রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩

জবি শিক্ষার্থী অবন্তিকার আত্মহত্যা: উত্তাল ক্যাম্পাস, অভিযুক্তরা আটক  

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
১৬ মার্চ, ২০২৪ ২২:০৫
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৬ মার্চ, ২০২৪ ২১:৩০

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার আত্মহত্যার ঘটনায় পুরো বিশ্ববিদ্যালয়সহ মেয়েটির জন্মস্থান কুমিল্লায় উত্তাল পরিবেশ বিরাজ করছে। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে কুমিল্লা নগরীর বাগিচাগাঁও ‘পিসি পার্ক স্মরণিকা’ নামের ১০তলা ভবনের দ্বিতীয় তলার বাসায় অবন্তিকা গলায় রশি বেঁধে ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। মৃত্যুর ১০ মিনিট আগে নিজের ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি এ ঘটনার জন্য আম্মান সিদ্দিকী নামে তার এক সহপাঠীসহ সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকে এ ঘটনার জন্য দায়ী করেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সহপাঠী রায়হান সিদ্দিকী আম্মান ও সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ।

অবন্তিকার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার রাতেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে তার সহপাঠীরা বিক্ষোভ করেন। অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনার জন্য দাবি তোলেন তার বন্ধু শিক্ষার্থীরা। যার রেশ শনিবারও ক্যাম্পাসে দেখা যায়।

শুধু তাই নয়- কুমিল্লা শহরে অবন্তিকার জন্য মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। বেলা ১১টায় নগরের কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে কুমিল্লার সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জোটের উদ্যোগে ওই কর্মসূচি হয়। এতে ‘জাস্টিস ফর অবন্তিকা’ প্ল্যাকার্ড নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন কুমিল্লার বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীরা।

বেলা ৩টায় কুমিল্লা সরকারি কলেজ মাঠে অবন্তিকার প্রথম জানাজা হয়। পরে কুমিল্লা শহরতলির শাসনগাছা মহাজন বাড়ি এলাকার গ্রামের বাড়িতে বাবার কবরের পাশে অবন্তিকাকে দাফন করা হয়। অবন্তিকার বাবা মো. জামাল উদ্দিন ২০২৩ সালের ১২ এপ্রিল রোজার সময় মারা যান। তিনি কুমিল্লা সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।

উত্তাল জবি ক্যাম্পাস

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়’ ব্যানারে শনিবার বিকেল ৩টায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক-সহপাঠীকে দায়ী করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার আত্মহত্যাজনিত কারণে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও ওই শিক্ষার্থীকে সহায়তাকারী শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনার তদন্তে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

এদিকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। অন্যথায় উপাচার্য কার্যালয় ঘেরাও করার হুমকিও দিয়েছেন তারা। এ ছাড়া অবন্তিকা আত্মহত্যার ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্ত করে প্ররোচনাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছে মানবাধিকার কমিশন। এ নিয়ে পুরো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তাল অবস্থা বিরাজ করছে।

উপাচার্য অধ্যাপক সাদেকা হালিম জানান, আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ বর্ষের শিক্ষার্থী ফাইরুজ অবন্তিকার মৃত্যুর কারণ হিসেবে তার সুইসাইড নোটে দেওয়া আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের অভিযুক্ত শিক্ষার্থী রায়হান সিদ্দিকী আম্মানকে সাময়িক বহিষ্কার ও দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে সহায়তাকারী ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দ্বীন ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত ও প্রক্টরিয়াল বডি থেকে তাৎক্ষণিক অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. জাকির হোসেনকে আহ্বায়ক করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক দ্রুত প্রতিবেদন পেশ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মাসুম বিল্লাহ ও সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ঝুমুর আহমেদ। এ ছাড়া কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার রঞ্জন কুমার দাস।

অবন্তিকার মৃত্যুতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবীর চৌধুরী গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। আত্মহত্যার পর তার ফেসবুক ওয়ালজুড়ে চলছে সহপাঠী ও বন্ধুদের শোকের ঝড়।

এদিকে শনিবার দুপুর ৩টার পর অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশ করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময় ছয় দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ সংলগ্ন ভিক্টোরিয়া পার্ক, লক্ষ্মীবাজার ও রায়সাহেব বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে।

দাবি আদায়ে শিক্ষার্থীরা তাদের ছয় দফা দাবিতে আরও উল্লেখ করে বলেন, হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। আম্মানকে গ্রেপ্তারি পরোনা জারি করা এবং দ্বীন ইসলামকেও অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং সুষ্ঠু বিচারের আওতায় আনতে হবে। অভিযুক্তদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। ভিকটিম ব্লেমিং এবং ভিকটিমের পরিবারকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বাদী হয়ে মামলা করতে হবে। নারী নিপীড়ন সেল কার্যকর করতে হবে।

