ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজকে আলাদা করে স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। বুধবার ঢাকা কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্তি থেকে ঐতিহ্যবাহী কলেজগুলোকে আলাদা করে একটি স্বতন্ত্র-প্রাতিষ্ঠানিক রূপ কীভাবে দেওয়া যায় সে জন্য একটি কমিটি করেছিলাম। এ কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদনের কাজ শেষ পর্যায়ে। এখন অতি শিগগিরই একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি করতে যাচ্ছি। যারা এই কলেজগুলোকে একটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে।’ এসময় উপদেষ্টা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘কলেজগুলোকে কীভাবে আরও স্বায়ত্তশাসন দেওয়া যায়, তাদের সুযোগ-সুবিধা, অবকাঠামো-কীভাবে আরও বাড়ানো যায় এবং সেগুলোকে কি করে সমন্বিত রূপ দেওয়া যায়, সেটার নাম তোমাদের সবার সঙ্গে আলোচনা করেই দেওয়া হবে। মনে রেখো, যে নামই দাও না কেন-আসল কথা হলো তোমাদের শিক্ষার মানের উন্নতি, শিক্ষায় বৈষম্য রোধ করা।’
তিনি আরও বলেন, ‘নামকরণ তোমরা যা ইচ্ছে দাও, মনে রেখ লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস স্কুল না, এমআইটিও ইনস্টিটিউট না। কাজেই তোমাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে কি নাম দেবে, সেটা তোমরাই ঠিক করবে।’ শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন যে কমিটি গঠন করা হবে, তাদের কাজ তোমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাবে। এটার জন্য বসে থেকে লাভ হবে না। কারণ আমাদের সময় অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। আমরা এখন থেকেই নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে পর্যায়ক্রমে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যাবে সেগুলোর কাজ শুরু করব। যাতে তোমাদের জন্য সবচেয়ে একটা সম্মানজনক একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।’
বর্তমানে প্রচলিত একাডেমিক কার্যক্রম যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে দিকে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘বর্তমানে যারা অনার্স বা এমএতে অধ্যয়ন করছে, তাদের পড়াশোনা যেন কোনোভাবেই বিঘ্ন না হয়। বরং যে অসুবিধাগুলো আছে তা সমাধানে এখনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আলোচনা করব। তাদের অনুরোধ করব যে, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে যে অসুবিধা আছে সেগুলো দূর করতে।’ রাস্তা অবরোধ নিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাদের স্বল্প সময়ে একটা দৃষ্টান্ত তৈরি করে রেখে যেতে চাই। যাতে ভবিষ্যৎ সরকারের কাছে এটা নিদর্শন হিসেবে থাকে। তোমাদের কোনো অভিযোগ থাকলে আমাদের কাছে জানিও। তবে আর রাস্তা অবরোধ নয়, বিশৃঙ্খলা নয়। আমরা শিক্ষাঙ্গনে সুষ্ঠু পরিবেশ চাই।’
২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ১০টায় প্রকাশিত এই ফলাফলে দেখা গেছে, এ বছর গড় পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ এবং মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৮.৪৫ শতাংশ, যা থেকে এবার ৬.২ শতাংশ পাসের হার হ্রাস পেয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণের লক্ষ্যে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। এর মধ্যে সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ছিল ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন পরীক্ষার্থী। এ ছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। গত ২১ এপ্রিল শুরু হওয়া এই লিখিত পরীক্ষা সাধারণ বোর্ডগুলোতে ২০ মে এবং অন্যান্য বোর্ডে ২৪ মে শেষ হয়। সাধারণত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশের রেওয়াজ থাকলেও বিভিন্ন কারণে এবার নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ পর ফলাফল প্রকাশ করা হলো।
পরীক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডগুলোর নির্ধারিত ওয়েবসাইট ছাড়াও ‘eduboardresult.gov.bd’ এবং ‘educationboardresults.gov.bd’ থেকে বিস্তারিত ফলাফল জানতে পারছেন। এ ছাড়া মোবাইলে ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে ফল পেতে ‘SSC’ লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, স্পেস দিয়ে রোল নম্বর এবং পুনরায় স্পেস দিয়ে পরীক্ষার বছর লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হচ্ছে। ঢাকা বোর্ডের জন্য ‘SSC DHA ROLL YEAR’, মাদ্রাসার জন্য ‘SSC MAD ROLL YEAR’ এবং কারিগরির ক্ষেত্রে ‘SSC TEC ROLL YEAR’ লিখে নির্ধারিত নম্বরে বার্তা পাঠাতে হবে। প্রতিটি এসএমএসের জন্য ভ্যাটসহ ১ টাকা ৩৯ পয়সা চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়েও ফলাফল জানার সুযোগ রাখা হয়েছে।
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড পৃথকভাবে তাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফলাফল দেখার বিশেষ ব্যবস্থা করেছে। কারিগরি বোর্ড জানিয়েছে যে তাদের প্রতিষ্ঠানের কোড ব্যবহার করে পূর্ণাঙ্গ রেজাল্ট শিট ডাউনলোড করা যাবে এবং গ্রেডভিত্তিক ট্রান্সক্রিপ্টও অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট ‘bmeb.gov.bd’ এর মাধ্যমেও দাখিল পরীক্ষার বিস্তারিত ফলাফল সংগ্রহ করা যাচ্ছে। যারা প্রকাশিত ফলাফলে সন্তুষ্ট হতে পারবে না, তাদের জন্য পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ রেখেছে বোর্ডগুলো। আগামী ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে এই আবেদন গ্রহণ করা হবে এবং এ সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটগুলোতে প্রকাশ করা হয়েছে।
চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে আগামী সোমবার (১০ আগস্ট)। এদিন সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরীক্ষার ফল উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সময় থেকে পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে গত রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে ।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ফল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেশের সকল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানগণ শিক্ষামন্ত্রীর নিকট পরীক্ষার ফলাফলের পরিসংখ্যান হস্তান্তর করবেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, সোমবার সকাল ১০টায় একযোগে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে। শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইট ছাড়াও ‘eduboardresult.gov.bd’ এবং ‘educationboardresults.gov.bd’ থেকে বিস্তারিত ফলাফল জানতে পারবেন।
পরীক্ষার্থীরা ঘরে বসেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ফলাফল পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এজন্য মেসেজ অপশনে গিয়ে ‘SSC’ লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, এরপর স্পেস দিয়ে রোল নম্বর এবং পুনরায় স্পেস দিয়ে পরীক্ষার বছর লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি বার্তায় ফল জানিয়ে দেওয়া হবে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের জন্য ‘SSC DHA ROLL YEAR’, মাদ্রাসা বোর্ডের জন্য ‘SSC MAD ROLL YEAR’ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের জন্য ‘SSC TEC ROLL YEAR’ লিখে নির্ধারিত নম্বরে পাঠাতে হবে। প্রতিটি বার্তার জন্য সরকার নির্ধারিত ভ্যাটসহ ১ টাকা ৩৯ পয়সা চার্জ প্রযোজ্য হবে। এ ছাড়া ১৬২২২ নম্বরে পাঠিয়েও ফল জানা যাবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণের জন্য ফরম পূরণ করেছিল। এর মধ্যে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজস্ব প্যানেল ও ইআইআইএন (EIIN) ব্যবহার করে বোর্ড থেকে ফল ডাউনলোড করে প্রকাশ করতে পারবে।
প্রকাশিত ফলাফলে কেউ অসন্তুষ্ট হলে বা ফলাফল চ্যালেঞ্জ করতে চাইলে আগামী ১১ আগস্ট থেকে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে। আবেদন প্রক্রিয়া চলবে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অনলাইনে নির্ধারিত ফি প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এই আবেদন করতে পারবেন এবং এ সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। সরকারের এই মহতী উদ্যোগের ফলে দ্রুততম সময়ে শিক্ষার্থীরা তাদের পরবর্তী শিক্ষাজীবনের পরিকল্পনা করতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণিতে কোনো ধরনের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না, বরং লটারির মাধ্যমেই শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও স্পষ্ট করা হয় যে, কেবল প্রথম শ্রেণি বাদে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অন্যান্য সকল শ্রেণিতে যথারীতি ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
এর আগে গত ১৬ মার্চ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন লটারি পদ্ধতি বাতিল করে ভর্তি পরীক্ষা চালুর ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন যে লটারি ব্যবস্থা তুলে দিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে।
তবে মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এই নতুন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রথম শ্রেণির ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্তটি বদল করে পূর্বের লটারি পদ্ধতিতেই আস্থা রাখা হলো।
উল্লেখ্য, দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২০১১ শিক্ষাবর্ষে প্রথম লটারির মাধ্যমে প্রথম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হয়েছিল, যা পরবর্তী বছরে বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোতেও কার্যকর করা হয়।
তৎকালীন সময়ে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা বলবৎ থাকলেও পরবর্তীতে কোভিড-১৯ মহামারির প্রাক্কালে ২০২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব শ্রেণিতে লটারির বাধ্যবাধকতা চালু করা হয় এবং এর পর থেকে সেই ধারা অব্যাহত ছিল।
