বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৪তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন করেছে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি। গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রিন রোড ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন নজরুল বিশেষজ্ঞ ও বাঁশরির সভাপতি ড. ইঞ্জিনিয়ার খালেকুজ্জামান।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শামীম আরা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল বাশার, বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক ট্রেজারার ও ব্যবসায় প্রশাসনের অধ্যাপক মো. আল-আমিন মোল্লা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা বিভাগের প্রভাষক তাসলিমা বেগম। বিজ্ঞপ্তি
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দেশীয় ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ও সুপারব্র্যান্ড ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি তাদের ব্যবসায়িক ও প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্যে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশবান্ধব ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির পণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কর্পোরেট সুশাসন নিশ্চিত করায় প্রতিষ্ঠানটি টানা পঞ্চম বারের মতো ‘আইসিএসবি ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড ফর কর্পোরেট গভর্ন্যান্স এক্সিলেন্স’ এবং টানা চতুর্থ বারের মতো ‘আইসিএমএবি বেস্ট কর্পোরেট অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছে। এই অভূতপূর্ব গৌরব উদযাপন উপলক্ষে গত শনিবার (১০ জানুয়ারি, ২০২৬) রাজধানীর বসুন্ধরায় ওয়ালটন কর্পোরেট অফিসে “সেলিব্রেটিং কর্পোরেট অ্যাওয়ার্ড অ্যাচিভমেন্ট” শীর্ষক এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান ওয়ালটনকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, পণ্যের গুণগত মান, স্টেট অব দ্য আর্ট টেকনোলজি এবং সাশ্রয়ী মূল্যের বিচারে ওয়ালটন বর্তমানে অনেক বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের চেয়েও এগিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এই প্রতিষ্ঠানের অবদান অসামান্য। বিদেশি ব্র্যান্ডের একচেটিয়া আধিপত্য ভেঙে দিয়ে ওয়ালটন কেবল দেশের আমদানি নির্ভরতা কমায়নি, বরং বিশ্বের বহু দেশে পণ্য রপ্তানি করে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও বিশাল ভূমিকা রাখছে। তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আইওটি ও এআই ভিত্তিক সর্বাধুনিক প্রযুক্তির হাই-টেক পণ্য তৈরির মাধ্যমে ওয়ালটন আন্তর্জাতিক বাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ওয়ালটনের সুসংগঠিত উৎপাদন ব্যবস্থা ও বিস্তৃত কর্মযজ্ঞের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত ১৫ বছরে ওয়ালটন বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক্স খাতের চিত্র পুরোপুরি বদলে দিয়েছে এবং বিদেশি ব্র্যান্ডের সাথে প্রতিযোগিতা করে বাজারে নিজস্ব আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে। পুঁজিবাজারে ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানি হিসেবে ওয়ালটন যেমন সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা করছে, তেমনি বিনিয়োগকারীদের জন্য নিয়মিত সন্তোষজনক লভ্যাংশ নিশ্চিত করছে। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও সমৃদ্ধ করতে সরকারের পক্ষ থেকে ওয়ালটনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় নীতি ও কর সহায়তা দেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ওয়ালটনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম তাঁর বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান যে, কারখানা স্থাপন থেকে শুরু করে উৎপাদন প্রক্রিয়া সর্বত্র যথাযথ কমপ্লায়েন্স মেনে চলায় তাঁরা দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ‘সাফা গোল্ড অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছেন। বিশেষ করে ওয়ালটনের মোল্ড অ্যান্ড ডাই ফ্যাক্টরি কমপ্লেক্স পরিবেশবান্ধব কারখানার স্বীকৃতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল থেকে ‘লিড প্লাটিনাম’ সনদ লাভ করেছে। তিনি আরও জানান, ওয়ালটন বর্তমানে দেশের প্রথম লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি উৎপাদন কারখানা গড়ে তুলছে এবং কারখানায় বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করেছে, যা দেশের জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে ওয়ালটন হাই-টেকের ভাইস-চেয়ারম্যান এস এম আশরাফুল আলম বলেন, কমপ্লায়েন্স বা নিয়মনীতি পালনের প্রশ্নে ওয়ালটন কখনোই কোনো আপস করে না। কর্মক্ষেত্র, উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা বজায় রাখার কারণেই তাঁরা নিয়মিতভাবে আইসিএবি, আইসিএসবি এবং আইসিএমএবি-এর মতো মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান থেকে সম্মাননা পাচ্ছেন। এই সাফল্য পুরো প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কেক কেটে সাফল্যের এই বিশেষ মুহূর্তটি উদযাপন করা হয়। এর আগে স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেছিলেন কোম্পানির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং কোম্পানি সেক্রেটারি মো. রফিকুল ইসলাম।