সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৩ ফাল্গুন ১৪৩২

আন্তর্জাতিক মানের গ্র্যাজুয়েট তৈরিতে কাজ করছে উত্তরা ইউনিভার্সিটি

উত্তরা ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস।
আপডেটেড
৩ মে, ২০২৫ ১৩:২৫
আবু সুফিয়ান
প্রকাশিত
আবু সুফিয়ান
প্রকাশিত : ৩ মে, ২০২৫ ১৩:১৩

দক্ষ মানব সম্পদ গড়ার লক্ষ্যে ও বৈশ্বিক সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে দেশেই আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে ২০০৩ সালে যাত্রা শুরু করে উত্তরা ইউনিভার্সিটি। শুরুতে ২টি স্কুল বা অনুষদের অধীনে ২টি ডিপার্টমেন্ট নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫টি স্কুল বা অনুষদের অধীনে ১৪টি ডিপার্টমেন্টে ৪০টি প্রোগ্রাম চালু আছে। শুরু থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব জব ওরিয়েন্টেড ও প্রফেশনাল বিভাগ চালু আছে সেগুলো হচ্ছে- বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল, ফ্যাশন ডিজাইন, ইইই, সিএসই, আইন, ম্যাথ, ফিজিক্স, এডুকেশন, বাংলা, ইংরেজি, ইসলামিক স্টাডি ও শারীরিক শিক্ষা বিভাগ। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা যেন প্রতিযোগিতায় নিজেদের চৌকস প্রমাণ করতে পারে সেজন্য শুরু থেকে মানসম্পন্ন শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে উত্তরা ইউনিভার্সিটি ৯টি সমাবর্তন শেষ করেছে। এ ইউনিভার্সিটি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জন করে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছে।

প্রতিষ্ঠাতা পরিচিতি:

উত্তরা ইউনিভার্সিটির পরিচালনা কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত দক্ষ ও যোগ্য, যাদের প্রায় সবাই স্বনামধন্য ও প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর ড. এম. আজিজুর রহমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একজন খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রিকালচারাল ইকোনোমিক্স ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে অনার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের একই ডিপার্টমেন্ট থেকে মাস্টার্স ডিগ্রিও লাভ করেন। বিশ্ব ব্যাংকের বৃত্তি নিয়ে তিনি আমেরিকায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৮৮ সালে আমেরিকার ভ্যান্ডারভিল্ট ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে ও বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তিনি ৩০ বছর অধ্যাপনা করেন। ১৯৮৯ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তিনি ইউএস অ্যাম্বাসির ইউএসএইডে ইকোনোমিক অ্যাডভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ড. এম আজিজুর রহমান উত্তরা ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চ্যান্সেলর। শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সুলেখক ও সমাজসেবী প্রফেসর ড. ইয়াসমীন আরা লেখা হচ্ছেন এ ইউনিভার্সিটির বর্তমান ভাইস চ্যান্সেলর। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড ও এমএড এবং ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

ভিশন ও মিশন:

এক্সিলেন্স ইন হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ -এই স্লোগানকে সামনে রেখে গবেষণায় বেশি জোর দিচ্ছে উত্তরা ইউনিভার্সিটি। এ ইউনিভার্সিটির ভিশন বা সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দিক থেকে দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং আদর্শ নাগরিক, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও আলোকিত মানুষ সৃষ্টিকরণ।

উত্তরা ইউনিভার্সিটি জীবনঘনিষ্ঠ ও নৈতিক শিক্ষাদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। শুধু জ্ঞানার্জনের মাধ্যমেই আদর্শ নাগরিক সৃষ্টি হয় না। তাই উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি মূল্যবোধ সম্পর্কেও দীক্ষা দেওয়া হয়।

স্থায়ী ক্যাম্পাস:

উত্তরা ইউনিভার্সিটির একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হচ্ছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সকল নিয়মনীতি মেনে স্থায়ী ক্যাম্পাসে সম্পূর্ণ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। উত্তরা মডেল টাউনের থার্ড ফেইজ সংলগ্ন, প্রায় ৬ বিঘা জমির ওপর স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ হয়েছে। ৯ তলা ভবনের এ ক্যাম্পাস দেখে যে কারও চোখ জুড়িয়ে যাবে। ভবনের গঠনশৈলী এতটাই আধুনিক, সবদিক থেকেই আলো-বাতাস ভবনের ভেতর প্রবেশ করতে পারে। শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে খেলার মাঠ, যেখানে প্রতিনিয়ত নানা আয়োজন ও উৎসব চলতে থাকে। প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গড়ে তোলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ও মনোমুগ্ধকর এই ক্যাম্পাস! চারপাশে সবুজে ঘেরা আর ক্যাম্পসের পাশ ঘিরে তুরাগ নদী বহমান। মূল ভবন দক্ষিণামুখী হওয়াতে প্রতিনিয়ত দখিনা বাতাস প্রবহমান এই ক্যাম্পাসে। লাল কৃষ্ণচূড়ার শামিয়ানা আর শুভ্র কাশফুলের দোলাসহ বিভিন্ন ঋতুর প্রকৃতি এখানে দৃশ্যমান!

যাতায়াত ব্যবস্থা:

আধুনিক রাজধানী ঢাকার উত্তরায় সুবিশাল ভবন নিয়ে নির্মিত হয়েছে উত্তরা ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস। এই ক্যাম্পাসের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো- ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা দ্রুত আসা-যাওয়া করতে পারে। এমনকি আশপাশে জেলা গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল থেকে খুব সহজে যাতায়াত করতে পারবে ছাত্রছাত্রীরা। আর মেট্রোরেল স্টেশন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের খুব সন্নিকটে হওয়ায় যাতায়াতব্যবস্থা নিয়ে চিন্তিত থাকতে হয় না অভিভাবককে।

শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন:

