সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউব থেকে ভুয়া সংবাদ এবং ভুয়া ভিডিও সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন করে এমন উসকানিমূলক ভিডিও সরাতে কর্তৃপক্ষের নিস্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।
আজ মঙ্গলবার বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সিনিয়র সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা বিভাগের সচিব, ফেসবুক ও ইউটিউব বাংলাদেশের পাবলিক পলিসি বিষয়ক প্রধান, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান, ডিজিটাল সিকিউরিটিজ এজেন্সির মহাপরিচালক, পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মুন্সী মনিরুজ্জামান, অ্যাডভোকেট ইউসুফ খান, ব্যারিস্টার আরাফাত হোসেন খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সেলিম আজাদ।
এর আগে ২৫ আগস্ট উসকানিমূলক ও জনজীবনে অস্থিরতা তৈরি করে এমন ভুয়া সংবাদ ও ভিডিও সরিয়ে ফেলার নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়। ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত এ আদেশ দিল।
উসকানিমূলক ও জনজীবনে অস্থিরতা তৈরি করে এমন ভুয়া সংবাদ ও ভিডিও সরিয়ে ফেলার নির্দেশনা চেয়ে গত ২৫ আগস্ট রিট করা হয়। এর আগে ২১ আগস্ট আইনি নোটিশও দেয়া হয়েছিল।
ব্যারিস্টার আরাফাত হোসেন বলেন, আমাদের আবেদনের শুনানি নিয়ে কয়েকটি নির্দেশনা দিয়ে আদালত রুল জারি করেছেন। আদেশের মধ্যে আমরা যে ছয়টি লিংক দিয়েছিলাম সেগুলো সরিয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন আদালত।
এছাড়া ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাজেন্সির প্রতিবেদন নির্দেশনা দিয়েছেন তারা যেন ফেসবুক ও ইউটিউবকে নির্দেশনা দেয় যে বাংলাদেশে কোনো ধরনের উসকানিমূলক বা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এমন কনটেন্ট আপ করতে না পারে তার ব্যবস্থা করতে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান বলেছেন, বর্তমান সরকার গ্যাসের আটটি নতুন কূপ খননের কাজ শুরু করেছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সরকার কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্যাস ও বিদ্যুতের পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে।
গত ১৭ বছরে দেশে নতুন গ্যাসকূপ ও বিদ্যুৎ গ্রিড যুক্ত না হওয়ায় বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার কেরানীগঞ্জে বিসিক শিল্প মালিক সমিতির উদ্যোগে শিল্পশ্রমিকদের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমান উল্লাহ আমান এসব কথা বলেন।
আমান উল্লাহ আমান বলেন, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার কাজ করছে। শিক্ষাক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশকে লন্ডনের আদলে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
শিল্পশ্রমিকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শিল্পকারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। শ্রমিকদের কল্যাণে এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, শিল্পকারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রয়োজন। বর্তমান সরকার এ সংকট নিরসনে কাজ করছে। নতুন গ্যাসকূপ খনন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নয়ন করা হবে।
অনুষ্ঠানে কেরানীগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরী মালিক সমিতির সভাপতি হোসেন সিকদারের সভাপতিত্বে স্থানীয় বিএনপি ও মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে শিল্পশ্রমিকদের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে শিল্পনগরীর শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উদ্যোক্তাদের নানা সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে সরকার। তিনি বলেন, আগামী গ্রীষ্মের আগেই ন্যূনতম তিন হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে দেশ। ফলে আগামী গ্রীষ্মে দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি অনেকটা কমে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) যশোর পিটিআই অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মানসম্মত ও নৈতিক শিক্ষার উন্নয়ন, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণে প্রধান শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তা ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব তো তেলের ওপর ভাসছে। সেখানে কেন তেলের দাম বাড়লো? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কেন তেল-গ্যাসের দাম বাড়লো? বিশ্ববাজারে দাম বাড়ছে। সেখানে আমাদের মতো একটি দেশে সরকার কতদিন সমন্বয় না করে থাকবে?
