‘আমি চিরতরে দূরে চলে যাব, তবু আমারে দেব না ভুলিতে’- গানে এ কথা বলে গিয়েছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। প্রেম ও দ্রোহের কবি হয়ে তিনি তাঁর গানের চরণের মতোই বাংলা ভাষাভাষীর হৃদয়ে বেঁচে আছেন, থাকবেন। বিদ্রোহী, প্রতিবাদী, সুন্দরের উপাসক, জাতীয় জাগরণের প্রতিভূ এবং বহুমাত্রিক ঔজ্জ্বল্যে ঋদ্ধ নজরুল ভারত থেকে প্রথমবার বাংলাদেশের ত্রিশালে আগমন করেন। খুব শৈশবে তিনি এই ত্রিশালে এসেছিলেন। তার বর্ণাঢ্য কৈশোরকে আগলে ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রতিষ্ঠা করা হয় তার নামে বিশ্ববিদ্যালয়। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের ২১তম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় নামেই সমধিক পরিচিত।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়ন- এই তিনটি শব্দকে মোটো হিসেবে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিযাত্রা আমরা শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়ন- এই তিনটি উদ্দেশ্য নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছি। শিক্ষা বলতে বর্তমান সময়ের যুগোপযোগী শিক্ষা, দ্বিতীয় হচ্ছে গবেষণা। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকরা গবেষণা করবেন, প্রত্যেকের নিজস্ব ক্ষেত্রে নতুন নতুন আবিষ্কার করবেন এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণামনস্ক করে গড়ে তুলবেন- যাতে তারা ভবিষ্যতে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত থাকেন।’
কাজী নজরুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘ভেঙে যে গড়তে জানে, সে চিরসুন্দর।’ এখানে সব ভেঙে গড়তে হচ্ছে। যারা গবেষণার ক্ষেত্রে বিমুখ ছিলেন, তাদের গবেষণায় আনতে হচ্ছে। তবে আশাব্যঞ্জক বিষয় হচ্ছে, আমরা গবেষণায় শিক্ষকদের যথেষ্ট সমর্থন পাচ্ছি। প্রথমবারের মতো আমরা আয়োজন করেছি গবেষণা মেলা। ইতোমধ্যে আমরা দুটো আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের আয়োজন করেছি, যেখানে দেশ-বিদেশের বিদগ্ধ গবেষকরা অংশগ্রহণ করেছেন। নতুন জ্ঞান সৃষ্টির জন্য আমাদের এই অগ্রযাত্রা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য প্রতিবছর এ ধরনের আন্তর্জাতিক কনফারেন্স আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হবে। আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ক্যাম্পাসকে ধারণ করতে হবে। আমরা প্রত্যেকে শুধু যার যার যে কাজ, সেই কাজটুকু ঠিকভাবে করলে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যাব, যোগ করেন উপাচার্য।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জার্নাল যেটা দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল, সেটা ছাপার দোরগোড়ায়। বিভিন্ন অনুষদ থেকে জার্নাল প্রকাশিত হচ্ছে, শিগগিরই প্রকাশিত হচ্ছে আইন অনুষদের জার্নাল। কিছুদিন আগেই প্রকাশিত হয়েছে কলা অনুষদের জার্নাল ‘মানববিদ্যা’। এ ছাড়া আমাদের বিভাগগুলো থেকে জার্নাল প্রকাশ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগ, লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগ, ফোকলোর বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগ নিজস্ব জার্নাল প্রকাশ করছে।
সৌমিত্র শেখর বলেন, ‘কুম্ভীলব বৃত্তি বা প্লেগারজিম চেকার সফটওয়্যার সংযোজন করা হচ্ছে শিগগিরই। আইকিইউসি নানাবিধ গবেষণামূলক কাজ বিশেষত ট্রেনিংয়ের আয়োজন করছে। ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজ নজরুলকে নিয়ে গবেষণার কাজ করছে। গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তর গবেষণা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তারা সবাই বহুবিধ কাজে ব্যস্ত।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার তৈরির মাধ্যমে সেশনজট দূর করতে পেরেছি। আমরা বিভাগগুলোতে এমন কিছু বিষয় যুক্ত করার কথা ভাবছি যেগুলো যুক্ত হলে পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা নিজেদের খাপ খাওয়াতে পারবে। ত্রিশাল থেকে যেন একজন শিক্ষার্থী জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে যুক্ত হতে পারে, সে ব্যবস্থা ধীরে ধীরে করা হবে। এখানকার আইটি সেকশনকে গুরুত্ব দিয়ে এখানে একটা ইনস্টিটিউটের কথা প্রশাসন ভাবছে। আশা করা যায়, ভবিষ্যতে সে ইনস্টিটিউট আমরা স্থাপন করতে পারব। আইসিটির মধ্য দিয়ে এখানকার প্রত্যেকটি ছেলেমেয়ে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত হবে।’
তিনি জানান, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিলক্ষ্য হচ্ছে সাংস্কৃতিক শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, সামাজিক বিজ্ঞান ও ব্যবসায় প্রশাসনবিষয়ক পঠন-পাঠনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ ঘটানো। দেশের আধুনিক ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে গবেষণা এবং লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের দ্বারা জাতীয় উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অবদান রাখা।
চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ
বর্তমান সময়ে ক্যাম্পাসে চলছে উন্নয়নের সুবিশাল কর্মযজ্ঞ। ক্যাম্পাসের যেদিকে তাকানো যায় সেদিকেই অবকাঠামোর নির্মাণকাজ চলমান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য একনেকে অনুমোদিত ৮৪০ কোটি ৫৬ লাখ টাকার প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে ২৪টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। নির্মাণাধীন ভবনগুলোর উল্লেখযোগ্য হলো- ২ হাজার ৯৩২ বর্গমিটার আয়তনে ২য় প্রশাসনিক ভবন, ৯ হাজার ৯৬০ বর্গমিটার আয়তনের ১০ তলা ভবন যেখানে পাঁচটি ইনস্টিটিউট, আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের শ্রেণিকক্ষ এবং আইটি স্পেস থাকবে, ৮২১ বর্গমিটার আয়তনের ৫ তলা অতিথি ভবন নির্মাণ, ৪২ হাজার ২৯৫ বর্গমিটার আয়তনের ১০ তলা একাডেমিক ভবন, ৫ হাজার ৩৩৬ বর্গমিটার আয়তনের স্কুল ও কলেজ ভবন নির্মাণ (নার্সারি হতে দ্বাদশ পর্যন্ত), ১৩ হাজার ৪৯৮ বর্গমিটার আয়তনের শিক্ষক-কর্মকর্তার জন্য ১০ তলা ইউটিলিটি ভবন নির্মাণ, ৬ হাজার ৩৪৭ বর্গমিটার আয়তনের শিক্ষক-কর্মকর্তার জন্য ১০ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণ, ১ হাজার ৫৭৩ বর্গমিটার আয়তনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য ৬ তলা আবাস ভবন নির্মাণ, ৭ হাজার ৮১১ বর্গমিটার আয়তনের ৩ তলা মাল্টিপারপাস হল-কাম টিএসসি-কাম জিমনেসিয়াম ভবন নির্মাণ, ১ হাজার ০১৯ বর্গমিটার আয়তনের চিকিৎসা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ (অফিস, হাসপাতাল ও আবাসিক সুবিধা সংবলিত), ২ হাজার ২৫২ বর্গমিটার আয়তনের ইমাম ও মুয়াজ্জিনের আবাসনসহ ৩ তলা মসজিদ নির্মাণ উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া রয়েছে ক্যাম্পাসের চারিদিকে নিরাপত্তার জন্য সবুজবেষ্টনী নির্মাণ, খেলার মাঠ উন্নয়ন- (ফুটবল, ক্রিকেট, টেনিস, বাস্কেট বল কোর্ট, শিশুপার্ক ও বৃক্ষরোপণ), জলাশয়ে রিটেইনিং স্ট্রাকচার নির্মাণসহ সৌন্দর্যবর্ধন কাজ, সমগ্র ক্যাম্পাসে অভ্যন্তরীণ আরসিসি রাস্তা নির্মাণ, ময়লা পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেইন ও কালভার্ট নির্মাণ ভূমি উন্নয়ন ইত্যাদি। নতুন অ্যাকাডেমিক বিল্ডিংয়ের নিচ তলায় নানারকম সেমিনার, ওয়ার্কশপ, ট্রেনিং আয়োজনের জন্য একটি অডিটোরিয়াম নির্মাণ করা হচ্ছে। জয়ধ্বনি মঞ্চ ছাড়াও আরও বেশ কিছু মঞ্চ করা হবে।
‘দেখব এবার জগৎটাকে’
উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রসরমান বিশ্বের সঙ্গে সংগতি রক্ষা ও সমতা অর্জন এবং জাতীয় পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা, বিশেষ করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আধুনিক জ্ঞানচর্চা ও পঠন-পাঠনের সুযোগ সৃষ্টি ও সম্প্রসারণের নিমিত্ত প্রতিষ্ঠা লাভ করে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে জাত্যাভিমানের প্রাচীর ডিঙিয়ে সাম্য-মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ব এবং মানবতার বলিষ্ঠ প্রত্যয়ের নাম কাজী নজরুল ইসলাম। একইভাবে তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও একই প্রত্যয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা ছাত্রাবস্থায় ও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অর্জনের মাধ্যমে আলোকিত করছে এই নজরুলতীর্থকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেন জ্ঞানার্জনের জন্য বিশ্বের অন্যান্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, সে জন্য নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় দেশে এবং দেশের বাইরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। এর আওতায় নিজেদের মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, তরুণ গ্র্যাজুয়েটদের ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা, গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশিক্ষণ-কর্মশালা আয়োজনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একে অন্যকে সহযোগিতা করতে পারবেন। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের ফেরদৌসী বিশ্ববিদ্যালয়, ভারতের কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়, আসাম ডাউনটাউন বিশ্ববিদ্যালয়, সিধু-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও দ্য ইনফিনিটি মেরিটাইম রিসার্চ অ্যান্ড রোবোটিক টেকনোলজি লিমিটেড।
এ ছাড়া সংগীত, নাট্যকলা বিভাগের প্রতিনিধিদল দেশের বাইরে নান্দনিক পরিবেশনার মাধ্যমে প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তাদের চলচ্চিত্র প্রদর্শনী হয়েছে এবং পুরস্কৃত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাবের কার্যক্রমও উল্লেখ করার মতো। ন্যাশনাল ক্যাম্পাস জার্নালিজম ফেস্ট, আন্তবিশ্ববিদ্যালয় বিজনেস কেইস কম্পিটিশন, আন্তবিশ্ববিদ্যালয় শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভাল, ন্যাশনাল সফট স্কিল ফেস্ট, জব ফেয়ার, ক্যারিয়ার ফেস্ট, আন্তবিশ্ববিদ্যালয় আইডিয়া জেনারেশন কনটেস্টের মতো জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন আয়োজন করে থাকে সংগঠনগুলো। ক্যারিয়ার ও আত্মোন্নয়নের জন্য রয়েছে ক্যারিয়ার ক্লাব, স্কিল ডেভেলপমেন্ট ক্লাব, রিসার্চ সোসাইটি, ডিবেটিং সোসাইটি, নৃ-তার্কিক সংঘ, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি ক্লাব, বিজনেস ক্লাব প্রমুখ। একইভাবে রয়েছে গ্রিন ক্যাম্পাস, রংধনু, সেভ দ্য টুমরো, নির্ভয় ফাউন্ডেশন, অরণ্য, ইনলেপ্ট, রোটারেক্ট ক্লাবের মতো স্বেচ্ছাসেবী ও পরিবেশবাদী সংগঠন। নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করে উইম্যান পিস ক্যাফে, উইমেন লিডার্সের মতো উদ্যোগ। আরও রয়েছে বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠন।
সাংস্কৃতিক মননে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবছর উদযাপিত হয় নজরুলজয়ন্তী, রবীন্দ্রজয়ন্তী, বারামখানার উদ্যোগে লালন স্মরণোৎসবের মতো আয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উৎসবমুখর আরও একটি অনবদ্য আয়োজন হচ্ছে ‘কুয়াশা উৎসব’। সংগীত, নাট্যকলা, ফিল্ম কিংবা চারুকলার মতো বিভাগগুলো এসব আয়োজনে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।
‘তবু আমারে দেব না ভুলিতে’
জীবনের মাত্র অর্ধেকের মতো সময়কালে কাজী নজরুল ইসলামের তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তা ও বিপুলায়তন সৃষ্টি-সম্ভার বাংলা সাহিত্যে তো বটেই, বিশ্বের বিস্ময়। যে কারণে নজরুল অতুলনীয়, একক এবং সবার চেয়ে আলাদা বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। তিনি আমাদের মাঝে নেই, তবে তাঁর স্মৃতিকে চির জাগরুক রাখতে বিভিন্ন স্থাপনার নামকরণ করা হয়েছে কবির সাহিত্যকর্ম ও কবিপরিবারের সদস্যদের নামানুসারে। নজরুলের আদর্শ, চেতনা, ভাবনা, সাহিত্য, সংগীত ও নাটক ছড়িয়ে দিতে প্রতিটি বিভাগে ১০০ নম্বরের ‘নজরুল অধ্যয়ন’ কোর্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নজরুলের সাহিত্যকর্মের ওপরে গবেষণার জন্য রয়েছে ‘ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজ’ নামে একটি ইনস্টিটিউট। জাতীয় কবির বিভিন্ন গান, কবিতা, উপন্যাস, নাটক সর্বোপরি তাঁর জীবনী এবং জীবনকর্মের ওপর গবেষণা চলমান রাখার জন্য বিভিন্ন শাখায় পিএইচডি এবং এমফিল প্রোগ্রাম কোর্স চালু রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রচলিত বৃত্তিগুলোর নামকরণ হয়েছে কবির পরিজনদের নামে ‘প্রমিলা বৃত্তি’, ‘বুলবুল বৃত্তি’, ‘কাজী অনিরুদ্ধ বৃত্তি’, ‘উমা কাজী বৃত্তি’।
নজরুলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’ ও দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘দোলনচাঁপা’, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দুটি হলের নাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের নামকরণ করা হয়েছে গল্পগ্রন্থ ‘ব্যথার দান' এর নামানুসারে। নজরুলের ছোটবেলার ডাকনাম অনুযায়ী নামকরণ করা হয় উপাচার্যের বাসভবনের, ‘দুখু মিয়ার বাংলো’। বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে মোট তিনটি মঞ্চ। সবচেয়ে পুরোনো মঞ্চটির নাম নজরুলের জন্মস্থান চুরুলিয়ার নামে, ‘চুরুলিয়া মঞ্চ’। বাকি দুটো কবিতার নামে, ‘গাহি সাম্যের গান মঞ্চ’, ‘জয়ধ্বনি মঞ্চ’। প্রায় ছয় বছর আগে উদ্বোধন করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধের, বিদ্রোহী কবিতার অমর এই চারটি শব্দে, ‘চির উন্নত মম শির’। বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে দুটি ক্যাফেটেরিয়া; যা ‘চক্রবাক’ ও ‘চন্দ্রবিন্দু’র নামে দুটো গ্রন্থের নামে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র গেস্ট হাউসের নামকরণ করা হয়েছে নজরুলের লেখা একটি একাঙ্ক নাটক ‘সেতু-বন্ধ’-এর নামানুসারে। পরিবহনের জন্য রয়েছে নজরুল সাহিত্যকর্মের নামে নামাঙ্কিত সাম্যবাদী, ধূমকেতু, প্রভাতী, নতুন পথিক রণভেরী, প্রলয় শিখা, দূরের বন্ধু, আগমনী, ঝিলিমিলি, ঝিঙেফুল, বাঁধনহারা, অগ্রপথিক, বিদ্রোহী, কাণ্ডারি ও দুরন্ত পথিক নামের বাসগুলো। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের ঠিক পাশেই রয়েছে সুউচ্চ নজরুল ভাস্কর্য। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে একাধিক ম্যুরাল। লাইব্রেরিতে রয়েছে নজরুল কর্নার।
এক নবীনবরণে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল নবীন শিক্ষার্থীদের বলেছিলেন, ‘কী চমৎকার একটা বিশ্ববিদ্যালয়। এটা সেই জায়গা, যেখানে বিদ্রোহী কবি হেঁটে গিয়েছেন। আমি মঞ্চ থেকে দেখে ভাবছিলাম, কবি নিজেই হয়তো এই পথে দিয়ে হেঁটে গেছেন। আমি এখন সে পথ দিয়ে হাঁটছি। ভাবতে পার এটা কত বড় সৌভাগ্য।’
বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিতে অম্লান
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু নজরুলকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থাপনার নামকরণে কবিপরিবার ও তার সৃষ্টিকর্মের নামের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্মানার্থে বিভিন্ন স্থাপনার নামকরণ করা হয়। ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি প্রায় আড়াই হাজার আবাসন সক্ষমতাসম্পন্ন দুটি নতুন হল উদ্বোধন করা হয়। হল দুটির নামকরণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সহধর্মিণীর নামে; জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও বঙ্গমাতা শেখ বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব হল। কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের নামকরণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের নামে। রয়েছে বঙ্গবন্ধুর সুউচ্চ ভাস্কর্য, যা নির্মাণ করেছেন ভাস্কর শ্যামল চৌধুরী। প্রশাসনিক ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও বঙ্গবন্ধু হলে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল। বঙ্গমাতা হলে রয়েছে বঙ্গমাতার ম্যুরাল। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, বঙ্গবন্ধু হল, লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনাবিদ্যা বিভাগ, থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ এবং ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগসহ বিভিন্ন স্থানে রয়েছে বঙ্গবন্ধু কর্নার। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি প্রস্তাবিত গেটের নাম জয় বাংলা গেট ও জয় বঙ্গবন্ধু গেট।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের শিশুদের চিত্তবিনোদনের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে শেখ রাসেল শিশুপার্ক। বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা হলের পাশে কবি নজরুল স্কুল প্রাঙ্গণের সামনের মাঠে এই পার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে। পার্কে শেখ রাসেলের আবক্ষ মূর্তি বসানো হবে। থাকবে শিশুদের জন্য নানারকম রাইড এবং অনুষ্ঠানের জন্য একটা অনুষ্ঠানস্থল থাকবে। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্যকে ঘিরে নির্মাণ করা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্কয়ার। সৌমিত্র শেখর জানান, ভাস্কর্য ও বঙ্গবন্ধু স্কয়ারকে দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলার জন্য আমরা প্রশাসনিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এই স্কয়ার আমাদের তরুণ সমাজকে বিশেষভাবে আলোকিত করবে। স্কয়ারে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হবে, যা ভাস্কর্যকে আরও বেশি গ্লোরিফাই করবে। আর ভাস্কর্যের ঠিক পেছনেই থাকবে প্রাকৃতিক জলাধার। মূলত বঙ্গবন্ধু স্কয়ার হবে একটি প্রশান্তির বাতায়ন। বঙ্গবন্ধুর জীবন-ইতিহাস নিয়ে ছোট ছোট কিছু স্মারক রাখা হবে। কোথাও কোথাও বঙ্গবন্ধুর বই রাখা হবে, থাকবে বই পড়ার ব্যবস্থাও।
ক্যাম্পাস হবে নন্দনকানন
আমাদের ক্যাম্পাসটিকে একটি নন্দনকানন হিসেবে গড়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সুপরিকল্পিতভাবে রক্তন, বুদ্ধ নারিকেল, সুলতানচাঁপা, উদাল, সুপারি, অশোক, নাগলিঙ্গম, কুরচি, লোহা, গর্জন, শিমুল, পলাশ, আমলকী, বহেরা, হরতকী, নাগেশ্বর, পুত্রঞ্জীব, ঢাকিজাম, লাল সোনাইল, টিকোমা, সিভিটসহ নানা প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়েছে। উপাচার্য বলেন, ‘এখন আমাদের লড়াই হচ্ছে গাছকে রক্ষা করা। আমরা প্রতিনিয়ত গাছের ওখানে যাচ্ছি, কোথাও জলাবদ্ধতা তৈরি হলে তার সমাধান করছি, কোথাও জলের স্বল্পতা হলে জল দিচ্ছি। অর্থাৎ একটি গাছকে বড় করার জন্য যে পরিচর্যা দরকার, ইট দিয়ে বেষ্টনী বানিয়েছি। ইতোমধ্যে সর্বসম্মতভাবে জয় বাংলা ভাস্কর্য সরানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জয় বাংলার মোড় হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার পয়েন্ট। ইতোমধ্যে সীমানাপ্রাচীর দৃশ্যমান। এই প্রাচীরের চারপাশ দিয়ে রাস্তা হবে। এখানে জো বাইক সিস্টেম চালু করা হবে। এই সিস্টেমে শিক্ষার্থীরা সাইকেলে নিমিষেই ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে যাতায়াত করতে পারবে। আমাদের ইতোমধ্যেই এ ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসকে একটা নতুন বিশ্বরূপে গড়ে তুলতে চাই। যেটি হবে নজরুল বিশ্ব। এখানে পা