দক্ষ মানব সম্পদ গড়ার লক্ষ্যে ও বৈশ্বিক সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে দেশেই আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে ২০০৩ সালে যাত্রা শুরু করে উত্তরা ইউনিভার্সিটি। শুরুতে ২টি স্কুল বা অনুষদের অধীনে ২টি ডিপার্টমেন্ট নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫টি স্কুল বা অনুষদের অধীনে ১৪টি ডিপার্টমেন্টে ৪০টি প্রোগ্রাম চালু আছে। শুরু থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব জব ওরিয়েন্টেড ও প্রফেশনাল বিভাগ চালু আছে সেগুলো হচ্ছে- বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল, ফ্যাশন ডিজাইন, ইইই, সিএসই, আইন, ম্যাথ, ফিজিক্স, এডুকেশন, বাংলা, ইংরেজি, ইসলামিক স্টাডি ও শারীরিক শিক্ষা বিভাগ। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা যেন প্রতিযোগিতায় নিজেদের চৌকস প্রমাণ করতে পারে সেজন্য শুরু থেকে মানসম্পন্ন শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে উত্তরা ইউনিভার্সিটি ৯টি সমাবর্তন শেষ করেছে। এ ইউনিভার্সিটি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জন করে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছে।
প্রতিষ্ঠাতা পরিচিতি:
উত্তরা ইউনিভার্সিটির পরিচালনা কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত দক্ষ ও যোগ্য, যাদের প্রায় সবাই স্বনামধন্য ও প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর ড. এম. আজিজুর রহমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একজন খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রিকালচারাল ইকোনোমিক্স ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে অনার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের একই ডিপার্টমেন্ট থেকে মাস্টার্স ডিগ্রিও লাভ করেন। বিশ্ব ব্যাংকের বৃত্তি নিয়ে তিনি আমেরিকায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৮৮ সালে আমেরিকার ভ্যান্ডারভিল্ট ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে ও বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তিনি ৩০ বছর অধ্যাপনা করেন। ১৯৮৯ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তিনি ইউএস অ্যাম্বাসির ইউএসএইডে ইকোনোমিক অ্যাডভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ড. এম আজিজুর রহমান উত্তরা ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চ্যান্সেলর। শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সুলেখক ও সমাজসেবী প্রফেসর ড. ইয়াসমীন আরা লেখা হচ্ছেন এ ইউনিভার্সিটির বর্তমান ভাইস চ্যান্সেলর। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড ও এমএড এবং ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
ভিশন ও মিশন:
এক্সিলেন্স ইন হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ -এই স্লোগানকে সামনে রেখে গবেষণায় বেশি জোর দিচ্ছে উত্তরা ইউনিভার্সিটি। এ ইউনিভার্সিটির ভিশন বা সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দিক থেকে দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং আদর্শ নাগরিক, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও আলোকিত মানুষ সৃষ্টিকরণ।
উত্তরা ইউনিভার্সিটি জীবনঘনিষ্ঠ ও নৈতিক শিক্ষাদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। শুধু জ্ঞানার্জনের মাধ্যমেই আদর্শ নাগরিক সৃষ্টি হয় না। তাই উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি মূল্যবোধ সম্পর্কেও দীক্ষা দেওয়া হয়।
স্থায়ী ক্যাম্পাস:
উত্তরা ইউনিভার্সিটির একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হচ্ছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সকল নিয়মনীতি মেনে স্থায়ী ক্যাম্পাসে সম্পূর্ণ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। উত্তরা মডেল টাউনের থার্ড ফেইজ সংলগ্ন, প্রায় ৬ বিঘা জমির ওপর স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ হয়েছে। ৯ তলা ভবনের এ ক্যাম্পাস দেখে যে কারও চোখ জুড়িয়ে যাবে। ভবনের গঠনশৈলী এতটাই আধুনিক, সবদিক থেকেই আলো-বাতাস ভবনের ভেতর প্রবেশ করতে পারে। শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে খেলার মাঠ, যেখানে প্রতিনিয়ত নানা আয়োজন ও উৎসব চলতে থাকে। প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গড়ে তোলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ও মনোমুগ্ধকর এই ক্যাম্পাস! চারপাশে সবুজে ঘেরা আর ক্যাম্পসের পাশ ঘিরে তুরাগ নদী বহমান। মূল ভবন দক্ষিণামুখী হওয়াতে প্রতিনিয়ত দখিনা বাতাস প্রবহমান এই ক্যাম্পাসে। লাল কৃষ্ণচূড়ার শামিয়ানা আর শুভ্র কাশফুলের দোলাসহ বিভিন্ন ঋতুর প্রকৃতি এখানে দৃশ্যমান!
