সোমবার, অক্টোবর ৩, ২০২২

বিসিএস ছাড়া সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সে ছাড়

বিসিএস ছাড়া সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সে ছাড়
ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • করোনাভাইরাস পরিস্থিতি

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে না পারা মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও এর অধীন অধিদপ্তর/পরিদপ্তর/দপ্তর এবং সংবিধিবদ্ধ/স্বায়ত্তশাসিত/জাতীয়কৃত প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরির সরকারি চাকরিতে বয়সের ক্ষেত্রে ৩৯ মাস ছাড় পাচ্ছেন চাকরি প্রার্থীরা।

মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে আজ বৃহস্পতিবার এ নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

চিঠিতে বলা হয়, ‘যেসব মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও এর অধীন অধিদপ্তর/পরিদপ্তর/দপ্তর এবং সংবিধিবদ্ধ/স্বায়ত্তশাসিত/জাতীয়কৃত প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ক্যাটাগরির সরকারি চাকরিতে (বিসিএস ছাড়া) সরাসরি নিয়োগের লক্ষ্যে কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারেনি, সেসব দপ্তর/প্রতিষ্ঠানের ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রকাশিতব্য বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত পদে আবেদনের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের বয়স ২০২০ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত সর্বোচ্চ বয়সসীমার মধ্যে থাকলে এসব প্রার্থী আবেদন করার সুযোগ পাবেন।’

এর আগে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ২১ মাস ছাড় দেয়া হয়েছিল। এ নিয়ে ২০২১ সালের ২ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।


বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে জার্নালিজমেই ভর্তি হলেন সেই বেলায়েত

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে জার্নালিজমেই ভর্তি হলেন সেই বেলায়েত
বেলায়েত হোসেন ভর্তি হয়েছেন জার্নালিজম বিভাগে। ছবি-সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

উচ্চ শিক্ষার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন সেই বেলায়েত শেখ।

চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আলোচনায় আসা ৫৫ বছর বয়সী বেলায়েত ভর্তি হয়েছেন বেসরকারি সেস্ট ইউনিভার্সিটিতে।

ভর্তি হয়েছেন জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে। একই বিভাগে তিনি রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে মায়ের আপত্তি ও দুরত্বের জন্য শেষ পর্যন্ত রাজধানীতেই উচ্চ শিক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।

স্টেট ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম সহকারী অধ্যাপক নাসরিন আক্তার জানান, বেলায়েত গত ২৭ সেপ্টেম্বর ওই বিভাগে ভর্তি হন।

নাসরিন আক্তার বলেন, ‘বেলায়েতের জ্ঞান অর্জনের যে সাধনা, যে আগ্রহ তা আমাদের অভিভূত করেছে। তার এই অগ্রযাত্রায় অংশ হতে পারায় আমাদের খুব ভালো লাগছে।’

বেলায়েত বলেন, ‘রাজশাহীতে ভর্তি হওয়ার বিষয়ে আমার মায়ের আপত্তি ছিল। এছাড়া গাজীপুর থেকে রাজশাহীর দূরত্বও অনেক বেশি। এখন বাড়ি থেকেই ঢাকায় ক্লাস করতে পারব।’

গাজীপুরের শ্রীপুরের কেওয়া পশ্চিমখণ্ড গ্রামের হাছেন আলীর ছেলে তিনি। জন্ম ১৯৬৮ সালে।

তিন সন্তানের বাবা বেলায়েত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার জন্য মধ্য বয়সে এসেও আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এই অদম্য চেষ্টার কারণে তিনি দেশজুড়ে বেশ আলোচিত হন।

১৯৮৩ সালে প্রথমবার এসএসসি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিলেও টাকার অভাবে সেবার নিবন্ধন করতে পারেননি বেলায়েত। ১৯৮৮ সালে তিনি আবারও এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু সে বছর সারাদেশে বন্যার কারণে পরীক্ষা দিতে পারেননি।

এর কয়েক মাস পর তিনি একজন আলোকচিত্রী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি 'দৈনিক করতোয়া' পত্রিকার গাজীপুর জেলার শ্রীপুর প্রতিনিধি।

কর্মজীবন শুরু করার পর বেলায়েত আর পড়ালেখা না করার সিদ্ধান্ত নেন এবং তার ছোট ভাইদের মাধ্যমে তার স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। বর্তমানে তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক।

