সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২

চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ৯

চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ৯
চট্টগ্রাম কলেজ। ফাইল ছবি
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত

চট্টগ্রাম কলেজে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে জড়ানো ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা কলেজ শাখার সভাপতি মাহমুদুল করিম ও সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিকের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

আহতদের মধ্যে ছয়জনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন- সাফায়েত হোসেন, হামিম রাফসান, জাহেদুল অভি, ওয়াহিদুল রহমান, জিয়াউদ্দিন আহমেদ ও আলিফ জাবেদ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কয়েক দিন ধরেই দুই গ্রুপের মধ্যে ঝামেলা চলছিল। গত সোমবারও সাধারণ সম্পাদক পক্ষের হামলায় একজন আহত হন। গতকাল তা নিয়েই ঝামেলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিম বলেন, ‘সাধারণ সম্পাদক তার কর্মীদের নিয়ে শিক্ষার্থী ও আমার ছোট ভাইদের ওপর হামলা করেছে। গত সোমবারও তাদের হামলায় একজন আহত হন। তারা মূলত ছাত্রদের কাউন্সিলর টিনুর গ্রুপে যোগ দেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। তাদের কথা অমান্য করায় হামলা করেছে। হামলায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।’

তবে সভাপতির অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ করেন সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক। তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে সভাপতি মাহমুদুলের কর্মীরা তার কর্মীদের ওপর হামলা করেছে। হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন।’

চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের মজুমদার বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীদের মধ্যে মারামারি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে শুনেছেন। কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।


নিয়ন্ত্রণহীন সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক

নিয়ন্ত্রণহীন সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত
হাসান মেহেদী
প্রকাশিত
  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

হাসান মেহেদী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তৈয়ব আলীর বিরুদ্ধে অধিভুক্ত কলেজে পরীক্ষা পরিদর্শনে গিয়ে কয়েক দফায় ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। কলেজগুলো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে।

ঘুষ নেয়ার অভিযোগ ছাড়াও ভুয়া বিল দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, প্রশাসনিক ভবনের নিম্নপদস্থ কর্মচারীকে চাকরি দেয়ার কথা বলে ঘুষ দাবি, অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও ভুয়া পরিচয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সহায়তা নেয়ার অভিযোগও আছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কয়েক দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হলেও তা আমলে নেননি তৈয়ব আলী। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুন পটুয়াখালীর গাজী মুনিবুর রহমান নার্সিং কলেজে পরীক্ষা পরিদর্শনে যান তৈয়ব আলী। পরীক্ষা শেষে কলেজের হিসাব কর্মকর্তার কাছ থেকে জোর করে কয়েক দফায় যাতায়াত ও খরচ হিসাবে ৩০ হাজার টাকা নেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিপন্থী। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা পরিদর্শককে বিশেষ সম্মানীর পাশাপাশি যাতায়াত ও খাওয়ার খরচ দেয়। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই নার্সিং কলেজের পরিচালক।

বরিশালের ডিডব্লিউএফ নার্সিং কলেজের পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়েও  তৈয়ব আলী কয়েক দফায় জোর করে ২০ হাজার টাকা নেন। এই ঘটনায় কলেজের চেয়ারম্যান চিঠি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিকার চেয়েছেন।

এ ছাড়াও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ফারুক হোসেনের কাছে চাকরি দেয়ার কথা বলে দামি মোবাইল ফোন কিনতে নগদ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে ক্ষতি করার হুমকি দেন। ফারুকের অভিযোগের প্রেক্ষিতেও তৈয়ব আলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। এই অভিযোগেরও সদুত্তর দিতে পারেনি তিনি।

ফারুক হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘২০১৬ সাল থেকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অফিসে অস্থায়ীভিত্তিতে কাজ করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ভালো দক্ষতা দেখানোর পাশাপাশি চাকরির পরীক্ষায় ভালো করায় বিশ্ববিদ্যালয় তাকে চাকরি দেয়। কিন্তু সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক চাকরির জন্য তদবির করেছেন দাবি করে আমার কাছে দামি মোবাইল ফোন বাবদ চাঁদা দাবি করছেন।’

তৈয়ব আলীর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, ২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিরত অবস্থায় পরিচয় গোপন রেখে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা পরিচয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে দুই লাখ টাকা চিকিৎসাভাতা নেন। বাবা-মায়ের অসুস্থতার মানবিক কারণ দেখিয়ে ভাতা পেতে ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখার যুগ্মসাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিজের পরিচয় দেন।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি ছাত্রলীগের বদিউজ্জামান সোহাগ ও সিদ্দিকী নাজমুল আলমের কমিটির ধর্মবিষয়ক উপসম্পাদক থাকলেও সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের কোনো পদে ছিলেন না।