এদিকে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী অর্থনীতি বিভাগের রেজোয়ানুল হক বলেন, আজকের বিক্ষোভ থেকে আমরা ছয় দফা দাবি জানাচ্ছি। আমাদের প্রথম দাবি হলো, এ হত্যার সুষ্ঠু বিচার করতে হবে, দ্বিতীয় দাবি অভিযুক্ত আম্মান ও দ্বীন ইসলামকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে, তৃতীয় দাবি হলো জরুরি ভিত্তিতে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে স্থায়ী বহিষ্কার করতে হবে, চতুর্থ দাবি হলো ভিক্টিমের পরিবারের নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে, পঞ্চম দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিপীড়ন বিরোধী সেলকে স্বাধীন করতে হবে এবং আমাদের সর্বশেষ দাবি হলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বাদী হয়ে মামলা করতে হবে।

অভিযুক্তদের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আম্মান সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে ওনার সঙ্গে কোনো প্রকার যোগাযোগ করিনি। এমনকি আমি ফেসবুক, মেসেঞ্জার বা কোনো জায়গাতেই কানেকটেড না। আমাকে দোষী প্রমাণের জন্য এভিডেন্স লাগবে। এভিডেন্স ছাড়া এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।’

অভিযোগের বিষয়ে অস্বীকার করে সহকারী অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম বলেন, ‘এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ত নেই। মেয়েটার সঙ্গে দেড় বছর আগে আমাদের কথা হয়েছে ছেলেটার বিষয় নিয়ে। আমি চাই এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।’

যা বললেন অবন্তিকার মা

শিক্ষক ও সহপাঠীকে দায়ী করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে আত্মহত্যা করা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাইরুজ অবন্তিকার মা তাহমিনা শবনমের আহাজারি যেন থামছেই না। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘এটাই বুঝি একটা বিধবা নারীর প্রাপ্য ছিল। আমি এখন সন্তানহারা। আমি এর বিচার কার কাছে দেব? আমি জীবনে কারও ক্ষতি করি নাই। কুমিল্লা শহরের কেউ বলতে পারবে না আমি কারও ক্ষতি করেছি। আজ আল্লাহ আমার এত বড় ক্ষতি করল?’

তাহমিনা শবনম বলেন, ‘হায় রে অবন্তিকা তুই আমারে কত বলছিলি মা একটা জিডি করো। আমি বলেছি, মা এগুলো করব না। আল্লাহ বিচার করবে। আমার আল্লাহর ওপর বিশ্বাস ছিল। আল্লাহ আমার কাছ থেকে তোরেই নিয়ে গেল! আমি কত কষ্ট করলাম। আমি এ জন্য কষ্ট করলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকায় কিছুদিন আগে মেয়েটা কলতা বাজারে ছিল। এখানে ইউনিভার্সিটির ছেলেগুলো ওই বাসা পর্যন্ত গিয়ে জানাইছে যে ওর নামে জিডি আছে। ওরে ওখান থেকে বের করে দিয়েছে। ওই বাসার মেয়েরা তো জানার কথা নয়। আমার মেয়ে এসে বলতেছে মা ওরা তো আমাকে এভাবে মেন্টাল টর্চার করতেছে। আমি পড়তে পারি না। পরে আমি ওর সঙ্গে গেলাম ঢাকায়। আমি যখন গেলাম মেয়েরা তখন চুপ। আমি বুঝতে দেই নাই মেয়েদের যে ওর (অবন্তিকার) পরীক্ষা চলছে। মেয়ের পরীক্ষা যখন শেষ আমি যেদিন চলে আসি মেয়েরা বলতেছে তোমার কী পরীক্ষা শেষ না কী পরীক্ষা শুরু হবে? তার মানে তাদের ইউনিভার্সিটি থেকে ইন্ধন দিয়ে রাখছে অবন্তিকাকে কীভাবে টর্চার করবে।’

‘রাফি, আম্মান, মাহিয়া, লাকি, রিমি তারপরে আঁখি, বন্যা, দ্বীন ইসলাম এ ঘটনার জন্য মূল দায়ী। আমি জিজ্ঞেস করলাম যে আপনারা ছেলেদের জিজ্ঞেস করেন তারা কেন এমন করছে। সে তো একটা স্টুডেন্ট ভালো। ক্লাসের টপ লিস্টেড মেয়ে। তার সঙ্গে কেন এরকম করছে? বলে যে ওই আপনার মেয়ে একটা মেসেজ দিয়েছে। ওই মেসেজটা কীসের? মেসেজটা কিন্তু আমার কাছে আছে। এই মেসেজে কোনোদিন কোনো জিডি হয় না, কোনো কিছু হয় না। মানে, ও ওর সঙ্গে অ্যাফেয়ার করেছে, এই কথাগুলো। এই কথাগুলো দিয়া তো কখনো জিডি হয় না’- বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘পুলিশ দিয়ে আমাকে ফোন দিয়েছে এবং পুলিশ শুনেছি তাদের এলাকার ভাই। পরে আমি ডিআইজিকে ফোন দিয়েছি। উনি বলেছেন, ভাবী আপনি আমাকে বলতেন আমি ব্যবস্থা নিতাম। পরে দেখলাম যে ইউনিভার্সিটিতে মোটামুটি রফাদফা, চেয়ারম্যানের কাছে গেলাম। চেয়ারম্যানকে ১০টা নাম দিয়ে আসছি আমি। চেয়ারম্যান আমার সামনেই প্রক্টরকে ফোন দিয়েছে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলল। প্রক্টর কী ব্যবস্থা নিল? আজ একবছর ধরে আমি তো হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করছি অবন্তিকার বাবাকে নিয়ে। এর মাঝে মেয়েটাকে হয়রানি করল!’

