ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে অনেক শিক্ষার্থীই পরবর্তী জীবনে দেশ ও ক্যাম্পাসের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। সফল সাবেক শিক্ষার্থীরা কী ভাবছেন তাঁদের সাবেক ক্যাম্পাস নিয়ে। বর্তমানে অধ্যয়নরত মেধাবী শিক্ষার্থীরাই বা কী চোখে দেখেন তাঁদের প্রিয় ক্যাম্পাসকে? জেনে নেয়া যাক তাঁদের অভিব্যক্তি…
আরিফা আফরোজ অবন্তী
সাবেক শিক্ষার্থী, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ
ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি এমন এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যা শুধু লাল ইটের তৈরি এক বিল্ডিং নয় বরং এটি সব আশা-আকাঙ্ক্ষা, আবেগ, স্মৃতি, আড্ডা, বিভিন্ন ইভেন্টসহ নিজস্ব আবেগ-অনুভূতি ও পরিপূর্ণ ভালোবাসার এক জায়গার নাম। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে নানা সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা এবং চাহিদা অনুযায়ী যুগোপযোগী বিষয় এবং পাঠ্যক্রম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি বিরাট ভূমিকা পালন করছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি চমৎকার দিক হলো, বিভিন্ন ধরনের বৃত্তি প্রদান এবং তুলনামূলকভাবে কম টিউশন ফি যা শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়ন এ অনেক অবদান রাখছে। এ ছাড়া ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে রয়েছে লাইব্রেরি সুবিধাসহ বিভিন্ন ক্লাবে জয়েনের সুযোগ, যা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল দক্ষতা আরও বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করছে এবং সুদক্ষ নাগরিক হিসেবে আত্মপ্রকাশের সুযোগ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আরফাতুল হক জামি
সাবেক শিক্ষার্থী, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ
ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির একজন সাবেক ছাত্র হিসেবে, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়া ব্যতিক্রমী শিক্ষাব্যবস্থা এবং ছাত্রভিত্তিক কার্যক্রমের জন্য অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ থেকে, আমি অমূল্য দক্ষতা এবং জ্ঞান অর্জন করেছি, যা কানাডায় আমার স্নাতকোত্তর অধ্যয়ন এবং পেশাদার জীবনে সহায়ক হয়েছে। সব শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা এবং ডিপার্টমেন্টের সমর্থন, অভিজ্ঞতামূলক শিক্ষার সুযোগ এবং ব্যবহারিক প্রয়োগের ওপর গুরত্ব দেয়ার প্রবণতা আমাকে বাংলাদেশে থাকাকালীন দুটি ম্যালটিনেশনাল করপোরেশনে চাকরির সুযোগ এবং সাফল্যের জন্য প্রস্তুত করেছে। ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির বৈচিত্র্যময় এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি আমার ব্যক্তিগত এবং পেশাগত বৃদ্ধির ভিত্তি। গর্বভরে আমার জীবনে এর ইতিবাচক প্রভাব স্বীকার করি।
মো: তানজিল
শিক্ষার্থী, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস হলো একটি ক্যানভাসের মতো, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের স্বপ্ন আঁকেন। ঠিক তেমনিভাবে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি আমার স্বপ্ন এঁকেছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুন্দর পরিবেশ, সুদক্ষ ফ্যাকাল্টি এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা আমার এই পথকে করেছে অনেক বেশি সহজ, সরল এবং সুন্দর। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে অসংখ্য সুযোগ-সুবিধা। তার মধ্যে শিক্ষাবৃত্তি অন্যতম। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ মেধারভিত্তিতে ১০০ ভাগ পর্যন্ত শিক্ষাবৃত্তি পেয়ে থাকে। আমার বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আমি পূর্ণ সন্তুষ্টি প্রকাশ করি এবং গর্ববোধ করি। ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ সংশ্লিষ্টদের জন্য আমার শুভকামনা।
নূর নাহার লিমা
সাবেক শিক্ষার্থী, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ
দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় অনবদ্য ভূমিকা পালন করে আসছে। উচ্চ শিক্ষা অর্জনের জন্য আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়কেই প্রাধান্য দিয়েছি। জ্ঞান-দক্ষতা ও ব্যক্তিত্ব প্রকাশে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে সার্বিক সহযোগিতা করেছে। যুগোপযোগী ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থার কারণে শিক্ষার্থীরা তাদের কর্মজীবনকে ফলপ্রসূ করতে পেরেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি, র্যাগিং, ছাত্র-রাজনীতি, মাদক ইত্যাদি থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ। ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুত্বপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ আমাকে সুনাগরিক হয়ে উঠতে সাহায্য করেছে। তাই আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞ।
সাদিয়া ইয়াছমিন এশা
শিক্ষার্থী, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ
আমি ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী। বর্তমানে আমি ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন ক্লাবের প্রধান সভাপতি হিসেবে কাজ করছি। আমার মতে, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় উচ্চ শিক্ষার প্রতিষ্ঠান যেটি শিক্ষাদান, গবেষণায় অংশগ্রহণ করে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছে। একাডেমিক নিয়ম-কানুন এবং উদ্ভাবনের প্রতিশ্রুতিসহ বিশ্ববিদ্যালয়টি ব্যবসা, প্রকৌশল, সামাজিক বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর শিক্ষা প্রদান করে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, উন্নত গবেষণাগার এবং সুসজ্জিত লাইব্রেরিসহ অত্যাধুনিক সুবিধাও রয়েছে। পড়াশোনা ও গবেষণার পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের দক্ষতার উন্নয়ন নিয়েও কাজ করে যাচ্ছে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি। সামগ্রিকভাবে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি একটি প্রাণবন্ত একাডেমিক তীর্থ, যা এর ছাত্রদের মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতাকে উৎসাহিত করে। একটি গতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার পরিবেশ প্রদান করে, যা বাংলাদেশে বিশ্বমানের শিক্ষার ক্ষেত্রে এটি চমৎকার রূপে পরিপূর্ণ করে তোলে।
এরফান আহমেদ নিলয়
শিক্ষার্থী, ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
আমি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত। বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ক্যাম্পাস, বিশ্বমানের ও সুপরিকল্পিত একাডেমিক কাঠামো, শিক্ষায় মেধাবৃত্তি প্রদান এবং প্রকৌশলীদের জন্য নিবেদিত ল্যাবরেটরি সুবিধা আমাকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে অনুপ্রাণিত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবিশাল লাইব্রেরি, উন্নতমানের কম্পিউটার ব্যবহারের সুবিধা এবং উচ্চমানের তড়িৎ প্রকৌশলযন্ত্র ব্যবহার আমার জ্ঞান বিকাশের অন্যতম পাথেয়। আমাদের উচ্চ শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের শেখানোর ধরন ও পড়াশোনার যেকোনো প্রয়োজনে সাহায্য করার প্রবণতা আমাকে বরাবরই মুগ্ধ করেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের মেধা ও দক্ষতা বিকাশে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি ক্লাব কার্যক্রম কিংবা অন্যান্য শিক্ষাসহায়ক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সর্বদা। সর্বপোরি, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী হিসেবে আমি গর্বিত।
মো. সোলায়মান খান শাফী
শিক্ষার্থী, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ
আমি বর্তমানে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে (শেষবর্ষ) অধ্যয়নরত। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও পরিবেশ নিয়ে শুরু করতে পারি। লাল ইটে সাজানো ছিমছাম ক্যাম্পাস যেমন দূর থেকে দৃষ্টিকাড়ে। তেমনি কাছ থেকেই সুনিপুণ। এ ছাড়া ভেতরকার পরিবেশও সুন্দর এবং নিরাপদ। শিক্ষাব্যবস্থা পরিমার্জিত কিন্তু তাও আমি বলব, গতিশীল পৃথিবীর সঙ্গে দিন দিন আমাদেরও পরিবর্তন এবং গতিশীলতা আনা প্রয়োজন। তার পরও এত সুন্দর শিক্ষার্থীবান্ধব ইউনিভার্সিটি খুব কমই রয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি পাঠক্রমবহির্ভূত কার্যক্রম শিখতে পারছি, এটা অনেক বড় পাওয়া। তাই আমি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদকে সাধুবাদ জানাই।
কে টি এম আশিকুর রহমান প্রিতম
শিক্ষার্থী, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ
ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য একটি সমৃদ্ধ এবং ফলপ্রসূ অভিজ্ঞতা। বিশ্ববিদ্যালয়টি বৈচিত্র্যপূর্ণ এবং শিক্ষার্থী পরিবেশ পরিবেশ উপহার দিয়েছে, যা একজন শিক্ষার্থীর জন্য আবশ্যক। শিক্ষকরা অনেক নিবেদিত এবং সহায়ক, যা আমার একাডেমিক যাত্রাজুড়ে মূল্যবান দিকনির্দেশনা প্রদান করে। আধুনিক ক্যাম্পাস সুবিধা একটি অনুকূল শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করে। বিশ্ববিদ্যালয় পাঠ্যক্রমবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিভিন্ন দক্ষতা বিকাশে সহায়তা এবং বাস্তব-বিশ্বের চ্যালেঞ্জের জন্য তৈরি করছে।
ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংসমূহে জাতীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিশ্বখ্যাত শিক্ষা সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই) প্রকাশিত এশিয়া ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং ২০২৬-এ গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি) সমগ্র এশিয়ার মধ্যে ৪০১-৫০০তম অবস্থান অর্জন করে আবারও দেশের সকল কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে কৃষিতে দেশসেরা হওয়ার গৌরব পুনঃনিশ্চিত করেছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এ র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয় (১৯টি সরাসরি ও ৯টি রিপোর্টার বিশ্ববিদ্যালয়) তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যৌথভাবে তৃতীয় স্থান অর্জন করে জাতীয় পরিসরেও তার দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেছে। গবেষণায় “সেন্টার অব এক্সিলেন্স” হিসেবে স্বীকৃত গাকৃবি এবারও গুণগত গবেষণায় (রিসার্চ কোয়ালিটি) অসাধারণ সাফল্য দেখিয়ে ৬৭ স্কোর অর্জন করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার গভীরতা ও প্রভাবের স্পষ্ট প্রতিফলন।
