আগামী বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষাও পুনর্বিন্যাসকৃত (সংক্ষিপ্ত) সিলেবাসে অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের মতো চলতি বছরও পুনর্বিন্যাসকৃত সিলেবাস অনুযায়ী এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. আবুল বাশার স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা যায়।
এতে বলা হয়, ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সিলেবাস ২০২৩ সালের অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার জন্য পুনর্বিন্যাসকৃত সিলেবাস অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানায়, ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ প্রণীত ২০২৫ সালের পাঠ্যসূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সব বিষয়ে, পূর্ণ সময়ে ও পূর্ণ নম্বরে অনুষ্ঠিত হবে।
২০২০ সালে করোনা মহামারির কারণে এসএসসি পরীক্ষা হলেও এইচএসসি পরীক্ষা না নিয়ে সাবজেক্ট ম্যাপিং করে শিক্ষার্থীদের সনদ দেওয়া হয়। ২০২১ সালে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা শুধু গ্রুপভিত্তিক তিনটি নৈর্বাচনিক বিষয়ে পরীক্ষার সময় ও পরীক্ষার নম্বর হ্রাস করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নেওয়া হয়। সে সিলেবাস কিছুটা বাড়িয়ে ২০২২ সালে নেওয়া হয় এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা। সে বছর পরীক্ষার সময় কিছুটা কম ছিল। আর গত বছর এসএসসি ও এইচএসসি সমমানের পরীক্ষা হয়েছে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে। তবে এসএসসির আইসিটি ছাড়া এ দুই পাবলিক পরীক্ষা অন্যান্য বিষয়ে পূর্ণ সময় ও নম্বরে নেওয়া হয়েছিল।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, দেশে মানসম্মত শিক্ষা, জবাবদিহি, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যে সব ইংলিশ-মিডিয়াম স্কুলকে সরকার একটি একীভূত নীতিমালার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বুধবার (৩ জুন) ঢাকার আগা খান একাডেমি পরিদর্শনকালে এ কথা বলেছেন তিনি।
ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকার এমন একটি সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে সব শিক্ষার্থী মানসম্মত শিক্ষা লাভের সুযোগ পাবে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশের সব ইংলিশ-মিডিয়াম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একটি অভিন্ন নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, আমরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলই করবে না, বরং সমালোচনামূলক চিন্তা, উদ্ভাবনী সক্ষমতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলিও অর্জন করবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য তরুণদের বিশ্বমানের দক্ষতা, মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতায় সমৃদ্ধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলা মাধ্যম, ইংলিশ ভার্সন কিংবা ইংলিশ-মিডিয়াম—যে ধারাতেই শিক্ষার্থীরা পড়ুক না কেন, সবাই যাতে জাতীয় মূল্যবোধ, নাগরিক দায়িত্ববোধ এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক দক্ষতা অর্জনের সমান সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করতে চায় সরকার।
পরিদর্শনের সময় তিনি একাডেমির আয়োজিত শিক্ষার্থী প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের গবেষণা প্রকল্প, উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং সৃজনশীল উপস্থাপনা পর্যালোচনা করেন তিনি।
এ সময় প্রতিষ্ঠানটির আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতি, শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা এবং নেতৃত্ব বিকাশ কর্মসূচির প্রশংসা করেন ববি হাজ্জাজ। তিনি দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও গবেষণা, উদ্ভাবন ও সৃজনশীল শিক্ষাচর্চা আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান। পরিদর্শনকালে একাডেমির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গুচ্ছভুক্ত (জিএসটি) ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ‘সাবজেক্ট চয়েস’ ও ‘বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দক্রম’ আবেদনের কার্যক্রম শেষ হলেও এখনও ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। এতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা ও অপেক্ষা বাড়ছে।
গত ৬ থেকে ১১ মে পর্যন্ত ‘সাবজেক্ট চয়েস’ আবেদন কার্যক্রম চললেও প্রায় তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ফলাফল প্রকাশ হয়নি। এর আগে গত ৩ মে অনুষ্ঠিত সমন্বিত গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভায় আগামী ৭ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ‘চূড়ান্ত প্রাথমিক ভর্তি’ কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা জানান, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ অবস্থায় গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ফল প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। দ্রুত ফল প্রকাশ হলে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত এবং ভর্তি সংক্রান্ত অন্যান্য প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হবে বলে মনে করেন তারা।
