সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
২ চৈত্র ১৪৩২

পাকিস্তানকে হারিয়ে আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ে উন্নতি বাংলাদেশের

আপডেটেড
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১১:৪৫
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৬ মার্চ, ২০২৬ ১১:৪৫

পলিটিক্যাল কারণে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা না হলেও ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটে বাংলাদেশের কামব্যাক হয়েছে বেশ দুর্দান্ত। হোমে নিজেদের দর্শকদের সামনে ফার্স্ট দ্বিপাক্ষিক সিরিজটিই জিতে নিল বাংলাদেশ। এই জয়ের ফলে পরবর্তী টার্গেট ওয়ানডে বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার রেসে এক স্টেপ এগিয়ে গেল টাইগাররা। পাকিস্তানের বিপক্ষে এই রোমাঞ্চকর সিরিজ জয়ের ফলে আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়েও বড় পজিশন ইমপ্রুভ করেছে বাংলাদেশ।

সিরিজের শুরুটা হয়েছিল দুর্দান্তভাবে। ফার্স্ট ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয় পেলেও সেকেন্ড ম্যাচে বেশ বাজেভাবে হেরে গিয়েছিল স্বাগতিকরা। তবে ডিসাইডিং থার্ড ম্যাচে রোমাঞ্চ ছড়িয়ে ১১ রানের জয় তুলে নিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। এই জয়ের ফলেই ওডিআই র‍্যাংকিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পেছনে ফেলে ৯ নম্বরে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। আগের সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর পর র‍্যাংকিংয়ের ১০ নম্বরে থাকলেও রেটিং পয়েন্টের ডিফারেন্স ছিল মাত্র ১। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭৬ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে সিরিজ শুরু করেছিল বাংলাদেশ, যা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৯-তে। অন্যদিকে ৭৭ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ১০ নম্বরে নেমে গেছে ক্যারিবীয়রা। সিরিজ হারলেও পাকিস্তান তাদের ৪ নম্বর পজিশন ধরে রেখেছে, তবে তাদের রেটিং পয়েন্ট ১০৫ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১০২-এ।

আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপে ডিরেক্টলি কোয়ালিফাই করার জন্য এই র‍্যাংকিং ইমপ্রুভমেন্ট খুবই ভাইটাল। আগামী বছরের ৩১ মার্চ র‍্যাংকিংয়ের ওপর ভিত্তি করে ডেটলাইন চূড়ান্ত হবে কোন দলগুলো সরাসরি বিশ্বকাপে খেলবে। হোস্ট কান্ট্রি হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে ছাড়াও র‍্যাংকিংয়ের টপ ৮ দল ডিরেক্টলি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি আরেকটি হোস্ট নেশন নামিবিয়াও ডিরেক্ট এন্ট্রি পাবে। যদি দক্ষিণ আফ্রিকা র‍্যাংকিংয়ের টপ ৮-এর মধ্যে থাকতে পারে, তবে র‍্যাংকিংয়ের ৯ নম্বর দলও ডিরেক্টলি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। সেই সমীকরণে বাংলাদেশকে অন্তত টপ ৯-এর মধ্যে থাকতে হতো এবং বর্তমানে তারা সেই পজিশন সিকিউর করেছে।

এদিকে সিরিজের থার্ড ম্যাচে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছুটা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিগ স্ক্রিন দেখে থার্ড আম্পায়ার রিভিউ চেক করার সময় প্রপার রুলস মেইনটেইন করেননি বলে অভিযোগ তুলেছে পাকিস্তান টিম। তবে যাবতীয় ডিবেট পেছনে ফেলে সিরিজ জয় বাংলাদেশের জন্য বড় কনফিডেন্স হিসেবে কাজ করবে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটে এই সাকসেস বাংলাদেশের জন্য নেক্সট ওয়ানডে বিশ্বকাপের কোয়ালিফিকেশন পাথ অনেক সহজ করে দিল। র‍্যাংকিংয়ের এই পজিশন ধরে রাখতে পারলে ডিরেক্টলি বিশ্বকাপে খেলার বড় সুযোগ থাকবে বাংলাদেশের সামনে।


পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

ছবি: কোলাজ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

পাকিস্তানকে ১১ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুরে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচে নাটকীয় লড়াই শেষে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।

ঢাকার শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শেষ ওভার পর্যন্ত গড়ায়। শেষ ওভারে পাকিস্তানের দরকার ছিল ১৪ রান। বোলিংয়ে ছিলেন রিশাদ হোসেন। প্রথম দুই বলে রান নিতে পারেননি শাহিন আফ্রিদি। তৃতীয় বলে তিনি দুই রান নিলেও পরের দুই ডেলিভারিতে আবারও রান আটকে দেয় বাংলাদেশ। শেষ বলে উইকেট হারায় পাকিস্তান। ডাউন দ্য উইকেটে এসে বল মিস করলে লিটন দাস স্টাম্পিং করেন শাহিন আফ্রিদিকে। তাতেই ১১ রানের জয় পায় বাংলাদেশ।

এর আগে বাংলাদেশের দেওয়া ২৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে পাকিস্তান। ইনিংসের প্রথম ওভারেই উইকেট তুলে নেন তাসকিন আহমেদ। এরপর নাহিদ রানাও দ্রুত উইকেট পেয়ে চাপ বাড়ান। মাত্র তিন ওভারের মধ্যেই তিন উইকেট হারিয়ে বসে পাকিস্তান।

