শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
৩ বৈশাখ ১৪৩৩
কর্মমুখী সৃজনশীল প্রজন্ম তৈরির লক্ষ্যে

শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি

আপডেটেড
২৩ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১৯:২৭
সিকদার নজরুল ইসলাম
প্রকাশিত
সিকদার নজরুল ইসলাম
প্রকাশিত : ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১৯:২৬

প্রথাগত ডিগ্রি কালচার তথা সনদ সর্বস্ব শিক্ষা ও বেকারত্বের অভিশাপ থেকে পরিত্রাণ পেতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মো. ইমামুল কবীর শান্ত প্রিয়ভাজন সংগঠক বরেণ্য চিত্রশিল্পী অধ্যাপক মোস্তাফিজুল হককে (বোর্ড অব ট্রাস্টিজের বর্তমান চেয়ারম্যান) সঙ্গে নিয়ে ২০০৩ সালে রাজধানীর উত্তরায় প্রতিষ্ঠা করেন দেশের প্রথম ডিজাইন বিশেষায়িত সাংস্কৃতিক তথা সৃজনশীল বিশ্ববিদ্যালয় ‘শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি। অপেক্ষাকৃত কর্মমুখী শিক্ষাদানের মাধ্যমে আলোকিত ক্যারিয়ার তথা প্রজন্ম গড়ার লক্ষ্যে সূচনালগ্ন থেকেই ফ্যাকাল্টি অব ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি, ফ্যাকাল্টি অব ফাইন অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টস এবং ফ্যাকাল্টি অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড জেনারেল স্ট্যাডিজ- এই তিন অনুষদের অধীনে সর্বমোট ১৭টি বিভাগে যুগোপযোগী তথা কর্মমুখী বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে এ বিশ্ববিদ্যালয়। এ পর্যন্ত ৩টি সমাবর্তন অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করেছে শান্ত-মারিয়াম এবং প্রস্তুতি চলছে চতুর্থ সমাবর্তনের। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও সিটি ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. মো. শাহ-ই-আলম এর উপাচার্য এবং রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে আছেন- ড. পাড় মশিয়ূর রহমান। একই সঙ্গে এখানে আছেন অভিজ্ঞ ডিনবৃন্দ, বিভাগীয় প্রধানগণ ও পর্যাপ্তসংখ্যক পূর্ণ ও খণ্ডকালীন অভিজ্ঞ ফ্যাকাল্টিবৃন্দ।

দেশে গ্রাফিক ডিজাইন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া ও ইন্টেরিয়র আর্কিটেকচার বিভাগ দুটি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একমাত্র শান্ত-মারিয়ামেই রয়েছে। অন্যদিকে ফ্যাশন ডিজাইন, অ্যাপারেল ম্যানুফ্যাকচারিং ম্যানেজমন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি ও নৃত্য বিভাগ প্রথম এই বিশ্ববিদ্যালয়ই শুরু করে। অনেক ভর্তুকি দিয়ে শুরু করা এসব বিষয়ে শান্ত-মারিয়ামের অবদান-সাফল্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আর সাফল্যের এই পথ ধরেই কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এখন এসব বিভাগ পরিচালনা করছে। এ ব্যাপারে শান্ত-মারিয়াম সব সময়ই সবাইকে উদার স্বাগত তথা আহ্বান জানায়। কারণ শান্ত-মারিয়াম কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস সুসমন্বয় থাকলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও সুস্থ-সুন্দর প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষান্নোয়নের ধারা অব্যাহত রেখে দেশকে উন্নত বিশ্বের কাতারে দাঁড় করানো সম্ভব।

উত্তরা ১৭ নং সেক্টরে লেক সংলগ্ন ৩.৭ বিঘা জমিতে দৃষ্টিনন্দন নকশায় গড়া ১০ তলা সুরম্য ভবনে গড়ে তোলা হয়েছে এর সাদা সফেদ স্থায়ী ক্যাম্পাস। এবং পাশেই দ্রুত গতিতে চলছে নতুন আরও ভবন নির্মাণের কার্যক্রম। ক্যাম্পাসের ঠিক পেছন ঘেঁষেই চলে গেছে স্বপ্নের মেট্রোরেল। ভবনের চতুর্দিকে খোলামেলা বিধায় লেকে সাদা বক ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখির ওড়াওড়ি ও কলকাকলী এবং মেট্রোরেলের ছুটে চলা বেশ উপভোগ্যই বলতে হয়। নভেম্বর ২০২১ এ ক্যাম্পাস ভিজিট করে অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করে স্থায়ী ক্যাম্পাসের অনুমোদন দেয় ইউজিসি। অতঃপর ৪ ডিসেম্বর-২০২১ থেকে শুরু হয় সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম।