যাতায়াত ব্যবস্থা:
আধুনিক রাজধানী ঢাকার উত্তরায় সুবিশাল ভবন নিয়ে নির্মিত হয়েছে উত্তরা ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস। এই ক্যাম্পাসের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো- ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা দ্রুত আসা-যাওয়া করতে পারে। এমনকি আশপাশে জেলা গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল থেকে খুব সহজে যাতায়াত করতে পারবে ছাত্রছাত্রীরা। আর মেট্রোরেল স্টেশন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের খুব সন্নিকটে হওয়ায় যাতায়াতব্যবস্থা নিয়ে চিন্তিত থাকতে হয় না অভিভাবককে।
শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন:
বর্তমানে উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে ১৪টি বিভাগ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণার কাজেও ব্যাপক জোর দেওয়া হচ্ছে। সে কারণে উত্তরা ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট অব পলিসি রিসার্স স্থাপন করেছে। শুরু থেকেই মানসম্পন্ন শিক্ষাকে সামনে রেখেই এ ইউনিভার্সিটির শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাশিউরেন্স সেল (আইকিউএসি) গঠনের মাধ্যমে শিক্ষার অভ্যন্তরীণ গুণগতমান উন্নয়নের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
সমৃদ্ধ ও আধুনিক লাইব্রেরি:
শুরু থেকেই এই ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের জন্য গ্রন্থাগার সেবা দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে আসছে। সপ্তাহে ছয় দিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে গ্রন্থাগার। দৈনিক সংবাদপত্র ও রেফারেন্স বই পড়ার জন্য রয়েছে আলাদা কর্নার। শিক্ষার্থীদের অধ্যয়নের জন্য গ্রন্থাগারে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের ২৫টি দৈনিক পত্রিকা রাখা হয় নিয়মিত। গ্রন্থাগারে রয়েছে লক্ষাধিক বই এবং জার্নাল-ম্যাগাজিন আছে প্রায় ১০ হাজার। এ ছাড়া গ্রন্থাগারে ব্যবহারকারীদের সহায়ক সেবা দেওয়ার জন্য রয়েছে গবেষণা প্রতিবেদন, ই-রিসোর্সের বিশাল সম্ভার, বিশ্বকোষ, অভিধান, হ্যান্ডবুক, ম্যানুয়েল ও এনজিও প্রকাশনা। ব্যবহারকারীরা ই-বুক, ই-জার্নাল ও ই-ম্যাগাজিন পড়তে ও ডাউনলোড করতে পারেন। গ্রন্থাগারে ব্যবহারকারীদের জন্য রয়েছে ওয়াইফাই সংযোগসহ কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ। গ্রুপ স্ট্যাডি করার জন্য রয়েছে একাধিক বিশেষ কক্ষ। শিক্ষার্থীরা গ্রন্থাগারে না এসেও যেকোনো বইয়ের শিরোনাম, লেখক, কল নম্বর, কি-ওয়ার্ড ও প্রকাশক অনুযায়ী খুঁজতে পারেন ই-লাইব্রেরির সুবাদে। গ্রন্থাগারে শিক্ষকদের জন্য রয়েছে পৃথক ব্যবস্থাপনা।
গবেষণা ও প্রকাশনা:
উত্তরা ইউনিভার্সিটির প্রতিটি বিভাগই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফ্যাকাল্টিদের গবেষণা প্রবন্ধ দেশি ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হচ্ছে। প্রতি অনুষদ থেকে জার্নাল প্রকাশ করা হয় এবং গবেষণায় বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হয় শিক্ষকদের। এ ছাড়া বিভিন্ন অনুষদ থেকে নিয়মিতভাবে জার্নাল প্রকাশিত হচ্ছে। ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ থেকে বিজনেস রিভিউ, আইন বিভাগ থেকে ল’ জার্নাল নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হচ্ছে।
উত্তরা ইউনিভার্সিটির প্রত্যেক অনুষদে রিসার্চ সেল গঠিত হয়েছে, যেখানে গবেষণা বিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং প্রজেক্ট পরিচালনা করা হয়। প্রতিবছর অসংখ্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরামণ্ডলী বিদেশে গবেষণা ও উচ্চশিক্ষা বিষয়ে পড়ালেখা করতে যাচ্ছে। এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গবেষণাকে উৎসাহিত করতে অভ্যন্তরীণ গবেষণা তহবিল গঠন, মানসম্মত গবেষণার জন্য ইনসেনটিভ প্রদান ও গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশে সহায়তা করে। উত্তরা ইউনিভার্সিটি শুধু ডিগ্রি প্রদানের জন্যই শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে না বরং ইউনিভার্সিটি প্রশাসন এবং শিক্ষকরা চেষ্টা করছেন মানসম্মত ও যুগোপযোগী শিক্ষার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে।
এমওইউ ও স্টুডেন্ট এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম:
শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জন ও শিক্ষকদের জ্ঞানচর্চা আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যাবশ্যক। তাই উত্তরা ইউনিভার্সিটি যুক্তরাজ্যের বেডফোর্ড শ্যায়ার ইউনিভার্সিটি ও অরচেস্টার ইউনিভার্সিটির সঙ্গে সহযোগিতার স্মারক স্বাক্ষর করেছে। কর্তৃপক্ষ কানাডার কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও সহযোগিতার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া উত্তরা ইউনিভার্সিটি সাম্প্রতিককালে কয়েকটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে। এসব আন্তর্জাতিক সম্মেলন বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, আসাম ও কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বছরই উত্তরা ইউনিভার্সিটি বিজনেস কনফারেন্সের আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে যেখানে আমেরিকা, জাপান ও ভারতসহ দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান শিক্ষাবিদরা অংশগ্রহণ করেছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির সঙ্গে রয়েছে এমওইউ ও স্টুডেন্ট এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম। যার ফলে শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে গ্র্যাজুয়েট, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট, এমফিল ও পিএইচডি করার সুযোগ।
সম্মাননা ও সাফল্য:
মানসম্পন্ন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার স্বীকৃতি হিসেবে এ ইউনিভার্সিটি সাম্প্রতিককালে বেশ কিছু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘দা বিজ অ্যাওয়ার্ড-২০১৮ (হংকং), এডুকেশন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড, ২০১২, (দিল্লি), এশিয়াস বেস্ট বিজনেস অ্যাওয়ার্ড, সিঙ্গাপুর, ২০১৩, এশিয়ান সিইএফ বিজনেস স্কুল অ্যাওয়ার্ড, ২০১৪ (মুম্বাই), ইউজিসি অ্যাওয়ার্ড, ২০১৪ ও ২০১৫ (আইন বিভাগ) অন্যতম।
সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশে ক্লাব এবং ফোরাম:
শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশ ও বাজার উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে ইউইউতে ১২টি ক্লাব ও ১৪টি বিভাগের প্রায় ১৪টি বিভাগীয় ফোরাম রয়েছে। এসব ক্লাব ও ফোরাম বছরজুড়েই জাতীয়পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের কো-কারিকুলার ও এক্সট্রা কারিকুলার কার্যক্রম, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। এ ছাড়া পিঠা উৎসব, বসন্তবরণ, চৈত্রসংক্রান্তি, শিক্ষামেলা ও পাঠচক্রসহ জাতীয় অনুষ্ঠানগুলো বিশেষভাবে পালিত হয় এখানে। উচ্চশিক্ষার নিরন্তন পরিবেশ থাকায় মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা কার্যক্রম সুন্দর ও সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে পারে। অরাজনৈতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ায় নেই কোনো দ্বন্দ্ব, নেই ক্লাস বন্ধ হওয়ার চিন্তা, নেই সেশন জটের ভয়।
শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ:
উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে প্রতি বছর তিনবার অর্থাৎ স্প্রিং, ফল ও সামার সেমিস্টারে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। উচ্চ মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ছাত্রছাত্রীদের জন্য রয়েছে ১০% থেকে ১০০% পর্যন্ত স্কলারশিপ।
এ ছাড়া ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠী, নারী, জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়, জুলাই-বিপ্লবে আহত ও নিহতদের নিকটাত্মীয়দের জন্য রয়েছে বিশেষ স্কলারশিপ।
দক্ষ মানবসম্পদ ও গ্র্যাজুয়েটদের সফলতা:
সুযোগ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে উত্তরা ইউনিভার্সিটি। দেশের অন্যতম এই বেসরকারি বিদ্যাপীঠটি শিক্ষা, গবেষণা ও বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শুধু ডিগ্রি অর্জনের সুযোগই দিচ্ছে না, বরং তাদের আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় উপযুক্ত করে তুলছে। ফলে এখানে থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা বিসিএস ক্যাডার, জুডিশিয়াল সার্ভিস, আইন পেশা, ব্যাংক খাত, রপ্তানিমুখী শিল্প, কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি, এনজিও এবং বহুজাতিক কোম্পানিতে সুপ্রতিষ্ঠিত ক্যারিয়ার গড়তে পারছেন। পাশাপাশি, টেক্সটাইল ও ইলেকট্রনিক শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি খাত, সফটওয়্যার ফার্ম, ই-কমার্স ও স্টার্টআপ জগতে তারা দক্ষতার সঙ্গে অবদান রাখছেন। শুধু তাই নয়, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াতেও রয়েছে উত্তরা ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের গৌরবজনক উপস্থিতি। অনেকে আবার উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি নিজস্ব ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগ গড়ে তুলে আত্মনির্ভরশীল তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। শিক্ষকতা পেশায়ও তারা অবদান রাখছেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই বৈচিত্র্যময় কর্মসংস্থান ও পেশাগত সাফল্যই প্রমাণ করে উত্তরা ইউনিভার্সিটি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়- এটি একটি দক্ষ মানবসম্পদ নির্মাণের কারখানা।
উচ্চপর্যায়ে কৃতিত্ব:
উত্তরা ইউনিভার্সিটির গণিত বিভাগের ছাত্ররা আন্ডারগ্র্যাজুয়েট গণিত অলিম্পিয়াড ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে অংশগ্রহণ করে সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় একাধিকবার প্রথম, তৃতীয়, চতুর্থ ও সপ্তম স্থান অর্জন করেছেন। শারীরিক শিক্ষা বিভাগের কৃতী ছাত্রী মাহফুজা খাতুন শীলা জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতা ২০১৬-তে জোড়া স্বর্ণপদক বিজয়ী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদক গ্রহণ করেছেন। শারীরিক শিক্ষা বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী মিনিতা সুপ্রিয়া মিজান ত্রপী ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত সপ্তম আন্তর্জাতিক কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ ২০১৬-তে বিশেষ সাফল্য অর্জন করেছেন। ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান শরীফ তেল ও গ্যাসবিহীন একটি মোটরযান উদ্ভাবন করেছেন, যা সোলার এনার্জিতে মাত্র ১০ টাকা খরচে সারা দিন চালানো যায়। প্রায় সব অনুষদ এবং বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যতিক্রমধর্মী নানা সৃজনশীল কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায়। এসব সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মধ্যদিয়ে শিক্ষার পরিবেশকে এক আনন্দঘন পরিবেশে পৌঁছে দিয়েছে উত্তরা ইউনিভার্সিটি সুদক্ষ প্রশাসন এবং নিষ্ঠাবান শিক্ষক ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা।
স্বতন্ত্র ক্যাফে ও উন্নতমানের ক্যান্টিন:
শিক্ষার্থীদের জন্য এ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে স্বতন্ত্র ক্যাফে ও উন্নতমানের ক্যান্টিন। সকাল-সন্ধ্যা সুস্বাদু খাবার মেলে সহজেই। ক্যাফেটোরিয়াটি শিক্ষার্থীদের প্রিয় আড্ডাস্থল হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন শতাধিক শিক্ষার্থী এখানে সকালের নাশতা থেকে শুরু করে দুপুরের খাবার এবং ক্লাসের ফাঁকে চা-কফিতে সতেজতা খুঁজে নেয়। উন্নতমানের খাবার, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও স্বল্পমূল্যের কারণে ক্যাফেটোরিয়াটি শিক্ষার্থীদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়। বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-আড্ডা, পাঠচর্চা কিংবা হালকা বিশ্রাম- সব কিছুতেই ক্যাফেটোরিয়ার ভূমিকা অনন্য।
বক্তব্য
মো. আদনান রহমান, পিএইচডি
অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, স্কুল অব বিজনেস
ডিরেক্টর, ব্র্যান্ড, কমিউনিকেশন অ্যান্ড পিআর
বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক উচ্চশিক্ষা পরিবেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যান্ড ইমেজ তার সামগ্রিক সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখে। সেই ভাবনাকে সামনে রেখে উত্তরা ইউনিভার্সিটি চালু করেছে নতুন মিডিয়া ক্যাম্পেইন ও আধুনিক প্রচারণা কৌশল। শুধু পাঠ্যক্রম নয়, আজকের শিক্ষার্থীরা দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যবোধ, পরিবেশ, অ্যালামনাই সাফল্য ও সামাজিক দায়বদ্ধতা। এসবই একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ডের উপাদান। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য হলো বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং সাফল্যের গল্প তুলে ধরা। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা যেন আমাদের বর্তমান এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের গল্প থেকে অনুপ্রেরণা পায়। এভাবেই আমরা বিশ্বাসযোগ্যতা এবং মানবিক সংযোগ তৈরি করতে পারব। আমরা ইউটিউব, ফেসবুক এবং লিংকডইন-এর মতো প্ল্যাটফর্মে সক্রিয়। বিশেষ করে ভিডিও কনটেন্ট এবং ইন্টারেক্টিভ পোস্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ছে।
উত্তরা ইউনিভার্সিটি ভবিষ্যতে আরও ডেটাচালিত মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজির দিকে এগোচ্ছে। আমরা এআই ও অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের চাহিদা বুঝে কাজ করতে চাই। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের দৃশ্যমানতা বাড়াতে কাজ করছি। সঠিক ব্র্যান্ডিং-এর মাধ্যমে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেবল শিক্ষার্থী আকর্ষণই করে না বরং সমাজে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তাও পৌঁছে দিতে পারে।
ড. শাহ আহমেদ
অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ও চেয়ারম্যান, ইংরেজি বিভাগ
ডিরেক্টর, অফিস অব স্টুডেন্টস অ্যাফেয়ার্স
উত্তরা ইউনিভার্সিটি
উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে বিশ্বমানের পড়ালেখার জন্য আমরা বিশ্বমানের সিলেবাস তৈরি করেছি। ইউজিসির নিয়ম মেনে আমাদের দেশের সেরা ইউনিভার্সিটির সিলেবাস ও বিশ্বের টপ ইউনিভার্সিটির সিলেবাসকে সমন্বয় করে এমন একটা উন্নতমানের সিলেবাস তৈরি করেছি যাতে আমাদের ছাত্ররা এই সিলেবাসের ভিত্তিতে দেশে ও বিদেশে চাকরি পেতে পারে। প্রতিটি ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীদের সফট স্কিলগুলো গুরুত্বসহকারে শেখানো হয়। এতে চাকরির বাজারে অন্যদের থেকে তারা বেশি এগিয়ে থাকে। এ বিশ্ববিদ্যালয় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় যে শিক্ষাসেবা প্রদান করে থাকে, সে তুলনায় ছাত্রদের শিক্ষা ব্যয় অত্যন্ত কমই মনে হয়। প্রচুর ল্যাব আছে, লাইব্রেরিতে হাজার হাজার বই, কো-কারিকুলার কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক মানের ক্লাসরুম, লজিস্টিক্স সাপোর্ট, ইন্টারনেট, মাল্টিমিডিয়াসহ সব সুবিধা দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের। আমাদের উত্তরা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের প্রথমসারির ইউনিভার্সিটির মধ্যে অন্যতম।
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যথেষ্ট গবেষণা ফান্ড আছে। সে ফান্ড নিয়ে শিক্ষকরা বিভিন্ন ফিল্ডে রিসার্স করেন। নতুন নতুন নলেজ, নতুন নতুন থিওরি আবিষ্কার করেন। তবে ফ্যাকাল্টিকে প্রজেক্ট জমা দেওয়ার পরে প্রজেক্ট এক্সেপ্ট হওয়ার পরে সেই ফান্ডটা দিয়ে থাকে। এক কথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন মেনে রিসার্স ফান্ড পেতে হয়।
শিক্ষার পরিবেশ বিবেচনায় উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয় অদ্বিতীয়। এ ইউনিভার্সিটির চারদিক প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘেরা, শহরের কোলাহল মুক্ত, নির্ভেজাল পরিবেশে সুন্দর অবকাঠামোতে গড়ে উঠেছে উত্তরা ইউনিভার্সিটি। ঢাকা ও এর আশপাশে জেলা থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাসের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়া করতে পারে। শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি বাস সেবা চালু রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম উপাচার্য হিসেবে আগামী চার বছরের জন্য এ দায়িত্ব পালন করবেন।
শুক্রবার (১৫) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের উপাচার্য কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম, জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. রফিকুল ইসলাম, ইউট্যাব সভাপতি ড. তোজাম্মেল হোসেনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, যা ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি সুস্পষ্ট আদর্শ ও লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও সময়ের পরিক্রমায় বিভিন্ন কারণে সেই মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুতি ঘটেছে। আমি চেষ্টা করব বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে নিতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।’
শিক্ষাজীবনে একাডেমিক ফলাফলে সর্বোচ্চ মেধার স্বাক্ষর রাখায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ পাচ্ছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ১৬ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ২০১৯ সালে পাঁচজন, ২০২০ সালে পাঁচজন এবং ২০২১ সালে ছয়জন শিক্ষার্থী এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর (একাডেমিক শাখা) থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের মনোনীত শিক্ষার্থীরা হলেন—পরিসংখ্যান বিভাগের সোনিয়া আক্তার, ইংরেজি বিভাগের নূর-ই-জাহান তাহিন, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মোছা. তাসলিমা আক্তার, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের তাশফিয়া সালাম এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের রিপা আক্তার।
২০২০ সালের মনোনীত শিক্ষার্থীরা হলেন—রসায়ন বিভাগের মাহিমা সুলতানা সরকার, বাংলা বিভাগের তাইয়াবুন নাহার, অর্থনীতি বিভাগের হেলাল উদ্দীন, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের মোছা. মুক্তা আক্তার এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ফারজানা আক্তার।
এছাড়া ২০২১ সালের মনোনীত শিক্ষার্থীরা হলেন—পরিসংখ্যান বিভাগের তানজিনা আক্তার, বাংলা বিভাগের নাজনীন সুলতানা, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সাবিকুন্নাহার, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের নাহিদা আক্তার, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের আমেনা আক্তার এবং আইন বিভাগের নিশি আক্তার।
এ বিষয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. মোশাররফ হোসাইন বলেন, ‘পূর্বেই আবেদন করা ছিল, এতদিনে ফাইনাল হয়েছে। এখন তিন বছর দেওয়া হচ্ছে। আরো তিনটি বছরের ফলাফল তৈরি রয়েছে। সেগুলোও পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে।’