অভিযোগের বিষয়ে তৈয়ব আলী দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এসব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। সম্প্রতি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বাহালুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত হচ্ছে বলে জানতে পেরেছি। দুদকে তথ্য যাওয়ার বিষয়ে তিনি আমাকে সন্দেহ করেন। এর প্রতিশোধ নিতে তিনি আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলছেন। আমি যেটাই করেছি তা উপাচার্যকে জানিয়েই করেছি।’

বারবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হলেও তৈয়ব আলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের ১২৮ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর স্বাক্ষরে উপাচার্যের কাছে আবেদন করা হয়।

আবেদনে তার দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অফিস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, গোপনীয় এবং স্পর্শকাতর বিধায় তাকে দিয়ে এই দপ্তরের স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে নেয়া সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বাহালুল হক চৌধুরী দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘ওই কর্মকর্তা বিভিন্ন অধিভুক্ত কলেজ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন বলে কিছু লিখিত অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। তাকে বিভিন্ন সময়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি যথোপযুক্ত জবাব দিতে পারেননি। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও গোপনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। সেখানে এরকম একজন অসৎ মানুষ থাকা ঠিক নয়। তাই বিষয়টি আমরা উপাচার্যকে জানিয়েছি।’

এই বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘একজন সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের বিষয়ে অভিযোগ এসেছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট ফোরামে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী করণীয় ঠিক করব। তবে অভিযোগের বিষয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটা বড় অংশ একত্রিত হয়েছে। সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে।’

 


বাংলাদেশ এমবিএ অ্যাসোসিয়েশনের দশম সাধারণ সভায় নতুন নির্বাহী কমিটি গঠন ও বিজনেস কেস বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

বাংলাদেশ এমবিএ অ্যাসোসিয়েশনের দশম সাধারণ সভায় নতুন নির্বাহী কমিটি গঠন ও বিজনেস কেস বইয়ের মোড়ক উন্মোচন
সভাপতি নাজমুল হাসান এমপি ও সাধারণ সম্পাদক সাইফ আই মাহমুদসহ বাংলাদেশ এমবিএ অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত নির্বাহী কমিটির সদস্যরা। ছবি : সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ) মিলনায়তনে গতকাল বাংলাদেশ এমবিএ অ্যাসোসিয়শেনর (বিএমবিএএ) ১০ম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নির্বাহী কমিটি গঠিত হয়। এ ছাড়া বিএমবিএএ-র প্রকাশনায় বাংলাদেশে প্রথম বারের মতো প্রকাশিত দেশি প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডদের নিয়ে একটি বিজনেস কেস বুকের আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করা হয়।  

বর্তমান নির্বাহী কমিটির পরিচালনায় এই সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। চলমান কমিটির সভাপতি জনাব নাজমুল হাসান এমবিএ এমপি, সাধারণ সম্পাদক জনাব শেখ আবুল হাশেম এমবিএ। আজকের নির্বাচনে নতুন নির্বাহী কমিটিতে জনাব নাজমুল হাসান সভাপতি হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন জনাব সাইফ আই মাহমুদ এমবিএ। এ ছাড়া দেশের প্রথিতযশা পেশাজীবি, ব্যবসায়িক ও করপোরেট নেতৃবৃন্দ এই নির্বাহী কমিটিসহ বিএমবিএএর সঙ্গে যুক্ত আছেন। 

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ-এর পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিএইচপি গ্রুপের চেয়ারম্যান সুফি মিজানুর রহমান এবং আকিজ ভেঞ্চার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দ আলমগীর। আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম,  জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মিজানুর রহমান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, দেশি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান শীর্ষ কর্তাসহ এমবিএ পেশাজীবিরা।

বাংলাদেশ এমবিএ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশে এমবিএ ডিগ্রীধারীদের সবচেয়ে পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর শুরুর দিককার এমবিএ ডিগ্রীধারী এবং করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ, হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল, ওয়ার্টন বিজনেস স্কুল ও স্ট্যানফোর্ড বিজনেস স্কুলের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশি এমবিএদের নিয়ে ১৯৮৬ সালে এই সংগঠন যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন দেশের শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমবিএ-রা।   

