিডিয়াকর্মীরাও সে সময় উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মনে করেন, মিডিয়ার সামনে এই দুই ক্রিকেটারকে দিয়ে অভিনয় করানোর কোনো অধিকার কারও নেই।
‘আমরা এই জিনিসটা ক্রিকেট বোর্ডকে সরাসরি বলেছি যে দেখেন, যদি ওখানে কোনো ধরনের দুর্নীতি হয়ে থাকে বা কোনো খেলোয়াড় কোনো ধরনের দোষ করে থাকে, আমরা সবাই চাই এটার (জন্য) শাস্তি হোক; এতে আমরা শতভাগ একমত। কিন্তু তার মানে এটা না যে, আপনি ওই দুটি ছেলেকে নিয়ে গিয়ে মিডিয়ার সামনে অভিনয় করাবেন, এমনটা করার অধিকার কারো নেই।’
‘বিশ্বের কোথাও দুর্নীতি দমন ইউনিটে এমন নিয়ম নেই যে, একই জিনিস অভিনয় করিয়ে আপনি ওই দুটি ছেলেকে বেইজ্জত করবেন মিডিয়ার সামনে। এটা খেলোয়াড়দের অপমান করা। এই জিনিস নিয়ে আমরা একবিন্দুও খুশি ছিলাম না।’
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) গত আসরে কয়েকজন খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ ওঠে। যাদের নাম গণমাধ্যমে আসায়ও বিসিবিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তামিম।
‘বিপিএলেও ১০ জনের নাম ফাঁস হয়েছে বিসিবির ভেতর থেকে; ১০ জনের ছবি মিডিয়াতে দেওয়া হয়েছে। আমরা সবাই চাই, ওখান থেকে কেউ যদি দোষী হয়, তার শাস্তি হোক।
কিন্তু তাদের মধ্যে যদি দুজন বা আটজনও নির্দোষ বলে প্রমাণিত হয়?—প্রশ্ন রেখে তামিম তাদের নামগুলো জনগণের সামনে ফাঁস করে দেওয়াকে ‘অপমানজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘এই প্রত্যেকটা জিনিস নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় স্টেকহোল্ডার হলো ক্রিকেটাররা। ক্রিকেটারদের যদি এভাবে ট্রিট করা শুরু করেন, তাহলে তো হলো না! এই জিনিস নিয়ে আমরা প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ করেছি আসতে। উনি এসেছেন, সঙ্গে আরও দুজন পরিচালক (নাজমুল আবেদীন ও ইফতেখার আহমেদ) ছিলেন। আমরা লম্বা আলোচনা করেছি। আমাদের পয়েন্ট তুলে ধরে উনাকে বলেছি যে, (বিষয়গুলো নিয়ে) আমরা আপসেট।’
‘এসব নিয়ে আমাদের বিতর্ক হয়েছে। উনাদের আমরা সুন্দর করে (নিজেদের) অবস্থান পরিষ্কার করেছি যে আমরা কী অনুভব করি। তারপর উনারা উনাদের মতো করে সিদ্ধান্ত দেবেন।’
বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়ার হতাশা থাকলেও আর্থিকভাবে বিশাল অঙ্কের পুরস্কার নিয়েই বাড়ি ফিরছে ব্রাজিল। ফিফার নির্ধারিত প্রাইজমানি কাঠামো অনুযায়ী, টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়েও ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) কোষাগারে যোগ হচ্ছে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩১৬ কোটি ২০ লাখ টাকা, যা মার্কিন ডলারে ২ কোটি ৫৫ লাখের সমান। মাঠের পারফরম্যান্সের দুঃখ কাটাতে না পারলেও এই বিপুল পরিমাণ অর্থ তাদের প্রাপ্তির খাতা বেশ ভারী করেছে।
ব্রাজিলের এই বিশাল আয়ের পেছনে রয়েছে ফিফার চমৎকার পুরস্কার ব্যবস্থা। নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়া প্রতিটি দল পাবে ১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। এর বাইরে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য প্রতিটি দলকে দেওয়া হয়েছে আরও ১ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলার, যার মধ্যে ১৫ লাখ ডলার আগে থেকেই প্রস্তুতি ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ ছিল। সব মিলিয়ে এই দুই খাতের অর্থ একত্রিত করে প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য ১২৪ টাকা ধরে ব্রাজিলের মোট প্রাপ্তি দাঁড়িয়েছে ৩১৬ কোটি ২০ লাখ টাকা।
এবারের বিশ্বকাপে ফিফা সর্বমোট ৭২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯ হাজার ১৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা, পুরস্কার হিসেবে বিতরণ করছে। এই বিশাল অঙ্কের বাজেট ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। এই প্রাইজমানি কাঠামোর শীর্ষস্থানে থাকা চ্যাম্পিয়ন দল পাবে প্রায় ৬২০ কোটি টাকা বা ৫ কোটি মার্কিন ডলার। এছাড়া রানার্সআপ দল প্রায় ৪৭৫ কোটি টাকা, তৃতীয় স্থান অধিকারী দল প্রায় ৪১৮ কোটি টাকা এবং চতুর্থ স্থানে থাকা দল প্রায় ৩৮৯ কোটি টাকা ঘরে তুলবে।
বিশ্বকাপে সেলেসাওদের এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে বিশ্বজুড়ে ব্রাজিল ভক্তরা ব্যথিত হলেও, সিবিএফের কোষাগারে যোগ হওয়া এই কয়েকশ কোটি টাকা তাদের ভবিষ্যৎ ফুটবলকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে। ফেডারেশনের কর্তারা মনে করছেন, এই বিপুল অর্থ ভবিষ্যতে ব্রাজিলের সামগ্রিক ফুটবল কাঠামোর উন্নয়ন, তৃণমূলের প্রতিভার বিকাশ এবং আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য জাতীয় দলের দীর্ঘমেয়াদী ও উন্নত প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্রের লাল কার্ড-জনিত নিষেধাজ্ঞায় থাকা ফুটবলারকে ফেরাতে সরাসরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ নিয়ে সমালোচনা চলছে বিশ্বজুড়ে। সেই ফোলারিন বালোগানকে নিয়েই মার্কিনিরা আজ (মঙ্গলবার) বেলজিয়ামের মুখোমুখি হয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। তাদের ৪-১ ব্যবধানে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে লুকাকু-ডি ব্রুইনার বেলজিয়াম।
সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে নামার আগে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে নজর ছিল পুরো বিশ্বের। আসরজুড়ে আক্রমণাত্মক ফুটবলে আকর্ষণ জাগানো দলটি অবশ্য আসরে নিজেদের সবচেয়ে বড় ম্যাচে ছন্দে ছিল না। উল্টো বেলজিয়ামের উন্নত ফুটবলের সামনে ছিল অসহায়, মার্কিনিদের একের পর এক ভুলও তারা ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছে। ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষকের ভুলেই হয়েছে দুটি গোল।
যুক্তরাষ্ট্রের বিদায় নিশ্চিতের পথে বেলজিয়ামের হয়ে চার্লস ডি কেটেলার জোড়া গোল এবং হান্স ভেনাকেন ও রোমেলু লুকাকু একটি করে গোল করেন। এর আগে মালিক টিলম্যান এক গোল করে সমতায় ফিরিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রকে। প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপার লক্ষ্য নিয়ে আসা বেলজিয়াম গত ১২ বছরে দ্বিতীয়বারের মতো শেষ ষোলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বিদায় করল। একইসঙ্গে টানা ১৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকার ধারাও বজায় রাখল তারা।
সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ার ইংগলউডে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম। সেই ম্যাচের বিজয়ীরা সেমিফাইনালে খেলবে ফ্রান্স অথবা মরক্কোর বিপক্ষে।
এই বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো টানা তিনটি ম্যাচ জিতেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে ২০০২ সালের পর প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি তারা। এছাড়া ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে জয়ের পর থেকে বেলজিয়ামের বিপক্ষে টানা সপ্তম পরাজয় এটি। ইউরোপের দলের বিপক্ষে নিজেদের শেষ ১২ ম্যাচের মধ্যে ১১টিতেই হেরেছে যুক্তরাষ্ট্র। একমাত্র জয়টি ছিল রাউন্ড অব ৩২-এ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে।
ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই ডি কেটেলারে গোল করে বেলজিয়ামকে এগিয়ে দেন। চলতি বিশ্বকাপে এটিই প্রথম ম্যাচ, যেখানে শুরুতে পিছিয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। প্রথমার্ধের ৩১ মিনিটে টিলম্যান নিজের টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ফ্রি-কিক গোল করে ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরান। তবে কিক-অফের মাত্র ৬১ সেকেন্ড পরই আবার গোল হজম করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মার্কিন কোচ মরিসিও পচেত্তিনো বেঞ্চের সামনে রাখা বোতলের র্যাকে লাথি মারেন, ছিটকে যায় চারটি পানির বোতল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজের মারাত্মক ভুল থেকে তৃতীয় গোল পায় বেলজিয়াম। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে বদলি হিসেবে নামা রোমেলু লুকাকু দলের চতুর্থ গোলটি করেন।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ এখন একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এবং ফাইনাল—টুর্নামেন্টের এই গুরুত্বপূর্ণ চারটি ম্যাচকে সামনে রেখে নতুন অফিশিয়াল ম্যাচ বল উন্মোচন করেছে ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস। ‘ট্রিওন্ডা ফাইনাল’ নামের এই নতুন বল দিয়েই নির্ধারিত হবে এবারের আসরের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।
গত বছরের অক্টোবরে উন্মোচিত হওয়া মূল ‘ট্রিওন্ডা’ বলের একটি বিশেষ উন্নত সংস্করণ হলো এই নতুন বলটি। প্রযুক্তিগত দিক থেকে আগের বলের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলেও এর বাহ্যিক নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশ্বকাপের শেষ চার ম্যাচের বিশেষ গুরুত্ব এবং জয়ের প্রতীকী যাত্রাকে ফুটিয়ে তুলতে কালো রঙের ভিত্তির ওপর সোনালি রঙের নকশায় ট্রফির প্রতিচ্ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, যা বলটিকে একটি আলাদা আভিজাত্য দিয়েছে।
নতুন এই বলটিতে ২০২৬ বিশ্বকাপের ১৬টি স্বাগতিক শহরের নাম চমৎকারভাবে স্থান পেয়েছে। সেমিফাইনাল ও ফাইনালের মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর ভেন্যু ডালাস, আটলান্টা, মায়ামি ও নিউজার্সিকে বলের গায়ে বিশেষভাবে হাইলাইট করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বিশেষ ত্রিভুজাকৃতির গ্রাফিক নকশার মাধ্যমে বোস্টন, লস অ্যাঞ্জেলেস, মেক্সিকো সিটি, সিয়াটল, টরন্টোসহ বাকি স্বাগতিক শহরগুলোর নামও যুক্ত করা হয়েছে।
নকশার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দিক থেকেও বলটি অত্যন্ত আধুনিক। এতে ‘কানেক্টেড বল টেকনোলজি’ ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে বলের প্রতিটি স্পর্শের তথ্য রিয়েল-টাইমে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ও ম্যাচ কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে যাবে। এর ফলে অফসাইড বা বল স্পর্শের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো আরও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে নেওয়া সম্ভব হবে। নতুন এই বল নিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, এই বিশেষ সংস্করণ তিন স্বাগতিক দেশের ঐক্য ও ফুটবলের প্রতি আবেগের প্রতীক এবং বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের পায়ে এটি নতুন ইতিহাস রচনা করবে।
আফগানিস্তান ক্রিকেটের উত্থান পর্বের অন্যতম তারকা বাঁহাতি পেসার শাপুর জাদরান আর নেই। (মূল খবরে তাঁকে ডানহাতি পেসার বলা হলেও, তিনি মূলত বাঁহাতি পেসার ছিলেন)। বিরল ও প্রাণঘাতী এক রোগের সঙ্গে দীর্ঘ দুই বছর লড়াই করার পর মঙ্গলবার ৩৮ বছর বয়সে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর এই অকাল প্রয়াণে আফগানিস্তানের ক্রীড়াঙ্গনসহ পুরো ক্রিকেট বিশ্বে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শাপুর জাদরান ‘হেমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস’ (এইচএলএইচ) নামক একটি বিরল ও জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত জানুয়ারি মাস থেকে ভারতের নয়াদিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। মাঝে তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও পরবর্তীতে আবারও অবনতি ঘটে। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন সাবেক এই আফগান পেসার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তার মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন ভাই ও আফগানিস্তান জাতীয় দলের আরেক সাবেক ক্রিকেটার দৌলত জাদরান। শোক প্রকাশ করে তিনি লেখেন, "আমার প্রিয় বন্ধু ও ভাই শাপুর জাদরানের মৃত্যুতে আমি ভেঙে পড়েছি। এই ক্ষতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।" তাঁর মৃত্যুতে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) সহ বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটাররা আনুষ্ঠানিকভাবে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর আফগানিস্তান জাতীয় দলকে বিশ্বমঞ্চে পরিচিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন শাপুর জাদরান। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে জাতীয় দলের জার্সিতে বল হাতে তিনি মোট ৮০টি উইকেট শিকার করেন। ২০২০ সালে দেশের হয়ে নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি খেলেছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের পাশাপাশি বাংলাদেশ সফরসহ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগেও (বিপিএল) খেলেছিলেন পরিচিত এই মুখ।
চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপের উন্মাদনার মধ্যেই বিশ্ব ফুটবলের নজর এখন পরবর্তী ২০৩০ বিশ্বকাপের দিকে। ফুটবল বিশ্বকাপের শতবর্ষ পূর্ণ হতে যাওয়া বিশেষ এই আসরটি নিয়ে এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ফিফা। তিন মহাদেশের মোট ৬টি দেশে আয়োজিত হবে ২০৩০ বিশ্বকাপ। আসরের মূল আয়োজক হিসেবে থাকছে ইউরোপের স্পেন ও পর্তুগাল এবং আফ্রিকার মরক্কো। এছাড়া বিশ্বকাপের ১০০ বছর পূর্তি উদ্যাপনে দক্ষিণ আমেরিকার তিন দেশ উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা এবং প্যারাগুয়েতে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী তিনটি ম্যাচ।
১৯৩০ সালে ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজক ও চ্যাম্পিয়ন ছিল উরুগুয়ে এবং রানারআপ ছিল আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে প্যারাগুয়ে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘কনমেবল’-এর সদর দপ্তর। সেই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে সম্মান জানাতেই এই তিন দেশকে আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করেছে ফিফা। আয়োজক হওয়ার সুবাদে এই ৬টি দেশই ২০৩০ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগ পাবে। তবে দক্ষিণ আমেরিকার তিন দেশ সরাসরি কোয়ালিফাই করলেও প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তুতি বজায় রাখতে তারা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অংশ নেবে।
ফিফার প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৬টি দেশের ১৮টি শহরের ২১টি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। ফুটবল ইতিহাসের দীর্ঘতম এই টুর্নামেন্টটি ২০৩০ সালের ৮ জুন শুরু হয়ে শেষ হবে ২১ জুলাই। অর্থাৎ প্রায় দেড় মাসব্যাপী এই ফুটবল মহোৎসবের মধ্য দিয়ে একই সঙ্গে ইউরোপ, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকা—তিনটি মহাদেশ বিশ্বকাপের জোয়ারে ভাসবে। ঐতিহাসিক এই আয়োজনের মাধ্যমে ফুটবলের বিশ্বজনীন আবেদনকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায় ফিফা।
বিশ্বকাপের মঞ্চে আজ রাতে এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও প্রথমবারের মতো শেষ ১৬-তে জায়গা করে নেওয়া মোহামেদ সালাহর মিশর। একদিকে রেকর্ড আর অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে ইতিহাস গড়া ‘ফারাও’ খ্যাত মিশরীয়রা। লড়াই শুরুর আগে মাঠের বাইরের উত্তেজনাকে আরও উসকে দিয়েছে ফুটবল বিষয়ক তথ্য বিশ্লেষক সংস্থা ‘অপটা’-র সুপার কম্পিউটার। তাদের বিশ্লেষণে ম্যাচের ফলাফল নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাস পাওয়া গেছে।
ম্যাচটি শুরু হওয়ার আগে প্রায় ২৫ হাজার বার কৃত্রিম সিমুলেশন চালিয়ে সুপার কম্পিউটার জানিয়েছে, এই লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা প্রবল। তাদের হিসেবে আর্জেন্টিনার জেতার সম্ভাবনা ৬৯.১ শতাংশ, যা দলটিকে এই ম্যাচের নিরঙ্কুশ ফেভারিটে পরিণত করেছে। বিপরীতে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বের স্বাদ নেওয়া মিশরের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ১২.৩ শতাংশ। বাকি ১৮.৫ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে ড্র হয়ে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর। অর্থাৎ পরিসংখ্যানের পাতায় মিশরের চেয়ে যোজন যোজন ব্যবধানে এগিয়ে মেসিরা।
কাগজে-কলমে মিশর অনেকটা পিছিয়ে থাকলেও দলটির তুরুপের তাস হতে পারেন মোহামেদ সালাহ। ফুটবল বিশ্ব অতীতে অনেক বড় বড় অঘটন দেখেছে, তাই সালাহর নেতৃত্বে মিশরীয়রা নতুন কোনো রূপকথা লিখবে কি না, সেই আশায় বুক বাঁধছে ভক্তরা। তবে এই ম্যাচের ফলাফলে পরিসংখ্যানের বাইরেও বড় একটি নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে ফুটবলারদের ক্লান্তি। নকআউট পর্বের আগের ম্যাচে দুই দলকেই ১২০ মিনিটের ম্যারাথন লড়াই চালিয়ে আসতে হয়েছে। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের সেই শারীরিক ও মানসিক ধকল কাটিয়ে ওঠার জন্য দুই দলই সবচেয়ে কম বিরতি পেয়েছে।
তীব্র ক্লান্তি আর চোটের আশঙ্কা এই ম্যাচের কৌশল বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বোদ্ধারা। ফিটনেস সমস্যার কারণে অনেক সময় ফেভারিট দলগুলো ছন্দ হারিয়ে ফেলে, আর সেই সুযোগটিই নিতে চাইবে সালাহবাহিনী। সব মিলিয়ে আজকের রাতটি হতে যাচ্ছে এক চরম স্নায়ুযুদ্ধের। আর্জেন্টিনা কি তাদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখবে, নাকি সুপার কম্পিউটারের হিসাব উল্টে দিয়ে ইতিহাসের নতুন পাতায় নাম লেখাবে মিশর, এখন সেই রোমাঞ্চের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে সারা বিশ্বের কোটি ফুটবল ভক্ত।
ফুটবল বিধাতা হয়তো স্ক্রিপ্টটা এভাবেই লিখে রেখেছিলেন। একদিকে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের বাঁধভাঙা উল্লাস, অন্যদিকে সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিষাদমাখা প্রস্থানের করুণ দৃশ্য। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে যোগ করা সময়ের নাটকীয় গোলে পর্তুগালকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্পেন। আর এই হারের সঙ্গেই ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বর্ণাঢ্য এক মহাকাব্যের অবসান ঘটল—বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে অশ্রুসিক্ত নয়নে চিরবিদায় নিলেন ৪১ বছর বয়সী মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