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এ স্বর্ণপদক ও সার্টিফিকেট প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৮০ (সংশোধিত-২০১০) এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী তাকে আগামী চার বছরের জন্য উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি ইচ্ছা করলে এর আগেও দায়িত্ব ছাড়তে পারবেন।
এতে আরও বলা হয়, উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি তার বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতাসহ বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজনে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।
প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগের আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রভোস্ট, প্রক্টর, বিভাগীয় সভাপতি, শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ইউট্যাব) কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহ্বায়ক হিসেবে নিয়োজিত আছেন।
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এ ‘এআই টুলস অ্যান্ড রেজাল্ট প্রিপারেশন উইদ কোর্স আউটকাম-প্রোগ্রাম আউটকাম ম্যাপিং ফর ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ইন অ্যাকাডেমিয়া’বিষয়ক কর্মশালা সোমবার (১১) অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর উদ্যোগে আয়োজিত কর্মশালাটিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন।
কী-নোট স্পিকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাসেল।
কী-নোট স্পিকার হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এজুকেশন নেটওয়ার্কের (বিডিআরইএন) সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস ও নেটওয়ার্ক অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেলের জেনারেল ম্যানেজার খন্দকার রাশেদুল আরেফিন এবং ইনোভেশন সেলের ম্যানেজার আবু নাসের মো. নাফিউ।
প্রধান অতিথি হিসেবে মাননীয় উপাচার্য বলেন, ‘ওয়াশিংটন অ্যাকর্ডের গর্বিত সাক্ষরকারী হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের প্রকৌশল ডিগ্রিগুলোর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার পথ সুগম হয়েছে। অ্যাকর্ডভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ারদের কাজের সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্লোবাল ভিলেজের এ সুযোগ কাজে লাগাতে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিসমূহের অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন প্রক্রিয়ায় এআই টুলসের ব্যবহার অনস্বীকার্য। আমাদের বিভাগগুলোর অ্যাক্রেডিটেশনের জন্যও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাসহকারে আবেদন প্রক্রিয়া চলমান আছে। আশা করছি শীঘ্রই আমরা সেগুলোর স্বীকৃতি পেয়ে যাবো।
তিনি আরও বলেন, ‘এআই, মেশিন লার্নিং বর্তমান অ্যাকাডেমিয়ায় সিও-পিও ম্যাপিং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে সহজ করে দিয়েছে। আজকের কর্মশালা থেকে অর্জিত জ্ঞান ডুয়েটের বিভাগসমূহে বাস্তবায়ন এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে কোলাবোরেশন বৃদ্ধির মাধ্যমে শিক্ষা, গবেষণা, প্রকাশনা, উদ্ভাবন, র্যাঙ্কিং উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধিসহ সর্বক্ষেত্রে ডুয়েটকে বিশ্বমানের একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি।’ তিনি এ ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন এবং কর্মশালা আয়োজনের জন্য আইকিউএসিকে ধন্যবাদ জানান।
সভাপতির বক্তব্যে আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘কোর্স ও প্রোগ্রাম আউটকাম বেইজড শিক্ষা পদ্ধতি বর্তমানে পূর্বের কেবল অ্যাকাডেমিক রেজাল্ট ওরিয়েন্টেড পদ্ধতির স্থান নিয়েছে। দেশে দেশে প্রদত্ত ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিসমূহের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতার জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু অনুসরণ করা হচ্ছে। অ্যাকাডেমিয়ায় সিও-পিও ম্যাপিং বাস্তবায়নের মাধ্যমেই ক্রাইটেরিয়াগুলো অর্জন করা সম্ভব। সেগুলো অর্জনের উপায় নিয়েই আমাদের আজকের কর্মশালা।’
অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলামের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ডীন, বিভাগীয় প্রধান, আন্ডারগ্র্যাজুয়েট কোর্স কো-অর্ডিনেটর, ডিগ্রি প্রদানকারী বিভাগসমূহের প্রোগ্রাম সেল্ফ অ্যাসেসমেন্ট কমিটির সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার শতবর্ষী ও ঐতিহ্যবাহী গাছবাড়ীয়া নিত্যানন্দ গৌরচন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চবিদ্যালয়ে চরম শিক্ষক সংকটে পাঠদান কার্যক্রম ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ৬ শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য বর্তমানে সরকারি শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৬ জন। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক মাত্র একজন, যা জাতীয় শিক্ষানীতির চরম পরিপন্থি।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর সরকারি করা হয়। সরকারি বিধি অনুযায়ী এখানে ২১ জন শিক্ষকসহ মোট ২৮টি অনুমোদিত পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৬ জন। আগামী আগস্ট মাসে আরও একজন শিক্ষক অবসরে যাচ্ছেন, ফলে শিক্ষকের সংখ্যা নেমে আসবে ৫-এ।
শূন্য পদের তালিকা: দীর্ঘকাল শূন্য প্রধান শিক্ষকের পদ। ২১ জন সহকারী শিক্ষকের বিপরীতে আছেন মাত্র ৬ জন। এ ছাড়া লাইব্রেরিয়ান ও কম্পিউটার শিক্ষকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোও শূন্য। ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির ৮টি পদের মধ্যে ৭টিই খালি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি হওয়ার আগে এখানে ১৬ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে ১০ জন শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর নতুন কোনো নিয়োগ না হওয়ায় এই সংকট ঘনীভূত হয়েছে। জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী প্রতি ৪০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক থাকার নিয়ম থাকলেও এই প্রতিষ্ঠানে সেই অনুপাত রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে।সে হিসেবে গড়ে ১০৫ শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন সরকারি শিক্ষক রয়েছেন। অথচ জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী গড়ে ৩০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক থাকার কথা। এ অবস্থায় বিদ্যালয়টি কীভাবে চলছে এবং ভবিষ্যতে কীভাবে চলবে-সেই প্রশ্নের উত্তর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছেও স্পষ্ট নয়।
একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় সিলেবাস শেষ করা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছে। অনেক বিষয়ের মৌলিক পাঠ তারা শ্রেণিকক্ষে পাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে অনেককে চড়া মূল্যে প্রাইভেট বা কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অভিভাবকদের মতে, প্রতিষ্ঠানটি সরকারি হওয়ার পর থেকে মানসম্মত শিক্ষার আশা থাকলেও শিক্ষক সংকটের কারণে তা পূরণ হচ্ছে না।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এম এ মতিন বলেন, ‘দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা ও শিক্ষক স্বল্পতার মধ্যেই আমরা কোনোমতে কার্যক্রম চালিয়ে নিচ্ছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।’
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুর রহমান জানান, ৬ জন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয় চালানোর সীমাবদ্ধতার বিষয়ে তিনি অবগত।
তিনি বলেন, ‘সমস্যার কথা জানিয়ে ইতোমধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান হবে।’
জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী প্রতি ৪০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক থাকার নিয়ম থাকলেও এই মডেল স্কুলে তার প্রতিফলন নেই। ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠের শিক্ষাব্যবস্থা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি) তাঁর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন। লোকপ্রশাসন বিভাগের এই সহকারী অধ্যাপক সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদের বিদায়ের পরপরই তিনি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে। শেহরীন আমিন নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর এই অব্যাহতির খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিলাম। জীবনের একটি অপ্রত্যাশিত অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল এখানেই।” তাঁর এই মন্তব্যটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট শেহরীন আমিন ভূঁইয়াকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল। এর আগে তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তাঁর স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নতুন প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন চারুকলা অনুষদের গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল প্রাং (ইসরাফিল রতন)। এর আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
রবিবার (১০ মে) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আপনাকে ১০ মে থেকে প্রচলিত শর্তে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেছেন।
এ জন্য আপনি বিধি মোতাবেক ভাতা ও সুবিধাদি প্রাপ্য হবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থে যে কোন সময়ে এ নিয়োগ বাতিল করা যাবে।
চিঠিতে আরো বলা হয়, এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যালেন্ডার পার্ট-২ (১৯৯৭)-এর ১১ অধ্যায়ে (পৃষ্ঠা নং-৩৭-৪০) প্রক্টর-এর দায়িত্ব ও কর্ম পদ্ধতি বিষয়ক বিধি বিধানের প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।অনুগ্রহপূর্বক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্বভার গ্রহণ করে আপনার যোগদানপত্র অত্র অফিসে প্রেরণ করতে আপনাকে অনুরোধ করা যাচ্ছে।
এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ পদত্যাগ করেছেন। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি।
পদত্যাগের বিষয়ে সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, ব্যক্তিগত কারণে আমি প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে এসেছি। এই মুহূর্তে আমি বিশ্রামে থাকতে চাই।
পদত্যাগপত্র পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, প্রক্টরের বিষয়ে শিগগিরই আমরা সিদ্ধান্ত নেব।
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। এরপর ২৮ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ পান।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, ব্যবসায়ীদের সুবিধা হলে বই বিক্রিকে শিল্প হিসাবে স্বীকৃতি দিতে বাধা নেই। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা এমন দিকে ধাবিত হচ্ছে যে, নোট-গাইড আর দরকার হবে না। শিক্ষকরা যে প্রেসক্রিপশন দেন, এই নোট গাইড পড়তে হবে- এটা করা যাবে না। শিক্ষকদের সহযোগী বইয়ের তালিকা দিয়ে দিতে হবে, শিক্ষার্থীরা সেটা কিনবে।
শুক্রবার (৮ মে) দুপুর ১২টায় বাংলা একাডেমিতে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।
শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেন, প্রিন্টিং প্রেস খুবই সন্মানজনক ব্যবসা। আমরা যে সাশ্রয়ে বই তৈরি করি, সেটা বিশ্বের অন্য দেশ পারে না। আমাদের দেশে মোটামুটি সস্তায় বই বিক্রি হয়। আমি চাই মুদ্রণশিল্পে একে অন্যের পরিপূরক হিসেবে কাজ করুক। আপনাদের অনুরোধ করবো- বইয়ের ব্যবসা করেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য।
শিক্ষামন্ত্রী বই প্রকাশকদের উদ্দেশে বলেন, বই ছাপানোর ক্ষেত্রে যেন মানসম্মত কাগজ ব্যবহার করা হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া যেভাবে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ও বাজেট দিয়েছেন তা আর কেউ করেনি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেবও তার মা-বাবার মতো শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
মাড়েয়া জংলীপীর উচ্চ বিদ্যালয়, অবকাঠামো একটি সুন্দর ও নিরাপদ বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ বাড়ায়। বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্লাসরুম/শ্রেণিকক্ষ, বেঞ্চ, ডেক্স, চেয়ার পাঠাগার ও কম্পিউটার ল্যাব, শৌচালয়, খেলার মাঠ প্রয়োজন।
মাড়েয়া জংলীপীর উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপিত হয় ১৯৯৯ সালে। ১ জুলাই ২০১৯ সালে এমপিও হয়।কর্মরত রয়েছেন ১১ জন শিক্ষক ২ জন কর্মচারী।
