বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

জিকে প্রকল্প: পাম্প নষ্ট, শ্যালোতে বাড়ছে সেচ খরচ

ঠিকমতো সেচ না পেয়ে বাধ্য হয়ে শ্যালো মেশিন দিয়ে ভূগর্ভস্ত পানি তুলতে হচ্ছে কৃষকের। ছবি: দৈনিক বাংলা
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলায় কৃষকদের সেচ দেয়া গঙ্গা-কপোতাক্ষ-জিকে সেচ প্রকল্পের প্রধান তিনটি পাম্পের দুটিই বিকল। এ কারণে কোনোমতে পর্যায়ক্রমে সেচ সরবরাহ চালু রেখেছে কর্তৃপক্ষ।

এবারের আমন মৌসুমে এ অঞ্চলের কৃষকদের জ্বালানি তেল খরচ করে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে চাষ করতে হচ্ছে। এতে খরচ, পরিশ্রম ও ভোগান্তি বাড়ছে কৃষকের। উৎপাদনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তাদের।

৬৮ বছর আগে শুরু হওয়া গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প দক্ষিণ-পশ্চিমের কৃষকের ভাগ্য বদলে দিয়েছিল। শুরুতে ৪ লাখ ৮৮ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া হতো এ প্রকল্পে। সে সময়ে ৩টি প্রধান পাম্পছাড়া ১০টি সাবসিডারি পাম্প দিয়ে পানি সরবরাহ করা হতো। দিনে দিনে প্রকল্পের পরিসর কমাতে কমাতে ৯৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করে কর্তৃপক্ষ। এবার প্রধান তিনটি পাম্পের দুটিই বিকল থাকায় সাত দিন করে পর্যায়ক্রমে সেচ সরবরাহ চালু রাখা হয়েছে।

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় জিকে পাম্প হাউসের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ১ নম্বর পাম্প এখন চালু আছে। ২ নম্বর পাম্প নষ্ট হয়ে যায় ২০২১ সালে। ৩ নম্বর পাম্প গত বছর ঠিক করা হলেও আবার সমস্যা দেখা দিয়েছে।

মিজানুর রহমান বলেন, ম্যানুফ্যাকচারিং (জাপানি) কোম্পানির সহায়তা ছাড়া পাম্প মেরামত সম্ভব নয়। জাপানি প্রকৌশলীরা গত মাসে পাম্প হাউস পরিদর্শন করেছেন। তাদের সঙ্গে এ মাসের ৯ ও ২৪ তারিখে ভার্চুয়াল সভা হয়েছে। তারা এখন একটি কারিগরি প্রতিবেদন ও আর্থিক প্রস্তাবনা দেবেন। এর ভিত্তিতেই মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হবে।

বর্তমানে একটি পাম্প দিয়ে ১ হাজার ৩৫০ কিউসেক পানি তোলা যাচ্ছে। কিউসেক হলো প্রতি সেকেন্ডে পানিপ্রবাহের পরিমাণের একক। ১ কিউসেক হলো ১ ঘনফুট পানি।

মিজানুর রহমান বলেন, এই পানি দিয়ে পুরো প্রকল্প এলাকায় সেচ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে ক্যানেলভিত্তিক রোটেশন করে পানি সরবরাহ করতে হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডে কুষ্টিয়ার পানি ব্যবস্থাপনা ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী রইচ উদ্দিন বলেন, জিকে প্রকল্পের পাম্পের অবস্থা খারাপ। একটি পাম্প দিয়ে প্রকল্প এলাকার ৪টি জেলার ১৩ উপজেলায় একযোগে সেচ দেয়া সম্ভব নয়। এরপরও সেচ চালু রাখার স্বার্থে রোটেশন পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে।

রইচ উদ্দিন বলেন, প্রকল্প এলাকায় গঙ্গা, কুষ্টিয়া ও আলমডাঙ্গা নামে তিনটি ক্যানেল সিস্টেম আছে। তিনটি ভাগ করে সাত দিন করে রোটেশনভিত্তিতে সেচ দেয়া হচ্ছে।

এদিকে ঠিকমতো সেচ না পেয়ে বাধ্য হয়ে শ্যালো মেশিন দিয়ে ভূগর্ভস্ত পানি তুলতে হচ্ছে কৃষকের। এতে বাড়ছে খরচ ও ভোগান্তি।

কুষ্টিয়া বাইপাস সড়কের পাশে আমন ধান রোপণ করছিলেন কৃষক সোহেল রানা। তিনি বলেন, এখানে জিকের পানি বেশি আসে না। শ্যালো মেশিন দিয়ে মাটির নিচ থেকে পানি তুলতে হয়। ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এবার খরচ বেশি হচ্ছে।

