দ্বিতীয় মেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য হলেন অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন ও অধ্যাপক মুহাম্মদ আলমগীর।
সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। আগামী চার বছরের জন্য তারা সদস্য পদে নিয়োগ পেয়েছেন। তারা প্রথম মেয়াদের অনুরূপ বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্য হবেন।
সদস্য হিসেবে অধ্যাপক মুহাম্মদ আলমগীর এর মেয়াদ শেষ হবে চলতি মাসের ১৫ মে এবং অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেনের মেয়াদ শেষ হবে ১১ মে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পুর্ননিয়োগ পেলেন তারা।
নিয়োগের শর্তে বলা হয়, এ নিয়োগের মেয়াদ হবে চার বছরের জন্য। তবে সরকার মনে করলে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দায়িত্ব থেকে তাকে অব্যাহতি দিতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য হিসেবে বর্তমানে তিনি যে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, দ্বিতীয় মেয়াদে নিয়োগেও একইভাবে বেতন-ভাতা পাবেন। কমিশনের সদস্য হিসেবে তিনি প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এ নিয়োগ যোগাদানের দিন থেকে কার্যকর হবে।
এর আগে অধ্যাপক মো. সাজ্জাদ হোসেন ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ এবং ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রামর কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অধ্যাপক মুহাম্মদ আলমগীরবাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে বিএসসি ও এমএসসি ডিগ্রি এবং জাপানের সাগা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই মেয়াদে উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, সিন্ডিকেট সদস্য, প্রভোস্ট এবং শিক্ষক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
পদোন্নতির দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ( ববি) শিক্ষকদের চলমান একাডেমিক কর্মবিরতিতে পূর্বনির্ধারিত শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষা মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদী সেশনজটের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শিক্ষার্থীদের ক্ষতির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষকদের পরীক্ষাগুলো নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ আইন বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা থাকলেও তা হয়নি। সময়মতো পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে উত্তরপত্র সরবরাহ করা হলেও শিক্ষকরা না আসায় তা পুনরায় ফেরত নিয়ে আসা হয় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে।
আইন বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী শামীম হোসাইন বলেন , বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমানে শিক্ষক পদোন্নতি নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে ,তার জন্য আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে! আমাদের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা ছিলো সেটা হচ্ছে না! আমরা জানিনা কবে এই সমস্যার সমাধান হবে!
বুধবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি বিভাগের অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা রয়েছে। লোকপ্রশাসনের অনার্স তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা এবং ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা রয়েছে। এসকল বিভাগে আগামীকাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে কি না সে বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, সাজ্জাদ উল্লা ফয়সাল বলেন, মঙ্গলবার একটি বিভাগের পরীক্ষা ছিলো তা হয়নি। বুধবারও দুটি বিভাগের পরীক্ষা রয়েছে। আমরা যথাসময়ে উত্তরপত্র পাঠাবো। শিক্ষকরা যদি পরীক্ষা নেন তাহলে পরীক্ষা হবে, নতুবা হবে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, শিক্ষকদের আন্দোলনে মধ্যে যেন শিক্ষার্থীদের ফাইনাল পরীক্ষা আওতাভুক্ত না করার দাবি জানান। শিক্ষার্থীদের ক্ষতি বিবেচনায় নিয়ে ফাইনাল পরীক্ষাগুলো নিয়ে নেয়ার অনুরোধও জানান তিনি শিক্ষকদের প্রতি।
এর আগে সোমবার শিক্ষক সংকট, পদোন্নতি জটিলতা ও আইনগত অনিশ্চয়তা নিরসনের দাবিতে এক দিনের কর্মবিরতি এবং দাবি পূরণ না হলে পরদিন থেকে পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দেন শিক্ষকরা। একইসঙ্গে প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকেও বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এরও আগে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পদোন্নতি জটিলতা নিরসনের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জামাল উদ্দীন আমরণ অনশনে বসেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
