সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪

বিশ্বকাপ উন্মাদনায় জবিতে ‘ফ্ল্যাশ মব’

ছবি: দৈনিক বাংলা
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৩ অক্টোবর, ২০২৩ ১৭:০১

ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অনুপ্রেরণা দিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ফ্ল্যাশ মবের আয়োজন করা হয়েছে। ‘চলো বাংলাদেশ, চলো বিশ্ব উজাড়ে, চলো বাংলাদেশ, চলো বিজয়ের টানে’ এই গানে নেচে গেয়ে ফ্ল্যাশ মব করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ও গ্রামীণফোনের সৌজন্যে বৃহস্পতিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ফ্ল্যাশ মবের আয়োজন করা হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মূল ফটকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের সামনেসহ বেশ কয়েকটি স্থানে ফ্ল্যাশ মবের শুট নেয়া হয়েছে।

আয়োজকরা জানান, খুব অল্প সময়ে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষের সাড়া পেয়ে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ফ্ল্যাশ মবটির আয়োজন করা হয়েছে। স্বল্প সময়ের প্র‍্যাক্টিসে সবাই পুরোটা দিয়ে কাজ করে ফ্ল্যাশ মবটি সম্পন্ন করেছে।

ফ্ল্যাশ মবে অংশ নেয়া আনিকা অর্ণা জানান, সবাইকে একত্রে নিয়ে আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে বাংলাদেশ দলকে ও দলের প্রতিটি সদস্যকে সাপোর্ট করতে এ ফ্ল্যাশ মবটি করেছি। আশা করছি বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে ভালো করবে।

এছাড়াও ফ্ল্যাশ মবের পাশাপাশি বাংলাদেশ দলকে সাপোর্ট করতে গ্রামীণফোনের আয়োজনে শুভকামনা জানিয়ে স্বাক্ষর করে শিক্ষার্থীরা।


সব বিভাগে বৃষ্টির আভাস, হতে পারে ভারী বর্ষণ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সব বিভাগে বৃষ্টিপাতের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর মধ্যে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। আজ সোমবার সকালে দেওয়া আবহাওয়ার পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ সময়ে সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়, মৌসুমি বায়ুর অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

কাল আবহাওয়া যেমন থাকবে

রংপুর ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

বুধবারের আবহাওয়া

রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বর্ধিত পাঁচ দিনের আবহাওয়ার অবস্থায় বলা হয়েছে, এ সময়ের শেষের দিকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে।


জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের ফল প্রকাশ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২১ সালের মাস্টার্স শেষবর্ষের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ পরীক্ষায় পাসের হার ৬৬ দশমিক ৩০ শতাংশ।

আজ রোববার সন্ধ্যায় এ ফল প্রকাশের কথা জানানো হয়। তবে এদিন রাত ৮টা থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট (www.results.nu.ac.bd) থেকে ফল জানতে পারবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ২০২১ সালের মাস্টার্স শেষবর্ষের পরীক্ষায় অংশ নেন মোট ১ লাখ ৭৮ হাজার ১৬৮ জন পরীক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ১২১ জন। পাসের হার ৬৬ দশমিক ৩০ শতাংশ।


ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠকের ফলাফল পরে জানাবেন শিক্ষক নেতারা

৪০ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধিদের বৈঠক আজ
পুরোনো ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঢাবি প্রতিনিধি

সার্বজনীন পেনশনের প্রত্যয় স্কিম প্রত্যাহারসহ আরও দুই দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক নেতারা বৈঠক করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সঙ্গে। তবে এ বৈঠকে কী কথা হয়েছে তা এখনই গণমাধ্যমকে জানাবেন না বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ফেডারেশনের মহাসচিব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া।

আজ শনিবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি আকতারুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর নিজামুল হক ভূঁইয়ার নেতৃত্বে ১৩ জন শিক্ষক প্রতিনিধি ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠক শেষে অধ্যাপক নিজামুল বলেন, ‘আমরা এই মুহূর্তে কোনো কথা বলব না। আমাদের তিন দফা দাবি নিয়ে তাদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। এটি নিয়ে শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তারপর আপনাদের জানাব।

বৈঠেকের পর আজ বিকেলে ঢাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এই বিষয়ে আমিও কোনো কথা বলবো না। ওনাদের সঙ্গে যেসব বিষয়ে নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে সেসবের অনেক কিছু নিয়েই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করার বিষয় রয়েছে। আজকে রাতে ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমরা বসব। সেখানে আলোচনা হবে এরপর আমরা একটি সিদ্ধান্ত নেব।

আপনাদের দাবি তো সরকারের কাছে, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনায় এলেন কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উনি (কাদের) একজন জাতীয় নেতা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি আমাদের সঙ্গে বসেছেন। ওবায়দুল কাদের রাষ্ট্রের সেকেন্ড ম্যান। ওনার সঙ্গে আমাদের দাবি নিয়ে খুব খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। এরপর স্ব-স্ব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক সমিতি তাদের শিক্ষকদের সঙ্গে বসে এসব বিষয় জানাবেন। পরে ওনারা কি বলেন সেটির উপর ভিত্তি করে আমাদের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, মন্ত্রী মহোদয় (ওবায়দুল কাদের) আমাদেরকে বলেছেন প্রত্যয় স্কিমটি ২০২৪ সাল নয় ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ইমপ্লিমেন্ট হবে। এরপর আমরা আমাদের ব্যাখ্যাটা ওনাকে দিয়েছি।

