‘আমি চিরতরে দূরে চলে যাব, তবু আমারে দেব না ভুলিতে’- গানে এ কথা বলে গিয়েছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। প্রেম ও দ্রোহের কবি হয়ে তিনি তাঁর গানের চরণের মতোই বাংলা ভাষাভাষীর হৃদয়ে বেঁচে আছেন, থাকবেন। বিদ্রোহী, প্রতিবাদী, সুন্দরের উপাসক, জাতীয় জাগরণের প্রতিভূ এবং বহুমাত্রিক ঔজ্জ্বল্যে ঋদ্ধ নজরুল ভারত থেকে প্রথমবার বাংলাদেশের ত্রিশালে আগমন করেন। খুব শৈশবে তিনি এই ত্রিশালে এসেছিলেন। তার বর্ণাঢ্য কৈশোরকে আগলে ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রতিষ্ঠা করা হয় তার নামে বিশ্ববিদ্যালয়। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের ২১তম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় নামেই সমধিক পরিচিত।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়ন- এই তিনটি শব্দকে মোটো হিসেবে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিযাত্রা আমরা শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়ন- এই তিনটি উদ্দেশ্য নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছি। শিক্ষা বলতে বর্তমান সময়ের যুগোপযোগী শিক্ষা, দ্বিতীয় হচ্ছে গবেষণা। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকরা গবেষণা করবেন, প্রত্যেকের নিজস্ব ক্ষেত্রে নতুন নতুন আবিষ্কার করবেন এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণামনস্ক করে গড়ে তুলবেন- যাতে তারা ভবিষ্যতে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত থাকেন।’
কাজী নজরুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘ভেঙে যে গড়তে জানে, সে চিরসুন্দর।’ এখানে সব ভেঙে গড়তে হচ্ছে। যারা গবেষণার ক্ষেত্রে বিমুখ ছিলেন, তাদের গবেষণায় আনতে হচ্ছে। তবে আশাব্যঞ্জক বিষয় হচ্ছে, আমরা গবেষণায় শিক্ষকদের যথেষ্ট সমর্থন পাচ্ছি। প্রথমবারের মতো আমরা আয়োজন করেছি গবেষণা মেলা। ইতোমধ্যে আমরা দুটো আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের আয়োজন করেছি, যেখানে দেশ-বিদেশের বিদগ্ধ গবেষকরা অংশগ্রহণ করেছেন। নতুন জ্ঞান সৃষ্টির জন্য আমাদের এই অগ্রযাত্রা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য প্রতিবছর এ ধরনের আন্তর্জাতিক কনফারেন্স আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হবে। আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ক্যাম্পাসকে ধারণ করতে হবে। আমরা প্রত্যেকে শুধু যার যার যে কাজ, সেই কাজটুকু ঠিকভাবে করলে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যাব, যোগ করেন উপাচার্য।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জার্নাল যেটা দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল, সেটা ছাপার দোরগোড়ায়। বিভিন্ন অনুষদ থেকে জার্নাল প্রকাশিত হচ্ছে, শিগগিরই প্রকাশিত হচ্ছে আইন অনুষদের জার্নাল। কিছুদিন আগেই প্রকাশিত হয়েছে কলা অনুষদের জার্নাল ‘মানববিদ্যা’। এ ছাড়া আমাদের বিভাগগুলো থেকে জার্নাল প্রকাশ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগ, লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগ, ফোকলোর বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগ নিজস্ব জার্নাল প্রকাশ করছে।
সৌমিত্র শেখর বলেন, ‘কুম্ভীলব বৃত্তি বা প্লেগারজিম চেকার সফটওয়্যার সংযোজন করা হচ্ছে শিগগিরই। আইকিইউসি নানাবিধ গবেষণামূলক কাজ বিশেষত ট্রেনিংয়ের আয়োজন করছে। ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজ নজরুলকে নিয়ে গবেষণার কাজ করছে। গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তর গবেষণা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তারা সবাই বহুবিধ কাজে ব্যস্ত।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার তৈরির মাধ্যমে সেশনজট দূর করতে পেরেছি। আমরা বিভাগগুলোতে এমন কিছু বিষয় যুক্ত করার কথা ভাবছি যেগুলো যুক্ত হলে পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা নিজেদের খাপ খাওয়াতে পারবে। ত্রিশাল থেকে যেন একজন শিক্ষার্থী জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে যুক্ত হতে পারে, সে ব্যবস্থা ধীরে ধীরে করা হবে। এখানকার আইটি সেকশনকে গুরুত্ব দিয়ে এখানে একটা ইনস্টিটিউটের কথা প্রশাসন ভাবছে। আশা করা যায়, ভবিষ্যতে সে ইনস্টিটিউট আমরা স্থাপন করতে পারব। আইসিটির মধ্য দিয়ে এখানকার প্রত্যেকটি ছেলেমেয়ে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত হবে।’
তিনি জানান, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিলক্ষ্য হচ্ছে সাংস্কৃতিক শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, সামাজিক বিজ্ঞান ও ব্যবসায় প্রশাসনবিষয়ক পঠন-পাঠনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ ঘটানো। দেশের আধুনিক ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে গবেষণা এবং লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের দ্বারা জাতীয় উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অবদান রাখা।
চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ
বর্তমান সময়ে ক্যাম্পাসে চলছে উন্নয়নের সুবিশাল কর্মযজ্ঞ। ক্যাম্পাসের যেদিকে তাকানো যায় সেদিকেই অবকাঠামোর নির্মাণকাজ চলমান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য একনেকে অনুমোদিত ৮৪০ কোটি ৫৬ লাখ টাকার প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে ২৪টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। নির্মাণাধীন ভবনগুলোর উল্লেখযোগ্য হলো- ২ হাজার ৯৩২ বর্গমিটার আয়তনে ২য় প্রশাসনিক ভবন, ৯ হাজার ৯৬০ বর্গমিটার আয়তনের ১০ তলা ভবন যেখানে পাঁচটি ইনস্টিটিউট, আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের শ্রেণিকক্ষ এবং আইটি স্পেস থাকবে, ৮২১ বর্গমিটার আয়তনের ৫ তলা অতিথি ভবন নির্মাণ, ৪২ হাজার ২৯৫ বর্গমিটার আয়তনের ১০ তলা একাডেমিক ভবন, ৫ হাজার ৩৩৬ বর্গমিটার আয়তনের স্কুল ও কলেজ ভবন নির্মাণ (নার্সারি হতে দ্বাদশ পর্যন্ত), ১৩ হাজার ৪৯৮ বর্গমিটার আয়তনের শিক্ষক-কর্মকর্তার জন্য ১০ তলা ইউটিলিটি ভবন নির্মাণ, ৬ হাজার ৩৪৭ বর্গমিটার আয়তনের শিক্ষক-কর্মকর্তার জন্য ১০ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণ, ১ হাজার ৫৭৩ বর্গমিটার আয়তনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য ৬ তলা আবাস ভবন নির্মাণ, ৭ হাজার ৮১১ বর্গমিটার আয়তনের ৩ তলা মাল্টিপারপাস হল-কাম টিএসসি-কাম জিমনেসিয়াম ভবন নির্মাণ, ১ হাজার ০১৯ বর্গমিটার আয়তনের চিকিৎসা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ (অফিস, হাসপাতাল ও আবাসিক সুবিধা সংবলিত), ২ হাজার ২৫২ বর্গমিটার আয়তনের ইমাম ও মুয়াজ্জিনের আবাসনসহ ৩ তলা মসজিদ নির্মাণ উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া রয়েছে ক্যাম্পাসের চারিদিকে নিরাপত্তার জন্য সবুজবেষ্টনী নির্মাণ, খেলার মাঠ উন্নয়ন- (ফুটবল, ক্রিকেট, টেনিস, বাস্কেট বল কোর্ট, শিশুপার্ক ও বৃক্ষরোপণ), জলাশয়ে রিটেইনিং স্ট্রাকচার নির্মাণসহ সৌন্দর্যবর্ধন কাজ, সমগ্র ক্যাম্পাসে অভ্যন্তরীণ আরসিসি রাস্তা নির্মাণ, ময়লা পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেইন ও কালভার্ট নির্মাণ ভূমি উন্নয়ন ইত্যাদি। নতুন অ্যাকাডেমিক বিল্ডিংয়ের নিচ তলায় নানারকম সেমিনার, ওয়ার্কশপ, ট্রেনিং আয়োজনের জন্য একটি অডিটোরিয়াম নির্মাণ করা হচ্ছে। জয়ধ্বনি মঞ্চ ছাড়াও আরও বেশ কিছু মঞ্চ করা হবে।
