মঙ্গলবার, অক্টোবর ৪, ২০২২

ঢাবির রেজিস্ট্রার ভবনে হয়রানি বন্ধে ফের অবস্থান শিক্ষার্থীর

ঢাবির রেজিস্ট্রার ভবনে হয়রানি বন্ধে ফের অবস্থান শিক্ষার্থীর
হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি: দৈনিক বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রেজিস্ট্রার ভবনে হয়রানি বন্ধের দাবিতে আবারও অবস্থান কর্মসূচিতে নেমেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। এবার তিনি সব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

আজ রোববার সকাল সাড়ে দশটা থেকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় তার দাবিগুলো রেজিস্ট্রার ভবনের প্রধান ফটকে সাঁটিয়ে দেন।

হাসনাত আবদুল্লাহর দাবি গুলো হলো, শিক্ষার্থীদের হয়রানি নিরসন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিতে শিক্ষক-ছাত্র প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে অভিযোগ সেল গঠন, প্রশাসনিক সব কার্যক্রম অনতিবিলম্বে ডিজিটালাইজ করা, নিরাপত্তা ও হারিয়ে যাওয়া কাগজপত্র তদন্তের স্বার্থে অফিসসমূহের অভ্যন্তরে প্রতিটি রুমে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপন, প্রশাসনিক ভবনে অফিসসমূহের প্রবেশদ্বারে ডিজিটাল ডিসপ্লে স্থাপন করা।

এ ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক ভবনের ক্যান্টিনের সংস্কার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আধুনিক সাচিবিক-বিদ্যা, পেশাদারিত্ব, মানসিক ও আচরণগত প্রশিক্ষণ আইন করে বাধ্যতমূলক করা, অফিস চলাকালীন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ব্যক্তিগত, ব্যবসায়িক কিংবা রাজনৈতিক কোনো কাজেই লিপ্ত না থাকা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচনকালীন প্রচার পরিবেশবান্ধব করা।

এর আগে তিনি গত ৩০ আগস্ট এসব দাবি পূরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানের কাছে স্মারকলিপি দেন। এ সময় তিনি দাবি পূরণের জন্য দশ কর্মদিবসের আল্টিমেটাম দেন। 

সেই আলটিমেটাম শেষ হওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ফের অবস্থান কর্মসূচিতে বসেন এই শিক্ষার্থী।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বেঁধে দেওয়া দশ কর্মদিবস শেষ হলেও রেজিস্ট্রার ভবনের সমস্যা সমাধানে ভিসি স্যার কোনো পদক্ষেপ নেননি। আমাদের আট দফা দাবির একটি দাবিও পূরণ করেননি কিংবা দাবি পূরণে কোনো ধরনের দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেননি। রেজিস্ট্রার ভবনের অবস্থা যা ছিল, ঠিক তা-ই রয়েছে। দাবি পূরণ না হলে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাব।’

অভিযোগ করে এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আজকে রেজিস্ট্রার ভবনে আমাকে বাধা দেওয়া হয়েছে। সকাল ৯টায় অফিস টাইম থাকলেও ৯টা ৪০ মিনিটেও এ ভবনের কর্মকর্তা কর্মচারীরা অফিসে অনুপস্থিত। সেই ছবি তুলতে গেলে বাধার সম্মুখীন হই।’

এদিকে আল্টিমেটাম চলাকালীন হাসনাত আবদুল্লাহ একটি প্রশাসনিক ভবনের সেবা সম্পর্কে অনলাইনে একটি জরিপ পরিচালনা করেন। সেই জরিপে  বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এবং বর্তমান ৭০০ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন।