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস (আইসিসিআর) বৃত্তি-২০২৬–এর জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এক বিশেষ বিদায় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর বারিধারায় অবস্থিত হাইকমিশন প্রাঙ্গণে এই উৎসবমুখর অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। সারা দেশ থেকে সংগৃহীত প্রায় ৭ হাজার ৭০০ আবেদনের মধ্য থেকে কঠোর যাচাই-বাছাই শেষে মোট ৫৪১ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে এই মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তির জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ভারতের স্বনামধন্য ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানান। বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে একাডেমিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে ভারতের ধারাবাহিক সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি শিক্ষার্থীদের ভারতে বাংলাদেশের ‘সাংস্কৃতিক রাষ্ট্রদূত’ হিসেবে নিজেদের তুলে ধরার পরামর্শ দেন এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক ও চিরস্থায়ী মৈত্রীর বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে উৎসাহিত করেন।
অনুষ্ঠানটিতে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। আনুষ্ঠানিক আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীরা একে অপরের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করেন এবং সেলফি তুলে বিশেষ মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করেন। সংবর্ধনার শেষ পর্বে আইসিসিআর বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। মূলত এই বৃত্তির মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে শিক্ষা ও সংস্কৃতির আদান-প্রদান আরও গতিশীল হবে বলে আয়োজকরা আশা ব্যক্ত করেছেন।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের যোগদানের আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণা করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। রোববার (২ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখা থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয় যে, নির্বাচিত প্রার্থীরা আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে নিজ নিজ জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন।
মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রাজীব কুমার সরকার স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, যোগদানের পরপরই নবনিযুক্ত শিক্ষকদের পদায়ন করা হবে এবং পরবর্তীতে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর আগে গত ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত এক জরুরি ভার্চ্যুয়াল সভায় যোগদানের প্রাথমিক তারিখ ২৯ অক্টোবর নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। সেই সময় সংশ্লিষ্ট সচিব জানিয়েছিলেন যে, তদন্তসহ অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে সরকার যত দ্রুত সম্ভব নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চায়।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেনের নির্দেশনায় এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর শেষ পর্যন্ত ১ অক্টোবরকেই যোগদানের চূড়ান্ত সময়সীমা হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়। এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নিয়োগের মাধ্যমে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষক যুক্ত হতে যাচ্ছেন, যা শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে নবনির্বাচিত শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। চলতি বাজেটে মোট জিডিপির ২ শতাংশ শিক্ষাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আগামীতে এটি পাঁচ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন মন্ত্রী।
জমকালো আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিয়েছে প্রশাসন। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলানায়তনে এটি দুটি পর্বে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মতিনুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালে যোগ দেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এমপি ও শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক ও ওরিয়েন্টেশন বক্তা প্রফেসর ড. এস এম আব্দুল আওয়াল, ইউজিসির সদস্যও প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. তোজাম্মেল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রোভিসি প্রফেসর ড. এমতাজ হোসেন ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. ইদ্রিস আলী, মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্পর্ক অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আলম শাহ্। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মনজুরুল হকসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় সভাপতি, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দুই-সহস্রাধিক নবীন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, মহান আল্লাহতালার আশীর্বাদস্বরূপ আমাদের দেশে এই জনসম্পদকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে। আর এই দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বড় ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, লেখাপড়ার কোনো বিকল্প নেই। লেখাপড়া করতেই হবে এবং সময়কে কাজে লাগাতে হবে। দেশ গড়তে হবে, দেশ তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা চাই তোমরা এই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, যা চেয়েছেন আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান।
এছাড়া কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় একটি সেন্টার অব এক্সিলেন্স হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি আন্তর্জাতিকমানের হবে।
প্রাথমিক স্কুলের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশকৃত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষকের যোগদান অক্টোবর মাসে শুরু হবে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শনিবার (১ আগস্ট) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত এক জরুরি ভার্চ্যুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভা শেষে এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিকের জন্য সুপারিশ করা ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষকের যোগদানের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার। তদন্ত ও প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রিতাতে তা বিলম্বিত হয়েছে। আশা করি, আসন্ন ৩০ অক্টোবরের মধ্যে তাদের যোগদান প্রক্রিয়া শুরু হবে।’
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সনদপত্র ও ক্রেস্ট বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাকৃবি চত্বরে অবস্থিত দুটি কিন্ডারগার্টেনের মোট ২২ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়। বৃত্তির অংশ হিসেবে তাদের হাতে নগদ অর্থ, সনদপত্র ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। শনিবার (১ আগস্ট) বাকৃবির মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বিদ্যালয় টিএসসি মিনি কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া প্রধান অতিথি হিসেবে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র ও ক্রেস্ট তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল আলম। স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব তৌহিদা বেগম। মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুল ফাউন্ডেশনের সভাপতি জনাব মো. রেজাউল হক। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবুর রহমান, ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান প্রামাণিক, বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুল ফাউন্ডেশনের মহাসচিব জনাব মো. আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব মো. বেলাল হোসেন ভূঁইয়া এবং শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক জনাব সাম ছুদ্দিন আহাম্মেদ স্বজল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বর্তমানের এই অর্জন তোমাদের ভবিষ্যৎ সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে দেশ, জাতি, পরিবার এবং বিশ্বমানবতার কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করবে। তাদের এই অর্জনে অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং বিদ্যালয় কতৃপক্ষের আন্তরিক প্রচেষ্টা অবশ্যই প্রশংসনীয়। ছুটির দিনেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এই অনুষ্ঠান সফল করে তোলায় সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
এছাড়া অনুষ্ঠানে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুল ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় সাবেক উপাচার্য ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমসহ তিন শিক্ষক ও এক কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে নানা অনিয়ম ও অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও চার শিক্ষককে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক সব ধরনের কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অশিক্ষকসুলভ আচরণ ও নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের দায়ে অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম এবং অধ্যাপক ড. আফরোজা শেলীকেও সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। একই সভায় প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের দায়ে প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ কে এম মাহবুব মুস্তফাকে বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থি কর্মকাণ্ড, সরকার ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অবস্থানের অভিযোগে ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিতকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে অ্যাকাডেমিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগে ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সারা শামসুর রউফ এবং শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলামকেও দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে। এছাড়া গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির দায়ে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়।
বিগত ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা যাচাই এবং ‘হেকেপ’ প্রকল্পের গবেষণা তহবিলের যথাযথ ব্যয় পর্যালোচনার জন্য প্রো-উপাচার্যদের নেতৃত্বে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সাথে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন মলচত্বরে ‘জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ’ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার ভিত্তিপ্রস্তর আগামী ৫ আগস্ট উদ্বোধন করা হবে।
কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে যেন ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। দীর্ঘদিন পর আবারও এই বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন কুমিল্লা অঞ্চলের সিনিয়র প্রধান শিক্ষিকা রোকসানা ফেরদৌস মজুমদার। তাঁর পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণকে ঘিরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
শিক্ষা প্রশাসনের এক আদেশে তাকে তার পুরোনো কর্মস্থল ও ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুনর্বহাল করা হয়। এর আগে ২০০৮ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৩ বছর তিনি দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নেতৃত্ব দেন। তাঁর যোগ্য ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডসহ দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে সুনাম অর্জন করে।
রোকসানা ফেরদৌস মজুমদারের নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল, গণিত অলিম্পিয়াডসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে। পাশাপাশি বিভিন্ন বৃত্তি অর্জনের ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখে। তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা, শিক্ষার মানোন্নয়নে আন্তরিকতা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব নেতৃত্ব বিদ্যালয়ের সাফল্যের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, রোকসানা ফেরদৌস মজুমদারের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, প্রশাসনিক দক্ষতা, শিক্ষার মানোন্নয়নে আন্তরিকতা, সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে উৎসাহ এবং শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ তাঁকে একজন সফল শিক্ষানেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাঁর নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও সার্বিক কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
কুমিল্লা শহরের পুরাতন চৌধুরীপাড়া এলাকার সন্তান রোকসানা ফেরদৌস মজুমদার। তাঁর বাবা ইঞ্জিনিয়ার মোখলেছুর রহমান। পুরাতন চৌধুরীপাড়ার মসজিদসংলগ্ন এলাকায় তাঁর শৈশব ও বেড়ে ওঠা। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন এই শিক্ষানেত্রী। তাঁর পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণে বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীরা।
বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, রোকসানা ফেরদৌস মজুমদারের অভিজ্ঞ ও দক্ষ নেতৃত্বে নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। একই সঙ্গে অতীতের গৌরবময় সাফল্যের ধারাবাহিকতা আরও সমৃদ্ধ হবে এবং কুমিল্লার অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই বিদ্যাপীঠে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে পড়বে আরও বিস্তৃত পরিসরে।
পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে প্রধান শিক্ষিকা রোকসানা ফেরদৌস মজুমদার বলেন, “এটি সরকারি চাকরি। সরকার যখন যে আদেশ দেয়, তা মেনে চলতে হয়। আমি চেষ্টা করব, অতীতের মতো নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়কে এমন একটি পর্যায়ে নিয়ে যেতে, যাতে প্রতিষ্ঠানটি তার সুনাম ধরে রেখে সারা দেশে আলোচনায় থাকে। সবার সহযোগিতা থাকলে যেকোনো কাজই সহজ হয়ে যায়।”
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে ৪টি পৃথক ক্যাটাগরিতে জনবল নিয়োগের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি মূলত ৬২তম বিএমএ স্পেশাল (সিগন্যালস/ইএমই/এইসি) এবং ৫৫তম বিএমএ স্পেশাল (আরভিএন্ডএফসি) কোর্সের অধীনে পরিচালিত হবে। সিগন্যালস কোরের জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা ইলেকট্রিক্যাল ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বা সমমানের বিষয়ে ৪.০০ এর মধ্যে কমপক্ষে ৩.০০ সিজিপিএ থাকতে হবে। ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা ইএমই কোরের জন্য মেকানিক্যাল অথবা ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে একই পরিমাণ সিজিপিএ অর্জনকারী প্রার্থীরা আবেদনের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। অন্যদিকে, আর্মি এডুকেশন কোরের জন্য অর্থনীতি, বিবিএ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং মেডিকেল ফিজিসিস্ট বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ে ৩.০০ সিজিপিএ চাওয়া হয়েছে। এছাড়া রিমাউন্ট ভেটেরিনারি অ্যান্ড ফার্ম কোরে আবেদনের জন্য ভেটেরিনারি সায়েন্স বা অ্যানিম্যাল হাজব্যান্ড্রি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের সুযোগ রাখা হয়েছে।
শারীরিক যোগ্যতার ক্ষেত্রে পুরুষ প্রার্থীদের উচ্চতা কমপক্ষে ১.৬৩ মিটার বা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি এবং নারী প্রার্থীদের জন্য ১.৫৫ মিটার বা ৫ ফুট ১ ইঞ্চি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রার্থীদের ওজন বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী আনুপাতিক হারে থাকতে হবে। ১ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে প্রার্থীর বয়স অনূর্ধ্ব ২৮ বছর হতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না। বৈবাহিক অবস্থার শর্ত হিসেবে পুরুষ প্রার্থীদের অবিবাহিত হতে হবে, তবে ওই তারিখে যাদের বয়স ২৬ বছরের বেশি হবে তারা বিবাহিত হলেও আবেদন করতে পারবেন। নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে অবিবাহিতা বা বিবাহিতা উভয় সুযোগই রাখা হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য সরকার নির্ধারিত বেতনক্রম অনুযায়ী বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হবে।
আবেদনের ক্ষেত্রে কিছু অযোগ্যতাও নির্ধারণ করা হয়েছে, যেমন সরকারি চাকরি বা প্রশিক্ষণ থেকে বরখাস্ত হওয়া, ফৌজদারি অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত হওয়া কিংবা দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ব্যক্তিরা এই পদের জন্য যোগ্য হবেন না। এছাড়া আইএসএসবি কর্তৃক নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে দুবার প্রত্যাখ্যাত প্রার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন না। আগ্রহী প্রার্থীদের সেনাবাহিনীর নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ‘Apply Now’ অপশনে ক্লিক করে ৫০০ টাকা আবেদন ফি জমা দেওয়ার মাধ্যমে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। ২৮ জুলাই ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া এই আবেদন প্রক্রিয়া আগামী ২৪ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত চলমান থাকবে।
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের চূড়ান্ত দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১০ আগস্ট এই ফল আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল খালেক গণমাধ্যমকে তথ্যটি নিশ্চিত করে বলেন, “এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের জন্য ১০ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।” ওইদিন ফলাফল ঘোষণার পর পরীক্ষার্থীরা প্রচলিত পদ্ধতিতে শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট, নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবেন।
এর আগে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, বিভিন্ন অনিবার্য কারণে নির্ধারিত সময়ে ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে ফল প্রস্তুতের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চূড়ান্ত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এবারের মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডসহ মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে ১৮ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে।
আকস্মিক বন্যার কারণে তিন সপ্তাহের স্থবিরতা কাটিয়ে আজ থেকে আবারও শুরু হচ্ছে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন পাঁচ জেলার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। সংশ্লিষ্ট এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সাংবাদিকদের এ কথা জানান যে, "বন্যার কারণে স্থগিত হওয়া চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন ৫ জেলার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে আজ।" এই নির্দেশনার ফলে চট্টগ্রামসহ রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার পরীক্ষার্থীরা দীর্ঘ বিরতির পর পুনরায় পরীক্ষা কেন্দ্রে ফিরছে। একই সময় সারা দেশের অন্য নয়টি সাধারণ বোর্ড এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও পূর্বনির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ডের হালনাগাদ সূচি অনুসারে, আজকের সকালের অধিবেশনে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডসমূহে পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, জীববিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্র এবং ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা প্রথম পত্রের পরীক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং বিকেলে খাদ্য ও পুষ্টি প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। মাদ্রাসা বোর্ডের আলিম পরীক্ষার্থীরা আজ ইসলামের ইতিহাস, পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র এবং তাজভিদ দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। এছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট-১ বিষয়ের পরীক্ষা সম্পন্ন হবে।
সাম্প্রতিক বন্যায় যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষয়ক্ষতি ও শিক্ষার্থীদের প্রতিকূল অবস্থার কারণে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছিল, "বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি, পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়কপথের কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াতের চরম দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।" আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তৎকালীন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অবশিষ্ট বিষয়গুলোর পরীক্ষা বন্ধ থাকলেও সংশোধিত সূচি অনুযায়ী আজ থেকে সকল শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় সচল হয়েছে।