শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
১২ ভাদ্র ১৪৩৩

জবিতে রাতের আধাঁরে কাটা হলো গাছ, জানে না কর্তৃপক্ষ

আপডেটেড
২৬ মে, ২০২৩ ১১:৫৬
প্রতিবেদক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত : ২৬ মে, ২০২৩ ১১:৫৫

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজের প্রধান ফটকের পাশের গাছটি কেটে ফেলা হয়েছে। বিশালাকৃতির কাঠ লিচু গাছটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে না জানিয়ে রাতের আধাঁরে কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ঈমাম সালাউদ্দীনের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করছে।

জানা যায়, তিন দিন আগে নারিকেল গাছের ডালপালা কাটার অনুমতি নেয়া হয়। এ সুযোগে বুধবার রাতে গাছটি কেটে টুকরো করে বিক্রির উপযোগী করে রাখা হয়েছে। গাছটির অল্প কিছু ডালপালা মসজিদের টিনের চালের ছাদের উপরে ছিল। তবে অর্ধশত বছরের পুরনো গাছটি কোনো বড় ধরনের কারণ ছাড়াই কেটে ফেলা হয়েছে বলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে সরেজমিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম, বৃক্ষরোপণ ও কর্তন কমিটির সদস্যরা গাছ কাটার স্থানটি পরিদর্শন করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষকে অবগত করেন। এ নিয়ে এরই মধ্যে শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঝেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

গাছ কাটার কাজ পাওয়া লিটন জানান, বড় হুজুর (সালাউদ্দীন) আমাকে গাছ কাটতে বলেছেন। উনি আমাকে দুই হাজার টাকা ও ডালপালা, লাকড়ি নিয়ে যেতে বলেছেন, বিনিময়ে গাছটি কেটে ফেলতে বলেন। আমি লোকজন নিয়ে গতকাল সারা রাত ধরে গাছ কেটেছি। রাতে লাকড়িগুলো নেয়ার সময় স্যারেরা আমাকে এসব নিয়ে যেতে নিষেধ করেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ঈমাম সালাউদ্দীন বলেন, মসজিদের যেন ক্ষতি না হয়, সেজন্য আমি গাছটি কাটতে বলেছিলাম। সাবেক ট্রেজারার আমাকে বলেছিলেন গাছের জন্য কোনো সমস্যা হলে সেটা কেটে ফেলার জন্য। কাউকে না জানিয়ে গাছ কাটা আমার অন্যায় হয়েছে। আমি এ ঘটনায় ক্ষমাপ্রার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি কর্মকর্তা কামাল হোসেন বলেন, আমি কাজে ব্যস্ত ছিলাম। এ বিষয়ে কিছু জানি না। আমাকে কেউ কিছু জানায়ওনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মোস্তফা কামাল বলেন, শুনেছি বিশ্ববিদ্যালয়ের লিচু গাছটি কেটে ফেলা হয়েছে। এটার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনুমোদন নিয়েছে কি-না, দেখতে হবে। যদি অনুমোদন না নিয়ে থাকে, তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মসজিদের কমিটির দায়িত্বে থাকা কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ বলেন, নারিকেল গাছের ডালপালা ছাঁটাইয়ের বিষয়ে অবগত ছিলাম। গাছ কাটার ব্যাপারে আমাকে জানানো হয়নি। সংবাদ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঈমামকে চার্চ করেছি এবং বিষয়টি উপাচার্যকে অবগত করেছি। তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, এস্টেট কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছি সরেজমিনে পরিদর্শন করে রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য। রিপোর্ট হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছ কাটার অধিকার কারও নেই। এখানে কমিটি আছে, তাদের মতামত নিয়ে গাছ কাটতে হবে। সবকিছুই নিয়মের মধ্যে থেকে করতে হবে। শনিবার গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা রয়েছে, তাই সেই জায়গা পরিষ্কার করার নির্দেশও দিয়েছি।


নির্বাচিত

উচ্চশিক্ষায় ফাতেমার পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ হাতে ফাতেমার কে অনুদানের চেক তুলে দিচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:০৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

চায়না মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েও নাটোরের মেয়ে ফাতেমা খানমের ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। এমন খবরে তার পাশে দাঁড়ান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার(২৭ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ হাতে অনুদানের টাকার চেক ফাতেমার হাতে তুলে দেন।

ফাতেমার বিষয়টি জানতে পেরে মানবিক কাজের দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন নাটোর-০১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সাংসদ সদস্য, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল। ফাতেমা খানমের চায়না মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অর্থ জোগাতে ‘প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল’ থেকে ৫ লাখ টাকার অনুদানের ব্যবস্থা করে দেন তিনি।

নিজ নির্বাচনী এলাকার অদম্য মেধাবী ফাতেমা খানমকে চায়না মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুলকে লালপুর-বাগাতিপাড়া আসনের জনসাধারণ আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে আরও অর্থের প্রয়োজন হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।


নির্বাচিত

প্রায় ১৩ লাখ খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন, চাপে শিক্ষা বোর্ড