বৈঠকের পর ওবায়দুল কাদের গণমাধ্যমকে বলেন, পেনশন স্কিম ২০২৪ নাকি ২০২৫ এ নিয়ে একটা ভুল বোঝাবুঝি ছিল তা দূর হয়েছে। ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে সবার জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিম। আলাপ আলোচনার মাধ্যমে অচিরেই সমাধান হবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা কবি কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী শামসুন্নাহার চাপা, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, আফজাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া।


শেষ ধাপেও কলেজ পাননি প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী

এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া ৭০০ শিক্ষার্থী এখনো কলেজ পাননি
প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১৩ জুলাই, ২০২৪ ১১:৪১
নিজস্ব প্রতিবেদক

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির তৃতীয় ও শেষ ধাপের ফলাফল বের হয়েছে গতকাল রাতে। ফলাফলে দেখা যায়, জিপিএ-৫ পাওয়া ৭০০ জন শিক্ষার্থী কোনো কলেজে ভর্তি হতে পারেননি। এছাড়া কলেজ পাননি আরও প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী।

আজ শনিবার বিষয়টি আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির প্রকাশ হওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে। তবে যারা আবেদন করেও কলেজ পায়নি তাদের জন্য অ্যানালগ পদ্ধতিতে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার বলেন, ‘ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী তিন ধাপে আবেদন নেওয়ার কথা ছিল। তিন ধাপ শেষেও ১২ হাজারের কিছু বেশি শিক্ষার্থী কলেজ বরাদ্দ পাননি। তার মধ্যে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী ৭০০ জনের মতো রয়েছেন।’

ভর্তি তথ্যানুযায়ী, তিন ধাপে আবেদনের পর ফল প্রকাশ, নিশ্চায়ন ও মাইগ্রেশন শেষে ১৫ জুলাই থেকে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে যা চলবে ২৫ জুলাই পর্যন্ত। ভর্তি কার্যক্রম শেষে আগামী ৩০ জুলাই সারা দেশে একযোগে একাদশ শ্রেণিতে ক্লাস শুরু হবে।

চলতি বছর এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ২০ লাখ ১৩ হাজার ৫৯৭ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১৬ লাখ ৭২ হাজার ১৫৩ জন। সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিযোগ্য আসন আছে ২৫ লাখের মতো।

এর আগে তপন কুমার সরকার বলেছিলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে ফলাফলে এগিয়ে থাকা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মহানগরের কলেজগুলো। তাই জিপিএ ফাইভ পেয়েও কাঙ্খিত কলেজে পড়ার সুযোগ পাবেন না অনেক শিক্ষার্থী। তাই এসএসসি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে পছন্দের তালিকা পূরণের পরামর্শ দিয়েছিলেন।

ভর্তি ফি ও সেশন চার্জ

নীতিমালা অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে ৫ হাজার টাকা, মেট্রোপলিটন (ঢাকা ছাড়া) বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে ৩ হাজার টাকা, জেলায় ২ হাজার টাকা এবং উপজেলা ও মফস্বলে দেড় হাজার টাকা।

নন-এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বাংলা ভার্সনে সাড়ে ৭ হাজার টাকা, ইংরেজি ভার্সনে সাড়ে ৮ হাজার টাকা, মেট্রোপলিটন (ঢাকা ছাড়া) বাংলা ভার্সনে ৫ হাজার টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে ৬ হাজার টাকা, জেলায় বাংলা ভার্সনে ৩ হাজার টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে আড়াই হাজার টাকা এবং উপজেলা ও মফস্বলে বাংলা ভার্সনে আড়াই হাজার টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে ৩ হাজার টাকা।

ভর্তির পর কলেজ পরিবর্তনের নিয়ম

সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের পূর্বানুমতি ছাড়া একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির পর কোনো শিক্ষার্থীরা ছাড়পত্র (টিসি) ইস্যু করা যাবে না। কিংবা বোর্ডের পূর্বানুমতি ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃক ইস্যুকৃত ছাড়পত্রের বরাতে ভর্তি করা যাবে না।

ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী- তিন ধাপে নির্বাচিত এবং সফলভাবে নিশ্চায়ন করা শিক্ষার্থীদের আগামী ১৫ থেকে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে ভর্তি হতে হবে। এরপর ৩০ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে সারা দেশে একযোগে একাদশ শ্রেণিতে ক্লাস শুরু হবে।


১১ দিন ধরে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখে আন্দোলনে শিক্ষকরা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সর্বজনীন পেনশনের ‘প্রত্যয়’ স্কিম প্রত্যাহারসহ তিন দফা দাবিতে ১১ দিন ধরে কর্মবিরতি পালন করছেন দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী। টানা এই কর্মবিরতিতে স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব দাপ্তরিক কার্যক্রম। সারা দেশের বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই আন্দোলন চলমান রয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে দাবি আদায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলা ভবনের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষকেরা। সেখানে আন্দোলনকারীদের পক্ষে বক্তব্য দেওয়া হয়।

আন্দোলনকারী শিক্ষকরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। আগের মতোই বন্ধ থাকবে ক্লাস-পরীক্ষা। এদিকে শিক্ষকদের আন্দোলনের ফলে সেশনজটে পড়ার শঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে দৈনিক বাংলা জবি প্রতিনিধি জানান, আজ সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবারও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এ সময় নিজেদের দাবির পক্ষে তাদের স্লোগান ও বক্তব্য দিতে দেখা যায়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. শেখ মাশরিক হাসানের সঞ্চালনায় ১১তম দিনের অবস্থান কর্মসূচিতে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগের চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকেরা অংশ নেন এবং তাদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন।

