এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে সিঙ্গাপুরে পৌঁছেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। আগামী মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) স্বাগতিক সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচে মাঠে নামবে লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। এর মাধ্যমে জামাল ভূঁইয়াদের এবারের এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের মিশন আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হতে যাচ্ছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয় থেকে সরাসরি সিঙ্গাপুরে এসে পৌঁছান হামজা চৌধুরীরা। এর আগে ভিয়েতনামের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত একমাত্র ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ৩-০ ব্যবধানে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে হাভিয়ের কাবরেরার শিষ্যদের। যদিও সেই ম্যাচে প্রথমার্ধেই তিন গোল হজম করেছিল বাংলাদেশ, তবে দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণভাগ সুসংহত রেখে আর কোনো গোল হতে দেয়নি তারা।
বাছাই পর্বের সমীকরণে বাংলাদেশ বর্তমানে ‘সি’ গ্রুপে ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। এখন পর্যন্ত খেলা পাঁচটি ম্যাচের মধ্যে একটিতে জয় এবং দুটিতে ড্র ও পরাজয় দেখেছে দলটি। উল্লেখ্য যে, গত ১০ জুন ঘরের মাঠে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত প্রথম দেখায় ২-১ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। এবারের অ্যাওয়ে ম্যাচে সেই হারের প্রতিশোধ নিয়ে পূর্ণ পয়েন্ট পাওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছে জাতীয় দল।
যদিও সিঙ্গাপুর ইতোমধ্যে ২০২৭ সালের এশিয়ান কাপের মূলপর্বে জায়গা নিশ্চিত করে ফেলেছে, তবুও ফিফা র্যাঙ্কিং ও আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশের জন্য এই ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করছে। সিঙ্গাপুরকে হারাতে পারলে বাংলাদেশের পয়েন্ট দাঁড়াবে ৮-এ। একই দিনে ভারত যদি হংকংকে পরাজিত করতে পারে, তবে পয়েন্ট তালিকায় হংকংয়ের সমান অবস্থানে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বাংলাদেশের সামনে। জয়ের লক্ষ্য নিয়ে আগামী তিন দিন নিবিড় অনুশীলনে ব্যস্ত সময় পার করবেন জামাল ভূঁইয়া ও তাঁর সতীর্থরা।
পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ১১তম আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে দাপুটে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে মুস্তাফিজুর রহমান ও পারভেজ হোসেন ইমনের দল লাহোর কালান্দার্স। এই ম্যাচে বাংলাদেশি ব্যাটার পারভেজ হোসেন ইমন নিজের অভিষেক রাঙাতে না পারলেও বল হাতে অত্যন্ত কার্যকর ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। তাঁর নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও এক উইকেটের সৌজন্যে হায়দরাবাদ কিংসের বিপক্ষে ৬৯ রানের বিশাল জয় পেয়েছে লাহোর।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় লাহোর কালান্দার্স। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৯৯ রানের এক বিশাল পাহাড় গড়ে তারা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৩ রান করেন ওপেনার ফখর জামান এবং শেষ দিকে ২৮ বলে অপরাজিত ৪০ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন হাসিবউল্লাহ খান। এ ছাড়া ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম ৩০ রান এবং সিকান্দার রাজা মাত্র ১০ বলে ২৪ রানের একটি ক্যামিও ইনিংস উপহার দেন।
টপ অর্ডারের দারুণ শুরুর পর মাঝপথে কিছুটা পথ হারায় লাহোর। চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামা পারভেজ ইমন ১৩ বলে ১৪ রান করে টাইমিংয়ের গড়বড়ে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। হায়দরাবাদের পক্ষে রাইলি মেরেডিথ ও হাসান খান দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
২০০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে হায়দরাবাদ কিংস। যদিও পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেট হারিয়ে তারা ৪৮ রান তুলেছিল, কিন্তু ষষ্ঠ ওভারে মুস্তাফিজুর রহমান বোলিংয়ে এসে সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দেন। নিজের প্রথম স্পেলে ২ ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে এক উইকেট তুলে নেন ফিজ। তাঁর গতির বৈচিত্র্যে পরাস্ত হয়ে ক্যাচ দেন ইরফান খান। শেষ পর্যন্ত ৪ ওভারের স্পেলে মাত্র ১৯ রান খরচায় এক উইকেট নিয়ে ম্যাচ জেতাতে ভূমিকা রাখেন এই বাংলাদেশি কাটার মাস্টার।
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে হায়দরাবাদের কোনো ব্যাটারই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। মার্নাস লাবুশেনের ২৬ রানই ছিল দলটির সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। শেষ পর্যন্ত ১৩০ রানে অলআউট হয়ে পিএসএলে নিজেদের যাত্রা শুরু করল নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি হায়দরাবাদ। লাহোরের পক্ষে হারিস রউফ, সিকান্দার রাজা ও উবাইদ শাহ প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই জয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্টে শুভসূচনা করল বর্তমান রানার্সআপরা।
নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডকে পরাজিত করে বিশ্বকাপের প্লে-অফ ফাইনালের টিকেট নিশ্চিত করেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই আসরে অনুপস্থিত থাকা আজ্জুরিরা এখন বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ফেরার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে।
