বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

টাইব্রেকারেও নির্বিষ স্পেন, ইতিহাস মরক্কোর

হাকিমির শট জালে জড়াতেই নিশ্চিত হলো, কোয়ার্টার ফাইনালে উঠছে মরক্কো। ছবি: টুইটার
আপডেটেড
৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ০০:২০
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত
ক্রীড়া ডেস্ক

ইতিহাস! মহাকাব্য! অবিশ্বাস্য রূপকথা!

মরক্কো এই অর্জনকে কীভাবে বর্ণনা করবে কে জানে! যেভাবেই বর্ণনা করুক, কোনোটিকেই বাড়াবাড়ি বলে মনে হবে না। গ্রুপ পর্বে বেলজিয়াম ও ক্রোয়েশিয়াকে টপকে গ্রুপ সেরা হয়ে শেষ ষোলোতে উঠেই চমক দেখিয়েছে আফ্রিকান দলটি, কিন্তু চমকের সেখানেই শেষ হয়নি।

এডুকেশন সিটি স্টেডিয়ামে আজ গোলশূন্য সমতার পর টাইব্রেকারে স্পেনকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল মরক্কো! টানা দ্বিতীয়বার শেষ ষোলোতেই বিদায় স্পেনের।

টাইব্রেকারেই যে এই ম্যাচ গড়াবে, তা সম্ভবত শুরুর কয়েক মিনিট পরই বলে দেয়া যাচ্ছিল! স্পেন বল দখলে রেখে এদিক-ওদিক পাস-পাস খেলেছে, মরক্কো নিজেদের বক্সের সামনে তাঁবু গেঁড়ে প্রেসিং করেছে আর চেষ্টা করেছে পাল্টা আক্রমণে আঘাত হানার।

এই করেই ৯০ মিনিট গেল, অতিরিক্ত ৩০ মিনিটও। ম্যাচ টাইব্রেকারেই গড়াল! আর স্পেনের জন্য সেটি এল দুঃস্বপ্ন হয়ে। বিশ্বকাপে আগের ৭ টাইব্রেকারে পরে যারা শট নিয়েছে, তারাই জিতেছে। এডুকেশন সিটি স্টেডিয়ামেও আজ ধারাটা বদলায়নি।

গোলশূন্য ড্র ম্যাচে টাইব্রেকারেও বল জালে জড়াতে পারল না স্পেন। প্রথম তিন শটের তিনটিতেই ব্যর্থ স্পেন – সারাবিয়া, সোলেরের পর অধিনায়ক বুসকেতসের শটও ফিরিয়ে দেন মরক্কোর গোলকিপার। মরক্কো প্রথম চার শটের মধ্যে শুধু তৃতীয়টিতেই ব্যর্থ। চতুর্থ শটে আশরাফ হাকিমির শট জালে জড়াতেই মরক্কান উচ্ছ্বাস!

প্রথমার্ধে বলার মতো ঘটনা বলতে স্পেনের হয়ে আসেনসিও আর মরক্কোর এগার্দের দারুণ দুটি সুযোগ হারানো। এর বাইরে স্পেন শুধু মরক্কো বক্সের আগ পর্যন্ত মাঠের এদিক থেকে ওদিক আর ওদিক থেকে এদিক পাস-পাসই খেলেছে, কিন্তু বক্সে ঢোকার সুযোগ তেমন পায়নি। মরক্কোও পাল্টা আক্রমণে উঠলেও শেষ পাসটা ঠিকঠাক দিতে পারেনি। তবে ম্যাচ যত শেষের দিকে গড়িয়েছে, মরক্কোর আক্রমণে গতি বেড়েছে। ‘লো ব্লক প্রেসিং’ ঠিক রাখলেও বল পেলে আক্রমণে লাল-সবুজ জার্সির খেলোয়াড় উঠেছে বেশি। তাতে উল্টো দিকে আকাশি জার্সিতে খেলা স্পেনের খেলোয়াড়েরাও বক্সে ঢোকার পথে জায়গা পেয়েছেন আগের চেয়ে বেশি।

শেষ ছয়-সাত মিনিটে মরক্কোর ছেদ্দিরাই দুবার দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন, স্পেন বক্সে গায়ের সঙ্গে লেগে থাকা তিন-চার স্প্যানিশ খেলোয়াড়কে সামলে ঠিকমতো শটগুলো নিতে পারলে মরক্কোর জন্য দারুণ কিছুই হয়তো অপেক্ষায় থাকত। স্পেন জয় ছিনিয়ে নেয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছে যোগ করা পাঁচ মিনিট সময়ের শেষ মিনিটেই! কিন্তু জটলার মধ্য থেকে অলমোর শট ফিরিয়ে দেন মরোক্কান গোলকিপার বুনু। ফিরতি শটে রদ্রি বা নিকো উইলিয়ামস কেউ বলে পা ছোঁয়াতে পারলেই বুনুর কাজটা কঠিন হয়ে যেত।

কিন্তু হয়নি। গোলশূন্য সমতায় শেষ নির্ধারিত ৯০ মিনিট। ২০১৪ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে আলজেরিয়ার পর (জার্মানির বিপক্ষে) এই প্রথম কোনো আফ্রিকান দল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ম্যাচ নিয়ে গেছে অতিরিক্ত সময়ে। আলজেরিয়ার কাছ থেকে অবশ্য প্রেরণা নেয়ার কিছু ছিল না মরক্কোর, আট বছর আগে সে ম্যাচটা ২-১ গোলে জিতেছিল জার্মানি।

অতিরিক্ত সময়ে মোরাতার পাশে ফাতিকেও নামিয়ে স্পেন চেষ্টা করেছে একটা গোল বের করার। এর মধ্যেও ১০৪ মিনিটে দারুণ সুযোগ পেয়েছে মরক্কো, কিন্তু স্পেনকে বেশ ভোগানো শেদ্দিরা স্পেনের রক্ষণরেখা পেরিয়ে গিয়ে যে শট নিলেন, তা ঠেকিয়ে দেন স্পেন গোলকিপার সিমন।

স্পেন এরপর মরক্কো বক্সের সামনে তাঁবু গেঁড়েছে, মরক্কো টাইব্রেকারে ভাগ্যলিখন বলে যেন মেনে নিয়েছে। স্পেন তবু গোল পাচ্ছে না দেখে ১১৯ মিনিটে বদলি খেলোয়াড়েরই বদলি নামিয়ে দেন স্পেন কোচ লুইস এনরিকে। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামা নিকো উইলিয়ামসের বদলে নামান সারাবিয়াকে, নিকোর চেয়ে যিনি পেনাল্টিতে দক্ষ। কিন্তু অতিরিক্ত সময়েরও শেষে যোগ করা সময়ে সেই সারাবিয়াই কী দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করলেন!

একেবারে শেষ মুহূর্ত তখন। রেফারির বাঁশি এখন বাজে তখন বাজে! মরক্কো বক্সের ডানে বল পেলেন সারাবিয়া, শটও নিলেন। কিন্তু দুরূহ কোণ থেকে নেয়া তার শটটা বাঁ দিকের পোস্টে লেগে চলে যায় বাইরে!

নিশ্চিত হলো, টাইব্রেকারেই ভাগ্য লেখা দুদলের। সেখানে মরক্কোর হয়ে প্রথম শটে সাবিরি গোল করলেন। কিন্তু স্পেনের প্রথম শট নিতে এসেই ব্যর্থ খেলোয়াড়ের নাম কী? সারাবিয়া!


এনসোর জন্য কেন ১৪০১ কোটি টাকা খরচ করল চেলসি?

