মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩

প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির উদ্যোগে সিনেমা প্রদর্শন

দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ০৮:৪৭

প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির উদ্যোগে বিভিন্ন বিভাগের ২০০ শিক্ষার্থীদের ‘১৯৭১ সেই সব দিন’ সিনেমা দেখানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ঢাকার স্টার সিনেপ্লেক্সে এই সিনেমা দেখানো হয়। শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করতে মুক্তিযুদ্ধের ওপর নির্মিত ‘১৯৭১ সেই সব দিন’ সিনেমা দেখতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মান্নান চৌধুরী, রেজিস্ট্রার রুহুল আমিন, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মকর্তারা।

উপাচার্য বলেন, ‘এই সিনেমাতে শুধু রণাঙ্গনের চিত্রই নয়, এর বাইরের অদেখা একাত্তরের দুর্দশা ও বর্বরতাকেও দেখিয়েছে।’ বিজ্ঞপ্তি


ঢাবিতে বিশ্ব ফার্মাসিস্টস দিবস উদ্‌যাপন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গতকাল সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিশ্ব ফার্মাসিস্টস দিবস উদ্‌যাপিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা প্রভৃতি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান সকালে ফার্মেসি লেকচার থিয়েটার-সংলগ্ন চত্বরে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ঢাবি ফার্মেসি অনুষদ এবং ফার্মেসি বিভাগ যৌথভাবে এসব কর্মসূচির আয়োজন করে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর ফার্মেসি লেকচার থিয়েটারে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল প্রধান অতিথি এবং ফার্মেসি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার, ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শাহ এমরান, ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শেখ জহির রায়হান ও ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি


ডিআইইউ ফার্মা ক্যারিয়ার এক্সপো

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

‘ফার্মেসি স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ফার্মেসি বিভাগের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী (সেপ্টেম্বর ২৫-২৬) ‘ডিআইইউ ফার্মা ক্যারিয়ার এক্সপো’ এবং ‘বিশ্ব ফার্মাসিস্টস দিবস-২০২৩’ উদ্‌যাপন গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নলেজ ভবনে শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানে ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রির বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের জ্ঞান, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন এবং ক্যারিয়ার নিয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন। অনুষ্ঠানে ছিল শোভাযাত্রা, ফার্মা অলিম্পিয়াড, সেমিনার, কর্মশালা, পোস্টার প্রেজেন্টেশন, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন। সহস্রাধিক শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই ও ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রির বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম মাহাবুব-উল হক মজুমদার ঔষুধ শিল্পের গুরুত্ব এবং শিল্পের চাহিদা পূরণে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে ডিআইইউয়ের ভূমিকা তুলে ধরেন। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেজর জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি স্বাস্থ্যসেবা খাতে বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ফার্মেসির ক্ষেত্রে গবেষণার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। বিজ্ঞপ্তি


সাংবাদিক মোশাররফের ওপর হামলা তদন্তে কমিটি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্য ও দৈনিক প্রথম আলোর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মোশাররফ শাহর ওপর হামলার ঘটনায় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিকে পাঁচ কর্ম দিবসের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ কমিটি রোববার রাতে গঠন করা হয়।

সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কে এম নুর আহমদ।

তিনি জানান, রোববার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ও প্রথম আলোর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি এবং চবিসাসের সদস্য মোশাররফ শাহ এর উপর বর্বরোচিত হামলা ও সমাজতত্ত্ব বিভাগের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জুবায়ের হাসান তুষারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছাদিকুর রহমান সাগরকে আহত করার ঘটনা তিনটি তদন্ত করে সুপারিশসহ প্রতিবেদন পেশ করার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শহীদ আবদুর রব হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. দানেশ মিয়াকে আহ্বায়ক, সহকারী প্রক্টর ড. মো. আহসানুল কবীর পলাশকে সদস্য সচিব, সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট ড. শিপক কৃষ্ণ দেব নাথ ও শামসুন নাহার হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. রকিবা নবীকে সদস্য করে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে তদন্ত কমিটিকে।

সংবাদ প্রকাশের জেরে রোববার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে দ্বিতীয় কলা অনুষদের সামনে হামলার শিকার হন মোশাররফ শাহ। মোশাররফের ভাষ্যমতে, মারধরকারীরা শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের অনুসারী ও সিএফসি গ্রুপের কর্মী।