প্রসঙ্গত, ফেসবুকে ‘এটা সুইসাইড না এটা মার্ডার। টেকনিক্যালি মার্ডার।’ স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই শিক্ষার্থী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ওই ফেসবুক পোস্টে সহপাঠী আম্মান সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন ফাইরুজ। তার মৃত্যুর জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম ও সহপাঠী আম্মান সিদ্দিকীকে দায়ী করেন।

শিক্ষক দ্বীন ইসলাম ও সহপাঠী আম্মান আটক

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আলটিমেটামের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার আত্মহত্যার ঘটনায় তার সহপাঠী রায়হান সিদ্দিকী আম্মান ও সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার পর থেকে এই দুজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। তারা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।


নির্বাচিত

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক হবে: প্রতিমন্ত্রী আমিনুল

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ২১:৩৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেছেন, আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর এফডিসিতে আন্তর্জাতিক যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মো. আমিনুল হক বলেন, গত ১৭ বছরে দক্ষতা বৃদ্ধির নামে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। বর্তমান সরকার দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছে।

বিগত সরকার যেসব ভুল করেছে, বর্তমান সরকার সেই ভুল করবে না। প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে যুবসমাজকে কর্মক্ষম করে গড়ে তোলা হবে।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডিগ্রি নিয়ে যুবকরা যাতে বেকার হয়ে ঘরে বসে না থাকে, সে জন্য বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে তাদের দক্ষতা অর্জন করে স্বাবলম্বী করে তোলার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, তরুণ সমাজকে মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত করতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।

যুবকদের কর্মসংস্থান হলে সামাজিক অপরাধ কমে আসবে। সরকার খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ শুরু করেছে। যেখানেই খালি জায়গা থাকবে, সেখানেই খেলার মাঠ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আমিনুল হক বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে।

অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। আয়োজনে সহযোগিতা করেছে কেয়ার বাংলাদেশ ও এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজেস বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন, ড. এস এম মোর্শেদ, কেয়ার বাংলাদেশের পরিচালক রওনক জাহান ও এসওএসের ডেপুটি ন্যাশনাল ডিরেক্টর মো. মাসুদ রানা।


নির্বাচিত

নওগাঁর ১৯ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্তের উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁ জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে ৭টি উপজেলার মোট ১৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। সম্প্রতি প্রকাশিত এসএসসির রেজাল্টের পর জেলার শিক্ষা অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ তথ্য জানা যায়। শতভাগ ফেইলের মধ্যে রয়েছে মাধ্যমিক, মাদরাসা ও ভোকেশনাল এর এমপিওভুক্ত ও নন এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান।

জানা যায়, জেলার বদলগাছী উপজেলার ৩টি প্রতিষ্ঠান থেকে কেউই পাস করেনি। শতভাগ ফেইল করা সেই প্রতিষ্ঠান গুলো হলো গোবরচাপা হাট আকতার হামিদ সিদ্দিকী দাখিল মাদরাসা। এই মাদরাসা থেকে ১জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও সে পাস করেনি। এ উপজেলার শতভাগ ফেইলের তালিকায় রয়েছে জোলাপাড়া ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসা। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন কিন্তু একজনও পরীক্ষার্থী পাস করেনি। এছাড়াও উপজেলার খাদাইল দাখিল মাদরাসা থেকে কোন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেননি।

এদিকে জেলার পত্নীতলা উপজেলার চকনোদবাটি ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসা থেকে ১৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করেনি। সাপাহার উপজেলার ভাবুক নইমুদ্দিন দাখিল মাদরাসা থেকে ১৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করেনি। জেলার মান্দা উপজেলার চকদেবীরাম-চকভোলাই আলিম মাদ্রাসা থেকে এবারের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে কেউ পাস করেনি। এছাড়াও এই উপজেলার কুসুম্বা শাহী দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৯ জন, রামনগর দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৩ জন, চকরঘুনাথ দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৩ জন এবং এলেঙ্গা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৬ জন পরীক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউই পাস করেনি।

জেলার পোরশা উপজেলার বড় গুন্দইল দাখিল মাদরাসা থেকে ১৬ জন, গাঙ্গরিয়া ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসা থেকে ১৩ জন, অনন্তপুর দাখিল মাদরাসা থেকে ৯ জন ও কালিনগর সরাইগাছী মহিলা দাখিল মাদরাসা থেকে ৬ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিলেও একজন পরীক্ষার্থীও পরীক্ষায় পাস করেননি। নিয়ামতপুর উপজেলার বরিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৫ জন, পৈলানপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৯ জন, নিমদিঘী কারিগরি স্কুল ও কলেজ থেকে ৭ জন এবং বরিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তাদের কেউই পাস করতে পারেনি। এবং আত্রাই উপজেলা সুদরানা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৪ জন এবং আটগ্রাম ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। কিন্তু তাদের কেউই পাস করেননি।