বিএমবিএএ এর প্রতিষ্ঠাকালীন উদ্দেশ্যের সঙ্গে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থেকে দেশের এমবিএ ডিগ্রিধারী পেশাজীবিদের পেশাগত উন্নয়নে কাজ করছে। একই সঙ্গে এই সংগঠন দেশের ব্যবসায় খাত ও এ সংক্রান্ত সরকারি কার্যক্রমে পরামর্শ ও সহায়তা প্রদাণ করে জাতীয় নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে যাচ্ছে। বিজ্ঞপ্তি


২৭ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য নেই কোনো মনোরোগবিদ

২৭ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য নেই কোনো মনোরোগবিদ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের দোতলায় আছে কাউন্সেলিং কক্ষ। তবে সেখানে এখন তালা ঝুলছে। ছবি: দৈনিক বাংলা
চবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত
  • চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

নুর নওশাদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সমাজবিজ্ঞান অনুষদভুক্ত একটি বিভাগের শিক্ষার্থী সোহরাব (ছদ্মনাম)। করোনা মহামারির সময় থেকেই তিনি নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্বজন হারানোর বেদনা ও পারিবারিক সমস্যা। সামগ্রিকভাবে এসবের প্রভাব পড়েছে তার পড়াশোনাতে। হতাশা ও মানসিক অস্থিরতায় টিকতে না পেরে গিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে। কিন্তু সেখানে কোনো মনোরোগবিদ না থাকায় সেবা না পেয়েই ফিরে আসতে হয়েছে।

সোহরাব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সমস্যার সমাধান না পেয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর পেশাদার একজন সাইকোলজিস্টের (মনোরোগ বিশেষজ্ঞ) শরণাপন্ন হন। ওই বিশেষজ্ঞ তাকে নিয়মিত কয়েকটি কাউন্সেলিং সেশন নেয়ার পরামর্শ দেন। তবে ফি বেশি হওয়ায় নিয়মিত কাউন্সেলিং চালিয়ে যেতে পারেননি।

শুধু সোহরাবই নন, চবির বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী এমন সমস্যার কথা জানিয়েছেন। কিন্তু প্রায় সাড়ে ২৭ হাজার শিক্ষার্থীর এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কাউন্সেলিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। কাউন্সেলিং সেবা একবার চালু করা হলেও তা এখন বন্ধ। অনুষদগুলোতেও নেই কোনো ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা কেন্দ্র থাকলেও সেখানে এ বিষয়ে পেশাদার কেউ নেই। ফলে নানা মানসিক টানাপোড়েন ও উদ্বেগ সঙ্গী করেই দিন পার করতে হচ্ছে অনেক শিক্ষার্থীকে।

বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগিতায় মেডিকেল সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় কাউন্সেলিং সেবা চালু করা হয়। সেখানে মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকরা কাউন্সেলিং সেবা দিতেন। ওই সময় এখান থেকে সেবা নিয়ে হতাশাগ্রস্ত অনেকেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছিলেন। তবে করোনাকালে বন্ধ হওয়ার পর এই সেবা আর চালু হয়নি।

মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং সেবা দেয়ার জন্য প্রয়োজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট। কিন্তু বিভাগে যারা আছেন তাদের এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেই। এখানকার শিক্ষকদের কেউই কাউন্সেলিং দেয়ার ক্ষেত্রে পেশাদার না, তারা মূলত একাডেমিশিয়ান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের যেকোনো সমস্যা বা অসুবিধা শুনে তাদের পরামর্শ দেয়া হয়। এ দায়িত্বে আছেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ মামুন। তিনি বলেন, ‘কোনো ছাত্রছাত্রী মানসিক অসুবিধায় পড়লে আমরা তাকে পরামর্শ দিতে পারব।’

গণমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, গত এক যুগে চবির প্রায় ১৬ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। দিন দিন শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ক্যাম্পাসের একটি কটেজে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন মেরিন সায়েন্স বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্র। গত বছরের মার্চেও এক শিক্ষার্থী চিরকুট লিখে নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেন।

হতাশাগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছেন আরও কয়েক শিক্ষার্থী।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলে এক ছাত্রী ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে এক ছাত্র কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে হাত কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। পরে তাদের উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেয়া হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে সহপাঠী বা রুমমেটের আত্মহত্যার চিত্র দেখে মানসিক পীড়নের মধ্যে পড়েছেন অনেকেই।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দাবি, মানসিক সমস্যা উত্তরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার ও অনুষদগুলোতে সাইকিয়াট্রিস্ট রাখতে হবে। এ নিয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো জানেও না, কোথায় গেলে তারা কাউন্সেলিং সেবা পাবে। এখানে শিক্ষার্থীদের মানসিক অসুস্থতার জন্য কোনো সেবা নেই।’