বর্তমানে উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে ১৪টি বিভাগ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণার কাজেও ব্যাপক জোর দেওয়া হচ্ছে। সে কারণে উত্তরা ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট অব পলিসি রিসার্স স্থাপন করেছে। শুরু থেকেই মানসম্পন্ন শিক্ষাকে সামনে রেখেই এ ইউনিভার্সিটির শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাশিউরেন্স সেল (আইকিউএসি) গঠনের মাধ্যমে শিক্ষার অভ্যন্তরীণ গুণগতমান উন্নয়নের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

সমৃদ্ধ ও আধুনিক লাইব্রেরি:

শুরু থেকেই এই ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের জন্য গ্রন্থাগার সেবা দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে আসছে। সপ্তাহে ছয় দিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে গ্রন্থাগার। দৈনিক সংবাদপত্র ও রেফারেন্স বই পড়ার জন্য রয়েছে আলাদা কর্নার। শিক্ষার্থীদের অধ্যয়নের জন্য গ্রন্থাগারে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের ২৫টি দৈনিক পত্রিকা রাখা হয় নিয়মিত। গ্রন্থাগারে রয়েছে লক্ষাধিক বই এবং জার্নাল-ম্যাগাজিন আছে প্রায় ১০ হাজার। এ ছাড়া গ্রন্থাগারে ব্যবহারকারীদের সহায়ক সেবা দেওয়ার জন্য রয়েছে গবেষণা প্রতিবেদন, ই-রিসোর্সের বিশাল সম্ভার, বিশ্বকোষ, অভিধান, হ্যান্ডবুক, ম্যানুয়েল ও এনজিও প্রকাশনা। ব্যবহারকারীরা ই-বুক, ই-জার্নাল ও ই-ম্যাগাজিন পড়তে ও ডাউনলোড করতে পারেন। গ্রন্থাগারে ব্যবহারকারীদের জন্য রয়েছে ওয়াইফাই সংযোগসহ কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ। গ্রুপ স্ট্যাডি করার জন্য রয়েছে একাধিক বিশেষ কক্ষ। শিক্ষার্থীরা গ্রন্থাগারে না এসেও যেকোনো বইয়ের শিরোনাম, লেখক, কল নম্বর, কি-ওয়ার্ড ও প্রকাশক অনুযায়ী খুঁজতে পারেন ই-লাইব্রেরির সুবাদে। গ্রন্থাগারে শিক্ষকদের জন্য রয়েছে পৃথক ব্যবস্থাপনা।

গবেষণা ও প্রকাশনা:

উত্তরা ইউনিভার্সিটির প্রতিটি বিভাগই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফ্যাকাল্টিদের গবেষণা প্রবন্ধ দেশি ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হচ্ছে। প্রতি অনুষদ থেকে জার্নাল প্রকাশ করা হয় এবং গবেষণায় বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হয় শিক্ষকদের। এ ছাড়া বিভিন্ন অনুষদ থেকে নিয়মিতভাবে জার্নাল প্রকাশিত হচ্ছে। ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ থেকে বিজনেস রিভিউ, আইন বিভাগ থেকে ল’ জার্নাল নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হচ্ছে।

উত্তরা ইউনিভার্সিটির প্রত্যেক অনুষদে রিসার্চ সেল গঠিত হয়েছে, যেখানে গবেষণা বিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং প্রজেক্ট পরিচালনা করা হয়। প্রতিবছর অসংখ্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরামণ্ডলী বিদেশে গবেষণা ও উচ্চশিক্ষা বিষয়ে পড়ালেখা করতে যাচ্ছে। এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গবেষণাকে উৎসাহিত করতে অভ্যন্তরীণ গবেষণা তহবিল গঠন, মানসম্মত গবেষণার জন্য ইনসেনটিভ প্রদান ও গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশে সহায়তা করে। উত্তরা ইউনিভার্সিটি শুধু ডিগ্রি প্রদানের জন্যই শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে না বরং ইউনিভার্সিটি প্রশাসন এবং শিক্ষকরা চেষ্টা করছেন মানসম্মত ও যুগোপযোগী শিক্ষার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে।

এমওইউ ও স্টুডেন্ট এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম:

শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জন ও শিক্ষকদের জ্ঞানচর্চা আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যাবশ্যক। তাই উত্তরা ইউনিভার্সিটি যুক্তরাজ্যের বেডফোর্ড শ্যায়ার ইউনিভার্সিটি ও অরচেস্টার ইউনিভার্সিটির সঙ্গে সহযোগিতার স্মারক স্বাক্ষর করেছে। কর্তৃপক্ষ কানাডার কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও সহযোগিতার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া উত্তরা ইউনিভার্সিটি সাম্প্রতিককালে কয়েকটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে। এসব আন্তর্জাতিক সম্মেলন বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, আসাম ও কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বছরই উত্তরা ইউনিভার্সিটি বিজনেস কনফারেন্সের আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে যেখানে আমেরিকা, জাপান ও ভারতসহ দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান শিক্ষাবিদরা অংশগ্রহণ করেছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির সঙ্গে রয়েছে এমওইউ ও স্টুডেন্ট এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম। যার ফলে শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে গ্র্যাজুয়েট, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট, এমফিল ও পিএইচডি করার সুযোগ।

সম্মাননা ও সাফল্য:

মানসম্পন্ন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার স্বীকৃতি হিসেবে এ ইউনিভার্সিটি সাম্প্রতিককালে বেশ কিছু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘দা বিজ অ্যাওয়ার্ড-২০১৮ (হংকং), এডুকেশন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড, ২০১২, (দিল্লি), এশিয়াস বেস্ট বিজনেস অ্যাওয়ার্ড, সিঙ্গাপুর, ২০১৩, এশিয়ান সিইএফ বিজনেস স্কুল অ্যাওয়ার্ড, ২০১৪ (মুম্বাই), ইউজিসি অ্যাওয়ার্ড, ২০১৪ ও ২০১৫ (আইন বিভাগ) অন্যতম।

সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশে ক্লাব এবং ফোরাম:

শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশ ও বাজার উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে ইউইউতে ১২টি ক্লাব ও ১৪টি বিভাগের প্রায় ১৪টি বিভাগীয় ফোরাম রয়েছে। এসব ক্লাব ও ফোরাম বছরজুড়েই জাতীয়পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের কো-কারিকুলার ও এক্সট্রা কারিকুলার কার্যক্রম, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। এ ছাড়া পিঠা উৎসব, বসন্তবরণ, চৈত্রসংক্রান্তি, শিক্ষামেলা ও পাঠচক্রসহ জাতীয় অনুষ্ঠানগুলো বিশেষভাবে পালিত হয় এখানে। উচ্চশিক্ষার নিরন্তন পরিবেশ থাকায় মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা কার্যক্রম সুন্দর ও সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে পারে। অরাজনৈতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ায় নেই কোনো দ্বন্দ্ব, নেই ক্লাস বন্ধ হওয়ার চিন্তা, নেই সেশন জটের ভয়।

শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ:

উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে প্রতি বছর তিনবার অর্থাৎ স্প্রিং, ফল ও সামার সেমিস্টারে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। উচ্চ মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ছাত্রছাত্রীদের জন্য রয়েছে ১০% থেকে ১০০% পর্যন্ত স্কলারশিপ।

এ ছাড়া ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠী, নারী, জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়, জুলাই-বিপ্লবে আহত ও নিহতদের নিকটাত্মীয়দের জন্য রয়েছে বিশেষ স্কলারশিপ।

দক্ষ মানবসম্পদ ও গ্র্যাজুয়েটদের সফলতা:

সুযোগ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে উত্তরা ইউনিভার্সিটি। দেশের অন্যতম এই বেসরকারি বিদ্যাপীঠটি শিক্ষা, গবেষণা ও বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শুধু ডিগ্রি অর্জনের সুযোগই দিচ্ছে না, বরং তাদের আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় উপযুক্ত করে তুলছে। ফলে এখানে থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা বিসিএস ক্যাডার, জুডিশিয়াল সার্ভিস, আইন পেশা, ব্যাংক খাত, রপ্তানিমুখী শিল্প, কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি, এনজিও এবং বহুজাতিক কোম্পানিতে সুপ্রতিষ্ঠিত ক্যারিয়ার গড়তে পারছেন। পাশাপাশি, টেক্সটাইল ও ইলেকট্রনিক শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি খাত, সফটওয়্যার ফার্ম, ই-কমার্স ও স্টার্টআপ জগতে তারা দক্ষতার সঙ্গে অবদান রাখছেন। শুধু তাই নয়, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াতেও রয়েছে উত্তরা ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের গৌরবজনক উপস্থিতি। অনেকে আবার উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি নিজস্ব ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগ গড়ে তুলে আত্মনির্ভরশীল তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। শিক্ষকতা পেশায়ও তারা অবদান রাখছেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই বৈচিত্র্যময় কর্মসংস্থান ও পেশাগত সাফল্যই প্রমাণ করে উত্তরা ইউনিভার্সিটি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়- এটি একটি দক্ষ মানবসম্পদ নির্মাণের কারখানা।

উচ্চপর্যায়ে কৃতিত্ব:

উত্তরা ইউনিভার্সিটির গণিত বিভাগের ছাত্ররা আন্ডারগ্র্যাজুয়েট গণিত অলিম্পিয়াড ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে অংশগ্রহণ করে সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় একাধিকবার প্রথম, তৃতীয়, চতুর্থ ও সপ্তম স্থান অর্জন করেছেন। শারীরিক শিক্ষা বিভাগের কৃতী ছাত্রী মাহফুজা খাতুন শীলা জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতা ২০১৬-তে জোড়া স্বর্ণপদক বিজয়ী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদক গ্রহণ করেছেন। শারীরিক শিক্ষা বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী মিনিতা সুপ্রিয়া মিজান ত্রপী ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত সপ্তম আন্তর্জাতিক কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ ২০১৬-তে বিশেষ সাফল্য অর্জন করেছেন। ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান শরীফ তেল ও গ্যাসবিহীন একটি মোটরযান উদ্ভাবন করেছেন, যা সোলার এনার্জিতে মাত্র ১০ টাকা খরচে সারা দিন চালানো যায়। প্রায় সব অনুষদ এবং বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যতিক্রমধর্মী নানা সৃজনশীল কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায়। এসব সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মধ্যদিয়ে শিক্ষার পরিবেশকে এক আনন্দঘন পরিবেশে পৌঁছে দিয়েছে উত্তরা ইউনিভার্সিটি সুদক্ষ প্রশাসন এবং নিষ্ঠাবান শিক্ষক ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা।

স্বতন্ত্র ক্যাফে ও উন্নতমানের ক্যান্টিন:

শিক্ষার্থীদের জন্য এ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে স্বতন্ত্র ক্যাফে ও উন্নতমানের ক্যান্টিন। সকাল-সন্ধ্যা সুস্বাদু খাবার মেলে সহজেই। ক্যাফেটোরিয়াটি শিক্ষার্থীদের প্রিয় আড্ডাস্থল হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন শতাধিক শিক্ষার্থী এখানে সকালের নাশতা থেকে শুরু করে দুপুরের খাবার এবং ক্লাসের ফাঁকে চা-কফিতে সতেজতা খুঁজে নেয়। উন্নতমানের খাবার, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও স্বল্পমূল্যের কারণে ক্যাফেটোরিয়াটি শিক্ষার্থীদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়। বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-আড্ডা, পাঠচর্চা কিংবা হালকা বিশ্রাম- সব কিছুতেই ক্যাফেটোরিয়ার ভূমিকা অনন্য।