অদম্য বেলায়েত অবশেষে ২০১৯ সালে এসএসসি এবং ২০২১ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। যে বছর তিনি এইচএসসি পরীক্ষা দেন, একই বছর তার ছোট ছেলেও এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

আশপাশের মানুষের উপহাস আর বিদ্রুপ উপেক্ষা করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া বেলায়েতের স্বপ্ন ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়ার। সে অনুসারে চলতি বছরের ১১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু সে সুযোগ হয়নি।

পরে একে একে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি পরীক্ষা দেন তিনি।


তোয়াব খানের মৃত্যুতে জবি কর্তৃপক্ষের শোক

তোয়াব খানের মৃত্যুতে জবি কর্তৃপক্ষের শোক
তোয়াব খান।
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত

দৈনিক বাংলার সম্পাদক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত বর্ষীয়ান সাংবাদিক তোয়াব খানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কর্তৃপক্ষ। আজ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ তোয়াব খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন তারা।

এর আগে গত শনিবার ৮৭ বছর বয়সে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তোয়াব খান। আজ সোমবার সকাল দশটার দিকে দৈনিক বাংলা ও নিউজবাংলার কার্যালয়ে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাকে নেয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁর মরদেহ জাতীয় পতাকায় মুড়ে দেওয়া হয়।

এরপর বেলা ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবে তোয়াব খানের মরদেহ রাখা হয় এবং সেখানে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ আছর গুলশানের আজাদ মসজিদে জানাজা শেষে সর্বজনশ্রদ্ধেয় এই সাংবাদিককে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।



সেবা নেই, ইচ্ছামতো ফি আদায়

সেবা নেই, ইচ্ছামতো ফি আদায়
প্রতীকী ছবি।
হাসান মেহেদী
প্রকাশিত
  • খুলনা টিটিসি

হাসান মেহেদী

এমএড কোর্সের ভর্তিতে প্রায় সব খাতে দেশের অন্য টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলোর (টিটিসি) তুলনায় দ্বিগুণ ফি নিচ্ছে খুলনা টিসিসি। এসব ফি আদায় নিয়ে শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ করায় তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুলনা টিটিসি পরিবহনসেবা, ইনকোর্স পরীক্ষা, উন্নয়ন তহবিল, পরিচয়পত্র ও ছাত্রকল্যাণসহ ১৫ খাতে অতিরিক্ত ফি নিচ্ছে। এর মধ্যে পরিবহন, পরিচয়পত্র ও ছাত্রকল্যাণ সংসদের সেবা না দিয়েই ফি নেয়া হচ্ছে।

খুলনা সরকারি টিটিসি প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৭০ সালে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কলেজটিতে শিক্ষকদের জন্য এক বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণ দেয়া হতো। পরবর্তী কালে ২০১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৪ বছর মেয়াদি সম্মান (বিএড) কোর্স চালু হয়। বিএড কোর্সে বছরে ৫০ জন ও এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স কোর্সে ১০০ জন ভর্তি করা হয়। আট সেমিস্টারে অনার্স ও দুই সেমিস্টারে মাস্টার্স কোর্স (এমএড) সম্পন্ন করা হয়। এর বাইরে এক বছর মেয়াদি প্রফেশনাল কোর্সও চালু রয়েছে।

