সর্বজনীন পেনশনের প্রত্যয় স্কিম থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি বাতিলের দাবিতে সরকারকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন।
আজ সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। এই বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে মানববন্ধন এবং কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি বাতিলের দাবিতে তিনটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রথম কর্মসূচী হলো, আগামী ২৫ মে তারিখের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো ধরনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে ২৬ মে রোববার থেকে সারা দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের শিক্ষকরা একযোগে সকাল সাড়ে ১১ থেকে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবেন। দ্বিতীয় কর্মসূচি, আগামী ২৮শে মে মঙ্গলবার সারা দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালসমূহের শিক্ষকরা একযোগে সকাল ১০টা থেকে ১২ পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করবেন।’
নিজামুল হক ভুঁইয়া বলেন, ‘এই সময়ের মধ্যে দাবি না মানা হলে আমাদের তৃতীয় কর্মসূচি, আগামী ৪ঠা জুন, মঙ্গলবার সারা দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালসমূহের শিক্ষকরা একযোগে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করবেন। তবে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাসমূহ এসব কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।’
এক লিখিত বক্তব্যে থেকে জানা যায়, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার ধারণা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি কল্যাণমুখী চিন্তার ফসল। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি যুগান্তকারী ঘটনা। সর্বজনীন পেনশন স্কিম প্রবর্তনের মাধ্যমে সরকারি চাকরির বাইরে থাকা নাগরিকদের পেনশন স্কিমের আওতায় আনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। কিন্তু সরকারের এমন মহৎ উদ্যোগ যখন প্রশংসিত হচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে শিক্ষকদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা না করে গত ১৩ই মার্চ অর্থমন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া স্বায়ত্তশাসনকে অবজ্ঞার শামিল।
আরও জানা যায়, প্রত্যয় স্কিমে অন্তর্ভুক্তি ১লা জুলাই তারিখের আগে যোগ দেওয়া এবং ১লা জুলাই এবং তার পরে যোগ দেওয়াদের মধ্যে দুটি শ্রেণির জন্ম দেবে। একই কর্মক্ষেত্রে অবস্থানরত সহকর্মীদের মধ্যে এই বিভাজন শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে; এই ব্যবস্থা সরকারি অন্যান্য চাকরিজীবী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্য তৈরি করবে, যা সংবিধানের সমতার নীতির পরিপন্থী। বিদ্যমান পেনশন ব্যবস্থায় পেনশনের ওপর বৎসরিক ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট প্রদান করা হয় কিন্তু সর্বজনীন পেনশন স্কিমে বিষয়টি সুস্পষ্ট নয়; বিদ্যমান ব্যবস্থায় অর্জিত ছুটি নগদায়নের ব্যবস্থা রয়েছে কিন্তু প্রস্তাবিত স্কিমে সে সুবিধা নেই; বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদকাল ৬৫ বছর। প্রত্যয় স্কিমে অবসরকালীন বয়স স্থির করা হয়েছে ৬০ বছর; বিদ্যমান ব্যবস্থায় পেনশনের সাথে মাসিক চিকিৎসাভাতা, বছরে দুটি উৎসবভাতা ও একটি বৈশাখীভাতা প্রদান করা হয়। প্রস্তাবিত স্কিমে বিষয়টি উল্লেখ নেই। বর্তমান ব্যবস্থায় পেনশন বাবদ কোনো অর্থ কর্তন করা হয় না। 'প্রত্যয়' স্কিমে মূল বেতনের ১০ শতাংশ কেটে নেওয়ার বিধান আছে; বিদ্যমান পেনশন ব্যবস্থায় এককালীন আনুতোষিক প্রাপ্য হন। 'প্রত্যয়' স্কিমে আনুতোষিক শূন্য; বিদ্যমান ব্যবস্থায় পেনশনার ও নমিনি আজীবন পেনশন প্রাপ্ত হন কিন্তু 'প্রত্যয়' স্কিমে পেনশনারের মৃত্যু হলে নমিনি পেনশনারের বয়স ৭৫ বছর পূর্তি হওয়া পর্যন্ত পেনশন প্রাপ্ত হবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেদিন সর্বজনীন পেনশন স্কিমের উদ্বোধন করেন সেদিন এই 'প্রত্যয়' স্কিমটি ছিল না। হঠাৎ করেই একটি মহল নিজেদের সুযোগ সুবিধা অক্ষুণ্ণ রেখে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের উপর এ ধরনের একটি বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা চাপিয়ে দিয়েছেন। আমরা আশা করব, অনতিবিলম্বে এই প্রজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান সেশনজটমুক্ত শিক্ষার পরিবেশ অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবেন।
অধ্যাপক নিজামুল হক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বর্তমানে বিদ্যমান পেনশন স্কিমের আওতায় রয়েছেন এবং তা নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে কোনো অসন্তুষ্টি নেই। কী কারণে তাদের নতুন স্কিমের আওতায় আনার প্রয়োজন হলো, তা স্পষ্ট নয়। আমরা মনে করি এই পদক্ষেপ শিক্ষক ও শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি অসম্মান ও অবজ্ঞা প্রদর্শনের জন্য করা হয়েছে। রাষ্ট্রের স্বার্থে কোনো ব্যবস্থার পরিবর্তন করার প্রয়োজন হলে তা সকলের জন্য প্রযোজ্য হওয়া বাঞ্ছনীয়। খণ্ডিতভাবে করায় এই পদক্ষেপটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে আগামী দিনে মেধাবীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতায় আসার আগ্রহ হারাবে।