এনসো ফের্নান্দেস। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারের চক্ষু ছানাবড়া করে দেয়া দলবদলের ফি দেখার পর এই প্রশ্নই মাথায় ঘুরপাক খায়।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের আগে যে খেলোয়াড়ের জায়গা হয়নি আর্জেন্টিনার মূল একাদশে, যার ইউরোপীয় ফুটবলে অভিজ্ঞতা মোটে সাত মাসের। জাতীয় দল বা ক্লাবের জার্সিতে গোল-অ্যাসিস্টের ধারাপাতও সাদামাটা। বিশ্বকাপে একটি করে গোল আর অ্যাসিস্ট, বেনফিকার জার্সিতে ২৯ ম্যাচে চার গোল এবং সাত অ্যাসিস্ট। এই পরিসংখ্যানগুলো ঈর্ষণীয় নয় মোটেই।

তাই শিরোনামের প্রশ্ন আপনার মনেও উঁকি দিয়ে থাকলে দোষের কিছু নেই।

এনসো ফের্নান্দেসের মতো খেলোয়াড়দের গুরুত্ব বুঝতে একটু গভীরে যেতে হয়। কারণ মাঠে তাদের বেশ গুরুত্বপূর্ণ হলেও স্বীকৃতি কমই জোটে, কেতাবি ভাষায় যাকে ‘থ্যাঙ্কলেস জব’ বলে আরকি!

চোখ ধাঁধানো গোল, হ্যাটট্রিক বা লাস্ট ডিচ ট্যাকলে বাহবা কুড়ানোর সুযোগ কমই পান এনসো ফের্নান্দেস। তাকে বরং ম্যাচজুড়ে মাঝবৃত্তের আশপাশে সজাগ থাকতে হয়, দলকে দ্রুত আক্রমণে যেতে যেমন সাহায্য করতে হয়, তেমনি বিপদের সময় রক্ষণের পাশেও দাঁড়াতে হয়।

ফুটবলের ভাষায়, মাঠে এনসোর ভূমিকা হচ্ছে ডিপ লাইং প্লেমেকার এবং বক্স-টু-বক্স মিডফিল্ডারের। নিজের অর্ধে বসেও একটা রক্ষণচেরা পাস বা নিখুঁত লং বলে যেমন আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের পাতে তুলে দিতে পারেন গোলের মোক্ষম সুযোগ, তেমনি প্রতিপক্ষের বক্স থেকে নিজের বক্স পর্যন্ত পুরো অঞ্চলটাকেই রাখতে পারেন নখদর্পণে।

এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বে ফের্নান্দেসের (১৯) চেয়ে বেশি ট্যাকল করেছেন মাত্র ৪ জন খেলোয়াড়। পর্তুগিজ লিগে সাত মাসে সবচেয়ে বেশি ১৪৩১টি সফল পাস এসেছে তার পা থেকে, এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা তার স্বদেশী নিকোলাস ওতামেন্দির সফল পাস সংখ্যা ১১৪৫।

পর্তুগিজ প্রিমেইরা লিগার সেন্ট্রাল মিডফিল্ডারদের মধ্যে চলতি মৌসুমে সবচেয়ে বেশিবার বল ক্যারি (বল নিয়ে প্রতিপক্ষ অর্ধের দিকে যাওয়া) করেছেন। বল ক্যারির দূরত্বের হিসাবেও তার আশপাশে নেই কেউ। প্রতি নব্বই মিনিটে গড়ে ৭.৯১টি আক্রমণে (যে আক্রমণগুলো গোলে শটের মাধ্যমে শেষ হয়) যুক্ত থাকেন ফের্নান্দেস। চলতি মৌসুমে ইউরোপের শীর্ষ ছয় লিগে অন্তত এক হাজার মিনিট খেলা ফুটবলারদের মধ্যে এই কাজটি তার চেয়ে বেশি করেছেন কেবল ব্রাগার রিকার্দো হর্তা এবং নাপোলির ‘বিস্ময়’ কাভিচা কাভারাৎস্খেলিয়া। আক্রমণ এবং রক্ষণে সমানভাবে কার্যকরী হওয়ার সুবাদে বিশ্বকাপে সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার উঠেছিল তার হাতে।

এমন তরুণ প্রতিভার জন্য অর্থ খসানোর ই যায়। জানুয়ারির পুরো দলবদলের মৌসুম জুড়ে দোনোমোনো করলেও শেষ মুহূর্তে তাই বেনফিকার দাবি মেনে নিয়েছে চেলসি। প্রিমিয়ার লিগে দলবদলের ফি-এর দিক দিয়ে রেকর্ড ১২১ মিলিয়ন ইউরো (১৪০১ কোটি টাকা) খরচ করে তাকে দলে টেনেছে তারা। ফুটবল ইতিহাসের অষ্টম দামি খেলোয়াড় এখন তর্কসাপেক্ষে বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক লিগে কতটা নিজেকে মেলে ধরতে পারেন, সেটাই এখন দেখার।


বিশ্বকাপের পর প্রথম সাক্ষাৎকারে মেসি: ‘ঈশ্বরের পরিকল্পনাই এমন ছিল’

মেসির ক্যারিয়ারে পূর্ণতা এনে দেয়া এমন অনেক ছবিতে তার ইনস্টাগ্রাম।
আপডেটেড ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৭:৩৬
ক্রীড়া ডেস্ক

জীবনে পূর্ণতার প্রসঙ্গে অন্য অনেক কিছু জড়িয়ে যায়। সেখানে কোনটার চেয়ে কোনটা এগিয়ে বা পিছিয়ে, সে হিসেবে যাওয়া কঠিন। কিন্তু প্রসঙ্গ যদি হয় ক্যারিয়ারে পূর্ণতার, লিওনেল মেসির জীবনকে সোজা দাগে দুই ভাগে ভাগ করে দেয়া যায়– ১৮ ডিসেম্বরের আগে এবং পরে।

ধ্রুপদী ফাইনালে টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে হারিয়ে কাতার বিশ্বকাপে মেসির ক্যারিয়ার পূর্ণতা পাওয়ার স্মৃতি এখনো তরতাজা। এখনো ইউটিউবে, ফেইসবুকে-ইনস্টাগ্রামে মেসির হাতে বিশ্বকাপের ছবি কিংবা ভিডিও আপনা-আপনিই হয়তো সামনে চলে আসে। কারও হয়তো তাতে আবেগের তারে টোকা পড়ে। সাধারণ্যেরই যখন এই অবস্থা, মেসির নিজের অনুভূতিটা কী হতে পারে তা শুধু কল্পনাই করা যায়!

কিছুটা ভালো বোঝা যেতে পারে আর্জেন্টিনা অধিনায়কের নিজের মুখে শোনার পর। বিশ্বকাপ জয়ের পর আজ প্রথমবার কোনো সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন মেসি। আর্জেন্টাইন রেডিও ‘উরবানা প্লেই’-তে সে সাক্ষাৎকারে সবকিছুর জন্য সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দিয়েছেন মেসি। উঠে এসেছে দিয়েগো আরমান্দো মারাদোনার প্রসঙ্গ, বিশ্বকাপের সময়ের পর ট্রফি নিয়ে কিছু আলোচিত মুহূর্তের কথাও।

পূর্ণতা

মেসি: ১৮ ডিসেম্বর সবকিছু বদলে গেছে। যে প্রার্থনা করেছি এতদিন, যা নিয়ে স্বপ্ন দেখেছি পুরো ক্যারিয়ার, সেটা সত্যি হয়েছে।

ফাইনালের প্রস্তুতি

মেসি: ঘুমটা ভালো হয়েছিল, তেমন দুশ্চিন্তা ছিল না। এটাই বারবার মনে হচ্ছিল যে বিশ্বকাপ জেতার জন্য যতটা সম্ভব সব চেষ্টাই করছি।

টাইব্রেকারে মন্তিয়েলের শটের আগে বিড়বিড়

মেসি: ঈশ্বরকে ডাকছিলাম। ক্যারিয়ারজুড়েই তো তিনি আমার পাশে ছিলেন! আর প্রার্থনা করছিলাম কাশেতে (মন্তিয়েল) যাতে শেষটা করে আসতে পারে, যাতে আর ভুগতে না হয়।

সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার নিতে গিয়ে বিশ্বকাপ ট্রফিতেও চুমু খাওয়ার কারণ...

