শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
৩ মাঘ ১৪৩২

বিশ্বকাপে মার্কিন ভিসা বাধা: ব্রাজিলসহ ৭১ দেশের সমর্থকদের প্রবেশ অনিশ্চিত

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:০৯

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ বিশ্বের মোট ৭১টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা আবেদন কার্যক্রম স্থগিত করার নজিরবিহীন ঘোষণা দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ফুটবল পরাশক্তি ও পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের নাম থাকাটি সবচেয়ে বড় বিস্ময় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার ফলে সাম্বা সমর্থকদের নিজ দলের ম্যাচগুলোতে গ্যালারিতে উপস্থিত থাকা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফক্স নিউজ ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট তাদের অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়ন না করা পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল রাখবে।

মূলত যেসব আবেদনকারী ভবিষ্যতে দেশটির সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন, তাদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করতেই এই কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট ও আইনি ভিত্তি ব্যাখ্যা করে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে এমন অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকাতে আমাদের দীর্ঘদিনের আইনগত ক্ষমতা ব্যবহার করা হবে, যারা সরকারি সহায়তা ভোগের উদ্দেশ্যে আসেন।” তিনি আরও পরিষ্কার করেন যে, নির্দিষ্ট দেশগুলোর জন্য এই পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ আবেদনগুলো স্থগিত থাকবে এবং কেবল বিশেষ বিবেচনার ভিত্তিতেই ব্যতিক্রমী সুযোগ মিলতে পারে। এই নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া ৭৫টি দেশের তালিকায় ইরান, মিসর, আলজেরিয়া, আইভরি কোস্ট এবং উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী ফুটবল দলগুলোও রয়েছে। বিশেষ করে ব্রাজিলের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো নিউ জার্সি, ফিলাডেলফিয়া ও মায়ামিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ভিসা জটিলতায় গ্যালারিতে ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের চিরচেনা উপস্থিতি না থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্বকাপের প্রাণ হিসেবে পরিচিত সমর্থকদের অনুপস্থিতি টুর্নামেন্টের সার্বিক আমেজ ও জৌলুস কমিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। এই সিদ্ধান্তের ফলে কলম্বিয়া, ঘানা, মরক্কো ও সেনেগালের মতো অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পাশাপাশি বাছাইপর্বে থাকা জামাইকা ও কঙ্গোর সমর্থকরাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। গ্যালারিতে রঙিন দর্শক আর ঢোল-নৃত্যের অভাব ফুটবলের এই মেগা আসরকে মাঠের বাইরের বড় বিতর্কের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। একই সঙ্গে সহ-আয়োজক কানাডা ও মেক্সিকোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতিগত দূরত্ব ২০২৬ বিশ্বকাপকে একটি চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে, যেখানে দর্শকদের অংশগ্রহণই এখন প্রধান প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।


মাগুরায় ত্রিমাত্রিকের উদ্যোগে মিনি ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

মাদককে না বলুন, খেলাধুলায় উৎসাহিত হন এ স্লোগান নিয়ে মাগুরায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল মিনি ম্যারাথন প্রতিযোগিতা। প্রায় ৩০০ প্রতিযোগীর উপস্থিতিতে পাঁচ কিলোমিটার এ ম্যারাথন প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে ত্রিমাত্রিক ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৭টায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিল্প সচিব ওবায়দুর রহমান এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন। মাগুরার বিভিন্ন বয়সি তরুণ- তরুণীর এ প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ ও উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

প্রতিযোগিতা শেষে শিল্প সচিব প্রথম ১০ জন প্রতিযোগীকে বিশেষ পুরস্কার ও ২০০ জনকে মেডেল পরিয়ে দেন। উল্লেখ্য, ত্রিমাত্রিক ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন দীর্ঘদিন ধরেই মাগুরায় নানা ধরনের সামাজিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। অতীতে করোনা কালীন সময়ে মানুষকে সহযোগিতা,রক্তদান কর্মসূচি, বৃক্ষরোপন, ১০ টাকার সদায়, গরিব- অসহায়দের মাঝে কম্বল বিতরণসহ নানামুখী কর্মকাণ্ড চালিয়ে মাগুরার মানুষের মাঝে স্থান দখল করে নিয়েছে এ সংগঠন।

ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতায় শালিখা উপজেলার হাসিবুল প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, মাগুরা জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান, মাগুরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ কাজী শামসুজ্জামান কল্লোল, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, সমাজসেবার সরকারি পরিচালক জাহিদুল আলম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ মোরসালিন আলী শুভ, সঞ্চালনা করেন অ্যাডভোকেট একরামুল কবির রোমেল।

অনুষ্ঠানে শিল্প সচিব ওবায়দুর রহমান বলেন, ত্রিমাত্রিক ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শুভ কাজ করে মাগুরায় প্রশংসিত হয়েছে। আমি এ সংগঠনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি। আগামী দিনগুলোতে এ সংগঠন আরো ভালো কাজ করবে বলে আমি আশাবাদী।


চট্টগ্রামের জয়ে বিপিএল থেকে সবার আগে নোয়াখালীর বিদায়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

টানা ছয় হারের বৃত্ত ভেঙে পর পর দুই জয়ে প্লে-অফের যে আশা নোয়াখালী এক্সপ্রেস জাগিয়েছিল, চট্টগ্রাম রয়্যালসের কাছে ৫ উইকেটে হেরে সেই স্বপ্নের অন্তিম পরিণতি ঘটল।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দিনের প্রথম ম্যাচে এই হারের ফলে প্রথম দল হিসেবে টুর্নামেন্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছিটকে গেল নবাগত ফ্র্যাঞ্চাইজি নোয়াখালী। মিরপুরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে তারা ২০ ওভারে ১২৯ রানেই গুটিয়ে যায়, যা তাড়া করতে নেমে ১৮ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম।

মাঝারি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ২৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল চট্টগ্রাম রয়্যালস। তবে পঞ্চম উইকেটে অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান ও হাসান নেওয়াজের ৪০ রানের কার্যকরী জুটি দলকে বিপদ থেকে টেনে তোলে। পরবর্তীতে আসিফ আলীকে সঙ্গে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন মেহেদী; ফিফটি থেকে মাত্র এক রান দূরে থেকে তিনি ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন। আসিফের ব্যাট থেকে আসে লড়াকু ৩৬ রান। এছাড়া দলের পক্ষে মোহাম্মদ নাঈম শেখ ১৮ ও হাসান নেওয়াজ ১১ রান করলেও মাহমুদুল হাসান জয় ও মাহফিজুল ইসলাম রানের খাতা খুলতে ব্যর্থ হন।

এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের শুরুটা আশাব্যঞ্জক হলেও তা স্থায়ী হয়নি। ওপেনার সৌম্য সরকার ১৪ রান করে বিদায় নেওয়ার পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি। হাসান ইসাখিলের ২৫, জাকের আলীর ২৩ এবং সাব্বির হোসেনের ২২ রান ছাড়া আর কোনো ব্যাটার বিশের ঘর পার করতে পারেননি। মূলত পেসার শরিফুল ইসলামের বিধ্বংসী বোলিংয়ের মুখে পড়ে মাত্র ৯২ রানের ব্যবধানে শেষ ১০ উইকেট হারায় নোয়াখালী। শরিফুল ৩.৫ ওভারে মাত্র ৯ রান খরচায় ৫টি উইকেট শিকার করেন, যা চলতি আসরের দ্বিতীয় সেরা বোলিং পারফরম্যান্স। এর আগে সিলেটের নাসুম আহমেদ ৭ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন এবং রংপুরের ফাহিম আশরাফও পাঁচ উইকেটের কৃতিত্ব দেখান। শরিফুলের এই তোপেই মূলত নোয়াখালীর বড় সংগ্রহের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়।


দুঃসংবাদ পেল রিয়াল মাদ্রিদ: ইনজুরির কারনে মাঠের বাইরে এমবাপে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

সাম্প্রতিক সময়ে মাঠের পারফরম্যান্সে বেশ কঠিন সময় পার করছে রিয়াল মাদ্রিদ। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার বিপক্ষে সুপার কাপে হারের জেরে কোচ জাবি আলোনসোকে বরখাস্ত করার পর নতুন কোচ আলভারো আরবেলোয়ার অধীনেও ভাগ্য বদলায়নি দলটির, কোপা ডেল রেতে দ্বিতীয় সারির ক্লাবের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের।

লিগ শিরোপার আশা বাঁচিয়ে রাখার মিশনে লেভেন্তের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বড় দুঃসংবাদ হয়ে এসেছে দলের প্রধান তারকা কিলিয়ান এমবাপের ইনজুরি। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপ ও গোল ডটকমের প্রতিবেদন অনুসারে, বাম হাঁটুর চোটের কারণে এই ফরাসি ফরোয়ার্ড এই সপ্তাহে মাঠে নামতে পারবেন না। ব্যথার তীব্রতা কিছুটা কমলেও চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