তিনি আরও বলেন, তারপরও সরকার জনগণের কথা ভেবে সমন্বয় করছে। এ জন্য নিজেদের মধ্যে পরিমিতিবোধ তৈরি করার পাশাপাশি বাচ্চাদেরও পরিমিত ব্যবহার শেখাতে হবে।
শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায় থেকেই নৈতিক শিক্ষার ভিত গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা ও মানসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ রোধে অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করতে হবে। অর্থের অভাবে কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ হবে না। সরকারের পক্ষ থেকে তার দায়িত্ব নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দলের কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো প্রভাব বিস্তার কিংবা অরাজকতা সৃষ্টি করলে ছাড় দেওয়া হবে না। কেউ যদি করতে চায়, তার বিরুদ্ধে প্রথমে সাংগঠনিক, পরে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি খান মাসুম বিল্লাহ, জেলা শিক্ষা অফিসার মাহফুজ হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার হক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আলমগীর কবির, যশোর বিএফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন মেজবাহ উদ্দিনসহ শিক্ষকরা।
বাংলাদেশের প্রত্যেক জেলার খাদ্য গুদাম পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন করব। যেখানেই অনিয়ম সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন, খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় গুদাম ঘরে অনিয়ম পাওয়া গেছে, সঙ্গে সঙ্গে তা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় ধানকোড়া গিরিশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে গণসংবর্ধণা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করাই আমার মন্ত্রাণালয়ের প্রথম কাজ জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্য নিরাপদ না হলে আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে।
তিনি বলেন, খাদ্য মজুত যাতে যথেষ্ট থাকে এবং যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলায় আমরা যেন সামাল দিতে পারি সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখছি।
সার সংকটের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে কোনো সার সংকট নেই। কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রীসহ আমারা মিটিং করেছি। সেখানে বলা হয়েছে দেশে পর্যাপ্ত সার মজুদ আছে। হয়ত কোথায় বিতরণ ঠিকমত হচ্ছে না। এ কারণে চলতি রোপা আমন মৌসুমে ধান উৎপাদন ব্যাহত হবে না।
আর আপনারা জানেন, মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া-রাজবাড়ির দৌলতদিয়া এবং পাবনার কাজিরহাট নৌরুটে ওয়াই প্যাটার্নে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ইতোমধ্যে সমীক্ষাসহ প্রাথমিক কাজ চলছে।
ধানকোড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম জুয়েলের সভাপতিত্বে সাটুরিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মুহাম্মদ আমির হামজা ও যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বকুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল কুদ্দুছ খান মজলিশ মখান, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সরকার, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আওয়াল খান, সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন আযাদ বিপ্লব, সাটুরিয়া কৃষক দলের সভাপতি বরকত মল্লিকসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।
যশোরের কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই বছর ধরে এক্স-রে যন্ত্র অচল। হাসপাতালের একটি অ্যাম্বুলেন্স সচল থাকলেও চার বছর ধরে নেই চালক। এর সঙ্গে রয়েছে চিকিৎসক, কর্মচারী ও ওষুধের সংকট। ফলে সরকারি এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে রোগীদের একদিকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে হচ্ছে বাইরে, অন্যদিকে জরুরি রোগী পরিবহনে ভরসা করতে হচ্ছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর।
৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুধু কেশবপুরের মানুষই নয়, পার্শ্ববর্তী যশোরের মনিরামপুর, খুলনার ডুমুরিয়া এবং সাতক্ষীরার তালা ও কলারোয়া উপজেলার রোগীরাও চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে হাসপাতালটির ওপর রয়েছে আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষেরও নির্ভরতা।
জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ৪৩টি। বর্তমানে কর্মরত আছেন ২৪ জন। শূন্য রয়েছে ১৯টি পদ। এর মধ্যে অর্থোপেডিক, হৃদ্রোগ, চক্ষু, চর্ম ও সার্জারি বিভাগের পাঁচজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ এবং ১৪ জন সাধারণ চিকিৎসকের পদ শূন্য।
চিকিৎসকের পাশাপাশি অন্যান্য জনবলেও রয়েছে ঘাটতি। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর ১১৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৭৭ জন। চতুর্থ শ্রেণির ২৩টি পদের মধ্যে কর্মরত ১৪ জন। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পাঁচটি পদের বিপরীতে আছেন মাত্র একজন।
