শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪

ফটকের সামনে বাস কাউন্টার, নিরাপত্তাহীনতায় শিক্ষার্থীরা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় ফটকের সামনে অবৈধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা বাসের সারি। সম্প্রতি তোলা। ছবি: দৈনিক বাংলা
মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত
মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত : ১২ নভেম্বর, ২০২২ ০৯:১৫

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) তৃতীয় ফটক। কিন্তু ফটকের সামনেই অবৈধ বাসস্ট্যান্ড। তাতে তীব্র যানজট লেগেই থাকে ওই এলাকাজুড়ে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সাধারণ জনগণের ভোগান্তির শেষ নেই। সড়ক দুর্ঘটনা, চাঁদাবাজি ও যৌন হয়রানি এখানের নিয়মিত ঘটনা। এ ছাড়া ফটকের দেয়ালঘেঁষে বসা বিভিন্ন ফেরিওয়ালা পথচারীদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

অবৈধ এ বাসস্ট্যান্ডের কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জবি শিক্ষার্থীরা। এখানে দাঁড়িয়ে থাকা পরিবহন শ্রমিকরা প্রায়ই বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের শ্লীলতাহানিসহ নানাভাবে হয়রানি করে থাকেন। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তৃতীয় ফটকটি বন্ধ করে দেয়ার কথা ভাবছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতেই তানজিল পরিবহনের একটি বাসের চালকের সহকারীর সঙ্গে ১৪তম ব্যাচের এক নারী শিক্ষার্থীর বাগ্‌বিতণ্ডা হলে একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীকে শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

সর্বশেষ মাস দুয়েক আগেও সংগীত বিভাগের তিন শিক্ষার্থী বিহঙ্গ বাসে গুলিস্তান থেকে ক্যাম্পাসে যাওয়ার সময় চালকের সহকারীর সঙ্গে হাতাহাতি হয়। তাদের একজন শৈলী পাল দৈনিক বাংলাকে জানান, সেদিন রাতে সেই বাসের হেল্পার তার বান্ধবীর গায়ে হাত তোলে। এ ঘটনায় তারা সূত্রাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে এ ধরনের অভিযোগ জমা পড়ে নিয়মিতই। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রক্টর অফিস পুলিশ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে বাসমালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেও ফল আসেনি। উল্টো বাসমালিকদের অভিযোগ, কয়েকজন নারীকে দিয়ে এসব ঘটনা তৈরি করে জবির শিক্ষার্থীরাই চাঁদাবাজি করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন দিয়ে প্রবেশ ও বের হওয়ার প্রধান ফটক ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি বাস। সামনের ফুটপাতের ওপর বাস কাউন্টার থেকে টিকিট কাটার জন্য ভিড় জমিয়েছেন যাত্রীরা। এ কারণে ফুটপাত দিয়ে যাতায়াত করতে পারছেন না সাধারণ মানুষ।

এদিকে সপ্তাহের পাঁচ দিনই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত থাকে জবি ক্যাম্পাস। আবার শুক্র ও শনিবার আনাগোনা থাকে প্রফেশনাল বিভিন্ন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের। আশপাশের আরও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর চলাচল জনসন রোড ও লক্ষ্মীবাজার রোড দিয়ে। কিন্তু বাহাদুর শাহ পার্ক ও জবি সংলগ্ন উভমুখী রাস্তায় পরিবহন কাউন্টারের কারণে বাসগুলো একমুখী চলাচল করে। এতে প্রতিনিয়তই সেখানে যানজট লেগে থাকে।

এ বাসস্ট্যান্ডকে ঘিরে এখন প্রকাশ্যেই চলে চাঁদাবাজি। রাত ১০টার পর থেকে এর মাত্রা আরও বাড়তে থাকে। রিকশা, ভ্যান ও বাসসহ সব ধরনের যানবাহন থেকেই সিটি করপোরেশনের নামে তোলা হয় চাঁদা। তবে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে এর কোনো সংযোগ নেই।

সিটি করপোরেশনের নামে চাঁদা তোলার বিষয়ে জানতে চাইলে ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আব্দুর রহমান মিয়াজী কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তিনি এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কথা বলার জন্য পরামর্শ দেন। যোগাযোগ করলে সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, রিকশা-ভ্যানের মতো যানবাহন থেকে চাঁদা নেয়ার কোনো বিধান তাদের নেই।