ভুক্তভোগী মোশাররফ শাহ বলেন, বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে তিনি উপাচার্যের কার্যালয়ে যাচ্ছিলাম বক্তব্য নেওয়ার জন্য। এ সময় দ্বিতীয় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের সামনে ১৫ থেকে ২০ জন ছাত্রলীগের কর্মী আমাকে আটকায়। আমাকে লাঠিসোটা দিয়ে মারধর করে। আমার মোবাইল কেড়ে নেয়। পরে সেখান থেকে রব হলে নিয়ে গিয়ে দ্বিতীয় দফা মারধর করে।

তিনি বলেন, মারধরের সময় নেতা–কর্মীরা পরবর্তীতে আর ছাত্রলীগ নিয়ে প্রতিবেদন না ছাপানোর হুমকি দেন। তারা বলেন, 'আর নিউজ করিস, তারপর দেখব তোরে কে বাঁচাতে আসে। ছাত্রলীগকে নিয়ে কোনো নিউজ হবে না।'

এ বিষয়ে সিএফসি গ্রুপের একাংশের নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, আমি এই ঘটনা শুনেছি। খোঁজ খবর নিচ্ছি৷ যারা এই ঘটনায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রক্টর ড. নূরুল আজিম সিকদার বলেন, আমি ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্র গিয়েছি। তাকে চিকিৎসা জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় যারা এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাংবাদিকের ওপর ছাত্রলীগের হামলা এই প্রথম নয়। গত ১৯ জুন রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে চায়ের দোকানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে চবিসাস সদস্য ও ঢাকা স্টেটের বিশ্ববিদ্যালয় প্রাতিনিধি দোস্ত মোহাম্মদকে মারধর করেন চবি শাখা ছাত্রলীগের আইন সম্পাদক ও আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী খালেদ মাসুদ, উপদপ্তর সম্পাদক ও সমাজতত্ত্ব বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরাফাত রায়হান।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২২ জুন অভিযুক্ত দুই ছাত্রলীগ নেতাকে ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে বহিষ্কার হওয়ার পরও ক্যাম্পাস দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বহিস্কৃতরা। এর আগেও গত ফেব্রুয়ারিতে ক্যাম্পাসে কর্মরত দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মারজান আক্তারকে হেনস্থা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় কেন্দ্র থেকে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা মারুফ ইসলামকে বহিষ্কার করে।


বিবাহিত ও অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রীদের জবি হল ছাড়ার নির্দেশ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব ছাত্রী হলের আসন বরাদ্দ পাওয়া বিবাহিত ও অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। একই সাথে মাস্টার্সের ফল প্রকাশ হওয়া আবাসিক ছাত্রীদেরও হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে আলোচনা সমালোচনা ও চরম বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার ছাত্রী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. দীপিকা রাণী সরকার দৈনিক বাংলাকে এ নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ব্যাপারে তার স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হলের আবাসিকতা লাভ, বসবাসের শর্তাবলি এবং আচরণ ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা ২০২১ এর ১৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী বিবাহিত ও অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রীরা হলে সিট পাবে না। তারা অতিদ্রুত হলের সিট ছেড়ে দেবেন। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও বলা হয়েছে, এছাড়াও হলের যেসব ছাত্রীর স্নাতকোত্তরের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে, তাদেরও অতিদ্রুত হল ছাড়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোনো মানোন্নয়ন (মাস্টার্স) পরীক্ষার্থী বা এম.ফিল অধ্যয়নরত ছাত্রী হলে থাকতে পারবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হলের ছাত্রীরা। তারা বলছেন, বিবাহিত হলেও তো সবার পরিবার ঢাকায় থাকে না। এ ক্ষেত্রে তাঁদের জন্য হলটাই তো নিরাপদ। এভাবে নোটিশ দিয়ে নামিয়ে দেয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।