১ মার্চ ২০২৪ সালে সাবেক প্রধান শিক্ষক মৃত্যু বরণ করেন। তারপর থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব পালন করেন পাবর্তী রানী রায়।
সরজমিন গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র, ছয়টি শ্রেণিকক্ষ কিন্তু তীব্র গরমে ফ্যান নেই, ফ্যান না থাকায় নিয়মিত উপস্থিত হচ্ছে না ছাত্রছাত্রীরা, একদিন উপস্থিত হলে পরের দিন আর শ্রেণিকক্ষে আসেনা , তাই দিন দিন শিক্ষার মান নিম্নে পর্যায়ে চলে যাচ্ছে, হতাশা গ্রস্ত ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকরা।
পঞ্চগড় বোদা উপজেলার, মাড়েয়া জংলীপীর উচ্চ বিদ্যালয়ের, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক , পার্বতী রানী রায় , তিনি জানান আমাদের বিদ্যালয়ে শ্রেণি কক্ষ ৬ টি একটিতেও নেই ফ্যান, সিলিং নেই, জানালা নেই , পর্যাপ্ত পরিমাণ নেই বেঞ্চ, তীব্র গরমে অতিষ্ঠ ছাত্র ছাত্রীরা , ছাত্র ছাত্রী সংখ্যা ২০৬ জন, কিন্তু তীব্র গরমে কারণে বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত হচ্ছে না, মানসম্মত অবকাঠামো হলে অনেক ছাত্র ছাত্রী এই বিদ্যালয়ে ভর্তি হবেন আশা করি।
পঞ্চগড় বোদা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আইবুল ইসলাম জানান ফ্যান নেই এ বিষয় আমি জানি না জানে বিষয় টি দেখবো
পঞ্চগড় জেলা শিক্ষা অফিসার অতিরিক্ত দায়িত্ব,খায়রুল আনাম মোঃ আফতাবুর রহমান হেলালী, তিনি জানান আপনার মাধ্যমে জানাইতে পারলাম আমি বিষয়টি দেখবো।
পঞ্চগড় বোদা উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ রবিউল ইসলাম জানান প্রধান শিক্ষক আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমি দূরত্ব এ সমস্যা সমাধান করব।
শিক্ষার মানোন্নয়নে এখন থেকে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, পূর্ববর্তী সরকারগুলো যেখানে জিডিপির ১ দশমিক ৭ শতাংশের বেশি শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেয়নি, সেখানে বর্তমান সরকার এই বিপুল বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ইউনিসেফের গবেষণাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করছেন।
তাই ‘গ্লোবাল ভিলেজে’ প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং একটি উন্নত ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়তে শুধু অবকাঠামো নয়, বরং শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা বিকাশে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানের মানোন্নয়নে এখন থেকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ ছাড়া কোনো শিক্ষকই শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীতে ‘সরকারের অগ্রাধিকার ও শিক্ষা খাত: বাজেট ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক নাগরিক সংলাপে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান। সিপিডির নাগরিক প্ল্যাটফর্ম এই সংলাপের আয়োজন করে।
শিক্ষকদের দক্ষতার ওপর গুরুত্বারোপ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, আপনারা বলছেন প্রশিক্ষণহীন শিক্ষকরা ক্লাসরুমে যাবেন না–আমরা এরইমধ্যে সেই পদক্ষেপ নিয়েছি। এই সিদ্ধান্তের কারণে সাড়ে ১৪ হাজার শিক্ষক আমার বিরুদ্ধে মিছিল করেছেন। কিন্তু আমরা আমাদের অবস্থানে অনড়। তারা প্রশিক্ষণ শেষ করে আগামী চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে শ্রেণিকক্ষে ফিরবেন।
শিক্ষা খাতের বর্তমান অবস্থাকে ‘ভঙ্গুর’ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছরে এই খাতটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকার বর্তমানে এটি মেরামতের কাজ করছে। বেসরকারি স্কুলগুলো তদারকির জন্য একটি ‘রেগুলেটরি বোর্ড’ বা তদারকি পর্ষদ গঠনের কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ১৪ মে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।
ববি হাজ্জাজ আরও জানান, দেশের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের জরুরি মেরামত প্রয়োজন। কিছু ক্ষেত্রে ভবন এতটাই জরাজীর্ণ যে সেগুলোকে নতুন করে তৈরি করা ছাড়া উপায় নেই।
তিনি বলেন, স্কুলের অবকাঠামো মানে কেবল বিল্ডিং নয়, আমরা ভবনের নকশার সঙ্গে শিক্ষাদানের প্রক্রিয়ার সমন্বয় করতে চাই।
জাতীয় শিক্ষাক্রম নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার একটি ‘সিমিলার স্ট্যান্ডার্ড কারিকুলাম’ বা সমমানের শিক্ষাক্রম প্রণয়নের চেষ্টা করছে। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য একটি টেকসই কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে, যা ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হবে। কারিকুলাম তৈরিতে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার (জিও-এনজিও) সমন্বয় থাকবে বলেও তিনি জানান।
প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার।
প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘দোয়েল ল্যাপটপ’ প্রকল্পের ব্যর্থতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, যাচাই-বাছাই না করে প্রযুক্তির পেছনে অন্ধভাবে দৌড়াতে চায় না সরকার। প্রযুক্তি হবে পাঠদানের একটি সহায়ক সরঞ্জাম মাত্র।
সংলাপে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, পিডিপি-৫ (পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি) প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে। অতীতের ভুলগুলো সংশোধন করে আগামী জুন-জুলাই নাগাদ এটি পুরোদমে মাঠপর্যায়ে কার্যকর হবে। এ ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য বেতন, পদোন্নতি ও ক্যারিয়ার উন্নয়নের বিষয়গুলো মাথায় রেখে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘শিক্ষক নীতিমালা’ তৈরির কাজ চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংলাপে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, এনজিও প্রতিনিধি এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন উপস্থিত ছিলেন। তারা শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান। জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার জবাবদিহিতার বাইরে নয়; যে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন তুলে সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর অধিকার জনগণের রয়েছে।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) স্কুল অব ল-এর অধীনে পরিচালিত এলএল.বি (অনার্স) ৮ম ব্যাচের (২০২০-২১ সেশন) শিক্ষার্থীদের ‘বিদায় অনুষ্ঠান বৃহস্পতিবার সকাল ১০:০০টায় ঢাকা আঞ্চলিক কেন্দ্রের কনফারেন্স কক্ষে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাউবির এলএল.বি (অনার্স) ৮ম ব্যাচের বিদায়ী শিক্ষার্থীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য কেবল সনদ অর্জন নয়, বরং নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা। মানুষ জন্মগতভাবে মানুষ হলেও প্রকৃত মানুষ হতে হলে জ্ঞান চর্চা, সদিচ্ছা ও দেশপ্রেমের প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে বাউবির কার্যক্রম দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরেও বিস্তৃত হয়েছে এবং অনেক শিক্ষার্থী প্রবাসে থেকে রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। বাউবির শিক্ষার্থীদের মধ্যে শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরাও রয়েছেন।