এ বছরের র্যাঙ্কিংয়ে এশিয়ার ৩৬টি দেশ ও অঞ্চলের মোট ৯২৯টি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষা, গবেষণার পরিবেশ, গবেষণার গুণগত মান, শিল্প-সম্পৃক্ততা এবং আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি এই পাঁচটি সূচকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এ ৫টি সূচকে গাকৃবি মোট ১৭৪.৯ স্কোর পেয়ে দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শীর্ষ স্থান দখল করেছে।
র্যাঙ্কিংয়ে চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় টানা অষ্টমবারের মতো প্রথম স্থান ধরে রেখেছে যেখানে গাকৃবির গৌরবময় অবস্থানও এশিয়ার প্রতিযোগিতামূলক প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ধারাবাহিক এই সাফল্যের পথচলায় গাকৃবি আগেও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান দেখিয়েছে। ২০২৫ সালের টিএইচই এশিয়া র্যাঙ্কিংয়েও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষে ছিল প্রতিষ্ঠানটি।
এছাড়া, কিউএস প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি সাসটেইনেবিলিটি র্যাঙ্কিংস ২০২৬-এ দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে টেকসই উন্নয়নেও নেতৃত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। একই ধারাবাহিকতায়, টিএইচই র্যাঙ্কিং ২০২৫ ও ২০২৬-এর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেও গাকৃবি প্রথম স্থান অর্জন করেছে।
অন্যদিকে, উরি ২০২৫-এ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড অ্যাপ্লিকেশন ক্যাটাগরিতে বিশ্বসেরা ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ৭৭তম স্থান অর্জন করে জাতীয়ভাবে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। র্যাঙ্কিংয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক যেকোনো র্যাঙ্কিংয়ে ধারাবাহিকভাবে গাকৃবির সাফল্যময় অর্জন কেবল একটি অবস্থান নয়, বরং এটি আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রয়াসের স্বীকৃতি।
তবে বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংসমূহে দেশে শীর্ষস্থান ধরে রেখে কীভাবে বিশ্বের ১০০-২০০ তম অবস্থান নিশ্চিত করা যায় সে লক্ষ্যে আমরা বহুমুখী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। অচিরেই আমরা সেই কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবো ইনশা-আল্লাহ। কৃষির সার্বিক উৎকর্ষ সাধন এবং খাদ্য নিরাপত্তায় সরকারের মিশন-ভিশনের সাথে সঙ্গতি রেখে গাকৃবি গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের অগ্রযাত্রায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে বদ্ধপরিকর। আমরা বিশ্বাস করি, মানবকল্যাণমুখী জ্ঞানচর্চাই আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাবে।
কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামের রি-ব্র্যান্ডিং উন্মোচন এবং নতুন ওয়েবসাইটের বেটা সংস্করণের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ও কিংবদন্তি ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার পরিবেশ ও অবকাঠামোকে আধুনিকায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। এই রি-ব্র্যান্ডিং ও ওয়েবসাইট আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সমৃদ্ধ ও প্রযুক্তিনির্ভর অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে।’
নবায়নকৃত অডিটোরিয়ামটি উন্নত নকশা ও আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন করে গড়ে তোলা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বিভিন্ন একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে। পাশাপাশি নতুন ওয়েবসাইটের বেটা সংস্করণ শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সহজ, দ্রুত ও ব্যবহারবান্ধব তথ্যসেবা নিশ্চিত করবে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এইচ. এম. জহিরুল হকসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, শিক্ষকবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। এই উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল রূপান্তর ও ব্র্যান্ড উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জাল ও ভুয়া সনদের অভিযোগে ২০২ জন কলেজ প্রভাষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২০তম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন। এদিন বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
অধিবেশনে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের টেবিলে উত্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা জানান।
সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস তার প্রশ্নে বলেন, দেশের শিক্ষা খাতে বড় ধরনের অনিয়মের চিত্র সামনে এনেছে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাটির ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত তদন্ত ও নিরীক্ষার ভিত্তিতে ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
এতে জাল ও ভুয়া সনদে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগসহ বিস্তর আর্থিক অনিয়ম উঠে আসে। বিষয়টি সত্য হলে, সরকার এই অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কি না?
