শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
৬ আষাঢ় ১৪৩৩

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়: শিক্ষা, গবেষণা, উন্নয়ন

বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবন
মো. আশিকুর রহমান
প্রকাশিত
মো. আশিকুর রহমান
প্রকাশিত : ২৬ আগস্ট, ২০২৩ ০৯:৩৯

‘আমি চিরতরে দূরে চলে যাব, তবু আমারে দেব না ভুলিতে’- গানে এ কথা বলে গিয়েছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। প্রেম ও দ্রোহের কবি হয়ে তিনি তাঁর গানের চরণের মতোই বাংলা ভাষাভাষীর হৃদয়ে বেঁচে আছেন, থাকবেন। বিদ্রোহী, প্রতিবাদী, সুন্দরের উপাসক, জাতীয় জাগরণের প্রতিভূ এবং বহুমাত্রিক ঔজ্জ্বল্যে ঋদ্ধ নজরুল ভারত থেকে প্রথমবার বাংলাদেশের ত্রিশালে আগমন করেন। খুব শৈশবে তিনি এই ত্রিশালে এসেছিলেন। তার বর্ণাঢ্য কৈশোরকে আগলে ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রতিষ্ঠা করা হয় তার নামে বিশ্ববিদ্যালয়। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের ২১তম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় নামেই সমধিক পরিচিত।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়ন- এই তিনটি শব্দকে মোটো হিসেবে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিযাত্রা আমরা শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়ন- এই তিনটি উদ্দেশ্য নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছি। শিক্ষা বলতে বর্তমান সময়ের যুগোপযোগী শিক্ষা, দ্বিতীয় হচ্ছে গবেষণা। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকরা গবেষণা করবেন, প্রত্যেকের নিজস্ব ক্ষেত্রে নতুন নতুন আবিষ্কার করবেন এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণামনস্ক করে গড়ে তুলবেন- যাতে তারা ভবিষ্যতে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত থাকেন।’

কাজী নজরুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘ভেঙে যে গড়তে জানে, সে চিরসুন্দর।’ এখানে সব ভেঙে গড়তে হচ্ছে। যারা গবেষণার ক্ষেত্রে বিমুখ ছিলেন, তাদের গবেষণায় আনতে হচ্ছে। তবে আশাব্যঞ্জক বিষয় হচ্ছে, আমরা গবেষণায় শিক্ষকদের যথেষ্ট সমর্থন পাচ্ছি। প্রথমবারের মতো আমরা আয়োজন করেছি গবেষণা মেলা। ইতোমধ্যে আমরা দুটো আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের আয়োজন করেছি, যেখানে দেশ-বিদেশের বিদগ্ধ গবেষকরা অংশগ্রহণ করেছেন। নতুন জ্ঞান সৃষ্টির জন্য আমাদের এই অগ্রযাত্রা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য প্রতিবছর এ ধরনের আন্তর্জাতিক কনফারেন্স আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হবে। আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ক্যাম্পাসকে ধারণ করতে হবে। আমরা প্রত্যেকে শুধু যার যার যে কাজ, সেই কাজটুকু ঠিকভাবে করলে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যাব, যোগ করেন উপাচার্য।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জার্নাল যেটা দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল, সেটা ছাপার দোরগোড়ায়। বিভিন্ন অনুষদ থেকে জার্নাল প্রকাশিত হচ্ছে, শিগগিরই প্রকাশিত হচ্ছে আইন অনুষদের জার্নাল। কিছুদিন আগেই প্রকাশিত হয়েছে কলা অনুষদের জার্নাল ‘মানববিদ্যা’। এ ছাড়া আমাদের বিভাগগুলো থেকে জার্নাল প্রকাশ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগ, লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগ, ফোকলোর বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগ নিজস্ব জার্নাল প্রকাশ করছে।

সৌমিত্র শেখর বলেন, ‘কুম্ভীলব বৃত্তি বা প্লেগারজিম চেকার সফটওয়্যার সংযোজন করা হচ্ছে শিগগিরই। আইকিইউসি নানাবিধ গবেষণামূলক কাজ বিশেষত ট্রেনিংয়ের আয়োজন করছে। ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজ নজরুলকে নিয়ে গবেষণার কাজ করছে। গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তর গবেষণা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তারা সবাই বহুবিধ কাজে ব্যস্ত।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার তৈরির মাধ্যমে সেশনজট দূর করতে পেরেছি। আমরা বিভাগগুলোতে এমন কিছু বিষয় যুক্ত করার কথা ভাবছি যেগুলো যুক্ত হলে পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা নিজেদের খাপ খাওয়াতে পারবে। ত্রিশাল থেকে যেন একজন শিক্ষার্থী জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে যুক্ত হতে পারে, সে ব্যবস্থা ধীরে ধীরে করা হবে। এখানকার আইটি সেকশনকে গুরুত্ব দিয়ে এখানে একটা ইনস্টিটিউটের কথা প্রশাসন ভাবছে। আশা করা যায়, ভবিষ্যতে সে ইনস্টিটিউট আমরা স্থাপন করতে পারব। আইসিটির মধ্য দিয়ে এখানকার প্রত্যেকটি ছেলেমেয়ে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত হবে।’

তিনি জানান, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিলক্ষ্য হচ্ছে সাংস্কৃতিক শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, সামাজিক বিজ্ঞান ও ব্যবসায় প্রশাসনবিষয়ক পঠন-পাঠনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ ঘটানো। দেশের আধুনিক ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে গবেষণা এবং লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের দ্বারা জাতীয় উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অবদান রাখা।

চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ

বর্তমান সময়ে ক্যাম্পাসে চলছে উন্নয়নের সুবিশাল কর্মযজ্ঞ। ক্যাম্পাসের যেদিকে তাকানো যায় সেদিকেই অবকাঠামোর নির্মাণকাজ চলমান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য একনেকে অনুমোদিত ৮৪০ কোটি ৫৬ লাখ টাকার প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে ২৪টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। নির্মাণাধীন ভবনগুলোর উল্লেখযোগ্য হলো- ২ হাজার ৯৩২ বর্গমিটার আয়তনে ২য় প্রশাসনিক ভবন, ৯ হাজার ৯৬০ বর্গমিটার আয়তনের ১০ তলা ভবন যেখানে পাঁচটি ইনস্টিটিউট, আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের শ্রেণিকক্ষ এবং আইটি স্পেস থাকবে, ৮২১ বর্গমিটার আয়তনের ৫ তলা অতিথি ভবন নির্মাণ, ৪২ হাজার ২৯৫ বর্গমিটার আয়তনের ১০ তলা একাডেমিক ভবন, ৫ হাজার ৩৩৬ বর্গমিটার আয়তনের স্কুল ও কলেজ ভবন নির্মাণ (নার্সারি হতে দ্বাদশ পর্যন্ত), ১৩ হাজার ৪৯৮ বর্গমিটার আয়তনের শিক্ষক-কর্মকর্তার জন্য ১০ তলা ইউটিলিটি ভবন নির্মাণ, ৬ হাজার ৩৪৭ বর্গমিটার আয়তনের শিক্ষক-কর্মকর্তার জন্য ১০ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণ, ১ হাজার ৫৭৩ বর্গমিটার আয়তনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য ৬ তলা আবাস ভবন নির্মাণ, ৭ হাজার ৮১১ বর্গমিটার আয়তনের ৩ তলা মাল্টিপারপাস হল-কাম টিএসসি-কাম জিমনেসিয়াম ভবন নির্মাণ, ১ হাজার ০১৯ বর্গমিটার আয়তনের চিকিৎসা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ (অফিস, হাসপাতাল ও আবাসিক সুবিধা সংবলিত), ২ হাজার ২৫২ বর্গমিটার আয়তনের ইমাম ও মুয়াজ্জিনের আবাসনসহ ৩ তলা মসজিদ নির্মাণ উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া রয়েছে ক্যাম্পাসের চারিদিকে নিরাপত্তার জন্য সবুজবেষ্টনী নির্মাণ, খেলার মাঠ উন্নয়ন- (ফুটবল, ক্রিকেট, টেনিস, বাস্কেট বল কোর্ট, শিশুপার্ক ও বৃক্ষরোপণ), জলাশয়ে রিটেইনিং স্ট্রাকচার নির্মাণসহ সৌন্দর্যবর্ধন কাজ, সমগ্র ক্যাম্পাসে অভ্যন্তরীণ আরসিসি রাস্তা নির্মাণ, ময়লা পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেইন ও কালভার্ট নির্মাণ ভূমি উন্নয়ন ইত্যাদি। নতুন অ্যাকাডেমিক বিল্ডিংয়ের নিচ তলায় নানারকম সেমিনার, ওয়ার্কশপ, ট্রেনিং আয়োজনের জন্য একটি অডিটোরিয়াম নির্মাণ করা হচ্ছে। জয়ধ্বনি মঞ্চ ছাড়াও আরও বেশ কিছু মঞ্চ করা হবে।

‘দেখব এবার জগৎটাকে’

উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রসরমান বিশ্বের সঙ্গে সংগতি রক্ষা ও সমতা অর্জন এবং জাতীয় পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা, বিশেষ করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আধুনিক জ্ঞানচর্চা ও পঠন-পাঠনের সুযোগ সৃষ্টি ও সম্প্রসারণের নিমিত্ত প্রতিষ্ঠা লাভ করে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে জাত্যাভিমানের প্রাচীর ডিঙিয়ে সাম্য-মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ব এবং মানবতার বলিষ্ঠ প্রত্যয়ের নাম কাজী নজরুল ইসলাম। একইভাবে তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও একই প্রত্যয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা ছাত্রাবস্থায় ও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অর্জনের মাধ্যমে আলোকিত করছে এই নজরুলতীর্থকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেন জ্ঞানার্জনের জন্য বিশ্বের অন্যান্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, সে জন্য নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় দেশে এবং দেশের বাইরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। এর আওতায় নিজেদের মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, তরুণ গ্র্যাজুয়েটদের ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা, গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশিক্ষণ-কর্মশালা আয়োজনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একে অন্যকে সহযোগিতা করতে পারবেন। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের ফেরদৌসী বিশ্ববিদ্যালয়, ভারতের কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়, আসাম ডাউনটাউন বিশ্ববিদ্যালয়, সিধু-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও দ্য ইনফিনিটি মেরিটাইম রিসার্চ অ্যান্ড রোবোটিক টেকনোলজি লিমিটেড।

এ ছাড়া সংগীত, নাট্যকলা বিভাগের প্রতিনিধিদল দেশের বাইরে নান্দনিক পরিবেশনার মাধ্যমে প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তাদের চলচ্চিত্র প্রদর্শনী হয়েছে এবং পুরস্কৃত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাবের কার্যক্রমও উল্লেখ করার মতো। ন্যাশনাল ক্যাম্পাস জার্নালিজম ফেস্ট, আন্তবিশ্ববিদ্যালয় বিজনেস কেইস কম্পিটিশন, আন্তবিশ্ববিদ্যালয় শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভাল, ন্যাশনাল সফট স্কিল ফেস্ট, জব ফেয়ার, ক্যারিয়ার ফেস্ট, আন্তবিশ্ববিদ্যালয় আইডিয়া জেনারেশন কনটেস্টের মতো জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন আয়োজন করে থাকে সংগঠনগুলো। ক্যারিয়ার ও আত্মোন্নয়নের জন্য রয়েছে ক্যারিয়ার ক্লাব, স্কিল ডেভেলপমেন্ট ক্লাব, রিসার্চ সোসাইটি, ডিবেটিং সোসাইটি, নৃ-তার্কিক সংঘ, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি ক্লাব, বিজনেস ক্লাব প্রমুখ। একইভাবে রয়েছে গ্রিন ক্যাম্পাস, রংধনু, সেভ দ্য টুমরো, নির্ভয় ফাউন্ডেশন, অরণ্য, ইনলেপ্ট, রোটারেক্ট ক্লাবের মতো স্বেচ্ছাসেবী ও পরিবেশবাদী সংগঠন। নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করে উইম্যান পিস ক্যাফে, উইমেন লিডার্সের মতো উদ্যোগ। আরও রয়েছে বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠন।