পরে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন আবদুল সামাদ ও গাজী ঘোরি। তবে তাদের জুটি ভেঙে দেন নাহিদ রানা। এরপর আগা সালমান লড়াই চালিয়ে যান এবং ছক্কা মেরে শতক পূর্ণ করেন। তিনি ৯৮ বলে ১০৬ রান করেন। তবে শেষদিকে তাকে আউট করেন তাসকিন আহমেদ, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন চারটি উইকেট নেন। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট নেন মোস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানাও।

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৯০ রান করে বাংলাদেশ। দলের হয়ে ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দেন ওপেনার তানজিদ হাসান। তিনি ১০৭ বলে ১০৭ রান করেন, যা তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি।

তানজিদের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে ১০৫ রান যোগ করেন সাইফ হাসান, যিনি করেন ৩৬ রান। দ্বিতীয় উইকেটে নাজমুল হোসেনের সঙ্গে তানজিদ গড়েন আরও ৫৩ রানের জুটি। পরে তাওহিদ হৃদয় ৪৮ রানে অপরাজিত থাকেন এবং লিটন দাস করেন ৪১ রান।

শেষদিকে আফিফ হোসেন ও হৃদয়ের ছোট কিন্তু কার্যকর জুটিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ পৌঁছে যায় ২৯০ রানে।

এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পাকিস্তানকে হারিয়ে ট্রফি নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ।


আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন সরফরাজ আহমেদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক ব্যাটার সরফরাজ আহমেদ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের অবসরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটল প্রায় দুই দশকের এক বর্ণাঢ্য ও গৌরবোজ্জ্বল ক্যারিয়ারের।

করাচিতে জন্ম নেওয়া সরফরাজের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচের মাধ্যমে। এর তিন বছর পর ২০১০ সালে তিনি টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি সংস্করণেও অভিষেক করেন। পাকিস্তানের হয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ৫৪টি টেস্ট, ১১৭টি একদিনের ম্যাচ এবং ৬১টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। তিন সংস্করণ মিলিয়ে তিনি মোট ৬ হাজার ১৬৪ রান সংগ্রহ করেছেন। তার ব্যক্তিগত অর্জনের ঝুলিতে রয়েছে ৬টি শতরান ও ৩৫টি অর্ধশতক। উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতেও তিনি ছিলেন অনন্য; নিয়েছেন ৩১৫টি ক্যাচ এবং করেছেন ৫৬টি স্টাম্পিং।

সরফরাজ আহমেদ তিন সংস্করণ মিলিয়ে মোট ১০০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার অধিনায়কত্বেই পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিল। এছাড়া তার অধীনে দলটি টানা ১১টি টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের এক অনন্য বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল।

তবে সরফরাজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে ১৮০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা জয় করে পাকিস্তান। তিনি পাকিস্তানের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে এই শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেন। এর আগে ২০০৬ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও তার নেতৃত্বে পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ফলে জুনিয়র ও সিনিয়র—উভয় পর্যায়ে বৈশ্বিক শিরোপা জেতা একমাত্র পাকিস্তানি অধিনায়ক হিসেবে তিনি ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখিয়েছেন।

ব্যক্তিগত রেকর্ডেও সরফরাজ ছিলেন সমান উজ্জ্বল। ২০১৯ সালে জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এক টেস্ট ম্যাচে ১০টি ক্যাচ নিয়ে তিনি পাকিস্তানের হয়ে নতুন রেকর্ড গড়েন। এছাড়া ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শতরান করার মাধ্যমে পাকিস্তানের একমাত্র উইকেটরক্ষক ব্যাটার হিসেবে সেই বিশেষ কীর্তি স্থাপন করেন।

২০২৩ সালে পার্থে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত টেস্ট ম্যাচটিই ছিল পাকিস্তানের জার্সিতে সরফরাজের শেষ উপস্থিতি। জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আবেগপ্রবণ হয়ে সরফরাজ বলেন, পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মানের বিষয়। ২০০৬ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয় থেকে শুরু করে ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হাতে তোলা—প্রতিটি মুহূর্তই তার কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর এই প্রস্থান পাকিস্তানের ক্রিকেট অঙ্গনে একটি যুগের অবসান ঘটিয়েছে।


দুইজন কম নিয়ে লড়েও হারেনি বায়ার্ন মিউনিখ, নাটকীয় ড্রয়ে ফিরল স্বস্তি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

জার্মান ফুটবল লিগে বায়ার লেভারকুজেনের বিপক্ষে এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ ও নাটকীয় ম্যাচে কোনোমতে হার এড়িয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম এবং পরবর্তীতে দলের দুইজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হলেও শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের সমতা নিয়ে মাঠ ছেড়েছে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা। অধিকাংশ সময় ১০ জন এবং শেষ দিকে ৯ জন নিয়ে লড়াই করেও পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে পারা বায়ার্নের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ম্যাচের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় বায়ার্ন মিউনিখ। ষষ্ঠ মিনিটে স্বাগতিক লেভারকুজেনকে এগিয়ে দেন স্প্যানিশ মধ্যমাঠের খেলোয়াড় আলেইশ গার্সিয়া। গোল হজম করে পিছিয়ে পড়া বায়ার্ন বল দখলে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও আক্রমণে তেমন ধার দেখাতে পারছিল না। উল্টো প্রথমার্ধের ৪২ মিনিটে সেনেগালের ফরোয়ার্ড নিকোলাস জ্যাকসন প্রতিপক্ষের একজনকে বিপজ্জনকভাবে বাধা দিলে ভিডিও প্রযুক্তির সহায়তায় রেফারি তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয়ে বিরতিতে যায় বায়ার্ন।