নতুন কোচ আরবেলোয়ার জন্য এমবাপের এই অনুপস্থিতি গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ রিয়াল মাদ্রিদ বর্তমানে লিগ টেবিলে বার্সেলোনার চেয়ে চার পয়েন্টে পিছিয়ে রয়েছে। এই অবস্থায় যেকোনো পয়েন্ট হারানো শিরোপা স্বপ্ন থেকে তাদের ছিটকে দিতে পারে। এমবাপের পাশাপাশি রক্ষণভাগের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় এডের মিলিতাও, আন্তোনিও রুডিগার ও ট্রেন্ট আলেকজান্ডার আর্নল্ডকেও এই ম্যাচে পাচ্ছে না রিয়াল, যা আক্রমণ ও রক্ষণ উভয় বিভাগেই বড় শূন্যতা তৈরি করেছে।

এদিকে এমবাপ্পের ‘অনিয়মিত ফিটনেস’ নিয়ে স্পেনের ফুটবল মহলে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে বিশ্রাম নিলেও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করার তাড়নায় শেষ তিন ম্যাচে খেলেছিলেন তিনি এবং চার গোলও করেছিলেন। তবে সেই রেকর্ড গড়ার পরপরই চোটের অবনতি হওয়ায় এখন ক্লাবকে এর চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। নতুন বছরে ইতিমধ্যে দুটি ম্যাচ মিস করা এমবাপের অনুপস্থিতিতে কোচ হিসেবে আরবেলোয়াকে এখন সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।


বিশ্বকাপ প্রশ্নে বাংলাদেশে আসছে আইসিসির প্রতিনিধি দল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে আইসিসির একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফরে আসছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

ভারতের মাটিতে না খেলার বিষয়ে বিসিবি নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় আইসিসি তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে আগ্রহী। সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমি সর্বশেষ অবস্থা শুধু এইটুকুই জানি, আমাকে আমিনুল ইসলাম বুলবুল সাহেব জানিয়েছেন যে, আইসিসির একটা টিম হয়তো আসছে বাংলাদেশে কথা বলার জন্য।’

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে তারা বিশ্বকাপ খেলতে আগ্রহী হলেও নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসবে না। দেশের মাটিতেই এই টুর্নামেন্ট আয়োজন ও সেখানে খেলার বিষয়ে দৃঢ়তা প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা আমাদের অবস্থান বদলানোর কোনো সুযোগ নাই। আমরা প্রচণ্ডভাবে বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলতে চাই এবং সেটা আমরা আমাদের দেশেই খেলতে চাই এবং এটা আয়োজন করা অসম্ভব না বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

ক্রীড়াঙ্গনের বর্তমান অস্থিরতা এবং ক্রিকেটারদের নিয়ে বিসিবি পরিচালকের মন্তব্যের সমালোচনা করে তিনি আরও জানান যে, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সম্মান রক্ষা করা জরুরি। মুস্তাফিজের প্রসঙ্গ ও সাম্প্রতিক বিতর্ক টেনে তিনি তার বক্তব্যে আরও বলেন, ‘ক্রিকেটের ব্যাপারটা খুব অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে হয়েছে। এখানে আপনারা লক্ষ্য করেছেন, আমরা একজন ক্রিকেটার মুস্তাফিজের অবমাননা হয়েছে দেখে পুরা বাংলাদেশ রুখে দাঁড়িয়েছে। তো সেখানে আপনার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের একজন পরিচালক পুরো বাংলাদেশের সমস্ত ক্রিকেটারদেরকে অপমানজনক যে মন্তব্য করেছেন, আমি একজন ক্রিকেট ভক্ত হিসেবে বলি; আমার কাছে খুবই দায়িত্বহীন মনে হয়েছে এটা।’


শোকজের উত্তর না দিলে নাজমুলের বিরুদ্ধে বিসিবির কঠোর ব্যবস্থার ইঙ্গিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে চরম অস্থিরতা তৈরি হলে বিপিএল স্থগিতের নজিরবিহীন ঘোষণা আসে, যদিও পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

