দক্ষ মানব সম্পদ গড়ার লক্ষ্যে ও বৈশ্বিক সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে দেশেই আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে ২০০৩ সালে যাত্রা শুরু করে উত্তরা ইউনিভার্সিটি। শুরুতে ২টি স্কুল বা অনুষদের অধীনে ২টি ডিপার্টমেন্ট নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫টি স্কুল বা অনুষদের অধীনে ১৪টি ডিপার্টমেন্টে ৪০টি প্রোগ্রাম চালু আছে। শুরু থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব জব ওরিয়েন্টেড ও প্রফেশনাল বিভাগ চালু আছে সেগুলো হচ্ছে- বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল, ফ্যাশন ডিজাইন, ইইই, সিএসই, আইন, ম্যাথ, ফিজিক্স, এডুকেশন, বাংলা, ইংরেজি, ইসলামিক স্টাডি ও শারীরিক শিক্ষা বিভাগ। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা যেন প্রতিযোগিতায় নিজেদের চৌকস প্রমাণ করতে পারে সেজন্য শুরু থেকে মানসম্পন্ন শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে উত্তরা ইউনিভার্সিটি ৯টি সমাবর্তন শেষ করেছে। এ ইউনিভার্সিটি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জন করে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছে।
প্রতিষ্ঠাতা পরিচিতি:
উত্তরা ইউনিভার্সিটির পরিচালনা কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত দক্ষ ও যোগ্য, যাদের প্রায় সবাই স্বনামধন্য ও প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর ড. এম. আজিজুর রহমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একজন খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রিকালচারাল ইকোনোমিক্স ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে অনার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের একই ডিপার্টমেন্ট থেকে মাস্টার্স ডিগ্রিও লাভ করেন। বিশ্ব ব্যাংকের বৃত্তি নিয়ে তিনি আমেরিকায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৮৮ সালে আমেরিকার ভ্যান্ডারভিল্ট ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে ও বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তিনি ৩০ বছর অধ্যাপনা করেন। ১৯৮৯ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তিনি ইউএস অ্যাম্বাসির ইউএসএইডে ইকোনোমিক অ্যাডভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ড. এম আজিজুর রহমান উত্তরা ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চ্যান্সেলর। শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সুলেখক ও সমাজসেবী প্রফেসর ড. ইয়াসমীন আরা লেখা হচ্ছেন এ ইউনিভার্সিটির বর্তমান ভাইস চ্যান্সেলর। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড ও এমএড এবং ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
ভিশন ও মিশন:
এক্সিলেন্স ইন হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ -এই স্লোগানকে সামনে রেখে গবেষণায় বেশি জোর দিচ্ছে উত্তরা ইউনিভার্সিটি। এ ইউনিভার্সিটির ভিশন বা সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দিক থেকে দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং আদর্শ নাগরিক, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও আলোকিত মানুষ সৃষ্টিকরণ।
উত্তরা ইউনিভার্সিটি জীবনঘনিষ্ঠ ও নৈতিক শিক্ষাদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। শুধু জ্ঞানার্জনের মাধ্যমেই আদর্শ নাগরিক সৃষ্টি হয় না। তাই উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি মূল্যবোধ সম্পর্কেও দীক্ষা দেওয়া হয়।
স্থায়ী ক্যাম্পাস:
উত্তরা ইউনিভার্সিটির একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হচ্ছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সকল নিয়মনীতি মেনে স্থায়ী ক্যাম্পাসে সম্পূর্ণ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। উত্তরা মডেল টাউনের থার্ড ফেইজ সংলগ্ন, প্রায় ৬ বিঘা জমির ওপর স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ হয়েছে। ৯ তলা ভবনের এ ক্যাম্পাস দেখে যে কারও চোখ জুড়িয়ে যাবে। ভবনের গঠনশৈলী এতটাই আধুনিক, সবদিক থেকেই আলো-বাতাস ভবনের ভেতর প্রবেশ করতে পারে। শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে খেলার মাঠ, যেখানে প্রতিনিয়ত নানা আয়োজন ও উৎসব চলতে থাকে। প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গড়ে তোলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ও মনোমুগ্ধকর এই ক্যাম্পাস! চারপাশে সবুজে ঘেরা আর ক্যাম্পসের পাশ ঘিরে তুরাগ নদী বহমান। মূল ভবন দক্ষিণামুখী হওয়াতে প্রতিনিয়ত দখিনা বাতাস প্রবহমান এই ক্যাম্পাসে। লাল কৃষ্ণচূড়ার শামিয়ানা আর শুভ্র কাশফুলের দোলাসহ বিভিন্ন ঋতুর প্রকৃতি এখানে দৃশ্যমান!
যাতায়াত ব্যবস্থা:
আধুনিক রাজধানী ঢাকার উত্তরায় সুবিশাল ভবন নিয়ে নির্মিত হয়েছে উত্তরা ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস। এই ক্যাম্পাসের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো- ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা দ্রুত আসা-যাওয়া করতে পারে। এমনকি আশপাশে জেলা গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল থেকে খুব সহজে যাতায়াত করতে পারবে ছাত্রছাত্রীরা। আর মেট্রোরেল স্টেশন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের খুব সন্নিকটে হওয়ায় যাতায়াতব্যবস্থা নিয়ে চিন্তিত থাকতে হয় না অভিভাবককে।
শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন:
বর্তমানে উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে ১৪টি বিভাগ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণার কাজেও ব্যাপক জোর দেওয়া হচ্ছে। সে কারণে উত্তরা ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট অব পলিসি রিসার্স স্থাপন করেছে। শুরু থেকেই মানসম্পন্ন শিক্ষাকে সামনে রেখেই এ ইউনিভার্সিটির শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাশিউরেন্স সেল (আইকিউএসি) গঠনের মাধ্যমে শিক্ষার অভ্যন্তরীণ গুণগতমান উন্নয়নের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
সমৃদ্ধ ও আধুনিক লাইব্রেরি:
শুরু থেকেই এই ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের জন্য গ্রন্থাগার সেবা দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে আসছে। সপ্তাহে ছয় দিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে গ্রন্থাগার। দৈনিক সংবাদপত্র ও রেফারেন্স বই পড়ার জন্য রয়েছে আলাদা কর্নার। শিক্ষার্থীদের অধ্যয়নের জন্য গ্রন্থাগারে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের ২৫টি দৈনিক পত্রিকা রাখা হয় নিয়মিত। গ্রন্থাগারে রয়েছে লক্ষাধিক বই এবং জার্নাল-ম্যাগাজিন আছে প্রায় ১০ হাজার। এ ছাড়া গ্রন্থাগারে ব্যবহারকারীদের সহায়ক সেবা দেওয়ার জন্য রয়েছে গবেষণা প্রতিবেদন, ই-রিসোর্সের বিশাল সম্ভার, বিশ্বকোষ, অভিধান, হ্যান্ডবুক, ম্যানুয়েল ও এনজিও প্রকাশনা। ব্যবহারকারীরা ই-বুক, ই-জার্নাল ও ই-ম্যাগাজিন পড়তে ও ডাউনলোড করতে পারেন। গ্রন্থাগারে ব্যবহারকারীদের জন্য রয়েছে ওয়াইফাই সংযোগসহ কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ। গ্রুপ স্ট্যাডি করার জন্য রয়েছে একাধিক বিশেষ কক্ষ। শিক্ষার্থীরা গ্রন্থাগারে না এসেও যেকোনো বইয়ের শিরোনাম, লেখক, কল নম্বর, কি-ওয়ার্ড ও প্রকাশক অনুযায়ী খুঁজতে পারেন ই-লাইব্রেরির সুবাদে। গ্রন্থাগারে শিক্ষকদের জন্য রয়েছে পৃথক ব্যবস্থাপনা।