এ বিষয়ে গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটির দায়িত্বে থাকা ইউএফটিবির রুবেল শেখ জানান, কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটিই আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করবে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সমন্বয় কমিটির নির্দেশনা পেলেই ফল প্রকাশ করা হবে।
গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য সচিবের (রুটিন দায়িত্ব) দায়িত্ব পালনকারী এবং টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. নাছির উদ্দিন খান বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমাদের বৈঠক রয়েছে। নির্দিষ্ট তারিখ বলা যাচ্ছে না, তবে আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা “সাবজেক্ট চয়েস” ফলাফল জানতে পারবে বলে আশা করছি।’
উল্লেখ্য, গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষা সমন্বয় কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।
জাল সনদের প্রমাণ পাওয়ায় ১১৭ শিক্ষকের এমপিও (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) সুবিধা বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) যাচাইয়ে এ জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। রোববার (২৪ মে) দুটি পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৬-এর ১৮ অনুচ্ছেদ মোতাবেক তাদের এমপিও বাতিল করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই দিন জাল সনদের প্রমাণ পাওয়ায় ২৪ জন কলেজ পর্যায়ের শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
অধিদপ্তরের বেসরকারি কলেজ শাখা-৩-এর সহকারী পরিচালক মো. মাঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা শাখা হতে ৮৫ জন জাল/ভুয়া সনদধারী শিক্ষকের তালিকাসহ একটি পত্র প্রেরণ করা হয়েছে (কপি সংযুক্ত)। এতে এনটিআরসিএ কর্তৃক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোট ৮৫ (কলেজ পর্যায় ২৪ + স্কুল পর্যায় ৬১) জন শিক্ষকের প্রত্যয়নপত্র যাচাই শেষে জাল মর্মে প্রমাণিত হয়েছে।
তালিকায় উল্লিখিত জাল ও ভুয়া প্রত্যয়নপত্রধারীদের এমপিও (অনুদান ও বেতন ভাতা বাবদ সহায়তা) বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা (গৃহীত অর্থ আদায় ও মামলা দায়ের) গ্রহণপূর্বক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগকে অবহিত করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ এর ১৮.১(ঙ) অনুচ্ছেদ মোতাবেক কেন তাদের এমপিও বাতিল বা স্থগিত করা হবে না এবং গভর্নিং বডি কর্তৃক তার নিয়োগ কেন বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নোটিশ পাওয়ার ১০ কর্মদিবসের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে এই জবাব দাখিল করার জন্য তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সনদ জাল বা ভুয়া বলে চিহ্নিত হওয়া ৪৭১ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এর মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ের ৪০২ জন, কলেজ পর্যায়ের ৬৪ জন ও কারিগরি পর্যায়ের ৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। এসব শিক্ষকের মধ্যে প্রথম ধাপে ৬৩ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে কেন তাদের এমপিও (বেতন-ভাতা বাবদ মাসিক অনুদান) বাতিল বা স্থগিত ও নিয়োগ বাতিলসহ অন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার জবাব ১০ কর্মদিবসের মধ্যে মাউশিতে জমা দিতে বলা হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) মাউশি নোটিশ দিয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) এসব শিক্ষকের সনদ জাল বা ভুয়া বলে চিহ্নিত করেছিল। এর ভিত্তিতে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তালিকাসহ সুপারিশ পাঠায় ডিআইএ। পরে মন্ত্রণালয় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে চিঠি দেয়। এখন মাউশি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও আর্থিক স্বচ্ছতা আনতে দেশের মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিরীক্ষার পাশাপাশি শিক্ষা কার্যক্রমের বিষয়ে পরিদর্শন করে ডিআইএ। তার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করে। তবে এ সংস্থার কাজকর্ম নিয়েও নানা রকমের অভিযোগ ওঠে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুনকে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আইন, ১৯৭৩ অনুযায়ী তাকে আগামী চার বছরের জন্য ইউজিসির সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকেই এ নিয়োগ কার্যকর হবে। ইতোমধ্যে তিনি কমিশনের চেয়ারম্যানের নিকট যোগদানপত্র জমা দিয়েছেন।
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক পর্যায়ের ১ম বর্ষ (বি.এস-সি. ইঞ্জিনিয়ারিং, বিইউআরপি ও বিআর্ক) কোর্সের ভর্তিকৃত নবাগত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন (পরিচিতি সভা) আগামী ২৫ জুন সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টারের অভ্যন্তরে মুক্তমঞ্চে হবে।
ওরিয়েন্টেশন শেষে একই দিন সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বিভাগীয় পরিচিতি সভা, কোর্স রেজিস্ট্রেশন এবং বিভিন্ন একাডেমিক বিষয়াবলি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হবে।
