ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯তম উপাচার্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ও ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল।
আজ শনিবার সকালে উপাচার্য কার্যালয়ে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের কাছ থেকে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, ঢাবি শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, অফিস প্রধানগণ, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও অন্যান্যরা।
মাকসুদ কামাল শুভেচ্ছা বক্তব্যের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সকল শহিদ এবং মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছেন তাদের সবার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশ ও জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। এদেশের সকল অর্জনের পিছনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনন্য অবদান রয়েছে। বিশ্ব মানচিত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশা ব্যক্ত করে উপাচার্য বলেন, গুণগত শিক্ষা, মৌলিক গবেষণা, সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী কাজের মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে যাবে। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, ভাবমূর্তি, সুনাম ও মর্যাদা সমুন্নত রাখতে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য উপাচার্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহবান জানান।’
মাকসুদ কামালের জীবনবৃত্তান্ত
অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল ২০২০ সালের জুন মাস থেকে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক)-এর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স এন্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক। এর পূর্বে ভূতত্ত্ব বিভাগে অধ্যাপক পদে কর্মরত ছিলেন। ড. মাকসুদ কামাল বিশ্বখ্যাত University College London, UK to Visiting Professor হিসেবে এপ্রিল ২০২২ থেকে মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত নিয়োগ লাভ করেছেন।
তিনি ২০০০ সালের মার্চ মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে প্রভাষক পদে যোগদান করেন এবং একই বিভাগে ২০১০ সালে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান। বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পূর্বে তিনি বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানে (স্পারসো) বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার পদে প্রায় ছয় বছর কর্মরত ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের Bose Center for Advanced Study and Research in Natural Sciences -এ রিসার্চ ফেলো হিসেবে দুই বছর গবেষণা কাজ করেছেন। এছাড়া, তিনি খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে যথাক্রমে ভূতত্ত্ব, পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পাঠদান করেছেন।
মাকসুদ কামাল ১৯৮২ সালে এস এস সি, ১৯৮৪ সালে এইচ এস সি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগ থেকে ১৯৮৮ সালে বিএসসি (অনার্স) এবং ১৯৮৯ সালে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। সকল পরীক্ষায় তিনি প্রথম ডিভিশন / বিভাগ প্রাপ্ত হয়েছেন। ১৯৯৮ সালে তিনি International Institute for Gep Information Sciences and Earth Observation, University of Twente, The Netherlands থেকে Applied Geomorphology and Engineering Geology বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৪ সালে তিনি Tokyo Institute of Technology (IIT), Japan থেকে Earthquake Engineering বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশি-বিদেশি জার্নালে তাঁর ৬৫টি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত প্রবন্ধ, রিপোর্ট, বুক চ্যাপ্টারসহ তাঁর ১০০টির উপরে গবেষণাকর্ম রয়েছে। অনেকগুলো আন্তর্জাতিক জার্নালে তিনি Reviewer হিসেবে অবদান রেখে আসছেন।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সকল পর্যায়ে একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান (২০১২-২০১৭) ছিলেন যা বর্তমানে ডিজাস্টার সায়েন্স এন্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগ নামে পরিচিত। প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরের দায়িত্ব পাওয়ার পূর্বে ২০১২ সাল থেকে আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিনের (চারবার নির্বাচিত)
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদারের কার্যালয়ে ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, বুধবার জাপানের জিচি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলের সাথে একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উভয় দেশের চিকিৎসা গবেষকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং যৌথ গবেষণার ক্ষেত্রসমূহ আরও প্রসারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চিকিৎসা শিক্ষা, উন্নত চিকিৎসাসেবা এবং নতুন উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি হাসপাতালের পরিবেশগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় গবেষণা সহায়তার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে সভায় ফলপ্রসূ আলোচনা সম্পন্ন হয়।