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশের শিক্ষা খাতে অনিয়ম সংক্রান্ত বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) নিয়মিতভাবে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত এসব পরিদর্শন ও নিরীক্ষার মাধ্যমে জাল ও ভুয়া সনদে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগসহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের বিষয় উদ্ঘাটিত হয়েছে।
এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ডিআইএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশক্রমে জাল ও ভুয়া সনদের অভিযোগে কলেজ পর্যায়ের মোট ২০২ জন প্রভাষকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ব্যবস্থা গ্রহণের বিবরণ তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এর মধ্যে এমপিওভুক্ত ৭৪ জন শিক্ষকের বেতন-ভাতা ২০২৩ সালের জুলাই মাস থেকে স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া এমপিওবিহীন অবশিষ্ট ১২৮ জন প্রভাষকের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট গভর্নিং বডির মাধ্যমে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিবন্ধন পরীক্ষার পরিবর্তে এখন থেকে শিক্ষক সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হবে। উত্তীর্ণ প্রার্থীদের সনদ এবং একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদে সুপারিশ প্রদান করা হবে। নিয়োগপ্রক্রিয়া দ্রুত করতে এবং জটিলতা কমাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০২৫ সালের সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন এনটিআরসিএ সচিব এ এম এম রিজওয়ানুল হক।
প্রতিষ্ঠানটির সচিব এ এম এম রিজওয়ানুল হক বলেন, ‘আগে যারা সনদ পেতেন, তারা সবাই নিয়োগ পেতেন না। এতে তারা নিজেদের বঞ্চিত মনে করতেন। নতুন পদ্ধতিতে এ জটিলতা আর থাকবে না। সরাসরি নিয়োগ হওয়ায় এখন থেকে আর গণবিজ্ঞপ্তি পদ্ধতি থাকছে না।’
৭৭ হাজার ৭৯৯ শূন্য পদে সরাসরি নিয়োগ: প্রথমবারের মতো সরাসরি শিক্ষক নিয়োগে শূন্য পদের তালিকা প্রস্তুত করেছে এনটিআরসিএ। মোট ৭৭ হাজার ৭৯৯টি শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
নিয়োগ পরীক্ষায় ২০০ নম্বরের এমসিকিউ ও ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পাস করতে পেতে হবে ৪০ শতাংশ নম্বর।
এদিকে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে শূন্য (৭৭ হাজার ৭৯৯টি) পদে সবচেয়ে বেশি শূন্য পদ সহকারী শিক্ষকের, ৪৪ হাজার ৬৯১টি।
পদ অনুযায়ী শূন্য পদের সংখ্যা— সহকারী শিক্ষক ৪৪,৬৯১, সহকারী শিক্ষক (ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা) ৯২৮, সহকারী শিক্ষক/শরীরচর্চা প্রশিক্ষক ৪,০১৪, সহকারী মৌলভি ১১,০৬৯, কম্পিউটার ব্যবহারিক নির্দেশক ১২৯, ব্যবহারিক নির্দেশক ১,৬১৬, ইবতেদায়ি কারি ২,৫৬৩, ইবতেদায়ি মৌলভি ৬,১৬৬, ইবতেদায়ি শিক্ষক ৪৪৪, প্রশিক্ষক ৫১, প্রভাষক ৫,৮৫২, শারীরিক শিক্ষা প্রশিক্ষক ১২৫ ও বাণিজ্য প্রশিক্ষক ২৫১জন।
২০০৫ সাল থেকে এনটিআরসিএ শিক্ষক নিবন্ধন সনদ দেওয়া শুরু করে। ২০১৫ সাল থেকে সনদের পাশাপাশি নিয়োগ সুপারিশ করে আসছে এনটিআরসিএ। এখন পর্যন্ত ৭টি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১ লাখ ৮৬ হাজার ২৩৮ জন শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশ করেছে এনটিআরসিএ।
বিদ্যুৎ সংকটে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরের খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চার দিন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মো. মিজানুর রহমান সাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রে জটিলতার কারণে ২২ এপ্রিল থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে ২৩ এপ্রিল ভর্তি কার্যক্রম চালু থাকবে। এ ছাড়া ২৬ এপ্রিল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পূর্বের ন্যায় যথানিয়মে চলবে।
জানা যায়, ন্যাশনাল গ্রিড ও নিজস্ব পাওয়ারপ্লান্টে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরবরাহে খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, নার্সিং কলেজ ও ল্যাবেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ সহ বেশ কয়েকটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়। তবে বিদ্যুতের ব্যাপক লোডশেডিংয়ে সকল কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে। তাই বৃহৎ এই চিকিৎসাসেবা সুনিশ্চিত করতে হাসপাতালের সকল কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় চার দিন বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাঁতশিল্প সমৃদ্ধ এ অঞ্চলে টানা এক ঘণ্টাও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকছে না। বিদ্যুৎ না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ আবাসিক ছাত্র-ছাত্রী হল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সংকট অব্যাহত থাকলে ছুটি আরও বৃদ্ধির সম্ভবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)'র উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে বাউবির উপাচার্য ইউজিসি চেয়ারম্যানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময় তিনি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, প্রশাসনিক ও সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
উপাচার্য জানান, গাজীপুরস্থ বাউবির মূল ক্যাম্পাসে ৭টি স্কুল ও ১১টি প্রশাসনিক বিভাগ রয়েছে। এছাড়া সারাদেশে ১২টি আঞ্চলিক কেন্দ্র, ৮০টি উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্র এবং প্রায় ১,৪৫২টি স্টাডি সেন্টারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২টি ফরমাল প্রোগ্রামে তিন লক্ষাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। পাশাপাশি ১৯টি নন-ফরমাল প্রোগ্রামও চালু রয়েছে। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ সুবিধাজনক সময়ে স্টাডি সেন্টারে সরাসরি কিংবা অনলাইনে টিউটরদের মাধ্যমে পাঠগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের একমাত্র উন্মুক্ত ও দূরশিক্ষণ পদ্ধতির বিশেষায়িত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে শিক্ষা-সুযোগ থেকে বঞ্চিত ও ঝরে পড়া লক্ষ লক্ষ মানুষ এসএসসি থেকে এমফিল ও পিএইচডি পর্যন্ত ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ স্বনির্ভর হয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
উপাচার্য জানান, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বাউবির শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব, কাতার, দুবাই, ওমান ও ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় প্রবাসী কর্মজীবী বাংলাদেশিদের জন্য এসএসসি, এইচএসসি, নিশ-২, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রামের স্টাডি সেন্টার চালু করা হয়েছে। এর ফলে প্রবাসীরা কর্মব্যস্ততার পাশাপাশি নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া এশিয়া ও ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশে বহিঃবাংলাদেশ স্টাডি সেন্টার চালুর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উপাচার্য উল্লেখ করেন, অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনমুখী শিক্ষা প্রদান, স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলা এবং যুগোপযোগী মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নই বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য।
এ সময় তিনি হিট প্রকল্পের আওতায় ইউজিসির তত্ত্বাবধানে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য চার মাসব্যাপী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের প্রথম ও দ্বিতীয় ব্যাচ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া এবং তৃতীয় ও চতুর্থ ব্যাচ শিগগিরই শুরু হওয়ার বিষয়েও চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, বাউবির ইনস্টিটিউট অব কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেলের সার্বিক সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুর ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় সম্মেলন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এ প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করার সুযোগ পাচ্ছেন।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে উভয়পক্ষ উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ইউজিসি চেয়ারম্যান গভীর মনোযোগ সহকারে উপাচার্যের বক্তব্য শোনেন এবং দেশের বিপুলসংখ্যক অশিক্ষিত ও অদক্ষ বেকার যুবক-যুবতীদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে কারিগরিসহ সরকারের পরিকল্পিত শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।
এ সময় বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোঃ শামীম এবং রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহির রায়হান উপাচার্যের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর ইংরেজি বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমধর্মী আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক বিনিময় অনুষ্ঠান, যেখানে রাশিয়া, চীন ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ‘ঐক্যে বৈচিত্র্য’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল সংস্কৃতি, শিল্প ও জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করা।
রাজধানীর কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা এবং গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ বৈশ্বিক সহযোগিতা ও সাংস্কৃতিক সচেতনতা বৃদ্ধির প্রতি তাদের অঙ্গীকারকে তুলে ধরে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত উপস্থিত ছিলেন। তিনি অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং এ ধরনের উদ্যোগে তার সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এইচ এম জাহিরুল হক অতিথিদের স্বাগত জানান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ইংরেজি বিভাগের প্রধান রেজিনা সুলতানার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা, যার শিরোনাম ছিল ‘দ্য রিভার, দ্য টাইগা অ্যান্ড দ্য ড্রাগন: স্ট্রাকচারাল প্যারালেলস ইন ফোকলোর’। তিনি রাশিয়া, চীন ও বাংলাদেশের লোককথার মধ্যে বিদ্যমান গভীর সাংস্কৃতিক সাদৃশ্য তুলে ধরেন।
পরবর্তীতে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ‘এ মিটিং অব মিথস’ শিরোনামের একটি নাটক মঞ্চস্থ করেন, যেখানে সুন্দরবনের প্রেক্ষাপটে তিন দেশের লোককথার চরিত্রগুলোর এক রহস্যময় মিলনের চিত্র ফুটে ওঠে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকার পরিচালক আলেক্সান্দ্রা খলেভনয় এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং শিক্ষার্থীদের পরিবেশনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে রাশিয়া–চীন কৌশলগত অংশীদারিত্বের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘রেড সিল্ক’ চলচ্চিত্রের বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