মেসি: (দুষ্টুমির হাসিতে) কাপটা আমাকে ডাকছিল, বলছিল, ‘আমার কাছে এসো। আমাকে ধরো। এখন তুমি আমাকে স্পর্শ করতে পারো।’

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচে মেজাজ হারানো

মেসি: ওটা আপনা আপনিই হয়ে গিয়েছিল। ম্যাচের আগে ফন গাল কী কী বলেছিলেন, সতীর্থদের কাছে সব শুনেছিলাম। (গোলের পর ফন গালের সামনে গিয়ে রিকেলমের মতো করে উদ্‌যাপনের ছবি) এমন ছবি থেকে যাক, এমনটা কখনো চাই না। কিন্তু এমনটা সেদিন হয়ে গেছে। ম্যাচে সেদিন উত্তেজনাই এমন ছিল।

রোমাঞ্চ এখনো তাজা

মেসি: এখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যখন ভিডিওগুলো সামনে আসে, যেখানে দেখায় যে আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, আবেগ ছুঁয়ে যায়।

ইনস্টাগ্রাম ব্লকড!

মেসি: বিশ্বকাপের পর এত এত মেসেজ আসছিল যে আমার ইনস্টাগ্রাম কয়েকদিনের জন্য ব্লকডই হয়ে গিয়েছিল।

  • নিজের ইনস্টাগ্রাম তিনি নিজেই চালান বলেও জানিয়েছেন মেসি

হোয়াটসঅ্যাপের কী অবস্থা?

মেসি: হোয়াটসঅ্যাপ তো যেন মেসেজে-মেসেজে ভেঙে পড়ার দশা! প্রথমে পরিবারের মানুষকে মেসেজের জবাব দিচ্ছিলাম, এরপর কয়েকদিন ধরে শুধু মেসেজের জবাবই দিয়ে গেছি। ইনস্টাগ্রামে কয়েক মিলিয়ন মেসেজ এসেছে, ইনস্টাগ্রাম তো ব্লকই হয়ে গেল!

ইনস্টাগ্রামে সবচেয়ে বেশি ‘লাইক’ পাওয়া ছবি

মেসি: ব্যাপারটা তো এমন নয় যে আমি ইনস্টাগ্রামে সবচেয়ে বেশি লাইক পাওয়া ছবি পেতে চেয়েছিলাম। মানুষ হয়তো বিশ্বকাপ হাতে আমাকে দেখতে চেয়েছিলেন বলেই এমন হয়েছে।

এবং দিয়েগো মারাদোনা

মেসি: দিয়েগো সেদিন থাকলে আমার হাতে কাপটা তিনিই দিতেন, ওই ছবিটা কী দারুণই না হতো! আমার মনে হয়, দিয়েগো এবং ওপর থেকে আরও যারা আমাদের ভালোবেসে কাছে তাদের ভালোবাসায় অনেক জোর ছিল, অনেক প্রেরণা ছিল বলেই এটা সম্ভব হয়েছে।

পেছনে তাকিয়ে ছোট্ট মেসিকে কী বলবেন?

মেসি: যদি বলতেই হতো, আমি ১৬ বছর বয়সী নিজেকে এটাই বলতাম যে, অসাধারণ কিছু একটা তোমার অপেক্ষায়। এটা বলতাম যে ওর চলার পথটা অনেক সুন্দর হবে, কিছু কঠিন সময়ও থাকবে যেগুলো ওকে কাটিয়ে উঠতে হবে। বলতাম, স্বপ্নের পথে কখনো হাল ছেড়ো না, কারণ সবকিছুর শেষে ও সবচেয়ে কাঙ্খিত পুরস্কারটাই পাবে।

কোচদের ধন্যবাদ

মেসি: টুর্নামেন্টে প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষের চেয়ে আমরা এগিয়ে ছিলাম, কারণ প্রতিটা ম্যাচেই কী করতে হবে সেটা আমাদের জানা ছিল। কোচিং স্টাফের সবাই আমাদের দারুণভাবে প্রস্তুত করে তুলেছিলেন।

সবচেয়ে কঠিন ম্যাচ

মেসি: আমার মনে হয় মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচটাই বিশ্বকাপে আমাদের সবচেয়ে কঠিন ম্যাচ ছিল।

সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ

মেসি: আমার জন্য ঈশ্বরের পরিকল্পনাই এমন ছিল। এর চেয়ে ভালো কোনো মুহূর্ত আর হতে পারে না। কোপা আমেরিকার সময়ও এমনই মনে হয়েছিল। প্রতিদিনই ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই, তার কাছে এর চেয়ে ভালো কিছু চাইতে পারতাম না আমি।


কোপার সেমিতে মুখোমুখি বার্সা-রেয়াল

কোপা দেল রে'র সেমিতেও দেখা হচ্ছে বার্সা-রেয়ালের। ছবি: এএফপি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

দিন পনের আগে সুপার কাপের ফাইনালে দেখা হয়েছিল তাদের। আজ কোপা দেল রে’র ড্র-এ জানা গেল, সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে স্প্যানিশ ফুটবলের দুই পরাশক্তি বার্সেলোনা এবং রেয়াল মাদ্রিদ।

প্রথম লেগ হবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিন বা মার্চের একদম শুরুর দিক, আর দ্বিতীয় লেগ এপ্রিলে।

মাদ্রিদ ডার্বিতে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী আতলেতিকোর বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে জিতে সেমিতে উঠেছিল মাদ্রিদ। আর সোসিয়েদাদকে উসমান দেম্বেলের একমাত্র গোলে সোসিয়েদাদকে ১-০ গোলে হারিয়ে সেমির টিকিট পেয়েছিল বার্সেলোনা।

চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত দু’বার মুখোমুখি হয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা এবং রেয়াল মাদ্রিদ। লিগে ঘরের মাঠে শাভির দলকে ৩-১ গোলে হারায় আনচেলত্তির দল। তবে সুপার কাপের ফাইনালে একই স্কোরলাইনে মাদ্রিদকে হারিয়ে শিরোপাখরা মেটায় বার্সা।

কোপা দেল রে’র অন্য সেমিফাইনালে খেলবে ওসাসুনা এবং অ্যাথলেটিক বিলবাও।


রেয়াল মাদ্রিদের ‘ভালো খেলেও’ জয় না পাওয়ার আক্ষেপ

করিম বেনজেমা। ছবি: রেয়াল মাদ্রিদ টুইটার
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

‘আমরা প্রথম মিনিট থেকে শেষ মিনিট পর্যন্ত ভালো খেলেছি’ – রেয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে রেয়াল মাদ্রিদ কোচ কার্লো আনচেলত্তির ভাষ্য। কিন্তু তাতেও যে কাজের কাজটা হলো না। করিম বেনজেমা, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো গোয়েসরা পুরো নব্বই মিনিটে একবারও লক্ষ্যভেদ করতে না পারলেন না। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে তাই পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই সন্তুষ্ট থাকতে হলো তাদের।