আনুষ্ঠানিক সভা শেষে জাপানি প্রতিনিধিদল বিএমইউ-এর মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিন আলমের সাথে তাঁর কার্যালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। এই বিশেষ মুহূর্তে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মোহাম্মদ ইসমাইল ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকবৃন্দসহ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি এবং বিএমইউ-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। জাপানের জিচি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভারনমেন্টাল এন্ড প্রিভেনটিভ মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর ড. সাহোকো ইচিহারার নেতৃত্বে আসা প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন সহযোগী অধ্যাপক ড. মিসে নাথান, ড. একেগামি আকিহিকো ও ড. কিতামুরা ইউকি। সভায় উপস্থিত শিক্ষা ও গবেষণা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ দুই দেশের এই জ্ঞান বিনিময়ের উদ্যোগকে চিকিৎসা খাতের উন্নয়নে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেন।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর উদ্যোগে আয়োজিত বাউবির বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকদের নিয়ে "বৈশ্বিক স্বীকৃতির পথে অগ্রযাত্রা: বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর র্যাংকিং অর্জনের কৌশল" বিষয়ক দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল ১০:০০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুর ক্যাম্পাসের সম্মেলন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (লেকচার গ্যালারী) অনুষ্ঠিত হয়।
আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহির রায়হানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালী যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি বলেন, “বৈশ্বিক স্বীকৃতি ও উচ্চ র্যাংকিং অর্জন কোনো এককালীন বিষয় নয়; এটি একটি ধারাবাহিক ও কৌশলগত মানোন্নয়ন প্রক্রিয়া। বর্তমান বিশ্বে বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিং শিক্ষার মান, গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সক্ষমতা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতার প্রতিফলন। উন্মুক্ত ও দূরশিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বৃহৎ শিক্ষার্থী জনগোষ্ঠীকে উচ্চশিক্ষার আওতায় আনার ক্ষেত্রে বাউবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই শক্তিগুলোকে বৈশ্বিক মানদণ্ডের আলোকে উপস্থাপন করাই এখন সময়ের দাবি”।
‘আইকিউএসি কেবল প্রশাসনিক কাঠামো নয়; এটি গুণগত সংস্কৃতি গড়ে তোলার কেন্দ্রবিন্দু। শিক্ষকবৃন্দের গবেষণায় সক্রিয় অংশগ্রহণ, আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশনা বৃদ্ধি এবং শিক্ষাদানে উদ্ভাবনের মাধ্যমে সমন্বিত প্রচেষ্টায় বাউবি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে সফল হবে বলে উপাচার্য আশাবাদ ব্যক্ত করেন’।
প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারুক এম. শেখ। তিনি বলেন, “জীবনের সিদ্ধান্ত স্বপ্ন ও বাস্তবতার সমন্বয়ে নিতে হয়। ফিজিক্স থেকে ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সে আসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, বহুমাত্রিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ একজন শিক্ষককে পরিপূর্ণ করে”। তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য কেবল জ্ঞান দেওয়া নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মনে নৈতিকতা, আশাবাদ ও ভালো মানুষ হওয়ার আদর্শ গড়ে তোলা, যা ভবিষ্যতে সমাজ পরিবর্তনের শক্তি হয়ে উঠবে’।
প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোঃ জাকির হোসেন তালুকদার। বাউবির সাতটি স্কুল থেকে ৪০ জন শিক্ষক এ প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন।
স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ৪ হাজার ২০ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) ১৩তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সাভারের বিরুলিয়ায় অবস্থিত ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটিতে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়।
এতে কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী ১২ স্নাতককে বিভিন্ন বিভাগে ‘স্বর্ণপদক’দেয়া হয়। এর মধ্যে চ্যান্সেলর্স গোল্ড মেডেল পান মোছাঃ স্বপ্নীল আক্তার নূর, মোছাঃ জাকিয়া আক্তার, সৌরভ গারদিয়া, আরিফুল রহমান ও মুনতাসির সরকার। চেয়ারম্যান গোল্ড মেডেল পান আনজির রহমান খান, মোঃ তুহিন ইসলাম, মোঃ আবু বকর সিদ্দিক, মোঃ আবু বকর সিদ্দিক এবং ভাইস-চ্যান্সেলর্স গোল্ড মেডেল পান শাহরিয়ার শহীদ, বায়েজিদ চৌধুরী ও হালিমা আক্তার।