এ সময় শিক্ষকরা বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক প্রতিনিধিরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা বলেছিলাম এই স্কিম বাতিল করুন, না হলে আমরা কর্মবিরতিতে যাব। কিন্তু তারা দাবি মানেনি। ফলে আমরা অর্ধদিবস কর্মবিরতি করেছি, পরে পূর্ণদিবস করেছি। এরপর আমরা এই সর্বাত্মক কর্মবিরতি শুরু করেছি। যেহেতু আন্দোলন শুরু করেছি, সফলতা আসার আগ পর্যন্ত আমরা ক্লাসে ফিরব না।’

এর আগে কয়েক সপ্তাহ শিক্ষকরা তাদের দাবি জানিয়ে নানা কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষকদের টানা এই আন্দোলনে সেশনজট তৈরির আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে সরকারের সঙ্গে সমঝোতার আভাস মিললেও তা এখনও দৃশ্যমান হয়নি। সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দুই দিন বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা শেষমেশ হয়নি। আন্দোলনকারীরা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করবেন না।

গত ১৩ মার্চ রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রত্যয় স্কিম ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এ ঘোষণা আসার পর থেকে এটি প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা।

১ জুলাই প্রায় চার শতাধিক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য চালু হয় সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার প্রত্যয় স্কিম। নানা কর্মসূচির পর সেদিন থেকেই অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে চলে যান শিক্ষকেরা। শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষাও স্থগিত রাখা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারীরাই কর্মবিরতি পালন করছেন।

আন্দোলনের শুরুর দিকে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেছিলেন, ‘আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি, আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আমাদের দাবিগুলো হলো প্রত্যয় স্কিম প্রত্যাহার করতে হবে। আমাদের যে সুপার গ্রেডটি ২০১৫ সালে আমাদের দেওয়ার কথা ছিল, সিদ্ধান্ত হয়েছে সেটি দিতে হবে আর আমরা স্বতন্ত্র বেতন স্কেল চাচ্ছি। যদি প্রত্যয় স্কিম বাতিল করে স্বতন্ত্র বেতন স্কিম করা হয় তাহলে তো দুটো মিলে এক জায়গায় চলে আসলো।’


১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষা যথাসময়েই

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারা দেশে বন্যা পরিস্থিতির কারণে ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষা পেছানোর দাবি উঠলেও তা আর পেছাচ্ছে না। এ পরীক্ষা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।

এনটিআরসিএর যুগ্ম-সচিব মুহম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকীর সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘এনটিআরসিএর ব্যবস্থাপনায় ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা ২০২৩-এর লিখিত পরীক্ষা আগামী ১২ ও ১৩ জুলাই দেশের আটটি বিভাগীয় জেলা শহরের বিভিন্ন ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।

জেলাগুলো হলো-ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, খুলনা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট। সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১২ জুলাই সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত স্কুল-২ ও স্কুল পর্যায়ের লিখিত পরীক্ষা হবে। এ ছাড়া ১৩ জুলাই সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কলেজ পর্যায়ের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

গত বুধবার স্বাক্ষরিত ও আজ প্রচারিত বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিভ্রান্ত করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু কুচক্রীমহল বিভিন্ন নিউজপোর্টালের মাধ্যমে ১৮তম নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষা স্থগিতকরণ সম্পর্কে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছে। এসব অপসংবাদে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে।’

গত ১৫ মে ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থী। এর মধ্যে স্কুল-২ পর্যায়ে ২৯ হাজার ৫১৬ জন, স্কুল পর্যায়ে ২ লাখ ২১ হাজার ৬৫২ জন ও কলেজ পর্যায়ে ২ লাখ ২৮ হাজার ৮১৩ জন পাস করেছেন।


বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের তালা ভেঙে আন্দোলনে যোগ দিলেন জবি শিক্ষার্থীরা

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেটের তালা ভেঙে মিছিল বের করেন জবি শিক্ষার্থীরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জবি প্রতিনিধি

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রধান গেটের তালা ভেঙে মিছিল নিয়ে শাহবাগে যোগ দিয়েছেন জবির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এসময় বেশ কয়েকবার পুলিশি বাঁধা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত লাইব্রেরির সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। এই সময় কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হতে না দেওয়ার উদ্দেশে প্রধান গেটে তালা লাগিয়ে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তালা ভেঙে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করেন।

মিছিলে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা পুরান ঢাকার শাঁখারী বাজার থেকে রায়সাহেব বাজার মোড়ে আসতেই পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। তবে ব্যারিকেড এবং বাধা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ধরে রাখতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী। পরবর্তীতে মিছিলটি রাজধানীর জিরো পয়েন্ট পেরিয়ে শাহাবাগে অবস্থান নেয়।

আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে সকাল থেকে তাদের ক্যাম্পাস থেকে বের না হতে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত যেকোনো মূল্যে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা আন্দোলনে নেতৃত্ব যারা ছিলেন তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের বাদ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা জিরো পয়েন্ট হয়ে শাহবাগের দিকে রওনা হয়। শাহবাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আন্দোলনের শামিল হন তারা। এর আগে শিক্ষার্থীরা বৃষ্টি উপেক্ষা করে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিসরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত লাইব্রেরির সামনে জমা হতে থাকেন।