সাংস্কৃতিক মননে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবছর উদযাপিত হয় নজরুলজয়ন্তী, রবীন্দ্রজয়ন্তী, বারামখানার উদ্যোগে লালন স্মরণোৎসবের মতো আয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উৎসবমুখর আরও একটি অনবদ্য আয়োজন হচ্ছে ‘কুয়াশা উৎসব’। সংগীত, নাট্যকলা, ফিল্ম কিংবা চারুকলার মতো বিভাগগুলো এসব আয়োজনে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।

‘তবু আমারে দেব না ভুলিতে’

জীবনের মাত্র অর্ধেকের মতো সময়কালে কাজী নজরুল ইসলামের তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তা ও বিপুলায়তন সৃষ্টি-সম্ভার বাংলা সাহিত্যে তো বটেই, বিশ্বের বিস্ময়। যে কারণে নজরুল অতুলনীয়, একক এবং সবার চেয়ে আলাদা বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। তিনি আমাদের মাঝে নেই, তবে তাঁর স্মৃতিকে চির জাগরুক রাখতে বিভিন্ন স্থাপনার নামকরণ করা হয়েছে কবির সাহিত্যকর্ম ও কবিপরিবারের সদস্যদের নামানুসারে। নজরুলের আদর্শ, চেতনা, ভাবনা, সাহিত্য, সংগীত ও নাটক ছড়িয়ে দিতে প্রতিটি বিভাগে ১০০ নম্বরের ‘নজরুল অধ্যয়ন’ কোর্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নজরুলের সাহিত্যকর্মের ওপরে গবেষণার জন্য রয়েছে ‘ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজ’ নামে একটি ইনস্টিটিউট। জাতীয় কবির বিভিন্ন গান, কবিতা, উপন্যাস, নাটক সর্বোপরি তাঁর জীবনী এবং জীবনকর্মের ওপর গবেষণা চলমান রাখার জন্য বিভিন্ন শাখায় পিএইচডি এবং এমফিল প্রোগ্রাম কোর্স চালু রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রচলিত বৃত্তিগুলোর নামকরণ হয়েছে কবির পরিজনদের নামে ‘প্রমিলা বৃত্তি’, ‘বুলবুল বৃত্তি’, ‘কাজী অনিরুদ্ধ বৃত্তি’, ‘উমা কাজী বৃত্তি’।

নজরুলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’ ও দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘দোলনচাঁপা’, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দুটি হলের নাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের নামকরণ করা হয়েছে গল্পগ্রন্থ ‘ব্যথার দান' এর নামানুসারে। নজরুলের ছোটবেলার ডাকনাম অনুযায়ী নামকরণ করা হয় উপাচার্যের বাসভবনের, ‘দুখু মিয়ার বাংলো’। বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে মোট তিনটি মঞ্চ। সবচেয়ে পুরোনো মঞ্চটির নাম নজরুলের জন্মস্থান চুরুলিয়ার নামে, ‘চুরুলিয়া মঞ্চ’। বাকি দুটো কবিতার নামে, ‘গাহি সাম্যের গান মঞ্চ’, ‘জয়ধ্বনি মঞ্চ’। প্রায় ছয় বছর আগে উদ্বোধন করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধের, বিদ্রোহী কবিতার অমর এই চারটি শব্দে, ‘চির উন্নত মম শির’। বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে দুটি ক্যাফেটেরিয়া; যা ‘চক্রবাক’ ও ‘চন্দ্রবিন্দু’র নামে দুটো গ্রন্থের নামে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র গেস্ট হাউসের নামকরণ করা হয়েছে নজরুলের লেখা একটি একাঙ্ক নাটক ‘সেতু-বন্ধ’-এর নামানুসারে। পরিবহনের জন্য রয়েছে নজরুল সাহিত্যকর্মের নামে নামাঙ্কিত সাম্যবাদী, ধূমকেতু, প্রভাতী, নতুন পথিক রণভেরী, প্রলয় শিখা, দূরের বন্ধু, আগমনী, ঝিলিমিলি, ঝিঙেফুল, বাঁধনহারা, অগ্রপথিক, বিদ্রোহী, কাণ্ডারি ও দুরন্ত পথিক নামের বাসগুলো। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের ঠিক পাশেই রয়েছে সুউচ্চ নজরুল ভাস্কর্য। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে একাধিক ম্যুরাল। লাইব্রেরিতে রয়েছে নজরুল কর্নার।

এক নবীনবরণে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল নবীন শিক্ষার্থীদের বলেছিলেন, ‘কী চমৎকার একটা বিশ্ববিদ্যালয়। এটা সেই জায়গা, যেখানে বিদ্রোহী কবি হেঁটে গিয়েছেন। আমি মঞ্চ থেকে দেখে ভাবছিলাম, কবি নিজেই হয়তো এই পথে দিয়ে হেঁটে গেছেন। আমি এখন সে পথ দিয়ে হাঁটছি। ভাবতে পার এটা কত বড় সৌভাগ্য।’

