সোমবার, ৪ মে ২০২৬
২০ বৈশাখ ১৪৩৩

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়: শিক্ষা, গবেষণা, উন্নয়ন

বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবন
মো. আশিকুর রহমান
প্রকাশিত
মো. আশিকুর রহমান
প্রকাশিত : ২৬ আগস্ট, ২০২৩ ০৯:৩৯

‘আমি চিরতরে দূরে চলে যাব, তবু আমারে দেব না ভুলিতে’- গানে এ কথা বলে গিয়েছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। প্রেম ও দ্রোহের কবি হয়ে তিনি তাঁর গানের চরণের মতোই বাংলা ভাষাভাষীর হৃদয়ে বেঁচে আছেন, থাকবেন। বিদ্রোহী, প্রতিবাদী, সুন্দরের উপাসক, জাতীয় জাগরণের প্রতিভূ এবং বহুমাত্রিক ঔজ্জ্বল্যে ঋদ্ধ নজরুল ভারত থেকে প্রথমবার বাংলাদেশের ত্রিশালে আগমন করেন। খুব শৈশবে তিনি এই ত্রিশালে এসেছিলেন। তার বর্ণাঢ্য কৈশোরকে আগলে ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রতিষ্ঠা করা হয় তার নামে বিশ্ববিদ্যালয়। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের ২১তম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় নামেই সমধিক পরিচিত।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়ন- এই তিনটি শব্দকে মোটো হিসেবে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিযাত্রা আমরা শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়ন- এই তিনটি উদ্দেশ্য নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছি। শিক্ষা বলতে বর্তমান সময়ের যুগোপযোগী শিক্ষা, দ্বিতীয় হচ্ছে গবেষণা। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকরা গবেষণা করবেন, প্রত্যেকের নিজস্ব ক্ষেত্রে নতুন নতুন আবিষ্কার করবেন এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণামনস্ক করে গড়ে তুলবেন- যাতে তারা ভবিষ্যতে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত থাকেন।’

কাজী নজরুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘ভেঙে যে গড়তে জানে, সে চিরসুন্দর।’ এখানে সব ভেঙে গড়তে হচ্ছে। যারা গবেষণার ক্ষেত্রে বিমুখ ছিলেন, তাদের গবেষণায় আনতে হচ্ছে। তবে আশাব্যঞ্জক বিষয় হচ্ছে, আমরা গবেষণায় শিক্ষকদের যথেষ্ট সমর্থন পাচ্ছি। প্রথমবারের মতো আমরা আয়োজন করেছি গবেষণা মেলা। ইতোমধ্যে আমরা দুটো আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের আয়োজন করেছি, যেখানে দেশ-বিদেশের বিদগ্ধ গবেষকরা অংশগ্রহণ করেছেন। নতুন জ্ঞান সৃষ্টির জন্য আমাদের এই অগ্রযাত্রা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য প্রতিবছর এ ধরনের আন্তর্জাতিক কনফারেন্স আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হবে। আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ক্যাম্পাসকে ধারণ করতে হবে। আমরা প্রত্যেকে শুধু যার যার যে কাজ, সেই কাজটুকু ঠিকভাবে করলে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যাব, যোগ করেন উপাচার্য।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জার্নাল যেটা দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল, সেটা ছাপার দোরগোড়ায়। বিভিন্ন অনুষদ থেকে জার্নাল প্রকাশিত হচ্ছে, শিগগিরই প্রকাশিত হচ্ছে আইন অনুষদের জার্নাল। কিছুদিন আগেই প্রকাশিত হয়েছে কলা অনুষদের জার্নাল ‘মানববিদ্যা’। এ ছাড়া আমাদের বিভাগগুলো থেকে জার্নাল প্রকাশ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগ, লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগ, ফোকলোর বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগ নিজস্ব জার্নাল প্রকাশ করছে।

সৌমিত্র শেখর বলেন, ‘কুম্ভীলব বৃত্তি বা প্লেগারজিম চেকার সফটওয়্যার সংযোজন করা হচ্ছে শিগগিরই। আইকিইউসি নানাবিধ গবেষণামূলক কাজ বিশেষত ট্রেনিংয়ের আয়োজন করছে। ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজ নজরুলকে নিয়ে গবেষণার কাজ করছে। গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তর গবেষণা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তারা সবাই বহুবিধ কাজে ব্যস্ত।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার তৈরির মাধ্যমে সেশনজট দূর করতে পেরেছি। আমরা বিভাগগুলোতে এমন কিছু বিষয় যুক্ত করার কথা ভাবছি যেগুলো যুক্ত হলে পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা নিজেদের খাপ খাওয়াতে পারবে। ত্রিশাল থেকে যেন একজন শিক্ষার্থী জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে যুক্ত হতে পারে, সে ব্যবস্থা ধীরে ধীরে করা হবে। এখানকার আইটি সেকশনকে গুরুত্ব দিয়ে এখানে একটা ইনস্টিটিউটের কথা প্রশাসন ভাবছে। আশা করা যায়, ভবিষ্যতে সে ইনস্টিটিউট আমরা স্থাপন করতে পারব। আইসিটির মধ্য দিয়ে এখানকার প্রত্যেকটি ছেলেমেয়ে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত হবে।’

তিনি জানান, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিলক্ষ্য হচ্ছে সাংস্কৃতিক শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, সামাজিক বিজ্ঞান ও ব্যবসায় প্রশাসনবিষয়ক পঠন-পাঠনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ ঘটানো। দেশের আধুনিক ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে গবেষণা এবং লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের দ্বারা জাতীয় উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অবদান রাখা।

চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ

বর্তমান সময়ে ক্যাম্পাসে চলছে উন্নয়নের সুবিশাল কর্মযজ্ঞ। ক্যাম্পাসের যেদিকে তাকানো যায় সেদিকেই অবকাঠামোর নির্মাণকাজ চলমান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য একনেকে অনুমোদিত ৮৪০ কোটি ৫৬ লাখ টাকার প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে ২৪টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। নির্মাণাধীন ভবনগুলোর উল্লেখযোগ্য হলো- ২ হাজার ৯৩২ বর্গমিটার আয়তনে ২য় প্রশাসনিক ভবন, ৯ হাজার ৯৬০ বর্গমিটার আয়তনের ১০ তলা ভবন যেখানে পাঁচটি ইনস্টিটিউট, আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের শ্রেণিকক্ষ এবং আইটি স্পেস থাকবে, ৮২১ বর্গমিটার আয়তনের ৫ তলা অতিথি ভবন নির্মাণ, ৪২ হাজার ২৯৫ বর্গমিটার আয়তনের ১০ তলা একাডেমিক ভবন, ৫ হাজার ৩৩৬ বর্গমিটার আয়তনের স্কুল ও কলেজ ভবন নির্মাণ (নার্সারি হতে দ্বাদশ পর্যন্ত), ১৩ হাজার ৪৯৮ বর্গমিটার আয়তনের শিক্ষক-কর্মকর্তার জন্য ১০ তলা ইউটিলিটি ভবন নির্মাণ, ৬ হাজার ৩৪৭ বর্গমিটার আয়তনের শিক্ষক-কর্মকর্তার জন্য ১০ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণ, ১ হাজার ৫৭৩ বর্গমিটার আয়তনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য ৬ তলা আবাস ভবন নির্মাণ, ৭ হাজার ৮১১ বর্গমিটার আয়তনের ৩ তলা মাল্টিপারপাস হল-কাম টিএসসি-কাম জিমনেসিয়াম ভবন নির্মাণ, ১ হাজার ০১৯ বর্গমিটার আয়তনের চিকিৎসা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ (অফিস, হাসপাতাল ও আবাসিক সুবিধা সংবলিত), ২ হাজার ২৫২ বর্গমিটার আয়তনের ইমাম ও মুয়াজ্জিনের আবাসনসহ ৩ তলা মসজিদ নির্মাণ উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া রয়েছে ক্যাম্পাসের চারিদিকে নিরাপত্তার জন্য সবুজবেষ্টনী নির্মাণ, খেলার মাঠ উন্নয়ন- (ফুটবল, ক্রিকেট, টেনিস, বাস্কেট বল কোর্ট, শিশুপার্ক ও বৃক্ষরোপণ), জলাশয়ে রিটেইনিং স্ট্রাকচার নির্মাণসহ সৌন্দর্যবর্ধন কাজ, সমগ্র ক্যাম্পাসে অভ্যন্তরীণ আরসিসি রাস্তা নির্মাণ, ময়লা পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেইন ও কালভার্ট নির্মাণ ভূমি উন্নয়ন ইত্যাদি। নতুন অ্যাকাডেমিক বিল্ডিংয়ের নিচ তলায় নানারকম সেমিনার, ওয়ার্কশপ, ট্রেনিং আয়োজনের জন্য একটি অডিটোরিয়াম নির্মাণ করা হচ্ছে। জয়ধ্বনি মঞ্চ ছাড়াও আরও বেশ কিছু মঞ্চ করা হবে।

‘দেখব এবার জগৎটাকে’

উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রসরমান বিশ্বের সঙ্গে সংগতি রক্ষা ও সমতা অর্জন এবং জাতীয় পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা, বিশেষ করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আধুনিক জ্ঞানচর্চা ও পঠন-পাঠনের সুযোগ সৃষ্টি ও সম্প্রসারণের নিমিত্ত প্রতিষ্ঠা লাভ করে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে জাত্যাভিমানের প্রাচীর ডিঙিয়ে সাম্য-মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ব এবং মানবতার বলিষ্ঠ প্রত্যয়ের নাম কাজী নজরুল ইসলাম। একইভাবে তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও একই প্রত্যয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা ছাত্রাবস্থায় ও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অর্জনের মাধ্যমে আলোকিত করছে এই নজরুলতীর্থকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেন জ্ঞানার্জনের জন্য বিশ্বের অন্যান্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, সে জন্য নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় দেশে এবং দেশের বাইরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। এর আওতায় নিজেদের মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, তরুণ গ্র্যাজুয়েটদের ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা, গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশিক্ষণ-কর্মশালা আয়োজনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একে অন্যকে সহযোগিতা করতে পারবেন। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের ফেরদৌসী বিশ্ববিদ্যালয়, ভারতের কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়, আসাম ডাউনটাউন বিশ্ববিদ্যালয়, সিধু-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও দ্য ইনফিনিটি মেরিটাইম রিসার্চ অ্যান্ড রোবোটিক টেকনোলজি লিমিটেড।

এ ছাড়া সংগীত, নাট্যকলা বিভাগের প্রতিনিধিদল দেশের বাইরে নান্দনিক পরিবেশনার মাধ্যমে প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তাদের চলচ্চিত্র প্রদর্শনী হয়েছে এবং পুরস্কৃত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাবের কার্যক্রমও উল্লেখ করার মতো। ন্যাশনাল ক্যাম্পাস জার্নালিজম ফেস্ট, আন্তবিশ্ববিদ্যালয় বিজনেস কেইস কম্পিটিশন, আন্তবিশ্ববিদ্যালয় শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভাল, ন্যাশনাল সফট স্কিল ফেস্ট, জব ফেয়ার, ক্যারিয়ার ফেস্ট, আন্তবিশ্ববিদ্যালয় আইডিয়া জেনারেশন কনটেস্টের মতো জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন আয়োজন করে থাকে সংগঠনগুলো। ক্যারিয়ার ও আত্মোন্নয়নের জন্য রয়েছে ক্যারিয়ার ক্লাব, স্কিল ডেভেলপমেন্ট ক্লাব, রিসার্চ সোসাইটি, ডিবেটিং সোসাইটি, নৃ-তার্কিক সংঘ, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি ক্লাব, বিজনেস ক্লাব প্রমুখ। একইভাবে রয়েছে গ্রিন ক্যাম্পাস, রংধনু, সেভ দ্য টুমরো, নির্ভয় ফাউন্ডেশন, অরণ্য, ইনলেপ্ট, রোটারেক্ট ক্লাবের মতো স্বেচ্ছাসেবী ও পরিবেশবাদী সংগঠন। নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করে উইম্যান পিস ক্যাফে, উইমেন লিডার্সের মতো উদ্যোগ। আরও রয়েছে বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠন।

সাংস্কৃতিক মননে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবছর উদযাপিত হয় নজরুলজয়ন্তী, রবীন্দ্রজয়ন্তী, বারামখানার উদ্যোগে লালন স্মরণোৎসবের মতো আয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উৎসবমুখর আরও একটি অনবদ্য আয়োজন হচ্ছে ‘কুয়াশা উৎসব’। সংগীত, নাট্যকলা, ফিল্ম কিংবা চারুকলার মতো বিভাগগুলো এসব আয়োজনে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।

‘তবু আমারে দেব না ভুলিতে’

জীবনের মাত্র অর্ধেকের মতো সময়কালে কাজী নজরুল ইসলামের তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তা ও বিপুলায়তন সৃষ্টি-সম্ভার বাংলা সাহিত্যে তো বটেই, বিশ্বের বিস্ময়। যে কারণে নজরুল অতুলনীয়, একক এবং সবার চেয়ে আলাদা বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। তিনি আমাদের মাঝে নেই, তবে তাঁর স্মৃতিকে চির জাগরুক রাখতে বিভিন্ন স্থাপনার নামকরণ করা হয়েছে কবির সাহিত্যকর্ম ও কবিপরিবারের সদস্যদের নামানুসারে। নজরুলের আদর্শ, চেতনা, ভাবনা, সাহিত্য, সংগীত ও নাটক ছড়িয়ে দিতে প্রতিটি বিভাগে ১০০ নম্বরের ‘নজরুল অধ্যয়ন’ কোর্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নজরুলের সাহিত্যকর্মের ওপরে গবেষণার জন্য রয়েছে ‘ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজ’ নামে একটি ইনস্টিটিউট। জাতীয় কবির বিভিন্ন গান, কবিতা, উপন্যাস, নাটক সর্বোপরি তাঁর জীবনী এবং জীবনকর্মের ওপর গবেষণা চলমান রাখার জন্য বিভিন্ন শাখায় পিএইচডি এবং এমফিল প্রোগ্রাম কোর্স চালু রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রচলিত বৃত্তিগুলোর নামকরণ হয়েছে কবির পরিজনদের নামে ‘প্রমিলা বৃত্তি’, ‘বুলবুল বৃত্তি’, ‘কাজী অনিরুদ্ধ বৃত্তি’, ‘উমা কাজী বৃত্তি’।

নজরুলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’ ও দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘দোলনচাঁপা’, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দুটি হলের নাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের নামকরণ করা হয়েছে গল্পগ্রন্থ ‘ব্যথার দান' এর নামানুসারে। নজরুলের ছোটবেলার ডাকনাম অনুযায়ী নামকরণ করা হয় উপাচার্যের বাসভবনের, ‘দুখু মিয়ার বাংলো’। বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে মোট তিনটি মঞ্চ। সবচেয়ে পুরোনো মঞ্চটির নাম নজরুলের জন্মস্থান চুরুলিয়ার নামে, ‘চুরুলিয়া মঞ্চ’। বাকি দুটো কবিতার নামে, ‘গাহি সাম্যের গান মঞ্চ’, ‘জয়ধ্বনি মঞ্চ’। প্রায় ছয় বছর আগে উদ্বোধন করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধের, বিদ্রোহী কবিতার অমর এই চারটি শব্দে, ‘চির উন্নত মম শির’। বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে দুটি ক্যাফেটেরিয়া; যা ‘চক্রবাক’ ও ‘চন্দ্রবিন্দু’র নামে দুটো গ্রন্থের নামে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র গেস্ট হাউসের নামকরণ করা হয়েছে নজরুলের লেখা একটি একাঙ্ক নাটক ‘সেতু-বন্ধ’-এর নামানুসারে। পরিবহনের জন্য রয়েছে নজরুল সাহিত্যকর্মের নামে নামাঙ্কিত সাম্যবাদী, ধূমকেতু, প্রভাতী, নতুন পথিক রণভেরী, প্রলয় শিখা, দূরের বন্ধু, আগমনী, ঝিলিমিলি, ঝিঙেফুল, বাঁধনহারা, অগ্রপথিক, বিদ্রোহী, কাণ্ডারি ও দুরন্ত পথিক নামের বাসগুলো। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের ঠিক পাশেই রয়েছে সুউচ্চ নজরুল ভাস্কর্য। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে একাধিক ম্যুরাল। লাইব্রেরিতে রয়েছে নজরুল কর্নার।

এক নবীনবরণে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল নবীন শিক্ষার্থীদের বলেছিলেন, ‘কী চমৎকার একটা বিশ্ববিদ্যালয়। এটা সেই জায়গা, যেখানে বিদ্রোহী কবি হেঁটে গিয়েছেন। আমি মঞ্চ থেকে দেখে ভাবছিলাম, কবি নিজেই হয়তো এই পথে দিয়ে হেঁটে গেছেন। আমি এখন সে পথ দিয়ে হাঁটছি। ভাবতে পার এটা কত বড় সৌভাগ্য।’

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিতে অম্লান

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু নজরুলকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থাপনার নামকরণে কবিপরিবার ও তার সৃষ্টিকর্মের নামের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্মানার্থে বিভিন্ন স্থাপনার নামকরণ করা হয়। ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি প্রায় আড়াই হাজার আবাসন সক্ষমতাসম্পন্ন দুটি নতুন হল উদ্বোধন করা হয়। হল দুটির নামকরণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সহধর্মিণীর নামে; জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও বঙ্গমাতা শেখ বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব হল। কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের নামকরণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের নামে। রয়েছে বঙ্গবন্ধুর সুউচ্চ ভাস্কর্য, যা নির্মাণ করেছেন ভাস্কর শ্যামল চৌধুরী। প্রশাসনিক ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও বঙ্গবন্ধু হলে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল। বঙ্গমাতা হলে রয়েছে বঙ্গমাতার ম্যুরাল। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, বঙ্গবন্ধু হল, লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনাবিদ্যা বিভাগ, থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ এবং ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগসহ বিভিন্ন স্থানে রয়েছে বঙ্গবন্ধু কর্নার। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি প্রস্তাবিত গেটের নাম জয় বাংলা গেট ও জয় বঙ্গবন্ধু গেট।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের শিশুদের চিত্তবিনোদনের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে শেখ রাসেল শিশুপার্ক। বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা হলের পাশে কবি নজরুল স্কুল প্রাঙ্গণের সামনের মাঠে এই পার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে। পার্কে শেখ রাসেলের আবক্ষ মূর্তি বসানো হবে। থাকবে শিশুদের জন্য নানারকম রাইড এবং অনুষ্ঠানের জন্য একটা অনুষ্ঠানস্থল থাকবে। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্যকে ঘিরে নির্মাণ করা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্কয়ার। সৌমিত্র শেখর জানান, ভাস্কর্য ও বঙ্গবন্ধু স্কয়ারকে দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলার জন্য আমরা প্রশাসনিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এই স্কয়ার আমাদের তরুণ সমাজকে বিশেষভাবে আলোকিত করবে। স্কয়ারে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হবে, যা ভাস্কর্যকে আরও বেশি গ্লোরিফাই করবে। আর ভাস্কর্যের ঠিক পেছনেই থাকবে প্রাকৃতিক জলাধার। মূলত বঙ্গবন্ধু স্কয়ার হবে একটি প্রশান্তির বাতায়ন। বঙ্গবন্ধুর জীবন-ইতিহাস নিয়ে ছোট ছোট কিছু স্মারক রাখা হবে। কোথাও কোথাও বঙ্গবন্ধুর বই রাখা হবে, থাকবে বই পড়ার ব্যবস্থাও।