পদোন্নতির দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ( ববি) শিক্ষকদের চলমান একাডেমিক কর্মবিরতিতে পূর্বনির্ধারিত শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষা মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদী সেশনজটের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শিক্ষার্থীদের ক্ষতির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষকদের পরীক্ষাগুলো নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ আইন বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা থাকলেও তা হয়নি। সময়মতো পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে উত্তরপত্র সরবরাহ করা হলেও শিক্ষকরা না আসায় তা পুনরায় ফেরত নিয়ে আসা হয় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে।
আইন বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী শামীম হোসাইন বলেন , বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমানে শিক্ষক পদোন্নতি নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে ,তার জন্য আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে! আমাদের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা ছিলো সেটা হচ্ছে না! আমরা জানিনা কবে এই সমস্যার সমাধান হবে!
বুধবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি বিভাগের অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা রয়েছে। লোকপ্রশাসনের অনার্স তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা এবং ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা রয়েছে। এসকল বিভাগে আগামীকাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে কি না সে বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, সাজ্জাদ উল্লা ফয়সাল বলেন, মঙ্গলবার একটি বিভাগের পরীক্ষা ছিলো তা হয়নি। বুধবারও দুটি বিভাগের পরীক্ষা রয়েছে। আমরা যথাসময়ে উত্তরপত্র পাঠাবো। শিক্ষকরা যদি পরীক্ষা নেন তাহলে পরীক্ষা হবে, নতুবা হবে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, শিক্ষকদের আন্দোলনে মধ্যে যেন শিক্ষার্থীদের ফাইনাল পরীক্ষা আওতাভুক্ত না করার দাবি জানান। শিক্ষার্থীদের ক্ষতি বিবেচনায় নিয়ে ফাইনাল পরীক্ষাগুলো নিয়ে নেয়ার অনুরোধও জানান তিনি শিক্ষকদের প্রতি।
এর আগে সোমবার শিক্ষক সংকট, পদোন্নতি জটিলতা ও আইনগত অনিশ্চয়তা নিরসনের দাবিতে এক দিনের কর্মবিরতি এবং দাবি পূরণ না হলে পরদিন থেকে পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দেন শিক্ষকরা। একইসঙ্গে প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকেও বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এরও আগে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পদোন্নতি জটিলতা নিরসনের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জামাল উদ্দীন আমরণ অনশনে বসেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
শিক্ষকদের লিখিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বিদ্যমান বিধি ও প্রবিধানের আওতায় পরিচালিত হলেও সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে জারি করা এক নির্দেশনার ফলে পুরো কার্যক্রম আইনগত অনিশ্চয়তায় পড়েছে। নির্দেশনায় চাকরি, পদোন্নতি ও প্রশাসনিক বিধিমালা প্রণয়ন ও সংশোধনের ক্ষেত্রে চ্যান্সেলরের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে পূর্ববর্তী নিয়মে পরিচালিত কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগের অধিকাংশেই তীব্র শিক্ষক সংকট বিরাজ করছে। অনেক বিভাগে মাত্র তিন থেকে চারজন শিক্ষক দিয়ে একাধিক ব্যাচের ক্লাস পরিচালনা করতে হচ্ছে, যা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনুমোদিত পদ থাকা সত্ত্বেও প্রায় ৫১টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। খণ্ডকালীন শিক্ষকদের ভাতা ও সম্মানি বন্ধ থাকায় পাঠদান কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়া পদোন্নতির ক্ষেত্রেও দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৪ জন শিক্ষকের পদোন্নতির সুপারিশ সম্পন্ন হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিক্ষক সমাজে অসন্তোষ বাড়ছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পদোন্নতি নীতিমালা অনুযায়ী একটি সিলেকশন বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। তবে বোর্ডের কার্যক্রম শুরুর পর ইউজিসি থেকে অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণের নির্দেশনা দিয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়। তিনি জানান, এ বিষয়ে ইউজিসির সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং দ্রুত সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারাও ত্রুটিযুক্ত নীতিমালা সংশোধন না করেই পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন বোর্ড আয়োজনের দাবিতে রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন জানিয়েছেন। ইউজিসি বিদ্যমান নীতিমালার বিভিন্ন ধারায় আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে তা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিলেও কর্মকর্তারা বর্তমান নিয়মেই পদোন্নতি চান। এতে প্রশাসনে এক ধরনের অচলাবস্থা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, পদোন্নতি ও গ্রেড আপগ্রেডেশন সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫ জন কর্মকর্তা হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন (নং-৬৪৯০/২০২৫) দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
সারাদেশে একযোগে শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিনে মানিকগঞ্জ ও সাভারের বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্র আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে তিনি এই দুই এলাকার বেশ কয়েকটি এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) কেন্দ্র ঘুরে দেখেন। মন্ত্রীর এই আকস্মিক উপস্থিতিতে কেন্দ্রগুলোর সার্বিক শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনার চিত্র ফুটে ওঠে।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী সাভারের তেঁতুলঝোড়া উচ্চ বিদ্যালয় এবং মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ও সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এছাড়া তিনি আমিনবাজারের মীরপুর মফিদ-ই-আম স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ঢাকার পাইকপাড়াস্থ মডেল একাডেমি পরীক্ষাকেন্দ্র তদারকি করেন। কেন্দ্রগুলোতে স্থাপিত কন্ট্রোল রুম থেকে সিসিটিভির মাধ্যমে পরীক্ষার হলগুলোর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি তিনি উপস্থিত শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী পরীক্ষার পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, প্রথম দিনে অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশে যেন কোনো ভোগান্তি না হয়, সেজন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার কেন্দ্রগুলো সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যেই খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ বছর সারাদেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ৩০ হাজার ৬৬৬টি স্কুল, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাড়ে ১৮ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের মোট ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরীক্ষা চলাকালীন স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রতি বছরের ন্যায় বাংলা প্রথম পত্র দিয়ে এবারও শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় দেশের তিন হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা শুরু হয়। এতে সারা দেশের ৩০ হাজার ৬৬৬টি স্কুল-মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাড়ে ১৮ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। দুপুর ১টায় এ পরীক্ষা শেষ হবে।
প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে প্রথম দিনে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মাদরাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে প্রথম দিনে কোরআন মাজিদ ও তাজভিদ পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কারিগরি বোর্ডের অধীনে (ভোকেশনাল) বাংলা-২ ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষার প্রথম দিনে বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা হচ্ছে।
এদিকে, পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে আসতে থাকেন পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা। এদিন সকাল থেকেই রাজধানীর সড়কগুলোতে যানজট ছিল চোখে পড়ার মতোন। অনেক পরীক্ষার্থীকে দৌড়েও কেন্দ্রের দিকে যেতে দেখা যায়।
রাজধানীসহ বিভিন্ন স্কুলের কেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিচ্ছে, কেউবা সহপাঠীদের সঙ্গে আলোচনা করছে সম্ভাব্য প্রশ্ন নিয়ে। অভিভাবকদের মধ্যেও ছিল বাড়তি উৎকণ্ঠা ও প্রত্যাশা—পরীক্ষা ভালো হোক, সন্তান যেন নির্বিঘ্নে দিতে পারে।
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তা এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিতে তৎপর রয়েছে শিক্ষাপ্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বিশেষ করে নকল ও ডিভাইস ব্যবহার করে ডিজিটাল জালিয়াতি এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
প্রসঙ্গত, এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট তিন হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে, আর কেন্দ্র সংখ্যার দিক থেকেও এগিয়ে এই বোর্ড। অন্যদিকে তুলনামূলক কম কেন্দ্র রয়েছে ময়মনসিংহ বোর্ডে।
সারাদেশে মাধ্যমিক স্কুল সাটিফিকের্ট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে। তবে গাইবান্ধার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৫০ শিক্ষার্থীর ভুলে ভরা প্রবেশপত্র নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ওই সকল পরিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের গাফিলতিতে এমন ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কঞ্চিপাড়া এম এ ইউ একাডেমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রায়হান সরকার। এরআগে রোববার প্রবেশপত্র আনতে গিয়ে ঘটনা জানাজানি হয়। ঘটনা জানাজানির পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সর্বমহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
জানা গেছে, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় কঞ্চিপাড়া এম এ ইউ একাডেমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে ১৪৫ ও বিজ্ঞান বিভাগে ৬৭, জনসহ মোট ২১২ জন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এসব পরীক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকে প্রবেশপত্র তুলতে দিয়ে দেখে কারো অভিভাবকের (মা-বাব) নাম ভুল। আবার ছেলে পরীক্ষার্থীর ছবির স্থানে মেয়ের ছবি এবং বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র আসে মানবিক বিভাগের।
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠান প্রধান রায়হান সরকার বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কম্পিউটার অপারেটরের সহযোগিতা না নিয়ে বাইরের দোকান থেকে ফরম পূরণ ও রেজিষ্ট্রেশন সংক্রান্ত কাজ করার কারণে প্রবেশপত্রে এ ধরনের ভুল হয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক রায়হান সরকার বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের টাকা থেকে বঞ্চিত করা এবং নিজে আয় করতে তিনি একাই বাইরের কম্পিউটারের দোকান থেকে কাজ করেছেন। ফলে আজকে এতোগুলা শিক্ষার্থী পরিক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে।
এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক রায়হান সরকার অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, ‘আমার কারণে ভুল হয়েছে ঠিক আছে। কিন্তু একজন পরীক্ষার্থীও পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হবেনা। সমাধানের কাজ চলছে।
এ বিষয়ে ফুলছড়ি উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার সৈয়দ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এসব বিষয় সম্পূর্ণ দেখ-ভালের দায়িত্ব প্রধান শিক্ষকের এবং বোর্ড সংশ্লিষ্টদের। বিষয়টি কিভাবে কি হয়েছে, জানার চেষ্টা করছি।
ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি দুঃখজনক, পরীক্ষার্থীই যেন পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
আসন্ন পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে ‘নীরব বহিষ্কার’ বা সাইলেন্ট এক্সপেল-এর কোনো সুযোগ থাকছে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া (ডিউ প্রসেস) ছাড়া কাউকে বহিষ্কার করা আইনসম্মত নয়। শিক্ষা বোর্ডের পুরনো এ সংক্রান্ত নীতিমালায় থাকা বিতর্কিত ২৯ নম্বর ধারাটি অবিলম্বে রহিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আসন্ন এসএসসি, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে আয়োজিত অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।
এই বিধানের বিষয়ে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘নীরব বহিষ্কার বলে কোনো শব্দ থাকতে পারে না। ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ আইন দিয়ে আমরা যখন পরীক্ষা পরিচালনা করেছিলাম, সেখানেও এমন কোনো নিয়ম ছিল না। এটি সম্পূর্ণ আইনবিরুদ্ধ।’
তিনি আরও বলেন, ‘কাউকে শাস্তি দিতে হলে ডিউ প্রসেস বা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দিতে হবে। আপনি পরীক্ষা কক্ষে নকল করেছেন কি করেননি, তা সেখানেই প্রমাণিত হতে হবে। নীরবে বাড়িতে বসে কাউকে বহিষ্কার করার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী বলেন, আমরা কনফিডেন্ট যে, বর্তমানে পরীক্ষা কেন্দ্রে গোলযোগ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাই নীতিমালায় থাকা এই অনুচ্ছেদটি আমি ইমিডিয়েটলি সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘নীরব বহিষ্কার’ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া উদ্বেগ ও শঙ্কার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালাটি ১৯৬১ সালের তৈরি করা। নীতিমালার পুরনো কোনো অসংগতিপূর্ণ কপি থেকে এই বিভ্রান্তি ছড়িয়ে থাকতে পারে।
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এ বিষয়ে দ্রুত একটি স্পষ্টীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করবে।
বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ২ জুলাই থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হবে। পরবর্তী পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, এ ছাড়া আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু পরিবেশে অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘এবারের কড়াকড়ি আইনগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বরং শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিবদের জন্য যাতে তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা পরীক্ষার্থীদের পেছনে ছুটছি না, বরং শিক্ষার গুণগত মান ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের দক্ষতা ও জবাবদিহিতার দিকে নজর দিচ্ছি।’
শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং জুম প্ল্যাটফর্মে দেশের সব জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা ও শিক্ষক প্রতিনিধিরা যুক্ত ছিলেন।
এবারের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হবে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার তারিখ চূড়ান্ত হয়। শিগগির রুটিন প্রকাশিত হবে।
চলতি বছর থেকেই দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে। বাকি দুটি (মাদরাসা ও কারিগরি) বোর্ডে আগে থেকেই অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়।