রোববার, ২ আগস্ট ২০২৬
১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

স্কালোনি কাঁদলেন, কাঁদালেন...

নিশাত আহমেদ
প্রকাশিত
নিশাত আহমেদ
প্রকাশিত : ২০ ডিসেম্বর, ২০২২ ১০:৪৫

‘মানুষকে বোঝাতেই পারি না, আমরা জিতি বা হারি, পরদিন সূর্য ঠিকই উঠবে…’

একটা ফুটবল ম্যাচকে ঘিরে এত আবেগ, এত কান্নাকাটির কী আছে - বুঝতেই পারেন না আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি।

ভাই মাউরো স্কালোনি নাকি ভয়ের চোটে গ্রামে চলে গিয়েছেন, যাতে ম্যাচ না দেখতে হয়। সেখান থেকেই কাঁদতে কাঁদতে লিওনেলকে জানিয়েছেন এ কথা। তাতে লিওনেলের বিরক্তি বেড়েছে বই কমেনি।

আরে, একটা ম্যাচই তো! এর জন্য জীবন-যৌবন শ্রাদ্ধ করার দরকার আছে কোনো? ফুটবল কী জীবনের চেয়ে বড় কিছু? কাঁদতে কেন হবে?

লিওনেল স্কালোনি

অবশ্য স্কালোনি মানতে না চাইলেও, ম্যাচটার গুরুত্ব ছিল আকাশ-সমান। আগের ম্যাচেই সৌদি আরবের বিপক্ষে হেরেছে আর্জেন্টিনা। মেক্সিকোর বিপক্ষে হারলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত। নিশ্চিত হবে বিশ্বমঞ্চ থেকে আরেকবার লিওনেল মেসির ফেরত যাওয়া। একদম চূড়ান্তবারের মতো।

সেটা হতে দেননি মেসি। আর্জেন্টিনাকে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন। যেভাবে জিতিয়েছেন, ওই সাহসিকতা দেখে আবেগের বাঁধ ভেঙেছে ‘আইডল’ পাবলো আইমারের। ডাগআউটে বসেই কেঁদেছেন। যে কান্না স্বস্তির। আনন্দের।

সহকারী আইমারের কান্না দেখেও বিরক্ত স্কালোনি। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনেও জানালেন সে কথা, ‘আমাদের মাথায় রাখতে হবে এটা শুধুই একটা ফুটবল ম্যাচ। এরপর জীবন চলবে জীবনের মতো। আমরা জিতি বা হারি, পরদিন সূর্য ঠিকই উঠবে…’

আইমারের কান্না, পাশে স্কালোনি

নির্মোহ, ভাবলেশহীন কণ্ঠস্বর। যাতে আবেগ নেই বিন্দুমাত্রও। তবে স্কালোনি কি সবসময়ই এমন আবেগহীন ছিলেন? ফুটবল ম্যাচের জয়-পরাজয় কি কখনই তাঁর ভেতরের সত্ত্বাকে নাড়িয়ে দিত না?

দিত। যার একটা প্রমাণ পাওয়া যায় ওয়েস্ট হ্যাম-সতীর্থদের কথায়। সেবার সদ্যই ইংল্যান্ডে পা রেখেছেন স্কালোনি, দেপোর্তিভো লা করুনিয়া থেকে ছয় মাসের ধারে ওয়েস্ট হ্যামে খেলার জন্য। ওই বছর এফএ কাপের ফাইনালে ওঠে ওয়েস্টহ্যাম, কাপের বেশিরভাগ ম্যাচে বেশ ভালোই খেলছিলেন রাইটব্যাক স্কালোনি। লিভারপুলের বিপক্ষে ফাইনালেও তাঁর ওপর ভরসা রাখলেন কোচ অ্যালান পার্ড্যু।

লাভ হয়নি। ‘স্টিভেন জেরার্ড ফাইনাল’ নামে পরিচিত ম্যাচটায় লিভারপুল অধিনায়ক শেষ মুহূর্তে অবিশ্বাস্য এক গোল করে ম্যাচটা শুটআউটে নিয়ে যান। শুটআউট জিতে শিরোপাটা নিজের করে নেয় অল রেডরা। ওই শেষ মূহুর্তের গোলটা হত না, যদি স্কালোনি একটা ছোট্ট ভুল না করে বসতেন। যে ভুলের সুবাদে দুই-একজন ঘুরে বল পেয়ে যান জেরার্ড, সমতায় ফেরে লিভারপুল। আজীবন ওয়েস্ট হ্যাম সতীর্থরা স্কালোনিকে শূলে চড়িয়েছেন এ কারণে। ম্যাচ শেষে অঝোরে কেঁদেছিলেন স্কালোনি, সবাই ভুলে গিয়েছিলেন স্কালোনি ওদিন মাপা ক্রস না দিলে প্রথম গোলটাই হয় না ওয়েস্ট হ্যামের। সে কান্নায় লাভ হয়নি। তাঁর সঙ্গে চুক্তি পাকা করেনি ওয়েস্ট হ্যাম। ধার শেষে ফেরত পাঠিয়েছে দেপোর্তিভোয়।

লিভারপুলের বিপক্ষে সে ম্যাচে এক গোল বানিয়ে দেওয়ার পরও ওয়েস্ট হ্যাম সমর্থকদের মন পাননি স্কালোনি

চুপচাপ সহ্য করেছেন সব অবহেলা, গঞ্জনা। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচিংয়ের পাঠটাও নিয়ে রেখেছেন। খেলাটাকে ভালোবাসতেন, যে কারণে এত গঞ্জনার পরও ফুটবল থেকে দূরে থাকতে পারেননি। খেলা ছাড়ার পর পরিবার নিয়ে স্পেনের মায়োর্কায় থাকা শুরু করেন, বাচ্চাদের এক দলে কোচিং করাতেন টুকটাক। অনেকটা হুট করেই হোর্হে সাম্পাওলির কোচিং দলে সুযোগ ২০১৮ বিশ্বকাপের আগে আগে।

সেবার পারেননি সাম্পাওলি। উদ্ভাবনী কৌশলের ছোঁয়ায় চিলিকে কোপা আমেরিকার স্বাদ দেওয়া এই কোচ নিজ দেশের দায়িত্ব পেয়েই কেন যেন ভড়কে গেলেন। চড়া মূল্য চোকালেন মেসিরা। বিশ্বকাপে সাম্পাওলি-ব্যর্থতার পর দিয়েগো সিমিওনে, মরিসিও পচেত্তিনো, রিকার্দো গারেকা, এদুয়ার্দো বেরিৎসো থেকে শুরু করে মার্সেলো গ্যাশার্দো - কেউই আর্জেন্টিনার দায়িত্ব নিতে চাইলেন না। অবশ্য তাঁদের মতো ‘হাই-প্রোফাইল’ কোচ নিয়োগ দেওয়ার টাকাও ছিল না আর্জেন্টাইন ফেডারেশনের। এখন উপায়?

গতবার আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ ছিলেন স্কালোনি, পাশে মূল কোচ হোর্হে সাম্পাওলি

শেষমেশ আনকোরা স্কালোনির কাঁধে মেসিদের টেনে তোলার দায়িত্ব। দেশজুড়ে শুরু হলো বিদ্রোহ। দেশের অধিকাংশ মানুষই যাকে চেনে না, চিনলেও গুরুত্ব দেয় না - এমন একজনকে জাতীয় দলের দায়িত্ব দেওয়া কতটুকু যুক্তিসঙ্গত - প্রশ্ন উঠলই। তোপ দাগলেন খোদ দিয়েগো মারাদোনা, ‘ও ভালো ছেলে, কিন্তু ও কোচিং কী করাবে? ওকে তো ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে দিলেও পারবে ন!’

স্কালোনি চুপচাপ শুনে গেলেন। সমালোচনার জবাব মুখের কথা হয়ে নয়, বরং খেলার কৌশলে বাঙময় হয়ে উঠল। কেউ বিশ্বাস না করলেও, আর্জেন্টিনাকে আটাত্তরের বিশ্বকাপ জেতানো কোচ সেজারে লুই মেনোত্তি ঠিকই বুঝেছিলেন, স্কালোনি ছেলেটার মধ্যে কিছু একটা আছে। এমন কিছু, যা মেসিদের এনে দিতে পারে ওই অধরা সাফল্যের স্বাদ।

ভারপ্রাপ্ত কোচের দায়িত্ব পেয়ে দুই ম্যাচ দুই ম্যাচ করে আর্জেন্টিনাকে পথ দেখাতে শুরু করলেন স্কালোনি। মেসিরা ধীরে ধীরে খেলার নিজস্ব ‘স্টাইল’ খুঁজে পেলেন, যা সাম্পাওলির সময়ে একরকম উধাওই ছিল বলা চলে। স্কালোনি বুঝলেন, পুরো স্কোয়াডের খোলনলচে বদলাতে হবে। বছরের পর বছর ধরে আর্জেন্টিনাকে শিরোপাহীনতার আগলে বেঁধে রাখা বয়স্ক তারকাদের সরিয়ে দলকে শোনাতে হবে তারুণ্যের কলতান। গাব্রিয়েল মের্কাদো, লুকাস বিলিয়া, ফেদেরিকো ফাজিও, এভার বানেগা, গনসালো হিগুয়েইন, এনসো পেরেস, মার্কোস রোহো, ফ্রাঙ্কো আরমানিদের জায়গায় একে একে মূল একাদশে সুযোগ পেতে শুরু করলেন জিওভান্নি লো সেলসো, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, এজেকিয়েল পালাসিওস, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এমিলিয়ানো মার্তিনেস, লাওতারো মার্তিনেস, লিসান্দ্রো মার্তিনেস, নিকোলাস গনসালেস, হুলিয়ান আলভারেস, হোয়াকিন কোরেয়া, রদ্রিগো দি পল, নাহুয়েল মলিনা, গনসালো মন্তিয়েলরা। দল আরও ঐক্যবদ্ধ হলো। সফল একটা দল গঠনের জন্য স্কোয়াডের প্রত্যেক সদস্যের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক উন্নয়নের বিকল্প নেই। স্কালোনি সেটাই করলেন। পাওলো দিবালার মতো খেলোয়াড় দলে এখনও কেন সুযোগ পাচ্ছেন না, সরব হল মিডিয়া। এক সাংবাদিক তো স্কালোনিকে পেয়ে সরাসরি ‘আপনার সঙ্গে দিবালার মনোমালিন্য আছে কি না,’ - জিজ্ঞেসই করে বসলেন!

