শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
১৬ কার্তিক ১৪৩৩

জবি শিক্ষার্থী অবন্তিকার আত্মহত্যা: উত্তাল ক্যাম্পাস, অভিযুক্তরা আটক  

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
১৬ মার্চ, ২০২৪ ২২:০৫
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৬ মার্চ, ২০২৪ ২১:৩০

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার আত্মহত্যার ঘটনায় পুরো বিশ্ববিদ্যালয়সহ মেয়েটির জন্মস্থান কুমিল্লায় উত্তাল পরিবেশ বিরাজ করছে। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে কুমিল্লা নগরীর বাগিচাগাঁও ‘পিসি পার্ক স্মরণিকা’ নামের ১০তলা ভবনের দ্বিতীয় তলার বাসায় অবন্তিকা গলায় রশি বেঁধে ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। মৃত্যুর ১০ মিনিট আগে নিজের ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি এ ঘটনার জন্য আম্মান সিদ্দিকী নামে তার এক সহপাঠীসহ সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকে এ ঘটনার জন্য দায়ী করেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সহপাঠী রায়হান সিদ্দিকী আম্মান ও সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ।

অবন্তিকার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার রাতেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে তার সহপাঠীরা বিক্ষোভ করেন। অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনার জন্য দাবি তোলেন তার বন্ধু শিক্ষার্থীরা। যার রেশ শনিবারও ক্যাম্পাসে দেখা যায়।

শুধু তাই নয়- কুমিল্লা শহরে অবন্তিকার জন্য মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। বেলা ১১টায় নগরের কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে কুমিল্লার সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জোটের উদ্যোগে ওই কর্মসূচি হয়। এতে ‘জাস্টিস ফর অবন্তিকা’ প্ল্যাকার্ড নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন কুমিল্লার বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীরা।

বেলা ৩টায় কুমিল্লা সরকারি কলেজ মাঠে অবন্তিকার প্রথম জানাজা হয়। পরে কুমিল্লা শহরতলির শাসনগাছা মহাজন বাড়ি এলাকার গ্রামের বাড়িতে বাবার কবরের পাশে অবন্তিকাকে দাফন করা হয়। অবন্তিকার বাবা মো. জামাল উদ্দিন ২০২৩ সালের ১২ এপ্রিল রোজার সময় মারা যান। তিনি কুমিল্লা সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।

উত্তাল জবি ক্যাম্পাস

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়’ ব্যানারে শনিবার বিকেল ৩টায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক-সহপাঠীকে দায়ী করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার আত্মহত্যাজনিত কারণে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও ওই শিক্ষার্থীকে সহায়তাকারী শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনার তদন্তে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

এদিকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। অন্যথায় উপাচার্য কার্যালয় ঘেরাও করার হুমকিও দিয়েছেন তারা। এ ছাড়া অবন্তিকা আত্মহত্যার ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্ত করে প্ররোচনাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছে মানবাধিকার কমিশন। এ নিয়ে পুরো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তাল অবস্থা বিরাজ করছে।

উপাচার্য অধ্যাপক সাদেকা হালিম জানান, আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ বর্ষের শিক্ষার্থী ফাইরুজ অবন্তিকার মৃত্যুর কারণ হিসেবে তার সুইসাইড নোটে দেওয়া আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের অভিযুক্ত শিক্ষার্থী রায়হান সিদ্দিকী আম্মানকে সাময়িক বহিষ্কার ও দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে সহায়তাকারী ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দ্বীন ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত ও প্রক্টরিয়াল বডি থেকে তাৎক্ষণিক অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. জাকির হোসেনকে আহ্বায়ক করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক দ্রুত প্রতিবেদন পেশ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মাসুম বিল্লাহ ও সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ঝুমুর আহমেদ। এ ছাড়া কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার রঞ্জন কুমার দাস।

অবন্তিকার মৃত্যুতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবীর চৌধুরী গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। আত্মহত্যার পর তার ফেসবুক ওয়ালজুড়ে চলছে সহপাঠী ও বন্ধুদের শোকের ঝড়।

এদিকে শনিবার দুপুর ৩টার পর অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশ করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময় ছয় দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ সংলগ্ন ভিক্টোরিয়া পার্ক, লক্ষ্মীবাজার ও রায়সাহেব বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে।

দাবি আদায়ে শিক্ষার্থীরা তাদের ছয় দফা দাবিতে আরও উল্লেখ করে বলেন, হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। আম্মানকে গ্রেপ্তারি পরোনা জারি করা এবং দ্বীন ইসলামকেও অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং সুষ্ঠু বিচারের আওতায় আনতে হবে। অভিযুক্তদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। ভিকটিম ব্লেমিং এবং ভিকটিমের পরিবারকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বাদী হয়ে মামলা করতে হবে। নারী নিপীড়ন সেল কার্যকর করতে হবে।

এদিকে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী অর্থনীতি বিভাগের রেজোয়ানুল হক বলেন, আজকের বিক্ষোভ থেকে আমরা ছয় দফা দাবি জানাচ্ছি। আমাদের প্রথম দাবি হলো, এ হত্যার সুষ্ঠু বিচার করতে হবে, দ্বিতীয় দাবি অভিযুক্ত আম্মান ও দ্বীন ইসলামকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে, তৃতীয় দাবি হলো জরুরি ভিত্তিতে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে স্থায়ী বহিষ্কার করতে হবে, চতুর্থ দাবি হলো ভিক্টিমের পরিবারের নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে, পঞ্চম দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিপীড়ন বিরোধী সেলকে স্বাধীন করতে হবে এবং আমাদের সর্বশেষ দাবি হলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বাদী হয়ে মামলা করতে হবে।

অভিযুক্তদের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আম্মান সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে ওনার সঙ্গে কোনো প্রকার যোগাযোগ করিনি। এমনকি আমি ফেসবুক, মেসেঞ্জার বা কোনো জায়গাতেই কানেকটেড না। আমাকে দোষী প্রমাণের জন্য এভিডেন্স লাগবে। এভিডেন্স ছাড়া এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।’