সম্পূর্ণ ক্যাম্পাস ওয়াইফাই ইন্টারনেট সংযোগের আওতাধীন। ক্লাসরুমগুলো হাইটেক মাল্টিমিডিয়া সুবিধা সংবলিত। আছে স্বয়ংসম্পন্ন ই-লাইব্রেরি, অত্যাধুনিক ল্যাব এবং হোস্টেল সুবিধাও। শিক্ষার্থীদের নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াতের জন্য রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা। একই সঙ্গে সৃজনশীলতা ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনার জন্য এখানে আছে ক্যারিয়ার ক্লাব, সায়েন্স ক্লাব, স্পোর্টস ক্লাব ও কালচারাল ফোরাম ইত্যাদি। স্থায়ী ক্যাম্পাসে নতুন ভবন তৈরির পর দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারের আদলে এখানে তৈরি করা হবে এক ‘রিসার্চ হাব’।

হাতে-কলমের অংশগ্রহণমূলক শিক্ষা ও উদ্যোক্তা তৈরির কার্যক্রমকে ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে এই প্রতিষ্ঠানের রয়েছে সহায়ক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন- ক্রিয়েটিভ ম্যানিকুইন্স, ক্রিয়েটিভ ফার্নিচার, আর্ট হাট অ্যান্ড গ্যালারি, শান্ত-মারিয়াম প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, শান্ত-মারিয়াম সেন্টার ফর ক্রিয়েটিভ মিডিয়া ও দৈনিক আজকের প্রত্যাশা।

ফ্যাকাল্টি অব ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজির শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষাদানের লক্ষ্যে সৃজনশীল নকশা তৈরি, টিভি অনুষ্ঠান প্রযোজনা কৌশল, কপিরাইটিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা, ডকুমেন্টারি ফিল্ম তৈরি, পোশাক শিল্প ও কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনসহ তথ্য প্রযুক্তির বিভিন্ন শাখায় প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা প্রদানের মধ্য দিয়ে তৈরি করাসহ স্বনামধন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের সুযোগ তৈরি ও সফল উদ্যোক্তা হিসেবে ফ্যাশন হাউস, ইন্টেরিয়র ডিজাইন প্রতিষ্ঠান ও অ্যাডফার্ম তৈরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবসা পরিচালনা ও কর্মসংস্থান তৈরির বিরল সুযোগ তৈরিতে উৎসাহিত করা হয়। ফলে গ্র্যাজুয়েটরা এ দেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত গার্মেন্ট শিল্পসহ তথ্য-প্রযুক্তি খাত, আবাসন শিল্প, গণমাধ্যম, অ্যাডফার্ম ও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পেশাদারত্বের সঙ্গে কাজ করে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। অনুরুপ অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও সফল কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে যাতে সাবলম্বী হতে পারে, সেভাবেই হাতে-কলমের শিক্ষায় তাদের প্রস্তুত করা হয়।

‘শান্ত-মারিয়াম থেকে পাস করে কারও বেকার থাকার সুযোগ নেই’

শিল্পী অধ্যাপক মোস্তাফিজুল হক
চেয়ারম্যান ,বোর্ড অব ট্রাস্টিজ

উচ্চশিক্ষায় হাতে-কলমে কর্মমুখী শিক্ষার প্রাধান্য, বিশ্বমানের শিক্ষা ও গবেষণায় অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষা বিষয়গুলো হবে যুগোপযোগী-কর্মমুখী এবং বিশ্বের বাজার চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন-পরিবর্ধন ঘটবে বিষয় তথা পাঠ্যক্রমের- ইত্যাদি পরিকল্পনা তথা শিক্ষাদর্শনকে সামনে রেখে বিশিষ্ট শিক্ষাদ্যোক্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মো. ইমামুল কবির শান্ত ২০০৩ সালে রাজধানীর উত্তরায় প্রতিষ্ঠা করেন অত্র অঞ্চলের প্রথম ডিজাইন ও সাংস্কৃতিক বিশেষায়িত সৃজনশীল বিশ্ববিদ্যালয় ‘শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি’। এই জার্নির শুরুতেই আমাকে তিনি সঙ্গী করেছিলেন। তার মৃত্যুর পরও করোনাকালীন মহাদুর্যোগে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির হাল ধরতে হয় আমাকেই। করোনাকালের অচলাবস্থায়ও একাডেমিক কার্যক্রমসহ সব কিছু স্বাভাবিক ছিল আমাদের দূরদর্শী নেতৃত্ব তথা নিষ্ঠায়। ফলে প্রায় ২ দশকে বিভিন্ন চড়াই-উতরাই পেরিয়ে লক্ষ্যে অবিচল থেকে সাফল্যের ধারা অব্যাহত রয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের।