বক্তব্য

মো. আদনান রহমান, পিএইচডি

অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, স্কুল অব বিজনেস

ডিরেক্টর, ব্র্যান্ড, কমিউনিকেশন অ্যান্ড পিআর

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক উচ্চশিক্ষা পরিবেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যান্ড ইমেজ তার সামগ্রিক সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখে। সেই ভাবনাকে সামনে রেখে উত্তরা ইউনিভার্সিটি চালু করেছে নতুন মিডিয়া ক্যাম্পেইন ও আধুনিক প্রচারণা কৌশল। শুধু পাঠ্যক্রম নয়, আজকের শিক্ষার্থীরা দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যবোধ, পরিবেশ, অ্যালামনাই সাফল্য ও সামাজিক দায়বদ্ধতা। এসবই একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ডের উপাদান। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য হলো বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং সাফল্যের গল্প তুলে ধরা। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা যেন আমাদের বর্তমান এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের গল্প থেকে অনুপ্রেরণা পায়। এভাবেই আমরা বিশ্বাসযোগ্যতা এবং মানবিক সংযোগ তৈরি করতে পারব। আমরা ইউটিউব, ফেসবুক এবং লিংকডইন-এর মতো প্ল্যাটফর্মে সক্রিয়। বিশেষ করে ভিডিও কনটেন্ট এবং ইন্টারেক্টিভ পোস্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ছে।

উত্তরা ইউনিভার্সিটি ভবিষ্যতে আরও ডেটাচালিত মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজির দিকে এগোচ্ছে। আমরা এআই ও অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের চাহিদা বুঝে কাজ করতে চাই। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের দৃশ্যমানতা বাড়াতে কাজ করছি। সঠিক ব্র্যান্ডিং-এর মাধ্যমে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেবল শিক্ষার্থী আকর্ষণই করে না বরং সমাজে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তাও পৌঁছে দিতে পারে।

ড. শাহ আহমেদ

অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ও চেয়ারম্যান, ইংরেজি বিভাগ

ডিরেক্টর, অফিস অব স্টুডেন্টস অ্যাফেয়ার্স

উত্তরা ইউনিভার্সিটি

উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে বিশ্বমানের পড়ালেখার জন্য আমরা বিশ্বমানের সিলেবাস তৈরি করেছি। ইউজিসির নিয়ম মেনে আমাদের দেশের সেরা ইউনিভার্সিটির সিলেবাস ও বিশ্বের টপ ইউনিভার্সিটির সিলেবাসকে সমন্বয় করে এমন একটা উন্নতমানের সিলেবাস তৈরি করেছি যাতে আমাদের ছাত্ররা এই সিলেবাসের ভিত্তিতে দেশে ও বিদেশে চাকরি পেতে পারে। প্রতিটি ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীদের সফট স্কিলগুলো গুরুত্বসহকারে শেখানো হয়। এতে চাকরির বাজারে অন্যদের থেকে তারা বেশি এগিয়ে থাকে। এ বিশ্ববিদ্যালয় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় যে শিক্ষাসেবা প্রদান করে থাকে, সে তুলনায় ছাত্রদের শিক্ষা ব্যয় অত্যন্ত কমই মনে হয়। প্রচুর ল্যাব আছে, লাইব্রেরিতে হাজার হাজার বই, কো-কারিকুলার কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক মানের ক্লাসরুম, লজিস্টিক্স সাপোর্ট, ইন্টারনেট, মাল্টিমিডিয়াসহ সব সুবিধা দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের। আমাদের উত্তরা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের প্রথমসারির ইউনিভার্সিটির মধ্যে অন্যতম।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যথেষ্ট গবেষণা ফান্ড আছে। সে ফান্ড নিয়ে শিক্ষকরা বিভিন্ন ফিল্ডে রিসার্স করেন। নতুন নতুন নলেজ, নতুন নতুন থিওরি আবিষ্কার করেন। তবে ফ্যাকাল্টিকে প্রজেক্ট জমা দেওয়ার পরে প্রজেক্ট এক্সেপ্ট হওয়ার পরে সেই ফান্ডটা দিয়ে থাকে। এক কথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন মেনে রিসার্স ফান্ড পেতে হয়।

শিক্ষার পরিবেশ বিবেচনায় উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয় অদ্বিতীয়। এ ইউনিভার্সিটির চারদিক প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘেরা, শহরের কোলাহল মুক্ত, নির্ভেজাল পরিবেশে সুন্দর অবকাঠামোতে গড়ে উঠেছে উত্তরা ইউনিভার্সিটি। ঢাকা ও এর আশপাশে জেলা থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাসের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়া করতে পারে। শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি বাস সেবা চালু রেখেছে কর্তৃপক্ষ।

বিষয়:

এমপিওভুক্ত হচ্ছে আরও ১ হাজার ৭১৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এমপিওভুক্ত হতে যাচ্ছে আরও ১ হাজার ৭১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আগামী সপ্তাহেই এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে পারে সরকার। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ৬৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ আর মাত্র দুই সপ্তাহ। শেষ সময়ে এসে তাই দ্রুতগতিতে বেসরকারি পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে চায় সরকার।

গত মাসে অনলাইনে এমপিওভুক্তির আবেদন আহ্বান করে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৩ হাজার ৬১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবেদন পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৭১৯টি প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত করা হয়েছে। এজন্য সরকারকে গুণতে হবে বছরে বাড়তি ৬৭০ কোটি টাকা। তবে চলতি অর্থবছরে দরকার হবে ১৬৭ কোটি টাকা। যেখানে ইতোমধ্যে সংশোধিত বাজেটে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট তথ্য বলছে, তালিকায় নিম্ন-মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪৭১টি। যেখানে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৬২৩টি, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১০৫টি এবং ১৪৫টি উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ রয়েছে। এছাড়া মাদরাসা শিক্ষায় ৭৮টি দাখিল, ২০২টি আলিম এবং ৩৫টি ফাজিল পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের অন্তত অর্ধেক সময়জুড়েই বেসরকারি পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির দাবিতে রাস্তায় সরব ছিলেন শিক্ষকরা। সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতিতে শুরুর দিকে খানিকটা রক্ষণশীল থাকলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর গত বছরের শেষদিকে নমনীয় হয় সরকার। ফলে চূড়ান্ত করা হচ্ছে এমপিওভুক্তির নীতিমালা।


বার্ষিক ক্রীড়া উৎসবের আনন্দে মাতল সেন্ট মার্থাস 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