ডালাস স্টেডিয়ামে সোমবার রাতে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের লড়াই শেষে যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে, তখনই মঞ্চে আবির্ভূত হন বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনো। ইনজুরি সময়ের প্রথম মিনিটে (৯১ মিনিট) পর্তুগিজ রক্ষণের ক্ষণিক অসতর্কতার সুযোগ নেন ফেরান তোরেস। তার বাড়ানো নিখুঁত থ্রু পাস ধরে দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে বিদ্যুৎগতিতে বক্সে ঢুকে পড়েন মেরিনো। নিচু এবং নিখুঁত এক শটে পর্তুগিজ গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান তিনি। পুরো স্টেডিয়ামে তখন স্প্যানিশ সমর্থকদের গগনবিদারী চিৎকার, আর পর্তুগিজ শিবিরে নেমে আসে শ্মশানের নীরবতা।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই চিরপ্রতিবন্ধী দল ছিল আক্রমণাত্মক। অষ্টম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত স্পেন, তবে মিকেল ওইয়ারজাবালের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে বেঁচে যায় পর্তুগাল। এর কিছুক্ষণ পরেই রোনালদোর একটি বুলেট গতির শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন স্প্যানিশ দেয়াল হয়ে দাঁড়ানো উনাই সিমন। ৩৮ মিনিটে জোয়াও ফেলিক্সের হেড এবং ফিরতি বলে রোনালদোর প্রচেষ্টাও নস্যাৎ করে দেন সিমন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে নুনো মেন্ডিসের শট পেদ্রো পোরোর মাথায় লেগে পোস্টে আঘাত হানলে কপাল পোড়ে পর্তুগিজদের।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই কোচই কৌশলে পরিবর্তন আনেন। পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ ৭১ মিনিটে রাফায়েল লেয়াও এবং ডিয়োগো দালোটকে নামিয়ে আক্রমণ শানান। অন্যদিকে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পর্তুগালকে চাপে রাখে। লামিনে ইয়ামালের দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক অসাধারণ দক্ষতায় সেভ করেন পর্তুগিজ কিপার ডিয়োগো কস্তা। তবে শেষ রক্ষা আর হয়নি। মেরিনোর সেই এক গোলই শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দেয়।
২০০৬ সালে যে বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু হয়েছিল, ২০২৬-এ এসে ডালাসের ঘাসে তার সমাপ্তি ঘটল। ম্যাচে ৪১ বছর বয়সী রোনালদোকে বেশ লড়াই করতে দেখা গেছে, তবে স্প্যানিশ ডিফেন্ডারদের কড়া পাহারায় তিনি ছিলেন অনেকটাই নিষ্প্রভ। পুরো ম্যাচে বল স্পর্শ করেছেন মাত্র ১২ বার। মেরিনোর গোলের পর পর্তুগাল মরিয়া হয়ে আক্রমণে উঠলেও বার্নার্দো সিলভার হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে সব আশা শেষ হয়ে যায়।
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। সতীর্থ ও প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের সান্ত্বনা ছাপিয়ে ডুকরে কেঁদে ওঠেন রোনালদো। ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি থাকলেও, সোনালি ট্রফিটা ছোঁয়া হলো না তার। ডালাসের গ্যালারি তখন দাঁড়িয়ে সম্মান জানাচ্ছিল এই কিংবদন্তিকে, যিনি অশ্রুসিক্ত চোখে একাই মাঠ ছাড়েন।
পর্তুগালকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখা স্পেনের রক্ষণভাগ এই বিশ্বকাপে এখনো কোনো গোল হজম করেনি। শেষ আটে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম।রোনালদোর বিদায়ে একটি যুগের অবসান ঘটল ঠিকই, তবে ডালাসের এই রাতটি ফুটবল ভক্তদের মনে থেকে যাবে ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক লড়াই এবং এক কিংবদন্তির বিদায়ের করুণ সাক্ষী হিসেবে।
ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সফল পরাশক্তি ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় যেকোনো দলের জন্যই এক রূপকথার মতো। তবে মাঠের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সেই রূপকথাকে বাস্তবে রূপ দিয়ে ব্রাজিল বধের এক অনন্য মহাকাব্য লিখলো নরওয়ে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আক্রমণভাগকে বোতলবন্দি করে এবং নিজেদের সুযোগগুলোর নিখুঁত ব্যবহারে ব্রাজিলকে স্তব্ধ করে দিয়েছে তারা। ঐতিহাসিক জয়টি নরওয়েজিয়ান ফুটবলের ইতিহাসেই এক স্বর্ণাক্ষরে লেখা অধ্যায় হয়ে থাকবে।
প্রথমার্ধ গোলশূন্যতে শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেয় ব্রাজিল। কিন্তু গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও লিড নিতে পারেনি সেলেসাও। এদিকে ম্যাচের ৭৯তম ও ৯০তম মিনিটে ব্রাজিলের জালে দুইবার বল পাঠিয়ে নরওয়েকে দুই গোলে এগিয়ে দিলেন আর্লিং হালান্ড।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল-নরওয়ে। ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। ম্যাচের শুরুতেই ব্রাজিলের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল ইউরোপের দলটি।
ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই ব্রাজিলের জালে বলও পাঠিয়ে দিয়েছিল নরওয়ে। সঙ্গে সঙ্গে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল পুরো স্টেডিয়াম। কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করেন রেফালি। তাতেই যেন প্রাণ ফিরে পায় ব্রাজিলিয়ান সমর্থকরা। আলিসনকে ফাঁকি দিয়ে অফসাইডে দেওয়া গোলটি ছিল প্যাটট্রিক বার্গের।
এদিকে ম্যাচের দশম মিনিটে লিড নিতে পারতো নরওয়ে। ডি-বক্সের ভেতরে ম্যাথিউস কুনহাকে ফাউল করেন নরওয়ের এক ডিফেন্ডার। ভিএআরের মাধ্যমে ফাউল ঘোষণা করে পেনাল্টি দেন রেফারি। পেনাল্টি কিক নিতে আসেন ব্রুনো গুইমারেস। তার নেওয়া শটটি বীরত্ব দেখিয়ে ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নাইল্যান্ড।
পেনাল্টি মিসের ধাক্কা সামলে প্রথমার্ধের শেষদিকে ম্যাথিউস কুনহা এবং মার্তিনেল্লি দূরপাল্লার শটে গোল করার চেষ্টা করলেও নরওয়ের ডিফেন্ডাররা তা প্রতিহত করেন। ফলে আক্রমণের পর আক্রমণ করেও গোলহীনভাবেই বিরতিতে যেতে হয় লাতিন আমেরিকার দলটিকে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই একাদশে দুটি পরিবর্তন আনে নরওয়ে। মাঠে নামেন অস্কার বব ও আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ।
এদিকে ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে কুনহা পরবির্তে এন্দ্রিককে মাঠে নামান কার্লো আনচেলত্তি। মাঠে নামার প্রথম মিনিটেই গোলে এক সুবর্ণ সুযোগ মিস করেন এই উদীয়মান ব্রাজিলিয়ান তারকা। বামপ্রান্ত থেকে আক্রমণে আসা ভিনিসিয়ুস এক দুর্দান্ত পাস দেন এন্দ্রিক করে। বল নিয়ে নরওয়ের বক্সের ভেতরে ঢুকে যান তিনি। সামনে ছিলেন কেবল গোলরক্ষক। টোকা দিয়ে বল জালে জড়াতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বলটি চলে যায় গোলবার পাশ দিয়ে।
৬২তম মিনিটে বক্সের খানিক বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শট নিয়েছিলেন রায়ান। এবারও নরওয়ের ত্রাতা হয়ে উঠেন গোলরক্ষক নাইল্যান্ড। এক মিনিট পরেই দুর্দান্ত এক সুযোগ নষ্ট করেন গুইমারেস।
ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে আসে সেই মাহেদ্রক্ষণ। না, কোনো গোল হয়নি। এসময় বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জুনিয়র। তার সঙ্গে দানিলোকেও মাঠে নামান কোচ আনচেলত্তি।
ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে নিউজার্সির পুরো স্টেডিয়ামকে যেন স্তব্ধ করে দেন নরওয়ের ম্যানচেস্টার সিটি তারকা আর্লিং হালান্ড। দুর্দান্ত এক হেডে আলিসনকে পরাস্ত করেন তিনি। তাতেই ১-০ গোল ব্যবধানে এগিয়ে যায় নরওয়ে।
ব্রাজিলের হেক্সা মিশন চূর্ণ করল হালান্ডের জোড়া গোল
বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলের রক্ষণভাগ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জোড়া গোল করলেন নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড। প্রথমার্ধে ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডারদের কড়া পাহারায় শান্ত থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে সেলেসাওদের জাল কাঁপান এই ম্যানচেস্টার সিটি স্ট্রাইকার।
ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে নিউজার্সির পুরো স্টেডিয়ামকে যেন স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন নরওয়ের ম্যানচেস্টার সিটি তারকা আর্লিং হালান্ড। দুর্দান্ত এক হেডে আলিসনকে পরাস্ত করেন তিনি। তাতেই ১-০ গোল ব্যবধানে এগিয়ে যায় নরওয়ে।
প্রথম গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ম্যাচের শেষভাগে ব্রাজিলের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন তিনি। ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বল পেয়ে ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে বাঁ পায়ের এক অবিশ্বাস্য ও বুলেট গতির শট নেন তিনি।
স্পিডোমিটারে শটটির গতি ধরা পড়ে ঘণ্টায় ১২৮ কিলোমিটার! ব্রাজিলের বিশ্বমানের গোলরক্ষক আলিসন বেকার ডাইভ দিলেও বল রকেটের গতিতে জালের কোণায় আশ্রয় নেয়। হালান্ডের দানবীয় জোড়া গোলেই হেক্সার স্বপ্ন শেষ হয় ব্রাজিলের। ম্যাচটি শেষ হয় ২-১ গোল ব্যবধানে।
অশ্রুসিক্ত চোখে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে নেইমারের বিদায়
বিশ্বকাপ জয়ের আজন্ম লালিত স্বপ্ন আবারও চূর্ণ হলো। সেই সঙ্গে যবনিকা পড়ল ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের। নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপের শেষ ১৬ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের প্রকাশ্য ঘোষণা দিলেন নেইমার জুনিয়র। কাকতালীয়ভাবে, ১৬ বছর আগে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই শুরু হয়েছিল তার পথচলা, আর সেই একই মাঠেই আজ শেষ হলো এক বর্ণিল অধ্যায়।
ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের গ্লোভো টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কান্নায় ভেঙে পড়েন নেইমার। তিনি বলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি, সত্যিই অনেক চেষ্টা করেছি। বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নের ইতি ঘটেছে। এখন সব শেষ। এখানেই আমার শুরু হয়েছিল, এখানেই শেষ হলো।’ সরাসরি অবসরের কথা না বললেও তার এই মন্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতালিয়ান সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানোর দেওয়া ‘ব্রেকিং নিউজ’ নিশ্চিত করছে যে সেলেসাওদের জার্সিতে আর দেখা যাবে না এই জাদুকরকে।
১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপে এটিই ব্রাজিলের সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স। নরওয়ের কাছে হেরে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নেওয়ায় সেলেসাওদের শিরোপা খরা আরও দীর্ঘ হলো। ১৯৫৮ সালে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের পর এটিই হতে যাচ্ছে ব্রাজিলের দীর্ঘতম শিরোপাহীন সময়—২০৩০ বিশ্বকাপ নাগাদ যা ২৮ বছরে দাঁড়াবে। গ্রুপ পর্বে অনিয়মিত থাকলেও বিদায়ী ম্যাচে যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমিয়েছিলেন নেইমার (২-১), কিন্তু তা দলের পরাজয় এড়াতে যথেষ্ট ছিল না।
একটি সোনালি ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান:
২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই অভিষেক হয়েছিল নেইমারের। এরপর ১৬ বছরে ব্রাজিলের হয়ে খেলেছেন ১৩০টি ম্যাচ। ৮০টি গোল করে তিনি দেশটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা, যা পেলের করা রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। এ ছাড়া তার নামের পাশে রয়েছে ৫৮টি অ্যাসিস্ট। নেইমারের বর্ণিল ক্যারিয়ারের অন্যতম প্রাপ্তি ২০১৩ সালের ফিফা কনফেডারেশনস কাপ এবং ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে ঐতিহাসিক স্বর্ণপদক জয়। তবে চারটি বিশ্বকাপ খেলেও সোনালি ট্রফিটি ছুঁয়ে দেখা হলো না তার। থিয়াগো সিলভার পর দ্বিতীয় ব্রাজিলিয়ান হিসেবে চারটি বিশ্বকাপ খেলেও শিরোপাহীন থেকে বিদায় নিতে হলো তাকে।
নেইমারের এই বিদায়ের খবর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে যে চঞ্চল তরুণ একদিন বিশ্বজয়ের স্বপ্ন নিয়ে পা রেখেছিলেন, ৩৪ বছর বয়সে সেই মাঠ থেকেই বিদায় নিলেন এক বুক হতাশা আর অপ্রাপ্তি নিয়ে। ফ্যাব্রিজিও রোমানো তার পোস্টে নেইমারের বক্তব্য উদ্ধৃত করে লেখেন, ‘সবকিছু এখন শেষ।’
নেইমারের বিদায়ের মধ্য দিয়ে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে একটি যুগের সমাপ্তি ঘটল। কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে না পারার আক্ষেপ আর কিংবদন্তি নেইমারের বিদায়—সব মিলিয়ে এই পরাজয় ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের জন্য এক গভীর ক্ষত হয়ে থাকবে।
ব্রাজিল বধের অন্যতম নায়ক নরওয়ের গোলরক্ষক
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করে নরওয়ের প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার রূপকথায় সব আলো কেড়ে নিয়েছেন আর্লিং হালান্ডে। তার জোড়া গোলের বন্দনায় মুখর ফুটবলবিশ্ব। কিন্তু ম্যাচজুড়ে নরওয়ের গোলপোস্টের নিচে যে প্রাচীর গড়ে তুলেছিলেন তাদের গোলরক্ষক এরিয়ান নাইল্যান্ড, হালান্ড-ঝড়ের তীব্রতায় তার সেই অবিশ্বাস্য বীরত্ব কিছুটা আড়ালেই রয়ে গেল। অথচ তিনি পেনাল্টিটা না থামালে ম্যাচের গল্পটা অন্যরকমও হতে পারত।