পাশে হেঁটে যাওয়া দিবালাকে ডাকলেন সাংবাদিকের সামনেই, জিজ্ঞেস করলেন, ‘এই, তোমার সঙ্গে নাকি আমার শত্রুতা?’ দিবালার চেহারা দেখে মনে হলো, অনেক মজার একটা কৌতুক বলেছেন কোচ! দিবালার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন, তাতে যা বোঝার বোঝা হয়ে গেল সেই সাংবাদিকের!

পরম আরাধ্য বিশ্বকাপকে ছুঁয়ে দেখা...

২০১৯ কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। শিরোপা না জিতলেও, দলটা বোঝাল, ঠিক পথেই আছে তারা। দরকার একটু ধৈর্য্যর, অপেক্ষার। উন্নতি পূর্ণতা পেল কোপা-ফিনালিসিমা জয়ে, ২৮ বছরের ট্রফিখরা ঘোচানোয়।

কাজ তখনও শেষ হয়নি, স্কালোনি জানতেন। বিশ্বকাপ যে ডাকছে হাতছানি দিয়ে! পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও কৌশলগত দিক দিয়ে স্কালোনি যে কতটা দুর্দান্ত, আগে আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা বুঝেছিলেন। কাতার বিশ্বকাপে বুঝল সবাই। প্রতি ম্যাচে নিজের ক্ষুরধার মস্তিষ্কের প্রমাণ দিয়ে গেলেন।

লো সেলসো, দি পল আর পারেদেসকে নিয়ে গড়া পরীক্ষিত মিডফিল্ড ধাক্কা খায় লো সেলসোর চোটে। একই পথে হাঁটেন নিকোলাস গনসালেসও। বিশ্বকাপের আগেই আস্থার দুই সৈনিক হারিয়ে চিন্তার ভাঁজ স্কালোনির কপালে। কী হবে এখন?

কোপা আমেরিকা জেতার মাধ্যমে আর্জেন্টিনার ২৮ বছরের ট্রফিখরা এই স্কালোনিই ঘোচান

প্রথম ম্যাচে মাঝমাঠে লো সেলসোর অভাব পূরণ করতে চাইলেন আজীবন ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলা আলেহান্দ্রো গোমেসকে দিয়ে। লাভ হল না। মেসির জায়গায় দি পল উঠে যাচ্ছিলেন বারবার, মাঝমাঠে খেলার অনভিজ্ঞতার কারণে বাঁ দিকে উঠে যাচ্ছিলেন গোমেসও। চোটে ভোগা মার্কাস আকুনিয়ার জায়গায় খেলা নিকোলাস তালিয়াফিকোর সঙ্গে বাঁ উইংয়ের রসায়নটা একদমই জমছিল না গোমেসের। ফলে মাঝমাঠে একা পড়ে যাচ্ছিলেন পারেদেস। আবার পারেদেস উঠে গেলে মাঝমাঠে একে পড়ে যাচ্ছিলেন হয় দি পল, নয়তো খোদ মেসি। রক্ষণের সঙ্গে আক্রমণের সংযোগই হচ্ছিল না। সৌদি আরবের একাধিক খেলোয়াড় মাঝমাঠের দখল নিয়ে নিয়েছিলেন। একাধিক ফলাফল? এশিয়ার দেশটার অবিস্মরণীয় বিজয়গাথা।

সৌদির বিপক্ষে এভাবেই বারবার মাঝমাঠের দখল হারাচ্ছিল আর্জেন্টিনা

মেক্সিকোর বিপক্ষে ওই ভুল শোধরালেন পারেদেসের জায়গায় গিদো রদ্রিগেস (পরে এনসো ফের্নান্দেস), আর গোমেসের জায়গায় অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে নামিয়ে। দি পলকে সাফ সাফ জানিয়ে দিলেন, কোনোভাবেই যেন মেসির খেলার জায়গাগুলোতে উঠে গিয়ে অধিনায়কের খেলায় বিঘ্ন না ঘটান। দি পল বুঝলেন সেটা। ডান উইং আর হাফস্পেসগুলো মিলিয়ে মেসির যেসব জায়গায় বিচরণ, সেসব জায়গায় বাড়তি রক্ষণ নিরাপত্তার দায়িত্ব নিলেন দি পল। মাঝমাঠ এবার বাড়তি নিয়ন্ত্রণ পেল। ফলাফল? মেসি-এনসোর গোলে স্বস্তির জয় আর্জেন্টিনার।

ততদিনে মূল স্ট্রাইকার লাওতারো মার্তিনেস স্কালোনিকে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন, মেসির রক্ষণচেরা বলগুলো সময়মতো সামনে দৌড়ে ধরার মতো কাজটা ঠিকঠাক করতে পারছেন না, বারবার পড়ছেন অফসাইডের খড়গে। ব্যস, একাদশে প্রবেশ হুলিয়ান আলভারেসের। পোল্যান্ডের রক্ষণ সেভাবে ওপরে উঠে প্রেস করে না, জানতেন স্কালোনি। আগের দুই ম্যাচের ৪-৪-২ ছক বদলে আক্রমণভাগে একজন খেলোয়াড় বাড়িয়ে ৪-৩-৩ ছকে দলকে খেলাতে শুরু করলেন। যা আক্রমণে ৩-১-৬ হয়ে যাচ্ছিল, দুই সেন্টারব্যাকের পাশে তৃতীয় সেন্টারব্যাক হিসেবে খেলা শুরু করলেন রাইটব্যাক (নাহুয়েল মলিনা, উনি না থাকলে গনসালো মন্তিয়েল), তিনজনের একটু ওপরে একক রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে এনসো ফের্নান্দেস - আর বাকি সবাই ওপরে। আক্রমণে এই অতি-আগ্রাসী আর্জেন্টিনাকে সামলাতে পারেনি পোল্যান্ড, আলভারেস ও ম্যাক অ্যালিস্টারের গোলে হেরে বসে ২-০ স্কোরলাইনে।

এভাবেই বারবার অফসাইডের খড়্গে পড়েছেন লাওতারো মার্তিনেস

দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়ার খেলার ধরণ বেশ শরীরনির্ভর, বুঝে আবারও মাঝমাঠে একজন বাড়িয়ে ছকটা ৪-৪-২ করে ফেলেন স্কালোনি। আগের দুই ম্যাচে পোল্যান্ড আর মেক্সিকো যা ঠিকঠাক করে উঠতে পারেনি, সেটাই করে আর্জেন্টিনাকে চমকে দিল অস্ট্রেলিয়া। নব্বই মিনিট জুড়ে মেসিদের দুর্দান্তভাবে প্রেস করে গেল সকারুরা। অস্ট্রেলিয়ার আঁটসাঁট ৪-৪-২ ছকে মাঝখান দিয়ে আক্রমণভাগে বলই পাঠাতে পারছিল না আর্জেন্টিনা। স্কালোনি বুঝলেন, ম্যাচ বের করে আনতে হলে মেসিকে একটু পেছনে খেলতে হবে, দি পল-ম্যাক অ্যালিস্টার আর ফের্নান্দেসের পাশাপাশি মাঝমাঠের দখল বাড়ানোর জন্য মেসিকেও একটু নিচে নামতে হবে। আর্জেন্টিনার নিদান সে কৌশলেই। মেসি-ম্যাজিকে কোয়ার্টারে আলবিসেলেস্তিরা।

অস্ট্রেলিয়ার আঁটসাঁট ৪-৪-২ ছক

কোয়ার্টারে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ম্যানেজার লুই ফন গালের মুখোমুখি স্কালোনি। ৩-৪-১-২ ছকে নেদারল্যান্ডসকে খেলিয়ে এবারও যিনি মুগ্ধ করছিলেন দর্শকদের। তবে ডাচদের তিন সেন্টারব্যাক আর দুই উইংব্যাকভিত্তিক কৌশলের সঙ্গে লড়তে একজন মিডফিল্ডার বসিয়ে বাড়তি একজন সেন্টারব্যাক খেলালে যে সাফল্য আসবে, প্রথম রাউন্ডেই দেখিয়েছিল ইকুয়েডর। একই কাজ করলেন স্কালোনিও। মিডফিল্ডার গোমেসকে বসিয়ে বাড়তি একজন সেন্টারব্যাক (লিসান্দ্রো মার্তিনেস) খেলালেন, দুই ফুলব্যাক মলিনা আর আকুনিয়া উইংব্যাকের স্বাধীনতা নিয়ে দুই ডাচ উইংব্যাক দেনজেল দুমফ্রাইজ আর ডেলেই ব্লিন্ডকে শক্তিহীন করে দিলেন। মেসির পাসে প্রথম গোল করলেন মলিনা, দ্বিতীয় গোলটা এল আকুনিয়ার আনা পেনাল্টিতে।