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে ‘বার্ষিক ব্যবসা উন্নয়ন সম্মেলন-২০২৬’ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। গত ১০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ দুপুর ১২টায় রাজধানীর গুলশান-১ এলাকার রেনেসাঁ ঢাকা গুলশান হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে এই জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটিকে মহিমান্বিত করেন বাংলাদেশের প্রথিতযশা শিল্পপতি, সমাজসেবক এবং মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ-এর মাননীয় চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোস্তফা কামাল। বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মো. সানা উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ এবং প্রধান কার্যালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিপুল সংখ্যক কর্মচারী অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনের একটি অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল বিগত ২০২৫ সালের ব্যবসায়িক সাফল্য উদযাপন। কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, গত অর্থবছরে অনেকগুলো শাখা তাঁদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। এই অভাবনীয় সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন শাখার প্রধানদের হাতে বিশেষ সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি। এরপর ২০২৬ সালের নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বড় ধরণের ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। কোম্পানির প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রাহক সেবার মান উন্নয়নে নতুন নতুন কৌশল গ্রহণ করার ওপর জোর দেওয়া হয় সম্মেলনে। অনুষ্ঠানে পরিচালকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মিসেস বিউটি আক্তার, তাহমিনা বিনতে মোস্তফা, তায়েফ বিন ইউসুফ, তানজিমা বিনতে মোস্তফা, ওয়াসিকুর রহমান, তাসনিম বিনতে মোস্তফা, রাশিক আলম চৌধুরী এবং মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ (রাজা)।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনাব মোস্তফা কামাল বীমা খাতের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং কোম্পানির বর্তমান অবস্থানে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বিশেষভাবে নির্দেশ প্রদান করেন যে, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (IDRA) এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (BIA)-এর প্রতিটি নীতিমালা ও নির্দেশনা কঠোরভাবে পরিপালন করতে হবে। তিনি বিশ্বাস করেন যে, আইনি কাঠামো বজায় রেখে কাজ করলেই কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতিফলন ঘটবে। তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। পরিশেষে, উপস্থিত সকল অংশীজনকে ধন্যবাদ জানিয়ে এবং একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে অনুষ্ঠানের সভাপতি সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। এই সম্মেলনের মাধ্যমে কোম্পানির সকল স্তরের কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও লক্ষ্যপানে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ফুটে উঠেছে।
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন (বিএইচআরএফ)-এর চেয়ারপারসন ও বিশিষ্ট মানবাধিকার নেত্রী অ্যাডভোকেট এলিনা খান দেশজুড়ে বয়ে যাওয়া তীব্র শৈত্যপ্রবাহে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) ঢাকায় আয়োজিত বিএইচআরএফ-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রাস্টি বোর্ড সভায় তিনি এই আহ্বান জানান। সভায় নিজের বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন যে, মানবিকতা মানুষের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ এবং বর্তমানের এই কঠিন সময়ে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত সকল মতভেদ ভুলে দুস্থদের পাশে দাঁড়ানো প্রতিটি বিবেকবান মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন যে, মানবিক চেতনায় বিশ্বাসী কোনো মানুষই অন্যের কষ্ট দেখে উদাসীন বা নিশ্চুপ থাকতে পারে না।
সংগঠনটির চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট এলিনা খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভাটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সঞ্চালনা করেন বিএইচআরএফ-এর মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান। সভায় ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর অনারারি কনসাল হিজ এক্সেলেন্সি জিয়াউদ্দিন আদিল, মো. ওমর ফারুক, অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোহাম্মদ হারুন এবং অ্যাডভোকেট সরকার আসিফ পিয়াল। এছাড়াও লায়ন সালমা আদিল এমজেএফ এবং ফাতিমা যাহরা আহসান রাইসা সভায় অংশ নিয়ে মানবিক সেবা ও মানবাধিকার রক্ষায় তাঁদের সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরেন। সভায় বক্তারা কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং সম্মিলিত দায়িত্ববোধের মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতি বিশেষ জোর দেন।