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ৪ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী প্রায় ১৩ লাখ আবেদন করেছে। এর মধ্যে ১০ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি আবেদন পড়েছে লিখিত (তত্ত্বীয়) পরীক্ষার উত্তরপত্রের জন্য। আর ব্যবহারিক পরীক্ষার খাতার জন্য আবেদন পড়েছে ২ লাখ ৩১ হাজারের বেশি। ফলে এবার ফল পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন বা পুনর্নিরীক্ষণ করা হবে। এত দিন বোর্ডের নিয়মে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ ছিল না। আবেদন করা পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ করে মূলত প্রাপ্ত নম্বরের যোগ-বিয়োগে কোনো ভুল হয়েছে কি না, তা দেখা হতো।

জানা গেছে, এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ৪ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী প্রায় ১৩ লাখ আবেদন করেছে। এর মধ্যে ১০ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি আবেদন পড়েছে লিখিত (তত্ত্বীয়) পরীক্ষার উত্তরপত্রের জন্য। আর ব্যবহারিক পরীক্ষার খাতার জন্য আবেদন পড়েছে ২ লাখ ৩১ হাজারের বেশি। এত বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন ও পুনর্নিরীক্ষণ করতে গিয়ে চাপের মুখে পড়ছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।

আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান এ প্রসঙ্গে বলেছেন, এবার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক পরীক্ষক নিয়োগ দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া বিকল্প নেই।

এদিকে, আসন্ন শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন ও ক্লাস শুরুর সময় এগিয়ে আনা হচ্ছে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ২ সেপ্টেম্বর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হয়ে চলবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে ২৩ সেপ্টেম্বর ক্লাস শুরুর প্রস্তাব করা হয়েছে।

এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন নেওয়া এবং ভর্তি কার্যক্রম শেষে ১২ নভেম্বর ক্লাস শুরুর পরিকল্পনা ছিল।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবারও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হবে। কোনো ভর্তি পরীক্ষা হবে না। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে এবং শিক্ষার্থীদের ফলাফল, পছন্দক্রম ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনায় নিয়ে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হবে।

কয়েক বছর ধরেই এসএসসি ও সমমানের ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হচ্ছে। নির্ধারিত ফি দিয়ে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। পরে ফলাফল, পছন্দক্রম ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনায় একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কেন্দ্রীয়ভাবে একাদশ শ্রেণির অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে। এই পদ্ধতিতে কলেজ ও মাদ্রাসায় ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোয় ভর্তি হয় পৃথক প্রক্রিয়ায়। ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের প্রায় সব কলেজ ও মাদ্রাসায় এ পদ্ধতিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়।

এবারও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হবে। কোনো ভর্তি পরীক্ষা হবে না। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে এবং শিক্ষার্থীদের ফলাফল, পছন্দক্রম ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনায় নিয়ে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে, আবেদনের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ২ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভর্তি–ইচ্ছুক সবাইকে আবেদন করতে হবে। যারা ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছে, তাদেরও আবেদন করতে হবে। তবে পুনর্নিরীক্ষণে যাদের ফল পরিবর্তন হবে, তাদের পুনরায় আবেদনের সময় দেওয়া হবে। ১০ সেপ্টেম্বর পুনর্নিরীক্ষণে ফল প্রকাশ হওয়ার কথা।

শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রস্তাব অনুযায়ী, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর যাদের পুনর্নিরীক্ষণে ফল পরিবর্তন হবে, তারা আবেদন করতে পারবে। এভাবে যাচাই–বাছাই শেষে ২০, ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর ভর্তির কাজ হবে। তারপর ২৩ সেপ্টেম্বর ক্লাস শুরু হবে।

তবে যারা এ সময়ে ও প্রক্রিয়ায় কোনো কলেজ-মাদ্রাসা পাবে না বা প্রত্যাশিত কলেজ পাবে না অথবা কোনো কারণে আবেদন করতে পারবে না, ২৩ সেপ্টেম্বরের পরপর তাদেরও ভর্তির জন্য আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে।

১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। অর্থাৎ প্রায় ৭ লাখ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি। সারাদেশে একাদশ শ্রেণিতে কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। ফলে মোট আসনের অর্ধেকের বেশি এবার খালি থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে আসন বেশি থাকলেও জিপিএ-৫ পাওয়া সব শিক্ষার্থী তাদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে না। কারণ, তুলনামূলক ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোয় আসনসংখ্যা সীমিত। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন।


নির্বাচিত

ভবন সংকটে খোলা আকাশের নিচে চলছে স্কুলের পাঠদান

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মিনাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে চরম দুর্ভোগের মধ্যে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের অভাবে প্রতিদিন খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। বর্ষাকাল, তীব্র রোদ কিংবা বৈরী আবহাওয়ায় পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

জানা গেছে, ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির পুরোনো ভবন ২০২১ সালে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে ভবনটি নিলামের মাধ্যমে অপসারণ করা হলেও এখন পর্যন্ত নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করেই চলছে শিক্ষা কার্যক্রম।

বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ২১০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। অথচ পাঠদানের জন্য ব্যবহারযোগ্য রয়েছে মাত্র দুটি শ্রেণিকক্ষ। এর মধ্যে দুটি শ্রেণির ক্লাস কক্ষে পরিচালিত হলেও বাকি তিনটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে খোলা আকাশের নিচে বসিয়ে পাঠদান করানো হচ্ছে।

বর্ষার সময় বৃষ্টি শুরু হলে পাঠদান বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়। আবার প্রচণ্ড রোদ কিংবা ঝড়ো আবহাওয়াতেও স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা খাতুন জানান, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘ভবন সংকটের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এক সময় যেখানে প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী ছিল, বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে ২১০ জনে নেমে এসেছে।’

এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি বলেন, ‘বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। নতুন ভবনের কাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ঝড়-বৃষ্টি ও রোদ থেকে সুরক্ষা দিতে অস্থায়ী টিনশেড নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন বিদ্যালয় ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করা প্রয়োজন। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, ‘দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধান না হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’


নির্বাচিত

দেওয়ানগঞ্জের ৭৯ বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক, ব্যহত শিক্ষা কার্যক্রম

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ৭৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন থেকে ফাঁকা। এ সব বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক দিয়ে চালানো হচ্ছে প্রধান শিক্ষকের কাজ। ফলে বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান প্রক্রিয়াসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরী হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীরা। এই অবস্থায় দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিায়োগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, এ উপজেলায় প্রাথমিক স্তরের বিদ্যালয়গুলোতে সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক পাঠদান প্রক্রিয়া প্রবর্তনের জন্য ১৩৯ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পাঁচটি ক্লাস্টারে বিভক্ত করা হয়েছে। ক্লাস্টারগুলো হচ্ছে Ñ উত্তর কালিকাপুর ক্লাস্টার, কাঠারবিল ক্লাস্টার, এ ক্লাস্টারভূক্ত বিদ্যালয়ের সংখ্যা , তারাটিয়া ক্লাস্টার, ,কাউনিয়ারচর ক্লাস্টার ও সানারচর ক্লাস্টার।

বেসরকারি অবস্থায় ৯টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ছিলেন। পরে জাতীয়করণ হলে গেজেটে তাদের সহকারী শিক্ষক হিসেবে দেখানো হয়। বিষয়টিতে আপত্তি জানিয়ে প্রধান শিক্ষক পদের দাবিতে শিক্ষা বিভাগে মামলা করেন পদবঞ্চিত ওই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকগণ। যে কারণে ওই ৯ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

মামলার কারণে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য বিদ্যালয়গুলো হচ্ছে, নতুন হলকারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মদনেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডাকরাগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চেংটিমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মৌলভীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুন্সীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ চেংটিমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোনাকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ মাখনেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

এ ছাড়াও প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব রয়েছে ২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বাকি ৪৭ টি বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষককের পদটি দীর্ঘদিন থেকে শূন্য রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জনা গেছে, ২৩টি প্রাথমিকত বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে সরকারী শিক্ষকদের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়েরর প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল, শিক্ষার্থীদের পাঠদানের মানোন্নয়ন ও পাঠদান সমুন্নত রাখতে ৪৭টি বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই সকল বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের স্থায়ী দায়িত্বের জন্য সহকারি শিক্ষককে পদোন্নতির প্রস্তাব করা হবে।

ডাকরাগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক একেএম শফিকুল ইসলাম বলেন, তাঁর নিয়োগ হয়েছে জাতীয়করণের পূর্বে। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি তখনকার নীতিমালা অনুযায়ী তাঁকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। পরবর্তীতে গ্যাজেটের সময় তাঁকে সহকারি শিক্ষক হিসেবে দেখানো হয়েছে। তিনি পূর্বের প্রধান শিক্ষকের পদ ফিরে পেতে শিক্ষা বিভাগে মামলা করেছেন। মামলা চলমান রয়েছে। তাঁর দাবি, তাকে পূর্বের প্রধান শিক্ষকের পদে বহাল রাখা হোক।

মোয়ামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষক আশরাফুন্নাহারের ভাষ্য, তিনি ২০১৮ সালের অক্টোবরে যোগদান করেছেন। তখন থেকে তিনি প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হয়নি। পদোন্নতির জন্য কাগজপত্র অফিসে জমা দেননি। তবে খুব শীঘ্র জমা দেবে।

সবুজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এনামুল হক ফারুকী জানান, ২০২৩ সাল থেকে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগেও কয়েক বছর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। পদোন্নতি দিয়ে তাঁকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানবেন্দ্র দাস জানান, যে বিদ্যালয়গুলো প্রধান শিক্ষক নেই সে সকল বিদ্যালয়গুলোর দিয়ে শিক্ষা অফিস নিয়মিত তদারকি করে যাচ্ছে। যাতে বিদ্যালয়গুলোতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সচল ও সতেজ থাকে এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদান প্রক্রিয়া সমুন্নত থাকে। তবে প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণে সহকারি শিক্ষককে পদোন্নতির সুপারিশ করে কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদা দেওয়া হবে।


