শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল জানিয়েছেন, অবসরের ছয় মাসের মধ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অবসরভাতা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসরভাতা ও কল্যাণভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে দেরি হওয়ার সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিক রয়েছে।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোসা. তাহমিনা বেগমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, এ খাতে পর্যাপ্ত অর্থ সংস্থান না থাকায় মূলত বেশি সময় লাগছে এবং সমস্যা তৈরি হচ্ছে। অনিষ্পন্ন আবেদনের সংখ্যা বিবেচনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের অনুকূলে ৩০১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। তাই এখন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকসহ সব শিক্ষকের অবসর গ্রহণের ৬ মাসের মধ্যে অবসরভাতা দেওয়া সম্ভব নয়।
ঝিনাইদহ-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য নাসের শাহরিয়ার জাহেদীর প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৮ হাজার ৯৬৮টি। এর মধ্যে ৫ হাজার ১৮৪টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।
আরেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা ৮ হাজার ৩১৪টি, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত মাদ্রাসা ১৬ হাজার ১৭৯টি, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা ৬ হাজার ৮৮৯টি, দাখিল ও আলিম মাদ্রাসা ৯ হাজার ২৯০টি, এমপিওভুক্ত দাখিল মাদ্রাসা ৮ হাজার ২২৯টি এবং এমপিওভুক্ত আলিম মাদ্রাসা ৮৫টি।
সরকারি দলের সদস্য আফজাল হোসেনের প্রশ্নের জবাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে ভোলা পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্র অঞ্চলের ভৌত, রাসায়নিক, সামুদ্রিক পরিবেশ ও ভূতাত্ত্বিক গবেষণা সম্পন্ন করা হয়েছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপে বিদ্যমান ৬০ প্রজাতির সামুদ্রিক প্রবাল চিহ্নিত করা হয়েছে, যা মাছের ডিম পাড়া ও বসবাসের ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়া সেন্টমার্টিন দ্বীপে জন্মানো ১৪৭ ধরনের সি-উইড বা সামুদ্রিক শৈবালের প্রজাতি চিহ্নিত করা হয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব স্টুডেন্টস ইন অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রিলেটেড সায়েন্সেস (IAAS)-এর গ্লোবাল প্রজেক্ট প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দুই শিক্ষার্থী। তারা হলেন বর্ষণ কর্মকার প্রান্ত এবং সাদিয়াতুল কেয়া।
জানা যায়, ‘A Sustainable Microbial Fuel Cell Platform for Power Generation, Nitrogen Gas Recovery, and Wastewater Bioremediation Using Exoelectrogenic Bacteria’ শিরোনামে মাইক্রোবায়াল ফুয়েল সেল (MFC) প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা পেপার জমা দেন তারা। প্রজেক্টটি তত্ত্বাবধান করছেন বিভাগের মেডিকেল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল বায়োটেকনোলজি ল্যাবের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর অধ্যাপক ড. আবু হেনা মোস্তফা জামাল।
বর্ষণ কর্মকার প্রান্ত জানান, গবেষণায় মাইক্রোবায়াল ফুয়েল সেল (MFC) প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেছি। এটি বায়োইলেকট্রোকেমিক্যাল সিস্টেম, যা এক্সোইলেকট্রোজেনিক ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে পৌরসভার বর্জ্যপানি ও সমুদ্রের দূষিত পানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি দূষিত পানি পরিশোধনে ভূমিকা রাখতে সক্ষম এবং একই সঙ্গে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে নাইট্রোজেন গ্যাস পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়েছে, যা পরিবেশবান্ধব।
সাদিয়াতুল কেয়া জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করার ক্ষেত্রে অনেক সময় বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে পর্যাপ্ত সুবিধা পাওয়া যায় না ফলে শিক্ষার্থীরা এইরকম প্রোজেক্ট থেকে বঞ্চিত হয়। প্রধান সমস্যা হলো গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাব, আধুনিক ল্যাব ও উন্নত যন্ত্রপাতির স্বল্পতা, অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ানের ঘাটতি এবং আন্তর্জাতিক জার্নাল ও ডাটাবেসে সীমিত অ্যাক্সেস। এ ছাড়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সাথে সহযোগিতা কম থাকায় গবেষণার বাস্তব প্রয়োগও সীমিত হয়ে যায়। এসব কারণে অনেক শিক্ষার্থী তাদের গবেষণার সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে কাজে লাগাতে পারে না। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি আমাদের প্রপারলি সহযোগিতা করতে পারে তাহলে শিক্ষার্থীরা নিজেকে আরও উন্নতর করে গড়ে তুলতে পারবে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালনের জন্য পদোন্নতিতে বিশেষ ছাড় বা রেয়াতের সুবিধা পেয়ে থাকেন শিক্ষকরা। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী এসব সুবিধার কথা বলা থাকলেও ইউজিসির নীতিমালায় বিশেষ সুবিধার কথা উল্লেখ নেই। শিক্ষকরা ইউজিসির অভিন্ন নীতিমালা উপেক্ষা করে নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী পদোন্নতি পেতে উপাচার্যকে চাপ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। পদোন্নতিতে বিশেষ সুবিধা নিতে বিভিন্ন প্রশাসনিক পদ বাগাতে শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতারও অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পদোন্নতি নীতিমালার নিয়মে বলা হয়েছে, চাকরিকালে কোনো শিক্ষক প্রশাসনিক বা সহশিক্ষামূলক দায়িত্ব পালন করলে নির্দিষ্ট সময়ের রেয়াত (ছাড়) পাবেন। প্রাধ্যক্ষ, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, প্রক্টর, সহকারী প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা, হাউজ টিউটর ও সহকারী হাউজ টিউটরের মতো পদে দায়িত্ব পালন করলে প্রতি তিন বছরের জন্য এক বছর করে রেয়াত (ছাড়) মিলবে। প্রতি পদের জন্যই আলাদা আলাদা রেয়াত (ছাড়) পাবেন শিক্ষকরা।
তবে একটি পদের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত এ সুবিধা প্রযোজ্য। এ কারণে এসব পদ এখন শিক্ষকদের কাছে বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।
এছাড়াও স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ফলাফল প্রথম শ্রেণি অথবা সিজিপিএ ৩.৫ বা তদূর্ধ্ব থাকলে ১টি প্রকাশনা বা ১ বছরের কার্যকাল রেয়াত (ছাড়) পাবেন। পদোন্নতির ক্ষেত্রে একজন শিক্ষক একটি প্রকাশনা কম দেখাতে পারবেন অথবা এক বছরের কার্যকাল কম গণনা করার সুবিধা পাবেন।
একাধিক শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, এই রেয়াত সুবিধাকে ঘিরেই প্রশাসনিক পদ বাগাতে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়। অনেক ক্ষেত্রে একই পদে দায়িত্ব পেতে একাধিক শিক্ষক সক্রিয় তৎপরতা চালান। এতে শিক্ষকদের মধ্যে কোরামিং, লবিং এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বাড়ছে।
অভিযোগ রয়েছে, এই প্রতিযোগিতা অনেক শিক্ষককে স্থানীয় রাজনীতি ও প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর পথে ঠেলে দিচ্ছে। আধিপত্য বিস্তার ও প্রশাসনিক পদ নিশ্চিত করতে কেউ কেউ বিভিন্ন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারস্থ হচ্ছেন বলেও একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এসব নেতাদের সমর্থন পেতে কতিপয় শিক্ষকদের বিভিন্ন কৌশল অবলম্বনের নজির রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩টি বিভাগের ২৪ জন শিক্ষকের সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতির বিষয়টি নিয়ে সার্বিক যাচাই-বাছাই করতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ নীতিমালা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে পাঠিয়েছে।
এদিকে দ্রুত পদোন্নতির দাবিতে উপাচার্যের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার পদোন্নতি প্রত্যাশী কয়েকজন শিক্ষক উপাচার্যের দপ্তরে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নতুন নিয়োগ বা পদোন্নতির ক্ষেত্রে ইউজিসির নীতিমালা অনুসরণের কথা বললেও নিজেদের পদোন্নতি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান অভ্যন্তরীণ নীতিমালা অনুযায়ী দেওয়ার দাবি জানান তারা।
একজন শিক্ষক বলেন, ‘কোনো শিক্ষক প্রভাষক পদে চারটি ফার্স্টক্লাসের রেয়াত নিলেন আবার ঐ ব্যক্তি সহকারী অধ্যাপক পদে রেয়াত নিতে পারবেন অতিরিক্ত ৩টা আর্টিকেলের জন্য। কেউ যদি হলের হাউজ টিউটর হয়ে থাকেন সেটার জন্য রেয়াত প্রাপ্য হবে তারপর একই ব্যক্তি সহযোগী অধ্যাপক পদে যদি চেয়ারম্যান থাকেন তাহলে সেটার জন্য আবার রেয়াত প্রাপ্য হবেন। সুতরাং একই ব্যক্তি বিভিন্ন পদে বিভিন্ন ধরনের রেয়াত পেতে পারেন তবে কোনো রেয়াত এক পদের বিপরীতে একবারের বেশি না ও ২ বছরের বেশি না। একজন সহকারী অধ্যাপক পিএইচডি করে সাত বছরের মধ্যে সহযোগী অধ্যাপক হবেন। আরেকজন কোনো রকমে কয়েকটি প্রকাশনা প্রকাশ করেই রেয়াত সুবিধায় একই সময়ের মধ্যে সহযোগী অধ্যাপক হয়ে যাচ্ছেন। এতে কার্যত পিএইচডি বা উচ্চতর গবেষণাকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এই রেয়াত সুবিধা সংশোধন করা উচিত।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র অধ্যাপক ও সাবেক রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. মুহসিন উদ্দীন বলেন, ‘একজন ছাত্র উপদেষ্টার মাসিক ভাতা এক হাজার টাকা। এক মাস দায়িত্ব পালন করলে একজন শিক্ষক এক হাজার টাকা ভাতা পান। এটা কোনো কথা হয়। শিক্ষকের যেটা কাজ না সেটা করালে অবশ্যই তাকে ইনসেনটিভ দিতে হবে। সুবিধা দিতে হবে। কারণ তিনি তার পড়াশোনা, গবেষণা বাদ দিয়ে সেবা দিচ্ছেন, দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তাকে সে জন্য তার প্রাপ্য দেওয়া দরকার।’