শুধু সময়োপযোগী ভালো শিক্ষা বিষয়ই শেষ নয়, হাতে-কলমের গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ভর্তুকি দিয়েও ফ্যাশন হাউস, অ্যাড ফার্ম, ক্রিয়েটিভ দ্যা আর্ট গ্যালারি ও দৈনিক পত্রিকা পরিচালনার মতো ব্যয়বহুল বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণসহ আমাদের রয়েছে স্ট্রং অ্যাকাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি লিংকেজ। ফলে যুগোপযোগী বিষয়ে হাতে-কলমের গুণগত শিক্ষা গ্রহণ করে যথাসময়ে আলোকিত ক্যারিয়ার তথা সমৃদ্ধ জীবনের অধিকারী হয় এখানকার শিক্ষার্থীরা। এক কথায়; পাস করার পর আমাদের কোনো শিক্ষার্থীর বেকার থাকার সুযোগ নেই।

করোনার ধাক্কা সামলে স্থায়ী ক্যাম্পাসে ক্লাস শুরুসহ একাডেমিক ও সার্বিক কার্যক্রমকে ঢেলে সাজানোর মাধ্যমে ২০২১-এ নতুন উদ্যমে শুরু হয় এর পথ চলা। এখন লক্ষ্য আমাদের বিশ্বমানের শিক্ষা ও গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে নতুন প্রজন্মকে এমন এক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া, যা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সুস্থ প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করবে বলে আমরা আশাবাদী।

শুধু চাকরিই নয়- উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল জাতি গঠনের অনন্য ভূমিকায় শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি

ড. মো. শাহ্-ই-আলম
উপাচার্য

প্রথাগত ডিগ্রি কালচার তথা সনদ সর্বস্ব শিক্ষা ধারা থেকে বেরিয়ে এসে কর্মমুখী উচ্চশিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ডিজাইন বিশেষায়িত সাংস্কৃতিক তথা সৃজনশীল এই বিশ্ববিদ্যালয়। স্বনির্ভর উদ্যোক্তা ও দক্ষ কর্মী তথা জনসম্পদ তৈরি হবে- এমন বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এটিকে গড়ে তুলেছেন বিশিষ্ট উদ্যোক্তা, শিক্ষানুরাগী বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মো. ইমামুল কবীর শান্ত এবং তার সহযোদ্ধারা। যার সুফল হিসেবে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেরাই ব্যবসায় অংশগ্রহণ করে কর্মসংস্থান তৈরিসহ দেশের অর্থনীতিতে মূল্যবান অবদান রাখার দক্ষ কর্মী হিসেবে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারেও সুনাম অর্জন করছে ।

এর প্রতিষ্ঠাতাগণ মিলেনিয়াম যুগের শুরুতে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে চারুকলা, নৃত্য ও সংগীত তথা সাংস্কৃতিক শিক্ষা ও গার্মেন্ট সেক্টরের দক্ষ কারিগর তৈরির শিক্ষাসহ ফ্যাশন ডিজাইন ও গ্রাফিক ডিজাইন, ইন্টেরিয়র আর্কিটেকচার ইত্যাদি ডিপার্টমেন্ট অলাভজনক জেনেও সংশ্লিষ্ট সেক্টরে দক্ষ কর্মী তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান তথা সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে এসব পরিচালনা করেন। যা তৎকালীন সময়ে অনেকে চিন্তাও করতে পারেনি। বরং এসব শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য একশ্রেণির ঘোর বিরোধিতাসহ বিভিন্ন বাধা তথা হামলারও শিকার হতে হয়েছে এর উদ্যোক্তাদের। তারপরও পিছু হটেননি অত্যন্ত সাহসী, বিচক্ষণ ও ক্ষণজন্মা পুরুষ প্রয়াত মো. ইমামুল কবীর শান্ত।

শিক্ষার্থীদের প্রায়োগিক নলেজ ডেভেলপমেন্ট তথা ইনোভেটিভ করার লক্ষ্যে আমাদের রয়েছে স্ট্রং অ্যাকাডেমিয়া ইন্ডাস্ট্রি লিংকেজ। যার আওতায় প্রায়ই আরএমজি সেক্টরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি তথা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের এমওইউ, শিক্ষার্থী ভিজিট, ইন্টার্নশিপ, জব ফেয়ার ও ওয়ার্কশপসহ বিভিন্ন কার্যক্রম তথা প্রোগ্রাম একটি নিয়মিত চলমান প্রক্রিয়া।

অচিরেই বিশ্বমানের ডিজাইন ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠবে শান্ত-মারিয়াম