এ বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. দীপিকা রাণী সরকার বলেন, হলের বিধিমালার ১৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী কোনো বিবাহিত ছাত্রী হলে সিটের আবেদন কর‍তে পারবেন না। আমরা বিধি অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক ছাত্রী আছেন যাদের হলে সিট বেশি প্রয়োজন। অনেকের মা-বাবা নেই, অনেকের পরিবার একেবারেই নিম্নবিত্ত। হলে সিট পেলে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সুবিধা হবে। কিন্তু অনেক বিবাহিত মেয়েরা আছেন যাদের খরচ বহন করার মতো সামর্থ্য পরিবারের আছে। তারা বাইরেও থাকতে পারবে। তাদের হল ছাড়তে সময়ের প্রয়োজন হলে আমরা বিষয়টি বিবেচনা করবো।

এর আগে ২০২১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৫ তম সিন্ডিকেটে হলের নীতিমালা পাস করা হয়। ১৩ তলা বিশিষ্ট হলটির ১৫৬টি কক্ষে মোট ১২০০ ছাত্রীকে সিট বরাদ্দ দেয়া হবে।


এসইউবির 'স্কুল অব ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেস' এর উদ্যোগে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস ২০২৩ পালিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০

স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এসইউবি) 'স্কুল অব ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেস' এর অধীনে পরিচালিত ফার্মেসি বিভাগের উদ্যোগে ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস পালিত হয়েছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় হল 'Pharmacy strengthening health systems'।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিভাগের শিক্ষকমন্ডলী এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালির আয়োজন করা হয়। বেলুন এবং পায়রা উড়ানোর মধ্য দিয়ে র‍্যালির শুভ সূচনা করেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. নওজিয়া ইয়াসমীন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের প্রাক্তন ডিন ও স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের স্কুল অব ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেস এর উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুর রশীদ, এসউবির উপদেষ্টা অধ্যাপক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) কে এম সালজার হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোঃ হাসান কাওসার, রেজিস্ট্রার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) মোঃ জামাল হোসেন, স্কুল অব ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেস এর নব নিযুক্ত ডীন অধ্যাপক মোঃ সাইফুল ইসলাম পাঠান এবং বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. কোহিনূর বেগম।

র‍্যালিতে আরো উপস্থিত ছিলেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক মতিউর রহমান এবং ড. খন্দকার সগির আহমেদ, এসিআই ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের মার্কেটিং অপেরেশনস এর পরিচালক মুহসিন মিয়া, রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের রেগুলেটরি কমপ্লায়েন্সের ম্যানেজার এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ শামছুল আলম প্রমুখ।

এই উদযাপনের অংশ হিসেবে ফার্মেসী বিভাগে সারাদিনব্যাপী বিতর্ক প্রতিযোগিতা, ফার্মা অলিম্পিয়াড, ইনডোর গেমস, কালচারাল প্রোগ্রামসহ নানা ধরনের ইভেন্টে মুখরিত ছিল স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের মেইন ক্যাম্পাস। বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস-২০২৩ পালনে সহায়তা করার জন্য এসউবির স্কুল অব ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেস এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়।


ছাত্রলীগের মারধরে কানের পর্দা ফেটে গেছে মোশাররফের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

ছাত্রলীগের হামলায় আহত প্রথম আলোর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) প্রতিনিধি মোশাররফ শাহের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও তার বাঁ কানের পর্দা ফেটে গেছে। বর্তমানে হাসপাতালের ১৯ নম্বর নাক, কান ও গলা বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. রাজিব পালিত এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘ওনার শারীরিক অবস্থা ভালো। তবে বাম কানের পর্দা ফেটে গেছে। এটার চিকিৎসা সময় সাপেক্ষ, কয়েক মাস লেগে যেতে পারি।’

এর আগে গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দ্বিতীয় কলা অনুষদের সামনে হামলার শিকার হন মোশাররফ। ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোশাররফ শাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্য।

মোশাররফের ভাষ্য, মারধরকারীরা শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের অনুসারী ও সিএফসি গ্রুপের কর্মী।

ভুক্তভোগী মোশাররফ শাহ বলেন, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপাচার্যের কার্যালয়ে যাচ্ছিলাম বক্তব্য নেয়ার জন্য। এ সময় দ্বিতীয় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের সামনে ১৫ থেকে ২০ জন ছাত্রলীগের কর্মী আমার পথরোধ করে লাঠি দিয়ে পেটায়। তারা আমার মোবাইল কেড়ে নেয়। পরে সেখান থেকে রব হলে নিয়ে দ্বিতীয় দফা মারধর করে।