‘দেখব এবার জগৎটাকে’
উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রসরমান বিশ্বের সঙ্গে সংগতি রক্ষা ও সমতা অর্জন এবং জাতীয় পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা, বিশেষ করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আধুনিক জ্ঞানচর্চা ও পঠন-পাঠনের সুযোগ সৃষ্টি ও সম্প্রসারণের নিমিত্ত প্রতিষ্ঠা লাভ করে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে জাত্যাভিমানের প্রাচীর ডিঙিয়ে সাম্য-মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ব এবং মানবতার বলিষ্ঠ প্রত্যয়ের নাম কাজী নজরুল ইসলাম। একইভাবে তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও একই প্রত্যয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা ছাত্রাবস্থায় ও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অর্জনের মাধ্যমে আলোকিত করছে এই নজরুলতীর্থকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেন জ্ঞানার্জনের জন্য বিশ্বের অন্যান্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, সে জন্য নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় দেশে এবং দেশের বাইরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। এর আওতায় নিজেদের মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, তরুণ গ্র্যাজুয়েটদের ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা, গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশিক্ষণ-কর্মশালা আয়োজনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একে অন্যকে সহযোগিতা করতে পারবেন। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের ফেরদৌসী বিশ্ববিদ্যালয়, ভারতের কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়, আসাম ডাউনটাউন বিশ্ববিদ্যালয়, সিধু-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও দ্য ইনফিনিটি মেরিটাইম রিসার্চ অ্যান্ড রোবোটিক টেকনোলজি লিমিটেড।
এ ছাড়া সংগীত, নাট্যকলা বিভাগের প্রতিনিধিদল দেশের বাইরে নান্দনিক পরিবেশনার মাধ্যমে প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তাদের চলচ্চিত্র প্রদর্শনী হয়েছে এবং পুরস্কৃত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাবের কার্যক্রমও উল্লেখ করার মতো। ন্যাশনাল ক্যাম্পাস জার্নালিজম ফেস্ট, আন্তবিশ্ববিদ্যালয় বিজনেস কেইস কম্পিটিশন, আন্তবিশ্ববিদ্যালয় শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভাল, ন্যাশনাল সফট স্কিল ফেস্ট, জব ফেয়ার, ক্যারিয়ার ফেস্ট, আন্তবিশ্ববিদ্যালয় আইডিয়া জেনারেশন কনটেস্টের মতো জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন আয়োজন করে থাকে সংগঠনগুলো। ক্যারিয়ার ও আত্মোন্নয়নের জন্য রয়েছে ক্যারিয়ার ক্লাব, স্কিল ডেভেলপমেন্ট ক্লাব, রিসার্চ সোসাইটি, ডিবেটিং সোসাইটি, নৃ-তার্কিক সংঘ, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি ক্লাব, বিজনেস ক্লাব প্রমুখ। একইভাবে রয়েছে গ্রিন ক্যাম্পাস, রংধনু, সেভ দ্য টুমরো, নির্ভয় ফাউন্ডেশন, অরণ্য, ইনলেপ্ট, রোটারেক্ট ক্লাবের মতো স্বেচ্ছাসেবী ও পরিবেশবাদী সংগঠন। নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করে উইম্যান পিস ক্যাফে, উইমেন লিডার্সের মতো উদ্যোগ। আরও রয়েছে বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠন।
সাংস্কৃতিক মননে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবছর উদযাপিত হয় নজরুলজয়ন্তী, রবীন্দ্রজয়ন্তী, বারামখানার উদ্যোগে লালন স্মরণোৎসবের মতো আয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উৎসবমুখর আরও একটি অনবদ্য আয়োজন হচ্ছে ‘কুয়াশা উৎসব’। সংগীত, নাট্যকলা, ফিল্ম কিংবা চারুকলার মতো বিভাগগুলো এসব আয়োজনে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।
‘তবু আমারে দেব না ভুলিতে’
জীবনের মাত্র অর্ধেকের মতো সময়কালে কাজী নজরুল ইসলামের তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তা ও বিপুলায়তন সৃষ্টি-সম্ভার বাংলা সাহিত্যে তো বটেই, বিশ্বের বিস্ময়। যে কারণে নজরুল অতুলনীয়, একক এবং সবার চেয়ে আলাদা বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। তিনি আমাদের মাঝে নেই, তবে তাঁর স্মৃতিকে চির জাগরুক রাখতে বিভিন্ন স্থাপনার নামকরণ করা হয়েছে কবির সাহিত্যকর্ম ও কবিপরিবারের সদস্যদের নামানুসারে। নজরুলের আদর্শ, চেতনা, ভাবনা, সাহিত্য, সংগীত ও নাটক ছড়িয়ে দিতে প্রতিটি বিভাগে ১০০ নম্বরের ‘নজরুল অধ্যয়ন’ কোর্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নজরুলের সাহিত্যকর্মের ওপরে গবেষণার জন্য রয়েছে ‘ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজ’ নামে একটি ইনস্টিটিউট। জাতীয় কবির বিভিন্ন গান, কবিতা, উপন্যাস, নাটক সর্বোপরি তাঁর জীবনী এবং জীবনকর্মের ওপর গবেষণা চলমান রাখার জন্য বিভিন্ন শাখায় পিএইচডি এবং এমফিল প্রোগ্রাম কোর্স চালু রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রচলিত বৃত্তিগুলোর নামকরণ হয়েছে কবির পরিজনদের নামে ‘প্রমিলা বৃত্তি’, ‘বুলবুল বৃত্তি’, ‘কাজী অনিরুদ্ধ বৃত্তি’, ‘উমা কাজী বৃত্তি’।
নজরুলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’ ও দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘দোলনচাঁপা’, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দুটি হলের নাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের নামকরণ করা হয়েছে গল্পগ্রন্থ ‘ব্যথার দান' এর নামানুসারে। নজরুলের ছোটবেলার ডাকনাম অনুযায়ী নামকরণ করা হয় উপাচার্যের বাসভবনের, ‘দুখু মিয়ার বাংলো’। বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে মোট তিনটি মঞ্চ। সবচেয়ে পুরোনো মঞ্চটির নাম নজরুলের জন্মস্থান চুরুলিয়ার নামে, ‘চুরুলিয়া মঞ্চ’। বাকি দুটো কবিতার নামে, ‘গাহি সাম্যের গান মঞ্চ’, ‘জয়ধ্বনি মঞ্চ’। প্রায় ছয় বছর আগে উদ্বোধন করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধের, বিদ্রোহী কবিতার অমর এই চারটি শব্দে, ‘চির উন্নত মম শির’। বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে দুটি ক্যাফেটেরিয়া; যা ‘চক্রবাক’ ও ‘চন্দ্রবিন্দু’র নামে দুটো গ্রন্থের নামে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র গেস্ট হাউসের নামকরণ করা হয়েছে নজরুলের লেখা একটি একাঙ্ক নাটক ‘সেতু-বন্ধ’-এর নামানুসারে। পরিবহনের জন্য রয়েছে নজরুল সাহিত্যকর্মের নামে নামাঙ্কিত সাম্যবাদী, ধূমকেতু, প্রভাতী, নতুন পথিক রণভেরী, প্রলয় শিখা, দূরের বন্ধু, আগমনী, ঝিলিমিলি, ঝিঙেফুল, বাঁধনহারা, অগ্রপথিক, বিদ্রোহী, কাণ্ডারি ও দুরন্ত পথিক নামের বাসগুলো। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের ঠিক পাশেই রয়েছে সুউচ্চ নজরুল ভাস্কর্য। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে একাধিক ম্যুরাল। লাইব্রেরিতে রয়েছে নজরুল কর্নার।