মাদ্রিদ চেষ্টা কম করেনি। সোসিয়েদাদের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি আক্রমণ শানিয়েছে, শট করেছে। তবে বেনজেমা-ভিনিসিয়ুসদের সামনে দেয়াল তুলে দিয়েছিলেন দলটির গোলরক্ষক আলেক্স রেমিরো। ফুটবল বিষয়ক সাইট সোফাস্কোর বলছে, ৭টি দুর্দান্ত সেভ দেয়া রেমিরোই ছিলেন ম্যাচের সেরা পারফরমার, তার রেটিং ৮.৫।

সোসিয়েদাদের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করায় শিরোপার দৌড়ে বার্সেলোনার চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। ১৮ ম্যাচ খেলে তাদের পয়েন্ট এখন ৪২, সমান সংখ্যক ম্যাচ থেকে ৪৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা।

ড্রয়ের পর আনচেলত্তিও করলেন পয়েন্টের হিসাব, ‘আমরা পাঁচ পয়েন্ট পিছিয়ে আছি। আমাদের এখন দৌড়াতে হবে। বার্সেলোনা অনেক ভালো খেলছে, তবে এখনো অনেকটা পথ বাকি।’


মেসির দুঃস্বপ্নের রাতে পিএসজির হতাশা

লিওনেল মেসি। ছবি: পিএসজি
আপডেটেড ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৭:৪৩
ক্রীড়া ডেস্ক

৬.০২। রেঁসের বিপক্ষে লিওনেল মেসির পারফরম্যান্সের জন্য তাকে এই রেটিং দিয়েছে ফুটবল বিষয়ক সাইট হুস্কোরড!

রবিবার রাতে শেষ মুহূর্তের গোলে পিএসজির মাঠে দলটিকে আটকে দিয়েছে রেঁস। ৫১ মিনিটে নেইমার গোল করে চ্যাম্পিয়নদের এগিয়ে দিয়েছিলেন। এর ৮ মিনিট পর মার্কো ভেরাত্তি সরাসরি লাল কার্ড দেখলে বিপাকে পড়ে তারা। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে ফ্লোরিয়ান বালোগুন লক্ষ্যভেদ করলে পিএসজির মাঠ থেকে এক পয়েন্ট নিয়ে ফেরে রেঁস।

পুরো ম্যাচে নিজেদের ছায়া হয়েছিলেন পিএসজির দুই তারকা ফরোয়ার্ড মেসি এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিশেষ করে মেসির পারফরম্যান্স নিয়ে কাটাছেঁড়া একটু বেশিই হচ্ছে। হবে না-ই বা কেন, প্রতিবেদনের শুরুতেই উল্লেখ করা মেসির ৬.০২ রেটিং যে তার ক্যারিয়ারেরই তৃতীয় সর্বনিম্ন।

বিশ্বকাপ জিতে পিএসজিতে ফেরার পর থেকেই সময়টা খুব একটা পক্ষে নেই মেসির। লিগে তিন ম্যাচ খেলে গোল পেয়েছেন মোটে একটি, গোল বানিয়ে দিতে পারেননি একটিও। বিশ্বকাপ বিরতির আগে লিগে ৭ গোল এবং ১০ অ্যাসিস্ট করা ‘দুর্দান্ত’ সে মেসি হাওয়ায় মিলিয়ে গেছেন। গত মৌসুমের ‘ভূত’ যেন আবার চেপে বসেছে তার কাঁধে।

বিশ্বকাপ বিরতির পর মেসির মতো নাজুক অবস্থা তার ক্লাব পিএসজিরও। লিগে অপরাজিত থেকে বিরতিতে যাওয়া ক্লাবটি ফেরার পর পাঁচ ম্যাচের দুটিতে হেরে গেছে, একটিতে করেছে পয়েন্ট ভাগাভাগি। ২০ ম্যাচ পর ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে এখনো লিগের শীর্ষে পিএসজি, তবে দ্বিতীয় স্থানে থাকা লেসের সঙ্গে তাদের ব্যবধান মাত্র ৩ পয়েন্টের। নড়বড়ে ফর্মে থাকা পিএসজির জন্য যা মোটেও স্বস্তির নয়।

রেঁসের সঙ্গে ড্রয়ের পর দলটির কোচ ক্রিস্তোফ গালতিয়েরের কথাতেও দুর্যোগের আভাস পাওয়া গেল, ‘আমরা অনেক বেশি আরামে আছি, এখনই নিজেদের জাগিয়ে তুলতে হবে। আমাদের কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে। (দলের ভেতর) প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়াতে (নতুন) সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

গালতিয়ের কী সিদ্ধান্ত নেন, তা জানতে অন্তত ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সেদিন লিগে পরের ম্যাচে মাঠে নামবে পিএসজি, প্রতিপক্ষ মপেঁলিয়ে।


স্ত্রীর সঙ্গে প্রতারণার কথা স্বীকার দানি আলভেসের

দানি আলভেস ও তার স্ত্রী। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
আপডেটেড ২৯ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৬:৫৯
ক্রীড়া ডেস্ক

কয়েকদিন আগেও দানি আলভেস সরাসরি অস্বীকার করেছিলেন সব অভিযোগ। ‘পোকার ফেস’ নিয়ে স্প্যানিশ টিভি চ্যানেলে বলে গিয়েছিলেন, ‘(তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা) ওই নারীর সঙ্গে আমার কখনো দেখা হয়নি, আমি তাকে চিনি না।’ তবে সাবেক বার্সেলোনা ডিফেন্ডার জেলে ঢুকতেই বেরিয়ে পড়ল থলের বিড়াল!

এবার স্প্যানিশ টিভি চ্যানেল আন্তেনা ৩-তে এসে নিজের মক্কেলের মিথ্যাচারের কথা প্রকাশ করলেন আলভেসের আইনজীবী ক্রিস্তোবাল মার্তেল। শুক্রবার ব্রায়ান্স টু জেলে আলভেসের সঙ্গে দেখা করার পর সাবেক ব্রাজিল ডিফেন্ডারের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তির কথা সংবাদমাধ্যমকে জানানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

আলভেসের বিরুদ্ধে তদন্তকারীদের কাছে একেকবার একেক রকম তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ উঠেছিল। স্ত্রীর সঙ্গে প্রতারণার বিষয়টি ধামাচাপা দিতেই বারবার আলভেস বক্তব্য পরিবর্তন করেছেন বলে জানান তার আইনজীবী।

এদিকে আলভেস আটক হওয়ার পর তার পাশে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন স্ত্রী জোয়ানা সাঞ্জ। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে আলভেসের হাতে তার হাত রাখা ছবিও পোস্ট করে লিখেছিলেন, ‘টুগেদার।’ তবে ব্রাজিল ডিফেন্ডারের স্বীকারোক্তি আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলভেসের সঙ্গে তার সব ছবি মুছে দিয়েছেন সাঞ্জ।

আলভেসের আইনজীবী মার্তেল জানিয়েছেন, জামিন না দিয়ে আলভেসকে জেলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে শিগগিরই আপিল করতে যাচ্ছেন তারা। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে আপিলের শুনানি হবে বলে আশা তাদের।


পরের কোপা আমেরিকা হবে যুক্তরাষ্ট্রে

কোপা আমেরিকার পরের আসর যুক্তরাষ্ট্রে। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