আন্দোলনে শামিল হওয়া বাংলা বিভাগের এত শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের এক দফা দাবি সকল গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লিখিত অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য কোটাকে ন্যূনতম মাত্রায় এনে সংসদে আইন পাশ করে কোটাপদ্ধতিকে সংশোধন করতে হবে।

এদিকে আজ বিকেল ৪টা থেকেই শাহবাগ মোড়ের বিভিন্ন স্থানে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ অবস্থান নেয়। বিকেল ৫টার কিছু সময় আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে বিভিন্ন স্লোগানে শাহবাগের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। তবে শাহবাগ মোডে ব্যারিকেড দেয় পুলিশ। এতে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের কিছু সময় ধস্তাধস্তি হয়। পরবর্তীতে ব্যারিকেড ভেঙে পুলিশ সদস্যদের ঠেলে শাহবাগ মোড় ও মেট্রেরেল স্টেশনের নিচে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। পিছু হটতে বাধ্য হন পুলিশ সদস্যরা।

এসময় কিছু শিক্ষার্থীকে পুলিশের সাঁজোয়া যানের ওপর উঠে উল্লাস করতে থাকেন। এসময় তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে শুনা যায়। এদিকে, শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেওয়ার পর থেকে রাস্তায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। শাহবাগ থেকে এলিফ্যান্ট রোডগামী, বাংলা মোটরগামী, মৎস্য ভবনগামী ও টিএসসিগামী রাস্তায় যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

এদিকে কোটা পুনর্বহাল করে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। এতে বলা হয়েছে, সরকার চাইলে কোটা পরিবর্তন ও সংযোজন বিয়োজন করতে পারবে। সরকারি চাকরিতে কোটায় পূরণ না হলে মেধা তালিকা থেকে নেওয়া যাবে বলেও এই রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

তার আগে গতকাল বুধবার সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের ওপর এক মাসের স্থিতাবস্থা দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, ১০ শতাংশ নারীর, অনগ্রসর জেলার বাসিন্দাদের ১০, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য ৫ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধীদের ১ শতাংশ মিলিয়ে দেশে সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা ব্যবস্থার প্রচলন ছিল ২০১৮ সাল পর্যন্ত। ওই বছরই কোটা সংস্কারের দাবিতে ‘ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের’ ব্যানারে সারা দেশে আন্দোলন শুরু হয়।

শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে সরাসরি নিয়োগে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি তুলে দিয়ে পরিপত্র জারি করে সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

ওই প্রজ্ঞাপনকে চ্যালেঞ্জ করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাত সদস্য ২০২১ সালে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। গত ৫ জুন সরকারি চাকরির নিয়োগে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। এতে আবারও সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ফিরে আসে।

পরে এ রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। কিন্তু গত ৯ জুন প্রাথমিক শুনানির পর আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানো হয়। এরপর থেকে আবারও আন্দোলনে নামে কোটা সংস্কারে সমর্থনকারী ছাত্ররা।

আজও কোটা সংস্কারের দাবিতে ডাকা কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান নিয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এর আগে মুখোমুখি অবস্থানে পুলিশ ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাতবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। পরে ব্যারিকেড ভেঙে শাহবাগে অবস্থান নেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও তাদের সমর্থনকারী শিক্ষার্থীরা।


শাহবাগে মুখোমুখি অবস্থানে পুলিশ ও আন্দোলনকারীরা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১১ জুলাই, ২০২৪ ১৮:১৯
ঢাবি প্রতিনিধি

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্করের দাবিতে হাই কোর্টের দেওয়া চার সপ্তাহের স্থীতাদেশ অমান্য করে আজ আবারও রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করতে নেমেছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এতে এই অঞ্চলে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একটি মুখোমুখি অবস্থার তৈরি হয়।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার আগ থেকেই এখানে জড়ো হতে থাকেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও নেতাকর্মীরা। তবে শুরুতেই তাদের জমায়েতে পুলিশ কোনো বাধা না দিলেও এক সময় তা একটি রোষানলে রূপ নেয়। পুলিশ এ সময় শাহবাগ হয়ে কাওরান বাজার সড়কে সতর্ক অবস্থান নিয়েছিল।

শাহবাগে সতর্ক অবস্থানে থাকা পুলিশ চেয়েছে শিক্ষার্থীরা যেন শাহবাগ ছাড়া অন্য কোন মোড় দখল নিতে না পারে। তাই তারা ব্যারিকেডও বসিয়ে রেখেছে। তবে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের এক সময়ে ধাক্কাধাক্কি হয়। জানা যায়, পুলিশের সাজোয়া যানে উঠে কয়েকজন শিক্ষার্থী ভুয়া ভুয়া স্লোগানও দেন। পরে শিক্ষার্থীরা সমস্বরে ‘গো ব্যাক গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে থাকেন। এরপর থেকে আস্তে আস্তে পিঁছু হটে পুলিশে সাজোয়া যান।

বর্তমানে পুলিশ এবং তাদের সাজোয়া যান হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের পাশের মোড় অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩নং গেইটে অবস্থান করছে। আর শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়েও গো ব্যাক স্লোগান দিচ্ছেন। এরপর সেখান থেকেও ধীরে ধীরে পিছনে যাচ্ছে পুলিশের সেই সাজোয়া যানটি।

