গত বছরের মার্চে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের নিয়োগসংক্রান্ত কয়েকটি ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। শিক্ষক নিয়োগে ‘দরকষাকষি’র সেই ফোনালাপগুলোতে নিয়োগের বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করতে শোনা যায়।
আর এ ঘটনায় অভিযোগের তীর যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতারের সেই সময়কার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ও উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক খালেদ মিছবাহুল মোকর রবীন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টস শাখার কর্মচারী আহমদ হোসেনের বিরুদ্ধে। সমালোচনার মুখে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট ফারসি বিভাগের নিয়োগবোর্ডটি বাতিল করে। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গঠন করে ‘উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন’ তদন্ত কমিটি।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে পরবর্তী ৫৩৮তম সিন্ডিকেটে (জরুরি) উপাচার্য শিরীণ আখতারের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) খালেদ মিছবাহুল মোকর রবীনকে পদাবনতি (ডিমোশন) ও কর্মচারী আহমদ হোসেনকে চাকরিচ্যুত করার সুপারিশ করে। এই ঘটনার ‘নেপথ্যের কারিগরদের’ বের করতে পিএস রবীন ও কর্মচারী আহমদ হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা আসামি করে জরুরি ভিত্তিতে থানায় ফৌজদারি মামলা করার জন্য সুপারিশ করা হয়।
সেই সিন্ডিকেট সভায় দুজনের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশের পাশাপাশি অধিকতর যাচাই-বাছাই করার লক্ষ্যে দ্বিতীয় আরেকটি তদন্ত কমিটি করা হয়। দ্বিতীয় তদন্ত কমিটির রিপোর্টের আলোকে এই বিষয়ে তাদের শাস্তি কার্যকর হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই তদন্তের স্বার্থে খালেদ মিছবাহুল মোকর রবীন ও আহমদ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করে প্রশাসন। কয়েক মাস পরে রবীনের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত বরখাস্তাদেশের বিষয়ে ৩ মাসের স্থগিতাদেশ দেয়, পরে কয়েক দফা স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ান আদালত। অন্যদিকে সম্প্রতি আরেক অভিযুক্ত কর্মচারী আহমদ হোসেনও উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে চাকরিতে যোগদান করেছেন। তাই স্বপদে বহাল আছেন খালেদ মিছবাহুল মোকর রবীন ও আহমদ হোসেন।
দ্বিতীয় তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব ও গোপনীয় শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার সৈয়দ ফজলুল করিম বলেন, ‘কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের প্রমাণ পেলে দুটো তদন্ত কমিটি হয়। প্রথম কমিটি শাস্তির সুপারিশ করলে, দ্বিতীয় কমিটি সেটি আবার অধিকতর যাচাই-বাছাই করে। দ্বিতীয় কমিটির সুপারিশের আলোকে শাস্তি বাস্তবায়নের বিষয়টি আসে।’
তবে দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ১১ মাস পর গত ২৩ জুলাই প্রতিবেদন জমা দিয়েছে দ্বিতীয় তদন্ত কমিটি। কমিটির আহ্বায়ক ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সিরাজ উদ দৌল্লাহ প্রতিবেদন জমা দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু প্রতিবেদন জমার ২ মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো সিন্ডিকেট সভা না হওয়ার এ বিষয়ে আর কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।
মামলা না করা ও ‘অডিও কেলেঙ্কারি’তে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে ‘ধীরগতি’ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকেও চিঠি দিয়ে মামলা করার বিষয়ে আলটিমেটাম দেয়া হয়েছে।
চবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল হক বলেন, মামলা করতে এত সময় লাগার কথা নয়। সিন্ডিকেট থেকেও মামলা করার কথা বলা হয়েছে। অডিও কেলেঙ্কারিতে যাদের সম্পৃক্ততা আছে, নেপথ্যের কারিগরদের খুঁজে বের করে আনতে মামলা করার কথা আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি। এ দাবি আমাদের শুরু থেকেই, আমরা এটি থেকে সরে আসিনি। যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে তাদের আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাবাদ করলেই আসল নিয়োগসংক্রান্ত বাণিজ্য চক্র বেরিয়ে আসবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের মনে হয়, নিয়োগসংক্রান্ত বাণিজ্য চক্রকে ধরতে প্রশাসনের আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। মামলা না করায় যাদের ব্যাপারে অডিও কেলেঙ্কারির অভিযোগ তাদের সুরক্ষা হচ্ছে এবং নেপথ্যে যারা আছে তাদেরও সামনে আসতে দেয়া হচ্ছে না বলে মনে হচ্ছে।
তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সিরাজ উদ দৌল্লাহ বলেন, আমরা প্রতিবেদন জমা দিয়েছি দুই মাস পার হয়ে তিন মাস হয়ে যাচ্ছে। এখন উপাচার্য সিদ্ধান্ত নেবেন।
এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতারকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কে এম নুর আহমদ বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েছে, সেটা আগামী সিন্ডিকেটে যাবে। সিন্ডিকেটে যাওয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। খালেদ মিছবাহুল মোকর রবীন ও আহমদ হোসেনের সাসপেন্ডের বিষয়ে উচ্চ আদালত থেকে স্টে অর্ডার দিয়েছেন। এ জন্য তারা চাকরিতে আছেন।