আরেক কৃষক আলমগীর বলেন, এবার তেমন বৃষ্টি না হওয়ায় মাটি শুকনো। অল্প পানি দিয়ে সেচ হচ্ছে না। সারা দিন ধরে পানি তুলে এক থেকে দেড় একর জমি ভেজানো যাচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে ধানের দাম বাড়ার কথা বলছেন কৃষকরা। রফিকুল নামে এক কৃষক বলেন, ‘১ হাজার ৫০০ টাকার তেল লাগল ধান লাগাতে। এরপর বৃষ্টি না হলে মৌসুম ধরেই তেল কিনে পানি দিতে হবে। ধানের দাম ১ হাজার ৫০০ টাকা মণ হলেও পোষাবে না।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কুষ্টিয়া কার্যালয়ের উপপরিচালক হায়াত মাহমুদ বলেন, শেষদিকে এসে বৃষ্টি হওয়ায় কৃষক আমন রোপণ করতে পেরেছেন। কিন্তু সম্পূরক সেচ নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকেই যাচ্ছে।

হায়াত মাহমুদ বলেন, ‘জিকে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত কথা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত পাম্প মেরামত করে পর্যাপ্ত সেচ সরবরাহ করবে তারা। তবে আমন উৎপাদনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।’


আমাকে ‘স্যার’ ডাকতে হবে বিধায় জিততে দেয়া হয়নি: হিরো আলম

নির্বাচনের ফল ঘোষিত হওয়ার পর বুধবার রাতে নিজের বাসায় সংবাদ সম্মেলন করেন আলোচিত আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, বগুড়া

ভোট গণনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে বগুড়া-৪ এবং ৬ আসনের উপনির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম। তার ভাষ্য, অফিসারদের তাকে ‘স্যার’ বলে ডাকতে লজ্জা হবে, সেজন্য তাকে জিততে দেয়া হয়নি। ফলাফল ঘোষণায় গণ্ডগোল করা হয়েছে।

বগুড়ার দুই আসনে উপনির্বাচনে ফলাফল ঘোষিত হওয়ার পর বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সদরের এরুলিয়ায় নিজের বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে হিরো আলম এসব অভিযোগ করেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট নেয়া হয় দুই আসনে। সন্ধ্যার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ফল ঘোষণা শুরু করেন উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম। রাতে চূড়ান্ত ফলাফল জানা যায়।

ঘোষিত ফলাফল অনুসারে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে ২০ হাজার ৪০৫ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন জাসদের প্রার্থী এ কে এম রেজাউল করিম তানসেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী একতারা প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলম পেয়েছেন ১৯ হাজার ৫৭১ ভোট। দুজনের ভোটের ব্যবধান মাত্র ৮৩৪। অন্যদিকে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে ৪৯ হাজার ৩৩৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রাগেবুল আহসান রিপু। সেখানে হিরো আলম পেয়েছেন ৫ হাজার ২৭৪ ভোট।

সংবাদ সম্মেলনে হিরো আলম বলেন, ‘সবাই বলেছেন আপনি পাস করেছেন। ভোটাররাও ভোট দিয়েছেন। আমার এত ভোট গেল কই? ফলাফল ঘোষণা হওয়ার আগেই আওয়ামী লীগের লোকজন বলছে, মশাল জিতে গেছে; এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বাকি।...আওয়ামী লীগের লোকজনও আমাকে ভোট দিয়েছেন। দল নয় আমাকে ভালোবেসে ভোট দিয়েছেন। ওই ভোটগুলো গেল কই? এই ফলাফল আমি মানি না।’

হিরো আলম আরও বলেন, ‘এসব অনিয়মের বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ দেইনি। তবে ফলাফলের বিরুদ্ধে আদালতে যাব। ১০টি কেন্দ্রের ভোট গণনা বাদ দিয়েই ফলাফল দিয়েছে প্রশাসন। এই কেন্দ্রগুলোতে কত ভোট পাইলাম তা জানানো হলো না আমাকে।’

‘ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু দেখেছি। কিন্তু ফলাফলে জায়গায়ে গণ্ডগোল করেছে। ফলাফল পাল্টে দিয়েছে। সদরের ভোট নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। লাহেরি পাড়ায় আমার এজেন্ট ঢুকতে দেয়নি। তানসেনের কোনো নাম-গন্ধই ছিল। তাকে পাস করানো হয়েছে।’

হিরো আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কিছু কিছু শিক্ষিত লোক আমাকে মেনে নিতে চান না। তারা ভাবেন আমি পাস করলে দেশের সম্মান যাবে, অনেকের সম্মান যাবে। অফিসারদের লজ্জা যে হিরো আলমকে স্যার বলে সম্বোধন করতে হবে। আমাকে জিততে দেয়া হয়নি।’