সভার আলোচনা থেকে জানা গেছে যে, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন আঞ্চলিক শাখা ইতিমধ্যেই মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা এবং পাবনার ঈশ্বরদীসহ বিভিন্ন জেলায় শীতবস্ত্র সংগ্রহ ও বিতরণ কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে। শীতের তীব্রতা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকায় এই মানবিক কার্যক্রমগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় করা হচ্ছে যাতে কোনো প্রকৃত দুস্থ ব্যক্তি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন। এই মহতী উদ্যোগের অংশ হিসেবে ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য এবং সালমা আদিল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা লায়ন সালমা আদিল এমজেএফ ব্যক্তিগতভাবে শীতার্ত মানুষের সহায়তায় ৫০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন, যা উপস্থিত সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
মানবিক সহায়তার পাশাপাশি সভায় সংগঠনের ভবিষ্যৎ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ও জাতীয় ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে আগামী নির্বাচনে নির্দিষ্ট কিছু জেলায় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং দেশব্যাপী আইন ও মানবাধিকার মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সভার শেষ পর্যায়ে গত ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস সফলভাবে পালনকারী শাখাগুলোর মধ্যে বিশেষ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। এতে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কুমিল্লা মহানগর শাখা প্রথম স্থান, হাটহাজারী উপজেলা শাখা দ্বিতীয় এবং চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর শাখা যৌথভাবে তৃতীয় স্থান অর্জন করে। এছাড়া ঈশ্বরদী শাখাকে তাঁদের ব্যতিক্রমী কাজের জন্য বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। সামগ্রিকভাবে, এই সভার মাধ্যমে বিএইচআরএফ সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় তাঁদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ২০২৫ সালের সমাপ্তি বছরে এক অসামান্য ও শক্তিশালী আর্থিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বছর শেষে তাদের মোট বার্ষিক আয় এবার চার অঙ্কের কোটা অর্থাৎ হাজার কোটির ক্লাবে সফলভাবে প্রবেশ করেছে। একই সাথে ব্যাংকিং খাতের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ ‘নন-পারফর্মিং লোন’ বা এনপিএল অনুপাত কমিয়ে এনে দেশের ব্যাংক খাতের মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে ব্যাংকটি। এই অর্জন মূলত ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সুশাসন এবং অত্যন্ত কঠোর ও সুশৃঙ্খল ঝুঁকি ব্যবস্থাপনারই একটি বাস্তব প্রতিফলন। গত এক বছরে ব্যাংকটি তাদের বিনিয়োগ সক্ষমতা, আমানত সংগ্রহ এবং সামগ্রিক ব্যালেন্স শিটের আয়তনে রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে।
এই গুরুত্বপূর্ণ অর্জনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপন করার লক্ষে সম্প্রতি ব্যাংকের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ ‘টাউন হল’ সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে ব্যাংকের এই সাফল্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) কিমিয়া সাআদাত। তিনি এই ঐতিহাসিক সাফল্যের জন্য ব্যাংকের সম্মানিত পরিচালনা পর্ষদ এবং মাঠ পর্যায়ের নিবেদিতপ্রাণ সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সম্মিলিত অবদানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরলস পরিশ্রম এবং গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান আস্থাই ব্যাংকটিকে আজকের এই সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে এসেছে। কিমিয়া সাআদাত তাঁর বক্তব্যে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবার মানকে বৈশ্বিক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে আলোকপাত করে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও জানান যে, কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি আগামীর দিনগুলোতে উদ্ভাবনী ব্যাংকিং সেবার ওপর বিশেষ জোর দেবে। তাঁরা টেকসই প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার পাশাপাশি প্রতিটি ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে বদ্ধপরিকর। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকের সকল অংশীদার বা স্টেকহোল্ডারদের জন্য লাভজনক পরিস্থিতি বজায় রাখা এবং দেশের অর্থনীতিতে আরও জোরালো অবদান রাখাই হবে তাঁদের মূল লক্ষ্য। সামগ্রিকভাবে ২০২৫ সালের এই অভাবনীয় আর্থিক মাইলফলক কমিউনিটি ব্যাংককে দেশের অন্যতম আস্থাশীল ও শক্তিশালী আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নতুন উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। মূলত স্বচ্ছতা এবং সুশাসনের মাধ্যমেই ব্যাংকটি এই জয়যাত্রা অব্যাহত রাখতে চায়।
