বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৩ ফাল্গুন ১৪৩২

আন্দোলনকারীদের উপর হামলা, ঢাবির ১২৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

ছবি: সংগৃহীত
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৭ মার্চ, ২০২৫ ২১:০৭

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১২৮ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রশাসন।

১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত হামলার বিষয়ে গঠিত তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। সভা শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তাদের নাম-পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

পরবর্তী তদন্তের জন্য সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. তাজমেরী এস ইসলামকে প্রধান করে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার অনুসন্ধান কমিটির আহ্বায়ক, আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মাহফুজুল ইসলাম তদন্ত প্রতিবেদন উপাচার্যের কাছে জমা দেন।


৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা ৯ এপ্রিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পঞ্চাশতম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা আগামী ৯ এপ্রিল থেকে অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে লিখিত পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে বলে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) সচিবালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান নিশ্চিত করেছেন।

এ বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় যে প্রার্থীদের শ্রুতি লেখক প্রয়োজন তাদের আগামী ১০ মার্চের মধ্যে আবেদন করতে ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে কমিশন।

পিএসসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৯ এপ্রিল লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়ে ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখে নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ জুলাই। ১০ অগাস্ট থেকে মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়ে ২৫ নভেম্বর ফল প্রকাশ করা হবে।

গত ৩০ জানুয়ারি ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নিয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি ফল ঘোষণা করা হয়। প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন ১২ হাজার ৩৮৫ জন।

বিভিন্ন ক্যাডারের ১ হাজার ৭৫৫টি পদে ও ননক্যাডারের ৩৯৫টি পদসহ মোট ২ হাজার ১৫০ পদে পদে নিয়োগে ৫০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি গত ২৬ নভেম্বর প্রকাশ করে পিএসসি। ৪ ডিসেম্বর থেকে এ বিসিএসের আবেদন শুরু হয়ে চলে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

এ বিসিএসের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাডারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যে ৬৫০ জন ও প্রশাসনে ২০০ জন নিয়োগ দেবে সরকার। তৃতীয় অবস্থানে শিক্ষা ক্যাডারে ১৮৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

এক বছর সময়ের মধ্যে এ বিসিএসের কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরেছে কমিশন।

এ বিসিএসের প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষা আটটি বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হবে। মৌখিক পরীক্ষা কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্র পরিবর্তনের কোন আবেদন গ্রহণ করা হবে না।


লামায় প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২৬ এ বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে ৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি ভিত্তিহীন, মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন শিক্ষকরা। গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লামা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির উপজেলা শাখার সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী। এ সময় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আকতার উদ্দিন, প্রধান শিক্ষক নাজেম উদ্দিন, ওয়াহেদ উল্লাহ, আব্দুল মোমিন ও খালেদা বেগমসহ শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকরা লিখিত বক্তব্যে আরও জানান, উপজেলা শিক্ষা কমিটির বুধবারের (২৫ ফেব্রুয়ারি) সভা ও উপজেলা পরিষদ এবং প্রধান শিক্ষকদের মাসিক সভায় সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের উপস্থিতিতে সিসি ক্যামরা ক্রয়ের ব্যাপারে বিষদ আলোচনা করার পর রেজুলেশন আকারে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সময় সল্পতার কারণে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অগ্রাধিকার হওয়ায় নিজ নিজ প্রধান শিক্ষকরা একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দ্রুত সময়ে কাজ বাস্তবায়নের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেইমতে সিসি ক্যামরা স্থাপনের যাবতীয় কাজ বিধি মোতাবেক সম্পন্ন করা হয়। এ কাজে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কোন সম্পৃক্ততা নেই। অথচ দৈনিক যুগান্তর পত্রিকাসহ কয়েকটি পত্রিকায় নির্বাহী অফিসার ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার টাকা আত্মসাৎ করেছেন মর্মে সংবাদ প্রকাশ করে। যা মোটেও সত্য নয়, বরং অপসাংবাদিকতার সামিল বলে দাবি করেন শিক্ষকরা।


দুর্গম চরাঞ্চলে শিক্ষক সংকটে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমছে

রায়পুরার ৮১ সরকারি প্রাথমিকে নেই প্রধান শিক্ষক
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলে ভয়াবহ শিক্ষক সংকট ও শ্রেণিকক্ষের স্বল্পতায় চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা। উপজেলার ১৯৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অন্তত ৮১টিতে নেই প্রধান শিক্ষক। এর মধ্যে চরাঞ্চলের ৫১ বিদ্যালয়ে এক বা ২ জন শিক্ষক দিয়ে কোনোভাবে চলছে পুরো শিক্ষা কার্যক্রম। ফলে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে হাজারো শিশুর ভবিষ্যৎ।