হাসপাতাল সূত্র বলছে, প্রতিদিন গড়ে বহির্বিভাগে প্রায় ৪৫০ জন রোগী চিকিৎসা নেন। অন্তর্বিভাগে রোগী ভর্তি থাকেন প্রায় ১০০ জন। শয্যার তুলনায় রোগী বেশি হওয়ায় অনেক সময় মেঝেতেও রোগীদের থাকতে হয়।
হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ রোগনির্ণয় ব্যবস্থা এক্স-রে যন্ত্রটি দুই বছর ধরে অচল পড়ে আছে। ফলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এক্স-রে করাতে রোগীদের বাইরে যেতে হচ্ছে।
গত ২৪ আগস্ট হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ৭০ বছর বয়সি ভানু বিবিকে বুকের এক্স-রে, রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করতে বলা হয়। রক্ত ও প্রস্রাবের পরীক্ষা হাসপাতালে করা গেলেও এক্স-রে করতে তাকে বাইরে যেতে হয়। এজন্য খরচ হয় ৪৫০ টাকা।
ভানু বিবির স্বজন আব্দুল খালেক বলেন, হাসপাতালে এক্স-রে করা গেলে খরচ হতো ২২০ টাকা। যন্ত্র অচল থাকায় বাইরে বেশি টাকা দিয়ে পরীক্ষা করাতে হয়েছে।।
গত ২১ আগস্ট কেশবপুর শহরের বাসিন্দা খালিদুর রহমানের ভাগনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে জরুরি ভিত্তিতে খুলনায় নেওয়ার প্রয়োজন হয়। হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে হয়। এতে খরচ হয় ২ হাজার ২০০ টাকা।
খালিদুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, কেশবপুর থেকে খুলনায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের নির্ধারিত ভাড়া ১ হাজার ২০ টাকা। কিন্তু সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের সেবা না পাওয়ায় তাদের প্রায় দ্বিগুণ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের কয়েকজন ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। কেশবপুর উপজেলার সাবদিয়া গ্রামের রোজিনা খাতুন গত ২৪ আগস্ট তার ৪১ দিনের শিশুকে ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আনেন। চিকিৎসক শিশুটিকে দেখে ব্যবস্থাপত্র দিলেও ওষুধ দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি। এর ১৫ দিন আগেও একই হাসপাতালে এসে ওষুধ পাননি বলে তার অভিযোগ।
গত ৩০ আগস্ট হাসপাতালটিতে সরেজমিনে রোগীদের ভিড় দেখা যায়। চিকিৎসকদের কক্ষের সামনে ছিল দীর্ঘ সারি। ওই দিন অন্তর্বিভাগে ভর্তি ছিলেন ৮২ জন রোগী। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন ৬৪৩ জন।
অর্থাৎ ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে নির্ধারিত শয্যার তুলনায় বেশি রোগীর চাপ নিয়মিতই রয়েছে। এর মধ্যেই চিকিৎসক, রোগনির্ণয় যন্ত্র, অ্যাম্বুলেন্স ও জনবলের ঘাটতি সামাল দিতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেহেনেওয়াজ বলেন, চালক না থাকায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা ঠিকভাবে দেওয়া যাচ্ছে না। তার সরকারি গাড়ির চালক দিয়ে মাঝেমধ্যে রোগীদের অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। দুই বছর ধরে এক্স-রে যন্ত্রটি নষ্ট থাকার বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। অর্থবছর শেষ হওয়ায় অনেক ওষুধ শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে ওষুধ কেনা হলে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
যশোরের সিভিল সার্জন মো. মাসুদ রানা বলেন, অনেক জায়গাতেই সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালকের সংকট রয়েছে। চালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সমস্যার সমাধান করা কঠিন। ওষুধের দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া শেষ হলে সংকট কমবে। নতুন এক্স-রে মেশিন কেনার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এলাকাবাসীরা বলেন, কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা বৃদ্ধি, অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসক পদের অনুমোদন থাকলেও প্রয়োজনীয় সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে। এক্স-রে যন্ত্র দীর্ঘদিন অচল, অ্যাম্বুলেন্স চালানোর জন্য চালক নেই, চিকিৎসকের ১৯টি পদ শূন্য এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পাঁচটি পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র একজন। ফলে হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল বিপুলসংখ্যক মানুষকে চিকিৎসা নিতে এসে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সেবা পেতে বাড়তি ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।
ইজিবাইকের দাপটে যাত্রী কমে যাওয়ায় প্রায় আট মাস ধরে জয়পুরহাট-আক্কেলপুর রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। সময় বেশি লাগা, পথে যত্রতত্র থামা ও তুলনামূলক বেশি ভাড়ার কারণে যাত্রীরা বাসের পরিবর্তে ইজিবাইক ও ট্রেনমুখী হয়েছেন। এতে যাত্রীসংকটে লোকসান হওয়ায় বাসমালিকেরা এ রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন।
তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শুধু ইজিবাইকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়াই বাসের যাত্রী কমার একমাত্র কারণ নয়। বাসের সময়সূচি, পথে যত্রতত্র থামানো এবং যাত্রীসেবার মানও এর সঙ্গে জড়িত। নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে বাস চালানো, নির্ধারিত স্থানে যাত্রী ওঠানো-নামানো এবং সেবার মান উন্নত করা গেলে এ রুটে আবার যাত্রী ফিরতে পারে।
জয়পুরহাট বাস টার্মিনাল থেকে আক্কেলপুর উপজেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার।
স্থানীয় বাসমালিক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৮০-এর দশকের পর এ রুটে বাস চলাচল শুরু হয়। তখন বাসভাড়া ছিল ৩ টাকা। কয়েক ধাপে ভাড়া বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৪০ টাকায়। একসময় প্রতিদিন গড়ে ৩০টি বাস এ রুটে চলাচল করত। সকাল থেকে রাত আটটা পর্যন্ত বাস চলত। ১৫ মিনিট পরপর জয়পুরহাট বাস টার্মিনাল ও আক্কেলপুর থেকে বাস ছেড়ে যেত।
গত কয়েক বছরে এ রুটে ইজিবাইকের সংখ্যা বেড়েছে। যাত্রীরা সুবিধামতো বিভিন্ন স্থান থেকে উঠতে ও নামতে পারেন এবং তুলনামূলক দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন। এ কারণে অনেক যাত্রী বাসের পরিবর্তে ইজিবাইক বেছে নিচ্ছেন। পাশাপাশি জয়পুরহাট-আক্কেলপুর রুটে ট্রেন চলাচল করায় কম খরচে যাতায়াতের সুযোগও রয়েছে। ফলে বাসের যাত্রীসংখ্যা আরও কমেছে।
নিয়মিত যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাসে জয়পুরহাট থেকে আক্কেলপুর যেতে সময় বেশি লাগে। বাসস্ট্যান্ড থেকে ছাড়ার পর পথে বিভিন্ন জায়গায় যাত্রী ওঠানো-নামানোর জন্য বাস থামানো হয়। এতে ২০ কিলোমিটারের পথ যেতে বেশি সময় লাগে। অন্যদিকে ইজিবাইকে যাত্রীরা নিজেদের সুবিধামতো বিভিন্ন স্থান থেকে উঠতে ও নামতে পারেন। আসনের চেয়ে বেশি যাত্রী না নেওয়ায় ইজিবাইকে ভিড়ও তুলনামূলক কম থাকে বলে যাত্রীরা জানান।
আক্কেলপুরের যাত্রী রিফাত হোসেন বলেন, বাসে সময় বেশি লাগে, তাই ইজিবাইকেই যাই। ইজিবাইকে আসনের চেয়ে বেশি যাত্রী নেওয়া হয় না। তাই ভিড় কম থাকে, স্বাচ্ছন্দ্যে গন্তব্যে যাওয়া যায়।
আরেক যাত্রী জুয়েল রানা বলেন, এটি ছোট যানবাহনের কাছে বড় যানবাহনের পরাজয়ের মতো মনে হচ্ছে। বাস বন্ধ থাকায় ইজিবাইকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে বাস থাকলে যাতায়াতে সুবিধা হতো।
বাসচালক রাজু হোসেন বলেন, আগে যাত্রী ভালো ছিল। এখন অনেক সময় অর্ধেকেরও কম যাত্রী নিয়ে বাস চলত। এতে জ্বালানি ও শ্রমিকের খরচও উঠত না।
বাসমালিক সফিকুল হুদা চৌধুরী বলেন, জয়পুরহাট-আক্কেলপুর রুটে শত শত ইজিবাইক ও সিএনজি চলছে। বাসমালিকেরা অনেক চেষ্টা করেও এ রুটে ইজিবাইক ও সিএনজি চলাচল বন্ধ করতে পারেননি। এসব ছোট যানবাহনের কারণে বাসে যাত্রী হয় না। বাসের আয় দিয়ে জ্বালানি, চালক-সহকারীর বেতনসহ অন্যান্য খরচ মেটানো যাচ্ছিল না। লোকসান হওয়ায় বাধ্য হয়ে বাস বন্ধ করতে হয়েছে। এ রুটের বাসমালিকেরা তাদের বাস বিক্রি করে দিয়েছেন। প্রায় আট মাস ধরে এ রুটে আর বাস চলছে না।
ইজিবাইকচালক আরিফ হোসেন বলেন, ইজিবাইকে যাত্রীরা সুবিধামতো জায়গা থেকে উঠতে ও নামতে পারেন। এ কারণে যাত্রীরা ইজিবাইকমুখী হয়েছেন। এ রুটে এখন বাস চলাচল করে না।
জয়পুরহাট জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান লিটন বলেন, ইজিবাইক ও সিএনজির কারণে জয়পুরহাট-আক্কেলপুর রুটে বাসে যাত্রী হয় না। এ রুটে বাস চালিয়ে মালিকেরা দীর্ঘদিন লোকসান করেছেন। যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনা করে জয়পুরহাট হয়ে আক্কেলপুর দিয়ে সরাসরি বগুড়ায় বাস চলাচল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুত তা চালু করা হবে।
আক্কেলপুর নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আতিউর রাব্বি তিয়াস বলেন, বাস চলাচল বন্ধ থাকায় জয়পুরহাট ও আক্কেলপুরের মধ্যে যাতায়াতে ট্রেন ও ইজিবাইকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এ রুটে নিয়মিত বাসসেবা থাকা দরকার।’
নীলফামারী সদর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করেছে নীলফামারী জেলা পরিষদ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় নীলফামারী সার্কিট হাউসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষাবৃত্তির চেক তুলে দেন ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এ্যাব) আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন।
জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনের সহধর্মিণী মোছা. তামান্না ইয়াসমিন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত ও তাদের শিক্ষাজীবনে সহযোগিতা করতে শিক্ষাসহায়তা কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনে অনুপ্রাণিত করবে। একই সঙ্গে শিক্ষাজীবন শেষে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ শেষে সদর উপজেলা পরিষদের ইউপিডিএফ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ৪০টি ফ্যান, ১৫টি সেলাই মেশিন, ১৫টি সাইকেল ও বিভিন্ন ধরনের ফার্নিচার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল পারভেজ,সদর উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল ইসলামসহ জেলা পরিষদ ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘লাইভলিহুড সাপোর্ট ফর আরবান পুওর কমিউনিটিজ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় উপকারভোগীদের মাঝে গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) কম্পিউটার সেট, সেলাই মেশিন ও ফুড কার্ট বিতরণ করা হয়েছে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগর ভবনের নিচে চত্বরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রকল্পভুক্ত উপকারভোগীদের মাঝে এসব সামগ্রী বিতরণ করেন। দরিদ্র পরিবারের আয়বৃদ্ধি, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) কারিগরি সহায়তায়, গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (জিডব্লিউএফ) এবং চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সির (সিডোকা) আর্থিক সহায়তায় এসব সামগ্রী প্রদান করা হয়।
খুলনা মহানগরীর দরিদ্র পরিবারের জন্য জনহিতকর এ উদ্যোগ গ্রহণ করায় প্রশাসক দাতা সংস্থাসমূহের কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, "সমাজ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী ও দারিদ্র্য বিমোচনে এ প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।" নিজ নিজ সন্তানদের সুন্দর পরিবেশে বড় করা এবং পরিবারের বন্ধন ঠিক রাখতে বিতরণকৃত সামগ্রী সঠিকভাগে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে প্রশাসক বলেন, এর সঠিক ব্যবহার আপনাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
অনুষ্ঠানে প্রশাসক মহানগরীর ১৭টি ওয়ার্ডের ১৯টি কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট কমিটির (সিডিসি) ৩৪ জনকে কম্পিউটার সেট, ৪৩ জনকে সেলাই মেশিন এবং ৬৪ জনকে ফুড কার্ট বিতরণ করেন।
কেসিসির চিফ প্লানিং অফিসার আবীর উল জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব আহমেদ, সচিব মো. রেজা রশিদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান , ঢাকার ইউএনডিপির সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট তানভীর মাহমুদ, ইন্টারন্যাশনাল প্রজেক্ট ম্যানেজার ইয়গস প্রাধানাং এবং প্রজেক্ট অ্যানালিস্ট এস এম আব্দুল্লাহ আল মাসুম বক্তব্য রাখেন। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে সিডিসি ক্লাস্টার লিডার রোকাইয়া খলিফা ও উপকারভোগীদের মধ্যে সালহা বেগম বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে কেসিসির ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও প্রকল্পের উপকারভোগীগণ উপস্থিত ছিলেন।
মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি এবং প্রতিবেশী দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সরকারের সুষ্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১১টায় ঝিনাইদহ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি সরকার সকল দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। ভারতের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন, “ভারত তাদের পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী কাজ করবে, আমরা আমাদের নীতি অনুযায়ী কাজ করব। ভারত চলবে ভারতের মতো, বাংলাদেশ চলবে বাংলাদেশের মতো।”
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন নিয়ে আইনমন্ত্রী জানান, সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং এটি বজায় রাখা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বিচার বিভাগের আধুনিকায়ন নিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ই-জুডিশিয়ারি বা বিচার বিভাগের ডিজিটালাইজেশন প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার ও আইন মন্ত্রণালয় নিবিড়ভাবে কাজ করছে। আগামী এক বছরের মধ্যে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। এছাড়া অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে মন্ত্রী দেশের বিচার ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
ইজিবাইকের দাপটে যাত্রী কমে যাওয়ায় প্রায় আট মাস ধরে জয়পুরহাট-আক্কেলপুর রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। সময় বেশি লাগা, পথে যত্রতত্র থামা ও তুলনামূলক বেশি ভাড়ার কারণে যাত্রীরা বাসের পরিবর্তে ইজিবাইক ও ট্রেনমুখী হয়েছেন। এতে যাত্রীসংকটে লোকসান হওয়ায় বাসমালিকেরা এ রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন।
তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শুধু ইজিবাইকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়াই বাসের যাত্রী কমার একমাত্র কারণ নয়। বাসের সময়সূচি, পথে যত্রতত্র থামানো এবং যাত্রীসেবার মানও এর সঙ্গে জড়িত। নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে বাস চালানো, নির্ধারিত স্থানে যাত্রী ওঠানো-নামানো এবং সেবার মান উন্নত করা গেলে এ রুটে আবার যাত্রী ফিরতে পারে।
জয়পুরহাট বাস টার্মিনাল থেকে আক্কেলপুর উপজেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার।