কর্মস্থলে ইতিবাচক সংস্কৃতি এবং কর্মীদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদাপূর্ণ ‘২০২৫ গ্রেট প্লেস টু ওয়ার্ক’ সনদ অর্জন করেছে নেক্সট বাংলাদেশ। একই সাথে প্রতিষ্ঠানটির গ্লোবাল শাখা হিসেবে পরিচিত নেক্সট শ্রীলঙ্কা ও নেক্সট মালয়েশিয়াও এই বিশেষ সম্মানে ভূষিত হয়েছে। এই অভাবনীয় সাফল্য নেক্সট বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী সেই সকল প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানের তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে, যারা কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, পেশাদারিত্বের উন্নয়ন এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন কর্মস্থল নিশ্চিত করার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। উল্লেখ্য যে, ‘গ্রেট প্লেস টু ওয়ার্ক’ সার্টিফিকেশনটি মূলত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সরাসরি মতামত, নেতৃত্বের প্রতি তাঁদের অগাধ আস্থা এবং কর্মক্ষেত্রের সামগ্রিক পরিবেশের গভীর মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রদান করা হয়। এর মাধ্যমে প্রতিফলিত হয় যে একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা সেখানে কাজ করতে কতটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।
নেক্সট বাংলাদেশের এই অনন্য অর্জনে গভীর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির এইচআর (HR) প্রধান জনাব বিদ্যুৎ সেনগুপ্ত। তিনি তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানান যে, এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি তাঁদের প্রতিটি দপ্তরে গড়ে তোলা চমৎকার কর্মসংস্কৃতিরই একটি বহিঃপ্রকাশ। তিনি মনে করেন, গ্লোবাল পরিসরে তাঁদের কার্যক্রম যত বাড়ছে, তাঁরা ততই বেশি কর্মচারীদের যথাযথ মূল্যায়ন ও ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে কর্মীরা পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সাথে নিজেদের দক্ষতা উন্নয়নে মনোযোগ দিতে পারছেন এবং প্রয়োজনীয় সকল কারিগরি ও মানসিক সহায়তা প্রতিষ্ঠান থেকে লাভ করছেন। মূলত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের মানোন্নয়ন এবং উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক উদ্যোগ ও সম্মিলিত পরিশ্রমের ফলেই এই গৌরব অর্জন সম্ভব হয়েছে।
উন্নত কর্মসংস্কৃতি ও কর্মীদের সার্বিক বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নীতিই নেক্সট বাংলাদেশকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাঁদের কর্মীদের জন্য নিয়মিতভাবে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, লিডারশিপ কোচিং এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কাজ করার বিরল সুযোগ নিশ্চিত করে থাকে। এই ধরণের উদ্যোগ কর্মীদের কেবল পেশাগতভাবেই দক্ষ করে তোলে না, বরং তাঁদের ব্যক্তিগত ও মানসিক উন্নয়নেও শক্তিশালী ভূমিকা রাখে। এছাড়াও বিভিন্ন দেশের সাংস্কৃতিক ভিন্নতা বিবেচনা করে সহনশীল ও উপযোগী নীতিমালা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করায় নেক্সট এখন সবার কাছে একটি স্বপ্নের কর্মস্থলে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে টিমগুলোর মধ্যে চমৎকার সমন্বয় বজায় রাখায় কর্মীরা প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনে নিজেদের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করেন। সব মিলিয়ে, উন্নত সুযোগ-সুবিধা আর ইতিবাচক আবহের কারণে নেক্সট এখন ক্যারিয়ার সচেতন তরুণ প্রজন্মের কাছে কর্মস্থল হিসেবে পছন্দের শীর্ষে অবস্থান করছে।
দেশের ব্যাংকিং খাতে অন্তর্ভুক্তিমূলক সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক অনন্য ও মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে প্রাইম ব্যাংক পিএলসি.। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে আর্থিক জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে সম্প্রতি সাভারে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ব্রেইল পদ্ধতিতে মুদ্রিত বই বিতরণ করেছে ব্যাংকটি। প্রাইম ব্যাংকের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে এবং ‘টিম ইনক্লুশন বাংলাদেশ’-এর সক্রিয় সহযোগিতায় এই কর্মসূচিটি পরিচালিত হয়। অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের কাছে ব্যাংকিং সেবা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছে দেওয়া, যাতে তাঁরা স্বাবলম্বী হওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারেন। প্রাইম ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, সবার জন্য আর্থিক জ্ঞান সহজলভ্য করার যে দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতি তাঁরা দিয়েছেন, এটি তারই একটি ধারাবাহিক অংশ।
প্রাইম ব্যাংক এর আগে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য কনজ্যুমার ব্যাংকিং সংক্রান্ত ব্রেইল বই বিতরণ করেছিল। তবে এবারের বিশেষত্ব হলো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বা সিএমএসএমই (CMSME) ব্যাংকিং সংক্রান্ত তথ্য সম্বলিত ব্রেইল বই বিতরণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা এখন থেকে ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন পণ্য, ঋণ সুবিধা, ব্যবসায়িক সেবা এবং বিনিয়োগের সুযোগ সম্পর্কে আরও স্বচ্ছ ও বিস্তারিত ধারণা লাভ করতে পারবেন। এই উদ্যোগটি মূলত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদেরকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে উৎসাহিত করবে এবং তাঁদেরকে দেশের অর্থনৈতিক মূলধারায় সম্পৃক্ত হতে সহায়তা করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অনুষ্ঠানটি কেবল তথ্য প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির সুফল সরাসরি পৌঁছে দিতে সেখানে ‘স্পট’ বা তাৎক্ষণিক ব্যাংক হিসাব খোলার বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। এর ফলে অংশগ্রহণকারী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা কোনো ধরণের জটিলতা ছাড়াই সরাসরি আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাইম ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব লায়াবিলিটি শায়লা আবেদীন, হেড অব ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন অ্যান্ড স্কুল ব্যাংকিং এম এম মাহবুব হাসান এবং হেড অব কনজ্যুমার প্রোটেকশন অ্যান্ড সার্ভিস কোয়ালিটি কাজী রেশাদ মাহবুব। জ্যেষ্ঠ এই কর্মকর্তারা সরাসরি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন।
