শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

স্কালোনি কাঁদলেন, কাঁদালেন...

নিশাত আহমেদ
প্রকাশিত
নিশাত আহমেদ
প্রকাশিত : ২০ ডিসেম্বর, ২০২২ ১০:৪৫

‘মানুষকে বোঝাতেই পারি না, আমরা জিতি বা হারি, পরদিন সূর্য ঠিকই উঠবে…’

একটা ফুটবল ম্যাচকে ঘিরে এত আবেগ, এত কান্নাকাটির কী আছে - বুঝতেই পারেন না আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি।

ভাই মাউরো স্কালোনি নাকি ভয়ের চোটে গ্রামে চলে গিয়েছেন, যাতে ম্যাচ না দেখতে হয়। সেখান থেকেই কাঁদতে কাঁদতে লিওনেলকে জানিয়েছেন এ কথা। তাতে লিওনেলের বিরক্তি বেড়েছে বই কমেনি।

আরে, একটা ম্যাচই তো! এর জন্য জীবন-যৌবন শ্রাদ্ধ করার দরকার আছে কোনো? ফুটবল কী জীবনের চেয়ে বড় কিছু? কাঁদতে কেন হবে?

লিওনেল স্কালোনি

অবশ্য স্কালোনি মানতে না চাইলেও, ম্যাচটার গুরুত্ব ছিল আকাশ-সমান। আগের ম্যাচেই সৌদি আরবের বিপক্ষে হেরেছে আর্জেন্টিনা। মেক্সিকোর বিপক্ষে হারলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত। নিশ্চিত হবে বিশ্বমঞ্চ থেকে আরেকবার লিওনেল মেসির ফেরত যাওয়া। একদম চূড়ান্তবারের মতো।

সেটা হতে দেননি মেসি। আর্জেন্টিনাকে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন। যেভাবে জিতিয়েছেন, ওই সাহসিকতা দেখে আবেগের বাঁধ ভেঙেছে ‘আইডল’ পাবলো আইমারের। ডাগআউটে বসেই কেঁদেছেন। যে কান্না স্বস্তির। আনন্দের।

সহকারী আইমারের কান্না দেখেও বিরক্ত স্কালোনি। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনেও জানালেন সে কথা, ‘আমাদের মাথায় রাখতে হবে এটা শুধুই একটা ফুটবল ম্যাচ। এরপর জীবন চলবে জীবনের মতো। আমরা জিতি বা হারি, পরদিন সূর্য ঠিকই উঠবে…’

আইমারের কান্না, পাশে স্কালোনি

নির্মোহ, ভাবলেশহীন কণ্ঠস্বর। যাতে আবেগ নেই বিন্দুমাত্রও। তবে স্কালোনি কি সবসময়ই এমন আবেগহীন ছিলেন? ফুটবল ম্যাচের জয়-পরাজয় কি কখনই তাঁর ভেতরের সত্ত্বাকে নাড়িয়ে দিত না?

দিত। যার একটা প্রমাণ পাওয়া যায় ওয়েস্ট হ্যাম-সতীর্থদের কথায়। সেবার সদ্যই ইংল্যান্ডে পা রেখেছেন স্কালোনি, দেপোর্তিভো লা করুনিয়া থেকে ছয় মাসের ধারে ওয়েস্ট হ্যামে খেলার জন্য। ওই বছর এফএ কাপের ফাইনালে ওঠে ওয়েস্টহ্যাম, কাপের বেশিরভাগ ম্যাচে বেশ ভালোই খেলছিলেন রাইটব্যাক স্কালোনি। লিভারপুলের বিপক্ষে ফাইনালেও তাঁর ওপর ভরসা রাখলেন কোচ অ্যালান পার্ড্যু।

লাভ হয়নি। ‘স্টিভেন জেরার্ড ফাইনাল’ নামে পরিচিত ম্যাচটায় লিভারপুল অধিনায়ক শেষ মুহূর্তে অবিশ্বাস্য এক গোল করে ম্যাচটা শুটআউটে নিয়ে যান। শুটআউট জিতে শিরোপাটা নিজের করে নেয় অল রেডরা। ওই শেষ মূহুর্তের গোলটা হত না, যদি স্কালোনি একটা ছোট্ট ভুল না করে বসতেন। যে ভুলের সুবাদে দুই-একজন ঘুরে বল পেয়ে যান জেরার্ড, সমতায় ফেরে লিভারপুল। আজীবন ওয়েস্ট হ্যাম সতীর্থরা স্কালোনিকে শূলে চড়িয়েছেন এ কারণে। ম্যাচ শেষে অঝোরে কেঁদেছিলেন স্কালোনি, সবাই ভুলে গিয়েছিলেন স্কালোনি ওদিন মাপা ক্রস না দিলে প্রথম গোলটাই হয় না ওয়েস্ট হ্যামের। সে কান্নায় লাভ হয়নি। তাঁর সঙ্গে চুক্তি পাকা করেনি ওয়েস্ট হ্যাম। ধার শেষে ফেরত পাঠিয়েছে দেপোর্তিভোয়।

লিভারপুলের বিপক্ষে সে ম্যাচে এক গোল বানিয়ে দেওয়ার পরও ওয়েস্ট হ্যাম সমর্থকদের মন পাননি স্কালোনি

চুপচাপ সহ্য করেছেন সব অবহেলা, গঞ্জনা। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচিংয়ের পাঠটাও নিয়ে রেখেছেন। খেলাটাকে ভালোবাসতেন, যে কারণে এত গঞ্জনার পরও ফুটবল থেকে দূরে থাকতে পারেননি। খেলা ছাড়ার পর পরিবার নিয়ে স্পেনের মায়োর্কায় থাকা শুরু করেন, বাচ্চাদের এক দলে কোচিং করাতেন টুকটাক। অনেকটা হুট করেই হোর্হে সাম্পাওলির কোচিং দলে সুযোগ ২০১৮ বিশ্বকাপের আগে আগে।

সেবার পারেননি সাম্পাওলি। উদ্ভাবনী কৌশলের ছোঁয়ায় চিলিকে কোপা আমেরিকার স্বাদ দেওয়া এই কোচ নিজ দেশের দায়িত্ব পেয়েই কেন যেন ভড়কে গেলেন। চড়া মূল্য চোকালেন মেসিরা। বিশ্বকাপে সাম্পাওলি-ব্যর্থতার পর দিয়েগো সিমিওনে, মরিসিও পচেত্তিনো, রিকার্দো গারেকা, এদুয়ার্দো বেরিৎসো থেকে শুরু করে মার্সেলো গ্যাশার্দো - কেউই আর্জেন্টিনার দায়িত্ব নিতে চাইলেন না। অবশ্য তাঁদের মতো ‘হাই-প্রোফাইল’ কোচ নিয়োগ দেওয়ার টাকাও ছিল না আর্জেন্টাইন ফেডারেশনের। এখন উপায়?

গতবার আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ ছিলেন স্কালোনি, পাশে মূল কোচ হোর্হে সাম্পাওলি

শেষমেশ আনকোরা স্কালোনির কাঁধে মেসিদের টেনে তোলার দায়িত্ব। দেশজুড়ে শুরু হলো বিদ্রোহ। দেশের অধিকাংশ মানুষই যাকে চেনে না, চিনলেও গুরুত্ব দেয় না - এমন একজনকে জাতীয় দলের দায়িত্ব দেওয়া কতটুকু যুক্তিসঙ্গত - প্রশ্ন উঠলই। তোপ দাগলেন খোদ দিয়েগো মারাদোনা, ‘ও ভালো ছেলে, কিন্তু ও কোচিং কী করাবে? ওকে তো ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে দিলেও পারবে ন!’

স্কালোনি চুপচাপ শুনে গেলেন। সমালোচনার জবাব মুখের কথা হয়ে নয়, বরং খেলার কৌশলে বাঙময় হয়ে উঠল। কেউ বিশ্বাস না করলেও, আর্জেন্টিনাকে আটাত্তরের বিশ্বকাপ জেতানো কোচ সেজারে লুই মেনোত্তি ঠিকই বুঝেছিলেন, স্কালোনি ছেলেটার মধ্যে কিছু একটা আছে। এমন কিছু, যা মেসিদের এনে দিতে পারে ওই অধরা সাফল্যের স্বাদ।

ভারপ্রাপ্ত কোচের দায়িত্ব পেয়ে দুই ম্যাচ দুই ম্যাচ করে আর্জেন্টিনাকে পথ দেখাতে শুরু করলেন স্কালোনি। মেসিরা ধীরে ধীরে খেলার নিজস্ব ‘স্টাইল’ খুঁজে পেলেন, যা সাম্পাওলির সময়ে একরকম উধাওই ছিল বলা চলে। স্কালোনি বুঝলেন, পুরো স্কোয়াডের খোলনলচে বদলাতে হবে। বছরের পর বছর ধরে আর্জেন্টিনাকে শিরোপাহীনতার আগলে বেঁধে রাখা বয়স্ক তারকাদের সরিয়ে দলকে শোনাতে হবে তারুণ্যের কলতান। গাব্রিয়েল মের্কাদো, লুকাস বিলিয়া, ফেদেরিকো ফাজিও, এভার বানেগা, গনসালো হিগুয়েইন, এনসো পেরেস, মার্কোস রোহো, ফ্রাঙ্কো আরমানিদের জায়গায় একে একে মূল একাদশে সুযোগ পেতে শুরু করলেন জিওভান্নি লো সেলসো, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, এজেকিয়েল পালাসিওস, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এমিলিয়ানো মার্তিনেস, লাওতারো মার্তিনেস, লিসান্দ্রো মার্তিনেস, নিকোলাস গনসালেস, হুলিয়ান আলভারেস, হোয়াকিন কোরেয়া, রদ্রিগো দি পল, নাহুয়েল মলিনা, গনসালো মন্তিয়েলরা। দল আরও ঐক্যবদ্ধ হলো। সফল একটা দল গঠনের জন্য স্কোয়াডের প্রত্যেক সদস্যের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক উন্নয়নের বিকল্প নেই। স্কালোনি সেটাই করলেন। পাওলো দিবালার মতো খেলোয়াড় দলে এখনও কেন সুযোগ পাচ্ছেন না, সরব হল মিডিয়া। এক সাংবাদিক তো স্কালোনিকে পেয়ে সরাসরি ‘আপনার সঙ্গে দিবালার মনোমালিন্য আছে কি না,’ - জিজ্ঞেসই করে বসলেন!

পাশে হেঁটে যাওয়া দিবালাকে ডাকলেন সাংবাদিকের সামনেই, জিজ্ঞেস করলেন, ‘এই, তোমার সঙ্গে নাকি আমার শত্রুতা?’ দিবালার চেহারা দেখে মনে হলো, অনেক মজার একটা কৌতুক বলেছেন কোচ! দিবালার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন, তাতে যা বোঝার বোঝা হয়ে গেল সেই সাংবাদিকের!

পরম আরাধ্য বিশ্বকাপকে ছুঁয়ে দেখা...

২০১৯ কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। শিরোপা না জিতলেও, দলটা বোঝাল, ঠিক পথেই আছে তারা। দরকার একটু ধৈর্য্যর, অপেক্ষার। উন্নতি পূর্ণতা পেল কোপা-ফিনালিসিমা জয়ে, ২৮ বছরের ট্রফিখরা ঘোচানোয়।

কাজ তখনও শেষ হয়নি, স্কালোনি জানতেন। বিশ্বকাপ যে ডাকছে হাতছানি দিয়ে! পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও কৌশলগত দিক দিয়ে স্কালোনি যে কতটা দুর্দান্ত, আগে আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা বুঝেছিলেন। কাতার বিশ্বকাপে বুঝল সবাই। প্রতি ম্যাচে নিজের ক্ষুরধার মস্তিষ্কের প্রমাণ দিয়ে গেলেন।

লো সেলসো, দি পল আর পারেদেসকে নিয়ে গড়া পরীক্ষিত মিডফিল্ড ধাক্কা খায় লো সেলসোর চোটে। একই পথে হাঁটেন নিকোলাস গনসালেসও। বিশ্বকাপের আগেই আস্থার দুই সৈনিক হারিয়ে চিন্তার ভাঁজ স্কালোনির কপালে। কী হবে এখন?

কোপা আমেরিকা জেতার মাধ্যমে আর্জেন্টিনার ২৮ বছরের ট্রফিখরা এই স্কালোনিই ঘোচান

প্রথম ম্যাচে মাঝমাঠে লো সেলসোর অভাব পূরণ করতে চাইলেন আজীবন ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলা আলেহান্দ্রো গোমেসকে দিয়ে। লাভ হল না। মেসির জায়গায় দি পল উঠে যাচ্ছিলেন বারবার, মাঝমাঠে খেলার অনভিজ্ঞতার কারণে বাঁ দিকে উঠে যাচ্ছিলেন গোমেসও। চোটে ভোগা মার্কাস আকুনিয়ার জায়গায় খেলা নিকোলাস তালিয়াফিকোর সঙ্গে বাঁ উইংয়ের রসায়নটা একদমই জমছিল না গোমেসের। ফলে মাঝমাঠে একা পড়ে যাচ্ছিলেন পারেদেস। আবার পারেদেস উঠে গেলে মাঝমাঠে একে পড়ে যাচ্ছিলেন হয় দি পল, নয়তো খোদ মেসি। রক্ষণের সঙ্গে আক্রমণের সংযোগই হচ্ছিল না। সৌদি আরবের একাধিক খেলোয়াড় মাঝমাঠের দখল নিয়ে নিয়েছিলেন। একাধিক ফলাফল? এশিয়ার দেশটার অবিস্মরণীয় বিজয়গাথা।

সৌদির বিপক্ষে এভাবেই বারবার মাঝমাঠের দখল হারাচ্ছিল আর্জেন্টিনা

মেক্সিকোর বিপক্ষে ওই ভুল শোধরালেন পারেদেসের জায়গায় গিদো রদ্রিগেস (পরে এনসো ফের্নান্দেস), আর গোমেসের জায়গায় অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে নামিয়ে। দি পলকে সাফ সাফ জানিয়ে দিলেন, কোনোভাবেই যেন মেসির খেলার জায়গাগুলোতে উঠে গিয়ে অধিনায়কের খেলায় বিঘ্ন না ঘটান। দি পল বুঝলেন সেটা। ডান উইং আর হাফস্পেসগুলো মিলিয়ে মেসির যেসব জায়গায় বিচরণ, সেসব জায়গায় বাড়তি রক্ষণ নিরাপত্তার দায়িত্ব নিলেন দি পল। মাঝমাঠ এবার বাড়তি নিয়ন্ত্রণ পেল। ফলাফল? মেসি-এনসোর গোলে স্বস্তির জয় আর্জেন্টিনার।

ততদিনে মূল স্ট্রাইকার লাওতারো মার্তিনেস স্কালোনিকে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন, মেসির রক্ষণচেরা বলগুলো সময়মতো সামনে দৌড়ে ধরার মতো কাজটা ঠিকঠাক করতে পারছেন না, বারবার পড়ছেন অফসাইডের খড়গে। ব্যস, একাদশে প্রবেশ হুলিয়ান আলভারেসের। পোল্যান্ডের রক্ষণ সেভাবে ওপরে উঠে প্রেস করে না, জানতেন স্কালোনি। আগের দুই ম্যাচের ৪-৪-২ ছক বদলে আক্রমণভাগে একজন খেলোয়াড় বাড়িয়ে ৪-৩-৩ ছকে দলকে খেলাতে শুরু করলেন। যা আক্রমণে ৩-১-৬ হয়ে যাচ্ছিল, দুই সেন্টারব্যাকের পাশে তৃতীয় সেন্টারব্যাক হিসেবে খেলা শুরু করলেন রাইটব্যাক (নাহুয়েল মলিনা, উনি না থাকলে গনসালো মন্তিয়েল), তিনজনের একটু ওপরে একক রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে এনসো ফের্নান্দেস - আর বাকি সবাই ওপরে। আক্রমণে এই অতি-আগ্রাসী আর্জেন্টিনাকে সামলাতে পারেনি পোল্যান্ড, আলভারেস ও ম্যাক অ্যালিস্টারের গোলে হেরে বসে ২-০ স্কোরলাইনে।

এভাবেই বারবার অফসাইডের খড়্গে পড়েছেন লাওতারো মার্তিনেস

দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়ার খেলার ধরণ বেশ শরীরনির্ভর, বুঝে আবারও মাঝমাঠে একজন বাড়িয়ে ছকটা ৪-৪-২ করে ফেলেন স্কালোনি। আগের দুই ম্যাচে পোল্যান্ড আর মেক্সিকো যা ঠিকঠাক করে উঠতে পারেনি, সেটাই করে আর্জেন্টিনাকে চমকে দিল অস্ট্রেলিয়া। নব্বই মিনিট জুড়ে মেসিদের দুর্দান্তভাবে প্রেস করে গেল সকারুরা। অস্ট্রেলিয়ার আঁটসাঁট ৪-৪-২ ছকে মাঝখান দিয়ে আক্রমণভাগে বলই পাঠাতে পারছিল না আর্জেন্টিনা। স্কালোনি বুঝলেন, ম্যাচ বের করে আনতে হলে মেসিকে একটু পেছনে খেলতে হবে, দি পল-ম্যাক অ্যালিস্টার আর ফের্নান্দেসের পাশাপাশি মাঝমাঠের দখল বাড়ানোর জন্য মেসিকেও একটু নিচে নামতে হবে। আর্জেন্টিনার নিদান সে কৌশলেই। মেসি-ম্যাজিকে কোয়ার্টারে আলবিসেলেস্তিরা।