গত বৃহস্পতিবার বের্গামোতে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ২-০ গোলের জয় পায় ইতালীয়রা। আগামী মঙ্গলবার বিশ্বকাপের চূড়ান্ত টিকিট পাওয়ার লড়াইয়ে তারা বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মুখোমুখি হবে।
টানা দুটি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ হারানো ইতালির জন্য এই জয়টি ছিল স্বস্তির। ইতালির বর্তমান কোচ জেনারো গাত্তুসো এই লড়াইটিকে তাঁর কোচিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। গ্যালারি থেকে মাঠ পর্যন্ত সেই উত্তেজনার রেশ ছিল স্পষ্ট, কারণ রাশিয়া ও কাতার বিশ্বকাপে অনুপস্থিত থাকার পর এবার যেকোনো মূল্যে খরা কাটানোই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য।
মাঠে লড়াইটি শুরুতে বেশ কঠিন ছিল। প্রথমার্ধে আইরিশদের জমাট রক্ষণ ভাঙতে হিমশিম খেতে হয়েছে মাতেও রেতেগি ও কিনদের। বিপক্ষ গোলরক্ষক পিয়ার্স চার্লস দক্ষতার সাথে আক্রমণ প্রতিহত করার পাশাপাশি সময়ক্ষেপণের কৌশলে ইতালির আক্রমণভাগকে চাপে রাখেন।
বিরতির পর রেতেগি একটি সহজ সুযোগ নষ্ট করলেও আক্রমণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে ইতালি। শেষ পর্যন্ত তোনালির এক দর্শনীয় শটে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। আইজ্যাক প্রাইসের একটি দুর্বল ক্লিয়ারেন্স ডি-বক্সের বাইরে পেয়ে নিখুঁত লক্ষ্যভেদে বল জালে পাঠান তিনি। ম্যাচের অন্তিমলগ্নে স্ট্রাইকার কিন রুয়ারি ম্যাকনভিলকে কাটিয়ে দ্বিতীয় গোলটি করলে ইতালির জয় ও উৎসব নিশ্চিত হয়।
এই জয়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাটিতে অনুষ্ঠেয় আসন্ন বিশ্বকাপের চূড়ান্ত আসরে ফেরার পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল ইতালি। মঙ্গলবার রাতে বসনিয়াকে পরাজিত করতে পারলেই ২০১৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে দেখা যাবে এই ফুটবল পরাশক্তিকে।
ফুটবল ময়দানে ভিয়েতনামের কাছে গতদিনের হারের ক্ষতে প্রলেপ দিল আর্চারি। আজ শুক্রবার এশিয়া কাপ আর্চারির কম্পাউন্ড পুরুষ দলগত ইভেন্টে ভিয়েতনামকে পরাজিত করে স্বর্ণপদক জিতেছে বাংলাদেশ।
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে ভিয়েতনামকে ২৩১-২২৫ স্কোরের ব্যবধানে হারিয়ে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেন বাংলাদেশের আর্চাররা। হিমু বাছাড়, ঐশ্বর্য রহমান ও নেওয়াজ আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত কম্পাউন্ড পুরুষ দলটি পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছে। এই দলটি কোয়ার্টার ফাইনালে মালয়েশিয়াকে হারানোর পর সেমিফাইনালে ভুটানের বিপক্ষে ২৩২-২২৮ ব্যবধানে জয়লাভ করে ফাইনালে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছিল।
টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পুরুষ কম্পাউন্ড দলের সম্মিলিত গড় স্কোর ছিল ৯.৬২। দলের অন্যতম সদস্য হিমু বাছাড় ব্যক্তিগতভাবে ৯.৭৫ গড় স্কোর তুলে টুর্নামেন্টে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন।
এবারের এশিয়া কাপে বাংলাদেশ থেকে মোট ১০ জন আর্চার অংশ নিলেও পর্যাপ্ত দক্ষ খেলোয়াড়ের অভাবে রিকার্ভ নারী দল গঠন করা সম্ভব হয়নি। প্রতিযোগিতার অন্যান্য ইভেন্টের মধ্যে রিকার্ভ পুরুষ ও কম্পাউন্ড নারী দল কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি। কম্পাউন্ড নারী দল থাইল্যান্ডের কাছে মাত্র ১ পয়েন্টের ব্যবধানে (২২৯-২৩০) হেরে সেমিফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয় এবং রিকার্ভ পুরুষ দলটির যাত্রা থেমে যায় কোয়ার্টার ফাইনালে।
এর আগে গত বছরের জুনে সিঙ্গাপুরে আয়োজিত এশিয়া কাপের রিকার্ভ ব্যক্তিগত ইভেন্টে স্বর্ণ জিতেছিলেন বাংলাদেশের আবদুর রহমান আলিফ। তবে বর্তমান আসরে তিনি নিজের ছন্দ ধরে রাখতে পারেননি এবং শেষ ষোলো থেকেই তাঁকে বিদায় নিতে হয়েছে।
বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতির শেষ ধাপে থাকা দলগুলোর মধ্যে প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয় দুই শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও ফ্রান্স। তবে সংখ্যাগত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি ব্রাজিল, শেষ পর্যন্ত পরাজয় সঙ্গী হয় তাদের।
বৃহস্পতিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের জিলেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ১০ জনের ফ্রান্সের কাছে ২-১ গোলে হেরে যায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ফরাসিদের হয়ে গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও হুগো একিতিকে, আর ব্রাজিলের একমাত্র গোলটি আসে ব্রেমারের পা থেকে।
শুরুর দিকে আক্রমণে খুব একটা ধার দেখাতে পারেনি কার্লো আনচেলত্তির দল। ম্যাচের ৩২ মিনিটে এমবাপ্পের গোলে এগিয়ে যায় ফ্রান্স, ফলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ব্রাজিল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচে নাটকীয়তা তৈরি হয়। ৫৫ মিনিটে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ফরাসি ডিফেন্ডার ডেয়ট উপামেকানো, এতে ১০ জনে নেমে আসে ফ্রান্স। তবে অতিরিক্ত খেলোয়াড়ের সুবিধা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় ব্রাজিল। বরং ৬৫ মিনিটে ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় ফরাসিরা। মাইকেল ওলিসের পাস থেকে নিখুঁত শটে দ্বিতীয় গোলটি করেন একিতিকে, যা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করে ফ্রান্সের হাতে।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর শেষ দিকে কিছুটা চাপ সৃষ্টি করে ব্রাজিল। ৭৮ মিনিটে ব্রেমারের গোলে ব্যবধান কমালেও ম্যাচে ফিরতে পারেনি তারা। জাতীয় দলের হয়ে এটি ছিল ব্রেমারের প্রথম গোল। শেষ পর্যন্ত আর কোনো পরিবর্তন না আসায় ২-১ ব্যবধানের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় আনচেলত্তির দলকে।
