বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি চলমান থাকবে কি থাকবে না, এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ এবং বুয়েট শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে খোলা চিঠি লিখেছেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার এই খোলা চিঠি প্রকাশ করা হয়েছে।
খোলা চিঠি
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আমরা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমানে স্নাতক পর্যায়ে অধ্যয়নরত পাঁচ হাজারেরও অধিক শিক্ষার্থী আপনার প্রতি যথাযথ সম্মান ও শ্রদ্ধা রেখে সবিনয়ে আমাদের দু-চারটি কথা এবং আর্জি আপনার কাছে নিবেদন করছি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি আমাদের স্বপ্নসারথি, বঙ্গবন্ধুর দর্শন অনুসরণ করে আপনি দৃঢ় পায়ে এগিয়ে চলেছেন। আপনি দেশকে জ্ঞানে-বিজ্ঞানে এগিয়ে যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে নিরলস শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন, সেই একই স্বপ্ন বুকে ধারণ করে নিজেদের শ্রম-মেধা-মনন কাজে লাগিয়ে নিরঙ্কুশ অধ্যবসায়ের পর আপনার গর্বের এই দেশসেরা প্রতিষ্ঠানে আমরা পড়ার সুযোগ করে নিয়েছি।
আমরা করোনার সেই বিপদ মুহূর্তে বানিয়েছি লো কষ্ট ভ্যান্টিলেটর, ক্লিন সিটির আশায় পরিত্যক্ত মাস্ক থেকে বানাচ্ছি কনক্রিট, আরও খুঁজছি বিদ্যুতের সহজ উপায়, বানাচ্ছি আর্টিফিশিয়াল আর্মস, সার্জিক্যাল টুলস, পদ্মা সেতু নির্মাণে আমাদের শিক্ষক এবং সাবেক শিক্ষার্থীদের অবদান অনবদ্য।
শুধু দেশেই না, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অন্য দেশের দলগুলো- যাদের জন্য বরাদ্দ থাকে আমাদের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অর্থ এবং গবেষণাগারের সুবিধা- তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমরা ছিনিয়ে আনছি বিজয়। আপনি নিঃশর্তভাবে আমাদের অর্থ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন এসব গবেষণা খাতে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি আমাদের অভিভাবক। আমরা নিজেদের মেধা ও শ্রমের সবটুকু দিয়ে বিজ্ঞানের অবাক করা দুনিয়ার একটা অংশের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে দেখতে চাই। আমরা ত্রাসের রাজনীতির মারপ্যাঁচ বুঝি না। আমরা শুধু দেশকে, দেশের মানুষকে ভালোবাসতে জানি। নিজেদের কাজ দিয়ে তা আমরা প্রমাণ করতে বদ্ধপরিকর।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি মানবকল্যাণব্রতী। আপনি আমাদের সবার অভিভাবক, দেশের অভিভাবক। আমরা জানি দেশের কোথাও কোনো দুঃখজনক পরিস্থিতি চললে, দেশের কোথাও সংকট চললে, আপনার হৃদয়ে গভীর রক্তক্ষরণ হয়।
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, আশির দশকে স্বৈরাচার পতন আন্দোলনে এ দেশের আপামর জনগোষ্ঠীর মধ্যে জনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অথচ বিগত বছরগুলোতে আমরা বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির নামে ক্ষমতার নেতিবাচক দিকগুলোই প্রত্যক্ষ করেছি। ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমেই শিক্ষার্থীদের মাঝে সূচনা ঘটেছে আধিপত্য, দাপট, র্যাগিং, শিক্ষকদের অপমান, চাঁদাবাজি, শিক্ষার্থী নিপীড়ন, খুনোখুনিতে মেতে ওঠার মতো ঘটনা এবং এর ব্যাপ্তি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, এর চরমতম মূল্য হিসেবে আমরা আমাদের কেমিকৌশল ৯৯-এর সাবেকুন্নাহার সনি আপু, যন্ত্রকৌশল ০৯-এর আরিফ রায়হান দ্বীপ ভাই এবং সর্বশেষ তড়িৎকৌশল ১৭-এর আবরার ফাহাদ ভাইকে হারিয়েছি।
শুধু আবরার ফাহাদ ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডই নয়, এর আগেও অসংখ্য শিক্ষার্থীকে র্যাগিংয়ের দ্বারা কিংবা ছাত্ররাজনৈতিক দাপটের দ্বারা অমানুষিকভাবে নিপীড়িত হওয়ার ঘটনা রয়েছে, যা আমাদের বুয়েটের র্যাগিং স্টোরি আর্কাইভে সারি সারি আকারে লিপিবদ্ধ আছে।
বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার শাহরিয়ারকে স্ট্যাম্প দিয়ে রাতভর বেধড়ক মারধর করা হয়। ১৭ ব্যাচের মেহজাদ গালিবকে নগ্ন করে সোহরাওয়ার্দী হলের ছাদে তুলে স্ট্যাম্প দিয়ে সারারাত মারা হয়। ১৫ ব্যাচের সামিউত তৌসিফকে মেরে হাত-পা ভেঙে দেয়। মারতে মারতে তিনটা স্ট্যাম্প ভেঙে ফেলা হয়। সামিউত তৌসিফ ছিলেন এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান, তার চাচা ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে শহীদ। তার লিগামেন্ট ছিঁড়ে পায়ে ফ্র্যাকচার হয়ে যায়।
সালাম না দেওয়ায় সাখাওয়াত অভির হাত ভেঙে ফেলে আবরার ফাহাদের হত্যাকারী অমিত সাহা। সৌমিত্র লাহিড়ী থাপ্পড় দিয়ে কানের পর্দা ফাটিয়ে ফেলে একজনের। এ রকম আছে আরও অসংখ্য কাহিনি।
দাপটের আড়ালে ছাত্ররাজনীতি আমাদের ক্যাম্পাসে উন্মুক্তভাবে বিচরণের অধিকার, ক্যাম্পাসের সুস্থ একাডেমিক পরিবেশ, আমাদের স্বাধীনতা, হলের মেসের টাকার সৎ ব্যবহার, ক্যাম্পাস মাদকমুক্ত থাকা, নবীন আগত বুয়েটিয়ানদের একটি সুন্দর বিশ্ববিদ্যালয় জীবন উপভোগের অধিকার-সবকিছুই হারিয়ে গিয়েছিল। ছাত্ররাজনীতিবিহীন বুয়েটের পরিবেশ ছিল সর্বোচ্চ নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব। মৌলবাদী শক্তিকেও রুখে দিতে আমরা ঐক্যবদ্ধ।
বুয়েট শিক্ষার্থীরা বরাবরই একটি নিরাপদ এবং সুস্থ ক্যাম্পাস চেয়ে এসেছে, যেখানে ক্ষমতা-চর্চার লোভ-লালসার শিকলে আবারও জিম্মি হয়ে যাবে না সবার নিরাপত্তা, শিক্ষাঙ্গনের উপযুক্ত পরিবেশ।