স্থানীয় বাসমালিক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৮০-এর দশকের পর এ রুটে বাস চলাচল শুরু হয়। তখন বাসভাড়া ছিল ৩ টাকা। কয়েক ধাপে ভাড়া বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৪০ টাকায়। একসময় প্রতিদিন গড়ে ৩০টি বাস এ রুটে চলাচল করত। সকাল থেকে রাত আটটা পর্যন্ত বাস চলত। ১৫ মিনিট পরপর জয়পুরহাট বাস টার্মিনাল ও আক্কেলপুর থেকে বাস ছেড়ে যেত।
গত কয়েক বছরে এ রুটে ইজিবাইকের সংখ্যা বেড়েছে। যাত্রীরা সুবিধামতো বিভিন্ন স্থান থেকে উঠতে ও নামতে পারেন এবং তুলনামূলক দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন। এ কারণে অনেক যাত্রী বাসের পরিবর্তে ইজিবাইক বেছে নিচ্ছেন। পাশাপাশি জয়পুরহাট-আক্কেলপুর রুটে ট্রেন চলাচল করায় কম খরচে যাতায়াতের সুযোগও রয়েছে। ফলে বাসের যাত্রীসংখ্যা আরও কমেছে।
নিয়মিত যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাসে জয়পুরহাট থেকে আক্কেলপুর যেতে সময় বেশি লাগে। বাসস্ট্যান্ড থেকে ছাড়ার পর পথে বিভিন্ন জায়গায় যাত্রী ওঠানো-নামানোর জন্য বাস থামানো হয়। এতে ২০ কিলোমিটারের পথ যেতে বেশি সময় লাগে। অন্যদিকে ইজিবাইকে যাত্রীরা নিজেদের সুবিধামতো বিভিন্ন স্থান থেকে উঠতে ও নামতে পারেন। আসনের চেয়ে বেশি যাত্রী না নেওয়ায় ইজিবাইকে ভিড়ও তুলনামূলক কম থাকে বলে যাত্রীরা জানান।
আক্কেলপুরের যাত্রী রিফাত হোসেন বলেন, বাসে সময় বেশি লাগে, তাই ইজিবাইকেই যাই। ইজিবাইকে আসনের চেয়ে বেশি যাত্রী নেওয়া হয় না। তাই ভিড় কম থাকে, স্বাচ্ছন্দ্যে গন্তব্যে যাওয়া যায়।
আরেক যাত্রী জুয়েল রানা বলেন, এটি ছোট যানবাহনের কাছে বড় যানবাহনের পরাজয়ের মতো মনে হচ্ছে। বাস বন্ধ থাকায় ইজিবাইকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে বাস থাকলে যাতায়াতে সুবিধা হতো।
বাসচালক রাজু হোসেন বলেন, আগে যাত্রী ভালো ছিল। এখন অনেক সময় অর্ধেকেরও কম যাত্রী নিয়ে বাস চলত। এতে জ্বালানি ও শ্রমিকের খরচও উঠত না।
বাসমালিক সফিকুল হুদা চৌধুরী বলেন, জয়পুরহাট-আক্কেলপুর রুটে শত শত ইজিবাইক ও সিএনজি চলছে। বাসমালিকেরা অনেক চেষ্টা করেও এ রুটে ইজিবাইক ও সিএনজি চলাচল বন্ধ করতে পারেননি। এসব ছোট যানবাহনের কারণে বাসে যাত্রী হয় না। বাসের আয় দিয়ে জ্বালানি, চালক-সহকারীর বেতনসহ অন্যান্য খরচ মেটানো যাচ্ছিল না। লোকসান হওয়ায় বাধ্য হয়ে বাস বন্ধ করতে হয়েছে। এ রুটের বাসমালিকেরা তাদের বাস বিক্রি করে দিয়েছেন। প্রায় আট মাস ধরে এ রুটে আর বাস চলছে না।
ইজিবাইকচালক আরিফ হোসেন বলেন, ইজিবাইকে যাত্রীরা সুবিধামতো জায়গা থেকে উঠতে ও নামতে পারেন। এ কারণে যাত্রীরা ইজিবাইকমুখী হয়েছেন। এ রুটে এখন বাস চলাচল করে না।
জয়পুরহাট জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান লিটন বলেন, ইজিবাইক ও সিএনজির কারণে জয়পুরহাট-আক্কেলপুর রুটে বাসে যাত্রী হয় না। এ রুটে বাস চালিয়ে মালিকেরা দীর্ঘদিন লোকসান করেছেন। যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনা করে জয়পুরহাট হয়ে আক্কেলপুর দিয়ে সরাসরি বগুড়ায় বাস চলাচল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুত তা চালু করা হবে।
আক্কেলপুর নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আতিউর রাব্বি তিয়াস বলেন, বাস চলাচল বন্ধ থাকায় জয়পুরহাট ও আক্কেলপুরের মধ্যে যাতায়াতে ট্রেন ও ইজিবাইকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এ রুটে নিয়মিত বাসসেবা থাকা দরকার।’
যশোরের শংকরপুর জমাদারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০৫ বোতল Wincerex ও ৮০ বোতল Eskuf সিরাপসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৬। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন—শংকরপুর জমাদারপাড়া এলাকার মৃত তফসিল উদ্দিনের ছেলে মো. মশিউল আলম (৫৫) এবং আজিবর রহমানের মেয়ে মোছা. আকলিমা খাতুন (৪৩)।
র্যাব-৬ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার র্যাব-৬, সিপিসি-৩, যশোর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল কোতোয়ালী মডেল থানাধীন শংকরপুর জমাদারপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় তাদের কাছ থেকে অবৈধ মাদকদ্রব্য হিসেবে ১০৫ বোতল Wincerex ও ৮০ বোতল Eskuf সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
পরে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য জব্দ করে গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধারকৃত আলামত ও গ্রেপ্তারদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৬, সিপিসি-৩ যশোর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. ফজলে রাব্বি প্রিন্স জানান, মাদকবিরোধী অভিযানসহ নিয়মিত মামলার আসামি, সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি হত্যা ও ধর্ষণের মতো চাঞ্চল্যকর অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের আষারিয়ার চর ব্রিজ থেকে কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। শুক্রবার রাত থেকে শুরু হয়ে শনিবার সকাল পর্যন্ত মহাসড়কের এই দীর্ঘ অংশে যানবাহনের চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। দাউদকান্দি থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত যানবাহনের মাইলের পর মাইল দীর্ঘ সারি যাত্রীদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।