বিসিবির পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু জানান যে, কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানোর পরও নাজমুলের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। নির্ধারিত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নাজমুল শোকজের উত্তর না দিলে বিসিবি কী পদক্ষেপ নেবে, সেই বিষয়ে ধারণা দিয়ে মিঠু বলেন, ‘তাকে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান থেকে অপসারণ করা হয়েছে। আমরা তো গঠনতন্ত্রের অধীনে চলি। প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাকে শোকজ করা হয়েছে। এজন্য সময় দেওয়া হয়েছে ৪৮ ঘণ্টা। সেই সময়সীমা ১৭ জানুয়ারি দুপুরে শেষ হবে।’

নির্ধারিত সময়ে জবাব না মিললে বিসিবির পরবর্তী আইনি ও সাংগঠনিক পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি পরিষ্কার করেন যে বিষয়টি এরপর ডিসিপ্লিনারি কমিটিতে পাঠানো হবে।

এ প্রসঙ্গে ইফতেখার রহমান মিঠুর ভাষ্য, ‘এরপর এটা ডিসিপ্লিনারি কমিটিতে যাবে। একদম গঠনতন্ত্রে লেখা আছে। ডিসিপ্লিনারি কমিটি তাদের প্রক্রিয়ায় এগোবে। জবাব না দিলে, তার মানে আপনি জানেন… আদালতে যদি মামলা করা হয়, আপনি যদি হাজিরা না দেন, এটার ফল তো আমার ব্যাখ্যা করার দরকার নেই।’ ইফতেখার রহমান মিঠু তার বক্তব্যে সরাসরি কোনো চরম সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ না করলেও পরোক্ষভাবে বিসিবির পরিচালক পদ থেকে নাজমুল ইসলামের চূড়ান্ত অপসারণের বিষয়টিই ইঙ্গিত করেছেন।


চৌধুরী জায়দান শারাফাত-মুয়ীদ ডাবলস বিজয়ী

গাজী রাকিব সিঙ্গলস চ্যাম্পিয়ন  
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সম্প্রতি আয়োজন করা উইন্টার টেবিল টেনিস স্ম্যাশ প্রতিযোগিতা অত্যন্ত উত্তেজনা এবং উচ্ছ্বাসে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এতে শিক্ষার্থী, প্রফেশনাল খেলোয়াড় এবং ন্যাশনাল টুর্নামেন্ট অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন। সিঙ্গলস ও ডাবলস—উভয় বিভাগে ৩০ জন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করেন।

ডাবলস ফাইনালে মুয়ীদ বিন সাবির ও চৌধুরী জায়দান শারাফাত মুখোমুখি হন হিমেল বারুয়া ও চৌধুরী জারবিন শারাফাতের সঙ্গে। পাঁচ সেটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে উভয় দলই দর্শকদের শ্বাসরুদ্ধ করে রাখে। যেখানে মুয়ীদ ও চৌধুরী জায়দান শারাফাত জয়ী হন এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির ইতিহাসে দ্রুততম ডাবলস চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নাম লেখান, আর তারই সহদোর চৌধুরী জারবিন শারাফাত এবং তার ডাবলস সংগী হিমেল বড়ুয়া রানার-আপ হন।

সিঙ্গলস গ্র্যান্ড ফাইনালে গাজী রাকিব, ফাইনাল জয় করেন এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির সিঙ্গলস চ্যাম্পিয়নশিপে তৃতীয়বারের হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করেন। এই টুর্নামেন্টে প্রফেশনাল ও ন্যাশনাল লেভেলের দর্শনীয় খেলোয়াড়রা অংশগ্রহণ করেন, যেমন গাজী রাকিব, মুয়ীদ বিন সাবির, চৌধুরী জায়দান শারাফাত, চৌধুরী জারবিন শারাফাত, হিমেল বারুয়া এবং আরও অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড়, যা টুর্নামেন্টকে অসাধারণ এবং স্মরণীয় করেছে।