প্রস্তুতির ধারাবাহিকতায় রোববার কলম্বিয়ার বিপক্ষে আরেকটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে ফ্রান্স। অন্যদিকে, ব্রাজিল আগামী মঙ্গলবার মুখোমুখি হবে ক্রোয়েশিয়ার।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকালে জাতীয় স্টেডিয়ামে সাবেক তারকা ফুটবলারদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক বিশেষ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) আয়োজিত এই ম্যাচে প্রধানমন্ত্রী ডাগআউটের পাশে বসে খেলোয়াড়দের উৎসাহ প্রদান করেন এবং খেলা শেষে বিজয়ীদের মাঝে মেডেল বিতরণ করেন। এই সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন তার কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীগণ।
প্রীতি ম্যাচটিতে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, আলফাজ আহমেদ, কায়সার হামিদ ও সাব্বিরের মতো কিংবদন্তি ফুটবলাররা অংশ নেন, যা স্টেডিয়ামে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করতে ঐতিহ্যের ‘নতুন কুঁড়ি’ অনুষ্ঠানের আদলে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের স্কুলগুলোর মধ্যে নিয়মিত প্রতিযোগিতার আয়োজন করে দক্ষ ক্রীড়াবিদ তৈরি করা হবে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ক্রীড়া ফোরামে বাংলাদেশের গৌরব বৃদ্ধি এবং আরও বেশি সম্মান বয়ে আনাই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে দলমত নির্বিশেষে দেশের ক্রীড়া জগতকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বাস করেন যে, ক্রীড়া শুধু দেশের জন্য সম্মানই বয়ে আনে না, বরং এটি মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের এক শক্তিশালী বন্ধন তৈরি করতে সক্ষম।
দেশের প্রতিটি প্রান্তে খেলাধুলার প্রসার ঘটিয়ে একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে তার সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। এই বিশেষ দিনে ক্রীড়াঙ্গনের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক দিনে বড় ধরনের মালিকানা পরিবর্তনের সাক্ষী হলো ক্রিকেট বিশ্ব। ২০২৬ সালের আইপিএল আসর শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) এবং প্রথম আসরের শিরোপাজয়ী রাজস্থান রয়্যালসের মালিকানা হাতবদল হয়েছে। মঙ্গলবার একই দিনে দল দুটির মালিকানা পরিবর্তনের খবরটি ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বিরাট কোহলির দল বেঙ্গালুরু যে অবিশ্বাস্য দামে বিক্রি হয়েছে, তা রাজস্থান রয়্যালসকেও ছাড়িয়ে গিয়ে আইপিএলের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে।
বেঙ্গালুরুর পুরুষ ও নারী—উভয় দলের বর্তমান মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড স্পিরিটস লিমিটেড আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, তাদের বোর্ড ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী আদিত্য বিড়লার নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়ামের কাছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। অত্যন্ত শক্তিশালী এই কনসোর্টিয়ামে আদিত্য বিড়লা গ্রুপের পাশাপাশি যুক্ত রয়েছে আমেরিকার খ্যাতনামা ক্রীড়া বিনিয়োগকারী ডেভিড ব্লিটজার, বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকস্টোন এবং ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া গোষ্ঠী। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আরসিবির শতভাগ মালিকানা অর্জনে এই কনসোর্টিয়ামকে ব্যয় করতে হচ্ছে ১৭৮ কোটি মার্কিন ডলার, যা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ১৬ হাজার ৭০৬ কোটি টাকার সমান।
দলের এই নতুন মালিকানা পরিবর্তনের সাথে সাথে নেতৃত্বেও আসছে নতুন মুখ। আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর ডিরেক্টর আর্যমান বিক্রম বিড়লা আরসিবির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। তাঁর সাথে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে থাকছেন টাইমস অব ইন্ডিয়া গোষ্ঠীর সত্যন গজওয়ানি। তবে বর্তমান ব্যবস্থাপনায় থাকা ব্রিটিশ কোম্পানি দিয়াজিও পিএলসি ২০২৬ সালের আইপিএল পর্যন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং আসর শেষ হওয়ার পর নতুন মালিকানা কার্যকর হবে। গত বছর প্রথমবারের মতো আইপিএল শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করায় আরসিবির ব্র্যান্ড ভ্যালু বা বাজারমূল্য আকাশচুম্বী হয়েছে, যা এই বিশাল বিক্রয়মূল্যে বড় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
একই দিনে রাজস্থান রয়্যালস বিক্রির খবরটিও আইপিএলের বাজারকে উত্তপ্ত করে তুলেছে। আমেরিকার প্রভাবশালী ব্যবসায়ী কাল সোমানির নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়াম রাজস্থানের শতভাগ মালিকানা কিনে নিয়েছে। রাজস্থান রয়্যালস বিক্রি হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার ২৮৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকায়। যদিও এটি একটি বিশাল অংক, তবুও বেঙ্গালুরুর ১৬ হাজার ৭০৬ কোটি টাকার কাছে তা ম্লান হয়ে গেছে। অর্থাৎ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে রাজস্থানকে টেক্কা দিয়ে আইপিএলের সবচেয়ে দামি দলগুলোর একটিতে পরিণত হলো বেঙ্গালুরু।