ম্যাচের প্রথমার্ধে একের পর এক আক্রমণ চালাচ্ছিল সেলেসাওরা, তখন নরওয়ে ডিফেন্সকে একাই নেতৃত্ব দিয়েছেন নাইল্যান্ড। প্রথমার্ধের শুরুতেই ব্রাজিল পেনাল্টি পায়, তখন স্টেডিয়ামের সবাই ধরেই নিয়েছিল লিড নিচ্ছে ব্রাজিল। কিন্তু ব্রুনো গুইমারাসের শটটি ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে রুখে দেন নাইল্যান্ড। এই একটি সেভ পুরো নরওয়ে দলের আত্মবিশ্বাস বদলে দেয়।
শুধু পেনাল্টি সেভই নয়, প্রথমার্ধের শেষদিকে ম্যাথিউস কুনহার দূরপাল্লার শট এবং গ্যাব্রিয়েল মার্তেনেল্লির ভলিও কর্নারের বিনিময়ে প্রতিহত না করলে প্রথমার্ধেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যেত নরওয়ে।
আর বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেই গোলের এক দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন এন্দ্রিক। বামপ্রান্ত থেকে আক্রমণে আসা ভিনিসিয়ুস এক দুর্দান্ত পাস দেন এন্দ্রিককে। বল নিয়ে নরওয়ের বক্সের ভেতরে ঢুকে যান তিনি। সামনে ছিলেন কেবল গোলরক্ষক। টোকা দিয়ে বল জালে জড়াতে চেয়েছিলেন তিনি। বীরত্বের সঙ্গে ব্রাজিলকে হতাশ করেন নরওয়ের গোলরক্ষক।
এদিকে ভিনিসিয়ুসের গতিময় আক্রমণগুলোর সামনে বিশ্বস্ত দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নেইমারের পেনাল্টি শটটি তিনি ঠেকাতে না পারলেও পুরো ৯০ মিনিটে ব্রাজিলের বিশ্বমানের আক্রমণভাগকে যেভাবে হতাশ করেছেন, তা নরওয়েকে ম্যাচ জেতাতে হালান্ডের গোলের মতোই সমান ভূমিকা রেখেছে।
৩৬ বছরের মধ্যে ব্রাজিলের সবচেয়ে বাজে বিশ্বকাপ
|
বিশ্বকাপ |
প্রতিপক্ষ দল |
বিদায়ের পর্ব |
|
২০০৬ (জার্মানি) |
ফ্রান্স |
কোয়ার্টার ফাইনাল |
|
২০১০ (দক্ষিণ আফ্রিকা) |
নেদারল্যান্ডস |
কোয়ার্টার ফাইনাল |
|
২০১৪ (ব্রাজিল) |
জার্মানি |
সেমিফাইনাল |
|
২০১৮ (রাশিয়া) |
বেলজিয়াম |
কোয়ার্টার ফাইনাল |
|
২০২২ (কাতার) |
ক্রোয়েশিয়া |
কোয়ার্টার ফাইনাল |
|
২০২৬ (উত্তর আমেরিকা) |
নরওয়ে |
রাউন্ড অফ ১৬ |
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ধারে ভারে আর দশটা দলের থেকে বরাবরই এগিয়েই থাকে লাতিন এই পরাশক্তি। যে কোনো টুর্নামেন্টে হলুদ জার্সিধারীদের চ্যাম্পিয়ন হওয়া ছাড়া যেন আর কোনো ফলাফলে মান বাঁচে না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেসব এখন কেবল ইতিহাস।
সর্বশেষ চলমান বিশ্বকাপের আগে প্রথা ভেঙে বিদেশি কোচ নিয়োগ দিয়েও ভাগ্য খুব একটা পাল্টাল না। উল্টো কোয়ার্টারের আগেই ছিটকে যেতে হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত ৩৬ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স এবারের আসরে। ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে সেলেসাওদের।
গত ৯টি বিশ্বকাপ ধরে ব্রাজিল অন্তত শেষ আট বা কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা নিশ্চিত করে আসছিল। কার্লো আনচেলত্তির দল এবার সেই ধারাবাহিকতাও ধরে রাখতে পারেনি। এর আগে ১৯৯০ সালে ইতালি বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে শেষ ষোলোর ম্যাচে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছিল ব্রাজিল। এরপর আর কখনোই কোয়ার্টার ফাইনালের আগে থামেনি তারা। ৩৬ বছর পর নরওয়ে যেন ফিরিয়ে আনল সেই ১৯৯০ সালের দুঃস্মৃতি।
২০০৬, ২০১০, ২০১৮ এবং ২০২২—এই চারবারই তাদের দৌড় থেমেছিল শেষ আটে। ঘরের মাঠে ২০১৪ সালে জার্মানির কাছে সেই দুঃস্বপ্নের ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার ম্যাচেও তারা সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছিল। কিন্তু এবার শেষ ষোলোতেই আটকা পড়ল আনচেলত্তির দল। নেইমারের অশ্রুসজল বিদায় আর মাঠের ছন্নছাড়া ফুটবল মিলে ২০২৬ বিশ্বকাপ এখন ব্রাজিলের জন্য আরেকটা দীর্ঘশ্বাস হয়েই থাকল। একই সঙ্গে ২০০২ বিশ্বকাপের পর থেকে নকআউটে ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে জয়টাও অধরাই থেকে গেল ব্রাজিলের।
কার্লো আনচেলত্তির ওপর আস্থা ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে ব্রাজিল। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আরেকটি ব্যর্থ আসর শেষে গুঞ্জন উঠেছে, সেলেসাওদের ডাগআউটে সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ কোচ কার্লো আনচেলত্তি থাকবেন কি না।
এরই মধ্যে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) জানিয়েছে, বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেও কোচ কার্লো আনচেলত্তির ওপর আস্থা হারাচ্ছে না তারা। চুক্তি অনুযায়ী ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত সেলেসাওদের ডাগআউটে এই ইতালিয়ান কোচই থাকছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির ফেডারেশন।
ব্রাজিলের জাতীয় দলের নির্বাহী পরিচালক রদ্রিগো কায়তানো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ব্যর্থতার পরও আনচেলত্তিকে ছাঁটাই করার কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই। বরং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তাকে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
২০২৫ সালে রিয়াল মাদ্রিদের পাট চুকিয়ে ব্রাজিলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন কার্লো আনচেলত্তি। বাছাইপর্বের শেষ দিক দলের ডাগআউটে যুক্ত হন তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার বছর খানেকের মাথায় বিশ্বকাপ খেলতে নেমে শুরুটা কিছুটা এলোমেলো হলেও ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছিল ব্রাজিল। তবে প্রথম বড় পরীক্ষাতেই নরওয়ের কাছে হারতে হয়েছে।
কোয়ার্টারের আগেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেলেও এই মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করতে চায় না সিবিএফ। কায়তানো বলছিলেন, এখন আমাদের মূল লক্ষ্য হলো স্বাভাবিক কাঠামোর মধ্যে থেকে কাজ করা। কোচ ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাবেন। যেখানে যেখানে পরিবর্তন প্রয়োজন, তা করা হবে। পরবর্তী বিশ্বকাপের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে আমাদের অন্তত শান্ত পরিবেশ দরকার।’
