বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
২৩ পৌষ ১৪৩২

জবি শিক্ষককে মারধর: সেই চেয়ারম্যান সাময়িক বরখাস্ত

সাময়িক বরখাস্ত ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ
আপডেটেড
৭ জুন, ২০২৩ ২০:৪১
প্রতিবেদক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত : ৭ জুন, ২০২৩ ২০:৩৩

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলামকে আটকে মারধর ও জোর করে স্বাক্ষর রাখায় খুলনার সেই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। তিনি হলেন, কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও উত্তরচক আমিনীয়া বহুমুখী কামিল মাদ্রাসার সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।

বুধবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণাল‌য়ের স্থানীয় সরকার বিভা‌গের জ্যেষ্ঠ সহকারী স‌চিব জেসমিন প্রধান এ তথ্য নি‌শ্চিত ক‌রে‌ছেন।

তি‌নি ব‌লেন, ‘খুলনা জেলা প্রশাস‌কের সুপা‌রিশ আম‌লে নি‌য়ে ওই চেয়ারম‌্যান‌কে সাম‌য়িক বরখাস্ত ক‌রা হ‌য়েছে। গত ৫ জুন এ বিষ‌য়ে একটি প্রজ্ঞাপন জা‌রি করা হ‌য়ে‌ছে।’

প্রজ্ঞাপন থেকে জানা যায়, খুলনার কয়রা উত্তরচক আমিনিয়া বহুমুখী কা‌মিল মাদ্রাসায় অধ‌্যক্ষ নি‌য়োগ প‌রীক্ষায় ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলামকে ম‌নো‌নীত করা হয়। নিয়োগ পরীক্ষায় মাদ্রাসার সভাপতি ও মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মাহমুদ এক পরীক্ষার্থীকে বেশি নম্বর ও নিয়োগ দিতে চাপ দেন। ওই নিয়োগ পরীক্ষায় মতপার্থক্যজনিত কারণে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ড. নজরুল ইসলাম‌কে মারধর করা হয় এবং মূল্যবান দ্রব্যসামগ্রী ছিনিয়ে নিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা আটকে রাখা হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯-এর ৩৪(৪) (খ) ঘ) ধারা অনুযায়ী খুলনার জেলা প্রশাসক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করেন। এমন অপরাধমূলক কার্যক্রম ইউনিয়ন পরিষদসহ জনস্বার্থের পরিপন্থী বিবেচনায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪(৪)(খ)(ঘ) ধারার অপরাধ সংঘটিত করায় উল্লিখিত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে স্বীয় পদ হাতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

গত ৫ মে উত্তরচক আমিনীয়া বহুমুখী কামিল মাদ্রাসায় ঘটা ওই ঘটনায় অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে কয়রা থানায় মামলা করেন। ১৬ মে উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করলে আদালত আসামিদের দুই সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।

পরে ১ জুন কয়রা জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগা‌রে পাঠা‌নোর আদেশ দেন বিচারক মো. আজহারুল ইসলাম।


৬৭ হাজার ২০৮ শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

আপডেটেড ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:৫২
নিজস্ব প্রতিবেদক

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক স্বল্পতা দূর করতে বড় ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। প্রতিষ্ঠানটি সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষক নিয়োগের সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এই বিজ্ঞপ্তির আওতায় দেশের এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ৬৭ হাজার ২০৮টি শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। পদের বিন্যাস অনুযায়ী, সাধারণ স্কুল ও কলেজে ২৯ হাজার ৫৭১টি পদ রয়েছে। তবে এবারের বিজ্ঞপ্তিতে মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যেখানে শূন্য পদের সংখ্যা ৩৬ হাজার ৮০৪টি। এছাড়া কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ৮৩৩টি পদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। এনটিআরসিএ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানভেদে এই শূন্য পদের সংখ্যা কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে।

আগ্রহী প্রার্থীদের জন্য আবেদনের সময়সীমাও সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তির অধীনে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে আগামী ১০ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে। আবেদন ফরম পূরণ এবং নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত। তবে আবেদনের ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৪ জুন তারিখে আবেদনকারীদের বয়স সর্বোচ্চ ৩৫ বছর হতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষক নিবন্ধন সনদের মেয়াদ সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ থেকে তিন বছরের মধ্যে থাকা আবশ্যক। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক নির্দেশনা মোতাবেক, বর্তমানে কর্মরত ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা একই পদে পুনরায় আবেদনের সুযোগ পাবেন না।