পরিশেষে বলা যায়, একদিনে দুই বড় দলের এই মেগা মালিকানা হস্তান্তর আইপিএলের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক গুরুত্বকেই পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করল। বিশ্বখ্যাত সব করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আইপিএলে সম্পৃক্ত হওয়া প্রমাণ করে যে, এই লিগটি এখন কেবল একটি খেলার আসর নয় বরং বৈশ্বিক বিনোদনের এক শক্তিশালী অর্থনৈতিক শিল্পে পরিণত হয়েছে। আদিত্য বিড়লা গ্রুপ এবং টাইমস অব ইন্ডিয়া গোষ্ঠীর মতো শক্তিশালী অংশীদারদের অন্তর্ভুক্তি আরসিবির ভবিষ্যৎ ও খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে এক নতুন উচ্চতা যোগ করবে বলে আশা করছেন ক্রিকেট ভক্ত ও সংশ্লিষ্টরা।
মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে শুরু হওয়া অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে এক রাজকীয় অভিষেক হলো যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফুটবলার রোনান বেঞ্জামিন প্যাটট্রিক সুলিভানের। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশ ২-০ গোলের দাপুটে জয় পেয়েছে, যার দুটি গোলই এসেছে রোনানের পা থেকে। ম্যাচের শুরু থেকেই সবার আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিলেন দুই প্রবাসী ভাই ডেকলান ও রোনান সুলিভান। ডাগআউটে ডেকলানকে বসে থাকতে হলেও মাঠের লড়াইয়ে রোনান প্রমাণ করেছেন কেন তাঁকে নিয়ে ফুটবল মহলে এত জল্পনা ছিল। নানি সুলতানা আলমের জন্মসূত্রে বাংলাদেশের প্রতি টান থেকেই লাল-সবুজের পতাকা জড়িয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া এই ফরোয়ার্ড তাঁর অভিষেক ম্যাচটিকে জোড়া গোলে রাঙিয়ে স্মরণীয় করে রাখলেন।
মালের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রথমার্ধজুড়ে বাংলাদেশ বল দখলে একচেটিয়া আধিপত্য দেখালেও ফিনিশিংয়ের অভাবে জালের দেখা পায়নি। বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও পাকিস্তানের রক্ষণে ফাটল ধরাতে পারছিলেন না মার্ক কক্সের শিষ্যরা। ফলে গোলশূন্য ড্র নিয়ে বিরতিতে যেতে হয় দুই দলকে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দৃশ্যপট আমূল বদলে যায়। ম্যাচের ৫৪ মিনিটে ডি-বক্সের কিছুটা দূর থেকে পাওয়া একটি ফ্রি-কিক নিতে এগিয়ে আসেন রোনান। সতীর্থ ফয়সালের অনিচ্ছা সত্ত্বেও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নেওয়া সেই বুলেট গতির ফ্রি-কিকটি সরাসরি পাকিস্তানের জালে জড়িয়ে যায়। মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ক্লাব ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বয়সভিত্তিক দলে খেলা এই ফরোয়ার্ডের দর্শনীয় গোলটি গ্যালারিতে থাকা বাংলাদেশি সমর্থকদের উল্লাসে ভাসিয়ে দেয়।
এক গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশ আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। মাঝে ৬১ মিনিটে পাকিস্তান একটি গোল পরিশোধ করলেও গোলরক্ষককে ফাউল করার দায়ে রেফারি সেটি বাতিল করে দেন। এরপর ৬৭ মিনিটে রোনান আবারও তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। সতীর্থ শেখ সংগ্রামের একটি নিখুঁত লং পাস থেকে দারুণ এক হেডে নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। রোনানের এই জোড়া গোলের পর পাকিস্তান পুরোপুরি খেই হারিয়ে ফেলে এবং নির্ধারিত সময়ের বাকিটা সময় বাংলাদেশ একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে সহজ জয় নিশ্চিত করে। ম্যাচ শেষে দুই ভাই লাল-সবুজের পতাকা কাঁধে নিয়ে দর্শকদের অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং আগামী ২৮ মার্চ ভারতের বিপক্ষে জয়ের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রোনান ও ডেকলানের এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত কেবল মাঠেই সীমাবদ্ধ ছিল না, সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে বসে তাঁদের খেলাটি সরাসরি অনুসরণ করছিলেন পরিবারের অন্য দুই সদস্য—বড় ভাই কুইন সুলিভান, যিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন এবং মেজো ভাই ক্যাভান সুলিভান, যিনি এমএলএসের পরিচিত মুখ। জাতীয় দলে প্রবাসী ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তির যে জোয়ার শুরু হয়েছে, অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ে রোনান সুলিভানের এই পারফরম্যান্স সেই পালে নতুন হাওয়া দিল। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বাংলাদেশের এই জয় সেমিফাইনালের পথ অনেকটা সুগম করেছে। এখন সব নজর ২৮ মার্চ ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের দিকে, যেখানে জয় পেলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ চারে পৌঁছাবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) অন্যতম জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) তাদের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেলকে এক বিরল ও বিশেষ সম্মানে ভূষিত করেছে। কেকেআর কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, ক্যারিবিয়ান এই তারকার ব্যবহৃত ‘১২’ নম্বর জার্সিটি তারা চিরতরে অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে আর কোনো ক্রিকেটার কলকাতার জার্সিতে এই নির্দিষ্ট নম্বরের জার্সি পরে মাঠে নামতে পারবেন না। আইপিএল ২০২৬ মৌসুম