অভিযোগের বিষয়ে অস্বীকার করে সহকারী অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম বলেন, ‘এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ত নেই। মেয়েটার সঙ্গে দেড় বছর আগে আমাদের কথা হয়েছে ছেলেটার বিষয় নিয়ে। আমি চাই এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।’

যা বললেন অবন্তিকার মা

শিক্ষক ও সহপাঠীকে দায়ী করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে আত্মহত্যা করা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাইরুজ অবন্তিকার মা তাহমিনা শবনমের আহাজারি যেন থামছেই না। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘এটাই বুঝি একটা বিধবা নারীর প্রাপ্য ছিল। আমি এখন সন্তানহারা। আমি এর বিচার কার কাছে দেব? আমি জীবনে কারও ক্ষতি করি নাই। কুমিল্লা শহরের কেউ বলতে পারবে না আমি কারও ক্ষতি করেছি। আজ আল্লাহ আমার এত বড় ক্ষতি করল?’

তাহমিনা শবনম বলেন, ‘হায় রে অবন্তিকা তুই আমারে কত বলছিলি মা একটা জিডি করো। আমি বলেছি, মা এগুলো করব না। আল্লাহ বিচার করবে। আমার আল্লাহর ওপর বিশ্বাস ছিল। আল্লাহ আমার কাছ থেকে তোরেই নিয়ে গেল! আমি কত কষ্ট করলাম। আমি এ জন্য কষ্ট করলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকায় কিছুদিন আগে মেয়েটা কলতা বাজারে ছিল। এখানে ইউনিভার্সিটির ছেলেগুলো ওই বাসা পর্যন্ত গিয়ে জানাইছে যে ওর নামে জিডি আছে। ওরে ওখান থেকে বের করে দিয়েছে। ওই বাসার মেয়েরা তো জানার কথা নয়। আমার মেয়ে এসে বলতেছে মা ওরা তো আমাকে এভাবে মেন্টাল টর্চার করতেছে। আমি পড়তে পারি না। পরে আমি ওর সঙ্গে গেলাম ঢাকায়। আমি যখন গেলাম মেয়েরা তখন চুপ। আমি বুঝতে দেই নাই মেয়েদের যে ওর (অবন্তিকার) পরীক্ষা চলছে। মেয়ের পরীক্ষা যখন শেষ আমি যেদিন চলে আসি মেয়েরা বলতেছে তোমার কী পরীক্ষা শেষ না কী পরীক্ষা শুরু হবে? তার মানে তাদের ইউনিভার্সিটি থেকে ইন্ধন দিয়ে রাখছে অবন্তিকাকে কীভাবে টর্চার করবে।’

‘রাফি, আম্মান, মাহিয়া, লাকি, রিমি তারপরে আঁখি, বন্যা, দ্বীন ইসলাম এ ঘটনার জন্য মূল দায়ী। আমি জিজ্ঞেস করলাম যে আপনারা ছেলেদের জিজ্ঞেস করেন তারা কেন এমন করছে। সে তো একটা স্টুডেন্ট ভালো। ক্লাসের টপ লিস্টেড মেয়ে। তার সঙ্গে কেন এরকম করছে? বলে যে ওই আপনার মেয়ে একটা মেসেজ দিয়েছে। ওই মেসেজটা কীসের? মেসেজটা কিন্তু আমার কাছে আছে। এই মেসেজে কোনোদিন কোনো জিডি হয় না, কোনো কিছু হয় না। মানে, ও ওর সঙ্গে অ্যাফেয়ার করেছে, এই কথাগুলো। এই কথাগুলো দিয়া তো কখনো জিডি হয় না’- বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘পুলিশ দিয়ে আমাকে ফোন দিয়েছে এবং পুলিশ শুনেছি তাদের এলাকার ভাই। পরে আমি ডিআইজিকে ফোন দিয়েছি। উনি বলেছেন, ভাবী আপনি আমাকে বলতেন আমি ব্যবস্থা নিতাম। পরে দেখলাম যে ইউনিভার্সিটিতে মোটামুটি রফাদফা, চেয়ারম্যানের কাছে গেলাম। চেয়ারম্যানকে ১০টা নাম দিয়ে আসছি আমি। চেয়ারম্যান আমার সামনেই প্রক্টরকে ফোন দিয়েছে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলল। প্রক্টর কী ব্যবস্থা নিল? আজ একবছর ধরে আমি তো হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করছি অবন্তিকার বাবাকে নিয়ে। এর মাঝে মেয়েটাকে হয়রানি করল!’

প্রসঙ্গত, ফেসবুকে ‘এটা সুইসাইড না এটা মার্ডার। টেকনিক্যালি মার্ডার।’ স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই শিক্ষার্থী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ওই ফেসবুক পোস্টে সহপাঠী আম্মান সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন ফাইরুজ। তার মৃত্যুর জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম ও সহপাঠী আম্মান সিদ্দিকীকে দায়ী করেন।

শিক্ষক দ্বীন ইসলাম ও সহপাঠী আম্মান আটক

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আলটিমেটামের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার আত্মহত্যার ঘটনায় তার সহপাঠী রায়হান সিদ্দিকী আম্মান ও সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার পর থেকে এই দুজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। তারা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।


নির্বাচিত

শনিবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৫২
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd ও https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

এছাড়া যেকোনো মোবাইল অপারেটর থেকে ১৬১৪০ নম্বরে নির্ধারিত নিয়মে এসএমএস পাঠিয়ে মুহূর্তেই ফল জানা যাবে।

গত ২ জুলাই সারা দেশে একযোগে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। ৮ আগস্ট লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার কারণে চট্টগ্রামসহ কয়েকটি বোর্ডের কিছু পরীক্ষা স্থগিত করে পরে তা নেওয়া হয়। ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এ বছর ১১টি বোর্ডে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রী সংখ্যা ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। এবার ছাত্রদের চেয়ে ২৬ হাজার ৬৪৫ জন বেশি ছাত্রী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।