শিক্ষকদের লিখিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বিদ্যমান বিধি ও প্রবিধানের আওতায় পরিচালিত হলেও সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে জারি করা এক নির্দেশনার ফলে পুরো কার্যক্রম আইনগত অনিশ্চয়তায় পড়েছে। নির্দেশনায় চাকরি, পদোন্নতি ও প্রশাসনিক বিধিমালা প্রণয়ন ও সংশোধনের ক্ষেত্রে চ্যান্সেলরের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে পূর্ববর্তী নিয়মে পরিচালিত কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগের অধিকাংশেই তীব্র শিক্ষক সংকট বিরাজ করছে। অনেক বিভাগে মাত্র তিন থেকে চারজন শিক্ষক দিয়ে একাধিক ব্যাচের ক্লাস পরিচালনা করতে হচ্ছে, যা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনুমোদিত পদ থাকা সত্ত্বেও প্রায় ৫১টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। খণ্ডকালীন শিক্ষকদের ভাতা ও সম্মানি বন্ধ থাকায় পাঠদান কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়া পদোন্নতির ক্ষেত্রেও দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৪ জন শিক্ষকের পদোন্নতির সুপারিশ সম্পন্ন হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিক্ষক সমাজে অসন্তোষ বাড়ছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পদোন্নতি নীতিমালা অনুযায়ী একটি সিলেকশন বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। তবে বোর্ডের কার্যক্রম শুরুর পর ইউজিসি থেকে অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণের নির্দেশনা দিয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়। তিনি জানান, এ বিষয়ে ইউজিসির সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং দ্রুত সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারাও ত্রুটিযুক্ত নীতিমালা সংশোধন না করেই পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন বোর্ড আয়োজনের দাবিতে রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন জানিয়েছেন। ইউজিসি বিদ্যমান নীতিমালার বিভিন্ন ধারায় আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে তা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিলেও কর্মকর্তারা বর্তমান নিয়মেই পদোন্নতি চান। এতে প্রশাসনে এক ধরনের অচলাবস্থা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, পদোন্নতি ও গ্রেড আপগ্রেডেশন সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫ জন কর্মকর্তা হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন (নং-৬৪৯০/২০২৫) দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
সারাদেশে একযোগে শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিনে মানিকগঞ্জ ও সাভারের বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্র আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে তিনি এই দুই এলাকার বেশ কয়েকটি এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) কেন্দ্র ঘুরে দেখেন। মন্ত্রীর এই আকস্মিক উপস্থিতিতে কেন্দ্রগুলোর সার্বিক শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনার চিত্র ফুটে ওঠে।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী সাভারের তেঁতুলঝোড়া উচ্চ বিদ্যালয় এবং মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ও সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এছাড়া তিনি আমিনবাজারের মীরপুর মফিদ-ই-আম স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ঢাকার পাইকপাড়াস্থ মডেল একাডেমি পরীক্ষাকেন্দ্র তদারকি করেন। কেন্দ্রগুলোতে স্থাপিত কন্ট্রোল রুম থেকে সিসিটিভির মাধ্যমে পরীক্ষার হলগুলোর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি তিনি উপস্থিত শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী পরীক্ষার পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, প্রথম দিনে অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশে যেন কোনো ভোগান্তি না হয়, সেজন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার কেন্দ্রগুলো সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যেই খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ বছর সারাদেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ৩০ হাজার ৬৬৬টি স্কুল, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাড়ে ১৮ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের মোট ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরীক্ষা চলাকালীন স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রতি বছরের ন্যায় বাংলা প্রথম পত্র দিয়ে এবারও শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় দেশের তিন হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা শুরু হয়। এতে সারা দেশের ৩০ হাজার ৬৬৬টি স্কুল-মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাড়ে ১৮ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। দুপুর ১টায় এ পরীক্ষা শেষ হবে।
প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে প্রথম দিনে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মাদরাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে প্রথম দিনে কোরআন মাজিদ ও তাজভিদ পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কারিগরি বোর্ডের অধীনে (ভোকেশনাল) বাংলা-২ ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষার প্রথম দিনে বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা হচ্ছে।
এদিকে, পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে আসতে থাকেন পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা। এদিন সকাল থেকেই রাজধানীর সড়কগুলোতে যানজট ছিল চোখে পড়ার মতোন। অনেক পরীক্ষার্থীকে দৌড়েও কেন্দ্রের দিকে যেতে দেখা যায়।
রাজধানীসহ বিভিন্ন স্কুলের কেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিচ্ছে, কেউবা সহপাঠীদের সঙ্গে আলোচনা করছে সম্ভাব্য প্রশ্ন নিয়ে। অভিভাবকদের মধ্যেও ছিল বাড়তি উৎকণ্ঠা ও প্রত্যাশা—পরীক্ষা ভালো হোক, সন্তান যেন নির্বিঘ্নে দিতে পারে।
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তা এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিতে তৎপর রয়েছে শিক্ষাপ্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বিশেষ করে নকল ও ডিভাইস ব্যবহার করে ডিজিটাল জালিয়াতি এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