নির্বাচিত

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক হবে: প্রতিমন্ত্রী আমিনুল

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ২১:৩৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেছেন, আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর এফডিসিতে আন্তর্জাতিক যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মো. আমিনুল হক বলেন, গত ১৭ বছরে দক্ষতা বৃদ্ধির নামে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। বর্তমান সরকার দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছে।

বিগত সরকার যেসব ভুল করেছে, বর্তমান সরকার সেই ভুল করবে না। প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে যুবসমাজকে কর্মক্ষম করে গড়ে তোলা হবে।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডিগ্রি নিয়ে যুবকরা যাতে বেকার হয়ে ঘরে বসে না থাকে, সে জন্য বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে তাদের দক্ষতা অর্জন করে স্বাবলম্বী করে তোলার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, তরুণ সমাজকে মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত করতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।

যুবকদের কর্মসংস্থান হলে সামাজিক অপরাধ কমে আসবে। সরকার খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ শুরু করেছে। যেখানেই খালি জায়গা থাকবে, সেখানেই খেলার মাঠ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আমিনুল হক বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে।

অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। আয়োজনে সহযোগিতা করেছে কেয়ার বাংলাদেশ ও এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজেস বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন, ড. এস এম মোর্শেদ, কেয়ার বাংলাদেশের পরিচালক রওনক জাহান ও এসওএসের ডেপুটি ন্যাশনাল ডিরেক্টর মো. মাসুদ রানা।


নির্বাচিত

নওগাঁর ১৯ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্তের উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁ জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে ৭টি উপজেলার মোট ১৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। সম্প্রতি প্রকাশিত এসএসসির রেজাল্টের পর জেলার শিক্ষা অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ তথ্য জানা যায়। শতভাগ ফেইলের মধ্যে রয়েছে মাধ্যমিক, মাদরাসা ও ভোকেশনাল এর এমপিওভুক্ত ও নন এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান।

জানা যায়, জেলার বদলগাছী উপজেলার ৩টি প্রতিষ্ঠান থেকে কেউই পাস করেনি। শতভাগ ফেইল করা সেই প্রতিষ্ঠান গুলো হলো গোবরচাপা হাট আকতার হামিদ সিদ্দিকী দাখিল মাদরাসা। এই মাদরাসা থেকে ১জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও সে পাস করেনি। এ উপজেলার শতভাগ ফেইলের তালিকায় রয়েছে জোলাপাড়া ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসা। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন কিন্তু একজনও পরীক্ষার্থী পাস করেনি। এছাড়াও উপজেলার খাদাইল দাখিল মাদরাসা থেকে কোন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেননি।

এদিকে জেলার পত্নীতলা উপজেলার চকনোদবাটি ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসা থেকে ১৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করেনি। সাপাহার উপজেলার ভাবুক নইমুদ্দিন দাখিল মাদরাসা থেকে ১৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করেনি। জেলার মান্দা উপজেলার চকদেবীরাম-চকভোলাই আলিম মাদ্রাসা থেকে এবারের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে কেউ পাস করেনি। এছাড়াও এই উপজেলার কুসুম্বা শাহী দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৯ জন, রামনগর দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৩ জন, চকরঘুনাথ দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৩ জন এবং এলেঙ্গা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৬ জন পরীক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউই পাস করেনি।

জেলার পোরশা উপজেলার বড় গুন্দইল দাখিল মাদরাসা থেকে ১৬ জন, গাঙ্গরিয়া ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসা থেকে ১৩ জন, অনন্তপুর দাখিল মাদরাসা থেকে ৯ জন ও কালিনগর সরাইগাছী মহিলা দাখিল মাদরাসা থেকে ৬ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিলেও একজন পরীক্ষার্থীও পরীক্ষায় পাস করেননি। নিয়ামতপুর উপজেলার বরিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৫ জন, পৈলানপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৯ জন, নিমদিঘী কারিগরি স্কুল ও কলেজ থেকে ৭ জন এবং বরিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তাদের কেউই পাস করতে পারেনি। এবং আত্রাই উপজেলা সুদরানা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৪ জন এবং আটগ্রাম ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। কিন্তু তাদের কেউই পাস করেননি।

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ বিভিন্ন কারণ দেখান, তারা কেউ কেউ বলেন, শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোর অভাব এবং অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে না আসা।

এরমধ্যে মান্দা উপজেলার চকদেবীররাম চকভোলাই আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জালাল উদ্দিন বলেন, আমাদের মাদ্রাসা থেকে এবার ১৫ শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে পরীক্ষার কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার সম্মুখে পড়ে শিক্ষার্থীরা ভীত ও বিহ্বল হয়ে পড়ে। ফলে পরীক্ষা ভালো করতে পারেনি।