মহাসড়ক পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের আষারিয়ার চর সেতুর সংস্কারকাজকে কেন্দ্র করেই মূলত এই নজিরবিহীন যানজটের সূত্রপাত। সেতুর ঢাকামুখী লেনের একটি অংশে বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে জরুরি সংস্কারকাজ শুরু করে সড়ক বিভাগ। কাজ চলাকালে মহাসড়কের দুই লেনের একটি বন্ধ রেখে অন্য লেন দিয়ে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করায় যানবাহনের চাপ ক্রমে বাড়তে থাকে, যা একপর্যায়ে কুমিল্লার চান্দিনা ও ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়। শনিবার অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণে এক লেনে গাড়ি পার হতে গিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।
দীর্ঘ এই যানজটে আটকা পড়ে চরম বিপাকে পড়েছেন পণ্যবাহী যানবাহনের চালক ও দূরপাল্লার সাধারণ যাত্রীরা, যার মধ্যে অনেক বিদেশগামী যাত্রীও রয়েছেন। সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়া বাসযাত্রী শিহাব জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হলেও তারা একই জায়গায় আটকে আছেন। চালকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রিজ এলাকায় গিয়ে যানবাহনের গতি একেবারে কমে যাওয়ায় পুরো মহাসড়ক স্থবির হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দাউদকান্দি মহাসড়ক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রেম দাস রায় বলেন, “দাউদকান্দি থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত যানজটের মূল কারণ আষাড়িয়ারচর সেতু এলাকায় সড়ক সংস্কার। মহাসড়কের একটি লেন বন্ধ থাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যানজট নিরসনে মহাসড়ক পুলিশ কাজ করছে।” একই সুরে কাঁচপুর মহাসড়ক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিউল ইসলাম জানান, “আষাড়িয়ারচর এলাকায় মহাসড়কের দুই লেনের একটি লেনে সড়ক বিভাগ জরুরি সংস্কারকাজ করছে। ফলে এক লেন দিয়ে পর্যায়ক্রমে যানবাহন চলাচল করায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।” যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করতে মহাসড়ক পুলিশের একাধিক দল বর্তমানে মাঠে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এই সংকট সৃষ্টি করেনি। বিগত সরকারের ভুলনীতি, দুর্নীতি ও অতিমাত্রায় আমদানিনির্ভর জ্বালানিনীতির কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে ঢাকা-কুমিল্লা মহাসড়কের বিকল্প প্রস্তাবিত সড়কের ধারণাপত্র উপস্থাপন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীতে জ্বালানি সরবরাহে বাধাগ্রস্ততার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানির মূল্যও বেড়েছে। ফলে সরকারকে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার বা ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি বাড়তি ব্যয় করতে হচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। এতে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাসও পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে এলএনজি অবকাঠামো ও টার্মিনাল নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। তবে এ পরিস্থিতি যাতে আরও খারাপের দিকে না যায় এবং উৎপাদনশীল খাত ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
এর আগে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে আয়োজিত সেমিনারে বক্তব্য দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি। সেমিনারে ঢাকা-কুমিল্লা মহাসড়কের বিকল্প প্রস্তাবিত সড়কের ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। এতে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু।
সেমিনারে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।
পদ্মা সেতু চালুর পর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। কমেছে যাত্রার সময়, বেড়েছে যানবাহনের চলাচল। তবে যোগাযোগের এই গতি একই সঙ্গে বাড়িয়েছে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর গত চার বছরের বেশি সময়ে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মাওয়া টোল প্লাজা থেকে ধলেশ্বরী টোল প্লাজা পর্যন্ত অংশে ঘটেছে ৫৪৮টি সড়ক দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৪৭ জন এবং আহত হয়েছেন ৮৭৪ জন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্য বলছে, ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিন থেকে ২০২৬ সালের ২৭ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের উল্লিখিত অংশে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। অর্থাৎ চার বছর দুই মাসের কিছু বেশি সময়ে গড়ে প্রতি তিন দিনে প্রায় একটি দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা বিবেচনায় নিলে এই এক্সপ্রেসওয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ অনেক সহজ হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ব্যক্তিগত গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহনের চাপ বেড়েছে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে। দ্রুতগতিতে চলাচলের সুযোগ থাকায় অনেক চালক নির্ধারিত গতিসীমার তোয়াক্কা না করে গাড়ি চালান। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেক, অসতর্কতা এবং ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা।