একতারা প্রতীকের এই প্রার্থী বলেন, ‘মহাজোটের মশাল মার্কা কোনো কেন্দ্রে ভোট ৫০০ পেলে আমি ২৮ ভোট পাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। শহরের মধ্যে আমি একটু আশঙ্কায় ছিলাম। এই কারণে বাসায় সংবাদ সম্মেলন করছি।’


রূপগঞ্জে ছাত্রদলের দুই  পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৭

রূপগঞ্জে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০০:০৮
প্রতিনিধি, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করে।

উপজেলার ভুলতা-গোলাকান্দাইল এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বুধবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুস্তাফিজুর রহমানের সমর্থক ও ছাত্রদল নেতা নাহিদ হাসানকে সভাপতি ও জুবায়ের রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের ৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ কমিটি ঘোষণার পর থেকেই জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা কাজী মনিরুজ্জামান মনির সমর্থিত ছাত্রদল নেতা মাসুদুর রহমান মাসুদসহ তাদের অনুসারীরা ক্ষুব্ধ হন। বিভিন্ন সময় মাসুদুরের নেতৃত্বে পদবঞ্চিতরা বিক্ষোভও করেন।

বুধবার নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় ছাত্রদলের নতুন কমিটির নেতাদের পরিচিতি সভা হওয়ার কথা ছিল। সে লক্ষ্যে ভুলতা-গোলাকান্দাইল এলাকায় পদধারীদের অনুসারীরা বাসে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বেলা ১১টার দিকে পদবঞ্চিত মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে পদবঞ্চিতরা লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় আশপাশের মার্কেট ও হাটবাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

হামলায় আবু হোসেন, নিরা দাস, মোহাম্মদ শুভ, ইমরান হোসেনসহ অন্তত ৭ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদ হাসান বলেন, সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে তার লোকজনের ওপর হামলা করা হয়েছে। এর উপযুক্ত বিচার না হলে ছাড় দেয়া হবে না।

হামলার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতা মাসুদুর রহমান বলেন, ‘বিএনপির দুঃসময়ে আমরা হাল ধরেছি। মামলা-হামলার শিকার হয়েছি। এখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে অন্যদের পদে আনা হয়েছে।’

মাসুদুর রহমান বলেন, ‘সম্পূর্ণ দুর্নীতি করে জেলা ছাত্রদলের কমিটি দেয়া হয়েছে। এ কমিটি বাতিল করে নতুন করে ত্যাগী ও নির্যাতিতদের পদ দেয়া হোক।’

দুই পক্ষের সংঘর্ষের বিষয়ে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনার ব্যাপারে আমাদের জানা নেই। খোঁজখবর নেয়া হবে।’

বিষয়:

চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুই আসনেই নৌকার জয়

বেসরকারিভাবে নির্বাচিত আব্দুল ওদুদ (বাঁয়ে) ও জিয়াউর রহমান
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুই আসনের উপনির্বাচনেই জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগে প্রার্থী। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মু. জিয়াউর রহমান ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে আব্দুল ওদুদ বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

বুধবার রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্ত মো. দেলোয়ার হোসেন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা এ কে এম গালিভ খান এ ফল ঘোষণা করেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য বলছে, আসনের ১৮০টি কেন্দ্রের সবগুলো থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে জিয়াউর রহমান নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯৪ হাজার ৯২৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী (আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’) মোহাম্মদ আলী সরকার আপেল প্রতীকে পেয়েছেন ২৫ হাজার ৩৯৯ ভোট।

এ ছাড়া আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী মু. খুরশিদ আলম মাথাল প্রতীকে ১৪ হাজার ৩০৯ ভোট, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক লাঙ্গল প্রতীকে ৩ হাজার ৬১ ভোট, জাকের পার্টির মো. গোলাম মোস্তফা গোলাপ ফুল প্রতীকে ১ হাজার ৮৭০ ভোট এবং বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) মো. নবীউল ইসলাম টেলিভিশন প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৪৭৩ ভোট।

এই আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৫ হাজার ৪৫০ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৪০ ভোট। এ আসনে ভোট পড়েছে ৩৪ শতাংশের কিছু বেশি।

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও দলটির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর মধ্যে। এই আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ প্রার্থী আব্দুল ওদুদ নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫৯ হাজার ৬৩৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিউল হক লিটন আপেল প্রতীকে পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৯৮০ ভোট।