দ্বিতীয়ার্ধেও নাটকের শেষ ছিল না। ৬১ মিনিটে হ্যারি কেইন বল জালে পাঠিয়ে দলকে উল্লাসে মাতালেও কিছুক্ষণ পরেই সেই আনন্দ বিষাদে রূপ নেয়। ভিডিও প্রযুক্তিতে দেখা যায়, গোল করার আগে হ্যারি কেইনের হাতে বল লেগেছিল, ফলে গোলটি বাতিল ঘোষণা করা হয়। তবে বায়ার্ন হাল ছাড়েনি। ৬৯ মিনিটে মাইকেল ওলিসের পাস থেকে দুর্দান্ত এক গোল করে দলকে সমতায় ফেরান লুইস দিয়াস। সমতায় ফেরার পর যখন বায়ার্ন জয়ের স্বপ্ন দেখছিল, ঠিক তখনই ৮৪ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় গোলদাতা লুইস দিয়াসকে।

শেষ কয়েক মিনিট ৯ জন নিয়ে লেভারকুজেনের একের পর এক আক্রমণ সামলাতে হয়েছে বায়ার্নকে। পুরো ম্যাচে লেভারকুজেন ১৮টি শট নিয়ে বায়ার্নকে ব্যতিব্যস্ত রাখলেও শেষ পর্যন্ত রক্ষণভাগ আগলে রাখতে সক্ষম হয় সফরকারীরা। বায়ার্নের ১০টি শটের মধ্যে চারটি লক্ষ্যে থাকলেও সেগুলো খুব একটা আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারেনি। এই ড্রয়ের ফলে লিগ টেবিলের শীর্ষস্থানটি আরও মজবুত করল বায়ার্ন মিউনিখ। ২৬ ম্যাচ শেষে ৬৭ পয়েন্ট নিয়ে তারা সবার উপরে রয়েছে, যেখানে দ্বিতীয় স্থানে থাকা বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের সংগ্রহ ৫৮ পয়েন্ট।


আল-খালিজকে গোল বন্যায় ভাসিয়ে শীর্ষস্থান মজবুত করল আল নাসর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

সৌদি প্রো লিগের শিরোপা লড়াইয়ে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে বড় জয় তুলে নিয়েছে আল নাসর। শনিবার রাতে লিগের ২৬তম রাউন্ডের ম্যাচে আল-খালিজকে তাদেরই মাঠে ৫-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। এই জয়ের ফলে লিগ টেবিলের শীর্ষে নিজেদের অবস্থান আরও সংহত করল রিয়াদ ভিত্তিক দলটি।

দাম্মামের প্রিন্স মোহাম্মদ বিন ফাহদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে আল নাসরের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে শুরু থেকেই কোণঠাসা ছিল স্বাগতিক আল-খালিজ। যদিও এই ম্যাচে দলের প্রধান তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো উপস্থিত ছিলেন না, তবে তার অভাব বুঝতে দেননি বাকি ফুটবলাররা। কোচ জেসুস গোলরক্ষক পিন্টো ম্যাথিউসের সঙ্গে রক্ষণভাগে ইনিগো মার্টিনেজ, মোহাম্মদ সিমাকান, আবদুলিলাহ আল-আমরি ও নাওয়াফ বুশালকে নিয়ে রক্ষণভাগ সাজিয়েছিলেন। মাঝমাঠ ও আক্রমণ সামলানোর দায়িত্বে ছিলেন কিংসলে কোম্যান, মার্সেলো ব্রোজোভিচ, আইমান ইয়াহিয়া, জোয়াও ফেলিক্স, অ্যাঞ্জেলো গ্যাব্রিয়েল এবং আবদুল্লাহ আল-হামদান।

খেলার শুরু থেকেই বল দখলে এগিয়ে থাকা আল নাসর প্রথম গোলের দেখা পায় ৩১তম মিনিটে। মার্সেলো ব্রোজোভিচের নিখুঁত এক ক্রস থেকে দুর্দান্ত লক্ষ্যভেদে দলকে এগিয়ে দেন আবদুল্লাহ আল-হামদান। প্রথমার্ধের বাকি সময় আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় সফরকারীরা।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে আরও বিধ্বংসী হয়ে ওঠে আল নাসর। ৫৪ মিনিটে আইমান ইয়াহিয়া দলের হয়ে দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর ম্যাচের সবটুকু আলো কেড়ে নেন পর্তুগিজ তারকা জোয়াও ফেলিক্স। ৭৩ মিনিটে নিজের প্রথম এবং ৭৯ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে দলের বড় জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন তিনি। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে, যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আল-খালিজের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন অ্যাঞ্জেলো গ্যাব্রিয়েল। তার চমৎকার গোলের মধ্য দিয়ে ৫-০ ব্যবধানে বিশাল জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে আল নাসর।

এই জয়ের পর ২৬ ম্যাচে ৬৭ পয়েন্ট নিয়ে সৌদি প্রো লিগের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থানটি আরও মজবুত করল আল নাসর। তাদের ঠিক পেছনেই ৩ পয়েন্ট কম নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে আল হিলাল। অন্যদিকে, বড় হারের স্বাদ পাওয়া আল-খালিজ ৩০ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ১১তম স্থানে রয়েছে।


এলচেকে উড়িয়ে বার্সেলোনার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে রিয়াল মাদ্রিদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