দীর্ঘদিনের অবহেলা, পদ শূন্য থাকা ও অবকাঠামোগত সংকটের কারণে চরাঞ্চলের বহু বিদ্যালয় এখন প্রায় অচল। অনেক জায়গায় একজন শিক্ষক দুই শিফটে ছয় শ্রেণির পাঠদান করছেন।

সরেজমিনে মির্জারচর ৩ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা গেছে- একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে পুরো বিদ্যালয়ের কার্যক্রম, পঞ্চম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী মাত্র দুই জন। একই অবস্থা মির্জারচর ১০০ নম্বর বিদ্যালয়েরও।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষের অভাবে পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসে না। ফলস্বরূপ দিন দিন ঝরে পড়ছে শিক্ষার্থী, বাড়ছে শিশুশ্রম ও অপরাধপ্রবণতা।

সমাজসেবক আব্দুল আল মামুন বলেন, ‘একসময় এই চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলো ছিল আলোকিত কেন্দ্র। এখন শিক্ষক সংকট ও শ্রেণিকক্ষের অভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে।’

ইউপি সদস্য মহরম আলী মেম্বার বলেন, আমি যে বিদ্যালয়ের জমিদাতা, সেটিতেও এখন একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে ক্লাস। এতে শিক্ষার মান দিন দিন কমছে।

চরাঞ্চলের শান্তিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘টিফিন কার্যক্রম চালু হওয়ার পর শিক্ষার্থীর উপস্থিতি বেড়েছে, কিন্তু শিক্ষক না থাকায় মানসম্মত শিক্ষা দেওয়া যাচ্ছে না। একজন শিক্ষক দিয়ে তিন জনের কাজ করা সম্ভব নয়।

মির্জারচর, বাঁশগাড়ি, চানপুর, পাড়াতলী, চর-মধুয়া, শ্রীনগর ও নিলক্ষা ইউনিয়নের প্রায় ৫১ বিদ্যালয়ে একই চিত্র-জরাজীর্ণ ভবন, শ্রেণিকক্ষের অভাব ও শিক্ষক সংকট।

বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাতুল হাসান বলেন, চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা। দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না দিলে এই অঞ্চল শিক্ষাবঞ্চিত হয়ে পড়বে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ ও পদোন্নতি বন্ধ থাকায় অনেক পদ শূন্য। আশাকরি অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন নিয়োগের মাধ্যমে এই সংকট দূর হবে।

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, চরাঞ্চলের তিনটি ইউনিয়নে শিক্ষক সংকট প্রকট। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। অবকাঠামো, যোগাযোগ ও জনবল- সব দিক বিবেচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ চলছে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, শিক্ষা বঞ্চনার এই ধারা থামাতে দ্রুত নতুন শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ ও শিক্ষক নিয়োগ জরুরি। তাদের বিশ্বাস, শিক্ষার আলো পৌছাতে পারলেই সহিংসতা ও অস্থিরতা থেকে মুক্ত হবে রায়পুরার চরাঞ্চল, গড়ে উঠবে একটি শিক্ষিত ও সভ্য সমাজ।


গোপনে কলেজ বিক্রি করে দিলেন অধ্যক্ষ, বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকায়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় বাবার নাম প্রতিষ্ঠিত একটি এমপিওভুক্ত কলেজের ভবনসহ জমি বিক্রি করে দিয়েছেন ওই কলেজের অধ্যক্ষ। অধ্যক্ষ গোপনে কলেজটি বিক্রি করে দেন একজন নারীর কাছে। সম্প্রতি কলেজটির ভবন ভাঙার কাজ শুরু হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এতে কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন।

কলেজটির নাম ফজলুল হক চৌধুরী মহিলা কলেজ। অধ্যক্ষের নাম হোছেন আলী চৌধুরী। ২০০৯ সালে তারাকান্দা উপজেলা সদরে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১১ সালে হোছেন আলী চৌধুরীর মা কলেজের নামে ৮ শতক জমি লিখেন দেন। এতে জেলা পরিষদের অর্থায়নে ৩ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় কাছাকাছি এলাকায় জমি কিনে নতুন ভবন করা হলে পুরানো ভবনটি শুধুমাত্র কারিগরি বোর্ডের অধীনে পরিচালিত বিএমটি শাখা হিসাবে ব্যবহার করা হয়ে আসছিল। সম্প্রতি ভবনটি ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হলে অধ্যক্ষের কলেজ বিক্রি করে দেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কলেজটি ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়।

কলেজের শিক্ষকরা জানান, অধ্যক্ষ কলেজের ভবনসহ জমি বিক্রি করে দেবেন, এটা কেউ কল্পনাও করেনি। সম্প্রতি ঘটনাটি জানাজানি হলে অধ্যক্ষকে শিক্ষকেরা জিজ্ঞাসা করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন অধ্যক্ষ হোছেন আলী চৌধুরী। ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবাদ করায় ২ শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সম্প্রতি এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছে। স্থানীয় লোকজনও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।

কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক হান্নান তালুকদার বলেন, সরকারি একটি বড় ভবন কলেজের নামে বরাদ্দ হলে এখানে জায়গা স্বল্পতার কারণে আমরা মধুপুর এলাকায় ৩৮ শতাংশ জায়গা কিনে সেখানে কার্যক্রম শুরু করি। পুরানো ভবনে বিএমটি শাখার ক্লাস হত। এখানে ছাত্রীদের জন্য একটি হোস্টেল করার চিন্তা-ভাবনা ছিল। কিন্তু হঠাৎ দেখি কলেজ ভবন ভাঙা হচ্ছে। এরপর খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়, অধ্যক্ষ ভবনসহ জায়গা অন্যত্র বিক্রি করে দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে, আমিসহ দুই জন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

কলেজ বিক্রি করা ছাড়াও অধ্যক্ষ হোছেন আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি বিভিন্ন সময় শিক্ষক কর্মচারিদের সঙ্গে স্বেচ্ছাচারিতামূলক আচরণ করে। হোছেন আলী চৌধুরী আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে কলেজের শিক্ষক, কর্মচারী ও স্থানীয় ব্যক্তিদের ক্ষোভ রয়েছে।

তারাকান্দা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তারাকান্দা ‍উপজেলা নির্কাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, এ বিষয়ে অধ্যক্ষ হোছেন আলী চৌধুরী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রয়োজনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ হোছেন আলী চৌধুরীকে ফোন করা হলেও তিনি বক্তব্য জানাতে রাজি হননি।


‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ গঠনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: শিক্ষামন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সাতটি সরকারি কলেজকে একীভূত করে প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো গৃহীত হয়নি বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বুধবার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে নতুন করে আলোচনা চলছে এবং পুরো ফাইলটি পুনরায় বিবেচনা বা রিভিউ করা হবে। শিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য সাত কলেজের লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সমাজের মধ্যে নতুন করে আশা ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।

এর আগে, কলেজগুলোকে একটি সমন্বিত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্যে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ স্থাপনের চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সংসদ ভেঙে থাকা অবস্থায় জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই বিশেষ অধ্যাদেশটি জারি করেছিলেন। সেই আদেশ অনুযায়ী ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজ নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সংযুক্ত কলেজ’ হিসেবে পরিচালিত হওয়ার কথা ছিল।

সাত কলেজের এই স্বকীয়তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গত বছর থেকেই শিক্ষা অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলে আসছে। গত বছরের ২৬ মার্চ বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কলেজগুলোকে পৃথক করে একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের সুপারিশ করেছিল। পরবর্তীতে ১২ নভেম্বর কলেজগুলোর দীর্ঘদিনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তিও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়। তবে অধিভুক্তি বাতিলের পর নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো, জনবল এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা শঙ্কা তৈরি হয়।


নারী সহকর্মীকে হেনস্তার সত্যতা খুঁজতে তদন্তের নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি

মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম নামে এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী সহকর্মীকে হেনস্তার অভিযোগের ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়। এই ঘটনাটি ঘটেছে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার মধ্যে আলীগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান হাওলাদারকে এ অভিযোগের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।

অভিযুক্ত মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মধ্য আলীগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক। অভিযোগকারী নারী সহকর্মীও একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি মধ্যে আলীগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা পদে ২০২৩ সালে যোগদান করেন। তখন সহকারী শিক্ষক নুরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক থাকাকালীন সহকারী শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলামের হাতে ছিল বিদ্যালয়ের সকল কর্তৃত্ব। পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক মনিরুল আলমের যোগদানের পর সহকারী শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম তার কর্তৃত্ব হারান। তখন থেকেই সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলামের অশ্লীল কথাবার্তা, আচার-ব্যবহারে অতিষ্ঠ হয়ে যায় শিক্ষিকাসহ সকল শিক্ষকরা। প্রধান শিক্ষক না হওয়া সত্ত্বেও সব কিছুতে খবরদারি, তদারকি ও বিভিন্ন অযৌক্তিক আদেশ দেওয়া শুরু করেন সাইফুল ইসলাম।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষিকা ২০২৪ সালের ১১ অক্টোবর মাতৃত্বকালীন ছুটির পর মেডিকেল ছুটি কাটিয়ে যোগদান করে সহকারী শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে তাকে ধমকাতে থাকেন কেন তার সম্মতি না নিয়ে মেডিকেল ছুটি নেওয়াসহ বিভিন্ন অশ্লীল ভাষা প্রযোগ করে।

এ নিয়ে সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার মানসম্মান নষ্ট করার জন্য আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। সহকারী শিক্ষিকার অভিযোগ সত্য নয়।’

সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান হাওলাদার বলেন, ‘আমাকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার এর মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘সহকারী শিক্ষিকা খালেদা আক্তার একটি লিখিত অভিযোগ করেছে। তার অভিযোগ আমলে নিয়ে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান হাওলাদারকে সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’


পবিপ্রবিতে ২ শিক্ষকের প্রকাশ্যে হাতাহাতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) এনিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের জেনারেল এনিমেল সায়েন্স অ্যান্ড সায়েন্স অ্যান্ড এনিম্যাল নিউট্রিশন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ শাহবুবুল আলম ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর ড. আলী আজগরের মধ্যে কম্বাইন্ড ডিগ্রি ইস্যুতে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের এএনএসভিএম অনুষদের একাডেমিক ভবন-২-এর সামনে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, কম্বাইন্ড ডিগ্রি সংক্রান্ত আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে এনিমেল হাজবেন্ড্রি (এএইচ) ডিসিপ্লিনের শিক্ষকরা অনুষদের লেভেল-৪ সেমিস্টার-১ ও লেভেল-১ সেমিস্টার-২-এর শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা ডিন ভবন ঘেরাও করে ডিন বরাবর পরীক্ষা নেওয়ার জন্য লিখিত আবেদন দেন।

এরপর উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা একাডেমিক ভবন-২-এর দিকে অগ্রসর হয়ে অনুষদের কেন্দ্রীয় মাঠে অবস্থান নেয়। শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে এএইচ ডিসিপ্লিনের শিক্ষকরা একাডেমিক ভবনের সামনে এসে জড়ো হন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ও ডিনকে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করেন। পরবর্তীতে অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. খোন্দকার জাহাঙ্গীর আলম এবং সহকারী প্রক্টর প্রফেসর ড. আলী আজগর ঘটনাস্থলে শিক্ষকদের সামনে উপস্থিত হন।

এ সময় উপস্থিত সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সামনে জেনারেল এনিমেল সায়েন্স অ্যান্ড সায়েন্স অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্স অ্যান্ড নিউট্রিশন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ শাহবুবুল আলম ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর ড. আলী আজগরের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেনারেল এনিমেল সায়েন্স অ্যান্ড সায়েন্স অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্স অ্যান্ড নিউট্রিশন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ শাহবুবুল আলম বলেন, ‘শিক্ষকদের ভেতরে রেখে কয়েকজন ছাত্র একাডেমিক বিল্ডিংয়ে তালা দিতে আসে। পরবর্তীতে আমি সহকারী প্রক্টরকে ফোন দিলে তাকে পাওয়া যায়নি। এরপর ডিন স্যারকে কল দেওয়ার পর তারা আসলে সহকারী প্রক্টরের সঙ্গে আমার বাকবিতণ্ডা হয়। তবে আমরা বিষয়টি পরবর্তীতে সমাধান করে নিয়েছি।’

সহকারী প্রক্টর প্রফেসর ড. আলী আজগর বলেন, ‘ডিন অফিসে কম্বাইন্ড ডিগ্রির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছিলাম। কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী ডিন অফিস থেকে একাডেমিক ভবনের দিকে যায়। তাদের মধ্যে একজন তালা লাগানোর কথা বললে অধ্যাপক শাহবুবুল আমাকে ফোন দেন। আমি ব্যস্ত থাকায় কল ধরতে পারিনি। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে আসার পরে তিনি আমার সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলেন, আমিও কিছুটা উত্তেজিত হই। পরে তিনি প্রকাশ্যে আমার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম হেমায়েত জাহান বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছিল। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জেনেছি, তারা বিষয়টি নিজেদের মধ্যে সমাধান করে নিয়েছেন।’


নর্দান ইউনিভার্সিটির লেকচারার হলেন আলোচিত ডাকসুর ভিপি প্রার্থী শামীম

আলোচিত ডাকসু ভিপি প্রার্থী শামীম হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এ শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আলোচিত ডাকসু ভিপি প্রার্থী শামীম হোসেন।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) নিজ ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সেখানে তিনি জানান, তিনি ইংরেজি বিভাগে লেকচারার পদে যোগ দিয়েছেন এবং বিষয়টি উল্লেখ করে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

শামীম হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন। ওই নির্বাচনে তিনি ৩ হাজার ৮৮৪ ভোট পান।

বড় রাজনৈতিক দলের সমর্থন ছাড়া অংশ নিয়ে ‘সুন্দর বাচনভঙ্গি’ ও ভিন্নধর্মী ইশতেহারের কারণে তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলেন।


শ্রেণিকক্ষ সংকটে বারান্দায় ও খোলা মাঠে চলছে পাঠদান!

শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে ১৩নং চেচিয়াবাধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রোদের মধ্যেই খোলা মাঠে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। পেছনে নিমার্ণাধীন ভবন। সম্প্রতি তোলা ছবি।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে চরম শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে ১৩নং চেচিয়াবাধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের খোলা মাঠ ও বারান্দায় চলছে পাঠদান কার্যক্রম। রোদ আর ভ্যাপসা গরমের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে ক্লাস করছে বিদ্যালয় মাঠে ও বারান্দায়। অনেক সময় তীব্র রোদে শিক্ষার্থীদের মাঠে ও বারান্দাতে ক্লাস করা সম্ভব হয় না। ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি দ্রুত শেষ হোক ভবন নির্মাণকাজ। নিরাপদ শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাক দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১১০ জন। প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষক রয়েছেন মোট ৬ জন। কিন্তু বিদ্যালয়ে সচল আছে মাত্র তিনটি কক্ষ। এর মধ্যেই একটি কক্ষ শিক্ষকরা ব্যবহার করেন। বাকি দুটি কক্ষে ভাগ করে একই দিনে একাধিক শ্রেণির ক্লাস নিতে হচ্ছে। দীর্ঘ পথপরিক্রমায় উপজেলার মধ্যে একটি ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয় হিসেবে পরিচিতি পেলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও কক্ষ সংকটের কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের খোলা মাঠে ও বারান্দায় পাঠদান করতে হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এলজিইডির অর্থায়নে ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে চাহিদাভিত্তিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (১ম পর্যায়) ৩ তলা ভবনের ভিত্তি বিশিষ্ট আনুভূমিক ৩ কক্ষ ও ঊর্ধ্বমুখী ১ তলা পর্যন্ত ভবন নিমার্ণের কাজ পায় তারাকান্দির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মালেকা এন্টারপ্রাইজ। এ ভবন নির্মাণ কাজে ব্যয় ধরা হয় ৭১ লাখ ২৫ হাজার ৪২৩ টাকা। ভবন নির্মাণকাজ শেষ করে ২০২৫ সালে হস্তান্তর করার কথা থাকলেও বাস্তবে এখনো ১৫ থেকে ২০% কাজ বাকি রয়েছে।

তারহা তারিফ, রিয়া মনি, মর্ম, তোয়া, রামিম, মোস্তাহিদসহ একাধিক শিক্ষার্থী বলে, ‘আমাদের স্কুলের ক্লাসরুম কম তাই আমাদের বারান্দায় ও মাঠের মধ্যে ক্লাস করতে হয়। রোদে ভালো লাগে না। গরম করে। ফ্যান নেই, কষ্ট হয়। বেশি রোদ উঠলে ক্লাস বন্ধ করে অন্য ক্লাসের শিক্ষার্থীদের সাথে তাদের ক্লাসে গাদাগাদি করে বসে থাকতে হয়। এতে কষ্ট হয় পড়াশোনা করতে পারি না।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আকলিমা খাতুন বলেন, ‘নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পুরোনো তিন কক্ষের টিনের চালা বিশিষ্ট ঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে। নির্মাণকাজ ধীরগতির কারণে দীর্ঘদিন ধরেই এই দুর্ভোগ চলছে। একই জায়গায় ও একই রুমে একাধিক শ্রেণির পাঠদান চলায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে, বিড়ম্বনায় পড়ছেন শিক্ষকরা। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের একই সঙ্গে একাধিক শিক্ষকের কথা কানে শুনতেও মনোযোগ বিঘ্নিত হয়। দ্রুত কাজ শেষ হলে এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।’

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মালেকা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী লিটন হোসেন মুঠোফোনে জানান, চেচিয়াবাধা সরকারি প্রাথমিক স্কুলের কাজ প্রায় শেষের দিকে। মাঝখানে কিছুদিন নানা কারণে নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল। তবে অতি দ্রুত কাজ শেষ করে ভবন হস্তান্তর করা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া তমাল বলেন, ‘ঠিকাদার ধীরগতিতে কাজ করছে। এ বিষয়ে তাকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অফিসে ডেকে এনেও দ্রুত কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি রয়েছে। তবে অতি দ্রুত বাকি থাকা কাজ সম্পূর্ণ করা হবে।’


নানামুখী সংকট ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে ১৬ বছরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি কীর্তনখোলা ও খয়রাবাদ নদীর মোহনায় প্রতিষ্ঠিত হয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠা থেকে একে একে ১৫টি বছর অতিক্রম করেও বিশ্ববিদ্যালয়টি নানা সংকট ও সীমাবদ্ধতা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি। সংকটের নিয়েই রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ১৫ পেরিয়ে ১৬ বছরে পা রেখেছে দক্ষিণবঙ্গের বাতিঘর খ্যাত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি। এ উপলক্ষে নানান কর্মসূচি গ্রহন করেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

দিবস উদযাপন উপলক্ষে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, আনন্দ র‍্যালি, আলোকসজ্জাসহ নানা কর্মসূচি নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এবার রমজান মাসে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন হওয়ায় ছোট পরিসরে পালন করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠার ১৫ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়টি এরই মধ্য নিজস্বতা তৈরি করে নিলেও অবকাঠামোগত ও শিক্ষক সংকট দিনে দিনে শিক্ষার গুণগত মান রক্ষায় প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও ল্যাব না থাকায় গবেষণা কার্যক্রমও ব্যহত হচ্ছে। ২৫টি বিভাগের জন্য রয়েছে মাত্র ৩৬টি শ্রেণিকক্ষ এবং ৩১টি ল্যাবরুম। শিক্ষার্থীরা অনেক সময় ক্লাসরুমে জায়গা না পেয়ে খোলা আকাশের নিচে কিংবা লাইব্রেরি ভবনে ক্লাস করে থাকেন। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা দিনে দিনে সেশনজটে আটকে পড়ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে নানাসময়ে সংকট নিরসনের আশ্বাস দেয়া হলেও তার বাস্তবায়ন দেখা যায়নি।

ইতিহাসের পাতায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় :

বরিশালের মানুষের ত্যাগ, তিতিক্ষা আর সংগ্রামের ফসল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালের ৩ জানুয়ারি বরিশালের বেল’স পার্কের বিশাল জনসভায় ঘোষণা দেন, ঢাকার বাইরে পরবর্তী যে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হবে সেটি হবে বরিশালে। এর পরে নানা চড়ায় উৎরায় পেড়িয়ে ২০১০ সালের ১৬ জুন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংশোধিত আইন পাস হয়, ও পরবর্তী সময়ে প্রাথমিকভাবে বরিশাল জিলা স্কুলের পরিত্যক্ত কলেজ ভবনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বরিশাল সফরে এসে দেশের ৩৩তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ‘বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়’ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রকল্প পরিচালক প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদ খানকে ৪ বছরের জন্য উপাচার্য পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়। ২০১২ সালের ২৪ জানুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ২০১২ সালের ২৪ জানুয়ারি ৪টি অনুষদের ৬টি বিভাগের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে ৬টি বিভাগে ৪০০ শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়েটি । বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী, প্রায় ২৩০ জন শিক্ষক, ১২১ জন কর্মকর্তা এবং ১৫২ জন কর্মচারী রয়েছে|

অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি :

ঋতুভেদে প্রকৃতি যেমন নব নব রূপে সজ্জিত হয়, তেমনিভাবে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যও নব রূপে ফুটে উঠে। শরতে শুভ্র সাদা কাশফুল ছেয়ে যায় ক্যাম্পাস, বসন্তে পলাশ ফুলে রঙ্গিন হয়ে উঠে মুক্তমঞ্চের আঙ্গিনা, শীতে কুয়াশায় চাদর মুড়ি দেয় ক্যাম্পাস। পড়ন্ত বিকেলে ক্যাম্পাসে ডানা মেলে টিয়েপাখি, বন্য কবুতরের দল। শালিকের কিচিরমিচির, ভোলা রোডের নিসর্গ সৌন্দর্যে যেকোনো মানুষকে এক মুহূর্তেই ভুলিয়ে দেয় নিঃসঙ্গতা। মুক্তমঞ্চে দলে দলে শিক্ষার্থীদের আড্ডা-গানে মুখরিত হয়ে উঠে, তালতলা, লন্ডন ব্রিজে প্রেমিকের প্রেম নিবেদনে প্রেমময় হয়ে উঠে ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবোধ। পহেলা বৈশাখ, ব্যাচডে, বিভিন্ন বিভাগ ডে’তে উৎসব আয়োজনে থাকে স্বাতন্ত্র্যবোধ, শিল্পবোধ পরিচয়। র‍্যাগিংমুক্ত, মাদকমুক্ত, ধূমপানমুক্ত এবং পরিবেশবান্ধব সবুজ ক্যাম্পাস হিসেবে সমাদৃত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত অবস্থা :

বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫টি বিভাগের জন্য রয়েছে ৬ তলা বিশিষ্ট দুটি অ্যাকাডেমিক ভবনসহ একটি এক তলা বিশিষ্ট অতিরিক্ত ক্লাসরুম। দুটি প্রশাসনিক ভবন, শিক্ষার্থীদের জন্য দুটি ছাত্র I দুটি ছাত্রী হল। শিক্ষকদের জন্য রয়েছে দুইটি ডরমিটরি, রয়েছে চার তলাবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি। লাইব্রেরিতে বর্তমানে বই ও জার্নালসহ প্রায় ১৮ হাজার সংগ্রহ রয়েছে।

এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের ব্যবহারের জন্য তৈরি করেছে অ্যাপস, চালু করেছে অনলাইন রেডিও, ওয়েবসাইট বিভিন্ন জিনিস। উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকা, চীন, ভারত, তুরস্কসহ ইউরোপের দেশগুলো থেকে সনামধন্য স্কলারশিপ নিয়ে পাড়ি জমাচ্ছে বিদেশে। পিছিয়ে নেই চাকরির বাজারেও।

অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম :

বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭টি অনুষদের অধীনে ২৫টি বিভাগে প্রতিবছর ১৫৭০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। যুগের সাথে তালমিলিয়ে আগামীর বিশ্বকে নেতৃত্বদানে দক্ষ ও যোগ্য মানব গড়ার লক্ষ্য নিয়ে আধুনিক সব বিষয়ে পাঠদান দেওয়া হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩০ জন তরুণ শিক্ষক অত্যন্ত দক্ষতার সাথে নিরলসভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান দিচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়টি তার শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সংকটের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকটের কথা স্বীকার করে উপাচার্য বলেন, ১৫ বছরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু হয়নি। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, আবাসিক হলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপাচার্য বলেন, আমি আসার পর থেকেই এই সংকট নিরসনের চেষ্টা করে যাচ্ছি। দ্বিতীয় ধাপের ফিজিবিলিটি স্টাডির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


সাদিক কায়েমদের বিরুদ্ধে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ আনলেন জুমা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) অভ্যন্তরে চরম সমন্বয়হীনতা ও অন্তর্কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। ডাকসুর নির্বাচিত সদস্যদের একটি বড় অংশকে পাশ কাটিয়ে শীর্ষ তিন নেতৃত্বের একক সিদ্ধান্তে শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচি পালন করায় সংগঠনটির ভেতরে তৈরি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ। বিষয়টি নিয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমার ফেসবুক পোস্টের পর এবার সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও একপাক্ষিক আচরণের অভিযোগ তুলেছেন মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতেমা তাসনিম জুমা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় শুক্রবার দিবাগত রাতে, যখন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ এবং এজিএস মহিউদ্দিন খান একদল অনুসারী নিয়ে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। অভিযোগ উঠেছে যে, এই কর্মসূচিতে ডাকসুর অন্যান্য নির্বাচিত সদস্য যেমন ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্বমিত্র চাকমা, হেমা চাকমা এবং উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়াদের কোনো প্রকার তথ্য প্রদান করা হয়নি। কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা বিটিভির সরাসরি সম্প্রচার দেখে বিষয়টি জানতে পারেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্রূপাত্মক পোস্টের মাধ্যমে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়েও তাঁদেরকে টেলিভিশনের পর্দার মাধ্যমে নিজ সংগঠনের কর্মসূচি সম্পর্কে অবগত হতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।

বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত ও গুরুতর অভিযোগ এনেছেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতেমা তাসনিম জুমা। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় সম্পর্কে তিনি বারবার প্রশ্ন করার পরও তাঁকে সঠিক তথ্য দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে তাঁকে জানানো হয়েছিল যে, কেবল সিনেট সদস্যরা রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও সিলেক্টিভ পাসের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানাতে যাবেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীরা সেখানে প্রবেশের সুযোগ পেলেও ডাকসুর নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের জন্য সেই পথ রুদ্ধ ছিল। জুমা এই ঘটনাকে ডাকসুর শীর্ষ নেতৃত্বের চরম গাফিলতি এবং নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কাজ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

জুমার অভিযোগে আরও উঠে এসেছে যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রভাতফেরির যে আনুষ্ঠানিক চিঠি আসে, তা কেবল ভিপি, জিএস ও এজিএস নিজেদের কাছেই রেখে দেন। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অন্যান্য সদস্যদের সেই চিঠির বিষয়ে জানানোর প্রয়োজনও তাঁরা বোধ করেননি। গ্রুপে একাধিকবার জানতে চাওয়ার পরও কোনো সদুত্তর না পেয়ে জুমা নিজে উদ্যোগী হয়ে তথ্য সংগ্রহ করে নোটিশ দিয়েছেন বলে দাবি করেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি সিনেট সদস্যদের ব্যানারে ফুল দেওয়ার পরিকল্পনা থাকত, তবে তা আগেভাগে আলাপ করে নির্ধারণ করা যেত। কিন্তু আলোচনার পথ এড়িয়ে গিয়ে শীর্ষ তিন নেতা যে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন, তাতে ডাকসুর অন্য সম্পাদকদের ওপর সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে জবাবদিহিতার দায় বাড়ছে।

বিবৃতির শেষে ফাতেমা তাসনিম জুমা অত্যন্ত আক্ষেপের সাথে জানান যে, ডাকসু শিক্ষার্থীদের দেওয়া একটি পবিত্র আমানত এবং সম্পাদক হিসেবে তাঁর দায়বদ্ধতা রয়েছে। কিন্তু ভিপি, জিএস ও এজিএসের অসহযোগিতামূলক আচরণের কারণে অন্যান্য সচিবদের কাজ করা দিনে দিনে কঠিন হয়ে পড়ছে। এই ধরনের ছোটখাটো বিষয়ে জনসমক্ষে কথা বলা বিব্রতকর হলেও নেতৃত্বের একরোখা মানসিকতার কারণেই বিষয়টি সামনে আনতে তিনি বাধ্য হয়েছেন। শহীদ মিনারের মতো একটি সংবেদনশীল ও জাতীয় ঐক্যের স্থানে ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে এমন বিভাজন ও সমন্বয়হীনতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে ডাকসুর শীর্ষ তিন নেতার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


বাকৃবিতে উচ্চশিক্ষা মান নিশ্চিতকরণ কর্মশালা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাকৃবি প্রতিনিধি

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের লক্ষ্যে ‘অ্যাক্রেডিটেশন ইন হায়ার এডুকেশন: ডকুমেন্টেশন অ্যান্ড রেডিনেস’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি-এর উদ্যোগে কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স রুমে কর্মশালাটি আয়োজিত হয়।

ওই কর্মশালায় প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক এবং কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান।

আইকিউএসি এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. মুরাদ আহমেদ ফারুখ প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় অংশ নেন কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জুলফিকার রহমান, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবির ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওয়াকিলুর রহমান।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘আমাদের যে কোর্স কারিকুলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক যত ইন্ডিকেটর আছে, সেগুলোতে আমরা যেন অতিক্রম করতে পারি, তার জন্য আমরা এখন যাত্রা শুরু করেছি। আমাদের সহকর্মীরা অনেক উন্নত জ্ঞান ও দক্ষতা সম্পন্ন। কাজেই এই অ্যাক্রেডিটেশন পাওয়ার জন্য ছোটখাটো যে তথ্য-উপাত্ত দরকার, সেগুলো সংগ্রহ করে ডকুমেন্ট করা এবং শেষে জমা দেওয়া তাদের জন্য খুব বড় বা কঠিন কোনো কাজ নয়, এটার জন্য প্রয়োজন হলো শুধু একাগ্রতা।’

পরবর্তীতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মুক্ত আলোচনায় উচ্চশিক্ষার গুণগতমান বজায় রাখা এবং বৈশ্বিক মানদণ্ডে স্বীকৃত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

উল্লেখ্য, দিনব্যাপী ওই কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ৩০ জন শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।


চরফ্যাশনে সরকারি প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষককে শোকজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি

নির্ধারিত সময়ের আগে তালাবদ্ধ করে চলে যাওয়ায় চরফ্যাশন উপজেলার ৫১নং হাজিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মনিরুল আলমকে শোকজ করেছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। নোটিশে আগামি পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তাকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান এই নোটিশ দিয়েছেন বলে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে ৫১নং হাজিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি তালাবদ্ধ পেয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা মুঠোফোনে জানালে গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেনকে সরজমিনে পাঠানো হয়। সে সত্যতা পেয়েছে।

জানা গেছে, ৫১নং হাজিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। শিক্ষার্থী রয়েছে ২০০ জনের অধিক।

বিদ্যালয়ের পাশ্ববর্তী পরিবারগুলো জানায়, গত সোমবার সকালে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে এসেছে। তবে শিক্ষকরা দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে চলে গেছে।

বিদ্যালয় বন্ধ থাকার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মনিরুল আলম বলেন, গত সোমবার সকালে আমরা ৬ জন শিক্ষক বিদ্যালয়ে এসেছি। সকালেই একজন শিক্ষক ছুটি নিয়ে চলে গেছে। আমরা পাঁচ জন শিক্ষক বিদ্যালয়ে ছিলাম। কেরামতগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থাকায় আমি বিদ্যালয়ে চার জন শিক্ষক রেখে সেখানে যাই। পরবর্তীতে আমি জানতে পারলাম, আমি বিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার পর ওই চার শিক্ষক বিদ্যালয় তালাবদ্ধ করে চলে যায়।

সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমি বিদ্যালয়ে গিয়ে বিদ্যালয় বন্ধ রাখার সত্যতা পেয়েছি।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘৫১নং হাজিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুল আলমকে শোকজ করা হয়েছে। শোকজের জবাব পেলে পরর্বর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


banner close