ক্যাম্পাস হবে নন্দনকানন

আমাদের ক্যাম্পাসটিকে একটি নন্দনকানন হিসেবে গড়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সুপরিকল্পিতভাবে রক্তন, বুদ্ধ নারিকেল, সুলতানচাঁপা, উদাল, সুপারি, অশোক, নাগলিঙ্গম, কুরচি, লোহা, গর্জন, শিমুল, পলাশ, আমলকী, বহেরা, হরতকী, নাগেশ্বর, পুত্রঞ্জীব, ঢাকিজাম, লাল সোনাইল, টিকোমা, সিভিটসহ নানা প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়েছে। উপাচার্য বলেন, ‘এখন আমাদের লড়াই হচ্ছে গাছকে রক্ষা করা। আমরা প্রতিনিয়ত গাছের ওখানে যাচ্ছি, কোথাও জলাবদ্ধতা তৈরি হলে তার সমাধান করছি, কোথাও জলের স্বল্পতা হলে জল দিচ্ছি। অর্থাৎ একটি গাছকে বড় করার জন্য যে পরিচর্যা দরকার, ইট দিয়ে বেষ্টনী বানিয়েছি। ইতোমধ্যে সর্বসম্মতভাবে জয় বাংলা ভাস্কর্য সরানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জয় বাংলার মোড় হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার পয়েন্ট। ইতোমধ্যে সীমানাপ্রাচীর দৃশ্যমান। এই প্রাচীরের চারপাশ দিয়ে রাস্তা হবে। এখানে জো বাইক সিস্টেম চালু করা হবে। এই সিস্টেমে শিক্ষার্থীরা সাইকেলে নিমিষেই ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে যাতায়াত করতে পারবে। আমাদের ইতোমধ্যেই এ ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসকে একটা নতুন বিশ্বরূপে গড়ে তুলতে চাই। যেটি হবে নজরুল বিশ্ব। এখানে পা রাখলেই মানুষ আরেকটা জগতে ঢুকবে। একজনের সঙ্গে আরেকজনের সম্পর্ক হবে- তাঁরা হবেন নজরুল বিশ্বের সদস্য। একটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্য। এখানে ২৪ ঘণ্টা কাজের মতো পরিবেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই। সেই পরিবেশ যদি গড়ে তুলতে পারি, তাহলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম আরও বাড়বে বলে বিশ্বাস করি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো তিনটি ভবন কলা, বিজ্ঞান আর প্রশাসনিক। এর মাঝখানে মজা অবস্থায় থাকা পুকুর সংস্কার করে কাজ চলছে দৃষ্টিনন্দন আর আকর্ষণীয় সরোবর করার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পার্শ্ববর্তী জমিন থেকে পুকুরের জলে উঠে আসবে একটি হাত, অঞ্জলি দেয়ার ভঙ্গিতে। যার নামকরণ করা হয়েছে, কাজী নজরুল ইসলামের গান থেকে ‘অঞ্জলি লহ মোর’। সরোবরটির চারিদিকে চমৎকার করে বাঁধাই করা হবে। তিনটে ভবনকে বাঁধবে একই সুতোয়। বিকেল পাঁচটা থেকে যন্ত্রে চলবে গান, মৃদুস্বরে, রাত ১০টা অবধি। মূলত নজরুল সংগীতই হবে, ক্লাসিকও কিছু হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার গমনাগমনের জন্য থাকবে এই সরোবরকেন্দ্র উন্মুক্ত।

স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ে তোলার প্রত্যয়

উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষাথে ‘স্মার্ট ক্যাম্পাস’ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর যে কথাটি বলেছিলাম, স্মার্ট ক্যাম্পাস চাই। পরবর্তী সময়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা যে স্মার্ট বাংলাদেশের ধারণা দিয়েছেন, আমাদের চিন্তার সঙ্গে মিলে যায় সেটা। তাই স্মার্ট বাংলাদেশের অভিমুখে স্মার্ট ক্যাম্পাস। আর স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ার ক্ষেত্রে আমি শিক্ষা, গবেষণা, উন্নয়ন- এই তিনটি মোটোকে ধারণ করে কাজ করে যাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই স্মার্ট ক্যাম্পাসের অবকাঠামো ও একাডেমিক- উভয় দিক থেকে আমরা এমন অবকাঠামো গড়ে তুলব, যা হবে দৃষ্টিনন্দন। এখানে ভবনগুলো থাকবে সুসজ্জিত। ভবনগুলোর পাশাপাশি বৃক্ষ, লতাগুল্ম, পাখিসমৃদ্ধ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য থাকবে। পাশাপাশি থাকবে রাস্তার নিরাপত্তা। আমি স্বপ্ন দেখি, শিক্ষার্থীরা নিজস্ব সাইকেলে চলাফেরা করবে। এখানে বাইরের অনাকাঙ্ক্ষিত বা অপ্রত্যাশিত যানবাহন ঢুকবে না। ক্যাম্পাস সম্পূর্ণভাবে সিসিটিভির আওতায় থাকবে। এগুলো হচ্ছে অবকাঠামোগত দিক। আমরা একই সঙ্গে অ্যাকাডেমিক দিক থেকে এখানে এমন শিক্ষার্থী তৈরি করব, যারা লেখাপড়া শেষ করে বাইরে গিয়ে আলো ছড়াবে। এগুলো নিয়ে আমরা ভেতরে-ভেতরে অনেক পরিকল্পনা করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাইছি আমাদের শিক্ষার্থীরা এই প্রতিযোগিতার বাজারে নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দেবে। এ বিষয়ের প্রতি লক্ষ রেখে ইতোমধ্যে আমাদের যে কারিকুলাম, তা আলোচনা-পর্যালোচনা করেছি ঢেলে সাজানোর জন্য। আমাদের স্মার্ট ক্যাম্পাস হবে স্মার্ট এডুকেশন। একটা দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।’

ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক নথি ব্যবস্থাপনা ও রেকর্ড সংরক্ষণে ডিজিটাল নথি (ডি-নথি) কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়। নথির এ প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাইলের কাজ ডিজিটাল পদ্ধতি অনুসরণ করে সম্পাদিত হবে। উপাচার্যসহ সব পর্যায়ের অনুমোদনকারীরা যেকোনো জায়গা থেকে যেকোনো সময় ফাইল অনুমোদন করতে পারবেন। এতে তাদের সময় সাশ্রয় হবে, কাগজ সাশ্রয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জায়গাটিও নিশ্চিত হবে। এ ছাড়া প্রশাসন ও অ্যাকাডেমিক ক্ষেত্রে গতিশীলতা বাড়বে।


টাইমস হায়ার এডুকেশন: এশিয়া র‌্যাঙ্কিংয়ে আবারও গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষে

আপডেটেড ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ২১:৪০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংসমূহে জাতীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিশ্বখ্যাত শিক্ষা সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই) প্রকাশিত এশিয়া ইউনিভার্সিটি র‌্যাঙ্কিং ২০২৬-এ গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি) সমগ্র এশিয়ার মধ্যে ৪০১-৫০০তম অবস্থান অর্জন করে আবারও দেশের সকল কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে কৃষিতে দেশসেরা হওয়ার গৌরব পুনঃনিশ্চিত করেছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এ র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয় (১৯টি সরাসরি ও ৯টি রিপোর্টার বিশ্ববিদ্যালয়) তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যৌথভাবে তৃতীয় স্থান অর্জন করে জাতীয় পরিসরেও তার দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেছে। গবেষণায় “সেন্টার অব এক্সিলেন্স” হিসেবে স্বীকৃত গাকৃবি এবারও গুণগত গবেষণায় (রিসার্চ কোয়ালিটি) অসাধারণ সাফল্য দেখিয়ে ৬৭ স্কোর অর্জন করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার গভীরতা ও প্রভাবের স্পষ্ট প্রতিফলন।

এ বছরের র‌্যাঙ্কিংয়ে এশিয়ার ৩৬টি দেশ ও অঞ্চলের মোট ৯২৯টি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষা, গবেষণার পরিবেশ, গবেষণার গুণগত মান, শিল্প-সম্পৃক্ততা এবং আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি এই পাঁচটি সূচকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এ ৫টি সূচকে গাকৃবি মোট ১৭৪.৯ স্কোর পেয়ে দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শীর্ষ স্থান দখল করেছে।