টিম ইনক্লুশন বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মোঃ জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অতিথিরাও উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ ইউনিভার্সিটি ও সুইনবার্ন ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির প্রতিনিধি তানজিলা কানিজ এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রাইম ব্যাংকের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এই সময় উপস্থিত থেকে কর্মসূচিতে সহযোগিতা করেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মতে, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কেবল একটি ব্যবসায়িক সেবা নয়, বরং এটি একটি বড় ধরণের সামাজিক দায়িত্ব। একটি আরও সহানুভূতিশীল এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে অব্যাহত থাকবে বলে প্রাইম ব্যাংক পিএলসি. দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। মূলত প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দেওয়াই এই আয়োজনের মূল বার্তা ছিল।
দেশের তরুণ ও সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের অধীন ‘স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রাম’ (এসআইসিআইপি)-এর আওতায় ‘এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’ (ইডিপি) বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে এই অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই উদ্যোগের ফলে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের বিকাশ এবং উদ্যোক্তাদের কারিগরি ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর জনাব নুরুন নাহার এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জনাব হুসনে আরা শিখা। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ডিরেক্টর জনাব নওশাদ মোস্তফা এবং এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্টের (এসএমইএসপিডি) প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ও অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর জনাব মো. নজরুল ইসলাম। অন্যদিকে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর ও বিনিময় করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) জনাব কিমিয়া সাআদত। উভয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই চুক্তি বিনিময় দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উদ্ভাবনী শিল্প সংস্কৃতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি জোরালো অঙ্গীকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ও জয়েন্ট ডিরেক্টর জনাব মোহাম্মদ ওয়াসিম এবং কোঅর্ডিনেটর ও ডেপুটি ডিরেক্টর মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। কমিউনিটি ব্যাংকের পক্ষ থেকে এসএমই ডিভিশন হেড হোসেন-আল-সাফীর চৌধুরী ও এগ্রি ডিভিশন হেড শরিফ হাসান মামুনসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই আয়োজনে শরিক হন। বক্তারা জানান, এই কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও আর্থিক পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে তাঁদেরকে বাজারের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার যোগ্য করে তোলা হবে। মূলত একটি স্বনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি বিনির্মাণের লক্ষ্যেই কমিউনিটি ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংক এই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের শিল্প খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘এমক্যাশ’ রিব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে নতুন কলেবরে শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর প্রধান অতিথি হিসেবে গত রোববার (১১ জানুয়ারি) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে দেশের প্রথম ইসলামিক মোবাইল ব্যাংকিং ‘এমক্যাশ’ রিব্র্যান্ডিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
ব্যাংকের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম জুবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আরিফ হোসেন খান। স্বাগত বক্তব্য দেন ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. ওমর ফারুক খাঁন। ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খুরশীদ ওয়াহাব, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মো. আবদুস সালাম, এফসিএ, এফসিএস, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম মাসুদ রহমান ও স্বতন্ত্র পরিচালক মো. আবদুল জলিল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী ও ব্যাংকের সকল জোনপ্রধান ও শাখা ব্যবস্থাপকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকের একটি শক্তিশালী গ্রাহক ভিত্তি রয়েছে। ৩ কোটির অধিক গ্রাহক এ ব্যাংকের সাথে সম্পৃক্ত। ইসলামী ব্যাংকের ৪০০টি শাখা, ২৭১টি উপশাখা, প্রায় ২,৮০০টি এজেন্ট আউটলেটের বৃহৎ নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে এমক্যাশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ইসলামী ব্যাংকের রেমিট্যান্স প্রবাহেও এমক্যাশকে কাজে লাগাতে হবে। ক্যাশলেস সোসাইটি গঠনে এমক্যাশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’