শুরু হওয়ার ঠিক আগে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির এই পদক্ষেপ মূলত রাসেলের এক দশকেরও বেশি সময়ের ত্যাগ, নিষ্ঠা এবং অবিস্মরণীয় পারফরম্যান্সের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আন্দ্রে রাসেল ও কেকেআরের মধ্যকার সম্পর্কটি কেবল পেশাদারিত্বের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি এক গভীর আত্মিক বন্ধনে রূপ নিয়েছে। গত মৌসুমে রাসেলকে খেলোয়াড় হিসেবে ছেড়ে দেওয়া হলেও তিনি অন্য কোনো দলের হয়ে নিলামে অংশ নেননি। বরং নিজের প্রিয় ক্লাব কলকাতার সাথেই যুক্ত থাকার সিদ্ধান্ত নেন এবং ২০২৬ আসরের জন্য দলটির ‘পাওয়ার কোচ’ হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই আইপিএলে একজন খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। রাসেলের এই অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতেই জার্সি নম্বর ১২ অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় কেকেআর ম্যানেজমেন্ট।
কলকাতার বেগুনি-সোনালি জার্সিতে রাসেলের পরিসংখ্যান আক্ষরিক অর্থেই ঈর্ষণীয়। কেকেআরের হয়ে মোট ১৪০টি ম্যাচে মাঠে নেমে তিনি ২ হাজার ৬৫১ রান সংগ্রহ করেছেন। সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয় হলো তাঁর ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট, যা ১৭৪.১৭— যা আইপিএলের ইতিহাসে অন্যতম বিধ্বংসী হিসেবে বিবেচিত। কেবল ব্যাটিংয়েই নয়, বল হাতেও তিনি ছিলেন সমান কার্যকর; শিকার করেছেন ১২৩টি উইকেট। বিশেষ করে ২০১৪ এবং ২০২৪ সালে কলকাতার আইপিএল শিরোপা জয়ের নেপথ্যে তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। বহু ম্যাচ তিনি একাই খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েছেন, যা তাঁকে ভক্তদের কাছে ‘রাসেল মাসল’ হিসেবে কিংবদন্তিতুল্য পরিচিতি দিয়েছে।
কেকেআরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ভেঙ্কি মাইসোর এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জানান যে, রাসেলের পরিচয় ১২ নম্বর জার্সির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। মাঠে তাঁর উপস্থিতি সমর্থকদের মধ্যে যে উন্মাদনা তৈরি করত, তা ভোলার মতো নয়। তাই তাঁকে সম্মান জানানোর জন্য এই জার্সিটি অবসরে রাখা ছাড়া দ্বিতীয় কোনো ভালো উপায় ছিল না। অন্যদিকে, এমন বিরল সম্মানে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন স্বয়ং আন্দ্রে রাসেলও। তিনি জানিয়েছেন, কলকাতার হয়ে এই দীর্ঘ পথচলা তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। দুটি শিরোপা জয় এবং সমর্থকদের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা তাঁকে আজীবনের জন্য ঋণী করে রেখেছে।
উল্লেখ্য যে, আইপিএলে কোনো কিংবদন্তি খেলোয়াড়ের সম্মানে জার্সি নম্বর অবসরে পাঠানোর সংস্কৃতি খুব একটা পুরনো নয়। এর আগে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স তাদের অবিসংবাদিত নেতা ও ক্রিকেট ঈশ্বর শচীন টেন্ডুলকারের সম্মানে তাঁর ব্যবহৃত ১০ নম্বর জার্সিটি অবসরে পাঠিয়েছিল। এছাড়া রাজস্থান রয়্যালস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুও তাদের দলের সফলতম ক্রিকেটারদের জন্য একই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এবার সেই অভিজাত তালিকায় যুক্ত হলেন আন্দ্রে রাসেল, যা আইপিএলের ইতিহাসে বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে তাঁর অনন্য উচ্চতাকেই প্রমাণ করে। কেকেআর ভক্তরা এখন তাঁকে নতুন ভূমিকায় ডাগআউটে দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে অন্যতম সফল এবং প্রভাবশালী ফুটবলার মোহামেদ সালাহ অবশেষে লিভারপুল ছাড়ার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছেন। দীর্ঘ ৯ বছর ধরে অলরেডদের জার্সিতে মাঠ কাঁপানোর পর এই মিশরীয় কিংবদন্তি নিশ্চিত করেছেন যে, চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমই হতে যাচ্ছে অ্যানফিল্ডে তাঁর শেষ অধ্যায়। মঙ্গলবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ফুটবল বিশ্বকে নিজের এই বড় সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। ২০১৭ সালে ইতালিয়ান ক্লাব রোমা থেকে লিভারপুলে যোগ দেওয়ার পর থেকে সালাহ নিজেকে কেবল ক্লাবের নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা আইকন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
সালাহর এই বিদায় ঘোষণার পেছনে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ কিছু জটিলতার আভাসও পাওয়া গেছে। যদিও ২০২৫ সালে তিনি ক্লাবের সঙ্গে দুই বছরের জন্য চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছিলেন, কিন্তু নতুন কোচ আর্নে স্লটের অধীনে সময়টা খুব একটা সুখকর যাচ্ছিল না তাঁর। চলতি মৌসুমে কোচ স্লটের সঙ্গে তাঁর কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয় এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাঁকে সাইডবেঞ্চে বসে থাকতে দেখা যায়। এক পর্যায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সালাহ মন্তব্য করেছিলেন যে, তাঁকে যথাযথ সম্মান দেওয়া হচ্ছে না। এই তিক্ততা এবং বর্তমান মৌসুমে ৩৪ ম্যাচে মাত্র ১০ গোলের পরিসংখ্যান—যা লিভারপুল ক্যারিয়ারে তাঁর সর্বনিম্ন—সব মিলিয়েই তিনি ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভিডিও বার্তায় সালাহ লিভারপুল শহর এবং সমর্থকদের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসার কথা তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, লিভারপুল তাঁর হৃদয়ের কতটা গভীরে স্থান করে নিয়েছে তা তিনি নিজেও কখনও কল্পনা করেননি। এই শহর এবং এখানকার মানুষ তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গিয়েছিল। তাঁর মতে, লিভারপুল কেবল একটি ফুটবল ক্লাব নয়, এটি একটি বিশাল আবেগের নাম। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা তাঁর ক্যারিয়ারের সোনালী সময় এবং কঠিন সময়েও পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের অবদান তিনি চিরকাল মনে রাখবেন। বিদায় বলাটা সহজ নয় স্বীকার করে তিনি সমর্থকদের আশ্বস্ত করেন যে, যেখানেই থাকুন না কেন, তিনি সবসময় লিভারপুলের একজন হয়েই থাকবেন।