সুস্থ নেতৃত্ব এবং নৈতিকতা বিকাশের সব উপাদান ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির উপস্থিতি ছাড়াও গত কয়েক বছরে উপস্থিত ছিল এবং এতে সুস্থ নেতৃত্বের চর্চায় শিক্ষার্থীরা তাদের উপযুক্ত পরিবেশ পেয়েছে।
প্রতিটি ডিপার্টমেন্টের বার্ষিক উৎসব আয়োজন, প্রতিটি ডিপার্টেমেন্টের নিজস্ব সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং একাডেমিক অর্গানাইজেশন, সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ, বিভিন্ন ক্লাবের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে আনন্দের সঙ্গে সম্পন্ন হচ্ছে।
আবাসিক হল এবং ক্যাম্পাসে কোনো প্রকার রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং ক্ষমতা-চর্চা ছাড়াই বিভিন্ন জাতীয় দিবসে সভা-সেমিনার আয়োজন, জাতীয় সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্জনসহ ক্যাম্পাসের ভেতরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সফলভাবেই আয়োজিত হয়েছে।
বর্তমান বুয়েটে শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ থাকায় নিজ নিজ প্রকৌশল ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণামুখী কাজে মনোনিবেশ করতে অনুপ্রাণিত হওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
একটি রাজনীতিবিহীন নিরাপদ ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য দেশব্যাপী জনগণের কাছে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত এবং সমাদৃত হয়েছে। রাজনীতিমুক্ত বুয়েট ক্যাম্পাসের গত চার বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের এসব সফলতা আমাদের জানান দেয়, আমরা আমাদের বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি ছাড়াও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য যে প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন নেতৃত্ব গঠন এবং বিকাশ প্রয়োজন, তা করতে পারি। স্মার্ট বাংলাদেশ এর লক্ষ্য অর্জনে আমরা নিরন্তর কাজ করে যেতে পারি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি জেনে খুশি হবেন যে বাকি সব প্রকৌশল-প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বুয়েটেও থিসিসের জন্য রিসার্চ টাস্ক চতুর্থ বর্ষে আবশ্যক হলেও আমাদের প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা আগে থেকে বিভিন্ন রিসার্চ প্রজেক্টে নিজ ইচ্ছায় অংশগ্রহণ করছে।
এ ছাড়া, দেশে-বিদেশে বিভিন্ন প্রকৌশল প্রতিযোগিতায়, বিতর্ক প্রতিযোগিতায়, কুইজ প্রতিযোগিতায়, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বুয়েটিয়ানদের সাফল্য গত সাড়ে চার বছরে সুস্পষ্টভাবে বেড়েছে।
আপনি জেনে আরও খুশি হবেন যে, তথ্য-প্রযুক্তিতে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি-আন্তর্জাতিক কম্পিউটার প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় আমাদের অর্জন স্বর্ণপদক। ইয়ং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সাইন্টিস্ট অ্যাওয়ার্ডের মতো বিশ্ব সমাদৃত অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে বুয়েটের ছয়জন এবং শুধু গত বছরেই চার শিক্ষার্থী।
জন হপকিন্স রাইস ইউনিভার্সিটির মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের হেলথকেয়ার চ্যালেঞ্জে আমাদের উপস্থিতি এবং পুরস্কার প্রাপ্তি এখন নিয়মিত। থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়ার আইইইই কম্পিটিশনে আমাদের বুয়েটিয়ানদের বানানো ড্রোন একের পর এক পুরস্কার জিতেছে। মার্স রোভার চ্যালেঞ্জেও আমাদের দলের সাফল্য নিয়মিত। শুধু প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নয়, সর্বশেষ বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্রান্টে উদ্যোক্তা হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে বুয়েটের এক স্টার্টআপ।
একইসঙ্গে সিনিয়র-জুনিয়র কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামিয়েছে বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং ফেস্ট, ডিপার্টমেন্টাল ডে- যেখানে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা আমাদের সহপাঠীরাও যথেষ্ট খুশি হয়েছে আমাদের আয়োজনে।
এ আয়োজন ও অংশগ্রহণ সম্ভব হয়েছে শুধু একটি নিরাপদ ছাত্ররাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসের কারণে। যেখানে হল রেসিডেন্ট কোনো শিক্ষার্থীকে চিন্তায় থাকতে হয়নি যে হলে তাকে র্যাগের সম্মুখীন হতে হবে বা এটাচড কোনো শিক্ষার্থীরও উদ্বেগ ছিল না যে ক্যাম্পাসে আসলে তাকে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সম্মুখীন হতে হবে।
ছাত্ররাজনীতি বন্ধ হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিটি জাতীয় দিবস সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনপূর্বক আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করে আসছি। আমরা শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের জাতীয় মূল্যবোধ ও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মনে-প্রাণে ধারণ করি।