ক্রিমিনোলোজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র তৌফিক আহমেদ বলেন, ‘শারীরিক সুস্থতার জন্য মানসিক সুস্থতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন । এত বৃহৎ একটি মানবসম্পদের উৎস যদি মানসিকভাবে সুস্থ না থাকে, তাহলে তারা দেশের উন্নয়নের জন্য সর্বোচ্চ অবদান রাখতে ব্যর্থ হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত প্রধান কর্মকর্তা আবু তৈয়ব দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘মেডিকেল সেন্টারে মনোরোগ চিকিৎসক কিংবা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের কোনো পদ নেই। আগে আমাদের সঙ্গে মনোবিজ্ঞান বিভাগের চুক্তির মতো ছিল, তারা এসে কাউন্সেলিং করত।’

বর্তমানে এ সেবা বন্ধের কারণ সম্পর্কে আবু তৈয়ব বলেন, আমাদের মনোবিজ্ঞান বিভাগে কোনো ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট নেই।

তাহলে আগে কীভাবে সেবা দিয়েছিল- এর উত্তরে আবু তৈয়ব বলেন, আগে হয়তো আলাদা ট্রেনিং নিয়ে অথবা পড়াশোনা করে এসে শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং দেয়া হতো।

মনোবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি বিপ্লব কুমার দে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জন্য কাউন্সেলিং সেবা অত্যন্ত জরুরি। প্রত্যেক হল পর্যায়ে পেশাদার কাউন্সিলর বা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট নিয়োগ দেয়া উচিত। হল পর্যায়ে দেয়া না গেলে কেন্দ্রীয়ভাবেও নিয়োগ দেয়া যেতে পারে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আমরা অনেকবার বলেছি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক এস এস এম মনিরুল হাসান বলেন, ‘এটা (সাইকোলজিস্ট নিয়োগ) অবশ্যই প্রয়োজন। আমরা আগের ব্যবস্থা (কাউন্সেলিং) নিয়ে মনোবিজ্ঞান বিভাগের সঙ্গে কথা বলব। নতুন করে পদ সৃষ্টি করে সাইকিয়াট্রিস্ট নিয়োগ করতে হবে। আমাদের সিস্টেমে এখন এটা (পদ) নাই, এ জন্য ইউজিসিতে চাইতে হবে।’


ছাত্রীদের তোপের মুখে জবির হল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত

ছাত্রীদের তোপের মুখে জবির হল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল। ফাইল ছবি
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একমাত্র ছাত্রী হল ‘বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল’ পূজার ছুটিতে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। এ নিয়ে হলের আবাসিক ছাত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে পুনরায় হল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শামীমা বেগম দৈনিক বাংলাকে পূজার ছুটিতে হল খোলা রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ব্যাপারে একটি বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়েছে বলে জানান তিনি।

গত বৃহস্পতিবার রাতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পূজার ছুটিতে হল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা টিউশনসহ বিভিন্ন কারণে বাড়ি যেতে ইচ্ছুক না হওয়ায় হলে থাকার আবেদন জানান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন হলে থাকা আবাসিক শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের মাঝে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পূজার ছুটিতে আবাসিক ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীরা কোথায় অবস্থান করবেন সেটা নিয়েও নানা প্রশ্ন ওঠে।

এ ছাড়া হল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়ায় ভাড়া না থাকা শিক্ষার্থীরা বাড়িতে কীভাবে যাবেন এটা নিয়েও ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকরাও বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানান।

কলা অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক চঞ্চল বোস ফেসবুকে মন্তব্যের মাধ্যমে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ছুটিতে বন্ধ থাকে বলে কখনো শুনিনি। ঢাবিতে ছয় বছরের বেশি মুহসীন হলে ছিলাম, এক মুহূর্তের জন্যও কোনো হল বন্ধ থাকার কথা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। বরং ছুটিতে হলে থেকেই আমরা বেশি পড়াশোনা করেছি, লাইব্রেরি ওয়ার্ক করেছি। অনেক ছেলেমেয়ে টিউশনি, চাকরি, পত্রিকা অফিসে কাজ করত। এ রকম অদ্ভুত কথা তো শুনিনি। এদিকে দেখছি ‘মুজিব’ আবার ‘মুবিজ’ হয়ে গেছে। এসব কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয় কনসেপ্টের সঙ্গে একেবারেই বেমানান।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ছাত্রী বলেন, ‘আমরা ঢাকাতে টিউশন করানোর জন্য এবার বাসায় যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। হঠাৎ হল বন্ধের নোটিশ দেখে বেশ বিড়ম্বনার মাঝে পড়ে গিয়েছিলাম। দেশের অন্য কোনো হল এভাবে ছুটিতে বন্ধ রাখে বলে জানা নেই। এ ছাড়া বন্ধের পরে আমাদের পরীক্ষাও ছিল। তবে হল কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণে খুশি হয়েছি।’

