বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
২ মাঘ ১৪৩২

চবির সংঘর্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

আপডেটেড
১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২০:৫৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২০:৫৫

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) চলমান সংঘাত ও সংঘর্ষের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী।

শনিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

একই সঙ্গে আবাসিক হলে অবস্থানরত অছাত্রদের বের করারও আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতের জন্য উপাচার্য ড. শিরীণ আখতারকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ওবলেন শিক্ষামন্ত্রী।

বিবৃতিতে সংঘর্ষের জন্য দায়ী ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়, ‘যারা এর আগে এ ধরনের সহিংসতায় জড়িয়েছে তাদের বিরুদ্ধে একাডেমিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে শিক্ষামন্ত্রী প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়েছেন। পাশাপাশি ফৌজদারি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও অনুরোধ করা হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একটি পক্ষ নিজেদের শিক্ষামন্ত্রীর অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেওয়া প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ‘রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের নাম ব্যবহার করে যেন কোনো দায়ী ব্যক্তি নিষ্কৃতি না পায় এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে সচেতন থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’

এদিকে শিক্ষামন্ত্রীর এ অনুরোধের প্রেক্ষিতে আগামীকাল রোববার আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক একটি সভা ডেকেছেন উপাচার্য ড. শিরীণ আখতার। সভার প্রস্তুতি নিতে ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কে এম নূর আহমদকে উপাচার্য নির্দেশ দিয়েছেন বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ রয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সৌরভ সাহা জয় গণ্যমাধ্যমকে বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতাদের পরিচয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা যে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করছে এটি নিয়ে আজ শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে উপাচার্য কথা বলেছেন। আমরা যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি এই সংঘর্ষ পরিস্থিতি শান্ত করতে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও সহযোগিতা প্রয়োজন। এই বিষয়ে আমরা একসঙ্গে বসে স্থায়ী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করব।’

প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাত থেকে শুক্রবার রাত আটটা পর্যন্ত চার দফা সংঘর্ষে জড়িয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের তিনটি গ্রুপ। এতে তিন পুলিশ সদস্যসহ তিন পক্ষের অন্তত ৪৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ জড়ানো এ গ্রুপ তিনটি হলো- চুজ ফ্রেন্ডস উইথ কেয়ার (সিএফসি), বিজয় ও সিক্সটি নাইন।


৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা

আপডেটেড ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৪:৫৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক সময়সূচি ঘোষণা করেছে। কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার দেশজুড়ে একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টাব্যাপী এই পরীক্ষা চলবে। হাজারো চাকরিপ্রত্যাশীর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পিএসসি এই তারিখ চূড়ান্ত করল।

পরীক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ কেন্দ্রের নির্ধারিত হলগুলোতে এই পরীক্ষা নেওয়া হবে। পিএসসির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার হল, বিস্তারিত আসন বিন্যাস এবং পরীক্ষার্থীদের জন্য পালনীয় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশাবলি যথাসময়ে কমিশনের নিজস্ব ওয়েবসাইট এবং টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। প্রার্থীদের নিয়মিত ওয়েবসাইট ভিজিট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত বছরের ২৬ নভেম্বর পিএসসি তাদের ওয়েবসাইটে ৫০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল। এরপর ৪ ডিসেম্বর থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে। বিসিএস পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনতে এবং দ্রুততম সময়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এবার আগেভাগেই একটি সম্ভাব্য রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে কমিশন।

পিএসসির ঘোষিত সেই রোডম্যাপ অনুযায়ী, ৩০ জানুয়ারি প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি এর ফলাফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ৯ এপ্রিল থেকে লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে, যার ফলাফল ৩০ জুলাই প্রকাশ করা হতে পারে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষা ১০ আগস্ট শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সব প্রক্রিয়া শেষে আগামী ২৫ নভেম্বর ৫০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ ঠিক করেছে সরকারি কর্ম কমিশন।


ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার দাবিতে তিন মোড়ে কাল থেকে সাত কলেজের নতুন কর্মসূচি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির এক দফা দাবিতে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন রাজধানীর সাত সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে আজকের মতো রাজপথের কর্মসূচি স্থগিত করা হলেও আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) থেকে আরও জোরালো এবং লাগাতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন তারা।