সভাপতির বক্তব্যে ব্যাংকের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম জুবায়দুর রহমান বলেন, ‘৩ কোটি গ্রাহক নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের এমক্যাশ সবাইকে ছাড়িয়ে যাবে।’ তিনি এমক্যাশ লেনদেনে সবাইকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান। তিনি এমক্যাশের রিব্র্যান্ডিংয়ে গভর্নর মহোদয়ের উপস্থিতির জন্য ধন্যবাদ জানান।
পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ব্যাংকিং কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে এনসিসি ব্যাংক ডিএইচএল ওয়ার্ল্ড ওয়াইড এক্সপ্রেস (বিডি)-এর সাথে ‘গো গ্রীণ প্লাস - কার্বন রিডিউস্ড সার্ভিস’ সেবার আওতায় একটি কৌশলগত অংশীদারিত্বে যুক্ত হয়েছে। এই অংশীদারিত্ব আর্থিক সেবাদানে পরিবেশ সুরক্ষার লক্ষ্য অর্জনে এক অনন্য মাইলফলক।
এনসিসি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর ও হস্তান্তর করেন এনসিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. শামসুল আরেফিন এবং ডিএইচএল এক্সপ্রেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিয়ারুল হক। এই সময়ে এনসিসি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. খোরশেদ আলম; উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাকির আনাম ও মোহাম্মদ মিজানুর রহমান; ইভিপি ও হেড অব সাসটেইনেবল অ্যান্ড উইমেনস ব্যাংকিং নিঘাত মমতাজ; এসভিপি ও হেড অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সার্ভিসেস মোহাম্মদ মাহে আলম, ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সার্ভিসেস (এক্সপোর্ট) এর এফএভিপি রাগীব আহমেদ সিদ্দীক এবং ডিএইচএল এক্সপ্রেস (বিডি)-এর পক্ষে হেড অব কমার্শিয়াল এ এস এম শাকিল, হেড অব জিএমএনসি মোহাম্মাদ হায়াতুজ্জামান খান, ন্যাশনাল কাস্টমার ম্যানেজার মোহাম্মাদ আরাফাত হোসেন ছাড়াও উভয় প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এনসিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. শামসুল আরেফিন বলেন, পরিবেশগত দায়বদ্ধতা আজ আর কেবল টেকসইভাবে ব্যবসা উন্নয়নের জন্য একটি কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা না; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি নৈতিক অঙ্গীকার। ডিএইচএল এক্সপ্রেস (বিডি) এর সঙ্গে আমাদের এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা সাসটেইনেবল এভিয়েশন ফুয়েল (এসএএফ) ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছি, যা কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। এটি আমাদের নেট জিরো নির্গমনের লক্ষ্য এবং পরিবেশবান্ধব ব্যাংকিং কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ডিএইচএল এর মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব আমাদের আন্তর্জাতিক মানদ-ে একটি সবুজ ও সহনশীল অর্থনীতির পথে যাত্রাকে সুগম করবে।
ডিএইচএল এক্সপ্রেস (বিডি)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিয়ারুল হক বলেন, এনসিসি ব্যাংকের সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব ডিএইচএল এক্সপ্রেসের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি শুধু একটি বাণিজ্যিক চুক্তি নয়; বরং বৈশ্বিক জলবায়ুর লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশে একটি দায়িত্বশীল ও পরিবেশবান্ধব করপোরেট সংস্কৃতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আর্থিক খাতে এনসিসি ব্যাংকের এই অগ্রণী ভূমিকা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও পরিবেশবান্ধব টেকসই কার্যক্রম গ্রহণে অনুপ্রাণিত করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। ডিএইচএল এক্সপ্রেস সবসময়ে গ্রাহকদের কম-কার্বন বিশিষ্ট লজিস্টিকস সেবা প্রদানের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
উত্তরা ব্যাংক পিএলসি- এর ‘বিজনেস ডেভলপমেন্ট কনফারেন্স এ্যান্ড ফিউচার প্ল্যানিং ফর ২০২৬ʼ গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট এন্ড গলফ, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার -এ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মো. আবুল হাশেম- এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সম্মেলনে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাকসুদুল হাসান, উপব্যবস্থাপনা পরিচালকবর্গ মো. রেজাউল করিম এবং খন্দকার আলী সামনুন সহ ব্যাংকের নির্বাহীগণ অংশগ্রহণ করেন।
স্বতন্ত্র ধারার কবি, উত্তর-উপনিবেশী তাত্ত্বিক ও চিন্তক ফয়েজ আলমের ৫৮তম জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছাজ্ঞাপন অনুষ্ঠান গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