সার্ভের ফল অনুযায়ী, ৮৯.২ শতাংশ শিক্ষার্থীর প্রশাসনিক ভবনের সেবার অভিজ্ঞতা ভয়াবহ ও অপ্রত্যাশিত। ৬৮.৩ শতাংশ শিক্ষার্থীর মতামত হলো প্রশাসনিক ভবনে ঘুষ লেনদেন ও স্বজনপ্রীতির চর্চা হয়। সর্বোচ্চ সংখ্যক হয়রানি হয় ভর্তি শাখায়, বৃত্তি শাখায়, মার্কশিট শাখায় ও ট্রান্সক্রিপ্ট শাখায় (ক্রমানুযায়ী)। ৪০০ এর অধিক শিক্ষার্থীর শুনতে হয়েছে, ‘লাঞ্চের পরে আসুন’, ‘এটা এই রুমের কাজ না’, ‘কাগজ এখনও হল থেকে আসেনি’। 

৮৬.১ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করেন, প্রশাসনিক ভবনের বর্তমান কাজ ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত।

জরিপের ফল আরও বলছে, ৪০০ এর বেশি শিক্ষার্থীর অভিযোগ- সেবা দাতাদের কাছে সেবা গ্রহীতারা নিরুপায় এবং সেবা গ্রহীতাদের সময়ের কোনো মূল্য নেই। প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী প্রশাসনিক ভবনের সেবার মান অপরিবর্তিত থাকার কারণ হিসেবে বলেছেন, কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বচ্ছতার অভাব। আর ৭২.৮ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করে সেবার মান উন্নয়নের জন্য প্রত্যক্ষ আন্দোলনের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করা উচিত।


কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটিতে ক্যারিয়ার প্রস্তুতি বিষয়ক কর্মশালা

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটিতে ক্যারিয়ার প্রস্তুতি বিষয়ক কর্মশালা
কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্ট আয়োজিত কর্মশালায় অতিথিদের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা।
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

শিক্ষাজীবন শেষ হতে না হতেই শুরু হয়ে যায় কর্মজীবনের প্রস্তুতি। তবে অনেকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেন না। কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে শিক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজন প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা অর্জন। শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার প্রস্তুতি, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দক্ষতা অর্জন বিষয়ক বিশেষ এক কর্মশালায় এ কথা বলেন মোবাইল অপারেটর রবির এইচআর টেক ও ট্যালেন্ট ম্যানেজমেন্টের মহাব্যবস্থাপক ‍মুনিম আহমেদ।

কর্মশালাটির আয়োজন করেছিল কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্ট। এতে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‍মুনিম আহমেদ। কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন এবং কর্মজীবনের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত ও প্রস্তুতিমূলক কর্মকৌশল হাতেকলমে শিখিয়ে দেন তিনি।

কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন মোবাইল অপারেটর রবির এইচআর টেক ও ট্যালেন্ট ম্যানেজমেন্টের মহাব্যবস্থাপক ‍মুনিম আহমেদ।

মুনিম আহমেদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্য থাকে সব শিক্ষার্থীর। সে লক্ষ্য পূরণে প্রতিযোগিতার এই যুগে কেবল ক্লাসরুমের পাঠ্যসূচী যথেষ্ট নয়। তাই ক্যারিয়ার গঠনে শিক্ষার পাশাপাশি নানা প্রশিক্ষণ, দক্ষতা ও সামর্থ্য অর্জন জরুরি, যা এই সময়ে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো উৎসাহিত করে।’  

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এইচ এম জহিরুল হকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ারর্সের ডিরেক্টর মঞ্জুরুল হক, স্কুল অব বিজনেসের প্রধান অধ্যাপক এস এম আরিফুজ্জামানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং অন্যান্যরা।


বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে জার্নালিজমেই ভর্তি হলেন সেই বেলায়েত

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে জার্নালিজমেই ভর্তি হলেন সেই বেলায়েত
বেলায়েত হোসেন ভর্তি হয়েছেন জার্নালিজম বিভাগে। ছবি-সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

উচ্চ শিক্ষার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন সেই বেলায়েত শেখ।

চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আলোচনায় আসা ৫৫ বছর বয়সী বেলায়েত ভর্তি হয়েছেন বেসরকারি সেস্ট ইউনিভার্সিটিতে।