এদিকে, আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ফলাফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ বা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন গ্রহণ শুরু হবে আগামী ১ নভেম্বর থেকে। শিক্ষার্থীরা অনলাইন পদ্ধতিতে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত দিকনির্দেশনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।


নির্বাচিত

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন পদে নিয়োগ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের রাজস্ব খাতভুক্ত ১৩ থেকে ২০ গ্রেডে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায় মোট পদসংখ্যা ৯৫।

আগ্রহীরা আগামী ২৬ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

এক নজরে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

১. পদের নাম : হিসাবরক্ষক

পদসংখ্যা : ৯

বেতন স্কেল ও গ্রেড

(গ্রেড-১৩) ২৪,০০০-৫৮,০০০ টাকা।

২. পদের নাম : সাঁটলিপিকার-কাম-কম্পিউটার অপারেটর

পদসংখ্যা : ৩

বেতন স্কেল ও গ্রেড

(গ্রেড-১৩) ২৪,০০০-৫৮,০০০ টাকা।

৩. পদের নাম : উচ্চমান সহকারী

পদসংখ্যা : ৩

বেতন স্কেল ও গ্রেড

(গ্রেড-১৪) ২৩,৫০০-৫৬,৮০০ টাকা।

৪. পদের নাম : সাঁটমুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর

পদসংখ্যা : ৪

বেতন স্কেল ও গ্রেড

(গ্রেড-১৪) ২৩,৫০০-৫৬,৮০০ টাকা।

৫. পদের নাম : গাড়িচালক

পদসংখ্যা: ১

বেতন স্কেল ও গ্রেড

(গ্রেড-১৫) ২২,৮০০-৫৫,২০০ টাকা।

৬. পদের নাম : অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক

পদসংখ্যা : ৪০

বেতন স্কেল ও গ্রেড

(গ্রেড-১৬) ২১,৯০০-৫২,৯০০ টাকা।

৭. পদের নাম : ডাটা এন্ট্রি অপারেটর

পদসংখ্যা : ২

বেতন স্কেল ও গ্রেড

(গ্রেড-১৬) ২১,৯০০-৫২,৯০০ টাকা।

৮. পদের নাম : অফিস সহায়ক

পদসংখ্যা : ৩৩

বেতন স্কেল ও গ্রেড

(গ্রেড-২০) ২০,০০০-৪৮,৪০০ টাকা।

বয়সসীমা

১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রার্থীর বয়সসীমা ১৮-৩২ বছর হতে হবে।

আবেদনের যেভাবে

আগ্রহীরা প্রার্থীগণ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে আবেদন ফরম পূরণ করতে পারবেন।

আবেদনের সময়সীমা

আবেদনপত্র পূরণ ও পরীক্ষা ফি জমাদান শুরুর তারিখ ও সময় : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০টা।

আবেদনপত্র জমাদানের শেষ তারিখ ও সময় : ২৬ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪টা।


নির্বাচিত

শিক্ষাজীবন শেষে চাকরি নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু

টাঙ্গাইলে ‘ক্যারিয়ার ও চাকরি মেলা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, শিক্ষাজীবন শেষ করেই যাতে একজন শিক্ষার্থী চাকরি পায়, সেই লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত ক্যারিয়ার ও চাকরি মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ক্যারিয়ার ও চাকরি মেলা অত্যন্ত ভালো ও মহৎ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশকে বুকে ধারণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। দেশের ২০ কোটি মানুষ যদি যোগ্য হয়ে ওঠে, তাহলে বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম দেশে পরিণত করা সম্ভব।’

টুকু বলেন, ‘একটি দেশকে এগিয়ে নিতে সরকার ও রাষ্ট্রকে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দিতে হয়। প্রধানমন্ত্রী সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছেন। তার কর্মকাণ্ডকে সহযোগিতা করতে হলে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাহলেই দেশ স্বাবলম্বী হবে।’

একটি দল বা গোষ্ঠী বিভিন্নভাবে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘জনগণের আন্দোলনের মুখে বিদায় নেওয়া ফ্যাসিবাদী শক্তি এখন বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। কিন্তু দেশের মানুষ শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ চায়। তাই তাদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘সব ধরনের ষড়যন্ত্র ও অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। এ জন্য নিজেদের সুসংগঠিত করতে হবে এবং যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।’

শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন। টাঙ্গাইলের শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে তিনি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘টাঙ্গাইলের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে। শিক্ষার দিক থেকে টাঙ্গাইলকে দেশের শীর্ষস্থানীয় জেলাগুলোর মধ্যে নিয়ে যেতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম শহীদুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. আনিসুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল-মামুন, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকার এবং ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ আলী। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতা এবং বিভিন্ন চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

এনসিটিবির ৯ কর্মকর্তাকে ওএসডি করে বদলি

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করার পর দেশের বিভিন্ন সরকারি কলেজ ও টিচার্স ট্রেনিং কলেজে সংযুক্তির আদেশ দেওয়া হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৪৮
অনলাইন ডেস্ক

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) থেকে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের নয়জন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে বদলি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তাঁদের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করার পর দেশের বিভিন্ন সরকারি কলেজ ও টিচার্স ট্রেনিং কলেজে সংযুক্তির আদেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী, বদলিকৃত কর্মকর্তাদের আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল এনসিটিবি থেকে অবমুক্ত হতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে ওই দিন অপরাহ্ণে তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত হয়েছেন বলে গণ্য হবেন। এরপর কর্মকর্তাদের নিজ নিজ পারসোনাল ডাটা শিটে (পিডিএস) লগইন করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে অবমুক্তি ও নতুন কর্মস্থলে যোগদানের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদেশে পদার্থবিদ্যা বিষয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল হক ভূঞা এবং ইতিহাসের অধ্যাপক রেজাউল করিমকে পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে। গণিতের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, ইংরেজির সহযোগী অধ্যাপক আফসানা আইয়ূব এবং প্রাণীবিদ্যার সহকারী অধ্যাপক মো. মনির হোসেন মজুমদারকে শরীয়তপুরের সরকারি গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজে পদায়ন করা হয়েছে।