এর আগে গত ১৩ই মার্চ অর্থমন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে স্ব-শাসিত, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ বা সমজাতীয় সংস্থা বা তাদের অধীন অঙ্গপ্রতিষ্ঠানসমূহকে 'প্রত্যয়' স্কিমের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা চলতি বছরের ১লা জুলাই এবং তার পরবর্তী সময়ে যাঁরা চাকরিতে নতুন যোগদান করবেন তাঁদের জন্য প্রযোজ্য হবে।
সম্মেলনে ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার বলেছেন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমেই সবুজ শিল্পায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে গবেষণা ও উদ্ভাবনের বিকল্প নেই। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ‘দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সম্মেলন : সবুজ শিল্পের জন্য উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, প্রকৌশল ও মৌলিক বিজ্ঞানের সমন্বয় যেখানে ঘটছে, সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গবেষণা উদ্যোগই ভবিষ্যতের টেকসই সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে। এ ধরনের সম্মেলন তরুণ গবেষক, শিক্ষার্থী এবং অভিজ্ঞ বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের মধ্যে জ্ঞান বিনিময় ও আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে।
জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে সি আর আবরার বলেন, সবুজায়নকে কেবল প্রতীকী কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধানের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, দেশে বিজ্ঞানচর্চা ও গবেষণার পরিবেশ জোরদার করতে বিশ্ববিদ্যালয়, সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে গবেষণার ফলাফলকে বৃহৎ পরিসরে প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার এই সময়ে নিজস্ব মেধাস্বত্ব সংরক্ষণে ব্যর্থ হলে আমরা উদ্যোক্তা না হয়ে কেবল ভোক্তায় পরিণত হব। অথচ আমাদের প্রতিভার কোনো ঘাটতি নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। এ সময় আন্দোলনকারীরা ‘বাহ ভিসি চমৎকার, নিয়োগের পাহারাদার’, ‘দালালি আর করিস না, পিঠের চামড়া থাকবে না’, ‘প্রশাসনের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘শিক্ষার নামে-বৈষম্য চলবে না’, ‘শিক্ষার নামে—নিয়োগ চলবে না’, ‘অবিলম্বে প্রশাসনের পদত্যাগ চাই’, ‘কোটা না মেধা-মেধা মেধা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
ওইদিন দুপুর ১ টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটক দিয়ে ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসনিক) অধ্যাপক কামাল উদ্দিন। তবে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের অবস্থানের কারণে সে পথ দিয়ে তিনি প্রবেশ করতে পারেননি। পরে তিনি প্রশাসনিক ভবনের অন্য একটি ফটক দিয়ে প্রবেশ করেন।
জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক কামাল উদ্দিন খান বলেন, ‘আমি প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু আমাকে বাধা দেওয়া হয়।
আমার কাজ ছিল, তাই অন্য একটি গেট দিয়ে প্রবেশ করে চলে আসি।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল-নোমান বলেন, গত দেড় বছরে নিয়োগের নামে দলীয়করণ ও এলাকাকরণ করা হয়েছে। যত অবৈধ নিয়োগ হয়েছে, তা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি ভিসি, উপ-উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে পদত্যাগ করতে হবে।
২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে, যা আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বিস্তারিত সূচি প্রকাশ করেছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত এই সূচি অনুযায়ী, ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া তত্ত্বীয় পরীক্ষাগুলো আগামী ২০ মে পর্যন্ত চলমান থাকবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষাগুলো শুরু হবে এবং পরবর্তীতে ৭ জুন থেকে ১৪ জুনের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সাধারণত প্রতিবছর ফেব্রুয়ারিতে এই পরীক্ষা শুরু হওয়ার রীতি থাকলেও বিগত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রকাশিত বিশেষ নির্দেশাবলীতে জানানো হয়েছে যে, পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই নির্ধারিত আসনে উপস্থিত হতে হবে এবং প্রশ্নপত্রের সময়সীমা অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। প্রথমে বহুনির্বাচনি এবং কোনো বিরতি ছাড়াই পরবর্তীতে সৃজনশীল বা তত্ত্বীয় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছ থেকে পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে তিন দিন আগে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করবে। শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও ক্যারিয়ার শিক্ষার মতো বিষয়গুলোর নম্বর এনসিটিবি-র নির্দেশনা অনুযায়ী ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র ও বোর্ডে পাঠাতে হবে। উত্তরপত্রের ওএমআর ফরম পূরণের ক্ষেত্রে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর যথাযথভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না।
সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল, বহুনির্বাচনি ও ব্যবহারিক—প্রতিটি অংশে পৃথকভাবে পাস করতে হবে। পরীক্ষার্থীরা কেবল তাদের নিবন্ধনপত্রে উল্লিখিত বিষয়েই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে এবং বোর্ড অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ব্যবহারের সুযোগ পাবে। কেন্দ্রসচিব ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি বা পরীক্ষার্থীর জন্য পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহন বা ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া সকল ব্যবহারিক পরীক্ষা পরীক্ষার্থীদের নিজ নিজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। ফলাফল প্রকাশের সাত দিনের মধ্যে পুনর্নিরীক্ষণের জন্য অনলাইনে আবেদনের সুযোগ থাকবে, যার বিস্তারিত প্রক্রিয়া পরবর্তীতে সংবাদ মাধ্যম ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।
সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক সময়সূচি ঘোষণা করেছে। কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার দেশজুড়ে একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টাব্যাপী এই পরীক্ষা চলবে। হাজারো চাকরিপ্রত্যাশীর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পিএসসি এই তারিখ চূড়ান্ত করল।
পরীক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ কেন্দ্রের নির্ধারিত হলগুলোতে এই পরীক্ষা নেওয়া হবে। পিএসসির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার হল, বিস্তারিত আসন বিন্যাস এবং পরীক্ষার্থীদের জন্য পালনীয় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশাবলি যথাসময়ে কমিশনের নিজস্ব ওয়েবসাইট এবং টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। প্রার্থীদের নিয়মিত ওয়েবসাইট ভিজিট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত বছরের ২৬ নভেম্বর পিএসসি তাদের ওয়েবসাইটে ৫০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল। এরপর ৪ ডিসেম্বর থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে। বিসিএস পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনতে এবং দ্রুততম সময়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এবার আগেভাগেই একটি সম্ভাব্য রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে কমিশন।
পিএসসির ঘোষিত সেই রোডম্যাপ অনুযায়ী, ৩০ জানুয়ারি প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি এর ফলাফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ৯ এপ্রিল থেকে লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে, যার ফলাফল ৩০ জুলাই প্রকাশ করা হতে পারে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষা ১০ আগস্ট শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সব প্রক্রিয়া শেষে আগামী ২৫ নভেম্বর ৫০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ ঠিক করেছে সরকারি কর্ম কমিশন।
প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির এক দফা দাবিতে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন রাজধানীর সাত সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে আজকের মতো রাজপথের কর্মসূচি স্থগিত করা হলেও আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) থেকে আরও জোরালো এবং লাগাতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন তারা।
নতুন ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পয়েন্ট—সায়েন্সল্যাব, টেকনিক্যাল মোড় এবং তাঁতীবাজারে একযোগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। গাবতলীর টেকনিক্যাল মোড়ে গণমাধ্যমকর্মীদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, আজকের মতো কর্মসূচি শেষ হলেও মূল দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা রাজপথ ছাড়বেন না এবং আন্দোলনে কোনো শিথিলতা আসবে না।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মতে, এটি নিছক কোনো একদিনের প্রতিবাদ নয়, বরং তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ ও অধিকার সুনিশ্চিত করার একটি দীর্ঘ লড়াই। তারা বিশ্বাস করেন যে একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাই তাদের দীর্ঘদিনের একাডেমিক সংকট ও বঞ্চনা দূর করতে পারে। ঐক্যবদ্ধভাবে এবং সুশৃঙ্খলভাবে এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তারা। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট বা চূড়ান্ত ঘোষণা না আসায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেমন উদ্বেগ কাজ করছে, তেমনি তারা আশাবাদী যে কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাদের যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ প্রতিষ্ঠার দাবিতে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এখন আরও জোরালো ও সুসংগঠিত রূপ নিয়েছে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে রাজধানীর টেকনিক্যাল মোড় ও তাঁতীবাজার এলাকায় পৃথকভাবে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা তাদের অবরোধ তুলে নিয়ে সায়েন্সল্যাব মোড়ে এসে সমবেত হয়েছেন।