সালাহর এই ঘোষণার পর লিভারপুল এফসি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। ক্লাবটি জানিয়েছে, সালাহ এবং লিভারপুল কর্তৃপক্ষ পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতেই এই বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের ইতি টানতে একমত হয়েছে। সমর্থকদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই সালাহ মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই এই ঘোষণা দিয়েছেন। ক্লাব কর্তৃপক্ষ সালাহর লিগ্যাসি ও অর্জন উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং সালাহ নিজেও তাঁর শেষ মৌসুমটি লিভারপুলের হয়ে শিরোপা জয়ের মাধ্যমে রাঙিয়ে দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
লিভারপুলের জার্সিতে সালাহর পরিসংখ্যান এবং অর্জন অবিশ্বাস্য। এখন পর্যন্ত ৪৩৫ ম্যাচে ২৫৫টি গোল করে তিনি ক্লাবের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে আসীন হয়েছেন। তাঁর সামনে রয়েছেন কেবল ইয়ান রুশ ও রজার হান্ট। লিভারপুলের হয়ে তিনি দুটি প্রিমিয়ার লিগ, একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ এবং এফএ কাপসহ প্রায় সবকটি বড় শিরোপা জিতেছেন। ব্যক্তিগতভাবে চারবার প্রিমিয়ার লিগে গোল্ডেন বুট জেতা এই ফুটবলার এখন প্রিমিয়ার লিগের জীবন্ত কিংবদন্তি। তাঁর পরবর্তী গন্তব্য এখনও নিশ্চিত না হলেও, ইউরোপীয় ফুটবলের বড় কোনো ক্লাব বা মধ্যপ্রাচ্যের কোনো ক্লাবে তাঁকে দেখা যেতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে সালাহর প্রস্থান লিভারপুলের ইতিহাসে একটি অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করবে, যা কাটিয়ে ওঠা ক্লাবটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
ইউরোপীয় ফুটবলের দীর্ঘ দেড় দশকের বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের সমাপ্তি টেনে নতুন এক চ্যালেঞ্জের পথে পা বাড়াচ্ছেন ফরাসি তারকা আন্তোয়ান গ্রিজম্যান। স্প্যানিশ ফুটবলের চেনা মাঠ ছেড়ে এবার তিনি পাড়ি জমাচ্ছেন উত্তর আমেরিকায়। আমেরিকান মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ক্লাব অরল্যান্ডো সিটির সঙ্গে দুই বছরের একটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। এর ফলে ফুটবল বিশ্ব আবারও লিওনেল মেসি বনাম আন্তোয়ান গ্রিজম্যানের ধ্রুপদী লড়াই দেখার সুযোগ পাবে, যা বিশ্বজুড়ে ফুটবল প্রেমীদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
মঙ্গলবার অরল্যান্ডো সিটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রিজম্যানের সঙ্গে এই চুক্তির ঘোষণা দেয়। ক্লাবটি জানিয়েছে, তারা গ্রিজম্যানকে 'ডেজিগনেটেড প্লেয়ার' হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা এমএলএস-এর একটি বিশেষ নিয়ম। এর মাধ্যমে ক্লাবগুলো তাদের নির্ধারিত বেতন সীমার বাইরে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বিশ্বসেরা তারকাদের দলে ভেজাতে পারে। গ্রিজম্যানের সঙ্গে ২০২৮ সাল পর্যন্ত প্রাথমিক চুক্তি হলেও উভয় পক্ষের সম্মতিতে সেটি আরও এক বছর বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এখনই তিনি মাদ্রিদ ছাড়ছেন না; বর্তমান মৌসুমের বাকি সময়টা অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের হয়ে খেলে আগামী ১৩ জুলাই সামার ট্রান্সফার উইন্ডো খুললে তিনি অরল্যান্ডো শিবিরে যোগ দেবেন।
গ্রিজম্যানের এই দলবদল মূলত লিওনেল মেসির ইন্টার মায়ামির সঙ্গে অরল্যান্ডো সিটির ম্যাচগুলোকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে। এক সময় বার্সেলোনার জার্সিতে ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ৮৫টি ম্যাচে সতীর্থ হিসেবে খেললেও, প্রতিপক্ষ হিসেবে তাদের লড়াইয়ের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। আন্তর্জাতিক ও ক্লাব ফুটবল মিলিয়ে তারা এখন পর্যন্ত ৩৪ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছেন। এই দীর্ঘ লড়াইয়ে মেসির দল জিতেছে ১৯টিতে এবং গ্রিজম্যানের দলের জয় মাত্র ৫টিতে। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যেও মেসি এগিয়ে রয়েছেন; মুখোমুখি লড়াইয়ে তাঁর গোল সংখ্যা ২৬, যেখানে গ্রিজম্যান গোল করেছেন ৬টি। বিশেষ করে ২০১৮ বিশ্বকাপের নকআউটে গ্রিজম্যানের ফ্রান্স মেসির আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দিলেও, ২০২২ বিশ্বকাপের রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে মেসির শিরোপা জয়ের দৃশ্য এখনও ফুটবল বিশ্বের স্মৃতিতে অমলিন।
আন্তোয়ান গ্রিজম্যানের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান যে কাউকে মুগ্ধ করবে। রিয়াল সোসিয়েদাদ, বার্সেলোনা এবং বিশেষ করে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের হয়ে দীর্ঘ ক্লাব ক্যারিয়ারে ৭৯২ ম্যাচে তিনি ২৯৮টি গোল এবং ১৩২টি অ্যাসিস্ট করেছেন। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ২০১৮ সালের ইউরোপা লিগ, উয়েফা সুপার কাপ এবং কোপা দেল রের মতো মর্যাদাপূর্ণ শিরোপা। লা লিগার গত চার মৌসুমের তিনটিতেই তিনি মৌসুমসেরা একাদশে স্থান পেয়েছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফ্রান্সের হয়ে ১৩৭ ম্যাচে ৪৪ গোল করা এই তারকা ২০১৮ বিশ্বকাপ জয়ে প্রধান কারিগরদের একজন ছিলেন।