এই আসনে প্রার্থী ছিলেন মোট তিনজন। তৃতীয় প্রার্থী বিএনএফের কামরুজ্জামান খান টেলিভিশন প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৪০ ভোট।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫ জন। উপনির্বাচনে ভোট পড়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৫৮টি। ভোটের হার ২৯ শতাংশের কিছু বেশি।


বগুড়া সদরে জিতলেন নৌকার রাগেবুল

রাগেবুল আহসান রিপু
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, বগুড়া

বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রাগেবুল আহসান রিপু বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। বুধবার রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম ফলঘোষণা করেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই আসনের ১৪৩টি কেন্দ্রে রাগেবুল আহসান রিপু পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৩৩৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মান্নান আকন্দ ট্রাক প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২১ হাজার ৮৬৪ ভোট। মান্নানও আওয়ামী লীগের নেতা ছিলেন।

এই আসনে তৃতীয় হয়েছেন লাঙ্গল প্রতীকের নুরুল ইসলাম ওমর। আসনটির সাবেক এই সংসদ সদস্য পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৯৫ ভোট। অন্যদিকে একতারা প্রতীকের আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম পেয়েছেন ৫ হাজার ২৭৪ ভোট। তিনি রয়েছেন চতুর্থ অবস্থানে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নজরুল ইসলাম বটগাছ প্রতীকে ৪৬৮ ভোট, জাকের পার্টির মো. ফয়সাল বিন শফিক গোলাপ ফুলে ৪১৭ ভোট, জাসদের ইমদাদুল হক ইমদাদ মশাল প্রতীকে ১ হাজার ৩৪০ ভোট, গণফ্রন্টের প্রার্থী আফজাল হোসেন মাছ প্রতীকে ১৭০ ভোট, স্বতন্ত্র প্রাথী মাসুদার রহমান হেলাল আপেল প্রতীকে ১ হাজার ৬১৮ ভোট, রাবিক হাসান কুমির প্রতীকে ১ হাজার ৪৪৯ ভোট ও কুড়াল মার্কায় সরকার বাদল পেয়েছেন ২ হাজার ৮১১ ভোট।

বগুড়া-৬ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১০ হাজার ৭৪৩ জন। মোট ভোট পড়েছে ৯১ হাজার ৭৪২টি। ভোটের হার ২২ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

এই আসনে ১৪৩টি ভোটকেন্দ্রে ভোটকক্ষ ছিল ১ হাজার ১৭টি। এ আসনে ১৪৩ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ১ হাজার ১৭ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও ২ হাজার ৩৪ জন পোলিং কর্মকর্তা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এই আসনে ভোটার-খরা থাকলেও সারা দিন তেমন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে ভোট শুরুর পর থেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা অবশ্য জানান, দুয়েকটি কেন্দ্রের এ বিষয়ে অভিযোগ পেলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে কাউকে পাননি।

এদিকে সদর আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হলেও বগুড়া-৪ (নন্দীগ্রাম-কাহালু) আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম। এই আসনে তিনি মাত্র ৮৩৪ ভোটে হেরে গেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত জাসদ প্রার্থী এ কে এম রেজাউল করিম তানসেনের কাছে।


ভোটে জামানত হারালেন হিরো আলম

বগুড়া ৬ (সদর) ও বগুড়া ৪ আসনে উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আশরাফুল আলম। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২২:৩৮
প্রতিনিধি, বগুড়া

বগুড়া- ৬ (সদর) আসনের উপ-নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী- কোনো প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে মোট ভোটের (কাস্টিং ভোট) আট ভাগের এক ভাগ থেকে অন্তত একটি ভোট বেশি পেতে হবে। কিন্তু এই উপনির্বাচনে হিরো আলম বগুড়া-৬ আসনে ৫ হাজার ২৭৪ ভোট পেয়েছেন। এই ভোটে জামানত রক্ষার জন্য ১১ হাজার ৪৬৮ ভোট প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে বগুড়া-৪ আসনেও তিনি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। সেখানে তিনি ১৯ হাজার ৫৭১ ভোট পান।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, কোনো প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে কাস্টিং ভোটের ৮ শতাংশ থেকে একটি ভোট বেশি পেতে হবে। এর কম ভোট পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।

বগুড়ার উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের সই করা ভোটার তালিকা অনুযায়ী নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রাগেবুল আহসান রিপু ৪৯ হাজার ৩৩৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল মান্নান ২১ হাজার ৮৬৪ ভোট পেয়েছেন।

হিরো আলমের সঙ্গে আরও যারা জামানত হারালেন তারা হলেন, লাঙ্গল প্রতীকের নুরুল ইসলাম ওমর। তিনি এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। ওমর পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৯৫ ভোট।