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিতে অম্লান

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু নজরুলকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থাপনার নামকরণে কবিপরিবার ও তার সৃষ্টিকর্মের নামের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্মানার্থে বিভিন্ন স্থাপনার নামকরণ করা হয়। ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি প্রায় আড়াই হাজার আবাসন সক্ষমতাসম্পন্ন দুটি নতুন হল উদ্বোধন করা হয়। হল দুটির নামকরণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সহধর্মিণীর নামে; জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও বঙ্গমাতা শেখ বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব হল। কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের নামকরণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের নামে। রয়েছে বঙ্গবন্ধুর সুউচ্চ ভাস্কর্য, যা নির্মাণ করেছেন ভাস্কর শ্যামল চৌধুরী। প্রশাসনিক ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও বঙ্গবন্ধু হলে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল। বঙ্গমাতা হলে রয়েছে বঙ্গমাতার ম্যুরাল। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, বঙ্গবন্ধু হল, লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনাবিদ্যা বিভাগ, থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ এবং ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগসহ বিভিন্ন স্থানে রয়েছে বঙ্গবন্ধু কর্নার। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি প্রস্তাবিত গেটের নাম জয় বাংলা গেট ও জয় বঙ্গবন্ধু গেট।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের শিশুদের চিত্তবিনোদনের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে শেখ রাসেল শিশুপার্ক। বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা হলের পাশে কবি নজরুল স্কুল প্রাঙ্গণের সামনের মাঠে এই পার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে। পার্কে শেখ রাসেলের আবক্ষ মূর্তি বসানো হবে। থাকবে শিশুদের জন্য নানারকম রাইড এবং অনুষ্ঠানের জন্য একটা অনুষ্ঠানস্থল থাকবে। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্যকে ঘিরে নির্মাণ করা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্কয়ার। সৌমিত্র শেখর জানান, ভাস্কর্য ও বঙ্গবন্ধু স্কয়ারকে দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলার জন্য আমরা প্রশাসনিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এই স্কয়ার আমাদের তরুণ সমাজকে বিশেষভাবে আলোকিত করবে। স্কয়ারে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হবে, যা ভাস্কর্যকে আরও বেশি গ্লোরিফাই করবে। আর ভাস্কর্যের ঠিক পেছনেই থাকবে প্রাকৃতিক জলাধার। মূলত বঙ্গবন্ধু স্কয়ার হবে একটি প্রশান্তির বাতায়ন। বঙ্গবন্ধুর জীবন-ইতিহাস নিয়ে ছোট ছোট কিছু স্মারক রাখা হবে। কোথাও কোথাও বঙ্গবন্ধুর বই রাখা হবে, থাকবে বই পড়ার ব্যবস্থাও।

ক্যাম্পাস হবে নন্দনকানন

আমাদের ক্যাম্পাসটিকে একটি নন্দনকানন হিসেবে গড়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সুপরিকল্পিতভাবে রক্তন, বুদ্ধ নারিকেল, সুলতানচাঁপা, উদাল, সুপারি, অশোক, নাগলিঙ্গম, কুরচি, লোহা, গর্জন, শিমুল, পলাশ, আমলকী, বহেরা, হরতকী, নাগেশ্বর, পুত্রঞ্জীব, ঢাকিজাম, লাল সোনাইল, টিকোমা, সিভিটসহ নানা প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়েছে। উপাচার্য বলেন, ‘এখন আমাদের লড়াই হচ্ছে গাছকে রক্ষা করা। আমরা প্রতিনিয়ত গাছের ওখানে যাচ্ছি, কোথাও জলাবদ্ধতা তৈরি হলে তার সমাধান করছি, কোথাও জলের স্বল্পতা হলে জল দিচ্ছি। অর্থাৎ একটি গাছকে বড় করার জন্য যে পরিচর্যা দরকার, ইট দিয়ে বেষ্টনী বানিয়েছি। ইতোমধ্যে সর্বসম্মতভাবে জয় বাংলা ভাস্কর্য সরানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জয় বাংলার মোড় হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার পয়েন্ট। ইতোমধ্যে সীমানাপ্রাচীর দৃশ্যমান। এই প্রাচীরের চারপাশ দিয়ে রাস্তা হবে। এখানে জো বাইক সিস্টেম চালু করা হবে। এই সিস্টেমে শিক্ষার্থীরা সাইকেলে নিমিষেই ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে যাতায়াত করতে পারবে। আমাদের ইতোমধ্যেই এ ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসকে একটা নতুন বিশ্বরূপে গড়ে তুলতে চাই। যেটি হবে নজরুল বিশ্ব। এখানে পা রাখলেই মানুষ আরেকটা জগতে ঢুকবে। একজনের সঙ্গে আরেকজনের সম্পর্ক হবে- তাঁরা হবেন নজরুল বিশ্বের সদস্য। একটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্য। এখানে ২৪ ঘণ্টা কাজের মতো পরিবেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই। সেই পরিবেশ যদি গড়ে তুলতে পারি, তাহলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম আরও বাড়বে বলে বিশ্বাস করি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো তিনটি ভবন কলা, বিজ্ঞান আর প্রশাসনিক। এর মাঝখানে মজা অবস্থায় থাকা পুকুর সংস্কার করে কাজ চলছে দৃষ্টিনন্দন আর আকর্ষণীয় সরোবর করার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পার্শ্ববর্তী জমিন থেকে পুকুরের জলে উঠে আসবে একটি হাত, অঞ্জলি দেয়ার ভঙ্গিতে। যার নামকরণ করা হয়েছে, কাজী নজরুল ইসলামের গান থেকে ‘অঞ্জলি লহ মোর’। সরোবরটির চারিদিকে চমৎকার করে বাঁধাই করা হবে। তিনটে ভবনকে বাঁধবে একই সুতোয়। বিকেল পাঁচটা থেকে যন্ত্রে চলবে গান, মৃদুস্বরে, রাত ১০টা অবধি। মূলত নজরুল সংগীতই হবে, ক্লাসিকও কিছু হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার গমনাগমনের জন্য থাকবে এই সরোবরকেন্দ্র উন্মুক্ত।