গুঞ্জন আগে থেকেই ছিল, আজ শুক্রবার রাতে এল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবলের ওয়েবসাইটে জানানো হলো, ২০২৪ কোপা আমেরিকা হবে যুক্তরাষ্ট্রে। টুর্নামেন্ট হবে ১৬ দলের, কনমেবলের দশ দলের সঙ্গে সেখানে খেলবে উত্তর ও মধ্য আমেরিকা অঞ্চল কনক্যাকাফের অতিথি ছয় দল।

কনমেবলের ওয়েবসাইটে লেখা, কোপা আমেরিকা ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে হবে, সেটি হবে ২০২৪-এর গ্রীষ্মে। সেখানে কনমেবলের ১০ দল ও কনক্যাকাফের সেরা ছয় দল অতিথি হিসেবে খেলবে। ঐতিহ্যবাহী কনমেবল টুর্নামেন্ট আয়োজিত হবে দুই কনফেডারেশনের যৌথ আয়োজনে। কনক্যাকাফ অঞ্চলের কোন ছয় দেশ এই টুর্নামেন্টে খেলবে, সেটি নির্ধারিত হবে ২০২৩/২৪ কনক্যাকাফ নেশনস লিগে দলগুলোর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে।

এর বাইরে দুই কনফেডারেশন পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে মেয়েদের ফুটবল-উন্নয়নেও কাজ করবে। ২০২৪ মেয়েদের কনক্যাকাফ গোল্ড কাপে অতিথি হিসেবে খেলবে কনমেবল অঞ্চলের সেরা চার দল। কোন চার দল যাবে, সেটিও নির্ধারিত হয়ে গেছে। এবং তা নির্ধারিত হয়েছে ২০২২ কোপা আমেরিকা ফেমেনিনার পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে - ব্রাজিল (চ্যাম্পিয়ন), কলম্বিয়া (রানার্সআপ), আর্জেন্টিনা (তৃতীয়) ও প্যারাগুয়ে (চতুর্থ)।

জাতীয় দলের বাইরে ক্লাব ফুটবলেও দুই কনফেডারেশন মিলে কাজ করবে। দুই কনফেডারেশনের শ্রেষ্ঠত্বসূচক ক্লাব টুর্নামেন্টের সেরা দুটি করে দল মিলে 'ফাইনাল ফোর' টুর্নামেন্ট খেলবে। প্রথম আসর হবে ২০২৪ সালে।


রেয়াল মাদ্রিদ মানে কামব্যাক, রদ্রিগো মানেও তা-ই

সমতাসূচক গোলের পর গোলদাতা রদ্রিগোর সঙ্গে সতীর্থ কামাভিঙ্গার উল্লাস। ছবি: রেয়াল মাদ্রিদ টুইটার
আপডেটেড ২৭ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৬:৫৪
ক্রীড়া ডেস্ক

‘হ্যালো, কেমন আছেন? আমি প্রত্যাবর্তনের নায়ক’ – রদ্রিগোকে নিয়ে রেয়াল মাদ্রিদের টুইট। কোপা দেল রে-র কোয়ার্টার ফাইনালে মাদ্রিদ ডার্বি। উত্তাপ ছড়ানো সে দ্বৈরথে ম্যাচের বড় একটা সময় ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই খেলল রেয়াল মাদ্রিদ।

৭৯ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা রদ্রিগো অসাধারণ একক প্রচেষ্টাতেই ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকরা। এরপর অতিরিক্ত সময়ে করিম বেনজেমা এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়র আরো দুই বার বল জালে জড়িয়ে ৩-১ গোলে জয় ছিনিয়ে নেয় তারা।

গত চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে কামব্যাক করাটাকে ট্রেন্ডে পরিণত করেছিল মাদ্রিদ। সে ট্রেন্ডের মূলে ছিলেন রদ্রিগো-বেনজেমারাই। এই মৌসুমেও বেশ কয়েকবার দেখা গেছে এই দৃশ্য। গতকাল রাতেও সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে খাদের কিনারা থেকে ফিরল তারা, আন্ডারটেকারের সে আইকনিক দৃশ্যের মতো মাদ্রিদ যেন হঠাৎ-ই কফিন থেকে উঠে দাঁড়াল, আর মুহূর্তের আগুনে ছারখার হয়ে গেল দিয়েগো সিমিওনের দল।

মাত্র ১৯ মিনিটেই মাদ্রিদের জাল কাঁপিয়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুকে স্তব্ধ সাবেক মাদ্রিদ স্ট্রাইকার আলভারো মোরাতা। শুরুতেই গোল পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ঠিক পুরোপুরি বুঝে পায়নি আতলেতিকো। তবে মাদ্রিদের তারকাবহুল ফরোয়ার্ড লাইন যাতে সহজে গোল পরিশোধ না করতে পারে সে বন্দোবস্ত ঠিকই করেছিল সিমিওনের শিষ্যরা।

উপায়ান্তর না দেখে ৬৯ মিনিটে নিজের ‘গোপন অস্ত্র’ রদ্রিগোকে নামিয়ে দেন কার্লো আনচেলত্তি। ঠিক দশ মিনিটের মাথায় পেয়ে যান ফল।

ঘড়ির কাটায় যখন ৭৯ মিনিট চলছে, তখনই গোল থেকে প্রায় ৩৫ গজ দূরে লুকা মদরিচের কাছ থেকে বল পান রদ্রিগো। প্রথম মুভেই আতলেতিকো মিডফিল্ডার আক্সেল উইতসেল বাধা পার হন, এরপর একে একে দলটির আরও তিন খেলোয়াড়কে নিরাপদ দূরত্বে রেখে পৌঁছে যান গোলের খুব কাছে, তুলির শেষ আঁচড়টা দেন ডান বুটের বাইরের অংশের ছোঁয়ায় ইয়ান ওবলাককে পরাস্ত করে।

সমতায় ফেরার চলে মাদ্রিদের তাণ্ডব। সামাল দিতে না পেরে মেজাজ হারান আতলেতিকো ডিফেন্ডার স্তেফান সাভিচ, ৯৯ মিনিটে দুই হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দুই দলের কেউই আর লক্ষ্যভেদ করতে পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে ১০৩ মিনিটে বেনজেমা এবং ১২০+১ মিনিটে ভিনিসিয়ুস গোল করলে হাসিমুখেই মাঠ ছাড়ে বার্নাব্যুর দর্শকরা।


দলবদলে টাকা ওড়াচ্ছে কারা?

১০০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে ফরোয়ার্ড মিখাইলো মুদ্রিককে কিনেছে চেলসি। ছবি: টুইটার
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

গত ১৯ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনে ডেলওয়েট মানি লিগ জানিয়েছে, গত মৌসুমে সবচেয়ে বেশি আয় করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। শীর্ষ দশে ছয়টি ক্লাবই ইংল্যান্ডের। শীর্ষ বিশে জায়গা করে নিয়েছে আরও পাঁচটি ইংলিশ ক্লাব।

সবচেয়ে দামি ফুটবল ক্লাবের খবর নিতে গেলে দেখা যায় সেখানেও শীর্ষ বিশে ১১টি ইংলিশ ক্লাবের উপস্থিতি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে সবচেয়ে দামি ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (৫৯৫ কোটি ডলার)। ৩৪৭ কোটি ডলারে পাঁচে আছে চেলসি। ইংল্যান্ড ছাড়িয়ে ইউরোপে গেলে তাদের অবস্থান এখন অষ্টম। আয়ের দিক থেকেও তাদের অবস্থান আটে (৬৪ কোটি ডলার)।

আয়ের দিক থেকে চেলসির সামনে হয়তো আরও সাতটি ক্লাব থাকতে পারে, দলবদলের বাজারে তাদের ধারে-কাছে নেই কেউ। চেলসি কিনে নেয়ার পর নতুন মালিক টড বোয়েলি সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটানোর ব্যবস্থা করছেন নিয়মিত। নতুন নতুন খেলোয়াড় কিনে আনছেন সুযোগ পেলেই। দলবদলে তাদের এই ব্যস্ততার রূপটার পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে সিআইইএস। ফুটবল নিয়ে বিশ্লেষণের জন্য বিখ্যাত এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন আরও স্পষ্ট করে তুলেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অর্থের দাপট।

একাকী চেলসি

গত গ্রীষ্ম ও এবারের জানুয়ারির দলবদলে চেলসি শর্তসাপেক্ষে ৫৫৫ মিলিয়ন (৫৫ কোটি ৫০ লাখ) ইউরো খরচ করেছে। খরচের ক্ষেত্রে দুইয়ে থাকা ইউনাইটেডের ব্যয়? ২৭ কোটি ২০ লাখ। অর্থাৎ অর্ধেকেরও কম!