সমন্বয়কারীদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আন্দোলনকে এককেন্দ্রিক ও অধিকতর কার্যকর করার লক্ষ্যে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর পৌনে একটার দিকে ঢাকা কলেজ থেকে একটি বিশাল মিছিল সায়েন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নেয়। এর ফলে ওই গুরুত্বপূর্ণ মোড়টিতে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং আশপাশের সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মূল দাবি হচ্ছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার বুধবার (১৫ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিতব্য উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন–২০২৫’-এর খসড়াটির চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে হবে। একই সঙ্গে তারা রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ে এই সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারির দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, সরকারের কাছ থেকে সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা না আসা পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না এবং তাদের এই কর্মসূচি চলমান থাকবে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের এই দাবির মুখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুমোদনের প্রক্রিয়াটি উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে। গত মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রশাসনিক উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যেই এই অধ্যাদেশটি প্রণয়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নীতিগত সম্মতি এবং লেজিসলেটিভ বিভাগের আইনি যাচাই বা ভেটিংয়ের পর্যায়ে রয়েছে। এই প্রক্রিয়াগুলো দ্রুত শেষ করে খসড়াটি উপদেষ্টা পরিষদে উত্থাপন করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে মন্ত্রণালয়। তবে সরকারি এই আশ্বাসে আশ্বস্ত না হয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের দাবিতে অনড় রয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর উদ্যোগে আয়োজিত চার দিনব্যাপী ‘রিসার্চ মেথডলজি ও সায়েন্টিফিক রাইটিং’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল ১২ জানুয়ারি ২০২৬ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের আনোয়ারুল আজিম চৌধুরী লেকচার গ্যালারিতে এই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের মোট ৮৮ জন শিক্ষক তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এ্যাসুরেন্স সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. এম রেজাউল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন এবং সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুস্তাক ইবনে আয়ূব। একাডেমিক উৎকর্ষ সাধন এবং গবেষণার মান উন্নয়নের লক্ষ্যেই মূলত এই বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল। সনদ বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি তরুণ শিক্ষকদের প্রতি যুগোপযোগী ও মানসম্মত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ও বিভিন্ন বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় ও উন্নত করতে হলে জুনিয়র এবং সিনিয়র সকল শিক্ষককে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে আজ মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ সকাল ১১টায় এক আনন্দঘন পরিবেশে ‘এডমিশন ফেস্ট, স্প্রিং–২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। নতুন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সহজতর করতে দুই সপ্তাহব্যাপী এই বিশেষ উৎসবের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর আবহের সৃষ্টি করেছে, যেখানে সকাল থেকেই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পদচারণা লক্ষ্য করা গেছে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে এই এডমিশন ফেস্টের শুভ উদ্বোধন করেন প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সম্মানিত প্রিন্সিপাল অ্যাডভাইজার প্রফেসর ড. মো. আনোয়ারুল কবির।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ ও শিক্ষাবিদগণ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. সাকির হোসাইন, স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ডিন প্রফেসর ড. শহিদুল ইসলাম খান, স্কুল অব বিজনেস-এর ডিন প্রফেসর আবুল কালাম এবং স্কুল অব ‘ল’ -এর ডিন প্রফেসর মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান, স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড অ্যাডমিন ডিরেক্টর আফরোজা হেলেন এবং অ্যাডমিশন অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি ডিরেক্টর ও বিভাগীয় প্রধান জাহিদ হাসানসহ বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অগ্রগতি ও আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতির ভূয়সী প্রশংসা করেন।