দেশের ক্রিকেটে ঐক্যের ডাক ক্রীড়া উপদেষ্টার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে বিরাজমান অস্থিরতা ও বিসিবি বনাম ক্রিকেটারদের মধ্যকার চলমান দ্বন্দ্ব নিরসনে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার ইস্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিবাদ বর্তমানে চরমে পৌঁছেছে, যার প্রভাব পড়ছে মাঠের ক্রিকেটেও।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ব দরবারে আমাদের ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে পরিচয় দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তিনি ক্রিকেট বোর্ড, ক্রিকেটার এবং ক্রিকেটপ্রেমী—সকলকে দেশের মর্যাদার প্রশ্নে একতাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ক্রিকেটারদের খেলা বন্ধের ডাক এবং এর ফলে আজ বিপিএলের ঢাকা পর্বের ম্যাচগুলো মাঠে না গড়ানোয় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা। একজন পরিচালকের এমন মন্তব্যকে তিনি অত্যন্ত দায়িত্বহীন এবং ক্রিকেটারদের জন্য অবমাননাকর বলে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন কথা কীভাবে সম্ভব হলো সেটি তার বোধগম্য নয় এবং বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে এটি ক্রিকেট বোর্ডের অভ্যন্তরীণ বিষয় হওয়ায় বোর্ডই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ক্রীড়া উপদেষ্টার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ক্রিকেটারদের কঠোর অবস্থানের কারণে বিপিএলের সূচি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আসিফ নজরুল স্পষ্ট করে বলেন যে, দেশের ক্রিকেট ভক্ত হিসেবে ক্রিকেটারদের সম্মানহানি হওয়া তার কাছে অগ্রহণযোগ্য।

তিনি বিশ্বাস করেন, বিবাদের পথ পরিহার করে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই ক্রিকেটের এই গুমোট পরিবেশ দূর করা সম্ভব।


অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত বিপিএল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রতিবাদে ক্রিকেটারদের সংগঠন ‘কোয়াব’ নাজমুলের পদত্যাগ দাবি করে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট বয়কটের ডাক দিয়েছে। যদিও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিসিবি নাজমুলকে অর্থ কমিটির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে, তবে ক্রিকেটাররা তাদের দাবিতে অনড় থেকে মাঠে ফিরতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ফলে চলমান বিপিএল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে বিসিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার থেকে বিপিএলের ঢাকা পর্বের খেলা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ক্রিকেটারদের বয়কটের কারণে তা সম্ভব হয়নি। দিনের প্রথম ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেসের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু দুপুর সাড়ে ১২টায় টসের সময় কোনো ক্রিকেটারকেই মাঠে দেখা যায়নি। মাঠে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও টেকনিক্যাল কমিটির আহ্বায়ক রাকিবুল হাসানসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকলেও খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতিতে ম্যাচ আয়োজন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশ্যে তখন জায়ান্ট স্ক্রিনে বিসিবি একটি দুঃখ প্রকাশমূলক বার্তা প্রদর্শন করে। সেখানে লেখা ছিল, “বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছে যে, আজকের চট্টগ্রাম রয়‍্যালস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেস দলের মধ্যকার ম্যাচটি অনিবার্য কারণবশত বিলম্বিত হয়েছে। এতে দর্শকদের যে অসুবিধা হয়েছে, তার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আন্তরিকভাবে দুঃখিত এবং সকল দর্শককে অনুরোধ করছি ধৈর্য ধারণ করে আসনে অবস্থান করতে, কারণ ম্যাচটি যত দ্রুত সম্ভব শুরু করার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চলছে।”

ম্যাচ শুরু না হওয়ায় এক পর্যায়ে ধৈর্য হারিয়ে দর্শকরা উত্তেজিত হয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একই সময়ে বনানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় দলের সিনিয়র ক্রিকেটারসহ কোয়াবের সদস্যরা তাদের অবস্থানে অনড় থাকার ঘোষণা দেন। ক্রিকেটারদের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পরপরই মিরপুর স্টেডিয়াম থেকে ম্যাচ আয়োজনের যাবতীয় প্রস্তুতি বন্ধ করে দেয় বিসিবি এবং দর্শকরাও হতাশ হয়ে মাঠ ত্যাগ করেন। তবে স্থগিত হওয়া ম্যাচের টিকিট ফেরত বা পুনঃতফসিলের বিষয়ে এখন পর্যন্ত বোর্ডের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।


নাজমুলকে অব্যাহতি: অর্থ কমিটির দায়িত্বে সভাপতি আমিনুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ক্রিকেটারদের টানা আন্দোলন ও কঠোর অবস্থানের মুখে অবশেষে নতি স্বীকার করল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে বিসিবি পরিচালক ও অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলামকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে বোর্ড এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। একইসঙ্গে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম নিজেই অর্থ কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানানো হয়েছে।