দেশের গৌরবময় ইতিহাস, ত্যাগ-তিতিক্ষা আমরা অন্তরে লালন করি, ভবিষ্যতে পথচলায় অনুপ্রেরণা নেই। আমরা বিশ্বাস করি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতীয় মূল্যবোধ, দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ আমাদের সবার জন্যই প্রযোজ্য এবং একান্ত পালনীয়। আমরা সাংগঠনিক রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে এসেই এই সচেতনতা রাখি।
অথচ, অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে কতিপয় ব্যক্তি বা গণমাধ্যমের তৎপরতায় ছাত্ররাজনীতিবিহীন বুয়েট ক্যাম্পাসকে জাতীয় চেতনার বিরোধী মতাদর্শের স্থান হিসেবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিষয়টিতে আমরা অত্যন্ত ব্যথিত।
আমরা বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে দেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইনের ব্যাপারে যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল। তাই দেশের যেকোনো স্থানের মতো আমাদের ক্যাম্পাসকে আমরা অবশ্যই যেকোনো প্রকারের সন্ত্রাস, মৌলবাদ বা নিষিদ্ধ গোষ্ঠী থেকে নিরাপদ রাখতে সর্বদা তৎপর।
সাম্প্রতিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অনেক মহল থেকেই বলা হচ্ছে, ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ মৌলবাদী বা সন্ত্রাসী সংগঠনের কার্যক্রম বিদ্যমান এবং এর ফলশ্রুতিতেই তারা বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির চর্চার পক্ষে যুক্তি দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা আপনাকে নির্দ্বিধায় বলতে চাই, আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা যদি যেকোনো মুহূর্তে এসব নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর যেকোনো কার্যকলাপ ক্যাম্পাসে চলমান দেখি, শিগগির তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেব এবং প্রশাসনকে অবহিত করব।
এমনকি ভবিষ্যতে যদি ক্যাম্পাসে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সেটার বিরুদ্ধেও আমাদের অবস্থান দৃঢ়।
বুয়েট ক্যাম্পাসে এই চার বছর আমরা নির্বিঘ্নে কাটিয়েছি, সেখানে ছায়া হয়ে ছিলেন আমাদের শিক্ষকরা। আমাদের মতো দেশজুড়ে লাখো শিক্ষার্থী এমন একটা ক্যাম্পাসের স্বপ্ন নিয়েই বাড়ি ছাড়ে, যেখানে তাদের ওপর অকারণে জুলুম হবে না, নির্যাতিত হতে হবে না, দিন-রাত কারও ভয়ে তটস্থ থাকতে হবে না, বাবা-মাকে দুশ্চিন্তায় চোখের পানি ফেলতে হবে না।
চার বছর আগে আপনার দৃঢ় এবং দ্রুত হস্তক্ষেপে আমরা নতুন করে এই ক্যাম্পাসে বাঁচতে শিখেছি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এই ছোট্ট একটা চাওয়ার কারণে আমরা প্রতিনিয়ত পাচ্ছি হুমকি, হচ্ছি লাঞ্ছিত, অপদস্থ।
আমরা, আমাদের ছোট ভাই-বোনেরা আরও একবার সেই অন্ধকার দিনগুলোর সাক্ষী হতে চাই না। মাননীয় উপাচার্য এবং সব শিক্ষকের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। আমরা জানি তারা তাদের সন্তানদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় সর্বদা সচেষ্ট আছেন এবং থাকবেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার কাছে সবিনয়ে অনুরোধ, আপনি আমাদের পাশে দাঁড়ান। আপনি সব সময় শিক্ষার্থীদের পাশে থেকেছেন। আমরা জানি, এই দুর্দিনে আপনি আমাদের ছেড়ে যাবেন না।
আমাদের স্বনামধন্য অ্যালামনাই, বুয়েটের অধ্যাপক ইমেরিটাস, প্রফেসর ড. আইনুন নিশাত বলেছেন যে, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নতুন অধ্যাদেশ করে শিক্ষকদের রাজনীতি, রাজনৈতিক কার্যকলাপ ইত্যাদির অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটের জন্য অধ্যাদেশের খসড়া যখন বঙ্গবন্ধুর সামনে উপস্থাপন করা হয়, তখন তিনি বলেছিলেন যে এই দুটো বিশ্ববিদ্যালয় নষ্ট করা চলবে না। খসড়া অর্ডিন্যান্স বঙ্গবন্ধু ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। বুয়েটের শিক্ষকরা তার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেছিলেন। এই এজেন্ডাতে তিনি দেখা করতে রাজি হননি। তখন শিক্ষকরা কথা বলতেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ইউসুফ আলীর সঙ্গে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বুয়েটের পড়াশোনার পরিবেশের গুরুত্ব, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বুয়েটের প্রকৌশলী এবং দক্ষ প্রযুক্তিবিদের গুরুত্ব বঙ্গবন্ধুর চিন্তায় প্রাধান্য পেয়েছে সবসময়। আপনারা সবাই জানেন, দেশের জন্য এই সময়ে মেধাবী ও দক্ষ প্রকৌশলীর গুরুত্ব কতটা।
আমরা উন্নত বিশ্বের দিকে তাকিয়ে দেখি, তারা তাদের জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রসার, কাঠামোগত উন্নয়নকে নিরবচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে বিশেষভাবে তাদের প্রকৌশলীদের সমৃদ্ধ করার ব্যবস্থা করছে। কিন্তু বলতে ভীষণ কষ্ট হয়, অনেক কষ্টে পাওয়া সেই আকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ প্রকৌশলীরা আজ ছাত্ররাজনীতির করাল গ্রাসের থাবা থেকে নিজেকে রক্ষার যুদ্ধ করতে করতে জর্জরিত।
এই বিদ্যাপীঠে ঠিকমতো রুটিনমাফিক পড়াশোনা ও গবেষণায় মনোনিবেশ করার পর কোনো শিক্ষার্থীর পক্ষে রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সময় দেওয়া সম্ভব নয়। অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বলছি, বঙ্গবন্ধুর ভালবাসার মাটিতে দাঁড়িয়ে আজ এই ভবিষ্যৎ প্রকৌশলীদের দিনের পর দিন রাস্তায় থাকার কথা নয়।
