প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ১০৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। পৃথিবীর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন ইতিহাস নেই যে সেই বিশ্ববিদ্যালয় একটি দেশের জন্ম দিয়েছেন। তবে এই ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। পূর্ববাংলার মুসলমানদের মধ্যে একটি সচেতন মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবী শ্রেণি গড়ে তোলার লক্ষ্যকে সামনে রেখে ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশকে জন্ম দিতে রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
ধারাবাহিক রাজনৈতিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট নির্মাণের প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা সর্বজনবিদিত। সাংবাদিক এবং গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদও তার বইয়ে লিখেছেন, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের ইতিহাস আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস অবিচ্ছেদ্য।
এ ছাড়া স্বাধীনতার পর প্রতিটি গণতান্ত্রিক, মৌলবাদ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাই সর্বদা ঝাঁপিয়ে পড়ে। দেশের প্রয়োজনে নিজেকে উৎসর্গ করাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার নিজ দায়িত্ব হিসেবে কাঁধে তুলে নিয়েছে। যেকোনো সংকটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে দেশ ও জাতি এটিই আশা করে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুর দিকে কার্যক্রম বিশ্বজুড়ে সুনাম কুড়ালেও বিগত কয়েক দশক ধরে শিক্ষার্থীদের তীব্র আবাসন সংকট, গেস্টরুম সংস্কৃতি, গবেষণার অপ্রতুলতা এবং সেকেলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সেবার কারণে সমালোচনায় জর্জরিত হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিশন নির্ধারণ
গত ২৬ জুন অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের বার্ষিক অধিবেশনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিশন নির্ধারণ করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিশন এবং এই সম্পর্কিত মিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একাডেমিক ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান এবং ফিজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান প্রস্তাব করা হয়েছে। এ দুটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত একাডেমিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নকালে অনেক বিভাগের শিক্ষার্থী সংখ্যা যৌক্তিক পর্যায়ে আনা হবে। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী কিছু নতুন বিভাগও খোলা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর বাণী
বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কিত জ্ঞান-বিজ্ঞানের নিবিড় চর্চার পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশ সৃষ্টিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনবদ্য অবদান চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আজ প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হচ্ছে জেনে সন্তোষ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ উপলক্ষে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য-‘তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা বৃদ্ধিতে উচ্চ শিক্ষা’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার দূরদর্শী নির্দেশনায় ১৯৭৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডিন্যান্স ঘোষণার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন গঠন করা হয়, যার মূল বার্তা ছিল- বিশ্ববিদ্যালয়ে চিন্তার স্বাধীনতা ও মুক্ত-বুদ্ধি চর্চার পরিবেশ সৃষ্টি করা।
আওয়ামী লীগ যখনই সরকার গঠন করেছে তখনই জাতির পিতার শিক্ষা দর্শনের আলোকে দেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে ১২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক বিজ্ঞান ও গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করি। গবেষণা ও প্রযুক্তির জন্য অনুদান ১০০ কোটিতে উন্নীত করি। আমরা জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন, বঙ্গবন্ধু বৃত্তি এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপের প্রবর্তন করি।’
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল। পাশাপাশি অভিনন্দন জানিয়েছেন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাইকে। উপাচার্য বলেন, জ্ঞান আহরণ ও বিতরণের গৌরবগাথা নিয়ে শতবর্ষ পাড়ি দিয়েছে প্রাণপ্রিয় এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, চিরগৌরবময় মুক্তিযুদ্ধসহ গণমানুষের সব লড়াইয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সর্বদা নেতৃত্ব দিয়েছে। জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং দেশ সেবায় রেখেছে অনন্য অবদান।
বর্ণাঢ্য কর্মসূচি
বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মাধ্যমে আজ সোমবার ১০৩তম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন হবে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা উন্নয়নে উচ্চশিক্ষা’। এ উপলক্ষে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল সকাল ১০টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) সম্মুখস্থ পায়রা চত্বরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হল ও হোস্টেল থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শোভাযাত্রাসহকারে স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে সমবেত হবেন। স্মৃতি চিরন্তন চত্বর থেকে সকাল পৌনে ১০টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহকারে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সম্মুখস্থ পায়রা চত্বরে গমন করবেন।
সকাল ১০টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র সম্মুখস্থ পায়রা চত্বরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা, বিশ্ববিদ্যালয় ও হলসমূহের পতাকা। উত্তোলন, পায়রা, বেলুন ও ফেস্টুন ওড়ানো, কেক কাটা এবং সংগীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিম সং ও উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশিত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর সকাল সাড়ে ১০টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রতিপাদ্য ‘তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা উন্নয়নে উচ্চশিক্ষা’ বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছাড় এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আলোচনা সভায় অংশ নেবেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত নীলক্ষেত ও ফুলার রোড সংলগ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ পথে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। এ সময় বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।
সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম নারী উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক তাহমিনা আখতার। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছালে উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. সুমন কান্তি বড়ূয়া তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এর আগে সোমবার (৮ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে তাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং ওই দিন বিকেলেই তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে নিজের যোগদানপত্র জমা দেন।
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ আইন, ২০১৬ অনুযায়ী পাঁচটি নির্দিষ্ট শর্তে তাকে আগামী ৪ বছরের জন্য এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শর্তানুযায়ী তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। তবে রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজনবোধে যেকোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করার ক্ষমতা রাখেন।
দায়িত্ব নেওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক তাহমিনা আখতার রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঙালির সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিক চেতনার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটিকে শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক চর্চার এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সাথে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং অংশীদারিমূলক প্রশাসনের মাধ্যমে একটি আধুনিক, গবেষণাবান্ধব ও শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার আশাবাদ প্রকাশ করেন।
অধ্যাপক তাহমিনা আখতারের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যাকগ্রাউন্ড রয়েছে। তিনি বিএনপিপন্থী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন 'ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ' (ইউট্যাব)-এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। শিক্ষাজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করা এই অধ্যাপক ২০১৪ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন বছরেরও বেশি সময় বাধ্যতামূলক ছুটির সম্মুখীন হয়েছিলেন।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এবং ঢাকা, যশোর, রাজশাহী, কুমিল্লা ও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সোমবার (৮ জুন) তাদের নিয়োগ দিয়ে পৃথক পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এনসিটিবির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন চট্টগ্রাম কমার্স কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।
এদিকে, রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বোর্ডটির সচিব শামীম আরা চৌধুরী। কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হয়েছেন দেবিদ্বার সরকারি এসএস কলেজের অধ্যক্ষ মো. আহসান পারভেজ।
অন্যদিকে, যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে খুলনার হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফারুখে আযম মু. আব্দুস ছালামকে।
এছাড়া, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান।
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের কল্যাণমূলক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক কোটি সাত লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা, মোজা এবং স্কুলব্যাগ দেওয়া হবে। এ কর্মসূচির মূল বাস্তবায়নের আগে আগামী জুলাই ও আগস্টে পরীক্ষামূলকভাবে এসব সামগ্রী বিতরণ শুরু হবে।
সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জানান, পাইলট প্রকল্পের আওতায় সারাদেশের সাড়ে তিন লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে প্রকল্পটি কয়েকটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে অন্তত এক লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে ইউনিফর্ম, জুতা, মোজা ও স্কুলব্যাগ বিতরণের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তী ধাপে আরও শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পাইলট প্রকল্পের সব কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
তিনি বলেন, পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা ও ফলাফল মূল্যায়নের ভিত্তিতে আগামী জানুয়ারি থেকে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হতে পারে। কোনো উপজেলা যেন এই উদ্যোগ থেকে বাদ না পড়ে, সে বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রতিটি উপজেলার একাধিক বিদ্যালয়কে পাইলট প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ফলে দেশের ২৫ হাজারেরও বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এই প্রকল্পের আওতায় আসবে।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাঁচ লাখ পাটের স্কুলব্যাগ উপহার হিসেবে দিচ্ছে মন্ত্রণালয়টি। পরিবেশবান্ধব এ ব্যাগগুলো আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ব্যাগগুলো ওয়াটারপ্রুফ করা হবে। ব্যাগ তৈরির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ সম্পন্ন করেই এগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে এটি যেহেতু একটি পাইলট প্রকল্প, তাই বাস্তব প্রয়োগের সময় কোনো ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতা দেখা দিলে তা চিহ্নিত করে পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের সময় সংশোধন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনার জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে। সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে সময়মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম ঐতিহ্যবাহী নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে আনুষ্ঠানিক ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ সোমবার থেকে সরাসরি দুইটি বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে।
রোববার গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় পছন্দক্রম ও মেধাক্রম অনুযায়ী A, B ও C ইউনিটে বিভাগ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাথমিক ভর্তি নিশ্চয়ন সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. আলাউদ্দিন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ গত শনিবার জারি করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক ভর্তি কার্যক্রম গতকাল রোববার দুপুর ১২টা থেকে ১০ জুন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত GST-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়া এসএসসি/সমমান এবং এইচএসসি/সমমান পরীক্ষার মূল নম্বরপত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ৫ হাজার টাকা প্রাথমিক ভর্তি ফি জমাদানের রশিদসহ একটি A4 সাইজের খামে আবেদনকারীর নাম ও GST রোল নম্বর উল্লেখ করে স্বশরীরে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে জমা দিতে হবে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, A, B ও C ইউনিটের শিক্ষার্থীদের আগামী ৮ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসের (৩য় তলা) ৩১০ নম্বর কক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ইউনিট সমন্বয়কারীর স্বাক্ষর ও সিলযুক্ত একনলেজমেন্ট স্লিপ বা জমাদানের রশিদ সংগ্রহ করতে হবে। পরবর্তীতে মূল নম্বরপত্র ফেরত নেওয়ার সময় এই রশিদটি প্রদর্শন করতে হবে।
নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. আলাউদ্দিন বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য বিভাগপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। ভর্তি কার্যক্রম শেষ হলে খুব দ্রুতই আমরা প্রথম বর্ষের শ্রেণি কার্যক্রম বা ক্লাস শুরু করে দেব।
নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলী গভীর আবেগ প্রকাশ করে বলেন, এই আনুষ্ঠানিক যাত্রা নিঃসন্দেহে জেলার ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল মাইলফলক। ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় একসময় ছিল কেবল একটি স্বপ্নের নাম, সরকারি গেজেটের কয়েকটি পৃষ্ঠা এবং ভবিষ্যতের এক সম্ভাবনার প্রতীক মাত্র।
তিনি অতীতের প্রতিকূলতার কথা স্মরণ করে বলেন, নানা প্রতিকূলতা, অনিশ্চয়তা এবং বিতর্কের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে বাস্তব রূপ দেওয়ার পথ কখনোই সহজ ছিল না। এমনও সময় এসেছে, যখন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়েছিল। কেউ কেউ সংকীর্ণ মন মানসিকতা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি বন্ধ করে দেওয়ার অপচেষ্টাও চালিয়েছিলেন। কিন্তু এ অঞ্চলের মানুষের আকাঙ্ক্ষা, শিক্ষানুরাগীদের দৃঢ়তা এবং সংশ্লিষ্টদের অবিচল প্রচেষ্টার কাছে সেই সব প্রতিবন্ধকতা শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয়েছে।
উপাচার্য আরও যোগ করেন, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ও ভবিষ্যতে শুধু সার্টিফিকেট বা ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হয়ে থাকবে না; বরং এটি হবে জ্ঞান সৃষ্টি, বৈশ্বিক উদ্ভাবন, উচ্চতর গবেষণা এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের মূল প্রাণকেন্দ্র। এখান থেকে গড়ে উঠবে দক্ষ প্রশাসক, বিচক্ষণ আইনজ্ঞ, সফল উদ্যোক্তা, গবেষক ও মানবকল্যাণে নিবেদিত দেশপ্রেমিক নাগরিক।
শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে জিডিপির অন্তত ৫ শতাংশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। শিক্ষা অধিকার সংসদের এক জরিপে অংশ নেওয়া ৬২ শতাংশ একইসঙ্গে তারা শিক্ষা বাজেট বাস্তবায়নে প্রাথমিক শিক্ষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, গবেষণা এবং শিক্ষকদের মানোন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার (৫ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা অধিকার সংসদ এ জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেছে।
এতে জরিপের ফল ও সুপারিশ তুলে ধরেন সংগঠনটির সদস্য সচিব এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা অধিকার সংসদের পক্ষ থেকে আবু সাদাত মো. মোস্তানসির বিল্লাহ, মিসবাহুর রহমান আসিম, মাহফুজুর রহমান মানিক ও মাজহারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠনটির তথ্যানুযায়ী, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩৫০ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে জরিপটি পরিচালিত হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৬১ দশমিক ১ শতাংশ ছিলেন স্নাতক এবং ৩৬ শতাংশ স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি), আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন।
জরিপে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা শিক্ষার বিভিন্ন স্তরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তাদের মতে, শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী না হলে উচ্চশিক্ষাসহ অন্যান্য স্তরে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন তারা।
ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিক্ষা এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা। শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্ব পেয়েছে মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষকদের জন্য সম্মানজনক বেতন নিশ্চিত করার বিষয়টি। পাশাপাশি শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলের শিক্ষার উন্নয়নে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগকে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
নীলফামারী সরকারি কলেজের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া ১৫৫ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকালে কলেজের হলরুমে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম।
নীলফামারী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ.কে.এম. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা চৌধুরী, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক বাবুল হোসাইন, দর্শন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. শামসুল আলম, ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আলতাফুর রহমান এবং রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. জাহাঙ্গীর আলম।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নীলফামারী সরকারি কলেজ দীর্ঘদিন ধরে জেলার শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। বর্তমান শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য শুধু তাদের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং কলেজ, পরিবার ও সমগ্র জেলার জন্য গৌরবের বিষয়। তারা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথি অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “আজকের এই মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গঠনে নেতৃত্ব দেবে। তাদের সাফল্য নীলফামারীর শিক্ষার মানকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। সততা, মেধা ও মানবিক গুণাবলির সমন্বয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”
অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও কলেজের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে ভরপুর।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান শুক্রবার (৫ জুন) সকালে রংপুরের মুলাটোল মদিনাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত এমএ/এমএসএস পরীক্ষা এবং মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষা পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে তিনি পরীক্ষার সার্বিক পরিবেশ, শৃঙ্খলা, প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র ব্যবস্থাপনা এবং পরীক্ষা পরিচালনার বিভিন্ন দিক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।
বেগম রোকেয়া স্মৃতি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা পরিদর্শনের সময় উপাচার্য তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এ সময় তিনি বলেন, “শিক্ষা সবার মৌলিক অধিকার। তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো ধরনের বৈষম্যের শিকার না হয়ে শিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে, সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক সমাজ গঠনে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীরা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের শিক্ষা থেকে পিছিয়ে না রেখে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আগ্রহী তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীদের জন্য বাউবির শিক্ষা কার্যক্রম ও সহযোগিতার দ্বার সবসময় উন্মুক্ত থাকবে।”
এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাউবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. হাবিবুল্যাহ মাহামুদ, রংপুর আঞ্চলিক কেন্দ্রের আঞ্চলিক পরিচালক আবু হাফিজ মো. ফজলে নিজামী এবং যুগ্ম-পরিচালক মো. আজিজার রহমান।
পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনকালে উপাচার্য সৈয়দপুর উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও টিউটরদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি পরীক্ষার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও মানসম্মত পরিচালনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও একই নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
পরবর্তীতে উপাচার্য সৈয়দপুর উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, শিক্ষার্থীসেবা উন্নয়ন, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিতকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মতবিনিময় সভায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কেন্দ্রের বিভিন্ন কার্যক্রম, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা সম্পর্কে উপাচার্যকে অবহিত করেন। উপাচার্য তাদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং কার্যক্রম আরও গতিশীল ও শিক্ষার্থীবান্ধব করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর কাছে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষার গুণগত মান বজায় রেখে আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পরিদর্শন ও মতবিনিময় কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন এবং উপাচার্যের উপস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
পরিদর্শন কার্যক্রম শেষে উপাচার্য নারী জাগরণের অগ্রদূত মহীয়সী বেগম রোকেয়ার জন্মস্থান পরিদর্শন করেন। পরে তিনি জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ জুলাই যোদ্ধা আবু সাঈদের সমাধিস্থলে যান এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় উপাচার্যের সহধর্মিণী ড. আলো আরজুমান বানুসহ বাউবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, দেশে মানসম্মত শিক্ষা, জবাবদিহি, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যে সব ইংলিশ-মিডিয়াম স্কুলকে সরকার একটি একীভূত নীতিমালার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বুধবার (৩ জুন) ঢাকার আগা খান একাডেমি পরিদর্শনকালে এ কথা বলেছেন তিনি।
ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকার এমন একটি সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে সব শিক্ষার্থী মানসম্মত শিক্ষা লাভের সুযোগ পাবে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশের সব ইংলিশ-মিডিয়াম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একটি অভিন্ন নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, আমরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলই করবে না, বরং সমালোচনামূলক চিন্তা, উদ্ভাবনী সক্ষমতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলিও অর্জন করবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য তরুণদের বিশ্বমানের দক্ষতা, মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতায় সমৃদ্ধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলা মাধ্যম, ইংলিশ ভার্সন কিংবা ইংলিশ-মিডিয়াম—যে ধারাতেই শিক্ষার্থীরা পড়ুক না কেন, সবাই যাতে জাতীয় মূল্যবোধ, নাগরিক দায়িত্ববোধ এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক দক্ষতা অর্জনের সমান সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করতে চায় সরকার।
পরিদর্শনের সময় তিনি একাডেমির আয়োজিত শিক্ষার্থী প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের গবেষণা প্রকল্প, উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং সৃজনশীল উপস্থাপনা পর্যালোচনা করেন তিনি।
এ সময় প্রতিষ্ঠানটির আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতি, শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা এবং নেতৃত্ব বিকাশ কর্মসূচির প্রশংসা করেন ববি হাজ্জাজ। তিনি দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও গবেষণা, উদ্ভাবন ও সৃজনশীল শিক্ষাচর্চা আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান। পরিদর্শনকালে একাডেমির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গুচ্ছভুক্ত (জিএসটি) ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ‘সাবজেক্ট চয়েস’ ও ‘বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দক্রম’ আবেদনের কার্যক্রম শেষ হলেও এখনও ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। এতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা ও অপেক্ষা বাড়ছে।
গত ৬ থেকে ১১ মে পর্যন্ত ‘সাবজেক্ট চয়েস’ আবেদন কার্যক্রম চললেও প্রায় তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ফলাফল প্রকাশ হয়নি। এর আগে গত ৩ মে অনুষ্ঠিত সমন্বিত গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভায় আগামী ৭ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ‘চূড়ান্ত প্রাথমিক ভর্তি’ কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা জানান, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ অবস্থায় গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ফল প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। দ্রুত ফল প্রকাশ হলে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত এবং ভর্তি সংক্রান্ত অন্যান্য প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হবে বলে মনে করেন তারা।
এ বিষয়ে গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটির দায়িত্বে থাকা ইউএফটিবির রুবেল শেখ জানান, কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটিই আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করবে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সমন্বয় কমিটির নির্দেশনা পেলেই ফল প্রকাশ করা হবে।
গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য সচিবের (রুটিন দায়িত্ব) দায়িত্ব পালনকারী এবং টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. নাছির উদ্দিন খান বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমাদের বৈঠক রয়েছে। নির্দিষ্ট তারিখ বলা যাচ্ছে না, তবে আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা “সাবজেক্ট চয়েস” ফলাফল জানতে পারবে বলে আশা করছি।’
উল্লেখ্য, গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষা সমন্বয় কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।
জাল সনদের প্রমাণ পাওয়ায় ১১৭ শিক্ষকের এমপিও (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) সুবিধা বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) যাচাইয়ে এ জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। রোববার (২৪ মে) দুটি পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৬-এর ১৮ অনুচ্ছেদ মোতাবেক তাদের এমপিও বাতিল করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই দিন জাল সনদের প্রমাণ পাওয়ায় ২৪ জন কলেজ পর্যায়ের শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
অধিদপ্তরের বেসরকারি কলেজ শাখা-৩-এর সহকারী পরিচালক মো. মাঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা শাখা হতে ৮৫ জন জাল/ভুয়া সনদধারী শিক্ষকের তালিকাসহ একটি পত্র প্রেরণ করা হয়েছে (কপি সংযুক্ত)। এতে এনটিআরসিএ কর্তৃক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোট ৮৫ (কলেজ পর্যায় ২৪ + স্কুল পর্যায় ৬১) জন শিক্ষকের প্রত্যয়নপত্র যাচাই শেষে জাল মর্মে প্রমাণিত হয়েছে।
তালিকায় উল্লিখিত জাল ও ভুয়া প্রত্যয়নপত্রধারীদের এমপিও (অনুদান ও বেতন ভাতা বাবদ সহায়তা) বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা (গৃহীত অর্থ আদায় ও মামলা দায়ের) গ্রহণপূর্বক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগকে অবহিত করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ এর ১৮.১(ঙ) অনুচ্ছেদ মোতাবেক কেন তাদের এমপিও বাতিল বা স্থগিত করা হবে না এবং গভর্নিং বডি কর্তৃক তার নিয়োগ কেন বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নোটিশ পাওয়ার ১০ কর্মদিবসের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে এই জবাব দাখিল করার জন্য তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সনদ জাল বা ভুয়া বলে চিহ্নিত হওয়া ৪৭১ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এর মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ের ৪০২ জন, কলেজ পর্যায়ের ৬৪ জন ও কারিগরি পর্যায়ের ৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। এসব শিক্ষকের মধ্যে প্রথম ধাপে ৬৩ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে কেন তাদের এমপিও (বেতন-ভাতা বাবদ মাসিক অনুদান) বাতিল বা স্থগিত ও নিয়োগ বাতিলসহ অন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার জবাব ১০ কর্মদিবসের মধ্যে মাউশিতে জমা দিতে বলা হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) মাউশি নোটিশ দিয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) এসব শিক্ষকের সনদ জাল বা ভুয়া বলে চিহ্নিত করেছিল। এর ভিত্তিতে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তালিকাসহ সুপারিশ পাঠায় ডিআইএ। পরে মন্ত্রণালয় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে চিঠি দেয়। এখন মাউশি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও আর্থিক স্বচ্ছতা আনতে দেশের মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিরীক্ষার পাশাপাশি শিক্ষা কার্যক্রমের বিষয়ে পরিদর্শন করে ডিআইএ। তার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করে। তবে এ সংস্থার কাজকর্ম নিয়েও নানা রকমের অভিযোগ ওঠে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুনকে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আইন, ১৯৭৩ অনুযায়ী তাকে আগামী চার বছরের জন্য ইউজিসির সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকেই এ নিয়োগ কার্যকর হবে। ইতোমধ্যে তিনি কমিশনের চেয়ারম্যানের নিকট যোগদানপত্র জমা দিয়েছেন।
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক পর্যায়ের ১ম বর্ষ (বি.এস-সি. ইঞ্জিনিয়ারিং, বিইউআরপি ও বিআর্ক) কোর্সের ভর্তিকৃত নবাগত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন (পরিচিতি সভা) আগামী ২৫ জুন সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টারের অভ্যন্তরে মুক্তমঞ্চে হবে।
ওরিয়েন্টেশন শেষে একই দিন সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বিভাগীয় পরিচিতি সভা, কোর্স রেজিস্ট্রেশন এবং বিভিন্ন একাডেমিক বিষয়াবলি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হবে।
এরপর ২৮ জুন থেকে সকল বিভাগে নতুন শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস শুরু হবে। ওরিয়েন্টেশন-২০২৬ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের ডীন, ইনস্টিটিউট পরিচালক, রেজিস্ট্রার, বিভাগীয় প্রধান, পরিচালক, হল প্রভোস্ট একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য ও উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
এ ছাড়া ১ম বর্ষ ১ম টার্মে ভর্তি হওয়া সকল শিক্ষার্থীদের হল কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত তারিখে হলে ভর্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং পরিচিতি সভায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে ২৫ জুন সকাল ৯টার মধ্যে নির্দিষ্ট আসন গ্রহণ করতে হবে।