বিসিবির বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বোর্ডের সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিসিবি সভাপতির ওপর অর্পিত বিশেষ ক্ষমতাবলে এই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের ক্রিকেটের অচলাবস্থা নিরসন এবং খেলোয়াড়দের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়েই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বোর্ড স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, ক্রিকেটারদের স্বার্থ রক্ষা করাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিসিবি তাদের অধিক্ষেত্রভুক্ত সকল খেলোয়াড় এবং জাতীয় দলের তারকাদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত সপ্তাহে, যখন পরিচালক নাজমুল ইসলাম জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন। সেই ঘটনার রেশ না কাটতেই তিনি পুনরায় ক্রিকেটারদের অবদান ও বেতন-ভাতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, যা আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করে। এর প্রতিবাদে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব কড়া সমালোচনা করে এবং একপর্যায়ে ক্রিকেটাররা সব ধরনের ক্রিকেট বর্জনের ডাক দেন। তাদের অনড় দাবির কারণেই আজকের এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বোর্ড।

এই সংকটের কারণে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ঢাকা পর্ব বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল। খেলোয়াড়দের বয়কটের কারণে নির্ধারিত সময়ে দিনের প্রথম ম্যাচ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিসিবি জরুরি অনলাইন সভা করে এবং খেলোয়াড়রা মাঠে না ফিরলে বিপিএল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত নাজমুলকে অব্যাহতির মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিসিবি প্রত্যাশা করছে, এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে সব ক্রিকেটার তাদের পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে দ্রুত মাঠে ফিরবেন এবং দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে অবদান রাখবেন।


সব ধরনের ক্রিকেট বর্জনের ঘোষণা ক্রিকেটারদের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে এক নজিরবিহীন অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। উক্ত পরিচালকের পদত্যাগের দাবিতে সব ধরনের ক্রিকেট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ক্রিকেটাররা। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ক্রিকেটারদের সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) আনুষ্ঠানিকভাবে এই কঠোর কর্মসূচির কথা জানিয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্রিকেটাররা মাঠে ফিরবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের আপত্তিকর ও বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে কোয়াবের পক্ষ থেকে তার পদত্যাগের দাবি জানানো হয়েছিল। সংগঠনের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওই পরিচালক পদত্যাগ না করলে তারা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত নাজমুল ইসলাম পদত্যাগ না করায় ক্রিকেটাররা তাদের পূর্বঘোষিত আল্টিমেটাম অনুযায়ী সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।

বৃহস্পতিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন জানান, ক্রিকেটাররা তাদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। তিনি বলেন, যেহেতু বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম এখনো পদত্যাগ করেননি, তাই ক্রিকেটাররা সম্মিলিতভাবে সব ধরনের ক্রিকেট বর্জনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এই ঘোষণার ফলে চলমান বিপিএলসহ ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সব ক্রিকেট কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ক্রিকেটারদের এই অনড় অবস্থানের ফলে সৃষ্ট সংকট নিরসনে বোর্ড কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি।


নাইজেরিয়াকে হারিয়ে ৫০ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর মিশনে আফকনের ফাইনালে স্বাগতিক মরক্কো

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের (আফকন) রোমাঞ্চকর সেমিফাইনালে নাটকীয় জয়ের মাধ্যমে ফাইনালে পা রেখেছে স্বাগতিক মরক্কো। বুধবার রাবাতে অনুষ্ঠিত হাইভোল্টেজ ম্যাচে শক্তিশালী নাইজেরিয়াকে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে পরাজিত করে তারা। নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলা গোলশূন্যভাবে শেষ হওয়ার পর ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। সেখানে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বনোর বীরত্বপূর্ণ পারফরম্যান্সে দীর্ঘ ২২ বছর পর আবারও আফকনের ফাইনালে ওঠার গৌরব অর্জন করল আটলাস লায়নরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল সতর্কভাবে খেলতে থাকে। তবে ঘরের মাঠে দর্শকদের সমর্থনে মরক্কো তুলনামূলকভাবে বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। বল দখলে এগিয়ে থাকলেও নাইজেরিয়ার রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষক স্ট্যানলি নওয়াবালির দৃঢ়তায় গোলের দেখা পায়নি স্বাগতিকরা। মরক্কোর নায়েফ আগুয়ের্দের একটি হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসলে হতাশা বাড়ে গ্যালারিতে। অন্যদিকে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা দল হিসেবে সেমিফাইনালে আসা নাইজেরিয়ার আক্রমণভাগ ছিল অনেকটাই নিষ্প্রভ। ভিক্টর ওসিমেন কয়েকবার বল পেলেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। মরক্কোর ইসমাইল সাইবারি ও আয়ুব এল কাবি সুযোগ তৈরি করলেও কাঙ্ক্ষিত গোলটি আদায় করতে পারেননি। ফলে ১২০ মিনিটের ম্যারাথন লড়াই শেষ হয় ০-০ সমতায়।