নরওয়ের কাছে হারের পর ড্রেসিংরুমের পরিবেশ কেমন ছিল, তা লুকাতে চাননি কায়তানো। তবে গত ৩৮ দিন ধরে আনচেলত্তির অধীনে দলের ফুটবলার ও স্টাফরা যেভাবে কঠোর পরিশ্রম করেছেন, তার প্রশংসাও করেছেন। তিনি বলেন, অবশ্যই আমরা এখনো এই ধাক্কা সামলে ওঠার চেষ্টা করছি। ফুটবলার, স্টাফ, কোচিং প্যানেল—সবাই অত্যন্ত দুঃখিত, হতাশ ও মর্মাহত। কিন্তু তাই বলে গত কিছুদিন আমরা একসাথে যে সময়টা কাটিয়েছি, তাকে পুরোপুরি ব্যর্থ বলা যাবে না। সিবিএফ পরিচালকের মতে, টুর্নামেন্টজুড়ে ব্রাজিল ধাপে ধাপে উন্নতি করছিল।
এখনই হাল ছাড়ছেন না কার্লো আনচেলত্তিও। হতাশ হলেও এখানেই শেষ দেখছেন না কিংবদন্তী এই কোচ, ‘স্বাভাবিকভাবেই হতাশ। তবে এটাই শেষ নয়, নতুন করে শুরু করতে হবে।’
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সপ্তমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে অস্ট্রেলিয়া নারী দল। লর্ডসে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই একক আধিপত্য বিস্তার করে অজিরা। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৫০ রান সংগ্রহ করে ইংল্যান্ড। জবাবে ১৭ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখেই ১৫১ রানের জয়ের লক্ষ্যে অনায়াসে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া।
ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। দলীয় স্কোরে খুব বেশি রান ওঠার আগেই ৬ রানে অ্যামি জোনস এবং ৮ রানে ড্যানি ওয়াট সাজঘরে ফিরে যান। এরপর তৃতীয় উইকেটে ন্যাট স্কিভার ব্রান্ট ও অ্যালিস ক্যাপসি মিলে শুরুর চাপ কিছুটা সামলে নেন। ক্যাপসি ২৩ এবং হেথার নাইট মাত্র ২ রান করে আউট হন। তবে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত দারুণ ব্যাটিং করে দলকে টেনে তোলেন স্কিভার ব্রান্ট ও ফ্রেইয়া ক্যাম্প। ব্রান্টের অপরাজিত ৫৮ এবং ক্যাম্পের অপরাজিত ৪৪ রানের ইনিংসে ভর করে সম্মানজনক স্কোর পায় ইংলিশরা। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে চারজন বোলার একটি করে উইকেট শিকার করেন।
১৫১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার শুরুতেও কিছুটা ধাক্কা লাগে। দলীয় স্কোরে প্রভাব ফেলার আগেই মাত্র ৯ রান করে বিদায় নেন জর্জিয়া ভোল। তবে দ্বিতীয় উইকেটে বেথ মুনি ও ফোবে লিচফিল্ডের ১০০ রানের বিশাল জুটিতে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের ভিত পুরোপুরি মজবুত হয়ে যায়। লিচফিল্ড ৪৮ রান করে আউট হন এবং মুনি ৬৪ রানের একটি চমৎকার ব্যক্তিগত ইনিংস খেলে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। এরপর এলিস পেরি ও অ্যাশলে গার্ডনার মিলে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন। পেরি ১৩ এবং গার্ডনার ৩ রানে অপরাজিত থাকেন।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে নারী ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল হিসেবে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব আরও একবার প্রমাণ করল অস্ট্রেলিয়া। এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ১০টি আসরের মধ্যে আটটিতেই ফাইনাল খেলেছে তারা, যার মধ্যে সাতবারই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল দলটি। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এছাড়া কেবল ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের একবার করে শিরোপা জেতার রেকর্ড রয়েছে।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করে বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে সেরা বোলিংয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে তার গতির ঝড়ে মাত্র ১৪১ রানেই গুটিয়ে গেছে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। এর মাধ্যমে তিনি সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ও পেসার রুবেল হোসেনের দীর্ঘদিনের পুরোনো রেকর্ড নিজের নামে করে নিয়েছেন।
ম্যাচটিতে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা শুরু থেকেই নাহিদ রানার তোপের মুখে পড়ে। ৩৬ ওভার ৪ বল খেলে সবকটি উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৪১ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় তারা। স্বাগতিক দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৩ রান আসে নিউম্যান নিয়ামুরির ব্যাট থেকে। বাকি ব্যাটাররা কেউই বাংলাদেশি বোলারদের সামনে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি।
বাংলাদেশের জার্সিতে বল হাতে রীতিমতো আগুন ঝরান ২২ বছর বয়সী এই পেসার। তিনি মাত্র ২১ রান খরচায় তুলে নেন জিম্বাবুয়ের ৬টি উইকেট, যা বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বকালের সেরা বোলিং ফিগার। এর আগে এই রেকর্ডটি যৌথভাবে মাশরাফি বিন মুর্তজা এবং রুবেল হোসেনের দখলে ছিল। ২০০৬ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে মাশরাফি এবং ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রুবেল দুজনেই ২৬ রানের বিনিময়ে ৬টি করে উইকেট শিকার করে এই রেকর্ডের অংশীদার ছিলেন।
নিজের সংক্ষিপ্ত আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেই এমন অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন নাহিদ রানা। মাত্র ১৩ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার তৃতীয় পাঁচ উইকেট বা ফাইফার শিকারের ঘটনা। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি ফাইফার নেওয়ার তালিকায় এখন তার ওপরে কেবল বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান রয়েছেন।
বাংলাদেশ নারী ইমার্জিং দলের ক্যাম্প থেকে বাদ পড়ার হতাশায় আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার ইশমা তানজিম। আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরকে সামনে রেখে বিকেএসপিতে আয়োজিত ক্যাম্পের দ্বিতীয় ধাপে জায়গা না পেয়ে তিনি এই চরম পথ বেছে নেন। গত শুক্রবার (৩ জুলাই) আত্মহত্যার চেষ্টা করার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং গত রোববার তার জ্ঞান ফেরে। শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় ওই রাতেই তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে এই ক্রিকেটার নিজেই গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