মাঝমাঠের জাদুকর ফেদেরিকো ভালভার্দের দুর্দান্ত ফর্মে ভর করে স্প্যানিশ ঘরোয়া ফুটবল আসরে বড় জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। শনিবারের এই লড়াইয়ে এলচেকে ৪-১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে তালিকার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান আরও কমিয়ে এনেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ের ফলে ২৮ লড়াই শেষে রিয়ালের ঝুলিতে জমা হয়েছে ৬৬ পয়েন্ট, যা বার্সেলোনার চেয়ে মাত্র এক কম। যদিও এক লড়াই কম খেলেছে কাতালান দলটি।

উরুগুয়ের আন্তর্জাতিক তারকা ভালভার্দে বর্তমানে তার ফুটবল জীবনের অন্যতম সেরা সময় পার করছেন। শেষ তিন লড়াইয়ে এটি ছিল তার পঞ্চম লক্ষ্যভেদ। প্রথমার্ধের ৩৮তম মিনিটে রিয়ালকে এগিয়ে দেন জার্মান রক্ষণভাগের অতন্দ্র প্রহরী আন্তোনিও রুদিগার। ভালভার্দের নেওয়া একটি জোরালো শট প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিখুঁত নিশানায় লক্ষ্যভেদ করেন রুদিগার।

বিরতির ঠিক আগে আবারও ভালভার্দের চমক। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে একক প্রচেষ্টায় এগিয়ে গিয়ে সতীর্থের সঙ্গে বল আদান-প্রদান করে ডি-বক্সের ভেতর থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে বল জালে জড়ান তিনি। বিরতির পর ৬৬তম মিনিটে ডিন হুইসেনের চমৎকার এক মাথার ছোঁয়ায় রিয়ালের ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৩-০। খেলার শেষ দিকে ৮৫তম মিনিটে রিয়ালের হয়ে প্রথমবার বড়দের দলে মাঠে নামা তরুণ প্রতিভা মানুয়েল আনহেল প্রতিপক্ষের একটি বল ঠেকাতে গিয়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিজেদের জালেই পাঠিয়ে দেন।

তবে খেলার শেষ মুহূর্তে দর্শকদের এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেন তুর্কি তরুণ আর্দা গুলার। নিজের সীমানা থেকে বিপক্ষ দলের গোলরক্ষককে অপ্রস্তুত অবস্থায় দেখে দূরপাল্লার এক অবিশ্বাস্য শট নেন তিনি। গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বলটি জালের ঠিকানা খুঁজে নিলে গ্যালারিতে উৎসবের জোয়ার বয়ে যায়। অতিরিক্ত সময়ে রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া প্রতিপক্ষের একটি জোরালো আক্রমণ প্রতিহত করলে ৪-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত হয় মাদ্রিদ ক্লাবটির। এই জয়ের মাধ্যমে শিরোপার লড়াইয়ে বার্সেলোনার ওপর প্রবল চাপ তৈরি করল আনচেলত্তির শিষ্যরা।


১৬ বছর বয়সেই প্রিমিয়ার লিগের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড গড়লেন ডোম্যান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

আর্সেনালের হয়ে মাঠে নামার পর থেকেই একের পর এক রেকর্ড নিজের করে নিচ্ছেন ম্যাক্স ডোম্যান। ১৬ বছর বয়সী এই বিস্ময় বালক চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, এফএ কাপ এবং আর্সেনালের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে শুরুর একাদশে খেলার রেকর্ড আগেই গড়েছিলেন। এবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হিসেবে নাম লিখিয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন তিনি।

গতকাল (শনিবার) রাতে ঘরের মাঠ এমিরেটস স্টেডিয়ামে এভারটনের বিপক্ষে মাঠে নামে আর্সেনাল। ম্যাচজুড়ে অসংখ্য আক্রমণ করেও সফরকারী দলের রক্ষণ ভাঙতে পারছিল না মিকেল আর্তেতার শিষ্যরা, যা গ্যালারিতে হতাশা ছড়াচ্ছিল। কিন্তু ম্যাচের শেষ মুহূর্তে মাঠে নেমেই খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন ডোম্যান। প্রথমে ভিক্টর গিওকেরেসের গোলে সহায়তা করেন এবং পরে অতিরিক্ত সময়ে নিজে গোল করে দলের ২-০ গোলের জয় নিশ্চিত করেন।

ম্যাচের ৮৯ মিনিটে প্রথম গোলটি করেন গিওকেরেস। এরপর যোগ করা সময়ে সমতায় ফিরতে মরিয়া এভারটন একটি ফ্রি-কিকের সময় গোলরক্ষকসহ আর্সেনালের অর্ধে চলে আসে। সেই সুযোগে বল পেয়ে অসাধারণ গতিতে প্রতিপক্ষের অর্ধে ছুটে গিয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠান ডোম্যান। গোলটির পরেই আর্সেনালের খেলোয়াড়রা উৎসবে মেতে ওঠেন। মাত্র ১৬ বছর ৭৩ দিন বয়সে গোল করে ডোম্যান প্রিমিয়ার লিগে নতুন ইতিহাস রচনা করলেন।