টাইব্রেকারে নায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন মরক্কোর অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ইয়াসিন বনো। তিনি নাইজেরিয়ার স্যামুয়েল চুকউয়েজে ও ব্রুনো অনিয়েমেচির শট অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে রুখে দেন। এরপর মরক্কোর হয়ে জয়সূচক স্পট কিকটি নেন ইউসুফ এন নেসিরি। তার শট জালে জড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো স্টেডিয়াম। এই জয়ের ফলে ২০০৪ সালের পর প্রথমবারের মতো আফকনের ফাইনালে উঠল মরক্কো।

আগামী রবিবার রাবাতেই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মরক্কোর প্রতিপক্ষ গত আসরের চ্যাম্পিয়ন সেনেগাল। দীর্ঘ ৫০ বছর পর নিজেদের দ্বিতীয় আফ্রিকান শিরোপা জয়ের হাতছানি এখন মরক্কোর সামনে। অন্যদিকে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া নাইজেরিয়াকে এখন তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মিশরের মুখোমুখি হতে হবে। মিশরের বিদায়ের পর নাইজেরিয়ার হারে আফকনের দুই পরাশক্তিই এবার শিরোপার লড়াই থেকে ছিটকে গেল।


বিপিএলের প্লে-অফ নিশ্চিতের জটিল সমীকরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

তিনটি ভিন্ন পর্বে আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সিলেটের পর ঢাকা পর্ব দিয়েই শেষ হতে যাচ্ছে এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বা বিপিএল। বৃহস্পতিবার থেকে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সূচি অনুযায়ী আজ দুপুর ১টায় চট্টগ্রাম রয়ালস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেস এবং সন্ধ্যা ৬টায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও সিলেট টাইটান্সের মধ্যকার ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে ক্রিকেটারদের খেলা বয়কটের হুমকিতে মাঠের লড়াই নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব নাজমুল ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে আল্টিমেটাম দিয়েছে, যা না মানলে তারা মাঠে নামবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

মাঠের বাইরের এই উত্তাপের মধ্যেই টুর্নামেন্টের সমীকরণ এখন চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগোচ্ছে। যদি অচলাবস্থা কেটে খেলা মাঠে গড়ায়, তবে দলগুলোর সামনে থাকছে প্লে-অফ নিশ্চিত করা এবং শীর্ষস্থান দখলের লড়াই। চলতি দ্বাদশ আসরে ইতিমধ্যেই তিনটি দল প্লে-অফ বা সেরা চার নিশ্চিত করেছে। দলগুলো হলো রাজশাহী ওয়ারিয়র্স, চট্টগ্রাম রয়্যালস এবং সিলেট টাইটান্স। সেরা চারে জায়গা করে নেওয়া এই তিন দলের মূল লক্ষ্য এখন পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুইয়ে থাকা। কারণ নিয়ম অনুযায়ী, পয়েন্ট তালিকার এক ও দুই নম্বর দল সরাসরি কোয়ালিফায়ারে খেলবে, যেখানে জিতলেই ফাইনাল নিশ্চিত হবে, আর হারলেও থাকবে দ্বিতীয় সুযোগ। অন্যদিকে তিন ও চারে থাকা দলকে এলিমিনেটর ম্যাচে লড়তে হবে, যেখানে হারলেই বিদায়।

পয়েন্ট তালিকার বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, ৮ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। এক ম্যাচ কম খেলে ১০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। শেষ দুই ম্যাচের একটিতে জিতলেই তাদের শীর্ষ দুইয়ে থাকা নিশ্চিত হবে। অন্যদিকে ১০ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা সিলেট টাইটান্সের সামনে সমীকরণটি একটু কঠিন। তাদের হাতে আর মাত্র একটি ম্যাচ বাকি, তাই শীর্ষ দুইয়ে জায়গা পেতে হলে তাদের ওই ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প নেই। অন্যথায় তাদের এলিমিনেটর ম্যাচ খেলেই ফাইনালের পথে এগোতে হবে।