দলের ক্যাম্পের প্রথম ধাপে ২৭ জন ক্রিকেটারের তালিকায় ইশমা থাকলেও, দ্বিতীয় ধাপের ২১ জনের চূড়ান্ত স্কোয়াড থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়। বাদ পড়ার কারণ হিসেবে টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে গোড়ালির ইনজুরি এবং ফিটনেস সমস্যার কথা জানানো হয়েছে। তবে ইশমার দাবি, তিনি বর্তমানে সম্পূর্ণ ফিট আছেন এবং কেবল ইনজুরির অজুহাত দেখিয়েই তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে দলের ভেতরে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির শিকার হওয়ার কথাও তিনি ক্ষোভের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন।
ক্রিকেটের প্রতি অসীম ভালোবাসার কারণেই এমন পরিস্থিতি মেনে নিতে পারেননি বলে জানিয়েছেন এই ২৯ বয়সী অলরাউন্ডার। আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি জানান, অর্থ উপার্জনের জন্য নয়, বরং ভালোবেসেই তিনি ক্রিকেটকে আঁকড়ে ধরেছিলেন। জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক ম্যাচের কোনো ছবি নিজের কাছে না থাকার তীব্র আক্ষেপও প্রকাশ করেন তিনি। চরম হতাশা থেকেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং শারীরিকভাবে এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি বলে জানিয়েছেন ইশমা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা এই আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনাটি সম্পর্কে এখনো অবগত নন বলে জানিয়েছেন। তবে বিসিবির একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, মূলত ফিটনেস ঘাটতির কারণেই তাকে ক্যাম্পে রাখা হয়নি। উল্লেখ্য, ২৯ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত তিনটি ওয়ানডে এবং চারটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টসে জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। হারারেতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ টস জিতে প্রতিপক্ষকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠান।
এই ম্যাচে তিন পেসার নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে বাংলাদেশ। অভিজ্ঞ মুস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদের সঙ্গে আছেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা।
স্পিন আক্রমণে আছেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রয়োজনে পার্ট-টাইম বোলিং করতে পারেন মোসাদ্দেক হোসেন।
উইকেটকিপিং দায়িত্ব পালন করছেন নুরুল হাসান সোহান। চোটের কারণে বাংলাদেশের একাদশে নেই লিটন দাস। লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ একাদশ: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা।
জিম্বাবুয়ে একাদশ: রিচার্ড এনগারাভা (অধিনায়ক), ব্রায়ান বেনেট, বেন কারান, ক্রেইগ আরভিন, ব্র্যাড ইভান্স, ইনোসেন্ট কাইয়া, ক্লাইভ মাডান্ডে, ওয়েসলি মাধেভেরে, ব্লেসিং মুজারাবানি, নিউম্যান ন্যামহুরি, সিকান্দার রাজা।
বিশ্বকাপ জয়ের আজন্ম লালিত স্বপ্ন আবারও চূর্ণ হলো। সেই সঙ্গে যবনিকা পড়ল ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের। নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপের শেষ ১৬ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের প্রকাশ্য ঘোষণা দিলেন নেইমার জুনিয়র। কাকতালীয়ভাবে, ১৬ বছর আগে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই শুরু হয়েছিল তাঁর পথচলা, আর সেই একই মাঠেই আজ শেষ হলো এক বর্ণিল অধ্যায়।
অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায়
ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের গ্লোভো টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কান্নায় ভেঙে পড়েন নেইমার। তিনি বলেন, “আমি চেষ্টা করেছি, সত্যিই অনেক চেষ্টা করেছি। বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নের ইতি ঘটেছে। এখন সব শেষ। এখানেই আমার শুরু হয়েছিল, এখানেই শেষ হলো।” সরাসরি অবসরের কথা না বললেও তাঁর এই মন্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতালিয়ান সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানোর দেওয়া ‘ব্রেকিং নিউজ’ নিশ্চিত করছে যে, সেলেসাওদের জার্সিতে আর দেখা যাবে না এই জাদুকরকে।
ব্যর্থতার বৃত্তে ব্রাজিল
১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপে এটিই ব্রাজিলের সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স। নরওয়ের কাছে হেরে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নেওয়ায় সেলেসাওদের শিরোপা খরা আরও দীর্ঘ হলো। ১৯৫৮ সালে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের পর এটিই হতে যাচ্ছে ব্রাজিলের দীর্ঘতম শিরোপাহীন সময়—২০৩০ বিশ্বকাপ নাগাদ যা ২৮ বছরে দাঁড়াবে। গ্রুপ পর্বে অনিয়মিত থাকলেও বিদায়ী ম্যাচে যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমিয়েছিলেন নেইমার (২-১), কিন্তু তা দলের পরাজয় এড়াতে যথেষ্ট ছিল না।
একটি সোনালী ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান
২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই অভিষেক হয়েছিল নেইমারের। এরপর ১৬ বছরে ব্রাজিলের হয়ে খেলেছেন ১৩০টি ম্যাচ। ৮০টি গোল করে তিনি দেশটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা, যা পেলের করা রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়াও তাঁর নামের পাশে রয়েছে ৫৮টি অ্যাসিস্ট। নেইমারের বর্ণিল ক্যারিয়ারের অন্যতম প্রাপ্তি ২০১৩ সালের ফিফা কনফেডারেশনস কাপ এবং ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে ঐতিহাসিক স্বর্ণপদক জয়। তবে চারটি বিশ্বকাপ খেলেও সোনালী ট্রফিটি ছুঁয়ে দেখা হলো না তাঁর। থিয়াগো সিলভার পর দ্বিতীয় ব্রাজিলিয়ান হিসেবে চারটি বিশ্বকাপ খেলেও শিরোপাহীন থেকে বিদায় নিতে হলো তাঁকে।
নেইমারের এই বিদায়ের খবর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে যে চঞ্চল তরুণ একদিন বিশ্বজয়ের স্বপ্ন নিয়ে পা রেখেছিলেন, ৩৪ বছর বয়সে সেই মাঠ থেকেই বিদায় নিলেন এক বুক হতাশা আর অপ্রাপ্তি নিয়ে। ফ্যাব্রিজিও রোমানো তাঁর পোস্টে নেইমারের বক্তব্য উদ্ধৃত করে লেখেন, “সবকিছু এখন শেষ।”
নেইমারের বিদায়ের মধ্য দিয়ে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে একটি যুগের সমাপ্তি ঘটল। কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে না পারার আক্ষেপ আর কিংবদন্তি নেইমারের বিদায়—সব মিলিয়ে এই পরাজয় ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের জন্য এক গভীর ক্ষত হয়ে থাকবে।