এর আগে প্রিমিয়ার লিগের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ডটি ছিল এভারটনের জেমস ভনের দখলে। ২০০৫ সালে তিনি ১৬ বছর ২৭০ দিন বয়সে এই কীর্তি গড়েছিলেন। ডোম্যান তাকে দ্বিতীয় স্থানে নামিয়ে দিলেন। এই তালিকার পরের স্থানগুলোতে রয়েছেন জেমস মিলনার (১৬ বছর ৩৫৬ দিন), ওয়েইন রুনি (১৬ বছর ৩৬০ দিন), রিও এনগুমোহা (১৬ বছর ৩৬১ দিন), সেস ফ্যাব্রেগাস (১৭ বছর ১১৩ দিন) এবং মাইকেল ওয়েন (১৭ বছর ১৪৩ দিন)।

ম্যাচ শেষে তরুণ শিষ্যের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন আর্সেনাল ম্যানেজার মিকেল আর্তেতা। তিনি বলেন, “এটি এক অভূতপূর্ব মুহূর্ত। ম্যাচের আগে আমরা জয়ের জন্য যে ক্লান্তিহীন আকাঙ্ক্ষার কথা বলেছিলাম, খেলোয়াড়রা তা করে দেখিয়েছে। এমিরেটসে আমাদের একসঙ্গে কাটানো সেরা মুহূর্তগুলোর মধ্যে এটি একটি। আমার মনে হয়, সে (ডোম্যান) স্টেডিয়ামে এক ভিন্ন আবহ তৈরি করেছে। সে শুধু গোলই করেনি, পুরো খেলার চিত্র পাল্টে দিয়েছে। এই বয়সে এমন চাপের মুহূর্তে এটা স্বাভাবিক নয়।”

আর্তেতা আরও জানান, ৭৪ মিনিটে ডোম্যানকে বদলি হিসেবে নামানোর সময় তিনি তাকে বলেছিলেন, “যাও, নিজের মতো খেলো এবং আমাদের জিতিয়ে আনো। আমরা তার সামর্থ্য সম্পর্কে জানতাম এবং সে তার প্রতিফলন দেখিয়েছে।”

এই জয়ে প্রিমিয়ার লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনালের পয়েন্ট ৩১ ম্যাচে ৭০। তারা দুইয়ে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে ৯ পয়েন্টে এগিয়ে গেল। একই দিনে ম্যানচেস্টার সিটি ওয়েস্ট হ্যামের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করায় আর্সেনালের এই ব্যবধান আরও বেড়েছে। তবে পেপ গার্দিওলার দল আর্সেনালের চেয়ে একটি ম্যাচ কম খেলেছে।


আইপিএলের টানে পিএসএল ছাড়লেন মুজারাবানি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

পাকিস্তান সুপার লিগকে (পিএসএল) বিদায় জানিয়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) যোগ দিলেন জিম্বাবুয়ের তারকা পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি। পিএসএলের দল ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকলেও কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) হয়ে খেলার জন্য তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মুজারাবানির এই আকস্মিক দলবদলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ক্রিকেট বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, মুজারাবানি ইতোমধ্যে তার সিদ্ধান্তের কথা ইসলামাবাদ ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিয়েছেন। শুক্রবার কলকাতা নাইট রাইডার্সও এই জিম্বাবুইয়ান পেসারকে দলে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

কলকাতা মূলত মুজারাবানিকে দলে নিয়েছে বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের জায়গায়। ২০২৬ সালের আইপিএল নিলামে কলকাতা ৯ কোটি ২০ লাখ ভারতীয় রুপিতে মুস্তাফিজুর রহমানকে কিনেছিল। তবে গত ডিসেম্বরে ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিসিসিআই) দেশটির ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের দাবির মুখে মুস্তাফিজকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য কলকাতাকে নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে মুস্তাফিজ পিএসএলের দল লাহোর কালান্দার্সের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন।

মুজারাবানি এর আগে পিএসএলে মুলতান সুলতানসের হয়ে শিরোপা জিতেছিলেন। যদিও এবারের নিলামের শুরুতে তিনি কোনো দল পাননি। পরে ইসলামাবাদ ইউনাইটেড ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার শামার জোসেফকে ছেড়ে দিলে মুজারাবানিকে সরাসরি চুক্তিতে দলে নেয়।

টানা দ্বিতীয় বছরের মতো আইপিএল ও পিএসএলের সূচি একই সময়ে পড়ায় খেলোয়াড়দের নিয়ে দুই লিগের মধ্যে টানাপোড়েন বাড়ছে। গত বছরও একই ঘটনা ঘটেছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডার করবিন বশ পিএসএলে পেশাওয়ার জালমির হয়ে নির্বাচিত হলেও পরবর্তীতে আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের হয়ে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে যোগ দেন। এ কারণে পিএসএল কর্তৃপক্ষ তাকে এক মৌসুমের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল।

মুজারাবানির ক্ষেত্রেও একই ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। ইসলামাবাদ ইউনাইটেড ১ কোটি ১০ লাখ রুপিতে তাকে দলে ভিড়িয়েছিল। তার এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ পিসিবি আইনি পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্লেসিং মুজারাবানি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছিলেন। তার দল জিম্বাবুয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সুপার এইটে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। তিনি ছয় ম্যাচে ১৩টি উইকেট নিয়েছিলেন এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দলের বড় জয়ে চারটি উইকেট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।


উড়ন্ত ডুপ্লান্টিস, পঞ্চমবারের মতো ভাঙলেন বিশ্ব রেকর্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্রীড়াবিদ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেও যেন থামার কোনো লক্ষণ নেই আর্মান্ড ‘মন্ডো’ ডুপ্লান্টিসের। অবিশ্বাস্য গতি এবং পোলের নিখুঁত ব্যবহারে এই সুইডিশ পোল ভল্টার একের পর এক রেকর্ড ভেঙে চলেছেন। গতকাল (বৃহস্পতিবার) তিনি পঞ্চমবারের মতো বিশ্ব রেকর্ড ভাঙলেন।