অন্যদিকে গভীর রাতে প্রতিটি বাস থেকে পুলিশ ১০০ টাকা হারে চাঁদা নেয় বলে অভিযোগ পরিবহন শ্রমিকদের। তবে তাদের কেউ নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। ফটকের পাশে থাকা পুলিশ বক্সের ইনচার্জ ও কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক মো. নাহিদুল ইসলামও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এসব নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি পরিবহন মালিকরাও।

এদিকে অবৈধ এই বাসস্ট্যান্ড উচ্ছেদ করতে বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার শিকার হলেও তা নিয়ে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই প্রশাসনের। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশাসন তাদের কথা না ভেবে সদরঘাটের যাত্রীদের কথা ভাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল বলেন, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বাস এভাবে এলোমেলোভাবে জটলা পাকিয়ে থাকে না। সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনকে এ বিষয়ে বলা হয়েছে। এ ছাড়া রায়সাহেব বাজারে গাড়ি ঘোরানোর জায়গা নেই। এখন বাসস্ট্যান্ড যদি মুরগিটোলা হয়, তাহলে সদরঘাটের যাত্রীদের আবার গাড়ি ভাড়া দিয়ে যাওয়া-আসা করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘এখানে বাসস্ট্যান্ডের কোনো অনুমতি নেই। সাবেক উপাচার্য তার সময়ে প্রশাসনের সহায়তায় এটি ধোলাইখালে স্থানান্তর করেন। কিন্তু কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও অসাধু পুলিশ চাঁদাবাজি করার জন্যই এখানে বাসস্ট্যান্ড রেখেছে। আমিও মাঝেমধ্যে প্রকাশ্যেই চাঁদাবাজি করতে দেখেছি। ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে কথা বলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে প্রক্টরকে নির্দেশ দিয়েছি।’

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বিষয়গুলো জানানো হয়েছে। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ থেকে শুরু করে লালবাগ জোনের লোকেরা এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছে।

ফটকের সামনে বিশৃঙ্খল অবস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মী সংকটে এরই মধ্যে তৃতীয় গেট বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। উপাচার্য ইমদাদুল হক বলেন, এই গেট একেবারেই বন্ধ করে দেয়া হবে। গেট যত কম থাকে ততই ভালো, এতে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে থাকে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষীও কম।


২১, ২৩ ও ২৫ জুলাইয়ের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলমান এইচএসসি ও সমমানের আগামী ২১, ২৩ ও ২৫ জুলাইয়ের পরীক্ষা স্থগিত করেছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। আজ বৃহস্পতিবার আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে অনিবার্য কারণে আগামী ১৮ জুলাই বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য সব শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার পরিবর্তিত সময়সূচি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।

কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের পূর্বঘোষিত কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ উত্তরা-আজমপুর এলাকায় সড়ক অবরোধ করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এসময় গুলিতে শিক্ষার্থী-পথচারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। তাদের মরদেহ কুয়েতমৈত্রী হাসপাতালে রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে হাসপাতালটিতে আহত হয়ে আরও শতাধিক ব্যক্তি চিকিৎসা নিতে এসেছেন।

এদিকে উত্তরা-আজমপুর এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানিয়েছে, সংঘর্ষে প্রায় ২০০ জনের বেশি গুলিবিদ্ধ হয়ে সেখানে গেছে এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে যারা গুরুতর, তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।


নির্দেশনা থাকার পরও ঢাবিতে হল ছাড়তে চাইছেন না শিক্ষার্থীরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঢাবি প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে (ঢাবি) একাত্তর হল, কবি জসিম উদ্দীন হল, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলসহ আরও কিছু হল থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে খালি করা হচ্ছে।

এর আগে পুলিশ হল পাড়ার দিকে রাবার বুলেট ছুড়লে এক শিক্ষার্থী আহত হন। আহত শিক্ষার্থীর নাম আব্দুল হান্নান মাসউদ। তিনি কোটা আন্দোলনের একজন অন্যতম সমন্বয়ক। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বের হয়ে আসতে বললে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ব্যাগপত্র গুছিয়ে হলগুলো থেকে একে একে বের হয়ে আসেন।