একই আদেশে শিক্ষা বিষয়ের সহযোগী অধ্যাপক মো. আহসানুল আরেফিন চৌধুরীকে যশোর সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে এবং ইসলামিক আদর্শের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আবু হানিফকে রংপুর সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সমাজকল্যাণ বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদ বিন আমিনকে ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজে এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সহকারী অধ্যাপক এম এম আসাদুজ্জামানকে লালমনিরহাট সরকারি কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

মেধায় সেরা, গবেষণায় উজ্জ্বল চবির শাকিল

ছবি: শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমদ শাকিল।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চবি প্রতিনিধি

একাডেমিক সাফল্য ও গবেষণায় অসাধারণ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমদ শাকিল। মাস্টার্স (থিসিস) পরীক্ষায় ৪.০০-এর মধ্যে ৪.০০ সিজিপিএ অর্জন করে ডিস্টিংশন লাভ করেছেন তিনি। এর আগে স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষায় ৩.৯০ সিজিপিএ নিয়ে ১১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। পাশাপাশি কিউ-১ শ্রেণিভুক্ত আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীতে তাঁর তিনটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।

শিক্ষাজীবনে কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ শাকিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজিম উদ্দিন বৃত্তি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অনার্স মেধাবৃত্তি লাভ করেন। স্নাতকের প্রথম ও তৃতীয় বর্ষে প্রথম স্থান অর্জনের জন্য তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি দেওয়া হয়।

শাকিলের গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র কম্পিউটেশনাল কেমিস্ট্রি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরকোষ ও কার্যকরী পদার্থের উন্নয়ন। ডেনসিটি ফাংশনাল থিওরি (ডিএফটি), মলিকিউলার ডকিং এবং ডিভাইস সিমুলেশনের মতো আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে তিনি জৈব রঞ্জক, হ্যালাইড ডাবল পেরোভস্কাইট ও সম্ভাব্য ঔষধিগুণসম্পন্ন যৌগ নিয়ে গবেষণা করেছেন।

২০২৪ সালে Chemical Physics Impact সাময়িকীতে ট্রাইফেনাইলামিনভিত্তিক রঞ্জকের আলো শোষণ ও অপটিক্যাল বৈশিষ্ট্য নিয়ে তাঁর গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। ২০২৫ সালে ChemistrySelect সাময়িকীতে আইবুপ্রোফেনের ডেরিভেটিভের সম্ভাব্য COX-2 ইনহিবিটর হিসেবে কার্যকারিতা নিয়ে আরেকটি গবেষণা প্রকাশিত হয়। সর্বশেষ ২০২৬ সালে Materials Advances সাময়িকীতে হ্যালাইড ডাবল পেরোভস্কাইট নিয়ে তাঁর গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। এতে ডিভাইস সিমুলেশনের মাধ্যমে প্রায় ২৭ শতাংশ ফটোভোলটাইক দক্ষতার সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি অব অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন কেমিক্যাল সায়েন্সেসে মাস্টার্সের থিসিস সম্পন্ন করেন শাকিল। তাঁর গবেষণায় যৌগ সংশ্লেষণ, বর্ণালিবীক্ষণিক বিশ্লেষণ এবং তাত্ত্বিক ও জৈবিক কার্যকারিতা মূল্যায়ন গুরুত্ব পেয়েছে।

গবেষণার পাশাপাশি ২০২১ সাল থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান ও গণিত পড়াচ্ছেন তিনি। ল্যাবরেটরিতে স্নাতক পর্যায়ের চার শিক্ষার্থীকে গবেষণার বিভিন্ন পদ্ধতিতে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণও দিয়েছেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল সোসাইটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং বিভিন্ন একাডেমিক আয়োজনের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

ভবিষ্যতে সৌরশক্তি রূপান্তর, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদন এবং ক্যাটালাইসিসের উপযোগী নতুন কার্যকরী পদার্থ উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় অবদান রাখতে চান জুবায়ের আহমদ শাকিল।


নির্বাচিত

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ ২৯ অক্টোবর

ফল সংগ্রহের বিস্তারিত নিয়মাবলি ও প্রাসঙ্গিক তথ্য আগামী সোমবার শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হবে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আগামী ২৯ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। ফল সংগ্রহের বিস্তারিত নিয়মাবলি ও প্রাসঙ্গিক তথ্য আগামী সোমবার শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হবে।

শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। তিনি জানান, শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে ২৯ অক্টোবর ফলাফল প্রকাশের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর আগে ফলাফল প্রকাশের জন্য ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের সময়সীমা প্রস্তাব করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সারসংক্ষেপ পাঠিয়েছিল আন্তশিক্ষা বোর্ড।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। সারা দেশে মোট ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে সুষ্ঠুভাবে এ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

নির্ধারিত সময়সূচি মেনে গত ২ জুলাই সারা দেশে একযোগে এ পরীক্ষা শুরু হয়েছিল এবং ৮ আগস্ট লিখিত পর্ব শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে বৈরী প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রামসহ কয়েকটি শিক্ষা বোর্ডের বেশ কিছু বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে সংশোধিত সূচি অনুযায়ী স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করা হয়।

বিষয়:

নির্বাচিত

শিক্ষাক্রমে যুক্ত হচ্ছে নতুন চার পাঠ্যবই

প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের দুই শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন চারটি ভিন্নমাত্রার পাঠ্যবই
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার গতানুগতিক মুখস্থবিদ্যা ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক মানসিকতা থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে এনে আরও বেশি আনন্দময়, জীবনমুখী ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দক্ষ করে গড়ে তুলতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের দুই শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন চারটি ভিন্নমাত্রার পাঠ্যবই।

শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, নীতি-নৈতিকতা, সৃজনশীল চিন্তাশক্তি এবং বাস্তবমুখী কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বইগুলো প্রণয়ন করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। বইগুলো হলো- চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষাব্যবস্থাকে আনন্দময়, বাস্তবমুখী ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন করে তুলতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘ ১৫ বছরের রূপকল্প, বহুমুখী গবেষণা ও নির্দেশনার আলোকেই এনসিটিবি এই নতুন চার পাঠ্যপুস্তক শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে ।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে বলেন, ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার আলোকে বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এরই অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সংস্কারে মনোনিবেশ করেন। শিক্ষাব্যবস্থাকে আনন্দময়, বাস্তবমুখী ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন করে তুলতে দীর্ঘ বছর উনি (প্রধানমন্ত্রী) কাজ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে যে চিন্তাধারা, অভিজ্ঞতা ও গবেষণা পরিচালনা করেছেন- তারই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে নতুন এই বইগুলো।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সাথে গত ১৫ বছর এ বিষয়ে আমি নিজে কাজ করে যেটা বুঝেছি— উনি চান শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক শিষ্টাচার, পারিবারিক সংস্কৃতি ও সুনাগরিকের গুণাবলি তৈরি হবে। পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরি হবে। যার কারণে নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার জন্য এনসিটিবিকে সম্পৃক্ত করা হয়। এর অধীনে এনসিটিবি একটি টিম গঠন করে, যেখানে এসব পলিসি প্রণয়নে যারা প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করেছেন, তাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পাশাপাশি আরও অনেক বরেণ্য শিক্ষাবিদ আছেন, যারা বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে জড়িত; তারা প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্পটাকে বাস্তবায়নের জন্য ধারাবাহিকভাবে কনসালটেশন এবং মিটিং করেন।’

এনসিটিবি সংশ্লিষ্টরা জানান,সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আনন্দ, খেলাধুলা, সংস্কৃতির মেলবন্ধন এবং হাতে-কলমে কারিগরি দক্ষতানির্ভর পাঠ্যপুস্তক প্রণীত হয়েছে। এই নতুন পাঠ্যপুস্তক বদলে দেবে নতুন প্রজন্মের শিখন পদ্ধতি ও অভিজ্ঞতা। আগামীকাল ২৫ অক্টোবর জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসি) সভায় বইগুলো চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে। এনসিটিবি জানিয়েছে, চারটি বইয়ের প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ কপি বই মুদ্রণ করা হবে।

এ বিষয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে বলেন, ‘নতুন চারটি পাঠ্যপুস্তকের পাণ্ডুলিপি প্রণয়ন ও ভ্যালিডেশন কাজ ইতোমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ২৫ অক্টোবর এনসিসির সভায় অনুমোদনের পরই কন্টেন্টগুলো মুদ্রণের জন্য প্রেসে পাঠানো হবে।’

এনসিটিবি জানায়, গত ১২ জুলাই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে চার মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কর্মশালায় বইগুলোর রূপরেখা উপস্থাপনের পর বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে চূড়ান্ত পাণ্ডুলিপি তৈরি করা হয়।

এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) প্রফেসর মোহাম্মাদ আবু নাসের টুকু বাসস’কে জানান, নতুন চার বই মুদ্রণের জন্য সব প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এনসিসি কমিটির চূড়ান্ত অনুমোদনের পর আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি কপি বই মুদ্রণ কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি।

খেলাধুলা: সুস্থ জীবনধারা ও আত্মরক্ষার কৌশল

এনসিটিবি জানায়, শিক্ষার্থীদের বয়স ও মানসিক বিকাশ বিবেচনায় চতুর্থ শ্রেণির ‘খেলাধুলা’ বইটি প্রণয়ন করা হয়েছে। ১৪টি গতিশীল অধ্যায়ে সাজানো এই বইটির মূল উদ্দেশ্য শিশুদের শৈশব থেকেই সুস্থ জীবনধারা ও ক্রীড়াচর্চায় আগ্রহী করে তোলা।

বইটিতে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস ও দাবাসহ বিভিন্ন খেলার মৌলিক নিয়মকানুন সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আত্মরক্ষার কৌশল শেখাতে কারাতে, জুডো ও তায়কোয়ান্দোর মতো আত্মরক্ষামূলক কৌশল স্থান পেয়েছে।

এছাড়া খেলার মাঠে বা দৌড়ানোর সময় কেটে যাওয়া, মচকানো, নাক দিয়ে রক্ত পড়া বা হিট স্ট্রোকের মতো পরিস্থিতিতে করণীয় বাস্তবসম্মত ছবির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জরুরি প্রয়োজনে প্রাথমিক চিকিৎসাসামগ্রীর ব্যবহার ও ইনজুরি প্রতিরোধের কৌশল এতে হাতে-কলমে শিখবে। শুধু খেলাই নয়; এতে পুষ্টি, সামাজিক দক্ষতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে ‘স্বপ্ন যখন আকাশ ছোঁয়া’ শীর্ষক একটি বাস্তবমুখী অনুপ্রেরণামূলক গল্প যুক্ত করা হয়েছে। যেখানে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আয়মান স্যার ও তার সহকর্মী সাদিয়া আপার হাত ধরে মেয়েদের ফুটবল দল গঠনের প্রেরণার গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সামাজিক বাধা ও কুসংস্কার পেরিয়ে মেহজাবিনসহ একাধিক শিক্ষার্থী ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগ পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী হওয়ার গল্প দিয়ে এতে দেখানো হয়েছে কীভাবে খেলাধুলা শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি পেশা হিসেবে আর্থ-সামাজিক পরিবর্তন ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ঘটাতে পারে।

এ বিষয়ে এনসিটিবি চেয়ারম্যান বাসস’কে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা যাতে একমুখী ও ক্লান্তিকর না হয়ে ওঠে, সেদিকে বিশেষ নজর রেখে ‘খেলাধুলা’ বইটি প্রথমবারের মতো প্রণয়ন করা হয়েছে।’