এবারের ‘এডমিশন ফেস্ট, স্প্রিং–২০২৬’ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য একগুচ্ছ আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা ও ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মেলা চলাকালীন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তি ফি-তে ৭৫ শতাংশ বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি টিউশন ফি-তে ১০ শতাংশ স্পেশাল স্কলারশিপসহ মেধার ভিত্তিতে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত স্কলারশিপ লাভের অনন্য সুযোগ রাখা হয়েছে। আনন্দদায়ক এই অভিজ্ঞতার সাথে শিক্ষার্থীদের জন্য উপহার হিসেবে থাকছে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির নিজস্ব ফ্ল্যাগশিপ ব্যাগ, আকর্ষণীয় ডিজাইনের হুডি এবং বিশেষ গ্র্যান্ড গিফট বক্স। মেলা চলাকালীন ভর্তির যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা এক ছাদের নিচে দ্রুত সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ভর্তি উৎসবের পাশাপাশি পুরো মাস জুড়ে শিক্ষার্থীদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার লক্ষে বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এডমিশন ফেস্টে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে তথ্যভিত্তিক দিকনির্দেশনা এবং বিষয়ভিত্তিক উচ্চতর গবেষণার সুযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা। বিশেষ করে দক্ষ বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মাধ্যমে একাডেমিক ও ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং প্রদান করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা তাঁদের রুচি ও সামর্থ্য অনুযায়ী সঠিক বিষয়টি বেছে নিতে পারেন। গবেষণা ও কর্মমুখী শিক্ষায় বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি গত বাইশ বছর ধরে একটি নির্ভরযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মানের গ্র্যাজুয়েট তৈরির লক্ষে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি বর্তমানে সর্বাধুনিক অবকাঠামো ও শিক্ষা সহায়ক সরঞ্জাম নিশ্চিত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ক্লাসরুম এখন সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর। এছাড়া শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষার জন্য রয়েছে উন্নত ল্যাব সুবিধা, উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট এবং পড়াশোনার জন্য একটি পৃথক ও নিরিবিলি স্টুডেন্ট জোন। সমৃদ্ধ লাইব্রেরি ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশি ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে একটি সর্বজনগ্রাহ্য উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মূলত আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলাই এই এডমিশন ফেস্টের মূল সার্থকতা।
রাজধানীর সাত কলেজের সমন্বয়ে প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ফের কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আগামী কাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পয়েন্ট—সায়েন্সল্যাব, টেকনিক্যাল ও তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কর্মসূচির কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের এই এক দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের লড়াই অব্যাহত থাকবে। মূলত প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনি কাঠামো ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার দাবিতেই এই অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সাত কলেজের সমন্বয়ে একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন-২০২৫’-এর খসড়া গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এই আইনের খসড়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং স্টেকহোল্ডারদের মতামতের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় খসড়াটি হালনাগাদ করে। গত ৭ ও ৮ ডিসেম্বর শিক্ষা ভবন অভিমুখে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে, ডিসেম্বরের মধ্যেই সকল আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করে জানুয়ারি মাসের শুরুর দিকেই চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করা হবে। কিন্তু জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় চলে এলেও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৫ জানুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের একটি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা দাবি করছেন, ওই সভাতেই হালনাগাদ করা ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন-২০২৫’-এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হোক এবং একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে অধ্যাদেশ জারি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করা হোক। বিজ্ঞপ্তিতে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অধ্যাদেশ জারির দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে এবং আগামীকালকের কর্মসূচিতে সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া না পাওয়া গেলে আন্দোলনের তীব্রতা আরও বাড়ানো হবে। এই অবরোধের ফলে বুধবার রাজধানীর যান চলাচল ও জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