নতুন ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পয়েন্ট—সায়েন্সল্যাব, টেকনিক্যাল মোড় এবং তাঁতীবাজারে একযোগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। গাবতলীর টেকনিক্যাল মোড়ে গণমাধ্যমকর্মীদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, আজকের মতো কর্মসূচি শেষ হলেও মূল দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা রাজপথ ছাড়বেন না এবং আন্দোলনে কোনো শিথিলতা আসবে না।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মতে, এটি নিছক কোনো একদিনের প্রতিবাদ নয়, বরং তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ ও অধিকার সুনিশ্চিত করার একটি দীর্ঘ লড়াই। তারা বিশ্বাস করেন যে একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাই তাদের দীর্ঘদিনের একাডেমিক সংকট ও বঞ্চনা দূর করতে পারে। ঐক্যবদ্ধভাবে এবং সুশৃঙ্খলভাবে এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তারা। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট বা চূড়ান্ত ঘোষণা না আসায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেমন উদ্বেগ কাজ করছে, তেমনি তারা আশাবাদী যে কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাদের যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।


ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’র অধ্যাদেশ দাবিতে সায়েন্সল্যাবে মোড়ে অবরোধ শিক্ষার্থীদের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ প্রতিষ্ঠার দাবিতে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এখন আরও জোরালো ও সুসংগঠিত রূপ নিয়েছে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে রাজধানীর টেকনিক্যাল মোড় ও তাঁতীবাজার এলাকায় পৃথকভাবে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা তাদের অবরোধ তুলে নিয়ে সায়েন্সল্যাব মোড়ে এসে সমবেত হয়েছেন।

সমন্বয়কারীদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আন্দোলনকে এককেন্দ্রিক ও অধিকতর কার্যকর করার লক্ষ্যে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর পৌনে একটার দিকে ঢাকা কলেজ থেকে একটি বিশাল মিছিল সায়েন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নেয়। এর ফলে ওই গুরুত্বপূর্ণ মোড়টিতে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং আশপাশের সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মূল দাবি হচ্ছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার বুধবার (১৫ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিতব্য উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন–২০২৫’-এর খসড়াটির চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে হবে। একই সঙ্গে তারা রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ে এই সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারির দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, সরকারের কাছ থেকে সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা না আসা পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না এবং তাদের এই কর্মসূচি চলমান থাকবে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের এই দাবির মুখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুমোদনের প্রক্রিয়াটি উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে। গত মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রশাসনিক উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যেই এই অধ্যাদেশটি প্রণয়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নীতিগত সম্মতি এবং লেজিসলেটিভ বিভাগের আইনি যাচাই বা ভেটিংয়ের পর্যায়ে রয়েছে। এই প্রক্রিয়াগুলো দ্রুত শেষ করে খসড়াটি উপদেষ্টা পরিষদে উত্থাপন করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে মন্ত্রণালয়। তবে সরকারি এই আশ্বাসে আশ্বস্ত না হয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের দাবিতে অনড় রয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালার সনদ বিতরণ: র‍্যাঙ্কিং উন্নয়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর উদ্যোগে আয়োজিত চার দিনব্যাপী ‘রিসার্চ মেথডলজি ও সায়েন্টিফিক রাইটিং’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল ১২ জানুয়ারি ২০২৬ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের আনোয়ারুল আজিম চৌধুরী লেকচার গ্যালারিতে এই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের মোট ৮৮ জন শিক্ষক তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এ্যাসুরেন্স সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. এম রেজাউল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন এবং সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুস্তাক ইবনে আয়ূব। একাডেমিক উৎকর্ষ সাধন এবং গবেষণার মান উন্নয়নের লক্ষ্যেই মূলত এই বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল। সনদ বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি তরুণ শিক্ষকদের প্রতি যুগোপযোগী ও মানসম্মত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ও বিভিন্ন বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় ও উন্নত করতে হলে জুনিয়র এবং সিনিয়র সকল শিক্ষককে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।