সুইডেনের উপসালায় নিজের নামাঙ্কিত প্রতিযোগিতা ‘মন্ডো ক্লাসিক’-এ ৬.৩১ মিটার (২০ ফুট, ৮ ১/৪ ইঞ্চি) উচ্চতায় লাফিয়ে সফল হয়েছেন ডুপ্লান্টিস। ২০২০ সালে প্রথমবার রেকর্ড ভাঙার পর থেকে তিনি প্রতিবারই এক সেন্টিমিটার করে নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। গত বছর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ এবং তার আগের বছর প্যারিস অলিম্পিকেও তিনি রেকর্ড গড়েছিলেন।

২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে এটি ছিল তার টানা ৩৮তম জয়। তার চেয়ে বেশিবার বিশ্ব রেকর্ড ভাঙার কৃতিত্ব রয়েছে কেবল ইউক্রেনের কিংবদন্তি সের্গেই বুবকার। বুবকা ১৯৮০ থেকে ৯০-এর দশকে আউটডোরে ১৭ বার এবং ইনডোরে ১৮ বার বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন।

ডুপ্লান্টিসের ঝুলিতে তিনটি আউটডোর বিশ্ব খেতাব এবং দুটি অলিম্পিক স্বর্ণপদক রয়েছে। আগামী সপ্তাহে তিনি পোল্যান্ডে বিশ্ব ইনডোর প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন, যেখানে তার সামনে টানা চতুর্থ শিরোপা জয়ের হাতছানি।


আবারও নিষিদ্ধ হলেন মরিনিয়ো

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ডাগআউটে দাঁড়াতে পারেননি লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞার কারণে। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পর্তুগালের ঘরোয়া লিগেও নিষিদ্ধ হলেন বেনফিকা কোচ হোসে মরিনিয়ো। রেফারি ও প্রতিপক্ষ কোচের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে বারবার বিতর্কের জন্ম দেওয়া এই ‘স্পেশাল ওয়ান’কে এবার দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে পর্তুগিজ সকার ফেডারেশনের ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিল। গত রোববার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পোর্তোর বিপক্ষে ‘পর্তুগিজ ক্লাসিকো’ ম্যাচে অপেশাদার আচরণের দায়ে এই কঠোর শাস্তির মুখে পড়লেন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ম্যাচ চলাকালীন অতিরিক্ত সময়ে। ১-১ গোলে সমতা থাকা ম্যাচের ৯১ মিনিটে মরিনিয়ো উত্তেজিত হয়ে প্রতিপক্ষ পোর্তোর ডাগআউটের দিকে বল কিক মেরে বসেন। যদিও পরবর্তীতে তিনি দাবি করেছেন যে, তিনি দর্শকদের গ্যালারির দিকে বল ছুড়ে গোল উদযাপন করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর ছোঁড়া বলটি সরাসরি গিয়ে পড়ে পোর্তোর রিজার্ভ বেঞ্চে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পোর্তোর সহকারী কোচ লুইস গঞ্জালেসের সঙ্গে মরিনিয়োর তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে মরিনিয়ো তাঁর হাতের আঙুলের বিশেষ ভঙ্গিমায় প্রতিপক্ষ কোচকে ‘ছোট’ বলে বিদ্রুপ করেন, যার জবাবে গঞ্জালেস মরিনিয়োকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে আখ্যা দেন। উল্লেখ্য, মরিনিয়ো একসময় পোর্তোর হয়েই তাঁর কিংবদন্তি কোচিং ক্যারিয়ারের শুরু করেছিলেন।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে ম্যাচে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল মরিনিয়োকে। পরবর্তীতে ফেডারেশন দীর্ঘ পর্যালোচনা শেষে তাঁকে মোট ১১ দিনের জন্য সব ধরণের ফুটবলীয় কার্যক্রম থেকে দূরে রাখার নির্দেশ দেয়। এই মেয়াদের মধ্যে বেনফিকার দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে, যার কোনোটিতেই দলের ডাগআউটে এই হাই-প্রোফাইল কোচকে দেখা যাবে না। তবে কেবল মরিনিয়োই নন, বিবাদে জড়ানোর কারণে পোর্তোর সহকারী কোচ লুইস গঞ্জালেসকেও এক ম্যাচ এবং আট দিনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এদিকে, ফেডারেশনের এমন সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায্য এবং অনুপোযুক্ত’ বলে অভিহিত করেছেন হোসে মরিনিয়ো। তাঁর ক্লাব বেনফিকা এই রায়ের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আগে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বেও তাঁকে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখতে হয়েছিল। ফুটবলের এই ক্ষুরধার মস্তিষ্কের বারবার মেজাজ হারানো এবং নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া তাঁর বর্তমান দল বেনফিকার জন্য লিগ শিরোপার দৌড়ে বড় এক প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইগুলোর আগে কোচের অনুপস্থিতি মাঠে খেলোয়াড়দের মানসিকতায় কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


কিংবদন্তি অ্যাথলেট শামীমা সাত্তার মিমো আর নেই, শোকাহত ক্রীড়াঙ্গন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