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। পুনঃনিরীক্ষণের পর ফেল থেকে নতুন করে পাস করেছেন ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী এবং নতুন করে সর্বোচ্চ গ্রেড জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৯ জন পরীক্ষার্থী। এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে নম্বর বেড়ে ফল পরিবর্তন হয়েছে আরও বহু শিক্ষার্থীর। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট এবং নির্ধারিত সরকারি পোর্টাল (rescrutiny.eduboardresults.gov.bd)-এ এই ফল প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের নিবন্ধিত মুঠোফোন নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল ফল প্রকাশের ৩১ দিন পর এবং আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার ২৪ দিনের মাথায় এই ফল প্রকাশিত হলো। এবারের মূল পরীক্ষায় পাসের গড় হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা বিগত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ফলে মূল ফলে অসন্তুষ্ট হয়ে রেকর্ডসংখ্যক ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেছিলেন। একজন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ে আবেদন করায় মোট আবেদনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টিতে; যার মধ্যে লিখিত পরীক্ষার ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি উত্তরপত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, এবার উত্তরপত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় গুণগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। অতীতে পুনঃনিরীক্ষণের ক্ষেত্রে কেবল উত্তরপত্রে নম্বর যোগের ভুল বা কোনো উত্তর মূল্যায়ন ছাড়া বাদ পড়েছে কি না তা দেখা হতো। তবে এবারই প্রথমবারের মতো আবেদন করা উত্তরপত্রগুলো শুধু গণনা নয়, বরং পুনরায় পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করা হয়েছে; যার ফলে ফলাফলে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
বোর্ডভিত্তিক পরিসংখ্যানে এবার সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছিল ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষার ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ৫৮ হাজার ১২টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেছিলেন। এছাড়া সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে কুমিল্লায় ৩৫ হাজার, রাজশাহীতে ৩৯ হাজার, যশোরে ২৮ হাজার, চট্টগ্রামে ৩৯ হাজার, বরিশালে ১৭ হাজার, সিলেটে ২০ হাজার, দিনাজপুরে ৩৭ হাজারের বেশি এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেন। অন্যদিকে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেছিলেন।
২০২৭ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে চাওয়া শিক্ষার্থীদের নির্বাচনী পরীক্ষা আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হবে। ১৫ নভেম্বরের মধ্যে এ পরীক্ষা শেষ করে ফলাফল প্রকাশ করতে হবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানুর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণেচ্ছু শিক্ষার্থীদের নির্বাচনী পরীক্ষা ১৫ অক্টোবর থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। একই সময়ের মধ্যে পরীক্ষার ফলাফলও প্রকাশ করতে হবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু হবে আগামী ১৬ নভেম্বর থেকে। ফরম পূরণের সময়সূচিসহ এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞপ্তি বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি ‘অতীব জরুরি’ উল্লেখ করে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন মাধ্যমিক পর্যায়ের সব সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, জিপিএ-৫ এর কৃত্রিম বন্যা ভাসিয়ে দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থায় মিথ্যা বার্তা দেওয়ার পথ বন্ধ করে মেধা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে শিক্ষা খাতকে পুনর্গঠন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
তিনি জানান, এ লক্ষ্যে ২০২৮ সালের শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের শিক্ষাক্রমকে নতুন করে সাজানো হচ্ছে; অর্থাৎ পুরো কারিকুলামে ব্যাপক ও বিস্তৃত সংস্কার আনা হবে। যার প্রথম ধাপ হিসেবে আগামী বছর (২০২৭ শিক্ষাবর্ষ) থেকেই কারিকুলামে যুক্ত হচ্ছে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও খেলাধুলাবিষয়ক নতুন বিষয়।
সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের শিক্ষা কাঠামো সংক্রান্ত দূরদর্শী রূপরেখা, কারিকুলামের ব্যাপক সংস্কার, শিক্ষক মূল্যায়ন, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনর্বাসন এবং শিল্প-শিক্ষা সমন্বয় (ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশন) এবং ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন— শিক্ষা খাতই তাঁর সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠনের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে অন্তর্বর্তী সময় হিসেবে আমরা আগামী শিক্ষাবর্ষের (২০২৭) পাঠ্যপুস্তকে যতটুকু সম্ভব পরিমার্জন, সংযোজন ও বিয়োজন করছি।’
তিনি বলেন, ‘২০২৮ শিক্ষাবর্ষের কারিকুলামে ব্যাপক ও বিস্তৃত সংস্কার আনা হবে। এতে বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় দেশে একটি টেকসই ও যুগান্তকারী শিক্ষাক্রম রূপরেখা তৈরি করা সম্ভব হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ৪টি নতুন বই ও বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা ও শারীরিক শিক্ষাভিত্তিক বই— ‘স্পোর্টস অ্যান্ড কালচার’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ এবং ‘টেকনিক্যাল এডুকেশন’ পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো— রোবটিক্স, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষার সাথে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের গুণগত পরিবর্তন ও মূল্যায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী আমলে পরিসংখ্যান ভালো দেখানোর জন্য কৃত্রিমভাবে জিপিএ-৫ এর বন্যা ভাসিয়ে দেওয়া হতো। এমনকি পরীক্ষা না দিয়েও পাস করিয়ে দেওয়ার কালচার (সংস্কৃতি) ছিল। আমরা সেই আত্মঘাতী পথ বন্ধ করেছি। এবার কোনো গ্রেস নম্বর দেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীরা শতভাগ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ মূল্যায়নে তাদের জিপিএ ও জেনুইন (সঠিক) ফলাফল পেয়েছে।’
সদ্য প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষায় যেসব শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে বা শিক্ষা স্রোতধারা থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের রাষ্ট্র বোঝা হিসেবে দেখবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘আগের সরকার এসব অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভাবেনি। কিন্তু আমরা তাদের জন্য বিশেষ পলিসি তৈরি করছি।