তিনি বলেন, মারধরের সময় নেতা-কর্মীরা পরবর্তীতে আর ছাত্রলীগ নিয়ে প্রতিবেদন না ছাপানোর হুমকি দেন। তারা বলেন, ‘আর নিউজ করিস, তারপর দেখব তোরে কে বাঁচাতে আসে। ছাত্রলীগকে নিয়ে কোনো নিউজ হবে না।’

এদিকে হামলার কয়েক ঘণ্টা পর ছাত্রলীগের চবি শাখা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় কমিটি।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান বলেন, সজ্জন ও সচ্চরিত্রবানদের দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের কমিটি দেয়া হবে।

এদিকে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অছাত্র ও বহিষ্কৃতের সোমবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে আবাসিক হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রোববার সন্ধ্যায় বিশ্বিবদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কে এম নুর আহমদের স্বাক্ষর করা এক জরুরি বিজ্ঞতিতে এ নির্দেশ দেয়া হয়।

সাংবাদিকের ওপর ছাত্রলীগের হামলা এই প্রথম নয়। গত ১৯ জুন রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে চায়ের দোকানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে চবিসাস সদস্য ও ঢাকা স্টেটের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি দোস্ত মোহাম্মদকে মারধর করেন চবি শাখা ছাত্রলীগের আইন সম্পাদক ও আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী খালেদ মাসুদ, উপদপ্তর সম্পাদক ও সমাজতত্ত্ব বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরাফাত রায়হান। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২২ জুন অভিযুক্ত দুই ছাত্রলীগ নেতাকে ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে বহিষ্কার হওয়ার পরও ক্যাম্পাস দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তারা।


হামলার প্রতিবাদে ঢাবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, ঢাবি

রাজধানীর শাহবাগে ছাত্রদল নেতাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। সোমবার সকাল ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে শেষ হয়।

ছাত্রদলের এই মিছিলে ১০ থেকে ১৫ জন নেতা-কর্মীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম-সম্পাদক তারেক হাসান মামুন, আমান উল্লাহ আমান, হাসান আবিদুর রেজা বায়জীদ এবং নূরে আলম ভূঁইয়া ইমন এই মিছিলের নেতৃত্বে দেন।

এ সময় নেতা-কর্মীরা ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটি, ছাত্রদলের ঘাঁটি’, ‘টেইক ব্যাক বাংলাদেশ’, ‘দফা এক দাবি এক, শেখ হাসিনার পদত্যাগ’ ‘তারেক রহমান বীরের বেশে, আসবে ফিরে বাংলাদেশে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নেতারা অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং সুচিকিৎসার দাবি জানান। এ সময় তারা সারা দেশে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর পৈশাচিক হামলার জন্য ছাত্রলীগকে অবিলম্বে শাস্তির আওতায় আনার দাবিও জানান।

বক্তারা বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে অচিরেই স্বৈরাচারী শেখ হাসিনাকে পদত্যাগে বাধ্য করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগনের হারানো গণতন্ত্র এবং জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে ছাত্রদল ঘরে ফিরবে।


ড্যাফোডিল অ্যালামনাইদের মাধ্যমে ক্রাউডফান্ড প্রতিষ্ঠার ঘোষণা

আপডেটেড ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৩:৪০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ড্যাফোডিল ফ্যামিলি চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান, ড্যাফোডিল অ্যালামনাই অস্ট্রেলিয়ার পুনর্মিলনীতে বিশ্বব্যাপী ড্যাফোডিল অ্যালামনাইদের সমন্বিত অবদানের মাধ্যমে ১০ মিলিয়ন ডলারের একটি ক্রাউডফান্ড প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন, যা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অনাবাসিক ড্যাফোডিল অ্যালামনাইদের কল্যাণ, চাকরি নির্ধারণ এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নে নিবেদিত হবে। গতকাল রোববার অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অনুষ্ঠিত ড্যাফোডিল অ্যালামনাই অস্ট্রেলিয়ার পুনর্মিলনীতে তিনি এ ঘোষণা দেন। যেখানে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক ড্যাফোডিলের সাবেক ছাত্রদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উপস্থিতি ছিল এবং অনাবাসিক ড্যাফোডিল অ্যালামনাইরা এ তহবিলে সক্রিয়ভাবে অবদান রাখবে।