প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে ‘এডমিশন ফেস্ট, স্প্রিং-২০২৬’-এর উদ্বোধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে আজ মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ সকাল ১১টায় এক আনন্দঘন পরিবেশে ‘এডমিশন ফেস্ট, স্প্রিং–২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। নতুন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সহজতর করতে দুই সপ্তাহব্যাপী এই বিশেষ উৎসবের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর আবহের সৃষ্টি করেছে, যেখানে সকাল থেকেই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পদচারণা লক্ষ্য করা গেছে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে এই এডমিশন ফেস্টের শুভ উদ্বোধন করেন প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সম্মানিত প্রিন্সিপাল অ্যাডভাইজার প্রফেসর ড. মো. আনোয়ারুল কবির।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ ও শিক্ষাবিদগণ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. সাকির হোসাইন, স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ডিন প্রফেসর ড. শহিদুল ইসলাম খান, স্কুল অব বিজনেস-এর ডিন প্রফেসর আবুল কালাম এবং স্কুল অব ‘ল’ -এর ডিন প্রফেসর মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান, স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড অ্যাডমিন ডিরেক্টর আফরোজা হেলেন এবং অ্যাডমিশন অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি ডিরেক্টর ও বিভাগীয় প্রধান জাহিদ হাসানসহ বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অগ্রগতি ও আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতির ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এবারের ‘এডমিশন ফেস্ট, স্প্রিং–২০২৬’ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য একগুচ্ছ আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা ও ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মেলা চলাকালীন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তি ফি-তে ৭৫ শতাংশ বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি টিউশন ফি-তে ১০ শতাংশ স্পেশাল স্কলারশিপসহ মেধার ভিত্তিতে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত স্কলারশিপ লাভের অনন্য সুযোগ রাখা হয়েছে। আনন্দদায়ক এই অভিজ্ঞতার সাথে শিক্ষার্থীদের জন্য উপহার হিসেবে থাকছে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির নিজস্ব ফ্ল্যাগশিপ ব্যাগ, আকর্ষণীয় ডিজাইনের হুডি এবং বিশেষ গ্র্যান্ড গিফট বক্স। মেলা চলাকালীন ভর্তির যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা এক ছাদের নিচে দ্রুত সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ভর্তি উৎসবের পাশাপাশি পুরো মাস জুড়ে শিক্ষার্থীদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার লক্ষে বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এডমিশন ফেস্টে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে তথ্যভিত্তিক দিকনির্দেশনা এবং বিষয়ভিত্তিক উচ্চতর গবেষণার সুযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা। বিশেষ করে দক্ষ বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মাধ্যমে একাডেমিক ও ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং প্রদান করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা তাঁদের রুচি ও সামর্থ্য অনুযায়ী সঠিক বিষয়টি বেছে নিতে পারেন। গবেষণা ও কর্মমুখী শিক্ষায় বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি গত বাইশ বছর ধরে একটি নির্ভরযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মানের গ্র্যাজুয়েট তৈরির লক্ষে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি বর্তমানে সর্বাধুনিক অবকাঠামো ও শিক্ষা সহায়ক সরঞ্জাম নিশ্চিত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ক্লাসরুম এখন সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর। এছাড়া শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষার জন্য রয়েছে উন্নত ল্যাব সুবিধা, উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট এবং পড়াশোনার জন্য একটি পৃথক ও নিরিবিলি স্টুডেন্ট জোন। সমৃদ্ধ লাইব্রেরি ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশি ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে একটি সর্বজনগ্রাহ্য উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মূলত আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলাই এই এডমিশন ফেস্টের মূল সার্থকতা।


ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির দাবিতে কাল রাজধানীর তিন মোড় অবরোধ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর সাত কলেজের সমন্বয়ে প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ফের কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আগামী কাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পয়েন্ট—সায়েন্সল্যাব, টেকনিক্যাল ও তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কর্মসূচির কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের এই এক দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের লড়াই অব্যাহত থাকবে। মূলত প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনি কাঠামো ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার দাবিতেই এই অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সাত কলেজের সমন্বয়ে একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন-২০২৫’-এর খসড়া গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এই আইনের খসড়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং স্টেকহোল্ডারদের মতামতের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় খসড়াটি হালনাগাদ করে। গত ৭ ও ৮ ডিসেম্বর শিক্ষা ভবন অভিমুখে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে, ডিসেম্বরের মধ্যেই সকল আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করে জানুয়ারি মাসের শুরুর দিকেই চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করা হবে। কিন্তু জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় চলে এলেও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৫ জানুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের একটি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা দাবি করছেন, ওই সভাতেই হালনাগাদ করা ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন-২০২৫’-এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হোক এবং একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে অধ্যাদেশ জারি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করা হোক। বিজ্ঞপ্তিতে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অধ্যাদেশ জারির দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে এবং আগামীকালকের কর্মসূচিতে সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া না পাওয়া গেলে আন্দোলনের তীব্রতা আরও বাড়ানো হবে। এই অবরোধের ফলে বুধবার রাজধানীর যান চলাচল ও জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।


মেডিকেলে ভর্তি সংগ্রামী জীবনের সাফল্যে কেশবপুরের ১৪ শিক্ষার্থী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