ভর্তি হয়েছেন জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে। একই বিভাগে তিনি রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে মায়ের আপত্তি ও দুরত্বের জন্য শেষ পর্যন্ত রাজধানীতেই উচ্চ শিক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।

স্টেট ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম সহকারী অধ্যাপক নাসরিন আক্তার জানান, বেলায়েত গত ২৭ সেপ্টেম্বর ওই বিভাগে ভর্তি হন।

নাসরিন আক্তার বলেন, ‘বেলায়েতের জ্ঞান অর্জনের যে সাধনা, যে আগ্রহ তা আমাদের অভিভূত করেছে। তার এই অগ্রযাত্রায় অংশ হতে পারায় আমাদের খুব ভালো লাগছে।’

বেলায়েত বলেন, ‘রাজশাহীতে ভর্তি হওয়ার বিষয়ে আমার মায়ের আপত্তি ছিল। এছাড়া গাজীপুর থেকে রাজশাহীর দূরত্বও অনেক বেশি। এখন বাড়ি থেকেই ঢাকায় ক্লাস করতে পারব।’

গাজীপুরের শ্রীপুরের কেওয়া পশ্চিমখণ্ড গ্রামের হাছেন আলীর ছেলে তিনি। জন্ম ১৯৬৮ সালে।

তিন সন্তানের বাবা বেলায়েত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার জন্য মধ্য বয়সে এসেও আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এই অদম্য চেষ্টার কারণে তিনি দেশজুড়ে বেশ আলোচিত হন।

১৯৮৩ সালে প্রথমবার এসএসসি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিলেও টাকার অভাবে সেবার নিবন্ধন করতে পারেননি বেলায়েত। ১৯৮৮ সালে তিনি আবারও এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু সে বছর সারাদেশে বন্যার কারণে পরীক্ষা দিতে পারেননি।

এর কয়েক মাস পর তিনি একজন আলোকচিত্রী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি 'দৈনিক করতোয়া' পত্রিকার গাজীপুর জেলার শ্রীপুর প্রতিনিধি।

কর্মজীবন শুরু করার পর বেলায়েত আর পড়ালেখা না করার সিদ্ধান্ত নেন এবং তার ছোট ভাইদের মাধ্যমে তার স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। বর্তমানে তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক।

অদম্য বেলায়েত অবশেষে ২০১৯ সালে এসএসসি এবং ২০২১ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। যে বছর তিনি এইচএসসি পরীক্ষা দেন, একই বছর তার ছোট ছেলেও এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

আশপাশের মানুষের উপহাস আর বিদ্রুপ উপেক্ষা করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া বেলায়েতের স্বপ্ন ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়ার। সে অনুসারে চলতি বছরের ১১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু সে সুযোগ হয়নি।

পরে একে একে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি পরীক্ষা দেন তিনি।


তোয়াব খানের মৃত্যুতে জবি কর্তৃপক্ষের শোক

তোয়াব খানের মৃত্যুতে জবি কর্তৃপক্ষের শোক
তোয়াব খান।
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত

দৈনিক বাংলার সম্পাদক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত বর্ষীয়ান সাংবাদিক তোয়াব খানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কর্তৃপক্ষ। আজ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ তোয়াব খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন তারা।

এর আগে গত শনিবার ৮৭ বছর বয়সে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তোয়াব খান। আজ সোমবার সকাল দশটার দিকে দৈনিক বাংলা ও নিউজবাংলার কার্যালয়ে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাকে নেয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁর মরদেহ জাতীয় পতাকায় মুড়ে দেওয়া হয়।

এরপর বেলা ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবে তোয়াব খানের মরদেহ রাখা হয় এবং সেখানে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ আছর গুলশানের আজাদ মসজিদে জানাজা শেষে সর্বজনশ্রদ্ধেয় এই সাংবাদিককে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।