পুনর্মিলনীতে বিভিন্ন ব্যাচের ১৫০ জন ড্যাফোডিলের সাবেক শিক্ষার্থী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন, যারা গবেষণা এবং ব্যবসার মতো ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করেছেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির মধ্যে ড্যাফোডিল ফ্যামিলির চেয়ারম্যান ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম লুৎফর রহমান এবং ড্যাফোডিল ফ্যামিলির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি


জাবিতে ছাত্রলীগ নেত্রীকে নিয়োগ না দেয়ায় অবরুদ্ধ উপাচার্য

রোববার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. নূরুল আলমকে অবরুদ্ধ করে রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

রসায়ন বিভাগের প্রভাষক পদে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাদিয়া আফরিনকে নিয়োগ না দেয়ায় রোববার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য মো. নূরুল আলমকে দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব রিমোট সেন্সিং অ্যান্ড জিআইএসের শিক্ষক নিয়োগের জন্য নিয়োগ বোর্ডের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে তার আগেই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়ে প্রার্থীদের বের করে দিয়ে গেট আটকে দেন। পরে দুপুর ১২টায় উপাচার্যের নির্দেশে তার একান্ত সচিব গৌতম কুমার বিশ্বাস গিয়ে অনিবার্য কারণে নিয়োগ বোর্ড স্থগিতের বিষয়ে প্রার্থীদের জানান।

পরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন উপাচার্য মো. নূরুল আলম। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) শেখ মনজুরুল হক, সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) মোস্তফা ফিরোজ, কোষাধ্যক্ষ রাশেদা আখতার ও প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের প্রভাষক পদে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাদিয়া আফরিনকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। সেখানে বিভাগের অন্য তিন শিক্ষার্থীকে নিয়োগ দেয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেল ও সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা উপাচার্য মো. নূরুল আলমকে অবরুদ্ধ করেছেন।

গত ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় রসায়ন বিভাগের তিন প্রভাষককে নিয়োগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ইতোমধ্যে নবনিযুক্ত প্রভাষকরা বিভাগে চাকরিতে জয়েন করেছেন। এ সময় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাদিয়া আফরিন পাপড়িকে নিয়োগ দেয়া হয়নি।

রসায়ন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নবনিযুক্ত তিন প্রভাষক ৩৯ ব্যাচ, ৪২ ব্যাচ ও ৪৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী। তারা প্রত্যেকেই নিজ বর্ষে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন। তবে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি পাপড়ি স্নাতকে চতুর্থ ও স্নাতকোত্তরে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষায় নকল করে বহিষ্কৃত ও প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাই তাকে নিয়োগ দেয়া হয়নি।

এদিকে ইনস্টিটিউট অব রিমোট সেন্সিং অ্যান্ড জিআইএসের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডে বাধা প্রদান ও প্রার্থীদের উপাচার্যের দপ্তর থেকে বের করে দেয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন ওই ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক শেখ তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের ইনস্টিটিউটে শিক্ষক নিয়োগ খুবই জরুরি। একটি শূন্য পদের বিপরীতে ২৩ জন ক্যান্ডিডেট ছিল। বোর্ড স্থগিত হওয়া খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উপদপ্তর সম্পাদক আশরাফুল গোলদার বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বাইরে কাউকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে চাই না। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে অনেকবার জানিয়েছি।’

তবে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আখতারুজ্জামান সোহেল বলেন, ‘প্রশাসন কাকে নিয়োগ দেবে সে বিষয়ে আমাদের কোনো মত নেই। সাধারণ শিক্ষার্থী নিয়োগ পেলে আমাদের সমস্যা নেই; কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধী কেউ যেন নিয়োগ না পায়।এ ছাড়া নিয়োগে স্বজনপ্রীতির বিষয়টি যেন প্রত্যাহার হয়, সেটি আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়েছি।’

এদিকে বৈঠক শেষে উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলমের কণ্ঠেও শোনা যায় ছাত্রলীগের সুর। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী কাউকে নিয়োগ না দেয়ার দাবিকে আমরা সমর্থন করি। আমরা চাই না মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পরিপন্থি কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগে আসুক।’