মেডিকেলে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে যশোরের কেশবপুর উপজেলার ১৪ জন মেধাবী শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে অধিকাংশই গ্রাম থেকে উঠে আসা স্বল্প আয় ও সাধারণ পরিবারের সন্তান। এবার ভর্তির মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া ১৪ শিক্ষার্থী হলেন- ইব্রাহিম আলম অভি, তিথি রাণী সাহা, খাদিজাতুল কুবরা, তন্ময় ঘোষ, তৌকির আহমেদ, তানভীর আহমেদ, খালিদ রেজা রাজন, রায়হান আহমেদ, নূরে শামীমা ইসলাম সাফা, জান্নাতুল মাওয়া তুবা, হাবিবা হালিম, সানিয়া নৌশিন, সুমাইয়া সারা ও নওরিন পুষ্প। তাদের সাথে কথা বলে অধিকাংশের চোখে-মুখে দেখা যায় সংগ্রামী জীবনের প্রতিচ্ছবি। সেই সব পরিবারে অভিভাবকদের মাঝে আনন্দের পরিবর্তে দুশ্চিন্তা নেমে এসেছে।

ইব্রাহিম আলম অভি: কাঠমিস্ত্রি জাহাঙ্গীর মোড়লের ৩ সন্তানের মধ্যে সবার বড় অভি। নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসারে অভির মা মর্জিনা বেগম শ্রমজীবী হয়েও সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য আপসহীন। পৌরসভার ৯নং বালিয়াডাঙ্গা ওয়ার্ডে তাদের বাড়ি। অভি দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু সন্তানের ভর্তি নিয়ে পিতামাতার চোখে-মুখে দুশ্চিন্তার ছায়া।

তিথি রাণী সাহা: বালিয়াডাঙ্গা ওয়ার্ডের আরও এক মেধাবী মুখ তিথি রানী সাহা নীলফামারী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তার বাবা কালিদাস সাহা মটরভ্যানে করে একটি কোম্পানির মালপত্র দোকানে দোকানে সরবরাহের কাজ করেন। মা মাধবী রানী সাহা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পাপর ভেজে বিক্রি করেন। বাবা-মায়ের স্বল্প আয়ে ছোট্ট একটি টিনের ঘরে থেকে খেয়ে না খেয়ে দুই মেয়েকে লেখাপড়া করাচ্ছেন। সবার সহযোগিতা নিয়ে গরিব ও অসহায় মানুষের সেবা করার জন্য তিথি ডাক্তার হতে চান।

খাদিজাতুল কুবরা: এক ছেলে এক মেয়েসহ যে দিন জয়নব বিবিকে তালাক দেওয়া হয় তখন খাদিজার বয়স সাত বছর। দিশেহারা জয়নব বিবি তখন গোলাঘাটা মির্জাপুর গ্রামে মায়ের কাছে আশ্রয় নিয়ে ছেলে আব্দুল্লাহকে কাজ শিখতে একটি মটরসাইকেল গ্যারেজে রেখে আসেন আর মেয়ে খাজিদাকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করেন। সেই খাদিজা এবার বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে ভর্তির চান্স পাওয়ায় শ্রমজীবী জয়নব বিবির চোখে আজ আনন্দের অশ্রু। কোনো প্রাইভেট বা কোচিং ছাড়াই চান্স পাওয়া খাদিজা অসহায় দুখী মানুষের সেবা করতেই ডাক্তার হতে চান।

তন্ময় ঘোষ: ঐতিহ্যবাহী বিদ্যানন্দকাটি গ্রামের মেধাবী মুখ তন্ময় ঘোষ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তার বাবা অনাথ ঘোষ বেসরকারি ছোট চাকরি করে মা স্বপ্না ঘোষ গৃহিনী। ডাক্তার হয়ে সে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে চলেছে।

তৌকির আহমেদ ও তানভীর আহমেদ: মঙ্গলকোট ইউনিয়নের বসুন্তিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক মহালদারের জমজ দুই ছেলে তৌকির আহমেদ ও তানভীর আহমেদ। তৌকির আহমেদ জাতীয় মেধায় ৭৬তম হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও তানভির আহমেদ জাতীয় মেধায় ১৬০০তম হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। সাধারণ কৃষিজীবী পরিবারে গৃহিনী শিরিনা আক্তারের চার ছেলেসহ ছয় সদস্যের পরিবার। চেহারা-গড়ন, চালচলনে একই দুই ভাইয়ের লেখাপড়ার সব ক্ষেত্রে ফলাফলও এক। বসুন্তিয়া গ্রামের কেউ এমবিবিএস ডাক্তার না হওয়ায় দশম শ্রেণিতে উঠে দুজনে মেডিকেলে পড়ার পরিকল্পনা করে তাদের জার্নি শুরু করে। দুজনের লেখাপড়ার ব্যয় নিয়ে আব্দুর রাজ্জাকের কপালে চিন্তার ভাজ পড়েছে।