গবেষণা ও প্রকাশনা:
উত্তরা ইউনিভার্সিটির প্রতিটি বিভাগই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফ্যাকাল্টিদের গবেষণা প্রবন্ধ দেশি ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হচ্ছে। প্রতি অনুষদ থেকে জার্নাল প্রকাশ করা হয় এবং গবেষণায় বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হয় শিক্ষকদের। এ ছাড়া বিভিন্ন অনুষদ থেকে নিয়মিতভাবে জার্নাল প্রকাশিত হচ্ছে। ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ থেকে বিজনেস রিভিউ, আইন বিভাগ থেকে ল’ জার্নাল নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হচ্ছে।
উত্তরা ইউনিভার্সিটির প্রত্যেক অনুষদে রিসার্চ সেল গঠিত হয়েছে, যেখানে গবেষণা বিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং প্রজেক্ট পরিচালনা করা হয়। প্রতিবছর অসংখ্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরামণ্ডলী বিদেশে গবেষণা ও উচ্চশিক্ষা বিষয়ে পড়ালেখা করতে যাচ্ছে। এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গবেষণাকে উৎসাহিত করতে অভ্যন্তরীণ গবেষণা তহবিল গঠন, মানসম্মত গবেষণার জন্য ইনসেনটিভ প্রদান ও গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশে সহায়তা করে। উত্তরা ইউনিভার্সিটি শুধু ডিগ্রি প্রদানের জন্যই শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে না বরং ইউনিভার্সিটি প্রশাসন এবং শিক্ষকরা চেষ্টা করছেন মানসম্মত ও যুগোপযোগী শিক্ষার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে।
এমওইউ ও স্টুডেন্ট এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম:
শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জন ও শিক্ষকদের জ্ঞানচর্চা আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যাবশ্যক। তাই উত্তরা ইউনিভার্সিটি যুক্তরাজ্যের বেডফোর্ড শ্যায়ার ইউনিভার্সিটি ও অরচেস্টার ইউনিভার্সিটির সঙ্গে সহযোগিতার স্মারক স্বাক্ষর করেছে। কর্তৃপক্ষ কানাডার কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও সহযোগিতার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া উত্তরা ইউনিভার্সিটি সাম্প্রতিককালে কয়েকটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে। এসব আন্তর্জাতিক সম্মেলন বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, আসাম ও কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বছরই উত্তরা ইউনিভার্সিটি বিজনেস কনফারেন্সের আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে যেখানে আমেরিকা, জাপান ও ভারতসহ দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান শিক্ষাবিদরা অংশগ্রহণ করেছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির সঙ্গে রয়েছে এমওইউ ও স্টুডেন্ট এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম। যার ফলে শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে গ্র্যাজুয়েট, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট, এমফিল ও পিএইচডি করার সুযোগ।
সম্মাননা ও সাফল্য:
মানসম্পন্ন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার স্বীকৃতি হিসেবে এ ইউনিভার্সিটি সাম্প্রতিককালে বেশ কিছু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘দা বিজ অ্যাওয়ার্ড-২০১৮ (হংকং), এডুকেশন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড, ২০১২, (দিল্লি), এশিয়াস বেস্ট বিজনেস অ্যাওয়ার্ড, সিঙ্গাপুর, ২০১৩, এশিয়ান সিইএফ বিজনেস স্কুল অ্যাওয়ার্ড, ২০১৪ (মুম্বাই), ইউজিসি অ্যাওয়ার্ড, ২০১৪ ও ২০১৫ (আইন বিভাগ) অন্যতম।
সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশে ক্লাব এবং ফোরাম:
শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশ ও বাজার উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে ইউইউতে ১২টি ক্লাব ও ১৪টি বিভাগের প্রায় ১৪টি বিভাগীয় ফোরাম রয়েছে। এসব ক্লাব ও ফোরাম বছরজুড়েই জাতীয়পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের কো-কারিকুলার ও এক্সট্রা কারিকুলার কার্যক্রম, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। এ ছাড়া পিঠা উৎসব, বসন্তবরণ, চৈত্রসংক্রান্তি, শিক্ষামেলা ও পাঠচক্রসহ জাতীয় অনুষ্ঠানগুলো বিশেষভাবে পালিত হয় এখানে। উচ্চশিক্ষার নিরন্তন পরিবেশ থাকায় মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা কার্যক্রম সুন্দর ও সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে পারে। অরাজনৈতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ায় নেই কোনো দ্বন্দ্ব, নেই ক্লাস বন্ধ হওয়ার চিন্তা, নেই সেশন জটের ভয়।
শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ:
উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে প্রতি বছর তিনবার অর্থাৎ স্প্রিং, ফল ও সামার সেমিস্টারে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। উচ্চ মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ছাত্রছাত্রীদের জন্য রয়েছে ১০% থেকে ১০০% পর্যন্ত স্কলারশিপ।
এ ছাড়া ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠী, নারী, জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়, জুলাই-বিপ্লবে আহত ও নিহতদের নিকটাত্মীয়দের জন্য রয়েছে বিশেষ স্কলারশিপ।
দক্ষ মানবসম্পদ ও গ্র্যাজুয়েটদের সফলতা:
সুযোগ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে উত্তরা ইউনিভার্সিটি। দেশের অন্যতম এই বেসরকারি বিদ্যাপীঠটি শিক্ষা, গবেষণা ও বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শুধু ডিগ্রি অর্জনের সুযোগই দিচ্ছে না, বরং তাদের আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় উপযুক্ত করে তুলছে। ফলে এখানে থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা বিসিএস ক্যাডার, জুডিশিয়াল সার্ভিস, আইন পেশা, ব্যাংক খাত, রপ্তানিমুখী শিল্প, কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি, এনজিও এবং বহুজাতিক কোম্পানিতে সুপ্রতিষ্ঠিত ক্যারিয়ার গড়তে পারছেন। পাশাপাশি, টেক্সটাইল ও ইলেকট্রনিক শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি খাত, সফটওয়্যার ফার্ম, ই-কমার্স ও স্টার্টআপ জগতে তারা দক্ষতার সঙ্গে অবদান রাখছেন। শুধু তাই নয়, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াতেও রয়েছে উত্তরা ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের গৌরবজনক উপস্থিতি। অনেকে আবার উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি নিজস্ব ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগ গড়ে তুলে আত্মনির্ভরশীল তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। শিক্ষকতা পেশায়ও তারা অবদান রাখছেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই বৈচিত্র্যময় কর্মসংস্থান ও পেশাগত সাফল্যই প্রমাণ করে উত্তরা ইউনিভার্সিটি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়- এটি একটি দক্ষ মানবসম্পদ নির্মাণের কারখানা।
উচ্চপর্যায়ে কৃতিত্ব:
উত্তরা ইউনিভার্সিটির গণিত বিভাগের ছাত্ররা আন্ডারগ্র্যাজুয়েট গণিত অলিম্পিয়াড ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে অংশগ্রহণ করে সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় একাধিকবার প্রথম, তৃতীয়, চতুর্থ ও সপ্তম স্থান অর্জন করেছেন। শারীরিক শিক্ষা বিভাগের কৃতী ছাত্রী মাহফুজা খাতুন শীলা জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতা ২০১৬-তে জোড়া স্বর্ণপদক বিজয়ী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদক গ্রহণ করেছেন। শারীরিক শিক্ষা বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী মিনিতা সুপ্রিয়া মিজান ত্রপী ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত সপ্তম আন্তর্জাতিক কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ ২০১৬-তে বিশেষ সাফল্য অর্জন করেছেন। ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান শরীফ তেল ও গ্যাসবিহীন একটি মোটরযান উদ্ভাবন করেছেন, যা সোলার এনার্জিতে মাত্র ১০ টাকা খরচে সারা দিন চালানো যায়। প্রায় সব অনুষদ এবং বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যতিক্রমধর্মী নানা সৃজনশীল কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায়। এসব সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মধ্যদিয়ে শিক্ষার পরিবেশকে এক আনন্দঘন পরিবেশে পৌঁছে দিয়েছে উত্তরা ইউনিভার্সিটি সুদক্ষ প্রশাসন এবং নিষ্ঠাবান শিক্ষক ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা।
স্বতন্ত্র ক্যাফে ও উন্নতমানের ক্যান্টিন:
শিক্ষার্থীদের জন্য এ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে স্বতন্ত্র ক্যাফে ও উন্নতমানের ক্যান্টিন। সকাল-সন্ধ্যা সুস্বাদু খাবার মেলে সহজেই। ক্যাফেটোরিয়াটি শিক্ষার্থীদের প্রিয় আড্ডাস্থল হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন শতাধিক শিক্ষার্থী এখানে সকালের নাশতা থেকে শুরু করে দুপুরের খাবার এবং ক্লাসের ফাঁকে চা-কফিতে সতেজতা খুঁজে নেয়। উন্নতমানের খাবার, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও স্বল্পমূল্যের কারণে ক্যাফেটোরিয়াটি শিক্ষার্থীদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়। বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-আড্ডা, পাঠচর্চা কিংবা হালকা বিশ্রাম- সব কিছুতেই ক্যাফেটোরিয়ার ভূমিকা অনন্য।
বক্তব্য
মো. আদনান রহমান, পিএইচডি
অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, স্কুল অব বিজনেস
ডিরেক্টর, ব্র্যান্ড, কমিউনিকেশন অ্যান্ড পিআর
বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক উচ্চশিক্ষা পরিবেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যান্ড ইমেজ তার সামগ্রিক সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখে। সেই ভাবনাকে সামনে রেখে উত্তরা ইউনিভার্সিটি চালু করেছে নতুন মিডিয়া ক্যাম্পেইন ও আধুনিক প্রচারণা কৌশল। শুধু পাঠ্যক্রম নয়, আজকের শিক্ষার্থীরা দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যবোধ, পরিবেশ, অ্যালামনাই সাফল্য ও সামাজিক দায়বদ্ধতা। এসবই একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ডের উপাদান। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য হলো বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং সাফল্যের গল্প তুলে ধরা। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা যেন আমাদের বর্তমান এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের গল্প থেকে অনুপ্রেরণা পায়। এভাবেই আমরা বিশ্বাসযোগ্যতা এবং মানবিক সংযোগ তৈরি করতে পারব। আমরা ইউটিউব, ফেসবুক এবং লিংকডইন-এর মতো প্ল্যাটফর্মে সক্রিয়। বিশেষ করে ভিডিও কনটেন্ট এবং ইন্টারেক্টিভ পোস্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ছে।
উত্তরা ইউনিভার্সিটি ভবিষ্যতে আরও ডেটাচালিত মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজির দিকে এগোচ্ছে। আমরা এআই ও অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের চাহিদা বুঝে কাজ করতে চাই। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের দৃশ্যমানতা বাড়াতে কাজ করছি। সঠিক ব্র্যান্ডিং-এর মাধ্যমে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেবল শিক্ষার্থী আকর্ষণই করে না বরং সমাজে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তাও পৌঁছে দিতে পারে।
ড. শাহ আহমেদ
অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ও চেয়ারম্যান, ইংরেজি বিভাগ
ডিরেক্টর, অফিস অব স্টুডেন্টস অ্যাফেয়ার্স
উত্তরা ইউনিভার্সিটি
উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে বিশ্বমানের পড়ালেখার জন্য আমরা বিশ্বমানের সিলেবাস তৈরি করেছি। ইউজিসির নিয়ম মেনে আমাদের দেশের সেরা ইউনিভার্সিটির সিলেবাস ও বিশ্বের টপ ইউনিভার্সিটির সিলেবাসকে সমন্বয় করে এমন একটা উন্নতমানের সিলেবাস তৈরি করেছি যাতে আমাদের ছাত্ররা এই সিলেবাসের ভিত্তিতে দেশে ও বিদেশে চাকরি পেতে পারে। প্রতিটি ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীদের সফট স্কিলগুলো গুরুত্বসহকারে শেখানো হয়। এতে চাকরির বাজারে অন্যদের থেকে তারা বেশি এগিয়ে থাকে। এ বিশ্ববিদ্যালয় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় যে শিক্ষাসেবা প্রদান করে থাকে, সে তুলনায় ছাত্রদের শিক্ষা ব্যয় অত্যন্ত কমই মনে হয়। প্রচুর ল্যাব আছে, লাইব্রেরিতে হাজার হাজার বই, কো-কারিকুলার কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক মানের ক্লাসরুম, লজিস্টিক্স সাপোর্ট, ইন্টারনেট, মাল্টিমিডিয়াসহ সব সুবিধা দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের। আমাদের উত্তরা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের প্রথমসারির ইউনিভার্সিটির মধ্যে অন্যতম।
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যথেষ্ট গবেষণা ফান্ড আছে। সে ফান্ড নিয়ে শিক্ষকরা বিভিন্ন ফিল্ডে রিসার্স করেন। নতুন নতুন নলেজ, নতুন নতুন থিওরি আবিষ্কার করেন। তবে ফ্যাকাল্টিকে প্রজেক্ট জমা দেওয়ার পরে প্রজেক্ট এক্সেপ্ট হওয়ার পরে সেই ফান্ডটা দিয়ে থাকে। এক কথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন মেনে রিসার্স ফান্ড পেতে হয়।
শিক্ষার পরিবেশ বিবেচনায় উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয় অদ্বিতীয়। এ ইউনিভার্সিটির চারদিক প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘেরা, শহরের কোলাহল মুক্ত, নির্ভেজাল পরিবেশে সুন্দর অবকাঠামোতে গড়ে উঠেছে উত্তরা ইউনিভার্সিটি। ঢাকা ও এর আশপাশে জেলা থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাসের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়া করতে পারে। শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি বাস সেবা চালু রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক স্বল্পতা দূর করতে বড় ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। প্রতিষ্ঠানটি সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষক নিয়োগের সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এই বিজ্ঞপ্তির আওতায় দেশের এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ৬৭ হাজার ২০৮টি শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। পদের বিন্যাস অনুযায়ী, সাধারণ স্কুল ও কলেজে ২৯ হাজার ৫৭১টি পদ রয়েছে। তবে এবারের বিজ্ঞপ্তিতে মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যেখানে শূন্য পদের সংখ্যা ৩৬ হাজার ৮০৪টি। এছাড়া কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ৮৩৩টি পদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। এনটিআরসিএ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানভেদে এই শূন্য পদের সংখ্যা কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে।
আগ্রহী প্রার্থীদের জন্য আবেদনের সময়সীমাও সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তির অধীনে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে আগামী ১০ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে। আবেদন ফরম পূরণ এবং নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত। তবে আবেদনের ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৪ জুন তারিখে আবেদনকারীদের বয়স সর্বোচ্চ ৩৫ বছর হতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষক নিবন্ধন সনদের মেয়াদ সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ থেকে তিন বছরের মধ্যে থাকা আবশ্যক। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক নির্দেশনা মোতাবেক, বর্তমানে কর্মরত ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা একই পদে পুনরায় আবেদনের সুযোগ পাবেন না।
যোগ্য প্রার্থীরা পদভিত্তিক শূন্য পদের বিস্তারিত তালিকা, আবেদন ফরম এবং নিয়োগ সংক্রান্ত অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য এনটিআরসিএ’র নিজস্ব ওয়েবসাইট অথবা টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের নির্ধারিত পোর্টাল থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন। উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে ২০২৫ সালে প্রকাশিত ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এনটিআরসিএ ৪১ হাজার ৬২৭ জন শিক্ষককে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছিল। এ পর্যন্ত এনটিআরসিএ মোট ১৮টি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা এবং ছয়টি গণবিজ্ঞপ্তি সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। এবারের সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তিটি শিক্ষক নিবন্ধনধারী হাজার হাজার চাকরিপ্রত্যাশীর জন্য এক বিশাল কর্মসংস্থানের সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আবেদনের প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হওয়ায় প্রার্থীরা কোনো ঝামেলা ছাড়াই ঘরে বসে তাঁদের পছন্দমতো প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে পারবেন।
দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে শুরু হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে এই ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। দীর্ঘ সময় পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ক্যাম্পাসের মোড়ে মোড়ে ভোটারদের পদচারণায় এক প্রাণবন্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই নির্বাচনটি গত ৩০ ডিসেম্বর হওয়ার কথা থাকলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট তা পিছিয়ে আজ ৬ জানুয়ারি নতুন তারিখে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১৬ হাজার ৬৪৫ জন শিক্ষার্থী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোটগ্রহণের জন্য ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে মোট ৩৯টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে এবং সেখানে বসানো হয়েছে ১৭৮টি গোপন বুথ। কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ৩৮টি কেন্দ্র এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র নারী হলের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আলাদা কেন্দ্র নির্ধারিত রয়েছে। নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদের ২১টি পদের বিপরীতে ১৫৭ জন এবং হল সংসদের ১৩টি পদের বিপরীতে ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হলের শিক্ষার্থীদের দুটি পৃথক ব্যালটে কেন্দ্রীয় ও হল সংসদের জন্য ভোট দিতে হচ্ছে। ভোটগ্রহণ শেষে দ্রুততম সময়ে ফলাফল প্রকাশের জন্য ৬টি আধুনিক গণনা মেশিন ব্যবহার করা হবে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামের বাইরে এলইডি স্ক্রিনে সরাসরি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নির্বাচনী ময়দানে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য প্যানেলগুলোর মধ্যে ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’, ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’, ছাত্রশক্তি সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’ এবং বামপন্থী সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’ প্যানেল শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এছাড়াও প্যানেলের বাইরে বেশ কিছু পদের জন্য জনপ্রিয় স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও জয়ী হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। প্রার্থীরা সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে ঘুরে ঘুরে ভোটারদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন এবং শেষ মুহূর্তে তাদের দোয়া ও সমর্থন কামনা করছেন। ভোটাররাও নিজেদের পছন্দের যোগ্য নেতৃত্ব খুঁজে নিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ধৈর্যসহকারে অপেক্ষা করছেন।
নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে পুলিশের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রোভার স্কাউট ও বিএনসিসির সদস্যরাও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে তাদের নাগরিক অধিকার চর্চা করছেন। অন্যদিকে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক জানিয়েছেন, সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে সব ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গণতান্ত্রিক চর্চা দেশের অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার বলেছেন, স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি বিভাগের শূন্য পদগুলোতে ৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে যাবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। এ বিষয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হচ্ছে।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসসকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, দেশের বেকারত্ব দূর করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উপযুক্ত শিক্ষক নিয়োগ করা এই সরকারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি। সেটি পূরণে আরো একধাপ এগিয়ে যাচ্ছে সরকার।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে একটি আদর্শ শূন্য পদ রয়েছে। এই শূন্য পদগুলোতে যোগ্যতম লোকদের নিয়োগ করার লক্ষ্যে এনটিআরসিকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আজকালের মধ্যে এনটিআরসি সেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে।
উপদেষ্টা দেশের শিক্ষিত বেকার যুবকদের মধ্যে যারা শিক্ষকতা পেশায় আন্তরিক ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তাদেরকে শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করে যথাযথ পদে আবেদন করার জন্য আহ্বান জানান।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে আজকের শিক্ষাকরাই আগামী দিনের শিক্ষাব্যবস্থার রক্ষার জন্য কাজ করবে। তাই তিনি চান শিক্ষিত যোগ্য প্রার্থীরা শিক্ষকতা অন্তর্ভুক্ত হোক।
তিনি বলেন, গত মাসে এনটিআরসি থেকে সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শূন্য পদে নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয় আবেদন আসার পরে উপদেষ্টা নেতৃত্বে বেশ কয়েকটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভাগুলোতে তিনি শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, সরকারের ঘোষিত নীতি হচ্ছে আমাদের যত শূন্য পদ রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সেগুলো বিজ্ঞাপিত হয়ে পদ পূরণ করা।
তিনি বলেন, আমাদের অন্তর্বর্তী সরকারের একটা লক্ষ্য ছিল শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করা এবং তারই ধারাবাহিকতায় আমরা ৬৭ হাজারের বেশি শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেই ব্যাপারে গণবিজ্ঞপ্তি আগামীকালের মধ্যেই হবে।
তিনি বলেন, শূন্য পদগুলোর মধ্যে রয়েছে- মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে অধীন ২৯ হাজার ৩২৫টি, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে অধীন ৮৩৩টি এবং মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে ৩৬ হাজার ৮০৪টি এই মোট ৬৬ হাজার ৯৬২টি।
উপদেষ্টা বলেন, এই সরকারের দিক থেকে শিক্ষা খাতকে আরো গতিশীল করা মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই ধরনের উদ্যোগ বড় রকমের একটা ভূমিকা রাখবে বলে আমরা মনে করি এবং আমরা এটাও বিশ্বাস করি যে আমরা এই যে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা ও আস্থার সাথে শেষ করে দিয়ে যেতে পারবো।
তিনি বলেন, এই নিয়োগের ফলে একদিকে যেমন দেশের বেকারত্ব সমস্যার সমাধান হবে পাশাপাশি শিক্ষা ক্ষেত্রে তরুণ এবং মেধাবীরা জায়গা করে নিতে পারবে।
চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফরম পূরণের নতুন তারিখ ঘোষণা করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড। রোববার (৪ জানুয়ারি) এক সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বোর্ড জানিয়েছে যে, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ প্রক্রিয়া আগামী ১১ মার্চ থেকে শুরু হবে। ইতিপূর্বে এই প্রক্রিয়া ১ মার্চ থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও প্রশাসনিক কারণে তা পিছিয়ে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক জারি করা এই বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের নির্বাচনি বা টেস্ট পরীক্ষা গ্রহণ শেষে তার ফলাফল অবশ্যই আগামী ১০ মার্চের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। নির্বাচনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই কেবল ১১ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া ফরম পূরণ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, ফরম পূরণের বিস্তারিত সময়সূচি ও ফি সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা যথাসময়ে তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
এর আগে গত বছরের ২৬ নভেম্বর শিক্ষাবোর্ড একটি প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল, যেখানে নির্বাচনি পরীক্ষার ফল ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এবং ফরম পূরণ ১ মার্চ থেকে শুরুর কথা বলা হয়েছিল। তবে নতুন এই সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পূর্বের সেই নির্দেশনায় পরিবর্তন এনে পুরো প্রক্রিয়াটিকে ১০ দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। বোর্ড এই বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি হিসেবে বিবেচনা করার জন্য সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানিয়েছে।
আগামী মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনটি একটি অবাধ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করার জন্য ইতিমধ্যে যাবতীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হয়েছে। নির্বাচনের দিন যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য ক্যাম্পাস ও এর আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
নির্ধারিত তারিখে এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিতে আজ রবিবার (৪ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা হয়। যদিও সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেট সদস্যদের পক্ষ থেকে জানা গেছে যে, নির্বাচন আয়োজনের পথে বর্তমানে বড় ধরনের কোনো বাস্তব বাধা নেই এবং প্রশাসন চাইলে ডিএমপি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে আইনগতভাবে বাধ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ গিয়াস উদ্দিন জানিয়েছেন যে, নির্বাচন আয়োজনের যাবতীয় প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে এবং সিএসসি’র মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ডিএমপি কমিশনারকে চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম নির্বাচনের সাফল্য নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। তিনি জানিয়েছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জকসু নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে শুরু থেকেই ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপ বা প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়নি। তিনি আরও যোগ করেন যে, নির্বাচন কমিশন তাদের সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে এবং এখন সুষ্ঠুভাবে ভোট প্রদানের জন্য তিনি সাধারণ শিক্ষার্থী ও প্রার্থীদের পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করছেন। প্রশাসন মনে করছে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে এবং ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক চর্চা আরও সুসংহত হবে।
উল্লেখ্য যে, এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর জকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশব্যাপী তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট ওই নির্বাচন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তীতে জরুরি সভায় আগামী ৬ জানুয়ারি নির্বাচনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়। নতুন তারিখকে ঘিরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে এবং প্রার্থীরাও তাদের প্রচারণার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রশাসনের এই দৃঢ় অবস্থান শিক্ষার্থীদের মাঝে এক ধরনের স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করেছে।
সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র প্রেরণ করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।
প্রাথমিকভাবে ৬৮ হাজার শূন্য পদে নিয়োগের অনুমতি চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসন বিভাগের একজন কর্মকর্তা।
এনটিআরসিএর জানিয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই শেষে চাহিদাপত্র অনুমোদন করবে। এরপর সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কার্যক্রম শুরু করা হবে।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ জুনে ১ লাখ ৮২২ শিক্ষক নিয়োগে ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ। পরবর্তী সময় প্রায় ৪১ হাজার প্রভাষক/শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। পদ পূরণ করতে পারেন এনটিআরসিএ।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের লক্ষ্যে শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ করে এনটিআরসিএ।
টেলিটকের মাধ্যমে সংগ্রহ করা পদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭২ হাজারের কিছু বেশি। প্রাপ্ত শূন্য পদের সঠিকতা যাচাই করতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা, মাদরাসা এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়। পদের সঠিকতা যাচাই শেষে ৬৮ হাজার শূন্য পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এ পদগুলোর বিপরীতে সপ্তম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অনুমতি চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠাল এনটিআরসিএ।
দীর্ঘদিন পর নিম্ন মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষায় ‘জুনিয়র বৃত্তির সংখ্যা ২০ শতাংশ বৃদ্ধি এবং বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অর্থের পরিমাণ দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সংগতি রেখে শিক্ষার্থীদের মাসিক ভাতার হার ও এককালীন অনুদান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মাউশি।
সম্প্রতি এ সংক্রান্ত খসড়া প্রস্তাবের একটি সারসংক্ষেপ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। জুনিয়র বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি ও আর্থিক সুবিধা বাড়ানো সংক্রান্ত সম্ভাব্য বাজেট প্রস্তাব পর্যালোচনা করে তা অর্থ বিভাগের কাছে পাঠানো হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব (মাধ্যমিক-১ অনুবিভাগ) সাইদুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, মাউশি থেকে বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি ও অর্থের পরিমাণ বাড়ানোর একটি প্রস্তাব পাওয়া গেছে। এ সংক্রান্ত প্রস্তাব আমরা পর্যালোচনা করছি। প্রস্তাবটি নীতিগত অনুমোদন হলে তা বাজেট বরাদ্দের জন্য অর্থ বিভাগের অনুমোদন নেওয়া হবে। এই ধরনের একটি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
দ্বিগুণ হচ্ছে অর্থের পরিমাণ: খসড়া প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুলে মাসিক ভাতা ৪৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯০০ টাকা এবং বার্ষিক এককালীন অনুদান ৫৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ১২০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি কার্যকর হলে একজন শিক্ষার্থী প্রতি বছর মোট ১১ হাজার ৯২০ টাকা পাবে, যা বর্তমানে ৫,৯৬০ টাকা পাচ্ছে।
অন্যদিকে, সাধারণ কোটায় মাসিক ৩০০ টাকার পরিবর্তে ৬০০ টাকা এবং বার্ষিক এককালীন ৩৫০ টাকার পরিবর্তে ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এতে একজন শিক্ষার্থীর বার্ষিক সুবিধা ৩,৯৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৭,৯০০ টাকা হবে। এই সুবিধা এসএসসি পরীক্ষার আগ পর্যন্ত ২ বছর ভোগ করা যাবে।
খসড়ায় বাজেট প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বর্তমানে ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তির পেছনে সরকারে দুই বছরে ব্যয় হয় ৪২ কোটি ৪০ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। প্রস্তাবিত নতুন হার কার্যকর হলে দুই বছরে সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১০১ কোটি ৭৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬০০ টাকা। অর্থ্যাৎ আগের তুলনায় সরকারের অতিরিক্ত ৫৯ কোটি ৩৭ লাখ ৩ হাজার ৬০০ টাকা বাড়তি প্রয়োজন হবে।
নতুন বছরের প্রথম দিনে নতুন বই হাতে পাওয়ার আনন্দে উচ্ছ্বসিত দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা। সকাল থেকেই স্কুলমুখী হয়ে তারা রঙিন মলাটের বই বুকে জড়িয়ে ধরেছে, কেউ কেউ খুশিতে উল্টে দেখছে পাতা। তবে একই দিনে ভিন্ন চিত্র মাধ্যমিক স্তরে। কোথাও আংশিক বই, কোথাও একেবারেই বই না পাওয়ায় অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে বহু শিক্ষার্থীকে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাজধানীর উত্তরা এবং বাড্ডা এলাকার কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই স্কুলে ভিড় জমাতে শুরু করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। আনুষ্ঠানিকতা শেষে নতুন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট শিট যাচাই করে শিক্ষকরা হাতে তুলে দিচ্ছেন নতুন পাঠ্যবই। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সকালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই বিতরণ করা হয়। বেলা ১১টার পর তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই দেওয়া হচ্ছে।
বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান বলেন, আমাদের স্কুলের সব শিক্ষার্থীর জন্য শতভাগ বই এসেছে। প্রথমে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বই দেওয়া হয়, এরপর তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির বই দেওয়া হয়েছে। সবাই বই পেয়েছে।
তিনি জানান, এ বছর বই বিতরণে কোনো উৎসব করা হয়নি। রোল ধরে ডেকে ডেকে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বইয়ে কোনো কাটা-ছেঁড়া বা ত্রুটি আছে কি না, তা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দেখে নিতে বলা হচ্ছে। এতে কিছুটা সময় লাগছে।
অন্যদিকে নতুন বই পেয়ে শিশুদের মধ্যেও দেখা গেছ ব্যাপক উচ্ছ্বাস। দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রায়হান বলে, নতুন বই পেয়ে অনেক ভালো লাগছে। খুব সুন্দর রঙের বই। বাসায় নিয়ে মলাট বাঁধব।
ফাইয়াজ মাহমুদ নামের আরেক শিক্ষার্থী বলে, নতুন বই নিয়ে অনেক আনন্দ লাগছে। বাসায় গিয়েই সব বই পড়ে ফেলবো।
তবে প্রাথমিকের এই আনন্দের চিত্রটি সব জায়গায় এক নয়। মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে দেখা গেছে ভিন্ন বাস্তবতা। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শতভাগ বই পৌঁছালেও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে চাহিদামতো বই না আসায় শিক্ষার্থীরা বই পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে। কোথাও একজন শিক্ষার্থী পেয়েছে দুটি বই, কেউ পেয়েছে তিনটি, আবার কেউ এখনো একটিও পায়নি।
খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা কেউ ক্লাসরুমে গল্প-আড্ডায় মেতে আছে, কেউ বাইরে খেলাধুলায় ব্যস্ত। তারা জানায়, কখন বই দেওয়া হবে, সে বিষয়ে শিক্ষকরা নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি। তবে বিকেল পর্যন্ত স্কুলে থাকতে বলা হয়েছে। বই এলে ক্লাসে ডেকে নেওয়া হবে—এমন নির্দেশনাই দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়টির শিক্ষক মিলনায়তনে গিয়ে দেখা যায়, বই বিতরণের রেজিস্টার হাতে শিক্ষকরা হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত। কোন শ্রেণির, কোন বিষয়ের কতটি বই এসেছে, সেটির তালিকা তৈরি চলছে।
সহকারী শিক্ষক শহীদুল হক বলেন, ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির কিছু বই এসেছে। কিন্তু সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বইয়ের ঘাটতি বেশি। এখন কাউকে দুইটা আর কাউকে তিনটা বই দিলে যার কম পাবে তার মন খারাপ হবে। তাই হিসাব করে দেখছি, কোন শ্রেণিতে কয়টি বই দেওয়া যায়।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্র জানায়, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৮ কোটি ৫৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৭৯ কপি পাঠ্যবই ছাপা, বাঁধাই ও কাটিং শেষে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ প্রাথমিক স্তরে শতভাগ বই সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে মাধ্যমিক, দাখিল, দাখিল (ভোকেশনাল) ও কারিগরি স্তরের পাঠ্যপুস্তকের মুদ্রণ ও সরবরাহ কার্যক্রম এখনো চলমান। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির মোট ১৮ কোটি ৩২ লাখ ৮ হাজার ৬৯৩ কপি বইয়ের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬৬ শতাংশ বই উপজেলায় পৌঁছেছে।
এদিকে নতুন বছরের বই পেল মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পের শিশুরাও। এদিন ২৪ লাখ ৩০ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে বই বিতরণ কার্যক্রম- ২০২৬ এর উদ্বোধন করেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (৮ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ৭৩ হাজার ৭৬৮টি কেন্দ্রের শিক্ষার্থীদের মাঝে ৩৪ লাখ ৩৬ হাজার ৭০৪টি বই বিতরণ করা হয়।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ ও মনির হায়দার এবং ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিন।
সারাদেশে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের লক্ষ্যে আয়োজিত জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা আগামীকাল রোববার (২৮ ডিসেম্বর ২০২৫) থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এই পরীক্ষা চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত টানা তিন ঘণ্টা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এবারের পরীক্ষায় মোট পাঁচটি বিষয়ে ৪০০ নম্বরের মূল্যায়ন করা হবে, যেখানে প্রথম দিনে শিক্ষার্থীরা বাংলা বিষয়ের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।
পরীক্ষাটি সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) পরীক্ষার্থীদের জন্য ছয়টি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নিজ নিজ আসন গ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষার সময়বণ্টনের ক্ষেত্রে জানানো হয়েছে যে, বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এই দুই বিষয়ের জন্য দেড় ঘণ্টা করে মোট তিন ঘণ্টা সময় বরাদ্দ থাকবে এবং প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্রের ওএমআর (OMR) ফরম পূরণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। উত্তরপত্রে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং বিষয় কোড যথাযথভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করতে হবে। বিশেষভবে সতর্ক করা হয়েছে যে, কোনো অবস্থাতেই উত্তরপত্রটি ভাঁজ করা যাবে না। প্রয়োজনীয় হিসাব-নিকাশের জন্য পরীক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহারের সুযোগ পাবে। তবে কেন্দ্রসচিব ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি বা পরীক্ষার্থী মোবাইল ফোনসহ কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে রাখতে পারবে না। এই নিয়মগুলো কঠোরভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং নির্বিঘ্নে পরীক্ষা সম্পন্ন করতেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে শিক্ষা বিভাগ।
পরীক্ষার সময়সূচি
# প্রতিটি পরীক্ষার সময়:
সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত।
∎ বাংলা (১০১) –২৮ ডিসেম্বর,
রোববার
∎ ইংরেজি (১০৭) –২৯ ডিসেম্বর,
সোমবার
∎ গণিত (১০৯) –৩০ ডিসেম্বর,
মঙ্গলবার
∎ বিজ্ঞান (১২৭) এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (১৫০) –৩১ ডিসেম্বর,
বুধবার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর ২০২৫) ‘ডিকলোনাইজেশন অ্যান্ড মওলানা ভাসানী’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস (কারাস)-এর উদ্যোগে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার) মওলানা ভাসানীর আদর্শ ও রাষ্ট্রচিন্তার ওপর আলোকপাত করেন। কারাসের চেয়ারম্যান ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কারাসের পরিচালক অধ্যাপক ড. আশফাক হোসেন এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিভার্সিটি অব ব্রুনাই দারুসসালামের সহযোগী অধ্যাপক ড. ইফতেখার ইকবাল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার বলেন, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের বিবেক ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী এক দূরদর্শী চিন্তক। তাঁর রাজনীতি কখনোই গদি দখলের জন্য ছিল না, বরং তিনি সবসময় দরিদ্র কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার ছিলেন। ১৯৫৭ সালে তাঁর ঐতিহাসিক ‘আসসালামু আলাইকুম’ উচ্চারণের মাধ্যমেই তিনি পাকিস্তানি শাসনব্যবস্থার চরম বৈষম্যকে সবার সামনে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলেন। উপদেষ্টার মতে, ভাসানীর কাছে শিক্ষার প্রকৃত অর্থ ছিল চেতনার জাগরণ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস অর্জন করা।
সভাপতির বক্তব্যে ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মওলানা ভাসানীকে একজন মহান সমাজবিপ্লবী হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ভাসানী সবসময় নদী, মাটি ও প্রান্তিক মানুষের কথা রাজনীতির মূল ধারায় নিয়ে এসেছেন। তাঁর সংগ্রামের লক্ষ্য ছিল সাম্য এবং গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন সংকট নিরসনে মওলানা ভাসানীর দেখানো পথই প্রকৃত মুক্তির দিশা হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে অধ্যাপক আশফাক হোসেন মওলানা ভাসানীর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও উপমহাদেশের কৃষক আন্দোলনে তাঁর অনন্য অবদানের কথা স্মরণ করেন।
সম্মেলনের প্রথম দিনে উদ্বোধনী অধিবেশন শেষে মওলানা ভাসানীর জীবন ও সংগ্রামের ওপর একটি দুর্লভ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। আগামীকাল বুধবার সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে বি-উপনিবেশায়ন ও ভাসানীর বিশ্বদর্শন নিয়ে বিশেষ প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে অধ্যাপক আহমেদ কামাল ও অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহর মতো বিশিষ্ট গবেষকরা অংশ নেবেন। এ ছাড়া সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে কারাস গবেষক দলের পক্ষ থেকে ঐতিহাসিক ‘ফারাক্কা লংমার্চ’-এর রাজনৈতিক ও সামাজিক তাৎপর্য নিয়ে একটি বিশেষ পর্যালোচনা অধিবেশন পরিচালিত হবে। মূলত মওলানা ভাসানীর বৈপ্লবিক রাষ্ট্রচিন্তাকে বর্তমান প্রজন্মের সামনে নতুনভাবে তুলে ধরাই এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ‘ফজলুর রহমান মুহুরী স্মৃতি বৃত্তি–২০২৫’ উপলক্ষে বৃত্তি পরীক্ষা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলার আলমনগর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আলমনগর ঐক্য ফোরামের সভাপতি এইচ. এম. শান্তি। সভাপতিত্ব করেন আলমনগর ঐক্য ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও স্মৃতি বৃত্তি কমিটির সভাপতি শরিফুল ইসলাম। বৃত্তি পরীক্ষার নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করেন সহকারী অধ্যাপক আক্তার হোসেন। কেন্দ্র সচিব ছিলেন আলমনগর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. কামাল হোসেন। এছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বানিয়াচং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম। সহকারী কেন্দ্র সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. খালিলুর রহমান।
আয়োজকরা জানান, এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে এ স্মৃতি বৃত্তির আয়োজন করা হয়েছে। বৃত্তি পরীক্ষায় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।
উপস্থিত অভিভাবকরা বলেন, বৃত্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের পাশাপাশি পড়াশোনায় আগ্রহ ও প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা তৈরি হয়, যা ভবিষ্যতে তাদের শিক্ষাজীবনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিল ভাটা নদীর বাঁকে সমাজকল্যাণ সংঘ, আলমনগর। আয়োজকরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা জানান।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের একজন সিনিয়র শিক্ষকের বিরুদ্ধে পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তিনি ৬ মাসের ছুটিতে যাওয়ার আগে নিজের প্রভাব খাটিয়ে ছাত্রকে পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান নিশ্চিত করতে নিয়মবিরোধী তৎপরতা চালিয়েছেন বলে জানা গেছে।
জানা যায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক পিএইচডি গবেষণারত মোহাম্মদ শামছিল আরেফিন (রেজিস্ট্রেশন নং: ৩৫, রোল নং: ২০১৯-০১, শিক্ষাবর্ষ ২০১৮-১৯) পিএইচডি থিসিস মূল্যায়ন ও মৌখিক পরীক্ষার কমিটি ২০২৩ সালের ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়। যা বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির ৭৮৫তম সভায় (বিষয়-৯, বিবিধ-৬), ৪ জুন অনুষ্ঠিত ৪৯তম ফ্যাকাল্টি সভায় (৫নং সিদ্ধান্ত) এবং পরবর্তীতে ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪৪তম একাডেমিক কাউন্সিলে (বিষয়-২) অনুমোদিত হয়। তবে এ বছর ২০২৫ সালের শেষপান্তে এসে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের একজন সিনিয়র শিক্ষক ও থিসিস সুপারভাইজার এই পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করার জন্য তৎপর হয়ে ওঠেন। গত ১৮ নভেম্বর থিসিস মূল্যায়নের জন্য ৩ জন মূল পরীক্ষকের মধ্যে তৃতীয় মূল পরীক্ষককে থিসিস না পাঠিয়ে বিকল্প সদস্য পরীক্ষককে পাঠানো হয়। যা একাডেমিক নিয়মের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে অভিযোগ পাওয়া যায়, পিএইচডি প্রার্থীকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার জন্য তড়িঘড়ি করে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে ২৬ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে থিসিস পাঠানোসহ অনলাইনে রিপোর্ট চলে আসে। ২৭ নভেম্বরে মৌখিক পরীক্ষার তারিখ ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে নেওয়ার জন্য ঘোষণা করা হয়। থিসিস পাঠানোর দিন থেকে ১২ দিনের মাথায় অর্থাৎ ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখ পিএইচডি থিসিসের মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এভাবে মাত্র ১২ দিনে দেশের প্রথমসারির একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককে পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়ার ব্যবস্থা করা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে অকল্পনীয় ঘটনা বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।
জানা যায়, নির্ধারিত ৩ জন মূল পরীক্ষকের মধ্যে তৃতীয় মূল পরীক্ষক ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপউপাচার্য বর্তমানে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আশিষ কুমার পাণিগ্রাহীকে থিসিস না পাঠিয়ে বিকল্প সদস্যকে থিসিস পাঠানো হয়েছে। এতে মূল্যায়ন কমিটির নিরপেক্ষতা ও উচ্চশিক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ বর্তমানে থিসিস সুপারভাইজার ছাড়াও বাকি দুজন পরীক্ষকই একই বিশ্ববিদ্যালয় এবং একই বিভাগের (প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়) যা রহস্যজনক বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
যথাযথভাবে থিসিস মূল্যায়ন না করেই তড়িঘড়ি করে অনলাইনে রিপোর্ট পাঠিয়ে দিয়েছেন বিষয়টি স্বীকার করে চবি প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোসাসম্মৎ রাশেদা চৌধুরী দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘২-৩ দিনে একটি পিএইচডি থিসিস অধ্যয়ন করে মূল্যায়ন করা ও রিপোর্ট তৈরি করা একেবারেই অসম্ভব। কমপক্ষে তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগে। এ ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি করে অনলাইনে রিপোর্ট পাঠিয়ে দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদয়।’
জানা যায়, পরীক্ষকদয় যথাযথভাবে থিসিস মূল্যায়ন না করেই তড়িঘড়ি করে অনলাইনে রিপোর্ট পাঠিয়ে দিয়েছেন যা হয়তো আগে থেকেই তৈরি করে রাখার নির্দেশনা ছিল, নতুবা মাত্র ২-৩ দিনে একটি পিএইচডি থিসিস অধ্যয়ন করে মূল্যায়ন করা ও রিপোর্ট তৈরি করা একেবারেই অসম্ভব। সাধারণত কোনো মূল পরীক্ষককে থিসিস পাঠানোর পর তিনি লিখিতভাবে ওই থিসিস মূল্যায়নে অপারগতা প্রকাশ করলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে বা অনুমতি নিয়ে মূল পরীক্ষকের পরিবর্তে বিকল্প সদস্যকে পাঠানো হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সে নিয়ম না মেনে মূল পরীক্ষককে থিসিস না পাঠিয়েই বিকল্প একজনকে থিসিস পাঠানো হয়েছে। এর ফলে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এই সমগ্র অনিয়মের পেছনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের একজন সিনিয়র শিক্ষকের ব্যক্তিস্বার্থই প্রাধান্য পেয়েছে। মোহাম্মদ শামছিল আরেফিনের পিএইচডি থিসিসটির তত্ত্বাবধায়ক অন্যত্র পদায়িত হবেন বিধায় তিনি গত ১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ছয় মাসের লিয়েন ছুটিতে যান। তাই তার ছাত্রকে দ্রুততম সময়ে নিজের প্রভাব খাটিয়ে পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান নিশ্চিত করতেই নিয়মবিরোধী এই ব্যতিক্রমী দ্রুততা ও তৎপরতা দেখানো হয়েছে। এতে পিএইচডি থিসিসের মানের সাথে আপস করে করা হয়েছে, যা পিএইচডি থিসিস মূল্যায়নের নিয়মবিরোধী ও অগ্রহণযোগ্য। পিএইচডির মতো উচ্চতর ডিগ্রির ক্ষেত্রে এই ধরনের অনিয়ম ভবিষ্যতে খারাপ দৃষ্টান্ত তৈরি করবে যা পুরো একাডেমিক কাঠামোর উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
চবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মমতাজ উদ্দিন আহমদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘ফাইলটি আমাদের উপাচার্য্য মহোদয়ের অফিসে। এখনো আমার কাছে আসেনি। তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।’
পিএইচডি গবেষণারত চবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ শামছিল আরেফিন বলেন, ‘আমার সরাসরি সুপারভাইজার হচ্ছেন অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া। উনার সাথে কথা বললে ভালো হয়।’ পরে নিজে কথা বলে, (প্রতিবেদকের সাথে) এরপর কথা বলবেন বললেও আর যোগাযোগ করেননি।
বৃটিশ কাউন্সিলের ডেপুটি ডিরেক্টর মারিয়া রেহমান বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ-এর সঙ্গে উপাচার্যের সভাকক্ষে সাক্ষাৎ করেছেন। এসময় ব্রিটিশ কাউন্সিলের শিক্ষা বিভাগের প্রধান তৌফিক হাসান তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে তাঁরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের মধ্যে চলমান শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং গবেষক বিনিময় নিয়েও বৈঠকে আলোচনা করা হয়।
এসময় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যৌথ গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ এবং যৌথভাবে জার্নাল প্রকাশের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিকীকরণের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিলের উপ-পরিচালকের সহযোগিতা কামনা করেন। ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মশালা এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের বিষয়েও তাঁরা আলোচনা করেন।