এরপর ২৮ জুন থেকে সকল বিভাগে নতুন শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস শুরু হবে। ওরিয়েন্টেশন-২০২৬ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের ডীন, ইনস্টিটিউট পরিচালক, রেজিস্ট্রার, বিভাগীয় প্রধান, পরিচালক, হল প্রভোস্ট একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য ও উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
এ ছাড়া ১ম বর্ষ ১ম টার্মে ভর্তি হওয়া সকল শিক্ষার্থীদের হল কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত তারিখে হলে ভর্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং পরিচিতি সভায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে ২৫ জুন সকাল ৯টার মধ্যে নির্দিষ্ট আসন গ্রহণ করতে হবে।
গত বৃহস্পতিবার (১৪ই মে) মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলের অনুমোদনক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব কর্তৃক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন মোতাবেক তিনি যোগদান করেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তিনি চার বছরের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন।
রোববার (১৭ মে) দৈনন্দিন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদগুলোর ডীন, বিভাগীয় প্রধান, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালকসহ রেজিস্ট্রারের (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সাথে মিটিংয়ে তিনি সকলের সহযোগিতায় প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা, গবেষণা, ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া কোলাবোরেশনের মাধ্যমে ডুয়েটকে সামগ্রিকভাবে সামনে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ডুয়েট উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে তিনি নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি, সিলেট-এর উপাচার্য হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। দীর্ঘ ৩৪ বছরের পেশাগত জীবনে তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট-এর সিন্ডিকেট সদস্য, অ্যাপ্লায়েড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডীন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মিনারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, প্রভোস্ট, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৮ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরি ও’কনর প্রসেস সেফটি সেন্টারে ভিজিটিং রিসার্চ স্কলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর ইউনিভার্সিটি কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্নের পর তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশি বিদেশি পিয়ার রিভিউড জার্নালে তাঁর ৩৫টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে তিনি ৯০টিরও বেশি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল আরগোনোমিক্স অ্যান্ড হিউম্যান ফ্যাক্টরস ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিক্যাল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল, প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ও এনভায়রনমেন্ট সংশ্ল্ষ্টি বিষয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণায় সমৃদ্ধ। গবেষণা ও অ্যাকাডেমিক নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনস ম্যানেজমেন্ট (আইইওএম) সোসাইটি ইন্টারন্যাশনাল থেকে ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর অ্যান্ড লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ডসহ শ্রেষ্ঠ গবেষণা প্রবন্ধের জন্য একাধিক আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে সম্মাননা অর্জন করেন।
তিনি আইইওএম সোসাইটি ইন্টারন্যাশনালের জীবন সদস্য, ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) জীবন সদস্য, অ্যাশরেই বাংলাদেশ শাখা, বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটি এবং এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পেশাজীবী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহজাহান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং স্ত্রী অধ্যাপক ড. সালমা আখতার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনায় নিয়োজিত আছেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি দুই কন্যার জনক।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম উপাচার্য হিসেবে আগামী চার বছরের জন্য এ দায়িত্ব পালন করবেন।
শুক্রবার (১৫) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের উপাচার্য কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম, জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. রফিকুল ইসলাম, ইউট্যাব সভাপতি ড. তোজাম্মেল হোসেনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, যা ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি সুস্পষ্ট আদর্শ ও লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও সময়ের পরিক্রমায় বিভিন্ন কারণে সেই মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুতি ঘটেছে। আমি চেষ্টা করব বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে নিতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।’