খালিদ রেজা রাজন: উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের মেধাবী মুখ খালিদ রেজা রাজন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তার বাবা রেজাউল ইসলাম স্থানীয় বাজারের একজন সাধারণ ব্যবসায়ী ও মা পারভীনা খাতুন গৃহিনী। ছোটবেলা থেকেই রাজন একজন সফল চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চান।

রায়হান আহমেদ: কৃষক আবুল কাশেম মালীর দুই ছেলে আর দুই মেয়ের মধ্যে সব চেয়ে মেধাবী রায়হান আহমেদ খুলনা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তার মা লাইলী বেগম একজন সাধারণ গৃহিনী হয়েও সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যাপারে আপসহীন। হাসপাতালের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখতে দেখতে সে আজ সফল হতে চলেছেন।

নূরে শামীমা ইসলাম সাফা: সুফলাকাটি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত সারুটিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামের মেয়ে সাফা সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তার মা শেফালী আক্তার গৃহিনী।

জান্নাতুল মাওয়া তুবা: সুফলাকাটি ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষক আব্দুল জলিলের মেয়ে তুবা মাগুরা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তার মা সামিয়া শাপলাও একটি মাদ্রাসার শিক্ষিকা। তুবা ডাক্তারি পড়ে তার বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে চান।

হাবিবা হালিম: সুফলাকাটি ইউনিয়নের কাটাখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা আফরোজা খাতুনের মেয়ে হাবিবা সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তার পিতা আব্দুল হালিমও নিজ গ্রাম মনোহরপুর বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক। হাবিবা ডাক্তারি পড়ে তার বাবা মায়ের ইচ্ছা পূরণ করতে চান।

সানিয়া নৌশিন: পৌরসভার ৬নং বাজিতপুর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শিক্ষক নজরুল ইসলামের মেয়ে সানিয়া নৌশিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তার মা রওশন আরা বেলী কেশবপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। সানিয়া তার বড় বোনকে অনুসরণ করে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখে সফল হতে চান।

সুমাইয়া সারা: সাগরদাঁড়ি আবু শারাফ সাদেক কারিগরি ও বাণিজ্য মহাবিদ্যালয়ের কলেজের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল গণির মেয়ে সুমাইয়া সারা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তার মা বেগম রোকেয়া খাতুন একজন গৃহিনী। সারা ডাক্তারি পড়ে তার বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে চলেছে।

নওরিন পুষ্প: কেশবপুর সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক জামশেদ আলীর মেয়ে পুষ্প জামালপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তার মা মমতাজ সুলতানা নিজ গ্রাম বালিয়াডাঙ্গা পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। এই শিক্ষক দম্পতির দুই সন্তানের মধ্যে বড় নওরিন পুষ্প মেডিকেলে পড়ে ভালো চিকিৎক হয়ে অসহায় মানুষের সেবা করতে চায়। তবে তারা সকলেই ভর্তি পরীক্ষায় এ সাফল্যের পেছনে কেশবপুরের দীনেশ দেবনাথ নামে এক শিক্ষককের ভূমিকার কথা জানিয়েছেন।


বুয়েটে স্নাতক শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত, শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ৮৭.৪৪ শতাংশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা শনিবার (১০ জানুয়ারি) বুয়েট ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরীক্ষায় শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের হার ছিল ৮৭.৪৪ শতাংশ।

প্রকৌশল বিভাগ সমূহ, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ এর জন্য মডিউল-এ এবং প্রকৌশল বিভাগ সমূহ, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ ও স্থাপত্য বিভাগ এর জন্য মডিউল-বি নির্ধারিত ছিল।

প্রথম শিফটে মডিউল‘এ’ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৯:০০টা হতে দুপুর ১২:০০টা পর্যন্ত। এতে ‘ক’ ও ‘খ’ গ্রুপের জন্য উচ্চতর গণিত, পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং দ্বিতীয় শিফটে মডিউল-‘বি’ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় বিকাল ২:৩০টা থেকে বিকাল ৪:০০টা পর্যন্ত। এই শিফটে ‘খ’ গ্রুপের জন্য উন্মুক্ত পাঠ্যসূচির আওতায় মুক্তহস্ত অঙ্কন Freehand Drawing) এবং দৃষ্টিগত ও স্থানিক ধীশক্তি (Visual-Spatial Intelligence) বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

সব সঠিক আবেদনকারীর মধ্য থেকে বাছাই করে মেধা অনুযায়ী ১০ হাজার ৩৫১ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ছাত্র ৭ হাজার ৬৪৪ জন এবং ছাত্রী ২ হাজার ৭০৭ জন। নির্বাচিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৯ হাজার ৫১ জন ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