আমাদের চাওয়া, বুয়েটকে ঘিরে আমাদের জাতির জনকের যে ভিশন ছিল, তাকে বাস্তবায়ন করা হোক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বুঝতে পেরেছিলেন যে বুয়েটের প্রকৃতি ভিন্ন। তাই তিনি নিজে রাজনীতির আওতা থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে বাইরে রেখেছিলেন। আজ যখন তারই গড়ে তোলা রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা বুয়েটের মতো বিশেষায়িত একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে যেকোনো মূল্যে রাজনীতির আওতায় আনার কথা বলে, আমরা বিশ্বাস করি তখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও সিদ্ধান্তকে অপমান করা হয়।
দেশমাতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার প্রতি আমাদের আকুল আবেদন, বুয়েটকে নিয়ে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, যে পলিসি গ্রহণ করেছিলেন, তার বাস্তবায়ন করুন। বুয়েটকে ছাত্র রাজনীতির বাইরে রাখুন, প্রয়োজনে আইন সংস্কার করে হলেও। কারণ সুবিচারের জন্যই আইনের সৃষ্টি।
আমাদের অনুরোধ, আপনি দয়া করে আমাদের ক্যাম্পাসে আসুন। ছাত্ররাজনীতিহীন বুয়েট গত কয়েক বছর ধরে শিক্ষার্থীদের জন্য যে আদর্শ ক্যাম্পাস হয়ে উঠেছে, সেটা আমরা আপনাকে দেখাতে চাই। আমরা আপনাকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমরা প্রযুক্তিবিদ্যায় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পেছনে ফেলে দেব খুব শিগগির।
আহসান উল্লাহ হল আয়োজিত নবীনবরণ ও সমাপনী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য মহোদয় বলেছিলেন, ‘ছাত্ররাজনীতিবিহীন ক্যাম্পাসে আমরা ভালো আছি, সৃজনশীল কাজ করছি, আমরা র্যাঙ্কিংয়ে ফোকাস করছি।
সেই অনুষ্ঠানে স্যার আরও বলেন, ‘ইউনিভার্সিটি শুড গো হায়ার। আমি ইন্টারভিউ দিয়েছি প্রথম আলোতে, আমরা কিছু পলিসি রোল আউট করেছি। যদি পলিসিগুলো বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ডাউন দ্য রোড মেবি উইদিন ফাইভ-সিক্স ইয়ার্স, তোমরা এই বুয়েটের র্যাঙ্কিং ৫০-এর মধ্যে দেখতে পারবা।’
শেষ কয়েক বছর এই প্রত্যয় নিয়েই প্রতিটি প্রকৌশল বিভাগে আমরা অক্লান্ত পরিশ্রম করছি, ইতোমধ্যে যার ফলও পেতে শুরু করেছি। আমাদের এই পথচলা আপনিই নির্বিঘ্ন রাখতে পারেন। সেই আশাতেই এই চিঠি। আমরা আপনার হাজারো সন্তান-আপনার সহযোগিতার প্রতীক্ষায় আছি।
নিবেদক
বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা
দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব এবং জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধ রাখা বা অনলাইন ক্লাসে যাওয়ার বিষয়ে এই মুহূর্তে সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে সাফ জানিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ স্পষ্ট করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় অনলাইন ক্লাসের পথে হাঁটবে না, বরং সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার পক্ষেই অবস্থান করছে। স্কুল বন্ধের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি এবং শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতেই মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও শিক্ষা কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী জুন-জুলাই মাস নাগাদ শিক্ষা ক্ষেত্রে বেশ কিছু নতুন ও যুগোপকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে সরকার। মূলত সেই নতুন পদক্ষেপগুলোর মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি এবং বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা যাচাই করতেই এই ঝটিকা পরিদর্শনে নেমেছেন তিনি।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক, অভিভাবক এবং ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ‘মিড ডে মিল’ বা দুপুরের খাবার কর্মসূচি এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যগত উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়ন এবং আধুনিকায়নের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার প্রতিটি বিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো সংস্কারের ওপর জোর দিচ্ছে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এর জন্য সরাসরি ক্লাস বন্ধ করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়।
প্রতিমন্ত্রী শিক্ষকদের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়েও পাঠ দেওয়া হয়। জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষা কার্যক্রমে যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে।
গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, ‘প্রাথমিক স্তরের শিশুদের জন্য অনলাইন ক্লাস খুব একটা ফলপ্রসূ হয় না, তাই মন্ত্রণালয় সশরীরে উপস্থিত থেকে পাঠদানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। অভিভাবকদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘শিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ বিবেচনায় রয়েছে এবং পরিস্থিতির অবনতি হলে বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আপাতত নিয়মিত স্কুল চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নতুন শিক্ষাক্রম ও উন্নয়ন প্রকল্পের কাজগুলো এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের এই নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার মাঠপর্যায়ের চিত্র সরাসরি সরকারের উচ্চপর্যায়ে প্রতিফলিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান সুদৃঢ় করতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। গত ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল এই আগ্রহের কথা জানায়।