এসব তরুণদের টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি), স্বল্পমেয়াদি কারিগরি ও ভোকেশনাল কোর্সে যুক্ত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হবে। প্রয়োজনে তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।’
বেকারত্ব দূরীকরণে সরকারের নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কর্মসংস্থানের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ (কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র) চালু করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় কর্মক্ষম তরুণ-তরুণীরা তাদের দক্ষতার বিবরণ দিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন। ফলে চাকরিদাতা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে চাকরিপ্রার্থীদের সরাসরি নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে।’
মাহদী আমিন বলেন, ‘বেসরকারি খাতকে সরাসরি যুক্ত করে এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া প্রথমে বিভাগীয় পর্যায়ে এবং পরবর্তীতে দেশের প্রতিটি জেলায় সম্প্রসারিত হবে।
এতে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় অর্থনীত ও সামাজিক সুরক্ষার মূলধারায় সম্পৃক্ত করা হবে।’
শিক্ষকতা পেশাকে আকর্ষণীয় করা এবং শিক্ষকদের ডিজিটাল ক্ষমতায়নে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ প্রোগ্রামের আওতায় পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক থেকে শুরু করে সব পর্যায়ের শিক্ষকদের হাতে ডিজিটাল ট্যাবলেট পৌঁছে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়া, দক্ষতা বাড়ানো ও সম্মানজনক অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে।
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার সংস্কৃতি ও বিশ্বমানের র্যাঙ্কিং বৃদ্ধির বিষয়ে মাহদী আমিন বলেন, স্থানীয় শিল্পের সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে যৌথ গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রবাসী বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষকদের দেশে ফিরিয়ে এনে ‘ব্রেন ড্রেন’কে ‘ব্রেন সার্কুলেশনে’ রূপান্তর করা হবে।
পাশাপাশি গবেষণায় সরকারি বরাদ্দ বহুগুণ বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
বিদ্যালয়গুলোর বৈষম্য দূর করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্রামীণ ও শহরের বিদ্যালয়ের মধ্যে বৈষম্য দূর করতে দেশব্যাপী ‘প্রাইমারি স্কুল গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’ ও ‘ইনোভেশন ও স্টার্টআপ কম্পিটিশন’-এর মতো জাতীয় প্রতিযোগিতা চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় স্বীকৃতি পাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘কেবল সনদসর্বস্ব শিক্ষা নয়, দক্ষতা, কর্মসংস্থান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন একটি প্রজন্ম তৈরির মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
সুত্রঃ বাসস
শিক্ষা খাতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সংযোগ উভয় দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব, কর্মসংস্থান এবং পেশাগত সম্ভাবনার ক্ষেত্রকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করা সরকারের প্রধান অঙ্গীকার। ক্লাসরুমের তাত্ত্বিক শিক্ষাকে কর্মক্ষেত্রের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে সরকারের পরিকল্পনা হলো সবার জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশি তরুণদের এগিয়ে রাখতে মান্দারিন (চীনা ভাষা) চর্চাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালুর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) চীনের গুয়াংডংয়ে অনুষ্ঠিত ‘কারিগরি শিক্ষা সেতুবন্ধন ও চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক-বাণিজ্য মেধা উন্নয়ন’ শীর্ষক এক সিম্পোজিয়ামে তিনি এ কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে টেকসই করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, ক্রস-বর্ডার ই-কমার্স, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট ও ফিনান্সিয়াল টেকনোলজি-এর মতো উদীয়মান প্রযুক্তি খাতে বিশ্বমানের দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা জরুরি।
চীনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় আধুনিক কারিগরি পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, যৌথ সার্টিফিকেশন এবং এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সিম্পোজিয়ামে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন ও মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া। এছাড়া চীনের বিভিন্ন খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও প্রতিনিধিবৃন্দ, বিশিষ্ট শিক্ষক-গবেষক, শিক্ষার্থী ও চীনের শীর্ষস্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চীনের ১১টি শীর্ষ কারিগরি ও প্রযুক্তিগত কলেজের যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। কলেজগুলো হলো- এনপিং ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন সেন্টার, গুয়াংডং লিটারেচার অ্যান্ড আর্ট ভোকেশনাল কলেজ, গুয়াংডং নানহুয়া ভোকেশনাল কলেজ অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড কমার্স, গুয়াংডং পলিটেকনিক অব সায়েন্স অ্যান্ড ট্রেড, গুয়াংডং টিচার্স কলেজ অব ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজেস অ্যান্ড আর্টস, গুয়াংডং ইঞ্জিনিয়ারিং পলিটেকনিক, গুয়াংডং কান্ট্রি গার্ডেন ভোকেশনাল কলেজ, গুয়াংডং জিয়াংমেন প্রিস্কুল এডুকেশন কলেজ, কিংইয়ুয়ান পলিটেকনিক, গুয়াংডং লিংনান ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজ এবং গুয়াংঝু প্রিস্কুল এডুকেশন কলেজ।
এ সময় বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী ও উপদেষ্টা ‘বেইডৌ+’ ডিজিটাল সাপ্লাই চেইন ল্যাবরেটরি ঘুরে দেখেন এবং রোবোটিক্স, রোবট ডগের প্রোগ্রামিং এবং চীনা চা সংস্কৃতির প্রদর্শনী পর্যবেক্ষণ করেন।