ছাত্রলীগের এ ধরনের বাধা ভবিষ্যতে নিয়োগ বোর্ডকে প্রভাবিত করবে কিনা জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলম বলেন, ‘আমি মনে করি, এ ধরনের ঘটনার মাধ্যমে নিয়োগ বোর্ড কখনো প্রভাবিত হবে না। নিয়োগ বোর্ড নিয়ম অনুযায়ী চলবে।’


‘অছাত্র’ ও বহিষ্কৃতদের চবির হল ত্যাগের নির্দেশ

দৈনিক বাংলা। ফাইল ছবি
আপডেটেড ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ২০:৫২
প্রতিনিধি, চবি

অছাত্র ও বহিষ্কৃতদের আগামী সোমবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে আবাসিক হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) প্রশাসন।

রোববার সন্ধ্যায় বিশ্বিবদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কে এম নুর আহমদের স্বাক্ষর করা এক জরুরি বিজ্ঞতিতে এ নির্দেশ দেয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষ ও তৎপূর্বে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ম বর্ষ স্নাতক সম্মান শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় এ সকল শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা এখনো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন আবাসিক হলে অবস্থান করছে তাদের আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে হল ত্যাগ করার জন্য আদিষ্ট হয়ে নির্দেশ দেয়া হলো।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে শৃঙ্খলা-বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে যারা বহিষ্কারাশের আওতায় রয়েছে তাদেরও আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে হল ত্যাগ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হলো।

নির্ধারিত সময়ের পর অছাত্র ও বহিষ্কৃত কাউকে হলে পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

এরআগে রোববার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় কলা অনুষদের সামনে দুর্বৃত্তের হামলার শিকার হন দৈনিক প্রথম আলোর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মোশাররফ শাহ। এ ঘটনার পর সংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা প্রতিবাদ জানান। তারা হামলাকারীদের বিচার দাবিতে কর্মসূচি পালন করেন। এ ঘটনায় ছাত্র লীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।


সাংবাদিক মোশাররফের ওপর হামলা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়: সিইউজেএন

হামিদ উল্লাহ ও সবুর শুভ। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, চবি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (চবিসাস) সদস্য ও প্রথম আলোর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মোশাররফ শাহ’র ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে চিটাগং ইউনিভার্সিটি এক্স জার্নালিস্ট নেটওয়ার্ক (সিইউজেএন)।

রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে সিইউজেএন সভাপতি হামিদ উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ এই দাবি জানান।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি ছাত্রলীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি রেজাউল হকের অনুসারীরাই মোশাররফ শাহর ওপর হামলা চালিয়েছে। রোববার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে মোশাররফ উপাচার্যের কার্যালয়ে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ, ভাঙচুর, প্রধান প্রকৌশলীকে মারধরসহ বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য নিতে যাওয়ার সময়ে হামলার শিকার হয়েছেন।’

নেতারা আরও বলেন, ‘এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটা এক প্রকার হত্যাচেষ্টা। হামলাকারীরা যে পরিকল্পিতভাবে মোশাররফের ওপর হামলা চালিয়েছে, তা তাদের বক্তব্যে পরিষ্কার। ১৫ থেকে ২০ জন ছাত্রলীগের কর্মী তাকে প্রথমে পেছন থেকে ধাক্কা দেন। এরপর ছাত্রলীগ নিয়ে কোনো প্রতিবেদন তৈরি করেছেন, তা জানতে চান। কয়েকজন তার কপালে, মুখে কিলঘুষি মারেন। তার বুকে লাথি দেন। হাতেও আঘাত করেন। এমন কী পরবর্তীতে আর ছাত্রলীগ নিয়ে প্রতিবেদন না ছাপানোর হুমকি দেন। তারা বলেন, ‘আর নিউজ করিস, তারপর দেখব তোরে কে বাঁচাতে আসে। ছাত্রলীগকে নিয়ে কোনো নিউজ হবে না।’

হামলায় মোশাররফ গুরুতর আহত হয়েছেন জানিয়ে সিইউজেএন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘হামলায় বুক ও হাত ও মুখে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন মোশাররফ। যার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।’

সিইউজেএন নেতারা বলেন, ‘একজন সংবাদকর্মীকে প্রকাশ্যে হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নেয়নি। এ থেকেই বোঝা যায় হামলাকারীদের তারা লালন করে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সংবাদকর্মীদের হামলার শিকার হওয়ার ঘটনা তুলে ধরে সিইউজেএন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ করতে গিয়ে সম্প্রতিকালে ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের ওপর ধারাবাহিকভাবে হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং ক্ষমতার অপব্যবহার, হামলার মাধ্যমে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের অপপ্রয়াসের অব্যাহত প্রবণতা। আর এসব ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কিছু পদক্ষেপের কথা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানালেও বাস্তবে তা বিচার পর্যন্ত গড়ায় না। ফলে হামলাকারীরাও সংবাদকর্মীদের মারধর-লাঞ্ছিত করতে দ্বিধা করেন না।’

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজেদের অনিয়ম ঢাকতে হামলাকারীদের বিচার করে না বলে দাবি করেন সিইউজেএন নেতারা। তারা বলেন, ‘সাম্প্রতিককালে চবিসাস সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সমকাল প্রতিনিধি মারজান আক্তার এবং অনলাইন পোর্টাল ঢাকা স্টেটের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দোস্ত মোহাম্মদকে মারধর-লাঞ্ছিত করে ছাত্রলীগ নামধারীরা। সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে গত ২২ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সিইউজেএনের নেতারা। ওই সময় উপাচার্য হামলাকারীদের দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেন। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেল, বিচারের নামে প্রহসন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কয়েকজনকে লোকদেখানো শাস্তি দেয়া হলেও, তা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। ফলে হামলাকারীরা আবারও বীরদর্পে ক্যাম্পাসে দাঁপিয়ে বেড়ায়, আবারও কোনো সংবাদকর্মীকে টার্গেট করেন।’

মোশাররফের ওপর হামলাকারীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করে দৃষ্টান্ত স্থাপনের দাবি জানায় সিইউজেএন এর নেতারা। তারা বলেন, ‘এবার যদি হামলাকারীদের কঠোর বিচার না করা হয় তাহলে ধরে নেব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্রলীগের নামধারী এসব দুষ্কৃতকারীর হাতের পুতুল।’


বিচারহীনতায় বারবার সাংবাদিকের ওপর বর্বর হামলা: চবিসাস

প্রথম আলোর সাংবাদিককে মারধরের বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (চবিসাস) নেতা-কর্মীরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, চবি

সংবাদ প্রকাশের জেরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) দৈনিক প্রথম আলোর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিকে মারধরের ঘটনায় মানববন্ধন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (চবিসাস)। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধু চত্ত্বরে ওই মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনের প্রক্টরিয়াল বডিকে প্রতিবাদলিপি দেয় চবিসাস।

চবিসাসের দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আজহারের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন চবিসাসের নেতারা।

মানববন্ধনে চবিসাসের সভাপতি মাহবুব এ রহমান বলেন, ‘প্রশাসন ছাত্রলীগের এইসব কর্মকাণ্ড দেখেও না দেখার ভান করে আছে। যদি আগের ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু বিচার করতো তাহলে তারা এমন দুঃসাহস দেখাতে পারতো না। এই ঘটনায় জড়িতদের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছি। তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে আমি অনুরোধ জানাবো, যারা সংগঠনের নামকে কলুষিত করছে তাদেরও ছাত্রলীগের থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে হবে।’

চবিসাসের সাধারণ সম্পাদক ইমাম ইমু বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কি ছাত্রলীগের কাছে জিম্মি? বিশ্ববিদ্যালয় কি তাদের কাছে ইজারা দেয়া হয়েছে? সাংবাদিকদের মারধর ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন না। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলঙ্কজনক অধ্যায়। বিচারহীনতার কারণে তারা বারবার এমন বর্বর কাজ করতে সাহস পায়। সাংবাদিক অন্যায়, অবিচার তার কলমের কালিতে তুলে আনেন। সাংবাদিকের ওপর হামলা মানে বাকস্বাধীনতা হরণের নামান্তর।’

এরআগে রোববার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে দ্বিতীয় কলা অনুষদের সামনে হামলার শিকার হন মোশাররফ। ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোশাররফ শাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্য।

মোশাররফের ভাষ্যমতে, মারধরকারীরা শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের অনুসারী ও সিএফসি গ্রুপের কর্মী।

ভুক্তভোগী মোশাররফ শাহ বলেন, ‘বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে তিনি উপাচার্যের কার্যালয়ে যাচ্ছিলাম বক্তব্য নেয়ার জন্য। এ সময় দ্বিতীয় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের সামনে ১৫ থেকে ২০ জন ছাত্রলীগের কর্মী আমাকে আটকায়। তারা লাঠিসোটা দিয়ে মারধর করে। আমার মোবাইল কেড়ে নেয়। পরে সেখান থেকে রব হলে নিয়ে গিয়ে দ্বিতীয় দফা মারধর করে।’

তিনি বলেন, ‘মারধরের সময় নেতা–কর্মীরা পরবর্তীতে আর ছাত্রলীগ নিয়ে প্রতিবেদন না ছাপানোর হুমকি দেন। তারা বলেন, 'আর নিউজ করিস, তারপর দেখব তোরে কে বাঁচাতে আসে। ছাত্রলীগকে নিয়ে কোনো নিউজ হবে না।’

এ বিষয়ে সিএফসি গ্রুপের একাংশের নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, ‘আমি এই ঘটনা শুনেছি। খোঁজ খবর নিচ্ছি৷ যারা এই ঘটনায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

প্রক্টর ড. নূরুল আজিম সিকদার বলেন, ‘আমি ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্র গিয়েছি। তাকে চিকিৎসা জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় যারা এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সাংবাদিকের ওপর ছাত্রলীগের হামলা এই প্রথম নয়। গত ১৯ জুন রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে চায়ের দোকানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে চবিসাস সদস্য ও ঢাকা স্টেটের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি দোস্ত মোহাম্মদকে মারধর করেন চবি শাখা ছাত্রলীগের আইন সম্পাদক ও আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী খালেদ মাসুদ, উপদপ্তর সম্পাদক ও সমাজতত্ত্ব বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরাফাত রায়হান। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২২ জুন অভিযুক্ত দুই ছাত্রলীগ নেতাকে ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে বহিষ্কার হওয়ার পরও ক্যাম্পাস দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছেন বহিষ্কৃতরা।


ঢাবিতে শিক্ষা অনুদান পেলেন ৫২ শিক্ষার্থী

রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, ঢাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে অধ্যয়নরত বিশেষচাহিদা সম্পন্ন ৫২ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা অনুদান দেয়া হয়েছে।

রোববার দুপুর ১২টায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অন্তর্গত মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষা অনুদানের চেক তুলে দেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় দেশের অসহায়, দুস্থ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় ৫২টির অধিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ হতে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা অনুদান দেয়া হয়। প্রতি বছর এ খাতে সরকারের প্রায় ২ কোটি টাকা খরচ হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা অদম্য। তারা নানা প্রতিকূলতাকে জয় করে দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। আপনাদের শিক্ষা জীবন সুন্দর হোক আমি এই শুভকামনা রাখছি। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় হতে আজকে যে ৫২ জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে অনুদান দেয়া হলো এ অর্থ সামান্য হলেও আপনাদের জন্য এটি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতে এই খাতে বরাদ্দ আরো বৃদ্ধি করাসহ এমন অনুদান অব্যাহত রাখা হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, তোমরা দেশের সর্বোচ্চ মেধাবী তাই তোমরা যা-ই শুনো না কেন সেটা বিশ্বাস না করে যাচাই করবে। তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে সবাইকে তথ্যকে যাচাই করতে হবে নাহলে মিস ইনফরমেশন ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীদের প্রতিবন্ধী বলি না, আমরা বলি 'Students with special need' অর্থাৎ বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থী। অন্তভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মানের একটি দিক হলো তোমরা এতজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাচ্ছ। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও তোমাদেরকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করে যাচ্ছেন। এই মানবিক উদ্যোগগুলো SDG অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এসবের জন্য প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিকভাবে সম্মাননা স্বীকৃতি লাভ করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রবীর কুমার সরকারের সঞ্চালনায় এবং ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান।


banner close