ইউজিসি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বসের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। বৈঠকে স্টিফেন ফোর্বস বলেন, ‘বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিকীকরণ, শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, একাডেমিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ এবং বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ স্থাপনে ব্রিটিশ কাউন্সিল সহযোগিতা করতে আগ্রহী। পাশাপাশি গবেষণা সহযোগিতা, ট্রান্সন্যাশনাল এডুকেশন নীতিমালা প্রণয়ন এবং ইংরেজি ভাষা শিক্ষার উন্নয়নেও সহায়তা দেওয়া হবে।’
প্রতিনিধিদল জানায়, দেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের পেশাগত মানোন্নয়নে প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। বর্তমানে ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন’ (হিট) প্রকল্পের আওতায় প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই কার্যক্রমকে আরও টেকসই করতে তারা ‘মাস্টার ট্রেইনার’ তৈরির ক্ষেত্রেও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
সহযোগিতার এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, ‘দেশের উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে এবং গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে ইউজিসি কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মানের গ্রাজুয়েট তৈরি এবং শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ৫০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে, যাদের প্রত্যাশা পূরণ ইউজিসির অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে।
অধ্যাপক মামুন আহমেদ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পাঠ্যক্রমে সততা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে নিয়মিত কর্মশালা ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। এ ছাড়াও শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান উপযোগী করতে তাদের ‘সফট স্কিল’ উন্নয়নে ইউজিসি বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সাক্ষাৎকার শেষে ইউজিসি চেয়ারম্যান যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথ গবেষণা পরিচালনা, উদ্ভাবনী ধারণা বিনিময় এবং ভিজিটিং প্রফেসর নিয়োগের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক একাডেমিক সহযোগিতা জোরদার করার আহ্বান জানান। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করছে উভয় পক্ষ।
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাবনা দিয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। আজ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিকে সংগীত শিক্ষক নিয়োগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে প্রস্তাব দিয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সংগীত শিক্ষক নির্বাচিত করবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে, আর বেতন-ভাতা দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।’
গত বছরের ২৮ আগস্ট ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’-এর একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। এতে অন্যান্য বিষয়বস্তুর পাশাপাশি সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছিল। তবে বিভিন্ন পক্ষের দাবির প্রেক্ষিতে নভেম্বরে আরেকটি গেজেটে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ বাদ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান পদ্ধতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। ইতোমধ্যে স্কুলগুলোতে অনলাইন ও সশরীরে সরাসরি উপস্থিতির সমন্বয়ে একটি ‘হাইব্রিড’ বা মিশ্র পদ্ধতির ক্লাস ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে স্কুলপর্যায়ে অনলাইন-সশরীরে এই দুই ব্যবস্থার সমন্বয়ে ক্লাস চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে। আগামী বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
এর আগে গতকাল শিক্ষা খাতকে ‘ইবাদতখানা’ হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে সৃষ্ট প্রতিটি ভালো ফল সদকায়ে জারিয়ার অন্তর্ভুক্ত, যা শিক্ষককে দীর্ঘ মেয়াদে উপকৃত করে। শিক্ষকদের এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান মন্ত্রী।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশ গঠনের যে আহ্বান জানানো হয়েছে, তা কোনো ব্যক্তি বা সরকারের একক এজেন্ডা নয়; বরং এটি একটি জাতীয় অঙ্গীকার। এই লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষকদের ভূমিকা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষা শেষ করলেও শিক্ষা বোর্ডগুলো এই দুটি পাবলিক পরীক্ষা সেই বছরের ডিসেম্বরে না নিয়ে পরবর্তী বছরের এপ্রিল ও জুনে নিয়ে থাকে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, যা জাতীয় পর্যায়ে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ।