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ বিভিন্ন কারণ দেখান, তারা কেউ কেউ বলেন, শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোর অভাব এবং অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে না আসা।

এরমধ্যে মান্দা উপজেলার চকদেবীররাম চকভোলাই আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জালাল উদ্দিন বলেন, আমাদের মাদ্রাসা থেকে এবার ১৫ শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে পরীক্ষার কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার সম্মুখে পড়ে শিক্ষার্থীরা ভীত ও বিহ্বল হয়ে পড়ে। ফলে পরীক্ষা ভালো করতে পারেনি।

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, শতভাগ ফেল করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের সাথে দ্রুত বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার মান উন্নয়নে সকল প্রচেষ্টা আগামীতে অব্যাহত থাকবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আয়শা সিদ্দিকা বলেন, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস না করা খুবই দুঃখজনক।


নির্বাচিত

একাদশে ফাঁকা সাড়ে ১৩ লাখ আসন

* ভর্তিতে থাকছে না পরীক্ষা * ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন শুরু
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক  

শিক্ষা খাতে বাজেটের আকার বাড়ছে। গড়ে উঠছে বহুতল একাডেমিক ভবন; কিন্তু শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার মান যে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট বা এসএসসি পরীক্ষার ফল বিপর্যয় ও একাদশ শ্রেণির আসন্ন ভর্তি পরিস্থিতি। একদিকে ‘শিখন ঘাটতি’র কারণে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী মাধ্যমিকের গণ্ডি-ই পেরোতে পারেনি। অন্যদিকে এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে একাদশ শ্রেণির ভর্তিতে। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির মোট আসন প্রায় ২৫ লাখ হলেও, শিক্ষার্থীর অভাবে ১৩ লাখ ৬১ হাজার আসন ফাঁকা পড়ে থাকবে।

আসন্ন শিক্ষাবর্ষে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন গ্রহণ শুরু হতে পারে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে। ১০ নভেম্বরে মধ্যে ভর্তির কার্যক্রম শেষ করে আগামী ১২ নভেম্বর একাদশ শ্রেণিতে ক্লাস শুরু হবে। এবারও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে, কোনো ভর্তি পরীক্ষা হবে না। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ এবং মেধা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এদিকে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে শিক্ষাব্যবস্থার এই কাঠামোগত ব্যর্থতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মনজুর আহমদ বলেছেন, ‘শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শেখায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।’

একই সুরে কথা বলেছেন বিশ্লেষক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তার মতে, অবকাঠামোর চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো শিখনফল। তিনি বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীরা স্কুল থেকে আসলে কী শিখে বের হচ্ছে, সেটিতেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।’

শিক্ষার এই দৈন্যদশার পেছনে শিক্ষকদের পেশাদারি সংকটকেও দায়ী করছেন অনেকে। রাজধানীর বনশ্রীর একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের ভাষ্যে চরম বাস্তবতা উঠে এসেছে। তার মতে, শিক্ষকতা এখন অনেকের কাছে আর পেশাগত দায়বদ্ধতার জায়গায় নেই। অনেকে এটিকে ব্যবহার করছেন প্রশাসনিক সুবিধা বা পদোন্নতির সিঁড়ি হিসাবে।

শিক্ষামন্ত্রী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিলেও, শ্রেণিকক্ষের এই বেহাল দশা এবং শিক্ষকদের তদবির নির্ভর সংস্কৃতির কারণেই এসএসসিতে ফল বিপর্যয় ঘটেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যার চূড়ান্ত খেসারত দিচ্ছে দেশের অর্ধেকের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেগুলো এখন শিক্ষার্থী-শূন্য হওয়ার অপেক্ষায়।

অর্ধেকের বেশি কলেজ শিক্ষার্থী-শূন্য থাকার অপেক্ষায় থাকলেও, ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে তীব্র শঙ্কা ও হতাশা। কারণ, ১৩ লাখ আসন খালি থাকলেও মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হাতেগোনা।

যে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে, তাদের সিংহভাগেরই লক্ষ্য রাজধানীসহ বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ কলেজগুলো। ফলে জিপিএ-৫ পেয়েও কাঙ্ক্ষিত কলেজে ভর্তির সুযোগ না পাওয়ার শঙ্কা প্রবল।

বোর্ড কর্মকর্তাদের মতে, বহু শিক্ষার্থী আবেদন করার সময় অবাস্তবভাবে শুধু এক বা দুটি শীর্ষ কলেজকে পছন্দক্রমে রাখে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকলেও, মানসম্মত শিক্ষার নিশ্চয়তা যে গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানের বাইরে নেই—শিক্ষার্থীদের এই আস্থাহীনতাই এই অসম প্রতিযোগিতার মূল কারণ।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান বলেছেন, খসড়া সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণের সময় রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সেটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। যদি সেটি ঠিক থাকে, তাহলে সে অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু হবে।

১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন পরীক্ষার্থী। প্রায় ৭ লাখ পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এই হিসাবে এবার অর্ধেকের বেশি আসন খালি থাকবে।

সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে (কলেজ ও মাদ্রাসা) ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। গতবার ভর্তি হয়েছিল মোট আসনের ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ খালি ছিল ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ। এ বছর পাসের হার আরও কমেছে। ফলে আসনসংখ্যা আরও বেশি শূন্য থাকবে।

তবে মোট আসন খালি থাকলেও জিপিএ-৫ পেয়েও অনেকে তাদের কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে না। কারণ, তুলনামূলক ভালো প্রতিষ্ঠানে আসন কম। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন।

বিগত কয়েক বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি দিয়ে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। পরে শিক্ষার্থীর ফলাফল, কোটা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং পছন্দক্রম বিবেচনায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়।

এই পদ্ধতিতে শুধু কলেজ ও মাদ্রাসায় ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পৃথক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের প্রায় সব কলেজ ও মাদ্রাসায় এই পদ্ধতিতেই একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে।


নির্বাচিত

একাদশে পরীক্ষা ছাড়া ফলের ভিত্তিতেই আসন, ভর্তি শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই এবার একাদশ শ্রেণিতে (কলেজ ও মাদ্রাসা) শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। কোনো ধরনের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রস্তুত করা খসড়া সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইনে ভর্তি আবেদন শুরু হয়ে ১২ নভেম্বর থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হবে।

ভর্তি প্রক্রিয়া ও সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী আবেদন গ্রহণ শুরু: আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে এবং ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ: ১০ নভেম্বর। ক্লাস শুরু হবে, ১২ নভেম্বর।

কেন্দ্রীয়ভাবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। তবে নটর ডেম কলেজসহ হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ভর্তি প্রক্রিয়া পৃথকভাবে সম্পন্ন হবে।

আসন সংখ্যা ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের প্রতিযোগিতা

সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। গত বছর মোট আসনের ৪১.৩ শতাংশ খালি ছিল। এবার পাসের হার কম হওয়ায় খালি আসনের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী (যার মধ্যে ৯টি সাধারণ বোর্ডে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন)।

মোট আসন খালি থাকলেও স্বনামধন্য ও মানসম্মত কলেজগুলোতে আসন সংখ্যা সীমিত। ফলে জিপিএ-৫ পেয়েও অনেক শিক্ষার্থী তাদের পছন্দ তালিকার শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে না।


নির্বাচিত

শিহাব নেই, এসএসসির ফলাফলের তালিকায় জ্বলজ্বল করছে জিপিএ-৫

বিদ্যুৎস্পর্শে নিহত শিহাব। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তরিকুল ইসলাম তরুন, কুমিল্লা দক্ষিণ প্রতিনিধি

ফল প্রকাশের দিনে ঘরজুড়ে থাকার কথা ছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাস। স্বজনদের মুখে ফুটে ওঠার কথা ছিল হাসি, আর মা-বাবার চোখে থাকার কথা ছিল গর্বের অশ্রু। কিন্তু সেই আনন্দের দিনেই কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার এক পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কারণ এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের মাত্র দুদিন আগে বিদ্যুৎস্পর্শে প্রাণ হারিয়েছে পরিবারের একমাত্র ছেলে শিহাব।

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে শিহাব পেয়েছে গোল্ডেন জিপিএ-৫। অথচ সন্তানের এমন অসাধারণ সাফল্যের দিনে আনন্দ করার বদলে একমাত্র ছেলেকে হারানোর শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন তার মা-বাবা ও স্বজনরা।

নিহত শিহাব কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মানরা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। সে ঢাকার বিমানবন্দর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম জানান, শিহাবের বাবা তোফাজ্জল হোসেন ঢাকায় গার্মেন্টস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। পরিবারের একমাত্র ছেলে শিহাব ছিল দুই ছোট বোনের বড় ভাই। ছোট চাচা তাজুল ইসলামের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে আসে সে। কিন্তু সেই আসাই যে তার জীবনের শেষ আসা হবে, তা কেউ ভাবতে পারেনি।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে গোসল শেষে বাড়ির ছাদে কাপড় শুকাতে যায় শিহাব। এ সময় বিয়ের অনুষ্ঠানের ডেকোরেশনের জন্য টানানো রঙিন বাতির তারে বিদ্যুৎস্পর্শে গুরুতর আহত হয় সে। পরে তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণপাড়ার পাশের কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওইদিন সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়িতে শিহাবের মরদেহ দাফন করা হয়।

শিহাবের চাচা তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যবসার কারণে শিহাবের পরিবার ঢাকায় থাকত। আমার বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তারা গ্রামের বাড়িতে এসেছিল। শিহাব ছিল তার মা-বাবার একমাত্র ছেলে। তার দুটি ছোট বোন রয়েছে।’

শশীদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান রিয়াদ বলেন, ‘চাচার বিয়ের অনুষ্ঠানে এসে শিহাবের বিদ্যুৎস্পর্শে মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এর মধ্যে আজ এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। শিহাব গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পরিবারটি এখন শোকাহত।’