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, শতভাগ ফেল করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের সাথে দ্রুত বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার মান উন্নয়নে সকল প্রচেষ্টা আগামীতে অব্যাহত থাকবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আয়শা সিদ্দিকা বলেন, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস না করা খুবই দুঃখজনক।


নির্বাচিত

একাদশে ফাঁকা সাড়ে ১৩ লাখ আসন

* ভর্তিতে থাকছে না পরীক্ষা * ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন শুরু
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক  

শিক্ষা খাতে বাজেটের আকার বাড়ছে। গড়ে উঠছে বহুতল একাডেমিক ভবন; কিন্তু শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার মান যে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট বা এসএসসি পরীক্ষার ফল বিপর্যয় ও একাদশ শ্রেণির আসন্ন ভর্তি পরিস্থিতি। একদিকে ‘শিখন ঘাটতি’র কারণে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী মাধ্যমিকের গণ্ডি-ই পেরোতে পারেনি। অন্যদিকে এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে একাদশ শ্রেণির ভর্তিতে। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির মোট আসন প্রায় ২৫ লাখ হলেও, শিক্ষার্থীর অভাবে ১৩ লাখ ৬১ হাজার আসন ফাঁকা পড়ে থাকবে।

আসন্ন শিক্ষাবর্ষে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন গ্রহণ শুরু হতে পারে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে। ১০ নভেম্বরে মধ্যে ভর্তির কার্যক্রম শেষ করে আগামী ১২ নভেম্বর একাদশ শ্রেণিতে ক্লাস শুরু হবে। এবারও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে, কোনো ভর্তি পরীক্ষা হবে না। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ এবং মেধা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এদিকে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে শিক্ষাব্যবস্থার এই কাঠামোগত ব্যর্থতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মনজুর আহমদ বলেছেন, ‘শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শেখায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।’

একই সুরে কথা বলেছেন বিশ্লেষক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তার মতে, অবকাঠামোর চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো শিখনফল। তিনি বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীরা স্কুল থেকে আসলে কী শিখে বের হচ্ছে, সেটিতেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।’

শিক্ষার এই দৈন্যদশার পেছনে শিক্ষকদের পেশাদারি সংকটকেও দায়ী করছেন অনেকে। রাজধানীর বনশ্রীর একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের ভাষ্যে চরম বাস্তবতা উঠে এসেছে। তার মতে, শিক্ষকতা এখন অনেকের কাছে আর পেশাগত দায়বদ্ধতার জায়গায় নেই। অনেকে এটিকে ব্যবহার করছেন প্রশাসনিক সুবিধা বা পদোন্নতির সিঁড়ি হিসাবে।

শিক্ষামন্ত্রী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিলেও, শ্রেণিকক্ষের এই বেহাল দশা এবং শিক্ষকদের তদবির নির্ভর সংস্কৃতির কারণেই এসএসসিতে ফল বিপর্যয় ঘটেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যার চূড়ান্ত খেসারত দিচ্ছে দেশের অর্ধেকের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেগুলো এখন শিক্ষার্থী-শূন্য হওয়ার অপেক্ষায়।

অর্ধেকের বেশি কলেজ শিক্ষার্থী-শূন্য থাকার অপেক্ষায় থাকলেও, ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে তীব্র শঙ্কা ও হতাশা। কারণ, ১৩ লাখ আসন খালি থাকলেও মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হাতেগোনা।

যে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে, তাদের সিংহভাগেরই লক্ষ্য রাজধানীসহ বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ কলেজগুলো। ফলে জিপিএ-৫ পেয়েও কাঙ্ক্ষিত কলেজে ভর্তির সুযোগ না পাওয়ার শঙ্কা প্রবল।

বোর্ড কর্মকর্তাদের মতে, বহু শিক্ষার্থী আবেদন করার সময় অবাস্তবভাবে শুধু এক বা দুটি শীর্ষ কলেজকে পছন্দক্রমে রাখে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকলেও, মানসম্মত শিক্ষার নিশ্চয়তা যে গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানের বাইরে নেই—শিক্ষার্থীদের এই আস্থাহীনতাই এই অসম প্রতিযোগিতার মূল কারণ।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান বলেছেন, খসড়া সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণের সময় রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সেটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। যদি সেটি ঠিক থাকে, তাহলে সে অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু হবে।

১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন পরীক্ষার্থী। প্রায় ৭ লাখ পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এই হিসাবে এবার অর্ধেকের বেশি আসন খালি থাকবে।

সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে (কলেজ ও মাদ্রাসা) ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। গতবার ভর্তি হয়েছিল মোট আসনের ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ খালি ছিল ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ। এ বছর পাসের হার আরও কমেছে। ফলে আসনসংখ্যা আরও বেশি শূন্য থাকবে।

তবে মোট আসন খালি থাকলেও জিপিএ-৫ পেয়েও অনেকে তাদের কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে না। কারণ, তুলনামূলক ভালো প্রতিষ্ঠানে আসন কম। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন।