কেমিক্যাল এন্ড ম্যাটেরিয়ালস কৌশল, পুরকৌশল, যন্ত্রকৌশল, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল এবং স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদসমূহের অধীনে মোট ১৩টি বিভাগে ¯œাতক শ্রেণিতে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হবে। এবছর ভর্তি পরীক্ষায় পার্বত্য চট্টগ্রাম ও অন্যান্য এলাকার ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠিভুক্ত প্রার্থীদের জন্য প্রকৌশল বিভাগসমূহ এবং নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের জন্য মোট ৩টি সংরক্ষিত আসন (কোন বিভাগে ১ টি আসনের বেশী নয়) ও স্থাপত্য বিভাগের জন্য ১টি সংরক্ষিত আসনসহ সর্বমোট ১ হাজার ৩০৯ টি আসনের জন্য ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

চুড়ান্তভাবে ভর্তির জন্য নির্বাচিত ও অপেক্ষমান প্রার্থীদের নামসহ মেধাক্রমের তালিকা প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।


আইপি পরীক্ষায় বিশ্ব ও এশিয়া সেরাদের সংবর্ধনা দিল জিপিএইচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইন্টারন্যাশনাল প্রাইমারি (আইপি) পরীক্ষায় বিশ্বসেরা, এশিয়া সেরা এবং দেশসেরা ফলাফল অর্জনকারী কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মানে এক জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে মুন্সীগঞ্জের জিপিএইচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অসাধারণ সাফল্য ও মেধার স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। এই কৃতি শিক্ষার্থীদের গৌরবোজ্জ্বল অর্জন কেবল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির জন্যই নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য এক অসামান্য সম্মান বয়ে এনেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি এবং জিপিএইচ ইস্পাত গ্রুপ, ক্রাউন সিমেন্ট গ্রুপ ও চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান জনাব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃতিদের উৎসাহিত করেন সরকারি হরগঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক নাজমুন নাহার।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে জিপিএইচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খন্দকার ফরহাদ হোসেন (অব.) উপস্থিত অতিথি ও অভিভাবকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের এই অভাবনীয় সাফল্য মূলত তাদের ব্যক্তিগত নিষ্ঠা, শিক্ষকদের নিরলস একাগ্রতা এবং অভিভাবকদের ধারাবাহিক দিকনির্দেশনার একটি সম্মিলিত ফসল। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়ন, নৈতিক শিক্ষা, কঠোর শৃঙ্খলা এবং উচ্চতর একাডেমিক মান বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনরায় ব্যক্ত করেন তিনি। স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান জনাব আলমগীর কবির তাঁর বক্তব্যে বিদ্যালয়ের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে সততা, শৃঙ্খলা, মর্যাদা, সৌজন্য ও মানবিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, শিক্ষা কেবল ভালো ফলাফল অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি আদর্শ চরিত্র গঠন ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরির নিরন্তর প্রক্রিয়া।

প্রধান অতিথি জনাব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তাঁদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য বড় স্বপ্ন দেখার এবং উচ্চ নৈতিক মূল্যবোধ ধারণ করার পরামর্শ দেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কেবল নিজের জন্য নয় বরং দেশের কল্যাণে অর্থবহ অবদান রাখাই হোক তোমাদের জীবনের লক্ষ্য। তিনি তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের সঠিক চরিত্র গঠনের জন্য কারিগরি দক্ষতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং সামাজিক শিক্ষার সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা জোরালোভাবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এ ধরনের একটি সামগ্রিক ও আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতিই পারে আগামী প্রজন্মকে যোগ্য ও সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে, যা একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনের প্রধান শর্ত।

বিশেষ অতিথি অধ্যাপক নাজমুন নাহার তাঁর বক্তব্যে জিপিএইচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সুশৃঙ্খল, শিক্ষাবান্ধব ও মানসম্মত একাডেমিক পরিবেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি মনে করেন, একটি ইতিবাচক ও অনুকূল শিক্ষার পরিবেশই শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা ও সৃজনশীলতা বিকাশে মূল ভূমিকা পালন করে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এমন অনন্য কৃতিত্ব অর্জনের পেছনে শিক্ষকদের কঠোর পরিশ্রম, পেশাদারিত্ব এবং আন্তরিকতাকে তিনি প্রধান নিয়ামক হিসেবে অভিহিত করেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রধান অতিথি জনাব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বিদ্যালয়ের নবনির্মিত আধুনিক ভবনটির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন, যা পুরো আয়োজনকে এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত করে।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নবায়নযোগ্য শক্তির রূপান্তর বিষয়ক সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘ Smart Ideas for Clean Power: Innovation and Entrepreneurship in the Energy Transition and Economy’ শীর্ষক এক সিম্পোজিয়াম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোকাররম হোসেন খন্দকার বিজ্ঞান ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞান অনুষদ এই সিম্পোজিয়াম আয়োজন করে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. উপমা কবির, বাংলাদেশ এনার্জি এন্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিল (বিইপিআরসি)-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসাইন এবং সদস্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। বিইপিআরসি-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. হাসান মাহমুদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। রসায়ন বিভাগের প্রভাষক মো. আল-আমীন হোসেন এবং সামিহা নাহিয়ান অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন।