নিজের নতুন এই যাত্রা সম্পর্কে উচ্ছ্বসিত গ্রিজম্যান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, অরল্যান্ডো সিটির হয়ে ক্যারিয়ারের পরবর্তী অধ্যায় শুরু করতে তিনি মুখিয়ে আছেন। স্প্যানিশ ফুটবলের রাজত্ব ছেড়ে আমেরিকান সকারে তাঁর এই অন্তর্ভুক্তি এমএলএসের জনপ্রিয়তা ও বাণিজ্যিক গুরুত্বকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে ক্রীড়া বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ইউরোপের মাঠ কাঁপানো এই দুই তারকার আবারও একই লিগে মুখোমুখি অবস্থান বিশ্ব ফুটবলের ক্যালেন্ডারে নতুন এক রোমাঞ্চ যোগ করতে যাচ্ছে।
লন্ডনের ঐতিহাসিক ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে গতকাল এক রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্সেনালকে ২-০ গোলে হারিয়ে ইএফএল কাপের শিরোপা পুনরুদ্ধার করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা গত কয়েক সপ্তাহের দুঃস্বপ্ন ও ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে মৌসুমের প্রথম বড় সাফল্য ঘরে তুলল। অন্যদিকে, দীর্ঘ ছয় বছরের ট্রফি খরা কাটানোর যে স্বপ্ন গানাররা দেখেছিল, তা আরও একবার স্বপ্নভঙ্গ আর হতাশায় পর্যবসিত হলো। দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে হওয়া জোড়া গোল আর্সেনালকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়, যার নায়ক ছিলেন সিটির তরুণ লেফটব্যাক নিকো ও’রাইলি।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ম্যানচেস্টার সিটির জন্য খুব একটা সুখকর ছিল না। রিয়াল মাদ্রিদের কাছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় এবং প্রিমিয়ার লিগে টানা দুই ম্যাচে হোঁচট খাওয়ার পর কিছুটা ব্যাকফুটেই ছিল গার্দিওলার দল। প্রথমার্ধে মিকেল আর্তেতার আর্সেনালই বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। বিশেষ করে বুকায়ো সাকা এবং কাই হাভার্টজ বারবার সিটির রক্ষণভাগে ভীতি ছড়িয়েছিলেন। তবে সিটির গোলরক্ষক জেমস ট্রাফোর্ড ছিলেন অতন্দ্র প্রহরী। তিনি একে একে সাকা এবং হাভার্টজের নিশ্চিত তিনটি গোলের প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়ে সিটিকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। বিরতির আগে সিটির আক্রমণভাগ লক্ষ্যভেদ করার মতো কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি, ফলে গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধে দৃশ্যপট আমূল বদলে যায়। বিরতি থেকে ফিরে ম্যানসিটি তাদের চিরচেনা গতিময় ফুটবল খেলতে শুরু করে। ম্যাচের ৬০ মিনিটে আর্সেনাল গোলরক্ষক কেপা আরিজাবালাগার এক অমার্জনীয় ভুলে গোলমুখ খোলে সিটি। নাগালের মধ্যে থাকা বল কেপা তালুবন্দী করতে ব্যর্থ হলে গোলমুখে ওত পেতে থাকা নিকো ও’রাইলি হেডে বল জালে জড়ান। এই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই চার মিনিট পর আবারও ও’রাইলির জাদুকরী মুহূর্ত। এবার ম্যাথিউস নুনেসের নিখুঁত এক ক্রস থেকে দৃষ্টিনন্দন হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি পূর্ণ করেন এই তরুণ লেফটব্যাক। মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে পুরোপুরি খেই হারিয়ে ফেলে আর্সেনাল।
গোল হজমের পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে আর্সেনাল, কিন্তু দুর্ভাগ্য বারবার তাদের বাধা দিয়েছে। গানারদের দুটি নিশ্চিত গোল ফিরিয়ে দিয়েছে গোলপোস্ট। রিকার্ডো কালাফিওরির একটি জোরালো শট গোলপোস্টে লেগে ফেরার পর গ্যাব্রিয়েল জেসুসের একটি হেডও ক্রসবারে লেগে ফিরে আসলে আর্সেনালের শিরোপা স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়। পরিসংখ্যান বলছে, ম্যানসিটি ম্যাচে ৬৩ শতাংশ বলের দখল রেখেছিল এবং মাত্র দুটি লক্ষ্যে থাকা শট থেকেই তারা জয় নিশ্চিত করেছে। বিপরীতে আর্সেনালের ৭টি শটের ৩টি লক্ষ্যে থাকলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে গোল পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এই জয়ের মাধ্যমে পেপ গার্দিওলা প্রথম কোচ হিসেবে এফএ কাপে পঞ্চম শিরোপা জয়ের এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন। সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্ব হারানোর পর এই শিরোপা সিটির ড্রেসিংরুমে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিপরীতে, ২০২০ সালের পর আবারও এফএ কাপ জয়ের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করায় গভীর হতাশায় নিমজ্জিত হতে হয়েছে আর্সেনালকে। গানারদের ট্রফি জেতার অপেক্ষা এখন আরও দীর্ঘায়িত হলো। ওয়েম্বলির এই রাতটি শেষ পর্যন্ত ম্যানচেস্টার সিটির নীল উৎসবের রঙেই রাঙানো থাকল।
পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) একাদশ আসরে অংশ নিতে দেশ ছেড়েছেন বাংলাদেশের চার তারকা ক্রিকেটার। আগামী ২৬ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া এই জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে এবার রেকর্ড সংখ্যক ছয়জন বাংলাদেশি ক্রিকেটার বিভিন্ন দলে ডাক পেয়েছেন। প্রথম ধাপে আজ সোমবার সকালে মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, পারভেজ হোসেন ইমন এবং তরুণ গতির তারকা নাহিদ রানা পাকিস্তানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। বাকি দুই ক্রিকেটার রিশাদ হোসেন ও তানজিদ হাসান তামিম খুব শীঘ্রই দ্বিতীয় ধাপে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে।