সর্বশেষ ভর্তি রশিদের তথ্য অনুযায়ী, কলেজে প্রতিবছর একজন শিক্ষার্থীকে এমএড কোর্সে ভর্তির জন্য প্রাথমিক আবেদন বাবদ ৩০০ টাকা, কলেজে ভর্তি ফরম ফি ১০০ টাকা, ম্যানুয়াল শিক্ষার্থীদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যাতায়াত বাবদ ৪৫০ টাকা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রেশন ফি ৯৩৫ টাকা, অধিভুক্তি নবায়ন ফি ১ হাজার টাকা, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার ফি (টেবুলেশন ফি ৩০ টাকাসহ) ১ হাজার টাকা, মৌখিক পরীক্ষা ফি ২০০ টাকা, বার্ষিক পরিকল্পনা ও রুটিন ফি ৫০ টাকা, গ্রন্থাগার (পরিচয়পত্র লাইব্রেরি কার্ড) ফি ১০০ টাকা, মসজিদ ও মন্দির তহবিলে ৬৫ টাকা, দরিদ্র তহবিল ১০০ টাকা, অত্যাবশ্যকীয় কর্মচারী বাবদ ৭০০ টাকা, পরিবহন খাতে ৩০০ টাকা, উন্নয়ন তহবিল বাবদ ৪০০ টাকা ফি দিতে হচ্ছে। চার বছর ধরে ছাত্রকল্যাণ সংসদ বন্ধ থাকলেও ৮০০ টাকা করে ফি নেয়া হচ্ছে। এমএড কোর্সে ভর্তির জন্য একজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৩টি খাতে সাড়ে ৬ হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে, যা দেশের অন্য কলেজগুলোর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা টিটিসির অধ্যক্ষ শেখ মো. রেজাউল করিম দৈনিক বাংলাকে বলেন, কলেজে ফি বেশি নেয়া হচ্ছে না। নিয়ম মেনেই তারা টাকা নিচ্ছে বলে দাবি করেন অধ্যক্ষ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কলেজে টাকা বেশি নেই না। এটা ভুল ধারণা। মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী ফি নির্ধারণ করা হয়। এটার বাইরে কলেজের এখতিয়ারে উন্নয়ন ফি কিছুটা বাড়াতে পারে। সেটাই করা হয়েছে। নির্ধারিত ফির বাইরে হয়তো অল্প কিছু বাড়ানো হয়েছে।’ কিছু ছাত্রকে কারণ দর্শানোর বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বলেন, ‘পরীক্ষা না দিয়ে ফরম পূরণ করতে চায়। সে কারণে এরকম উল্টাপাল্টা বলছে।’

পরিবহন ফি সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বলেন, ‘এসব বিষয়ে ফোনে কথা বলা যাবে না। আপনি অফিসে আসেন। এখন তো অনেক কাগজই বানানো যায়। এসব অভিযোগ সত্য না।’

কোন কলেজে কত ফি

ঢাকা টিটিসিতে এমএড কোর্সে ২৮ খাতে বছরে ৪ হাজার ৪২১ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এসব খাতের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্ধারিত নিবন্ধন, ক্রীড়া, বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট খাতে ৯৩৫ টাকা, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার ফি ৫০০ টাকা, উন্নয়ন ফি ২০০ টাকা, পরিবহন ৫২০ টাকা, অধিভুক্তি ফি ২০০ টাকা, সেমিনার ফি ৪০০ টাকা, নিরাপত্তা নৈশ ও অত্যাবশ্যকীয় কর্মচারী ৮০০ টাকা নেয়া হচ্ছে।

রাজশাহী টিটিসিতে এমএড কোর্সে ২০ খাতে নেয়া হচ্ছে ৩ হাজার ৩৭৫ টাকা। ২০ খাতের মধ্যে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা ফি ৫০০ টাকা, সেমিনার ফি ৩০০ টাকা, উন্নয়ন ফি ২০০ টাকা, মৌখিক পরীক্ষা ফি ৬০ টাকা, নিরাপত্তা ও নৈশপ্রহরী ফি বাবদ ৫০০ টাকা এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্ধারিত ফি ৯৩৫ টাকা নেয়া হচ্ছে।

ময়মনসিংহ টিটিসি এমএড কোর্সে ২৮ খাতে শিক্ষার্থীদের থেকে নিচ্ছে ৩ হাজার ৭০০ টাকা। এই কলেজে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার ফি হিসেবে ৫০০ টাকা, উন্নয়ন তহবিল খাতে ২০০ টাকা, অত্যাবশ্যকীয় কর্মচারী খাতে ৪২০ টাকা, সেমিনার ফি ৩০০ টাকা নেয়া হচ্ছে।