শিশুদের প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর, রঙিন সাজসজ্জা আর উৎসবের আমেজ সব মিলিয়ে এক আনন্দঘন পরিবেশে শ্রীমঙ্গলের সেন্ট মার্থাস কিন্ডার গার্টেনে অনুষ্ঠিত হলো বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যেই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই আয়োজন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিদের কাছে হয়ে ওঠে এক স্মরণীয় দিন।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের ফুলেল অভ্যর্থনায় উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। পরে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি সেন্ট মার্থাস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আর এন ডি এম সিস্টার সঙ্গীতা গমেজ। এ সময় অতিথিদের ব্যাজ ও ফুল দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়।

উদ্বোধনী পর্বে শিক্ষার্থীদের কুচকাওয়াজ ও সমবেত ডিসপ্লে ছিল দর্শকদের অন্যতম আকর্ষণ। ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশনা অভিভাবকদের গর্বিত করে তোলে। এরপর শুরু হয় মূল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। শিশুদের ১০০ মিটার দৌড়, ব্যাঙের লাফ, সোয়েটার পরা দৌড়, চকলেট দৌড় ও দৌড়ে বেলুন ফাটানোর মতো মজার খেলায় মেতে ওঠে সবাই। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয় অভিভাবক, শিক্ষক ও স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণে আয়োজনটি পায় পারিবারিক উৎসবের রূপ। পুরুষ ও মহিলা অভিভাবকদের জন্য ‘দেশ ভ্রমণ’ খেলা এবং শিক্ষক-স্বেচ্ছাসেবকদের চামচে বল নিয়ে দৌড় প্রতিযোগিতা হাসি-আনন্দে ভরিয়ে তোলে পুরো মাঠ।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘যেমন খুশি তেমন সাজ’ পর্বটি ছিল সবচেয়ে প্রাণবন্ত আয়োজন। নানান চরিত্র ও রঙিন পোশাকে সেজে শিশুদের সৃজনশীল উপস্থাপনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাওন ইন্দুনয়ার সঞ্চালনায় এবং সেন্ট মার্থাস কিন্ডার গার্টেনের প্রধান শিক্ষক আর এন ডি এম সিস্টার সুপ্রীতি বিবিয়ানা কস্তার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিস্টার সঙ্গীতা গমেজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আর এন ডি এম সিস্টার নিলু মৃ। বক্তারা শিক্ষার্থীদের সুস্থ বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং নিয়মিত ক্রীড়াচর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দিনব্যাপী প্রতিযোগিতা শেষে বিভিন্ন ইভেন্টে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান শিক্ষক ও অতিথিরা। আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভরা এই আয়োজন শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয় বরং শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মিলনমেলায় পরিণত হয় এক স্মরণীয় উৎসবে।


‘ইউজিসি চেয়ারম্যানস পদক’ পেলেন ইবি'র অধ্যাপক সাহিদা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইবি প্রতিনিধি

একাডেমিক মেরিট, গবেষণায় উৎকর্ষ এবং প্রশাসনিক দক্ষতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানজনক ‘ইউজিসি চেয়ারম্যানস পদক’ অর্জন করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাহিদা আখতার।

‎বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

‎জানা যায়, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর তত্ত্বাবধানে এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন’ (HEAT) প্রকল্পের আওতায় দেশে প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘ইউনিভার্সিটি টিচার্স ট্রেনিং একাডেমি’। এই একাডেমির আয়োজনে চার মাসব্যাপী ‘প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং’-এর প্রথম ব্যাচের সমাপনী অনুষ্ঠানে শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি হিসেবে সাহিদা আখতারের হাতে এই পদক তুলে দেওয়া হয়।

‎প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময়ে একাডেমিক ফলাফল, গবেষণার মান, প্রশাসনিক দক্ষতা, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা, এবং শৃঙ্খলা ও আচরণবিধির প্রতিটি স্তরে সর্বোচ্চ মানদণ্ড বজায় রাখায় তাকে এই পদকে ভূষিত করা হয়েছে।

‎উল্লেখ্য, অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ৩৫টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৬০ জন শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে সার্বিক বিবেচনায় শীর্ষস্থান অর্জন করেন ইবির এই শিক্ষক।

‎এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসির মাননীয় সদস্যবৃন্দ, ট্রেনিং একাডেমির রেক্টর, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যবৃন্দ, বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি এবং দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদগণ।


বৈষম্যহীন শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার দাবিতে ইবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইবি প্রতিনিধি

প্রভাষক নিয়োগে শিক্ষক নিবন্ধনে (আল কুরআন, আল হাদিস, আরবি সাহিত্য ও আল ফিকহ বিভাগ) বৈষম্যহীন পরীক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে থিওলজি এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধন করেন। এসময় শিক্ষার্থীদের 'অনার্স দিয়ে বিসিএস হয়, প্রভাষক কেন নয়', 'একশন টু একশন, ডাইরেক্ট একশন', 'অনার্সে যোগ্যতা, তবুও কেন বঞ্চনা', 'একই পদ একই কাজ, বৈষম্য কেন আজ', 'একই পদ একই কাজ, ভিন্ন নীতি কেন আজ?', '২৪ এর বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই' ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।

এসময় শিক্ষার্থীরা বলেন, বিপ্লব পরবর্তী সময়ে আশা করছিলাম বৈষম্য দূর হবে। কিন্তু আমরা দেখলাম গতকাল মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য দেয়া প্রভাষক নিবন্ধন পরীক্ষায় কিছু সাবজেক্টের (আল হাদিস, আল কুরআন, আরবি সাহিত্য ও আল ফিকাহ) ক্ষেত্রে মাস্টার্স শেষ করা লাগবে বলে শর্ত দেয়। কিন্তু সমমনা অন্যন্য সাবজেক্টের বেলায় অনার্স শেষ হলেই প্রভাষক হতে পারে। এই বৈষম্য দূর করতে হবে। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিবারই ছোট করে দেখা হয়।

এসময় মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো—

১. মাদ্রাসায় আরবি প্রভাষকের ক্ষেত্রে আবেদনের শর্ত থেকে মাস্টার্স বাদ দিয়ে অনার্স করতে হবে। যদি না করা হয় তাহলে যাদেরকে অনার্স দিয়ে প্রভাষকের আবেদনের সুযোগ দিয়েছেন তাদের ক্ষেত্রেও সমান করে তাদের ক্ষেত্রেও মাস্টার্স প্রাধান্য করতে হবে।

২. কামিল-এ বিষয় ভিত্তিক ৪ জন করে মুফাসসির, মুহাদ্দিস, আদিব, ফকিহ এগুলো থাকার কথা ছিল। কেননা বিগত সময়ে ৮০০ মার্কের পরীক্ষা হতো এখন ১৭০০ মার্ক। ঠিক! সেই জায়গা থেকে আপনারা শিক্ষক বাড়ানো তো অনেক পরের কথা আপনারা কমিয়ে দিয়েছেন। আমরা চাই এখানে যেভাবে সাবজেক্ট বৃদ্ধি পেয়েছে সেইভাবে সকল ক্যাটাগরিতে শিক্ষক বৃদ্ধি করতে হবে।

৩. অনার্স দিয়ে সহকারী মৌলভীর জন্য বিএড ছাড়া আবেদন করতে পারবে এবং সেটা দশম গ্রেডের হতে হবে।


মুরাদনগরে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ও শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ও ৫৪ তম শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১ টায় উপজেলা প্রশাসন ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে উপজেলা কবি নজরুল মিলনায়তনে এ পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সফিউল আলম তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ এ শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক, শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী এবং ৫৪ তম শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আবদুর রহমান ও বিশেষ অতিথি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন।

প্রধান শিক্ষক জামাল হোসেনের সঞ্চালনায় এসময় বক্তব্য রাখেন, অধ্যাপক আব্দুল মজিদ কলেজের অধ্যক্ষ ফেরদৌস আহাম্মেদ চৌধুরী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলাম, কাজিয়াতল ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, খেলাধুলা এক আবেগের নাম, এক অফুরন্ত ভালোবাসার নাম। খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়, এটি মানুষের মন ও শরীর সুস্থ রাখার সবচেয়ে কার্যকর ব্যায়াম। নিয়ম-কানুন মেনে খেলাধুলা করা জীবনে শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা গড়ে তোলে। জয়-পরাজয়কে সমানভাবে মেনে নেওয়া এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার শিক্ষা খেলাধুলার মাধ্যমে পাওয়া যায়। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে এবং নিজেকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, একাডেমিক সুপারভাইজার কোহিনুর বেগম, পাঁচকিত্তা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, শুশুন্ডা ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ গিয়াস উদ্দিন, যাত্রাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী।

উপজেলা মাধ্যমিক অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার ছাত্রছাত্রীরা ৩৫ টি ইভেন্ট/খেলাধুলায় অংশ নেয়।


হতাশ পৌনে ৪ লাখ শিক্ষক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত প্রায় পৌনে ৪ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীর জানুয়ারি মাসের বেতন এখনো অনুমোদন পাননি। ফলে চলতি সপ্তাহে তাদের বেতন দেওয়ার সম্ভাবনা নেই।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত শিক্ষকদের জানুয়ারি মাসের বেতন অনুমোদন মেলেনি। সরকারি ছুটির কারণে বেতন অনুমোদন হলেও তা জিও জারি এবং এজি অফিসে পাঠানোর প্রক্রিয়া হবে আগামী বৃহস্পতিবার।

এ কারণে চলতি সপ্তাহে বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

মাউশির এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারি ছুটি এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সপ্তাহে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জানুয়ারি মাসের বেতন দেওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে আগামী সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের বেতন-ভাতা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, প্রতি মাসে শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতনের প্রস্তাব তাদের প্রতিষ্ঠান প্রধান পাঠান।

অনলাইন বিল দাখিলের পর তা যাচাই-বাছাই করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া মাত্র বেতন ব্যাংকে পাঠানো হয়।

সরকার ডিজিটাল বিল দাখিল ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া চালু করেছে, যা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতার প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করেছে। মাউশির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন এ প্রক্রিয়ার ফলে বেতন অনুমোদন ও বিতরণ আগের তুলনায় দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য হচ্ছে।

তবে শিক্ষকদের মধ্যে এ বিলম্ব নিয়ে হতাশা বিরাজ করছে। তারা আশঙ্কা করছেন, যদি সরকারি ছুটি বা অন্যান্য প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে অনুমোদন আরও বিলম্বিত হয়, তবে মার্চ মাসের বেতনও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নিয়মিতভাবে বেতন পাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। তাই তাদের জীবনযাত্রা ও পরিবারের দৈনন্দিন খরচ পরিচালনায় এই বিলম্ব এক প্রকার চাপ সৃষ্টি করেছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, আগামী সপ্তাহের শেষের মধ্যে বেতন-ভাতা বিতরণের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।


ইন্টার্নশিপ সনদ পেলেন বাকৃবির ৫৯তম ভেটেরিনারি ব্যাচের ১৯২ শিক্ষার্থী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাকৃবি প্রতিনিধি

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের ৫৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ সমাপনী এবং সনদ বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে ওই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদ। অনুষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করা ১৯২ জন শিক্ষার্থীকে সনদ দেওয়া হয়, এদের ৪ জন মালয়েশিয়ান ও ৫ জন নেপালি শিক্ষার্থীসহ ৯ জন বিদেশি শিক্ষার্থী ছিলেন।

বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার। এছাড়া বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘দীর্ঘ সময়ের এই ইন্টার্নশিপে তোমরা অধ্যয়ন ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে অনেক কিছু শিখেছো। হাসপাতাল, ল্যাবরেটরি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে পেশাগত দক্ষতা অর্জন করেছো। কেউ দেশে, কেউ বিদেশে ইন্টার্নশিপ করেছো, তবে উভয় ক্ষেত্রেই তোমরা নতুন মানুষ, নতুন পরিবেশ এবং নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছো। এই সময়ে ভালো অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তোমরা বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছো, যা তোমাদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য প্রস্তুত করবে। ইন্টার্নশিপ হল একাডেমিক জীবন ও পেশাগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। আশা করি এই ইন্টার্নশিপ তোমাদের চাকরি, উচ্চশিক্ষা কিংবা গবেষণাকাজে সহায়ক হবে।’

