বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

ঢাকায় আসছেন নোবেল বিজয়ী কৈলাস সত্যার্থী

কৈলাস সত্যার্থী
আপডেটেড
২৪ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৬:১১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ও ভারতের শিশু অধিকার কর্মী কৈলাস সত্যার্থী ঢাকায় আসছেন। দেশের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রথম সমাবর্তনে তিনি সমাবর্তন বক্তা হিসেবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন। এই সমাবর্তনে প্রধান অতিথি থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

আগামী ৩১ জানুয়ারি রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে এই সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম সমাবর্তন হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাই উদ্বেলিত। রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে ডিগ্রি নেয়ার অপেক্ষায় আছেন ডিগ্রিধারীরা।

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বলেন, সমাবর্তনের দিনটি আমাদের জন্য এক বিশেষ মাইলফলক। কারণ এই অল্প সময়ের মধ্যে আমরা শিক্ষার্থীদের হাতে সমাবর্তনের মাধ্যমে তাদের শিক্ষাজীবনের বিশেষ দিনটির মাধ্যমে সার্টিফিকেট তুলে দিতে পারছি। আমাদের এই আয়োজনে শিক্ষার্থীরা মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও একজন নোবেল বিজয়ীকে কাছে পাবেন। এর জন্য আমি আমাদের ফ্যাকাল্টি, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, অ্যালামনাইসহ সিইউবি-সংশ্লিষ্ট সবার কাছে কৃতজ্ঞ।

ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত আরো বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে তুলছি আমরা এবং এতে থাকবে আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় ভবন, দৃষ্টিনন্দন লেক এবং বিশাল খেলার মাঠ। আর এটি হবে পরিবেশবান্ধব একটি ক্যাম্পাস। সর্বাধুনিক ল্যাব, স্টুডিও, লাইব্রেরি, থিয়েটার, স্টাডি জোনের সঙ্গে থাকছে শিক্ষার্থী লাউঞ্জ, অবসর কাটানোর জায়গা, জিম, ফুড লাউঞ্জসহ বিভিন্ন সুবিধা। বিশ্বমানের স্থাপত্য নকশায় গড়ে তোলা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টির নান্দনিক স্থায়ী ক্যাম্পাস।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এইচ এম জহিরুল হক জানান , শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের পূর্ণতা দেয় সমাবর্তন। সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় দিন। প্রথমবারের মতো এই আয়োজনে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েটরা তাদের শিক্ষাজীবন শেষ করেই মহামান্য রাষ্ট্রপতির হাত থেকে তাদের সার্টিফিকেট নিবেন। এ এক বিশাল অর্জন।

দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে রয়েছে আধুনিক সময়ের উপযোগী বিভিন্ন বিভাগ। শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে রয়েছে বৃত্তির সুযোগ। ইনফরমেশন সিস্টেমস অডিট অ্যান্ড কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা আছে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের। এ ছাড়া কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত আছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংগতি রেখে সাজানো হয়েছে পাঠ্যক্রম।


রাবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি কাইয়ুম, সম্পাদক লোটাস

সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম তৌসিফ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর লোটাস।
আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৫:৫৩
রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (রাবিসাস) ২০২৩-২৪ সালের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বাংলা ট্রিবিউনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আব্দুল কাইয়ুম তৌসিফকে সভাপতি ও দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি আব্দুস সবুর লোটাসকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনে সংগঠনটির কার্যালয়ে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করেন সংগঠনটির সাবেক সভাপতি ও দৈনিক বাংলা পত্রিকার রাজশাহী ব্যুরো প্রধান এনায়েত করিম।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সহসভাপতি-১ সাইফুর রহমান (ডিবিসি নিউজ), সহসভাপতি-২ নোমান ইমতিয়াজ (দেশ রূপান্তর), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহানুর রহমান রাফি (ইউএনবি), কোষাধ্যক্ষ রিপন চন্দ্র রায় (আজকের পত্রিকা), সাংগঠনিক সম্পাদক আসিফ আজাদ সিয়াম (দৈনিক বাংলা), দপ্তর সম্পাদক ইরফান তামিম (ঢাকা মেইল), প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক গোলাম রববিল (কালের কণ্ঠ), ক্রীড়া সম্পাদক আব্দুল আহাদ (নিউ এইজ), সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক অর্পণ ধর (সকালের সময়), কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন (সিল্কসিটি নিউজ), কার্যনির্বাহী সদস্য-১ মীর কাদির (বাংলানিউজ২৪ ডটকম), কার্যনির্বাহী সদস্য-২ সাজিদ হোসেন (চ্যানেল আই অনলাইন) ও কার্যনির্বাহী সদস্য-৩ সিরাজুল ইসলাম সুমন (বাংলাদেশ জার্নাল) এবং কমিটির সম্মানিত সদস্য হিসেবে রয়েছেন, মেহেদী হাসান আকাশ (বাংলাভিশন) ও মরিয়ম পলি।

এ ছাড়া সংগঠনের সদ্য বিদায়ী সভাপতি নুরুজ্জামান খান (সমকাল) ও সাধারণ সম্পাদক নূর আলমকে (আলোকিত বাংলাদেশ) উপদেষ্টা-১ ও উপদেষ্টা-২ হিসেবে রাখা হয়েছে।

কমিটি ঘোষণার সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিদায়ী কমিটির উপদেষ্টা শাহীন আলম (সময়টিভি), রাবিসাসের সাবেক সহসভাপতি আমজাদ হোসেন শিমুল (কালবেলা, রাজশাহী ব্যুরো) ও সাবেক সভাপতি সুজন আলী (নিউ এইজ, নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী)।

এদিকে নবগঠিত কমিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে রাবি প্রশাসন, রাবি শিক্ষক সমিতি, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন, রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটি, রাবি প্রেসক্লাব, রাবি ছাত্রলীগ ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সংগঠন।