ইংল্যান্ড আর ইংল্যান্ড

গত দুই দলবদলে সবচেয়ে বেশি খরচ করা পাঁচ ক্লাবের সবাই ইংলিশ! শীর্ষ দশে আছে আরও দুই ইংলিশ ক্লাব।

শর্তসাপেক্ষে ব্যয় (ইউরো) নিশ্চিত ব্যয় ক্লাব খেলোয়াড় ক্রয়

৫৫৫ মিলিয়ন ৪৭৬ মিলিয়ন চেলসি ১৫

২৭২ মিলিয়ন ২৪৪ মিলিয়ন ম্যান ইউনাইটেড ৭

২৩৭ মিলিয়ন ১৯১ মিলিয়ন ওয়েস্টহ্যাম ইউনাইটেড ১০

২৩৩ মিলিয়ন ১৭৭ মিলিয়ন নটিংহ্যাম ফরেস্ট ১৮

২০৩ মিলিয়ন ১৭৯ মিলিয়ন উলভারহ্যাম্পটন ১১

একদিকে ইংল্যান্ড, বাকিরা অন্যদিকে

খরচের দিক থেকে শীর্ষ বিশের ১৩টি ক্লাবই ইংল্যান্ডের। এ থেকেই স্পষ্ট দলবদলের বাজারে কতটা ব্যস্ত প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো। এ মৌসুমে ৩১৯ কোটি ইউরো ব্যয় করেছে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো। শীর্ষ পাঁচ লিগের চারটির মোট ব্যয় (২৯৪ কোটি ৯০ লাখ ইউরো) ইংলিশ লিগের চেয়ে কম! খরচের দিক থেকে দুইয়ে আছে ইতালির সিরি ‘আ’ (৮২ কোটি ৬০ লাখ)।

আর্থিক সংকট?

দেউলিয়া হতে বসেছিল বার্সেলোনা। আর্থিক দুর্দশায় পড়ে উচ্চ বেতনের খরচ এড়াতে লিওনেল মেসি, আঁতোয়ান গ্রিজমান ও ফিলিপে কুতিনিওকে ছেড়ে দিয়েছে তারা। খরচ বাঁচাতে মুফতে খেলোয়াড় নেয়ায় মন দিয়েছে। একের পর এক আর্থিক চুক্তি করে নিজেদের টিকিয়ে রেখেছে তারা। কিন্তু দলবদলের বাজারে ঠিকই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে তারা।

সবচেয়ে খরুচে ক্লাবের তালিকায় ছয়ে আছে বার্সেলোনা। শর্তসাপেক্ষে ২০৩ মিলিয়ন (নিশ্চিত) ইউরো ব্যয় করেছে বার্সেলোনা, পিএসজির চেয়েও ১২ মিলিয়ন বেশি!

মাদ্রিদের কী খবর?

এই মৌসুমে শুধু অরেলিয়াঁ চুয়ামেনিকে দলে টেনেছে রেয়াল মাদ্রিদ। শর্তসাপেক্ষে ১০৩ মিলিয়ন ইউরো ব্যয় করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ীরা আছে ২২ নম্বরে।

একমাত্র

খেলোয়াড় বিক্রি করার জন্য বিখ্যাত ব্রাজিলের ক্লাবগুলো। কিন্তু এবার ৪২ মিলিয়ন ইউরো খরচ করেছে ফ্ল্যামেঙ্গো। শীর্ষ পঞ্চাশে ইউরোপের বাইরের একমাত্র দল তারা (৪৫তম)।

যাদের নিয়ে কাড়াকাড়ি

ইংলিশ ক্লাবগুলো উদারহস্তে খরচ করলেও দলবদলের মূল্যে ইংলিশ খেলোয়াড়দের তেমন দাপট নেই। ফ্রান্সের খেলোয়াড় কেনাতেই অর্থ ব্যয় হয়েছে বেশি। সদ্য বিশ্বকাপ জেতা আর্জেন্টিনা আছে ছয় নম্বরে।

অর্থ ব্যয় (ইউরো) দেশ

১০৯২ মিলিয়ন ফ্রান্স

১০৮৭ মিলিয়ন ব্রাজিল

৫৯৯ মিলিয়ন ইংল্যান্ড

৪১৭ মিলিয়ন নেদারল্যান্ডস

৩৯৩ মিলিয়ন পর্তুগাল


ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতায় ব্রাজিল যাচ্ছেন নাজমুল

নাজমুলের হাতে চেক তুলে দিচ্ছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল। ছবি: সৌজন্য
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ব্রাজিলের সাও পাওলো শহরের সালতো ক্লাবে তিন মাসের জন্য অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছেন নাজমুল আখন্দ। কিন্তু সুযোগ পেলেও ব্রাজিলে যাওয়ার অর্থ সংগ্রহ করতে পারছিলেন না তিনি। বিষয়টি জানতে পেরে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এগিয়ে এসেছেন। বাড়িয়ে দিয়েছেন সাহায্যের হাত। আজ সচিবালয়ে ফুটবলার নাজমুলের হাতে ৩ লক্ষ টাকার চেক তুলে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

চেক প্রদানকালে নাজমুলের জন্য শুভকামনা জানিয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নাজমুলের বিষয়টি যখনই আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে তখনই আমি তাকে সহায়তার জন্য উদ্যোগ গ্রহন করি। আমি নাজমুলের জন্য শুভকামনা রাখছি। সে ব্রাজিলে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে। যা নিঃসন্দেহে গর্বের। আমি বিশ্বাস করি, নাজমুল সেখানে দেশের জন্য খেলবে। নিজেকে সমৃদ্ধ করবে। দেশের জন্য গৌরব বয়ে নিয়ে আসবে। তাকে সহযোগিতা করতে পেরে আমার ভালো লাগছে।’

চেক গ্রহনের সময় নাজমুল ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘আমি মাননীয় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। তিনি এতো স্বল্প সময়ের মধ্যে মাত্র দুই দিনের মধ্যে আমাকে ব্রাজিলে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন যা আমার জন্য অকল্পনীয় ছিল। সবকিছু স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। আমার স্বপ্ন পূরন হতে চলেছে। আমি দেশবাসীর দোয়া কামনা করছি।’


বাংলাদেশি ফুটবলাররা এবারও 'লাস্ট বেঞ্চের ছাত্র'

বাংলাদেশিদের দাপট নেই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে। ছবিঃ বাফুফে
আপডেটেড ২৬ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৬:১৫
ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশের কোচের দায়িত্বে চুক্তি নবায়নের পর কাল হাভিয়ের কাবরেরা তার নতুন লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন। লক্ষ্য বলতে ভাসা ভাসা কথা আর কী! র‍্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি, আরও ভালো করা... ঠিক লক্ষ্য না বলে এগুলোকে কাবরেরার চাওয়া বলা ভালো। দল সাজাতে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ আর ফেডারেশন কাপের ম্যাচও তিনি নিয়মিত দেখছেন বলে জানিয়েছেন বাফুফে সহ-সভাপতি কাজী নাবিল আহমেদ বলেছেন। তা কী দেখছেন কাবরেরা?