শিক্ষাজীবনে একাডেমিক ফলাফলে সর্বোচ্চ মেধার স্বাক্ষর রাখায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ পাচ্ছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ১৬ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ২০১৯ সালে পাঁচজন, ২০২০ সালে পাঁচজন এবং ২০২১ সালে ছয়জন শিক্ষার্থী এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর (একাডেমিক শাখা) থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের মনোনীত শিক্ষার্থীরা হলেন—পরিসংখ্যান বিভাগের সোনিয়া আক্তার, ইংরেজি বিভাগের নূর-ই-জাহান তাহিন, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মোছা. তাসলিমা আক্তার, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের তাশফিয়া সালাম এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের রিপা আক্তার।
২০২০ সালের মনোনীত শিক্ষার্থীরা হলেন—রসায়ন বিভাগের মাহিমা সুলতানা সরকার, বাংলা বিভাগের তাইয়াবুন নাহার, অর্থনীতি বিভাগের হেলাল উদ্দীন, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের মোছা. মুক্তা আক্তার এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ফারজানা আক্তার।
এছাড়া ২০২১ সালের মনোনীত শিক্ষার্থীরা হলেন—পরিসংখ্যান বিভাগের তানজিনা আক্তার, বাংলা বিভাগের নাজনীন সুলতানা, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সাবিকুন্নাহার, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের নাহিদা আক্তার, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের আমেনা আক্তার এবং আইন বিভাগের নিশি আক্তার।
এ বিষয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. মোশাররফ হোসাইন বলেন, ‘পূর্বেই আবেদন করা ছিল, এতদিনে ফাইনাল হয়েছে। এখন তিন বছর দেওয়া হচ্ছে। আরো তিনটি বছরের ফলাফল তৈরি রয়েছে। সেগুলোও পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে।’
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এ স্বর্ণপদক ও সার্টিফিকেট প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৮০ (সংশোধিত-২০১০) এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী তাকে আগামী চার বছরের জন্য উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি ইচ্ছা করলে এর আগেও দায়িত্ব ছাড়তে পারবেন।
এতে আরও বলা হয়, উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি তার বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতাসহ বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজনে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।
প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগের আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রভোস্ট, প্রক্টর, বিভাগীয় সভাপতি, শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ইউট্যাব) কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহ্বায়ক হিসেবে নিয়োজিত আছেন।
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এ ‘এআই টুলস অ্যান্ড রেজাল্ট প্রিপারেশন উইদ কোর্স আউটকাম-প্রোগ্রাম আউটকাম ম্যাপিং ফর ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ইন অ্যাকাডেমিয়া’বিষয়ক কর্মশালা সোমবার (১১) অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর উদ্যোগে আয়োজিত কর্মশালাটিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন।
কী-নোট স্পিকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাসেল।
কী-নোট স্পিকার হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এজুকেশন নেটওয়ার্কের (বিডিআরইএন) সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস ও নেটওয়ার্ক অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেলের জেনারেল ম্যানেজার খন্দকার রাশেদুল আরেফিন এবং ইনোভেশন সেলের ম্যানেজার আবু নাসের মো. নাফিউ।
প্রধান অতিথি হিসেবে মাননীয় উপাচার্য বলেন, ‘ওয়াশিংটন অ্যাকর্ডের গর্বিত সাক্ষরকারী হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের প্রকৌশল ডিগ্রিগুলোর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার পথ সুগম হয়েছে। অ্যাকর্ডভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ারদের কাজের সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্লোবাল ভিলেজের এ সুযোগ কাজে লাগাতে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিসমূহের অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন প্রক্রিয়ায় এআই টুলসের ব্যবহার অনস্বীকার্য। আমাদের বিভাগগুলোর অ্যাক্রেডিটেশনের জন্যও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাসহকারে আবেদন প্রক্রিয়া চলমান আছে। আশা করছি শীঘ্রই আমরা সেগুলোর স্বীকৃতি পেয়ে যাবো।
তিনি আরও বলেন, ‘এআই, মেশিন লার্নিং বর্তমান অ্যাকাডেমিয়ায় সিও-পিও ম্যাপিং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে সহজ করে দিয়েছে। আজকের কর্মশালা থেকে অর্জিত জ্ঞান ডুয়েটের বিভাগসমূহে বাস্তবায়ন এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে কোলাবোরেশন বৃদ্ধির মাধ্যমে শিক্ষা, গবেষণা, প্রকাশনা, উদ্ভাবন, র্যাঙ্কিং উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধিসহ সর্বক্ষেত্রে ডুয়েটকে বিশ্বমানের একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি।’ তিনি এ ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন এবং কর্মশালা আয়োজনের জন্য আইকিউএসিকে ধন্যবাদ জানান।