অনুষ্ঠানের সভাপতি ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান বলেন, ‘এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের ৫৫ জন ছাত্র-ছাত্রী বিদেশে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করেছে এবং তাদের পারফরম্যান্স অত্যন্ত ভালো ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে তারা বাকৃবির মর্যাদা বজায় রেখেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রাণী চিকিৎসা পেশা বর্তমানে শুধু চিকিৎসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ওয়ান হেলথ ধারণাসহ এটি বহু পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত। শিক্ষার্থীদের এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা ক্লিনিশিয়ান হবে না কি গবেষণার পথে এগোবে। তবে প্রাণীদের ভালোবেসে তাদের কষ্ট লাঘব করেই একজন প্রকৃত ভেটেরিনারিয়ান হওয়া সম্ভব।’


শ্রীমঙ্গল আইডিয়াল স্কুলে শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ ও মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল আইডিয়াল স্কুলে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ ও মা সমাবেশ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পৌর শহরের কালিঘাট রোডে অবস্থিত স্কুল ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশে নবীন শিক্ষার্থীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. এহসানুল হক (এহসান বিন মুজাহির)। সহকারী প্রধান শিক্ষক আশিকুর রহমানের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে নবাগত শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে গোলাপ ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। এ সময় সুসজ্জিত স্কুল ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সরব উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সভাপতির বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক মো. এহসানুল হক বলেন, ‘সুশিক্ষা ও উন্নত ভবিষ্যতের ভিত্তি গড়তে আমাদের প্রতিষ্ঠান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা কেবল পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক শিক্ষা নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিক, মানবিক ও সৃজনশীল বিকাশেও সমান গুরুত্ব দিয়ে থাকি।’

তিনি আরও জানান, নতুন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের ইংরেজি দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চালু করা হয়েছে ‘স্পেশাল ইংলিশ কেয়ার’ কার্যক্রম। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা ও সৃজনশীলতা বিকাশে সাপ্তাহিক বিষয়ভিত্তিক সভা এবং নিয়মিত কো-কারিকুলাম কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে দক্ষ ও সুনাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। সময়ের মূল্য দাও, শৃঙ্খলা মেনে চলো, শিক্ষকদের সম্মান করো এবং বন্ধুদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখো। বড় স্বপ্ন দেখো এবং সৎ পথে এগিয়ে যাও।’

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন অতিথি ও শিক্ষকরা। উপস্থিত শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন মো. আফসার মিয়া, মঈন উদ্দিন মুন্সি মুহিন, সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, কাওছার আহমদ সম্রাট, জয়া রবি দাশ, তাসলিমা জান্নাত চৈতি, তাসনিম রহমান তৃষা, হাফিজা আক্তার ও নুরজহান আক্তার।

বক্তারা বলেন, ‘আজকের শিশুরাই আগামী দিনের স্বপ্ন। প্রতিটি শিশুকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব। শিশুদের উদ্যমী ও আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে পারলেই তারা আগামীর বাংলাদেশ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।’

এ সময় শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে অভিভাবকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।


সুনামগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা প্রদান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান সুনামগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের বার্ষিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাছন রাজা মিলনায়তনে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জমকালো অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। সুনামগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মো. ইলিয়াস মিয়া, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন, বিদ্যালয় পরিচালনা এডহক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ মহিবুল ইসলাম, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম। অনুষ্ঠানে সময় বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ড. মো. ইলিয়াস মিয়া বলেন, পড়াশুনার পাশাপাশি অবশ্যই সাহিত্য-সাংস্কৃতিক চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। শুধুমাত্র পড়াশুনাতেই মেধাবী হয়না তার নানান সৃজনশীল কর্মকাণ্ডও মেধা অংশ। সবাইকে শিক্ষকের কথা মেনে সুন্দর জীবন গড়ে তুলতে হবে।

সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।


ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমার সিদ্ধান্ত বদল: পদত্যাগ করছেন না

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা তাঁর পদত্যাগের পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কথা জানিয়েছেন। গত বুধবার নানামুখী সমালোচনার মুখে তিনি পদ ছাড়ার ঘোষণা দিলেও শনিবার বিকেলে সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, তিনি স্বপদেই বহাল থাকছেন। তাঁর মতে, এই মুহূর্তে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক হবে না। সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ‘এভাবে’ পদত্যাগ করলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘প্রতারণা’ হয়ে যাবে।

সর্বমিত্র দাবি করেন, সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের অনুরোধের কারণেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা চাচ্ছেন না আমি পদত্যাগ করি। তারা এটা গণবিরোধী আখ্যায়িত করছেন। এভাবে পদত্যাগ করা তাদের সঙ্গে প্রতারণা। শিক্ষার্থীরা বলেছেন- বিরোধীপক্ষের কথায় কান না দিয়ে কাজ করুন। তাই আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছি।’ এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন যে, পদত্যাগের বিষয়টি গঠনতন্ত্র সমর্থন করে না। তবে গঠনতন্ত্রের ঠিক কোন ধারায় এমনটি বলা হয়েছে, সে সম্পর্কে তাঁর সুনির্দিষ্ট ধারণা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পদত্যাগের বিষয়টি কোন ধারায় আছে, আমার জানা নাই।’