এবারের আসরে দল পাওয়া ক্রিকেটারদের মধ্যে অভিজ্ঞ পেসার মুস্তাফিজুর রহমান সরাসরি চুক্তিতে নাম লিখিয়েছেন লাহোর কালান্দার্সে। তাঁর সঙ্গে একই দলে খেলার সুযোগ পেয়েছেন তরুণ ব্যাটার পারভেজ হোসেন ইমন। অন্যদিকে, পেশোয়ার জালমিতে এবার বাংলাদেশি শক্তির আধিক্য দেখা যাবে। নাহিদ রানার পাশাপাশি শরিফুল ইসলাম এবং ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমকেও দেখা যাবে পেশোয়ারের জার্সি গায়ে। এছাড়া বর্তমান সময়ের অন্যতম আলোচিত লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন খেলবেন রাওয়ালপিন্ডির (পিন্ডিজ) হয়ে। বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই লিগে বাংলাদেশের এত সংখ্যক ক্রিকেটারের অংশগ্রহণ দেশের ক্রিকেটের জন্য একটি ইতিবাচক সংবাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে পিএসএলের পুরো আসর খেলার সুযোগ পাচ্ছেন না এই ক্রিকেটাররা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের আগামী ১২ এপ্রিল পর্যন্ত অনাপত্তিপত্র বা এনওসি প্রদান করেছে। মূলত ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন দ্বিপাক্ষিক সিরিজের কথা মাথায় রেখেই এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে নিউজিল্যান্ড দল তিনটি ওয়ানডে এবং তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসবে। জাতীয় দলের এই গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের প্রস্তুতি ও কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য পিএসএলের মাঝপথেই ক্রিকেটারদের দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পিএসএলের এবারের আসরটি ক্রিকেটারদের জন্য বিশ্বকাপের প্রস্তুতির একটি বড় মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের কন্ডিশনে মুস্তাফিজ ও শরিফুলের মতো পেসাররা নিজেদের বোলিং ধার ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে, রিশাদ হোসেনের লেগ স্পিন এবং নাহিদ রানার গতি পাকিস্তানের উইকেটে কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন দেশের ক্রিকেট ভক্তরা। ১২ এপ্রিল পর্যন্ত এই ক্রিকেটাররা বিদেশের মাটিতে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়ে দেশে ফিরবেন এবং নিউজিল্যান্ড সিরিজে জাতীয় দলের জয়ে অবদান রাখবেন—এমনটাই প্রত্যাশা বিসিবি ও সমর্থকদের।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির আমেজ ছাপিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) শুরু হয়েছে নতুন নাটকীয়তা ও প্রশাসনিক অস্থিরতা। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বিসিবির পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন আমজাদ হোসেন। সোমবার (২৩ মার্চ) বিসিবি সভাপতি বরাবর একটি আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠিয়ে তিনি নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। ক্রিকেট বোর্ডের একজন উচ্চপদস্থ পরিচালক সংবাদমাধ্যমকে আমজাদ হোসেনের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত একটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির দায়িত্ব হারানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি সরাসরি পরিচালকের পদ থেকেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন।
উল্লেখ্য যে, এই পদত্যাগের ঠিক একদিন আগেই বিসিবির অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছিল। রোববার সন্ধ্যায় আমজাদ হোসেনকে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর পরিবর্তে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মোখছেদুল কামাল বাবুকে। মোখছেদুল কামাল বাবু এর আগে এই কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং বর্তমানে তিনি বিসিবির ওয়েলফেয়ার কমিটির দায়িত্বেও নিয়োজিত রয়েছেন। আমজাদ হোসেন গত বছরের অক্টোবর মাসে বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তবে ঠিক কী কারণে তাঁকে হুট করে এই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো, সে বিষয়ে বোর্ডের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে দেশের শীর্ষ ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বিসিবির অধিকাংশ কর্মকর্তা ঈদের ছুটিতে রয়েছেন। এমন নিরিবিলি সময়ে আমজাদ হোসেনের পদত্যাগের খবরটি ক্রীড়াঙ্গনে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তাঁর পদত্যাগপত্রে তিনি কেবল ব্যক্তিগত কারণের কথা উল্লেখ করলেও, মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি এই পদত্যাগের পেছনে মূল প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
বিসিবির অভ্যন্তরীণ এই রদবদল এবং একজন প্রভাবশালী পরিচালকের বিদায় বোর্ডের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে নতুন কোনো মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক গুঞ্জন। আমজাদ হোসেনের পদত্যাগের ফলে শূন্য হওয়া এই পরিচালক পদে ভবিষ্যতে কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে কিংবা বোর্ডের প্রশাসনিক কাঠামোতে আরও কোনো বড় পরিবর্তন আসবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। সব মিলিয়ে ঈদের এই বিশেষ সময়ে বিসিবির অন্দরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাপ্রবাহ দেশের ক্রিকেটের প্রশাসনিক ভবিষ্যতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।