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে এ পর্যন্ত ৬টি করে ম্যাচ হয়েছে, কিন্তু সেখানে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স কেমন? কে সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন, সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট কার?

পুরোনো কাসুন্দি

লিগে এ পর্যন্ত ৬ ম্যাচ শেষে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় সেরা দশে বাংলাদেশের আছেন মাত্র একজন- আবাহনীর নাবিব নেওয়াজ জীবন (৪ ম্যাচে ২ গোল)।

  • নাইজেরিয়ান থেকে বাংলাদেশি বনে যাওয়া স্ট্রাইকার এলিটা কিংসলি অবশ্য ঢাকা আবাহনীর জার্সিতে ৪ ম্যাচে করেছেন ৪ গোল। কিংসলিসহ সেরা দশে বাংলাদেশি দুজন, সেরা বিশে ৬ জন।

বাংলাদেশি গোলদাতা: সেরা পাঁচ

গোল ম্যাচ খেলোয়াড় ক্লাব

৪ ৪ এলিটা কিংসলি আবাহনী

২ ৪ নাবিব নেওয়াজ আবাহনী

২ ৪ রবিউল হাসান বাংলাদেশ পুলিশ

২ ৬ কৌশিক বড়ুয়া শেখ জামাল

২ ৬ রাকিব হোসেন বসুন্ধরা কিংস

- ২ বা তার বেশি গোল নেই আর কোনো বাংলাদেশি ফুটবলারের।

গোল করানোয় একটু উদার

গোল করার তুলনায় গোল করানো খেলোয়াড়দের তালিকায় বাংলাদেশিদের অবস্থান কিছুটা ভদ্রস্থ- সেরা দশে দুজন। সেরা বিশে বাংলাদেশি আছেন ৮ জন! ১-এর বেশি অ্যাসিস্ট অবশ্য সেরা দশে থাকা দুজনেরই শুধু!

অ্যাসিস্টে সেরা পাঁচ বাংলাদেশি

অ্যাসিস্ট ম্যাচ খেলোয়াড় ক্লাব

৩ ৬ রাকিব হোসেন বসুন্ধরা কিংস

৩ ৬ আমিনুর রহমান মুক্তিযোদ্ধা

১ ৪ ইয়াসিন আরাফাত বসুন্ধরা কিংস

১ ৫ জামাল ভুঁইয়া শেখ রাসেল

১ ৬ রায়হান হাসান শেখ জামাল

৪৪-এ ১৭

এ পর্যন্ত লিগে গোল পেয়েছেন ৪৪ জন খেলোয়াড়। তার মধ্যে বাংলাদেশি ১৭ জন। সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি গোল করেছেন আবাহনীর জার্সিতে- ৫।

বাংলাদেশি গোলদাতা: কোন ক্লাবে কজন

৫ আবাহনী

৩ বসুন্ধরা কিংস

২ শেখ জামাল

১ চট্ট. আবাহনী, মুক্তিযোদ্ধা, ফর্টিস, রহমতগঞ্জ, মোহামেডান, শেখ রাসেল, পুলিশ।

লাল-হলুদে আপত্তি নেই

  • এ পর্যন্ত লিগে যে ৪ জন লাল কার্ড দেখেছেন, চারজনই বাংলাদেশি- রহমতগঞ্জের নয়ন মিয়া, আবাহনীর সোহেল রানা ও বসুন্ধরা কিংসে তার ‘মিতা’ আরেক সোহেল রানা এবং চট্টগ্রাম আবাহনীর পাপ্পু মিয়া।
  • সবচেয়ে বেশি হলুদ কার্ড দেখা ১০ জনে অবশ্য ‘মাত্র’ ছয়জন বাংলাদেশি। সর্বোচ্চ ৩ হলুদ কার্ড দেখেছেন যে তিনজন, তার মধ্যে দুজন- এখানেও রহমতগঞ্জের নয়ন মিয়া আছেন, আরেক বাংলাদেশি চট্টগ্রাম আবাহনীর রাজু খান।

৪০-এ ১৯

অ্যাসিস্ট করেছেন মোট ৪০ জন খেলোয়াড়, তার মধ্যে ১৯ জন বাংলাদেশের।

আরও খুঁটিনাটি জেনে নিন

সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার শীর্ষে ৬ গোল নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে বসুন্ধরা কিংসের দরিয়েলতন, শেখ জামালের কর্নেলিয়াস স্টুয়ার্ট ও শেখ রাসেলের এমফন উদোহ।

সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্টের তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে বসুন্ধরা কিংসের মিগেল ফিগেইরা ও এমফন উদোহ- দুজনেরই অ্যাসিস্ট ৪টি করে।

আজমপুর ক্লাব এখনো লিগে কোনো গোল করতে পারেনি, কোনো পয়েন্টও পায়নি।

দাপট

ছয় ম্যাচের সবকটিই জেতা বসুন্ধরা কিংস এ পর্যন্ত লিগে সবচেয়ে বেশি গোল করেছে (১৪টি)। সবচেয়ে কম গোলও খেয়েছে তারা (১টি)।


‘লক্ষ্যহীন’ কাবরেরা উন্নতি করতে চান

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি কাবরেরা। ছবি: বাফুফে
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া প্রতিবেদক

চুক্তি নবায়ন হয়েছে দুই সপ্তাহ আগেই, ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ ছেলেদের জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হিসেবে হাভিয়ের কাবরেরারই থাকার কথা। তো নতুন বছরে কোচের লক্ষ্য কী?

কোনো লক্ষ্য নেই!

চুক্তি নবায়নের পর গতকালই প্রথম আনুষ্ঠানিক সভায় বসেছিলেন কাবরেরা। ন্যাশনাল টিমস কমিটির চেয়ারম্যান ও বাফুফে সহ-সভাপতি কাজী নাবিল আহমেদের সঙ্গে তার আলোচনার ‘এজেন্ডা’ ছিল জাতীয় দল, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ও বিশ্বকাপের প্রাক-বাছাইপর্বের জন্য প্রস্তুতি। আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছেন স্প্যানিশ কোচ।

নতুন বছরে তার লক্ষ্য কী– এমন প্রশ্নের উত্তরে কাবরেরার উত্তর গৎবাঁধা, ‘নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য নেই। আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে, এগোতে হবে, উন্নতি করতে হবে। এটাই মূল লক্ষ্য। মার্চে প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট, আশা করি ঘরের মাঠেই খেলব। আমাদের সমর্থকদের ভালো পারফরম্যান্স উপহার দিতে আগ্রহী।’

অবশ্য এর আগে নতুন চুক্তি করতে পেরে কত আনন্দিত, সেটা জানাতে জানাতে এ বছর আরও ভালো ফল দেখানোর আশাও দিয়েছেন।

বাফুফের লক্ষ্য

কাজী নাবিল অবশ্য নতুন বছরে জাতীয় দল তথা কোচের কাছে তাদের প্রত্যাশা জানিয়ে দিয়েছেন, ‘এই বছর ম্যাচগুলো এমনভাবে খেলতে চাই, যাতে আমাদের র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি হয়। আমরা যাতে বেশ কয়েক ধাপ এগোতে পারি। এটা এক দিনে হওয়ার নয়, ধাপে ধাপে হতে হবে।’