স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ে তোলার প্রত্যয়

উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষাথে ‘স্মার্ট ক্যাম্পাস’ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর যে কথাটি বলেছিলাম, স্মার্ট ক্যাম্পাস চাই। পরবর্তী সময়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা যে স্মার্ট বাংলাদেশের ধারণা দিয়েছেন, আমাদের চিন্তার সঙ্গে মিলে যায় সেটা। তাই স্মার্ট বাংলাদেশের অভিমুখে স্মার্ট ক্যাম্পাস। আর স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ার ক্ষেত্রে আমি শিক্ষা, গবেষণা, উন্নয়ন- এই তিনটি মোটোকে ধারণ করে কাজ করে যাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই স্মার্ট ক্যাম্পাসের অবকাঠামো ও একাডেমিক- উভয় দিক থেকে আমরা এমন অবকাঠামো গড়ে তুলব, যা হবে দৃষ্টিনন্দন। এখানে ভবনগুলো থাকবে সুসজ্জিত। ভবনগুলোর পাশাপাশি বৃক্ষ, লতাগুল্ম, পাখিসমৃদ্ধ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য থাকবে। পাশাপাশি থাকবে রাস্তার নিরাপত্তা। আমি স্বপ্ন দেখি, শিক্ষার্থীরা নিজস্ব সাইকেলে চলাফেরা করবে। এখানে বাইরের অনাকাঙ্ক্ষিত বা অপ্রত্যাশিত যানবাহন ঢুকবে না। ক্যাম্পাস সম্পূর্ণভাবে সিসিটিভির আওতায় থাকবে। এগুলো হচ্ছে অবকাঠামোগত দিক। আমরা একই সঙ্গে অ্যাকাডেমিক দিক থেকে এখানে এমন শিক্ষার্থী তৈরি করব, যারা লেখাপড়া শেষ করে বাইরে গিয়ে আলো ছড়াবে। এগুলো নিয়ে আমরা ভেতরে-ভেতরে অনেক পরিকল্পনা করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাইছি আমাদের শিক্ষার্থীরা এই প্রতিযোগিতার বাজারে নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দেবে। এ বিষয়ের প্রতি লক্ষ রেখে ইতোমধ্যে আমাদের যে কারিকুলাম, তা আলোচনা-পর্যালোচনা করেছি ঢেলে সাজানোর জন্য। আমাদের স্মার্ট ক্যাম্পাস হবে স্মার্ট এডুকেশন। একটা দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।’

ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক নথি ব্যবস্থাপনা ও রেকর্ড সংরক্ষণে ডিজিটাল নথি (ডি-নথি) কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়। নথির এ প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাইলের কাজ ডিজিটাল পদ্ধতি অনুসরণ করে সম্পাদিত হবে। উপাচার্যসহ সব পর্যায়ের অনুমোদনকারীরা যেকোনো জায়গা থেকে যেকোনো সময় ফাইল অনুমোদন করতে পারবেন। এতে তাদের সময় সাশ্রয় হবে, কাগজ সাশ্রয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জায়গাটিও নিশ্চিত হবে। এ ছাড়া প্রশাসন ও অ্যাকাডেমিক ক্ষেত্রে গতিশীলতা বাড়বে।


নির্বাচিত

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম নারী উপাচার্য অধ্যাপক তাহমিনা আখতারের যোগদান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম নারী উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক তাহমিনা আখতার। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছালে উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. সুমন কান্তি বড়ূয়া তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এর আগে সোমবার (৮ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে তাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং ওই দিন বিকেলেই তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে নিজের যোগদানপত্র জমা দেন।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ আইন, ২০১৬ অনুযায়ী পাঁচটি নির্দিষ্ট শর্তে তাকে আগামী ৪ বছরের জন্য এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শর্তানুযায়ী তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। তবে রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজনবোধে যেকোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করার ক্ষমতা রাখেন।

দায়িত্ব নেওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক তাহমিনা আখতার রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঙালির সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিক চেতনার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটিকে শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক চর্চার এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সাথে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং অংশীদারিমূলক প্রশাসনের মাধ্যমে একটি আধুনিক, গবেষণাবান্ধব ও শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার আশাবাদ প্রকাশ করেন।

অধ্যাপক তাহমিনা আখতারের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যাকগ্রাউন্ড রয়েছে। তিনি বিএনপিপন্থী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন 'ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ' (ইউট্যাব)-এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। শিক্ষাজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করা এই অধ্যাপক ২০১৪ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন বছরেরও বেশি সময় বাধ্যতামূলক ছুটির সম্মুখীন হয়েছিলেন।


নির্বাচিত

এনসিটিবি ও পাঁচ শিক্ষা বোর্ডে নতুন চেয়ারম্যান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এবং ঢাকা, যশোর, রাজশাহী, কুমিল্লা ও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সোমবার (৮ জুন) তাদের নিয়োগ দিয়ে পৃথক পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এনসিটিবির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন চট্টগ্রাম কমার্স কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।

এদিকে, রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বোর্ডটির সচিব শামীম আরা চৌধুরী। কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হয়েছেন দেবিদ্বার সরকারি এসএস কলেজের অধ্যক্ষ মো. আহসান পারভেজ।

অন্যদিকে, যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে খুলনার হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফারুখে আযম মু. আব্দুস ছালামকে।

এছাড়া, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান।


নির্বাচিত

ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ পাবে প্রাথমিকের ১ কোটি শিক্ষার্থী: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

আপডেটেড ৮ জুন, ২০২৬ ২২:০৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের কল্যাণমূলক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক কোটি সাত লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা, মোজা এবং স্কুলব্যাগ দেওয়া হবে। এ কর্মসূচির মূল বাস্তবায়নের আগে আগামী জুলাই ও আগস্টে পরীক্ষামূলকভাবে এসব সামগ্রী বিতরণ শুরু হবে।

সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জানান, পাইলট প্রকল্পের আওতায় সারাদেশের সাড়ে তিন লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে প্রকল্পটি কয়েকটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে অন্তত এক লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে ইউনিফর্ম, জুতা, মোজা ও স্কুলব্যাগ বিতরণের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তী ধাপে আরও শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পাইলট প্রকল্পের সব কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

তিনি বলেন, পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা ও ফলাফল মূল্যায়নের ভিত্তিতে আগামী জানুয়ারি থেকে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হতে পারে। কোনো উপজেলা যেন এই উদ্যোগ থেকে বাদ না পড়ে, সে বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রতিটি উপজেলার একাধিক বিদ্যালয়কে পাইলট প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ফলে দেশের ২৫ হাজারেরও বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এই প্রকল্পের আওতায় আসবে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাঁচ লাখ পাটের স্কুলব্যাগ উপহার হিসেবে দিচ্ছে মন্ত্রণালয়টি। পরিবেশবান্ধব এ ব্যাগগুলো আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ব্যাগগুলো ওয়াটারপ্রুফ করা হবে। ব্যাগ তৈরির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ সম্পন্ন করেই এগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে এটি যেহেতু একটি পাইলট প্রকল্প, তাই বাস্তব প্রয়োগের সময় কোনো ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতা দেখা দিলে তা চিহ্নিত করে পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের সময় সংশোধন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনার জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে। সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে সময়মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

প্রতিষ্ঠার পর প্রথম নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম ঐতিহ্যবাহী নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে আনুষ্ঠানিক ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ সোমবার থেকে সরাসরি দুইটি বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে।

রোববার গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় পছন্দক্রম ও মেধাক্রম অনুযায়ী A, B ও C ইউনিটে বিভাগ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাথমিক ভর্তি নিশ্চয়ন সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. আলাউদ্দিন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ গত শনিবার জারি করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক ভর্তি কার্যক্রম গতকাল রোববার দুপুর ১২টা থেকে ১০ জুন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত GST-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়া এসএসসি/সমমান এবং এইচএসসি/সমমান পরীক্ষার মূল নম্বরপত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ৫ হাজার টাকা প্রাথমিক ভর্তি ফি জমাদানের রশিদসহ একটি A4 সাইজের খামে আবেদনকারীর নাম ও GST রোল নম্বর উল্লেখ করে স্বশরীরে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে জমা দিতে হবে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, A, B ও C ইউনিটের শিক্ষার্থীদের আগামী ৮ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসের (৩য় তলা) ৩১০ নম্বর কক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ইউনিট সমন্বয়কারীর স্বাক্ষর ও সিলযুক্ত একনলেজমেন্ট স্লিপ বা জমাদানের রশিদ সংগ্রহ করতে হবে। পরবর্তীতে মূল নম্বরপত্র ফেরত নেওয়ার সময় এই রশিদটি প্রদর্শন করতে হবে।

নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. আলাউদ্দিন বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য বিভাগপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। ভর্তি কার্যক্রম শেষ হলে খুব দ্রুতই আমরা প্রথম বর্ষের শ্রেণি কার্যক্রম বা ক্লাস শুরু করে দেব।

নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলী গভীর আবেগ প্রকাশ করে বলেন, এই আনুষ্ঠানিক যাত্রা নিঃসন্দেহে জেলার ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল মাইলফলক। ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় একসময় ছিল কেবল একটি স্বপ্নের নাম, সরকারি গেজেটের কয়েকটি পৃষ্ঠা এবং ভবিষ্যতের এক সম্ভাবনার প্রতীক মাত্র।

তিনি অতীতের প্রতিকূলতার কথা স্মরণ করে বলেন, নানা প্রতিকূলতা, অনিশ্চয়তা এবং বিতর্কের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে বাস্তব রূপ দেওয়ার পথ কখনোই সহজ ছিল না। এমনও সময় এসেছে, যখন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়েছিল। কেউ কেউ সংকীর্ণ মন মানসিকতা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি বন্ধ করে দেওয়ার অপচেষ্টাও চালিয়েছিলেন। কিন্তু এ অঞ্চলের মানুষের আকাঙ্ক্ষা, শিক্ষানুরাগীদের দৃঢ়তা এবং সংশ্লিষ্টদের অবিচল প্রচেষ্টার কাছে সেই সব প্রতিবন্ধকতা শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয়েছে।

উপাচার্য আরও যোগ করেন, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ও ভবিষ্যতে শুধু সার্টিফিকেট বা ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হয়ে থাকবে না; বরং এটি হবে জ্ঞান সৃষ্টি, বৈশ্বিক উদ্ভাবন, উচ্চতর গবেষণা এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের মূল প্রাণকেন্দ্র। এখান থেকে গড়ে উঠবে দক্ষ প্রশাসক, বিচক্ষণ আইনজ্ঞ, সফল উদ্যোক্তা, গবেষক ও মানবকল্যাণে নিবেদিত দেশপ্রেমিক নাগরিক।


নির্বাচিত

শিক্ষা বাজেটে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ চান ৬২ শতাংশ শিক্ষার্থী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে জিডিপির অন্তত ৫ শতাংশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। শিক্ষা অধিকার সংসদের এক জরিপে অংশ নেওয়া ৬২ শতাংশ একইসঙ্গে তারা শিক্ষা বাজেট বাস্তবায়নে প্রাথমিক শিক্ষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, গবেষণা এবং শিক্ষকদের মানোন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার (৫ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা অধিকার সংসদ এ জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেছে।

এতে জরিপের ফল ও সুপারিশ তুলে ধরেন সংগঠনটির সদস্য সচিব এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা অধিকার সংসদের পক্ষ থেকে আবু সাদাত মো. মোস্তানসির বিল্লাহ, মিসবাহুর রহমান আসিম, মাহফুজুর রহমান মানিক ও মাজহারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনটির তথ্যানুযায়ী, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩৫০ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে জরিপটি পরিচালিত হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৬১ দশমিক ১ শতাংশ ছিলেন স্নাতক এবং ৩৬ শতাংশ স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি), আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন।

জরিপে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা শিক্ষার বিভিন্ন স্তরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তাদের মতে, শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী না হলে উচ্চশিক্ষাসহ অন্যান্য স্তরে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন তারা।

ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিক্ষা এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা। শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্ব পেয়েছে মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষকদের জন্য সম্মানজনক বেতন নিশ্চিত করার বিষয়টি। পাশাপাশি শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলের শিক্ষার উন্নয়নে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগকে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন শিক্ষার্থীরা।


নির্বাচিত

মেডিকেল, প্রকৌশল ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া ১৫৫ শিক্ষার্থীকে সম্মাননা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারী সরকারি কলেজের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া ১৫৫ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে কলেজের হলরুমে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম।