মোট গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে ৩ হাজার ৩৯১ জন স্নাতক এবং ৬২৯ জন স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের প্রতিনিধি হিসেবে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও সনদ প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস. এম. এ. ফায়েজ। সমাবর্তন বক্তা ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবং ব্র্যাক-এর চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। এসময় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাষ্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মোঃ সবুর খানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাব সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিবেশন করে। এছাড়া জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘ওয়ারফেজ’এক মনোজ্ঞ সঙ্গীতানুষ্ঠান মধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এই বিশেষ মুহূর্তে আনন্দঘন করে তোলে।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) ও বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ‘এসপায়ার টু ইনোভেট’ (এটুআই) প্রোগ্রামের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। আজ ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। এই সমঝোতা স্মারকের মূল লক্ষ্য হলো বিএমইউতে পেপারলেস বা কাগজবিহীন প্রশাসনিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা।
এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী জনাব ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। বিএমইউ-এর পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম এবং আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম আখতারুজ্জামান। অন্যদিকে এটুআই-এর পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) মোহাঃ আব্দুর রফিক, হেড অব প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম এবং কনসালটেন্ট মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন।
চুক্তির আওতায় বিএমইউ-এর চিকিৎসা পরিষেবা, শিক্ষাদান এবং গবেষণার যাবতীয় আর্থিক লেনদেন সহজ ও স্বচ্ছ করতে ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতি চালু করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবপোর্টাল বা সিস্টেমের সংশ্লিষ্ট সকল সেবার ফি এবং বিল সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে এটুআই-এর সমন্বিত পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘একপে’-এর সাথে সংযুক্ত করা হবে। এর ফলে নাগরিকগণ এমএফএস (বিকাশ, নগদ ইত্যাদি), ডিজিটাল ওয়ালেট, অনলাইন ব্যাংকিং, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড এবং এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে যেকোনো সময় যেকোনো স্থান থেকে অনায়াসে ফি পরিশোধ করতে পারবেন। এই উদ্যোগ বিএমইউ-এর সার্বিক কার্যক্রমে ক্যাসলেস পদ্ধতি বাস্তবায়ন এবং কায়িক ভোগান্তি হ্রাসে বড় ভূমিকা রাখবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনাব ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, এই সমঝোতা স্মারক বিএমইউ-তে পেপারলেস কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি দীর্ঘ যাত্রার সূচনা করল। এর মাধ্যমে রোগীরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে পেমেন্ট সম্পন্ন করতে পারবেন এবং ভবিষ্যতে রোগীদের সকল স্বাস্থ্যগত রেকর্ড ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে অভূতপূর্ব অবদান রাখবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিনুল আলম বলেন, চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণাকে গতিশীল ও সমৃদ্ধ করতে আধুনিক প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। এই সমঝোতা স্মারকটি রোগীদের ভোগান্তি দূর করার পাশাপাশি চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তিকে আরও সহজলভ্য করবে।
রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার, মেডিসিন অনুষদের ডীন অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ এবং ডেন্টাল অনুষদের ডীন ডা. সাখাওয়াত হোসেনসহ এটুআই প্রোগ্রামের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। এই ডিজিটাল রূপান্তর চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিএমইউ-কে একটি আধুনিক ও স্মার্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলবে বলে অনুষ্ঠানে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
আসন্ন ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা স্থগিতের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) পরীক্ষার্থীদের পক্ষে এই রিটটি দায়ের করেন অ্যাডভোকেট নাজমুস সাকিব। আগামী ৩০ জানুয়ারি এই প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও নির্বাচনকালীন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পরীক্ষাটি পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা।
রিটকারী আইনজীবী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচনের ডামাডোল এবং সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতির কারণে পরীক্ষার্থীদের মানসিক প্রস্তুতি ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। রিট আবেদনে পরীক্ষাটি বর্তমান সময়সূচী থেকে পিছিয়ে দিয়ে অন্য কোনো সুবিধাজনক সময়ে নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ কেন্দ্রে একযোগে এই প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি)।
এর আগে পিএসসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, পরীক্ষার আসন বিন্যাস এবং হল সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা যথাসময়ে কমিশনের ওয়েবসাইট ও টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের পোর্টালে প্রকাশ করা হবে। তবে পরীক্ষার মাত্র দুই দিন আগে হাইকোর্টে এই রিট আবেদন জমা পড়ায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পিএসসি তাদের নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর এখন অনেক কিছু নির্ভর করছে।