অস্ট্রেলিয়ার আঁটসাঁট ৪-৪-২ ছক

কোয়ার্টারে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ম্যানেজার লুই ফন গালের মুখোমুখি স্কালোনি। ৩-৪-১-২ ছকে নেদারল্যান্ডসকে খেলিয়ে এবারও যিনি মুগ্ধ করছিলেন দর্শকদের। তবে ডাচদের তিন সেন্টারব্যাক আর দুই উইংব্যাকভিত্তিক কৌশলের সঙ্গে লড়তে একজন মিডফিল্ডার বসিয়ে বাড়তি একজন সেন্টারব্যাক খেলালে যে সাফল্য আসবে, প্রথম রাউন্ডেই দেখিয়েছিল ইকুয়েডর। একই কাজ করলেন স্কালোনিও। মিডফিল্ডার গোমেসকে বসিয়ে বাড়তি একজন সেন্টারব্যাক (লিসান্দ্রো মার্তিনেস) খেলালেন, দুই ফুলব্যাক মলিনা আর আকুনিয়া উইংব্যাকের স্বাধীনতা নিয়ে দুই ডাচ উইংব্যাক দেনজেল দুমফ্রাইজ আর ডেলেই ব্লিন্ডকে শক্তিহীন করে দিলেন। মেসির পাসে প্রথম গোল করলেন মলিনা, দ্বিতীয় গোলটা এল আকুনিয়ার আনা পেনাল্টিতে।

কোয়ার্টারে নেদারল্যান্ডসের তিন সেন্টারব্যাক ও দুই উইংব্যাকভিত্তিক কৌশলের জবাব আর্জেন্টিনা দেয় তিন সেন্টারব্যাক আর দুই উইংব্যাক দিয়েই

ব্রাজিলকে হারিয়ে সেমিতে আর্জেন্টিনার সামনে পড়ে ক্রোয়েশিয়া। লুকা মদরিচ, মাতেও কোভাচিচ আর মার্সেলো ব্রোজোভিচ যাদের মাঝমাঠকে বিশ্বকাপেরই অন্যতম সেরা বানিয়েছেন। অতি আক্রমণ করতে গিয়ে ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠ-শক্তিতে হেলাফেলা করেছিল সেলেসাওরা। স্কালোনি সে ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছেন। ৪-৪-২ ছকে এমন চারজন মিডফিল্ডারকে খেলালেন, যারা আদতে কেউই প্রথাগত উইঙ্গার বা ফরোয়ার্ড নন আনহেল দি মারিয়া বা আলেহান্দ্রো গোমেসের মতো। দি পল, ফের্নান্দেস, পারেদেস ও ম্যাক অ্যালিস্টার একদম মাঝমাঠে আঠার মতো লেগে থাকলেন ক্রোয়েশিয়ার মিডফিল্ডারদের সঙ্গে। আবার প্রথম ম্যাচে মরক্কো দেখিয়েছিল, স্ট্রাইকার ইউসুফ এন-নেসেরি যদি ব্রোজোভিচকে ঠিকঠাক ‘মার্ক’ করতে পারেন, ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠ আরও হাঁসফাস করতে শুরু করে।

স্কালোনি সেটাও করলেন। স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেস প্রায় সময়ই উপরে মেসিকে রেখে নেমে আসছিলেন ব্রোজোভিচ পর্যন্ত। ম্যাচ শুরুর আধঘন্টা পর্যন্ত আর্জেন্টিনার সঙ্গে সমানে-সমান টক্কর দিলেও পেরে ওঠেনি ক্রোয়েশিয়া, হেরে বসে ৩-০ গোলে। ২০১৮ বিশ্বকাপে দুই দলের মধ্যকার ম্যাচের স্কোরলাইন যা ছিল আরকি! শুধু সেবার জিতেছিল ক্রোয়েশিয়া, এবার জয়ীর কলামে আর্জেন্টিনার নাম!

বিশ্বকাপ হাতে...

ফাইনালে আসার পথে আর্জেন্টিনার প্রত্যেক প্রতিপক্ষের কিছু না কিছু দুর্বলতা ছিলই, ম্যাচজয়ী কৌশলে যার সুফল নিয়েছেন স্কালোনি। কিন্তু ফাইনালের প্রতিপক্ষ ফ্রান্সের দুর্বলতা কোথায়? ফাইনালে ওঠার আগ পর্যন্ত কোনো ম্যাচেই কৌশলগত সেরকম দুর্বলতা দেখায়নি গতবারের বিশ্বজয়ীরা!

ফ্রান্সের বাঁ পাশে উইঙ্গার কিলিয়ান এমবাপ্পে আর ফুলব্যাক থিও এর্নান্দেস আক্রমণে দুর্দান্ত হলেও, এমবাপ্পে রক্ষণে সাহায্য করতে নিচে নেমে আসেন না, ভাইয়ের চোটের কারণে একাদশে জায়গা পাওয়া থিও-ও রক্ষণে অতটা পটু নন। যে কারণে কোয়ার্টারে ইংল্যান্ড আর সেমিতে মরক্কো - দুই দলই এমবাপ্পে-এর্নান্দেসের পেছনের ফেলে আসা ফাঁকা জায়গাতে আক্রমণ করতে চেয়েছে বেশিরভাগ সময় - ইংল্যান্ড বুকায়ো সাকা-জর্ডান হেন্ডারসনকে দিয়ে, মরক্কো আশরাফ হাকিমি আর হাকিম জিয়েশকে দিয়ে। তবে সে কৌশলও শতভাগ কার্যকরী নয়, না হয় ফ্রান্স ফাইনালে ওঠে কী করে?

ফাইনালে স্কালোনি এমন এক কৌশলের আশ্রয় নিলেন, যা কেউ কল্পনাও করেনি। এমবাপ্পে-থিও এর্নান্দেসের উইং নয়, বরং ফ্রান্সের ডানদিকের উইংয়ে আক্রমণ করার পরিকল্পনা সাজালেন - নিজেদের বাঁ উইং দিয়ে। আর্জেন্টিনার আক্রমণের ডানদিকটা যেহেতু মেসিই নিয়ন্ত্রণ করেন, তাই ওখানে আক্রমণ করার জন্য বাড়তি খেলোয়াড় রাখেননি। খেলোয়াড়ি জীবনে নিজে রাইটব্যাক ছিলেন বলেই কি না, বুঝেছিলেন, বারবার বাঁ দিক থেকে ছুটে আসা একজন গতিশীল উইঙ্গারের মুখোমুখি হওয়ার বিষয়টা ঠিক পছন্দ করবেন না ফ্রান্সের রাইটব্যাক জুলস কুন্দে - যিনি আদতে সেন্টারব্যাক হওয়ার কারণে তুলনামূলকভাবে রক্ষণাত্মক। তার ওপরে কুন্দের ওপরে থাকা উইঙ্গার ওসমান দেম্বেলেও রক্ষণে সাহায্য করেন না একদম। আগের তিন ম্যাচ না খেলা, খেললেও রাইট উইঙ্গার হিসেবে খেলা আনহেল দি মারিয়াকে দিলেন লেফট উইঙ্গারের ভূমিকা। মাঝমাঠ থেকে দি মারিয়াকে ‘উড়তে’ সাহায্য করলেন ওই দিকে খেলা মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার।

ওই এক কৌশলেই স্তব্ধ ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশোঁ। ৭০ মিনিট ধরে এমবাপ্পের পায়ে বল গেল না সেভাবে, গ্রিজমান মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেন না, অলিভিয়ের জিরু আর্জেন্টিনার ডিবক্সে দাঁড়িয়ে থাকলেন পথহারা পথিকের মতো। ৪০ মিনিটের মধ্যে দুই গোল হজম করার পর জিরু আর দেম্বেলেকে মাঠ থেকে তুলে নিয়ে দেশোঁ প্রকারান্তরে স্বীকার করলেন, স্কালোনির বুদ্ধিতে কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। পরে ফ্রান্স ম্যাচে ফিরলেও, তাতে দেশঁর কৌশলের চেয়ে এমবাপ্পে নামক ‘দানবে’র ভূমিকা ছিল ঢের বেশি। শেষমেশ টাইব্রেক লড়াইয়ে ফ্রান্সকে হারিয়ে ৩৬ বছর পর বিশ্বজয় করল আর্জেন্টিনা।

অবশেষে স্কালোনির কান্না...