আইন বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সাফল্যের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রশাসন কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে ফ্যাকাল্টির সংখ্যাও বাড়ানো হবে বলে জানান। তিনি শিক্ষার্থীদের সত্য, ন্যায়, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের চর্চার মাধ্যমে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। আমাদেরকে জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ধারণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাউবির শক্তিশালী ব্র্যান্ডিং প্রয়োজন এবং শিক্ষার্থীদেরই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করতে হবে। এ সময় তিনি অ্যালামনাই গঠন ও ডিবেটিং ক্লাব প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাউবির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কখনো শেষ হওয়ার নয়; তারা সবসময় বাউবি পরিবারের অংশ হয়ে থাকবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বার তাদের জন্য সবসময় উন্মুক্ত থাকবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্কুল অব ল-এর ডিন অধ্যাপক ড. নাহিদ ফেরদৌসী। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন এবং পেশাগত জীবনে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) টি.এম আহমেদ হুসেইন, ঢাকা আঞ্চলিক কেন্দ্রের পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন, স্কুল অব ল এর প্রভাষক রিচিমনি প্রমা ও সজল আহমেদ, বাউবি ল এর প্রাক্তন শিক্ষার্থী ইটিভির সাংবাদিক হারুন উর রশীদ, ঢাকা জর্জ কোর্টের এডভোকেট গাজী হাসান মাহমুদ, এডভোকেট সুমন পারভেজ, এডভোকেট কাজল রায় এবং এডভোকেট শরীফ খান।
অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন বিদায়ী ব্যাচের শিক্ষার্থী লিটন হোসেন ও ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তাসনুভা তুশিন। অনুষ্ঠানে ৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মাননীয় উপাচার্যসহ মঞ্চে উপবিষ্ট অতিথিবৃন্দকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে উপাচার্যসহ অতিথিবৃন্দদের ক্রেস্ট প্রদান করেন। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মাননীয় উপাচার্য বিদায়ী শিক্ষার্থীদেরকে রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিদায়ী শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
তরুণ প্রজন্মের মেধাকে সম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে ক্রীড়া ও উদ্ভাবনভিত্তিক টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনে ‘‘আইপি অ্যান্ড স্পোর্টস : রেডি, সেট, ইনোভেট” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এ বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস ২০২৬ উদযাপনের অংশ হিসেবে আলোচনা সভা ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের মাননীয় সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান।
সভাপতির বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য বলেন, মেধাস্বত্বের স্বীকৃতি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রত্যেক গবেষক, উদ্ভাবকের অধিকার। বিশ্বজুড়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনের পরিসর যত বৃদ্ধি পাচ্ছে, মেধাস্বত্বের গুরুত্ব ততোই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া বর্তমান বিশ্বে উদ্ভাবন ও গবেষণাই টেকসই উন্নয়নের মূল ভিত্তি। কিন্তু এসব উদ্ভাবনের সুরক্ষা নিশ্চিত না করা গেলে উদ্ভাবকের স্বীকৃতি ও বাণিজ্যিকীকরণের সুযোগ হারানোর আশঙ্কা থাকে। তাই একজন গবেষক বা উদ্ভাবকের চিন্তা, ধারণা ও সৃজনশীলতার আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য মেধাস্বত্ব সম্পর্কে সচেতনতা খুবই জরুরি।’
উপাচার্য মহোদয় আরও বলেন, ‘মেধাস্বত্ব সম্পর্কে বিশদ জ্ঞান ছাড়া গবেষণার যথাযথ স্বীকৃতি ও সুরক্ষা সম্ভব নয়। আমি আশা করি, এ সংশ্লিষ্ট সেমিনার, সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষক ও গবেষকবৃন্দ এ বিষয়ে বিশদ ধারণা লাভ, আবেদন প্রক্রিয়া, নিবন্ধন পদ্ধতি সম্পর্কে গভীরভাবে জানবেন। তিনি শিক্ষক, গবেষকদের মৌলিক কাজের স্বীকৃতির জন্য মেধাস্বত্ব সুরক্ষার সংস্কৃতি গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশ ও বিশ্বের দরবারে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করার আহবান জানান। এ সময় তিনি সকলকে ডুয়েটের অগ্রযাত্রায় শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণা, প্রকাশনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে ডুয়েট ও দেশের টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এ ধরনের সেমিনার আয়োজনের জন্য আয়োজক, আলোচক ও সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডুয়েট আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির চ্যালেঞ্জিং এ সময়ে বৈশ্বিক জ্ঞানভিত্তিক সমাজে মেধাস্বত্ব সুরক্ষার প্রক্রিয়া, বিধি-বিধান, নীতিমালা এবং আইন-কানুন সম্পর্কে জ্ঞান রাখা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। আজকের আলোচনা সভা থেকে বিষয়গুলো সম্পর্কে দিকনির্দেশনার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক ও গবেষকবৃন্দ উপকৃত হবেন।'
আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় ডুয়েটের সকল অনুষদের ডীন, পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষকবৃন্দ এবং অফিস প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। সভার পর র্যালি নিয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণের করে।