ড. পাড় মশিয়ূর রহমান
রেজিস্ট্রার

আমাদের উদ্দেশ্য; শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজিকে একটি বিশ্বমানের ডিজাইন ভিত্তিক সাংস্কৃতিক তথা সৃজনশীল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। বিদেশিদের আধিক্য কমিয়ে এ দেশের যুব সমাজকে RMG সেক্টরে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই ২০০৩ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইমামুল কবির শান্ত প্রতিষ্ঠা করেন এই বিশ্ববিদ্যালয়টি। ইন্ডাস্ট্রির চাহিদা মোতাবেক কারিকুলাম বাস্তবায়নে যত্নশীল হওয়ার কারণে আমাদের দায়বদ্ধতাও অপেক্ষাকৃত বেশি। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদেরকে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দক্ষ শিক্ষক নিয়োগসহ কারিগরি শিক্ষা উপকরণসমৃদ্ধ যুগোপযোগী ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষ, ল্যাব, লাইব্রেরি, বিশেষ করে ফ্যাশন ডিজাইনের আধুনিক ক্যাট ওয়াক র‌্যাম্প, আর্ট গ্যালারি, ডিসপ্লে সেন্টার, প্রোডাক্ট ডিজাইন রিসার্চ সেন্টার, গ্রাফিক ডিজাইনের জন্য ক্রোমা স্টুডিও, আধুনিক ডিজাইন সেন্টার, অ্যাপারেল ম্যানুফ্যাকচারিং ম্যানেজমেন্টের হাইটেক শ্রেণিকক্ষ তথা পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস প্রস্তুত করতে হয়েছে এবং যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিনিয়তই চলছে উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মযজ্ঞ।

National Quality Frame Work এর আওতায় বাংলাদেশ অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ে OBE Curriculum চালু করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে SDG অর্জনের লক্ষ্যে কম খরচে মানসম্মত অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করতে দেশের যুবকদের বিরাট একটি অংশকে আমরা শিক্ষা প্রদান করে চলেছি। সেই সঙ্গে ৪র্থ শিল্প বিপ্লব উপযোগী একটি দেশ ও জাতি গঠনে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। এ ছাড়া বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনা অনুয়ায়ী ১০ বছর মেয়াদি একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান হাতে নেয়া হয়েছে, যা LDC graduate, SDG-2030, 4 IR এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে। এ ছাড়া নতুন ভবন নির্মাণসহ উন্নত বিশ্বের আদলে রিসার্চ হাব নির্মাণ কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন আছে।

যার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের বিভিন্ন বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীরা পাস করে বের হওয়ার আগেই নিজেদের চাকরি নিশ্চিত করতে পারছে। দেশে তো বটেই বিদেশেও বহুজাতিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আমাদের সাবেক ছাত্র-ছাত্রীরা অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন এবং সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হচ্ছে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেরাই ব্যবসায় অংশগ্রহণ করে কর্মসংস্থান তৈরিসহ দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।

লেখক : ব্যবস্থাপক (গণমাধ্যম), শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি


প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস চালুর পরিকল্পনা নেই: ববি হাজ্জাজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব এবং জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধ রাখা বা অনলাইন ক্লাসে যাওয়ার বিষয়ে এই মুহূর্তে সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে সাফ জানিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ স্পষ্ট করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় অনলাইন ক্লাসের পথে হাঁটবে না, বরং সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার পক্ষেই অবস্থান করছে। স্কুল বন্ধের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি এবং শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতেই মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও শিক্ষা কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী জুন-জুলাই মাস নাগাদ শিক্ষা ক্ষেত্রে বেশ কিছু নতুন ও যুগোপকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে সরকার। মূলত সেই নতুন পদক্ষেপগুলোর মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি এবং বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা যাচাই করতেই এই ঝটিকা পরিদর্শনে নেমেছেন তিনি।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক, অভিভাবক এবং ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ‘মিড ডে মিল’ বা দুপুরের খাবার কর্মসূচি এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যগত উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়ন এবং আধুনিকায়নের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার প্রতিটি বিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো সংস্কারের ওপর জোর দিচ্ছে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এর জন্য সরাসরি ক্লাস বন্ধ করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়।

প্রতিমন্ত্রী শিক্ষকদের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়েও পাঠ দেওয়া হয়। জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষা কার্যক্রমে যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে।

গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, ‘প্রাথমিক স্তরের শিশুদের জন্য অনলাইন ক্লাস খুব একটা ফলপ্রসূ হয় না, তাই মন্ত্রণালয় সশরীরে উপস্থিত থেকে পাঠদানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। অভিভাবকদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘শিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ বিবেচনায় রয়েছে এবং পরিস্থিতির অবনতি হলে বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপাতত নিয়মিত স্কুল চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নতুন শিক্ষাক্রম ও উন্নয়ন প্রকল্পের কাজগুলো এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের এই নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার মাঠপর্যায়ের চিত্র সরাসরি সরকারের উচ্চপর্যায়ে প্রতিফলিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


উচ্চশিক্ষার মান ও র‍্যাঙ্কিং উন্নয়নে সহযোগিতায় আগ্রহী ব্রিটিশ কাউন্সিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান সুদৃঢ় করতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। গত ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল এই আগ্রহের কথা জানায়।

ইউজিসি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বসের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। বৈঠকে স্টিফেন ফোর্বস বলেন, ‘বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিকীকরণ, শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, একাডেমিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ এবং বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ স্থাপনে ব্রিটিশ কাউন্সিল সহযোগিতা করতে আগ্রহী। পাশাপাশি গবেষণা সহযোগিতা, ট্রান্সন্যাশনাল এডুকেশন নীতিমালা প্রণয়ন এবং ইংরেজি ভাষা শিক্ষার উন্নয়নেও সহায়তা দেওয়া হবে।’