উল্লেখ্য, গত ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত হওয়া সর্বমিত্র চাকমা দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই নানা কারণে সমালোচিত হয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে খেলতে আসা একদল কিশোরকে কান ধরে উঠবস করানোর একটি ঘটনায় তাঁকে নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সেই চাপের মুখেই গত বুধবার ফেসবুকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত তিনি তাঁর পূর্ব সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলেন।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থী গবেষণা সম্মেলন অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থী গবেষণা সম্মেলন ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) আয়োজিত এই দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. রেজাউল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এম আবদুল আজিজ বক্তব্য প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইকিউএসি’র অতিরিক্ত পরিচালক ড. মুস্তাক ইব্নে আয়ূব এবং বিষয়ভিত্তিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সারজাহ ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ আবিদুর রহমান। প্রধান অতিথির ভাষণে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান গবেষণা সম্মেলন আয়োজনের মহতী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের গবেষণার আগ্রহকে আমি স্বাগত জানাই। প্রতিটি মানুষ তার কর্মের মধ্য দিয়েই টিকে থাকে। গবেষণার কাজটি অত্যন্ত কঠিন। তবে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় নিজেকে সম্পৃক্ত করলে ভবিষ্যতে ব্যক্তিগতভাবে উপকৃত হওয়া সম্ভব। প্রতিষ্ঠান এবং সমাজও গবেষণার সুফল পায়।’ একইসাথে তিনি গবেষণার সুযোগ ও পরিধি আরও বিস্তৃত করতে দেশের শিল্পখাত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় ও সম্পর্ক বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

এই সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থী অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা তাদের গবেষণার বিষয়বস্তুর ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন পোস্টার প্রদর্শন করেন এবং নিজেদের গবেষণার সার-সংক্ষেপ অতিথিদের সামনে উপস্থাপন করেন। শিক্ষার্থীদের এই জ্ঞানতাত্ত্বিক চর্চা ও সৃজনশীলতাকে এগিয়ে নিতে আইকিউএসি’র এই আয়োজন ভবিষ্যতে গবেষণার সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে অনুষ্ঠানে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


সেশন জট নিরসনে ১৯ এপ্রিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ক্লাস শুরুর ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক শ্রেণির পাঠদান আগামী ১৯ এপ্রিল থেকে শুরু হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকাল ৪টার দিকে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই তথ্যটি প্রদান করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গত বছরের তুলনায় এবারের সময়সূচী প্রায় দুই মাস এগিয়ে আনা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, ‘গত বছর প্রথম বর্ষের পরীক্ষা ২২ জুন থেকে শুরু হয়েছিল। আমরা দুই মাস এগিয়ে এনেছি। এভাবে আমরা সেশন জট কমিয়ে নিয়ে আসব।’

ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ধরণ পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে উপাচার্য উল্লেখ করেন যে, প্রতিবছর ডিনদের সমন্বয়ে গঠিত ভর্তি পরীক্ষা কমিটিই নির্ধারণ করে থাকেন পরীক্ষার রূপরেখা কেমন হবে। চলমান ভর্তি প্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা দেন যে, ‘বিভিন্ন কারণে আমরা এবার শুধু এমসিকিউতে পরীক্ষা নিয়েছি। প্রয়োজনের আলোকে আগামীবার লিখিত পরীক্ষা যুক্ত হতে পারে।’ শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সময়ের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে ডিনদের কমিটি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

সার্বিক ভর্তি পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ড. রেজাউল করিম আরও বলেন যে, ‘সুষ্ঠুভাবে ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছে। কারো পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অভিযোগ আসেনি।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার কারণে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা ছাড়াই শিক্ষার্থীরা তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পেরেছে। মূলত সেশন জট কমিয়ে শিক্ষার্থীদের দ্রুত উচ্চশিক্ষার মূল ধারায় যুক্ত করার লক্ষ্যেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই নতুন সময়সূচী নির্ধারণ করেছে।


প্রক্টরের ওপর হামলার বিচারসহ ২ দফা দাবিতে ইবিতে মানববন্ধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইবি প্রতিনিধি

প্রক্টর ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট (টিএইচএম) বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মো. শরিফুল ইসলামকে অপহরণের অভিযোগ সুষ্ঠু তদন্তের সাথে বিচারের দাবিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) মানববন্ধন করেছে শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন (বৈছাআ)। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকাল ৪ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেন।

এসময় শিক্ষার্থীদের হাতে ‘শিক্ষকের ওপর হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘সাংবাদিকদের হেনস্থা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে শিক্ষক অপহরণের শাস্তি চাই’সহ ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা ২ দাবি উল্লেখ করেন- প্রক্টর ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার এবং ট্যুরিজম বিভাগের সভাপতিকে অপহরণের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার করা।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, ছাত্রদল ৫ আগস্টের পর থেকে শিক্ষার্থী বা জনকল্যাণে কোনো কাজ করেনি। তারা নিয়োগ বাণিজ্য করার জন্যই গতদিন টিএইচএম বিভাগের সভাপতিকে অপহরণ করেছে। আমরা আশা করেছিলাম তারা গণতান্ত্রিক রাজনীতি করবে কিন্তু তারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করে যাচ্ছে। গতদিন তারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যা করে প্রমাণ করেছে তারা সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি করতে চায় না।

ইবি বৈছাআ’র সদস্য সচিব ইয়াশিরুল কবির সৌরভ বলেন, “আমরা গত ১৭ বছর শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। ৫ই আগস্টের পর আমরা ভেবেছিলাম শিক্ষার অধিকার ফিরে পাব কিন্তু একটি কুচক্রি মহলের কারণে শিক্ষক রাজনীতি ও শিক্ষার অধিকারহরণ করা হচ্ছে।”

ইবি বৈছাআ’র আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, “সাংবাদিকদের ওপর হামলা তাদের ক্ষোভের একটি বহিঃপ্রকাশ। শুধু ক্যাম্পাসের ভিতরেই নয় শিক্ষার্থীরা কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহসহ যেসব জায়গায় বসবাস করে সকল জায়গায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যদি নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থ হন তবে দ্বায় নিয়ে দায়িত্ব থেকে সরে যান।”

উল্লেখ্য, গত বুধবার ইবির টিএইচএম বিভাগের সভাপতি মো. শরিফুল ইসলামকে সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে আনা হলে শিক্ষার্থীরা হাতাহাতিতে জড়ায়। এতে প্রক্টরিয়াল বডির বিভিন্ন সদস্য ও সাংবাদিকরাও আহত হন।


banner close