ফয়েজ আলম: ‘তার সৃষ্টিশীল পথরেখা’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত ওই শুভেচ্ছাজ্ঞাপন ও আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলা একাডেমির সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ও জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান মুহ. ফজলুর রহমান সিএসপি। শিল্পসাহিত্য সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সংগঠন: ঢাকা রিপোর্ট ২৪ ডটকম, বাঙালমেল, সরলরেখা, বায়োগ্রাফি ফাউন্ডেশন, বুকওয়ার্ম সোসাইটি ও কাব্যস্বর সম্মিলিতভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, লেখক-গবেষক আবু সাঈদ তুলু, কবি ও কথাশিল্পী জোহরা পারুল, কবি খলিল মজিদ, জহির হাসান, রাজু আহমেদ মামুন, মামুন খান, ইমরান মাহফুজ, মামুন আজাদ, কবি ও লিটলম্যাগ সম্পাদক রিসি দলাই, শওকত হোসেন, ইকতিজা আহসান প্রমুখ। এ ছাড়া ফয়েজ আলমের সহপাঠী, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। ওই অনুষ্ঠানে কবি ও চিন্তক ফয়েজ আলমের গুণমুগ্ধ পাঠকসহ প্রায় দেড়শতাধিক সাহিত্যপ্রেমী মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে কবির জীবন ও সাহিত্যকর্মের উপর ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়, কবির কবিতা থেকে পাঠ ও আবৃত্তি এবং কবিতার দৃশ্যায়ন প্রর্দশিত হয়। পরে কেক কেটে কবির জন্মদিন উদযাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা কবি ফয়েজ আলমের সাহিত্যকর্ম, উত্তর-উপনিবেশী চিন্তাধারা, তাত্ত্বিক পরিপ্রেক্ষিত নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা করেন। তারা বলেন, এ সময়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ চিন্তক হিসেবে ফয়েজ আলম স্বকীয়তা অর্জন করেছেন। প্রায় তিন দশকের লেখালেখির মধ্য দিয়ে তিনি আমাদের জ্ঞানচর্চা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে উপনিবেশের অভিজ্ঞতা ও নেতিবাচক প্রভাব বিষয়ে নয়া দৃষ্টিভঙ্গির অবতারণা করেছেন। আর, মননের মুক্তি অর্জনের লক্ষ্যে আমাদের সামগ্রিক চর্চায় নতুন এই বিচারিক দৃষ্টিকোণের প্রায়োগিক সুযোগ ও যথাযথ পরিসরও নির্মাণ করেছেন।
‘Debt Spiral’ বা ঋণ ফাঁদের প্রকৃতি, ব্যাপ্তি ও প্রভাব নিরূপণের লক্ষ্যে “Debt Spiral in Bangladesh’s Microfinance: An Assessment of its size and implication for indebted household and suggestions for remedial measures” শীর্ষক গবেষণা প্রস্তাবনা বিষয়ক ইনসেপশন সেমিনার বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি (এমআরএ)-এর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে মূল আলোচক ও গবেষণা দলের প্রধান হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইকোনমিক রিসার্চ গ্রুপ (ইআরজি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. সাজ্জাদ জহির। এছাড়াও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ফজলুল কাদের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. এম. এ. বাকী খলিলি এবং পিকেএসএফ এর গভার্নিং বোর্ডের সদস্য ও বাংলাদেশ ব্যাংক এর সাবেক নির্বাহী পরিচালক ড. লীলা রশিদ। সেমিনারে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, মাইক্রোফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠানসমূহের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গবেষক ও নীতিনির্ধারকগণ অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বলেন, “ক্ষুদ্রঋণ খাত দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ হলেও অতিরিক্ত ঋণগ্রস্ততা ও Debt Spiral এখন একটি নীতিগত উদ্বেগের বিষয়। এই গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যভিত্তিক সুপারিশ ক্ষুদ্রঋণ খাতকে আরও মানবিক ও টেকসই করতে সহায়ক হবে।” এছাড়া এমআরএ'র গত বছরের বার্ষিক প্রতিবেদন হতে দেখা যায় যে, বৃহৎ কিছু প্রতিষ্ঠান সেক্টরের বৃহদাংশ ভুমিকা রাখছে আর অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান খুবই ছোট ও আর্থিক অবস্থা নাজুক। বিষয়টি গবেষণা করে দেখার পাশাপাশি এখাতের টেকসই উন্নয়নে অধিক পরিমানে গবেষণা উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, “ক্ষুদ্রঋণ খাতের জবাবদিহি এবং স্বচ্ছতা আনায়নে এমআরএ MF-CIB বাস্তবায়ন, ন্যাশনাল ডাটাবেইজের মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ, সরেজমিনে পরিদর্শন জোরদার করেছে। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি এই গবেষণার মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ খাতের বিদ্যমান ঝুঁকি চিহ্নিত করে একটি কার্যকর ও গ্রাহকবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন সহায়ক প্রমাণভিত্তিক দিকনির্দেশনা থাকবে মর্মে আশা পোষণ করছেন। ” এছাড়া আলোচ্য গবেষণা কার্যটির মাধ্যমে অধিকহারে দারিদ্র্য নিরসন ও টেকসই ক্ষুদ্রঋণ খাত প্রতিষ্ঠা সহায়ক পলিসি উপকরণ পাওয়া যাবে মর্মে তিনি উল্লেখ করেন।
গবেষণা দলের প্রধান ও Economic Research Group (ERG)-এর চেয়ারম্যান ড. সাজ্জাদ জহির ইনসেপশন রিপোর্ট উপস্থাপনকালে বলেন, “এই গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের ক্ষুদ্রঋণ খাতে Debt Spiral-এর প্রকৃত পরিসর নিরূপণ, এর চালকসমূহ চিহ্নিত করা এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করা। আমরা পরিমাণগত ও গুণগত উভয় পদ্ধতির সমন্বয়ে ১৬টি জেলায় ৩২টি উপজেলায় মাঠপর্যায়ের গবেষণা পরিচালনা করবো, যাতে নীতিনির্ধারণের জন্য বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর সুপারিশ প্রদান করা যায়।”