বিশ্বব্যাপী কারিগরি শিক্ষার প্রসারে গুয়াংডং ‘চায়নিজ + ভোকেশনাল স্কিলস’ ইন্ডাস্ট্রি-এডুকেশন ইন্টিগ্রেশন অ্যালায়েন্স চালু করা এ আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল। এটি কারিগরি শিক্ষা, ভাষা শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্প-শিক্ষার সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সহযোগিতার এক নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে।
উভয় পক্ষই এই আলোচনাকে বাস্তবসম্মত ও টেকসই অংশীদারিত্বে রূপ দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শেষ করেন, যা কারিগরি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্পের সাথে সংযুক্ত প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যকার সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চায়না মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েও নাটোরের মেয়ে ফাতেমা খানমের ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। এমন খবরে তার পাশে দাঁড়ান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার(২৭ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ হাতে অনুদানের টাকার চেক ফাতেমার হাতে তুলে দেন।
ফাতেমার বিষয়টি জানতে পেরে মানবিক কাজের দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন নাটোর-০১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সাংসদ সদস্য, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল। ফাতেমা খানমের চায়না মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অর্থ জোগাতে ‘প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল’ থেকে ৫ লাখ টাকার অনুদানের ব্যবস্থা করে দেন তিনি।
নিজ নির্বাচনী এলাকার অদম্য মেধাবী ফাতেমা খানমকে চায়না মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুলকে লালপুর-বাগাতিপাড়া আসনের জনসাধারণ আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে আরও অর্থের প্রয়োজন হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।
মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ৪ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী প্রায় ১৩ লাখ আবেদন করেছে। এর মধ্যে ১০ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি আবেদন পড়েছে লিখিত (তত্ত্বীয়) পরীক্ষার উত্তরপত্রের জন্য। আর ব্যবহারিক পরীক্ষার খাতার জন্য আবেদন পড়েছে ২ লাখ ৩১ হাজারের বেশি। ফলে এবার ফল পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন বা পুনর্নিরীক্ষণ করা হবে। এত দিন বোর্ডের নিয়মে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ ছিল না। আবেদন করা পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ করে মূলত প্রাপ্ত নম্বরের যোগ-বিয়োগে কোনো ভুল হয়েছে কি না, তা দেখা হতো।
জানা গেছে, এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ৪ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী প্রায় ১৩ লাখ আবেদন করেছে। এর মধ্যে ১০ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি আবেদন পড়েছে লিখিত (তত্ত্বীয়) পরীক্ষার উত্তরপত্রের জন্য। আর ব্যবহারিক পরীক্ষার খাতার জন্য আবেদন পড়েছে ২ লাখ ৩১ হাজারের বেশি। এত বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন ও পুনর্নিরীক্ষণ করতে গিয়ে চাপের মুখে পড়ছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।
আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান এ প্রসঙ্গে বলেছেন, এবার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক পরীক্ষক নিয়োগ দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া বিকল্প নেই।
এদিকে, আসন্ন শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন ও ক্লাস শুরুর সময় এগিয়ে আনা হচ্ছে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ২ সেপ্টেম্বর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হয়ে চলবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে ২৩ সেপ্টেম্বর ক্লাস শুরুর প্রস্তাব করা হয়েছে।
এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন নেওয়া এবং ভর্তি কার্যক্রম শেষে ১২ নভেম্বর ক্লাস শুরুর পরিকল্পনা ছিল।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবারও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হবে। কোনো ভর্তি পরীক্ষা হবে না। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে এবং শিক্ষার্থীদের ফলাফল, পছন্দক্রম ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনায় নিয়ে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হবে।
কয়েক বছর ধরেই এসএসসি ও সমমানের ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হচ্ছে। নির্ধারিত ফি দিয়ে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। পরে ফলাফল, পছন্দক্রম ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনায় একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কেন্দ্রীয়ভাবে একাদশ শ্রেণির অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে। এই পদ্ধতিতে কলেজ ও মাদ্রাসায় ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোয় ভর্তি হয় পৃথক প্রক্রিয়ায়। ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের প্রায় সব কলেজ ও মাদ্রাসায় এ পদ্ধতিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়।
এবারও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হবে। কোনো ভর্তি পরীক্ষা হবে না। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে এবং শিক্ষার্থীদের ফলাফল, পছন্দক্রম ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনায় নিয়ে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে, আবেদনের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ২ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভর্তি–ইচ্ছুক সবাইকে আবেদন করতে হবে। যারা ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছে, তাদেরও আবেদন করতে হবে। তবে পুনর্নিরীক্ষণে যাদের ফল পরিবর্তন হবে, তাদের পুনরায় আবেদনের সময় দেওয়া হবে। ১০ সেপ্টেম্বর পুনর্নিরীক্ষণে ফল প্রকাশ হওয়ার কথা।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রস্তাব অনুযায়ী, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর যাদের পুনর্নিরীক্ষণে ফল পরিবর্তন হবে, তারা আবেদন করতে পারবে। এভাবে যাচাই–বাছাই শেষে ২০, ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর ভর্তির কাজ হবে। তারপর ২৩ সেপ্টেম্বর ক্লাস শুরু হবে।