তবে শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে ছড়িয়ে পড়লেও তারা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনের মোড়, পরিবাগ বা আশেপাশের আর কোন মোড়ে অবস্থান নেয়নি। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা শুধু শাহবাগ মোড়েই অবস্থান নিয়েছে।

শেষ খবর পাওয়া অবধি, এখনো শাহবাগে থোকায় থোকায় জড়ো হয়ে স্লোগান দিচ্ছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া আজ সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।


৪৪ প্রভাষককে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দিতে বলল হাইকোর্ট

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের বিভিন্ন এলাকায় জাতীয়করণকৃত কলেজের ৪৪ জন প্রভাষককে ষষ্ঠ গ্রেডে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। খবর বাসসের।

বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ বিষয়টি নিয়ে ইতোপূর্বে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে আজ বৃহস্পতিবার এ রায় দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল অমিত দাশগুপ্ত। রায়ের কপি পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে বলে জানান অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া।

তিনি বলেন, সারা দেশে ২০১৮ সালের পরে বিভিন্ন কলেজকে সরকারিকরণ করা হয়। একইভাবে ওইসব কলেজে ওই সময়ে কর্মরত প্রভাষকদেরকে আত্তীকরণ বিধিমালার আলোকে আত্তীকরণ করা হয়। কিন্তু আত্মীকরণের পরে দেখা যায়, যেসব প্রভাষক জাতীয়করণের আগে সপ্তম গ্রেডে বেতন ভাতা পেতেন তাদেরকে নবম গ্রেড দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালের পর থেকে তাদের কাছ থেকে অতীতে গ্রহণকৃত বাড়তি বেতন ফেরত চাওয়া হয়েছে। এই আদেশটি অত্যন্ত বৈষম্যমূলক ছিল। তাই তারা বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন।


কোটা সংস্কার: বুয়েট শিক্ষার্থীদের মৌন সমাবেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে মৌন সমাবেশ করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা।

আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারা বুয়েটের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে জড়ো হন। এরপর তারা ১০ মিনিট মৌন সমাবেশ করেন। এ সময় তারা কোনো কথা বলেননি। সমাবেশ শেষে তারা বিদ্যমান কোটার অযৌক্তিকতা তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে একটি লিখিত বিবৃতি সাংবাদিকদের দেন।

বিবৃতিতে তারা জানান, গত ৫ জুন হাইকোর্ট ২০১৮ সালের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কোটা বাতিলের পরিপত্রটি অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। এর ফলে সারা দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভবিষ্যৎ সরকারি কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তার উদ্রেক ঘটে। এ সময় তারা বিদ্যমান কোটার অযৌক্তিকতা তুলে ধরে ছয়টি পয়েন্ট উপস্থাপন করেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন দেশ পুনর্গঠনের দায়িত্ব নেন, তখন তিনি যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত মুক্তিযোদ্ধা পরিবার এবং নারীদের জন্য যথাক্রমে ৩০% এবং ১০% কোটার ব্যবস্থা করেন। কেননা, মুক্তিযুদ্ধে তখন আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা অনেকে শহীদ হওয়ায় তাদের পরিবার উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের হারায়। পাক হানাদার বাহিনী অনেকের বাড়িঘর পুড়িয়ে ফেলে। অনেকে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে হারান, অনেকে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে পঙ্গুত্ববরণ করেন। এ অবস্থায়, তখন বেঁচে থাকা মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্য জাতির জনকের ৩০% কোটা ব্যবস্থা প্রদান করা সময়োপযোগী সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। তা ছাড়া তৎকালীন নারী শিক্ষায় এ জনপদ অনগ্রসর ছিল। যেসব নারী পড়াশোনা করেছেন তারাও অনেক প্রতিকূলতা অতিক্রম করে পড়ালেখা করতে পেরেছেন। সে জন্য তাদের জন্যও কোটা থাকা জরুরি ছিল। পরে মাঝে কোটা সুবিধা বন্ধ থাকার পর আবার চালু হওয়ায় অনেক মুক্তিযোদ্ধার চাকরিতে প্রবেশের বয়স পেরিয়ে যায়। যার জন্য মুক্তিযোদ্ধা সন্তান পর্যন্ত কোটা সুবিধা প্রদান করা যৌক্তিক ছিল। অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কথা বিবেচনা করে তাদের সুবিধার্থে এবং মেধার স্বার্থে আগের কোটা পদ্ধতি সংস্কার করা বাধ্যতামূলক।

অন্যদিকে ২০০৪ সালের ইউনিসেফের তথ্যানুযায়ী নারীদের সাক্ষরতার হার ছিল ৩১% এবং ২০০৮ সালে ছিল ৫১%। সেখানে বর্তমানে মেয়েদের সাক্ষরতার হার বেড়ে হয়েছে ৭৩%। যেখানে দেশের সাক্ষরতার হার ৭৬.০৮ শতাংশ। এ থেকে এটা বলা যায়, দেশে নারী শিক্ষায় ও যোগ্যতায় অনেক দূর এগিয়ে গেছে। নারীরা তাদের আত্মমর্যাদা ও অধিকারের প্রতি যথেষ্ট সচেতন। এমতাবস্থায়, ১০% নারী কোটা বজায় রাখা আত্মমর্যাদাশীল নারীদের প্রতি অসম্মানজনক। এমনকি আমাদের মধ্যে উপস্থিত নারীরা কেউই নারীদের জন্য এ বিশেষ কোটা সুবিধা চায় না। তাই নারী কোটাও সংস্কার করা উচিত।