এক নবীনবরণে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল নবীন শিক্ষার্থীদের বলেছিলেন, ‘কী চমৎকার একটা বিশ্ববিদ্যালয়। এটা সেই জায়গা, যেখানে বিদ্রোহী কবি হেঁটে গিয়েছেন। আমি মঞ্চ থেকে দেখে ভাবছিলাম, কবি নিজেই হয়তো এই পথে দিয়ে হেঁটে গেছেন। আমি এখন সে পথ দিয়ে হাঁটছি। ভাবতে পার এটা কত বড় সৌভাগ্য।’
বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিতে অম্লান
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু নজরুলকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থাপনার নামকরণে কবিপরিবার ও তার সৃষ্টিকর্মের নামের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্মানার্থে বিভিন্ন স্থাপনার নামকরণ করা হয়। ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি প্রায় আড়াই হাজার আবাসন সক্ষমতাসম্পন্ন দুটি নতুন হল উদ্বোধন করা হয়। হল দুটির নামকরণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সহধর্মিণীর নামে; জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও বঙ্গমাতা শেখ বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব হল। কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের নামকরণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের নামে। রয়েছে বঙ্গবন্ধুর সুউচ্চ ভাস্কর্য, যা নির্মাণ করেছেন ভাস্কর শ্যামল চৌধুরী। প্রশাসনিক ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও বঙ্গবন্ধু হলে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল। বঙ্গমাতা হলে রয়েছে বঙ্গমাতার ম্যুরাল। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, বঙ্গবন্ধু হল, লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনাবিদ্যা বিভাগ, থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ এবং ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগসহ বিভিন্ন স্থানে রয়েছে বঙ্গবন্ধু কর্নার। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি প্রস্তাবিত গেটের নাম জয় বাংলা গেট ও জয় বঙ্গবন্ধু গেট।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের শিশুদের চিত্তবিনোদনের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে শেখ রাসেল শিশুপার্ক। বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা হলের পাশে কবি নজরুল স্কুল প্রাঙ্গণের সামনের মাঠে এই পার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে। পার্কে শেখ রাসেলের আবক্ষ মূর্তি বসানো হবে। থাকবে শিশুদের জন্য নানারকম রাইড এবং অনুষ্ঠানের জন্য একটা অনুষ্ঠানস্থল থাকবে। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্যকে ঘিরে নির্মাণ করা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্কয়ার। সৌমিত্র শেখর জানান, ভাস্কর্য ও বঙ্গবন্ধু স্কয়ারকে দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলার জন্য আমরা প্রশাসনিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এই স্কয়ার আমাদের তরুণ সমাজকে বিশেষভাবে আলোকিত করবে। স্কয়ারে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হবে, যা ভাস্কর্যকে আরও বেশি গ্লোরিফাই করবে। আর ভাস্কর্যের ঠিক পেছনেই থাকবে প্রাকৃতিক জলাধার। মূলত বঙ্গবন্ধু স্কয়ার হবে একটি প্রশান্তির বাতায়ন। বঙ্গবন্ধুর জীবন-ইতিহাস নিয়ে ছোট ছোট কিছু স্মারক রাখা হবে। কোথাও কোথাও বঙ্গবন্ধুর বই রাখা হবে, থাকবে বই পড়ার ব্যবস্থাও।
ক্যাম্পাস হবে নন্দনকানন
আমাদের ক্যাম্পাসটিকে একটি নন্দনকানন হিসেবে গড়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সুপরিকল্পিতভাবে রক্তন, বুদ্ধ নারিকেল, সুলতানচাঁপা, উদাল, সুপারি, অশোক, নাগলিঙ্গম, কুরচি, লোহা, গর্জন, শিমুল, পলাশ, আমলকী, বহেরা, হরতকী, নাগেশ্বর, পুত্রঞ্জীব, ঢাকিজাম, লাল সোনাইল, টিকোমা, সিভিটসহ নানা প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়েছে। উপাচার্য বলেন, ‘এখন আমাদের লড়াই হচ্ছে গাছকে রক্ষা করা। আমরা প্রতিনিয়ত গাছের ওখানে যাচ্ছি, কোথাও জলাবদ্ধতা তৈরি হলে তার সমাধান করছি, কোথাও জলের স্বল্পতা হলে জল দিচ্ছি। অর্থাৎ একটি গাছকে বড় করার জন্য যে পরিচর্যা দরকার, ইট দিয়ে বেষ্টনী বানিয়েছি। ইতোমধ্যে সর্বসম্মতভাবে জয় বাংলা ভাস্কর্য সরানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জয় বাংলার মোড় হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার পয়েন্ট। ইতোমধ্যে সীমানাপ্রাচীর দৃশ্যমান। এই প্রাচীরের চারপাশ দিয়ে রাস্তা হবে। এখানে জো বাইক সিস্টেম চালু করা হবে। এই সিস্টেমে শিক্ষার্থীরা সাইকেলে নিমিষেই ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে যাতায়াত করতে পারবে। আমাদের ইতোমধ্যেই এ ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসকে একটা নতুন বিশ্বরূপে গড়ে তুলতে চাই। যেটি হবে নজরুল বিশ্ব। এখানে পা রাখলেই মানুষ আরেকটা জগতে ঢুকবে। একজনের সঙ্গে আরেকজনের সম্পর্ক হবে- তাঁরা হবেন নজরুল বিশ্বের সদস্য। একটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্য। এখানে ২৪ ঘণ্টা কাজের মতো পরিবেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই। সেই পরিবেশ যদি গড়ে তুলতে পারি, তাহলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম আরও বাড়বে বলে বিশ্বাস করি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো তিনটি ভবন কলা, বিজ্ঞান আর প্রশাসনিক। এর মাঝখানে মজা অবস্থায় থাকা পুকুর সংস্কার করে কাজ চলছে দৃষ্টিনন্দন আর আকর্ষণীয় সরোবর করার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পার্শ্ববর্তী জমিন থেকে পুকুরের জলে উঠে আসবে একটি হাত, অঞ্জলি দেয়ার ভঙ্গিতে। যার নামকরণ করা হয়েছে, কাজী নজরুল ইসলামের গান থেকে ‘অঞ্জলি লহ মোর’। সরোবরটির চারিদিকে চমৎকার করে বাঁধাই করা হবে। তিনটে ভবনকে বাঁধবে একই সুতোয়। বিকেল পাঁচটা থেকে যন্ত্রে চলবে গান, মৃদুস্বরে, রাত ১০টা অবধি। মূলত নজরুল সংগীতই হবে, ক্লাসিকও কিছু হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার গমনাগমনের জন্য থাকবে এই সরোবরকেন্দ্র উন্মুক্ত।
স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ে তোলার প্রত্যয়
উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষাথে ‘স্মার্ট ক্যাম্পাস’ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর যে কথাটি বলেছিলাম, স্মার্ট ক্যাম্পাস চাই। পরবর্তী সময়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা যে স্মার্ট বাংলাদেশের ধারণা দিয়েছেন, আমাদের চিন্তার সঙ্গে মিলে যায় সেটা। তাই স্মার্ট বাংলাদেশের অভিমুখে স্মার্ট ক্যাম্পাস। আর স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ার ক্ষেত্রে আমি শিক্ষা, গবেষণা, উন্নয়ন- এই তিনটি মোটোকে ধারণ করে কাজ করে যাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই স্মার্ট ক্যাম্পাসের অবকাঠামো ও একাডেমিক- উভয় দিক থেকে আমরা এমন অবকাঠামো গড়ে তুলব, যা হবে দৃষ্টিনন্দন। এখানে ভবনগুলো থাকবে সুসজ্জিত। ভবনগুলোর পাশাপাশি বৃক্ষ, লতাগুল্ম, পাখিসমৃদ্ধ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য থাকবে। পাশাপাশি থাকবে রাস্তার নিরাপত্তা। আমি স্বপ্ন দেখি, শিক্ষার্থীরা নিজস্ব সাইকেলে চলাফেরা করবে। এখানে বাইরের অনাকাঙ্ক্ষিত বা অপ্রত্যাশিত যানবাহন ঢুকবে না। ক্যাম্পাস সম্পূর্ণভাবে সিসিটিভির আওতায় থাকবে। এগুলো হচ্ছে অবকাঠামোগত দিক। আমরা একই সঙ্গে অ্যাকাডেমিক দিক থেকে এখানে এমন শিক্ষার্থী তৈরি করব, যারা লেখাপড়া শেষ করে বাইরে গিয়ে আলো ছড়াবে। এগুলো নিয়ে আমরা ভেতরে-ভেতরে অনেক পরিকল্পনা করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাইছি আমাদের শিক্ষার্থীরা এই প্রতিযোগিতার বাজারে নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দেবে। এ বিষয়ের প্রতি লক্ষ রেখে ইতোমধ্যে আমাদের যে কারিকুলাম, তা আলোচনা-পর্যালোচনা করেছি ঢেলে সাজানোর জন্য। আমাদের স্মার্ট ক্যাম্পাস হবে স্মার্ট এডুকেশন। একটা দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।’
ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক নথি ব্যবস্থাপনা ও রেকর্ড সংরক্ষণে ডিজিটাল নথি (ডি-নথি) কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়। নথির এ প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাইলের কাজ ডিজিটাল পদ্ধতি অনুসরণ করে সম্পাদিত হবে। উপাচার্যসহ সব পর্যায়ের অনুমোদনকারীরা যেকোনো জায়গা থেকে যেকোনো সময় ফাইল অনুমোদন করতে পারবেন। এতে তাদের সময় সাশ্রয় হবে, কাগজ সাশ্রয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জায়গাটিও নিশ্চিত হবে। এ ছাড়া প্রশাসন ও অ্যাকাডেমিক ক্ষেত্রে গতিশীলতা বাড়বে।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদারের কার্যালয়ে ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, বুধবার জাপানের জিচি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলের সাথে একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উভয় দেশের চিকিৎসা গবেষকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং যৌথ গবেষণার ক্ষেত্রসমূহ আরও প্রসারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চিকিৎসা শিক্ষা, উন্নত চিকিৎসাসেবা এবং নতুন উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি হাসপাতালের পরিবেশগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় গবেষণা সহায়তার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে সভায় ফলপ্রসূ আলোচনা সম্পন্ন হয়।
আনুষ্ঠানিক সভা শেষে জাপানি প্রতিনিধিদল বিএমইউ-এর মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিন আলমের সাথে তাঁর কার্যালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। এই বিশেষ মুহূর্তে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মোহাম্মদ ইসমাইল ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকবৃন্দসহ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি এবং বিএমইউ-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। জাপানের জিচি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভারনমেন্টাল এন্ড প্রিভেনটিভ মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর ড. সাহোকো ইচিহারার নেতৃত্বে আসা প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন সহযোগী অধ্যাপক ড. মিসে নাথান, ড. একেগামি আকিহিকো ও ড. কিতামুরা ইউকি। সভায় উপস্থিত শিক্ষা ও গবেষণা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ দুই দেশের এই জ্ঞান বিনিময়ের উদ্যোগকে চিকিৎসা খাতের উন্নয়নে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেন।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর উদ্যোগে আয়োজিত বাউবির বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকদের নিয়ে "বৈশ্বিক স্বীকৃতির পথে অগ্রযাত্রা: বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর র্যাংকিং অর্জনের কৌশল" বিষয়ক দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল ১০:০০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুর ক্যাম্পাসের সম্মেলন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (লেকচার গ্যালারী) অনুষ্ঠিত হয়।
আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহির রায়হানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালী যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি বলেন, “বৈশ্বিক স্বীকৃতি ও উচ্চ র্যাংকিং অর্জন কোনো এককালীন বিষয় নয়; এটি একটি ধারাবাহিক ও কৌশলগত মানোন্নয়ন প্রক্রিয়া। বর্তমান বিশ্বে বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিং শিক্ষার মান, গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সক্ষমতা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতার প্রতিফলন। উন্মুক্ত ও দূরশিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বৃহৎ শিক্ষার্থী জনগোষ্ঠীকে উচ্চশিক্ষার আওতায় আনার ক্ষেত্রে বাউবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই শক্তিগুলোকে বৈশ্বিক মানদণ্ডের আলোকে উপস্থাপন করাই এখন সময়ের দাবি”।
‘আইকিউএসি কেবল প্রশাসনিক কাঠামো নয়; এটি গুণগত সংস্কৃতি গড়ে তোলার কেন্দ্রবিন্দু। শিক্ষকবৃন্দের গবেষণায় সক্রিয় অংশগ্রহণ, আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশনা বৃদ্ধি এবং শিক্ষাদানে উদ্ভাবনের মাধ্যমে সমন্বিত প্রচেষ্টায় বাউবি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে সফল হবে বলে উপাচার্য আশাবাদ ব্যক্ত করেন’।
প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারুক এম. শেখ। তিনি বলেন, “জীবনের সিদ্ধান্ত স্বপ্ন ও বাস্তবতার সমন্বয়ে নিতে হয়। ফিজিক্স থেকে ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সে আসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, বহুমাত্রিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ একজন শিক্ষককে পরিপূর্ণ করে”। তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য কেবল জ্ঞান দেওয়া নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মনে নৈতিকতা, আশাবাদ ও ভালো মানুষ হওয়ার আদর্শ গড়ে তোলা, যা ভবিষ্যতে সমাজ পরিবর্তনের শক্তি হয়ে উঠবে’।
প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোঃ জাকির হোসেন তালুকদার। বাউবির সাতটি স্কুল থেকে ৪০ জন শিক্ষক এ প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন।
স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ৪ হাজার ২০ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) ১৩তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সাভারের বিরুলিয়ায় অবস্থিত ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটিতে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়।