কোয়ার্টারে নেদারল্যান্ডসের তিন সেন্টারব্যাক ও দুই উইংব্যাকভিত্তিক কৌশলের জবাব আর্জেন্টিনা দেয় তিন সেন্টারব্যাক আর দুই উইংব্যাক দিয়েই

ব্রাজিলকে হারিয়ে সেমিতে আর্জেন্টিনার সামনে পড়ে ক্রোয়েশিয়া। লুকা মদরিচ, মাতেও কোভাচিচ আর মার্সেলো ব্রোজোভিচ যাদের মাঝমাঠকে বিশ্বকাপেরই অন্যতম সেরা বানিয়েছেন। অতি আক্রমণ করতে গিয়ে ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠ-শক্তিতে হেলাফেলা করেছিল সেলেসাওরা। স্কালোনি সে ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছেন। ৪-৪-২ ছকে এমন চারজন মিডফিল্ডারকে খেলালেন, যারা আদতে কেউই প্রথাগত উইঙ্গার বা ফরোয়ার্ড নন আনহেল দি মারিয়া বা আলেহান্দ্রো গোমেসের মতো। দি পল, ফের্নান্দেস, পারেদেস ও ম্যাক অ্যালিস্টার একদম মাঝমাঠে আঠার মতো লেগে থাকলেন ক্রোয়েশিয়ার মিডফিল্ডারদের সঙ্গে। আবার প্রথম ম্যাচে মরক্কো দেখিয়েছিল, স্ট্রাইকার ইউসুফ এন-নেসেরি যদি ব্রোজোভিচকে ঠিকঠাক ‘মার্ক’ করতে পারেন, ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠ আরও হাঁসফাস করতে শুরু করে।

স্কালোনি সেটাও করলেন। স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেস প্রায় সময়ই উপরে মেসিকে রেখে নেমে আসছিলেন ব্রোজোভিচ পর্যন্ত। ম্যাচ শুরুর আধঘন্টা পর্যন্ত আর্জেন্টিনার সঙ্গে সমানে-সমান টক্কর দিলেও পেরে ওঠেনি ক্রোয়েশিয়া, হেরে বসে ৩-০ গোলে। ২০১৮ বিশ্বকাপে দুই দলের মধ্যকার ম্যাচের স্কোরলাইন যা ছিল আরকি! শুধু সেবার জিতেছিল ক্রোয়েশিয়া, এবার জয়ীর কলামে আর্জেন্টিনার নাম!

বিশ্বকাপ হাতে...

ফাইনালে আসার পথে আর্জেন্টিনার প্রত্যেক প্রতিপক্ষের কিছু না কিছু দুর্বলতা ছিলই, ম্যাচজয়ী কৌশলে যার সুফল নিয়েছেন স্কালোনি। কিন্তু ফাইনালের প্রতিপক্ষ ফ্রান্সের দুর্বলতা কোথায়? ফাইনালে ওঠার আগ পর্যন্ত কোনো ম্যাচেই কৌশলগত সেরকম দুর্বলতা দেখায়নি গতবারের বিশ্বজয়ীরা!

ফ্রান্সের বাঁ পাশে উইঙ্গার কিলিয়ান এমবাপ্পে আর ফুলব্যাক থিও এর্নান্দেস আক্রমণে দুর্দান্ত হলেও, এমবাপ্পে রক্ষণে সাহায্য করতে নিচে নেমে আসেন না, ভাইয়ের চোটের কারণে একাদশে জায়গা পাওয়া থিও-ও রক্ষণে অতটা পটু নন। যে কারণে কোয়ার্টারে ইংল্যান্ড আর সেমিতে মরক্কো - দুই দলই এমবাপ্পে-এর্নান্দেসের পেছনের ফেলে আসা ফাঁকা জায়গাতে আক্রমণ করতে চেয়েছে বেশিরভাগ সময় - ইংল্যান্ড বুকায়ো সাকা-জর্ডান হেন্ডারসনকে দিয়ে, মরক্কো আশরাফ হাকিমি আর হাকিম জিয়েশকে দিয়ে। তবে সে কৌশলও শতভাগ কার্যকরী নয়, না হয় ফ্রান্স ফাইনালে ওঠে কী করে?

ফাইনালে স্কালোনি এমন এক কৌশলের আশ্রয় নিলেন, যা কেউ কল্পনাও করেনি। এমবাপ্পে-থিও এর্নান্দেসের উইং নয়, বরং ফ্রান্সের ডানদিকের উইংয়ে আক্রমণ করার পরিকল্পনা সাজালেন - নিজেদের বাঁ উইং দিয়ে। আর্জেন্টিনার আক্রমণের ডানদিকটা যেহেতু মেসিই নিয়ন্ত্রণ করেন, তাই ওখানে আক্রমণ করার জন্য বাড়তি খেলোয়াড় রাখেননি। খেলোয়াড়ি জীবনে নিজে রাইটব্যাক ছিলেন বলেই কি না, বুঝেছিলেন, বারবার বাঁ দিক থেকে ছুটে আসা একজন গতিশীল উইঙ্গারের মুখোমুখি হওয়ার বিষয়টা ঠিক পছন্দ করবেন না ফ্রান্সের রাইটব্যাক জুলস কুন্দে - যিনি আদতে সেন্টারব্যাক হওয়ার কারণে তুলনামূলকভাবে রক্ষণাত্মক। তার ওপরে কুন্দের ওপরে থাকা উইঙ্গার ওসমান দেম্বেলেও রক্ষণে সাহায্য করেন না একদম। আগের তিন ম্যাচ না খেলা, খেললেও রাইট উইঙ্গার হিসেবে খেলা আনহেল দি মারিয়াকে দিলেন লেফট উইঙ্গারের ভূমিকা। মাঝমাঠ থেকে দি মারিয়াকে ‘উড়তে’ সাহায্য করলেন ওই দিকে খেলা মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার।

ওই এক কৌশলেই স্তব্ধ ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশোঁ। ৭০ মিনিট ধরে এমবাপ্পের পায়ে বল গেল না সেভাবে, গ্রিজমান মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেন না, অলিভিয়ের জিরু আর্জেন্টিনার ডিবক্সে দাঁড়িয়ে থাকলেন পথহারা পথিকের মতো। ৪০ মিনিটের মধ্যে দুই গোল হজম করার পর জিরু আর দেম্বেলেকে মাঠ থেকে তুলে নিয়ে দেশোঁ প্রকারান্তরে স্বীকার করলেন, স্কালোনির বুদ্ধিতে কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। পরে ফ্রান্স ম্যাচে ফিরলেও, তাতে দেশঁর কৌশলের চেয়ে এমবাপ্পে নামক ‘দানবে’র ভূমিকা ছিল ঢের বেশি। শেষমেশ টাইব্রেক লড়াইয়ে ফ্রান্সকে হারিয়ে ৩৬ বছর পর বিশ্বজয় করল আর্জেন্টিনা।

অবশেষে স্কালোনির কান্না...

এবার আর নিজের আবেগে বাঁধ দিতে পারলেন না স্কালোনি। মুখে কাঠিন্য এনে নিরাবেগ থাকার চেষ্টা করেছিলেন। কান্নার দমক তাতে আরও বাড়ল। আজীবন পাওয়া সকল লাঞ্ছনা-গঞ্জনা মুক্তোদানার মতো অশ্রুবিন্দু হয়ে ঝরল অবিরত। হাউমাউ কান্নায় বোঝালেন, তিনিও রক্তমাংসের আবেগী মানুষ। ভাই মাউরো স্কালোনি আর পাবলো আইমারের মতো।

আর দশজন আর্জেন্টাইনের মতো।


বিশ্বকাপের মঞ্চে যে নক্ষত্রদের আর দেখা যাবে না

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২০ জুলাই, ২০২৬ ২০:১৬
ক্রীড়া ডেস্ক