প্রতিনিধিদল জানায়, দেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের পেশাগত মানোন্নয়নে প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। বর্তমানে ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন’ (হিট) প্রকল্পের আওতায় প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই কার্যক্রমকে আরও টেকসই করতে তারা ‘মাস্টার ট্রেইনার’ তৈরির ক্ষেত্রেও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে।

সহযোগিতার এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, ‘দেশের উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে এবং গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে ইউজিসি কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মানের গ্রাজুয়েট তৈরি এবং শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ৫০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে, যাদের প্রত্যাশা পূরণ ইউজিসির অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পাঠ্যক্রমে সততা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে নিয়মিত কর্মশালা ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। এ ছাড়াও শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান উপযোগী করতে তাদের ‘সফট স্কিল’ উন্নয়নে ইউজিসি বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সাক্ষাৎকার শেষে ইউজিসি চেয়ারম্যান যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথ গবেষণা পরিচালনা, উদ্ভাবনী ধারণা বিনিময় এবং ভিজিটিং প্রফেসর নিয়োগের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক একাডেমিক সহযোগিতা জোরদার করার আহ্বান জানান। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করছে উভয় পক্ষ।


প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাবনা দিয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। আজ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিকে সংগীত শিক্ষক নিয়োগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে প্রস্তাব দিয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সংগীত শিক্ষক নির্বাচিত করবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে, আর বেতন-ভাতা দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।’

গত বছরের ২৮ আগস্ট ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’-এর একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। এতে অন্যান্য বিষয়বস্তুর পাশাপাশি সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছিল। তবে বিভিন্ন পক্ষের দাবির প্রেক্ষিতে নভেম্বরে আরেকটি গেজেটে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ বাদ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।


স্কুলপর্যায়ে অনলাইন ও সশরীরে ক্লাসের সমন্বয়ের ভাবনা সরকারের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান পদ্ধতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। ইতোমধ্যে স্কুলগুলোতে অনলাইন ও সশরীরে সরাসরি উপস্থিতির সমন্বয়ে একটি ‘হাইব্রিড’ বা মিশ্র পদ্ধতির ক্লাস ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে স্কুলপর্যায়ে অনলাইন-সশরীরে এই দুই ব্যবস্থার সমন্বয়ে ক্লাস চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে। আগামী বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

এর আগে গতকাল শিক্ষা খাতকে ‘ইবাদতখানা’ হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে সৃষ্ট প্রতিটি ভালো ফল সদকায়ে জারিয়ার অন্তর্ভুক্ত, যা শিক্ষককে দীর্ঘ মেয়াদে উপকৃত করে। শিক্ষকদের এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান মন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশ গঠনের যে আহ্বান জানানো হয়েছে, তা কোনো ব্যক্তি বা সরকারের একক এজেন্ডা নয়; বরং এটি একটি জাতীয় অঙ্গীকার। এই লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষকদের ভূমিকা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষা শেষ করলেও শিক্ষা বোর্ডগুলো এই দুটি পাবলিক পরীক্ষা সেই বছরের ডিসেম্বরে না নিয়ে পরবর্তী বছরের এপ্রিল ও জুনে নিয়ে থাকে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, যা জাতীয় পর্যায়ে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ।


ইডেন মহিলা কলেজে ফের উচ্চমাধ্যমিক চালু হচ্ছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইডেন মহিলা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদান পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। সোমবার সন্ধ্যায় এসব তথ্য জানিয়েছেন ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক হোসনে আরা পারভীন। তিনি বলেন, ‘আমাদের কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় কখনো বন্ধ হয়নি। বেশ কয়েক বছর আগে এটি স্থগিত করা হয়েছিল। তা পুনরায় চালু করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করেছিলাম।’

অধ্যক্ষ আরও বলেন, ‘এর পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি পেয়েছি। সেখানে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠদান কখন ও কেন বন্ধ হয়েছিল এবং বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদান পুনরায় চালু করা হলে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন হবে কিনা তা জানতে চাওয়া হয়েছে।’

কলেজটির স্থগিত থাকা উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠদান চালু করতে অতিরিক্ত কোনো খরচ হবে না বলেও মনে করছেন অধ্যাপক হোসনে আরা পারভীন।

এই অধ্যাপকের ভাষ্য, ‘উচ্চ মাধ্যমিকের ক্লাস নতুন করে শুরু করতে কোনো খরচ হওয়ার কথা না। আর কবে থেকে ইডেন মহিলা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠদান স্থগিত আছে সে তথ্যটিও আমরা বোর্ডের (ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড) কাছ থেকে সংগ্রহ করব।’

এসব তথ্য সংগ্রহ করে তা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রস্তাব আকারে মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা বিভাগে পাঠানো হবে বলেও জানান অধ্যক্ষ।

গত ২৫ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ শাখা থেকে ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষকে চিঠি পাঠানো হয়। ইডেন মহিলা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদান কার্যক্রম পুনরায় চালু করার অনুমতি চেয়ে গত ৩ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন অধ্যক্ষ।


এইচএসসি পরীক্ষা আগামী ৭ জুন থেকে শুরু!