বাংলাদেশের সংস্কৃতি : ঐতিহ্য, মূল্যবোধ ও নতুন কুঁড়ি

এনসিটিবি সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিবিড় পরিচয় ঘটাতে ১১টি অধ্যায়ে প্রণয়ন করা হয়েছে ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ বইটি। এতে ভাষা, পোশাক, শিল্পকলা, খাদ্য সংস্কৃতি, সামাজিক রীতিনীতি এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা বর্ণিল চিত্রে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

বইটিতে বাংলা বর্ণমালা চর্চা, বিদ্যালয় উৎসব, জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও পিঠা-পুলির মেলবন্ধনের পাশাপাশি বাবা-মায়ের যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও গৃহস্থালির পারস্পরিক সহযোগিতার আধুনিক রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

এছাড়া একটি বিশেষ অধ্যায়ে শিশু-কিশোরদের জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণমূলক আয়োজন ‘নতুন কুঁড়ির’ ইতিহাস, ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগ এবং বিজয়ীদের দুর্লভ ছবি যুক্ত করা হয়েছে।

লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস : ভীতিহীন ও আনন্দময় শিখনদর্শন

এনসিটিবি সংশ্লিষ্টরা জানান, পড়াশোনাকে ভীতিমুক্ত ও অত্যন্ত আনন্দদায়ক করার দর্শন নিয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৬টি অধ্যায়ে প্রণীত হয়েছে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বইটি, যা বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যুক্ত হতে যাওয়া একটি নতুন ধারণা ও পাঠ্যক্রম।

প্রচলিত পরীক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে আনন্দময় অভিজ্ঞতা, পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া ও সহপাঠক্রমিক নানা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে কীভাবে জ্ঞান অর্জন করা যায়—তা এতে তুলে ধরা হয়েছে। বইটি পাঠ্যভার অনেকাংশে হালকা করবে। এতে শিক্ষার্থীরা নিজ স্বাস্থ্য, চারপাশের পরিবেশ ও দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার আলোকেই আনন্দঘন উপায়ে শিখন ফল অর্জনে সক্ষম হবে।

এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারবে— শেখা শুধু মুখস্থ করা বা পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয় নয়; বরং নিজের জীবন, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, নিরাপত্তা, সৃজনশীলতা, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েও শেখা সম্ভব।

আমার কারিগরি শিক্ষা: ছোট উদ্যোগ, বড় সম্ভাবনা

এনসিটিবি জানিয়েছে, একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতে-কলমে শেখার অভ্যাস ও সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরিতে ৮টি অধ্যায়ে প্রণয়ন করা হয়েছে ষষ্ঠ শ্রেণির ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ বই। শিক্ষার্থীকে শুধু ‘আমি কী জানি’ তত্ত্বের মাঝে আটকে না রেখে ‘আমি কী করতে পারি’ সে বিষয়ে স্বাবলম্বী করে তোলাই এর মূল শিক্ষাদর্শন।

কারিগরি শিক্ষা পরিচিতি, চারপাশের প্রযুক্তি ও নতুন বিশ্ব, ছোট উদ্যোগ বড় সম্ভাবনা, যারা গড়ে, তারাই বদলায়, সবুজ প্রযুক্তি ও টেকসই জীবনযাপনসহ বাস্তব জীবনের নানা কারিগরি সমস্যা চিহ্নিত করা এবং প্রযুক্তির সহায়ক ব্যবহারের মাধ্যমে মৌলিক সমাধান খোঁজার একটি শক্ত ভিত্তি স্থাপন করবে বইটি। এছাড়া নতুন চারটি বইয়ে শব্দকোষের মতো বিশেষ অধ্যায় যুক্ত করা হয়েছে।

উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানান, আমাদের লক্ষ্যে চতুর্থ শ্রেণি থেকে শুরু হওয়া ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয় দুটি আগামী শিক্ষাবর্ষে শুরু হয়ে পরবর্তী সময়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে। অন্যদিকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ এবং কারিগরি শিক্ষা বিষয় দুটি ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সব ক্লাসের পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা হবে।

এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) প্রফেসর ড. এ. কে. এম শওকত আলী খান বাসস’কে বলেন, ‘নতুন এই চারটি পাঠ্যপুস্তক প্রবর্তনের ফলে শিক্ষার্থীরা পুঁথিগত বিদ্যার বাইরে গিয়ে আনন্দময় পরিবেশে বাস্তবমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবে।’ সূত্র: বাসস

বিষয়:

নির্বাচিত

ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে ‘দাঁড়িপাল্লা’র ছবি, ফেরত আনা হচ্ছে ২০ লাখ বই

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী শিক্ষাবর্ষের (২০২৭) ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ে প্রজ্ঞা বোঝাতে দাঁড়িপাল্লার ছবি জুড়ে দেওয়া হয়েছে। দাঁড়িপাল্লার ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর এই বইটির ছাপাগুলো আপাতত বন্ধ রাখার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ছাপানো সব বই পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে এনসিটিবি। একই সঙ্গে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এরই মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণির এই বই প্রায় ২০ লাখ ছাপা শেষে মাঠপর্যায়ে চলে গেছে। এখন এসব বই ফেরত আনা হচ্ছে। এসব বই ফেরত আনা, সংশোধন ও পুনমুর্দ্রণ করতে বড় অঙ্কের অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি সময়ও ক্ষেপণ হবে। অথচ চলতি বছরের মধ্যে মাঠপর্যায়ের সব বই পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার রয়েছে সরকারের।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক আবু নাসের টুকু বলেন, চেয়ারম্যান স্যারের নির্দেশে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। বইটি সংশোধন করে ফের পাঠাতে খুব বেশি সময় লাগবে না। আমরা যথাসময়ের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে বই পৌঁছাতে পারব। একটি রাজনৈতিক দলের প্রতীক হওয়ার কারণেই দাঁড়িপালা ছবি পরিবর্তন করা হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি তিনি।