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নজরুল ইসলাম বটগাছ প্রতীকে পেয়েছেন ৪৬৮ ভোট, জাকের পার্টির মো. ফয়সাল বিন শফিক গোলাপ ফুলে পেয়েছেন ৪১৭, জাসদের ইমদাদুল হক ইমদাদ পেয়েছেন ১ হাজার ৩৪০ ভোট, গণফ্রন্টের প্রার্থী আফজাল হোসেন মাছ প্রতীকে পেয়েছেন ১৭০ ভোট, স্বতন্ত্র প্রাথী মাসুদার রহমান হেলাল আপেল প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৬১৮ ভোট, রাবিক হাসান কুমির প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৪৪৯ ভোট, কুড়াল মার্কায় সরকার বাদল পেয়েছেন ২ হাজার ৮১১ ভোট।

বগুড়া-৬ (সদর) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১০ হাজার ৭৪৩ জন। ভোট কেন্দ্র ছিল ১৪৩ টি ও কক্ষ ছিল ১ হাজার ১৭টি। এ আসনে ১৪৩ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ১ হাজার ১৭ সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও ২ হাজার ৩৪ জন পোলিং কর্মকর্তা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেছেন ।

যদিও বগুড়া সদর আসনে ভোট শুরুর পর থেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। তাদের মধ্যে অনেকে এজেন্ট বের করে দেয়ার অভিযোগে সবর ছিলেন সারাদিন।

কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, দু-একটি কেন্দ্রের বিষয়ে এমন অভিযোগ থাকলেও সেখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে কাউকে পায়নি। নির্বাচনী আসনের কোথাও এমন পরিস্থিতি হলে তারা ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।


জুয়ার আসরে হানা দিতে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ

পুলিশের হাতে আটক ৫ জন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২২:৪৭
প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে জুয়ার আসরে অভিযানকালে জুয়াড়িদের হামলায় ওসিসহ (তদন্ত) ৪ পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় এক বাসিন্দা আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টায় উপজেলার উত্তর তিলকপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, উত্তর তিলকপুর এলাকায় খোলা মাঠে খড়কুটো দিয়ে ঘর তৈরি করে বেশ কিছুদিন ধরে স্থানীয় জুয়াড়িরা আসর বসান। এমন সংবাদ পেয়ে কমলগঞ্জ থানার এএসআই আক্তার হোসেন ও এএসআই জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টহল দল সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় জুয়ার সরঞ্জাম ও নগদ টাকাসহ জাবের আহমদ, খোকা মিয়া, সায়েম মিয়া, শামীম আহমদ, শামন মিয়া, কাউসার আহমদ, কামাল মিয়াসহ ৮ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে কয়েকজন পালিয়ে যায় ও আটককৃতদের চিৎকারে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মো. আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে পুলিশের অপর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটককৃতদের নিয়ে থানার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। উত্তর তিলকপুর জামে মসজিদের সামনে আসার পর গ্রামবাসীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ওসি (তদন্ত) মো. আব্দুর রাজ্জাক, এএসআই আক্তার হোসেন, এএসআই জালাল উদ্দিন, কনস্টেবল মামুনুর রশিদ ও স্থানীয় বাসিন্দা জাবির আহমদ আহত হন।

আহতদের কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয় এবং এএসআই জালাল উদ্দিন ও কনস্টেবল মামুনুর রশিদকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে পুলিশ শাওন ওরপে শামন মিয়া, কাউসার আহমদ, কামাল মিয়াসহ ৫ জনকে আটক করে।

কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, ‘জুয়া খেলা হচ্ছে বলে আমাদের কাছে খবর আসে। পরে কমলগঞ্জ থানার এএসআই আক্তার হোসেন ও এএসআই জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টহল দল সেখানে অভিযান চালায়। তখন হাতেনাতে কয়েকজনকে জুয়ার আসর থেকে নগদ ১৬ হাজার টাকাসহ আটক করা হয়। আটকের পর তারা হাল্লা-চিৎকার করলে তাদের ২০-২৫ জন সঙ্গী এসে পুলিশের উপর হামলা চালায়।’

আটককৃত ৫ জনকে বুধবার সকালে মৌলভীবাজার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিষয়:

ঠাকুরগাঁওয়ে জাপার জয়

হাফিজউদ্দীন আহমেদ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁও-৩ (রাণীশংকৈল-পীরগঞ্জ) আসনে উপনির্বাচনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাফিজউদ্দীন আহমেদ। লাঙ্গল প্রতীকে তিনি ৮৪ হাজার ৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) একতারা প্রতীকের গোপাল চন্দ্র রায় পেয়েছেন ৫০ হাজার ৩০৯ ভোট।

বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা জিএম সাহাতাব উদ্দিন এ ফলাফল ঘোষণা করেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট নেয়া হয়।

ঘোষিত ফলাফল অনুসারে, আসনটিতে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী ইয়াসিন আলী হাতুড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ১১ হাজার ৩৫৬ ভোট, জাকের পার্টির ইমদাদুল হক গোলাপ ফুল প্রতীকে ২ হাজার ২৫৭ ভোট, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) সিরাজুল ইসলাম টেলিভিশন প্রতীকে ১ হাজার ৪১২ ভোট এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সাফি আল আসাদ আম প্রতীকে ৯৫৩ ভোট পেয়েছেন।

সরকারবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১০ ডিসেম্বর ঢাকার সমাবেশে বিএনপির এমপিদের পদত্যাগ ঘোষণা আসে। এতে শূন্য হয়ে যায় ঠাকুরগাঁওয়ের এই আসনসহ ছয় সংসদীয় আসন।

পরে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হলে আওয়ামী লীগ বগুড়া-৬ আসনে রাগিবুল আহসান রিপু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মু. জিয়াউর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে মো. আব্দুল ওদুদকে প্রার্থী ঘোষণা করে। আর ঠাকুরগাঁও-৩ আসন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি এবং বগুড়া-৪ আসন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদকে ছেড়ে দেয়। একই সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন উন্মুক্ত রাখে।

এই ছয় আসনে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে তিনটিতেই (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ ও বগুড়া-৬) জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তাদের সমর্থন দেয়া ১৪-দলীয় জোটের প্রার্থীও জয় পেয়েছেন বগুড়া-৪ আসনে। তবে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে জিততে পারেননি ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী। আর উন্মুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জয় পেয়েছেন আসনটি ছেড়ে দিয়ে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া।


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জিতলেন বিএনপির সাবেক নেতা আবদুস সাত্তার

আবদুস সাত্তার ভূইয়া
আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২০:২৭
প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে উপনির্বাচনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি থেকে পদত্যাগী আবদুস সাত্তার ভূইয়া। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে গত ডিসেম্বরে দলের সিদ্ধান্তে পদত্যাগ করেছিলেন।

বুধবার রাত সোয়া ৭টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এ ফলাফল জানা গেছে।

ফলাফল অনুসারে, নির্বাচনে কলারছড়া প্রতীকে ৪৪ হাজার ৮১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন আবদুস সাত্তার ভূইয়া। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল হামিদ পেয়েছেন ৯ হাজার ৫৮১ ভোট। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক বিএনপি নেতা আবু আসিফ আহমেদ পেয়েছেন ৩ হাজার ২৫৮ ভোট।

এই উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ করা হয়েছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হওয়া এই ভোট চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বারবার নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ধানের শীষ প্রতীকে জয়ী হন আবদুস সাত্তার। বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত ১০ ডিসেম্বর ঢাকার সমাবেশে তাদের এমপিদের পদত্যাগের ঘোষণা দিলে পদত্যাগ করেন সাত্তারও। কিন্তু পরে আবদুস সাত্তার বিএনপি থেকেই পদত্যাগ করেন।

এরপর অন্য শূন্য আসনগুলোর মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনেও উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে আবদুস সাত্তার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে মনোনয়নপত্র কেনেন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ শূন্য বাকি আসনগুলোতে জোটের সঙ্গে ভাগাভাগি করে প্রার্থী দিলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ উন্মুক্ত রাখে। পরে এই আসনে লড়তে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র কেনেন। কিন্তু তারাও একসময় সরে দাঁড়ান।

বিএনপির নেতারা অভিযোগ করেন, এই নির্বাচনে চাপ দিয়ে আনা হয়েছে আবদুস সাত্তারকে। এমনকি সাত্তারের পক্ষেই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের প্রচারণা চালাতে দেখা যায়।


বাণিজ্যমেলা থেকে যাত্রীবেশে অটোরিকশায়, চালককে হত্যা করে ছিনতাই

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, রূপগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আব্দুল হক (৩৮) নামের এক চালককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার পর তার অটোরিকশা ছিনিয়ে নিয়েছে হত্যাকারীরা। এ ঘটনায় ধারালো অস্ত্রসহ অভিযুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে অটোরিকশাটিকেও।

মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার ইসলামবাগ কালী এলাকার হাজী আক্রম আলীর কাঠবাগানে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটে। আব্দুল হক উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কেরাবো এলাকার মৃত আজিম উদ্দিনের ছেলে।