নীলফামারী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ.কে.এম. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা চৌধুরী, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক বাবুল হোসাইন, দর্শন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. শামসুল আলম, ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আলতাফুর রহমান এবং রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. জাহাঙ্গীর আলম।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নীলফামারী সরকারি কলেজ দীর্ঘদিন ধরে জেলার শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। বর্তমান শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য শুধু তাদের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং কলেজ, পরিবার ও সমগ্র জেলার জন্য গৌরবের বিষয়। তারা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথি অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “আজকের এই মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গঠনে নেতৃত্ব দেবে। তাদের সাফল্য নীলফামারীর শিক্ষার মানকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। সততা, মেধা ও মানবিক গুণাবলির সমন্বয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”

অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও কলেজের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে ভরপুর।


নির্বাচিত

তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীদের পাশে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়: বাউবি উপাচার্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান শুক্রবার (৫ জুন) সকালে রংপুরের মুলাটোল মদিনাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত এমএ/এমএসএস পরীক্ষা এবং মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষা পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে তিনি পরীক্ষার সার্বিক পরিবেশ, শৃঙ্খলা, প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র ব্যবস্থাপনা এবং পরীক্ষা পরিচালনার বিভিন্ন দিক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।

বেগম রোকেয়া স্মৃতি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা পরিদর্শনের সময় উপাচার্য তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এ সময় তিনি বলেন, “শিক্ষা সবার মৌলিক অধিকার। তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো ধরনের বৈষম্যের শিকার না হয়ে শিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে, সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক সমাজ গঠনে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীরা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের শিক্ষা থেকে পিছিয়ে না রেখে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আগ্রহী তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীদের জন্য বাউবির শিক্ষা কার্যক্রম ও সহযোগিতার দ্বার সবসময় উন্মুক্ত থাকবে।”

এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাউবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. হাবিবুল্যাহ মাহামুদ, রংপুর আঞ্চলিক কেন্দ্রের আঞ্চলিক পরিচালক আবু হাফিজ মো. ফজলে নিজামী এবং যুগ্ম-পরিচালক মো. আজিজার রহমান।

পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনকালে উপাচার্য সৈয়দপুর উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও টিউটরদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি পরীক্ষার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও মানসম্মত পরিচালনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও একই নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

পরবর্তীতে উপাচার্য সৈয়দপুর উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, শিক্ষার্থীসেবা উন্নয়ন, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিতকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মতবিনিময় সভায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কেন্দ্রের বিভিন্ন কার্যক্রম, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা সম্পর্কে উপাচার্যকে অবহিত করেন। উপাচার্য তাদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং কার্যক্রম আরও গতিশীল ও শিক্ষার্থীবান্ধব করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর কাছে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষার গুণগত মান বজায় রেখে আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

পরিদর্শন ও মতবিনিময় কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন এবং উপাচার্যের উপস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

পরিদর্শন কার্যক্রম শেষে উপাচার্য নারী জাগরণের অগ্রদূত মহীয়সী বেগম রোকেয়ার জন্মস্থান পরিদর্শন করেন। পরে তিনি জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ জুলাই যোদ্ধা আবু সাঈদের সমাধিস্থলে যান এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় উপাচার্যের সহধর্মিণী ড. আলো আরজুমান বানুসহ বাউবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

একীভূত নীতিমালার আওতায় আসবে দেশের সব ইংলিশ-মিডিয়াম স্কুল: ববি হাজ্জাজ

আপডেটেড ৩ জুন, ২০২৬ ২০:৪৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, দেশে মানসম্মত শিক্ষা, জবাবদিহি, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যে সব ইংলিশ-মিডিয়াম স্কুলকে সরকার একটি একীভূত নীতিমালার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বুধবার (৩ জুন) ঢাকার আগা খান একাডেমি পরিদর্শনকালে এ কথা বলেছেন তিনি।

ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকার এমন একটি সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে সব শিক্ষার্থী মানসম্মত শিক্ষা লাভের সুযোগ পাবে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশের সব ইংলিশ-মিডিয়াম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একটি অভিন্ন নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, আমরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলই করবে না, বরং সমালোচনামূলক চিন্তা, উদ্ভাবনী সক্ষমতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলিও অর্জন করবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য তরুণদের বিশ্বমানের দক্ষতা, মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতায় সমৃদ্ধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলা মাধ্যম, ইংলিশ ভার্সন কিংবা ইংলিশ-মিডিয়াম—যে ধারাতেই শিক্ষার্থীরা পড়ুক না কেন, সবাই যাতে জাতীয় মূল্যবোধ, নাগরিক দায়িত্ববোধ এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক দক্ষতা অর্জনের সমান সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

পরিদর্শনের সময় তিনি একাডেমির আয়োজিত শিক্ষার্থী প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের গবেষণা প্রকল্প, উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং সৃজনশীল উপস্থাপনা পর্যালোচনা করেন তিনি।

এ সময় প্রতিষ্ঠানটির আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতি, শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা এবং নেতৃত্ব বিকাশ কর্মসূচির প্রশংসা করেন ববি হাজ্জাজ। তিনি দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও গবেষণা, উদ্ভাবন ও সৃজনশীল শিক্ষাচর্চা আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান। পরিদর্শনকালে একাডেমির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

গুচ্ছ ভর্তির ‘সাবজেক্ট চয়েস’ ফলাফলের অপেক্ষায় পরীক্ষার্থীরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাকিব আসলাম, ইবি প্রতিনিধি

গুচ্ছভুক্ত (জিএসটি) ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ‘সাবজেক্ট চয়েস’ ও ‘বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দক্রম’ আবেদনের কার্যক্রম শেষ হলেও এখনও ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। এতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা ও অপেক্ষা বাড়ছে।

গত ৬ থেকে ১১ মে পর্যন্ত ‘সাবজেক্ট চয়েস’ আবেদন কার্যক্রম চললেও প্রায় তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ফলাফল প্রকাশ হয়নি। এর আগে গত ৩ মে অনুষ্ঠিত সমন্বিত গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভায় আগামী ৭ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ‘চূড়ান্ত প্রাথমিক ভর্তি’ কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা জানান, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ অবস্থায় গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ফল প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। দ্রুত ফল প্রকাশ হলে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত এবং ভর্তি সংক্রান্ত অন্যান্য প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হবে বলে মনে করেন তারা।

এ বিষয়ে গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটির দায়িত্বে থাকা ইউএফটিবির রুবেল শেখ জানান, কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটিই আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করবে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সমন্বয় কমিটির নির্দেশনা পেলেই ফল প্রকাশ করা হবে।

গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য সচিবের (রুটিন দায়িত্ব) দায়িত্ব পালনকারী এবং টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. নাছির উদ্দিন খান বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমাদের বৈঠক রয়েছে। নির্দিষ্ট তারিখ বলা যাচ্ছে না, তবে আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা “সাবজেক্ট চয়েস” ফলাফল জানতে পারবে বলে আশা করছি।’

উল্লেখ্য, গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষা সমন্বয় কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।


নির্বাচিত

১১৭ শিক্ষকের এমপিও বাতিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাল সনদের প্রমাণ পাওয়ায় ১১৭ শিক্ষকের এমপিও (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) সুবিধা বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) যাচাইয়ে এ জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। রোববার (২৪ মে) দুটি পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৬-এর ১৮ অনুচ্ছেদ মোতাবেক তাদের এমপিও বাতিল করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

একই দিন জাল সনদের প্রমাণ পাওয়ায় ২৪ জন কলেজ পর্যায়ের শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

অধিদপ্তরের বেসরকারি কলেজ শাখা-৩-এর সহকারী পরিচালক মো. মাঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা শাখা হতে ৮৫ জন জাল/ভুয়া সনদধারী শিক্ষকের তালিকাসহ একটি পত্র প্রেরণ করা হয়েছে (কপি সংযুক্ত)। এতে এনটিআরসিএ কর্তৃক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোট ৮৫ (কলেজ পর্যায় ২৪ + স্কুল পর্যায় ৬১) জন শিক্ষকের প্রত্যয়নপত্র যাচাই শেষে জাল মর্মে প্রমাণিত হয়েছে।

তালিকায় উল্লিখিত জাল ও ভুয়া প্রত্যয়নপত্রধারীদের এমপিও (অনুদান ও বেতন ভাতা বাবদ সহায়তা) বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা (গৃহীত অর্থ আদায় ও মামলা দায়ের) গ্রহণপূর্বক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগকে অবহিত করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ এর ১৮.১(ঙ) অনুচ্ছেদ মোতাবেক কেন তাদের এমপিও বাতিল বা স্থগিত করা হবে না এবং গভর্নিং বডি কর্তৃক তার নিয়োগ কেন বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নোটিশ পাওয়ার ১০ কর্মদিবসের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে এই জবাব দাখিল করার জন্য তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

৪৭১ শিক্ষকের বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে ব্যবস্থা, ৬৩ জনকে নোটিশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

সনদ জাল বা ভুয়া বলে চিহ্নিত হওয়া ৪৭১ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এর মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ের ৪০২ জন, কলেজ পর্যায়ের ৬৪ জন ও কারিগরি পর্যায়ের ৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। এসব শিক্ষকের মধ্যে প্রথম ধাপে ৬৩ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

নোটিশে কেন তাদের এমপিও (বেতন-ভাতা বাবদ মাসিক অনুদান) বাতিল বা স্থগিত ও নিয়োগ বাতিলসহ অন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার জবাব ১০ কর্মদিবসের মধ্যে মাউশিতে জমা দিতে বলা হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) মাউশি নোটিশ দিয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) এসব শিক্ষকের সনদ জাল বা ভুয়া বলে চিহ্নিত করেছিল। এর ভিত্তিতে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তালিকাসহ সুপারিশ পাঠায় ডিআইএ। পরে মন্ত্রণালয় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে চিঠি দেয়। এখন মাউশি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও আর্থিক স্বচ্ছতা আনতে দেশের মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিরীক্ষার পাশাপাশি শিক্ষা কার্যক্রমের বিষয়ে পরিদর্শন করে ডিআইএ। তার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করে। তবে এ সংস্থার কাজকর্ম নিয়েও নানা রকমের অভিযোগ ওঠে।


নির্বাচিত

ইউজিসির সদস্য হলেন ঢাবি অধ্যাপক আব্দুল্লাহ-আল-মামুন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুনকে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৩ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আইন, ১৯৭৩ অনুযায়ী তাকে আগামী চার বছরের জন্য ইউজিসির সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকেই এ নিয়োগ কার্যকর হবে। ইতোমধ্যে তিনি কমিশনের চেয়ারম্যানের নিকট যোগদানপত্র জমা দিয়েছেন।


নির্বাচিত

কুয়েটে ১ম বর্ষের ওরিয়েন্টেশন ২৫ জুন, ক্লাস শুরু ২৮ জুন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা প্রতিনিধি

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক পর্যায়ের ১ম বর্ষ (বি.এস-সি. ইঞ্জিনিয়ারিং, বিইউআরপি ও বিআর্ক) কোর্সের ভর্তিকৃত নবাগত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন (পরিচিতি সভা) আগামী ২৫ জুন সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টারের অভ্যন্তরে মুক্তমঞ্চে হবে।

ওরিয়েন্টেশন শেষে একই দিন সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বিভাগীয় পরিচিতি সভা, কোর্স রেজিস্ট্রেশন এবং বিভিন্ন একাডেমিক বিষয়াবলি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হবে।

এরপর ২৮ জুন থেকে সকল বিভাগে নতুন শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস শুরু হবে। ওরিয়েন্টেশন-২০২৬ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের ডীন, ইনস্টিটিউট পরিচালক, রেজিস্ট্রার, বিভাগীয় প্রধান, পরিচালক, হল প্রভোস্ট একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য ও উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

এ ছাড়া ১ম বর্ষ ১ম টার্মে ভর্তি হওয়া সকল শিক্ষার্থীদের হল কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত তারিখে হলে ভর্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং পরিচিতি সভায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে ২৫ জুন সকাল ৯টার মধ্যে নির্দিষ্ট আসন গ্রহণ করতে হবে।


নির্বাচিত

banner close