তবে যারা এ সময়ে ও প্রক্রিয়ায় কোনো কলেজ-মাদ্রাসা পাবে না বা প্রত্যাশিত কলেজ পাবে না অথবা কোনো কারণে আবেদন করতে পারবে না, ২৩ সেপ্টেম্বরের পরপর তাদেরও ভর্তির জন্য আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে।
১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। অর্থাৎ প্রায় ৭ লাখ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি। সারাদেশে একাদশ শ্রেণিতে কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। ফলে মোট আসনের অর্ধেকের বেশি এবার খালি থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে আসন বেশি থাকলেও জিপিএ-৫ পাওয়া সব শিক্ষার্থী তাদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে না। কারণ, তুলনামূলক ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোয় আসনসংখ্যা সীমিত। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মিনাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে চরম দুর্ভোগের মধ্যে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের অভাবে প্রতিদিন খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। বর্ষাকাল, তীব্র রোদ কিংবা বৈরী আবহাওয়ায় পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির পুরোনো ভবন ২০২১ সালে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে ভবনটি নিলামের মাধ্যমে অপসারণ করা হলেও এখন পর্যন্ত নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করেই চলছে শিক্ষা কার্যক্রম।
বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ২১০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। অথচ পাঠদানের জন্য ব্যবহারযোগ্য রয়েছে মাত্র দুটি শ্রেণিকক্ষ। এর মধ্যে দুটি শ্রেণির ক্লাস কক্ষে পরিচালিত হলেও বাকি তিনটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে খোলা আকাশের নিচে বসিয়ে পাঠদান করানো হচ্ছে।
বর্ষার সময় বৃষ্টি শুরু হলে পাঠদান বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়। আবার প্রচণ্ড রোদ কিংবা ঝড়ো আবহাওয়াতেও স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা খাতুন জানান, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘ভবন সংকটের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এক সময় যেখানে প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী ছিল, বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে ২১০ জনে নেমে এসেছে।’
এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি বলেন, ‘বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। নতুন ভবনের কাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ঝড়-বৃষ্টি ও রোদ থেকে সুরক্ষা দিতে অস্থায়ী টিনশেড নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন বিদ্যালয় ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করা প্রয়োজন। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, ‘দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধান না হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ৭৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন থেকে ফাঁকা। এ সব বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক দিয়ে চালানো হচ্ছে প্রধান শিক্ষকের কাজ। ফলে বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান প্রক্রিয়াসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরী হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীরা। এই অবস্থায় দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিায়োগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, এ উপজেলায় প্রাথমিক স্তরের বিদ্যালয়গুলোতে সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক পাঠদান প্রক্রিয়া প্রবর্তনের জন্য ১৩৯ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পাঁচটি ক্লাস্টারে বিভক্ত করা হয়েছে। ক্লাস্টারগুলো হচ্ছে Ñ উত্তর কালিকাপুর ক্লাস্টার, কাঠারবিল ক্লাস্টার, এ ক্লাস্টারভূক্ত বিদ্যালয়ের সংখ্যা , তারাটিয়া ক্লাস্টার, ,কাউনিয়ারচর ক্লাস্টার ও সানারচর ক্লাস্টার।
বেসরকারি অবস্থায় ৯টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ছিলেন। পরে জাতীয়করণ হলে গেজেটে তাদের সহকারী শিক্ষক হিসেবে দেখানো হয়। বিষয়টিতে আপত্তি জানিয়ে প্রধান শিক্ষক পদের দাবিতে শিক্ষা বিভাগে মামলা করেন পদবঞ্চিত ওই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকগণ। যে কারণে ওই ৯ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।
মামলার কারণে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য বিদ্যালয়গুলো হচ্ছে, নতুন হলকারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মদনেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডাকরাগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চেংটিমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মৌলভীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুন্সীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ চেংটিমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোনাকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ মাখনেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
এ ছাড়াও প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব রয়েছে ২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বাকি ৪৭ টি বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষককের পদটি দীর্ঘদিন থেকে শূন্য রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জনা গেছে, ২৩টি প্রাথমিকত বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে সরকারী শিক্ষকদের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়েরর প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল, শিক্ষার্থীদের পাঠদানের মানোন্নয়ন ও পাঠদান সমুন্নত রাখতে ৪৭টি বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই সকল বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের স্থায়ী দায়িত্বের জন্য সহকারি শিক্ষককে পদোন্নতির প্রস্তাব করা হবে।
ডাকরাগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক একেএম শফিকুল ইসলাম বলেন, তাঁর নিয়োগ হয়েছে জাতীয়করণের পূর্বে। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি তখনকার নীতিমালা অনুযায়ী তাঁকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। পরবর্তীতে গ্যাজেটের সময় তাঁকে সহকারি শিক্ষক হিসেবে দেখানো হয়েছে। তিনি পূর্বের প্রধান শিক্ষকের পদ ফিরে পেতে শিক্ষা বিভাগে মামলা করেছেন। মামলা চলমান রয়েছে। তাঁর দাবি, তাকে পূর্বের প্রধান শিক্ষকের পদে বহাল রাখা হোক।
মোয়ামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষক আশরাফুন্নাহারের ভাষ্য, তিনি ২০১৮ সালের অক্টোবরে যোগদান করেছেন। তখন থেকে তিনি প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হয়নি। পদোন্নতির জন্য কাগজপত্র অফিসে জমা দেননি। তবে খুব শীঘ্র জমা দেবে।
সবুজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এনামুল হক ফারুকী জানান, ২০২৩ সাল থেকে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগেও কয়েক বছর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। পদোন্নতি দিয়ে তাঁকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানবেন্দ্র দাস জানান, যে বিদ্যালয়গুলো প্রধান শিক্ষক নেই সে সকল বিদ্যালয়গুলোর দিয়ে শিক্ষা অফিস নিয়মিত তদারকি করে যাচ্ছে। যাতে বিদ্যালয়গুলোতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সচল ও সতেজ থাকে এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদান প্রক্রিয়া সমুন্নত থাকে। তবে প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণে সহকারি শিক্ষককে পদোন্নতির সুপারিশ করে কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদা দেওয়া হবে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেছেন, আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর এফডিসিতে আন্তর্জাতিক যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মো. আমিনুল হক বলেন, গত ১৭ বছরে দক্ষতা বৃদ্ধির নামে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। বর্তমান সরকার দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছে।
বিগত সরকার যেসব ভুল করেছে, বর্তমান সরকার সেই ভুল করবে না। প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে যুবসমাজকে কর্মক্ষম করে গড়ে তোলা হবে।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডিগ্রি নিয়ে যুবকরা যাতে বেকার হয়ে ঘরে বসে না থাকে, সে জন্য বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে তাদের দক্ষতা অর্জন করে স্বাবলম্বী করে তোলার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, তরুণ সমাজকে মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত করতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।
যুবকদের কর্মসংস্থান হলে সামাজিক অপরাধ কমে আসবে। সরকার খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ শুরু করেছে। যেখানেই খালি জায়গা থাকবে, সেখানেই খেলার মাঠ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আমিনুল হক বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে।
অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। আয়োজনে সহযোগিতা করেছে কেয়ার বাংলাদেশ ও এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজেস বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন, ড. এস এম মোর্শেদ, কেয়ার বাংলাদেশের পরিচালক রওনক জাহান ও এসওএসের ডেপুটি ন্যাশনাল ডিরেক্টর মো. মাসুদ রানা।
নওগাঁ জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে ৭টি উপজেলার মোট ১৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। সম্প্রতি প্রকাশিত এসএসসির রেজাল্টের পর জেলার শিক্ষা অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ তথ্য জানা যায়। শতভাগ ফেইলের মধ্যে রয়েছে মাধ্যমিক, মাদরাসা ও ভোকেশনাল এর এমপিওভুক্ত ও নন এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান।
জানা যায়, জেলার বদলগাছী উপজেলার ৩টি প্রতিষ্ঠান থেকে কেউই পাস করেনি। শতভাগ ফেইল করা সেই প্রতিষ্ঠান গুলো হলো গোবরচাপা হাট আকতার হামিদ সিদ্দিকী দাখিল মাদরাসা। এই মাদরাসা থেকে ১জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও সে পাস করেনি। এ উপজেলার শতভাগ ফেইলের তালিকায় রয়েছে জোলাপাড়া ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসা। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন কিন্তু একজনও পরীক্ষার্থী পাস করেনি। এছাড়াও উপজেলার খাদাইল দাখিল মাদরাসা থেকে কোন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেননি।
এদিকে জেলার পত্নীতলা উপজেলার চকনোদবাটি ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসা থেকে ১৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করেনি। সাপাহার উপজেলার ভাবুক নইমুদ্দিন দাখিল মাদরাসা থেকে ১৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করেনি। জেলার মান্দা উপজেলার চকদেবীরাম-চকভোলাই আলিম মাদ্রাসা থেকে এবারের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে কেউ পাস করেনি। এছাড়াও এই উপজেলার কুসুম্বা শাহী দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৯ জন, রামনগর দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৩ জন, চকরঘুনাথ দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৩ জন এবং এলেঙ্গা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৬ জন পরীক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউই পাস করেনি।