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আগামী ৭ জুন থেকে শুরু করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বোর্ড চেয়ারম্যানদের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তার অনুমতি পেলে আনুষ্ঠানিকভাবে সময়সূচী বা রুটিন প্রকাশ করা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বোর্ড চেয়ারম্যান জানান, এইচএসসি পরীক্ষার সময় ঘনিয়ে আসায় তারিখ নির্ধারণের জন্য এই জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত সকল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা ৭ জুন থেকে পরীক্ষা আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছেন। গতকাল সংসদ অধিবেশন চলায় শিক্ষামন্ত্রী সভায় উপস্থিত ছিলেন না, তাই তার দপ্তরের চূড়ান্ত সই বা অনুমোদনের পর এটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।


দীর্ঘ ছুটি শেষে রোববার খুলছে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রমজান ও ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি শেষে রোববার (২৯ মার্চ) থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে। প্রায় এক মাসের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আবারও শ্রেণিকক্ষে ফিরবে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী, পবিত্র রমজান, ঈদুল ফিতর ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি একত্রে সমন্বয় করে কলেজগুলোতে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা ছুটি শুরু হয়। এ ছুটি ২৫ মার্চ পর্যন্ত চলার পর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের সরকারি ছুটি এবং পরবর্তী সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে বিরতি আরও দীর্ঘ হয়। ফলে আগামীকাল ২৯ মার্চ থেকে পুনরায় ক্লাস শুরু হচ্ছে।

একইভাবে সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতেও ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত মোট ৩৬ দিনের ছুটি ছিল। অন্যদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৮ মার্চ থেকে ছুটি শুরু হয়ে একই দিনে শেষ হচ্ছে। ফলে সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই একযোগে পাঠদান শুরু হতে যাচ্ছে।

এদিকে দীর্ঘ ছুটির কারণে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পুষিয়ে নিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠান খোলার পর টানা ১০টি শনিবারও শ্রেণিকক্ষ কার্যক্রম চালু থাকবে। এতে করে নির্ধারিত পাঠপরিকল্পনা যথাসময়ে শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রি ওয়াই-ফাই নিশ্চিতের নির্দেশ ইউজিসির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সকল পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নির্দেশনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাঠানোর প্রক্রিয়াটি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইউজিসি কার্যালয়ে আজ (২৫ মার্চ) আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কমিশন এই উদ্যোগের বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমকে অবহিত করেছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষা খাতে ডিজিটাল সেবার বিস্তার ঘটানো, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণায় সহায়ক পরিবেশ তৈরি এবং প্রযুক্তিগত বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যেই ‘ফ্রি ওয়াই-ফাই’ চালুর এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান ড. মামুন আহমেদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, প্রফেসর ড. মোঃ সাইদুর রহমান, প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব এবং প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম, আইসিটি বিভাগের পরিচালক মোঃ ওমর ফারুখ, হিট প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান এবং বিডিরেন-এর সিইও মোহাম্মদ তৌরিতসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া অঞ্চলে আগামী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করবে বাংলাদেশ রিসার্চ এন্ড এডুকেশন নেটওয়ার্ক (বিডিরেন)। প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট কিছু স্থানে এই সেবা শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসহ অন্যান্য শিক্ষা ও গবেষণা অবকাঠামোতেও এই সুবিধা সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী-বান্ধব ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তুলতে ইউজিসি, হিট প্রকল্প এবং বিডিরেন-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।


বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্ট্রোক ইন্টারভেনশন প্রশিক্ষণের জন্য ইউনিভার্সিটি অব ডান্ডির স্বীকৃতি অর্জন করেছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এন্ডোভাসকুলার স্ট্রোক ট্রিটমেন্ট (EVT) এবং ক্যারোটিড আর্টারি স্টেন্টিং (CAS) প্রতিষ্ঠার জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর ইন্টারভেনশনাল স্ট্রোক ট্রিটমেন্ট (WIST)-এর যোগ্যতা অর্জন করেছে। ইউনিভার্সিটি অব ডান্ডির ইমেজ গাইডেড থেরাপি রিসার্চ ফ্যাসিলিটি (IGTRF)-এর পরিচালক অধ্যাপক আইরিস কিউ. গ্রুনওয়াল্ড ২০২৬ সালের ১৩ মার্চ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে পাঠানো এক ইমেইলে এ তথ্য জানান। এই স্বীকৃতি যৌথভাবে WIST এবং ইউনিভার্সিটি অব ডান্ডির IGTRF প্রদান করেছে।