ইউজিসির শিক্ষক পদোন্নতির অভিন্ন নীতিমালা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এ আইন করার এখতিয়ার নেই ইউজিসির। তারপরও মন্ত্রণালয় তাকে দায়িত্ব দিয়েছে, তিনি করেছেন।’
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়টির পদোন্নতি নীতিমালায় যেভাবে রেয়াতের কথা বলা আছে তা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে বলে আমার জানা নেই। এ নীতিমালা আমি আসার আগে থেকেই ছিল।’
রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত দেশের অন্যতম স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাইলস্টোন কলেজ সম্প্রতি প্রকাশিত ২০২৫ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অভাবনীয় কৃতিত্ব প্রদর্শন করেছে। বাংলা মাধ্যম ও ইংরেজি ভার্সন মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির মোট ১৫২ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
দীর্ঘ ১৭ বছর বিরতির পর গত ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষার ফলাফল গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশ করা হয়। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট থানার অধীনে বরাদ্দকৃত মোট ৪৯টি মেধা বৃত্তির মধ্যে ৪৭টি এবং ১০৫টি সাধারণ বৃত্তির সবকটিই এককভাবে অর্জন করে মাইলস্টোন কলেজের ছাত্রছাত্রীরা এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।
কৃতিত্বপূর্ণ এই ফলাফলের মধ্যে ৪৭ জন শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি এবং ১০৫ জন সাধারণ বৃত্তি লাভ করেছেন। নয়টি শিক্ষা বোর্ডে সর্বমোট ৪৬ হাজার ২০০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেলেও নির্দিষ্ট থানার সকল বৃত্তি এককভাবে অর্জনের বিষয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির বিশেষ সক্ষমতার পরিচয় দেয়।
সাফল্যের এই প্রেক্ষাপটে মাইলস্টোন কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলম বলেন, “নিয়মিত পাঠদান, নিবিড় তদারকি, শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও অভিভাবকদের সার্বিক সহযোগিতা এ চমকপ্রদ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”
শিক্ষার্থীদের এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জনে মাইলস্টোন কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মমতাজ বেগম, প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা কর্নেল নূরুন নবী (অব.) এবং মাইলস্টোন প্রিপারেটরি কেজি স্কুলের নির্বাহী অধ্যক্ষ রিফাত নবী আলম সকল বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে এ বছর মেধা ও সাধারণ মিলিয়ে মোট ১১ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করেছেন।
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পেরিয়ে গেলেও মৌলভীবাজার জেলার প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার একটি অপূর্ণ চিত্র সামনে এসেছে। জেলার ১ হাজার ৫১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি বিদ্যালয়ে নেই কোনো স্থায়ী শহীদ মিনার। ফলে প্রতি বছরই ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হাজার হাজার কোমলমতি শিশু।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ১ হাজার ৫১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৪৪৮টি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার আছে। বাকি ৬০৩টি বিদ্যালয়েই কোনো শহীদ মিনার নেই। অর্থাৎ জেলার প্রায় ৫৭ শতাংশ বিদ্যালয়ে ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিস্তম্ভ নেই।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, যেসব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই, সেখানে শিক্ষার্থীরা কলাগাছ, বাঁশ ও কাগজ দিয়ে অস্থায়ী মিনার তৈরি করে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা মাইলের পর মাইল হেঁটে পাশের অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ফুল দিয়ে আসে।
কমলগঞ্জ উসমানগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাবেরি দে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। আমরা দীর্ঘদিন ধরে আবেদন করেও কোনো বরাদ্দ পাইনি, আবার ব্যক্তি উদ্যোগেও কেউ এগিয়ে আসেননি। শিশুদের দেশপ্রেম ও ভাষার ইতিহাস শেখাতে একটি শহীদ মিনার অত্যন্ত জরুরি।’
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন সজিব বলেন, ‘শিশুদের শুরু থেকেই ভাষা শহীদদের সম্পর্কে জানানো প্রয়োজন। প্রতিটি বিদ্যালয়ে সরকারি বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে শহীদ মিনার স্থাপন করা এখন সময়ের দাবি।’ স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, স্থায়ী শহীদ মিনার না থাকায় নতুন প্রজন্মের মধ্যে ভাষা দিবসের গুরুত্ব ও আবেগ ঠিকঠাক মতো পৌঁছাচ্ছে না।
মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সফিউল আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘জেলার প্রায় অর্ধেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। আমরা নতুন সরকারের কাছে দাবি জানাবো যাতে বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে প্রতিটি বিদ্যালয়ে দ্রুত শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়।
২১ শে ফেব্রুয়ারি পার হয়ে গেলেও জেলার শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ও অভিভাবকরা আশা করছেন, আগামী বছর আসার আগেই যেন এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) পরিচালিত বিএ এবং বিএসএস পরীক্ষা-২০২৪ এর প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ সেমিস্টারের বিষয়ভিত্তিক ফলসহ চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়েছে। গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মো. হাবিবুল্যাহ মাহামুদ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন।
৫ সেমিস্টারে মোট নিবন্ধিত শিক্ষার্থী সংখ্যা ২ লাখ ৫৯ হাজার ৯৬৯ জন এবং পরীক্ষায় মোট অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী সংখ্যা ২ লাখ ২০ হাজার ২১৪ জন। এছাড়াও চূড়ান্ত পরীক্ষায় ৪০ হাজার ৪৭৬ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ২৭ হাজার ০৮ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন। পরীক্ষায় পাসের হার শতকরা ৬৬ দশমিক ৭৩। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৪ হাজার ৬৬৭ জন ছাত্র এবং ১২ হাজার ৩৪১ জন ছাত্রী।
উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১ জন ‘A-’, ১৭০ জন ‘B+’, ২,৬৭১ জন ‘B’, ৮,৭৬০ জন ‘B-’, ১০,০৪২ জন ‘C+’, ৪,৭৭৩ জন ‘C’ এবং ৫৯১ জন ‘C-’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ফল result.bou.ac.bd ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। এছাড়াও SMS এর মাধ্যমে চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়া যাবে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) বছরব্যাপী ক্রীড়া আয়োজনের অংশ হিসেবে ‘আন্তঃহল ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট ২০২৫-২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে বিকেল সাড়ে তিনটায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহাম্মদ আবুল বাশার।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, “খেলাধুলা শরীর ও মন সুস্থ রাখার অন্যতম মাধ্যম। প্রযুক্তিভিত্তিক এই যুগে খেলাধুলা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতা, সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
প্রতিযোগিতার ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ছাত্রীদের একক বিভাগে অপরাজিতা ২৪ হলের নাদিয়া ইসলাম চ্যাম্পিয়ন এবং একই হলের অঞ্জনা ইসলাম রানার্স-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। দ্বৈত বিভাগেও নাদিয়া ও অঞ্জনা জুটি চ্যাম্পিয়ন হয় এবং রানার্স-আপ হয় বেগম রোকেয়া হলের জেরিন ও ফারিয়া জুটি। ছাত্রদের একক বিভাগে বিজয় ২৪ হলের মো. রাকিবুল ইসলাম শিরোপা জেতেন এবং রানার্স-আপ হন শক্তি দেব ভট্টাচার্য অয়ন। ছাত্রদের দ্বৈত বিভাগে শেরেবাংলা হলের মোস্তবা হোসেন আতিক ও সরকার এম এ হাদী জুটি চ্যাম্পিয়ন এবং রাকিবুল ও শক্তি জুটি রানার্স-আপ নির্বাচিত হয়।
শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক মো. নূর উদ্দীন মিয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ফিরোজ মাহমুদ, এএসভিএম অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আশাবুল হক এবং প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আরফান আলী। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শারীরিক শিক্ষা বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. রমিজ উদ্দীন। এ সংক্রান্ত তথ্য বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পঞ্চাশতম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা আগামী ৯ এপ্রিল থেকে অনুষ্ঠিত হবে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে লিখিত পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে বলে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) সচিবালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান নিশ্চিত করেছেন।
এ বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় যে প্রার্থীদের শ্রুতি লেখক প্রয়োজন তাদের আগামী ১০ মার্চের মধ্যে আবেদন করতে ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে কমিশন।
পিএসসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৯ এপ্রিল লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়ে ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখে নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ জুলাই। ১০ অগাস্ট থেকে মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়ে ২৫ নভেম্বর ফল প্রকাশ করা হবে।
গত ৩০ জানুয়ারি ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নিয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি ফল ঘোষণা করা হয়। প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন ১২ হাজার ৩৮৫ জন।
বিভিন্ন ক্যাডারের ১ হাজার ৭৫৫টি পদে ও ননক্যাডারের ৩৯৫টি পদসহ মোট ২ হাজার ১৫০ পদে পদে নিয়োগে ৫০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি গত ২৬ নভেম্বর প্রকাশ করে পিএসসি। ৪ ডিসেম্বর থেকে এ বিসিএসের আবেদন শুরু হয়ে চলে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
এ বিসিএসের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাডারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যে ৬৫০ জন ও প্রশাসনে ২০০ জন নিয়োগ দেবে সরকার। তৃতীয় অবস্থানে শিক্ষা ক্যাডারে ১৮৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।
এক বছর সময়ের মধ্যে এ বিসিএসের কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরেছে কমিশন।
এ বিসিএসের প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষা আটটি বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হবে। মৌখিক পরীক্ষা কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্র পরিবর্তনের কোন আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২৬ এ বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে ৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি ভিত্তিহীন, মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন শিক্ষকরা। গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লামা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির উপজেলা শাখার সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী। এ সময় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আকতার উদ্দিন, প্রধান শিক্ষক নাজেম উদ্দিন, ওয়াহেদ উল্লাহ, আব্দুল মোমিন ও খালেদা বেগমসহ শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকরা লিখিত বক্তব্যে আরও জানান, উপজেলা শিক্ষা কমিটির বুধবারের (২৫ ফেব্রুয়ারি) সভা ও উপজেলা পরিষদ এবং প্রধান শিক্ষকদের মাসিক সভায় সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের উপস্থিতিতে সিসি ক্যামরা ক্রয়ের ব্যাপারে বিষদ আলোচনা করার পর রেজুলেশন আকারে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সময় সল্পতার কারণে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অগ্রাধিকার হওয়ায় নিজ নিজ প্রধান শিক্ষকরা একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দ্রুত সময়ে কাজ বাস্তবায়নের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেইমতে সিসি ক্যামরা স্থাপনের যাবতীয় কাজ বিধি মোতাবেক সম্পন্ন করা হয়। এ কাজে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কোন সম্পৃক্ততা নেই। অথচ দৈনিক যুগান্তর পত্রিকাসহ কয়েকটি পত্রিকায় নির্বাহী অফিসার ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার টাকা আত্মসাৎ করেছেন মর্মে সংবাদ প্রকাশ করে। যা মোটেও সত্য নয়, বরং অপসাংবাদিকতার সামিল বলে দাবি করেন শিক্ষকরা।
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলে ভয়াবহ শিক্ষক সংকট ও শ্রেণিকক্ষের স্বল্পতায় চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা। উপজেলার ১৯৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অন্তত ৮১টিতে নেই প্রধান শিক্ষক। এর মধ্যে চরাঞ্চলের ৫১ বিদ্যালয়ে এক বা ২ জন শিক্ষক দিয়ে কোনোভাবে চলছে পুরো শিক্ষা কার্যক্রম। ফলে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে হাজারো শিশুর ভবিষ্যৎ।
দীর্ঘদিনের অবহেলা, পদ শূন্য থাকা ও অবকাঠামোগত সংকটের কারণে চরাঞ্চলের বহু বিদ্যালয় এখন প্রায় অচল। অনেক জায়গায় একজন শিক্ষক দুই শিফটে ছয় শ্রেণির পাঠদান করছেন।
সরেজমিনে মির্জারচর ৩ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা গেছে- একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে পুরো বিদ্যালয়ের কার্যক্রম, পঞ্চম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী মাত্র দুই জন। একই অবস্থা মির্জারচর ১০০ নম্বর বিদ্যালয়েরও।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষের অভাবে পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসে না। ফলস্বরূপ দিন দিন ঝরে পড়ছে শিক্ষার্থী, বাড়ছে শিশুশ্রম ও অপরাধপ্রবণতা।
সমাজসেবক আব্দুল আল মামুন বলেন, ‘একসময় এই চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলো ছিল আলোকিত কেন্দ্র। এখন শিক্ষক সংকট ও শ্রেণিকক্ষের অভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে।’
ইউপি সদস্য মহরম আলী মেম্বার বলেন, আমি যে বিদ্যালয়ের জমিদাতা, সেটিতেও এখন একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে ক্লাস। এতে শিক্ষার মান দিন দিন কমছে।
চরাঞ্চলের শান্তিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘টিফিন কার্যক্রম চালু হওয়ার পর শিক্ষার্থীর উপস্থিতি বেড়েছে, কিন্তু শিক্ষক না থাকায় মানসম্মত শিক্ষা দেওয়া যাচ্ছে না। একজন শিক্ষক দিয়ে তিন জনের কাজ করা সম্ভব নয়।
মির্জারচর, বাঁশগাড়ি, চানপুর, পাড়াতলী, চর-মধুয়া, শ্রীনগর ও নিলক্ষা ইউনিয়নের প্রায় ৫১ বিদ্যালয়ে একই চিত্র-জরাজীর্ণ ভবন, শ্রেণিকক্ষের অভাব ও শিক্ষক সংকট।
বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাতুল হাসান বলেন, চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা। দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না দিলে এই অঞ্চল শিক্ষাবঞ্চিত হয়ে পড়বে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ ও পদোন্নতি বন্ধ থাকায় অনেক পদ শূন্য। আশাকরি অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন নিয়োগের মাধ্যমে এই সংকট দূর হবে।
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, চরাঞ্চলের তিনটি ইউনিয়নে শিক্ষক সংকট প্রকট। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। অবকাঠামো, যোগাযোগ ও জনবল- সব দিক বিবেচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ চলছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, শিক্ষা বঞ্চনার এই ধারা থামাতে দ্রুত নতুন শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ ও শিক্ষক নিয়োগ জরুরি। তাদের বিশ্বাস, শিক্ষার আলো পৌছাতে পারলেই সহিংসতা ও অস্থিরতা থেকে মুক্ত হবে রায়পুরার চরাঞ্চল, গড়ে উঠবে একটি শিক্ষিত ও সভ্য সমাজ।
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় বাবার নাম প্রতিষ্ঠিত একটি এমপিওভুক্ত কলেজের ভবনসহ জমি বিক্রি করে দিয়েছেন ওই কলেজের অধ্যক্ষ। অধ্যক্ষ গোপনে কলেজটি বিক্রি করে দেন একজন নারীর কাছে। সম্প্রতি কলেজটির ভবন ভাঙার কাজ শুরু হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এতে কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন।
কলেজটির নাম ফজলুল হক চৌধুরী মহিলা কলেজ। অধ্যক্ষের নাম হোছেন আলী চৌধুরী। ২০০৯ সালে তারাকান্দা উপজেলা সদরে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১১ সালে হোছেন আলী চৌধুরীর মা কলেজের নামে ৮ শতক জমি লিখেন দেন। এতে জেলা পরিষদের অর্থায়নে ৩ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় কাছাকাছি এলাকায় জমি কিনে নতুন ভবন করা হলে পুরানো ভবনটি শুধুমাত্র কারিগরি বোর্ডের অধীনে পরিচালিত বিএমটি শাখা হিসাবে ব্যবহার করা হয়ে আসছিল। সম্প্রতি ভবনটি ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হলে অধ্যক্ষের কলেজ বিক্রি করে দেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কলেজটি ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়।
কলেজের শিক্ষকরা জানান, অধ্যক্ষ কলেজের ভবনসহ জমি বিক্রি করে দেবেন, এটা কেউ কল্পনাও করেনি। সম্প্রতি ঘটনাটি জানাজানি হলে অধ্যক্ষকে শিক্ষকেরা জিজ্ঞাসা করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন অধ্যক্ষ হোছেন আলী চৌধুরী। ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবাদ করায় ২ শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সম্প্রতি এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছে। স্থানীয় লোকজনও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।
কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক হান্নান তালুকদার বলেন, সরকারি একটি বড় ভবন কলেজের নামে বরাদ্দ হলে এখানে জায়গা স্বল্পতার কারণে আমরা মধুপুর এলাকায় ৩৮ শতাংশ জায়গা কিনে সেখানে কার্যক্রম শুরু করি। পুরানো ভবনে বিএমটি শাখার ক্লাস হত। এখানে ছাত্রীদের জন্য একটি হোস্টেল করার চিন্তা-ভাবনা ছিল। কিন্তু হঠাৎ দেখি কলেজ ভবন ভাঙা হচ্ছে। এরপর খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়, অধ্যক্ষ ভবনসহ জায়গা অন্যত্র বিক্রি করে দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে, আমিসহ দুই জন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
কলেজ বিক্রি করা ছাড়াও অধ্যক্ষ হোছেন আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি বিভিন্ন সময় শিক্ষক কর্মচারিদের সঙ্গে স্বেচ্ছাচারিতামূলক আচরণ করে। হোছেন আলী চৌধুরী আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে কলেজের শিক্ষক, কর্মচারী ও স্থানীয় ব্যক্তিদের ক্ষোভ রয়েছে।
তারাকান্দা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তারাকান্দা উপজেলা নির্কাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, এ বিষয়ে অধ্যক্ষ হোছেন আলী চৌধুরী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রয়োজনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ হোছেন আলী চৌধুরীকে ফোন করা হলেও তিনি বক্তব্য জানাতে রাজি হননি।
রাজধানী ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সাতটি সরকারি কলেজকে একীভূত করে প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো গৃহীত হয়নি বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বুধবার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে নতুন করে আলোচনা চলছে এবং পুরো ফাইলটি পুনরায় বিবেচনা বা রিভিউ করা হবে। শিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য সাত কলেজের লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সমাজের মধ্যে নতুন করে আশা ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
এর আগে, কলেজগুলোকে একটি সমন্বিত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্যে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ স্থাপনের চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সংসদ ভেঙে থাকা অবস্থায় জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই বিশেষ অধ্যাদেশটি জারি করেছিলেন। সেই আদেশ অনুযায়ী ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজ নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সংযুক্ত কলেজ’ হিসেবে পরিচালিত হওয়ার কথা ছিল।
সাত কলেজের এই স্বকীয়তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গত বছর থেকেই শিক্ষা অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলে আসছে। গত বছরের ২৬ মার্চ বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কলেজগুলোকে পৃথক করে একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের সুপারিশ করেছিল। পরবর্তীতে ১২ নভেম্বর কলেজগুলোর দীর্ঘদিনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তিও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়। তবে অধিভুক্তি বাতিলের পর নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো, জনবল এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা শঙ্কা তৈরি হয়।
মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম নামে এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী সহকর্মীকে হেনস্তার অভিযোগের ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়। এই ঘটনাটি ঘটেছে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার মধ্যে আলীগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান হাওলাদারকে এ অভিযোগের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।
অভিযুক্ত মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মধ্য আলীগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক। অভিযোগকারী নারী সহকর্মীও একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি মধ্যে আলীগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা পদে ২০২৩ সালে যোগদান করেন। তখন সহকারী শিক্ষক নুরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক থাকাকালীন সহকারী শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলামের হাতে ছিল বিদ্যালয়ের সকল কর্তৃত্ব। পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক মনিরুল আলমের যোগদানের পর সহকারী শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম তার কর্তৃত্ব হারান। তখন থেকেই সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলামের অশ্লীল কথাবার্তা, আচার-ব্যবহারে অতিষ্ঠ হয়ে যায় শিক্ষিকাসহ সকল শিক্ষকরা। প্রধান শিক্ষক না হওয়া সত্ত্বেও সব কিছুতে খবরদারি, তদারকি ও বিভিন্ন অযৌক্তিক আদেশ দেওয়া শুরু করেন সাইফুল ইসলাম।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষিকা ২০২৪ সালের ১১ অক্টোবর মাতৃত্বকালীন ছুটির পর মেডিকেল ছুটি কাটিয়ে যোগদান করে সহকারী শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে তাকে ধমকাতে থাকেন কেন তার সম্মতি না নিয়ে মেডিকেল ছুটি নেওয়াসহ বিভিন্ন অশ্লীল ভাষা প্রযোগ করে।
এ নিয়ে সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার মানসম্মান নষ্ট করার জন্য আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। সহকারী শিক্ষিকার অভিযোগ সত্য নয়।’
সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান হাওলাদার বলেন, ‘আমাকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার এর মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘সহকারী শিক্ষিকা খালেদা আক্তার একটি লিখিত অভিযোগ করেছে। তার অভিযোগ আমলে নিয়ে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান হাওলাদারকে সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) এনিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের জেনারেল এনিমেল সায়েন্স অ্যান্ড সায়েন্স অ্যান্ড এনিম্যাল নিউট্রিশন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ শাহবুবুল আলম ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর ড. আলী আজগরের মধ্যে কম্বাইন্ড ডিগ্রি ইস্যুতে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের এএনএসভিএম অনুষদের একাডেমিক ভবন-২-এর সামনে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, কম্বাইন্ড ডিগ্রি সংক্রান্ত আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে এনিমেল হাজবেন্ড্রি (এএইচ) ডিসিপ্লিনের শিক্ষকরা অনুষদের লেভেল-৪ সেমিস্টার-১ ও লেভেল-১ সেমিস্টার-২-এর শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা ডিন ভবন ঘেরাও করে ডিন বরাবর পরীক্ষা নেওয়ার জন্য লিখিত আবেদন দেন।
এরপর উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা একাডেমিক ভবন-২-এর দিকে অগ্রসর হয়ে অনুষদের কেন্দ্রীয় মাঠে অবস্থান নেয়। শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে এএইচ ডিসিপ্লিনের শিক্ষকরা একাডেমিক ভবনের সামনে এসে জড়ো হন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ও ডিনকে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করেন। পরবর্তীতে অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. খোন্দকার জাহাঙ্গীর আলম এবং সহকারী প্রক্টর প্রফেসর ড. আলী আজগর ঘটনাস্থলে শিক্ষকদের সামনে উপস্থিত হন।
এ সময় উপস্থিত সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সামনে জেনারেল এনিমেল সায়েন্স অ্যান্ড সায়েন্স অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্স অ্যান্ড নিউট্রিশন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ শাহবুবুল আলম ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর ড. আলী আজগরের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেনারেল এনিমেল সায়েন্স অ্যান্ড সায়েন্স অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্স অ্যান্ড নিউট্রিশন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ শাহবুবুল আলম বলেন, ‘শিক্ষকদের ভেতরে রেখে কয়েকজন ছাত্র একাডেমিক বিল্ডিংয়ে তালা দিতে আসে। পরবর্তীতে আমি সহকারী প্রক্টরকে ফোন দিলে তাকে পাওয়া যায়নি। এরপর ডিন স্যারকে কল দেওয়ার পর তারা আসলে সহকারী প্রক্টরের সঙ্গে আমার বাকবিতণ্ডা হয়। তবে আমরা বিষয়টি পরবর্তীতে সমাধান করে নিয়েছি।’
সহকারী প্রক্টর প্রফেসর ড. আলী আজগর বলেন, ‘ডিন অফিসে কম্বাইন্ড ডিগ্রির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছিলাম। কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী ডিন অফিস থেকে একাডেমিক ভবনের দিকে যায়। তাদের মধ্যে একজন তালা লাগানোর কথা বললে অধ্যাপক শাহবুবুল আমাকে ফোন দেন। আমি ব্যস্ত থাকায় কল ধরতে পারিনি। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে আসার পরে তিনি আমার সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলেন, আমিও কিছুটা উত্তেজিত হই। পরে তিনি প্রকাশ্যে আমার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম হেমায়েত জাহান বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছিল। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জেনেছি, তারা বিষয়টি নিজেদের মধ্যে সমাধান করে নিয়েছেন।’