বিগত কয়েক বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি দিয়ে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। পরে শিক্ষার্থীর ফলাফল, কোটা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং পছন্দক্রম বিবেচনায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়।

এই পদ্ধতিতে শুধু কলেজ ও মাদ্রাসায় ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পৃথক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের প্রায় সব কলেজ ও মাদ্রাসায় এই পদ্ধতিতেই একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে।


নির্বাচিত

একাদশে পরীক্ষা ছাড়া ফলের ভিত্তিতেই আসন, ভর্তি শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই এবার একাদশ শ্রেণিতে (কলেজ ও মাদ্রাসা) শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। কোনো ধরনের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রস্তুত করা খসড়া সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইনে ভর্তি আবেদন শুরু হয়ে ১২ নভেম্বর থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হবে।

ভর্তি প্রক্রিয়া ও সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী আবেদন গ্রহণ শুরু: আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে এবং ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ: ১০ নভেম্বর। ক্লাস শুরু হবে, ১২ নভেম্বর।

কেন্দ্রীয়ভাবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। তবে নটর ডেম কলেজসহ হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ভর্তি প্রক্রিয়া পৃথকভাবে সম্পন্ন হবে।

আসন সংখ্যা ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের প্রতিযোগিতা

সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। গত বছর মোট আসনের ৪১.৩ শতাংশ খালি ছিল। এবার পাসের হার কম হওয়ায় খালি আসনের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী (যার মধ্যে ৯টি সাধারণ বোর্ডে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন)।

মোট আসন খালি থাকলেও স্বনামধন্য ও মানসম্মত কলেজগুলোতে আসন সংখ্যা সীমিত। ফলে জিপিএ-৫ পেয়েও অনেক শিক্ষার্থী তাদের পছন্দ তালিকার শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে না।


নির্বাচিত

শিহাব নেই, এসএসসির ফলাফলের তালিকায় জ্বলজ্বল করছে জিপিএ-৫

বিদ্যুৎস্পর্শে নিহত শিহাব। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তরিকুল ইসলাম তরুন, কুমিল্লা দক্ষিণ প্রতিনিধি

ফল প্রকাশের দিনে ঘরজুড়ে থাকার কথা ছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাস। স্বজনদের মুখে ফুটে ওঠার কথা ছিল হাসি, আর মা-বাবার চোখে থাকার কথা ছিল গর্বের অশ্রু। কিন্তু সেই আনন্দের দিনেই কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার এক পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কারণ এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের মাত্র দুদিন আগে বিদ্যুৎস্পর্শে প্রাণ হারিয়েছে পরিবারের একমাত্র ছেলে শিহাব।

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে শিহাব পেয়েছে গোল্ডেন জিপিএ-৫। অথচ সন্তানের এমন অসাধারণ সাফল্যের দিনে আনন্দ করার বদলে একমাত্র ছেলেকে হারানোর শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন তার মা-বাবা ও স্বজনরা।

নিহত শিহাব কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মানরা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। সে ঢাকার বিমানবন্দর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম জানান, শিহাবের বাবা তোফাজ্জল হোসেন ঢাকায় গার্মেন্টস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। পরিবারের একমাত্র ছেলে শিহাব ছিল দুই ছোট বোনের বড় ভাই। ছোট চাচা তাজুল ইসলামের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে আসে সে। কিন্তু সেই আসাই যে তার জীবনের শেষ আসা হবে, তা কেউ ভাবতে পারেনি।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে গোসল শেষে বাড়ির ছাদে কাপড় শুকাতে যায় শিহাব। এ সময় বিয়ের অনুষ্ঠানের ডেকোরেশনের জন্য টানানো রঙিন বাতির তারে বিদ্যুৎস্পর্শে গুরুতর আহত হয় সে। পরে তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণপাড়ার পাশের কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওইদিন সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়িতে শিহাবের মরদেহ দাফন করা হয়।

শিহাবের চাচা তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যবসার কারণে শিহাবের পরিবার ঢাকায় থাকত। আমার বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তারা গ্রামের বাড়িতে এসেছিল। শিহাব ছিল তার মা-বাবার একমাত্র ছেলে। তার দুটি ছোট বোন রয়েছে।’

শশীদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান রিয়াদ বলেন, ‘চাচার বিয়ের অনুষ্ঠানে এসে শিহাবের বিদ্যুৎস্পর্শে মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এর মধ্যে আজ এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। শিহাব গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পরিবারটি এখন শোকাহত।’

তিনি আরও জানান, শিহাবের মৃত্যুতে আগামীকাল মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সান্ত্বনা দেওয়ারও চেষ্টা করেছেন তিনি।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্নি ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। আমরা পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছি। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।’