তুলনামূলক বর্ণনা

তবে খুলনা টিটিসিতে বছরে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা ফি নেয়া হয় এক হাজার টাকা। যা ঢাকা, রাজশাহী ও ময়মনংসিংহের দ্বিগুণ। উন্নয়ন ফি অন্য কলেজগুলোতে ২০০ টাকা নেয়া হলেও খুলনায় নেয়া হচ্ছে ৪০০ টাকা। খুলনায় অধিভুক্তি নবায়ন ফি এক হাজার টাকা নেয়া হলেও ঢাকায় নেয়া হচ্ছে মাত্র ২০০ টাকা। তবে রাজশাহী, ময়মনসিংহে এই খাতে কোনো ফি নেয়া হয় না। অর্থাৎ খুলনা সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের এমএড কোর্সের ভর্তিতে সব খাতেই দেশের অন্য কলেজের তুলনায় দ্বিগুণ ফি নেয়া হচ্ছে। গত ৭ বছরে কোনো পরিবহন সুবিধা না পেলেও খুলনা টিটিসির শিক্ষার্থীদের বছরে ৩০০ টাকা করে পরিবহন ফি দিতে হচ্ছে। প্রতিবছর অনার্স ও মাস্টার্সের সাড়ে ৩০০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সেবা না দিয়েও এই খাতে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত ফি নেয়া হয়েছে। এমনকি অনার্স ও মাস্টার্সে মোট ৫ বছরে একটি পরিচয়পত্র দিলেও প্রতিবছর ১০০ টাকা করে ফি রাখা হচ্ছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় ২০১৮ সালে ছাত্রকল্যাণ সংসদ বন্ধ হয়ে যায়। তবুও গত ৪ বছর ধরে এই তহবিলে ৬টি খাত তৈরি করে ৮০০ করে আদায় করা হচ্ছে। এই খাতে সংসদ পরিচালনা, আন্তকক্ষ ও বহিক্রীড়ার নাম করে টাকা নেয়া হলেও এসব কিছুই অনুষ্ঠিত হয় না। বিগত বছরগুলোতে কালেভদ্রে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হলেও করোনা মহামারির পর থেকে তা বন্ধ রয়েছে। তবে ফি নেয়া বন্ধ হয়নি।

শিক্ষার্থীরা এসব অতিরিক্ত ফি কমানোর দাবি জানালে নানাভাবে কর্তৃপক্ষ হয়রানি করে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে দেবে না বলেও হুমকি দেয়া হয়। সর্বশেষ ২০২১ সালের মাস্টার্স কোর্সে ভর্তির সময় অতিরিক্ত ফি নিয়ে ওই ব্যাচের ‘টিটিসি এমইএড-২০২১’ নামে একটা ফেসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপে প্রতিবাদ জানায় কয়েকজন শিক্ষার্থী। সেখানে শিক্ষকরা দুর্নীতির মাধ্যমে জোর করে ফি আদায় করছে বলে মত দেয় তারা। এই খবর জানতে পেরে গত ১৫ সেপ্টেম্বর মাস্টার্সের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ৫ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন অধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. রেজাউল করিম। ওই নোটিশের জবাব না দিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলেছেন তিনি। ওই ৫ শিক্ষার্থী হলেন- মুরাদ মোল্লা, দেবব্ৰত ঢালী, তরিকুল ইসলাম, মো. আমিনুল ইসলাম ও লাবলী তাসনিম।

ওই নোটিশে বলা হয়, পরীক্ষার ফরম পূরণের ফি নির্ধারণ নিয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিক্ষার্থীরা আপত্তিকর ও অনভিপ্রেত মন্তব্য করায় একাডেমিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ হয়েছে। যা প্রতিষ্ঠানের সম্মান ও ভাবমূর্তির পরিপন্থী। শিক্ষার্থীদের ৩ কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। না হলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে লেখা হয়েছে।

শিক্ষার্থী মুরাদ মোল্লা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা ৫ বছর ধরে এই কলেজে পড়ছি। প্রতিবছর ভর্তির সময় অতিরিক্ত ফি নেয়া হয়। যেটা অন্য সরকারি কলেজে অনেক কম। বাকি ১৪ সরকারি ট্রেনিং কলেজে কম নিলেও খুলনায় বেশি রাখা হচ্ছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মেসেঞ্জার গ্রুপে আপত্তি তুললে আমাদের ৫ জনকে শোকজ করা হয়েছে। পরীক্ষা দিতে দেবে না বলে হুমকি দেয়া হচ্ছে। এটাই আমাদের মাস্টার্সের শেষ পরীক্ষা। আমরা ভয়ে আছি।’