ইডেন মহিলা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদান পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। সোমবার সন্ধ্যায় এসব তথ্য জানিয়েছেন ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক হোসনে আরা পারভীন। তিনি বলেন, ‘আমাদের কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় কখনো বন্ধ হয়নি। বেশ কয়েক বছর আগে এটি স্থগিত করা হয়েছিল। তা পুনরায় চালু করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করেছিলাম।’
অধ্যক্ষ আরও বলেন, ‘এর পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি পেয়েছি। সেখানে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠদান কখন ও কেন বন্ধ হয়েছিল এবং বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদান পুনরায় চালু করা হলে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন হবে কিনা তা জানতে চাওয়া হয়েছে।’
কলেজটির স্থগিত থাকা উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠদান চালু করতে অতিরিক্ত কোনো খরচ হবে না বলেও মনে করছেন অধ্যাপক হোসনে আরা পারভীন।
এই অধ্যাপকের ভাষ্য, ‘উচ্চ মাধ্যমিকের ক্লাস নতুন করে শুরু করতে কোনো খরচ হওয়ার কথা না। আর কবে থেকে ইডেন মহিলা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠদান স্থগিত আছে সে তথ্যটিও আমরা বোর্ডের (ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড) কাছ থেকে সংগ্রহ করব।’
এসব তথ্য সংগ্রহ করে তা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রস্তাব আকারে মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা বিভাগে পাঠানো হবে বলেও জানান অধ্যক্ষ।
গত ২৫ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ শাখা থেকে ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষকে চিঠি পাঠানো হয়। ইডেন মহিলা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদান কার্যক্রম পুনরায় চালু করার অনুমতি চেয়ে গত ৩ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন অধ্যক্ষ।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আগামী ৭ জুন থেকে শুরু করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বোর্ড চেয়ারম্যানদের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তার অনুমতি পেলে আনুষ্ঠানিকভাবে সময়সূচী বা রুটিন প্রকাশ করা হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বোর্ড চেয়ারম্যান জানান, এইচএসসি পরীক্ষার সময় ঘনিয়ে আসায় তারিখ নির্ধারণের জন্য এই জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত সকল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা ৭ জুন থেকে পরীক্ষা আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছেন। গতকাল সংসদ অধিবেশন চলায় শিক্ষামন্ত্রী সভায় উপস্থিত ছিলেন না, তাই তার দপ্তরের চূড়ান্ত সই বা অনুমোদনের পর এটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।
রমজান ও ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি শেষে রোববার (২৯ মার্চ) থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে। প্রায় এক মাসের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আবারও শ্রেণিকক্ষে ফিরবে শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী, পবিত্র রমজান, ঈদুল ফিতর ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি একত্রে সমন্বয় করে কলেজগুলোতে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা ছুটি শুরু হয়। এ ছুটি ২৫ মার্চ পর্যন্ত চলার পর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের সরকারি ছুটি এবং পরবর্তী সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে বিরতি আরও দীর্ঘ হয়। ফলে আগামীকাল ২৯ মার্চ থেকে পুনরায় ক্লাস শুরু হচ্ছে।
একইভাবে সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতেও ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত মোট ৩৬ দিনের ছুটি ছিল। অন্যদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৮ মার্চ থেকে ছুটি শুরু হয়ে একই দিনে শেষ হচ্ছে। ফলে সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই একযোগে পাঠদান শুরু হতে যাচ্ছে।
এদিকে দীর্ঘ ছুটির কারণে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পুষিয়ে নিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠান খোলার পর টানা ১০টি শনিবারও শ্রেণিকক্ষ কার্যক্রম চালু থাকবে। এতে করে নির্ধারিত পাঠপরিকল্পনা যথাসময়ে শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশের সকল পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নির্দেশনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাঠানোর প্রক্রিয়াটি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইউজিসি কার্যালয়ে আজ (২৫ মার্চ) আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কমিশন এই উদ্যোগের বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমকে অবহিত করেছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষা খাতে ডিজিটাল সেবার বিস্তার ঘটানো, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণায় সহায়ক পরিবেশ তৈরি এবং প্রযুক্তিগত বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যেই ‘ফ্রি ওয়াই-ফাই’ চালুর এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান ড. মামুন আহমেদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, প্রফেসর ড. মোঃ সাইদুর রহমান, প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব এবং প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম, আইসিটি বিভাগের পরিচালক মোঃ ওমর ফারুখ, হিট প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান এবং বিডিরেন-এর সিইও মোহাম্মদ তৌরিতসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া অঞ্চলে আগামী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করবে বাংলাদেশ রিসার্চ এন্ড এডুকেশন নেটওয়ার্ক (বিডিরেন)। প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট কিছু স্থানে এই সেবা শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসহ অন্যান্য শিক্ষা ও গবেষণা অবকাঠামোতেও এই সুবিধা সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী-বান্ধব ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তুলতে ইউজিসি, হিট প্রকল্প এবং বিডিরেন-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এন্ডোভাসকুলার স্ট্রোক ট্রিটমেন্ট (EVT) এবং ক্যারোটিড আর্টারি স্টেন্টিং (CAS) প্রতিষ্ঠার জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর ইন্টারভেনশনাল স্ট্রোক ট্রিটমেন্ট (WIST)-এর যোগ্যতা অর্জন করেছে। ইউনিভার্সিটি অব ডান্ডির ইমেজ গাইডেড থেরাপি রিসার্চ ফ্যাসিলিটি (IGTRF)-এর পরিচালক অধ্যাপক আইরিস কিউ. গ্রুনওয়াল্ড ২০২৬ সালের ১৩ মার্চ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে পাঠানো এক ইমেইলে এ তথ্য জানান। এই স্বীকৃতি যৌথভাবে WIST এবং ইউনিভার্সিটি অব ডান্ডির IGTRF প্রদান করেছে।
এই স্বীকৃতি ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে অধ্যাপক আইরিস কিউ. গ্রুনওয়াল্ড এবং ডা. পল গাইলার কর্তৃক BMU-এর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের ক্যাথ ল্যাব পরিদর্শনের ভিত্তিতে প্রদান করা হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব ডান্ডি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে BMU-এর ৬ জন অংশগ্রহণকারীর জন্য ৯ দিনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। পুরো স্বীকৃতি প্রক্রিয়াটি লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আমিন ইসলাম সমন্বয় করছেন।
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় জরিনা রহিম বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষিকা হাসিনা হোসেনের কম্পিউটার ব্যবহারে অদক্ষতার বিষয়ে তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতিকুজ্জামান এই তদন্ত করেন। পরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে তদন্ত প্রতিবেদন রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের উপপরিচালকের কাছে পাঠান। এ ছাড়া ওই শিক্ষিকার নিয়োগকালীন সময়ের কম্পিউটার সনদ নট্রামসের নয় বলে লিখিতভাবে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে গত ৩১ ডিসেম্বর কম্পিউটার শিক্ষিকা হাসিনা হোসেনের বিষয়ে ‘কম্পিউটার শিক্ষিকা জানেন না কম্পিউটার ব্যবহার’ শিরোনাম একটি গণমাধ্যমে একটি সংবাদ প্রকাশ হলে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আদালতে মানহানি মামলা করেন ওই শিক্ষিকা।’
বিদ্যালয় ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে গত ৩০ ডিসেম্বর তদন্তে আসেন রাজশাহীর আঞ্চলিক উপপরিচালক আব্দুর রশিদ। এ সময় শিক্ষিকা হাসিনা হোসেনের কম্পিউটার ব্যবহারে অদক্ষতার কারণে তিরস্কার করার পাশাপাশি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দেন। সে নির্দেশ মোতাবেক সম্প্রতি তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠান ওই কর্মকর্তা।
সূত্র জানায়, তদন্তে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসিনা হোসেনকে ১৫ মিনিটে ২৬৫ ওয়ার্ডের ইংরেজি শব্দ লেখতে দেন, এরপর বাংলা শব্দ লেখতে দেন, পরে ক্লাস কনটেন্ট তৈরি করে ক্লাস নিতে বলেন। কিন্তু ওই শিক্ষিকা ১৫ মিনিটে ইংরেজিতে ৪০টি ওয়ার্ড লেখতে পারলেও বাংলা লেখা এবং কনটেন্ট তৈরি করে ক্লাস নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তিতে অপারগ বলে স্বীকার করেন এবং এসব বিষয়ে শেখার জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে সময় চান।
এ ছাড়া হাসিনা হোসেনের কম্পিউটার সনদ যাচাই-বাছাই পত্রে নট্রামস (বর্তমানে নেকটার) কর্তৃপক্ষ জানান, হাসিনা হোসেনের কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সনদটি তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া হয়নি। এটি ভাঙ্গুড়া বাজারের শরৎনগর রেইনবো কম্পিউটার সিস্টেম নামে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নামে দেওয়া হয়েছে। অথচ ১৯৯৫ সালের এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী কম্পিউটার শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অবশ্যই নট্রামস অথবা সরকার নির্ধারিত প্রতিষ্ঠান থেকে সনদধারী হতে হবে আবেদকারীকে।
এ বিষয়ে রেইনবো কম্পিউটার সিস্টেমের প্রশিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘হাসিনা হোসেন নট্রামসের সার্টিফিকেটের জন্য প্রশিক্ষণ দেয়নি। তিনি আমার কাছ থেকে সার্টিফিকেট নিয়েছেন। অনেকেই কোম্পানিতে চাকরি করবেন বলে আমার কাছ থেকে সার্টিফিকেট নেন। কিন্তু এটা দিয়ে হাসিনা হোসেন যে শিক্ষকতার চাকরি করবেন সেটা আমার জানা ছিল না। এ সময় হাসিনা হোসেনকে তার কেন্দ্রের দেওয়া সার্টিফিকেটের লিখিত নথি দেখতে চাইলে তিনি কোনো নথি দেখাতে পারেননি।’
এ বিষয়ে হাসিনা হোসেন বলেন, ‘কম্পিউটারের বিষয়ে আমাকে কোনো প্রশ্ন করে বিব্রত করবেন না।’ এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন দপ্তর জানে বলে ফোন কেটে দেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতিকুজ্জামান বলেন, ‘উপপরিচালক স্যারের নির্দেশ মোতাবেক হাসিনা হোসেনের বিষয়ে তদন্ত করা হয়। এতে হাসিনা হোসেনের কম্পিউটার ব্যবহারের বিষয়ে চরম অদক্ষতা পাওয়া যায়। এ বিষয়ে প্রতিবেদন রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।’
রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক আব্দুর রশিদ বলেন, ‘ওই শিক্ষিকার বিষয়ে প্রতিবেদন পেয়েছি। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি উপজেলা শাখার আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) বিকেলে শহরের পালকি কমিউনিটি সেন্টারে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সদস্য, শিক্ষক ও রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ ভূইয়া। তিনি সুন্দর আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে শিক্ষকদের হয়রানি বন্ধ এবং তাদের অধিকার বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি শিক্ষকদের সঠিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফুলবাড়ীয়া পৌর বিএনপির আহ্বায়ক একেএম শমসের আলী, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ডা. আব্দুর রাজ্জাক, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষক পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ, উপজেলা স্কাউটের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নিয়াম উদ্দিন খান, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান, পৌর যুব বিভাগ জামায়াত ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন খান, ফুলবাড়ীয়া কলেজের প্রভাষক মোহাম্মদ আফতাব উদ্দিন, উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সাধারণ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কামাল হোসেন, রূপালী ব্যাংক ফুলবাড়িয়া শাখার ম্যানেজার রেজাউল করিম, সংগঠনটির উপজেলা শাখার নির্বাহী সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান, ছনকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক ও অত্র সংগঠনের উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোতালেব হোসেন।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি উপজেলা শাখার নীতিনির্ধারণী চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম মাসুদ।
এবারের অমর একুশে বইমেলা-তে প্রকাশিত হয়েছে তরুণ লেখক মৌমিতার নতুন বই ‘অপার্থিব’। রহস্যগল্পভিত্তিক এই বইটি প্রকাশ করেছে ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ। বইটি পাওয়া যাচ্ছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শব্দ চাষ প্রকাশ-এর স্টল (নং–৬১৪)-এ।
জানা গেছে, ‘অপার্থিব’ মূলত রহস্যঘেরা কিছু গল্প নিয়ে রচিত, যেখানে বাস্তবতা ও অজানার সীমারেখা মিলেমিশে এক ভিন্ন অনুভূতির জগৎ তৈরি করেছে।
লেখক মৌমিতা বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ-এর চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চায়ও তিনি সমানভাবে সক্রিয়। তার জন্ম নীলফামারী জেলার চড়চড়াবাড়ি গ্রামে।
এবারের বইমেলায় প্রকাশিত ‘অপার্থিব’ মৌমিতার ষষ্ঠ বই। এর আগে বইমেলায় তার প্রকাশিত অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘হরেক রকম ছড়া’, ‘বাংলা মায়ের রূপ’, ‘ভাবনাগুলো ছন্দের তালে’, ‘সোনার চুড়ি’ এবং ‘ছায়াঘর’।
তরুণ বয়সেই ধারাবাহিকভাবে বই প্রকাশের মাধ্যমে সাহিত্য অঙ্গনে নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন মৌমিতা। এবারের বইমেলায় তার নতুন বই ‘অপার্থিব’ পাঠকদের আগ্রহ কাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাতক্ষীরা তালা উপজেলার কুমিরা মহিলা ডিগ্রি কলেজের মেধাবী ছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) প্রশাসনিক ভবনে মেধাবী ছাত্রীদের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান (সাবেক এমপি) এবং শিক্ষকদের নিজস্ব অর্থায়নে গঠিত মেধাবৃত্তি ফান্ড থেকে বৃত্তি প্রদান করা হয়। বৃত্তির প্রদান করেন অত্র কলেজের সম্মানিত অধ্যক্ষ মিসেস লুৎফুনারা জামান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, উপাধ্যক্ষ ঘোষ সরজিৎ কুমার, শিক্ষক প্রতিনিধি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও সকল শিক্ষক ও সাংবাদিকরা। এই মেধাবৃত্তি প্রদান প্রতি বছর চলমান থাকবে।
বৃত্তি প্রাপ্তরা হলেন, তৌফিকা তাসনিম, সুদীপা ঘোষ (বিজ্ঞান বিভাগ), অহনা খাতুন, অঙ্কিতা মণ্ডল (বাংলা বিভাগ), নিসিকা রানী ঘোষ, কাজী তহমিনা, তৃষ্ণা চক্রবর্তী, প্রভা চক্রবর্তী, স্নিগ্ধা খাতুন, সানজিদা পারভীন, প্রেমা ঘোষ, বাকিবা সুলতানা, সাদিয়া খাতুন (মানবিক বিভাগ), সুমাইয়া খাতুন, ঝুম্পা মজুমদার, জাকিয়া সুলতানা, মরিয়ম খাতুন, হোসনেয়ারা খাতুন, সালমা খাতুন (সম্মান)।