গ্রেপ্তাররা হলেন, উপজেলার কালি এলাকার আলী হোসেনের ছেলে শাহজাহান, ডুলুরদিয়া এলাকার মুমিন মোল্লার ছেলে রাজিব, ইসলামবাগ এলাকার আহমদ বেপারীর ছেলে মাসুদ, আবুল হোসেনের ছেলে ইমন, টেংরাটেক এলাকার সিদ্দিক মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আলী।

পুলিশ বলছে, পূর্বাচলে বাণিজ্যমেলা থেকে যাত্রীবেশে আব্দুল হকের অটোরিকশায় ওঠেন ওই পাঁচজন। ছিনতাইয়ে বাধা দেয়ায় আব্দুল হককে হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন তারা।

রূপগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (ওসি-তদন্ত) আতাউর রহমান দৈনিক বাংলাকে জানান, প্রতিদিনই অটোরিকশা করে বিভিন্ন এলাকায় যাত্রী আনা-নেয়া করতেন আব্দুল হক। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাণিজ্যমেলা থেকে যাত্রীবেশে একদল ছিনতাইকারী তার অটোরিকশায় ওঠেন। এরপর ছিনতাইকারীরা ইসলামবাগ কালী কবরস্থান এলাকার হাজী আক্রম আলীর কাঠবাগানের নির্জন স্থানে নিয়ে আব্দুল হকের কাছ থেকে অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। এসময় চালক বাধা দেন এবং ছিনতাইকারীদের প্রতিরোধের চেষ্টা চালান। এক পর্যায়ে আব্দুল হকের বুকের ডান পাশে ও ডান হাতের বাহুতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন ছিনতাইকারীরা। এতে আব্দুল হক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে বুধবার ভোরে চালক আব্দুল হকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

ওসি জানান, অভিযুক্তরা সকালে তারাবো বরপা এলাকায় ছিনতাই করা অটোরিকশা বিক্রি করতে নিয়ে গেলে সেখানকার দোকানদার ও স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয়। তখন তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ও ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তিতে বলেছেন, অটোরিকশা ছিনতাইয়ে বাধা দেয়ায় ও তাদের প্রতিরোধ করায় বাধ্য হয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।


মোংলা ইপিজেডে অগ্নিকাণ্ডে তদন্ত কমিটি গঠন

মোংলা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার ভিআইপি লাগেজ ফ্যাক্টরির আগুন নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালান দমকল বাহিনীর সদস্যরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৯:৪৬
প্রতিনিধি, মোংলা ও বাগেরহাট

সাত ঘণ্টারও বেশি সময় পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে মোংলা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ইপিজেড) ভিআইপি লাগেজ ফ্যাক্টরির আগুন। নৌবাহিনী, খুলনা, বাগেরহাট ও মোংলা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল সার্ভিসের ১১টি ইউনিট কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে রাতেই নিয়ন্ত্রণে এলেও আগুন লাগার ২৪ ঘণ্টা পরও মাঝে মাঝে আগুনের স্ফুলিঙ্গ দেখা গেছে ওই কারখানা এলাকায়।

ফায়ার সার্ভিস ও কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে ওই কারখানায় আগুন লাগে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে রাত ১০টার দিকে। পুরোপুরি নিভতে সময় লাগে আরও কয়েক ঘণ্টা। এ ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মোংলা ইপিজেড কর্তৃপক্ষ।

বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক গোলাম সরোয়ার বলেন, ‘নৌবাহিনীসহ ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করে। ফ্যাক্টরিতে কাপড়, পলিথিনসহ নানা ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্য রয়েছে। এ কারণে আগুন নেভাতে সময় লাগে। আগুনে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।’

মোংলা ইপিজেডের এই কারখানায় আগুন লাগার কারণ প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট কিংবা ওই ফ্লোরে গ্যাস দিয়ে কাটার ওয়েল্ডিংয়ের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন কারখানা-সংশ্লিষ্টরা।

মোংলা ইপিজেড ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা আরবেজ আলী বুধবার দুপুরের দিকে বলেন, ‘গত মঙ্গলবার বিকেলে লাগা আগুন রাতেই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে এখনো মাঝে মাঝে আগুনের স্ফুলিঙ্গ দেখা যাচ্ছে। তাই সেখানে এখনো ছয়টি পাম্প দিয়ে আগুন পুরোপুরি নেভানো ও ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে। বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে আগুন পুরোপুরি নেভানো যাবে বলে আশা করছি।

মোংলা ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মাহাবুব আহম্মেদ সিদ্দিক বলেন, ‘দুপুরে হঠাৎ আগুন লাগে। এ কারখানায় কোম্পানিটির ফোম ও ব্যাগ ছিল। অগ্নিকাণ্ডের সময় দ্রুত সেখানকার কর্মরত শ্রমিকরা বেরিয়ে আসেন।’