যোগ্য প্রার্থীরা পদভিত্তিক শূন্য পদের বিস্তারিত তালিকা, আবেদন ফরম এবং নিয়োগ সংক্রান্ত অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য এনটিআরসিএ’র নিজস্ব ওয়েবসাইট অথবা টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের নির্ধারিত পোর্টাল থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন। উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে ২০২৫ সালে প্রকাশিত ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এনটিআরসিএ ৪১ হাজার ৬২৭ জন শিক্ষককে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছিল। এ পর্যন্ত এনটিআরসিএ মোট ১৮টি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা এবং ছয়টি গণবিজ্ঞপ্তি সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। এবারের সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তিটি শিক্ষক নিবন্ধনধারী হাজার হাজার চাকরিপ্রত্যাশীর জন্য এক বিশাল কর্মসংস্থানের সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আবেদনের প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হওয়ায় প্রার্থীরা কোনো ঝামেলা ছাড়াই ঘরে বসে তাঁদের পছন্দমতো প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে পারবেন।


জকসু নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে শুরু হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে এই ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। দীর্ঘ সময় পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ক্যাম্পাসের মোড়ে মোড়ে ভোটারদের পদচারণায় এক প্রাণবন্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই নির্বাচনটি গত ৩০ ডিসেম্বর হওয়ার কথা থাকলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট তা পিছিয়ে আজ ৬ জানুয়ারি নতুন তারিখে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১৬ হাজার ৬৪৫ জন শিক্ষার্থী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোটগ্রহণের জন্য ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে মোট ৩৯টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে এবং সেখানে বসানো হয়েছে ১৭৮টি গোপন বুথ। কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ৩৮টি কেন্দ্র এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র নারী হলের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আলাদা কেন্দ্র নির্ধারিত রয়েছে। নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদের ২১টি পদের বিপরীতে ১৫৭ জন এবং হল সংসদের ১৩টি পদের বিপরীতে ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হলের শিক্ষার্থীদের দুটি পৃথক ব্যালটে কেন্দ্রীয় ও হল সংসদের জন্য ভোট দিতে হচ্ছে। ভোটগ্রহণ শেষে দ্রুততম সময়ে ফলাফল প্রকাশের জন্য ৬টি আধুনিক গণনা মেশিন ব্যবহার করা হবে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামের বাইরে এলইডি স্ক্রিনে সরাসরি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নির্বাচনী ময়দানে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য প্যানেলগুলোর মধ্যে ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’, ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’, ছাত্রশক্তি সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’ এবং বামপন্থী সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’ প্যানেল শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এছাড়াও প্যানেলের বাইরে বেশ কিছু পদের জন্য জনপ্রিয় স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও জয়ী হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। প্রার্থীরা সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে ঘুরে ঘুরে ভোটারদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন এবং শেষ মুহূর্তে তাদের দোয়া ও সমর্থন কামনা করছেন। ভোটাররাও নিজেদের পছন্দের যোগ্য নেতৃত্ব খুঁজে নিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ধৈর্যসহকারে অপেক্ষা করছেন।

নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে পুলিশের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রোভার স্কাউট ও বিএনসিসির সদস্যরাও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে তাদের নাগরিক অধিকার চর্চা করছেন। অন্যদিকে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক জানিয়েছেন, সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে সব ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গণতান্ত্রিক চর্চা দেশের অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।


শূন্য পদে ৬৭ হাজারের বেশি শিক্ষক নিয়োগ দেবে অন্তর্বর্তী সরকার : শিক্ষা উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার বলেছেন, স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি বিভাগের শূন্য পদগুলোতে ৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে যাবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। এ বিষয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হচ্ছে।

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসসকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, দেশের বেকারত্ব দূর করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উপযুক্ত শিক্ষক নিয়োগ করা এই সরকারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি। সেটি পূরণে আরো একধাপ এগিয়ে যাচ্ছে সরকার।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে একটি আদর্শ শূন্য পদ রয়েছে। এই শূন্য পদগুলোতে যোগ্যতম লোকদের নিয়োগ করার লক্ষ্যে এনটিআরসিকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আজকালের মধ্যে এনটিআরসি সেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে।

উপদেষ্টা দেশের শিক্ষিত বেকার যুবকদের মধ্যে যারা শিক্ষকতা পেশায় আন্তরিক ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তাদেরকে শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করে যথাযথ পদে আবেদন করার জন্য আহ্বান জানান।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে আজকের শিক্ষাকরাই আগামী দিনের শিক্ষাব্যবস্থার রক্ষার জন্য কাজ করবে। তাই তিনি চান শিক্ষিত যোগ্য প্রার্থীরা শিক্ষকতা অন্তর্ভুক্ত হোক।

তিনি বলেন, গত মাসে এনটিআরসি থেকে সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শূন্য পদে নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয় আবেদন আসার পরে উপদেষ্টা নেতৃত্বে বেশ কয়েকটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভাগুলোতে তিনি শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, সরকারের ঘোষিত নীতি হচ্ছে আমাদের যত শূন্য পদ রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সেগুলো বিজ্ঞাপিত হয়ে পদ পূরণ করা।

তিনি বলেন, আমাদের অন্তর্বর্তী সরকারের একটা লক্ষ্য ছিল শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করা এবং তারই ধারাবাহিকতায় আমরা ৬৭ হাজারের বেশি শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেই ব্যাপারে গণবিজ্ঞপ্তি আগামীকালের মধ্যেই হবে।

তিনি বলেন, শূন্য পদগুলোর মধ্যে রয়েছে- মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে অধীন ২৯ হাজার ৩২৫টি, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে অধীন ৮৩৩টি এবং মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে ৩৬ হাজার ৮০৪টি এই মোট ৬৬ হাজার ৯৬২টি।

উপদেষ্টা বলেন, এই সরকারের দিক থেকে শিক্ষা খাতকে আরো গতিশীল করা মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই ধরনের উদ্যোগ বড় রকমের একটা ভূমিকা রাখবে বলে আমরা মনে করি এবং আমরা এটাও বিশ্বাস করি যে আমরা এই যে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা ও আস্থার সাথে শেষ করে দিয়ে যেতে পারবো।

তিনি বলেন, এই নিয়োগের ফলে একদিকে যেমন দেশের বেকারত্ব সমস্যার সমাধান হবে পাশাপাশি শিক্ষা ক্ষেত্রে তরুণ এবং মেধাবীরা জায়গা করে নিতে পারবে।


এইচএসসির ফরম পূরণের নতুন সময়সূচি প্রকাশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফরম পূরণের নতুন তারিখ ঘোষণা করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড। রোববার (৪ জানুয়ারি) এক সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বোর্ড জানিয়েছে যে, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ প্রক্রিয়া আগামী ১১ মার্চ থেকে শুরু হবে। ইতিপূর্বে এই প্রক্রিয়া ১ মার্চ থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও প্রশাসনিক কারণে তা পিছিয়ে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।

শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক জারি করা এই বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের নির্বাচনি বা টেস্ট পরীক্ষা গ্রহণ শেষে তার ফলাফল অবশ্যই আগামী ১০ মার্চের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। নির্বাচনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই কেবল ১১ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া ফরম পূরণ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, ফরম পূরণের বিস্তারিত সময়সূচি ও ফি সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা যথাসময়ে তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

এর আগে গত বছরের ২৬ নভেম্বর শিক্ষাবোর্ড একটি প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল, যেখানে নির্বাচনি পরীক্ষার ফল ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এবং ফরম পূরণ ১ মার্চ থেকে শুরুর কথা বলা হয়েছিল। তবে নতুন এই সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পূর্বের সেই নির্দেশনায় পরিবর্তন এনে পুরো প্রক্রিয়াটিকে ১০ দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। বোর্ড এই বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি হিসেবে বিবেচনা করার জন্য সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানিয়েছে।


জকসু নির্বাচন ৬ জানুয়ারি: সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনটি একটি অবাধ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করার জন্য ইতিমধ্যে যাবতীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হয়েছে। নির্বাচনের দিন যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য ক্যাম্পাস ও এর আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

নির্ধারিত তারিখে এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিতে আজ রবিবার (৪ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা হয়। যদিও সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেট সদস্যদের পক্ষ থেকে জানা গেছে যে, নির্বাচন আয়োজনের পথে বর্তমানে বড় ধরনের কোনো বাস্তব বাধা নেই এবং প্রশাসন চাইলে ডিএমপি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে আইনগতভাবে বাধ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ গিয়াস উদ্দিন জানিয়েছেন যে, নির্বাচন আয়োজনের যাবতীয় প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে এবং সিএসসি’র মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ডিএমপি কমিশনারকে চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম নির্বাচনের সাফল্য নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। তিনি জানিয়েছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জকসু নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে শুরু থেকেই ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপ বা প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়নি। তিনি আরও যোগ করেন যে, নির্বাচন কমিশন তাদের সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে এবং এখন সুষ্ঠুভাবে ভোট প্রদানের জন্য তিনি সাধারণ শিক্ষার্থী ও প্রার্থীদের পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করছেন। প্রশাসন মনে করছে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে এবং ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক চর্চা আরও সুসংহত হবে।

উল্লেখ্য যে, এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর জকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশব্যাপী তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট ওই নির্বাচন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তীতে জরুরি সভায় আগামী ৬ জানুয়ারি নির্বাচনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়। নতুন তারিখকে ঘিরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে এবং প্রার্থীরাও তাদের প্রচারণার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রশাসনের এই দৃঢ় অবস্থান শিক্ষার্থীদের মাঝে এক ধরনের স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করেছে।


৬৮ হাজার শিক্ষক নিয়োগে আসছে বড় সুখবর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র প্রেরণ করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।
প্রাথমিকভাবে ৬৮ হাজার শূন্য পদে নিয়োগের অনুমতি চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসন বিভাগের একজন কর্মকর্তা।
এনটিআরসিএর জানিয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই শেষে চাহিদাপত্র অনুমোদন করবে। এরপর সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কার্যক্রম শুরু করা হবে।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ জুনে ১ লাখ ৮২২ শিক্ষক নিয়োগে ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ। পরবর্তী সময় প্রায় ৪১ হাজার প্রভাষক/শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। পদ পূরণ করতে পারেন এনটিআরসিএ।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের লক্ষ্যে শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ করে এনটিআরসিএ।
টেলিটকের মাধ্যমে সংগ্রহ করা পদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭২ হাজারের কিছু বেশি। প্রাপ্ত শূন্য পদের সঠিকতা যাচাই করতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা, মাদরাসা এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়। পদের সঠিকতা যাচাই শেষে ৬৮ হাজার শূন্য পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এ পদগুলোর বিপরীতে সপ্তম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অনুমতি চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠাল এনটিআরসিএ।


জুনিয়র বৃত্তি বাড়ছে ২০ শতাংশ

অর্থের পরিমাণ দ্বিগুণ করার প্রস্তাব
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘদিন পর নিম্ন মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষায় ‘জুনিয়র বৃত্তির সংখ্যা ২০ শতাংশ বৃদ্ধি এবং বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অর্থের পরিমাণ দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সংগতি রেখে শিক্ষার্থীদের মাসিক ভাতার হার ও এককালীন অনুদান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মাউশি।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত খসড়া প্রস্তাবের একটি সারসংক্ষেপ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। জুনিয়র বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি ও আর্থিক সুবিধা বাড়ানো সংক্রান্ত সম্ভাব্য বাজেট প্রস্তাব পর্যালোচনা করে তা অর্থ বিভাগের কাছে পাঠানো হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব (মাধ্যমিক-১ অনুবিভাগ) সাইদুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, মাউশি থেকে বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি ও অর্থের পরিমাণ বাড়ানোর একটি প্রস্তাব পাওয়া গেছে। এ সংক্রান্ত প্রস্তাব আমরা পর্যালোচনা করছি। প্রস্তাবটি নীতিগত অনুমোদন হলে তা বাজেট বরাদ্দের জন্য অর্থ বিভাগের অনুমোদন নেওয়া হবে। এই ধরনের একটি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

দ্বিগুণ হচ্ছে অর্থের পরিমাণ: খসড়া প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুলে মাসিক ভাতা ৪৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯০০ টাকা এবং বার্ষিক এককালীন অনুদান ৫৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ১২০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি কার্যকর হলে একজন শিক্ষার্থী প্রতি বছর মোট ১১ হাজার ৯২০ টাকা পাবে, যা বর্তমানে ৫,৯৬০ টাকা পাচ্ছে।

অন্যদিকে, সাধারণ কোটায় মাসিক ৩০০ টাকার পরিবর্তে ৬০০ টাকা এবং বার্ষিক এককালীন ৩৫০ টাকার পরিবর্তে ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এতে একজন শিক্ষার্থীর বার্ষিক সুবিধা ৩,৯৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৭,৯০০ টাকা হবে। এই সুবিধা এসএসসি পরীক্ষার আগ পর্যন্ত ২ বছর ভোগ করা যাবে।

খসড়ায় বাজেট প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বর্তমানে ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তির পেছনে সরকারে দুই বছরে ব্যয় হয় ৪২ কোটি ৪০ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। প্রস্তাবিত নতুন হার কার্যকর হলে দুই বছরে সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১০১ কোটি ৭৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬০০ টাকা। অর্থ্যাৎ আগের তুলনায় সরকারের অতিরিক্ত ৫৯ কোটি ৩৭ লাখ ৩ হাজার ৬০০ টাকা বাড়তি প্রয়োজন হবে।


নতুন বই পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিশুরা 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

নতুন বছরের প্রথম দিনে নতুন বই হাতে পাওয়ার আনন্দে উচ্ছ্বসিত দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা। সকাল থেকেই স্কুলমুখী হয়ে তারা রঙিন মলাটের বই বুকে জড়িয়ে ধরেছে, কেউ কেউ খুশিতে উল্টে দেখছে পাতা। তবে একই দিনে ভিন্ন চিত্র মাধ্যমিক স্তরে। কোথাও আংশিক বই, কোথাও একেবারেই বই না পাওয়ায় অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে বহু শিক্ষার্থীকে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাজধানীর উত্তরা এবং বাড্ডা এলাকার কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই স্কুলে ভিড় জমাতে শুরু করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। আনুষ্ঠানিকতা শেষে নতুন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট শিট যাচাই করে শিক্ষকরা হাতে তুলে দিচ্ছেন নতুন পাঠ্যবই। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সকালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই বিতরণ করা হয়। বেলা ১১টার পর তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই দেওয়া হচ্ছে।

বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান বলেন, আমাদের স্কুলের সব শিক্ষার্থীর জন্য শতভাগ বই এসেছে। প্রথমে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বই দেওয়া হয়, এরপর তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির বই দেওয়া হয়েছে। সবাই বই পেয়েছে।

তিনি জানান, এ বছর বই বিতরণে কোনো উৎসব করা হয়নি। রোল ধরে ডেকে ডেকে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বইয়ে কোনো কাটা-ছেঁড়া বা ত্রুটি আছে কি না, তা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দেখে নিতে বলা হচ্ছে। এতে কিছুটা সময় লাগছে।

অন্যদিকে নতুন বই পেয়ে শিশুদের মধ্যেও দেখা গেছ ব্যাপক উচ্ছ্বাস। দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রায়হান বলে, নতুন বই পেয়ে অনেক ভালো লাগছে। খুব সুন্দর রঙের বই। বাসায় নিয়ে মলাট বাঁধব।

ফাইয়াজ মাহমুদ নামের আরেক শিক্ষার্থী বলে, নতুন বই নিয়ে অনেক আনন্দ লাগছে। বাসায় গিয়েই সব বই পড়ে ফেলবো।

তবে প্রাথমিকের এই আনন্দের চিত্রটি সব জায়গায় এক নয়। মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে দেখা গেছে ভিন্ন বাস্তবতা। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শতভাগ বই পৌঁছালেও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে চাহিদামতো বই না আসায় শিক্ষার্থীরা বই পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে। কোথাও একজন শিক্ষার্থী পেয়েছে দুটি বই, কেউ পেয়েছে তিনটি, আবার কেউ এখনো একটিও পায়নি।

খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা কেউ ক্লাসরুমে গল্প-আড্ডায় মেতে আছে, কেউ বাইরে খেলাধুলায় ব্যস্ত। তারা জানায়, কখন বই দেওয়া হবে, সে বিষয়ে শিক্ষকরা নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি। তবে বিকেল পর্যন্ত স্কুলে থাকতে বলা হয়েছে। বই এলে ক্লাসে ডেকে নেওয়া হবে—এমন নির্দেশনাই দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যালয়টির শিক্ষক মিলনায়তনে গিয়ে দেখা যায়, বই বিতরণের রেজিস্টার হাতে শিক্ষকরা হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত। কোন শ্রেণির, কোন বিষয়ের কতটি বই এসেছে, সেটির তালিকা তৈরি চলছে।

সহকারী শিক্ষক শহীদুল হক বলেন, ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির কিছু বই এসেছে। কিন্তু সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বইয়ের ঘাটতি বেশি। এখন কাউকে দুইটা আর কাউকে তিনটা বই দিলে যার কম পাবে তার মন খারাপ হবে। তাই হিসাব করে দেখছি, কোন শ্রেণিতে কয়টি বই দেওয়া যায়।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্র জানায়, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৮ কোটি ৫৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৭৯ কপি পাঠ্যবই ছাপা, বাঁধাই ও কাটিং শেষে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ প্রাথমিক স্তরে শতভাগ বই সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে মাধ্যমিক, দাখিল, দাখিল (ভোকেশনাল) ও কারিগরি স্তরের পাঠ্যপুস্তকের মুদ্রণ ও সরবরাহ কার্যক্রম এখনো চলমান। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির মোট ১৮ কোটি ৩২ লাখ ৮ হাজার ৬৯৩ কপি বইয়ের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬৬ শতাংশ বই উপজেলায় পৌঁছেছে।

এদিকে নতুন বছরের বই পেল মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পের শিশুরাও। এদিন ২৪ লাখ ৩০ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে বই বিতরণ কার্যক্রম- ২০২৬ এর উদ্বোধন করেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।

নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (৮ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ৭৩ হাজার ৭৬৮টি কেন্দ্রের শিক্ষার্থীদের মাঝে ৩৪ লাখ ৩৬ হাজার ৭০৪টি বই বিতরণ করা হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ ও মনির হায়দার এবং ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিন।


অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শুরু কাল: পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা

আপডেটেড ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৭:৩১
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের লক্ষ্যে আয়োজিত জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা আগামীকাল রোববার (২৮ ডিসেম্বর ২০২৫) থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এই পরীক্ষা চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত টানা তিন ঘণ্টা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এবারের পরীক্ষায় মোট পাঁচটি বিষয়ে ৪০০ নম্বরের মূল্যায়ন করা হবে, যেখানে প্রথম দিনে শিক্ষার্থীরা বাংলা বিষয়ের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।

পরীক্ষাটি সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) পরীক্ষার্থীদের জন্য ছয়টি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নিজ নিজ আসন গ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষার সময়বণ্টনের ক্ষেত্রে জানানো হয়েছে যে, বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এই দুই বিষয়ের জন্য দেড় ঘণ্টা করে মোট তিন ঘণ্টা সময় বরাদ্দ থাকবে এবং প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্রের ওএমআর (OMR) ফরম পূরণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। উত্তরপত্রে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং বিষয় কোড যথাযথভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করতে হবে। বিশেষভবে সতর্ক করা হয়েছে যে, কোনো অবস্থাতেই উত্তরপত্রটি ভাঁজ করা যাবে না। প্রয়োজনীয় হিসাব-নিকাশের জন্য পরীক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহারের সুযোগ পাবে। তবে কেন্দ্রসচিব ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি বা পরীক্ষার্থী মোবাইল ফোনসহ কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে রাখতে পারবে না। এই নিয়মগুলো কঠোরভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং নির্বিঘ্নে পরীক্ষা সম্পন্ন করতেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে শিক্ষা বিভাগ।

পরীক্ষার সময়সূচি

# প্রতিটি পরীক্ষার সময়:

সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত।

∎ বাংলা (১০১) –২৮ ডিসেম্বর,

রোববার

∎ ইংরেজি (১০৭) –২৯ ডিসেম্বর,

সোমবার

∎ গণিত (১০৯) –৩০ ডিসেম্বর,

মঙ্গলবার

∎ বিজ্ঞান (১২৭) এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (১৫০) –৩১ ডিসেম্বর,

বুধবার


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ডিকলোনাইজেশন ও মওলানা ভাসানী’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর ২০২৫) ‘ডিকলোনাইজেশন অ্যান্ড মওলানা ভাসানী’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস (কারাস)-এর উদ্যোগে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার) মওলানা ভাসানীর আদর্শ ও রাষ্ট্রচিন্তার ওপর আলোকপাত করেন। কারাসের চেয়ারম্যান ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কারাসের পরিচালক অধ্যাপক ড. আশফাক হোসেন এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিভার্সিটি অব ব্রুনাই দারুসসালামের সহযোগী অধ্যাপক ড. ইফতেখার ইকবাল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার বলেন, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের বিবেক ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী এক দূরদর্শী চিন্তক। তাঁর রাজনীতি কখনোই গদি দখলের জন্য ছিল না, বরং তিনি সবসময় দরিদ্র কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার ছিলেন। ১৯৫৭ সালে তাঁর ঐতিহাসিক ‘আসসালামু আলাইকুম’ উচ্চারণের মাধ্যমেই তিনি পাকিস্তানি শাসনব্যবস্থার চরম বৈষম্যকে সবার সামনে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলেন। উপদেষ্টার মতে, ভাসানীর কাছে শিক্ষার প্রকৃত অর্থ ছিল চেতনার জাগরণ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস অর্জন করা।

সভাপতির বক্তব্যে ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মওলানা ভাসানীকে একজন মহান সমাজবিপ্লবী হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ভাসানী সবসময় নদী, মাটি ও প্রান্তিক মানুষের কথা রাজনীতির মূল ধারায় নিয়ে এসেছেন। তাঁর সংগ্রামের লক্ষ্য ছিল সাম্য এবং গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন সংকট নিরসনে মওলানা ভাসানীর দেখানো পথই প্রকৃত মুক্তির দিশা হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে অধ্যাপক আশফাক হোসেন মওলানা ভাসানীর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও উপমহাদেশের কৃষক আন্দোলনে তাঁর অনন্য অবদানের কথা স্মরণ করেন।

সম্মেলনের প্রথম দিনে উদ্বোধনী অধিবেশন শেষে মওলানা ভাসানীর জীবন ও সংগ্রামের ওপর একটি দুর্লভ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। আগামীকাল বুধবার সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে বি-উপনিবেশায়ন ও ভাসানীর বিশ্বদর্শন নিয়ে বিশেষ প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে অধ্যাপক আহমেদ কামাল ও অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহর মতো বিশিষ্ট গবেষকরা অংশ নেবেন। এ ছাড়া সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে কারাস গবেষক দলের পক্ষ থেকে ঐতিহাসিক ‘ফারাক্কা লংমার্চ’-এর রাজনৈতিক ও সামাজিক তাৎপর্য নিয়ে একটি বিশেষ পর্যালোচনা অধিবেশন পরিচালিত হবে। মূলত মওলানা ভাসানীর বৈপ্লবিক রাষ্ট্রচিন্তাকে বর্তমান প্রজন্মের সামনে নতুনভাবে তুলে ধরাই এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য।


নবীনগরে ফজলুর রহমান মুহুরী স্মৃতি বৃত্তি অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ‘ফজলুর রহমান মুহুরী স্মৃতি বৃত্তি–২০২৫’ উপলক্ষে বৃত্তি পরীক্ষা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলার আলমনগর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আলমনগর ঐক্য ফোরামের সভাপতি এইচ. এম. শান্তি। সভাপতিত্ব করেন আলমনগর ঐক্য ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও স্মৃতি বৃত্তি কমিটির সভাপতি শরিফুল ইসলাম। বৃত্তি পরীক্ষার নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করেন সহকারী অধ্যাপক আক্তার হোসেন। কেন্দ্র সচিব ছিলেন আলমনগর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. কামাল হোসেন। এছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বানিয়াচং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম। সহকারী কেন্দ্র সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. খালিলুর রহমান।

আয়োজকরা জানান, এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে এ স্মৃতি বৃত্তির আয়োজন করা হয়েছে। বৃত্তি পরীক্ষায় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

উপস্থিত অভিভাবকরা বলেন, বৃত্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের পাশাপাশি পড়াশোনায় আগ্রহ ও প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা তৈরি হয়, যা ভবিষ্যতে তাদের শিক্ষাজীবনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিল ভাটা নদীর বাঁকে সমাজকল্যাণ সংঘ, আলমনগর। আয়োজকরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা জানান।


চবিতে পিএইচডি ডিগ্রি প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের একজন সিনিয়র শিক্ষকের বিরুদ্ধে পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তিনি ৬ মাসের ছুটিতে যাওয়ার আগে নিজের প্রভাব খাটিয়ে ছাত্রকে পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান নিশ্চিত করতে নিয়মবিরোধী তৎপরতা চালিয়েছেন বলে জানা গেছে।

জানা যায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক পিএইচডি গবেষণারত মোহাম্মদ শামছিল আরেফিন (রেজিস্ট্রেশন নং: ৩৫, রোল নং: ২০১৯-০১, শিক্ষাবর্ষ ২০১৮-১৯) পিএইচডি থিসিস মূল্যায়ন ও মৌখিক পরীক্ষার কমিটি ২০২৩ সালের ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়। যা বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির ৭৮৫তম সভায় (বিষয়-৯, বিবিধ-৬), ৪ জুন অনুষ্ঠিত ৪৯তম ফ্যাকাল্টি সভায় (৫নং সিদ্ধান্ত) এবং পরবর্তীতে ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪৪তম একাডেমিক কাউন্সিলে (বিষয়-২) অনুমোদিত হয়। তবে এ বছর ২০২৫ সালের শেষপান্তে এসে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের একজন সিনিয়র শিক্ষক ও থিসিস সুপারভাইজার এই পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করার জন্য তৎপর হয়ে ওঠেন। গত ১৮ নভেম্বর থিসিস মূল্যায়নের জন্য ৩ জন মূল পরীক্ষকের মধ্যে তৃতীয় মূল পরীক্ষককে থিসিস না পাঠিয়ে বিকল্প সদস্য পরীক্ষককে পাঠানো হয়। যা একাডেমিক নিয়মের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে অভিযোগ পাওয়া যায়, পিএইচডি প্রার্থীকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার জন্য তড়িঘড়ি করে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে ২৬ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে থিসিস পাঠানোসহ অনলাইনে রিপোর্ট চলে আসে। ২৭ নভেম্বরে মৌখিক পরীক্ষার তারিখ ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে নেওয়ার জন্য ঘোষণা করা হয়। থিসিস পাঠানোর দিন থেকে ১২ দিনের মাথায় অর্থাৎ ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখ পিএইচডি থিসিসের মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এভাবে মাত্র ১২ দিনে দেশের প্রথমসারির একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককে পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়ার ব্যবস্থা করা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে অকল্পনীয় ঘটনা বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।

জানা যায়, নির্ধারিত ৩ জন মূল পরীক্ষকের মধ্যে তৃতীয় মূল পরীক্ষক ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপউপাচার্য বর্তমানে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আশিষ কুমার পাণিগ্রাহীকে থিসিস না পাঠিয়ে বিকল্প সদস্যকে থিসিস পাঠানো হয়েছে। এতে মূল্যায়ন কমিটির নিরপেক্ষতা ও উচ্চশিক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ বর্তমানে থিসিস সুপারভাইজার ছাড়াও বাকি দুজন পরীক্ষকই একই বিশ্ববিদ্যালয় এবং একই বিভাগের (প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়) যা রহস্যজনক বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