এতে কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী ১২ স্নাতককে বিভিন্ন বিভাগে ‘স্বর্ণপদক’দেয়া হয়। এর মধ্যে চ্যান্সেলর্স গোল্ড মেডেল পান মোছাঃ স্বপ্নীল আক্তার নূর, মোছাঃ জাকিয়া আক্তার, সৌরভ গারদিয়া, আরিফুল রহমান ও মুনতাসির সরকার। চেয়ারম্যান গোল্ড মেডেল পান আনজির রহমান খান, মোঃ তুহিন ইসলাম, মোঃ আবু বকর সিদ্দিক, মোঃ আবু বকর সিদ্দিক এবং ভাইস-চ্যান্সেলর্স গোল্ড মেডেল পান শাহরিয়ার শহীদ, বায়েজিদ চৌধুরী ও হালিমা আক্তার।
মোট গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে ৩ হাজার ৩৯১ জন স্নাতক এবং ৬২৯ জন স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের প্রতিনিধি হিসেবে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও সনদ প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস. এম. এ. ফায়েজ। সমাবর্তন বক্তা ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবং ব্র্যাক-এর চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। এসময় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাষ্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মোঃ সবুর খানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাব সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিবেশন করে। এছাড়া জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘ওয়ারফেজ’এক মনোজ্ঞ সঙ্গীতানুষ্ঠান মধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এই বিশেষ মুহূর্তে আনন্দঘন করে তোলে।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) ও বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ‘এসপায়ার টু ইনোভেট’ (এটুআই) প্রোগ্রামের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। আজ ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। এই সমঝোতা স্মারকের মূল লক্ষ্য হলো বিএমইউতে পেপারলেস বা কাগজবিহীন প্রশাসনিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা।
এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী জনাব ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। বিএমইউ-এর পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম এবং আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম আখতারুজ্জামান। অন্যদিকে এটুআই-এর পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) মোহাঃ আব্দুর রফিক, হেড অব প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম এবং কনসালটেন্ট মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন।
চুক্তির আওতায় বিএমইউ-এর চিকিৎসা পরিষেবা, শিক্ষাদান এবং গবেষণার যাবতীয় আর্থিক লেনদেন সহজ ও স্বচ্ছ করতে ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতি চালু করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবপোর্টাল বা সিস্টেমের সংশ্লিষ্ট সকল সেবার ফি এবং বিল সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে এটুআই-এর সমন্বিত পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘একপে’-এর সাথে সংযুক্ত করা হবে। এর ফলে নাগরিকগণ এমএফএস (বিকাশ, নগদ ইত্যাদি), ডিজিটাল ওয়ালেট, অনলাইন ব্যাংকিং, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড এবং এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে যেকোনো সময় যেকোনো স্থান থেকে অনায়াসে ফি পরিশোধ করতে পারবেন। এই উদ্যোগ বিএমইউ-এর সার্বিক কার্যক্রমে ক্যাসলেস পদ্ধতি বাস্তবায়ন এবং কায়িক ভোগান্তি হ্রাসে বড় ভূমিকা রাখবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনাব ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, এই সমঝোতা স্মারক বিএমইউ-তে পেপারলেস কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি দীর্ঘ যাত্রার সূচনা করল। এর মাধ্যমে রোগীরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে পেমেন্ট সম্পন্ন করতে পারবেন এবং ভবিষ্যতে রোগীদের সকল স্বাস্থ্যগত রেকর্ড ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে অভূতপূর্ব অবদান রাখবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিনুল আলম বলেন, চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণাকে গতিশীল ও সমৃদ্ধ করতে আধুনিক প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। এই সমঝোতা স্মারকটি রোগীদের ভোগান্তি দূর করার পাশাপাশি চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তিকে আরও সহজলভ্য করবে।
রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার, মেডিসিন অনুষদের ডীন অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ এবং ডেন্টাল অনুষদের ডীন ডা. সাখাওয়াত হোসেনসহ এটুআই প্রোগ্রামের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। এই ডিজিটাল রূপান্তর চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিএমইউ-কে একটি আধুনিক ও স্মার্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলবে বলে অনুষ্ঠানে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
আসন্ন ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা স্থগিতের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) পরীক্ষার্থীদের পক্ষে এই রিটটি দায়ের করেন অ্যাডভোকেট নাজমুস সাকিব। আগামী ৩০ জানুয়ারি এই প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও নির্বাচনকালীন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পরীক্ষাটি পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা।
রিটকারী আইনজীবী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচনের ডামাডোল এবং সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতির কারণে পরীক্ষার্থীদের মানসিক প্রস্তুতি ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। রিট আবেদনে পরীক্ষাটি বর্তমান সময়সূচী থেকে পিছিয়ে দিয়ে অন্য কোনো সুবিধাজনক সময়ে নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ কেন্দ্রে একযোগে এই প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি)।
এর আগে পিএসসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, পরীক্ষার আসন বিন্যাস এবং হল সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা যথাসময়ে কমিশনের ওয়েবসাইট ও টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের পোর্টালে প্রকাশ করা হবে। তবে পরীক্ষার মাত্র দুই দিন আগে হাইকোর্টে এই রিট আবেদন জমা পড়ায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পিএসসি তাদের নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর এখন অনেক কিছু নির্ভর করছে।
উল্লেখ্য, গত বছর ২৬ নভেম্বর ৫০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল পিএসসি। এরপর ৪ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে আবেদনের প্রক্রিয়া। বিপুল সংখ্যক চাকরিপ্রত্যাশী এই বিসিএসে অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। তবে নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে বা নির্বাচনকালীন সময়ে এত বড় একটি পাবলিক পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে শুরু থেকেই পরীক্ষার্থীদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়ালো। হাইকোর্টে এই রিট আবেদনের ওপর শুনানির পর জানা যাবে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে কি না।