ক্ষুদ্রঋণখাত বিশেষজ্ঞ ড. লীলা রশিদ বলেন, “ঋণের পথ সুগম করা আর ঋণের পথে প্রলুব্ধ করা এক জিনিস নয়, এ বিষয়ে আমাদের ধারণাগত বোঝাপড়া পরিষ্কার হওয়া দরকার। ঋণের ওভারল্যাপিং ও স্পাইরাল এর মধ্যে সম্পর্ক থাকাটা অবান্তর নয় এবং এসব বিষয় আলোচ্য গবেষণায় বেড়িয়ে আসবে মর্মে তিনি আশাপোষণ করেন।
পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ফজলুল কাদের বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, একটি ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে ঋণগ্রহীতারা অন্য এনজিও বা সমিতি থেকে নতুন ঋণ গ্রহণে বাধ্য হচ্ছেন। এতে একই ব্যক্তি একাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে অতিরিক্ত ঋণগ্রস্ততায় পতিত হচ্ছেন। এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী নীতিমালা প্রণয়ন প্রয়োজন।” তবে মাল্টিপল ঋণ গ্রহণ এসেক্টরে সব সময় যে খারাপ তা কিন্তু নয় যা পিকেএসএফের ইতিপূর্বের স্টাডি হতে দেখা গেছে। তিনি আশা করছেন আলোচ্য গবেষণার মাধ্যমে সেক্টরের জন্য ইতিবাচক অনেক কিছু বেড়িয়ে আসবে যা এমআরএ ও পিকেএসএফ এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়নে ভুমিকা রাখবে।
অধ্যাপক ড. এম. এ. বাকী খলিলি বলেন, “গবেষণায় ঋণের প্রকৃত অবস্থা তুলে আনতে ঋণগ্রহীতার ঋণের দীর্ঘমেয়াদী তথ্য নিয়ে বিশ্লেষণ করতে হবে।” Demand side ও Supply side এর প্রভাব ভূমিকা এবং এটি পূঁজি গঠন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা অর্থায়নে কেমন ভূমিকা রাখছে তা দেখা জরুরী মর্মে তিনি মত দেন।
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির নির্বাহী পরিচালক মোঃ ইয়াকুব হোসেন বলেন, “বাংলাদেশের ক্ষুদ্রঋণ খাত দারিদ্র্য বিমোচন ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সম্প্রসারণসহ সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসলেও সাম্প্রতিক সময়ে অতিরিক্ত ঋণগ্রস্ততা ও একাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণের প্রবণতা একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। ফলে এ সমস্যা সঠিকভাবে অনুধাবনের জন্য তথ্যভিত্তিক, নিরপেক্ষ ও গভীর গবেষণার বিকল্প নেই।” মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা এঁর অনুশাসন পরিপালনে সরকারের পক্ষে এমআরএ আলোচ্য গবেষণা কার্যটি সম্পাদনে ইকোনমিক রিসার্চ গ্রুপ (ইআরজি) এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয় মর্মেও তিনি উল্লেখ করেন।
আইএফআইসি টাওয়ারের মাল্টিপারপাস হলে অনুষ্ঠিত হয়েছে 'আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি বার্ষিক ব্যবসায়িক সম্মেলন-২০২৬'। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মোঃ মেহমুদ হোসেন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। শনিবার (১০ জানুয়ারি) ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব সৈয়দ মনসুর মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিগত বছরের সাফল্য পর্যালোচনা এবং নতুন বছরের কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
সম্মেলনে পরিচালনা পর্ষদের সম্মানিত সদস্যবৃন্দের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ এবতাদুল ইসলাম, জনাব কাজী মোঃ মাহবুব কাশেম এফসিএ, জনাব মোঃ গোলাম মোস্তফা এবং জনাব মুহাম্মদ মনজুরুল হক। এছাড়াও উক্ত সম্মেলনে ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালকবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের প্রধানগণ এবং দেশব্যাপী সকল শাখার ব্যবস্থাপকগণ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় চেয়ারম্যান মোঃ মেহমুদ হোসেন বলেন, “দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও গ্রাহককেন্দ্রিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলাই আইএফআইসি ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য। সুশাসন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি ব্যবসায়িক মডেলে কৌশলগত পরিবর্তনের মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।। এই লক্ষ্য অর্জনে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রতিটি পদক্ষেপে আমাদের পরিচালনা পর্ষদ পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা দিতে বদ্ধপরিকর।”
এছাড়াও উক্ত অনুষ্ঠানে সম্মানিত পরিচালকগণ সুশাসন, বর্তমান ব্যবসায়িক পরিস্থিতি, নিয়ন্ত্রক কাঠামো, খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যত কৌশলগত পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দিক নির্দেশনা মূলক বক্তব্য রাখেন। উক্ত সম্মেলনে ব্যাংকের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার ২০২৫ সালের সার্বিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম, আর্থিক সূচক ও অর্জনসমূহ নিয়ে একটি বিস্তারিত তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন।
সম্মেলনে আমানত সংগ্রহ, ঋণ প্রদান ও আদায় এবং পরিচালন মুনাফা অর্জনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ২৪টি শাখাকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। দিনব্যাপী আয়োজিত এই সম্মেলনটি একটি প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়, যেখানে শাখা ব্যবস্থাপকগণ তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন।