শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের 'একাডেমি লেকচার' অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২১:১৬

আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী অনুষদের লেকচার থিয়েটারে 'একাডেমি লেকচার' প্রদান করেন বাংলাদেশ একাডেমি অব সাইন্সেসের নবীনতম নির্বাচিত ফেলো, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি ডিভিশনের প্রধান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল। বাংলাদেশ একাডেমি অব সাইন্সেসের ফেলো নির্বাচিত হওয়ার পর ফেলোরা প্রথাগতভাবে এই লেকচারটি প্রদান করে থাকেন।

অধ্যাপক ডা. স্বপ্নীল তার লেকচারে ন্যাসভ্যাক উদ্ভাবন ও ন্যাসভ্যাক সংক্রান্ত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলোর ফলাফল এবং ফেইজ-থ্রি ট্রায়ালের অংশগ্রহনকারী রোগীদের দীর্ঘ মেয়াদী ফলোআপ বিষয়ে তার প্রকাশনাগুলো উপস্থপন করেন। এছাড়াও তিনি তার লেকচারে লিভার রোগের চিকিৎসায় হার্বাল মেডিসিনের প্রয়োগ সংক্রান্ত তার সাম্প্রতিক গবেষনা এবং পাশাপাশি লিভার সিরোসিস রোগীদের চিকিৎসায় অটোলোগাস হেমোপয়েটিক স্টেম সেল ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন বা স্টেম সেল থেরাপী এবং ট্রান্সজুগুলার ইন্ট্রা-হেপাটিক পোটোসিস্টেমিক শান্ট বা টিপস আর লিভার ক্যান্সার চিকিৎসায় ট্রান্স-আর্টারিয়াল কেমোএম্বোলাইজেশন বা টেইস এর মত আধুনিকতম চিকিৎসা পদ্ধতিগুলোর এদেশে প্রচলন এবং তারপর এসব চিকিৎসায় তার অভিজ্ঞতার কথা উপস্থাপন করেন।

এটি ছিল অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের দেশে-বিদেশে ৫৭৫তম বৈজ্ঞানিক লেকচার এবং তার ভাষায় এখন পর্যন্ত তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণটি। অধ্যাপক ডা. স্বপ্নীল তার এই লেকচারে তার জীবনে চলার পথে অনুপ্রেরনা হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার প্রয়াত পিতা ইঞ্জিনিয়ার মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, প্রয়াত মা মিসেস আয়শা মাহতাব, তার সহধর্মীনি অধ্যাপক ডা. নুজহাত চৌধুরী, কন্যা মুসাররাত মাহতাব, পুত্র মাশরুর মাহতাব, শ্বাশুরী শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী এবং সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহবায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে, তার এই লেকচারটি তার 'রিসার্চ গুরু' ডা. শেখ মোহাম্মদ ফজলে আকবরকে উৎসর্গ করেন।

উল্লেখ্য,এই লেকচারটিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ একাডেমি অব সাইন্সেসের সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এ্যামিরিটাস অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী অনুষদের ডীন অধ্যাপক ডা. ফিরোজ আহমেদ।

বাংলাদেশ একাডেমি অব সাইন্সেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. জহুরুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োকেমিষ্ট্রি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও বাংলাদেশ একাডেমি অব সাইন্সেসের জয়েন্ট সেক্রেটারী ড. ইয়ারুল কবির।

লেকচারটিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, আইসিডিডিআরবিসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের দুই শতাধিক শিক্ষক, গবেষক ও পোষ্টগ্র্যাজুয়েট ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহন করেন।


ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে চালু হচ্ছে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা: মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২ জুলাই, ২০২৬ ২০:৩৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলা ও ইংরেজির বাইরে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইউনেস্কো আয়োজিত ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্র্যান্ট অ্যান্ড মাল্টিপ্লায়ার গ্র্যান্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা একটি মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন করতে চাই। যেখানে আমরা নতুন নতুন বিষয় চালু করব। উদাহরণস্বরূপ, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সকল ছাত্রছাত্রীর জন্য কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। আমরা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে একটি তৃতীয় ভাষা চালু করতে যাচ্ছি। সকল ছাত্রছাত্রীর জন্য এটি চালু হতে কিছুটা সময় লাগবে, তবে সেই প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে সকল ছাত্রছাত্রীর জন্য আরও দুটি বিষয় বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছি। একটি হলো সংস্কৃতি এবং অন্যটি খেলাধুলা। পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাটি এমন একটি আদর্শ নিয়ে এগিয়ে যাবে, যাকে আমরা বলি, লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস।’

মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা চাই এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা, যেখানে ছাত্রছাত্রীদের শিখতে বাধ্য করা হবে না, বরং তারা একটি সহযোগিতামূলক পরিবেশে কাজ করবে। যেখানে ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে সর্বোত্তম সম্পর্ক থাকবে এবং তারা তাদের নিজস্ব প্রতিভা দিয়ে চেষ্টা করবে। সুতরাং, এগুলো আমাদের কিছু আদর্শ ও নীতি। আমরা যখন সামনের দিকে এগিয়ে যাব, তখন এই নীতিগুলো বাস্তবায়ন করতে এবং এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে আমাদের সব অংশীজনের আরও সহযোগিতার প্রয়োজন।’

এ সময় নতুন সরকারের জন্য ৪৮ মিলিয়ন বরাদ্দের ঘোষণায় ইউনেস্কোসহ দাতা সংস্থাগুলোকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ধন্যবাদও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব প্রোগ্রাম, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের মতো বিষয়গুলোকে আমরা অগ্রাধিকার দিতে চাই। সেজন্যই আমরা সারা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য একই ইউনিফর্ম, একই স্কুল ব্যাগ, একই জুতা চালু করছি এবং সেই সাথে মিড ডে মিল প্রকল্পও চালু করছি। এটি এখন জাতীয় পর্যায়ে রয়েছে এবং আমরা এ বিষয়ে কিছু মতামত পাচ্ছি; আমাদের কাজের পদ্ধতি নতুন করে সাজাতে হবে।’


অধ্যক্ষের গাফলতিতে এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়া হলো না সুমাইয়ার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি

বোর্ডের ফি জমা দিয়ে, দিনরাত পড়াশোনা করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছিল পিতৃহীন সুমাইয়া খাতুন। স্বপ্ন ছিল এইচএসসি পাস করে নিজের পায়ে দাঁড়াবে, সংসারের হাল ধরবে। কিন্তু কেন্দ্রের দিন সকালে পরীক্ষার হলে গিয়ে সে জানতে পারল, তার প্রবেশপত্রই (এডমিট কার্ড) আসেনি।

কলেজের অধ্যক্ষের চরম গাফলতি আর উদাসীনতায় পরীক্ষার হলে বসার আগেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল এতিম পরীক্ষার্থীর। এই ঘটনাটি ঘটেছে সারিয়াকান্দি উপজেলার চন্দনবাইশা ডিগ্রি কলেজে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবার জানায়, সুমাইয়া খাতুন চন্দনবাইশা উত্তরপাড়া এলাকার অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান। ছোটবেলাতেই বাবাকে হারিয়ে মায়ের টানে আর নিজের অদম্য ইচ্ছায় পড়ালেখা চালিয়ে আসছিল সে। চলতি বছরের মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য কলেজের নিয়ম অনুযায়ী ফরম পূরণের যাবতীয় ফি সময়মতো পরিশোধ করেছিল সুমাইয়া।

পরীক্ষার আগের দিন পর্যন্ত সে কলেজের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে প্রবেশপত্রের জন্য যোগাযোগ করে। তখন তাকে জানানো হয়, পরীক্ষার দিন সকালে কেন্দ্রেই তাকে প্রবেশপত্র দিয়ে দেওয়া হবে। শিক্ষকের দেওয়া সেই আশ্বাসে আশ্বস্ত হয়ে যথাসময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হয় সুমাইয়া। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারে, কলেজ কর্তৃপক্ষ তার ফরম পূরণের টাকাই বোর্ডে জমা দেয়নি! ফলে তার নামে কোনো প্রবেশপত্রই ইস্যু হয়নি।

এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমাইয়া ফেরদৌস জানান, অধ্যক্ষের কাছে পরীক্ষা দিতে না পারার বিষয়ে লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে। উপজেলার সচেতন মহল দাবি জানিয়েছেন, অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী অধ্যক্ষ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষার্থীর জীবন নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলার সাহস কেউ না পায়।

একই সাথে, বিশেষ বিবেচনায় পরীক্ষা নেওয়ার কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।


প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আইনি বাধা নেই

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০

দেশের ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান সকল আইনি জটিলতা নিরসন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি মামলায় চূড়ান্ত রায় প্রদান করেছেন। আদালতের এই রায়ের ফলে দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা প্রধান শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করতে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।

এর আগে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন যে, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রধান শিক্ষকের তীব্র সংকট দূর করতে সরকার ৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। তবে একটি আইনি রিট ও আদালতের পূর্ববর্তী স্থগিতাদেশের কারণে এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়াটি থমকে ছিল। আপিল বিভাগের আজকের এই রায়ের মাধ্যমে সেই স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়ায় এখন নিয়োগের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

প্রধান শিক্ষক না থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। সরকারের পক্ষ থেকে এই সংকট মেটানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। আদালতের এই যুগান্তকারী রায়ের ফলে এখন সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের গতি ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সারা দেশে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু, ডিজিটাল নজরদারিতে কেন্দ্রগুলো

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্র এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পৃথক প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে সারা দেশে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে এবার প্রতিটি কেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তা ও আধুনিক ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। নজরদারির অংশ হিসেবে সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের নিয়ম চালু করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই পরীক্ষা চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত।

এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন। এ ছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসেছে। পরীক্ষার প্রথম দিনে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে বাংলা প্রথমপত্র বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আলিমের কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (বিএমটি) বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে, যেখান থেকে সরাসরি দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ বছর ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রের মাধ্যমে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে কেন্দ্র রয়েছে ১ হাজার ৬২৬টি, মাদ্রাসার জন্য ৪৬১টি এবং কারিগরি বোর্ডের জন্য ৬১০টি কেন্দ্র বরাদ্দ করা হয়েছে। ২১ দিনব্যাপী এই প্রক্রিয়ায় মোট ৭৭টি বিষয়ের পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে।

সময়সূচি অনুযায়ী, সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে আগামী ৮ আগস্ট এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা চলবে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের তাত্ত্বিক পরীক্ষাগুলো জুলাই থেকে শুরু হয়ে আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। বোর্ডভিত্তিক হিসেবে দেখা গেছে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৩৯৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এ ছাড়া রাজশাহী, যশোর, দিনাজপুর ও চট্টগ্রামসহ অন্যান্য বোর্ডেও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কেন্দ্রগুলোর আশেপাশে জনসাধারণের প্রবেশে বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।


এইচএসসি পরীক্ষা বৃহস্পতিবার শুরু, সব বোর্ডে এবার একই প্রশ্নপত্র

* বেড়েছে পরীক্ষার্থী, কেন্দ্র ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা * কেন্দ্র ২ হাজার ৯৯৭টি, ঝুঁকিপূর্ণ ১৪৫টির মধ্যে ৪০টিই ঢাকায় * প্রশ্নফাঁস রোধে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা * সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনই লক্ষ্য
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশজুড়ে উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট বা এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) শুরু হচ্ছে। এবারের পরীক্ষার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সব শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হবে। শিক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রশ্নফাঁস রোধে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ১৯ হাজার ৪৭২ জন। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন। মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে অংশ নিচ্ছেন ২ লাখ ৮৬৯ জন। বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষার মাধ্যমে শুরু হবে এবারের পরীক্ষা।

এবার দেশের ২ হাজার ৯৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা হবে। এর মধ্যে ১৪৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে শিক্ষা কর্তৃপক্ষ। এসব কেন্দ্রের মধ্যে ৪০টি ঢাকায়। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে প্রশ্নপত্র বিতরণ, উত্তরপত্র সংরক্ষণ, ক্যালকুলেটর ব্যবহারের নিয়ম, শৌচাগার তল্লাশিসহ ৩৫ দফা নির্দেশনা জারি করেছে শিক্ষা কর্তৃপক্ষ।

আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেছেন, প্রশ্নফাঁসের কোনো সম্ভাবনা নেই। সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্রশ্নফাঁসের মতো কোনো ঘটনা ঘটলে সেদিনের পরীক্ষা সারা দেশে স্থগিত করে পরে নতুন প্রশ্নপত্রে নেওয়া হবে। নকল প্রতিরোধে সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিং সেল স্থাপন করা হয়েছে। মনিটরিং সেলে বসে বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তের যেকোনো কেন্দ্রের পরীক্ষা মনিটরিং করা যাবে। এ ছাড়া, কেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তার কাছে বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। ফলে পরীক্ষাকেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কম থাকবে।

বুধবার (১ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

‎মূল তথ্য তুলে ধরে মাহদী আমিন জানান, এবার ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। সব বোর্ডে এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩। মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ২ হাজার ৬৯৭ এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯ হাজার ৪৩৯।

‎যেদিন পরীক্ষা হবে না, সেদিন প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলেও জানান মাহদী আমিন। তিনি জানান, এ ছাড়া নকলের জন্য পরিচিত কিছু কেন্দ্র বাতিল করা হয়েছে। তবে হাওর, পার্বত্য অঞ্চল ও দুর্গম চরাঞ্চলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কিছু কেন্দ্র এখনো আছে। সেভেন্থ ডে অ্যাডভান্টিস্ট সম্প্রদায়ের পরীক্ষার্থীদের শনিবারের পরীক্ষা বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষাকেন্দ্রে সূর্যাস্তের পর হবে।

‎মাহদী আমিন জানান, ২০২৫ সালে পরীক্ষার্থীর (নিয়মিত ও অনিয়মিত) সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৮, এর মধ্যে ছাত্র ছিল ৪ লাখ ৯১ হাজার ২৮৪ জন ও ছাত্রী ছিল ৫ লাখ ৬৪ হাজার ১১৪ জন। ২০২৬ সালে মোট পরীক্ষার্থীর (নিয়মিত ও অনিয়মিত) সংখ্যা ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪। এর মধ্যে ছাত্র ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪০৬ জন ও ছাত্রী ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৩০৮ জন। ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে ১৪ হাজার ৩১৬ জন পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। এর মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ১২২ জন ও ছাত্রী ১৩ হাজার ১৯৪ জন।

‎আর ২০২৫ সালে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৮০৮। ২০২৬ সালে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪ হাজার ৮৮৫। ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ৭৭টি।

‎এ ছাড়া, ২০২৫ সালে পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬০৫। ২০২৬ সালে পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা ১ হাজার ৬২৬। এবার কেন্দ্র বেড়েছে ২১টি।

‎অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, এবার পাবলিক পরীক্ষা আইনে পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন আইনে অনেক কড়াকড়ি এসেছে। ফলে অন্যবারের তুলনায় এবার পরীক্ষা সুষ্ঠু হবে। এ ছাড়া পরীক্ষায় খাতা মূল্যায়নকারীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগামী বছরের এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি এগিয়ে আনা হয়েছে। আগামী বছর কারিকুলামে পরিবর্তন করা হবে। ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।


উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা বৃহস্পতিবার থেকে, পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৬৭ হাজার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার। প্রথম দিনে দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিমে কোরআন মাজিদ ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসির (বিএমটি) বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

সব বোর্ডে সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা শুরু হয়ে চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। তবে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই ৩০ মিনিট আগেই কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে।

এ বছর নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নিতে ফরম পূরণ করেছেন ১২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৬ জন পরীক্ষার্থী। সারাদেশের দুই হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে তাদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

বোর্ডভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ঢাকা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৩১০টি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা দেবেন তিন লাখ ৩৯৩ জন। রাজশাহী বোর্ডে ২০৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী এক লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, দিনাজপুরে ২১২টি কেন্দ্রে এক লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন, যশোর বোর্ডে ২৪০টি কেন্দ্রে এক লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন।

চট্টগ্রামের ১১৪টি কেন্দ্রে এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন, সিলেটের ৯৬টি কেন্দ্রে ৭১ হাজার ৭১১ জন, কুমিল্লার ১৯৩টি কেন্দ্রে ৯৪ হাজার ৮০২ জন, ময়মনসিংহের ১১১টি কেন্দ্রে ৭৩ হাজার ৩৭ জন এবং বরিশালের ১৪২টি কেন্দ্রে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ বছর সারা দেশে ৪৬১টি পরীক্ষা কেন্দ্রে মোট ৯২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবেন। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এক লাখ সাত হাজার ৯৬৪ জন।

থাকছে ডিজিটাল নজরদারি: এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কেন্দ্র পরিচালনা, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, পরীক্ষার্থী প্রবেশ, কক্ষ ব্যবস্থাপনাসহ সব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। পরীক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ৮টা থেকে কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে সবাইকে নির্ধারিত কক্ষে প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে দেরিতে আসা শিক্ষার্থীদের তথ্য রেজিস্ট্রারে সংরক্ষণ করে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া যাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এবার নকল প্রতিরোধে ডিজিটাল নজরদারি চলবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অভিন্ন প্রশ্নপত্র হওয়ায় কোনো এলাকায় বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে সারাদেশে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে ভিন্ন চিন্তাও রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি বিবেচনায় তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

পরীক্ষাকেন্দ্রের ২০০ গজে প্রবেশ নিষিদ্ধ: পরীক্ষাকেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ও পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। একই সঙ্গে পরীক্ষা চলাকালে নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনাও জারি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আয়োজন নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অরডিন্যান্সের ক্ষমতাবলে পরীক্ষার্থী ও পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আগামী ২ জুলাই থেকে পরীক্ষা চলাকালীন পুরো সময় এ আদেশ কার্যকর থাকবে।

অপর এক গণবিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি জানায়, পরীক্ষার্থীদের হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে রওনা হতে হবে। ব্যক্তিগত যানবাহনে আসা পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রের সামনে না নেমে নিকটবর্তী সুবিধাজনক স্থানে নেমে হেঁটে কেন্দ্রে যেতে হবে। একইভাবে, পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে কাছাকাছি কোনো স্থান থেকে গাড়িতে উঠতে হবে।


এইচএসসি পরীক্ষা: কেন্দ্রের ২০০ গজের ভেতর বহিরাগত প্রবেশে ডিএমপির নিষেধাজ্ঞা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাগুলো সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে বিশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ব্যতীত অননুমোদিত সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদের স্বাক্ষর করা এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয় যে, রাজধানীর প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে জনসাধারণের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

আগামী ২ জুলাই থেকে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন কেন্দ্রে ২০২৬ সালের এইচএসসি, এইচএসসি (ভোকেশনাল), এইচএসসি (বিএম/বিএমটি), ডিপ্লোমা ইন কমার্স ও আলিম পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রগুলোতে উপযুক্ত ও নিশ্ছিদ্র পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৬-এর ২৮ ও ২৯ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ডিএমপির বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পরীক্ষার দিনগুলোতে কেন্দ্রগুলোর চারপাশে ২০০ গজ সীমানার মধ্যে পরীক্ষার্থী এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি আইনত দণ্ডনীয় হবে।

পুলিশের এই নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২ জুলাই থেকে পরীক্ষা চলাকালীন প্রতিদিন এই আদেশ কার্যকর থাকবে। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় বহিরাগতদের সমাগম রোধে আইনশৃ্ঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে বলে জানানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের এই নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ছাড়াই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে।


জুলাই থেকে মাদ্রাসা শিক্ষকরা বকেয়াসহ নিয়মিত বেতন পাবেন: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে মঙ্গলবার (৩০ জুন) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, আগামী জুলাই মাস থেকে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন নিয়মিতভাবে প্রদান করা হবে। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফাজিল ও কামিল স্তরের শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, বকেয়া থাকা দুই মাসের বেতনও জুলাই মাসেই পরিশোধ করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে এনটিআরসির মাধ্যমে প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা সময়ের দাবি ছিল। তিনি বলেন, “শিক্ষক ছিলোনা তাই তো এসব পদে নিয়োগ দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করেছে, যা প্রশংসনীয় উদ্যোগগুলোর মধ্যে একটি। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার বাজেটে টাকা রাখেনি।” তিনি আরও জানান, নতুন শিক্ষক নিয়োগের পর বিশাল অংকের অর্থের প্রয়োজন হলেও পূর্ববর্তী বাজেটে তার সংস্থান ছিল না। মন্ত্রীর ভাষায়, “সরকার গঠনের পর দেখা গেল ৫০১ কোটি টাকা প্রয়োজন কিন্তু সেটাও নেই। অন্তর্বর্তী সরকার বাজেটে টাকা রাখেনি বলে মাদরাসা শিক্ষকদের ২ মাসের বেতন দেওয়া যায়নি। তবে জুলাই মাস থেকে বকেয়াসহ বেতন নিয়মিত হবে।”

ইসলামিক শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “ইসলামী শিক্ষায় যারা পড়াশোনা করছেন তাদের দল মতের উর্ধে উঠে জীবনযাপন করতে হবে।” এ সময় তিনি জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষার্থীদের ইসলামের মূল ধারায় অবিচল থাকার পরামর্শ দেন।

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. মোহাম্মদ ইলিয়াছ ছিদ্দিকী। এ ছাড়াও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, শিক্ষক এবং কৃতি শিক্ষার্থীরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বকেয়া বেতন পাওয়ার এই ঘোষণায় দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটতে শুরু করেছে মাদ্রাসা শিক্ষকদের মাঝে।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৩৩ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জন্য ১ হাজার ৩৩ কোটি ২১ লাখ ৮৩ হাজার টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে বাজেটে গবেষণা খাতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পক্ষ থেকে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

সোমবার (২৯ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সিনেটের বার্ষিক অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে কোষাধ্যক্ষ এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, ১ হাজার ৩৩ কোটি ২১ লাখ ৮৩ হাজার টাকার প্রস্তাবিত বাজেটের মধ্যে ৯৪৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা দেবে ইউজিসি, আর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব খাত থেকে আসবে ৮৫ কোটি টাকা। ফলে কমপক্ষে ৮৩ কোটি ৮৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ঘাটতি থাকবে।

কোষাধ্যক্ষ বলেন, ‘পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে গবেষণা খাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে গবেষণা খাতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দুঃখজনক।’

তিনি বলেন, ‘অন্যদিকে এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেমন সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন কিংবা জাপানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মোট বাজেটের ১০ থেকে ২৫ শতাংশ শুধুমাত্র মৌলিক ও ফলিত গবেষণার জন্য ব্যয় করে থাকে।’

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ বরাদ্দের মোট চাহিদার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৪২২ কোটি ৬৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। চাহিদামতো বরাদ্দ না পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল বাজেট নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৩৩ কোটি ২১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা।’

তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত পরিচালন বাজেটের ব্যয়ের কাঠামো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর সিংহভাগই বেতন-ভাতা ও পেনশন বাবদ ব্যয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও আনুষঙ্গিক সুবিধা, পেনশন ও অবসর-সুবিধা মিলিয়ে ব্যয়ের একটি বড় অংশ নির্ধারিত থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অবশিষ্ট অংশ থেকে পণ্য ও সেবা, মেরামত ও সংরক্ষণ, গবেষণা মঞ্জুরি এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় নির্বাহ করতে হয়। ফলে গবেষণা, গ্রন্থাগার সমৃদ্ধকরণ, ল্যাবরেটরি আধুনিকায়ন ও শিক্ষার্থী-কল্যাণের মতো অত্যাবশ্যক খাতে পর্যাপ্ত অর্থ রাখা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়ে।’

ইউজিসির বরাদ্দকে অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে কোষাধ্যক্ষ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা, গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মাধ্যমে সরকার যে অর্থ দেয়, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে গবেষণা ও শিক্ষার্থীদের চাহিদা মেটাতে নিয়মিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ফান্ড আসে না।’

তিনি বলেন, ‘উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের সমৃদ্ধ দান-তহবিল, শিল্প-সংযোগ ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অনুদানের মাধ্যমে আর্থিক স্বাবলম্বিতা অর্জন করেছে। আমাদেরও সেই পথে হাঁটতে হবে। এ লক্ষ্যে অ্যালামনাইদের কাছ থেকে আমরা এ খাতে পর্যাপ্ত সহায়তা প্রত্যাশা করি।’


শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, শিক্ষা সংস্কারে সরকারের মূল লক্ষ্য লার্নিং আউটকাম বৃদ্ধি। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার পাঁচটি বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সেগুলো হলো— কারিকুলাম, শিক্ষক, প্রশাসন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি। এই পাঁচটি ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করেই ভবিষ্যতের শিক্ষা সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে।