নেত্রকোনা জেলার দত্ত উচ্চ বিদ্যালয় সবচেয়ে প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দত্ত উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ মজিবুর রহমান এর সভাপতিত্বে সিনিয়র সহকারী শিক্ষক ও শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার এর সঞ্চালনায় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুনমুন জাহান লিজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) স্বজল কুমার সরকার, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা বিনতে রফিক, জেলা শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর কবির আহাম্মদ, জেলা প্রেসক্লাবের সম্পাদক মাহবুবুল কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সহসভাপতি তরিকুল ইসলাম খান পাঠান বাবুল প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা, সাংবাদিক, অভিভাবকরা সহ বিদ্যালয়ের অফিস স্টাফরা বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা একে একে দৌড়, জোড় পায়ে দৌড়, উচ্চ লাফ, দীর্ঘ লাফ, দড়ি লাফ, গোলক নিক্ষেপ, ব্যাঙ লাফ, মোরগের লড়াই, গুপ্তধন উদ্ধার, চেয়ার দখল, সুইয়ে সূতা পড়ানো, দ্রুত পোশাক পরিধান প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে প্রধান অতিথি এ সকল প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার বিতরণ করেন।
দেশের বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়াকে আধুনিক ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে সরকার মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল ও কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা–২০২৬’ নামক নতুন একটি নীতিমালা জারি করেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে শিক্ষা সচিব রেহেনা পারভীনের সই করা এই প্রজ্ঞাপনটি জারির দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে এবং এটি দেশের সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য প্রযোজ্য হবে। নতুন এই নীতিমালা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর জারি করা পূর্ববর্তী বদলি নীতিমালাটি রহিত করা হয়েছে।
নতুন এই নীতিমালার অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) অনলাইনে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্য পদের তালিকা প্রকাশ করবে এবং সেই অনুযায়ী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আবেদন আহ্বান করা হবে। নীতিমালার শর্তানুযায়ী, শিক্ষকরা তাদের প্রথম যোগদানের অন্তত দুই বছর পূর্ণ হওয়ার পর বদলির জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন এবং একবার বদলি হওয়ার পর পুনরায় বদলি হতে চাইলে নতুন কর্মস্থলে অন্তত দুই বছর কর্মরত থাকতে হবে। একজন শিক্ষক তার পুরো কর্মজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলি হতে পারবেন। বদলির ক্ষেত্রে নিজ জেলা বা নিজ বিভাগের জেলাগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হবে, তবে বিশেষ প্রয়োজনে স্বামী অথবা স্ত্রীর কর্মস্থলে বদলির সুযোগ রাখা হয়েছে। আবেদনের ক্ষেত্রে নারী প্রার্থী, স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থলের সান্নিধ্য, জ্যেষ্ঠতা ও দূরত্বকে অগ্রাধিকারের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
নীতিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুজন এবং একই বিষয়ের একজনের বেশি শিক্ষক বদলি হতে পারবেন না। আগ্রহী শিক্ষকরা আবেদনে সর্বোচ্চ তিনটি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করার সুযোগ পাবেন। এই পুরো বদলি প্রক্রিয়া মাউশি মহাপরিচালকের অধীনে সম্পন্ন হবে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এর তদারকি করবে। বদলিকৃত শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা, এমপিও ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বহাল থাকবে, তবে এই বদলিকে কোনো অধিকার হিসেবে দাবি করা যাবে না এবং কোনো যাতায়াত ভাতা প্রদান করা হবে না।
আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে বর্তমান প্রতিষ্ঠান থেকে অবমুক্ত করতে হবে এবং পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। আবেদনের ক্ষেত্রে কোনো ভুল বা অসত্য তথ্য প্রদান করা হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এছাড়া যাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা বা ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে, তারা বদলির আবেদনের জন্য অযোগ্য বলে গণ্য হবেন। এই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির মাধ্যমে বদলি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিনের জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা অবসান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ শিক্ষাবিষয়ক কোর্স চালু এবং এ বিষয়ে কর্মশালা আয়োজনের বিষয়ে একটি মতবিনিময় সভা হয়েছে। সোমবার দুপুরে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও বিভাগীয় ছাত্র উপদেষ্টাদের নিয়ে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে এ সভা হয়।
জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেধার সঙ্গে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে একটি উন্নত জাতি গঠনের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ শিক্ষাবিষয়ক কোর্স চালু এবং এ বিষয়ে কর্মশালা আয়োজনের ওপর সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সভায় নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ শিক্ষাবিষয়ক কোর্স চালু এবং কর্মশালা আয়োজনবিষয়ক কমিটির বিভিন্ন প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়। কমিটির পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে মতবিনিময় সভার সুপারিশসমূহ বিবেচনা করার বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের প্রথম বর্ষের (আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম) শিক্ষার্থীদের জন্য ‘নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ শিক্ষা’ বিষয়ক একটি কোর্স চালুর সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই শিক্ষাবর্ষ থেকে সব বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য চতুর্থ বর্ষ (সম্মান) ও মাস্টার্স পর্যায়ে ‘নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ শিক্ষা’ বিষয়ক কর্মশালা আয়োজনের বিষয়েও সভায় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ শিক্ষাসংক্রান্ত কমিটির আহ্বায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুন আহমেদ সভায় সভাপতিত্ব করেন। কমিটির সদস্য হিসেবে ছিলেন দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান মো. নূরুজ্জামান, নৈতিক উন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক আ খ ম ইউনুস, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক শাহ্ কাওসার মুস্তাফা আবুলউলায়ী, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শাকিলা ইয়াসমিন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খোরশেদ আলম এবং গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের প্রভাষক মীর মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন আলী।