তারা আরও জানায়, পূর্বে দেশের অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থার জন্য বেশ কিছু প্রত্যন্ত জেলা ছিল যারা অনগ্রসর ছিল। যার জন্য ১০% জেলা কোটা রাখা হয়েছিল। বর্তমানে পদ্মা সেতু, যমুনা সেতুসহ বিভিন্ন মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থায় অভাবনীয় পরিবর্তনের ফলে সারা দেশ এখন এক সঙ্গে কানেক্টেড। তা ছাড়া টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট ব্যবস্থা সারাবিশ্বকে হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। সে ক্ষেত্রে প্রত্যন্ত জেলা বলতে কার্যত কিছু থাকছে না। তাই এখানেও ১০% কোটা রাখা ভিত্তিহীন।


বুধবার সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা ‘বাংলা ব্লকেড’

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৯ জুলাই, ২০২৪ ২০:১৯
ঢাবি প্রতিনিধি

আগামীকাল বুধবার সারা দেশে বাংলা ব্লকেড কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। চাকরিতে কোটাবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজ দেশব্যাপী গণসংযোগ এবং ছাত্র ধর্মঘট পালন করে সংগঠনটি।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গ্রন্থাগার ভবনের সামনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে কালকের কর্মসূচির বিষয়ে জানান আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। সংবাদ সম্মেলন শেষে ঢাবির আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণসংযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা।

আন্দোলনের সমন্বয়ক বলেন, বুধবার সকাল-সন্ধ্যা ব্লকেড কর্মসূচি পালন করা হবে। দেশের সড়ক-মহাসড়ক ও রেলপথ ব্লকেডের আওতায় থাকবে। যদি নির্বাহী বিভাগ থেকে কোনো লিখিত পরিপত্রের মাধ্যমে সকল গ্রেডে বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে যৌক্তিক সংস্কারের তথ্য জানানো হয়, তাহলেই আমরা রাজপথ থেকে ক্লাসে ফিরবেন।

এ সময় উচ্চ আদালতে আজ যে দুই শিক্ষার্থী কোটার বিষয়ে রিট করেছেন তাদের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। ব্লকেড সফলে কাল সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবনের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগে অবস্থান নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে সরকারি চাকরিতে কোটা ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আগামীকাল বুধবার (১০ জুলাই) শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম শুনানির জন্য এ দিন ধার্য করেন।

প্রসঙ্গত, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর নবম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে একটি পরিপত্র জারি করে। সেখানে বলা হয়েছিল, ৯ম গ্রেড (পূর্বতন ১ম শ্রেণি) এবং ১০ম-১৩তম গ্রেড (পূর্বতন ২য় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাতালিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। ওই পদসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হয়। নারী কোটা ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ, জেলা কোটা ১০ শতাংশ, উপজাতি পাঁচ ও প্রতিবন্ধীদের এক শতাংশ কোটা বাতিল করা হয়।

এই পরিপত্রের মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ বাতিল চ্যালেঞ্জ করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল ২০২১ সালে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে। গত ৫ জুন রায় দেয় হাইকোর্ট। রায়ে সরকারের পরিপত্র বাতিল করে মুক্তিযোদ্ধা ৩০ শতাংশ কোটা বহাল রাখার আদেশ দেয়া হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলে ৪ জুলাই আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে নিয়মিত আপিল করতে বলেন। ফলে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ ও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে কোটা বহাল থাকছে।


কোটা বাতিলে সরকারকে তিন দিনের আলটিমেটাম

যানজটে চরম জনদুর্ভোগ
ফাইল ছবি
আপডেটেড ৯ জুলাই, ২০২৪ ০০:০২
নিজস্ব প্রতিবেদক ও ঢাবি প্রতিনিধি

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল করে ২০১৮ সালে জারিকৃত পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে’-এর ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা গতকাল সোমবার কোটা বাতিলে সরকারকে তিন দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে।

এদিকে আজ মঙ্গলবার অনলাইন-অফলাইনে গণসংযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করে দীর্ঘ চার ঘণ্টা পর শাহবাগ মোড় ছেড়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। ফলে আজ কোন মাঠের কর্মসূচি থাকছে না।

রাত সাড়ে আটটায় কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা এখন অর্ধ বেলা ব্লকেড কর্মসূচি পালন করছি। কিন্তু আমরা সারা দেশে সর্বাত্মক ব্লকেড কর্মসূচির পরিকল্পনা করছি। তাই আগামীকাল (মঙ্গলবার) ঢাকাসহ সারা দেশের শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সাথে আমরা সমন্বয় করবো এবং গণসংযোগ করব এরপর বুধবার কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে। আর সেই কর্মসূচি কী সেটা মঙ্গলবার বিকেলে অনলাইনে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের চলমান ছাত্র ধর্মঘট এবং ক্লাস পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি চলবে।’ এ সময় শিক্ষার্থীরা মেট্রোরেল ব্লকের দাবি জানালে নাহিদ ইসলাম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য বলেন, ‘আমরা ব্লকেড কর্মসূচি থেকে সরে আসছি না। সর্বাত্মক ব্লকেডে যেতে প্রস্তুতি নিচ্ছি। আপনারা সারাদেশ ব্লকেডের প্রস্তুতি নিন।’

কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীদের ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সড়ক অবরোধের কারণে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো গতকাল বিকেল থেকে অচল হয়ে পড়ে রাজধানীর বড় অংশ। তারা শাহবাগ মোড় ছাড়াও চানখারপুল, সায়েন্সল্যাব, পল্টন মোড়, গুলিস্তান, নীলক্ষেত, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, মৎস ভবন, ফার্মগেট, আগারগাঁও, রামপুরা-বাড্ডা সড়ক অবরোধ করেন। এতে পুরো রাজধানী কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে, সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের।এতে যানবাহনকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। নারী এবং অসুস্থ ও বয়স্ক ব্যক্তিদের পড়তে হয়ে সীমাহীন ভোগান্তিতে।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেল চারটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল শুরু করেন। আর এই মিছির শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। এরপর এই মিছিলের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ মিন্টো রোড, মৎসভবন বাংলামোটর এবং কাওরান বাজার মোড় অবরোধ করেন।

এ ছাড়া একই সময়ে ইডেন মহিলা কলেজ আর গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত মোড়, ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা সায়েনসল্যাব মোড়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হল ও শেখ বোরহান উদ্দিন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজের শিক্ষার্থীরা চাঁনখারপুল মোড় ও মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার সংলগ্ন র‌্যাম্প অবরোধ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল ও ফজলুল হক মুসলিম হলের শিক্ষার্থীরা অবরোধ করেন পল্টন মোড়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কবি নজরুল ইসলাম কলেজ এবং সোহরাওয়ার্দী শিক্ষার্থীরা গুলিস্তান মোড় অবরোধ করেন।

আর ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রামপুরা-বাড্ডা সড়ক অবরোধ করলে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।

এ ছাড়া সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা ফার্মগেট মোড় অবরোধ করে এবং আগারগাঁও মোড় অবরোধ করে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

গত ১ জুলাই থেকে টানা আন্দোলন করে আসছে চাকরিতে কোটা বাতিলের পরিপত্র পুনর্বহালসহ চার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী এবং চাকরি প্রত্যাশীরা।

এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ঢাকা খুলনা মহাসড়কসহ দেশের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

শুরুতে তাদের দাবি চারটা থাকলেও গতকাল থেকে তারা এক দাবিতে আন্দোলন করছেন। সেই এক দাবি হলো ‘সকল গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লিখিত অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য কোটাকে ন্যূনতম মাত্রায় এনে সংসদে আইন পাশ করে কোটাপদ্ধতিকে সংশোধন করতে হবে।’

গতকাল বেলা চারটা ২৫ মিনিটে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ ব্যানারে শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। এসময় পুলিশ আন্দোলনকারীদের শাহবাগ মোড় ছেড়ে বাংলা মটরের দিকে যেতে বাধা দিলে পুলিশ বাধা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় এবং বাংলামোটরের দিকে দৌড়ে যান সেসব রাস্তা অবরোধ করতে।

এর আগে পূর্ব ঘোষিত ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে অবস্থান নেন।

এতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের বিভাগ, হল এবং ইনিস্টিটিউটের ব্যানারে অবস্থানে যোগ দেন। এরপর এই মিছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর টিএসসি হয়ে শাহবাগ এসে মোড় অবরোধ করেন।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘একাত্তরের পথ ধরো, বাংলা ব্লকেড সফল করো’; কোটা ছেড়ে কলম ধরো, বাংলা ব্লকেড সফল করো’; ‘দফা এক দাবি এক, কোটা নট কামব্যাক’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কোটাবিরোধী আন্দোলনের মতো জনদুর্ভোগ ডেকে আনে এমন কর্মসূচি পরিহার করা উচিত।

গতকাল এক সংবাদ সম্মেলন তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের পেনশন ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে গতকাল কথা বলেছি। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীও এ বিষয়ে কথা বলেছেন।’

তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালে পরিপত্র জারি করে সব কোটা বিলুপ্ত করে সরকার। পরে কোটা পুনর্বহালের জন্য উচ্চ আদালতে আপিল করে সাতজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। উচ্চ আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। আমরা মনে করি উচ্চ আদালত বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে রায় দেবেন।’

এ ছাড়া, দেশের সর্বোচ্চ আদালতে যে বিষয়টা বিচারাধীন সেটা রাজপথে নেয়া উচিত নয় বলে কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ধৈর্য্য ধরার অনুরোধ জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।

সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আদালত রায় দিয়েছে সেই রায়ের বিরুদ্ধে সরকার আপিল বিভাগে গেছে। তাই এই মুহূর্তে এই ধরনের আন্দোলনটা আমি মনে করি তাদের না করাই উচিত হবে। আন্দোলনকারীদের বলব আদালতে যে বিষয়টা বিচারাধীন, সেই বিষয়টা রাজপথে না আনতে। কারণ, এটা আদালতে তো আছেই, বিচারটা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে তাদের আমি একটু ধৈর্য ধরার অনুরোধ করব। আমি জানি না আন্দোলনটা তারা কেন করছেন? আমি মনে করি আন্দোলনটা না করাই ভালো।’ এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, আগামী বৃহস্পতিবার বিষয়টি আবার শুনানির জন্য আসবে। কাল বুধবারও যদি পূর্ণাঙ্গ রায় পাই তাহলেও আমরা সিপি (নিয়মিত আপিল) করব।