এবার আর নিজের আবেগে বাঁধ দিতে পারলেন না স্কালোনি। মুখে কাঠিন্য এনে নিরাবেগ থাকার চেষ্টা করেছিলেন। কান্নার দমক তাতে আরও বাড়ল। আজীবন পাওয়া সকল লাঞ্ছনা-গঞ্জনা মুক্তোদানার মতো অশ্রুবিন্দু হয়ে ঝরল অবিরত। হাউমাউ কান্নায় বোঝালেন, তিনিও রক্তমাংসের আবেগী মানুষ। ভাই মাউরো স্কালোনি আর পাবলো আইমারের মতো।

আর দশজন আর্জেন্টাইনের মতো।


বকেয়া পাওনার দাবিতে ব্রাদার্সের ম্যাচ বর্জন, অগ্রণী ব্যাংকের ওয়াকওভার

ব্রাদার্স ইউনিয়নের ক্রিকেটাররা।
আপডেটেড ৫ জুন, ২০২৬ ১২:৫৫
ক্রীড়া ডেস্ক

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আজ সকাল সাড়ে নয়টায় ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের ম্যাচটি মাঠে গড়ানোর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা অনুষ্ঠিত হয়নি। বিকেএসপিতে ম্যাচটি খেলার কথা থাকলেও ব্রাদার্সের ক্রিকেটাররা মাঠে গিয়েও অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান। এর ফলে নিয়ম অনুযায়ী অগ্রণী ব্যাংককে ওয়াকওভার প্রদান করা হয়েছে।

ক্রিকেটারদের অভিযোগ, চুক্তিকালীন প্রতিশ্রুতির বিপরীতে তাদের পারিশ্রমিকের বড় একটি অংশ এখনও বকেয়া রয়েছে। একটি গণমাধ্যমকে দলটির একাধিক খেলোয়াড় জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত তারা মোট পারিশ্রমিকের মাত্র ২০ শতাংশ অর্থ হাতে পেয়েছেন। পবিত্র ঈদুল আজহার পূর্বেই ৫০ শতাংশ পাওনা পরিশোধের কথা থাকলেও ক্লাব কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। গতকাল রাতে এ বিষয়ে ক্লাবকে চূড়ান্তভাবে অবহিত করা হলেও আজ ম্যাচের আগে পাওনা না মেটানোয় ক্রিকেটাররা সম্মিলিতভাবে ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

মাঠের পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে ম্যাচ রেফারি এনায়েত হোসেন চৌধুরী তামিম বলেন, ‘তারা খেলোয়াড় তালিকাও দেয়নি, টসেও আসেনি। অগ্রণী ব্যাংকের অধিনায়ক ও আমি অপেক্ষা করছিলাম। আমরা আধঘণ্টার মতো অপেক্ষা করেছি। পরে তাদের অতিরিক্ত সময়ও দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা আসেনি।’

এদিকে সিসিডিএম-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্লাব বা ক্রিকেটারদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ পারিশ্রমিক সংক্রান্ত এই জটিলতা নিয়ে আগেভাগে কোনো পক্ষই তাদের কিছু জানায়নি। অন্যথায় তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারত। বিষয়টি পুরোপুরি ক্লাব ও খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত চুক্তির বিষয় বলে তারা উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে ব্রাদার্স ইউনিয়নের ম্যানেজার আমেন খানের সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া সম্ভব হয়নি। উল্লেখ্য যে, মাঠের খেলায়ও বেশ নাজুক অবস্থানে রয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন; চলতি লিগে ৯ ম্যাচে মাত্র ১ জয় পাওয়ায় ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবটি এখন অবনমনের তীব্র শঙ্কায় রয়েছে।


জাতীয় দলের কোচিং প্যানেলে বড় রদবদল, আবারও ফিরছেন সালাউদ্দিন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে জাতীয় দলের কোচিং প্যানেলে ব্যাপক রদবদল আনা হয়েছে। পেস বোলিং কোচ শন টেইট আর দলের সাথে কাজ করতে আগ্রহী নন বলে বেশ কিছু দিন ধরে গুঞ্জন চলছিল, যা শেষ পর্যন্ত সত্য প্রমাণিত হয়েছে। আসন্ন এই গুরুত্বপূর্ণ সিরিজে টেইটের পাশাপাশি থাকছেন না মুশতাক আহমেদ ও জেমস প্যামেন্টও। কোচিং স্টাফের এই শূন্যতা পূরণ করতে ও অভিজ্ঞতার ঘাটতি কাটাতে আবারও জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে দেশি কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকে। তিনি অস্ট্রেলিয়ার পর জিম্বাবুয়ে সিরিজেও দলের সাথে থাকবেন।

জানা গেছে, আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সিরিজে পেস বোলিং কোচের দায়িত্ব পালন করবেন সাবেক ক্রিকেটার তালহা জুবায়ের। জিম্বাবুয়ে সিরিজেও তিনি এই দায়িত্বে বহাল থাকবেন। এদিকে, সোহেল ইসলাম এইচপি দলের প্রধান কোচ হিসেবে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের বিপক্ষে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে এইচপি দলের লাল বলের ম্যাচগুলো পর্যবেক্ষণ করতে মোহাম্মদ সালাউদ্দিন কয়েক দিন সিলেটে অবস্থান করবেন। সেখানে তার সাথে থাকবেন নির্বাচক আব্দুর রাজ্জাক ও মিজানুর রহমান বাবুল।

অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যকার এই সাদা বলের দ্বৈরথ শুরু হবে আগামী ৯ জুন। সিরিজের তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ ৯, ১১ ও ১৪ জুন ঢাকার শেরে-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে দুই দল চট্টগ্রামে যাবে। সেখানে বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে ১৭, ১৯ ও ২১ জুন ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে কোচিং প্যানেলে এই পরিবর্তন আসন্ন সিরিজগুলোতে দলের পারফরম্যান্সে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ওয়ানডে সিরিজ জিতল পাকিস্তান

আপডেটেড ৫ জুন, ২০২৬ ১১:১৬
ক্রীড়া ডেস্ক

লাহোরের স্পিন সহায়ক উইকেটে সিরিজের শেষ ও নির্ণায়ক ওয়ানডে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৪ উইকেটে পরাজিত করে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে পাকিস্তান। ১৫৮ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একপর্যায়ে তীব্র চাপের মুখে পড়লেও শেষ পর্যন্ত শাদাব খান ও আবদুল সামাদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা। শাহিন আফ্রিদির নেতৃত্বাধীন দলটি এই জয়ের মাধ্যমে সিরিজ জয়ের উল্লাসে মেতেছে।

রান তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান এক সময় ১১২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের শঙ্কায় পড়েছিল। সেই সংকটময় মুহূর্তে দলের হাল ধরেন শাদাব খান ও আবদুল সামাদ। শাদাব ২৯ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন এবং সামাদ ১৮ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। সপ্তম উইকেটে তাদের ৪৯ রানের অনবদ্য জুটিই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। এর আগে বাবর আজম ৪০ রানের এক দৃঢ় ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন। পাকিস্তান ৪১.৫ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া, তবে প্রথম ওভারেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে তারা। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে ম্যাথু শর্টকে ফিরিয়ে অজি শিবিরের শুরুটা নড়বড়ে করে দেন শাহিন আফ্রিদি। পরবর্তীতে জশ ইংলিস ৬৫ রান এবং মারনাস লাবুশেন ১৯ রান করে প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। ৯৮ রানে ২ উইকেট থেকে নাটকীয় ব্যাটিং ধসে পড়ে দলটি এবং মাত্র ১৫৭ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারীদের ইনিংস। পাকিস্তানের মাটিতে এটিই অজিদের সর্বনিম্ন ওয়ানডে সংগ্রহ। বল হাতে শাহিন আফ্রিদি ৩টি এবং আবরার আহমেদ ও শাদাব খান ২টি করে উইকেট শিকার করেন। অলরাউন্ড নৈপুণ্যের মাধ্যমে এই লো-স্কোরিং ম্যাচে জয় নিশ্চিত করে সিরিজ নিজেদের করে নিল পাকিস্তান।


২০২৬ বিশ্বকাপে স্টেডিয়ামে পানির বোতল নিষিদ্ধ করল ফিফা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দর্শকদের জন্য স্টেডিয়ামে চলাচলের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। তিন সপ্তাহ আগে দেওয়া নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে সংস্থাটি জানিয়েছে, এখন থেকে টুর্নামেন্টের কোনো ভেন্যুতেই দর্শকরা কোনো ধরনের পানির বোতল নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। এমনকি আগে অনুমোদিত থাকা খালি স্বচ্ছ পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতলগুলোও এখন নিষিদ্ধের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মূলত গ্যালারি থেকে মাঠে বস্তু ছুড়ে মারার ফলে খেলোয়াড় বা দর্শকদের আহত হওয়ার ঝুঁকি এড়াতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমদ্য অ্যাথলেটিক’-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফা ইতোমধ্যে বিশ্বকাপের টিকিটধারীদের -মেইলের মাধ্যমে এই হালনাগাদ আচরণবিধি সম্পর্কে অবহিত করেছে। নতুন এই নিয়মের ফলে দর্শকরা আর বাইরে থেকে খালি বোতল নিয়ে এসে স্টেডিয়ামের ভেতরের পানির ফোয়ারা বা ডিসপেনসার থেকে পানি ভর্তি করার সুযোগ পাবেন না। ফিফা জানিয়েছে, অনেক ভেন্যুতে আগে থেকেই এই নিয়ম কার্যকর ছিল এবং এখন তারা পুরো টুর্নামেন্টের সব স্টেডিয়ামে একটি অভিন্ন সুসংহত নিরাপত্তা নীতি প্রয়োগ করতে চায়। তবে এই সিদ্ধান্ত পরিবেশবাদী এবং সাধারণ দর্শকদের মধ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, কারণ এটি প্লাস্টিক বর্জ্য বৃদ্ধি এবং স্টেডিয়ামের ভেতরে চড়া দামে পানি কেনার বাধ্যবাধকতা তৈরি করবে।