তিনি আরও জানান, শিহাবের মৃত্যুতে আগামীকাল মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সান্ত্বনা দেওয়ারও চেষ্টা করেছেন তিনি।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্নি ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। আমরা পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছি। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।’

একদিকে এসএসসির ফলাফলে গোল্ডেন জিপিএ-৫, অন্যদিকে সেই ফল দেখার আগেই পৃথিবী থেকে বিদায়—শিহাবের এই মর্মান্তিক পরিণতি স্বজনদের কাছে যেন আনন্দের দিনে এক গভীর শূন্যতার নাম হয়ে রইল। এবিষয়ে পল্লী চিকিৎসক ও সংবাদ কর্মী জানান আমারা আমাদের ভাগিনাকে হারিয়ে পাগল হয়ে আছি,সবাই দোয়া করবেন আল্লাহ যেন জান্নাতুল ফেরদৌসের স্বাচ্ছন্দ্য দান করেন শিহাবকে।আর জিপিএ ৫ দিয়ে আর কি হবে যার জন্য সেই তো চলে গেলো


নির্বাচিত

৩ সহোদরা বোনের অনন্য কৃতিত্ব, এসএসসিতে ৩ জনই পেল গোল্ডেন A+

৩ সহোদরা বোন- নাজিবা ইসলাম, নাবিলা ইসলাম ও নাফিসা ইসলাম। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষায় অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করেছে কুমিল্লার তিন সহোদরা বোন। ঢাকা বোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নাজিবা ইসলাম, নাবিলা ইসলাম ও নাফিসা ইসলাম তিনজনই অর্জন করেছে গোল্ডেন A+।

তারা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও প্রকৌশলী জনাব নাদিমুল ইসলামের কন্যা। তিন বোনের এমন অসাধারণ ফলাফলে পরিবার, শিক্ষক-শিক্ষিকা, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

তিন বোনের এই সাফল্য তাদের কঠোর পরিশ্রম, মেধা ও অধ্যবসায়ের অনন্য দৃষ্টান্ত। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষায় আরও সাফল্য অর্জন করে দেশ ও জাতির কল্যাণে ভূমিকা রাখুক, এ প্রত্যাশা পরিবারের।


নির্বাচিত

ভারতে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন বাকৃবির ৫ শিক্ষার্থী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাকৃবি প্রতিনিধি

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের এনিমেল ওয়েলফেয়ার ল্যাবের পাঁচ শিক্ষার্থী ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব অ্যাপ্লাইড এথোলজি (আইএসএই) আয়োজিত ৫৯তম ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সে অংশ নিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১১ আগষ্ট) ভারতের নয়াদিল্লি থেকে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ডা. আশিকুর রহমান কৌশিক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সম্মেলনটি ১০ আগষ্ট শুরু হয়ে চলবে আগামী ১৪ আগস্ট পর্যন্ত। এসময়ে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে তারা প্রাণিকল্যাণ (অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার) বিষয়ে পৃথক পাঁচটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করবেন।

অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা হলেন ডা. সোলেমা আক্তার শান্তা, ডা. সিয়াম আহমেদ, ডা. আশিকুর রহমান কৌশিক, ডা. তাসনিম বিনতে হাসান এবং ডা. তাজিন খন্দকার। দলটির নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এবং এনিমেল ওয়েলফেয়ার ল্যাবের প্রধান অধ্যাপক ড. এম. আরিফুল ইসলাম। তিনি গবেষণাপত্রগুলোর করেসপন্ডিং অথর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য দলটির সদস্যরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে রেজিস্ট্রেশন ফি ও ট্রাভেল গ্র্যান্ট অর্জন করেন। সংশ্লিষ্টরা এটিকে তাদের গবেষণার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে দেখছেন।

অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ডা. আশিকুর রহমান কৌশিক বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সুযোগ আমার জন্য অত্যন্ত গৌরবের। বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশ থেকে ১২৩ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন। এত বড় পরিসরের একটি বৈশ্বিক আয়োজনে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি বিশেষভাবে গর্বিত। সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের গবেষকদের কাজ, প্রাণিকল্যাণের আধুনিক ধারণা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও গবেষণার নতুন দিকগুলো সম্পর্কে জানার সুযোগ হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা আমার গবেষণার জ্ঞান ও দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও বিস্তৃত করবে এবং ভবিষ্যতে প্রাণিকল্যাণ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় কাজ করার ক্ষেত্রে আমাকে অনুপ্রাণিত করবে।

বিশ্বব্যাপী প্রাণিকল্যাণ বিষয়ক গবেষক, শিক্ষক ও পেশাজীবীদের অন্যতম বৃহৎ এই সম্মেলনে গবেষণাপত্র উপস্থাপনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও দৃশ্যমান হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


নির্বাচিত

বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশের ক্ষমতা হারাচ্ছে এনটিআরসিএ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ করার ক্ষমতা আর থাকছে না বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ)। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটির কাজ হবে শুধু শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নেওয়া ও প্রত্যয়ন দেওয়া। প্রত্যয়ন পাওয়া শিক্ষকদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে।