‘যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয়’ মেলায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রশংসায় রাষ্ট্রদূত

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয় মেলার উদ্বোধন করেছেন। সম্ভাব্য শিক্ষার্থী ও যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এই মেলায় অংশ নিয়েছে। মার্কিন দূতাবাস দেশটির শিক্ষা প্লাটফর্মের আওতায় যৌথভাবে মেলাটির আয়োজন করেছে।

রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সারা দেশের প্রায় সাড়ে তিন হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এতে অংশ নেয়। মঙ্গলবার মার্কিন দূতাবাসের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রদূত পিটার হাস আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সাফল্যের প্রশংসা করে বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশিদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা দেখে রোমাঞ্চিত। যারা তাদের সম্ভাবনা উন্নত করতে এবং তাদের আবেগ খুঁজে পেতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পড়াশোনা করতে বেছে নিয়েছে। এই শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যবান অবদান রাখে।’

এ ছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যার বিষয়টি তুলে ধরে জানান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থী প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ১৩তম।

এ ছাড়া ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এবারই প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয় মেলার আয়োজন করেছিল। এই মেলা চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু বে ভিউ হোটেলে ২৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ঢাকা ও চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয় মেলায় আগত শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক ও শিক্ষা বিষয়ক পরামর্শকরা যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিবিষয়ক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় তথ্য জানার সুযোগ পেয়েছেন।

মেলায় অংশগ্রহণকারী আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আছে কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটি, আইওয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনা, ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যার, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ডাকোটা, ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস ইত্যাদি।

আগতরা উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের জন্য আমেরিকায় যাওয়ার আবেদনের প্রক্রিয়া নিয়ে আয়োজিত অধিবেশনগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তা ও এডুকেশনইউএসএ-র পরামর্শকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পেরেছেন।


আন্দোলনের মুখে চবি সিন্ডিকেট নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

ডিন, শিক্ষক সমিতি ও হলুদ দলের অব্যাহত দাবির মুখে অবশেষে সিন্ডিকেটে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) প্রশাসন। তফসিল অনুযায়ী আগামী ৬ মার্চ অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে ভোট হবে।

মঙ্গলবার সকালে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত) ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহবুব হারুন চৌধুরী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন ও বিধিবিধান শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. মোজাম্মেল হক দৈনিক বাংলাকে বলেন, সিন্ডিকেটে চারটি পদে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৬ মার্চ ভোট নেয়া হবে।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন দেওয়ার দাবিতে উপাচার্যকে চিঠি দেয় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক সমিতি এবং আওয়ামী ও বামপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন হলুদ দল।

গত বছর ২১ সেপ্টেম্বর সিন্ডিকেটে ডিন ক্যাটাগরিতে নির্বাচন চেয়ে উপাচার্যকে চিঠি দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আট অনুষদের ডিন। এর ২২ দিন পরও নির্বাচনের কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় এ বিষয়ে উপাচার্যের কাছে জানতে চান ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক হেলাল উদ্দীন নিজামী। এ নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বক্তব্য দেয়ায় ডিনকে ব্যাখ্যা দিতে চিঠি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

একই বছর ৩ নভেম্বর সিন্ডিকেটে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক ক্যাটাগরিতে নির্বাচন দিতে উপাচার্যকে চিঠি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। চিঠিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য এক মাস সময় বেঁধে দেওয়া হয়।

এর ১১ দিন পর গত বছর ১৪ নভেম্বর সিন্ডিকেটে শিক্ষক প্রতিনিধি ছাড়া আর কোনো সভা না করতে উপাচার্যকে চিঠি দেয় আওয়ামী ও বামপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন হলুদ দল।

সর্বশেষ গত ১৬ জানুয়ারি সিন্ডিকেট নির্বাচনসহ বেশ কয়েকটি দাবি তুলে মানববন্ধন করে চবি শিক্ষক সমিতির একাংশ। মানববন্ধন থেকে সাত কর্মদিবসের আল্টিমেটাম দেয়া হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্যদের পদ শূন্য হয়ে পড়া নিয়ে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর দৈনিক বাংলায় ‘চবি সিন্ডিকেটের আট পদই শূন্য, নেই নির্বাচিত শিক্ষক প্রতিনিধি’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।


প্রথম সমাবর্তন, উদ্বেলিত শিক্ষার্থীরা

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে আজ। এ উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় সমাবর্তন প্রস্তুতি। আজ এই মিলনায়তনেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছ থেকে সনদ নেবেন গ্র্যাজুয়েটরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফাহমিদা তাপসী

বিদ্যা অর্জনের সীমা-পরিসীমা টানা কঠিন। পুরো জীবনটাই তো শিক্ষা সফর। তবুও একটা নির্দিষ্ট শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে আসে শিক্ষা সমাপ্তির সনদ। প্রতীক্ষিত সে দিনটিই সমাবর্তনের দিন। বহুল আকাঙ্ক্ষিত সে সনদ গ্রহণ করতে আসার দিনটি উৎসবের মতো বটে। জীবনের অনেক বড় চাওয়া পূরণের দিন, অর্জনের ঝুলিতে প্রাপ্তি জমা রাখার দিনও।

কনভোকেশন বা সমাবর্তনের মতো চমৎকার দিনটি ছাত্রছাত্রীদের জন্য যেমন বিশেষ, তেমনি বিশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও। সেই সঙ্গে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর প্রথম সমাবর্তন যে আরও বিশেষত্ব বহন করে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (সিইউবি) প্রথম সমাবর্তন রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আজ ৩১ জানুয়ারি ২০২৩। চমকপ্রদ খবর হচ্ছে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে এ আয়োজনে উপস্থিত থাকবেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ও ভারতের শিশু অধিকারকর্মী কৈলাস সত্যার্থী। এ ছাড়া সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