অবরোধের কারণে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় বিকল্প হিসেবে অনেকে মেট্রোরেল ব্যবহার করেন। শাহবাগ ও কারওয়ান বাজার মেট্রো স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় মেট্রো স্টেশনগুলোতে অনেক বেশি মানুষের ভিড়। স্টেশনেও টিকিটের জন্য ছিল দীর্ঘ লাইন। টিকিট কেটে ট্রেনের জন্য প্ল্যাটফর্মেও ছিল মানুষের ভিড়। সাধারণত ট্রেন এলে একবারেই স্টেশনে থাকা সব যাত্রী উঠতে পারলেও আজ বিকেলে যাত্রীদের লাইনে দাঁড়িয়ে দু–তিনটি ট্রেন যাওয়ার পর ওঠা সম্ভব হয়েছে। ট্রেনের ভেতরেও দেখা যায় মানুষের উপচে পড়া ভিড়।

রাজশাহীতে সাড়ে ৪ ঘণ্টার অবরোধে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়

রাজশাহীতে সাড়ে চার ঘণ্টা রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) সংলগ্ন রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।

এতে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আটকে যায় তিনটি ট্রেন। সাড়ে চার ঘণ্টার রেলপথ অবরোধে তিন ট্রেনের শিডিউল তছনছ হয়ে যায়। ঘটে গেছে শিডিউল বিপর্যয়।

গতকাল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কৃষি অনুষদ সংলগ্ন ফ্লাইওভার এলাকায় বেলা সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হওয়া রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এরপর রেলপথ থেকে অবরোধ তুলে নিয়ে ঘটনাস্থল ছাড়েন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার আব্দুল করিম জানান, রাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন কর্মসূচি ও বিক্ষোভের কারণে হরিয়ান রেলওয়ে স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেন কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের স্টপেজ দিতে হয়েছে। সেখান থেকেই যাত্রী তুলে আবার ফেরত পাঠাতে হয়েছে।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে জাবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

বিকাল তিনটায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক (ডেইরি গেইট) সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’র ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে প্রধান ফটক সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে গিয়ে শেষ হয়।


‘অধ্যাপক রিসোর্স পুল’ করতে চায় ইউজিসি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্লেন্ডেড শিক্ষা পদ্ধতির আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের নিয়ে ‘রিসোর্স পুল’ গঠন করে নতুন প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ঘাটতি দূর করা হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর।

জাতীয় পর্যায়ে ব্লেন্ডেড শিক্ষা পদ্ধতি বাস্তবায়নে উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে ‘ব্লেন্ডেড শিক্ষা-বিষয়ক মহাপরিকল্পনা’ প্রণয়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ইউজিসিতে আজ সোমবার দিনব্যাপী এ কর্মশালা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ইউজিসি সদস্য ও গঠিত কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. হাসিনা খান।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক আলমগীর বলেন, নতুন প্রতিষ্ঠিত ও প্রান্তিক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ও দক্ষ শিক্ষকের সংকট রয়েছে। ফলে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসম্মত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। ব্লেন্ডেড শিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে বিষয়ভিত্তিক দক্ষ ও অভিজ্ঞ অধ্যাপকদের নিয়ে রিসোর্স পুল গঠন করে শিখন ঘাটতি দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সব বিশ্ববিদ্যালয়কে ব্লেন্ডেড শিক্ষা পদ্ধতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে সময়োপযোগী বেশ কিছু নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু এসব নীতিমালার বাস্তবায়ন অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলসহ সংশ্লিষ্টদের এসব নীতিমালা বাস্তবায়নে আন্তরিক হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক হাসিনা খান বলেন, চলতি বছরের মধ্যে ব্লেন্ডেড শিক্ষা-বিষয়ক মহাপরিকল্পনার খসড়া চূড়ান্ত করা হবে। এলক্ষ্যে ইউজিসি অংশীজনদের সঙ্গে সভা করেছে। ব্লেন্ডেড শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষা অংশগ্রহণমূলক করা, শিক্ষার্থীদের মানসিক দক্ষতা ও সমস্যার সমাধানসহ আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম হবে। ব্লেন্ডেড শিক্ষা পদ্ধতি বাস্তবায়নে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় আইসিটি অবকাঠামো গড়ে তোলার কথা জানান তিনি।

সভায় ‘উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে ব্লেন্ডেড শিক্ষা মহাপরিকল্পনা’ তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ড. মুহাইমিন আস সাকিব এবং ‘ব্লেন্ডেড লার্নিং রোডম্যাপ: কস্ট মডেলিং অ্যান্ড অ্যাস্টিমেশন’ বিষয় তুলে ধরেন বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্কের (বিডিরেন) সিইও মোহাম্মদ তৌরিত।

ইউজিসির অতিরিক্ত পরিচালক বিষ্ণু মল্লিকের সঞ্চালনায় কর্মশালায় ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের ৩১টি পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, আইকিউএসি ও আইসিটির পরিচালক ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

উল্লেখ্য, সশরীরে ও অনলাইন শিক্ষা সমন্বিত করে উচ্চশিক্ষার জন্য ‘ব্লেন্ডেড লার্নিং’ নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করেছে ইউজিসি। উচ্চশিক্ষায় বাংলাদেশ যেন পিছিয়ে না পড়ে সে বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে খসড়া নীতিমালায়। এ ছাড়া ক্লাসরুম শিক্ষা অধিক অংশগ্রহণমূলক করা, শিক্ষার্থীদের কার্যকরভাবে শিখন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং শিখন প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক প্রভাব রাখার উদ্দেশ্যে এই নীতিমালা করা হয়।


banner close