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ শিক্ষাবিষয়ক কোর্স চালু এবং এ বিষয়ে কর্মশালা আয়োজনের জন্য পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তের আলোকে এ দুটি কমিটি গঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুন আহমেদকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটি এ–সংক্রান্ত কোর্স চালু ও কর্মশালা আয়োজনের বিষয়ে কয়েক মাস ধরে কাজ করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন সর্বমিত্র চাকমা। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২’ নামক ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। একইসঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়াম এলাকায় বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে গিয়ে তাদের কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে সর্বমিত্র চাকমা কয়েকজন বহিরাগতকে কান ধরে ওঠবস করান। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনার সৃষ্টি হয়। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে তিনি এমন কঠোর আচরণ করতে বাধ্য হয়েছিলেন, যা মোটেও কাম্য ছিল না। নিজের ভুল স্বীকার করে তিনি লেখেন, “এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি এবং এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।”
তবে নিজের আচরণের প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেন এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাহীনতার চিত্র তুলে ধরেন। সর্বমিত্র অভিযোগ করেন, শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি কেবল শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বহিরাগতদের অবাধ বিচরণ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। বহিরাগতদের দ্বারা প্রায়ই নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা, মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটছে, যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তিনি আরও জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে বহিরাগতরা ভেতরে প্রবেশ করে এবং নিষেধ করলে উল্টো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এসব বিষয়ে প্রশাসনকে বারবার অবহিত করা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর বা দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা বা নিরাপত্তা জোরদার করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা ও অসহযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রশাসনিক এই ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণেই তিনি বাধ্য হয়ে নিজের হাতে আইন তুলে নিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন।
পদত্যাগের কারণ হিসেবে সর্বমিত্র চাকমা প্রশাসনিক অসহযোগিতা ও নিজের ব্যর্থতাকেই দায়ী করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই সিদ্ধান্ত কারো প্রতি ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা অভিমান থেকে নয়। তিনি মনে করেন, শিক্ষার্থীরা যে বিশ্বাস ও প্রত্যাশা নিয়ে তাকে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন, প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণে তিনি তা পূরণ করতে সক্ষম হননি। তাই নৈতিক দায়ভার কাঁধে নিয়েই তিনি ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেছেন, জাতীয় চ্যালেঞ্জগুলোকে গবেষণায় গুরুত্বের সাথে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তাতে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশ ইতিহাসের একটি কঠিন বাঁক অতিক্রম করছে, যেখানে আমাদের যুবসমাজ ও নারীর ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গবেষণা খুব সীমিত। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এই বিষয়ে গবেষণায় ফোকাস করা হলেও আমরা সুবিচার করতে পারিনি। ফলে এ বিষয়ে গবেষণা ও একাডেমিক আলোচনা বাড়ানো জরুরি।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে কুমিরাস্থ স্থায়ী ক্যাম্পাসে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি)-এর ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের বিজনেস ইনোভেশন ফর ইনক্লুসিভ ডেভলাপমেন্ট এর ২য় এবং আইআইইউসির ১৮তম ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. নিয়াজ আহমেদ খান কথাগুলো বলেন।
ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ও গবেষণা ও প্রকাশনা কেন্দ্রের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘বিজনেস ইনোভেশন ফর ইনক্লুসিভ ডেভলাপমেন্ট’ শীর্ষক দুদিনব্যাপী এই ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইআইইউসির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী। বিশেষ অতিথি ছিলেন আইআইইউসির ট্রেজারার প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বিজনেস ইনোভেশন ফর ইনক্লুসিভ ডেভলাপমেন্ট অর্গানাইজিং কমিটির চেয়ার এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আকতারুজ্জামান খান।
কনফারেন্সে গতকালের প্লেনারি সেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কানাডা কেপবৃটন ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষক এবং ইন্দোনেশিয়ার ত্রিশক্তি ইউনিভার্সিটির এডজান্ক্ট প্রফেসর ড. মাসুদুল আলম চৌধুরী, ইউনিভার্সিটি সেইন্স ইসলাম মালয়েশিয়ার অর্থনীতি ও মুআমালাত অনুষদের প্রফেসর দাতো ড. মুস্তাফা বিন মোহাম্মদ হানিফাহ এবং পাকিস্তানের ইউনিভার্সিটি অব সারগোধার প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মাসুদ সরওয়ার আওয়ান। আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও প্রকাশনা সেলের পরিচালক প্রফেসর ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ এবং ইউনিভার্সিটি সায়েন্স ইসলাম মালয়েশিয়ার লিডারশিপ ও ম্যানেজমেন্ট অনুষদের সহকারী ডিন সহযোগী অধ্যাপক ড. নূরহায়াতি রাফিদা আবদুল রহিম।
উল্লেখ্য ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, বাহরাইন ও ফিলিপাইনসহ ৮টি দেশের ১১ টি বিশ্ববিদ্যালয় এই ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সের কো-অর্গানাইজার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বনামখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ১৭২ জন গবেষক-প্রতিনিধি এই ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করছেন। কনফারেন্সে বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ১৬৫টি গবেষণা প্রবন্ধ জমা পড়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে ১১৪টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে।