সেবা নেই, ইচ্ছামতো ফি আদায়

সেবা নেই, ইচ্ছামতো ফি আদায়
প্রতীকী ছবি।
হাসান মেহেদী
প্রকাশিত
  • খুলনা টিটিসি

হাসান মেহেদী

এমএড কোর্সের ভর্তিতে প্রায় সব খাতে দেশের অন্য টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলোর (টিটিসি) তুলনায় দ্বিগুণ ফি নিচ্ছে খুলনা টিসিসি। এসব ফি আদায় নিয়ে শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ করায় তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুলনা টিটিসি পরিবহনসেবা, ইনকোর্স পরীক্ষা, উন্নয়ন তহবিল, পরিচয়পত্র ও ছাত্রকল্যাণসহ ১৫ খাতে অতিরিক্ত ফি নিচ্ছে। এর মধ্যে পরিবহন, পরিচয়পত্র ও ছাত্রকল্যাণ সংসদের সেবা না দিয়েই ফি নেয়া হচ্ছে।

খুলনা সরকারি টিটিসি প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৭০ সালে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কলেজটিতে শিক্ষকদের জন্য এক বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণ দেয়া হতো। পরবর্তী কালে ২০১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৪ বছর মেয়াদি সম্মান (বিএড) কোর্স চালু হয়। বিএড কোর্সে বছরে ৫০ জন ও এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স কোর্সে ১০০ জন ভর্তি করা হয়। আট সেমিস্টারে অনার্স ও দুই সেমিস্টারে মাস্টার্স কোর্স (এমএড) সম্পন্ন করা হয়। এর বাইরে এক বছর মেয়াদি প্রফেশনাল কোর্সও চালু রয়েছে।

সর্বশেষ ভর্তি রশিদের তথ্য অনুযায়ী, কলেজে প্রতিবছর একজন শিক্ষার্থীকে এমএড কোর্সে ভর্তির জন্য প্রাথমিক আবেদন বাবদ ৩০০ টাকা, কলেজে ভর্তি ফরম ফি ১০০ টাকা, ম্যানুয়াল শিক্ষার্থীদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যাতায়াত বাবদ ৪৫০ টাকা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রেশন ফি ৯৩৫ টাকা, অধিভুক্তি নবায়ন ফি ১ হাজার টাকা, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার ফি (টেবুলেশন ফি ৩০ টাকাসহ) ১ হাজার টাকা, মৌখিক পরীক্ষা ফি ২০০ টাকা, বার্ষিক পরিকল্পনা ও রুটিন ফি ৫০ টাকা, গ্রন্থাগার (পরিচয়পত্র লাইব্রেরি কার্ড) ফি ১০০ টাকা, মসজিদ ও মন্দির তহবিলে ৬৫ টাকা, দরিদ্র তহবিল ১০০ টাকা, অত্যাবশ্যকীয় কর্মচারী বাবদ ৭০০ টাকা, পরিবহন খাতে ৩০০ টাকা, উন্নয়ন তহবিল বাবদ ৪০০ টাকা ফি দিতে হচ্ছে। চার বছর ধরে ছাত্রকল্যাণ সংসদ বন্ধ থাকলেও ৮০০ টাকা করে ফি নেয়া হচ্ছে। এমএড কোর্সে ভর্তির জন্য একজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৩টি খাতে সাড়ে ৬ হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে, যা দেশের অন্য কলেজগুলোর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা টিটিসির অধ্যক্ষ শেখ মো. রেজাউল করিম দৈনিক বাংলাকে বলেন, কলেজে ফি বেশি নেয়া হচ্ছে না। নিয়ম মেনেই তারা টাকা নিচ্ছে বলে দাবি করেন অধ্যক্ষ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কলেজে টাকা বেশি নেই না। এটা ভুল ধারণা। মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী ফি নির্ধারণ করা হয়। এটার বাইরে কলেজের এখতিয়ারে উন্নয়ন ফি কিছুটা বাড়াতে পারে। সেটাই করা হয়েছে। নির্ধারিত ফির বাইরে হয়তো অল্প কিছু বাড়ানো হয়েছে।’ কিছু ছাত্রকে কারণ দর্শানোর বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বলেন, ‘পরীক্ষা না দিয়ে ফরম পূরণ করতে চায়। সে কারণে এরকম উল্টাপাল্টা বলছে।’