চড়া দামের পাশাপাশি তীব্র তাপপ্রবাহের সময় দর্শকদের নিরাপত্তা নিয়ে এক ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ক্লাব বিশ্বকাপে বোতলজাত পানির দাম ছিল থেকে ডলার, যা নিয়ে সমর্থকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। এছাড়াওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’-এর এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে অন্তত ২৬টি ম্যাচ এমন আবহাওয়ায় অনুষ্ঠিত হবে যেখানে আর্দ্রতা তাপমাত্রা জনিতডব্লিউবিজিটিসূচক ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করবে। কানসাস সিটি, মায়ামি নিউইয়র্কের মতো শহরগুলোতে অতিরিক্ত গরম আর্দ্রতার কারণে দর্শকদের শারীরিক অসুস্থতার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও বোতল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে এই নীতিতে ছাড় দেওয়ার কথা জানিয়েছে ফিফা। চিকিৎসাজনিত কারণে প্রয়োজনীয় কোনো তরল অথবা শিশুদের জন্য বিশেষ পানীয় বা খাবার বহন করা যাবে। তবে সেক্ষেত্রে দর্শকদের ইংরেজি, ফরাসি বা স্প্যানিশ ভাষায় স্বীকৃত চিকিৎসকের সনদ প্রদর্শন করতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাপজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় ফিফা প্রতিটি আয়োজক শহরের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। দর্শকদের আরামদায়ক পরিবেশ দিতে স্টেডিয়ামের আশেপাশে এবং ভেতরে মিস্টিং স্টেশন, শক্তিশালী ফ্যান এবং কুলিং টেন্ট বা শীতলীকরণ তাঁবুর ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

ফিফা আশ্বস্ত করেছে যে, স্টেডিয়ামের ভেতরে বোতলজাত পানির মূল্য অন্যান্য বড় ক্রীড়া ইভেন্টের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা হবে। এছাড়া পানীয় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কোকা-কোলার সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে পানির পর্যাপ্ত যোগান নিশ্চিত করা হবে। মূলত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে একটি নিরাপদ সুশৃঙ্খল বিশ্বকাপ উপহার দেওয়াই ফিফার এই কড়াকড়ির মূল উদ্দেশ্য। দর্শকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন তারা স্টেডিয়ামে আসার আগে এই নতুন নির্দেশিকাগুলো ভালোভাবে দেখে নেন, যাতে প্রবেশপথে কোনো ধরনের জটিলতার সম্মুখীন হতে না হয়।


মোসাদ্দেককে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দল ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

আগামী জুনে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অনুষ্ঠিতব্য হাইভোল্টেজ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচের জন্য ১৫ সদস্যের শক্তিশালী দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ঘোষিত এই স্কোয়াডে বড় ধরনের চমক রেখেছে নির্বাচক কমিটি। অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজকে নেতৃত্বের দায়িত্ব দিয়ে সাজানো এই দলে তারুণ্য অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ঘরোয়া কন্ডিশনের সর্বোচ্চ সুবিধা কাজে লাগিয়ে ইতিবাচক ফলাফল অর্জনই এখন টাইগারদের মূল লক্ষ্য।

ঘোষিত এই ওয়ানডে স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের প্রত্যাবর্তন। দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর পর আবারও জাতীয় দলের ওয়ানডে ফরম্যাটে ডাক পেলেন তিনি। সর্বশেষ ২০২২ সালের আগস্ট মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দেশের হয়ে ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছিলেন মোসাদ্দেক। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক নৈপুণ্য প্রদর্শনের পুরস্কার হিসেবে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও নির্বাচকদের আস্থায় ফিরলেন এই ক্রিকেটার। তাঁর অন্তর্ভুক্তি দলের মিডল অর্ডারে বাড়তি গভীরতা শক্তি যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

দলে নতুনদের আগমনের পাশাপাশি বাদ পড়েছেন গত নিউজিল্যান্ড সিরিজে থাকা আফিফ হোসেন এবং মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। বিশেষ করে অফফর্মের কারণে নির্বাচকদের রাডারের বাইরে চলে গেছেন আফিফ হোসেন। তাঁর ব্যাটিংয়ে সাম্প্রতিক ধারাবাহিকতার অভাব থাকায় অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তাঁকে বিবেচনার বাইরে রাখা হয়েছে। তবে স্কোয়াডে সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাস এবং নাজমুল হোসেন শান্তর মতো নিয়মিত মুখদের ওপরই মূল ভরসা রাখা হয়েছে। পেস বোলিং বিভাগে তাসকিন-মুস্তাফিজের পাশাপাশি তরুণ নাহিদ রানার অন্তর্ভুক্তি পেস আক্রমণকে আরও বৈচিত্র্যময় করেছে।

অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু হচ্ছে আগামীকাল জুন থেকে। মিরপুর শেরে- বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টাইগাররা নিবিড় অনুশীলন ক্যাম্পে অংশ নেবেন। সিরিজের মূল লড়াই শুরু হবে আগামী জুন প্রথম ওয়ানডের মাধ্যমে। পরবর্তী দুটি ওয়ানডে ম্যাচ যথাক্রমে ১১ এবং ১৪ জুন একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। ওয়ানডে সিরিজ শেষে দুই দল চট্টগ্রামে পাড়ি জমাবে টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য। সেখানে ১৭, ১৯ এবং ২১ জুন জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জন্য চূড়ান্ত হওয়া ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ দলে রয়েছেনমেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, কাজী নুরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম নাহিদ রানা। অভিজ্ঞ এবং তরুণ তুর্কিদের সমন্বয়ে গড়া এই দলটি শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে লড়াই জমিয়ে তুলবে বলে প্রত্যাশা করছেন ক্রিকেট ভক্ত বিশ্লেষকরা।


বিশ্বকাপের আগে কঠোর গোপনীয়তায় ইরানের প্রস্তুতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজেদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিতে কঠোর গোপনীয়তার পথ বেছে নিয়েছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। তুরস্কের আনতালিয়া রিসোর্টে আগামীকাল মালির বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হবে তারা। তবে এই ম্যাচটি নিয়ে ইরানি ফুটবল ফেডারেশন এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। দলের প্রধান কোচের বিশেষ কিছু কৌশলগত পরিকল্পনা গেম-প্ল্যান গোপন রাখার স্বার্থে ম্যাচটি সম্পূর্ণ রুদ্ধদ্বার বাক্লোজ ডোরস্টেডিয়ামে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইরানি ফুটবল ফেডারেশন এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, জাতীয় দলের জন্য মালির বিপক্ষে এই ম্যাচটির গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ের আগে খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা টেকনিক্যাল প্রস্তুতি শেষবারের মতো যাচাই করে নিতে চান কোচ। কৌশলগত কারণে এই ম্যাচে কোনো দর্শক প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না এবং কোনো দেশি বা বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীও মাঠে উপস্থিত থাকতে পারবেন না। এর মাধ্যমে কোচ তাঁর চূড়ান্ত একাদশ খেলার ধরন সম্পর্কে প্রতিপক্ষ দলগুলোকে কোনো ধারণা দিতে চাচ্ছেন না।

বর্তমান প্রতিকূল যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ইরান তাদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে বিন্দুমাত্র ঢিল দিচ্ছে না। তুরস্কের আনতালিয়াতে দুটি পৃথক অনুশীলন ক্যাম্পের মাধ্যমে দলটি ইতোমধ্যে তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচ সম্পন্ন করেছে। এই সফরের প্রথম দিকে তারা নাইজেরিয়ার কাছে পরাজিত হলেও পরবর্তী দুই ম্যাচে কোস্টারিকা গাম্বিয়ার বিপক্ষে দারুণ জয় তুলে নিয়েছে। মালির বিপক্ষে এই শেষ পরীক্ষাটি জয় দিয়ে শেষ করে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে উত্তর আমেরিকার পথে যাত্রা করতে চায়টিম মেলি

নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইরানি ফেডারেশন বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে বুঝিয়ে তাদের বিশ্বকাপের বেস ক্যাম্প বা মূল ঘাঁটি পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। পূর্ব নির্ধারিত আমেরিকার অ্যারিজোনার পরিবর্তে দলটির নতুন আবাসন অনুশীলনের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে মেক্সিকোর টিজুয়ানা শহরে। মালির বিপক্ষে ম্যাচ শেষ করে আগামী শনিবার দলটি সরাসরি মেক্সিকোর উদ্দেশ্যে রওনা হবে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইরানকে বেশ কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে। মেক্সিকোর ক্যাম্প থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে গিয়ে তারা নিউজিল্যান্ড বেলজিয়ামের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের প্রথম দুটি ম্যাচ খেলবে। এরপর গ্রুপ পর্বের শেষ সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ম্যাচে সিয়াটলে তারা মোহামেদ সালাহর মিশরের মুখোমুখি হবে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মাঝেও ফুটবলারদের একাগ্রতা ধরে রাখা এবং বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করাই এখন ইরানি দলের প্রধান চ্যালেঞ্জ। রুদ্ধদ্বার এই প্রস্তুতি ম্যাচের ফলাফল খেলোয়াড়দের ফর্ম এখন ফুটবল প্রেমীদের কাছে এক কৌতূহলী রহস্য হয়ে থাকল।


শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি বাংলাদেশ ও ভারত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের রোমাঞ্চকর সেমিফাইনাল পর্ব শেষে নির্ধারিত হয়েছে ফাইনালের দুই প্রতিযোগী। নিজ নিজ যোগ্যতায় সেমিফাইনালের বাধা টপকে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ ভারত নারী ফুটবল দল। আগামী শুক্রবার দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের এই লড়াইয়ে লড়বে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বাংলাদেশের সামনে এখন মুকুট ধরে রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে ভারত মুখিয়ে আছে তাদের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের জন্য।

দিনের প্রথম সেমিফাইনাল ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে এক নাটকীয় জয় তুলে নেয় বাংলাদেশের মেয়েরা। খেলার ২৩তম মিনিটে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়লেও দমে যায়নি মারিয়া মান্দার বাহিনী। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে ঋতুপর্ণা চাকমার এক অসাধারণঅলিম্পিক গোল’- সমতায় ফেরে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। - সমতায় থাকা ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের একেবারে অন্তিম মুহূর্তে গোল করেন সাগরিকা। তাঁর এই জয়সূচক গোলেই - ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাফের ফাইনালে পা রাখে বাংলাদেশ।

টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ম্যাচে ভুটানকে - ব্যবধানে হারিয়েছে ভারতের মেয়েরা। পুরো আসরে এখন পর্যন্ত অপরাজিত থাকা ভারত শুরু থেকেই ভুটানের ওপর একের পর এক আক্রমণ চালালেও প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি। ভুটানের অত্যন্ত সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগের কাছে গিয়ে বারবার খেই হারাচ্ছিল ভারতীয় ফরোয়ার্ডরা। অবশেষে ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলটি করেন ননগ্রুম। শেষ পর্যন্ত এই একমাত্র গোলটির লিড ধরে রেখেই জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে ভারত।

ফাইনালে মাঠে নামার আগে পরিসংখ্যানের বিচারে ভারত কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে এই দুই দল যখন একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল, তখন বাংলাদেশকে - গোলে হারিয়েছিল ভারত। তবে ফাইনালের মঞ্চে সেই হারের স্মৃতি ভুলে নতুন কৌশলে মাঠে নামতে চায় বাংলাদেশ। গতবারের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বাংলাদেশের মানসিক শক্তি এবং ভারতের সাম্প্রতিক অপরাজিত থাকার ধারাবাহিকতাসব মিলিয়ে শুক্রবারের ফাইনালটি একটি উপভোগ্য টানটান লড়াই হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন ফুটবল সংশ্লিষ্টরা।


নেতৃত্ব হারালেন বিশ্বজয়ী অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

তিন মাস আগে ভারতকে টানা দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতানো অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) আসন্ন আয়ারল্যান্ড ইংল্যান্ড সিরিজের আগে এই নাটকীয় সিদ্ধান্তটি ক্রিকেট বিশ্বে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, কেবল অধিনায়কত্বই নয়, অফফর্মের কারণে টি-টোয়েন্টি দলেও ৩৫ বছর বয়সী এই ব্যাটারের জায়গা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। মূলত দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা তাঁর বর্তমান ব্যাটিং ফর্ম বিবেচনায় নিয়ে বোর্ড এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

বিসিসিআইয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, নতুন ক্রিকেট চক্রের জন্য রণকৌশল সাজাতে প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর, নির্বাচক কমিটি এবং বোর্ড কর্মকর্তাদের এক যৌথ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় কর্মকর্তাদের একাংশ মত দেন যে, সূর্যকুমারের নেতৃত্বে দল বিশ্বকাপ জিতলেও তাঁর ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স আশাব্যঞ্জক নয়। ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে বোর্ড এখন থেকেই নতুন এবং স্থায়ী কোনো অধিনায়ক বেছে নিতে চায়। বোর্ড সূত্র আরও জানিয়েছে যে, দল নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সূর্যকুমার আর অগ্রাধিকার পাবেন না এবং এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি তাঁকে দ্রুতই জানিয়ে দেওয়া হবে।

সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্ব হারানোর প্রধান কারণ হিসেবে তাঁর টানা অফফর্মকে দায়ী করা হচ্ছে। গত দুই বছর ধরে আন্তর্জাতিক ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি তাঁর পরিচিত ছন্দে নেই। বিশেষ করে সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ আইপিএলে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। ওই আসরে ১৩ ইনিংসে মাত্র ২০.২৭ গড়ে ২৭০ রান সংগ্রহ করেন তিনি, যেখানে ফিফটি ছিল মাত্র একটি। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর রোহিত শর্মার উত্তরসূরি হিসেবে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা ফেরাতে না পারায় ম্যানেজমেন্ট তাঁর ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলেছে।

ভারত দলের পরবর্তী সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৬ জুন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হবে। এরপর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে ভারত। এই সিরিজগুলোর স্কোয়াড নির্বাচনে সূর্যকুমার আর বিবেচিত হবেন না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। যদিও গত মার্চে দেওয়া এক বক্তব্যে সূর্যকুমার জানিয়েছিলেন, অধিনায়ক হওয়ার পর তাঁর ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়ে দলের ১৪ জন মানুষের দেখভাল করা তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে শীঘ্রই রান খরা কাটিয়ে উঠতে পারবেন, তবে বোর্ড সম্ভবত সেই সুযোগ দিতে আর রাজি নয়।

২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে তাঁর নেওয়া একটি শ্বাসরুদ্ধকর ক্যাচ ভারতের ভাগ্য বদলে দিয়েছিল, যা তাঁকে রাতারাতি নায়কের মর্যাদা দেয়। পরবর্তীতে অধিনায়ক হিসেবে সফল হলেও বর্তমানে তাঁর ক্যারিয়ার এক বড় সংকটের মুখে পড়েছে। সূর্যকুমারের পরিবর্তে কাকে নতুন অধিনায়ক করা হবে এবং দলের মধ্যভাগে তাঁর বিকল্প হিসেবে কাকে নেওয়া হবে, তা নিয়ে এখন চলছে জোর আলোচনা। ভারতের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, বিশ্বজয়ী অধিনায়ক হলেও পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ছাড়া বড় দলের অধিনায়কত্ব ধরে রাখা কতটা কঠিন।


নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

টানটান উত্তেজনাপূর্ণ প্রথম সেমিফাইনালটি ১-১ গোল ব্যবধানে শেষ হওয়ার পথেই ছিল। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে চলছিল যোগ করা ৬ মিনিটের খেলা। তখনই শামসুন্নাহার জুনিয়রের পাসে নেপালের জালে বল পাঠান সাগরিকা। শেষ পর্যন্ত লিড ধরে রেখে ২-১ ব্যবধানে ম্যাচটি জিতে নেয় বাংলাদেশ। তাতেই নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে টানা তৃতীয়বার ফাইনালে উঠার কীর্তি গড়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

আগের দুইবার বাংলাদেশ শুধু ফাইনালেই উঠেনি, দুবারই জিতেছে শিরোপা। আর মজার ব্যাপার হলো, এই নেপালকে হারিয়েই দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। এর আগেও একবার ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ নারী দল। কিন্তু প্রথমবার ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না তাদের। হেরেছিল ভারতের বিপক্ষে।

এবারের টুর্নামেন্টের গ্রুপপর্বে ভুটান ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সর্বোচ্চ ৬ পয়েন্ট নিয়ে সেরা চারে জায়গা করে নেয় নেপাল। তারা ভুটানকে ১-০ ও শ্রীলঙ্কাকে ২-০ গোল ব্যবধানে হারায়।

অন্যদিকে, গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে ৪-২ গোল ব্যবধানে জেতেন মারিয়া মান্দারা। পরের ম্যাচেই ঘটে ছন্দপতন। স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ৩-০ গোল ব্যবধানে হারে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ফলে গ্রুপ রানারআপ হয়েই সেমিফাইনালের টিকিট কাটে বাংলাদেশ।

ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে নেপালের বিপক্ষে খেলতে নেমে শুরুতেই ছন্নছাড়া ছিল চ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে বাংলাদেশের রক্ষণভাগে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকেন নেপালের ফুটবলাররা। সেই সুবাদে ম্যাচের ২৩তম মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। দীপা শাহির নেওয়া কর্নার কিক থেকে আসে বল গোলে পরিণত করেন গীতা রানি।