যথাযথভাবে থিসিস মূল্যায়ন না করেই তড়িঘড়ি করে অনলাইনে রিপোর্ট পাঠিয়ে দিয়েছেন বিষয়টি স্বীকার করে চবি প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোসাসম্মৎ রাশেদা চৌধুরী দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘২-৩ দিনে একটি পিএইচডি থিসিস অধ্যয়ন করে মূল্যায়ন করা ও রিপোর্ট তৈরি করা একেবারেই অসম্ভব। কমপক্ষে তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগে। এ ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি করে অনলাইনে রিপোর্ট পাঠিয়ে দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদয়।’

জানা যায়, পরীক্ষকদয় যথাযথভাবে থিসিস মূল্যায়ন না করেই তড়িঘড়ি করে অনলাইনে রিপোর্ট পাঠিয়ে দিয়েছেন যা হয়তো আগে থেকেই তৈরি করে রাখার নির্দেশনা ছিল, নতুবা মাত্র ২-৩ দিনে একটি পিএইচডি থিসিস অধ্যয়ন করে মূল্যায়ন করা ও রিপোর্ট তৈরি করা একেবারেই অসম্ভব। সাধারণত কোনো মূল পরীক্ষককে থিসিস পাঠানোর পর তিনি লিখিতভাবে ওই থিসিস মূল্যায়নে অপারগতা প্রকাশ করলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে বা অনুমতি নিয়ে মূল পরীক্ষকের পরিবর্তে বিকল্প সদস্যকে পাঠানো হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সে নিয়ম না মেনে মূল পরীক্ষককে থিসিস না পাঠিয়েই বিকল্প একজনকে থিসিস পাঠানো হয়েছে। এর ফলে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এই সমগ্র অনিয়মের পেছনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের একজন সিনিয়র শিক্ষকের ব্যক্তিস্বার্থই প্রাধান্য পেয়েছে। মোহাম্মদ শামছিল আরেফিনের পিএইচডি থিসিসটির তত্ত্বাবধায়ক অন্যত্র পদায়িত হবেন বিধায় তিনি গত ১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ছয় মাসের লিয়েন ছুটিতে যান। তাই তার ছাত্রকে দ্রুততম সময়ে নিজের প্রভাব খাটিয়ে পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান নিশ্চিত করতেই নিয়মবিরোধী এই ব্যতিক্রমী দ্রুততা ও তৎপরতা দেখানো হয়েছে। এতে পিএইচডি থিসিসের মানের সাথে আপস করে করা হয়েছে, যা পিএইচডি থিসিস মূল্যায়নের নিয়মবিরোধী ও অগ্রহণযোগ্য। পিএইচডির মতো উচ্চতর ডিগ্রির ক্ষেত্রে এই ধরনের অনিয়ম ভবিষ্যতে খারাপ দৃষ্টান্ত তৈরি করবে যা পুরো একাডেমিক কাঠামোর উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

চবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মমতাজ উদ্দিন আহমদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘ফাইলটি আমাদের উপাচার্য্য মহোদয়ের অফিসে। এখনো আমার কাছে আসেনি। তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।’

পিএইচডি গবেষণারত চবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ শামছিল আরেফিন বলেন, ‘আমার সরাসরি সুপারভাইজার হচ্ছেন অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া। উনার সাথে কথা বললে ভালো হয়।’ পরে নিজে কথা বলে, (প্রতিবেদকের সাথে) এরপর কথা বলবেন বললেও আর যোগাযোগ করেননি।


ঢাবির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা)―এর সঙ্গে বৃটিশ কাউন্সিলের ডেপুটি ডিরেক্টরের সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বৃটিশ কাউন্সিলের ডেপুটি ডিরেক্টর মারিয়া রেহমান বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ-এর সঙ্গে উপাচার্যের সভাকক্ষে সাক্ষাৎ করেছেন। এসময় ব্রিটিশ কাউন্সিলের শিক্ষা বিভাগের প্রধান তৌফিক হাসান তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে তাঁরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের মধ্যে চলমান শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং গবেষক বিনিময় নিয়েও বৈঠকে আলোচনা করা হয়।

এসময় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যৌথ গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ এবং যৌথভাবে জার্নাল প্রকাশের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিকীকরণের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিলের উপ-পরিচালকের সহযোগিতা কামনা করেন। ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মশালা এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের বিষয়েও তাঁরা আলোচনা করেন।


banner close