ষড়ঋতুর বাংলাদেশে শীতকাল মানেই পিঠা-পুলির ধুম। যান্ত্রিক শহরের বুকে আবহমান বাংলার এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী পিঠা উৎসব। পিঠা উৎসব-১৪৩২ শিরোনামে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানটি আজ ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামীকাল ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত। কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সকালে পিঠার গরম ভাপ আর গানের সুরে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মান্নান চৌধুরী আজ সকাল ১১টায় ফিতা কেটে এই উৎসবের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ এর প্রিন্সিপাল এডভাইজার প্রফেসর ড. মো. আনোয়ারুল কবির। এছাড়াও বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, বিভাগীয় প্রধানগণসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
উৎসবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭টি ভিন্ন ভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছে। ক্যাম্পাসে স্থাপন করা হয়েছে ৭টি সুসজ্জিত স্টল, যেখানে শিক্ষার্থীরা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বাহারি স্বাদের ও নকশার পিঠা-পুলি প্রদর্শন এবং বিক্রি করছে। ভাপা, চিতই, পাটিসাপটা থেকে শুরু করে নানা ধরনের রসালো পিঠার সমারোহে স্টলগুলো সাজানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে পুরো ক্যাম্পাস এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
শুধু পিঠা খাওয়া বা প্রদর্শনীই নয়, উৎসবের বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে ছিল প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি কালচারাল ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গ্রামীণ আবাহকে ফুটিয়ে তুলতে পরিবেশন করা হয় পল্লীগীতি ও লোকজ নাচ। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকরাও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন, যা অনুষ্ঠানে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতিকে উজ্জীবিত রাখতে এবং যান্ত্রিকতার ভিড়ে প্রাণে গানের সঞ্চার করতেই এই আয়োজন বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজকে একীভূত করে বহুল প্রতীক্ষিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার পথ অবশেষে সুগম হলো। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়েছে। দুপুরের দিকে এই খবর ক্যাম্পাসে পৌঁছামাত্রই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায় এবং তারা বিজয়োল্লাসে মেতে ওঠেন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের সফল পরিসমাপ্তি ঘটল।
বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটার দিকে ঢাকা কলেজের সামনে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের কাছে এই সুখবরটি পৌঁছায়। খোদ শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার বা সি আর আবরার টেলিফোনে শিক্ষার্থীদের অধ্যাদেশ অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। উপদেষ্টার কাছ থেকে ইতিবাচক বার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অপেক্ষমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কেটে যাওয়ায় অনেকেই একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং মুহুর্মুহু স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলেন। শিক্ষার্থীরা ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি স্লোগান দিয়ে রাজপথ প্রকম্পিত করেন।
আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও ঢাকা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, শিক্ষা উপদেষ্টা তাকে নিজে ফোন করে নিশ্চিত করেছেন যে উপদেষ্টা পরিষদে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ অনুমোদন পেয়েছে। তিনি বলেন, তাদের দীর্ঘ দেড় বছরের নিরলস আন্দোলন ও সংগ্রামের ফসল হিসেবে আজ এই স্বীকৃতি মিলেছে। উল্লেখ্য, ঢাকার সাতটি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরেই একটি স্বতন্ত্র ও স্বায়ত্তশাসিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করে আসছিলেন। সরকারের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সাত কলেজের সংকট নিরসন এবং উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজকে একীভূত করে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইন উপদেষ্টা পরিষদে উত্থাপনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। প্রস্তাবিত আইনের খসড়াটি আজ বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদে চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে তারা বিজয় মিছিল বের করবেন বলে জানিয়েছেন। তবে এই অনুমোদনে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা বিলম্ব দেখা দিলে কঠোর আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করবেন। সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাঈম হাওলাদার বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, সাত সরকারি কলেজের সমন্বয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রণীত আইনের খসড়াটি আজ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে উত্থাপন করার কথা রয়েছে। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন-২০২৫ নামের এই খসড়াটি ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে বলে শিক্ষার্থীরা জানতে পেরেছেন। এই উপলক্ষ্যে বেলা ১১টায় ঢাকা কলেজের মূল ফটকে স্থাপিত অধ্যাদেশ মঞ্চে বিশাল শিক্ষার্থী সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকেই পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আইনটি আজ চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে তাদের বর্তমান সমাবেশটি বিজয় মিছিলে রূপ নেবে এবং ঢাকা কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে একটি আনন্দ মিছিল বের করা হবে। কিন্তু অনুমোদনে কোনো বাধা সৃষ্টি হলে সেখান থেকেই তারা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অথবা সচিবালয় অভিমুখে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা শুরু করবেন। সমন্বয়ক নাঈম হাওলাদার স্পষ্ট করেছেন যে সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় তারা আছেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, সাত কলেজের সমন্বয়ে স্বতন্ত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে শিক্ষার্থীরা গত সোমবার থেকে টানা চার দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন কলেজ ক্যাম্পাসে অধ্যাদেশ মঞ্চ স্থাপন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজকের গণজমায়েত সেই কর্মসূচিরই চূড়ান্ত ধাপ। ইতিপূর্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সাতটি কলেজকে একীভূত করে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি নামে একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছে।