শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
৯ কার্তিক ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক মানের গ্র্যাজুয়েট তৈরিতে কাজ করছে উত্তরা ইউনিভার্সিটি

উত্তরা ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস।
আপডেটেড
৩ মে, ২০২৫ ১৩:২৫
আবু সুফিয়ান
প্রকাশিত
আবু সুফিয়ান
প্রকাশিত : ৩ মে, ২০২৫ ১৩:১৩

দক্ষ মানব সম্পদ গড়ার লক্ষ্যে ও বৈশ্বিক সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে দেশেই আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে ২০০৩ সালে যাত্রা শুরু করে উত্তরা ইউনিভার্সিটি। শুরুতে ২টি স্কুল বা অনুষদের অধীনে ২টি ডিপার্টমেন্ট নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫টি স্কুল বা অনুষদের অধীনে ১৪টি ডিপার্টমেন্টে ৪০টি প্রোগ্রাম চালু আছে। শুরু থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব জব ওরিয়েন্টেড ও প্রফেশনাল বিভাগ চালু আছে সেগুলো হচ্ছে- বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল, ফ্যাশন ডিজাইন, ইইই, সিএসই, আইন, ম্যাথ, ফিজিক্স, এডুকেশন, বাংলা, ইংরেজি, ইসলামিক স্টাডি ও শারীরিক শিক্ষা বিভাগ। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা যেন প্রতিযোগিতায় নিজেদের চৌকস প্রমাণ করতে পারে সেজন্য শুরু থেকে মানসম্পন্ন শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে উত্তরা ইউনিভার্সিটি ৯টি সমাবর্তন শেষ করেছে। এ ইউনিভার্সিটি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জন করে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছে।

প্রতিষ্ঠাতা পরিচিতি:

উত্তরা ইউনিভার্সিটির পরিচালনা কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত দক্ষ ও যোগ্য, যাদের প্রায় সবাই স্বনামধন্য ও প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর ড. এম. আজিজুর রহমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একজন খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রিকালচারাল ইকোনোমিক্স ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে অনার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের একই ডিপার্টমেন্ট থেকে মাস্টার্স ডিগ্রিও লাভ করেন। বিশ্ব ব্যাংকের বৃত্তি নিয়ে তিনি আমেরিকায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৮৮ সালে আমেরিকার ভ্যান্ডারভিল্ট ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে ও বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তিনি ৩০ বছর অধ্যাপনা করেন। ১৯৮৯ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তিনি ইউএস অ্যাম্বাসির ইউএসএইডে ইকোনোমিক অ্যাডভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ড. এম আজিজুর রহমান উত্তরা ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চ্যান্সেলর। শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সুলেখক ও সমাজসেবী প্রফেসর ড. ইয়াসমীন আরা লেখা হচ্ছেন এ ইউনিভার্সিটির বর্তমান ভাইস চ্যান্সেলর। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড ও এমএড এবং ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

ভিশন ও মিশন:

এক্সিলেন্স ইন হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ -এই স্লোগানকে সামনে রেখে গবেষণায় বেশি জোর দিচ্ছে উত্তরা ইউনিভার্সিটি। এ ইউনিভার্সিটির ভিশন বা সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দিক থেকে দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং আদর্শ নাগরিক, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও আলোকিত মানুষ সৃষ্টিকরণ।

উত্তরা ইউনিভার্সিটি জীবনঘনিষ্ঠ ও নৈতিক শিক্ষাদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। শুধু জ্ঞানার্জনের মাধ্যমেই আদর্শ নাগরিক সৃষ্টি হয় না। তাই উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি মূল্যবোধ সম্পর্কেও দীক্ষা দেওয়া হয়।

স্থায়ী ক্যাম্পাস:

উত্তরা ইউনিভার্সিটির একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হচ্ছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সকল নিয়মনীতি মেনে স্থায়ী ক্যাম্পাসে সম্পূর্ণ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। উত্তরা মডেল টাউনের থার্ড ফেইজ সংলগ্ন, প্রায় ৬ বিঘা জমির ওপর স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ হয়েছে। ৯ তলা ভবনের এ ক্যাম্পাস দেখে যে কারও চোখ জুড়িয়ে যাবে। ভবনের গঠনশৈলী এতটাই আধুনিক, সবদিক থেকেই আলো-বাতাস ভবনের ভেতর প্রবেশ করতে পারে। শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে খেলার মাঠ, যেখানে প্রতিনিয়ত নানা আয়োজন ও উৎসব চলতে থাকে। প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গড়ে তোলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ও মনোমুগ্ধকর এই ক্যাম্পাস! চারপাশে সবুজে ঘেরা আর ক্যাম্পসের পাশ ঘিরে তুরাগ নদী বহমান। মূল ভবন দক্ষিণামুখী হওয়াতে প্রতিনিয়ত দখিনা বাতাস প্রবহমান এই ক্যাম্পাসে। লাল কৃষ্ণচূড়ার শামিয়ানা আর শুভ্র কাশফুলের দোলাসহ বিভিন্ন ঋতুর প্রকৃতি এখানে দৃশ্যমান!

যাতায়াত ব্যবস্থা:

আধুনিক রাজধানী ঢাকার উত্তরায় সুবিশাল ভবন নিয়ে নির্মিত হয়েছে উত্তরা ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস। এই ক্যাম্পাসের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো- ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা দ্রুত আসা-যাওয়া করতে পারে। এমনকি আশপাশে জেলা গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল থেকে খুব সহজে যাতায়াত করতে পারবে ছাত্রছাত্রীরা। আর মেট্রোরেল স্টেশন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের খুব সন্নিকটে হওয়ায় যাতায়াতব্যবস্থা নিয়ে চিন্তিত থাকতে হয় না অভিভাবককে।

শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন:

বর্তমানে উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে ১৪টি বিভাগ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণার কাজেও ব্যাপক জোর দেওয়া হচ্ছে। সে কারণে উত্তরা ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট অব পলিসি রিসার্স স্থাপন করেছে। শুরু থেকেই মানসম্পন্ন শিক্ষাকে সামনে রেখেই এ ইউনিভার্সিটির শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাশিউরেন্স সেল (আইকিউএসি) গঠনের মাধ্যমে শিক্ষার অভ্যন্তরীণ গুণগতমান উন্নয়নের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

সমৃদ্ধ ও আধুনিক লাইব্রেরি:

শুরু থেকেই এই ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের জন্য গ্রন্থাগার সেবা দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে আসছে। সপ্তাহে ছয় দিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে গ্রন্থাগার। দৈনিক সংবাদপত্র ও রেফারেন্স বই পড়ার জন্য রয়েছে আলাদা কর্নার। শিক্ষার্থীদের অধ্যয়নের জন্য গ্রন্থাগারে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের ২৫টি দৈনিক পত্রিকা রাখা হয় নিয়মিত। গ্রন্থাগারে রয়েছে লক্ষাধিক বই এবং জার্নাল-ম্যাগাজিন আছে প্রায় ১০ হাজার। এ ছাড়া গ্রন্থাগারে ব্যবহারকারীদের সহায়ক সেবা দেওয়ার জন্য রয়েছে গবেষণা প্রতিবেদন, ই-রিসোর্সের বিশাল সম্ভার, বিশ্বকোষ, অভিধান, হ্যান্ডবুক, ম্যানুয়েল ও এনজিও প্রকাশনা। ব্যবহারকারীরা ই-বুক, ই-জার্নাল ও ই-ম্যাগাজিন পড়তে ও ডাউনলোড করতে পারেন। গ্রন্থাগারে ব্যবহারকারীদের জন্য রয়েছে ওয়াইফাই সংযোগসহ কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ। গ্রুপ স্ট্যাডি করার জন্য রয়েছে একাধিক বিশেষ কক্ষ। শিক্ষার্থীরা গ্রন্থাগারে না এসেও যেকোনো বইয়ের শিরোনাম, লেখক, কল নম্বর, কি-ওয়ার্ড ও প্রকাশক অনুযায়ী খুঁজতে পারেন ই-লাইব্রেরির সুবাদে। গ্রন্থাগারে শিক্ষকদের জন্য রয়েছে পৃথক ব্যবস্থাপনা।

গবেষণা ও প্রকাশনা:

উত্তরা ইউনিভার্সিটির প্রতিটি বিভাগই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফ্যাকাল্টিদের গবেষণা প্রবন্ধ দেশি ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হচ্ছে। প্রতি অনুষদ থেকে জার্নাল প্রকাশ করা হয় এবং গবেষণায় বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হয় শিক্ষকদের। এ ছাড়া বিভিন্ন অনুষদ থেকে নিয়মিতভাবে জার্নাল প্রকাশিত হচ্ছে। ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ থেকে বিজনেস রিভিউ, আইন বিভাগ থেকে ল’ জার্নাল নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হচ্ছে।

উত্তরা ইউনিভার্সিটির প্রত্যেক অনুষদে রিসার্চ সেল গঠিত হয়েছে, যেখানে গবেষণা বিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং প্রজেক্ট পরিচালনা করা হয়। প্রতিবছর অসংখ্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরামণ্ডলী বিদেশে গবেষণা ও উচ্চশিক্ষা বিষয়ে পড়ালেখা করতে যাচ্ছে। এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গবেষণাকে উৎসাহিত করতে অভ্যন্তরীণ গবেষণা তহবিল গঠন, মানসম্মত গবেষণার জন্য ইনসেনটিভ প্রদান ও গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশে সহায়তা করে। উত্তরা ইউনিভার্সিটি শুধু ডিগ্রি প্রদানের জন্যই শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে না বরং ইউনিভার্সিটি প্রশাসন এবং শিক্ষকরা চেষ্টা করছেন মানসম্মত ও যুগোপযোগী শিক্ষার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে।

এমওইউ ও স্টুডেন্ট এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম:

শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জন ও শিক্ষকদের জ্ঞানচর্চা আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যাবশ্যক। তাই উত্তরা ইউনিভার্সিটি যুক্তরাজ্যের বেডফোর্ড শ্যায়ার ইউনিভার্সিটি ও অরচেস্টার ইউনিভার্সিটির সঙ্গে সহযোগিতার স্মারক স্বাক্ষর করেছে। কর্তৃপক্ষ কানাডার কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও সহযোগিতার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া উত্তরা ইউনিভার্সিটি সাম্প্রতিককালে কয়েকটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে। এসব আন্তর্জাতিক সম্মেলন বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, আসাম ও কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বছরই উত্তরা ইউনিভার্সিটি বিজনেস কনফারেন্সের আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে যেখানে আমেরিকা, জাপান ও ভারতসহ দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান শিক্ষাবিদরা অংশগ্রহণ করেছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির সঙ্গে রয়েছে এমওইউ ও স্টুডেন্ট এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম। যার ফলে শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে গ্র্যাজুয়েট, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট, এমফিল ও পিএইচডি করার সুযোগ।

সম্মাননা ও সাফল্য:

মানসম্পন্ন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার স্বীকৃতি হিসেবে এ ইউনিভার্সিটি সাম্প্রতিককালে বেশ কিছু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘দা বিজ অ্যাওয়ার্ড-২০১৮ (হংকং), এডুকেশন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড, ২০১২, (দিল্লি), এশিয়াস বেস্ট বিজনেস অ্যাওয়ার্ড, সিঙ্গাপুর, ২০১৩, এশিয়ান সিইএফ বিজনেস স্কুল অ্যাওয়ার্ড, ২০১৪ (মুম্বাই), ইউজিসি অ্যাওয়ার্ড, ২০১৪ ও ২০১৫ (আইন বিভাগ) অন্যতম।

সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশে ক্লাব এবং ফোরাম:

শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশ ও বাজার উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে ইউইউতে ১২টি ক্লাব ও ১৪টি বিভাগের প্রায় ১৪টি বিভাগীয় ফোরাম রয়েছে। এসব ক্লাব ও ফোরাম বছরজুড়েই জাতীয়পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের কো-কারিকুলার ও এক্সট্রা কারিকুলার কার্যক্রম, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। এ ছাড়া পিঠা উৎসব, বসন্তবরণ, চৈত্রসংক্রান্তি, শিক্ষামেলা ও পাঠচক্রসহ জাতীয় অনুষ্ঠানগুলো বিশেষভাবে পালিত হয় এখানে। উচ্চশিক্ষার নিরন্তন পরিবেশ থাকায় মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা কার্যক্রম সুন্দর ও সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে পারে। অরাজনৈতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ায় নেই কোনো দ্বন্দ্ব, নেই ক্লাস বন্ধ হওয়ার চিন্তা, নেই সেশন জটের ভয়।

শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ:

উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে প্রতি বছর তিনবার অর্থাৎ স্প্রিং, ফল ও সামার সেমিস্টারে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। উচ্চ মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ছাত্রছাত্রীদের জন্য রয়েছে ১০% থেকে ১০০% পর্যন্ত স্কলারশিপ।

এ ছাড়া ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠী, নারী, জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়, জুলাই-বিপ্লবে আহত ও নিহতদের নিকটাত্মীয়দের জন্য রয়েছে বিশেষ স্কলারশিপ।

দক্ষ মানবসম্পদ ও গ্র্যাজুয়েটদের সফলতা:

সুযোগ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে উত্তরা ইউনিভার্সিটি। দেশের অন্যতম এই বেসরকারি বিদ্যাপীঠটি শিক্ষা, গবেষণা ও বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শুধু ডিগ্রি অর্জনের সুযোগই দিচ্ছে না, বরং তাদের আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় উপযুক্ত করে তুলছে। ফলে এখানে থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা বিসিএস ক্যাডার, জুডিশিয়াল সার্ভিস, আইন পেশা, ব্যাংক খাত, রপ্তানিমুখী শিল্প, কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি, এনজিও এবং বহুজাতিক কোম্পানিতে সুপ্রতিষ্ঠিত ক্যারিয়ার গড়তে পারছেন। পাশাপাশি, টেক্সটাইল ও ইলেকট্রনিক শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি খাত, সফটওয়্যার ফার্ম, ই-কমার্স ও স্টার্টআপ জগতে তারা দক্ষতার সঙ্গে অবদান রাখছেন। শুধু তাই নয়, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াতেও রয়েছে উত্তরা ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের গৌরবজনক উপস্থিতি। অনেকে আবার উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি নিজস্ব ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগ গড়ে তুলে আত্মনির্ভরশীল তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। শিক্ষকতা পেশায়ও তারা অবদান রাখছেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই বৈচিত্র্যময় কর্মসংস্থান ও পেশাগত সাফল্যই প্রমাণ করে উত্তরা ইউনিভার্সিটি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়- এটি একটি দক্ষ মানবসম্পদ নির্মাণের কারখানা।

উচ্চপর্যায়ে কৃতিত্ব:

উত্তরা ইউনিভার্সিটির গণিত বিভাগের ছাত্ররা আন্ডারগ্র্যাজুয়েট গণিত অলিম্পিয়াড ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে অংশগ্রহণ করে সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় একাধিকবার প্রথম, তৃতীয়, চতুর্থ ও সপ্তম স্থান অর্জন করেছেন। শারীরিক শিক্ষা বিভাগের কৃতী ছাত্রী মাহফুজা খাতুন শীলা জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতা ২০১৬-তে জোড়া স্বর্ণপদক বিজয়ী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদক গ্রহণ করেছেন। শারীরিক শিক্ষা বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী মিনিতা সুপ্রিয়া মিজান ত্রপী ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত সপ্তম আন্তর্জাতিক কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ ২০১৬-তে বিশেষ সাফল্য অর্জন করেছেন। ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান শরীফ তেল ও গ্যাসবিহীন একটি মোটরযান উদ্ভাবন করেছেন, যা সোলার এনার্জিতে মাত্র ১০ টাকা খরচে সারা দিন চালানো যায়। প্রায় সব অনুষদ এবং বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যতিক্রমধর্মী নানা সৃজনশীল কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায়। এসব সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মধ্যদিয়ে শিক্ষার পরিবেশকে এক আনন্দঘন পরিবেশে পৌঁছে দিয়েছে উত্তরা ইউনিভার্সিটি সুদক্ষ প্রশাসন এবং নিষ্ঠাবান শিক্ষক ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা।

স্বতন্ত্র ক্যাফে ও উন্নতমানের ক্যান্টিন:

শিক্ষার্থীদের জন্য এ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে স্বতন্ত্র ক্যাফে ও উন্নতমানের ক্যান্টিন। সকাল-সন্ধ্যা সুস্বাদু খাবার মেলে সহজেই। ক্যাফেটোরিয়াটি শিক্ষার্থীদের প্রিয় আড্ডাস্থল হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন শতাধিক শিক্ষার্থী এখানে সকালের নাশতা থেকে শুরু করে দুপুরের খাবার এবং ক্লাসের ফাঁকে চা-কফিতে সতেজতা খুঁজে নেয়। উন্নতমানের খাবার, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও স্বল্পমূল্যের কারণে ক্যাফেটোরিয়াটি শিক্ষার্থীদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়। বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-আড্ডা, পাঠচর্চা কিংবা হালকা বিশ্রাম- সব কিছুতেই ক্যাফেটোরিয়ার ভূমিকা অনন্য।

বক্তব্য

মো. আদনান রহমান, পিএইচডি

অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, স্কুল অব বিজনেস

ডিরেক্টর, ব্র্যান্ড, কমিউনিকেশন অ্যান্ড পিআর

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক উচ্চশিক্ষা পরিবেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যান্ড ইমেজ তার সামগ্রিক সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখে। সেই ভাবনাকে সামনে রেখে উত্তরা ইউনিভার্সিটি চালু করেছে নতুন মিডিয়া ক্যাম্পেইন ও আধুনিক প্রচারণা কৌশল। শুধু পাঠ্যক্রম নয়, আজকের শিক্ষার্থীরা দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যবোধ, পরিবেশ, অ্যালামনাই সাফল্য ও সামাজিক দায়বদ্ধতা। এসবই একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ডের উপাদান। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য হলো বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং সাফল্যের গল্প তুলে ধরা। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা যেন আমাদের বর্তমান এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের গল্প থেকে অনুপ্রেরণা পায়। এভাবেই আমরা বিশ্বাসযোগ্যতা এবং মানবিক সংযোগ তৈরি করতে পারব। আমরা ইউটিউব, ফেসবুক এবং লিংকডইন-এর মতো প্ল্যাটফর্মে সক্রিয়। বিশেষ করে ভিডিও কনটেন্ট এবং ইন্টারেক্টিভ পোস্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ছে।

উত্তরা ইউনিভার্সিটি ভবিষ্যতে আরও ডেটাচালিত মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজির দিকে এগোচ্ছে। আমরা এআই ও অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের চাহিদা বুঝে কাজ করতে চাই। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের দৃশ্যমানতা বাড়াতে কাজ করছি। সঠিক ব্র্যান্ডিং-এর মাধ্যমে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেবল শিক্ষার্থী আকর্ষণই করে না বরং সমাজে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তাও পৌঁছে দিতে পারে।

ড. শাহ আহমেদ

অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ও চেয়ারম্যান, ইংরেজি বিভাগ

ডিরেক্টর, অফিস অব স্টুডেন্টস অ্যাফেয়ার্স

উত্তরা ইউনিভার্সিটি

উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে বিশ্বমানের পড়ালেখার জন্য আমরা বিশ্বমানের সিলেবাস তৈরি করেছি। ইউজিসির নিয়ম মেনে আমাদের দেশের সেরা ইউনিভার্সিটির সিলেবাস ও বিশ্বের টপ ইউনিভার্সিটির সিলেবাসকে সমন্বয় করে এমন একটা উন্নতমানের সিলেবাস তৈরি করেছি যাতে আমাদের ছাত্ররা এই সিলেবাসের ভিত্তিতে দেশে ও বিদেশে চাকরি পেতে পারে। প্রতিটি ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীদের সফট স্কিলগুলো গুরুত্বসহকারে শেখানো হয়। এতে চাকরির বাজারে অন্যদের থেকে তারা বেশি এগিয়ে থাকে। এ বিশ্ববিদ্যালয় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় যে শিক্ষাসেবা প্রদান করে থাকে, সে তুলনায় ছাত্রদের শিক্ষা ব্যয় অত্যন্ত কমই মনে হয়। প্রচুর ল্যাব আছে, লাইব্রেরিতে হাজার হাজার বই, কো-কারিকুলার কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক মানের ক্লাসরুম, লজিস্টিক্স সাপোর্ট, ইন্টারনেট, মাল্টিমিডিয়াসহ সব সুবিধা দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের। আমাদের উত্তরা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের প্রথমসারির ইউনিভার্সিটির মধ্যে অন্যতম।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যথেষ্ট গবেষণা ফান্ড আছে। সে ফান্ড নিয়ে শিক্ষকরা বিভিন্ন ফিল্ডে রিসার্স করেন। নতুন নতুন নলেজ, নতুন নতুন থিওরি আবিষ্কার করেন। তবে ফ্যাকাল্টিকে প্রজেক্ট জমা দেওয়ার পরে প্রজেক্ট এক্সেপ্ট হওয়ার পরে সেই ফান্ডটা দিয়ে থাকে। এক কথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন মেনে রিসার্স ফান্ড পেতে হয়।

শিক্ষার পরিবেশ বিবেচনায় উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয় অদ্বিতীয়। এ ইউনিভার্সিটির চারদিক প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘেরা, শহরের কোলাহল মুক্ত, নির্ভেজাল পরিবেশে সুন্দর অবকাঠামোতে গড়ে উঠেছে উত্তরা ইউনিভার্সিটি। ঢাকা ও এর আশপাশে জেলা থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাসের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়া করতে পারে। শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি বাস সেবা চালু রেখেছে কর্তৃপক্ষ।

বিষয়:

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতের নির্দেশ

শ্রেণিকক্ষ, অফিসকক্ষ, বারান্দা, ছাদ, শৌচাগার ও প্রতিষ্ঠানের আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখাসহ কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে বলা হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:১৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

শ্রেণিকক্ষ, অফিসকক্ষ, বারান্দা, ছাদ, শৌচাগার ও প্রতিষ্ঠানের আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখাসহ কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে বলা হয়েছে।

গত ১৮ অক্টোবর জারি করা এক নির্দেশনায় এসব ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্দেশনায় বিষয়টিকে অতীব জরুরি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা পরিদর্শনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মিরপুর বাংলা কলেজসহ বিভিন্ন স্থাপনা আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেছেন।

এ পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিবেশ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ ছাড়া শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের সম্পৃক্ত করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, সার্বিক শৃঙ্খলা ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক মো. নাজমুল হক স্বাক্ষরিত নির্দেশনাটি অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক, সরকারি ও বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা ও থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সূত্র: বাসস

বিষয়:

না ফেরার শর্তে নয়, অসুস্থতার কারণে ক্যাম্পাস ছেড়েছি: চুয়েটের ভিসি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

কোনো ধরনের পদত্যাগ কিংবা ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে না ফেরার শর্তে নয়, নিতান্তই শারীরিক অসুস্থতার কারণে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে চিকিৎসকের পরামর্শে ক্যাম্পাস ছেড়েছেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। সুস্থ হওয়ার পর পুনরায় ক্যাম্পাসে ফিরে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের কথাও স্পষ্ট করেছেন তিনি।

এক প্রতিবাদলিপিতে উপাচার্য উল্লেখ করেন, তার কোনো ধরনের বক্তব্য গ্রহণ না করেই কয়েকটি গণমাধ্যমে তিনি আর ক্যাম্পাসে ফিরবেন না অথবা পদত্যাগ করেছেন মর্মে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। এমন অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচারকে তিনি দুঃখজনক এবং সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত বলে আখ্যায়িত করেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি জানান, গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর চুয়েট প্রশাসনিক ভবনের নিজ কার্যালয় থেকে স্থানীয় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে তাকে বের করে আনা হয়। মূলত সোমবার দুপুর থেকে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় আটকে থাকায় তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সে সময় তার সঙ্গে থাকা আরও অন্তত ১১ জনের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এর আগেই সোমবার রাতে দুই সাবেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে সরকারি চিকিৎসক ও সিভিল সার্জনের পরামর্শক্রমেই তাকে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বাইরে নেওয়া হয়। তাৎক্ষণিকভাবে কথা বলার মতো শারীরিক সামর্থ্য তার ছিল না এবং বর্তমানেও তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘সুস্থ হয়ে আমি আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করব, ইনশা আল্লাহ।’

তিনি আরও জানান, কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি চুয়েটে আসেননি; রাষ্ট্রের অর্পিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখাই তার মূল ব্রত।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় পা দিয়ে শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত না করে। তাদের নিজের অ্যালামনাই অনুজ হিসেবে উল্লেখ করে কালবিলম্ব না করে শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে তথ্য যাচাই-বাছাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য অন্তর্ভুক্তি এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতি অনুসরণের অনুরোধ জানিয়ে প্রচারিত ভুল সংবাদ সংশোধনের তাগিদ দেন উপাচার্য।


সরকারি স্কুলে ভর্তি : প্রথম শ্রেণিতে লটারি, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে লিখিত পরীক্ষা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আসন্ন ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। আর দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শূন্য আসনে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে গতকাল মঙ্গলবার রাতে ‘সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা-২০২৭’ প্রকাশ করা হয়।

প্রকাশিত নীতিমালা অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সারাদেশে সব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন, ফি গ্রহণ এবং ফলাফল প্রক্রিয়াকরণ ও প্রকাশ সবই অনলাইনে সম্পন্ন হবে।

শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষার্থী সংখ্যা ও বয়সসীমা

নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রতি শ্রেণি শাখায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা হবে ৫৫ জন। প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ অনুযায়ী শিক্ষার্থীর বয়স ৬+ বছর ধরা হলেও আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে সর্বনিম্ন ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত বয়সের শিক্ষার্থীরা আবেদনের সুযোগ পাবে। বয়স প্রমাণের জন্য অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে। আর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের বয়স নির্ধারণে সর্বোচ্চ ৫ বছরের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া যাবে।

ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি ও মানবণ্টন

নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ৫টি বিদ্যালয়ে পছন্দক্রম দিতে পারবে। তবে ডাবল শিফট স্কুলে উভয় শিফট পছন্দ করলে ২টি বিদ্যালয় পছন্দক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলে গণ্য হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কেন্দ্রীয়ভাবে লটারির আয়োজন করবে। লটারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শূন্য আসনে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাক্রম অনুসারে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী বাছাই করতে হবে। লিখিত পরীক্ষার জন্য দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পূর্ণমান ৫০ (বাংলা-১৫, ইংরেজি-১৫, গণিত-২০, সময় ১ ঘণ্টা)। আর ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পূর্ণমান ১০০ (বাংলা-৩০, ইংরেজি-৩০, গণিত-৪০, সময় ২ ঘণ্টা)। প্রশ্নপত্র জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পাঠ্যবই থেকে তৈরি করা হবে এবং প্রশ্নপত্র অবশ্যই মানসম্মত ও শ্রেণি উপযোগী হতে হবে।

আবেদন ফি ও সেশন চার্জ

নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে আবেদনের ফরমের জন্য সর্বোচ্চ ১১০ টাকা এবং দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে আবেদনের জন্য সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা নেওয়া যাবে। সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে নির্ধারণ করতে হবে।

আসন সংরক্ষণ ও কোটা ব্যবস্থা

নীতিমালায় আসন সংরক্ষণ ও কোটা ব্যবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরীর সরকারি বিদ্যালয়ের আওতাধীন এলাকার (ক্যাচমেন্ট এরিয়া) শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। অবশিষ্ট ৬০ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে মোট আসনের ১০ শতাংশ স্বতন্ত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র ও কন্যাদের জন্য ৫ শতাংশ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ২ শতাংশ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অধীনস্থ দপ্তরের সন্তানদের জন্য মোট ২ শতাংশ, সহোদর বা সহোদরা শিক্ষার্থীদের জন্য ৩ শতাংশ এবং যমজ ভাই-বোনের জন্য ২ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলিজনিত কারণে সন্তানদের ভর্তির জন্য প্রতি শাখায় ৫ শতাংশ অতিরিক্ত আসন সংরক্ষিত থাকবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরী, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৃথক ভর্তি কমিটি গঠন করে পুরো ভর্তি প্রক্রিয়া তদারকি করা হবে। সূত্র: বাসস


চুয়েটে নিজ কার্যালয়ে ২২ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ উপাচার্য, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ভবন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে নিজ কার্যালয়ে টানা ২২ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। এর মধ্যে প্রশাসনিক ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় উপাচার্যসহ ভেতরে আটকে থাকা শিক্ষক ও কর্মকর্তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত 'কমপ্লিট শাটডাউন' কর্মসূচি পুরোদমে অব্যাহত ছিল।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নবনিযুক্ত উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি তোলেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। দাবির পক্ষে অনড় থেকে তাঁরা রাতভর প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেন, যা মঙ্গলবার সকালেও চলমান ছিল। এই অচলাবস্থার মধ্যে দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ভবনের ভেতরে অবস্থানরত ব্যক্তিরা অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর পাওয়া যায়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক মো. আবদুল্লাহ গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। তিনি সেখানে অবস্থানরত প্রকৌশলী শাহরিয়ারের রক্তচাপ পরীক্ষা করে তা উচ্চমাত্রায় (১৭০/১০০ মিলিমিটার পারদ) পান এবং জরুরি চিকিৎসার জন্য তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের সুপারিশ করেন। এছাড়া সেখানে আরও একজন সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে চিকিৎসাসূত্রে জানা গেছে।

নিজের ও সঙ্গীদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানান, তিনি নিজে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেও দীর্ঘ সময় রুদ্ধদ্বার পরিবেশে থাকায় সঙ্গে থাকা দুজন অ্যালামনাই সদস্য উচ্চ রক্তচাপজনিত জটিলতায় ভুগছেন। এ কারণে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসকের সহায়তা চেয়েছেন এবং দীর্ঘক্ষণ অভুক্ত ও অবরুদ্ধ থাকায় ভেতরে অবস্থানরত অন্যরা চরম ক্লান্তি ও অসুস্থতা অনুভব করছেন।

উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। তবে পূর্ববর্তী উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদ এবং তাঁকে স্বপদে বহালের দাবিতে ২২ সেপ্টেম্বর থেকেই সর্বাত্মক আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকেও ধারাবাহিক কর্মবিরতি পালন করায় টানা প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ক্লাস, পরীক্ষাসহ সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণ অচল হয়ে রয়েছে।


শাটডাউনের মধ্যে তালা ভেঙে চুয়েট উপাচার্যের দপ্তরে প্রবেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:২৩
অনলাইন ডেস্ক

শিক্ষার্থীদের ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির মধ্যেই ভবনের ফটকের তালা ভেঙে নিজের কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। সোমবার সকাল ৯টার দিকে তিনি একটি মাইক্রোবাসযোগে ক্যাম্পাসে পৌঁছান। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে নিজের পরিচয় কেবল ‘শিক্ষক’ হিসেবে উল্লেখ করে ভেতরে ঢোকার পর শাখা ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে আসন গ্রহণ করেন তিনি।

সকালে উপাচার্য ভবনে গিয়ে দেখা যায়, অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম উপাচার্যের নির্ধারিত কক্ষে অবস্থান করছেন। এ সময় তাঁর কক্ষে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত এবং সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন উপস্থিত ছিলেন। পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়ে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত বলেন, ‘আমরা একসাথেই ভেতরে প্রবেশ করেছি।’

অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম মূলত খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক। গত ২১ সেপ্টেম্বর পূর্ববর্তী উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে তাঁকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। তবে এই পরিবর্তনের প্রতিবাদে এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে পরদিন থেকেই সাধারণ শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করে উপাচার্য ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। একই দাবিতে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও পূর্ণ কর্মবিরতি পালন শুরু করায় গত ২০ দিন ধরে চুয়েটের সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। চতুর্মুখী বিক্ষোভের মুখে এতদিন ক্যাম্পাসে সশরীরে প্রবেশ করতে না পারলেও গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে যোগদানপত্র পাঠিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন নতুন এই উপাচার্য।


বেফাকের ৪৯তম পরীক্ষায় ২৯ শিক্ষার্থীর এ+, মেধাতালিকায় ১২

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের ৪৯তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার পাঁচ কমলাপুরের হাজী শামসুজ্জোহা জামি’আ আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা। এবারের পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ২৯ শিক্ষার্থী মুমতাজ (এ+) ফল অর্জনের পাশাপাশি মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছেন ১২ জন। এ সাফল্যের মধ্য দিয়ে টানা পঞ্চমবারের মতো চুয়াডাঙ্গা জেলায় প্রথম স্থান অর্জন করে নিজেদের শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) চুয়াডাঙ্গা জেলার দৌলাৎদিয়াড় তাবলিগ মার্কাজ মসজিদে ৪৯তম বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের মেধা স্থানপ্রাপ্ত ও মুমতাজ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে খুলনা বিভাগীয় কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দায়িত্বশীল মুফতি গোলামুর রহমান ও মাওলানা নাসিরউদ্দিন, চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি মুফতি আব্দুর রাজ্জাকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আলেম-উলামা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মুফতি মুস্তাফা কামাল কাসেমী।

প্রকাশিত ফলাফলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের পরীক্ষায় সারাদেশে মোট ২ লাখ ৮৬ হাজার ৫৯১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে হাজী শামসুজ্জোহা জামি’আ আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার ১২ শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিভাগ ও শ্রেণিতে মেধা তালিকায় স্থান অর্জন করেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির মোট ২৯ শিক্ষার্থী মুমতাজ (এ+) ফলাফল অর্জন করেন।

প্রতিষ্ঠানটির হেফজ বিভাগের মিনারুল ইসলাম সারাদেশের ভিতরে ২য় স্থান অর্জন করেছেন। এছাড়াও ইবতিদাইয়া পঞ্চম শ্রেণিতে তামজিদুল হক তাজিম ১৭তম, জুবায়ের আলী ৩৬তম, আব্দুল্লাহ ইব্রাহিম ৫১তম, সাকিবুল ৫৩তম, মোস্তফা ৫৮তম, হুসাইন ৬৩তম, মো. জুনায়েদ ৭২তম এবং মো. আবিদ হাসান ৭৩তম স্থান অর্জন করেন।

মুতাওসসিতা সপ্তম শ্রেণিতে মো. তহিদুল ইসলাম ৪৪তম, মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন ৪৫তম এবং মো. পারভেজ হুছাইন ৫১তম স্থান অর্জন করেন।

মুমতাজ (এ+) অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা হলেন, দাওরায়ে হাদিস বিভাগে মাওলানা আব্দুর রহমান খান। হেফজ বিভাগে মুমতাজ অর্জন করেন মো. তৌফিক ওমর ও মো. ইমন হাসান। ইবতিদাইয়া পঞ্চম শ্রেণিতে মুমতাজ অর্জন করেন মো. জুনায়েত হোসেন, মো. মুজাহিদুল ইসলাম, মো. ইসমাঈল হোসেন, মো. মাশরাফী রহমান ও মো. আল জিহাদ। মুতাওসসিতা সপ্তম শ্রেণিতে মুমতাজ অর্জন করেন মো. সাকিবুল ইসলাম, নুর মোহাম্মদ, মো. আদনান সাফি, মো. রাফিউল্লাহ, মো. রাতুল হাসান, মো. রোকনুজ্জামান সিয়াম, মো. কায়েস আলী ও মো. বায়েজিদ। এ ছাড়া সানাবিয়া দশম শ্রেণি থেকে ওয়াজ কুরুনী মুমতাজ ফল অর্জন করেন।


ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে চার নতুন বিষয়: শিক্ষামন্ত্রী

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৪৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে চারটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ৫৩তম জাতীয় গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার ওপর জোর দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে কারিগরি ও বাস্তবমুখী শিক্ষার প্রসার ঘটাতে চায় সরকার। এর অংশ হিসেবে শিক্ষাক্রমে আনন্দময় শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি সংক্রান্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি আরও জানান, ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২০২৮ সাল থেকে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী পাঠ্যক্রমে প্রয়োজনীয় পরিমার্জন আনা হবে এবং ক্ষেত্রবিশেষে আরও নতুন বই যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন এমপি। এ ছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহাদাত হোসাইন, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মোহাম্মদ আক্কাস আলী, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন খান এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আখতারুজ্জামানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। দেশজুড়ে সকল শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এই জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।


ঢাবি অধ্যাপক ড. জিনাত হুদার বহিষ্কারে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের প্রতিবাদ

ছবি: সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সমাজবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদাকে সাময়িক বহিষ্কার এবং তাঁর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ।

এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, আমাদের অভিমত তাঁর বিরুদ্ধে পরিচালিত তদন্তের প্রাসঙ্গিকতা, প্রয়োজনীয়তা ও উদ্দেশ্য ভিন্ন মত দমন ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ।

আমরা মনে করি, এই তদন্ত ষড়যন্ত্রমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সম্পূর্ণভাবে অসত্য, ভিত্তিহীন অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটির ফরমায়েসী প্রতিবেদনের মাধ্যমে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া, শিক্ষকের মর্যাদা ও একাডেমিক স্বাধীনতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জাতির বিবেক শিক্ষকেদের কণ্ঠরোধ করার একের পর এক অপচেষ্টা চলছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তচিন্তা, জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও মতপ্রকাশের ঐতিহ্যগত কেন্দ্র। ভিন্নমতের জবাব হতে হবে যুক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার মাধ্যমে—প্রশাসনিক হয়রানি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে নয়।

আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ভিন্নমত দমনের মাধ্যমে নয়; ন্যায়, স্বচ্ছতা, যুক্তি ও মুক্তচিন্তার পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই সমুন্নত থাকে। কোনো শিক্ষককে তাঁর মত, বক্তব্য বা অবস্থানের কারণে হয়রানি করা হলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশের জন্য গভীরভাবে উদ্বেগজনক।

আমাদের দাবি

১. অধ্যাপক ড. জিনাত হুদার সাময়িক বহিষ্কার অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

২. অপ্রাসঙ্গিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তদন্ত এবং ট্রাইব্যুনাল প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে।

৩. প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

৪. শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বাকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও একাডেমিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।


১ অক্টোবরের মধ্যে প্রাথমিকে বঞ্চিত ৮১৭ প্রার্থীর নিয়োগ: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি: শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও যারা নিয়োগপত্র পাননি, এমন ৮১৭ জন প্রার্থীকে আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপনের প্রস্তুতিমূলক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভায় সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

১ অক্টোবরের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যারা নিয়োগ পাবেন না, তাদের নথিপত্র পরবর্তীতে পর্যবেক্ষণ ও যথাযথ রিভিউ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সুরাহা করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

মূলত ভেরিফিকেশন বা প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং প্রার্থীদের ঠিকানা পরিবর্তনের কারণে এই ৮১৭ জনের নিয়োগ থমকে গিয়েছিল। তবে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ও প্রার্থীর দাবি অনুযায়ী এই সংখ্যা দুই হাজার থেকে আড়াই হাজারের কাছাকাছি হতে পারে বলে গুঞ্জন উঠলেও মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয় যে নিয়োগপত্র নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো ঠিক হবে না।

এক অনুসন্ধানে জানা যায়, পুলিশ প্রতিবেদনে নেতিবাচক মন্তব্য, ডোপ টেস্টে সমস্যা, স্বাস্থ্য সনদের ঘাটতি এবং শিক্ষা সনদে গরমিল থাকার কারণেই মূলত এসব প্রার্থীর নিয়োগ স্থগিত ছিল।

এদিকে 'কেন্দ্রীয় প্যানেল প্রাইমারি ২০২৫' প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে দীর্ঘ সময় ধরে আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বাদ পড়া প্রার্থীদের নথি স্বচ্ছভাবে পুনর্যাচাই, তথ্যগত ভুল সংশোধনে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং পুরো পরিস্থিতির দায়িত্বশীল ব্যাখ্যাসহ পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছে।

এদিকে প্রার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারি নিয়োগে ভেরিফিকেশন একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া এবং প্রার্থীরা যেন সামাজিক মাধ্যম বা সংবাদমাধ্যমের বিভ্রান্তিতে কান না দেন এবং ১ অক্টোবরের পর চূড়ান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি যোগ্য প্রার্থীর নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।


সরকারি চাকরিতে ১,৪৮৫ পদে আবেদন ২১ লাখ, পরীক্ষা নিয়ে বিপাকে কর্তৃপক্ষ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি চাকরির প্রতি চাকরিপ্রার্থীদের আগ্রহ যে কতটা বেড়েছে, তার বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক নিয়োগ। ১ হাজার ৪৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন ২১ লাখ ২৩ হাজার প্রার্থী। ফলে প্রতি পদের বিপরীতে প্রতিযোগিতা করছেন প্রায় ১ হাজার ৪৩০ জন। বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার অভিজ্ঞতা না থাকায় এখন নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন নিয়েই হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

বিশ্লেষকদের মতে, বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে আসা, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং চাকরির নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো সরকারি চাকরির প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়াচ্ছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জানিয়েছে, বাংলাদেশে উচ্চমাধ্যমিকোত্তর বা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ডিগ্রিধারী তরুণদের প্রায় ৩৬ শতাংশ বেকার।

গত মে মাসে সমাজসেবা অধিদপ্তর স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডের ৫২ ক্যাটাগরিতে ১ হাজার ৪৮৫টি শূন্য পদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়। ২ জুন থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন নেওয়া হয়। পদভেদে আবেদন ফি ছিল ৫০ থেকে ১০০ টাকা।

আবেদন প্রক্রিয়া শেষে দেখা যায়, ২১ লাখ ২৩ হাজার প্রার্থী আবেদন করেছেন। এই বিপুলসংখ্যক আবেদন সামাল দিতে পরীক্ষা আয়োজনের বিভিন্ন দিক নিয়ে এখন জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করছে অধিদপ্তর।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবু ইউসুফ বলেন, ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডের ১ হাজার ৪৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে ২১ লাখ ২৩ হাজার আবেদন পড়েছে। দ্রুততম সময়ে নিয়োগ সম্পন্ন করার উপায় প্রস্তাব করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে।

পরীক্ষার তারিখ এখনো নির্ধারণ হয়নি: আবেদন গ্রহণ শেষ হওয়ার প্রায় তিন মাস হতে চললেও এখনো পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। এত বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার অভিজ্ঞতা অধিদপ্তরের আগে না থাকায় পরীক্ষাকেন্দ্র নির্ধারণ, প্রশ্নপত্র ছাপানো, পরিদর্শক নিয়োগ এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক বাছাইয়ের পর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় কতজনকে রাখা হবে, তা নিয়েও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় লিখিত, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ব্যবহারিক এবং মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে।

পরীক্ষা গ্রহণের ব্যয় ও পদ্ধতি বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর পরীক্ষার কেন্দ্র ও তারিখ ঘোষণা করা হবে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব বলেন, আবেদন গ্রহণের পর পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। স্বচ্ছতা বজায় রেখে দ্রুত নিয়োগ শেষ করতে মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

বিসিএসের চেয়েও বেশি আবেদন: সমাজসেবা অধিদপ্তরের এই নিয়োগে আবেদনকারীর সংখ্যা সাম্প্রতিক পাঁচটি সাধারণ বিসিএস পরীক্ষার প্রতিটির চেয়েও বেশি। সর্বশেষ ৫০তম বিসিএসে ২ হাজার ১৫০ পদের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন ২ লাখ ৯০ হাজার প্রার্থী। ৪৯তম বিসিএসে আবেদন ছিল ৩ লাখ ১২ হাজার। ৪৭তম, ৪৬তম ও ৪৫তম বিসিএসে আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৩ লাখ ৭৪ হাজার, ৩ লাখ ৩৭ হাজার ও ৩ লাখ ৪৬ হাজার।

৪৮তম বিসিএস ছিল বিশেষ পরীক্ষা; চিকিৎসক নিয়োগের জন্য হওয়ায় সাধারণ বিসিএসের সঙ্গে এর সরাসরি তুলনা করা হয় না।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিয়োগে আবেদনকারীর সংখ্যা ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যারও বেশি। এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী।

অফিস সহায়ক পদেই ৪৭৮ নিয়োগ: ১ হাজার ৪৮৫টি শূন্য পদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪৭৮টি পদ রয়েছে ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়ক পদে। এ পদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে এসএসসি পাস।

এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে ৩১২ জন সমাজকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। তাদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং অসচ্ছল প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা উপবৃত্তির জন্য উপযুক্ত সুবিধাভোগী নির্বাচন, তালিকা তৈরি ও যাচাই।

অন্য পদের মধ্যে রয়েছে শিক্ষক, প্রধান সহকারী, কম্পিউটার অপারেটর, ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর, সুপারভাইজার, কারিগরি প্রশিক্ষক ও অফিস সহায়ক। এসব পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি থেকে স্নাতক পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থানের চাপ: অর্থনীতিবিদ ও কর্মসংস্থান বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি চাকরিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন বেসরকারি খাতের কর্মসংস্থান পরিস্থিতিরও একটি চিত্র তুলে ধরছে। প্রতিযোগিতামূলক বেতন, চাকরির নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদার কারণে সরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বেসরকারি খাতের সম্প্রসারণ থমকে থাকায় সরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। বিনিয়োগ সংকোচন ও বিশ্ববাজারে পণ্য বিক্রির অনিশ্চয়তার কারণে করপোরেট খাতের প্রবৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তার মতে, সমাজসেবা অধিদপ্তরের যেসব পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর প্রয়োজনীয়তা ও উৎপাদনশীলতা পর্যালোচনা করা দরকার।

বিনিয়োগ ও নিয়োগে স্থবিরতা: বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের দুর্বলতার একটি চিত্র পাওয়া যায় ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধিতেও। জুলাইয়ে বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪ দশমিক ৬২ শতাংশে দাঁড়ালেও তা জুনের রেকর্ড সর্বনিম্ন ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশের কাছাকাছি ছিল। টানা পঞ্চম মাসের মতো এই প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে।

ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত ৬ দশমিক ৮০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায়ও জুলাইয়ের প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) এক প্রাক্কলন অনুযায়ী, আগের দুই বছরে তাদের সদস্য কোম্পানিগুলোর জনবল প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে। অস্থায়ী ও মৌসুমি কর্মীদের হিসাব ধরলে এ সংকোচন ৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

চাকরির অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বিডিজবস ডটকমের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও এ কে এম ফাহিম মাশরুরও বেসরকারি নিয়োগের দুর্বলতার কথা জানিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্ল্যাটফর্মটিতে চাকরির বিজ্ঞপ্তি ১০ শতাংশ কমেছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, বেসরকারি খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে আসার পাশাপাশি সরকারি চাকরির তুলনামূলক নিরাপত্তা ও সুবিধা চাকরিপ্রার্থীদের আগ্রহকে সরকারি খাতের দিকে আরও কেন্দ্রীভূত করছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের ১ হাজার ৪৮৫টি পদের বিপরীতে ২১ লাখের বেশি আবেদন সেই প্রবণতারই একটি বড় উদাহরণ।


জাবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম

অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই নিয়োগের আগে তিনি ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলামকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্যের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩’-এর ১১(১) ধারার ক্ষমতাবলে জাবির উপাচার্য পদে পদায়ন করা হয়েছে। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তিনি যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের সময়সীমা—যেটি আগে আসে, সেই মেয়াদ পর্যন্ত এ পদে বহাল থাকবেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন ও ভাতাদি পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী উপাচার্য পদের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিকভাবে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় এই নিয়োগ আদেশ বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করবেন।


এইচএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে যা জানা গেল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামী ৭ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রকাশের জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে শিক্ষা প্রশাসন। ফল চূড়ান্ত করার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নভেম্বরের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই এইচএসসি ও সমমানের ফল ঘোষণার লক্ষ্য নিয়ে সার্বিক মূল্যায়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।

অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কিছু বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত থাকায় সেখানে লিখিত পরীক্ষা শেষ হতে কিছুটা বাড়তি সময় লেগেছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশ নিশ্চিত করতে সেখানে অতিরিক্ত পরীক্ষক নিয়োগ দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যার ফলে সম্ভাব্য সময়সীমার মধ্যেই একযোগে ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২ জুলাই একযোগে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়ে ৮ আগস্ট শেষ হয় এবং পরবর্তীতে ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়ার সূচি ছিল। তবে দুর্যোগের কারণে স্থগিত হওয়া চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষাগুলো পুনর্বিন্যাস করে গত ৯ সেপ্টেম্বর তাদের লিখিত পরীক্ষা সমাপ্ত করা হয়।

এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সর্বমোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন। এছাড়া মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন।

সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৩৯৩ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন ঢাকা বোর্ডে। এছাড়া রাজশাহী বোর্ডে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, যশোরে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন, দিনাজপুরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন, চট্টগ্রামে ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন, কুমিল্লায় ৯৪ হাজার ৮০২ জন, ময়মনসিংহে ৭৩ হাজার ৩৭ জন, সিলেটে ৭১ হাজার ৭১১ জন এবং বরিশাল বোর্ডে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন।


২৭ সেপ্টেম্বর শুরু একাদশে ভর্তির দ্বিতীয় দফার আবেদন

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির দ্বিতীয় দফার অনলাইন আবেদন আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে। বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সময়সূচি জানানো হয়।

সূচি অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপের ফল প্রকাশ করা হবে ১ অক্টোবর রাত ৮টায়। এরপর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ৩ অক্টোবর রাত ৮টার মধ্যে নিশ্চায়ন সম্পন্ন করতে হবে, অন্যথায় নির্বাচন ও আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে। পছন্দক্রম অনুযায়ী দ্বিতীয় মাইগ্রেশনের ফল ৪ অক্টোবর রাত ৮টায় প্রকাশিত হবে এবং চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম চলবে ৫ থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত।

ভর্তির নির্ধারিত ওয়েবসাইটে (https://xiclassadmission.gov.bd) গিয়ে সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজের পছন্দক্রম উল্লেখ করে আবেদন করতে হবে।

এ ধাপে যেসব শিক্ষার্থী আগে আবেদন করেনি, আবেদন করেও কলেজ পায়নি, কিংবা চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েও নিশ্চায়ন ও ভর্তি হতে পারেনি, তারা আবেদন করার সুযোগ পাবে। তবে যারা প্রথম ধাপে আবেদন করেও কোনো কলেজ পায়নি, তাদের ক্ষেত্রে নতুন করে ২২০ টাকা ফি দিতে হবে না; তারা শুধু লগইন করে কলেজ সিলেকশন পুনঃনির্বাচন বা এডিট করতে পারবে।

এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ করা হয়, যেখানে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জন শিক্ষার্থী মনোনীত হয় এবং তাদের ভর্তি কার্যক্রম রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলছে।


banner close