প্লে-অফের অবশিষ্ট একটি জায়গার জন্য লড়াই করছে বাকি তিন দল—রংপুর রাইডার্স, ঢাকা ক্যাপিটালস এবং নোয়াখালী এক্সপ্রেস। এই দৌড়ে বর্তমানে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে রংপুর রাইডার্স। ৮ ম্যাচে ৪ জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে তারা টেবিলের চতুর্থ স্থানে রয়েছে। বাকি দুই ম্যাচের মধ্যে অন্তত একটিতে জিতলেই তাদের প্লে-অফ নিশ্চিত হবে। তবে রংপুর যদি দুই ম্যাচেই হারে, তখন সমীকরণটি জটিল হয়ে যাবে। অন্যদিকে সমানসংখ্যক ম্যাচ খেলে ৪ পয়েন্ট করে নিয়ে ধুঁকছে ঢাকা ও নোয়াখালী। প্লে-অফে উঠতে হলে তাদের শুধু নিজেদের শেষ দুই ম্যাচে জিতলেই চলবে না, তাকিয়ে থাকতে হবে রংপুরের হারের দিকেও। সব মিলিয়ে মাঠের বাইরের সংকট কাটলে মাঠের ভেতরের এই রোমাঞ্চকর সমীকরণ দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।


নতুন কোচ আরবেলোয়ার অভিষেকেই বিপর্যয়: দ্বিতীয় বিভাগের দলের কাছে হেরে কোপা দেল রে থেকে রিয়ালের বিদায়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে পরিবর্তনের হাওয়া লাগলেও ভাগ্য বদলাল না স্প্যানিশ জায়ান্টদের। জাবি আলোনসোকে বরখাস্ত করে নতুন কোচ হিসেবে আলভারো আরবেলোয়াকে দায়িত্ব দিয়েছিল ক্লাব কর্তৃপক্ষ। কিন্তু নতুন কোচের অভিষেক ম্যাচেই বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ল লস ব্লাঙ্কোসরা। কোপা দেল রের শেষ ষোলোর ম্যাচে দ্বিতীয় বিভাগের দল আলবাসেতের কাছে ৩-২ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে হারের ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেল তাদের।

সামনে লা লিগায় লেভান্তের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থাকায় নতুন কোচ আরবেলোয়া দলের প্রধান তারকাদের বিশ্রাম দেওয়ার ঝুঁকি নিয়েছিলেন। কিলিয়ান এমবাপ্পে, রদ্রিগো, থিবো কোর্তুয়া এবং জুড বেলিংহ্যামের মতো তারকাদের বেঞ্চে রেখে বা স্কোয়াডের বাইরে রেখে তিনি একাদশ সাজান। তার পরিবর্তে একাডেমির দুই তরুণ খেলোয়াড় হোর্হে সেস্তেরো ও ডেভিড হিমেনেজকে সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু দ্বিতীয় সারির দল নামানোর এই কৌশল শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায় রিয়ালের জন্য।

ম্যাচের প্রথমার্ধের ৪২ মিনিটে হাভি ভিয়াররের হেডে এগিয়ে যায় আলবাসেতে। তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ফ্রাঙ্কো মাসতান্তুওনোর গোলে সমতায় ফেরে রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু ম্যাচের মূল নাটকীয়তা তখনো বাকি ছিল। শেষ আট মিনিটে বদলি খেলোয়াড় জেফতে বেতানকোর জোড়া গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আলবাসেতের হাতে তুলে দেন। মাঝখানে রিয়ালের গনসালো গার্সিয়া একটি গোল করে ব্যবধান কমালেও তা দলের হার এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। এই জয়ের মাধ্যমে ১৫ বারের চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জয় পাওয়ার স্বাদ পেল আলবাসেতে এবং কোপা দেল রের কোয়ার্টার ফাইনালে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করল।

ম্যাচ শেষে এই লজ্জাজনক হারের সম্পূর্ণ দায় নিজের কাঁধেই নিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের নতুন কোচ আলভারো আরবেলোয়া। তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, এই ফলাফলের জন্য যদি কাউকে দায়ী করতে হয়, তবে সেটা তিনি নিজেই। একাদশ নির্বাচন থেকে শুরু করে খেলার কৌশল নির্ধারণ—সব সিদ্ধান্তই তার ছিল, তাই ব্যর্থতার দায়ভারও তিনি গ্রহণ করছেন। দলের এমন পারফরম্যান্সে সমর্থকরা হতাশ এবং নতুন কোচের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এখনই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।


banner close