দেশের ক্রীড়াঙ্গন হারালো এক কিংবদন্তি এবং নিবেদিতপ্রাণ অভিভাবককে। অ্যাথলেট, কোচ, বিচারক ও দক্ষ সংগঠক হিসেবে যার বিচরণ ছিল সবখানে, সেই শামীমা সাত্তার মিমো আর নেই। গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মিমোর এই আকস্মিক বিদায়ে অ্যাথলেটিকস, আরচ্যারি ও বিকেএসপিসহ দেশের পুরো ক্রীড়া মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে বিকেএসপির উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষণ) হিসেবে দীর্ঘ দায়িত্ব পালন করায় তিনি অগণিত নবীন ও কৃতি ক্রীড়াবিদের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম ছিলেন।

বর্ণাঢ্য অ্যাথলেটিকস ক্যারিয়ারে মিমো ছিলেন সফলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে দেশের নারী হাইজাম্প ইভেন্টে টানা দাপট বজায় রেখেছিলেন তিনি। হাইজাম্পের পাশাপাশি স্প্রিন্টেও জাতীয় পর্যায়ে জিতেছিলেন অসংখ্য পদক। ক্রীড়াঙ্গনে তাঁর এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০০ সালে সরকার তাঁকে সম্মানজনক ‘জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার’-এ ভূষিত করে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার খালাতো বোন হলেও, পেশাগত জীবনে কখনোই পারিবারিক বা রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটাননি বরং মেধা আর শ্রম দিয়েই নিজের পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন।

কর্মজীবনে মিমো জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কোচ হিসেবে যাত্রা শুরু করার পর দীর্ঘ সময় বিকেএসপিতে সফলতার সঙ্গে কাজ করেছেন। বিশেষ করে দিনাজপুরের বিকেএসপি অঞ্চলটি তাঁর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানেই আজকের পর্যায়ে পৌঁছেছে। অবসর গ্রহণের পরও তিনি ক্রীড়াঙ্গন থেকে বিচ্ছিন্ন হননি। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি অ্যাথলেটিকস ও আরচ্যারি ফেডারেশনের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অবদান রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে সংশ্লিষ্ট সকল ফেডারেশন ও শীর্ষ কর্মকর্তারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে মিমো ভার্টিগো ও হৃদরোগজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন। শারীরিক সমস্যার কারণে কয়েক মাস ধরে হাঁটাচলা ও পরিচিতদের চিনতে তাঁর কিছুটা সমস্যা হতো। তবে চিকিৎসায় ইতিবাচক পরিবর্তনের ফলে সম্প্রতি তিনি সুস্থ হয়ে পুনরায় ক্রীড়া প্রাঙ্গণে সক্রিয় হওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু হৃদযন্ত্রের হঠাৎ ক্রিয়া বন্ধ হয়ে সেই স্বপ্ন এখন না ফেরার দেশে। মরহুমার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁর মরদেহ ঢাকা থেকে নিজ জেলা দিনাজপুরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে পৈত্রিক ভিটায় বাবার কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন তিনি। মিমোর চলে যাওয়ায় দেশের অ্যাথলেটিকস এক যোগ্য কারিগরকে হারালো।


কেউ এখানে চ্যারিটি লিগ খেলতে আসেনি, এটা একটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ: লিটন দাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচটি পাকিস্তান ১২৮ রানের বড় ব্যবধানে জিতে সিরিজে সমতা ফেরালেও, জয়-পরাজয়ের চেয়েও বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে সালমান আলী আঘার এক বিতর্কিত রানআউট। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্রিকেট বিশ্বে যখন ‘স্পোর্টসটম্যান স্পিরিট’ বা খেলোয়াড়ী সুলভ আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তখন অত্যন্ত কঠোর ভাষায় তার জবাব দিয়েছেন বাংলাদেশ দলের সিনিয়র ক্রিকেটার লিটন কুমার দাস। তাঁর সাফ কথা, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কোনো চ্যারিটি বা দানশীলতার জায়গা নয়।

ঘটনাটি ঘটে পাকিস্তানের ইনিংসের ৩৯তম ওভারে। সেই সময় রিজওয়ানের খেলা একটি শট বোলিং প্রান্তে থাকা মেহেদী হাসান মিরাজের পায়ে লেগে সামনেই থেমে যায়। নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তে থাকা সালমান আলী আঘা সেই সময় ক্রিজের অনেকটা বাইরে ছিলেন। তিনি রান নেওয়ার পরিবর্তে মিরাজকে বলটি হাতে তুলে দিতে গেলে বা সাহায্য করতে এগিয়ে গেলে ঘটে বিপত্তি। চতুর মিরাজ মুহূর্তের মধ্যে বলটি তুলে নিয়ে স্টাম্প ভেঙে দেন। টিভি আম্পায়ার নিয়ম অনুযায়ী সালমানকে আউটের সিদ্ধান্ত দিলে শুরু হয় চরম নাটকীয়তা।

মাঠের এই সিদ্ধান্তের পর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হতে দেখা যায় সালমানকে। ক্ষোভে ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে তিনি হেলমেট ও গ্লাভস ছুঁড়ে মারেন এবং বাংলাদেশের ফিল্ডারদের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এই ঘটনায় পাকিস্তানি ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজাও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ব্যাটসম্যান বোলারকে সাহায্য করতে গিয়ে আউট হয়েছেন, যা স্পোর্টসম্যান স্পিরিটকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে দু’দেশের সমর্থকদের মধ্যে বাদানুবাদ চলছে।

তবে ম্যাচ পরবর্তী সাক্ষাৎকারে লিটন দাস রমিজ রাজা ও সালমানের সেই অসন্তোষকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন। লিটন বলেন, “প্রথমত, কেউ এখানে চ্যারিটি লিগ খেলতে আসেনি। এটি একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ যেখানে প্রতিটি রানের মূল্য আছে। আম্পায়ারের দেওয়া সিদ্ধান্তটি যখন ক্রিকেটীয় আইনের মধ্যেই রয়েছে, তখন এখানে বিতর্ক করার কোনো সুযোগ আমি দেখি না। প্রতিটি মানুষের ভিন্ন মত থাকতে পারে, কিন্তু ক্রিকেটার হিসেবে আমরা মনে করি ‘আউট মানেই আউট’।”

লিটনের এই মন্তব্য পাকিস্তান শিবিরে নতুন করে আলোচনার খোরাক জোগালেও বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তরা বিষয়টিকে মিরাজের চতুরতা এবং খেলার অংশ হিসেবেই দেখছেন। নিয়ম ও আবেগ—এই দুয়ের সংঘাত ক্রিকেটে নতুন কিছু নয়, তবে লিটনের সরাসরি বক্তব্যের পর এটি স্পষ্ট যে লড়াই এখন কেবল মাঠের ক্রিকেটে সীমাবদ্ধ নেই, বরং স্নায়ুযুদ্ধেও পরিণত হয়েছে। ১-১ ব্যবধানে সিরিজে সমতা আসায় আগামী ম্যাচটি এখন অঘোষিত ফাইনালে রূপ নিয়েছে, যেখানে মাঠের ক্রিকেটের সাথে মানসিক শক্তিই নির্ধারণ করবে শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠছে ওয়ানডে সিরিজের ট্রফি।


পাকিস্তানি স্পিনারকে দলে নিয়ে উগ্রবাদীদের তোপের মুখে ভারতীয় মালিক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

আইপিএলের মালিকানাধীন দ্য হানড্রেডের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো দলে কোনো পাকিস্তানি খেলোয়াড় না নেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে হান্ড্রেড নিলাম ২০২৬-এ পাকিস্তানের স্পিনার আবরার আহমেদকে কিনে নিয়েছে সানরাইজার্স লিডস। এই খবর প্রকাশ হওয়ার পরপরই অনলাইনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। উগ্রবাদীদের তোপের মুখে পড়ে যায় আইপিএলের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি।

ফ্র্যাঞ্চাইজি এক্সে এই ঘোষণা দিলে সেই পোস্টে নেতিবাচক মন্তব্যের বন্যা বয়ে যায়। অনেক সমর্থক আইপিএলের সঙ্গে সংযুক্ত একটি দলের পাকিস্তানি খেলোয়াড় কেনার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। কেউ কেউ সানরাইজার্স লিডসের সহ-মালিক কাব্য মারানকেও আক্রমণ করেন।

২৭ বছর বয়সী এই লেগ-স্পিনারকে ১ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে কিনেছে সানরাইজার্স লিডস। এই দলটি পরিচালনা করে একই গোষ্ঠী যারা আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ চালায়।

নিলামের আগে থেকেই জল্পনা ছিল যে আইপিএল-সংযুক্ত ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো ভারত-পাকিস্তান রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের এড়িয়ে যাবে। ২০০৯ সালের পর থেকে পাকিস্তানের কোনো খেলোয়াড় আইপিএলে খেলতে পারেননি। দুই দেশ শুধু বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে মুখোমুখি হয়।

তবে নিলামের আগে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড এবং আট ফ্র্যাঞ্চাইজি একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছিল। সেখানে স্পষ্ট করা হয়েছিল যে খেলোয়াড় বাছাই হবে সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে। বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, বাছাই হবে 'পারফরম্যান্স, প্রাপ্যতা এবং প্রতিটি দলের চাহিদার' ভিত্তিতে। মূলত সে কারণেই লিডসে নাম লেখাতে পেরেছেন আবরার। তাতেই তার দল তোপের মুখে পড়ে গেছে ভারতে।

ভারতে উগ্রবাদীদের দৌরাত্ম্য অবশ্য নতুন কিছু নয়। এর আগে চলতি বছরের শুরুতে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দিতে একাধিক উগ্রবাদী গোষ্ঠী চাপ দিতে থাকে, যার সামনে নতি স্বীকার করে শেষমেশ বিসিসিআই কেকেআরকে নির্দেশ দেয় মোস্তাফিজকে সরিয়ে দিতে। এর জের ধরে এরপর ভারতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপেও খেলতে যায়নি বাংলাদেশ।

এবার আবারও ভারতীয় এক ফ্র্যাঞ্চাইজি তোপের মুখে পড়ল, এবার অবশ্য পাকিস্তানি ক্রিকেটারকে দলে টেনে। কলকাতার মতো পরিণতি সানরাইজার্স লিডসেরও হয় কি না, তা সময়ই বলে দেবে।

আবরার বাদে পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের মাঝে দল পেয়েছেন শুধু উসমান তারিক। পাকিস্তানি স্পিনারকে ১ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ডে কিনেছে বার্মিংহাম ফিনিক্স।

তবে আবরার-উসমানকে কিনলেও পাকিস্তানের অনেক খেলোয়াড়ের ভাগ্য ভালো হয়নি। পেসার হারিস রাউফ তার ১ লাখ পাউন্ডের সর্বনিম্ন মূল্যেও কোনো বিড পাননি। আর শাহিন শাহ আফ্রিদি নিলাম শুরুর আগেই সরে যান।


banner close