এনটিআরসিএর সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক স্বাক্ষরিত এ কার্যবিবরণী গত ৪ আগস্ট জারি করা হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ২০১৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী এনটিআরসিএ যে নিয়োগ সুপারিশ করে আসছিল, তা আর করবে না। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫ অনুযায়ী এনটিআরসিএকে আগের মতো শুধু নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০০৫ সাল থেকে ২০১৫ সালের আগে এনটিআরসিএ কেবল শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করত। ২০১৫ সাল থেকে এনটিআরসিএর সক্ষমতার বাইরে গিয়ে নিয়োগ সুপারিশ করার পর বিভিন্ন জটিলতা, মামলা ও অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে আগের ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার পক্ষে মত দেন তিনি।

সভায় জানানো হয়, সর্বশেষ জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার জন্য বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১১৬টি বিষয়ে মোট ৭৭ হাজার ৭৯৯টি এমপিওভুক্ত শূন্যপদের চাহিদা অনলাইনে সংগ্রহ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলোর যাচাই শেষে এসবের মধ্যে ৭৫ হাজার ৭৬৯টি শূন্যপদ পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৯ হাজার ৮৪২ জনকে নিয়োগের জন্য ৯ হাজার ৮৪২টি পদ সংরক্ষণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অবশিষ্ট ৬৫ হাজার ৯২৭টি পদে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার মাধ্যমে পরবর্তী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সভায় ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ওই ৯ হাজার ৮৪২ জনকে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বউদ্যোগে নিয়োগের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় পরিপত্র বা প্রজ্ঞাপন সংশোধন করে জারি করতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে (মাউশি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বদলির মাধ্যমে যেসব শূন্যপদ সৃষ্টি হবে, সেসব পদেও ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের নিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে বলে সভায় মত দেওয়া হয়।

এদিকে, ৬৫ হাজার ৯২৭টি শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি দ্রুত প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রয়োজনীয় কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ও এনটিআরসিএকে বলা হয়েছে।

সভায় ৬ষ্ঠ ও ৭ম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ভুল চাহিদার কারণে ভুল প্রতিষ্ঠানে সুপারিশ পাওয়া ১৯৯ জন প্রার্থীর বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসব প্রার্থীকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুত পুনঃসুপারিশ করার জন্য এনটিআরসিএকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ৮ম এনটিআরসিএ নিয়োগ পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ পরীক্ষায় অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপারিনটেনডেন্ট ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থীরা অংশ নিয়েছেন।

সভায় জানানো হয়, এসব পদে ১১ হাজার ১৫১টি শূন্যপদের বিপরীতে ৫৩ হাজার ৬৯ জন প্রার্থী আবেদন করেন। গত ১৮ এপ্রিল ঢাকার নয়টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এমসিকিউ পরীক্ষায় ৪৮ হাজার ১৫২ জন অংশ নেন। পরে ২২ এপ্রিল প্রকাশিত ফলাফলে ১৪ হাজার ৯৪২ জন উত্তীর্ণ হন। তাদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। বাছাই পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষায় পৃথকভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীদেরই কেবল সংশ্লিষ্ট পদে প্রত্যয়ন দেওয়া হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর প্রশাসনিক অনুমোদনের পর প্রয়োজনীয় আদেশ, পরিপত্র ও প্রজ্ঞাপন সংশোধন বা জারি করা হবে।


নির্বাচিত

দাখিল পরীক্ষায় পাসের হারে ধস, ২২৬ মাদরাসায় পাস করেনি কেউ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় ফলাফল বিপর্যয়ের এক হতাশাজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন কর্তৃক আজ সোমবার (১০ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর মোট ২২৬টি মাদ্রাসার কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। গত বছর এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল মাত্র ৮৬টি, যা থেকে প্রতীয়মান হয় যে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এ বছর দাখিল পরীক্ষায় সব মিলিয়ে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৭৯৭ জন শিক্ষার্থী সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ৮১ হাজার ৭৬৫ জন এবং ছাত্রীর সংখ্যা ৮৩ হাজার ৩২ জন। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এবার গড় পাসের হার ৫৫.৪৯ শতাংশ। লিঙ্গভিত্তিক ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা সাফল্যের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে; যেখানে ছাত্রীদের পাসের হার ৫৯.৮৯ শতাংশ, সেখানে ছাত্রদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৫১.৬৪ শতাংশ। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মেয়েদের ধারাবাহিক সাফল্য বজায় থাকলেও ছাত্রদের পাসের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে।

চলতি বছর মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষায় সর্বমোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। এর মধ্যে সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত ছিল। গত ২১ এপ্রিল শুরু হওয়া এই লিখিত পরীক্ষাগুলো সাধারণ বোর্ডগুলোতে ২০ মে এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডগুলোতে ২৪ মে সমাপ্ত হয়। সাধারণত পরীক্ষা শেষের ৬০ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশের প্রথা থাকলেও বিভিন্ন বাস্তবতায় এবার নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ বিলম্বে ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রকাশিত ফলাফলে যারা অসন্তুষ্ট কিংবা ফলাফল চ্যালেঞ্জ করতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য আগামীকাল ১১ আগস্ট থেকে পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত আগ্রহী পরীক্ষার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে পুনর্নিরীক্ষণের এই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত দিকনির্দেশনা ও নিয়মাবলি ইতোমধ্যে শিক্ষা বোর্ডগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় এই ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা অধিকতর গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।