কাবরেরার অধীনে বাংলাদেশের র‍্যাঙ্কিং

২০২২ সালের জানুয়ারিতে কাবরেরা যখন দায়িত্ব নেন, ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৮৬। মার্চে দুই ধাপ পিছিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ জুনে আরও চার ধাপ পিছিয়ে যায়। ২০২২ সাল ১৯২তম স্থানেই শেষ করেছে বাংলাদেশ।

যেভাবে র‍্যাঙ্কিংয়ে এগোনোর ইচ্ছা বাফুফের

আগামী মার্চে ফিফা উইন্ডোতে বাংলাদেশ কিছু ম্যাচ খেলবে। সেটা ঘরের মাঠেই আয়োজন করার ইচ্ছা বাফুফের। প্রতিপক্ষ হিসেবে শক্তিশালী কোনো দল নয়, কাছাকাছি মানের দলের বিপক্ষে খেলতে চায় বাংলাদেশ।

ঘরের মাঠে খেলা কি সম্ভব?

কোচ কাবরেরা মার্চের ম্যাচগুলো ঘরের মাঠেই খেলতে আগ্রহী। এ ব্যাপারটা তার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা বুঝিয়ে দিয়েছেন মাঠ নিয়ে তার চাহিদা জানিয়ে, ‘মার্চে জাতীয় দলের জন্য যেন মাঠ প্রস্তুত থাকে, এটা নিশ্চিত করতে আমাদের মাঠ নিয়ে কাজ করতে হবে। আশা করি মাঠ প্রস্তুত করার মতো যথেষ্ট সময় হাতে আছে, যেন আমাদের সেরা পারফরম্যান্স দেখাতে পারি।’ তবে মার্চের মধ্যে মাঠ প্রস্তুত হবে কি না- এ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা আছে।

গত সপ্তাহে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজের ব্যাপারে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিকল্পনা বিভাগের সহকারী পরিচালক সুকুমার সাহা দৈনিক বাংলাকে বলেছিলেন, মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে মাঠের ঘাস ও অ্যাথলেটিকস ট্র্যাকের কাজ শেষ হবে।

এরপর কী?

মার্চের ফিফা উইন্ডোতে প্রস্তুতি ম্যাচগুলো খেলা হবে জুন-জুলাইয়ে চোখ রেখে। এখন পর্যন্ত ভেন্যু ঠিক না হলেও আগামী ২০ জুন থেকে ৩ জুলাই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ হওয়ার কথা। এরপর আগামী ১২ ও ১৭ অক্টোবর বিশ্বকাপের প্রাক-বাছাইয়ে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। কাবরেরা পাখির চোখ করেছেন এই দুই টুর্নামেন্টকেই, ‘(মার্চের ম্যাচগুলোর পর) আমরা সাফে নজর দেব। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের বাছাইপর্বও আমাদের জন্য, দেশের (ফুটবলের) ভবিষ্যতের অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’

কতটা গুছিয়ে নিয়েছেন কাবরেরা

মার্চের প্রস্তুতি ম্যাচের আগে দল নির্বাচনের জন্য বেশ কিছুটা সময় পাচ্ছেন কোচ। তবে এরই মধ্যে নাকি কাজ বেশ কিছুটা এগিয়ে নিয়েছেন তিনি। বাফুফের অন্যতম সহ-সভাপতি কাজী নাবিল বলেছেন, ‘কাবরেরা এক বছর ধরে কাজ করছেন। খেলোয়াড়দের সম্পর্কে তার ধারণা তৈরি হয়েছে। এই বছর আরও ভালো কিছু প্রত্যাশা করছি।… এরই মধ্যে তিনি আমাদের লিগের এবং ফেডারেশন কাপের বেশ কিছু খেলা দেখেছেন।’


লালে লাল প্রিমিয়ার লিগ

প্রিমিয়ার লিগে সবচেয়ে দামি দুই ক্লাব ম্যান ইউনাইটেড ও লিভারপুল। ছবি: প্রিমিয়ার লিগ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

লিগ শিরোপার দেখা নেই ১০ বছর হলো। ২০১৬-১৭ মৌসুমে ইউরোপা লিগ জেতার পর আর কোনো শিরোপাই ছুঁয়ে দেখা হয়নি। তবু প্রসঙ্গ যখন অর্থকড়ি, ধারেভারে প্রিমিয়ার লিগের অন্য সব ক্লাবের চেয়ে এখনো ঢের এগিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ক্রীড়াক্ষেত্রের আর্থিক বিষয় নিয়ে কাজ করা স্পোর্টিকোর প্রকাশিত ২০২৩ সালে প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে দামি ক্লাবের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান রেড ডেভিলদের (৫.৯৫ বিলিয়ন ডলার)।

প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবগুলোর বর্তমান বাজারমূল্যের এই তালিকা প্রকাশের সময়টা বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। বাজারে গুঞ্জন, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, লিভারপুল, টটেনহ্যাম– তথাকথিত ‘বিগ সিক্সে’র এই তিন ক্লাবকে বিক্রি করতে এক পায়ে খাড়া বর্তমান মালিকরা।

প্রিমিয়ার ‘রমরমা’ লিগ

প্রিমিয়ার লিগের ২০ ক্লাবের বর্তমান বাজারমূল্য ৩ হাজার কোটি ইউএস ডলার (৩ লাখ ১৯ হাজার ১৬ কোটি টাকা)। আর ক্লাবগুলোর গড় মূল্য ১৫১ কোটি ডলার (৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা)।

ইউনাইটেড একাই ১৪

বড় ছয়ের বাইরে থাকা ১৪ দলের মোট বাজারমূল্য ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের চেয়ে ১০০ কোটি ডলার কম! বড় ছয়ের বাকিদের মূল্যও নিচের দিকে থাকা ১১ দলের মোট মূল্যের চেয়ে বেশি।

যাহা ছয়, তাহা সাত নয়

তালিকার সাতে থাকা ওয়েস্ট হ্যামের (৬৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার) চেয়ে প্রায় চার গুণের বেশি দাম ছয়ে থাকা টটেনহ্যামের (৩১৯ কোটি ডলার)।

সমানে-সমান

প্রিমিয়ার লিগের ‘বিগ সিক্স’ ক্লাবগুলো বছরে ৫০ থেকে ৮০ কোটি ডলার আয় করছে। আয়ের দিক দিয়ে এখন যুক্তরাষ্ট্রের এনএফএল এবং এনবিএর দলগুলোকে টক্কর দিচ্ছে তারা।

প্রিমিয়ার লিগের আয়

২০২১-২২ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবগুলোর আয় ৭২০ কোটি ডলার (৭৪ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা)।

৬৩ শতাংশ

২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাজারমূল্য বেড়েছে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের। ২০২১ সালে সৌদি কনসোর্টিয়ামের কিনে নেয়ার পর থেকেই তরতর করে বাড়ছে টুনসের দাম। ক্লাবটির বর্তমান বাজারমূল্য ৪৪ কোটি ডলার (৪ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা)।

প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে দামি ৬ ক্লাব

ক্লাব মূল্য (কোটি টাকায়)

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ৬৩,২৭১

লিভারপুল ৫০,০৮৫

ম্যানচেস্টার সিটি ৪৭,১০৮

আর্সেনাল ৩৮,২৮১

চেলসি ২৮,৩১৫

টটেনহ্যাম ৩৩,৯২২


banner close