জীবন-নদীর প্রতিটি বাঁক যেমন নতুন দিগন্তের সূচনা করে, তেমনি পুরোনো পথকে পেছনে ফেলে যাওয়ার এক অলিখিত আহ্বানও জানিয়ে দেয়। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই অবিনশ্বর চরণ—‘যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে, বাইবো না আর খেয়া নৌকা এই ঘাটে’—যেন আজ বিশ্ব ফুটবলের এক সোনালি প্রজন্মের বিদায়বেলার একদম নিখুঁত প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত প্রায় দুই দশক ধরে যে মহাতারকারা তাদের পায়ের জাদুতে সবুজ গালিচাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছিলেন, সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ বিশ্বকাপটি তাদের অনেকের জন্যই আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে শেষ আসর হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকছে। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এই বিশ্বকাপ কেবল কোনো ট্রফি জয়ের লড়াই ছিল না, বরং এটি ছিল কোটি কোটি ভক্তের হৃদয় ভেঙে দেওয়া এক বেদনাবিধুর বিদায়গাথা, যার মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক সোনালি অধ্যায়ের ফুটবল নৃত্যের চিরস্থায়ী সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক ফুটবলের এই বিদায় তালিকায় সবচেয়ে উজ্জ্বল দুটি নাম হলো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং লিওনেল মেসি। ৪১ বছর বয়সে এসে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করার বিরল রেকর্ড গড়া পর্তুগিজ মহাতারকা ও আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনালদো নিজেই নিশ্চিত করেছেন যে এটিই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ; দীর্ঘ দুই দশক শীর্ষ পর্যায়ে খেলার পর বয়সের কারণে স্বাভাবিকভাবেই খেলার গতি ও ফিটনেসে পরিবর্তন আসায় তিনি চাইলেও হয়তো আর নতুন কোনো বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারবেন না। অন্যদিকে, ২০১৪ সালের ফাইনালে হারের বেদনা ভুলে ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানো ৩৯ বছর বয়সী জাদুকর লিওনেল মেসিও হয়তো তাঁর শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচটি স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালেই খেলে ফেলেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে আরও একবার শিরোপার খুব কাছাকাছি গিয়ে খালি হাতে ফেরা এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো কিছু পরিষ্কার না করলেও আগামী বিশ্বকাপে তাঁর খেলার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

মেসি-রোনালদোর পাশাপাশি বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে বিদায় নিচ্ছেন আরও দুই মহাতারকা লুকা মদ্রিচ ও নেইমার জুনিয়র। ক্রোয়েশিয়ার কিংবদন্তি মিডফিল্ডার লুকা মদ্রিচ ৪০ বছর বয়সে এসেও দাপটের সঙ্গে নিজ দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং সদ্য সমাপ্ত আসরেই তিনি তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপটি খেলে ফেলেছেন। অন্যদিকে, ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার জুনিয়রের বয়স ৩৪ হলেও ক্যারিয়ারজুড়ে মারাত্মক সব ইনজুরি তাঁকে বারবার মাঠের বাইরে ছিটকে ফেলেছে, যার ফলে এবারের বিশ্বকাপে তাঁর জায়গা পাওয়ার কথাই ছিল না। শেষ পর্যন্ত কোচ কার্লো আনচেলত্তির ভরসায় দলে সুযোগ পেলেও, নরওয়ের বিপক্ষে হেরে বিদায় নেওয়ার পর ‘এখানেই শুরু, এখানেই শেষ’ বলে এক রহস্যময় বার্তা দিয়ে তিনি বিশ্বকাপ থেকে অবসরের সুস্পষ্ট ইঙ্গিতই দিয়ে রেখেছেন।

কেবল এই চার মহানায়কই নন, আগামী বিশ্বকাপে বিশ্ব ফুটবলের আরও বেশ কয়েকজন রথী-মহারথীর দেখা মিলবে না। এই দীর্ঘ তালিকায় রয়েছেন ‘সুইপার-কিপার’ রোলের রূপকার এবং ২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী জার্মানির কিংবদন্তি গোলরক্ষক ম্যানুয়াল নয়্যার। এছাড়া বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের প্রতিনিধি কেভিন ডি ব্রুইনা, মিশরের ফারাও খ্যাত মোহামেদ সালাহ, ডাচ রক্ষণভাগের প্রাচীর ভার্জিল ফন ডাইক, দক্ষিণ কোরিয়ার তারকা সন হিউয়েন মিন এবং মেক্সিকোর গোলরক্ষক গিলের্মো ওচোয়াদেরও আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যাবে না। পাশাপাশি আর্জেন্টিনার নিকোলাস ওটামেন্ডি, ব্রাজিলের কাসেমিরো, বসনিয়ার এডিন জেকো এবং স্কটল্যান্ডের ক্রেইগ গর্ডনরাও আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ এই মঞ্চ থেকে বিদায় নিচ্ছেন, যা বিশ্ব ফুটবলকে নিশ্চিতভাবেই এক বিশাল শূন্যতা ও আক্ষেপের মুখোমুখি দাঁড় করাবে।


ফাইনালের লাল কার্ডের কালো ইতিহাসে সবচেয়ে এগিয়ে আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

২০০৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল। জিনেদিন জিদানের সেই ঢুস আর লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার দৃশ্য আজও ফুটবলপ্রেমীদের মনে এক বিষাদময় স্মৃতি। ২০ বছর পর ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে সেই একই তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলো আর্জেন্টিনা। মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড যেন আর্জেন্টিনার শিরোপা স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে দিল, যা দলের জন্য এক ‘লজ্জাজনক’ পরিণতি ডেকে এনেছে।

ফাইনালে যখন টানটান উত্তেজনা, ঠিক তখনই ৯৩ মিনিটে পাউ কুবারসিকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন এনজো ফার্নান্দেজ। এর আগে ৮২ মিনিটে প্রথম হলুদ কার্ড দেখেছিলেন তিনি। এনজোর এই অবিবেচনাপ্রসূত ফাউলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। আর এই সুযোগটিই কাজে লাগায় স্পেন। একজন খেলোয়াড় কম নিয়ে স্প্যানিশ আক্রমণের ঢেউ সামলাতে হিমশিম খায় আলবিসেলেস্তেরা, যার ফলশ্রুতিতে ১০৬ মিনিটে গোল হজম করে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় মেসিবাহিনীকে।

লাল কার্ডের কালো ইতিহাসে আর্জেন্টিনার আধিপত্য
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ফাইনালের মঞ্চে মোট ৬ জন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ছয়জনের মধ্যে তিনজনই আর্জেন্টিনার!

১. পেদ্রো মোনজোন (১৯৯০): জার্মানির বিপক্ষে ফাইনালে সরাসরি লাল কার্ড দেখে ইতিহাস গড়েছিলেন তিনি।
২. গুস্তাভো দেজোত্তি (১৯৯০): একই ম্যাচে মোনজোনের ২২ মিনিট পর লাল কার্ড দেখেন তিনি। নয় জনের আর্জেন্টিনা সেবার ১-০ গোলে হেরেছিল।
৩. এনজো ফার্নান্দেজ (২০২৬): ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে লাল কার্ড দেখার লজ্জায় নাম লেখালেন তিনি।

অন্যান্য যারা লাল কার্ড দেখেছিলেন
১৯৯৮ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে জিতেছিল ফ্রান্স, কিন্তু সেই ফাইনালে লাল কার্ড দেখেছিলেন ফরাসি ডিফেন্ডার মার্সেল দেশাইলি। ২০০৬ সালে ইতালির বিপক্ষে জিদানের সেই ঐতিহাসিক লাল কার্ড তো কিংবদন্তি হয়ে আছে। ২০১০ সালে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছিলেন নেদারল্যান্ডসের জন হেইতিঙ্গা। এরপর টানা তিনটি ফাইনাল লাল কার্ডহীন থাকলেও এনজোর সৌজন্যে ২০২৬-এ আবার সেই প্রথা ফিরে এল।

একনজরে বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ড প্রাপ্তরা:

  • পেদ্রো মোনজোন (আর্জেন্টিনা, ১৯৯০)
  • গুস্তাভো দেজোত্তি (আর্জেন্টিনা, ১৯৯০)
  • মার্সেল দেশাইলি (ফ্রান্স, ১৯৯৮)
  • জিনেদিন জিদান (ফ্রান্স, ২০০৬)
  • জন হেইতিঙ্গা (নেদারল্যান্ডস, ২০১০)
  • এনজো ফার্নান্দেজ (আর্জেন্টিনা, ২০২৬)


ফাইনালে আর্জেন্টিনার পরাজয়: হৃদরোগে প্রাণ হারালেন ২ সমর্থক

বিশ্বকাপ ফাইনালে পরাজিত আর্জেন্টিনা দল। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার হাইভোল্টেজ বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ চলাকালীন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আর্জেন্টিনায় অন্তত দুই জন ফুটবল সমর্থকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দেশটির জরুরি চিকিৎসাসেবা সংস্থা (স্যাম) নিশ্চিত করেছে যে রাজধানী বুয়েনস আইরেসে পৃথক দুটি ঘটনায় ৬৭ এবং ৮৮ বছর বয়সী দুই ব্যক্তি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে মারা গেছেন। এ ছাড়া আরও এক ৭২ বছর বয়সী ব্যক্তি বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্যামের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ঘটনাটি ঘটে মনসেরাত এলাকায়, যেখানে এক বৃদ্ধ খেলা দেখার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাঁকে সিপিআর দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও চিকিৎসকরা পৌঁছানোর পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। দ্বিতীয় ঘটনায় ৮৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি বিকেল ৫টা ৩৯ মিনিটে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং কয়েক ঘণ্টা পর সেখানে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। একই সময়ে আলভারেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৭২ বছর বয়সী অপর ব্যক্তিটির অবস্থাও বেশ নাজুক বলে জানা গেছে।