মেডিকেলে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে যশোরের কেশবপুর উপজেলার ১৪ জন মেধাবী শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে অধিকাংশই গ্রাম থেকে উঠে আসা স্বল্প আয় ও সাধারণ পরিবারের সন্তান। এবার ভর্তির মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া ১৪ শিক্ষার্থী হলেন- ইব্রাহিম আলম অভি, তিথি রাণী সাহা, খাদিজাতুল কুবরা, তন্ময় ঘোষ, তৌকির আহমেদ, তানভীর আহমেদ, খালিদ রেজা রাজন, রায়হান আহমেদ, নূরে শামীমা ইসলাম সাফা, জান্নাতুল মাওয়া তুবা, হাবিবা হালিম, সানিয়া নৌশিন, সুমাইয়া সারা ও নওরিন পুষ্প। তাদের সাথে কথা বলে অধিকাংশের চোখে-মুখে দেখা যায় সংগ্রামী জীবনের প্রতিচ্ছবি। সেই সব পরিবারে অভিভাবকদের মাঝে আনন্দের পরিবর্তে দুশ্চিন্তা নেমে এসেছে।
ইব্রাহিম আলম অভি: কাঠমিস্ত্রি জাহাঙ্গীর মোড়লের ৩ সন্তানের মধ্যে সবার বড় অভি। নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসারে অভির মা মর্জিনা বেগম শ্রমজীবী হয়েও সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য আপসহীন। পৌরসভার ৯নং বালিয়াডাঙ্গা ওয়ার্ডে তাদের বাড়ি। অভি দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু সন্তানের ভর্তি নিয়ে পিতামাতার চোখে-মুখে দুশ্চিন্তার ছায়া।
তিথি রাণী সাহা: বালিয়াডাঙ্গা ওয়ার্ডের আরও এক মেধাবী মুখ তিথি রানী সাহা নীলফামারী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তার বাবা কালিদাস সাহা মটরভ্যানে করে একটি কোম্পানির মালপত্র দোকানে দোকানে সরবরাহের কাজ করেন। মা মাধবী রানী সাহা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পাপর ভেজে বিক্রি করেন। বাবা-মায়ের স্বল্প আয়ে ছোট্ট একটি টিনের ঘরে থেকে খেয়ে না খেয়ে দুই মেয়েকে লেখাপড়া করাচ্ছেন। সবার সহযোগিতা নিয়ে গরিব ও অসহায় মানুষের সেবা করার জন্য তিথি ডাক্তার হতে চান।
খাদিজাতুল কুবরা: এক ছেলে এক মেয়েসহ যে দিন জয়নব বিবিকে তালাক দেওয়া হয় তখন খাদিজার বয়স সাত বছর। দিশেহারা জয়নব বিবি তখন গোলাঘাটা মির্জাপুর গ্রামে মায়ের কাছে আশ্রয় নিয়ে ছেলে আব্দুল্লাহকে কাজ শিখতে একটি মটরসাইকেল গ্যারেজে রেখে আসেন আর মেয়ে খাজিদাকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করেন। সেই খাদিজা এবার বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে ভর্তির চান্স পাওয়ায় শ্রমজীবী জয়নব বিবির চোখে আজ আনন্দের অশ্রু। কোনো প্রাইভেট বা কোচিং ছাড়াই চান্স পাওয়া খাদিজা অসহায় দুখী মানুষের সেবা করতেই ডাক্তার হতে চান।
তন্ময় ঘোষ: ঐতিহ্যবাহী বিদ্যানন্দকাটি গ্রামের মেধাবী মুখ তন্ময় ঘোষ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তার বাবা অনাথ ঘোষ বেসরকারি ছোট চাকরি করে মা স্বপ্না ঘোষ গৃহিনী। ডাক্তার হয়ে সে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে চলেছে।
তৌকির আহমেদ ও তানভীর আহমেদ: মঙ্গলকোট ইউনিয়নের বসুন্তিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক মহালদারের জমজ দুই ছেলে তৌকির আহমেদ ও তানভীর আহমেদ। তৌকির আহমেদ জাতীয় মেধায় ৭৬তম হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও তানভির আহমেদ জাতীয় মেধায় ১৬০০তম হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। সাধারণ কৃষিজীবী পরিবারে গৃহিনী শিরিনা আক্তারের চার ছেলেসহ ছয় সদস্যের পরিবার। চেহারা-গড়ন, চালচলনে একই দুই ভাইয়ের লেখাপড়ার সব ক্ষেত্রে ফলাফলও এক। বসুন্তিয়া গ্রামের কেউ এমবিবিএস ডাক্তার না হওয়ায় দশম শ্রেণিতে উঠে দুজনে মেডিকেলে পড়ার পরিকল্পনা করে তাদের জার্নি শুরু করে। দুজনের লেখাপড়ার ব্যয় নিয়ে আব্দুর রাজ্জাকের কপালে চিন্তার ভাজ পড়েছে।
খালিদ রেজা রাজন: উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের মেধাবী মুখ খালিদ রেজা রাজন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তার বাবা রেজাউল ইসলাম স্থানীয় বাজারের একজন সাধারণ ব্যবসায়ী ও মা পারভীনা খাতুন গৃহিনী। ছোটবেলা থেকেই রাজন একজন সফল চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চান।
রায়হান আহমেদ: কৃষক আবুল কাশেম মালীর দুই ছেলে আর দুই মেয়ের মধ্যে সব চেয়ে মেধাবী রায়হান আহমেদ খুলনা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তার মা লাইলী বেগম একজন সাধারণ গৃহিনী হয়েও সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যাপারে আপসহীন। হাসপাতালের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখতে দেখতে সে আজ সফল হতে চলেছেন।
নূরে শামীমা ইসলাম সাফা: সুফলাকাটি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত সারুটিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামের মেয়ে সাফা সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তার মা শেফালী আক্তার গৃহিনী।
জান্নাতুল মাওয়া তুবা: সুফলাকাটি ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষক আব্দুল জলিলের মেয়ে তুবা মাগুরা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তার মা সামিয়া শাপলাও একটি মাদ্রাসার শিক্ষিকা। তুবা ডাক্তারি পড়ে তার বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে চান।
হাবিবা হালিম: সুফলাকাটি ইউনিয়নের কাটাখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা আফরোজা খাতুনের মেয়ে হাবিবা সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তার পিতা আব্দুল হালিমও নিজ গ্রাম মনোহরপুর বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক। হাবিবা ডাক্তারি পড়ে তার বাবা মায়ের ইচ্ছা পূরণ করতে চান।
সানিয়া নৌশিন: পৌরসভার ৬নং বাজিতপুর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শিক্ষক নজরুল ইসলামের মেয়ে সানিয়া নৌশিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তার মা রওশন আরা বেলী কেশবপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। সানিয়া তার বড় বোনকে অনুসরণ করে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখে সফল হতে চান।
সুমাইয়া সারা: সাগরদাঁড়ি আবু শারাফ সাদেক কারিগরি ও বাণিজ্য মহাবিদ্যালয়ের কলেজের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল গণির মেয়ে সুমাইয়া সারা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তার মা বেগম রোকেয়া খাতুন একজন গৃহিনী। সারা ডাক্তারি পড়ে তার বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে চলেছে।
নওরিন পুষ্প: কেশবপুর সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক জামশেদ আলীর মেয়ে পুষ্প জামালপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তার মা মমতাজ সুলতানা নিজ গ্রাম বালিয়াডাঙ্গা পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। এই শিক্ষক দম্পতির দুই সন্তানের মধ্যে বড় নওরিন পুষ্প মেডিকেলে পড়ে ভালো চিকিৎক হয়ে অসহায় মানুষের সেবা করতে চায়। তবে তারা সকলেই ভর্তি পরীক্ষায় এ সাফল্যের পেছনে কেশবপুরের দীনেশ দেবনাথ নামে এক শিক্ষককের ভূমিকার কথা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা শনিবার (১০ জানুয়ারি) বুয়েট ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরীক্ষায় শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের হার ছিল ৮৭.৪৪ শতাংশ।
প্রকৌশল বিভাগ সমূহ, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ এর জন্য মডিউল-এ এবং প্রকৌশল বিভাগ সমূহ, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ ও স্থাপত্য বিভাগ এর জন্য মডিউল-বি নির্ধারিত ছিল।
প্রথম শিফটে মডিউল‘এ’ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৯:০০টা হতে দুপুর ১২:০০টা পর্যন্ত। এতে ‘ক’ ও ‘খ’ গ্রুপের জন্য উচ্চতর গণিত, পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং দ্বিতীয় শিফটে মডিউল-‘বি’ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় বিকাল ২:৩০টা থেকে বিকাল ৪:০০টা পর্যন্ত। এই শিফটে ‘খ’ গ্রুপের জন্য উন্মুক্ত পাঠ্যসূচির আওতায় মুক্তহস্ত অঙ্কন Freehand Drawing) এবং দৃষ্টিগত ও স্থানিক ধীশক্তি (Visual-Spatial Intelligence) বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
সব সঠিক আবেদনকারীর মধ্য থেকে বাছাই করে মেধা অনুযায়ী ১০ হাজার ৩৫১ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ছাত্র ৭ হাজার ৬৪৪ জন এবং ছাত্রী ২ হাজার ৭০৭ জন। নির্বাচিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৯ হাজার ৫১ জন ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
কেমিক্যাল এন্ড ম্যাটেরিয়ালস কৌশল, পুরকৌশল, যন্ত্রকৌশল, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল এবং স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদসমূহের অধীনে মোট ১৩টি বিভাগে ¯œাতক শ্রেণিতে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হবে। এবছর ভর্তি পরীক্ষায় পার্বত্য চট্টগ্রাম ও অন্যান্য এলাকার ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠিভুক্ত প্রার্থীদের জন্য প্রকৌশল বিভাগসমূহ এবং নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের জন্য মোট ৩টি সংরক্ষিত আসন (কোন বিভাগে ১ টি আসনের বেশী নয়) ও স্থাপত্য বিভাগের জন্য ১টি সংরক্ষিত আসনসহ সর্বমোট ১ হাজার ৩০৯ টি আসনের জন্য ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
চুড়ান্তভাবে ভর্তির জন্য নির্বাচিত ও অপেক্ষমান প্রার্থীদের নামসহ মেধাক্রমের তালিকা প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
ইন্টারন্যাশনাল প্রাইমারি (আইপি) পরীক্ষায় বিশ্বসেরা, এশিয়া সেরা এবং দেশসেরা ফলাফল অর্জনকারী কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মানে এক জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে মুন্সীগঞ্জের জিপিএইচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অসাধারণ সাফল্য ও মেধার স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। এই কৃতি শিক্ষার্থীদের গৌরবোজ্জ্বল অর্জন কেবল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির জন্যই নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য এক অসামান্য সম্মান বয়ে এনেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি এবং জিপিএইচ ইস্পাত গ্রুপ, ক্রাউন সিমেন্ট গ্রুপ ও চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান জনাব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃতিদের উৎসাহিত করেন সরকারি হরগঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক নাজমুন নাহার।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে জিপিএইচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খন্দকার ফরহাদ হোসেন (অব.) উপস্থিত অতিথি ও অভিভাবকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের এই অভাবনীয় সাফল্য মূলত তাদের ব্যক্তিগত নিষ্ঠা, শিক্ষকদের নিরলস একাগ্রতা এবং অভিভাবকদের ধারাবাহিক দিকনির্দেশনার একটি সম্মিলিত ফসল। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়ন, নৈতিক শিক্ষা, কঠোর শৃঙ্খলা এবং উচ্চতর একাডেমিক মান বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনরায় ব্যক্ত করেন তিনি। স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান জনাব আলমগীর কবির তাঁর বক্তব্যে বিদ্যালয়ের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে সততা, শৃঙ্খলা, মর্যাদা, সৌজন্য ও মানবিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, শিক্ষা কেবল ভালো ফলাফল অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি আদর্শ চরিত্র গঠন ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরির নিরন্তর প্রক্রিয়া।
প্রধান অতিথি জনাব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তাঁদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য বড় স্বপ্ন দেখার এবং উচ্চ নৈতিক মূল্যবোধ ধারণ করার পরামর্শ দেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কেবল নিজের জন্য নয় বরং দেশের কল্যাণে অর্থবহ অবদান রাখাই হোক তোমাদের জীবনের লক্ষ্য। তিনি তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের সঠিক চরিত্র গঠনের জন্য কারিগরি দক্ষতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং সামাজিক শিক্ষার সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা জোরালোভাবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এ ধরনের একটি সামগ্রিক ও আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতিই পারে আগামী প্রজন্মকে যোগ্য ও সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে, যা একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনের প্রধান শর্ত।
বিশেষ অতিথি অধ্যাপক নাজমুন নাহার তাঁর বক্তব্যে জিপিএইচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সুশৃঙ্খল, শিক্ষাবান্ধব ও মানসম্মত একাডেমিক পরিবেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি মনে করেন, একটি ইতিবাচক ও অনুকূল শিক্ষার পরিবেশই শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা ও সৃজনশীলতা বিকাশে মূল ভূমিকা পালন করে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এমন অনন্য কৃতিত্ব অর্জনের পেছনে শিক্ষকদের কঠোর পরিশ্রম, পেশাদারিত্ব এবং আন্তরিকতাকে তিনি প্রধান নিয়ামক হিসেবে অভিহিত করেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রধান অতিথি জনাব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বিদ্যালয়ের নবনির্মিত আধুনিক ভবনটির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন, যা পুরো আয়োজনকে এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত করে।
‘ Smart Ideas for Clean Power: Innovation and Entrepreneurship in the Energy Transition and Economy’ শীর্ষক এক সিম্পোজিয়াম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোকাররম হোসেন খন্দকার বিজ্ঞান ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞান অনুষদ এই সিম্পোজিয়াম আয়োজন করে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. উপমা কবির, বাংলাদেশ এনার্জি এন্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিল (বিইপিআরসি)-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসাইন এবং সদস্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। বিইপিআরসি-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. হাসান মাহমুদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। রসায়ন বিভাগের প্রভাষক মো. আল-আমীন হোসেন এবং সামিহা নাহিয়ান অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন।
সিম্পোজিয়ামের টেকনিক্যাল সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকগণ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।