সিম্পোজিয়ামের টেকনিক্যাল সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকগণ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।


শিক্ষার্থীবান্ধব ও মানসম্মত ভর্তি প্রক্রিয়া নিশ্চিতে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির নতুন পদক্ষেপ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়ার মান উন্নয়ন এবং সঠিক মেধা যাচাইয়ের লক্ষ্যে শিক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এক বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করেছে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি। গত ২৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে “শিক্ষক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে ভর্তির মান উন্নয়ন” শীর্ষক এই সেশনটি অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থায় যোগ্য শিক্ষার্থী নির্বাচন এবং তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই সেশনে বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক এবং কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে ভর্তি প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

সেশনটি পরিচালনা করেন প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির অ্যাডমিশন অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি ডিরেক্টর ও বিভাগীয় প্রধান জনাব জাহিদ হাসান। তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের সামগ্রিক সাফল্য অনেকাংশেই নির্ভর করে তাঁর সঠিক শুরুর ওপর। যদি ভর্তির প্রাক্কালেই শিক্ষার্থীর একাডেমিক প্রস্তুতি, মানসিকতা এবং নির্দিষ্ট বিষয়ের প্রতি তাঁর উপযোগিতা যাচাই করা যায়, তবে তাঁর পুরো শিক্ষাজীবন অনেক বেশি কার্যকর ও সফল হয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষকদের সক্রিয় ভূমিকা ভর্তির গুণগত মান নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন এবং সিএসই বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. শহিদুল ইসলাম খান। তিনি শিক্ষার্থী নির্বাচনের প্রতিটি ধাপে একাডেমিক বিভাগগুলোর সরাসরি সম্পৃক্ততা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, ভর্তি প্রক্রিয়ায় শিক্ষকরা যুক্ত থাকলে শিক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি এবং তাঁর বিশ্লেষণী ক্ষমতা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়। এতে করে ভুল বিষয় নির্বাচনের ঝুঁকি যেমন কমে, তেমনি মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার বা ড্রপআউটের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। এছাড়া ভর্তির আগেই বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের কাছ থেকে সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে শিক্ষার্থীরা সচেতনভাবে তাঁদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে গ্র্যাজুয়েটদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

অনুষ্ঠানে সিএসই, ইইই ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির প্রক্টর জনাব আনিসুর রহমান এবং প্রশাসন ও শিক্ষার্থী বিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মিসেস আফরোজা হেলেনও বক্তব্য প্রদান করেন। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ এবং মানসম্মত ভর্তি ব্যবস্থার পদ্ধতিগত দিকগুলো তুলে ধরেন। সেশনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভর্তি প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও একাডেমিক বিভাগগুলোর মধ্যে একটি সুদৃঢ় সমন্বয় গড়ে তোলা, যাতে সঠিক মেধাকে সঠিকভাবে অন্বেষণ করা যায়। এই উদ্যোগটি প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির উচ্চশিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।


১৭টি কেন্দ্র ও ২২১টি ভেন্যু বাতিল: ২০২৬ সালের এসএসসির নতুন কেন্দ্র বিন্যাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে। নতুন এই তালিকা অনুযায়ী, আগামী বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য মোট ৫০৭টি কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে দেশের অভ্যন্তরে ৫০০টি এবং বিদেশের মাটিতে অবস্থিত ৭টি কেন্দ্র রয়েছে। গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত এক গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে তাঁদের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র তালিকা আপলোড করেছে, যা থেকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা নিজ নিজ কেন্দ্র সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারবেন।

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মূলত প্রশাসনিক বিভিন্ন জটিলতা এবং নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় নিয়মিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়ায় কেন্দ্র তালিকায় বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে। ২০২৬ সালের পরীক্ষার জন্য মোট ১৭টি মূল পরীক্ষা কেন্দ্র এবং ২২১টি ভেন্যু কেন্দ্র স্থায়ীভাবে বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে ৫ জানুয়ারি জারি করা এক পৃথক আদেশে জানানো হয়েছিল যে, মানসম্মত পরীক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা আনতেই এই সংশোধন প্রয়োজন ছিল। বাতিল হওয়া কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকার হাজী এম. এ. গফুর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও হাজী বিল্লাত আলী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, শিবালয়ের রাওয়ান ইনে রমজান স্কুল অ্যান্ড কলেজ, জয়ানগর জুলমত আলী উচ্চ বিদ্যালয় এবং মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের মতো উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