পরের মিনিটেই গোলের সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু যোগ্য ফিনিশিংয়ের অভাবে গোল আদায় করা হয়নি। ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে আরও একটি গোল হজম করতে যাচ্ছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। প্রীতি রাজের দূরপাল্লার শট লাগে গোল পোস্টে। তবে ক্রেডিট কিছুটা গোলকিপার মিলি আক্তারেরও। তার হাত লেগেই পোস্টে বল লাগে।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে বেশ কয়েকটি আক্রমণ চালায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত কর্নার থেকে সরাসরি শটে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান ঋতুপর্ণা চাকমা। তার এই চোখ ধাঁধানো গোলে ১-১ ব্যবধানে সমতায় থেকেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরও একবার লিড নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল নেপাল। ফরোয়ার্ড রেখা বাংলাদেশের গোলকিপার মিলি আক্তারকে ফাঁকি দিয়ে বল জালের দিকেই পাঠিয়েছিলেন। সেটা ঠেকানোর ছিলেন না কেউই। কিন্তু বলটি জালে না জড়িয়ে লেগে যায় গোলপোস্টে।

এদিকে ম্যাচের ৭৮তম মিনিটে লিড নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশও। কিন্তু নেপালের গোলকিপার সুব্বার দৃঢ়তায় সেই যাত্রায় বেঁচে যায় হিমালয়ের দেশটি। বাংলাদেশের সাগরিকার নেওয়া দুর্দান্ত শটটি লাফিয়ে ফিরিয়ে দেন তিনি।

১-১ ব্যবধানেই শেষ হয় ৯০ মিনিটের খেলা। যোগ করা ৬ মিনিটের খেলারও প্রায় তিন মিনিট শেষ হওয়ার পথেই ছিল। আর এমন মুহূর্তে বাংলাদেশের সমর্থকদের উল্লাসে মেতে ওঠান সামসুন্নাহার-সাগরিকারা। ডানপ্রান্ত থেকে আক্রমণে আসা সামসুন্নাহার জুনিয়রের বাড়ানো পাসে নেপালের জালে বল পাঠান সাগরিকা। তাতেই ২-১ ব্যবধান জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।


সান মারিনোয় বাংলাদেশ দলে যোগ দিলেন হামজা চৌধুরী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

আগামী জুন ইউরোপের দেশ সান মারিনোর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। এই ঐতিহাসিক ম্যাচকে সামনে রেখে গত সোমবার দেশটিতে পৌঁছায় জামাল ভূঁইয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। সফরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে মঙ্গলবার রাতে সরাসরি সান মারিনোয় দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন তারকা ফুটবলার হামজা চৌধুরী। এর আগে প্রবাসী ফুটবলার সামিত সোম এবং জায়ান আহমেদও দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। হামজার অন্তর্ভুক্তিতে দলের শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মাঝে বাড়তি উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টার ক্লান্তিকর যাত্রা শেষে সান মারিনোয় পৌঁছানোর প্রথম দিনেই খেলোয়াড়রা একটি রিকভারি সেশনে অংশ নেন। তবে মঙ্গলবার থেকে পুরোদমে স্বাভাবিক অনুশীলন শুরু করেছে দল। স্থানীয় সময় বিকেল ৬টা এবং বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শুরু হওয়া এই অনুশীলন সেশন চলে প্রায় দেড় ঘণ্টা। দলের ম্যানেজার আমের খান জানিয়েছেন, সেখানে আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। প্রথম দিন বেশ ঠান্ডা থাকলেও দ্বিতীয় দিন ছিল প্রচণ্ড গরম, যা অনেকটাই বাংলাদেশের আবহাওয়ার মতো। ভিন্ন ভিন্ন এই আবহাওয়ার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে কাজ করছেন ফুটবলাররা।

বাংলাদেশের নতুন কোচ থমাস ডুলি দলের দীর্ঘ ভ্রমণের ধকল এবং প্রতিপক্ষ সম্পর্কে তাঁর ভাবনা শেয়ার করেছেন। তিনি জানান, ঢাকা থেকে আফ্রিকা হয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ইতালি পৌঁছানোর পর কয়েক ঘণ্টার সড়ক ভ্রমণে তাঁরা সান মারিনো পৌঁছেছেন। প্রতিপক্ষ সান মারিনো ফিফা ্যাঙ্কিংয়ে পেছনের সারিতে থাকলেও তারা নিয়মিত ইতালি, জার্মানি স্পেনের মতো শক্তিশালী ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষে খেলে অভ্যস্ত। ফলে এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। তবে ডুলি আত্মবিশ্বাসী যে তাঁর শিষ্যরা ইউরোপের মাটিতে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে মুখিয়ে আছে।

ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার ফাহমিদুল ইসলাম এই সফরের অন্যতম সঙ্গী। সান মারিনো ইতালির ভেতরে অবস্থিত একটি ক্ষুদ্র স্বাধীন রাষ্ট্র হওয়ায় সেখানকার পরিবেশ সংস্কৃতি তাঁর বেশ চেনা। ফাহমিদুল জানান, পরিচিত পরিবেশে নিজের অভিজ্ঞতা সতীর্থদের সঙ্গে শেয়ার করার চেষ্টা করছেন তিনি। ইউরোপের মাটিতে ম্যাচ খেলার জন্য দলের সবাই দারুণভাবে রোমাঞ্চিত। তাঁর মতে, খেলোয়াড়রা জয়ের মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামবে এবং বিদেশের মাটিতে দেশের জন্য একটি ভালো ফলাফল উপহার দিতে চায়।

আগামী জুন বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচটি নিয়ে দেশের ফুটবল প্রেমীদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল বিরাজ করছে। সান মারিনো বাংলাদেশের চেয়ে সময়ের হিসেবে ঘণ্টা পিছিয়ে থাকলেও খেলোয়াড়রা সেই সময়ের ব্যবধানের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন। হামজা চৌধুরী জামাল ভূঁইয়াদের সমন্বয়ে গড়া এই দলটি ইউরোপের প্রতিকূল পরিবেশে কতটুকু সাফল্য পায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। কোচ ম্যানেজমেন্ট বর্তমানে খেলোয়াড়দের শারীরিক ফিটনেস এবং কৌশলগত প্রস্তুতির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন।


ভিসা জটিলতায় ইরানের বিশ্বকাপ যাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা ওঠার আর দুই সপ্তাহও বাকি নেই, অথচ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা নিরাপত্তা ইস্যুর কারণে এখনও ভিসা অনিশ্চয়তায় ভুগছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো কানাডার যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া এই আসরে অংশ নিতে ইরান ফুটবল ফেডারেশন এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে। ফেডারেশনের প্রধান মেহদি তাজ জানিয়েছেন, তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী দলটি আগামী শনিবার স্পেনের উদ্দেশে রওনা হবে এবং সেখান থেকে সরাসরি মেক্সিকোর তিজুয়ানায় পৌঁছাবে। তারা আশা করছেন, আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে মেক্সিকোর এবং শুক্রবারের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা হাতে আসবে।

নিরাপত্তাঝুঁকির কথা বিবেচনা করে ইরানের ট্রেনিং বেজ বা প্রশিক্ষণ শিবির নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের টাকসনে তাদের ঘাঁটি হওয়ার কথা থাকলেও ইরানি ফেডারেশনের অনুরোধে তা সরিয়ে মেক্সিকোর তিজুয়ানাতে নেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনের কারণেই মূলত মেক্সিকোর ভিসার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে, যা দলটির জন্য নতুন এক প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বর্তমানে ইরান দল তুরস্কের আনতালিয়া শহরে তাদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারছে, যেখান থেকে তারা উত্তর আমেরিকার পথে রওনা হবে।

ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে রাজনৈতিক জলঘোলা শুরু হয় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালায়। এরপর থেকেইটিম মেলি বিশ্বমঞ্চে খেলা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়। তবে ফিফা শুরু থেকেই বলে আসছে যে, ইরান এই টুর্নামেন্টে পুরোদমে অংশ নেবে। তা সত্ত্বেও ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা এপ্রিলে নতুন মোড় নেয়, যখন ইরানি ফেডারেশনের প্রধান মেহদি তাজের কানাডায় প্রবেশের ভিসা বাতিল করা হয়। কারণ হিসেবে অতীতে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) সাথে তাঁর সম্পর্কের অভিযোগ তোলা হয়েছে, যে সংস্থাকে উত্তর আমেরিকার দেশগুলো সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে গণ্য করে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই ভিসা প্রক্রিয়ার বিষয়ে একটি কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি এক শুনানিতে জানিয়েছেন, ইরানি অ্যাথলেট বা খেলোয়াড়দের নিয়ে তাদের কোনো সমস্যা নেই, তবে প্রতিনিধি দলের ভেতরে এমন কাউকে ঢুকিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না যাদের সঙ্গে খেলাধুলার কোনো সম্পর্ক নেই এবং যাদের আইআরজিসি বা সমজাতীয় সংস্থার সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে। মার্কিন প্রশাসন ইরানি প্রতিনিধি দলের প্রতিটি সদস্যের ওপর অত্যন্ত কড়া নজরদারি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যাতে নিরাপত্তা কূটনৈতিক নীতির কোনো লঙ্ঘন না ঘটে।

মাঠের লড়াইয়ে ইরান তাদের প্রথম ম্যাচে ১৫ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার ইঙ্গলউডে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। এরপর ২১ জুন বেলজিয়াম এবং ২৬ জুন সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক বৈরিতা এবং যুদ্ধাবস্থার কারণে ইরানের ঘরোয়া পেশাদার ফুটবল বর্তমানে বন্ধ থাকলেও খেলোয়াড়রা বিদেশের মাটিতে কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেদের ফিটনেস ধরে রেখেছেন। এখন কেবল নির্ধারিত সময়ে ভিসা পাওয়া এবং নিরাপদে ভেন্যুতে পৌঁছানোর ওপরেই নির্ভর করছে ইরানের এবারের বিশ্বকাপ ভাগ্য।


মোহামেডান নয়, মুস্তাফিজকে দলে ভেড়াল আবাহনী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ঈদুল আজহার ছুটি কাটিয়ে মাঠে ফিরেছে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ (ডিপিএল) লিগের অষ্টম রাউন্ডে গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ১৭৩ রানের বিশাল জয় পেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনী লিমিটেড। তবে এই জয়ের খবরের চেয়েও বড় চমক হয়ে এসেছে তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের আবাহনীতে যোগ দেওয়ার সংবাদটি। দীর্ঘদিনের গুঞ্জন ছিল মুস্তাফিজ হয়তো মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে মাঠে নামবেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি যোগ দিচ্ছেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আকাশী-নীল শিবিরে।

আগামী জুন শুক্রবার নবম রাউন্ডের ম্যাচে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে মাঠে নামবে আবাহনী। এই ম্যাচেই মুস্তাফিজকে দলের সাথে পাওয়া যাবে বলে ক্লাব কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। তবে জাতীয় দলের ব্যস্ত সূচির কারণে আবাহনী তাকে দীর্ঘসময়ের জন্য পাচ্ছে না। মূলত আগামী জুন থেকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হতে যাচ্ছে, যেখানে মুস্তাফিজের থাকা প্রায় নিশ্চিত। তাই জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার আগে ডিপিএলের মাত্র একটি ম্যাচেই আবাহনীর জার্সিতে দেখা যাবে এই কাটার মাস্টারকে।

গতকালের ম্যাচে বিকেএসপির নম্বর মাঠে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় আবাহনী। নির্ধারিত ৫০ ওভারে উইকেট হারিয়ে তারা ৩১৫ রানের এক পাহাড়সম সংগ্রহ দাঁড় করায়। দলের এই বিশাল সংগ্রহে মূল ভূমিকা রাখেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। তিনি ৯৫ বলে ১০২ রানের এক অনবদ্য অপরাজিত সেঞ্চুরি হাঁকান। অঙ্কনের এই ইনিংসটি আবাহনীকে বড় সংগ্রহের পথ প্রশস্ত করে দেয়, যা পরবর্তীতে প্রতিপক্ষের জন্য পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

৩১৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে গুলশান ক্রিকেট ক্লাব শুরু থেকেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। ওপেনিং জুটিতে ৪৫ রান তুললেও দুই ওপেনার রহমতউল্লাহ আলী এবং আলিফ ইমন দ্রুত বিদায় নেন। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে গুলশান, কোনো ব্যাটারই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৪২ রানেই গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস। আবাহনীর হয়ে নাইমুর রহমান নয়ন ৩টি উইকেট নেন এবং রাকিবুল হাসান এস এম মেহেরব হোসেন ২টি করে উইকেট শিকার করে দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন।

১৭৩ রানের এই জয়ের ফলে লিগের পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করল আবাহনী। মুস্তাফিজের মতো অভিজ্ঞ বোলারের অন্তর্ভুক্তি আগামী ম্যাচে দলের শক্তি আরও বাড়িয়ে দেবে। যদিও তিনি মাত্র এক ম্যাচের জন্য খেলছেন, তবুও বড় টুর্নামেন্টের আগে তাঁর ছন্দ ফিরে পাওয়া আবাহনী এবং জাতীয় দল উভয়ের জন্যই ইতিবাচক। প্রিমিয়ার লিগের এই পর্যায়ে প্রতিটি পয়েন্টই গুরুত্বপূর্ণ, তাই মুস্তাফিজকে নিয়ে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে জয় তুলে নেওয়াই এখন আবাহনীর মূল লক্ষ্য।


ইতিহাসের পাতায় ২০২৬ বিশ্বকাপ: মাঠে নামছেন ৮ জন ‘চল্লিশোর্ধ্ব’ ফুটবলার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই এক অনন্য ও ঐতিহাসিক রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্ব ফুটবল। টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দেশ ইতিমধ্যে তাদের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে, যেখানে মোট ১ হাজার ২৪৮ জন ফুটবলার জায়গা পেয়েছেন। অত্যন্ত বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই বিশাল সংখ্যক খেলোয়াড়ের মধ্যে ৮ জনেরই বয়স ৪০ বছর বা তার বেশি। ফুটবলের মহাযজ্ঞের ইতিহাসে এর আগে কখনোই এক আসরে এত বেশি সংখ্যক 'চল্লিশোর্ধ্ব' ফুটবলারকে দেখা যায়নি। যেখানে ১৯৩০ সাল থেকে গত ২২টি আসর মিলিয়ে মাত্র ৮ জন ৪০ বছর বয়সী ফুটবলার মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন, সেখানে এবার একটি মাত্র আসরেই সেই সংখ্যাটি স্পর্শ করতে যাচ্ছে ফিফা।
এবারের আসরে বয়সের ভারকে জয় করে মাঠে নামতে যাওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে নেতৃত্বের আসনে রয়েছেন স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক ক্রেইগ গর্ডন। ৪৩ বছর বয়সী এই তারকা ফুটবলার এক বিরল ইতিহাসের জন্ম দিতে যাচ্ছেন। ১৯৯৮ সালের পর স্কটল্যান্ড এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়ায় গর্ডন তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপটি খেলবেন ৪৩ বছর বয়সে। এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। গর্ডন ছাড়াও এবারের প্রবীণ খেলোয়াড়দের তালিকায় থাকা ৮ জনের মধ্যে ৫ জনই গোলরক্ষক, যা প্রমাণ করে যে গোলপোস্ট সামলানোর ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা এখনও বড় ভরসার জায়গা।
বয়সের রেকর্ডে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি তাঁর ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ আসরে অংশ নিতে যাচ্ছেন, যা ফুটবল ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ আসরে খেলার একটি অনন্য রেকর্ড। কেবল রোনালদোই নন, মেক্সিকোর ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক গুইলার্মো ওচোয়াও ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বমঞ্চে নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। আধুনিক ফুটবলে খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা ও ফিটনেস ধরে রাখার যে নতুন সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, রোনালদো ও ওচোয়ার মতো তারকাদের দীর্ঘমেয়াদী ক্যারিয়ার তার বড় উদাহরণ।
বয়স্ক খেলোয়াড়দের এই তালিকায় আরও রয়েছেন ক্রোয়েশিয়ার মধ্যমাঠের কাণ্ডারি লুকা মদ্রিচ এবং জার্মানির অতন্দ্র প্রহরী ম্যানুয়েল নয়্যার। দুজনেই ৪০ বছর বয়সে পৌঁছেও এখনও ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে দাপটের সাথে খেলছেন। মদ্রিচ ইন্টার মিলান এবং নয়্যার বায়ার্ন মিউনিখের মতো বড় ক্লাবে তাঁদের গুরুত্ব প্রমাণ করে চলেছেন। তাঁদের পাশাপাশি বসনিয়ার এডিন জেকো, কেপ ভার্দের জোসিমার দিয়াজ এবং উরুগুয়ের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরাও ৪০ বছর বয়সে বিশ্বকাপে খেলবেন। এর মধ্যে জোসিমার দিয়াজও ক্রেইগ গর্ডনের মতো প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে খেলার স্বাদ পেতে যাচ্ছেন।
২০২৬ সালের এই বিশ্বকাপ কেবল ৪৮ দলের উপস্থিতির কারণেই নয়, বরং অভিজ্ঞ ও বয়োজ্যেষ্ঠ ফুটবলারদের আধিক্যের কারণেও ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ৪৩ বছর বয়সী গর্ডন থেকে শুরু করে ৪১ বছরের রোনালদো কিংবা ৪০ বছরের মদ্রিচ—তাঁরা প্রত্যেকেই প্রমাণ করেছেন যে ফুটবলে বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র। আধুনিক উন্নত চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাত্রার মাধ্যমে খেলোয়াড়রা যেভাবে নিজেদের ক্যারিয়ারকে দীর্ঘায়িত করছেন, এই বিশ্বকাপ তারই এক বড় প্রদর্শনী হতে যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ফুটবল ভক্তরা এখন মুখিয়ে আছেন এই অভিজ্ঞ যোদ্ধাদের শেষ লড়াই দেখার জন্য।


banner close