ফাইনাল ম্যাচ ও পরবর্তী উদযাপনকে কেন্দ্র করে বুয়েনস আইরেসের ওবেলিস্ক চত্বর ও এর আশেপাশে আরও বেশ কিছু দুর্ঘটনা ঘটেছে। এক ব্যক্তি উঁচুতে উঠে উদযাপন করতে গিয়ে প্রায় চার মিটার নিচ হতে পড়ে পা ভেঙে গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া অতিরিক্ত মদ্যপান, আতঙ্কজনিত সমস্যা (প্যানিক অ্যাটাক) এবং সমর্থকদের মধ্যে ছোটখাটো হাতাহাতির ঘটনায় অন্তত কয়েক ডজন মানুষকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হয়েছে।

উল্লেখ্য যে ফুটবলকে ঘিরে এমন প্রাণহানি আর্জেন্টিনায় এবারই প্রথম নয়। মাত্র এক সপ্তাহ আগে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল চলাকালেও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৫১ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল। ওই দিন আরও ছয় জন হৃদরোগ সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে জরুরি বিভাগে এসেছিলেন। চিকিৎসকদের মতে, জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের সময় ভক্তদের মাঝে তীব্র আবেগ ও মানসিক চাপ কাজ করে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, এমন উত্তেজনাকর সময়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার হার স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।


আর্জেন্টিনার ‘লজ্জাজনক’ ফুটবলের বিপক্ষে স্পেনের বিশ্বজয়

ছবি কোলাজ- দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে পরাজিত করে নিজেদের দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তুলেছে স্পেন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে স্পেনের জয়কে ফুটবল বিশ্বের বিশ্লেষকরা স্রেফ একটি জয় নয় বরং ‘ফুটবলের প্রকৃত জয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। শুরু হতে শেষ পর্যন্ত মাঠের নিয়ন্ত্রণ স্প্যানিশদের দখলে থাকলেও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা মূলত প্রতিপক্ষকে আটকে রাখার কৌশলেই সীমাবদ্ধ ছিল।

ম্যাচের পরিসংখ্যান এবং পারফরম্যান্স বিশ্লেষণে দেখা যায় যে স্পেন প্রতিটি ক্ষেত্রেই আর্জেন্টিনাকে ছাড়িয়ে গেছে। স্পেনের বলের দখল ছিল ৬৫ শতাংশ এবং তারা গোলমুখে ২০টি শট নিয়েছে যার মধ্যে ১১টিই ছিল অন-টার্গেট। বিপরীতে আর্জেন্টিনা নির্ধারিত ৯০ মিনিটে একটিও গোলমুখী শট নিতে পারেনি। তাদের প্রথম সত্যিকারের আক্রমণটি এসেছিল ১১৭ মিনিটে লিওনেল মেসির পা হতে। সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারার এই জয় সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে, “সঠিক দলটিই জিতেছে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তারাই ফুটবল খেলার এবং সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা করছিল। স্পেন এই জয়ের যোগ্য।”

স্পেনের এই বিশ্বজয়ের পেছনে ছিল এক দুর্ভেদ্য রক্ষণ ও অসাধারণ পাসিং গেম। গোলরক্ষক উনাই সিমন পুরো আসরে মাত্র একটি গোল হজম করে গোল্ডেন গ্লাভস জয় করেছেন, যা কোনো বিশ্বকাপজয়ী দলের জন্য এক নতুন রেকর্ড। মাঝমাঠে রদ্রি ও পাউ কুবারসির পাসিং নৈপুণ্য ছিল দেখার মতো। রদ্রি ১০১টি এবং ১৯ বছর বয়সী কুবারসি ১২১টি সফল পাস দিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন। এছাড়া লামিন ইয়ামাল ইতিহাসের তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপজয়ী খেলোয়াড় হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। বর্তমান স্পেন দল এখন একাধারে বিশ্ব, অলিম্পিক এবং ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন।

অন্যদিকে, ম্যাচ হারার পাশাপাশি মাঠের ভেতরে ও বাইরে আচরণের জন্য ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে আর্জেন্টিনা। লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও এনজো ফার্নান্দেজদের খেলার ধরনে ফুটবলীয় সৌন্দর্য্যের চেয়ে আগ্রাসনই বেশি প্রকট ছিল। বিশেষ করে কুবারসিকে ফাউল করে এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড পাওয়া এবং খেলা শেষে স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের সঙ্গে পারেদেসের হাতাহাতির ঘটনাকে ‘ন্যক্কারজনক’ ও ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন বিশ্লেষক ওয়েইন রুনি। সাবেক গোলরক্ষক জো হার্টও আর্জেন্টিনার এই ধরণের আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি হারের পর অশ্রুসিক্ত নয়নে জানান যে তাঁর দল শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার লড়াই করেছিল কিন্তু স্পেনের শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিতে বাধা নেই। তিনি স্বীকার করেন যে লা রোজারা এই শিরোপার যোগ্য দাবিদার। বিশ্ব ফুটবলের এই নতুন অধ্যায়ে স্পেন এখন এক অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত হয়েছে যারা গত ৩৮টি ম্যাচে কোনো হার দেখেনি।


বিশ্বকাপ ট্রফি নেইমারকে উৎসর্গ করলেন নিকো উইলিয়ামস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর নিজের এক অজানিত অনুপ্রেরণার কথা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরলেন স্পেনের উদীয়মান তারকা নিকো উইলিয়ামস। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের এই বিশ্বজয়ের অবিস্মরণীয় মুহূর্তকে তিনি ব্রাজিলের ফুটবল জাদুকর নেইমারের উদ্দেশে উৎসর্গ করেছেন। নিকো জানিয়েছেন যে, তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ারে নেইমারের প্রভাব এবং অনুপ্রেরণা অনস্বীকার্য।

ফাইনালে স্পেনের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন ফেরান তোরেস, তবে এই গোলের মূল কারিগর ছিলেন নিকো উইলিয়ামস। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে নিকোর মাপা এক হেড হতেই বল পেয়ে লক্ষ্যভেদ করেন তোরেস। ম্যাচ পরবর্তী এক সাক্ষাৎকারে নিকো অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “আমি ভীষণ আনন্দিত। এটি আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত। নেইমার আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। আশা করি তিনি আমাদের এই ম্যাচ দেখেছেন। এই শিরোপার একটি অংশ আমি তাঁর উদ্দেশেই উৎসর্গ করছি।” মাঠের লড়াইয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও একজন বিশ্বসেরা খেলোয়াড়ের প্রতি অন্য এক তারকার এই শ্রদ্ধা ফুটবল অঙ্গনে নতুন এক উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।

ম্যাচে ব্যক্তিগতভাবে নিকো একবার বল জালে জড়িয়েছিলেন, তবে ভিএআরের হস্তক্ষেপে সতীর্থ মিকেল মেরিনোর ফাউলের কারণে সেই গোলটি বাতিল ঘোষণা করা হয়। নিজের গোল বাতিল হওয়া নিয়ে কোনো ধরণের আক্ষেপ নেই নিকোর। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়েও দলের হয়ে বিশ্ব জয় করাটাই তাঁর কাছে প্রধান লক্ষ্য ছিল। তাঁর মতে, স্পেনের এই দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের আনন্দ সব ধরণের ব্যক্তিগত হতাশার চেয়ে অনেক বড়।

পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই স্পেনের আক্রমণভাগে নিকো উইলিয়ামস ছিলেন এক নির্ভরযোগ্য নাম। তাঁর গতি ও নিখুঁত পাসের ওপর ভর করে স্পেন ধারাবাহিকভাবে সাফল্য পেয়েছে। ফাইনালেও তাঁর জাদুকরী পারফরম্যান্স স্প্যানিশদের উৎসবে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে। শিরোপা জয়ের পর নেইমারের প্রতি তাঁর এই বিশেষ ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।


পুরস্কারের মঞ্চে স্পেনের জয়জয়কার, এমবাপ্পের অনন্য রেকর্ড

ছবি কোলাজ- দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২০ জুলাই, ২০২৬ ১১:২১

কাতার বিশ্বকাপের সেই চিরচেনা দৃশ্যপট এবার বদলে গেল নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। ২০২২ সালে লুসাইল স্টেডিয়ামে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে হারিয়ে হাসি মুখে ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিলেন লিওনেল মেসি। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে চিত্রনাট্যটা হলো ভিন্ন। এবার এমবাপ্পে গোল্ডেন বুট জিতে নতুন ইতিহাস গড়লেও, ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে মেসির আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বসেরার মুকুট ফিরে পেল স্পেন।

শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনাল স্পেনের জয়
রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ৪৮ দলের এই মহাযজ্ঞের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও স্পেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। পুরো ম্যাচজুড়ে স্প্যানিশ আক্রমণের চাপে পিষ্ট আর্জেন্টিনা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল অসীম সাহসিকতায়। কিন্তু ১০৬ মিনিটে আর শেষ রক্ষা হয়নি। ফেররান তোরেসের দুর্দান্ত এক গোল স্প্যানিশ সমর্থকদের উল্লাসে ভাসায়। লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। ২০১০ সালের পর এটি স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়।