তথ্যমতে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ের 'উপাত্ত ও তথ্য' পাঠে জ্ঞানের পিরামিডের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। এতে চারটি স্তর রয়েছে। নিচ থেকে সেগুলো হলো উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা। প্রতিটি স্তর বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে আলাদা প্রতীক। উপাত্তের স্তরে রয়েছে পাই চার্ট বা ঘড়ির মতো বৃত্তাকার প্রতীক। তথ্যের স্তরে রয়েছে পরমাণু বা নেটওয়ার্কের মতো দেখতে একটি প্রতীক। জ্ঞানের স্তর বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি। আর পিরামিডের সর্বোচ্চ স্তর প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে রাখা হয়েছে দাঁড়িপাল্লার ছবি।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ের প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানো হচ্ছে। এর বেশির ভাগই ইতোমধ্যে ছাপা হয়ে গেছে। এ ছাড়া ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য সব মিলিয়ে প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানোর কাজ চলছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য পরিমার্জিত ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়েও প্রজ্ঞার স্তরে দাঁড়িপাল্লার ছবি ছিল। তবে চলতি শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে আবার দাঁড়িপাল্লার ছবি ফিরে আসে। এ নিয়ে বিতর্কের পর এবার প্রতীকটি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতের নির্দেশ

শ্রেণিকক্ষ, অফিসকক্ষ, বারান্দা, ছাদ, শৌচাগার ও প্রতিষ্ঠানের আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখাসহ কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে বলা হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:১৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

শ্রেণিকক্ষ, অফিসকক্ষ, বারান্দা, ছাদ, শৌচাগার ও প্রতিষ্ঠানের আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখাসহ কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে বলা হয়েছে।

গত ১৮ অক্টোবর জারি করা এক নির্দেশনায় এসব ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্দেশনায় বিষয়টিকে অতীব জরুরি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা পরিদর্শনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মিরপুর বাংলা কলেজসহ বিভিন্ন স্থাপনা আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেছেন।

এ পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিবেশ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ ছাড়া শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের সম্পৃক্ত করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, সার্বিক শৃঙ্খলা ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক মো. নাজমুল হক স্বাক্ষরিত নির্দেশনাটি অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক, সরকারি ও বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা ও থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সূত্র: বাসস

বিষয়:

নির্বাচিত

না ফেরার শর্তে নয়, অসুস্থতার কারণে ক্যাম্পাস ছেড়েছি: চুয়েটের ভিসি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

কোনো ধরনের পদত্যাগ কিংবা ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে না ফেরার শর্তে নয়, নিতান্তই শারীরিক অসুস্থতার কারণে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে চিকিৎসকের পরামর্শে ক্যাম্পাস ছেড়েছেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। সুস্থ হওয়ার পর পুনরায় ক্যাম্পাসে ফিরে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের কথাও স্পষ্ট করেছেন তিনি।

এক প্রতিবাদলিপিতে উপাচার্য উল্লেখ করেন, তার কোনো ধরনের বক্তব্য গ্রহণ না করেই কয়েকটি গণমাধ্যমে তিনি আর ক্যাম্পাসে ফিরবেন না অথবা পদত্যাগ করেছেন মর্মে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। এমন অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচারকে তিনি দুঃখজনক এবং সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত বলে আখ্যায়িত করেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি জানান, গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর চুয়েট প্রশাসনিক ভবনের নিজ কার্যালয় থেকে স্থানীয় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে তাকে বের করে আনা হয়। মূলত সোমবার দুপুর থেকে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় আটকে থাকায় তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সে সময় তার সঙ্গে থাকা আরও অন্তত ১১ জনের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এর আগেই সোমবার রাতে দুই সাবেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে সরকারি চিকিৎসক ও সিভিল সার্জনের পরামর্শক্রমেই তাকে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বাইরে নেওয়া হয়। তাৎক্ষণিকভাবে কথা বলার মতো শারীরিক সামর্থ্য তার ছিল না এবং বর্তমানেও তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘সুস্থ হয়ে আমি আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করব, ইনশা আল্লাহ।’

তিনি আরও জানান, কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি চুয়েটে আসেননি; রাষ্ট্রের অর্পিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখাই তার মূল ব্রত।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় পা দিয়ে শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত না করে। তাদের নিজের অ্যালামনাই অনুজ হিসেবে উল্লেখ করে কালবিলম্ব না করে শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে তথ্য যাচাই-বাছাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য অন্তর্ভুক্তি এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতি অনুসরণের অনুরোধ জানিয়ে প্রচারিত ভুল সংবাদ সংশোধনের তাগিদ দেন উপাচার্য।


নির্বাচিত

সরকারি স্কুলে ভর্তি : প্রথম শ্রেণিতে লটারি, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে লিখিত পরীক্ষা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আসন্ন ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। আর দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শূন্য আসনে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে গতকাল মঙ্গলবার রাতে ‘সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা-২০২৭’ প্রকাশ করা হয়।

প্রকাশিত নীতিমালা অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সারাদেশে সব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন, ফি গ্রহণ এবং ফলাফল প্রক্রিয়াকরণ ও প্রকাশ সবই অনলাইনে সম্পন্ন হবে।

শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষার্থী সংখ্যা ও বয়সসীমা

নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রতি শ্রেণি শাখায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা হবে ৫৫ জন। প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ অনুযায়ী শিক্ষার্থীর বয়স ৬+ বছর ধরা হলেও আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে সর্বনিম্ন ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত বয়সের শিক্ষার্থীরা আবেদনের সুযোগ পাবে। বয়স প্রমাণের জন্য অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে। আর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের বয়স নির্ধারণে সর্বোচ্চ ৫ বছরের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া যাবে।

ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি ও মানবণ্টন

নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ৫টি বিদ্যালয়ে পছন্দক্রম দিতে পারবে। তবে ডাবল শিফট স্কুলে উভয় শিফট পছন্দ করলে ২টি বিদ্যালয় পছন্দক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলে গণ্য হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কেন্দ্রীয়ভাবে লটারির আয়োজন করবে। লটারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শূন্য আসনে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাক্রম অনুসারে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী বাছাই করতে হবে। লিখিত পরীক্ষার জন্য দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পূর্ণমান ৫০ (বাংলা-১৫, ইংরেজি-১৫, গণিত-২০, সময় ১ ঘণ্টা)। আর ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পূর্ণমান ১০০ (বাংলা-৩০, ইংরেজি-৩০, গণিত-৪০, সময় ২ ঘণ্টা)। প্রশ্নপত্র জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পাঠ্যবই থেকে তৈরি করা হবে এবং প্রশ্নপত্র অবশ্যই মানসম্মত ও শ্রেণি উপযোগী হতে হবে।

আবেদন ফি ও সেশন চার্জ

নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে আবেদনের ফরমের জন্য সর্বোচ্চ ১১০ টাকা এবং দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে আবেদনের জন্য সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা নেওয়া যাবে। সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে নির্ধারণ করতে হবে।

আসন সংরক্ষণ ও কোটা ব্যবস্থা

নীতিমালায় আসন সংরক্ষণ ও কোটা ব্যবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরীর সরকারি বিদ্যালয়ের আওতাধীন এলাকার (ক্যাচমেন্ট এরিয়া) শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। অবশিষ্ট ৬০ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে মোট আসনের ১০ শতাংশ স্বতন্ত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র ও কন্যাদের জন্য ৫ শতাংশ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ২ শতাংশ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অধীনস্থ দপ্তরের সন্তানদের জন্য মোট ২ শতাংশ, সহোদর বা সহোদরা শিক্ষার্থীদের জন্য ৩ শতাংশ এবং যমজ ভাই-বোনের জন্য ২ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলিজনিত কারণে সন্তানদের ভর্তির জন্য প্রতি শাখায় ৫ শতাংশ অতিরিক্ত আসন সংরক্ষিত থাকবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরী, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৃথক ভর্তি কমিটি গঠন করে পুরো ভর্তি প্রক্রিয়া তদারকি করা হবে। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

চুয়েটে নিজ কার্যালয়ে ২২ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ উপাচার্য, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ভবন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে নিজ কার্যালয়ে টানা ২২ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। এর মধ্যে প্রশাসনিক ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় উপাচার্যসহ ভেতরে আটকে থাকা শিক্ষক ও কর্মকর্তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত 'কমপ্লিট শাটডাউন' কর্মসূচি পুরোদমে অব্যাহত ছিল।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নবনিযুক্ত উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি তোলেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। দাবির পক্ষে অনড় থেকে তাঁরা রাতভর প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেন, যা মঙ্গলবার সকালেও চলমান ছিল। এই অচলাবস্থার মধ্যে দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ভবনের ভেতরে অবস্থানরত ব্যক্তিরা অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর পাওয়া যায়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক মো. আবদুল্লাহ গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। তিনি সেখানে অবস্থানরত প্রকৌশলী শাহরিয়ারের রক্তচাপ পরীক্ষা করে তা উচ্চমাত্রায় (১৭০/১০০ মিলিমিটার পারদ) পান এবং জরুরি চিকিৎসার জন্য তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের সুপারিশ করেন। এছাড়া সেখানে আরও একজন সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে চিকিৎসাসূত্রে জানা গেছে।

নিজের ও সঙ্গীদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানান, তিনি নিজে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেও দীর্ঘ সময় রুদ্ধদ্বার পরিবেশে থাকায় সঙ্গে থাকা দুজন অ্যালামনাই সদস্য উচ্চ রক্তচাপজনিত জটিলতায় ভুগছেন। এ কারণে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসকের সহায়তা চেয়েছেন এবং দীর্ঘক্ষণ অভুক্ত ও অবরুদ্ধ থাকায় ভেতরে অবস্থানরত অন্যরা চরম ক্লান্তি ও অসুস্থতা অনুভব করছেন।

উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। তবে পূর্ববর্তী উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদ এবং তাঁকে স্বপদে বহালের দাবিতে ২২ সেপ্টেম্বর থেকেই সর্বাত্মক আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকেও ধারাবাহিক কর্মবিরতি পালন করায় টানা প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ক্লাস, পরীক্ষাসহ সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণ অচল হয়ে রয়েছে।


নির্বাচিত

শাটডাউনের মধ্যে তালা ভেঙে চুয়েট উপাচার্যের দপ্তরে প্রবেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:২৩
অনলাইন ডেস্ক

শিক্ষার্থীদের ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির মধ্যেই ভবনের ফটকের তালা ভেঙে নিজের কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। সোমবার সকাল ৯টার দিকে তিনি একটি মাইক্রোবাসযোগে ক্যাম্পাসে পৌঁছান। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে নিজের পরিচয় কেবল ‘শিক্ষক’ হিসেবে উল্লেখ করে ভেতরে ঢোকার পর শাখা ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে আসন গ্রহণ করেন তিনি।

সকালে উপাচার্য ভবনে গিয়ে দেখা যায়, অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম উপাচার্যের নির্ধারিত কক্ষে অবস্থান করছেন। এ সময় তাঁর কক্ষে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত এবং সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন উপস্থিত ছিলেন। পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়ে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত বলেন, ‘আমরা একসাথেই ভেতরে প্রবেশ করেছি।’

অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম মূলত খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক। গত ২১ সেপ্টেম্বর পূর্ববর্তী উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে তাঁকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। তবে এই পরিবর্তনের প্রতিবাদে এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে পরদিন থেকেই সাধারণ শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করে উপাচার্য ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। একই দাবিতে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও পূর্ণ কর্মবিরতি পালন শুরু করায় গত ২০ দিন ধরে চুয়েটের সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। চতুর্মুখী বিক্ষোভের মুখে এতদিন ক্যাম্পাসে সশরীরে প্রবেশ করতে না পারলেও গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে যোগদানপত্র পাঠিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন নতুন এই উপাচার্য।


নির্বাচিত

banner close