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, ‘পূজার ছুটি যদি বৈষম্য সৃষ্টি করে তাহলে আমরা ঈদেও হল বন্ধ হোক সেটা চাই না। তা ছাড়া যাতায়াতের ভাড়া বাড়ানোর কারণে এবারের ছুটিতে বাসায় যাওয়ারও ইচ্ছা ছিল না। প্রশাসনের কাছে আবেদন থাকবে পরবর্তী সময়ে যেন এভাবে হল বন্ধ না করা হয়।’

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ছুটিতে হল খোলা রাখার দাবি জানিয়েছেন আবাসিক ছাত্রীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ছুটির সঙ্গে আবাসিক হলের ছুটির কোনো সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে হলের ছাত্রীরা স্মারকলিপিও দেন।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি সুমাইয়া সোমা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো কখনো কোনো ছুটিতে বন্ধ থাকে না। অতি অত্যাধুনিক ছাত্রী হলের একমাত্র অনিয়ম, দুর্নীতিবাজ, হল ব্যবসায়ী প্রশাসন এই ধরনের নতুন নতুন নিয়ম তৈরি করে এবং শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে ফেলেন। একদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং হল প্রশাসন মিলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নিয়মের নামে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে ফেলছে।

এ ব্যাপারে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শামীমা বেগম জানান, পূজার ছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর পর কিছু বিভাগে ছাত্রীদের পরীক্ষা রয়েছে। তাদের কথা বিবেচনা করে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে হল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এর আগে বিগত দুটি ঈদেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হল বন্ধ থাকে।


জাবিতে দ্বিতীয় মেধা তালিকা থেকে ভর্তির পরও ১৮৭ আসন শূন্য

জাবিতে দ্বিতীয় মেধা তালিকা থেকে ভর্তির পরও ১৮৭ আসন শূন্য
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
জাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) ভর্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয় মেধা তালিকা থেকে ভর্তির পরেও বিভিন্ন অনুষদ ও ইনস্টিটিউট মিলে মোট ১৮৭টি আসন শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে ছেলেদের ৯৮ এবং মেয়েদের ৮৯টি আসন। শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাসংক্রান্ত ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দ্বিতীয় মেধা তালিকা থেকে ভর্তির পর ‘এ’ ইউনিটভুক্ত গাণিতিক ও পদার্থবিষয়ক অনুষদ এবং ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজিতে ছেলেদের জন্য ৫২টি এবং মেয়েদের জন্য ৩৫টি; ‘বি’ ইউনিটভুক্ত সমাজবিজ্ঞান ও আইন অনুষদে ছেলেদের ১৫টি এবং মেয়েদের ১৩টি; ‘সি’ ইউনিটভুক্ত কলা ও মানবিকী অনুষদ এবং বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ইনস্টিটিউটে ছেলেদের জন্য ১৯ এবং মেয়েদের জন্য ১৯টি আসন ফাঁকা রয়েছে।

এ ছাড়া ‘ডি’ ইউনিটভুক্ত জীববিজ্ঞান অনুষদে ছেলেদের ১২ এবং মেয়েদের ১৮টি; ‘ই’ ইউনিটভুক্ত বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ এবং ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, আইবিএ-জেইউতে ছেলেদের জন্য কোনো আসন ফাঁকা নেই। তবে বাণিজ্য শাখার বাইরের মেয়েদের জন্য চারটি শূন্য আসন রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ভর্তি পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) আবু হাসান বলেন, শূন্য আসনে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর সশরীরে উপস্থিত হয়ে আবেদন করবেন। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট অনুষদ থেকে একটি মেধাক্রম প্রকাশ করা হবে। সেই মেধাতালিকা অনুযায়ী ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর তাদের ভর্তি নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, এ বছর ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় ‘এ’ ইউনিটে ৪৬৬টি, ‘বি’ ইউনিটে ৩৮৬, ‘সি’ ইউনিটে ৪৬৭, ‘ডি’ ইউনিটে ৩২০ এবং ‘ই’ ইউনিটে ২৫০ আসন মিলে মোট ১ হাজার ৮৮৮ আসন রয়েছে। এ ছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ১৪৮টি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের জন্য ৩০, প্রতিবন্ধীদের জন্য ১৫ এবং সংরক্ষিত পোষ্য কোটা রয়েছে।