রাখলেই মানুষ আরেকটা জগতে ঢুকবে। একজনের সঙ্গে আরেকজনের সম্পর্ক হবে- তাঁরা হবেন নজরুল বিশ্বের সদস্য। একটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্য। এখানে ২৪ ঘণ্টা কাজের মতো পরিবেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই। সেই পরিবেশ যদি গড়ে তুলতে পারি, তাহলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম আরও বাড়বে বলে বিশ্বাস করি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো তিনটি ভবন কলা, বিজ্ঞান আর প্রশাসনিক। এর মাঝখানে মজা অবস্থায় থাকা পুকুর সংস্কার করে কাজ চলছে দৃষ্টিনন্দন আর আকর্ষণীয় সরোবর করার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পার্শ্ববর্তী জমিন থেকে পুকুরের জলে উঠে আসবে একটি হাত, অঞ্জলি দেয়ার ভঙ্গিতে। যার নামকরণ করা হয়েছে, কাজী নজরুল ইসলামের গান থেকে ‘অঞ্জলি লহ মোর’। সরোবরটির চারিদিকে চমৎকার করে বাঁধাই করা হবে। তিনটে ভবনকে বাঁধবে একই সুতোয়। বিকেল পাঁচটা থেকে যন্ত্রে চলবে গান, মৃদুস্বরে, রাত ১০টা অবধি। মূলত নজরুল সংগীতই হবে, ক্লাসিকও কিছু হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার গমনাগমনের জন্য থাকবে এই সরোবরকেন্দ্র উন্মুক্ত।
স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ে তোলার প্রত্যয়
উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষাথে ‘স্মার্ট ক্যাম্পাস’ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর যে কথাটি বলেছিলাম, স্মার্ট ক্যাম্পাস চাই। পরবর্তী সময়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা যে স্মার্ট বাংলাদেশের ধারণা দিয়েছেন, আমাদের চিন্তার সঙ্গে মিলে যায় সেটা। তাই স্মার্ট বাংলাদেশের অভিমুখে স্মার্ট ক্যাম্পাস। আর স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ার ক্ষেত্রে আমি শিক্ষা, গবেষণা, উন্নয়ন- এই তিনটি মোটোকে ধারণ করে কাজ করে যাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই স্মার্ট ক্যাম্পাসের অবকাঠামো ও একাডেমিক- উভয় দিক থেকে আমরা এমন অবকাঠামো গড়ে তুলব, যা হবে দৃষ্টিনন্দন। এখানে ভবনগুলো থাকবে সুসজ্জিত। ভবনগুলোর পাশাপাশি বৃক্ষ, লতাগুল্ম, পাখিসমৃদ্ধ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য থাকবে। পাশাপাশি থাকবে রাস্তার নিরাপত্তা। আমি স্বপ্ন দেখি, শিক্ষার্থীরা নিজস্ব সাইকেলে চলাফেরা করবে। এখানে বাইরের অনাকাঙ্ক্ষিত বা অপ্রত্যাশিত যানবাহন ঢুকবে না। ক্যাম্পাস সম্পূর্ণভাবে সিসিটিভির আওতায় থাকবে। এগুলো হচ্ছে অবকাঠামোগত দিক। আমরা একই সঙ্গে অ্যাকাডেমিক দিক থেকে এখানে এমন শিক্ষার্থী তৈরি করব, যারা লেখাপড়া শেষ করে বাইরে গিয়ে আলো ছড়াবে। এগুলো নিয়ে আমরা ভেতরে-ভেতরে অনেক পরিকল্পনা করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাইছি আমাদের শিক্ষার্থীরা এই প্রতিযোগিতার বাজারে নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দেবে। এ বিষয়ের প্রতি লক্ষ রেখে ইতোমধ্যে আমাদের যে কারিকুলাম, তা আলোচনা-পর্যালোচনা করেছি ঢেলে সাজানোর জন্য। আমাদের স্মার্ট ক্যাম্পাস হবে স্মার্ট এডুকেশন। একটা দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।’
ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক নথি ব্যবস্থাপনা ও রেকর্ড সংরক্ষণে ডিজিটাল নথি (ডি-নথি) কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়। নথির এ প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাইলের কাজ ডিজিটাল পদ্ধতি অনুসরণ করে সম্পাদিত হবে। উপাচার্যসহ সব পর্যায়ের অনুমোদনকারীরা যেকোনো জায়গা থেকে যেকোনো সময় ফাইল অনুমোদন করতে পারবেন। এতে তাদের সময় সাশ্রয় হবে, কাগজ সাশ্রয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জায়গাটিও নিশ্চিত হবে। এ ছাড়া প্রশাসন ও অ্যাকাডেমিক ক্ষেত্রে গতিশীলতা বাড়বে।
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস (আইসিসিআর) বৃত্তি-২০২৬–এর জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এক বিশেষ বিদায় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর বারিধারায় অবস্থিত হাইকমিশন প্রাঙ্গণে এই উৎসবমুখর অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। সারা দেশ থেকে সংগৃহীত প্রায় ৭ হাজার ৭০০ আবেদনের মধ্য থেকে কঠোর যাচাই-বাছাই শেষে মোট ৫৪১ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে এই মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তির জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ভারতের স্বনামধন্য ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানান। বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে একাডেমিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে ভারতের ধারাবাহিক সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি শিক্ষার্থীদের ভারতে বাংলাদেশের ‘সাংস্কৃতিক রাষ্ট্রদূত’ হিসেবে নিজেদের তুলে ধরার পরামর্শ দেন এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক ও চিরস্থায়ী মৈত্রীর বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে উৎসাহিত করেন।
অনুষ্ঠানটিতে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। আনুষ্ঠানিক আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীরা একে অপরের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করেন এবং সেলফি তুলে বিশেষ মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করেন। সংবর্ধনার শেষ পর্বে আইসিসিআর বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। মূলত এই বৃত্তির মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে শিক্ষা ও সংস্কৃতির আদান-প্রদান আরও গতিশীল হবে বলে আয়োজকরা আশা ব্যক্ত করেছেন।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের যোগদানের আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণা করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। রোববার (২ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখা থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয় যে, নির্বাচিত প্রার্থীরা আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে নিজ নিজ জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন।
মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রাজীব কুমার সরকার স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, যোগদানের পরপরই নবনিযুক্ত শিক্ষকদের পদায়ন করা হবে এবং পরবর্তীতে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর আগে গত ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত এক জরুরি ভার্চ্যুয়াল সভায় যোগদানের প্রাথমিক তারিখ ২৯ অক্টোবর নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। সেই সময় সংশ্লিষ্ট সচিব জানিয়েছিলেন যে, তদন্তসহ অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে সরকার যত দ্রুত সম্ভব নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চায়।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেনের নির্দেশনায় এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর শেষ পর্যন্ত ১ অক্টোবরকেই যোগদানের চূড়ান্ত সময়সীমা হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়। এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নিয়োগের মাধ্যমে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষক যুক্ত হতে যাচ্ছেন, যা শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে নবনির্বাচিত শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। চলতি বাজেটে মোট জিডিপির ২ শতাংশ শিক্ষাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আগামীতে এটি পাঁচ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন মন্ত্রী।
জমকালো আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিয়েছে প্রশাসন। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলানায়তনে এটি দুটি পর্বে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মতিনুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালে যোগ দেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এমপি ও শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক ও ওরিয়েন্টেশন বক্তা প্রফেসর ড. এস এম আব্দুল আওয়াল, ইউজিসির সদস্যও প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. তোজাম্মেল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রোভিসি প্রফেসর ড. এমতাজ হোসেন ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. ইদ্রিস আলী, মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্পর্ক অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আলম শাহ্। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মনজুরুল হকসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় সভাপতি, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দুই-সহস্রাধিক নবীন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, মহান আল্লাহতালার আশীর্বাদস্বরূপ আমাদের দেশে এই জনসম্পদকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে। আর এই দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বড় ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, লেখাপড়ার কোনো বিকল্প নেই। লেখাপড়া করতেই হবে এবং সময়কে কাজে লাগাতে হবে। দেশ গড়তে হবে, দেশ তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা চাই তোমরা এই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, যা চেয়েছেন আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান।
এছাড়া কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় একটি সেন্টার অব এক্সিলেন্স হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি আন্তর্জাতিকমানের হবে।
প্রাথমিক স্কুলের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশকৃত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষকের যোগদান অক্টোবর মাসে শুরু হবে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শনিবার (১ আগস্ট) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত এক জরুরি ভার্চ্যুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভা শেষে এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিকের জন্য সুপারিশ করা ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষকের যোগদানের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার। তদন্ত ও প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রিতাতে তা বিলম্বিত হয়েছে। আশা করি, আসন্ন ৩০ অক্টোবরের মধ্যে তাদের যোগদান প্রক্রিয়া শুরু হবে।’
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সনদপত্র ও ক্রেস্ট বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাকৃবি চত্বরে অবস্থিত দুটি কিন্ডারগার্টেনের মোট ২২ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়। বৃত্তির অংশ হিসেবে তাদের হাতে নগদ অর্থ, সনদপত্র ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। শনিবার (১ আগস্ট) বাকৃবির মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বিদ্যালয় টিএসসি মিনি কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া প্রধান অতিথি হিসেবে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র ও ক্রেস্ট তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল আলম। স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব তৌহিদা বেগম। মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুল ফাউন্ডেশনের সভাপতি জনাব মো. রেজাউল হক। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবুর রহমান, ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান প্রামাণিক, বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুল ফাউন্ডেশনের মহাসচিব জনাব মো. আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব মো. বেলাল হোসেন ভূঁইয়া এবং শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক জনাব সাম ছুদ্দিন আহাম্মেদ স্বজল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বর্তমানের এই অর্জন তোমাদের ভবিষ্যৎ সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে দেশ, জাতি, পরিবার এবং বিশ্বমানবতার কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করবে। তাদের এই অর্জনে অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং বিদ্যালয় কতৃপক্ষের আন্তরিক প্রচেষ্টা অবশ্যই প্রশংসনীয়। ছুটির দিনেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এই অনুষ্ঠান সফল করে তোলায় সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
এছাড়া অনুষ্ঠানে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুল ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় সাবেক উপাচার্য ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমসহ তিন শিক্ষক ও এক কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে নানা অনিয়ম ও অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও চার শিক্ষককে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক সব ধরনের কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অশিক্ষকসুলভ আচরণ ও নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের দায়ে অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম এবং অধ্যাপক ড. আফরোজা শেলীকেও সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। একই সভায় প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের দায়ে প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ কে এম মাহবুব মুস্তফাকে বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থি কর্মকাণ্ড, সরকার ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অবস্থানের অভিযোগে ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিতকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে অ্যাকাডেমিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগে ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সারা শামসুর রউফ এবং শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলামকেও দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে। এছাড়া গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির দায়ে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়।
বিগত ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা যাচাই এবং ‘হেকেপ’ প্রকল্পের গবেষণা তহবিলের যথাযথ ব্যয় পর্যালোচনার জন্য প্রো-উপাচার্যদের নেতৃত্বে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সাথে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন মলচত্বরে ‘জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ’ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার ভিত্তিপ্রস্তর আগামী ৫ আগস্ট উদ্বোধন করা হবে।
কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে যেন ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। দীর্ঘদিন পর আবারও এই বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন কুমিল্লা অঞ্চলের সিনিয়র প্রধান শিক্ষিকা রোকসানা ফেরদৌস মজুমদার। তাঁর পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণকে ঘিরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
শিক্ষা প্রশাসনের এক আদেশে তাকে তার পুরোনো কর্মস্থল ও ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুনর্বহাল করা হয়। এর আগে ২০০৮ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৩ বছর তিনি দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নেতৃত্ব দেন। তাঁর যোগ্য ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডসহ দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে সুনাম অর্জন করে।
রোকসানা ফেরদৌস মজুমদারের নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল, গণিত অলিম্পিয়াডসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে। পাশাপাশি বিভিন্ন বৃত্তি অর্জনের ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখে। তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা, শিক্ষার মানোন্নয়নে আন্তরিকতা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব নেতৃত্ব বিদ্যালয়ের সাফল্যের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, রোকসানা ফেরদৌস মজুমদারের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, প্রশাসনিক দক্ষতা, শিক্ষার মানোন্নয়নে আন্তরিকতা, সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে উৎসাহ এবং শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ তাঁকে একজন সফল শিক্ষানেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাঁর নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও সার্বিক কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
কুমিল্লা শহরের পুরাতন চৌধুরীপাড়া এলাকার সন্তান রোকসানা ফেরদৌস মজুমদার। তাঁর বাবা ইঞ্জিনিয়ার মোখলেছুর রহমান। পুরাতন চৌধুরীপাড়ার মসজিদসংলগ্ন এলাকায় তাঁর শৈশব ও বেড়ে ওঠা। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন এই শিক্ষানেত্রী। তাঁর পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণে বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীরা।
বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, রোকসানা ফেরদৌস মজুমদারের অভিজ্ঞ ও দক্ষ নেতৃত্বে নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। একই সঙ্গে অতীতের গৌরবময় সাফল্যের ধারাবাহিকতা আরও সমৃদ্ধ হবে এবং কুমিল্লার অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই বিদ্যাপীঠে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে পড়বে আরও বিস্তৃত পরিসরে।
পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে প্রধান শিক্ষিকা রোকসানা ফেরদৌস মজুমদার বলেন, “এটি সরকারি চাকরি। সরকার যখন যে আদেশ দেয়, তা মেনে চলতে হয়। আমি চেষ্টা করব, অতীতের মতো নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়কে এমন একটি পর্যায়ে নিয়ে যেতে, যাতে প্রতিষ্ঠানটি তার সুনাম ধরে রেখে সারা দেশে আলোচনায় থাকে। সবার সহযোগিতা থাকলে যেকোনো কাজই সহজ হয়ে যায়।”
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে ৪টি পৃথক ক্যাটাগরিতে জনবল নিয়োগের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি মূলত ৬২তম বিএমএ স্পেশাল (সিগন্যালস/ইএমই/এইসি) এবং ৫৫তম বিএমএ স্পেশাল (আরভিএন্ডএফসি) কোর্সের অধীনে পরিচালিত হবে। সিগন্যালস কোরের জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা ইলেকট্রিক্যাল ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বা সমমানের বিষয়ে ৪.০০ এর মধ্যে কমপক্ষে ৩.০০ সিজিপিএ থাকতে হবে। ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা ইএমই কোরের জন্য মেকানিক্যাল অথবা ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে একই পরিমাণ সিজিপিএ অর্জনকারী প্রার্থীরা আবেদনের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। অন্যদিকে, আর্মি এডুকেশন কোরের জন্য অর্থনীতি, বিবিএ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং মেডিকেল ফিজিসিস্ট বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ে ৩.০০ সিজিপিএ চাওয়া হয়েছে। এছাড়া রিমাউন্ট ভেটেরিনারি অ্যান্ড ফার্ম কোরে আবেদনের জন্য ভেটেরিনারি সায়েন্স বা অ্যানিম্যাল হাজব্যান্ড্রি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের সুযোগ রাখা হয়েছে।
শারীরিক যোগ্যতার ক্ষেত্রে পুরুষ প্রার্থীদের উচ্চতা কমপক্ষে ১.৬৩ মিটার বা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি এবং নারী প্রার্থীদের জন্য ১.৫৫ মিটার বা ৫ ফুট ১ ইঞ্চি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রার্থীদের ওজন বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী আনুপাতিক হারে থাকতে হবে। ১ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে প্রার্থীর বয়স অনূর্ধ্ব ২৮ বছর হতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না। বৈবাহিক অবস্থার শর্ত হিসেবে পুরুষ প্রার্থীদের অবিবাহিত হতে হবে, তবে ওই তারিখে যাদের বয়স ২৬ বছরের বেশি হবে তারা বিবাহিত হলেও আবেদন করতে পারবেন। নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে অবিবাহিতা বা বিবাহিতা উভয় সুযোগই রাখা হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য সরকার নির্ধারিত বেতনক্রম অনুযায়ী বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হবে।
আবেদনের ক্ষেত্রে কিছু অযোগ্যতাও নির্ধারণ করা হয়েছে, যেমন সরকারি চাকরি বা প্রশিক্ষণ থেকে বরখাস্ত হওয়া, ফৌজদারি অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত হওয়া কিংবা দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ব্যক্তিরা এই পদের জন্য যোগ্য হবেন না। এছাড়া আইএসএসবি কর্তৃক নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে দুবার প্রত্যাখ্যাত প্রার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন না। আগ্রহী প্রার্থীদের সেনাবাহিনীর নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ‘Apply Now’ অপশনে ক্লিক করে ৫০০ টাকা আবেদন ফি জমা দেওয়ার মাধ্যমে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। ২৮ জুলাই ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া এই আবেদন প্রক্রিয়া আগামী ২৪ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত চলমান থাকবে।
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের চূড়ান্ত দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১০ আগস্ট এই ফল আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল খালেক গণমাধ্যমকে তথ্যটি নিশ্চিত করে বলেন, “এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের জন্য ১০ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।” ওইদিন ফলাফল ঘোষণার পর পরীক্ষার্থীরা প্রচলিত পদ্ধতিতে শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট, নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবেন।
এর আগে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, বিভিন্ন অনিবার্য কারণে নির্ধারিত সময়ে ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে ফল প্রস্তুতের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চূড়ান্ত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এবারের মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডসহ মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে ১৮ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে।
আকস্মিক বন্যার কারণে তিন সপ্তাহের স্থবিরতা কাটিয়ে আজ থেকে আবারও শুরু হচ্ছে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন পাঁচ জেলার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। সংশ্লিষ্ট এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সাংবাদিকদের এ কথা জানান যে, "বন্যার কারণে স্থগিত হওয়া চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন ৫ জেলার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে আজ।" এই নির্দেশনার ফলে চট্টগ্রামসহ রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার পরীক্ষার্থীরা দীর্ঘ বিরতির পর পুনরায় পরীক্ষা কেন্দ্রে ফিরছে। একই সময় সারা দেশের অন্য নয়টি সাধারণ বোর্ড এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও পূর্বনির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ডের হালনাগাদ সূচি অনুসারে, আজকের সকালের অধিবেশনে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডসমূহে পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, জীববিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্র এবং ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা প্রথম পত্রের পরীক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং বিকেলে খাদ্য ও পুষ্টি প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। মাদ্রাসা বোর্ডের আলিম পরীক্ষার্থীরা আজ ইসলামের ইতিহাস, পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র এবং তাজভিদ দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। এছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট-১ বিষয়ের পরীক্ষা সম্পন্ন হবে।
সাম্প্রতিক বন্যায় যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষয়ক্ষতি ও শিক্ষার্থীদের প্রতিকূল অবস্থার কারণে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছিল, "বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি, পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়কপথের কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াতের চরম দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।" আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তৎকালীন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অবশিষ্ট বিষয়গুলোর পরীক্ষা বন্ধ থাকলেও সংশোধিত সূচি অনুযায়ী আজ থেকে সকল শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় সচল হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষায় ভ্যালু-বেইজড (মূল্যবোধভিত্তিক) শিক্ষা, ডিজিটাল নিরাপত্তা, লাইফ স্কিল, জেন্ডার সংবেদনশীলতা ও নাগরিক মূল্যবোধকে নতুন কারিকুলামের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।’ একই সঙ্গে তিনি শিশুদের প্রযুক্তি থেকে দূরে না রেখে নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার শেখানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর গুলশানের হোটেল লেকশোরে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন আয়োজিত ‘ডিজিটাল জেন্ডার নরমস: জাতীয় শিখন-অভিজ্ঞতা বিনিময়’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা থামবে না। তাই শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে নিরাপদ ও ইতিবাচকভাবে প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করেও জনগণের কণ্ঠ রোধ করা সম্ভব হয়নি। সেই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে, ডিজিটাল মাধ্যম এখন সমাজ ও রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এ ব্যবধান দূর করতে শিক্ষা, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’ পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের তথ্য যাচাই, অনলাইন নৈতিকতা ও নিরাপদ ডিজিটাল আচরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ছবি, ভুয়া ভিডিও, চরিত্রহনন ও ডিজিটাল হয়রানি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে নারী, কিশোরী ও নারী রাজনীতিবিদরা এসবের বড় শিকার। তাই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং শিশু ও নারীদের সুরক্ষায় কার্যকর আইন ও নীতিমালা বাস্তবায়ন প্রয়োজন।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, নতুন শিক্ষাব্যবস্থায় ধাপে ধাপে শ্রেণিকক্ষে ইন্টারঅ্যাকটিভ ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু, শিক্ষকদের জন্য ট্যাব সরবরাহ এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবান্ধব ডিজিটাল ডিভাইস প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কমিউনিটি সম্পৃক্ততা বাড়াতে স্কুল-মিল কার্যক্রম তদারকির জন্য অভিভাবক কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন কার্যক্রমে অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণকে আরও সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন, ইউএন উইমেন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল, জাগো ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল পূর্বনির্ধারিত ২০ জুলাই তারিখে প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফল প্রকাশের জন্য এখনও কোনো নতুন দিনক্ষণ চূড়ান্ত না হলেও শিক্ষা বোর্ডগুলো চলতি মাসের মধ্যেই কার্যক্রম শেষ করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
বোর্ড চেয়ারম্যান জানান যে, শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ২০ জুলাইয়ের মধ্যে ফল প্রকাশের যে লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছিলেন, সে অনুযায়ী বোর্ডগুলো প্রস্তুতি নিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক কিছু প্রশাসনিক ব্যস্ততা ও কারিগরি কারণে নির্ধারিত সময়ে ফল প্রস্তুতের কাজ পুরোপুরি শেষ করা যায়নি। ফলে ফল প্রকাশে সামান্য বিলম্ব ঘটছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “ইনশাআল্লাহ চলতি মাসের মধ্যেই ফল প্রকাশ করতে পারব বলে আশা করছি।” এর মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ১৮ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থীর অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। পরীক্ষা চলাকালীন শৃঙ্খলার বিষয়ে বোর্ড কঠোর অবস্থানে ছিল এবং অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ২০৮ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। গত ১৫ জুনের এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট সময়সীমা জানিয়েছিলেন, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বোর্ডগুলো দ্রুততম সময়ে ফল প্রকাশে কাজ করছে।
অবশেষে বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে নওগাঁবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শনিবার (১৮ জুলাই) আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করছে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ এবং শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের এই নবীন বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষার নতুন যাত্রা শুরু করবে।
উদ্বোধনীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ.ন.ম. এহসানুল হক মিলন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুল খালেক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য, স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, শিক্ষাবিদ, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
সকাল ১০টায় শহরের বরুনকান্দি মোড়ে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হবে। এরপর পায়রা অবমুক্তকরণ, বেলুন ও ফেস্টুন উড়ানো, উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন, শ্রেণিকক্ষ, গ্রন্থাগার, কম্পিউটার ল্যাব ও স্টাডি সেন্টারের উদ্বোধন এবং কেক কাটার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রমের যাত্রা ঘোষণা করা হবে। পরে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে উদ্বোধনী আলোচনা সভা।
সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি প্রধান অতিথি, উপাচার্য ও আমন্ত্রিত অতিথিরা বক্তব্য রাখবেন। অনুষ্ঠানে প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আমগাছের চারা উপহার দিয়ে বরণ করে নেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলী।
উপাচার্য ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলী জানান, প্রাথমিকভাবে আইন ও হিসাববিজ্ঞান এই দুই অনুষদে ৪০ জন করে মোট ৮০ শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠদান শুরু হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য ৯৭ একর জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও গবেষণাবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হয়েছে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক যাত্রাকে ঘিরে নওগাঁজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।