প্রসঙ্গত, এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট তিন হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে, আর কেন্দ্র সংখ্যার দিক থেকেও এগিয়ে এই বোর্ড। অন্যদিকে তুলনামূলক কম কেন্দ্র রয়েছে ময়মনসিংহ বোর্ডে।
সারাদেশে মাধ্যমিক স্কুল সাটিফিকের্ট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে। তবে গাইবান্ধার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৫০ শিক্ষার্থীর ভুলে ভরা প্রবেশপত্র নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ওই সকল পরিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের গাফিলতিতে এমন ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কঞ্চিপাড়া এম এ ইউ একাডেমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রায়হান সরকার। এরআগে রোববার প্রবেশপত্র আনতে গিয়ে ঘটনা জানাজানি হয়। ঘটনা জানাজানির পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সর্বমহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
জানা গেছে, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় কঞ্চিপাড়া এম এ ইউ একাডেমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে ১৪৫ ও বিজ্ঞান বিভাগে ৬৭, জনসহ মোট ২১২ জন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এসব পরীক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকে প্রবেশপত্র তুলতে দিয়ে দেখে কারো অভিভাবকের (মা-বাব) নাম ভুল। আবার ছেলে পরীক্ষার্থীর ছবির স্থানে মেয়ের ছবি এবং বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র আসে মানবিক বিভাগের।
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠান প্রধান রায়হান সরকার বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কম্পিউটার অপারেটরের সহযোগিতা না নিয়ে বাইরের দোকান থেকে ফরম পূরণ ও রেজিষ্ট্রেশন সংক্রান্ত কাজ করার কারণে প্রবেশপত্রে এ ধরনের ভুল হয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক রায়হান সরকার বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের টাকা থেকে বঞ্চিত করা এবং নিজে আয় করতে তিনি একাই বাইরের কম্পিউটারের দোকান থেকে কাজ করেছেন। ফলে আজকে এতোগুলা শিক্ষার্থী পরিক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে।
এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক রায়হান সরকার অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, ‘আমার কারণে ভুল হয়েছে ঠিক আছে। কিন্তু একজন পরীক্ষার্থীও পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হবেনা। সমাধানের কাজ চলছে।
এ বিষয়ে ফুলছড়ি উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার সৈয়দ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এসব বিষয় সম্পূর্ণ দেখ-ভালের দায়িত্ব প্রধান শিক্ষকের এবং বোর্ড সংশ্লিষ্টদের। বিষয়টি কিভাবে কি হয়েছে, জানার চেষ্টা করছি।
ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি দুঃখজনক, পরীক্ষার্থীই যেন পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
আসন্ন পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে ‘নীরব বহিষ্কার’ বা সাইলেন্ট এক্সপেল-এর কোনো সুযোগ থাকছে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া (ডিউ প্রসেস) ছাড়া কাউকে বহিষ্কার করা আইনসম্মত নয়। শিক্ষা বোর্ডের পুরনো এ সংক্রান্ত নীতিমালায় থাকা বিতর্কিত ২৯ নম্বর ধারাটি অবিলম্বে রহিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আসন্ন এসএসসি, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে আয়োজিত অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।
এই বিধানের বিষয়ে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘নীরব বহিষ্কার বলে কোনো শব্দ থাকতে পারে না। ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ আইন দিয়ে আমরা যখন পরীক্ষা পরিচালনা করেছিলাম, সেখানেও এমন কোনো নিয়ম ছিল না। এটি সম্পূর্ণ আইনবিরুদ্ধ।’
তিনি আরও বলেন, ‘কাউকে শাস্তি দিতে হলে ডিউ প্রসেস বা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দিতে হবে। আপনি পরীক্ষা কক্ষে নকল করেছেন কি করেননি, তা সেখানেই প্রমাণিত হতে হবে। নীরবে বাড়িতে বসে কাউকে বহিষ্কার করার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী বলেন, আমরা কনফিডেন্ট যে, বর্তমানে পরীক্ষা কেন্দ্রে গোলযোগ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাই নীতিমালায় থাকা এই অনুচ্ছেদটি আমি ইমিডিয়েটলি সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘নীরব বহিষ্কার’ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া উদ্বেগ ও শঙ্কার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালাটি ১৯৬১ সালের তৈরি করা। নীতিমালার পুরনো কোনো অসংগতিপূর্ণ কপি থেকে এই বিভ্রান্তি ছড়িয়ে থাকতে পারে।
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এ বিষয়ে দ্রুত একটি স্পষ্টীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করবে।
বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ২ জুলাই থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হবে। পরবর্তী পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, এ ছাড়া আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু পরিবেশে অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘এবারের কড়াকড়ি আইনগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বরং শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিবদের জন্য যাতে তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা পরীক্ষার্থীদের পেছনে ছুটছি না, বরং শিক্ষার গুণগত মান ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের দক্ষতা ও জবাবদিহিতার দিকে নজর দিচ্ছি।’
শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং জুম প্ল্যাটফর্মে দেশের সব জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা ও শিক্ষক প্রতিনিধিরা যুক্ত ছিলেন।
এবারের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হবে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার তারিখ চূড়ান্ত হয়। শিগগির রুটিন প্রকাশিত হবে।
চলতি বছর থেকেই দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে। বাকি দুটি (মাদরাসা ও কারিগরি) বোর্ডে আগে থেকেই অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু হয়েছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা। বুধবার (১৫ এপ্রিল) উপজেলার দুটি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় অংশ নেয় ৭৬৪ জন শিক্ষার্থী।
উপজেলার গোমদন্ডী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কানুনগোপাড়া ড. বিভূত ভূষণ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১ হাজার ৬৯ জন পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণের কথা থাকলেও প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিল ৩০৫ জন পরীক্ষার্থী, যার মধ্যে ছাত্র ১২৩ জন এবং ছাত্রী ১৮২ জন। এছাড়া পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৭ জন ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষার্থী রয়েছে।
পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রসমূহ পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুখ। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হারুনুর রশিদসহ কেন্দ্র সচিবরা।
পরিদর্শন শেষে ইউএনও মেহেদী হাসান ফারুখ বলেন, “উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও কেন্দ্র সচিবদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরীক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে, সে বিষয়ে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।”
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ জানান, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।
‘Together for health. Stand with science’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে পালিত হলো বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬। শুক্রবার সকাল ১০:৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্কলার্স ইন’ সেমিনার কক্ষে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক এক বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ডাঃ হালিদা হানুম আখতার। তিনি তাঁর বক্তব্যে বর্তমান সময়ে জনস্বাস্থ্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্যের গুরুত্ব এবং সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “টেকসই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হলে আমাদের অবশ্যই বিজ্ঞানের ওপর আস্থা রাখতে হবে এবং সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (NIPSOM), ইউনিসেফ, ইউশিকাগো রিসার্চ বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সেন্টার ফর কমিউনিকেশন প্রোগ্রামস (BCCP), বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট, গ্লোবাল এলায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (GAIN), সেন্টার ফর ল’ অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স (CLPA), রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (IEDCR) এবং নুরা হেলথ। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, এডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি, এলামনাই এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ নাজমুল হোসেন। স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আক্তার হোসেন খান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডাঃ মো: মুশতাক হোসেন এবং অধ্যাপক ডাঃ সামসুন্নাহার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব হেলথ সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক ডাঃ নওজিয়া ইয়াসমিন।
অতিথি হিসেবে, তাঁর বক্তব্যে বলেন, “সুস্থ জাতি গঠনে বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সময়ের স্বাস্থ্য ঝুঁকিগুলো মোকাবিলা করতে হলে আমাদের অবশ্যই আধুনিক বিজ্ঞানের ওপর আস্থা রাখতে হবে। স্টেট ইউনিভার্সিটির মতো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষ জনস্বাস্থ্য কর্মী তৈরিতে যে ভূমিকা রাখছে, তা দেশের স্বাস্থ্য খাতের সামগ্রিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।”
স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে এবং ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল অ্যান্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টারের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ সেমিনারের সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আনোয়ার হোসেন। তিনি উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “ভবিষ্যৎ জনস্বাস্থ্য কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের সেমিনার মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।”
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা ও সমন্বয় করেন জনস্বাস্থ্য বিভাগের লেকচারার ও কো-অর্ডিনেটর মোঃ আল্লামা ফয়সাল। সেমিনার শেষে জনস্বাস্থ্য বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে আমন্ত্রিত অতিথি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা একটি সচেতনতামূলক র্যালিতে অংশগ্রহণ করেন।