এর আগে আজ বুধবার বিকেল থেকে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের মধ্যে হওয়া সংঘর্ষে শিক্ষার্থীরা হল পাড়া, মল চত্বরের দিকে অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট, টিয়ারগ্যাস আর সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেন। এতে কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়েছে কিনা সেটি জানা যায়নি। পুলিশের চতুর্দিক থেকে সাঁড়াশি অভিযানে শিক্ষার্থীরা হল পাড়ার দিকে এগিয়ে আসে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনে পুলিশ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে নিহতের ঘটনায় গায়েবানা জানাজা ও কফিন মিছিল আয়োজনকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মুহুর্মুহু সাউন্ড গ্রেনেড এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপ করছে পুলিশ।

দুপুর ২টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাষ্কর্যে শুরু হওয়ার কথা ছিলো। এর একটু পর আড়াইটার দিকে রাজু ভাষ্কর্যে আসেন গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির আহবায়ক এবং ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনসহ আরও তিনজন। আর তাদের পিছু পিছু আসেন একদল সমাজকর্মী। এসময় পুলিশ তাদের বাঁশি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করানোর চেষ্টা করলে মাটিতে শুয়ে পড়েন আখতার এবং তার সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন।

এসময় তিনি বলেন, এটা আমাদের ক্যাম্পাস। আমি এখান থেকে কোথায় যাবো না। প্রয়োজনে আমার লাশ যাবে। এর কিছুক্ষণ পর পুলিশ আরও সামনে আগানোর চেষ্টা করলে আখতারকে রক্ষা করতে ঘিরে ধরেন আরও কয়েকজন যুবক।

এসময় পরপর কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটনায় পুলিশ। এতে সবাই ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে পুলিশ আখতারকে আটক করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়।

অন্যদিকে আজ বিকেল ৩টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে জড়ো হতে থাকেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বেলা ৪টার দিকে নিহতদের গায়েবানা জানাজা পড়া হয়।

পরে এই নামাজ শেষে শিক্ষার্থীরা টিএসসির দিকে এগুতে চাইলে টিএসসিতে অবস্থান করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের দিকে মুহুর্মুহু সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারগ্যাস ছুঁড়েন।

তবে এসময় রাবার বুলেট ছোঁড়া হয়েছে কিনা সেটি বুঝা যায়নি। প্রায় এক ঘণ্টা যাবত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের এই সংঘর্ষ চলে।

পরে বেলা ৫টার দিকে পুলিশ ফোর্স নিয় হল পাড়ার দিকে এগিয়ে যান। এসময় তাদের রাবার বুলেট টিয়ারগ্যাস আর সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে দেখা যায়।


সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ঢাবি শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ 

পুরোনো ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঢাবি প্রতিনিধি

অনির্দিষ্টকালের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সকল আবাসিক হল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল ছেড়ে যেতে হবে। এই সম্পূর্ণ সময় কোনো ক্লাস-পরীক্ষাও হবে না। আজ বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক সীতেশ চন্দ্র বাছার বলেন, উদ্ভুদ্ধ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা আবাসিক হল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল ছাড়তে আহ্বান জানানো হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা হল না ছাড়লে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপাতত আমরা তাদের আহ্বান জানিয়েছি। সন্ধ্যা ছয়টার পর যদি তারা না ছাড়ে তখন সেটা নিয়ে চিন্তা করা যাবে।

এদিকে আজ বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে সামনে অবস্থান নিয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী হল বন্ধ না রাখার জন্য বিভিন্ন স্লোগান দেন। এসময় তারা হল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত মানি না মানবো না ইত্যাদি স্লোগান দেন।

এসময় আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী শাহিন রেজা বলেন, আমরা হল ছাড়ব না। আমাদের ছয়জন ভাই মারা গেছে। তাদের রক্ত আমরা বৃথা যেতে দিবো না। আমাদের ওপর যত হামলা হোক আমরা কোনোমতেই হল ছাড়ছি না।


জবি শিক্ষার্থীদের দ্রুত হল ত্যাগের নির্দেশ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জবি প্রতিনিধি

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমের সভাপতিত্বে এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হল বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের শিক্ষার্থীদের বিকেল চারটার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে এ বিষয়ে জবি উপাচার্য দৈনিক বাংলাকে বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বিকেল চারটার মধ্যে ছাত্রীদের হল ত্যাগ করতে হবে। ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম চলবে।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাতে ইউজিসির সচিব ড. ফেরদৌস জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক দেশের সকল পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত মেডিকেল, টেক্সটাইল, ইঞ্জিনিয়ারিং ও অন্যান্য কলেজসহ সব কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে আবাসিক হল ত্যাগের নির্দেশনা দিয়ে নিরাপদ আবাসস্থলে অবস্থানের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।


জবি শাখা ছাত্রলীগের ছয় নেতার পদত্যাগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জবি প্রতিনিধি

কোটা সংস্কার আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার করা মন্তব্যের প্রতি প্রতিবাদ জানিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির ছয়জন নেতা। আজ মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে নিজেদের পদত্যাগের কথা জানান তারা।

পদত্যাগ করা ছাত্রলীগ নেতারা হলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ শাখার সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান সামি ও রসায়ন বিভাগ শাখার সহ-সভাপতি তাওসিফ কবির, মনোবিজ্ঞান বিভাগ শাখার সহ-সভাপতি রনি সরকার ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আশিকুর রহমান, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ শাখার সহ সভাপতি মাহমুদুল হাসান নোমান এবং শিঞ্জন বসাক।

মাহমুদুল হাসান নোমান ফেসবুকে লিখেন, ‘আমি নিজ ইচ্ছায় ও স্বজ্ঞানে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ শাখা ছাত্রলীগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করলাম। সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে ট্যাগ লাইনে বাকি দিন কাটাতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রী তার সম্প্রতি চীন সফর থেকে দেশে ফিরে গত ১৪ জুলাই সংবাদ সম্মেলন করেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর একটি বক্তব্যকে ভুলভাবে নিয়ে এদিন রাতেই ঢাবিতে প্রতিবাদ জানায় কোটা আন্দোলনকারীরা। তার পরদিনও সারা দেশে বিক্ষোভ করেন কোটা আন্দোলনকারীরা।


ঢাবিতে বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাসহ ৫ সিদ্ধান্ত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে প্রক্টরিয়াল কমিটির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঢাবির জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আজ মঙ্গলবার উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল কমিটির এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ এবং প্রক্টরিয়াল কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার জন্য কয়েকটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেগুলো হলো-

১. আজ (১৬ জুলাই) থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং শিক্ষার্থীদের বৈধ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে।

২. ক্যাম্পাসে সন্দেহজনক কাউকে চিহ্নিত করা গেলে সে ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হলো।

৩. শিক্ষার্থীদের সমাবেশে কোনো ধরনের অস্ত্রশস্ত্র; যেমন- লাঠিসোঁটা, ইট, আগ্নেয়াস্ত্র ইত্যাদি বহন নিষিদ্ধ।

৪. সবাইকে নাশকতামূলক কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে এবং কেউ নাশকতামূলক কাজে জড়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৫. চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে যেকোনও ধরনের গুজব ছড়ানো এবং উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হলো।

এছাড়াও সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিধানে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়।


ঢাবির প্রক্টরকে মারধর করল আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১৬ জুলাই, ২০২৪ ১৭:৩৩
ঢাবি প্রতিনিধি

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিত। এময় তার সঙ্গে থাকা সহকারী প্রক্টর বদরুল ইসলামকেও ধাওয়া দেন শিক্ষার্থীরা।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে সহকারী প্রক্টররা শহিদ মিনারে আসলে তাদের ‘দালাল’ ও ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দিয়ে তোপের মুখে ফেলন আন্দোলনকারীরা। এক পর্যায়ে তাদের ধাওয়া দিলে শিক্ষকরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে চাইলে আন্দোলনকারীরা তাদের দিকে বিভিন্ন বস্তু এবং কাঠ ছুড়ে মারেন।

একটু পর পিছন থেকে কয়েকজন আন্দোলনকারী এসে অধ্যাপক মুহিতকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। কয়েকটি আঘাতের পর মাটিতে পড়ে যান অধ্যাপক মুহিত। শুরু থেকেই শিক্ষকদের উপর আক্রমণ না করতে বাধা দেন কিছু আন্দোলনকারীরা। অধ্যাপক মুহিত যখন মাটিতে পড়ে যায় তখন একজন শিক্ষার্থী তাকে রিকশায় তুলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

জানা যায়, বহিরাগত তাড়াতে সেখানে গিয়েছিলেন সহকারী প্রক্টরবৃন্দ। বহিরাগতদের ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে যাওয়ার অনুরোধ করলে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করেন গতকাল কই ছিলেন যখন আমাদের বোনদের উপর হামলা করা হয়েছে? এরপর থেকে ক্ষিপ্ত হয়ে যান আন্দোলনকারীরা। এর আগে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাকসুদুর রহমানের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের বহিরাগত নেতাকর্মীদেরও চলে যেতে মাইকিং করেন সহকারী প্রক্টরবৃন্দ।

এদিকে ঢাবিতে থেমে থেমে চলছে ছাত্রলীগ আর আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান নিয়েছে ছাত্রলীগ আর কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে। এই অবস্থানের মধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

আন্দোলনকারীরা এবং ছাত্রলীগ দুইজনই তাদের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি পালনের লক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জমায়েত হয়েছেন। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ঢাকা মহানগরের নেতাকর্মীরাও আছেন আর আন্দোলনকারীদের মধ্যে আশেপাশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও আছেন।

এসময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা গতকাল পর্যন্ত কোন লাঠিসোঁটা হাতে নেইনি। কিন্তু আমাদের বোনদের উপর হামলা করা হয়েছে। আমরা নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য আজকে লাঠিসোঁটা হাতে নিয়েছি। আমরা যত কিছুই হয়ে যাক এসো শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ ছাড়বো না।

এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ওয়াদা নেন এবং বলেন, গতকাল আমাদের বোনদের উপর যখন হামলা করা হয়েছে আমরা অনেক ভাই পালিয়ে গিয়েছি আজকেও কি আমরা পালিয়ে যাবো? এসময় সবাই সমস্বরে না না বলে উঠেন।

নাহিদ বলেন, আমাদের বোনেরা হলে হলে অবস্থান নিয়েছে আমরা যদি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করতে পারি তাহলে আমাদের বোনেরা হল থেকে সবাই চলে আসবে।

এদিকে রাজু ভাষ্কর্যে প্রতিবাদ সমাবেশ করছে ছাত্রলীগও। বক্তব্য রাখছেন ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন। তিনি বলেন, এতদিন পর্যন্ত আমরা আন্দোলনকারীদের কোন বাধা দেইনি। কিন্তু এখন এই আন্দোলন শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নেই। এটি বিএনপি জামাত-শিবিরের সরকার পতন পতনের আন্দোলন হয়ে গেছে। আমরা এগুলো বরদাস্ত করবো না।

এর আগে বেলা সাড়ে ৩টায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসিন হল থেকে বের হয়ে শহীদ মিনারের দিকে যাওয়ার পথে ভিসি চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি বাস ভাঙচুর করেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি, এসব বাসে করে ছাত্রলীগের বহিরাগত নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে এসেছেন তাই এসব বাস ভাঙচুর করা হয়েছে। বাস ভাঙচুরের শব্দ পেয়ে ভিসি চত্বরে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া করেন।

এসময় দুই গ্রুপের মধ্যে কিছুক্ষণ ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটার কিছু পরে আন্দোলনকারীরা ফুলার রোডে হয়ে চলে যান। এসময় সেখানে ককটেল বিস্ফোরণেরও শব্দ পাওয়া গেছে।


ঢাবির প্রভোস্ট কমিটির বৈঠকে ৫ সিদ্ধান্ত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঢাবি প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় ছাত্রলীগ ও কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের মধ্যে দিনভর সংঘর্ষের পর আজ সোমবার বিকেল ৫টায় বৈঠকে বসে প্রভোস্ট কমিটি। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক থেকে পাঁচ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঢাবির জনসংযোগ দপ্তর এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার জন্য নিম্নোক্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

১. শিক্ষার্থীরা স্ব স্ব হলে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করবেন।

২. প্রাধ্যক্ষ ও আবাসিক শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিধানে সার্বক্ষণিকভাবে হলে অবস্থান করবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

৩. হলসমূহে কোনো বহিরাগত অবস্থান করতে পারবেন না।

৪. যেকোনো ধরনের গুজব ও অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানানো হচ্ছে।

৫. সকলকে নাশকতামূলক কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য বলা যাচ্ছে। কেউ নাশকতামূলক কাজে জড়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সভায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ এবং বিভিন্ন হলের প্রভোস্টরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা জড়ো হতে থাকেন। পরে ছাত্রলীগের হামলায় তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। তারা পলাশী, নীলক্ষেত, জগন্নাথ হল ও শহীদ মিনারসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের ইমার্জেন্সি গেটে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে পড়েন। রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি এলাকায় অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ। পরে থেমে থেমে ঢাকা মেডিকেল, কার্জন হল ও শহীদুল্লাহ হলের সামনে কয়েক দফায় সংঘর্ষ চলে।


সব বিভাগে বৃষ্টির আভাস, হতে পারে ভারী বর্ষণ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সব বিভাগে বৃষ্টিপাতের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর মধ্যে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। আজ সোমবার সকালে দেওয়া আবহাওয়ার পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ সময়ে সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়, মৌসুমি বায়ুর অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

কাল আবহাওয়া যেমন থাকবে

রংপুর ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

বুধবারের আবহাওয়া

রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বর্ধিত পাঁচ দিনের আবহাওয়ার অবস্থায় বলা হয়েছে, এ সময়ের শেষের দিকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে।


জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের ফল প্রকাশ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২১ সালের মাস্টার্স শেষবর্ষের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ পরীক্ষায় পাসের হার ৬৬ দশমিক ৩০ শতাংশ।

আজ রোববার সন্ধ্যায় এ ফল প্রকাশের কথা জানানো হয়। তবে এদিন রাত ৮টা থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট (www.results.nu.ac.bd) থেকে ফল জানতে পারবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ২০২১ সালের মাস্টার্স শেষবর্ষের পরীক্ষায় অংশ নেন মোট ১ লাখ ৭৮ হাজার ১৬৮ জন পরীক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ১২১ জন। পাসের হার ৬৬ দশমিক ৩০ শতাংশ।


ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠকের ফলাফল পরে জানাবেন শিক্ষক নেতারা

৪০ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধিদের বৈঠক আজ
পুরোনো ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঢাবি প্রতিনিধি

সার্বজনীন পেনশনের প্রত্যয় স্কিম প্রত্যাহারসহ আরও দুই দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক নেতারা বৈঠক করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সঙ্গে। তবে এ বৈঠকে কী কথা হয়েছে তা এখনই গণমাধ্যমকে জানাবেন না বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ফেডারেশনের মহাসচিব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া।

আজ শনিবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি আকতারুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর নিজামুল হক ভূঁইয়ার নেতৃত্বে ১৩ জন শিক্ষক প্রতিনিধি ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠক শেষে অধ্যাপক নিজামুল বলেন, ‘আমরা এই মুহূর্তে কোনো কথা বলব না। আমাদের তিন দফা দাবি নিয়ে তাদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। এটি নিয়ে শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তারপর আপনাদের জানাব।

বৈঠেকের পর আজ বিকেলে ঢাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এই বিষয়ে আমিও কোনো কথা বলবো না। ওনাদের সঙ্গে যেসব বিষয়ে নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে সেসবের অনেক কিছু নিয়েই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করার বিষয় রয়েছে। আজকে রাতে ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমরা বসব। সেখানে আলোচনা হবে এরপর আমরা একটি সিদ্ধান্ত নেব।

আপনাদের দাবি তো সরকারের কাছে, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনায় এলেন কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উনি (কাদের) একজন জাতীয় নেতা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি আমাদের সঙ্গে বসেছেন। ওবায়দুল কাদের রাষ্ট্রের সেকেন্ড ম্যান। ওনার সঙ্গে আমাদের দাবি নিয়ে খুব খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। এরপর স্ব-স্ব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক সমিতি তাদের শিক্ষকদের সঙ্গে বসে এসব বিষয় জানাবেন। পরে ওনারা কি বলেন সেটির উপর ভিত্তি করে আমাদের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, মন্ত্রী মহোদয় (ওবায়দুল কাদের) আমাদেরকে বলেছেন প্রত্যয় স্কিমটি ২০২৪ সাল নয় ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ইমপ্লিমেন্ট হবে। এরপর আমরা আমাদের ব্যাখ্যাটা ওনাকে দিয়েছি।

বৈঠকের পর ওবায়দুল কাদের গণমাধ্যমকে বলেন, পেনশন স্কিম ২০২৪ নাকি ২০২৫ এ নিয়ে একটা ভুল বোঝাবুঝি ছিল তা দূর হয়েছে। ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে সবার জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিম। আলাপ আলোচনার মাধ্যমে অচিরেই সমাধান হবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা কবি কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী শামসুন্নাহার চাপা, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, আফজাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া।


শেষ ধাপেও কলেজ পাননি প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী

এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া ৭০০ শিক্ষার্থী এখনো কলেজ পাননি
প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১৩ জুলাই, ২০২৪ ১১:৪১
নিজস্ব প্রতিবেদক

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির তৃতীয় ও শেষ ধাপের ফলাফল বের হয়েছে গতকাল রাতে। ফলাফলে দেখা যায়, জিপিএ-৫ পাওয়া ৭০০ জন শিক্ষার্থী কোনো কলেজে ভর্তি হতে পারেননি। এছাড়া কলেজ পাননি আরও প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী।

আজ শনিবার বিষয়টি আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির প্রকাশ হওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে। তবে যারা আবেদন করেও কলেজ পায়নি তাদের জন্য অ্যানালগ পদ্ধতিতে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার বলেন, ‘ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী তিন ধাপে আবেদন নেওয়ার কথা ছিল। তিন ধাপ শেষেও ১২ হাজারের কিছু বেশি শিক্ষার্থী কলেজ বরাদ্দ পাননি। তার মধ্যে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী ৭০০ জনের মতো রয়েছেন।’

ভর্তি তথ্যানুযায়ী, তিন ধাপে আবেদনের পর ফল প্রকাশ, নিশ্চায়ন ও মাইগ্রেশন শেষে ১৫ জুলাই থেকে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে যা চলবে ২৫ জুলাই পর্যন্ত। ভর্তি কার্যক্রম শেষে আগামী ৩০ জুলাই সারা দেশে একযোগে একাদশ শ্রেণিতে ক্লাস শুরু হবে।

চলতি বছর এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ২০ লাখ ১৩ হাজার ৫৯৭ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১৬ লাখ ৭২ হাজার ১৫৩ জন। সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিযোগ্য আসন আছে ২৫ লাখের মতো।

এর আগে তপন কুমার সরকার বলেছিলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে ফলাফলে এগিয়ে থাকা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মহানগরের কলেজগুলো। তাই জিপিএ ফাইভ পেয়েও কাঙ্খিত কলেজে পড়ার সুযোগ পাবেন না অনেক শিক্ষার্থী। তাই এসএসসি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে পছন্দের তালিকা পূরণের পরামর্শ দিয়েছিলেন।

ভর্তি ফি ও সেশন চার্জ

নীতিমালা অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে ৫ হাজার টাকা, মেট্রোপলিটন (ঢাকা ছাড়া) বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে ৩ হাজার টাকা, জেলায় ২ হাজার টাকা এবং উপজেলা ও মফস্বলে দেড় হাজার টাকা।

নন-এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বাংলা ভার্সনে সাড়ে ৭ হাজার টাকা, ইংরেজি ভার্সনে সাড়ে ৮ হাজার টাকা, মেট্রোপলিটন (ঢাকা ছাড়া) বাংলা ভার্সনে ৫ হাজার টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে ৬ হাজার টাকা, জেলায় বাংলা ভার্সনে ৩ হাজার টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে আড়াই হাজার টাকা এবং উপজেলা ও মফস্বলে বাংলা ভার্সনে আড়াই হাজার টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে ৩ হাজার টাকা।

ভর্তির পর কলেজ পরিবর্তনের নিয়ম

সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের পূর্বানুমতি ছাড়া একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির পর কোনো শিক্ষার্থীরা ছাড়পত্র (টিসি) ইস্যু করা যাবে না। কিংবা বোর্ডের পূর্বানুমতি ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃক ইস্যুকৃত ছাড়পত্রের বরাতে ভর্তি করা যাবে না।

ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী- তিন ধাপে নির্বাচিত এবং সফলভাবে নিশ্চায়ন করা শিক্ষার্থীদের আগামী ১৫ থেকে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে ভর্তি হতে হবে। এরপর ৩০ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে সারা দেশে একযোগে একাদশ শ্রেণিতে ক্লাস শুরু হবে।


১১ দিন ধরে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখে আন্দোলনে শিক্ষকরা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সর্বজনীন পেনশনের ‘প্রত্যয়’ স্কিম প্রত্যাহারসহ তিন দফা দাবিতে ১১ দিন ধরে কর্মবিরতি পালন করছেন দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী। টানা এই কর্মবিরতিতে স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব দাপ্তরিক কার্যক্রম। সারা দেশের বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই আন্দোলন চলমান রয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে দাবি আদায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলা ভবনের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষকেরা। সেখানে আন্দোলনকারীদের পক্ষে বক্তব্য দেওয়া হয়।

আন্দোলনকারী শিক্ষকরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। আগের মতোই বন্ধ থাকবে ক্লাস-পরীক্ষা। এদিকে শিক্ষকদের আন্দোলনের ফলে সেশনজটে পড়ার শঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে দৈনিক বাংলা জবি প্রতিনিধি জানান, আজ সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবারও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এ সময় নিজেদের দাবির পক্ষে তাদের স্লোগান ও বক্তব্য দিতে দেখা যায়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. শেখ মাশরিক হাসানের সঞ্চালনায় ১১তম দিনের অবস্থান কর্মসূচিতে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগের চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকেরা অংশ নেন এবং তাদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন।

এ সময় শিক্ষকরা বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক প্রতিনিধিরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা বলেছিলাম এই স্কিম বাতিল করুন, না হলে আমরা কর্মবিরতিতে যাব। কিন্তু তারা দাবি মানেনি। ফলে আমরা অর্ধদিবস কর্মবিরতি করেছি, পরে পূর্ণদিবস করেছি। এরপর আমরা এই সর্বাত্মক কর্মবিরতি শুরু করেছি। যেহেতু আন্দোলন শুরু করেছি, সফলতা আসার আগ পর্যন্ত আমরা ক্লাসে ফিরব না।’

এর আগে কয়েক সপ্তাহ শিক্ষকরা তাদের দাবি জানিয়ে নানা কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষকদের টানা এই আন্দোলনে সেশনজট তৈরির আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে সরকারের সঙ্গে সমঝোতার আভাস মিললেও তা এখনও দৃশ্যমান হয়নি। সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দুই দিন বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা শেষমেশ হয়নি। আন্দোলনকারীরা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করবেন না।

গত ১৩ মার্চ রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রত্যয় স্কিম ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এ ঘোষণা আসার পর থেকে এটি প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা।

১ জুলাই প্রায় চার শতাধিক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য চালু হয় সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার প্রত্যয় স্কিম। নানা কর্মসূচির পর সেদিন থেকেই অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে চলে যান শিক্ষকেরা। শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষাও স্থগিত রাখা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারীরাই কর্মবিরতি পালন করছেন।

আন্দোলনের শুরুর দিকে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেছিলেন, ‘আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি, আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আমাদের দাবিগুলো হলো প্রত্যয় স্কিম প্রত্যাহার করতে হবে। আমাদের যে সুপার গ্রেডটি ২০১৫ সালে আমাদের দেওয়ার কথা ছিল, সিদ্ধান্ত হয়েছে সেটি দিতে হবে আর আমরা স্বতন্ত্র বেতন স্কেল চাচ্ছি। যদি প্রত্যয় স্কিম বাতিল করে স্বতন্ত্র বেতন স্কিম করা হয় তাহলে তো দুটো মিলে এক জায়গায় চলে আসলো।’


banner close