মেসির অশ্রু এমবাপ্পের ইতিহাস
টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন ভঙ্গ হওয়ায় মাঠেই অঝোরে কাঁদলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট নিয়ে এবার তাকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে 'সিলভার বুট' নিয়ে। অন্যদিকে, ফ্রান্স সেমিফাইনালে বাদ পড়লেও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ইতিহাস গড়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ১০ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করে তিনি জিতেছেন 'গোল্ডেন বুট'। বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা দুবার গোল্ডেন বুট জয়ের কীর্তি এমবাপ্পের আগে আর কেউ করতে পারেননি। এই আসরেই তিনি কিংবদন্তি গার্ড মুলারের (১৯৭০) এক আসরে ১০ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। এছাড়া বিশ্বকাপে মোট ২২ গোল করে তিনি এখন টুর্নামেন্টের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

Kylian Mbappe Golden Boot: শুধুমাত্র সোনার বুটই নয়, বিশ্বকাপের মঞ্চে এক  অনন্য ইতিহাস গড়লেন এমবাপে

সেরাদের সেরা রদ্রি
এবারের বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার 'গোল্ডেন বল' জিতেছেন স্পেনের মাঝমাঠের জেনারেল রদ্রি। ব্যালন ডি’অর জয়ী এই মিডফিল্ডার পুরো টুর্নামেন্টে ছিলেন স্পেনের সাফল্যের মূল কারিগর। আসরে মোট ৭২৬ মিনিট খেলে ৬৯২টি নিখুঁত পাস দিয়েছেন তিনি (সাফল্যের হার ৯৪ শতাংশ)।

পুরস্কারে স্পেনের জয়জয়কার
বিশ্বকাপের প্রায় সব প্রধান পুরস্কারই এবার গেছে স্প্যানিশ শিবিরে। স্পেনের রক্ষণকে দুর্ভেদ্য বানিয়ে রাখা গোলরক্ষক উনাই সিমন জিতেছেন 'গোল্ডেন গ্লাভ'। পুরো আসরে মাত্র ১টি গোল হজম করে ৭টি ক্লিন শিট রেখেছেন তিনি। এছাড়া টানা ৬৪৯ মিনিট গোল না খাওয়ার নতুন রেকর্ডও গড়েছেন বিলবাওয়ের এই কিপার।

সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার উঠেছে ১৯ বছর বয়সী স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পাউ কুবারসির হাতে। পুরো আসরে তার বাধা টপকে প্রতিপক্ষ মাত্র একবার বল জালে পাঠাতে পেরেছিল।
এবারের বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য নতুন করে 'চ্যাম্পিয়নশিপ রিং' প্রথা চালু করেছে ফিফা। শিরোপার পাশাপাশি স্পেন দল পেয়েছে ৫ কোটি ডলার প্রাইজমানি, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

একনজরে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পুরস্কার জয়ীরা:

  • চ্যাম্পিয়ন: স্পেন (পুরস্কার: ৫ কোটি ডলার ও চ্যাম্পিয়নশিপ রিং)
  • রানার্সআপ: আর্জেন্টিনা
  • গোল্ডেন বল (সেরা খেলোয়াড়): রদ্রি (স্পেন)
  • গোল্ডেন বুট (সর্বোচ্চ গোলদাতা): কিলিয়ান এমবাপ্পে (১০ গোল, ফ্রান্স)
  • সিলভার বুট: লিওনেল মেসি (৮ গোল, আর্জেন্টিনা)
  • ব্রোঞ্জ বুট: জুড বেলিংহাম (৭ গোল, ইংল্যান্ড)
  • গোল্ডেন গ্লাভ (সেরা গোলকিপার): উনাই সিমন (স্পেন)
  • সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়: পাউ কুবারসি (স্পেন)
  • ফাইনাল সেরা: ফেররান তোরেস (স্পেন)
  • ফেয়ার প্লে অ্যাওয়ার্ড: নেদারল্যান্ডস


গোল্ডেন বুট জিতে ইতিহাসে এমবাপ্পে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে স্পেন। লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা নির্ধারিত ৯০ মিনিটে জালের দেখা না পেলেও অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের গোলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। স্পেনের এই শিরোপা উল্লাসের রাতে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি ছিলেন অনেকটাই নিষ্প্রভ। তবে ফাইনালের এই মঞ্চে শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্জনের লড়াইয়েও পিছিয়ে পড়েছেন মেসি, আর সেই সুযোগে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’ নিজের করে নিয়ে এক অনন্য ইতিহাস রচনা করেছেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে।

এবারের পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লিওনেল মেসি মোট ৮টি গোল করলেও ফাইনালে কোনো গোলের দেখা পাননি। অন্যদিকে, ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে আসরজুড়ে নজরকাড়া পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে মোট ১০টি গোল করে গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে এমবাপ্পে জোড়া গোল (২টি) করে এই অসামান্য মাইলফলকে পৌঁছান। এর ফলে লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে এবারের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ গোল্ডেন বুট পুরস্কারটি নিজের ঝুলিতে পুরে নেন এই গতিময় ফরাসি ফরোয়ার্ড।

এই গোল্ডেন বুট জয়ের মাধ্যমে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফুটবল ইতিহাসের প্রথম ও একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জেতার অভাবনীয় বিশ্বরেকর্ড এখন কেবল তাঁরই দখলে। এর আগে ২০২২ সালে কাতারে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত খেলে ৮টি গোল করে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি জিতে নিয়েছিলেন তিনি। বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত এমন ধারাবাহিক ও অতিমানবীয় পারফরম্যান্স তাঁকে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যে রেকর্ডের ধারেকাছেও আপাতত আর কেউ নেই।

২০২৬ বিশ্বকাপের এই ১০ গোলের সুবাদে এমবাপ্পের ক্যারিয়ারে মোট বিশ্বকাপ গোলের সংখ্যা এখন ২২-এ গিয়ে দাঁড়িয়েছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করার মাধ্যমেই তিনি রেকর্ডের পাতায় লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে যান। বিশ্বকাপে মেসির মোট গোল সংখ্যা যেখানে ২১টি, সেখানে ২২ গোল নিয়ে এমবাপ্পে এখন বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম শীর্ষ গোলদাতায় পরিণত হয়েছেন। দল চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও টুর্নামেন্টজুড়ে গোলবন্যা বইয়ে দিয়ে ব্যক্তিগত এই অসামান্য অর্জনগুলো এমবাপ্পেকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম কিংবদন্তি হিসেবে আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।


আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

নিউইয়র্ক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তুলেছে স্পেন। ২০১০ সালের পর এটি তাদের প্রথম শিরোপা জয়। পুরো ম্যাচজুড়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে খেলা স্পেন নির্ধারিত সময়ে গোল না পেলেও অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত জয়ের দেখা পায়। ১০৬তম মিনিটে (অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের ২৭ সেকেন্ডে) পেদ্রো পোরোর ক্রস থেকে নিকো উইলিয়ামসের দারুণ অ্যাসিস্টে স্পেনের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস। ২০১৪ সালের ফাইনালে জার্মানির মারিও গোটজের পর এবার তোরেস পঞ্চম বদলি খেলোয়াড় হিসেবে ফাইনালে গোল করে আর্জেন্টিনার শিরোপা স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দেন।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে একচেটিয়া আধিপত্য দেখাতে শুরু করে লা রোজারা। প্রথম ২৩ মিনিটে আর্জেন্টিনার বল পজেশন ছিল মাত্র ৩২ শতাংশ, যেখানে মেসি, গঞ্জালেজ ও আলভারেজ মিলে বল স্পর্শ করতে পেরেছেন মাত্র ১৭ বার। স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রি পুরো মাঠজুড়ে দাপট দেখিয়েছেন এবং ডিফেন্সেও তৃতীয় সেন্টার ব্যাকের ভূমিকা পালন করেছেন। লামিন ইয়ামাল, মিকেল ওয়ারজাবাল ও ফাবিয়ান রুইজরা বারবার আর্জেন্টিনার রক্ষণে ভীতি ছড়ালেও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের দৃঢ়তায় জাল অক্ষত থাকে। প্রথমার্ধে স্পেনের ৬৫ শতাংশ বল দখলের বিপরীতে আর্জেন্টিনা কোনো শটই নিতে পারেনি; উল্টো ৪১ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখা লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়লে রক্ষণভাগে আরও চাপ বাড়ে লিওনেল স্কালোনির দলের।

দ্বিতীয়ার্ধে স্কালোনি দলে পরিবর্তন এনে নিকো গঞ্জালেজের বদলে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে নামালেও তিনি নেমেই রদ্রিকে ধাক্কা দিয়ে হলুদ কার্ড দেখে দলকে মারাত্মক চাপে ফেলেন। স্পেন আক্রমণ আরও শানিত করতে পেদ্রি, ফেরান তোরেস, মিকেল মেরিনো এবং নিকো উইলিয়ামসকে মাঠে নামায়। স্প্যানিশদের একের পর এক আক্রমণের বিপরীতে আর্জেন্টিনা এতটাই কোণঠাসা ছিল যে, ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রথম ৭০ মিনিটে লক্ষ্যে কোনো শট না রাখতে পারার লজ্জার রেকর্ডে নাম লেখায় তারা। এমিলিয়ানো মার্টিনেজ অসাধারণ দক্ষতায় স্পেনের বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোল রুখে দিয়ে দলকে টিকিয়ে রাখলেও, নির্ধারিত সময়ের যোগ করা মিনিটে (৯০+৩) কুবার্সিকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ, ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা।