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ উইংয়ের পরিচালক প্রবীর কুমার ভট্টাচার্য্য দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বিভিন্ন সরকারি কলেজের যেসব শিক্ষকরা টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলোতে কোর্স করতে চায়। আমরা তাদের বিষয়ে দেখভাল করি। এর বাইরে পরীক্ষার বিষয়গুলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দেখে।’

তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বদরুজ্জামান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলোতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুধু পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করে দেয়। অন্যান্য ফি সংশ্লিষ্ট কলেজ নির্ধারণ করে। তবে নির্ধারিত পরীক্ষার ফি বেশি রাখা হলে সেটা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দেখভাল করে। এর বাইরে আমাদের এখতিয়ার নেই। বাকিটা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তর দেখে।’


স্থগিত হতে পারে জড়িতদের এমপিওভুক্তি

স্থগিত হতে পারে জড়িতদের এমপিওভুক্তি
প্রশ্ন ফাঁস। প্রতীকী ছবি
হাসান মেহেদী
প্রকাশিত
  • প্রশ্নপত্র ফাঁসে সাত নাম

হাসান মেহেদী

কুড়িগ্রামে এসএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িত শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তি স্থগিত করা হতে পারে। এ ঘটনার তদন্তে গঠিত কমিটি ভূরুঙ্গামারী উপজেলার নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের কেন্দ্রসচিব ও স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ সাত শিক্ষক-কর্মচারীর জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে।

তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের গঠিত কমিটির তদন্ত কার্যক্রম শেষ হয়েছে। আগামী সপ্তাহে প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা রয়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পরপর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড। বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক মো. ফারাজ উদ্দিন তালুকদারকে প্রধান করে এই কমিটি করা হয়। কমিটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ওই কেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ইতিমধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

তদন্ত কমিটি প্রশ্ন ফাঁসে জড়িতে হিসেবে যে সাতজনের নাম পেয়েছে তারা হলেন কুড়িগ্রামের নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্রসচিব লুৎফর রহমান, ইংরেজির সহকারী শিক্ষক আমিনুর রহমান রাসেল, ইসলাম শিক্ষার শিক্ষক জোবাইর রহমান, পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক হামিদুর রহমান, বাংলার শিক্ষক সোহেল আল মামুন ও পিয়ন সুজন মিয়া। জড়িতদের মধ্যে ইতিমধ্যে ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। অফিস সহকারী মো. আবু হানিফ এখনো পলাতক।

তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, তদন্তে জড়িত শিক্ষক ও কর্মচারীদের এমপিওভুক্তি বাতিল করার সুপারিশ করেছে কমিটি। রীতি অনুসারে তদন্ত কমিটির এমপিওভুক্তি বাতিলের এখতিয়ার মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের। সেটি তারাই বাস্তবায়ন করবে। তবে নেহাল উদ্দিন পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে পরীক্ষা কেন্দ্র বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। একই সঙ্গে শাস্তি হিসেবে ওই স্কুলের শিক্ষকরা এখন থেকে কোনো পরীক্ষায় দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

জানতে চাইলে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কামরুল ইসলাম গতকাল বৃহস্পতিবার দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বোর্ডের গঠিত কমিটি তদন্তকাজ শেষ করেছে। আগামী সপ্তাহে প্রতিবেদন জমা দেবে। ঘটনায় এখন পর্যন্ত যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তদন্তে তাদের নামই উঠে এসেছে। আসামিদের রিমান্ডে নেয়া হবে বলে জানতে পেরেছি। সাতজনের বাইরে আর কেউ জড়িত থাকলে তা রিমান্ডের পর জানা যাবে।’

শাস্তির বিষয়ে বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, ‘জড়িত শিক্ষক ও কর্মচারীদের এমপিওভুক্তি বাতিল করা হতে পারে। তবে এই শাস্তি গ্রহণের এখতিয়ার আমাদের নেই। এটা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যামিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর ব্যবস্থা নেবে। তবে আমরা নেহাল উদ্দিন স্কুলে কেন্দ্র বাতিল করে ও ওই স্কুলের শিক্ষকরা এখন থেকে কোনো পরীক্ষায় যাতে দায়িত্ব পালন না করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নিয়েছি।’

চলমান এসএসসি পরীক্ষায় দিনাজপুর বোর্ডের অধীনে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার একটি কেন্দ্র থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্রসচিবের কক্ষ থেকে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফাঁসকৃত চার বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করে নতুন তারিখ ঘোষণা করেছে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড।

প্রধান আসামির ৩ দিনের রিমান্ড

দৈনিক বাংলার কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় প্রধান আসামি কেন্দ্রসচিব লুৎফর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তবে অন্য আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গতকাল কুড়িগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ভূরুঙ্গামারী আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমন আলীর আদালতে আসামিদের জামিন ও রিমান্ডের শুনানি হয়। আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তিন দিনের এই রিমান্ড দিয়েছেন।

 


ধরাছোঁয়ার বাইরে বুয়েট শিক্ষক নিখিল

ধরাছোঁয়ার বাইরে বুয়েট শিক্ষক নিখিল
অধ্যাপক নিখিল রঞ্জন ধর। ছবি: সংগৃহীত
নুরুজ্জামান লাবু
প্রকাশিত
  • নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস

নুরুজ্জামান লাবু

চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের এক মামলার তদন্তে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েটের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক নিখিল রঞ্জন ধরের নাম এলেও তিনি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট-বিআইএফইউয়ের অনুসন্ধানে নিখিল রঞ্জন ধর ও তার স্ত্রী-সন্তানদের ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৫০ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পেয়েছে। যদিও প্রশ্ন ফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে করা মামলা থেকে তাকে বাদ দেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুরু থেকেই নিখিল রঞ্জন ধর নানা কৌশলে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার চেষ্টা করে আসছিলেন। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তও বন্ধ করে দিয়েছেন। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি থেকে মাসখানেক আগে অবসরে যাওয়া এক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা তাকে এই কাজে সহযোগিতা করেছেন বলে একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গত বছরের নভেম্বরে ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ ব্যাংকের সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস চক্রের বেশ কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবি। দেলোয়ার হোসেন নামে ওই চক্রের এক সদস্য আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে ছাপা হওয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি যুক্ত থাকতেন। সহকর্মীদের প্ররোচনা ও অর্থের লোভে তিনি একাধিকবার নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছেন।

গত বছরের ১৮ নভেম্বর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদা আক্তারের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে দেলোয়ার বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অল্প টাকায় পরীক্ষার টেন্ডারগুলো আনতেন বুয়েটের শিক্ষক নিখিল রঞ্জন ধর। তিনিই সব নিয়ন্ত্রণ করতেন। ছাপা হওয়ার পর তিনি তার ব্যাগে প্রশ্ন ঢুকিয়ে নিতেন। আমি নিজেও অনেকবার তার ব্যাগে প্রশ্ন ঢুকিয়েছি।’

গ্রেপ্তারের পর দেলোয়ার পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদেও জানান, নিখিল রঞ্জন প্রশ্নপত্র নেয়া প্রসঙ্গে কাউকে কিছু বলতে বারণ করতেন। কাউকে জানালে চাকরি খেয়ে ফেলার হুমকিও দিতেন। তবে তিনি প্রশ্নপত্র নিয়ে কী করতেন, এ বিষয়ে দেলোয়ার কোনো তথ্য জানাননি।

২০১৪ সাল থেকে বিভিন্ন ব্যাংকসহ চাকরি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরির কাজটি করে আসছিল আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। দেলোয়ার ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। আর শুরু থেকেই আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে চাকরি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি, ছাপাসহ কারিগরি বিষয়গুলো দেখভাল করতেন বুয়েটের অধ্যাপক নিখিল রঞ্জন ধর।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রশ্ন ফাঁস চক্রের বেশ কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে সিআইডির পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। কিন্তু ব্যাংকে প্রায় ৫০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন এবং আসামির স্বীকারোক্তিতে নিখিল রঞ্জন ধরের নাম এলেও তাকে আসামি করা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, নিখিল রঞ্জন ধরের বিষয়টি অনুসন্ধান শুরু করলেও সিআইডির সদ্য অবসরে যাওয়া শীর্ষ একজন কর্মকর্তা মৌখিক নির্দেশে অনুসন্ধান বন্ধ রাখতে বলেন। পরে নিখিল রঞ্জন ধরকে ছাড়াই মানি লন্ডারিং আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