উল্লেখ্য, গত বছর ২৬ নভেম্বর ৫০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল পিএসসি। এরপর ৪ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে আবেদনের প্রক্রিয়া। বিপুল সংখ্যক চাকরিপ্রত্যাশী এই বিসিএসে অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। তবে নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে বা নির্বাচনকালীন সময়ে এত বড় একটি পাবলিক পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে শুরু থেকেই পরীক্ষার্থীদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়ালো। হাইকোর্টে এই রিট আবেদনের ওপর শুনানির পর জানা যাবে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে কি না।
নেত্রকোনা জেলার দত্ত উচ্চ বিদ্যালয় সবচেয়ে প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দত্ত উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ মজিবুর রহমান এর সভাপতিত্বে সিনিয়র সহকারী শিক্ষক ও শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার এর সঞ্চালনায় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুনমুন জাহান লিজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) স্বজল কুমার সরকার, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা বিনতে রফিক, জেলা শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর কবির আহাম্মদ, জেলা প্রেসক্লাবের সম্পাদক মাহবুবুল কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সহসভাপতি তরিকুল ইসলাম খান পাঠান বাবুল প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা, সাংবাদিক, অভিভাবকরা সহ বিদ্যালয়ের অফিস স্টাফরা বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা একে একে দৌড়, জোড় পায়ে দৌড়, উচ্চ লাফ, দীর্ঘ লাফ, দড়ি লাফ, গোলক নিক্ষেপ, ব্যাঙ লাফ, মোরগের লড়াই, গুপ্তধন উদ্ধার, চেয়ার দখল, সুইয়ে সূতা পড়ানো, দ্রুত পোশাক পরিধান প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে প্রধান অতিথি এ সকল প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার বিতরণ করেন।
দেশের বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়াকে আধুনিক ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে সরকার মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল ও কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা–২০২৬’ নামক নতুন একটি নীতিমালা জারি করেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে শিক্ষা সচিব রেহেনা পারভীনের সই করা এই প্রজ্ঞাপনটি জারির দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে এবং এটি দেশের সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য প্রযোজ্য হবে। নতুন এই নীতিমালা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর জারি করা পূর্ববর্তী বদলি নীতিমালাটি রহিত করা হয়েছে।
নতুন এই নীতিমালার অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) অনলাইনে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্য পদের তালিকা প্রকাশ করবে এবং সেই অনুযায়ী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আবেদন আহ্বান করা হবে। নীতিমালার শর্তানুযায়ী, শিক্ষকরা তাদের প্রথম যোগদানের অন্তত দুই বছর পূর্ণ হওয়ার পর বদলির জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন এবং একবার বদলি হওয়ার পর পুনরায় বদলি হতে চাইলে নতুন কর্মস্থলে অন্তত দুই বছর কর্মরত থাকতে হবে। একজন শিক্ষক তার পুরো কর্মজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলি হতে পারবেন। বদলির ক্ষেত্রে নিজ জেলা বা নিজ বিভাগের জেলাগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হবে, তবে বিশেষ প্রয়োজনে স্বামী অথবা স্ত্রীর কর্মস্থলে বদলির সুযোগ রাখা হয়েছে। আবেদনের ক্ষেত্রে নারী প্রার্থী, স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থলের সান্নিধ্য, জ্যেষ্ঠতা ও দূরত্বকে অগ্রাধিকারের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
নীতিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুজন এবং একই বিষয়ের একজনের বেশি শিক্ষক বদলি হতে পারবেন না। আগ্রহী শিক্ষকরা আবেদনে সর্বোচ্চ তিনটি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করার সুযোগ পাবেন। এই পুরো বদলি প্রক্রিয়া মাউশি মহাপরিচালকের অধীনে সম্পন্ন হবে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এর তদারকি করবে। বদলিকৃত শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা, এমপিও ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বহাল থাকবে, তবে এই বদলিকে কোনো অধিকার হিসেবে দাবি করা যাবে না এবং কোনো যাতায়াত ভাতা প্রদান করা হবে না।
আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে বর্তমান প্রতিষ্ঠান থেকে অবমুক্ত করতে হবে এবং পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। আবেদনের ক্ষেত্রে কোনো ভুল বা অসত্য তথ্য প্রদান করা হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এছাড়া যাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা বা ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে, তারা বদলির আবেদনের জন্য অযোগ্য বলে গণ্য হবেন। এই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির মাধ্যমে বদলি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিনের জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা অবসান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ শিক্ষাবিষয়ক কোর্স চালু এবং এ বিষয়ে কর্মশালা আয়োজনের বিষয়ে একটি মতবিনিময় সভা হয়েছে। সোমবার দুপুরে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও বিভাগীয় ছাত্র উপদেষ্টাদের নিয়ে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে এ সভা হয়।
জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেধার সঙ্গে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে একটি উন্নত জাতি গঠনের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ শিক্ষাবিষয়ক কোর্স চালু এবং এ বিষয়ে কর্মশালা আয়োজনের ওপর সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সভায় নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ শিক্ষাবিষয়ক কোর্স চালু এবং কর্মশালা আয়োজনবিষয়ক কমিটির বিভিন্ন প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়। কমিটির পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে মতবিনিময় সভার সুপারিশসমূহ বিবেচনা করার বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের প্রথম বর্ষের (আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম) শিক্ষার্থীদের জন্য ‘নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ শিক্ষা’ বিষয়ক একটি কোর্স চালুর সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই শিক্ষাবর্ষ থেকে সব বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য চতুর্থ বর্ষ (সম্মান) ও মাস্টার্স পর্যায়ে ‘নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ শিক্ষা’ বিষয়ক কর্মশালা আয়োজনের বিষয়েও সভায় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ শিক্ষাসংক্রান্ত কমিটির আহ্বায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুন আহমেদ সভায় সভাপতিত্ব করেন। কমিটির সদস্য হিসেবে ছিলেন দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান মো. নূরুজ্জামান, নৈতিক উন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক আ খ ম ইউনুস, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক শাহ্ কাওসার মুস্তাফা আবুলউলায়ী, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শাকিলা ইয়াসমিন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খোরশেদ আলম এবং গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের প্রভাষক মীর মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন আলী।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ শিক্ষাবিষয়ক কোর্স চালু এবং এ বিষয়ে কর্মশালা আয়োজনের জন্য পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তের আলোকে এ দুটি কমিটি গঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুন আহমেদকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটি এ–সংক্রান্ত কোর্স চালু ও কর্মশালা আয়োজনের বিষয়ে কয়েক মাস ধরে কাজ করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন সর্বমিত্র চাকমা। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২’ নামক ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। একইসঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়াম এলাকায় বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে গিয়ে তাদের কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে সর্বমিত্র চাকমা কয়েকজন বহিরাগতকে কান ধরে ওঠবস করান। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনার সৃষ্টি হয়। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে তিনি এমন কঠোর আচরণ করতে বাধ্য হয়েছিলেন, যা মোটেও কাম্য ছিল না। নিজের ভুল স্বীকার করে তিনি লেখেন, “এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি এবং এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।”
তবে নিজের আচরণের প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেন এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাহীনতার চিত্র তুলে ধরেন। সর্বমিত্র অভিযোগ করেন, শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি কেবল শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বহিরাগতদের অবাধ বিচরণ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। বহিরাগতদের দ্বারা প্রায়ই নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা, মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটছে, যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তিনি আরও জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে বহিরাগতরা ভেতরে প্রবেশ করে এবং নিষেধ করলে উল্টো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এসব বিষয়ে প্রশাসনকে বারবার অবহিত করা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর বা দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা বা নিরাপত্তা জোরদার করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা ও অসহযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রশাসনিক এই ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণেই তিনি বাধ্য হয়ে নিজের হাতে আইন তুলে নিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন।
পদত্যাগের কারণ হিসেবে সর্বমিত্র চাকমা প্রশাসনিক অসহযোগিতা ও নিজের ব্যর্থতাকেই দায়ী করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই সিদ্ধান্ত কারো প্রতি ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা অভিমান থেকে নয়। তিনি মনে করেন, শিক্ষার্থীরা যে বিশ্বাস ও প্রত্যাশা নিয়ে তাকে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন, প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণে তিনি তা পূরণ করতে সক্ষম হননি। তাই নৈতিক দায়ভার কাঁধে নিয়েই তিনি ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেছেন, জাতীয় চ্যালেঞ্জগুলোকে গবেষণায় গুরুত্বের সাথে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তাতে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশ ইতিহাসের একটি কঠিন বাঁক অতিক্রম করছে, যেখানে আমাদের যুবসমাজ ও নারীর ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গবেষণা খুব সীমিত। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এই বিষয়ে গবেষণায় ফোকাস করা হলেও আমরা সুবিচার করতে পারিনি। ফলে এ বিষয়ে গবেষণা ও একাডেমিক আলোচনা বাড়ানো জরুরি।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে কুমিরাস্থ স্থায়ী ক্যাম্পাসে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি)-এর ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের বিজনেস ইনোভেশন ফর ইনক্লুসিভ ডেভলাপমেন্ট এর ২য় এবং আইআইইউসির ১৮তম ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. নিয়াজ আহমেদ খান কথাগুলো বলেন।
ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ও গবেষণা ও প্রকাশনা কেন্দ্রের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘বিজনেস ইনোভেশন ফর ইনক্লুসিভ ডেভলাপমেন্ট’ শীর্ষক দুদিনব্যাপী এই ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইআইইউসির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী। বিশেষ অতিথি ছিলেন আইআইইউসির ট্রেজারার প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বিজনেস ইনোভেশন ফর ইনক্লুসিভ ডেভলাপমেন্ট অর্গানাইজিং কমিটির চেয়ার এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আকতারুজ্জামান খান।
কনফারেন্সে গতকালের প্লেনারি সেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কানাডা কেপবৃটন ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষক এবং ইন্দোনেশিয়ার ত্রিশক্তি ইউনিভার্সিটির এডজান্ক্ট প্রফেসর ড. মাসুদুল আলম চৌধুরী, ইউনিভার্সিটি সেইন্স ইসলাম মালয়েশিয়ার অর্থনীতি ও মুআমালাত অনুষদের প্রফেসর দাতো ড. মুস্তাফা বিন মোহাম্মদ হানিফাহ এবং পাকিস্তানের ইউনিভার্সিটি অব সারগোধার প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মাসুদ সরওয়ার আওয়ান। আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও প্রকাশনা সেলের পরিচালক প্রফেসর ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ এবং ইউনিভার্সিটি সায়েন্স ইসলাম মালয়েশিয়ার লিডারশিপ ও ম্যানেজমেন্ট অনুষদের সহকারী ডিন সহযোগী অধ্যাপক ড. নূরহায়াতি রাফিদা আবদুল রহিম।
উল্লেখ্য ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, বাহরাইন ও ফিলিপাইনসহ ৮টি দেশের ১১ টি বিশ্ববিদ্যালয় এই ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সের কো-অর্গানাইজার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বনামখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ১৭২ জন গবেষক-প্রতিনিধি এই ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করছেন। কনফারেন্সে বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ১৬৫টি গবেষণা প্রবন্ধ জমা পড়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে ১১৪টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে।
ষড়ঋতুর বাংলাদেশে শীতকাল মানেই পিঠা-পুলির ধুম। যান্ত্রিক শহরের বুকে আবহমান বাংলার এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী পিঠা উৎসব। পিঠা উৎসব-১৪৩২ শিরোনামে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানটি আজ ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামীকাল ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত। কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সকালে পিঠার গরম ভাপ আর গানের সুরে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মান্নান চৌধুরী আজ সকাল ১১টায় ফিতা কেটে এই উৎসবের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ এর প্রিন্সিপাল এডভাইজার প্রফেসর ড. মো. আনোয়ারুল কবির। এছাড়াও বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, বিভাগীয় প্রধানগণসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
উৎসবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭টি ভিন্ন ভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছে। ক্যাম্পাসে স্থাপন করা হয়েছে ৭টি সুসজ্জিত স্টল, যেখানে শিক্ষার্থীরা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বাহারি স্বাদের ও নকশার পিঠা-পুলি প্রদর্শন এবং বিক্রি করছে। ভাপা, চিতই, পাটিসাপটা থেকে শুরু করে নানা ধরনের রসালো পিঠার সমারোহে স্টলগুলো সাজানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে পুরো ক্যাম্পাস এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
শুধু পিঠা খাওয়া বা প্রদর্শনীই নয়, উৎসবের বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে ছিল প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি কালচারাল ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গ্রামীণ আবাহকে ফুটিয়ে তুলতে পরিবেশন করা হয় পল্লীগীতি ও লোকজ নাচ। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকরাও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন, যা অনুষ্ঠানে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতিকে উজ্জীবিত রাখতে এবং যান্ত্রিকতার ভিড়ে প্রাণে গানের সঞ্চার করতেই এই আয়োজন বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজকে একীভূত করে বহুল প্রতীক্ষিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার পথ অবশেষে সুগম হলো। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়েছে। দুপুরের দিকে এই খবর ক্যাম্পাসে পৌঁছামাত্রই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায় এবং তারা বিজয়োল্লাসে মেতে ওঠেন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের সফল পরিসমাপ্তি ঘটল।
বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটার দিকে ঢাকা কলেজের সামনে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের কাছে এই সুখবরটি পৌঁছায়। খোদ শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার বা সি আর আবরার টেলিফোনে শিক্ষার্থীদের অধ্যাদেশ অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। উপদেষ্টার কাছ থেকে ইতিবাচক বার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অপেক্ষমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কেটে যাওয়ায় অনেকেই একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং মুহুর্মুহু স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলেন। শিক্ষার্থীরা ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি স্লোগান দিয়ে রাজপথ প্রকম্পিত করেন।
আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও ঢাকা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, শিক্ষা উপদেষ্টা তাকে নিজে ফোন করে নিশ্চিত করেছেন যে উপদেষ্টা পরিষদে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ অনুমোদন পেয়েছে। তিনি বলেন, তাদের দীর্ঘ দেড় বছরের নিরলস আন্দোলন ও সংগ্রামের ফসল হিসেবে আজ এই স্বীকৃতি মিলেছে। উল্লেখ্য, ঢাকার সাতটি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরেই একটি স্বতন্ত্র ও স্বায়ত্তশাসিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করে আসছিলেন। সরকারের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সাত কলেজের সংকট নিরসন এবং উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজকে একীভূত করে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইন উপদেষ্টা পরিষদে উত্থাপনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। প্রস্তাবিত আইনের খসড়াটি আজ বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদে চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে তারা বিজয় মিছিল বের করবেন বলে জানিয়েছেন। তবে এই অনুমোদনে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা বিলম্ব দেখা দিলে কঠোর আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করবেন। সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাঈম হাওলাদার বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, সাত সরকারি কলেজের সমন্বয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রণীত আইনের খসড়াটি আজ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে উত্থাপন করার কথা রয়েছে। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন-২০২৫ নামের এই খসড়াটি ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে বলে শিক্ষার্থীরা জানতে পেরেছেন। এই উপলক্ষ্যে বেলা ১১টায় ঢাকা কলেজের মূল ফটকে স্থাপিত অধ্যাদেশ মঞ্চে বিশাল শিক্ষার্থী সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকেই পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আইনটি আজ চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে তাদের বর্তমান সমাবেশটি বিজয় মিছিলে রূপ নেবে এবং ঢাকা কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে একটি আনন্দ মিছিল বের করা হবে। কিন্তু অনুমোদনে কোনো বাধা সৃষ্টি হলে সেখান থেকেই তারা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অথবা সচিবালয় অভিমুখে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা শুরু করবেন। সমন্বয়ক নাঈম হাওলাদার স্পষ্ট করেছেন যে সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় তারা আছেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, সাত কলেজের সমন্বয়ে স্বতন্ত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে শিক্ষার্থীরা গত সোমবার থেকে টানা চার দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন কলেজ ক্যাম্পাসে অধ্যাদেশ মঞ্চ স্থাপন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজকের গণজমায়েত সেই কর্মসূচিরই চূড়ান্ত ধাপ। ইতিপূর্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সাতটি কলেজকে একীভূত করে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি নামে একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছে।