বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
এইচএসসির ফল বাতিলের দাবি

দিনে বিক্ষোভ, রাতে ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যানের পদত্যাগের ঘোষণা

চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও যশোর শিক্ষা বোর্ডেও আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা
ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২১ অক্টোবর, ২০২৪ ১৫:৪৬

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল বাতিল করে পুনরায় ফল তৈরি ও প্রকাশের দাবি জানিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন অকৃতকার্য হওয়া একদল শিক্ষার্থী। একপর্যায়ে তারাই আবার ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন। সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।

রাত ৯টার দিকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছিল। এদিকে আন্দোলনের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার। আজ সোমবার সকালে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় পদত্যাগপত্র জমা দেবেন বলে গতকাল রোববার রাতে একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

অধ্যাপক তপন কুমার সরকার বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আমার পদত্যাগ চেয়েছে। আমি পদত্যাগ করলে যদি তারা আন্দোলন স্থগিত করে তাহলে আমি পদত্যাগই করব। সোমবার আমার পদত্যাগপত্র জমা দেব।’

গতকাল বেলা ১১টা থেকে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়। তাদের সঙ্গে অনেক নারী অভিভাবককে দেখা যায়। দুপুর পৌনে ২টার দিকে বোর্ডের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

দুপুর ২টার দিকে শিক্ষা বোর্ডের প্রবেশপথে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তিন ছাত্রীসহ ছয়জন আহত হন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রকাশিত ফলাফল বৈষম্যমূলক। তারা সবগুলো বিষয়ের ওপর সাবজেক্ট ম্যাপিং করে ফলাফল চান। এসএসসি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতেই সেই সাবজেক্ট ম্যাপিং করার দাবি তাদের।

এদিকে ময়মনসিংহে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং ৩ দফা দাবিতে শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও করেন অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা। গতকাল দুপুরে এসব কর্মসূচি পালন করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে চট্টগ্রাম ও যশোর শিক্ষা বোর্ডও ঘেরাও করে শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে বোঝানোর চেষ্টা করছেন।

ঘটনাস্থলে থাকা চকবাজার থানার ওসি রেজাউল হোসেন বলেনে, ‘শিক্ষার্থীরা প্রথমে বোর্ডের ফটকে তালা লাগিয়ে দিয়েছিল। ভেতরে কাউকে ঢুকতে দিচ্ছিল না। সে সময় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভেতরে ঢুকতে চাইলেও তাদের যেতে দেওয়া হয়নি। তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কিছুটা ধাক্কাধাক্কি হয়েছে বলে শুনেছি। শিক্ষার্থীরা প্রতিনিধিদল ঠিক করে দিলে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসা হবে।’

পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার আগে ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে বাতিল পরীক্ষার সাবজেক্ট ম্যাপিং করে ফল তৈরি করেছি। এখানে কেউ বঞ্চিত বা বৈষম্যের শিকার হওয়ার প্রশ্নই আসে না। তারপরও শিক্ষার্থীরা কী বলতে চায়, তাদের কথা শুনব। সেগুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আমরা অবগত করব।’

গত ১৫ অক্টোবর চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। সারা দেশে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন একদল শিক্ষার্থী ফল বাতিলের দাবি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন।


চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আজকের সব পরীক্ষা স্থগিত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রবল বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বুধবারের (৮ জুলাই) পূর্বনির্ধারিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। একই সাথে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় শিক্ষা কার্যক্রম ও পরীক্ষাও স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এবং বুধবার সকালে পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বন্যা পরিস্থিতি এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাভুক্ত জেলা প্রশাসকদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বুধবারের এইচএসসি, আলিম এবং কারিগরি সংশ্লিষ্ট সকল পরীক্ষা স্থগিত করার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে দেশের অন্যান্য শিক্ষা বোর্ড এবং মাদরাসা ও কারিগরি বোর্ডের পরীক্ষা (চট্টগ্রামের আওতাধীন জেলা ব্যতীত) পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে। কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। স্থগিত হওয়া এসব পরীক্ষার পরিবর্তিত সময়সূচি পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট বোর্ড থেকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

এদিকে টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা ও পরিবহন সমস্যার কারণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, “দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, জলাবদ্ধতা এবং পরিবহন সংকটের প্রেক্ষাপটে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষা আদেশক্রমে স্থগিত করা হয়েছে।” মূলত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতের চরম বিড়ম্বনা বিবেচনা করে একদিনের জন্য এই শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গত ২ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে, যেখানে ১১টি বোর্ডের অধীনে প্রায় ১২ লাখ ৭০ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। বিরূপ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে প্রতিটি বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি আগে থেকেই নেওয়া হয়েছিল বলে গত ১ জুলাইয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন। বর্তমানে চট্টগ্রামের বিপর্যস্ত পরিস্থিতির কারণে সেখানকার পরীক্ষার্থীদের সুরক্ষায় এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হলো।


৫ বছরের দণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রেখে সংসদে বিল পাস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতি, ডাটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ, সংঘবদ্ধভাবে পরীক্ষাসংক্রান্ত অপরাধ এবং নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের মতো অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রেখে ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশন্স (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। সংশোধিত আইনটি ১৯৮০ সালের ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশন্স (অফেন্সেস) অ্যাক্ট’-কে যুগোপযোগী করেছে। প্রায় ৪৫ বছর আগে প্রণীত ওই আইনে নকল, প্রশ্নফাঁস, জাল সনদ ও অন্যান্য অনিয়ম প্রতিরোধের ব্যবস্থা থাকলেও বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবেলায় নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

নতুন আইনে বলা হয়েছে, পরীক্ষার ডাটাবেজে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ, হ্যাকিং, তথ্য পরিবর্তন, পরীক্ষার রেকর্ডে কারসাজি বা যেকোনো ধরনের ডিজিটাল জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

এ ছাড়া আইনে ‘অর্গানাইজড এক্সামিনেশন ক্রাইম’ নামে নতুন অপরাধ যুক্ত করা হয়েছে। পাবলিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের অসদুপায় অবলম্বনে সহায়তা করার উদ্দেশে লিখিত বা মৌখিক চুক্তি করা, প্রস্তাব দেওয়া কিংবা সংঘবদ্ধভাবে নকল বা প্রতারণার সুযোগ তৈরির চেষ্টা করলেও সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

সংশোধিত আইনে পরীক্ষা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্র বা হলে প্রবেশ করাকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি নির্দেশনা ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করলেও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে।

আইনে ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তরপত্রে অতিরিক্ত বা কম নম্বর দেওয়া পরীক্ষকদের বিরুদ্ধেও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। তবে শাস্তি দেওয়ার আগে তৃতীয় একজন পরীক্ষকের মাধ্যমে নম্বরের অসংগতি নিশ্চিত করতে হবে।

পরীক্ষা-সংক্রান্ত কাজে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও সেবাদাতা সংস্থার দায়ও নির্ধারণ করা হয়েছে সংশোধিত আইনে। কোনো প্রতিষ্ঠান পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধে সহায়তা করলে বা যোগসাজশে জড়িত হলে অর্থদণ্ড, লাইসেন্স স্থগিত, কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি কিংবা কালো তালিকাভুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

নতুন আইনে তথ্যদাতা বা হুইসেলব্লোয়ারদের সুরক্ষার বিধানও রাখা হয়েছে। অপরাধের বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় গোপন রাখা এবং তাদের বিরুদ্ধে হয়রানি বা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। এ সুরক্ষা লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আইনে বলা হয়েছে, কোনো শিশু এ আইনের অধীনে অপরাধে জড়িত হলে তার বিচার শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী পরিচালিত হবে। মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এসব অপরাধকে আমলযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। মহানগর এলাকায় মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট এবং মহানগরের বাইরে জ্যেষ্ঠ বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট এসব মামলার বিচার করবেন। বিচার কার্যক্রম ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধের প্রবণতাও বেড়েছে। তাই পাবলিক পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইন সংশোধন জরুরি হয়ে পড়েছিল। সাইবার অপরাধের মাধ্যমে পরীক্ষার ডাটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ ও ডিজিটাল ম্যানিপুলেশনকে অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা, ডিজিটাল জালিয়াতিতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান এবং সংঘবদ্ধ পরীক্ষা জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ সংশোধিত আইনের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।


জাবিতে গভীর রাতে র‍্যাগিং, হাতেনাতে ধরা ১২ শিক্ষার্থী

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের (প্রথম বর্ষ) কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থীকে গভীর রাতে খেলার মাঠে ডেকে নিয়ে ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে র‍্যাগিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে একই বিভাগের ১২ জন শিক্ষার্থীকে হাতেনাতে ধরেছে কর্তৃপক্ষ। আটক ১২ শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিংয়ে জড়িত থাকার কথা লিখিতভাবে স্বীকারও করেছেন ইতোমধ্যে।

গত শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত ১১টা থেকে দিবাগত রাত ২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার (৪ জুলাই) ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা প্রক্টর বরাবর র‍্যাগিংয়ের ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে ইতিহাস বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ৫৫তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ডেকে নেন। সেখানে যাওয়ার পর নবীন শিক্ষার্থীদের কান ধরানো, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ফরমাল পোশাকের নিয়ম শেখানোর নামে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এ সময় এক নবীন শিক্ষার্থী কৌশলে জাকসুর কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতির কাছে খবর দেন। এরপর ঘটনাস্থলে প্রক্টরিয়াল টিম ও জাকসুর অ্যান্টি-র‍্যাগিং সেলের সদস্যরা উপস্থিত হন এবং অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের হাতেনাতে আটক করে নিরাপত্তা কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। সেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ভিডিও ও লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়।

নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. এহসানুল হক বলেন, ‘সেখানে আমাদের বাবা-মা তুলে গালাগাল ও কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। আমাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছিল। পরে প্রক্টর স্যারসহ অন্যরা এসে আমাদের উদ্ধার করেন।’

আরেক ভুক্তভোগী রাজ খান বলেন, ‘আগেও সেন্ট্রাল ফিল্ডে আমাদের গভীর রাত পর্যন্ত নির্যাতন করা হয়েছে। এছাড়া সেমিনার, ক্লাসরুমের করিডর, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও আবাসিক হলে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নিয়মিত হেনস্তা করা হচ্ছে। আমরা এই জঘন্য ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’

এদিকে ঘটনার পর ইতিহাস বিভাগের প্রথম বর্ষের ১৩ জন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে ঘটনার দায় স্বীকার করে অভিযুক্ত ব্যাচের শ্রেণি প্রতিনিধির (সিআর) স্বাক্ষরিত একটি লিখিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘আমরা সবাই ইতিহাস বিভাগের ৫৫তম আবর্তনের ১৩ জন ছাত্রকে ম্যানার শেখানোর নামে স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ডেকে নিয়ে র‍্যাগ দিই।’

বিবৃতিতে অভিযুক্ত ১২ শিক্ষার্থীর পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন ৫৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সুভাশীষ রায়, নাছিম উদ্দিন মজুমদার, আবু আবতাহী অনিক, নাইমুল হাসান, আবদুল্লাহ মাহদী, ইসফাক হাদী, মো. রায়হান খান, কাজী শাহ জামসেদ আলম, সাইফুল্লাহ মানসুর আনান, মো. মাহফুজুর রহমান, কার্তিক চন্দ্র রায় ও নাইম আহমেদ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক বলেন, রাত ২টার দিকে কল পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই এবং র‍্যাগিংয়ের অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাদের হাতেনাতে ধরি। এরপর সবাইকে নিরাপত্তা অফিসে নিয়ে এসে ভিডিও ও লিখিত স্টেটমেন্ট নেওয়া হয়। এই তথ্যগুলো প্রক্টরিয়াল বডির সভায় আলোচনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে এবং সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেবে।

প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী এ বিষয়ে দ্রুত যথাযথ ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষকের পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু 

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শূন্য থাকা ৩৬ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষকের পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) কাছে আজকের মধ্যেই চাহিদা পাঠানো হবে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

এর আগে অধিগ্রহণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির শর্তাদি) বিধিমালার জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি ইত্যাদি সংক্রান্ত বিধির অংশবিশেষ অবৈধ ঘোষণার রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল মঞ্জুর করেছেন আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ বৃহস্পতিবার এ রায় দেন। এর ফলে সরকার প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিকের পাশাপাশি মাধ্যমিক ও কলেজেও শিক্ষকের পদ শূন্য থাকার কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল ফোনে আদালতের রায় জানানোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি পিএসসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছেন। পিএসসি চেয়ারম্যান দ্রুত চাহিদা দিতে বলেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যেই পিএসসিতে চাহিদা পাঠানো হয়েছে, যাতে পিএসসি বিশেষভাবে এই নিয়োগ দিতে পারে।

উচ্চ আদালতের রায়ের পর শূন্য থাকা ৩৬২৩৫টি প্রধান শিক্ষকের পদে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়ার পর সহকারী শিক্ষকের এই পদগুলোও শূন্য হবে। বর্তমানে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য আছে ২২০০ এর বেশি। অর্থাৎ প্রধানশিক্ষক পদে পদোন্নতির পর সহকারী শিক্ষকের ৩৮ হাজারের বেশি পদ শূন্য হবে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি দশম গ্রেডের। এ জন্য এ পদে পদোন্নতির ফাইল পিএসসিতে পাঠাতে হয় বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা। বর্তমান নিয়োগবিধি অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক পদে ৮০ শতাংশ নিয়োগ হয় সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে। আর সরাসরি নিয়োগ হয় ২০ শতাংশ।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী উচ্চ আদালতের রায়ের পর শূন্য থাকা ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষকের পদে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়ার পর সহকারী শিক্ষকের এই পদগুলোও শূন্য হবে। বর্তমানে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য আছে ২ হাজার ২০০ এর বেশি। অর্থাৎ প্রধানশিক্ষক পদে পদোন্নতির পর সহকারী শিক্ষকের ৩৮ হাজারের বেশি পদ শূন্য হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষকের পদ নিয়োগের পর অবিলম্বে তাঁরা ৩৮ হাজার ৪৩৩টি সহকারী শিক্ষকও নিয়োগ দেওয়া যাবে। এটি একটি সুখবর।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস।

বর্তমানে সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ৬৫ হাজারের বেশি। অধিগ্রহণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির শর্তাদি) বিধিমালার জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি ইত্যাদি সংক্রান্ত ৯(১) বিধির অংশবিশেষ চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে রিট হয়েছিল। রিটটি করেছিলেন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে জাতীয়করণ করা বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা।

প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ১১ মার্চ হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে ওই বিধির অংশবিশেষ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে, যা ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ।

পাশাপাশি হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়। লিভ টু আপিল মঞ্জুরের পর ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। এ ছাড়া সরকারি প্রাথমিকে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকেরাও আপিল বিভাগে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আপিল মঞ্জুর করে রায় দেন আপিল বিভাগ।


ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে চালু হচ্ছে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা: মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২ জুলাই, ২০২৬ ২০:৩৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলা ও ইংরেজির বাইরে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইউনেস্কো আয়োজিত ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্র্যান্ট অ্যান্ড মাল্টিপ্লায়ার গ্র্যান্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা একটি মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন করতে চাই। যেখানে আমরা নতুন নতুন বিষয় চালু করব। উদাহরণস্বরূপ, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সকল ছাত্রছাত্রীর জন্য কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। আমরা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে একটি তৃতীয় ভাষা চালু করতে যাচ্ছি। সকল ছাত্রছাত্রীর জন্য এটি চালু হতে কিছুটা সময় লাগবে, তবে সেই প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে সকল ছাত্রছাত্রীর জন্য আরও দুটি বিষয় বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছি। একটি হলো সংস্কৃতি এবং অন্যটি খেলাধুলা। পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাটি এমন একটি আদর্শ নিয়ে এগিয়ে যাবে, যাকে আমরা বলি, লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস।’

মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা চাই এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা, যেখানে ছাত্রছাত্রীদের শিখতে বাধ্য করা হবে না, বরং তারা একটি সহযোগিতামূলক পরিবেশে কাজ করবে। যেখানে ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে সর্বোত্তম সম্পর্ক থাকবে এবং তারা তাদের নিজস্ব প্রতিভা দিয়ে চেষ্টা করবে। সুতরাং, এগুলো আমাদের কিছু আদর্শ ও নীতি। আমরা যখন সামনের দিকে এগিয়ে যাব, তখন এই নীতিগুলো বাস্তবায়ন করতে এবং এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে আমাদের সব অংশীজনের আরও সহযোগিতার প্রয়োজন।’

এ সময় নতুন সরকারের জন্য ৪৮ মিলিয়ন বরাদ্দের ঘোষণায় ইউনেস্কোসহ দাতা সংস্থাগুলোকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ধন্যবাদও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব প্রোগ্রাম, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের মতো বিষয়গুলোকে আমরা অগ্রাধিকার দিতে চাই। সেজন্যই আমরা সারা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য একই ইউনিফর্ম, একই স্কুল ব্যাগ, একই জুতা চালু করছি এবং সেই সাথে মিড ডে মিল প্রকল্পও চালু করছি। এটি এখন জাতীয় পর্যায়ে রয়েছে এবং আমরা এ বিষয়ে কিছু মতামত পাচ্ছি; আমাদের কাজের পদ্ধতি নতুন করে সাজাতে হবে।’


অধ্যক্ষের গাফলতিতে এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়া হলো না সুমাইয়ার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি

বোর্ডের ফি জমা দিয়ে, দিনরাত পড়াশোনা করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছিল পিতৃহীন সুমাইয়া খাতুন। স্বপ্ন ছিল এইচএসসি পাস করে নিজের পায়ে দাঁড়াবে, সংসারের হাল ধরবে। কিন্তু কেন্দ্রের দিন সকালে পরীক্ষার হলে গিয়ে সে জানতে পারল, তার প্রবেশপত্রই (এডমিট কার্ড) আসেনি।

কলেজের অধ্যক্ষের চরম গাফলতি আর উদাসীনতায় পরীক্ষার হলে বসার আগেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল এতিম পরীক্ষার্থীর। এই ঘটনাটি ঘটেছে সারিয়াকান্দি উপজেলার চন্দনবাইশা ডিগ্রি কলেজে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবার জানায়, সুমাইয়া খাতুন চন্দনবাইশা উত্তরপাড়া এলাকার অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান। ছোটবেলাতেই বাবাকে হারিয়ে মায়ের টানে আর নিজের অদম্য ইচ্ছায় পড়ালেখা চালিয়ে আসছিল সে। চলতি বছরের মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য কলেজের নিয়ম অনুযায়ী ফরম পূরণের যাবতীয় ফি সময়মতো পরিশোধ করেছিল সুমাইয়া।

পরীক্ষার আগের দিন পর্যন্ত সে কলেজের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে প্রবেশপত্রের জন্য যোগাযোগ করে। তখন তাকে জানানো হয়, পরীক্ষার দিন সকালে কেন্দ্রেই তাকে প্রবেশপত্র দিয়ে দেওয়া হবে। শিক্ষকের দেওয়া সেই আশ্বাসে আশ্বস্ত হয়ে যথাসময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হয় সুমাইয়া। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারে, কলেজ কর্তৃপক্ষ তার ফরম পূরণের টাকাই বোর্ডে জমা দেয়নি! ফলে তার নামে কোনো প্রবেশপত্রই ইস্যু হয়নি।

এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমাইয়া ফেরদৌস জানান, অধ্যক্ষের কাছে পরীক্ষা দিতে না পারার বিষয়ে লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে। উপজেলার সচেতন মহল দাবি জানিয়েছেন, অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী অধ্যক্ষ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষার্থীর জীবন নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলার সাহস কেউ না পায়।

একই সাথে, বিশেষ বিবেচনায় পরীক্ষা নেওয়ার কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।


প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আইনি বাধা নেই

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০

দেশের ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান সকল আইনি জটিলতা নিরসন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি মামলায় চূড়ান্ত রায় প্রদান করেছেন। আদালতের এই রায়ের ফলে দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা প্রধান শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করতে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।

এর আগে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন যে, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রধান শিক্ষকের তীব্র সংকট দূর করতে সরকার ৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। তবে একটি আইনি রিট ও আদালতের পূর্ববর্তী স্থগিতাদেশের কারণে এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়াটি থমকে ছিল। আপিল বিভাগের আজকের এই রায়ের মাধ্যমে সেই স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়ায় এখন নিয়োগের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

প্রধান শিক্ষক না থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। সরকারের পক্ষ থেকে এই সংকট মেটানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। আদালতের এই যুগান্তকারী রায়ের ফলে এখন সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের গতি ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সারা দেশে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু, ডিজিটাল নজরদারিতে কেন্দ্রগুলো

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্র এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পৃথক প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে সারা দেশে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে এবার প্রতিটি কেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তা ও আধুনিক ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। নজরদারির অংশ হিসেবে সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের নিয়ম চালু করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই পরীক্ষা চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত।

এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন। এ ছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসেছে। পরীক্ষার প্রথম দিনে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে বাংলা প্রথমপত্র বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আলিমের কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (বিএমটি) বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে, যেখান থেকে সরাসরি দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ বছর ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রের মাধ্যমে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে কেন্দ্র রয়েছে ১ হাজার ৬২৬টি, মাদ্রাসার জন্য ৪৬১টি এবং কারিগরি বোর্ডের জন্য ৬১০টি কেন্দ্র বরাদ্দ করা হয়েছে। ২১ দিনব্যাপী এই প্রক্রিয়ায় মোট ৭৭টি বিষয়ের পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে।

সময়সূচি অনুযায়ী, সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে আগামী ৮ আগস্ট এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা চলবে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের তাত্ত্বিক পরীক্ষাগুলো জুলাই থেকে শুরু হয়ে আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। বোর্ডভিত্তিক হিসেবে দেখা গেছে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৩৯৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এ ছাড়া রাজশাহী, যশোর, দিনাজপুর ও চট্টগ্রামসহ অন্যান্য বোর্ডেও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কেন্দ্রগুলোর আশেপাশে জনসাধারণের প্রবেশে বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।


এইচএসসি পরীক্ষা বৃহস্পতিবার শুরু, সব বোর্ডে এবার একই প্রশ্নপত্র

* বেড়েছে পরীক্ষার্থী, কেন্দ্র ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা * কেন্দ্র ২ হাজার ৯৯৭টি, ঝুঁকিপূর্ণ ১৪৫টির মধ্যে ৪০টিই ঢাকায় * প্রশ্নফাঁস রোধে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা * সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনই লক্ষ্য
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশজুড়ে উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট বা এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) শুরু হচ্ছে। এবারের পরীক্ষার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সব শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হবে। শিক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রশ্নফাঁস রোধে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ১৯ হাজার ৪৭২ জন। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন। মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে অংশ নিচ্ছেন ২ লাখ ৮৬৯ জন। বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষার মাধ্যমে শুরু হবে এবারের পরীক্ষা।

এবার দেশের ২ হাজার ৯৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা হবে। এর মধ্যে ১৪৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে শিক্ষা কর্তৃপক্ষ। এসব কেন্দ্রের মধ্যে ৪০টি ঢাকায়। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে প্রশ্নপত্র বিতরণ, উত্তরপত্র সংরক্ষণ, ক্যালকুলেটর ব্যবহারের নিয়ম, শৌচাগার তল্লাশিসহ ৩৫ দফা নির্দেশনা জারি করেছে শিক্ষা কর্তৃপক্ষ।

আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেছেন, প্রশ্নফাঁসের কোনো সম্ভাবনা নেই। সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্রশ্নফাঁসের মতো কোনো ঘটনা ঘটলে সেদিনের পরীক্ষা সারা দেশে স্থগিত করে পরে নতুন প্রশ্নপত্রে নেওয়া হবে। নকল প্রতিরোধে সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিং সেল স্থাপন করা হয়েছে। মনিটরিং সেলে বসে বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তের যেকোনো কেন্দ্রের পরীক্ষা মনিটরিং করা যাবে। এ ছাড়া, কেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তার কাছে বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। ফলে পরীক্ষাকেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কম থাকবে।

বুধবার (১ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

‎মূল তথ্য তুলে ধরে মাহদী আমিন জানান, এবার ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। সব বোর্ডে এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩। মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ২ হাজার ৬৯৭ এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯ হাজার ৪৩৯।

‎যেদিন পরীক্ষা হবে না, সেদিন প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলেও জানান মাহদী আমিন। তিনি জানান, এ ছাড়া নকলের জন্য পরিচিত কিছু কেন্দ্র বাতিল করা হয়েছে। তবে হাওর, পার্বত্য অঞ্চল ও দুর্গম চরাঞ্চলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কিছু কেন্দ্র এখনো আছে। সেভেন্থ ডে অ্যাডভান্টিস্ট সম্প্রদায়ের পরীক্ষার্থীদের শনিবারের পরীক্ষা বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষাকেন্দ্রে সূর্যাস্তের পর হবে।

‎মাহদী আমিন জানান, ২০২৫ সালে পরীক্ষার্থীর (নিয়মিত ও অনিয়মিত) সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৮, এর মধ্যে ছাত্র ছিল ৪ লাখ ৯১ হাজার ২৮৪ জন ও ছাত্রী ছিল ৫ লাখ ৬৪ হাজার ১১৪ জন। ২০২৬ সালে মোট পরীক্ষার্থীর (নিয়মিত ও অনিয়মিত) সংখ্যা ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪। এর মধ্যে ছাত্র ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪০৬ জন ও ছাত্রী ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৩০৮ জন। ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে ১৪ হাজার ৩১৬ জন পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। এর মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ১২২ জন ও ছাত্রী ১৩ হাজার ১৯৪ জন।

‎আর ২০২৫ সালে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৮০৮। ২০২৬ সালে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪ হাজার ৮৮৫। ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ৭৭টি।

‎এ ছাড়া, ২০২৫ সালে পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬০৫। ২০২৬ সালে পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা ১ হাজার ৬২৬। এবার কেন্দ্র বেড়েছে ২১টি।

‎অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, এবার পাবলিক পরীক্ষা আইনে পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন আইনে অনেক কড়াকড়ি এসেছে। ফলে অন্যবারের তুলনায় এবার পরীক্ষা সুষ্ঠু হবে। এ ছাড়া পরীক্ষায় খাতা মূল্যায়নকারীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগামী বছরের এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি এগিয়ে আনা হয়েছে। আগামী বছর কারিকুলামে পরিবর্তন করা হবে। ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।


উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা বৃহস্পতিবার থেকে, পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৬৭ হাজার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার। প্রথম দিনে দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিমে কোরআন মাজিদ ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসির (বিএমটি) বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

সব বোর্ডে সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা শুরু হয়ে চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। তবে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই ৩০ মিনিট আগেই কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে।

এ বছর নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নিতে ফরম পূরণ করেছেন ১২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৬ জন পরীক্ষার্থী। সারাদেশের দুই হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে তাদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

বোর্ডভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ঢাকা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৩১০টি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা দেবেন তিন লাখ ৩৯৩ জন। রাজশাহী বোর্ডে ২০৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী এক লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, দিনাজপুরে ২১২টি কেন্দ্রে এক লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন, যশোর বোর্ডে ২৪০টি কেন্দ্রে এক লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন।

চট্টগ্রামের ১১৪টি কেন্দ্রে এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন, সিলেটের ৯৬টি কেন্দ্রে ৭১ হাজার ৭১১ জন, কুমিল্লার ১৯৩টি কেন্দ্রে ৯৪ হাজার ৮০২ জন, ময়মনসিংহের ১১১টি কেন্দ্রে ৭৩ হাজার ৩৭ জন এবং বরিশালের ১৪২টি কেন্দ্রে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ বছর সারা দেশে ৪৬১টি পরীক্ষা কেন্দ্রে মোট ৯২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবেন। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এক লাখ সাত হাজার ৯৬৪ জন।

থাকছে ডিজিটাল নজরদারি: এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কেন্দ্র পরিচালনা, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, পরীক্ষার্থী প্রবেশ, কক্ষ ব্যবস্থাপনাসহ সব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। পরীক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ৮টা থেকে কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে সবাইকে নির্ধারিত কক্ষে প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে দেরিতে আসা শিক্ষার্থীদের তথ্য রেজিস্ট্রারে সংরক্ষণ করে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া যাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এবার নকল প্রতিরোধে ডিজিটাল নজরদারি চলবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অভিন্ন প্রশ্নপত্র হওয়ায় কোনো এলাকায় বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে সারাদেশে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে ভিন্ন চিন্তাও রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি বিবেচনায় তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

পরীক্ষাকেন্দ্রের ২০০ গজে প্রবেশ নিষিদ্ধ: পরীক্ষাকেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ও পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। একই সঙ্গে পরীক্ষা চলাকালে নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনাও জারি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আয়োজন নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অরডিন্যান্সের ক্ষমতাবলে পরীক্ষার্থী ও পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আগামী ২ জুলাই থেকে পরীক্ষা চলাকালীন পুরো সময় এ আদেশ কার্যকর থাকবে।

অপর এক গণবিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি জানায়, পরীক্ষার্থীদের হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে রওনা হতে হবে। ব্যক্তিগত যানবাহনে আসা পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রের সামনে না নেমে নিকটবর্তী সুবিধাজনক স্থানে নেমে হেঁটে কেন্দ্রে যেতে হবে। একইভাবে, পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে কাছাকাছি কোনো স্থান থেকে গাড়িতে উঠতে হবে।


এইচএসসি পরীক্ষা: কেন্দ্রের ২০০ গজের ভেতর বহিরাগত প্রবেশে ডিএমপির নিষেধাজ্ঞা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাগুলো সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে বিশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ব্যতীত অননুমোদিত সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদের স্বাক্ষর করা এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয় যে, রাজধানীর প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে জনসাধারণের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

আগামী ২ জুলাই থেকে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন কেন্দ্রে ২০২৬ সালের এইচএসসি, এইচএসসি (ভোকেশনাল), এইচএসসি (বিএম/বিএমটি), ডিপ্লোমা ইন কমার্স ও আলিম পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রগুলোতে উপযুক্ত ও নিশ্ছিদ্র পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৬-এর ২৮ ও ২৯ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ডিএমপির বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পরীক্ষার দিনগুলোতে কেন্দ্রগুলোর চারপাশে ২০০ গজ সীমানার মধ্যে পরীক্ষার্থী এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি আইনত দণ্ডনীয় হবে।

পুলিশের এই নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২ জুলাই থেকে পরীক্ষা চলাকালীন প্রতিদিন এই আদেশ কার্যকর থাকবে। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় বহিরাগতদের সমাগম রোধে আইনশৃ্ঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে বলে জানানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের এই নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ছাড়াই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে।


জুলাই থেকে মাদ্রাসা শিক্ষকরা বকেয়াসহ নিয়মিত বেতন পাবেন: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে মঙ্গলবার (৩০ জুন) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, আগামী জুলাই মাস থেকে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন নিয়মিতভাবে প্রদান করা হবে। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফাজিল ও কামিল স্তরের শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, বকেয়া থাকা দুই মাসের বেতনও জুলাই মাসেই পরিশোধ করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে এনটিআরসির মাধ্যমে প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা সময়ের দাবি ছিল। তিনি বলেন, “শিক্ষক ছিলোনা তাই তো এসব পদে নিয়োগ দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করেছে, যা প্রশংসনীয় উদ্যোগগুলোর মধ্যে একটি। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার বাজেটে টাকা রাখেনি।” তিনি আরও জানান, নতুন শিক্ষক নিয়োগের পর বিশাল অংকের অর্থের প্রয়োজন হলেও পূর্ববর্তী বাজেটে তার সংস্থান ছিল না। মন্ত্রীর ভাষায়, “সরকার গঠনের পর দেখা গেল ৫০১ কোটি টাকা প্রয়োজন কিন্তু সেটাও নেই। অন্তর্বর্তী সরকার বাজেটে টাকা রাখেনি বলে মাদরাসা শিক্ষকদের ২ মাসের বেতন দেওয়া যায়নি। তবে জুলাই মাস থেকে বকেয়াসহ বেতন নিয়মিত হবে।”

ইসলামিক শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “ইসলামী শিক্ষায় যারা পড়াশোনা করছেন তাদের দল মতের উর্ধে উঠে জীবনযাপন করতে হবে।” এ সময় তিনি জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষার্থীদের ইসলামের মূল ধারায় অবিচল থাকার পরামর্শ দেন।

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. মোহাম্মদ ইলিয়াছ ছিদ্দিকী। এ ছাড়াও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, শিক্ষক এবং কৃতি শিক্ষার্থীরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বকেয়া বেতন পাওয়ার এই ঘোষণায় দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটতে শুরু করেছে মাদ্রাসা শিক্ষকদের মাঝে।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৩৩ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জন্য ১ হাজার ৩৩ কোটি ২১ লাখ ৮৩ হাজার টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে বাজেটে গবেষণা খাতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পক্ষ থেকে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

সোমবার (২৯ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সিনেটের বার্ষিক অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে কোষাধ্যক্ষ এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, ১ হাজার ৩৩ কোটি ২১ লাখ ৮৩ হাজার টাকার প্রস্তাবিত বাজেটের মধ্যে ৯৪৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা দেবে ইউজিসি, আর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব খাত থেকে আসবে ৮৫ কোটি টাকা। ফলে কমপক্ষে ৮৩ কোটি ৮৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ঘাটতি থাকবে।

কোষাধ্যক্ষ বলেন, ‘পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে গবেষণা খাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে গবেষণা খাতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দুঃখজনক।’

তিনি বলেন, ‘অন্যদিকে এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেমন সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন কিংবা জাপানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মোট বাজেটের ১০ থেকে ২৫ শতাংশ শুধুমাত্র মৌলিক ও ফলিত গবেষণার জন্য ব্যয় করে থাকে।’

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ বরাদ্দের মোট চাহিদার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৪২২ কোটি ৬৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। চাহিদামতো বরাদ্দ না পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল বাজেট নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৩৩ কোটি ২১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা।’

তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত পরিচালন বাজেটের ব্যয়ের কাঠামো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর সিংহভাগই বেতন-ভাতা ও পেনশন বাবদ ব্যয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও আনুষঙ্গিক সুবিধা, পেনশন ও অবসর-সুবিধা মিলিয়ে ব্যয়ের একটি বড় অংশ নির্ধারিত থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অবশিষ্ট অংশ থেকে পণ্য ও সেবা, মেরামত ও সংরক্ষণ, গবেষণা মঞ্জুরি এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় নির্বাহ করতে হয়। ফলে গবেষণা, গ্রন্থাগার সমৃদ্ধকরণ, ল্যাবরেটরি আধুনিকায়ন ও শিক্ষার্থী-কল্যাণের মতো অত্যাবশ্যক খাতে পর্যাপ্ত অর্থ রাখা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়ে।’

ইউজিসির বরাদ্দকে অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে কোষাধ্যক্ষ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা, গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মাধ্যমে সরকার যে অর্থ দেয়, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে গবেষণা ও শিক্ষার্থীদের চাহিদা মেটাতে নিয়মিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ফান্ড আসে না।’

তিনি বলেন, ‘উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের সমৃদ্ধ দান-তহবিল, শিল্প-সংযোগ ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অনুদানের মাধ্যমে আর্থিক স্বাবলম্বিতা অর্জন করেছে। আমাদেরও সেই পথে হাঁটতে হবে। এ লক্ষ্যে অ্যালামনাইদের কাছ থেকে আমরা এ খাতে পর্যাপ্ত সহায়তা প্রত্যাশা করি।’


banner close