সোমবার (২৯ জুন) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘জিও-এনজিও কোলাবোরেশন ডায়ালগ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত উন্নয়নে সরকার কার্যকর অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এনজিওগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে চায়। সরকারের একার নয়, সরকারব্যবস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সম্মিলিত উদ্যোগেই শিক্ষায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব।

ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে চায়। শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষক নিয়োগ ও বদলি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল মনিটরিং এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে পরিবর্তন আনতে হলে বাস্তবসম্মত, সম্প্রসারণযোগ্য এবং টেকসই উদ্যোগ প্রয়োজন। এক্ষেত্রে এনজিওগুলোর মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবনী মডেল সরকার কাজে লাগাতে চায়।

তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী শিশু, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, নন-ফরমাল শিক্ষা, শহরমুখী অভিবাসী শিশু, চা-বাগান এলাকার শিশু এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর ও ব্র্যাকসহ বিভিন্ন এনজিওর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নকল পেলে আইনের আওতায় আনা হবে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় যদি কোনো শিক্ষার্থীর কাছে নকল পাওয়া যায়, তবে তাকে ডিটেনশনে বা আইনের আওতায় আনা হবে। একইসঙ্গে কোনো পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল পেলে, ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা কেন্দ্র প্রধানকেও আইনের আওতায় আনা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন আর নকল নেই, তবে নকলের রূপ পরিবর্তন হয়েছে। সেজন্য পুরোনো পরীক্ষা আইন পরিবর্তন করা হয়েছে।’

বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘সংসদে আগের পরীক্ষা আইন সংশোধন করে বর্তমান সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে। নকল-প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সেজন্য এখন পরীক্ষা আইনের পরিবর্তন করা হয়েছে।’

এসময় ঢাকা ৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর আক্তারুজ্জামান, সচিব অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার উপস্থিত ছিলেন।


নকলের প্রমাণ মিললে প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, বর্তমান সময়ে নকলের ধরন ও রূপ পরিবর্তন হয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুরোনো ‘পরীক্ষা আইন’ সংশোধন করে আরও কঠোর ও যুগোপযোগী করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থীর কাছে নকল পাওয়া গেলে তাকে সরাসরি ডিটেনশন বা কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে কোনো পরীক্ষাকেন্দ্রে নকলের প্রমাণ মিললে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান বা কেন্দ্র সচিবকেও রেহাই দেওয়া হবে না।

বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা, ময়মনসিংহ, মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সভায় মন্ত্রী বলেন, নকল ও প্রশ্নফাঁস রোধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। জাতীয় সংসদে ইতোমধ্যে পূর্বের পরীক্ষা আইন সংশোধন করে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে, যাতে যেকোনো ধরনের কারচুপি কঠোরভাবে দমন করা সম্ভব হয়।

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা ও পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না এবং অপরাধীকে অবশ্যই আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। মতবিনিময় সভায় ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আক্তারুজ্জামান এবং সচিব অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা আয়োজনের লক্ষে কেন্দ্র সচিবদেরও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন মন্ত্রী।


গান গেয়ে ভাইরাল সেই ঢাবি শিক্ষককে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গেয়ে ব্যাপক আলোচনায় আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সোমবার রাতে উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ফোরাম সিন্ডিকেটের এক সভায় এই সিদ্ধান্তটি অনুমোদিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বাংলা বিভাগের একাডেমিক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিবকে পাঠদানসহ সকল প্রকার একাডেমিক কার্যক্রম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। বিশেষ করে তাঁর গাওয়া গানগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ এটি নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে এবং তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানায়।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাহ আব্দুল করিম, জেমস এবং ফজলুর রহমান বাবুর মতো জনপ্রিয় শিল্পীদের গান গেয়ে নেটিজেনদের মাঝে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হন। ফেসবুকে তাঁর এই পরিবেশনাগুলো উল্লেখযোগ্য সাড়া পেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও শিক্ষক সুলভ আচরণ নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে সিন্ডিকেট তাঁর বিরুদ্ধে অব্যাহতির এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।


banner close