সভাপতির বক্তব্যে আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘কোর্স ও প্রোগ্রাম আউটকাম বেইজড শিক্ষা পদ্ধতি বর্তমানে পূর্বের কেবল অ্যাকাডেমিক রেজাল্ট ওরিয়েন্টেড পদ্ধতির স্থান নিয়েছে। দেশে দেশে প্রদত্ত ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিসমূহের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতার জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু অনুসরণ করা হচ্ছে। অ্যাকাডেমিয়ায় সিও-পিও ম্যাপিং বাস্তবায়নের মাধ্যমেই ক্রাইটেরিয়াগুলো অর্জন করা সম্ভব। সেগুলো অর্জনের উপায় নিয়েই আমাদের আজকের কর্মশালা।’
অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলামের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ডীন, বিভাগীয় প্রধান, আন্ডারগ্র্যাজুয়েট কোর্স কো-অর্ডিনেটর, ডিগ্রি প্রদানকারী বিভাগসমূহের প্রোগ্রাম সেল্ফ অ্যাসেসমেন্ট কমিটির সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার শতবর্ষী ও ঐতিহ্যবাহী গাছবাড়ীয়া নিত্যানন্দ গৌরচন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চবিদ্যালয়ে চরম শিক্ষক সংকটে পাঠদান কার্যক্রম ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ৬ শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য বর্তমানে সরকারি শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৬ জন। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক মাত্র একজন, যা জাতীয় শিক্ষানীতির চরম পরিপন্থি।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর সরকারি করা হয়। সরকারি বিধি অনুযায়ী এখানে ২১ জন শিক্ষকসহ মোট ২৮টি অনুমোদিত পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৬ জন। আগামী আগস্ট মাসে আরও একজন শিক্ষক অবসরে যাচ্ছেন, ফলে শিক্ষকের সংখ্যা নেমে আসবে ৫-এ।
শূন্য পদের তালিকা: দীর্ঘকাল শূন্য প্রধান শিক্ষকের পদ। ২১ জন সহকারী শিক্ষকের বিপরীতে আছেন মাত্র ৬ জন। এ ছাড়া লাইব্রেরিয়ান ও কম্পিউটার শিক্ষকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোও শূন্য। ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির ৮টি পদের মধ্যে ৭টিই খালি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি হওয়ার আগে এখানে ১৬ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে ১০ জন শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর নতুন কোনো নিয়োগ না হওয়ায় এই সংকট ঘনীভূত হয়েছে। জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী প্রতি ৪০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক থাকার নিয়ম থাকলেও এই প্রতিষ্ঠানে সেই অনুপাত রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে।সে হিসেবে গড়ে ১০৫ শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন সরকারি শিক্ষক রয়েছেন। অথচ জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী গড়ে ৩০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক থাকার কথা। এ অবস্থায় বিদ্যালয়টি কীভাবে চলছে এবং ভবিষ্যতে কীভাবে চলবে-সেই প্রশ্নের উত্তর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছেও স্পষ্ট নয়।
একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় সিলেবাস শেষ করা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছে। অনেক বিষয়ের মৌলিক পাঠ তারা শ্রেণিকক্ষে পাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে অনেককে চড়া মূল্যে প্রাইভেট বা কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অভিভাবকদের মতে, প্রতিষ্ঠানটি সরকারি হওয়ার পর থেকে মানসম্মত শিক্ষার আশা থাকলেও শিক্ষক সংকটের কারণে তা পূরণ হচ্ছে না।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এম এ মতিন বলেন, ‘দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা ও শিক্ষক স্বল্পতার মধ্যেই আমরা কোনোমতে কার্যক্রম চালিয়ে নিচ্ছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।’
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুর রহমান জানান, ৬ জন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয় চালানোর সীমাবদ্ধতার বিষয়ে তিনি অবগত।
তিনি বলেন, ‘সমস্যার কথা জানিয়ে ইতোমধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান হবে।’
জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী প্রতি ৪০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক থাকার নিয়ম থাকলেও এই মডেল স্কুলে তার প্রতিফলন নেই। ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠের শিক্ষাব্যবস্থা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি) তাঁর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন। লোকপ্রশাসন বিভাগের এই সহকারী অধ্যাপক সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদের বিদায়ের পরপরই তিনি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে। শেহরীন আমিন নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর এই অব্যাহতির খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিলাম। জীবনের একটি অপ্রত্যাশিত অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল এখানেই।” তাঁর এই মন্তব্যটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট শেহরীন আমিন ভূঁইয়াকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল। এর আগে তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তাঁর স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।