পরিবহন ফি সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বলেন, ‘এসব বিষয়ে ফোনে কথা বলা যাবে না। আপনি অফিসে আসেন। এখন তো অনেক কাগজই বানানো যায়। এসব অভিযোগ সত্য না।’

কোন কলেজে কত ফি

ঢাকা টিটিসিতে এমএড কোর্সে ২৮ খাতে বছরে ৪ হাজার ৪২১ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এসব খাতের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্ধারিত নিবন্ধন, ক্রীড়া, বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট খাতে ৯৩৫ টাকা, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার ফি ৫০০ টাকা, উন্নয়ন ফি ২০০ টাকা, পরিবহন ৫২০ টাকা, অধিভুক্তি ফি ২০০ টাকা, সেমিনার ফি ৪০০ টাকা, নিরাপত্তা নৈশ ও অত্যাবশ্যকীয় কর্মচারী ৮০০ টাকা নেয়া হচ্ছে।

রাজশাহী টিটিসিতে এমএড কোর্সে ২০ খাতে নেয়া হচ্ছে ৩ হাজার ৩৭৫ টাকা। ২০ খাতের মধ্যে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা ফি ৫০০ টাকা, সেমিনার ফি ৩০০ টাকা, উন্নয়ন ফি ২০০ টাকা, মৌখিক পরীক্ষা ফি ৬০ টাকা, নিরাপত্তা ও নৈশপ্রহরী ফি বাবদ ৫০০ টাকা এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্ধারিত ফি ৯৩৫ টাকা নেয়া হচ্ছে।

ময়মনসিংহ টিটিসি এমএড কোর্সে ২৮ খাতে শিক্ষার্থীদের থেকে নিচ্ছে ৩ হাজার ৭০০ টাকা। এই কলেজে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার ফি হিসেবে ৫০০ টাকা, উন্নয়ন তহবিল খাতে ২০০ টাকা, অত্যাবশ্যকীয় কর্মচারী খাতে ৪২০ টাকা, সেমিনার ফি ৩০০ টাকা নেয়া হচ্ছে।

তুলনামূলক বর্ণনা

তবে খুলনা টিটিসিতে বছরে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা ফি নেয়া হয় এক হাজার টাকা। যা ঢাকা, রাজশাহী ও ময়মনংসিংহের দ্বিগুণ। উন্নয়ন ফি অন্য কলেজগুলোতে ২০০ টাকা নেয়া হলেও খুলনায় নেয়া হচ্ছে ৪০০ টাকা। খুলনায় অধিভুক্তি নবায়ন ফি এক হাজার টাকা নেয়া হলেও ঢাকায় নেয়া হচ্ছে মাত্র ২০০ টাকা। তবে রাজশাহী, ময়মনসিংহে এই খাতে কোনো ফি নেয়া হয় না। অর্থাৎ খুলনা সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের এমএড কোর্সের ভর্তিতে সব খাতেই দেশের অন্য কলেজের তুলনায় দ্বিগুণ ফি নেয়া হচ্ছে। গত ৭ বছরে কোনো পরিবহন সুবিধা না পেলেও খুলনা টিটিসির শিক্ষার্থীদের বছরে ৩০০ টাকা করে পরিবহন ফি দিতে হচ্ছে। প্রতিবছর অনার্স ও মাস্টার্সের সাড়ে ৩০০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সেবা না দিয়েও এই খাতে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত ফি নেয়া হয়েছে। এমনকি অনার্স ও মাস্টার্সে মোট ৫ বছরে একটি পরিচয়পত্র দিলেও প্রতিবছর ১০০ টাকা করে ফি রাখা হচ্ছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় ২০১৮ সালে ছাত্রকল্যাণ সংসদ বন্ধ হয়ে যায়। তবুও গত ৪ বছর ধরে এই তহবিলে ৬টি খাত তৈরি করে ৮০০ করে আদায় করা হচ্ছে। এই খাতে সংসদ পরিচালনা, আন্তকক্ষ ও বহিক্রীড়ার নাম করে টাকা নেয়া হলেও এসব কিছুই অনুষ্ঠিত হয় না। বিগত বছরগুলোতে কালেভদ্রে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হলেও করোনা মহামারির পর থেকে তা বন্ধ রয়েছে। তবে ফি নেয়া বন্ধ হয়নি।

শিক্ষার্থীরা এসব অতিরিক্ত ফি কমানোর দাবি জানালে নানাভাবে কর্তৃপক্ষ হয়রানি করে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে দেবে না বলেও হুমকি দেয়া হয়। সর্বশেষ ২০২১ সালের মাস্টার্স কোর্সে ভর্তির সময় অতিরিক্ত ফি নিয়ে ওই ব্যাচের ‘টিটিসি এমইএড-২০২১’ নামে একটা ফেসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপে প্রতিবাদ জানায় কয়েকজন শিক্ষার্থী। সেখানে শিক্ষকরা দুর্নীতির মাধ্যমে জোর করে ফি আদায় করছে বলে মত দেয় তারা। এই খবর জানতে পেরে গত ১৫ সেপ্টেম্বর মাস্টার্সের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ৫ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন অধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. রেজাউল করিম। ওই নোটিশের জবাব না দিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলেছেন তিনি। ওই ৫ শিক্ষার্থী হলেন- মুরাদ মোল্লা, দেবব্ৰত ঢালী, তরিকুল ইসলাম, মো. আমিনুল ইসলাম ও লাবলী তাসনিম।

ওই নোটিশে বলা হয়, পরীক্ষার ফরম পূরণের ফি নির্ধারণ নিয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিক্ষার্থীরা আপত্তিকর ও অনভিপ্রেত মন্তব্য করায় একাডেমিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ হয়েছে। যা প্রতিষ্ঠানের সম্মান ও ভাবমূর্তির পরিপন্থী। শিক্ষার্থীদের ৩ কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। না হলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে লেখা হয়েছে।

শিক্ষার্থী মুরাদ মোল্লা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা ৫ বছর ধরে এই কলেজে পড়ছি। প্রতিবছর ভর্তির সময় অতিরিক্ত ফি নেয়া হয়। যেটা অন্য সরকারি কলেজে অনেক কম। বাকি ১৪ সরকারি ট্রেনিং কলেজে কম নিলেও খুলনায় বেশি রাখা হচ্ছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মেসেঞ্জার গ্রুপে আপত্তি তুললে আমাদের ৫ জনকে শোকজ করা হয়েছে। পরীক্ষা দিতে দেবে না বলে হুমকি দেয়া হচ্ছে। এটাই আমাদের মাস্টার্সের শেষ পরীক্ষা। আমরা ভয়ে আছি।’

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ উইংয়ের পরিচালক প্রবীর কুমার ভট্টাচার্য্য দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বিভিন্ন সরকারি কলেজের যেসব শিক্ষকরা টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলোতে কোর্স করতে চায়। আমরা তাদের বিষয়ে দেখভাল করি। এর বাইরে পরীক্ষার বিষয়গুলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দেখে।’

তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বদরুজ্জামান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলোতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুধু পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করে দেয়। অন্যান্য ফি সংশ্লিষ্ট কলেজ নির্ধারণ করে। তবে নির্ধারিত পরীক্ষার ফি বেশি রাখা হলে সেটা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দেখভাল করে। এর বাইরে আমাদের এখতিয়ার নেই। বাকিটা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তর দেখে।’


স্থগিত হতে পারে জড়িতদের এমপিওভুক্তি

স্থগিত হতে পারে জড়িতদের এমপিওভুক্তি
প্রশ্ন ফাঁস। প্রতীকী ছবি
হাসান মেহেদী
প্রকাশিত
  • প্রশ্নপত্র ফাঁসে সাত নাম

হাসান মেহেদী

কুড়িগ্রামে এসএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িত শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তি স্থগিত করা হতে পারে। এ ঘটনার তদন্তে গঠিত কমিটি ভূরুঙ্গামারী উপজেলার নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের কেন্দ্রসচিব ও স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ সাত শিক্ষক-কর্মচারীর জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে।

তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের গঠিত কমিটির তদন্ত কার্যক্রম শেষ হয়েছে। আগামী সপ্তাহে প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা রয়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পরপর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড। বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক মো. ফারাজ উদ্দিন তালুকদারকে প্রধান করে এই কমিটি করা হয়। কমিটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ওই কেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ইতিমধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

তদন্ত কমিটি প্রশ্ন ফাঁসে জড়িতে হিসেবে যে সাতজনের নাম পেয়েছে তারা হলেন কুড়িগ্রামের নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্রসচিব লুৎফর রহমান, ইংরেজির সহকারী শিক্ষক আমিনুর রহমান রাসেল, ইসলাম শিক্ষার শিক্ষক জোবাইর রহমান, পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক হামিদুর রহমান, বাংলার শিক্ষক সোহেল আল মামুন ও পিয়ন সুজন মিয়া। জড়িতদের মধ্যে ইতিমধ্যে ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। অফিস সহকারী মো. আবু হানিফ এখনো পলাতক।

তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, তদন্তে জড়িত শিক্ষক ও কর্মচারীদের এমপিওভুক্তি বাতিল করার সুপারিশ করেছে কমিটি। রীতি অনুসারে তদন্ত কমিটির এমপিওভুক্তি বাতিলের এখতিয়ার মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের। সেটি তারাই বাস্তবায়ন করবে। তবে নেহাল উদ্দিন পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে পরীক্ষা কেন্দ্র বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। একই সঙ্গে শাস্তি হিসেবে ওই স্কুলের শিক্ষকরা এখন থেকে কোনো পরীক্ষায় দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

জানতে চাইলে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কামরুল ইসলাম গতকাল বৃহস্পতিবার দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বোর্ডের গঠিত কমিটি তদন্তকাজ শেষ করেছে। আগামী সপ্তাহে প্রতিবেদন জমা দেবে। ঘটনায় এখন পর্যন্ত যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তদন্তে তাদের নামই উঠে এসেছে। আসামিদের রিমান্ডে নেয়া হবে বলে জানতে পেরেছি। সাতজনের বাইরে আর কেউ জড়িত থাকলে তা রিমান্ডের পর জানা যাবে।’

শাস্তির বিষয়ে বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, ‘জড়িত শিক্ষক ও কর্মচারীদের এমপিওভুক্তি বাতিল করা হতে পারে। তবে এই শাস্তি গ্রহণের এখতিয়ার আমাদের নেই। এটা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যামিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর ব্যবস্থা নেবে। তবে আমরা নেহাল উদ্দিন স্কুলে কেন্দ্র বাতিল করে ও ওই স্কুলের শিক্ষকরা এখন থেকে কোনো পরীক্ষায় যাতে দায়িত্ব পালন না করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নিয়েছি।’

চলমান এসএসসি পরীক্ষায় দিনাজপুর বোর্ডের অধীনে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার একটি কেন্দ্র থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্রসচিবের কক্ষ থেকে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফাঁসকৃত চার বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করে নতুন তারিখ ঘোষণা করেছে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড।

প্রধান আসামির ৩ দিনের রিমান্ড

দৈনিক বাংলার কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় প্রধান আসামি কেন্দ্রসচিব লুৎফর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তবে অন্য আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গতকাল কুড়িগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ভূরুঙ্গামারী আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমন আলীর আদালতে আসামিদের জামিন ও রিমান্ডের শুনানি হয়। আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তিন দিনের এই রিমান্ড দিয়েছেন।