একজন খেলোয়াড় কম নিয়ে অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের মুহুর্মুহু আক্রমণ সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। ৯৬ মিনিটের মাথায় বল জালে জড়িয়ে স্পেন উল্লাসে মাতলেও মেরিনো ওতামেন্দিকে ফাউল করায় ভিএআর-এর সাহায্যে গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি আর্জেন্টিনার জন্য। ১০৬ মিনিটে দারুণ দলীয় বোঝাপড়ায় তোরেস বল জালে জড়ালে শেষ পর্যন্ত আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি স্কালোনির শিষ্যরা। পুরো ম্যাচে ছন্নছাড়া ফুটবল খেলা আর্জেন্টিনা নিজেদের রক্ষণ জমাট রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও স্পেনের কৌশলী এবং গতিশীল ফুটবলের কাছে হার মানতে বাধ্য হয়, আর সেই সুবাদেই বিশ্ব ফুটবল পেয়ে যায় তাদের নতুন চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে।


প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে স্পেনের দাপট

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং শক্তিশালী স্পেন। রুদ্ধশ্বাস এই ফাইনালের আগে মাঠের বাইরের আয়োজনও ছিল বেশ জমজমাট ও আকর্ষণীয়। দুই দেশের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের দুই মহানায়ক—আর্জেন্টিনার মারিও কেম্পেস এবং স্পেনের আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা মাঠে বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে আসেন এবং দর্শকদের সামনে সেটি উঁচিয়ে ধরেন। এরপর হলিউড সুপারস্টার টম ক্রুজ মাঠে দাঁড়িয়ে এক আবেগঘন বক্তব্য প্রদান করেন। অস্কারজয়ী শিল্পী জেনিফার হাডসনের কণ্ঠে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা, যেখানে আরও পারফর্ম করেন বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পী রবি উইলিয়ামস, নিকোল শেরজিঙ্গার ও লরা পাউসিনি।

ফাইনালের মতো এমন গুরুত্বপূর্ণ ও চাপের ম্যাচে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে তাঁর দলে কোনো পরিবর্তন আনেননি। সেমিফাইনালের অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে স্পেন। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি তাঁর শুরুর একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনেছেন। নাহুয়েল মলিনা, লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও জুলিয়ানো সিমিওনেকে বেঞ্চে বসিয়ে তাঁদের জায়গায় দলে ফিরিয়েছেন গঞ্জালো মন্তিয়েল, রদ্রিগো দি পল ও নিকো গঞ্জালেজকে। শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে দলের সেরা তারকাদের নিয়েই শক্তিশালী একাদশ সাজিয়েছেন বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করে স্পেন। একেবারে শুরুর দিকেই দারুণ এক আক্রমণে গিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সহজ সুযোগ পেয়েছিল স্প্যানিশরা, কিন্তু লামিন ইয়ামাল গোল করতে ব্যর্থ হন। তাঁর সেই প্রচেষ্টা দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। এরপর প্রথম হাইড্রেশন ব্রেক পর্যন্ত মাঠজুড়ে কেবল স্পেনের দাপট ও পাসের প্রদর্শনীই দেখা গেছে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ধীরে ধীরে গুছিয়ে নিয়ে আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করলেও, বল পেতেই তাদের বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল এবং স্পেনের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে তারা নিজেদের সেভাবে মেলে ধরতে পারছিল না।

বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথমার্ধে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে রীতিমতো নিষ্প্রভ ও ছন্নছাড়া মনে হয়েছে। প্রথমার্ধে স্পেন যেখানে ৩টি শট নিয়ে ২টিই লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়েছে, সেখানে আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেনি। এর মধ্যেই মিকেল ওইয়ারসাবালকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। পরবর্তীতে ৪৪ মিনিটের মাথায় লাল কার্ড দেখা লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে তুলে নিয়ে তাঁর জায়গায় নিকোলাস ওতামেন্দিকে মাঠে নামান কোচ স্কালোনি। পরিসংখ্যানে আর্জেন্টিনার ৬৫ শতাংশ বল দখলের কথা থাকলেও, প্রথমার্ধের পুরোটা সময় মাঠের দাপটে স্পেনই এগিয়ে ছিল এবং নিজেদের খুঁজে পেতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের রীতিমতো সংগ্রাম করতে দেখা গেছে।


রুদ্ধশ্বাস জয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোহরাব শাহরিয়ার অভি

রান তাড়ায় নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল মন্থর। পাওয়ার প্লে শেষ হতেই চড়াও হন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন। বাঁহাতি ব্যাটার ইমন ফিরলেও তানজিদকে যোগ্য সঙ্গ দেন দলনেতা তাওহীদ হৃদয়। ততক্ষণে জয়ের বন্দরেই অবস্থান করছিল টাইগাররা!

কিন্তু শেষ ওভারে দরকার যখন ৫ রান, তখন দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়েকে জয়ের স্বপ্ন দেখান ব্র্যান্ড ইভান্স। পেতে পারতেন হ্যাটট্রিকও! এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েছিলেন শেখ মেহেদী হাসান। কিন্তু বলটি ডেড ঘোষণা করেন আম্পায়ার। পরে আর ভুল করেননি মেহেদী। চার হাঁকিয়ে দলকে জয়ের স্বাদ এনে দেন তিনি।

টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে সংগ্রহ করেছিল ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৩ রান। পরে সহজ লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেট হারিয়ে তানজিদ তামিমের ব্যাটে ভর করে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ দল। ফলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিল টাইগাররা।

১৪৪ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ৫ বলে মাত্র ৪ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন ওপেনার সাইফ হাসান। আর পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়া ১ উইকেটে মাত্র ৩০ রান।

তবে পরের উইকেটে দারুণ জুটি গড়েন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন। দুজন মিলে তোলেন ৫৫ রান। হৃদয়ের সঙ্গে তানজিদের জুটিটা ৬৩ রানের। ততক্ষণে জয়ের ভিত পেয়ে যায় টাইগাররা। ইমন ও হৃদয় দুজনই ফিরেছেন ২৪ রান করে। আর আউট হওয়ার আগে ১০ রান করেন ইয়াসির আলি রাব্বি। শেষ ওভারে ফেরেন মোসাদ্দেক ও সাইফউদ্দিন।

এদিকে শেখ মেহেদীকে নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন তানজিদ। ব্যক্তিগত ফিফটি পূরণের পর তিনি অপরাজিত থাকেন ৬৬ রানে। এদিকে ৪ রানে অপরাজিত থাকেন মেহেদী।

বুলাওয়েতে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন জিম্বাবুইয়ান অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। দলীয় ৬ রানেই ওপেনিং জুটি ভাঙেন বাংলাদেশের স্পিনার শেখ মেহেদী হাসান। দ্বিতীয় উইকেটে ভালো জুটি পায় স্বাগতিকরা। ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ও ডিওন মায়ার্স মিলে গড়েন ৭১ রানের জুটি। ৩৮ বলে ৪৭ রানে থামেন বেনেট।

এদিকে ফিফটির দেখা পেয়েছেন মায়ার্স। তার ইনিংস থামে ৭২ রানে। ৫২ বলে খেলা এই অনবদ্য ইনিংসটি সাতটি চার ও দুটি ছয়ে সাজানো।

এরপর বাংলাদেশের বোলারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে সুবিধা করতে পারেননি কেউই। শেষ পর্যন্ত আর কেউই ব্যক্তিগত রান দুই অঙ্কের ঘরে নিতে যেতে পারেননি। দলনেতা সিকান্দার রাজা ৩, রায়ার্ন বার্ল ৭, ব্র্যান্ড ইভান্স ১ ও ক্লাইভ মাদানদে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন। আর মিল্টন সুম্বা ৪ ও মাপোসা শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন।

বাংলাদেশের হয়ে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন। আর একটি করে উইকেট পেয়েছেন তিনজন বোলার।


আইসিসির ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞায় পাকিস্তানি অলরাউন্ডার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ডোপিং বিধি ভঙ্গের দায়ে পাকিস্তানের ৩২ বছর বয়সী তারকা অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নওয়াজকে তিন মাসের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করেছে। ডোপ টেস্টে নিষিদ্ধ গাঁজাসংশ্লিষ্ট উপাদানের উপস্থিতি ধরা পড়ায় তাঁকে এই শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে। গত শুক্রবার আইসিসির পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পাকিস্তানের ম্যাচের পর তাঁর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেখানেই মূলত এই নিষিদ্ধ উপাদানের উপস্থিতি প্রমাণিত হয়।

আইসিসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংগৃহীত সেই নমুনায় কার্বক্সি-টিএইচসি নামক উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এটি মূলত গাঁজার মনঃপ্রভাবকারী উপাদান টিএইচসির একটি বিপাকজাত অংশ, যাকে আইসিসির অ্যান্টি-ডোপিং বিধিমালায় 'সাবস্ট্যান্স অব অ্যাবিউজ' বা অপব্যবহারযোগ্য পদার্থ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তবে নওয়াজ তাঁর বিরুদ্ধে আনা ডোপিং বিধি ভঙ্গের এই অভিযোগটি অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি আইসিসির কাছে এটিও প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন যে, ওই নিষিদ্ধ উপাদানটি তিনি কোনো প্রতিযোগিতার সময় কিংবা মাঠে নিজের ক্রীড়া পারফরম্যান্স বৃদ্ধির অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেননি। তাঁর এই স্বীকারোক্তি এবং প্রমাণের ভিত্তিতেই শাস্তির মাত্রা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