নির্বাচিত

দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ৫৫.৪৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেলো ৬ হাজার ১৭৬ জন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরের মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত দাখিল পরীক্ষার ফলাফল আজ সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, এ বছর এই পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৫৫.৪৯ শতাংশ। আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই ফলাফল সংক্রান্ত বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সারাদেশে মোট ৭৪১টি কেন্দ্রে ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮২ জন পরীক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। এদের মধ্যে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৭৯৭ জন শিক্ষার্থী। মেধার বিচারে সর্বোচ্চ সাফল্য অর্থাৎ জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ৬ হাজার ১৭৬ জন পরীক্ষার্থী। শিক্ষামন্ত্রীর এই ফল ঘোষণার সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

পাসের হারে শীর্ষে ঢাকা বোর্ড, সর্বনিম্ন মাদ্রাসায়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে সাফল্যের দিক থেকে সকল বোর্ডের শীর্ষে অবস্থান করছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এই বোর্ডে পাসের হার ৭১.৬৩ শতাংশ। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম পাসের হার রেকর্ড করা হয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে, যেখানে পাসের হার ৫৫.৪৯ শতাংশ। আজ সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

ফলাফলের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অন্যান্য সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৬৩.৬৭ শতাংশ, কুমিল্লায় ৬৫.৪২ শতাংশ এবং যশোরে ৬৬.২৭ শতাংশ। উপকূলীয় ও অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে চট্টগ্রামে ৫৯.৪৮ শতাংশ, বরিশালে ৬০.৩৫ শতাংশ এবং সিলেটে ৫৮.৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এছাড়া দিনাজপুর বোর্ডে ৫৮.০৫ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৫৭.৩৯ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৫৮.২০ শতাংশ পাসের হার অর্জিত হয়েছে।

এ বছর সারাদেশে গড় পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে দাঁড়িয়েছে ৬২.২৫ শতাংশে। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে এই হার ছিল ৬৮.৪৫ শতাংশ। পাসের হারের পাশাপাশি সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও হ্রাস পেয়েছে। এ বছর মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে, যেখানে গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৪.০৫ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় ৩.৯৯ শতাংশ কম।

শিক্ষার্থীবহুল এই পরীক্ষায় এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। এর মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রীর সংখ্যা ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে সাধারণ বোর্ডের অধীনে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। সারাদেশের ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।


নির্বাচিত

এসএসসিতে জিপিএ-৫ ও পাসের হারে পতন, কমলো ২২ হাজার ৩৫৬

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। গত বছরের তুলনায় এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন। আজ সোমবার সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফল প্রকাশের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। অনুষ্ঠানের শুরুতে সকল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানগণ সম্মিলিতভাবে পরীক্ষার ফলাফল ও পরিসংখ্যান শিক্ষামন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করলেও এবার এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জনে। জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্রীদের সংখ্যা বরাবরের মতো বেশি, যা মোট ৬৩ হাজার ৮৯৬ জন। এর বিপরীতে ৫২ হাজার ৭৮০ জন ছাত্র জিপিএ-৫ লাভ করেছেন। গত বছরের তুলনায় উভয় ক্ষেত্রেই সফলতার সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে, যেখানে তখন ৭৩ হাজার ৬১৬ জন ছাত্রী ও ৬৫ হাজার ৪১৬ জন ছাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন।

জিপিএ-৫ কমার পাশাপাশি গড় পাসের হারও লক্ষণীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। এবার সারাদেশে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশে, যেখানে ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এই হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। পাসের হারের এই নিম্নমুখী প্রবণতা নিয়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মাঝে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের লক্ষ্যে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। এর মধ্যে সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ছিল ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন শিক্ষার্থী। এ ছাড়াও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল।


নির্বাচিত

এসএসসিতে ৩১২ প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের পরিসংখ্যানে একটি উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, দেশের মোট ৩১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই এ বছর পাস করতে সক্ষম হয়নি। আজ সোমবার সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরীক্ষার ফলাফল উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে দেশের সকল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানগণ সম্মিলিতভাবে শিক্ষামন্ত্রীর হাতে ফলাফলের কপি ও পরিসংখ্যান হস্তান্তর করেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া এই ৩১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে রয়েছে ৫৭টি প্রতিষ্ঠান। এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সর্বোচ্চ সংখ্যক অর্থাৎ ২২৬টি প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করতে পারেনি। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন ২৯টি প্রতিষ্ঠানের ফলাফলও একই রূপ। এমনকি বিদেশের একটি কেন্দ্রেও কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হওয়ার গৌরব অর্জন করতে পারেনি।

এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণের লক্ষ্যে সব মিলিয়ে ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। এই বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থীর মধ্যে সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ছিল ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিতে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত ছিল। সংশ্লিষ্ট ফলাফলের বিস্তারিত তথ্য বর্তমানে অনলাইন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে।


নির্বাচিত

banner close