আধুনিক প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নবীন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের (সিএ) প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)-এর ২২তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আমরা এখন ইন্টারনেটের যুগে বাস করছি, যেখানে কমিউনিকেশন সায়েন্সের সর্বোত্তম বিকাশ ঘটেছে। আধুনিক করপোরেট ব্যবস্থা এখন প্রায় পুরোপুরি প্রযুক্তি নির্ভর। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডাটা অ্যানালিটিক্সের মতো প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে হিসাব বিজ্ঞান পেশায় এক বৈপ্লবিক রূপান্তর ঘটছে। এই চ্যালেঞ্জকে সাহসের সঙ্গে আলিঙ্গন করেই আপনাদের এগিয়ে যেতে হবে।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টরা কেবল হিসাব রক্ষক নন, বরং তারা যেকোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য একজন কৌশলগত উপদেষ্টা (স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজর)।
তিনি বলেন, ‘শুধু ইনস্টিটিউট থেকে পাওয়া অ্যাকাডেমিক জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে মেধার পূর্ণতা আসবে না। প্রযুক্তির সংমিশ্রণে যে নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে আপনাদের সার্বক্ষণিক সচেতন ও সজাগ দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে হবে।’
পেশাগত সততার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, অ্যাকাউন্টিং পেশার মূল ভিত্তি হলো মানুষের আস্থা। আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং সুশাসন জোরদারের মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সিএদের ভূমিকা অপরিসীম।
অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান। তিনি বলেন, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের (সিএ) আধুনিক সমাজ ও পুঁজিবাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বা ‘অর্গানিক ইন্টেলেকচুয়াল’ হিসেবে অবহিত করেছেন। তিনি বলেন, হিসাব বিজ্ঞান কেবল অংক মেলানোর শাস্ত্র নয়, বরং এটি আধুনিক গণতান্ত্রিক সভ্যতা ও অর্থব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।
তিনি নবীন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার অন্যতম বুদ্ধিবৃত্তিক অবদানকারী হিসেবে কাজ করার পরামর্শ দেন।
সমাবর্তনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় স্বচ্ছ হিসাব ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
আইসিএবি প্রেসিডেন্ট এন কে এ মবিন এফসিএ নবীন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আইসিএবি শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করে আসছে। নতুন পেশাজীবীদের নৈতিকতা ও সততার সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
এবারের সমাবর্তনে নভেম্বর-ডিসেম্বর ২০২২ থেকে নভেম্বর-ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সিএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সনদ প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে আইসিএবির কাউন্সিল সদস্য, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং নবীন গ্র্যাজুয়েটদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) স্থাপত্য বিভাগের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ও একাডেমিক কার্যক্রম তুলে ধরতে আজ শনিবার থেকে আয়োজন করা হচ্ছে তিনদিনব্যাপী “টার্ম অ্যান্ড এক্সিবিশন রেজোনেন্স”।
প্রদর্শনীতে স্থাপত্য বিভাগের প্রথম থেকে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ডিজাইন ভিত্তিক একাডেমিক কাজ উপস্থাপন করা হবে যা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং বাস্তব ভিত্তিক পরিকল্পনার প্রতিফলন ঘটাবে।
১১ এপ্রিল বিকাল সাড়ে ৪টা প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু বোরহান মোহাম্মদ বদরুজ্জামান। এ সময়ে উপস্থিত থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী, স্থাপত্য ও নগর অঞ্চল পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শায়ের গফুর এবং স্থাপত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. এস. এম. নাজমুল ইমামসহ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ।
প্রদর্শনীটি ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
স্থাপত্য শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার এ অনন্য সুযোগ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।
২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। তালিকায় কেন্দ্রের নাম ও কোড নম্বরের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের অধীনে থাকা কলেজগুলোর নাম ও কোড, কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদের বিস্তারিত তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতিটি কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষের কাছ থেকে কেন্দ্র ফি সংগ্রহ করবেন। এরপর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে গোপনীয় প্রশ্নপত্র, অলিখিত উত্তরপত্রসহ প্রয়োজনীয় সব উপকরণ গ্রহণ করে পরীক্ষা পরিচালনা করবেন।
পরীক্ষা শেষে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে ওএমআর শিটের প্রথম অংশ ডাকযোগে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার কেন্দ্রে পাঠাতে হবে। পাশাপাশি উত্তরপত্রগুলো নির্ধারিত নীতিমালা অনুসারে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে জমা দিতে হবে।
ভেন্যু কেন্দ্রগুলো মূল কেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ ও কাগজপত্র সংগ্রহ করে পরীক্ষা পরিচালনা করবে এবং পরীক্ষা শেষে সব নথিপত্র মূল কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করবে।