প্রথম সমাবর্তন হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাই আনন্দে উদ্বেলিত। সমাবর্তন মানে বিশেষ পোশাক পরে টুপি ওড়ানোর দৃশ্য, বিশ্ববিদ্যালয়-জীবনের সমাপ্তি টেনে সনদ গ্রহণের দিন।

রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে আজ ডিগ্রি নেয়ার অপেক্ষায় আছেন সিইউবির ডিগ্রিধারীরা। কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত জানান, ‘সমাবর্তনের দিনটি আমাদের জন্য এক বিশেষ মাইলফলক। কারণ আমরা শিক্ষার্থীদের হাতে সমাবর্তনের মাধ্যমে তাদের শিক্ষাজীবনের বিশেষ দিনটির মাধ্যমে সনদ তুলে দিতে পারছি। আমাদের এই আয়োজনে শিক্ষার্থীরা মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও একজন নোবেল বিজয়ীকে কাছে পাবেন। এ জন্য আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, অ্যালামনাইসহ সিইউবি-সংশ্লিষ্ট সবার কাছে কৃতজ্ঞ।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এইচ এম জহিরুল হক জানান, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের পূর্ণতা দেয় সমাবর্তন। সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় দিন। প্রথমবারের মতো এই আয়োজনে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েটরা তাদের শিক্ষাজীবন শেষ করেই মহামান্য রাষ্ট্রপতির হাত থেকে তাদের সার্টিফিকেট নেবেন। এ এক বিশাল অর্জন।

সমাবর্তন বক্তা নোবেল বিজয়ী কৈলাস সত্যার্থী

কৈলাস সত্যার্থী, শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী। তবে তার পরিচয় এতটুকুতেই সীমাবদ্ধ না। বাংলাদেশের পরম বন্ধু তিনি। শিশুদের জন্য কাজ করেন, তরুণদের নিয়ে স্বপ্ন দেখেন। তার বিশ্বাস, তরুণরাই পৃথিবীকে এগিয়ে নিয়ে যাবে সমৃদ্ধির দিকে। অধিকার রক্ষায়ও এগিয়ে থাকবে তরুণসমাজ।

মধ্যপ্রদেশের বিদিশায় জন্মগ্রহণকারী ভারতীয় শিশু অধিকারকর্মী ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী কৈলাস সত্যার্থী। ১৯৯০-এর দশক থেকে ভারতে শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। তার সংগঠন ‘বাচপান বাঁচাও’ আন্দোলন ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৮০ হাজারেরও অধিক শিশুকে ক্রীতদাসত্বের বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে মুক্ত করেছে এবং তাদের পুনর্মিলন, পুনর্বাসন ও শিক্ষায় সহযোগিতা করেছে। ফলশ্রুতিতে তাকে ২০১৪ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

২০১৬ সাল থেকে কৈলাস সত্যার্থীর উদ্যোগে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গৃহীত হয়েছে ‘১০০ মিলিয়ন ফর ১০০ মিলিয়ন’ ক্যাম্পেইন। সুবিধাবঞ্চিত ১০ কোটি শিশু-কিশোর-যুবকের জীবনমান উন্নয়নে বিশ্বের যুবসম্প্রদায়ের ১০ কোটিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে এই প্রচারণায়। বাংলাদেশ থেকে এই প্রচারণার অংশের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে গণসাক্ষরতা অভিযান।

নোবেলজয়ী এই ব্যক্তিত্ব কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তা হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যুক্ত হতে পেরে আমি রোমাঞ্চিত। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তরুণরা যেকোনো জাতি বিনির্মাণে একেকটা ব্লক বা ইটের মতো। যদি আমরা তরুণদের পেছনে যথেষ্ট বিনিযোগ না করি তাহলে আমরা টেকসই সমাজ গড়তে পারব না।’

কৈলাস সত্যার্থী বলেন, ‘এই দেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের, যিনি বলিষ্ঠ কণ্ঠে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন। তিনি আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি, যার ভিত্তি গণতন্ত্র ও সমতার নীতির ওপর নির্মিত। বঙ্গবন্ধুর সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ এ দেশের মানুষের জন্য সব সময় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।’

সব গ্রাজুয়েট এবং তাদের শিক্ষকদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের যৌথ পরিশ্রম এবং সংকল্প জীবনের এই গর্বিত মুহূর্তটি নিয়ে এসেছে। আমি বিশ্বাস করি, এখানকার প্রত্যেক শিক্ষার্থী নেতা, উদ্ভাবক এবং সমস্যার সমাধানকারী। তারুণ্যের শক্তি সমগ্র বিশ্বের কাছেই সম্পদ। আপনাদের প্রত্যেকেরই সে ক্ষমতা রয়েছে, যা দ্বারা নিজেদের আলাদা হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন। চলুন আমরা এখন প্রতিজ্ঞা করি; গণতন্ত্র, সমতা এবং অটল ন্যায়বিচারের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমে বিশ্বদরবারে নিজেদের উপস্থাপন করার।’

শিক্ষানুরাগী চৌধুরী নাফিজ সরাফাত

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারর‌্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বাংলাদেশের সফল শিল্পোদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও সমাজসেবক। বাংলাদেশের এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে একজন ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার হিসেবে তার বিশেষ অবদান রয়েছে। সততা ও কঠোর পরিশ্রমের কারণে ব্যবসায়ী সমাজে তিনি সমাদৃত।

শিক্ষানুরাগী হিসেবে ড. নাফিজ সরাফাত সুপরিচিত। শিক্ষা খাতে তার সফল বিচরণ উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি লাভ করেছে। কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ মূলত তার পরিকল্পিত ‘কানাডিয়ান এডুকেশন হাব’-এর অংশ। সরকার অনুমোদিত এ বিশ্ববিদ্যালয় কানাডার আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা অনুসরণে দেশের শিক্ষা খাতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। পূর্বাচলে অবস্থিত কানাডিয়ান এডুকেশন হাবের অংশ হিসেবে আরও কিছু প্রকল্পের কাজ চলমান।

শিক্ষা খাতকে অনেক দূর এগিয়ে নেয়ার স্বপ্ন দেখেন ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। সে স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠান তার স্বপ্নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেয়ার পথ সুগম করেছে।

একনজরে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

২০১৬ সালে যাত্রা শুরু হয় কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের। আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় আগামী প্রজন্মকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলাই বিশ্ববিদ্যালয়টির লক্ষ্য। আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা অনুসরণ, আন্তর্জাতিক চাহিদাসম্পন্ন বিষয়ে অধ্যয়নের সুযোগ, আধুনিক ভবন, দৃষ্টিনন্দন লেকের পাশে মনোরম পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ, বিশাল খেলার মাঠসহ পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস নিয়ে চালু হয় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রম। এ ছাড়া বিশ্বমানের গবেষণাগার, আধুনিক স্টুডিও, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, স্টাডি জোন, শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা স্টাডি লাউঞ্জ, অবসর কাটানোর স্থান, জিম, ফুড লাউঞ্জসহ নানাবিধ সুবিধা-সংবলিত বিশ্বমানের স্থাপত্য নকশায় গড়া এ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস।

বিশ্বমানের শিক্ষক, পড়াশোনার আধুনিক পদ্ধতি চালু থাকার কারণে এখানে শিক্ষার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। ইনফরমেশন সিস্টেমস অডিট অ্যান্ড কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা আছে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের। এ ছাড়া কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত আছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংগতি রেখে সাজানো হয়েছে পাঠ্যক্রম।

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের জন্য মেধার ভিত্তিতে বিশেষ বৃত্তি ও উপবৃত্তি দেয়ার কার্যক্রমও চালু রেখেছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থী কমপক্ষে ৪০ শতাংশ শর্তহীন বৃত্তি পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হন। আর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা বিবেচিত হন শতভাগ বৃত্তি পাওয়ার যোগ্য হিসেবে। এ ছাড়া সব বিষয়ে এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা উপবৃত্তি এবং টিউশন ফির ক্ষেত্রে শতভাগ ছাড় পেয়ে থাকেন।

পড়াশোনার পাশাপাশি সংস্কৃতি চর্চা, বুদ্ধির চর্চা, খেলাধুলা ইত্যাদিতেও জোর দিয়ে থাকে সিইউবি। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সক্রিয় রয়েছে বেশ কয়েকটি সাংস্কৃতিক ক্লাব। যার মধ্যে রয়েছে- ডিবেট ক্লাব, ইংলিশ ক্লাব, সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ক্লাব, স্পোর্টস ক্লাব, মুটিং ক্লাব, ফিল্ম ও ড্রামা ক্লাব। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ বিভাগের অধীনে বছরব্যাপী নানারকম সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। এ ছাড়া দেশের বাইরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ ও পুরস্কার জিতে আসার কারণে বিশ্বব্যাপী কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় সুনাম কুড়িয়েছে।


শর্ত পূরণ হয়নি, ফের আন্দোলনে চবি শিক্ষার্থীরা

শর্ত পূরণ না হওয়ায় ফের আন্দোলনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩ ১২:২৩
প্রতিনিধি, চবি

বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে শর্ত পূরণ না হওয়ায় ফের আন্দোলনে ফিরেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে মূল গেটে তালা লাগিয়ে অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন তারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চারুকলাকে মূল ক্যাম্পাসে স্থানান্তরে তারা যেসব শর্ত দিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার কোনোটিই পূরণ করেননি। ফলে তারা এক প্রকার বাধ্য হয়েই আবারও আন্দোলনে নেমেছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মো. শহীদ বলেন, আমাদের মূল দাবি পূরণে কিছু শর্ত দিয়ে সময় বেঁধে দিয়েছিলাম, কিন্তু সেই সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের কোনো শর্তই পূরণ করেননি। মেয়েদের আবাসন, ক্যানটিন ও শৌচাগারের কিছুই হয়নি। শুধু সিটি করপোরেশন পরিষ্কার কর্মসূচি চালিয়ে গেছে।

সহকারী প্রক্টর মুহাম্মদ ইয়াকুব বলেন, আন্দোলন প্রত্যাহারের পর থেকেই আমাদের প্রকৌশলী দফতরের লোক চারুকলা ইনস্টিটিউটে গিয়েছে। পরদিন মন্ত্রণালয় থেকেও গিয়েছে। তারা বলেছে এটা সংস্কার করে ক্লাস করা যাবে। ওইখানে (তথ্য কেন্দ্র) যে ভবনটি আছে, সেটি খালি করার ও মেয়েদের আবাসন ব্যবস্থা করার কথা ছিল। কিন্ত শিক্ষার্থীরা চাবি রেখে দিয়ে, কাজ করতে দেয়নি। স্থানান্তরের বিষয়ে জেলাপ্রশাসন কাজ করবে বলেছিল, আমাদের কাজ আমরা ঠিকঠাক করেছি। আমরা তাদের জন্য বাসও দিয়েছি।

কাজে বাধা দেয়ার বিষয়ে শিক্ষার্থী মো. শহীদ বলেন, এই অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা। আমরা এমন কাউকে কাজ করতে দেখি নাই। উল্টো একজন শিক্ষক কর্মচারী পাঠিয়ে আইপিএস ও ব্যাটারি খুলে নিতে চেয়েছিলেন। এটা শিক্ষার্থীরা দেয় নাই।

এর আগে গত বছরের ২ নভেম্বর থেকে ২২ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচি ও ক্লাসবর্জন শুরু করেন চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। প্রথমে প্রশাসন দাবি মানতে ইতিবাচক সাড়া দিলেও পরে ২২ দফা দাবি হঠাৎই মূল ক্যাম্পাসে ফেরার এক দফা দাবিতে রূপ নেয়।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, মূল ক্যাম্পাস ছাড়া তাদের এই ২২ দফা দাবির সবগুলো পূরণ করা সম্ভব নয়। এর বাইরে ১২ বছর ধরে দৃশ্যমান কোনো সংস্কার কিংবা অগ্রগতি তারা দেখেননি। ফলে টানা ৮২ দিন তারা আন্দোলন চালিয়ে যান। আন্দোলনের বিষয়ে গত শনিবার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা উপমন্ত্রী। সর্বশেষ ২২ জানুয়ারি জেলা প্রশাসক ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনের সঙ্গে আলোচনার পর আন্দোলন স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে ক্লাসে ফিরে যান শিক্ষার্থীরা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মূল ক্যাম্পাস শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে হাটহাজারীতে অবস্থিত। ২০১০ সালে চবি চারুকলা বিভাগ এবং চট্টগ্রাম সরকারি চারুকলা কলেজকে একীভূত করার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি চারুকলা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ২০১১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি নগরীর বাদশাহ মিয়া চৌধুরী সড়কে বর্তমান চারুকলা ইনস্টিটিউটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।


হলুদ দলের বিদ্রোহী ১১ জন, নেই বিএনপি-জামায়াত

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। নির্বাচনে ১১টি পদের বিপরীতে ২৩ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। সোমবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে দুই প্রার্থী আবেদন করলেও একজনের আবেদন নাকচ করে দেয় কমিশন।

নির্বাচনে আওয়ামী ও বামপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন হলুদ দলের মনোনীত প্রার্থী ১১ জন। দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যাও একই। তবে এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বিএনপি ও জামায়াতপন্থি সংগঠন সাদা দল। সম্প্রতি সাদা দল থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া বিএনপিপন্থি শিক্ষদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামও নেই ভোটের মাঠে। এর বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন একজন।

সোমবার নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন। এদিন দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় ছিল। বেলা ১টায় চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে কমিশন। আগামী ২ ও ৬ ফেব্রুয়ারি অগ্রিম ভোটের পর চূড়ান্ত নির্বাচন হবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি।

নির্বাচনে সভাপতি পদে মুস্তাফিজুর রহমান সিদ্দিকী, সহসভাপতি পদে মুহাম্মদ আলাউদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ পদে মুহাম্মদ আলী আরশাদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক পদে আবদুল হক, যুগ্ম সম্পাদক পদে সুলতানা সুকন্যা বাশার এবং সদস্য পদে এস এম সালমত উল্ল্যা ভূঁইয়া, লায়লা খালেদা, রেজাউল করিম, মোহাম্মদ শেখ সাদী, মো. এনামুল হক ও মৌমিতা পাল হলুদ দলের প্রার্থী হয়েছেন।

এই দলের বিদ্রোহীদের মধ্যে প্রার্থী হয়েছেন সভাপতি পদে আবদুল্লাহ মামুন ও মোহাম্মদ সহিদ উল্লাহ, সহসভাপতি পদে মোহাম্মদ আনোয়ার সাঈদ, কোষাধ্যক্ষ পদে মোহাম্মদ মীর সাইফুদ্দীন খালেদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আদনান মান্নান এবং সদস্য পদে জ্ঞান রত্ন শ্রমণ, ঝুলন ধর, মোহাম্মদ ফরিদুল আলম, মো. দানেশ মিয়া ও সজীব কুমার ঘোষ। এ ছাড়া স্বতন্ত্র হিসেবে সদস্য পদে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন রাকিবা নবী।

হলুদ দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. সেকান্দর চৌধুরী বলেন, ‘আমরা দল থেকে ১১ জনকে প্রার্থিতা দিয়েছি। এর বাইরে যারা দাঁড়িয়েছেন, তারা হলুদ দলের সদস্য। তবে দল থেকে মনোনীত না।’

এ বিষয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী অধ্যাপক আবদুল্লাহ মামুন বলেন, ‘২০১৯ সালে স্ট্যান্ডিং কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এখন তাদের মনোনয়ন দেয়ার বৈধতা নেই। আমরা কো-অর্ডিনেটিংয়ের মাধ্যমে পুরো প্যানেল দিয়েছি। যারা স্বতন্ত্র দাঁড়িয়েছে, সবাই হলুদ দলের সদস্য।’

মনোনয়ন প্রত্যাহার নিয়ে নাটকীয়তা

এদিকে সোমবার এই নির্বাচন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন হলুদ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী নির্মল কুমার সাহা। তবে অভিযোগ উঠেছে, বিদ্রোহী প্রার্থী আদনান মান্নান মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন জমা দিলেও সেটি গ্রহণ করেনি নির্বাচন কমিশন। অসুস্থতাজনিত কারণে প্রথমে অনলাইনে ও পরে লিখিত কপি পাঠালেও তা গৃহীত হয়নি।

এ নিয়ে হলুদ দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. সেকান্দর চৌধুরী বলেন, ‘অসুস্থ থাকায় আদনান মান্নান সফট কপি দিয়েছিলেন, পরে হার্ড কপিও দিয়েছেন। সফট কপি ১২টার আগে আর হার্ড কপি দিয়েছেন ১১ মিনিট পর। তারপরও তা গ্রহণ করা হয়নি। এখন স্মার্ট বাংলাদেশের যুগ। কিন্তু কী ব্যাখ্যা দিয়ে তার প্রত্যাহারপত্র গ্রহণ করা হয়নি তা কমিশনার বলতে পারবেন।’