এই স্বীকৃতি ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে অধ্যাপক আইরিস কিউ. গ্রুনওয়াল্ড এবং ডা. পল গাইলার কর্তৃক BMU-এর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের ক্যাথ ল্যাব পরিদর্শনের ভিত্তিতে প্রদান করা হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব ডান্ডি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে BMU-এর ৬ জন অংশগ্রহণকারীর জন্য ৯ দিনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। পুরো স্বীকৃতি প্রক্রিয়াটি লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আমিন ইসলাম সমন্বয় করছেন।


কম্পিউটার শিক্ষিকার অদক্ষতার প্রমাণ মিলল তদন্তে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় জরিনা রহিম বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষিকা হাসিনা হোসেনের কম্পিউটার ব্যবহারে অদক্ষতার বিষয়ে তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতিকুজ্জামান এই তদন্ত করেন। পরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে তদন্ত প্রতিবেদন রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের উপপরিচালকের কাছে পাঠান। এ ছাড়া ওই শিক্ষিকার নিয়োগকালীন সময়ের কম্পিউটার সনদ নট্রামসের নয় বলে লিখিতভাবে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এর আগে গত ৩১ ডিসেম্বর কম্পিউটার শিক্ষিকা হাসিনা হোসেনের বিষয়ে ‘কম্পিউটার শিক্ষিকা জানেন না কম্পিউটার ব্যবহার’ শিরোনাম একটি গণমাধ্যমে একটি সংবাদ প্রকাশ হলে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আদালতে মানহানি মামলা করেন ওই শিক্ষিকা।’

বিদ্যালয় ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে গত ৩০ ডিসেম্বর তদন্তে আসেন রাজশাহীর আঞ্চলিক উপপরিচালক আব্দুর রশিদ। এ সময় শিক্ষিকা হাসিনা হোসেনের কম্পিউটার ব্যবহারে অদক্ষতার কারণে তিরস্কার করার পাশাপাশি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দেন। সে নির্দেশ মোতাবেক সম্প্রতি তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠান ওই কর্মকর্তা।

সূত্র জানায়, তদন্তে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসিনা হোসেনকে ১৫ মিনিটে ২৬৫ ওয়ার্ডের ইংরেজি শব্দ লেখতে দেন, এরপর বাংলা শব্দ লেখতে দেন, পরে ক্লাস কনটেন্ট তৈরি করে ক্লাস নিতে বলেন। কিন্তু ওই শিক্ষিকা ১৫ মিনিটে ইংরেজিতে ৪০টি ওয়ার্ড লেখতে পারলেও বাংলা লেখা এবং কনটেন্ট তৈরি করে ক্লাস নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তিতে অপারগ বলে স্বীকার করেন এবং এসব বিষয়ে শেখার জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে সময় চান।

এ ছাড়া হাসিনা হোসেনের কম্পিউটার সনদ যাচাই-বাছাই পত্রে নট্রামস (বর্তমানে নেকটার) কর্তৃপক্ষ জানান, হাসিনা হোসেনের কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সনদটি তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া হয়নি। এটি ভাঙ্গুড়া বাজারের শরৎনগর রেইনবো কম্পিউটার সিস্টেম নামে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নামে দেওয়া হয়েছে। অথচ ১৯৯৫ সালের এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী কম্পিউটার শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অবশ্যই নট্রামস অথবা সরকার নির্ধারিত প্রতিষ্ঠান থেকে সনদধারী হতে হবে আবেদকারীকে।

এ বিষয়ে রেইনবো কম্পিউটার সিস্টেমের প্রশিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘হাসিনা হোসেন নট্রামসের সার্টিফিকেটের জন্য প্রশিক্ষণ দেয়নি। তিনি আমার কাছ থেকে সার্টিফিকেট নিয়েছেন। অনেকেই কোম্পানিতে চাকরি করবেন বলে আমার কাছ থেকে সার্টিফিকেট নেন। কিন্তু এটা দিয়ে হাসিনা হোসেন যে শিক্ষকতার চাকরি করবেন সেটা আমার জানা ছিল না। এ সময় হাসিনা হোসেনকে তার কেন্দ্রের দেওয়া সার্টিফিকেটের লিখিত নথি দেখতে চাইলে তিনি কোনো নথি দেখাতে পারেননি।’

এ বিষয়ে হাসিনা হোসেন বলেন, ‘কম্পিউটারের বিষয়ে আমাকে কোনো প্রশ্ন করে বিব্রত করবেন না।’ এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন দপ্তর জানে বলে ফোন কেটে দেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতিকুজ্জামান বলেন, ‘উপপরিচালক স্যারের নির্দেশ মোতাবেক হাসিনা হোসেনের বিষয়ে তদন্ত করা হয়। এতে হাসিনা হোসেনের কম্পিউটার ব্যবহারের বিষয়ে চরম অদক্ষতা পাওয়া যায়। এ বিষয়ে প্রতিবেদন রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।’

রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক আব্দুর রশিদ বলেন, ‘ওই শিক্ষিকার বিষয়ে প্রতিবেদন পেয়েছি। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির দোয়া ও ইফতার মাহফিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি উপজেলা শাখার আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) বিকেলে শহরের পালকি কমিউনিটি সেন্টারে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সদস্য, শিক্ষক ও রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ ভূইয়া। তিনি সুন্দর আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে শিক্ষকদের হয়রানি বন্ধ এবং তাদের অধিকার বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি শিক্ষকদের সঠিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফুলবাড়ীয়া পৌর বিএনপির আহ্বায়ক একেএম শমসের আলী, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ডা. আব্দুর রাজ্জাক, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষক পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ, উপজেলা স্কাউটের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নিয়াম উদ্দিন খান, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান, পৌর যুব বিভাগ জামায়াত ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন খান, ফুলবাড়ীয়া কলেজের প্রভাষক মোহাম্মদ আফতাব উদ্দিন, উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সাধারণ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কামাল হোসেন, রূপালী ব্যাংক ফুলবাড়িয়া শাখার ম্যানেজার রেজাউল করিম, সংগঠনটির উপজেলা শাখার নির্বাহী সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান, ছনকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক ও অত্র সংগঠনের উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোতালেব হোসেন।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি উপজেলা শাখার নীতিনির্ধারণী চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম মাসুদ।


অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হলো মৌমিতার রহস্যগল্পের বই ‘অপার্থিব’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

এবারের অমর একুশে বইমেলা-তে প্রকাশিত হয়েছে তরুণ লেখক মৌমিতার নতুন বই ‘অপার্থিব’। রহস্যগল্পভিত্তিক এই বইটি প্রকাশ করেছে ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ। বইটি পাওয়া যাচ্ছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শব্দ চাষ প্রকাশ-এর স্টল (নং–৬১৪)-এ।

জানা গেছে, ‘অপার্থিব’ মূলত রহস্যঘেরা কিছু গল্প নিয়ে রচিত, যেখানে বাস্তবতা ও অজানার সীমারেখা মিলেমিশে এক ভিন্ন অনুভূতির জগৎ তৈরি করেছে।

লেখক মৌমিতা বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ-এর চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চায়ও তিনি সমানভাবে সক্রিয়। তার জন্ম নীলফামারী জেলার চড়চড়াবাড়ি গ্রামে।

এবারের বইমেলায় প্রকাশিত ‘অপার্থিব’ মৌমিতার ষষ্ঠ বই। এর আগে বইমেলায় তার প্রকাশিত অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘হরেক রকম ছড়া’, ‘বাংলা মায়ের রূপ’, ‘ভাবনাগুলো ছন্দের তালে’, ‘সোনার চুড়ি’ এবং ‘ছায়াঘর’।

তরুণ বয়সেই ধারাবাহিকভাবে বই প্রকাশের মাধ্যমে সাহিত্য অঙ্গনে নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন মৌমিতা। এবারের বইমেলায় তার নতুন বই ‘অপার্থিব’ পাঠকদের আগ্রহ কাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।


তালায় মেধাবী ছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি

সাতক্ষীরা তালা উপজেলার কুমিরা মহিলা ডিগ্রি কলেজের মেধাবী ছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) প্রশাসনিক ভবনে মেধাবী ছাত্রীদের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান (সাবেক এমপি) এবং শিক্ষকদের নিজস্ব অর্থায়নে গঠিত মেধাবৃত্তি ফান্ড থেকে বৃত্তি প্রদান করা হয়। বৃত্তির প্রদান করেন অত্র কলেজের সম্মানিত অধ্যক্ষ মিসেস লুৎফুনারা জামান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, উপাধ্যক্ষ ঘোষ সরজিৎ কুমার, শিক্ষক প্রতিনিধি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও সকল শিক্ষক ও সাংবাদিকরা। এই মেধাবৃত্তি প্রদান প্রতি বছর চলমান থাকবে।

বৃত্তি প্রাপ্তরা হলেন, তৌফিকা তাসনিম, সুদীপা ঘোষ (বিজ্ঞান বিভাগ), অহনা খাতুন, অঙ্কিতা মণ্ডল (বাংলা বিভাগ), নিসিকা রানী ঘোষ, কাজী তহমিনা, তৃষ্ণা চক্রবর্তী, প্রভা চক্রবর্তী, স্নিগ্ধা খাতুন, সানজিদা পারভীন, প্রেমা ঘোষ, বাকিবা সুলতানা, সাদিয়া খাতুন (মানবিক বিভাগ), সুমাইয়া খাতুন, ঝুম্পা মজুমদার, জাকিয়া সুলতানা, মরিয়ম খাতুন, হোসনেয়ারা খাতুন, সালমা খাতুন (সম্মান)।


banner close