বাতিলকৃত কেন্দ্রের দীর্ঘ তালিকায় আরও রয়েছে টাঙ্গাইলের করটিয়া এইচ. এম. ইনস্টিটিউশন, ফরিদপুরের তালমা নাজিমুদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়, নগরকান্দা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, ডামুড্যার কনেশ্বর এস সি এডওয়ার্ড ইনস্টিটিউশন এবং শরীয়তপুরের চরভাগা বঙ্গবন্ধু আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। এছাড়াও ঢাকার আনোয়ারা বেগম মুসলিম উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের কেন্দ্রটিও ২০২৬ সাল থেকে আর পরীক্ষা পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হবে না। বিদেশের কেন্দ্রের ক্ষেত্রে একটি পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে; গ্রিসের এথেন্সে অবস্থিত ‘বাংলাদেশ দোয়েল একাডেমি’ কেন্দ্রটি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধা এবং যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই নতুন কেন্দ্র বিন্যাস করা হয়েছে, যা আগামীর পাবলিক পরীক্ষাগুলো আরও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে।


জবি ছাত্র সংসদ নির্বাচন: ১৩ কেন্দ্রের গণনায় শীর্ষ পদে পরিবর্তনের আভাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে এখন চলছে টানটান উত্তেজনার ভোটগণনা ও ফলাফল ঘোষণা। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন কমিশন মোট ৩৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৩টি কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ করেছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলের প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শীর্ষ তিনটি পদের লড়াইয়ে কোনো একক প্যানেলের নিরঙ্কুশ আধিপত্য নেই। সহ-সভাপতি বা ভিপি পদে ছাত্র অধিকার পরিষদ ও ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেল এগিয়ে থাকলেও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এবং সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে নিজেদের লিড ধরে রেখেছে শিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল। এই আংশিক ফলাফলের খবরে ক্যাম্পাসজুড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে এবং সবাই এখন বাকি ২৬টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

১৩টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ভোটের হিসেবে ভিপি পদে ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের প্রার্থী একেএম রাকিব ১ হাজার ৪৫৭ ভোট পেয়ে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে বর্তমানে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। তাঁর ঠিক পেছনেই রয়েছেন শিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম, যিনি এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৫৯ ভোট সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে জিএস ও এজিএস পদের চিত্রটি ভিন্ন; এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে শিবিরের প্রার্থীরা বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। জিএস পদে ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’র আব্দুল আলিম আরিফ ১ হাজার ৪৪৪ ভোট পেয়ে একক আধিপত্য বজায় রেখেছেন, যেখানে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী খাদিজাতুল কোবরা পেয়েছেন ৭২৪ ভোট। একইভাবে এজিএস পদেও শিবিরের মাসুদ রানা ১ হাজার ৩৪৬ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন এবং তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আতিকুর রহমান তানজিল পেয়েছেন ১ হাজার ১৯৯ ভোট।

শীর্ষ পদের পাশাপাশি অন্যান্য সম্পাদকীয় পদগুলোতেও দুই প্যানেলের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ১৩ কেন্দ্রের ফলাফলে দেখা গেছে, অধিকাংশ সম্পাদকীয় পদে শিবির সমর্থিত প্রার্থীরা এগিয়ে থাকলেও পাঠাগার সম্পাদক এবং সংস্কৃতি সম্পাদক পদে এখন পর্যন্ত ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার পরিষদ সমর্থিত প্রার্থীরা তাঁদের অবস্থান শক্ত রেখেছেন। এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য পদগুলোতেও বিভিন্ন প্যানেলের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের চিত্র ফুটে উঠেছে। উল্লেখ্য যে, আজ সকালে ভোটগণনার সময় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় প্রক্রিয়াটি বেশ কিছুক্ষণ স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ম্যানুয়াল এবং আধুনিক ওএমআর মেশিন—উভয় পদ্ধতিতেই পুনরায় গণনা কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে ভোটগণনা ও পর্যায়ক্রমে ফলাফল ঘোষণার কাজ চলমান রয়েছে। সমাপ্ত হওয়া ভোটকেন্দ্রগুলোর ফলাফল এলইডি স্ক্রিনের মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করা হচ্ছে যাতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্বচ্ছভাবে সব দেখতে পারেন।


banner close