সড়কটি তুলনামূলক প্রশস্ত ও আধুনিক হওয়ায় অনেক সময় চালকদের মধ্যে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসও কাজ করে। ফলে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করে গাড়ি চালানো কিংবা সামনে থাকা গাড়িকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে অতিক্রম করার প্রবণতা দেখা যায়। উচ্চগতির যানবাহনের ক্ষেত্রে সামান্য ভুলও বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সামনে থাকা গাড়ির সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রাখলে আকস্মিক ব্রেকের সময় নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি বেড়ে যায়।
ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৫৪৮টি দুর্ঘটনায় ১৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৮৭৪ জন। অর্থাৎ প্রতিটি দুর্ঘটনায় গড়ে একাধিক মানুষ হতাহত হয়েছেন। নিহতদের পাশাপাশি আহতদের একটি অংশ দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ক্ষতির শিকার হন। দুর্ঘটনার আর্থিক ক্ষতির হিসাবও কম নয়। একটি দুর্ঘটনায় শুধু একটি বা একাধিক প্রাণহানিই ঘটে না; ক্ষতিগ্রস্ত হয় যানবাহন, নষ্ট হয় পণ্য, তৈরি হয় চিকিৎসা ব্যয় এবং পরিবারগুলোকে বহন করতে হয় দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ও সামাজিক চাপ।
এই পরিসংখ্যান শুধু দুর্ঘটনার সংখ্যা নয়, এক্সপ্রেসওয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। যানবাহনের চাপ আরও বাড়লে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে এখন থেকেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুর্ঘটনার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি হলো দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। অনেক ক্ষেত্রে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুমড়েমুচড়ে যায় কিংবা ভেতরে আটকে পড়েন যাত্রী ও চালক। তখন ফায়ার ফাইটারদের নিজেদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রেখে উদ্ধারকাজ চালাতে হয়।
মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। দ্রুত আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
দুর্ঘটনার পর প্রথম কয়েক মিনিটকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়। দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গেলে অনেক আহত ব্যক্তির জীবন রক্ষা করা সম্ভব। তাই এক্সপ্রেসওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা আরও শক্তিশালী রাখা প্রয়োজন।
সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন যথেষ্ট নয়; চালকের আচরণেও পরিবর্তন প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা চালকদের ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেক থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি সড়কের নির্দেশনা, ট্রাফিক সিগন্যাল ও নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
বিশেষ করে দ্রুতগতির এক্সপ্রেসওয়েতে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামনে থাকা গাড়ি হঠাৎ থেমে গেলে বা গতি কমালে পেছনের গাড়ির চালকের হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকতে হবে। কিন্তু খুব কাছাকাছি থেকে গাড়ি চালালে সেই সময় পাওয়া যায় না। ফলে ছোট একটি ভুল মুহূর্তের মধ্যে বড় দুর্ঘটনায় রূপ নিতে পারে।
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। পদ্মা সেতু চালুর পর এই সড়কের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ভবিষ্যতে যানবাহনের চাপ আরও বাড়বে—এটাই স্বাভাবিক। তাই এখনই দুর্ঘটনার কারণগুলো বিশ্লেষণ করে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
চালকদের পাশাপাশি যাত্রী ও সাধারণ পথচারীদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। বেপরোয়া গাড়ি চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেক, অতিরিক্ত গতি এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা বন্ধ করতে নিয়মিত নজরদারি জরুরি। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা, পর্যাপ্ত সাইনেজ ও কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা দরকার।
পদ্মা সেতু দেশের যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত খুলেছে। সেই সেতুর সঙ্গে যুক্ত ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে যেন মানুষের জন্য দ্রুত যোগাযোগের পথ হওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুফাঁদে পরিণত না হয়, সে জন্য প্রয়োজন চালক, যাত্রী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ। ৫৪৮ দুর্ঘটনায় ১৪৭ প্রাণহানির পরিসংখ্যান তাই কেবল একটি সংখ্যা নয়; এটি নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার জন্য একটি বড় সতর্কসংকেত।