একদিকে এসএসসির ফলাফলে গোল্ডেন জিপিএ-৫, অন্যদিকে সেই ফল দেখার আগেই পৃথিবী থেকে বিদায়—শিহাবের এই মর্মান্তিক পরিণতি স্বজনদের কাছে যেন আনন্দের দিনে এক গভীর শূন্যতার নাম হয়ে রইল। এবিষয়ে পল্লী চিকিৎসক ও সংবাদ কর্মী জানান আমারা আমাদের ভাগিনাকে হারিয়ে পাগল হয়ে আছি,সবাই দোয়া করবেন আল্লাহ যেন জান্নাতুল ফেরদৌসের স্বাচ্ছন্দ্য দান করেন শিহাবকে।আর জিপিএ ৫ দিয়ে আর কি হবে যার জন্য সেই তো চলে গেলো


নির্বাচিত

৩ সহোদরা বোনের অনন্য কৃতিত্ব, এসএসসিতে ৩ জনই পেল গোল্ডেন A+

৩ সহোদরা বোন- নাজিবা ইসলাম, নাবিলা ইসলাম ও নাফিসা ইসলাম। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষায় অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করেছে কুমিল্লার তিন সহোদরা বোন। ঢাকা বোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নাজিবা ইসলাম, নাবিলা ইসলাম ও নাফিসা ইসলাম তিনজনই অর্জন করেছে গোল্ডেন A+।

তারা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও প্রকৌশলী জনাব নাদিমুল ইসলামের কন্যা। তিন বোনের এমন অসাধারণ ফলাফলে পরিবার, শিক্ষক-শিক্ষিকা, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

তিন বোনের এই সাফল্য তাদের কঠোর পরিশ্রম, মেধা ও অধ্যবসায়ের অনন্য দৃষ্টান্ত। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষায় আরও সাফল্য অর্জন করে দেশ ও জাতির কল্যাণে ভূমিকা রাখুক, এ প্রত্যাশা পরিবারের।


নির্বাচিত

ভারতে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন বাকৃবির ৫ শিক্ষার্থী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাকৃবি প্রতিনিধি

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের এনিমেল ওয়েলফেয়ার ল্যাবের পাঁচ শিক্ষার্থী ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব অ্যাপ্লাইড এথোলজি (আইএসএই) আয়োজিত ৫৯তম ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সে অংশ নিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১১ আগষ্ট) ভারতের নয়াদিল্লি থেকে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ডা. আশিকুর রহমান কৌশিক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সম্মেলনটি ১০ আগষ্ট শুরু হয়ে চলবে আগামী ১৪ আগস্ট পর্যন্ত। এসময়ে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে তারা প্রাণিকল্যাণ (অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার) বিষয়ে পৃথক পাঁচটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করবেন।

অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা হলেন ডা. সোলেমা আক্তার শান্তা, ডা. সিয়াম আহমেদ, ডা. আশিকুর রহমান কৌশিক, ডা. তাসনিম বিনতে হাসান এবং ডা. তাজিন খন্দকার। দলটির নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এবং এনিমেল ওয়েলফেয়ার ল্যাবের প্রধান অধ্যাপক ড. এম. আরিফুল ইসলাম। তিনি গবেষণাপত্রগুলোর করেসপন্ডিং অথর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য দলটির সদস্যরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে রেজিস্ট্রেশন ফি ও ট্রাভেল গ্র্যান্ট অর্জন করেন। সংশ্লিষ্টরা এটিকে তাদের গবেষণার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে দেখছেন।

অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ডা. আশিকুর রহমান কৌশিক বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সুযোগ আমার জন্য অত্যন্ত গৌরবের। বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশ থেকে ১২৩ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন। এত বড় পরিসরের একটি বৈশ্বিক আয়োজনে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি বিশেষভাবে গর্বিত। সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের গবেষকদের কাজ, প্রাণিকল্যাণের আধুনিক ধারণা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও গবেষণার নতুন দিকগুলো সম্পর্কে জানার সুযোগ হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা আমার গবেষণার জ্ঞান ও দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও বিস্তৃত করবে এবং ভবিষ্যতে প্রাণিকল্যাণ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় কাজ করার ক্ষেত্রে আমাকে অনুপ্রাণিত করবে।

বিশ্বব্যাপী প্রাণিকল্যাণ বিষয়ক গবেষক, শিক্ষক ও পেশাজীবীদের অন্যতম বৃহৎ এই সম্মেলনে গবেষণাপত্র উপস্থাপনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও দৃশ্যমান হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


নির্বাচিত

বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশের ক্ষমতা হারাচ্ছে এনটিআরসিএ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ করার ক্ষমতা আর থাকছে না বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ)। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটির কাজ হবে শুধু শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নেওয়া ও প্রত্যয়ন দেওয়া। প্রত্যয়ন পাওয়া শিক্ষকদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে।

এনটিআরসিএর সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক স্বাক্ষরিত এ কার্যবিবরণী গত ৪ আগস্ট জারি করা হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ২০১৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী এনটিআরসিএ যে নিয়োগ সুপারিশ করে আসছিল, তা আর করবে না। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫ অনুযায়ী এনটিআরসিএকে আগের মতো শুধু নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০০৫ সাল থেকে ২০১৫ সালের আগে এনটিআরসিএ কেবল শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করত। ২০১৫ সাল থেকে এনটিআরসিএর সক্ষমতার বাইরে গিয়ে নিয়োগ সুপারিশ করার পর বিভিন্ন জটিলতা, মামলা ও অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে আগের ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার পক্ষে মত দেন তিনি।