জেলার পোরশা উপজেলার বড় গুন্দইল দাখিল মাদরাসা থেকে ১৬ জন, গাঙ্গরিয়া ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসা থেকে ১৩ জন, অনন্তপুর দাখিল মাদরাসা থেকে ৯ জন ও কালিনগর সরাইগাছী মহিলা দাখিল মাদরাসা থেকে ৬ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিলেও একজন পরীক্ষার্থীও পরীক্ষায় পাস করেননি। নিয়ামতপুর উপজেলার বরিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৫ জন, পৈলানপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৯ জন, নিমদিঘী কারিগরি স্কুল ও কলেজ থেকে ৭ জন এবং বরিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তাদের কেউই পাস করতে পারেনি। এবং আত্রাই উপজেলা সুদরানা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৪ জন এবং আটগ্রাম ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। কিন্তু তাদের কেউই পাস করেননি।
বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ বিভিন্ন কারণ দেখান, তারা কেউ কেউ বলেন, শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোর অভাব এবং অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে না আসা।
এরমধ্যে মান্দা উপজেলার চকদেবীররাম চকভোলাই আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জালাল উদ্দিন বলেন, আমাদের মাদ্রাসা থেকে এবার ১৫ শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে পরীক্ষার কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার সম্মুখে পড়ে শিক্ষার্থীরা ভীত ও বিহ্বল হয়ে পড়ে। ফলে পরীক্ষা ভালো করতে পারেনি।
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, শতভাগ ফেল করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের সাথে দ্রুত বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার মান উন্নয়নে সকল প্রচেষ্টা আগামীতে অব্যাহত থাকবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আয়শা সিদ্দিকা বলেন, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস না করা খুবই দুঃখজনক।
শিক্ষা খাতে বাজেটের আকার বাড়ছে। গড়ে উঠছে বহুতল একাডেমিক ভবন; কিন্তু শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার মান যে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট বা এসএসসি পরীক্ষার ফল বিপর্যয় ও একাদশ শ্রেণির আসন্ন ভর্তি পরিস্থিতি। একদিকে ‘শিখন ঘাটতি’র কারণে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী মাধ্যমিকের গণ্ডি-ই পেরোতে পারেনি। অন্যদিকে এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে একাদশ শ্রেণির ভর্তিতে। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির মোট আসন প্রায় ২৫ লাখ হলেও, শিক্ষার্থীর অভাবে ১৩ লাখ ৬১ হাজার আসন ফাঁকা পড়ে থাকবে।
আসন্ন শিক্ষাবর্ষে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন গ্রহণ শুরু হতে পারে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে। ১০ নভেম্বরে মধ্যে ভর্তির কার্যক্রম শেষ করে আগামী ১২ নভেম্বর একাদশ শ্রেণিতে ক্লাস শুরু হবে। এবারও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে, কোনো ভর্তি পরীক্ষা হবে না। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ এবং মেধা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এদিকে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে শিক্ষাব্যবস্থার এই কাঠামোগত ব্যর্থতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মনজুর আহমদ বলেছেন, ‘শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শেখায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।’
একই সুরে কথা বলেছেন বিশ্লেষক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তার মতে, অবকাঠামোর চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো শিখনফল। তিনি বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীরা স্কুল থেকে আসলে কী শিখে বের হচ্ছে, সেটিতেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।’
শিক্ষার এই দৈন্যদশার পেছনে শিক্ষকদের পেশাদারি সংকটকেও দায়ী করছেন অনেকে। রাজধানীর বনশ্রীর একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের ভাষ্যে চরম বাস্তবতা উঠে এসেছে। তার মতে, শিক্ষকতা এখন অনেকের কাছে আর পেশাগত দায়বদ্ধতার জায়গায় নেই। অনেকে এটিকে ব্যবহার করছেন প্রশাসনিক সুবিধা বা পদোন্নতির সিঁড়ি হিসাবে।
শিক্ষামন্ত্রী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিলেও, শ্রেণিকক্ষের এই বেহাল দশা এবং শিক্ষকদের তদবির নির্ভর সংস্কৃতির কারণেই এসএসসিতে ফল বিপর্যয় ঘটেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যার চূড়ান্ত খেসারত দিচ্ছে দেশের অর্ধেকের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেগুলো এখন শিক্ষার্থী-শূন্য হওয়ার অপেক্ষায়।
অর্ধেকের বেশি কলেজ শিক্ষার্থী-শূন্য থাকার অপেক্ষায় থাকলেও, ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে তীব্র শঙ্কা ও হতাশা। কারণ, ১৩ লাখ আসন খালি থাকলেও মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হাতেগোনা।
যে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে, তাদের সিংহভাগেরই লক্ষ্য রাজধানীসহ বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ কলেজগুলো। ফলে জিপিএ-৫ পেয়েও কাঙ্ক্ষিত কলেজে ভর্তির সুযোগ না পাওয়ার শঙ্কা প্রবল।
বোর্ড কর্মকর্তাদের মতে, বহু শিক্ষার্থী আবেদন করার সময় অবাস্তবভাবে শুধু এক বা দুটি শীর্ষ কলেজকে পছন্দক্রমে রাখে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকলেও, মানসম্মত শিক্ষার নিশ্চয়তা যে গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানের বাইরে নেই—শিক্ষার্থীদের এই আস্থাহীনতাই এই অসম প্রতিযোগিতার মূল কারণ।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান বলেছেন, খসড়া সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণের সময় রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সেটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। যদি সেটি ঠিক থাকে, তাহলে সে অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু হবে।
১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন পরীক্ষার্থী। প্রায় ৭ লাখ পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এই হিসাবে এবার অর্ধেকের বেশি আসন খালি থাকবে।
সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে (কলেজ ও মাদ্রাসা) ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। গতবার ভর্তি হয়েছিল মোট আসনের ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ খালি ছিল ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ। এ বছর পাসের হার আরও কমেছে। ফলে আসনসংখ্যা আরও বেশি শূন্য থাকবে।
তবে মোট আসন খালি থাকলেও জিপিএ-৫ পেয়েও অনেকে তাদের কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে না। কারণ, তুলনামূলক ভালো প্রতিষ্ঠানে আসন কম। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন।
বিগত কয়েক বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি দিয়ে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। পরে শিক্ষার্থীর ফলাফল, কোটা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং পছন্দক্রম বিবেচনায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়।
এই পদ্ধতিতে শুধু কলেজ ও মাদ্রাসায় ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পৃথক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের প্রায় সব কলেজ ও মাদ্রাসায় এই পদ্ধতিতেই একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে।
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই এবার একাদশ শ্রেণিতে (কলেজ ও মাদ্রাসা) শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। কোনো ধরনের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রস্তুত করা খসড়া সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইনে ভর্তি আবেদন শুরু হয়ে ১২ নভেম্বর থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হবে।
ভর্তি প্রক্রিয়া ও সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী আবেদন গ্রহণ শুরু: আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে এবং ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ: ১০ নভেম্বর। ক্লাস শুরু হবে, ১২ নভেম্বর।
কেন্দ্রীয়ভাবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। তবে নটর ডেম কলেজসহ হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ভর্তি প্রক্রিয়া পৃথকভাবে সম্পন্ন হবে।
আসন সংখ্যা ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের প্রতিযোগিতা
সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। গত বছর মোট আসনের ৪১.৩ শতাংশ খালি ছিল। এবার পাসের হার কম হওয়ায় খালি আসনের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী (যার মধ্যে ৯টি সাধারণ বোর্ডে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন)।
মোট আসন খালি থাকলেও স্বনামধন্য ও মানসম্মত কলেজগুলোতে আসন সংখ্যা সীমিত। ফলে জিপিএ-৫ পেয়েও অনেক শিক্ষার্থী তাদের পছন্দ তালিকার শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে না।
ফল প্রকাশের দিনে ঘরজুড়ে থাকার কথা ছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাস। স্বজনদের মুখে ফুটে ওঠার কথা ছিল হাসি, আর মা-বাবার চোখে থাকার কথা ছিল গর্বের অশ্রু। কিন্তু সেই আনন্দের দিনেই কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার এক পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কারণ এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের মাত্র দুদিন আগে বিদ্যুৎস্পর্শে প্রাণ হারিয়েছে পরিবারের একমাত্র ছেলে শিহাব।
সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে শিহাব পেয়েছে গোল্ডেন জিপিএ-৫। অথচ সন্তানের এমন অসাধারণ সাফল্যের দিনে আনন্দ করার বদলে একমাত্র ছেলেকে হারানোর শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন তার মা-বাবা ও স্বজনরা।
নিহত শিহাব কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মানরা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। সে ঢাকার বিমানবন্দর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম জানান, শিহাবের বাবা তোফাজ্জল হোসেন ঢাকায় গার্মেন্টস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। পরিবারের একমাত্র ছেলে শিহাব ছিল দুই ছোট বোনের বড় ভাই। ছোট চাচা তাজুল ইসলামের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে আসে সে। কিন্তু সেই আসাই যে তার জীবনের শেষ আসা হবে, তা কেউ ভাবতে পারেনি।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে গোসল শেষে বাড়ির ছাদে কাপড় শুকাতে যায় শিহাব। এ সময় বিয়ের অনুষ্ঠানের ডেকোরেশনের জন্য টানানো রঙিন বাতির তারে বিদ্যুৎস্পর্শে গুরুতর আহত হয় সে। পরে তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণপাড়ার পাশের কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওইদিন সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়িতে শিহাবের মরদেহ দাফন করা হয়।
শিহাবের চাচা তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যবসার কারণে শিহাবের পরিবার ঢাকায় থাকত। আমার বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তারা গ্রামের বাড়িতে এসেছিল। শিহাব ছিল তার মা-বাবার একমাত্র ছেলে। তার দুটি ছোট বোন রয়েছে।’
শশীদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান রিয়াদ বলেন, ‘চাচার বিয়ের অনুষ্ঠানে এসে শিহাবের বিদ্যুৎস্পর্শে মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এর মধ্যে আজ এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। শিহাব গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পরিবারটি এখন শোকাহত।’
তিনি আরও জানান, শিহাবের মৃত্যুতে আগামীকাল মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সান্ত্বনা দেওয়ারও চেষ্টা করেছেন তিনি।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্নি ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। আমরা পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছি। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।’
একদিকে এসএসসির ফলাফলে গোল্ডেন জিপিএ-৫, অন্যদিকে সেই ফল দেখার আগেই পৃথিবী থেকে বিদায়—শিহাবের এই মর্মান্তিক পরিণতি স্বজনদের কাছে যেন আনন্দের দিনে এক গভীর শূন্যতার নাম হয়ে রইল। এবিষয়ে পল্লী চিকিৎসক ও সংবাদ কর্মী জানান আমারা আমাদের ভাগিনাকে হারিয়ে পাগল হয়ে আছি,সবাই দোয়া করবেন আল্লাহ যেন জান্নাতুল ফেরদৌসের স্বাচ্ছন্দ্য দান করেন শিহাবকে।আর জিপিএ ৫ দিয়ে আর কি হবে যার জন্য সেই তো চলে গেলো