এছাড়া জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও পরীক্ষাকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজকে একটি অভিন্ন একাডেমিক কাঠামোর আওতায় এনে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এই আইন প্রণয়নের মাধ্যমে রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম তদারকি করা সম্ভব হবে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিলটি উত্থাপন করেন এবং কণ্ঠভোটে তা পাস হয়েছে।
নতুন আইনে আগে প্রস্তাবিত চারটি স্কুলে সাতটি কলেজকে ভাগ করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে বলা হয়েছে, কলেজগুলো তাদের স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রাখবে, তবে একাডেমিকভাবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধিভুক্ত থাকবে।
আইনটি কার্যকর হওয়ার ফলে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা পরিচালনার জন্য একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
এই কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের অপেক্ষায় ছিলেন। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল এবং কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা মূল ক্যাম্পাস বা অধিভুক্ত কলেজগুলোতে ভর্তির সুযোগ পাবেন।
এ ছাড়া কলেজগুলোতে কেন্দ্রীয়ভাবে এমফিল ও পিএইচডি কার্যক্রম চালু থাকবে, পাশাপাশি শিক্ষক উন্নয়ন ও উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগও থাকবে।
প্রসঙ্গত, এসব কলেজ আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিল এবং ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আনা হয়। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একাডেমিক হয়রানির অভিযোগ তুলে পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানায়। এই আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সেই দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হলো এবং উচ্চশিক্ষা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সবচেয়ে বড় উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত কলেজের সংখ্যা ২,২৮৪টি। যাতে অধ্যয়ন করছে ৪০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা দেশের উচ্চ শিক্ষাগ্রহণকারী মোট শিক্ষার্থীর ৭০ শতাংশ। এদের বেশিরভাগই মধ্য ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। পুরোনো ও গতানুগতিক সিলেবাসে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করার পর এদের বেশিরভাগই বেকার থাকে। কারণ কারিগরি বিষয় ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার অভাব।
এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মতো দক্ষ করে গড়ে তুলতে কারিকুলাম আধুনিক ও সময়োপযোগী করার পাশাপাশি কারিগরি কোর্স যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন বিষয়ে BNFQ-এর নীতিমালা অনুসরণ করে Outcome based কারিকুলাম রিভিউ ও আপডেট কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্নাতক শিক্ষার্থীদের জন্য ২য় বর্ষে অ্যাডভান্সড আইসিটি কোর্স এবং ৩য় ও ৪র্থ বর্ষে কর্মমুখী দক্ষতাভিত্তিক বিভিন্ন কোর্স অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে Artificial Intelligence, Social Business, Digital Enterprenuership, Data Analytics, Computer Programming বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এর পাশাপাশি Cyber Security, Digital Wellbeing-এর মতো সচেতনতামূলক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যাতে আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুত রাখতে পারে। Digital Communication, Cognitive Empowerment, Time Management, Productivity, Presentation, Leadership এবং Financial Literacy-এর মতো soft skills-এর বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে যুক্ত করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রম বাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারা অধিকতর সক্ষম হয়। যুগোপযোগী এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এটুআই প্রোগ্রাম এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে।
এই কারিকুলাম উন্নয়ন প্রক্রিয়া অংশগ্রহণমূলক করতে তিন দিনব্যাপী কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এ কর্মশালা উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন, এমপি।
তিনি বলেন, ‘উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপনার সমস্যা, সংকট ও প্রতিবন্ধকতা নিরসনে ১৯৯২ সালে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হয়নি। তবে আশার কথা হলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন কর্মমুখী শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে একটি বিস্তৃত ও সময়োপযোগী শিক্ষাক্রম সংস্কারের যুগান্তকারী কার্যক্রম গ্রহণ করেছে, যা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।’
শিক্ষামন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ‘তিন দিনের এই কর্মশালায় বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কলেজ অধ্যক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং শিল্প উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত প্রয়াসে একটি সময়ের প্রয়োজনভিত্তিক কারিকুলাম প্রণয়ন করা হবে, যা শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী হওয়ার সুযোগ বাড়াবে এবং তরুণ-তরুণীদের মাঝে উদ্ভাবনী চিন্তা জাগাবে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, ‘স্বাধীনতার পর শিক্ষায় যথাযথ বিনিয়োগ না করায় দেশ এখনো সমসাময়িক অন্যান্য দেশের চেয়ে পিছিয়ে আছে। তাই বিলম্ব হলেও শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার সময় এখনই।’