নওয়াজকে দেওয়া আইসিসির এই তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা গত ১ মে থেকে কার্যকর হিসেবে ধরা হয়েছে, কারণ সেদিন থেকেই তিনি স্বেচ্ছায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মেনে নিয়ে মাঠের বাইরে ছিলেন। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আরও জানিয়েছে যে, এই পাকিস্তানি অলরাউন্ডার ইতোমধ্যে তাঁর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার প্রায় আড়াই মাস সফলভাবে কাটিয়ে ফেলেছেন। এছাড়া তিনি আইসিসি নির্দেশিত একটি বিশেষ পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নিতে সম্মত হওয়ায় তাঁর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুনর্বাসন কর্মসূচির শর্তগুলো সঠিকভাবে পূরণ করতে পারলে তাঁর জন্য নির্ধারিত এই শাস্তির প্রক্রিয়াটি আরও মসৃণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে আইসিসির ডোপিং বিধিমালা অনুযায়ী এই শাস্তির একটি বড় প্রভাব পড়েছে নওয়াজের ব্যক্তিগত রেকর্ডের ওপর। গত ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচ থেকে শুরু করে ১ মে পর্যন্ত তিনি যতগুলো ম্যাচ খেলেছেন, সেগুলোর ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের সব রেকর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হয়ে উদ্বোধনী ম্যাচ থেকে শুরু করে সুপার এইট পর্যন্ত মোট সাতটি ম্যাচেই মাঠে নেমেছিলেন নওয়াজ। টুর্নামেন্ট থেকে পাকিস্তান সুপার এইটে বিদায় নেওয়ার আগে তিনি ব্যাট হাতে মাত্র ১৫ রান করার পাশাপাশি বল হাতে ৭টি উইকেট শিকার করেছিলেন, যা এখন তাঁর ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান থেকে মুছে যাচ্ছে।


ওমানে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ নারী হকি দল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য এক অভাবনীয় ও দারুণ আনন্দের সংবাদ বয়ে এনেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। ওমানে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ এএইচএফ কাপ হকির ফাইনালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ নারী হকি দল। শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত শিরোপা নির্ধারণী এই মেগা ফাইনালে শক্তিশালী কাজাখস্তানকে ২-০ গোলের পরিষ্কার ব্যবধানে পরাজিত করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ফুটবলের বিশ্ব আসরের ডামাডোলের মধ্যেই মেয়েদের এই অবিস্মরণীয় আন্তর্জাতিক সাফল্য দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের উৎসবের আনন্দকে যেন বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশে ঐতিহ্যগতভাবে হকির সংস্কৃতি বেশ পুরোনো এবং সমৃদ্ধ হলেও নারী হকির প্রচলন খুব বেশি দিনের নয়। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশের মেয়েরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের শক্তিমত্তার দারুণ প্রমাণ দিতে শুরু করেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সিনিয়র জাতীয় নারী হকি দল প্রথমবারের মতো কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল এবং সেখানেও তারা অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে। এশিয়ান গেমসের বাছাই টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলে রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করার পাশাপাশি নিজেদের যোগ্যতায় মূল এশিয়ান গেমসে খেলাও নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। নারী হকির এই ধারাবাহিক উত্থান দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।

সিনিয়র জাতীয় দলের সেই অসামান্য সাফল্যের রেশ ধরেই এএইচএফ কাপ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টে দল পাঠানোর সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। ফেডারেশনের এই আস্থার প্রতিদানও মেয়েরা মাঠে দিয়েছে কড়ায়-গণ্ডায়। এই টুর্নামেন্টে একটি ম্যাচেও না হেরে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনন্য কীর্তি গড়েছে বাংলাদেশ দল। জানা গেছে, নারী অনূর্ধ্ব-২০ দলের এই স্কোয়াডে সিনিয়র জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ও প্রতিভাবান খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাদের এই অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা পুরো দলকে টুর্নামেন্টজুড়ে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে এবং শিরোপা জয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।


সেপ্টেম্বরেই চূড়ান্ত হবে ভাগ্য: ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি মূল পর্বে খেলার অপেক্ষায় বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৭ সালে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন নিয়ে এখন ক্রিকেট অঙ্গনে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, এই বিশ্বকাপে মোট ১০টি দল সরাসরি মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাবে, যার মধ্যে আয়োজক দেশ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে আগে থেকেই নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে রেখেছে। আগামী সেপ্টেম্বরের শেষদিকে আইসিসি র‍্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে সরাসরি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। যেহেতু আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা বর্তমানে র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষ দশে রয়েছে, তাই র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষ ৯-এ থাকা দলগুলো সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার টিকিট পাবে। এই সমীকরণে সরাসরি যোগ্যতা অর্জনের ক্ষেত্রে বর্তমানে মূল লড়াইটা চলছে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে। সর্বশেষ র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৮৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ অবস্থান করছে ৯ নম্বরে এবং ৭৫ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ঠিক পরেই ১০ নম্বরে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাই সেপ্টেম্বরের আগে নিজেদের এই অবস্থান ধরে রাখতে পারলেই সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে টাইগাররা।

যদি সরাসরি মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়, তবে টেস্ট খেলুড়ে একাধিক দলকে কঠিন বাছাইপর্বের বাধা পার হতে হবে। ক্রিকইনফোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শুরুতেই অনুষ্ঠিত হবে এই বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব। বিগত আসরগুলোর মতোই এবারের বাছাইপর্বে মোট ১০টি দল অংশ নেবে। অংশগ্রহণকারী এই দলগুলোকে শুরুতে দুটি ভিন্ন গ্রুপে ভাগ করা হবে। গ্রুপ পর্বের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে প্রতিটি গ্রুপ থেকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ তিনটি করে দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে ‘সুপার সিক্স’ রাউন্ড। এই বাছাইপর্বের শিরোপাধারী বা চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি টুর্নামেন্টের ১১তম দল হিসেবে মূল বিশ্বকাপে নিজেদের জায়গা পাকা করে নেবে। তবে বাছাইপর্ব খেলা মানেই যে দলগুলো মূল বিশ্বকাপে বা নতুন নিয়মের ‘সুপার সিরিজে’ খেলার সুযোগ পাবে, বিষয়টি তেমন নয়; এর জন্য দলগুলোকে নির্দিষ্ট ধাপ সাফল্যের সঙ্গে অতিক্রম করতে হবে।

আইসিসি এবার বিশ্বকাপের কাঠামোতে বেশ কিছু অভিনব পরিবর্তন এনেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো ‘সুপার সিরিজ’। বাছাইপর্ব থেকে চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি বিশ্বকাপে গেলেও, রানার্সআপ অর্থাৎ দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান অধিকারী দলগুলোকে নিয়ে টুর্নামেন্টের ঠিক আগেই ৩ দলের একটি বিশেষ ‘সুপার সিরিজ’ আয়োজন করবে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এই তিন দলের মধ্যকার লড়াইটি হবে বিশ্বকাপের সর্বশেষ বা ১২তম দল হিসেবে মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার চূড়ান্ত পরীক্ষা। সুপার সিরিজের এই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচগুলো শেষে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা সেরা দলটিকে নিয়ে মোট ১২ দলের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের চূড়ান্ত বিশ্বকাপ আসর। আইসিসির এই নতুন কাঠামোর ফলে বাছাইপর্বে অল্পের জন্য চ্যাম্পিয়ন হতে ব্যর্থ হওয়া দলগুলোও বিশ্বকাপে যাওয়ার আরও একটি রোমাঞ্চকর সুযোগ পাবে।

প্রাথমিক পরিকল্পনায় ২০২৭ বিশ্বকাপে ১৪টি দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করে খেলানোর কথা থাকলেও, সম্প্রতি আইসিসি এই সিদ্ধান্তে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাছাইপর্ব ও সুপার সিরিজ পেরিয়ে আসা দলগুলোকে নিয়ে মোট ১২ দলের মূল বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে। মূল আসরে এই ১২টি দলকে দুটি গ্রুপে বিভক্ত করা হবে। গ্রুপ পর্বের খেলা শেষে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ তিনটি দল এবং বাকি দলগুলোর মধ্য থেকে সামগ্রিক পারফরম্যান্সে এগিয়ে থাকা পরবর্তী সেরা একটি দল—সব মিলিয়ে মোট ৭টি দল জায়গা করে নেবে ‘সুপার সেভেন’ রাউন্ডে। এরপর সুপার সেভেনের দলগুলো একে অপরের মুখোমুখি হবে এবং এই পর্ব শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ চার দল মর্যাদাপূর্ণ সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। আইসিসির এই নতুন ও পরিবর্তিত ফরম্যাট টুর্নামেন্টকে যেমন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলবে, তেমনি দর্শকদের জন্যও উপহার দেবে বাড়তি উন্মাদনা।


banner close