জানতে চাইলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন বলেন, ‘উনি (আদনান মান্নান) হার্ড কপি পাঠিয়েছেন নির্দিষ্ট সময়ের পর। তাই সেটি গৃহীত হয়নি। আমরা তফসিল অনুযায়ী করেছি। তফসিলে অনলাইনে জমা নেয়ার কোনো বিষয় নেই।’

কমিশন থেকে একজনের পদত্যাগ

এদিকে একাডেমিক কাজে ব্যাঘাত ঘটছে জানিয়ে বিকেলে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেছেন নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঈন উদ্দীন। তিনি বলেন, ‘আমি পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে এসেছি। আজ আমার বিভাগের পরীক্ষা ছিল। সেখানে আমি থাকতে পারিনি। ক্লাসের প্রিপারেশনেরও একটা ব্যাপার আছে।’

বিএনপি-জামায়াতপন্থিদের নির্বাচন বর্জন

অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচন বর্জনের ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচনও বর্জন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের বিভক্ত সংগঠন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের মহাসচিব অধ্যাপক ড. নসরুল কাদির। তিনি বলেন, ‘সারা দেশে নির্বাচনের চিত্র একই। জাতীয় নির্বাচনও বয়কট করা হচ্ছে। তাই আমরা এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি না। আর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতির বর্তমান যে অবস্থা, তাতে আমরা লজ্জিত ও বিব্রত।’

কাউকে সমর্থন দিচ্ছেন কি না জানতে চাইলে নসরুল কাদির বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে বসে পরে সিদ্ধান্ত নেব।’

নির্বাচন করার মতো পরিবেশ নেই জানিয়ে বিএনপি ও জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. শামীম উদ্দিন বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে সাদা দল নির্বাচনে প্রার্থী দিচ্ছে না। বর্তমানে এত বেশি দলীয় শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে যে, নির্বাচন করার মতো কোনো অবস্থা নেই।’


ঢাবির ১১৩ শিক্ষার্থী বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার

আপডেটেড ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩ ২১:১৫
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন, অসদাচরণ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী’ বিভিন্ন অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. নাজমুল আলম ওরফে জিম নাজমুলকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ৩ জন শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে এবং ১০৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শৃঙ্খলা পরিষদের সভার সুপারিশ সোমবার অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের এক সভায় বহিষ্কারের এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান সভায় সভাপতিত্ব করেন।

সিন্ডিকেট সভায় প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালসহ সিন্ডিকেট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


পছন্দের প্রার্থী নিয়োগ না হওয়ায় চবি উপাচার্যের কার্যালয়ে ভাঙচুর ছাত্রলীগের

আপডেটেড ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩ ২০:৪১
প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

ছাত্রলীগ কর্মীকে বাদ দিয়ে জামাত-শিবির কর্মীদের শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে অভিযোগ তুলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক গ্রুপ ‘একাকার’ এর কর্মীরা।

একই সঙ্গে শাটল ট্রেন অবরোধ করে তারা।

সোমবার বিকাল চারটায় সিন্ডিকেট সভা চলাকালে ভাঙচুর চালানো হয়।

একাকার গ্রুপের নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মঈনুল ইসলাম রাসেল বলেন, ‘এখানে ছাত্রলীগের একটা গোল্ড মেডেলিস্ট ছেলে ছিল৷ ওকে না নিয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন নেতা ও জামাত-শিবির মদদপুষ্ট প্রার্থীকে নেয়া হচ্ছে। আমাদের দাবি এদেরকে বাদ দিতে হবে এবং গোল্ড মেডেলিস্টকে নিতে হবে।’

রাসেল বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত জামাত-শিবির মদদপুষ্ট প্রার্থীকে বাদ দেয়া না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত ট্রেন অবরোধ থাকবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভুইয়া বলেন, ‘এটা (ভাঙচুর) কেন হয়েছে, কী জন্য হয়েছে সেটা তদন্ত সাপেক্ষে বোঝা যাবে। আমি বোর্ডে নেই, নিয়োগের বিষয়ে এক্সপার্ট বোর্ড যাদের ভালো মনে করছে তাদের নিয়েছে। শাটলের বিষয় আমরা খতিয়ে দেখছি।’


পাঠ্যবইয়ের ভুলভ্রান্তি দেখভালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২ কমিটি

আপডেটেড ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৪:২১
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

পাঠ্যবইয়ের ভুলভ্রান্তি সংশোধন এবং ভুল হওয়ার পেছনে কারো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে দুইটি কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিগগিরই এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হবে। সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

মন্ত্রণালয়টির এক কর্মকর্তা জানান, দুটি কমিটির মধ্যে একটি বিশেষজ্ঞ অন্যটি প্রশাসনিক। এর মধ্যে বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এম ওয়াহিদুজ্জামানকে। বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে এই কমিটি করা হয়েছে। পাঠ্যপুস্তকের বিভিন্ন ভুল পর্যালোচনা করে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটি ভুল সংশোধন করবে।

অন্যদিকে প্রশাসনিক কমিটির প্রধান করা হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খালেদা আক্তারকে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে এই কমিটি করা হয়েছে। পাঠ্যপুস্তকে ভুলের পেছনে কারো গাফিলতি আছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখবে এই কমিটি। আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এ কমিটিকে প্রতিবেদন দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

এর আগে গত ২৪ জানুয়ারি রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন। সেসময় শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, ‘বইয়ে কী ধরনের ভুল বা বিতর্ক রয়েছে, তা যাচাই-বাছাই করতে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি রিপোর্ট দেবে, আমরা বই সংশোধন করব। পাশাপাশি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার মতো কোনো বিষয় যেন না থাকে, সেজন্য কাজ করব।’

বিষয়:

রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে ‘ন্যাশনাল স্পোর্টস সিমুলাকরা’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের গেমস অ্যান্ড স্পোর্টস ক্লাবের উদ্যোগে ‘২য় ডিএমআরসি-বে ন্যাশনাল স্পোর্টস সিমুলাকরা-২০২৩’ পাওয়ার্ড বাই প্রাইম ব্যাংক-এর পর্দা উঠছে আজ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। সেই সঙ্গে জাতীয় ফুটবল দলের ডিফেন্ডার তপু বর্মণ থাকবেন বিশেষ অতিথি হিসেবে। অনুষ্ঠানের প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে দৈনিক বাংলা।

চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে থাকছে ফুটসাল, বাস্কেটবল, টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন, দাবা থেকে শুরু করে খেলাধুলাবিষয়ক কুইজ ও অলিম্পিয়াড। রং-বেরঙের ব্যানার-ফেস্টুনে সুশোভিত ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ প্রাঙ্গণ। দেশের চার শতাধিক স্কুল-কলেজের পাঁচ হাজারেরও বেশি ছাত্রছাত্রী অংশ নেবে এ অনুষ্ঠানে।

আগামী বৃহস্পতিবার শেষ হবে এই অনুষ্ঠান। চার দিনব্যাপী এ আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম এমপি।


ফাঁকা আসন পূরণে জবিতে তাৎক্ষণিক ভর্তি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৯ জানুয়ারি, ২০২৩ ২২:৩২
প্রতিবেদক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক ও বিবিএ প্রথম বর্ষে ফাঁকা আসন পূরণে মেধাতালিকায় থাকা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সাপেক্ষে তাৎক্ষণিক ভর্তি নেয়া হবে। এতে করে মেধাতালিকায় থাকা ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা আসন ফাঁকা থাকা সাপেক্ষে ভর্তির সুযোগ পাবেন।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান দৈনিক বাংলাকে এ তথ্য জানান। ভর্তিসংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নবম মেধাতালিকা থেকে ভর্তির পর বিভিন্ন ইনস্টিটিউট ও বিভাগে বিদ্যমান শূন্য আসনগুলো পূরণে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মেধাক্রমের ভিত্তিতে ৩১ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে উপস্থিত হতে হবে।

‘এ’ ইউনিটের ৫৪৬৬ থেকে ১০০০০ মেধাক্রমে থাকা শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে, ‘বি’ ইউনিটের ২০৪৪ থেকে ৩০০০ মেধাক্রমে থাকা শিক্ষার্থীদের কলা অনুষদ অফিসে ও ‘সি’ ইউনিটে ৯০৩ থেকে ১১০০ মেধাক্রমে থাকা শিক্ষার্থীদের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ অফিসে উপস্থিত থাকতে হবে।

ওই দিন বেলা ২টায় ফাঁকা আসনে বিষয় বরাদ্দের তালিকা প্রকাশ করা হবে। বিকেল ৫টার মধ্যে অনলাইনে ভর্তি ফি জমা দিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও ডিন অফিসে সনদপত্রাদি জমা দিয়ে এবং ইতিমধ্যে গুচ্ছভুক্ত অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে থাকলে অবশিষ্ট ভর্তি ফি জমা দিয়ে পূর্বে জমাকৃত ভর্তির ফি ও একগনলেজমেন্ট স্লিপ সরাসরি সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও ডিন অফিসে জমা দিয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষার্থীকে ভর্তির জন্য মনোনয়নপ্রাপ্ত বিভাগে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার প্রত্যবেক্ষকের স্বাক্ষরিত অ্যাডমিট কার্ড, অনলাইন হতে প্রিন্ট ভর্তি ফরম ও চার কপি সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার মূল সনদপত্র ও নম্বরপত্র এবং প্রতিটির একটি করে সত্যায়িত ফটোকপি। এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষার মূল নম্বরপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড এবং প্রতিটির একটি করে সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিতে হবে।


হত্যার হুমকি দিয়ে জবি শিক্ষককে চিঠি

ড. মিল্টন বিশ্বাস
আপডেটেড ২৯ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৫:২০
প্রতিবেদক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাসকে হত্যার হুমকি দিয়ে ডাকযোগে বেনামে এক চিঠি পাঠানো হয়েছে। রোববার সকালে বিভাগের চেয়াম্যানের চিঠির বক্সে এই চিঠি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন মিল্টন বিশ্বাস।

চিঠিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারকে নিয়ে কটূক্তি করাসহ অশ্লীল ভাষায় গাল-মন্দ করে ও বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সমালোচনা করা হয়। চার পৃষ্ঠার ওই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর ছবিসহ ৯টি ছবির ওপর বিভিন্ন লেখা আছে। প্রতিনিয়ত জাতীয় পত্রিকায় বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে কলাম লেখায় ড. মিল্টন বিশ্বাসকে ‘মালাউন’ উল্লেখ করে হত্যার হুমকি দেয়া হয়।

বর্তমান সরকারের উন্নয়ন নিয়ে কলাম লেখায় ২০১৪ সালেও ড. মিল্টন বিশ্বাসকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছিল।

চিঠির বিষয়ে অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস বলেন, আমাকে হত্যার হুমকি দিয়ে ডাকযোগে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে যারাই এসব কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দাবি জানাচ্ছি। এ ঘটনায় আজকে থানায় জিডি করব।


করপোরেট চাকরির ভাইভা প্রস্তুতি

আপডেটেড ২৯ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৫:২২
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

এখন করপোরেট দুনিয়াতে অনেক চাকরির সুযোগ আছে। অনলাইন অ্যাসেসমেন্ট, লিখিত পরীক্ষা, ভাইভা, ব্যবহারিক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে নিয়োগ করা হচ্ছে কর্মীদের। সব পরীক্ষার জন্য প্রয়োজন মেধা ও পরিশ্রম। মৌখিক পরীক্ষার জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নেয়া প্রয়োজন। সেই প্রস্তুতি সম্পর্কে জানাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সহযোগী অধ্যাপক খালেদ মাহমুদ

প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানুন

আপনি যে প্রতিষ্ঠানে ভাইভা দেবেন তার সম্পর্কে জানতে হবে। প্রতিষ্ঠানের মিশন-ভিশন সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গভাবে জানার চেষ্টা করুন। প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও প্রতিষ্ঠাতারা কীভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন সেই ধরন সম্পর্কে জানুন। অনেক প্রতিষ্ঠানে গোড়াপত্তনের গল্প বা প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে বেশ গুরুত্ব দেয়া হয়। সেই গল্প আর ইতিহাসগুলো জানার চেষ্টা করুন।

প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি বুঝুন

নানান প্রতিষ্ঠানের কাজের ধরন নানান রকম। প্রতিষ্ঠানভেদে সংস্কৃতি ও কাজের প্রকরণ ভিন্ন হয়। প্রতিষ্ঠানের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন। কাজের পরিবেশ, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার ধরন বুঝুন। প্রতিষ্ঠান কোন সমস্যার সমাধান করছে। স্টেকহোল্ডার কারা, গ্রাহকদের কীভাবে সেবা দেয় তা জানার চেষ্টা করুন।

অনলাইন থেকে তথ্য নিন

ভাইভার আগে অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের কাজ ও যে পদে কাজ করবেন সে সম্পর্কে জানুন। যে পদের জন্য মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন তার দায়িত্ব সম্পর্কে জানুন। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের ফেসবুকসহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নানান কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা রাখুন। লিংকডইনসহ বিভিন্ন পেশাদার নেটওয়ার্ক থেকে প্রতিষ্ঠানের কাজের ধরন সম্পর্কে জানতে পারেন।

অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিন

যে প্রতিষ্ঠানে মৌখিক পরীক্ষা দেবেন সেখানে চাকরি করছেন এমন কর্মীদের কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারেন। আগে ভাইভার মুখোমুখি হয়েছেন এমন কর্মীদের কাছ থেকে প্রশ্নের ধরন ও উত্তর সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন। ভাইভাতে কোন বিষয়গুলোর গুরুত্ব দেয়া হয় তার ধারণা নিন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আর পেশাদার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে মৌখিক পরীক্ষা সম্পর্কে জানতে পারেন।

গণমাধ্যমে চোখ রাখুন

প্রতিষ্ঠানসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য, প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে একঝলক চোখ রাখতে পারেন। সংবাদপত্রে কীভাবে প্রতিষ্ঠানসংক্রান্ত তথ্য প্রচার করা হচ্ছে সেই বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করুন। প্রতিষ্ঠানের কোনো বিজ্ঞাপন থাকলে তা দেখার চেষ্টা করুন। প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক আর্থিক বিবরণী পড়ার সুযোগ থাকলে একঝলকে দেখে নিতে পারেন। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে সাম্প্রতিক কার্যক্রম আর সাফল্যের কথা জেনে নিতে পারেন।

উত্তর ঠিক করে রাখুন

বিভিন্ন মৌখিক পরীক্ষায় সাধারণ কিছু প্রশ্ন করা হয়। নিজের পরিচয়, নিজের সম্পর্কে বলা, প্রতিষ্ঠানে কেন চাকরি করবেন, ভবিষ্যতের পরিকল্পনার মতো বিষয়গুলো সব সময়ই জিজ্ঞেস করা হয়। এ ধরনের প্রশ্নের উত্তরগুলো আগেই মাথায় গেথে নিতে পারেন। সিভিতে নেই এমন তথ্যের মাধ্যমে প্রশ্নের উত্তরগুলো গুছিয়ে নেন। প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আর মিশন-ভিশনকে গুরুত্ব দিয়ে প্রশ্নের উত্তর গুছিয়ে নিতে পারেন।

ভাষা চর্চা করুন

করপোরেট প্রতিষ্ঠানে নানা মাত্রায় মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই ইংরেজিতে মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হয়। আমাদের অনেকেরই ইংরেজি ভাষায় জড়তা আছে। ভাষাসংক্রান্ত জড়তা এড়াতে নিয়মিত চর্চা করতে হবে। সাধারণ ইংরেজি বলার কৌশলগুলো শিখে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত ভাষা চর্চা করতে পারেন। প্রশ্নের উত্তরে কীভাবে শুরু করবেন, তা জানতে ইউটিউবে বিভিন্ন ভিডিও দেখতে পারেন। বাংলাতে উত্তর দেয়ার সুযোগ থাকলে সঠিক বাংলা উচ্চারণের দিকে খেয়াল রাখুন। আঞ্চলিকতা থাকলে তা গুরুত্ব দিয়ে নিজেকে উপস্থাপন করুন।

রিহার্সেল করুন

মৌখিক পরীক্ষায় ডাক এলেই যে হাজির হতে হবে, বিষয়টি এত সহজ নয়। রিহার্সেল করার মাধ্যমে মৌখিক পরীক্ষা জয় করার সুযোগ আছে। সব প্রশ্নের উত্তর যে জানবেন বিষয়টি এমন নয়, নিজেকে উপস্থাপনের জন্য বাড়িতে বারবার রিহার্সেল করুন। এমনকি রুমে প্রবেশ থেকে শুরু করে, কীভাবে বসবেন, কীভাবে তাকাবেন, কোন পোশাকে মৌখিক পরীক্ষায় হাজির হবেন তা নিয়ে রিহার্সেল করুন বারবার।


banner close