সভায় জানানো হয়, সর্বশেষ জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার জন্য বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১১৬টি বিষয়ে মোট ৭৭ হাজার ৭৯৯টি এমপিওভুক্ত শূন্যপদের চাহিদা অনলাইনে সংগ্রহ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলোর যাচাই শেষে এসবের মধ্যে ৭৫ হাজার ৭৬৯টি শূন্যপদ পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৯ হাজার ৮৪২ জনকে নিয়োগের জন্য ৯ হাজার ৮৪২টি পদ সংরক্ষণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অবশিষ্ট ৬৫ হাজার ৯২৭টি পদে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার মাধ্যমে পরবর্তী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সভায় ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ওই ৯ হাজার ৮৪২ জনকে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বউদ্যোগে নিয়োগের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় পরিপত্র বা প্রজ্ঞাপন সংশোধন করে জারি করতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে (মাউশি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বদলির মাধ্যমে যেসব শূন্যপদ সৃষ্টি হবে, সেসব পদেও ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের নিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে বলে সভায় মত দেওয়া হয়।

এদিকে, ৬৫ হাজার ৯২৭টি শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি দ্রুত প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রয়োজনীয় কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ও এনটিআরসিএকে বলা হয়েছে।

সভায় ৬ষ্ঠ ও ৭ম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ভুল চাহিদার কারণে ভুল প্রতিষ্ঠানে সুপারিশ পাওয়া ১৯৯ জন প্রার্থীর বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসব প্রার্থীকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুত পুনঃসুপারিশ করার জন্য এনটিআরসিএকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ৮ম এনটিআরসিএ নিয়োগ পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ পরীক্ষায় অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপারিনটেনডেন্ট ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থীরা অংশ নিয়েছেন।

সভায় জানানো হয়, এসব পদে ১১ হাজার ১৫১টি শূন্যপদের বিপরীতে ৫৩ হাজার ৬৯ জন প্রার্থী আবেদন করেন। গত ১৮ এপ্রিল ঢাকার নয়টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এমসিকিউ পরীক্ষায় ৪৮ হাজার ১৫২ জন অংশ নেন। পরে ২২ এপ্রিল প্রকাশিত ফলাফলে ১৪ হাজার ৯৪২ জন উত্তীর্ণ হন। তাদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। বাছাই পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষায় পৃথকভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীদেরই কেবল সংশ্লিষ্ট পদে প্রত্যয়ন দেওয়া হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর প্রশাসনিক অনুমোদনের পর প্রয়োজনীয় আদেশ, পরিপত্র ও প্রজ্ঞাপন সংশোধন বা জারি করা হবে।


নির্বাচিত

দাখিল পরীক্ষায় পাসের হারে ধস, ২২৬ মাদরাসায় পাস করেনি কেউ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় ফলাফল বিপর্যয়ের এক হতাশাজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন কর্তৃক আজ সোমবার (১০ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর মোট ২২৬টি মাদ্রাসার কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। গত বছর এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল মাত্র ৮৬টি, যা থেকে প্রতীয়মান হয় যে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এ বছর দাখিল পরীক্ষায় সব মিলিয়ে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৭৯৭ জন শিক্ষার্থী সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ৮১ হাজার ৭৬৫ জন এবং ছাত্রীর সংখ্যা ৮৩ হাজার ৩২ জন। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এবার গড় পাসের হার ৫৫.৪৯ শতাংশ। লিঙ্গভিত্তিক ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা সাফল্যের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে; যেখানে ছাত্রীদের পাসের হার ৫৯.৮৯ শতাংশ, সেখানে ছাত্রদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৫১.৬৪ শতাংশ। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মেয়েদের ধারাবাহিক সাফল্য বজায় থাকলেও ছাত্রদের পাসের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে।

চলতি বছর মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষায় সর্বমোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। এর মধ্যে সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত ছিল। গত ২১ এপ্রিল শুরু হওয়া এই লিখিত পরীক্ষাগুলো সাধারণ বোর্ডগুলোতে ২০ মে এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডগুলোতে ২৪ মে সমাপ্ত হয়। সাধারণত পরীক্ষা শেষের ৬০ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশের প্রথা থাকলেও বিভিন্ন বাস্তবতায় এবার নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ বিলম্বে ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রকাশিত ফলাফলে যারা অসন্তুষ্ট কিংবা ফলাফল চ্যালেঞ্জ করতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য আগামীকাল ১১ আগস্ট থেকে পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত আগ্রহী পরীক্ষার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে পুনর্নিরীক্ষণের এই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত দিকনির্দেশনা ও নিয়মাবলি ইতোমধ্যে শিক্ষা বোর্ডগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় এই ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা অধিকতর গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।


নির্বাচিত

banner close