সিআইডির ইকোনমিক ক্রাইম স্কোয়াডের বিশেষ পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষার ঘটনায় একটা মামলার তদন্ত চলমান। তদন্তে যদি ওই বুয়েট শিক্ষকের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায় তবে চার্জশিটে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।’

ব্যাংকে ৫০ কোটি টাকা লেনদেন

সিআইডির বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বরে প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অর্থ-সম্পদের বিষয়ে খোঁজ নিতে অনুসন্ধান শুরু করে সিআইডি। এরই ধারাবাহিকতায় সিআইডির অনুরোধে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট- বিএফআইইউ অন্যদের পাশাপাশি বুয়েট শিক্ষক নিখিল রঞ্জন ধরের ব্যাংক হিসাব বিশ্লেষণ করে। বিএফআইইউ তাদের অনুসন্ধানে নিখিল রঞ্জন ধর, তার স্ত্রী অনুরূপা ধর, দুই সন্তান দেবী ধর ও ভাস্কর ধরসহ স্বার্থসংশ্লিষ্টদের নামে ১২টি ব্যাংকে ৬৬টি হিসাবের সন্ধান পায়। এর মধ্যে ৩৪টি হিসাব বিভিন্ন সময়ে বন্ধ করা হয়েছে। এসব হিসাবে ২০০১ থেকে ২০২১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ৪৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

বিএফআইইউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিখিল রঞ্জন ধরের সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাবে অন্যান্য বছরের তুলনায় ২০১৪ থেকে ২০২১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত নগদ জমা ও উত্তোলনের পরিমাণ অনেক বেশি। এই সময়ের মধ্যে সোনালী ব্যাংকের ওই হিসাবে ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা জমা হয়েছে। এ সময় তিনি চাকরির পরীক্ষা নেয়ার কাজে যুক্ত ছিলেন।

বিএফআইইউর প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, নিখিল রঞ্জন ধরের সোনালী ব্যাংকের আরেকটি হিসাবে ২০১৫ সাল থেকে ১ কোটি ২৮ লাখ টাকার লেনদেন পাওয়া গেছে। এ ছাড়া পেশায় গৃহিণী হলেও তার স্ত্রী অনুরূপা ধরের ব্যাংক হিসাবেও বিপুল লেনদেন পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নিখিল রঞ্জন ধরের নিজের ও স্ত্রী-সন্তানদের নামে স্থায়ী আমানত ও বিভিন্ন স্কিম আমানত রয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংকে এই পরিবারের নামে প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যমানের সচল সঞ্চয়পত্র রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিখিল রঞ্জন ধরের ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করে কিছু লেনদেন তার বুয়েট থেকে পাওয়া মাসিক বেতন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন শিক্ষকতার বিনিময়ে পাওয়া সম্মানী হিসেবে ধারণা করা যায়। কিন্তু এর বাইরে অন্যান্য হিসাবগুলোতে বিপুল নগদ লেনদেন তার পেশা ও আয়ের উৎসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয় না।

এ ছাড়া অনুরূপা ধরের ব্যাংক হিসাবে প্রথমে পেশা হিসেবে গৃহিণী ও পরবর্তীতে হাউস টিউটর উল্লেখ করা হয়েছে। হাউস টিউটর হিসেবে পেশা উল্লেখ করে নিখিল রঞ্জন ধর ও অনুরূপা ধর তাদের আয়ের অন্য উৎস আড়াল করার চেষ্টা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছে বিএফআইইউ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ব্যাংক হিসাব ছাড়াও নিখিল রঞ্জন ধরের গাজীপুরের সাউথ চত্বর, বিএমটিএফ রোডে শেলটেক নিসর্গ এলাকায় প্লট আছে। তিনি শেলটেক নিসর্গ প্লট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। এ ছাড়া গাজীপুরে তার আরও স্থাবর সম্পত্তি আছে বলে ধারণা করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অধ্যাপক নিখিল রঞ্জন ধর দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমি শিক্ষক মানুষ। এত টাকা-পয়সা কোথায় পাব। বিভিন্ন সময়ে ক্লাস পরীক্ষা নিয়ে কোনো রকমে চলেছি। কিছু সঞ্চয়পত্র কেনা আছে। এটুকুই। আপনারা সাংবাদিক মানুষ, আপনারা তো সবই জানেন। আমাকে একটু কো-অপারেট করেন। আমি কোনো কিছুর সঙ্গে জড়িত নই।’