র‌্যাঙ্কিংয়ে চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় টানা অষ্টমবারের মতো প্রথম স্থান ধরে রেখেছে যেখানে গাকৃবির গৌরবময় অবস্থানও এশিয়ার প্রতিযোগিতামূলক প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ধারাবাহিক এই সাফল্যের পথচলায় গাকৃবি আগেও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান দেখিয়েছে। ২০২৫ সালের টিএইচই এশিয়া র‌্যাঙ্কিংয়েও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষে ছিল প্রতিষ্ঠানটি।

এছাড়া, কিউএস প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি সাসটেইনেবিলিটি র‌্যাঙ্কিংস ২০২৬-এ দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে টেকসই উন্নয়নেও নেতৃত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। একই ধারাবাহিকতায়, টিএইচই র‌্যাঙ্কিং ২০২৫ ও ২০২৬-এর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেও গাকৃবি প্রথম স্থান অর্জন করেছে।

অন্যদিকে, উরি ২০২৫-এ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড অ্যাপ্লিকেশন ক্যাটাগরিতে বিশ্বসেরা ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ৭৭তম স্থান অর্জন করে জাতীয়ভাবে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। র‌্যাঙ্কিংয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক যেকোনো র‌্যাঙ্কিংয়ে ধারাবাহিকভাবে গাকৃবির সাফল্যময় অর্জন কেবল একটি অবস্থান নয়, বরং এটি আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রয়াসের স্বীকৃতি।

তবে বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিংসমূহে দেশে শীর্ষস্থান ধরে রেখে কীভাবে বিশ্বের ১০০-২০০ তম অবস্থান নিশ্চিত করা যায় সে লক্ষ্যে আমরা বহুমুখী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। অচিরেই আমরা সেই কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবো ইনশা-আল্লাহ। কৃষির সার্বিক উৎকর্ষ সাধন এবং খাদ্য নিরাপত্তায় সরকারের মিশন-ভিশনের সাথে সঙ্গতি রেখে গাকৃবি গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের অগ্রযাত্রায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে বদ্ধপরিকর। আমরা বিশ্বাস করি, মানবকল্যাণমুখী জ্ঞানচর্চাই আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাবে।


সিইউবিতে নতুন ওয়েবসাইটের বেটা সংস্করণ ও অডিটোরিয়াম রি-ব্র্যান্ডিংয়ের উদ্বোধন

ওয়েবসাইটের বেটা সংস্করণ ও অডিটোরিয়ামের রি-ব্র্যান্ডিং উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কেক কেটে আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ও কিংবদন্তি ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামের রি-ব্র্যান্ডিং উন্মোচন এবং নতুন ওয়েবসাইটের বেটা সংস্করণের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ও কিংবদন্তি ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার পরিবেশ ও অবকাঠামোকে আধুনিকায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। এই রি-ব্র্যান্ডিং ও ওয়েবসাইট আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সমৃদ্ধ ও প্রযুক্তিনির্ভর অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে।’

নবায়নকৃত অডিটোরিয়ামটি উন্নত নকশা ও আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন করে গড়ে তোলা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বিভিন্ন একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে। পাশাপাশি নতুন ওয়েবসাইটের বেটা সংস্করণ শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সহজ, দ্রুত ও ব্যবহারবান্ধব তথ্যসেবা নিশ্চিত করবে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এইচ. এম. জহিরুল হকসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, শিক্ষকবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। এই উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল রূপান্তর ও ব্র্যান্ড উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


জাল সনদে চাকরি, ২০২ কলেজ প্রভাষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

জাল ও ভুয়া সনদের অভিযোগে ২০২ জন কলেজ প্রভাষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২০তম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন। এদিন বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

অধিবেশনে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের টেবিলে উত্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা জানান।

সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস তার প্রশ্নে বলেন, দেশের শিক্ষা খাতে বড় ধরনের অনিয়মের চিত্র সামনে এনেছে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাটির ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত তদন্ত ও নিরীক্ষার ভিত্তিতে ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

এতে জাল ও ভুয়া সনদে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগসহ বিস্তর আর্থিক অনিয়ম উঠে আসে। বিষয়টি সত্য হলে, সরকার এই অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কি না?

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশের শিক্ষা খাতে অনিয়ম সংক্রান্ত বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) নিয়মিতভাবে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত এসব পরিদর্শন ও নিরীক্ষার মাধ্যমে জাল ও ভুয়া সনদে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগসহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের বিষয় উদ্‌ঘাটিত হয়েছে।

এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ডিআইএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশক্রমে জাল ও ভুয়া সনদের অভিযোগে কলেজ পর্যায়ের মোট ২০২ জন প্রভাষকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ব্যবস্থা গ্রহণের বিবরণ তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এর মধ্যে এমপিওভুক্ত ৭৪ জন শিক্ষকের বেতন-ভাতা ২০২৩ সালের জুলাই মাস থেকে স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া এমপিওবিহীন অবশিষ্ট ১২৮ জন প্রভাষকের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট গভর্নিং বডির মাধ্যমে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।


বদলে যাচ্ছে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া, থাকছে না নিবন্ধন পরীক্ষা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিবন্ধন পরীক্ষার পরিবর্তে এখন থেকে শিক্ষক সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হবে। উত্তীর্ণ প্রার্থীদের সনদ এবং একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদে সুপারিশ প্রদান করা হবে। নিয়োগপ্রক্রিয়া দ্রুত করতে এবং জটিলতা কমাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

২০২৫ সালের সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন এনটিআরসিএ সচিব এ এম এম রিজওয়ানুল হক।

প্রতিষ্ঠানটির সচিব এ এম এম রিজওয়ানুল হক বলেন, ‘আগে যারা সনদ পেতেন, তারা সবাই নিয়োগ পেতেন না। এতে তারা নিজেদের বঞ্চিত মনে করতেন। নতুন পদ্ধতিতে এ জটিলতা আর থাকবে না। সরাসরি নিয়োগ হওয়ায় এখন থেকে আর গণবিজ্ঞপ্তি পদ্ধতি থাকছে না।’

৭৭ হাজার ৭৯৯ শূন্য পদে সরাসরি নিয়োগ: প্রথমবারের মতো সরাসরি শিক্ষক নিয়োগে শূন্য পদের তালিকা প্রস্তুত করেছে এনটিআরসিএ। মোট ৭৭ হাজার ৭৯৯টি শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

নিয়োগ পরীক্ষায় ২০০ নম্বরের এমসিকিউ ও ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পাস করতে পেতে হবে ৪০ শতাংশ নম্বর।

এদিকে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে শূন্য (৭৭ হাজার ৭৯৯টি) পদে সবচেয়ে বেশি শূন্য পদ সহকারী শিক্ষকের, ৪৪ হাজার ৬৯১টি।

পদ অনুযায়ী শূন্য পদের সংখ্যা— সহকারী শিক্ষক ৪৪,৬৯১, সহকারী শিক্ষক (ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা) ৯২৮, সহকারী শিক্ষক/শরীরচর্চা প্রশিক্ষক ৪,০১৪, সহকারী মৌলভি ১১,০৬৯, কম্পিউটার ব্যবহারিক নির্দেশক ১২৯, ব্যবহারিক নির্দেশক ১,৬১৬, ইবতেদায়ি কারি ২,৫৬৩, ইবতেদায়ি মৌলভি ৬,১৬৬, ইবতেদায়ি শিক্ষক ৪৪৪, প্রশিক্ষক ৫১, প্রভাষক ৫,৮৫২, শারীরিক শিক্ষা প্রশিক্ষক ১২৫ ও বাণিজ্য প্রশিক্ষক ২৫১জন।

‎২০০৫ সাল থেকে এনটিআরসিএ শিক্ষক নিবন্ধন সনদ দেওয়া শুরু করে। ২০১৫ সাল থেকে সনদের পাশাপাশি নিয়োগ সুপারিশ করে আসছে এনটিআরসিএ। এখন পর্যন্ত ৭টি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১ লাখ ৮৬ হাজার ২৩৮ জন শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশ করেছে এনটিআরসিএ।


বিদ্যুৎ সংকটে খাজা ইউনুস বিশ্ববিদ্যালয় ৪ দিন বন্ধ ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি 

বিদ্যুৎ সংকটে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরের খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চার দিন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মো. মিজানুর রহমান সাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রে জটিলতার কারণে ২২ এপ্রিল থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে ২৩ এপ্রিল ভর্তি কার্যক্রম চালু থাকবে। এ ছাড়া ২৬ এপ্রিল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পূর্বের ন্যায় যথানিয়মে চলবে।

জানা যায়, ন্যাশনাল গ্রিড ও নিজস্ব পাওয়ারপ্লান্টে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরবরাহে খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, নার্সিং কলেজ ও ল্যাবেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ সহ বেশ কয়েকটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়। তবে বিদ্যুতের ব্যাপক লোডশেডিংয়ে সকল কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে। তাই বৃহৎ এই চিকিৎসাসেবা সুনিশ্চিত করতে হাসপাতালের সকল কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় চার দিন বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

এ ছাড়া তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাঁতশিল্প সমৃদ্ধ এ অঞ্চলে টানা এক ঘণ্টাও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকছে না। বিদ্যুৎ না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ আবাসিক ছাত্র-ছাত্রী হল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সংকট অব্যাহত থাকলে ছুটি আরও বৃদ্ধির সম্ভবনা রয়েছে।


বাউবি উপাচার্যের নেতৃত্বে ইউজিসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)'র উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাৎকালে বাউবির উপাচার্য ইউজিসি চেয়ারম্যানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময় তিনি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, প্রশাসনিক ও সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

উপাচার্য জানান, গাজীপুরস্থ বাউবির মূল ক্যাম্পাসে ৭টি স্কুল ও ১১টি প্রশাসনিক বিভাগ রয়েছে। এছাড়া সারাদেশে ১২টি আঞ্চলিক কেন্দ্র, ৮০টি উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্র এবং প্রায় ১,৪৫২টি স্টাডি সেন্টারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২টি ফরমাল প্রোগ্রামে তিন লক্ষাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। পাশাপাশি ১৯টি নন-ফরমাল প্রোগ্রামও চালু রয়েছে। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ সুবিধাজনক সময়ে স্টাডি সেন্টারে সরাসরি কিংবা অনলাইনে টিউটরদের মাধ্যমে পাঠগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, দেশের একমাত্র উন্মুক্ত ও দূরশিক্ষণ পদ্ধতির বিশেষায়িত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে শিক্ষা-সুযোগ থেকে বঞ্চিত ও ঝরে পড়া লক্ষ লক্ষ মানুষ এসএসসি থেকে এমফিল ও পিএইচডি পর্যন্ত ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ স্বনির্ভর হয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

উপাচার্য জানান, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বাউবির শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব, কাতার, দুবাই, ওমান ও ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় প্রবাসী কর্মজীবী বাংলাদেশিদের জন্য এসএসসি, এইচএসসি, নিশ-২, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রামের স্টাডি সেন্টার চালু করা হয়েছে। এর ফলে প্রবাসীরা কর্মব্যস্ততার পাশাপাশি নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া এশিয়া ও ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশে বহিঃবাংলাদেশ স্টাডি সেন্টার চালুর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উপাচার্য উল্লেখ করেন, অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনমুখী শিক্ষা প্রদান, স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলা এবং যুগোপযোগী মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নই বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য।

এ সময় তিনি হিট প্রকল্পের আওতায় ইউজিসির তত্ত্বাবধানে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য চার মাসব্যাপী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের প্রথম ও দ্বিতীয় ব্যাচ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া এবং তৃতীয় ও চতুর্থ ব্যাচ শিগগিরই শুরু হওয়ার বিষয়েও চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, বাউবির ইনস্টিটিউট অব কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেলের সার্বিক সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুর ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় সম্মেলন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এ প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করার সুযোগ পাচ্ছেন।

সৌজন্য সাক্ষাৎকালে উভয়পক্ষ উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান গভীর মনোযোগ সহকারে উপাচার্যের বক্তব্য শোনেন এবং দেশের বিপুলসংখ্যক অশিক্ষিত ও অদক্ষ বেকার যুবক-যুবতীদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে কারিগরিসহ সরকারের পরিকল্পিত শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।

এ সময় বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোঃ শামীম এবং রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহির রায়হান উপাচার্যের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।


কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে রাশিয়া–চীন–বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক বিনিময়

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে আয়োজিত রাশিয়া–চীন–বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক বিনিময় অনুষ্ঠানে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাতসহ অতিথিরা।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর ইংরেজি বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমধর্মী আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক বিনিময় অনুষ্ঠান, যেখানে রাশিয়া, চীন ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ‘ঐক্যে বৈচিত্র্য’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল সংস্কৃতি, শিল্প ও জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করা।

রাজধানীর কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা এবং গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ বৈশ্বিক সহযোগিতা ও সাংস্কৃতিক সচেতনতা বৃদ্ধির প্রতি তাদের অঙ্গীকারকে তুলে ধরে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত উপস্থিত ছিলেন। তিনি অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং এ ধরনের উদ্যোগে তার সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এইচ এম জাহিরুল হক অতিথিদের স্বাগত জানান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ইংরেজি বিভাগের প্রধান রেজিনা সুলতানার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা, যার শিরোনাম ছিল ‘দ্য রিভার, দ্য টাইগা অ্যান্ড দ্য ড্রাগন: স্ট্রাকচারাল প্যারালেলস ইন ফোকলোর’। তিনি রাশিয়া, চীন ও বাংলাদেশের লোককথার মধ্যে বিদ্যমান গভীর সাংস্কৃতিক সাদৃশ্য তুলে ধরেন।

পরবর্তীতে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ‘এ মিটিং অব মিথস’ শিরোনামের একটি নাটক মঞ্চস্থ করেন, যেখানে সুন্দরবনের প্রেক্ষাপটে তিন দেশের লোককথার চরিত্রগুলোর এক রহস্যময় মিলনের চিত্র ফুটে ওঠে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকার পরিচালক আলেক্সান্দ্রা খলেভনয় এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং শিক্ষার্থীদের পরিবেশনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে রাশিয়া–চীন কৌশলগত অংশীদারিত্বের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘রেড সিল্ক’ চলচ্চিত্রের বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।


শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে স্থগিত চূড়ান্ত পরীক্ষা, সেশনজটের শঙ্কা   

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ববি প্রতিনিধি

পদোন্নতির দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ( ববি) শিক্ষকদের চলমান একাডেমিক কর্মবিরতিতে পূর্বনির্ধারিত শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষা মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদী সেশনজটের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শিক্ষার্থীদের ক্ষতির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষকদের পরীক্ষাগুলো নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ আইন বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা থাকলেও তা হয়নি। সময়মতো পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে উত্তরপত্র সরবরাহ করা হলেও শিক্ষকরা না আসায় তা পুনরায় ফেরত নিয়ে আসা হয় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে।

আইন বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী শামীম হোসাইন বলেন , বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমানে শিক্ষক পদোন্নতি নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে ,তার জন্য আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে! আমাদের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা ছিলো সেটা হচ্ছে না! আমরা জানিনা কবে এই সমস্যার সমাধান হবে!

বুধবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি বিভাগের অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা রয়েছে। লোকপ্রশাসনের অনার্স তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা এবং ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা রয়েছে। এসকল বিভাগে আগামীকাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে কি না সে বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, সাজ্জাদ উল্লা ফয়সাল বলেন, মঙ্গলবার একটি বিভাগের পরীক্ষা ছিলো তা হয়নি। বুধবারও দুটি বিভাগের পরীক্ষা রয়েছে। আমরা যথাসময়ে উত্তরপত্র পাঠাবো। শিক্ষকরা যদি পরীক্ষা নেন তাহলে পরীক্ষা হবে, নতুবা হবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, শিক্ষকদের আন্দোলনে মধ্যে যেন শিক্ষার্থীদের ফাইনাল পরীক্ষা আওতাভুক্ত না করার দাবি জানান। শিক্ষার্থীদের ক্ষতি বিবেচনায় নিয়ে ফাইনাল পরীক্ষাগুলো নিয়ে নেয়ার অনুরোধও জানান তিনি শিক্ষকদের প্রতি।

এর আগে সোমবার শিক্ষক সংকট, পদোন্নতি জটিলতা ও আইনগত অনিশ্চয়তা নিরসনের দাবিতে এক দিনের কর্মবিরতি এবং দাবি পূরণ না হলে পরদিন থেকে পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দেন শিক্ষকরা। একইসঙ্গে প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকেও বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এরও আগে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পদোন্নতি জটিলতা নিরসনের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জামাল উদ্দীন আমরণ অনশনে বসেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

শিক্ষকদের লিখিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বিদ্যমান বিধি ও প্রবিধানের আওতায় পরিচালিত হলেও সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে জারি করা এক নির্দেশনার ফলে পুরো কার্যক্রম আইনগত অনিশ্চয়তায় পড়েছে। নির্দেশনায় চাকরি, পদোন্নতি ও প্রশাসনিক বিধিমালা প্রণয়ন ও সংশোধনের ক্ষেত্রে চ্যান্সেলরের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে পূর্ববর্তী নিয়মে পরিচালিত কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগের অধিকাংশেই তীব্র শিক্ষক সংকট বিরাজ করছে। অনেক বিভাগে মাত্র তিন থেকে চারজন শিক্ষক দিয়ে একাধিক ব্যাচের ক্লাস পরিচালনা করতে হচ্ছে, যা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনুমোদিত পদ থাকা সত্ত্বেও প্রায় ৫১টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। খণ্ডকালীন শিক্ষকদের ভাতা ও সম্মানি বন্ধ থাকায় পাঠদান কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এছাড়া পদোন্নতির ক্ষেত্রেও দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৪ জন শিক্ষকের পদোন্নতির সুপারিশ সম্পন্ন হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিক্ষক সমাজে অসন্তোষ বাড়ছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পদোন্নতি নীতিমালা অনুযায়ী একটি সিলেকশন বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। তবে বোর্ডের কার্যক্রম শুরুর পর ইউজিসি থেকে অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণের নির্দেশনা দিয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়। তিনি জানান, এ বিষয়ে ইউজিসির সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং দ্রুত সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারাও ত্রুটিযুক্ত নীতিমালা সংশোধন না করেই পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন বোর্ড আয়োজনের দাবিতে রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন জানিয়েছেন। ইউজিসি বিদ্যমান নীতিমালার বিভিন্ন ধারায় আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে তা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিলেও কর্মকর্তারা বর্তমান নিয়মেই পদোন্নতি চান। এতে প্রশাসনে এক ধরনের অচলাবস্থা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

উল্লেখ্য, পদোন্নতি ও গ্রেড আপগ্রেডেশন সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫ জন কর্মকর্তা হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন (নং-৬৪৯০/২০২৫) দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।


মানিকগঞ্জ ও সাভারে শিক্ষামন্ত্রীর আকস্মিক পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে একযোগে শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিনে মানিকগঞ্জ ও সাভারের বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্র আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে তিনি এই দুই এলাকার বেশ কয়েকটি এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) কেন্দ্র ঘুরে দেখেন। মন্ত্রীর এই আকস্মিক উপস্থিতিতে কেন্দ্রগুলোর সার্বিক শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনার চিত্র ফুটে ওঠে।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী সাভারের তেঁতুলঝোড়া উচ্চ বিদ্যালয় এবং মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ও সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এছাড়া তিনি আমিনবাজারের মীরপুর মফিদ-ই-আম স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ঢাকার পাইকপাড়াস্থ মডেল একাডেমি পরীক্ষাকেন্দ্র তদারকি করেন। কেন্দ্রগুলোতে স্থাপিত কন্ট্রোল রুম থেকে সিসিটিভির মাধ্যমে পরীক্ষার হলগুলোর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি তিনি উপস্থিত শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী পরীক্ষার পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, প্রথম দিনে অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশে যেন কোনো ভোগান্তি না হয়, সেজন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার কেন্দ্রগুলো সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যেই খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ বছর সারাদেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ৩০ হাজার ৬৬৬টি স্কুল, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাড়ে ১৮ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের মোট ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরীক্ষা চলাকালীন স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতি বছরের ন্যায় বাংলা প্রথম পত্র দিয়ে এবারও শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় দেশের তিন হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা শুরু হয়। এতে সারা দেশের ৩০ হাজার ৬৬৬টি স্কুল-মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাড়ে ১৮ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। দুপুর ১টায় এ পরীক্ষা শেষ হবে।

প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে প্রথম দিনে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মাদরাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে প্রথম দিনে কোরআন মাজিদ ও তাজভিদ পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কারিগরি বোর্ডের অধীনে (ভোকেশনাল) বাংলা-২ ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষার প্রথম দিনে বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা হচ্ছে।

এদিকে, পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে আসতে থাকেন পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা। এদিন সকাল থেকেই রাজধানীর সড়কগুলোতে যানজট ছিল চোখে পড়ার মতোন। অনেক পরীক্ষার্থীকে দৌড়েও কেন্দ্রের দিকে যেতে দেখা যায়।

রাজধানীসহ বিভিন্ন স্কুলের কেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিচ্ছে, কেউবা সহপাঠীদের সঙ্গে আলোচনা করছে সম্ভাব্য প্রশ্ন নিয়ে। অভিভাবকদের মধ্যেও ছিল বাড়তি উৎকণ্ঠা ও প্রত্যাশা—পরীক্ষা ভালো হোক, সন্তান যেন নির্বিঘ্নে দিতে পারে।

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তা এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিতে তৎপর রয়েছে শিক্ষাপ্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বিশেষ করে নকল ও ডিভাইস ব্যবহার করে ডিজিটাল জালিয়াতি এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

প্রসঙ্গত, এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট তিন হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে, আর কেন্দ্র সংখ্যার দিক থেকেও এগিয়ে এই বোর্ড। অন্যদিকে তুলনামূলক কম কেন্দ্র রয়েছে ময়মনসিংহ বোর্ডে।


গাইবান্ধায় ১৫০ এসএসসি পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রে ভুল!

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাইবান্ধা প্রতিনিধি

সারাদেশে মাধ্যমিক স্কুল সাটিফিকের্ট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে। তবে গাইবান্ধার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৫০ শিক্ষার্থীর ভুলে ভরা প্রবেশপত্র নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ওই সকল পরিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের গাফিলতিতে এমন ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কঞ্চিপাড়া এম এ ইউ একাডেমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রায়হান সরকার। এরআগে রোববার প্রবেশপত্র আনতে গিয়ে ঘটনা জানাজানি হয়। ঘটনা জানাজানির পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সর্বমহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

জানা গেছে, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় কঞ্চিপাড়া এম এ ইউ একাডেমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে ১৪৫ ও বিজ্ঞান বিভাগে ৬৭, জনসহ মোট ২১২ জন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এসব পরীক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকে প্রবেশপত্র তুলতে দিয়ে দেখে কারো অভিভাবকের (মা-বাব) নাম ভুল। আবার ছেলে পরীক্ষার্থীর ছবির স্থানে মেয়ের ছবি এবং বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র আসে মানবিক বিভাগের।

পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠান প্রধান রায়হান সরকার বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কম্পিউটার অপারেটরের সহযোগিতা না নিয়ে বাইরের দোকান থেকে ফরম পূরণ ও রেজিষ্ট্রেশন সংক্রান্ত কাজ করার কারণে প্রবেশপত্রে এ ধরনের ভুল হয়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক রায়হান সরকার বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের টাকা থেকে বঞ্চিত করা এবং নিজে আয় করতে তিনি একাই বাইরের কম্পিউটারের দোকান থেকে কাজ করেছেন। ফলে আজকে এতোগুলা শিক্ষার্থী পরিক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে।

এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক রায়হান সরকার অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, ‘আমার কারণে ভুল হয়েছে ঠিক আছে। কিন্তু একজন পরীক্ষার্থীও পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হবেনা। সমাধানের কাজ চলছে।

এ বিষয়ে ফুলছড়ি উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার সৈয়দ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এসব বিষয় সম্পূর্ণ দেখ-ভালের দায়িত্ব প্রধান শিক্ষকের এবং বোর্ড সংশ্লিষ্টদের। বিষয়টি কিভাবে কি হয়েছে, জানার চেষ্টা করছি।

ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি দুঃখজনক, পরীক্ষার্থীই যেন পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।


পাবলিক পরীক্ষায় ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ থাকছে না: শিক্ষামন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে ‘নীরব বহিষ্কার’ বা সাইলেন্ট এক্সপেল-এর কোনো সুযোগ থাকছে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া (ডিউ প্রসেস) ছাড়া কাউকে বহিষ্কার করা আইনসম্মত নয়। শিক্ষা বোর্ডের পুরনো এ সংক্রান্ত নীতিমালায় থাকা বিতর্কিত ২৯ নম্বর ধারাটি অবিলম্বে রহিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আসন্ন এসএসসি, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে আয়োজিত অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।

এই বিধানের বিষয়ে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘নীরব বহিষ্কার বলে কোনো শব্দ থাকতে পারে না। ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ আইন দিয়ে আমরা যখন পরীক্ষা পরিচালনা করেছিলাম, সেখানেও এমন কোনো নিয়ম ছিল না। এটি সম্পূর্ণ আইনবিরুদ্ধ।’

তিনি আরও বলেন, ‘কাউকে শাস্তি দিতে হলে ডিউ প্রসেস বা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দিতে হবে। আপনি পরীক্ষা কক্ষে নকল করেছেন কি করেননি, তা সেখানেই প্রমাণিত হতে হবে। নীরবে বাড়িতে বসে কাউকে বহিষ্কার করার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী বলেন, আমরা কনফিডেন্ট যে, বর্তমানে পরীক্ষা কেন্দ্রে গোলযোগ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাই নীতিমালায় থাকা এই অনুচ্ছেদটি আমি ইমিডিয়েটলি সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছি।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘নীরব বহিষ্কার’ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া উদ্বেগ ও শঙ্কার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালাটি ১৯৬১ সালের তৈরি করা। নীতিমালার পুরনো কোনো অসংগতিপূর্ণ কপি থেকে এই বিভ্রান্তি ছড়িয়ে থাকতে পারে।

ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এ বিষয়ে দ্রুত একটি স্পষ্টীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করবে।

বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ২ জুলাই থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হবে। পরবর্তী পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, এ ছাড়া আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু পরিবেশে অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘এবারের কড়াকড়ি আইনগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বরং শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিবদের জন্য যাতে তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা পরীক্ষার্থীদের পেছনে ছুটছি না, বরং শিক্ষার গুণগত মান ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের দক্ষতা ও জবাবদিহিতার দিকে নজর দিচ্ছি।’

শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং জুম প্ল্যাটফর্মে দেশের সব জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা ও শিক্ষক প্রতিনিধিরা যুক্ত ছিলেন।


আগামী ২ জুলাই থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু: শিক্ষামন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এবারের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হবে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার তারিখ চূড়ান্ত হয়। শিগগির রুটিন প্রকাশিত হবে।

চলতি বছর থেকেই দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে। বাকি দুটি (মাদরাসা ও কারিগরি) বোর্ডে আগে থেকেই অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়।


banner close