তদন্ত কমিটির তথ্য জানিয়ে ইপিজেডের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আগুনে ওই কারখানার কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে আগুনে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি ইপিজেডের অতিরিক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী (হিসাব) আবুল হাসান মুন্সীকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’

বিষয়:

তানসেনের ঘাম ছুটিয়ে ৮৩৪ ভোটে হারলেন হিরো আলম

বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হিরো আলম। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২২:১৮
প্রতিনিধি, বগুড়া

পারলেন না হিরো আলম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম বগুড়া-৪ আসনে উপনির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর হেরে গেছেন। এই আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মশাল প্রতীকের প্রার্থী জাসদের এ কে এম রেজাউল করিম তানসেন। হিরো আলম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন বগুড়া-৬ আসনেও। সেখানে অবশ্য অল্প ভোট পেয়েছেন তিনি।

ঘোষিত ফলাফল অনুসারে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে ২০ হাজার ৪০৫ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন জাসদের প্রার্থী এ কে এম রেজাউল করিম তানসেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী একতারা প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলম পেয়েছেন ১৯ হাজার ৫৭১ ভোট। দুজনের ভোটের ব্যবধান মাত্র ৮৩৪।

অন্যদিকে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে ৪৯ হাজার ৩৩৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রাগেবুল আহসান রিপু। সেখানে হিরো আলম পেয়েছেন ৫ হাজার ২৭৪ ভোট।

বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট নেয়া হয় দুই আসনে। সন্ধ্যার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ফল ঘোষণা শুরু করেন উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম। রাতে চূড়ান্ত ফলাফল জানা যায়।

সরকারবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১০ ডিসেম্বর ঢাকার সমাবেশে বিএনপির এমপিদের পদত্যাগ ঘোষণা আসে। এতে শূন্য হয়ে যায় বগুড়ার দুটিসহ ছয় সংসদীয় আসন। পরে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হলে বগুড়া-৪ ও বগুড়া-৬ আসনে মনোনয়নপত্র কেনেন হিরো আলম। কিন্তু জেলা নির্বাচনী কর্মকর্তা যাচাই-বাছাইকালে তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। পরে হিরো আলম নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। সেখানেও তার প্রার্থিতার আবেদন খারিজ হলে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর। সর্বোচ্চ আদালত হিরো আলমের প্রার্থিতা গ্রহণ করে তাকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ দিতে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন।

এত নাটকীয়তার পর নির্বাচনে অংশ নেয়া হিরো আলম তার জয়ের ব্যাপারে আশাবাদের কথা ব্যক্ত করেন বারবার। ভোট শুরু হলে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বগুড়া সদরের এরুলিয়া উচ্চবিদ্যালয়কেন্দ্রে নিজের ভোট দেন হিরো আলম। দুই আসনেরই বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনের ধারাবাহিকতায় বগুড়া-৪ আসনের (নন্দীগ্রাম-কাহালু) চাকলমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন তিনি। হিরো আলম সেখানে বলেন, ‘আমি ভোটে না দাঁড়ালে ভোটাররা ঘর থেকে বের হতো না।’

হিরো আলম এই উপনির্বাচনের আগে গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও প্রার্থী হয়েছিলেন। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে বগুড়া-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন তিনি। তবে সেবার সিংহ প্রতীকে মাত্র ৬৩৮টি ভোট পেয়েছিলেন। সেজন্য তাকে হারাতে হয় জামানত।


জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বাবা-ছেলে খুন

ছুরিকাঘাতে নিহত আবুল খায়ের ও ফরহাদ হোসেনের স্বজনদের আহাজারি ছবি। দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৮:৫৮
প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকদের ছুরিকাঘাতে বাবা ও ছেলে খুন হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও তিনজন।

নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার চুরখাই জামতলা গ্রামের আবুল খায়ের (৬০) ও তার ছেলে ফরহাদ হোসেন (২০)। আহতদের পরিচয় জানা যায়নি।

বুধবার বিকেল ৪টার দিকে সদর উপজেলার ভাবখালী ইউনিয়নের চুরখাই জামতলায় এ ঘটনা ঘটে।

কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফারুক হোসেন দৈনিক বাংলাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

নিহতদের পরিবারের বরাত দিয়ে ফারুক হোসেন বলেন, ‘বিকেলে বিরোধপূর্ণ জমিতে কামাল মিয়া, তিন ছেলে ও স্ত্রী মাপামাপি করছিলেন। এসময় আবুল খায়ের ও তার ছেলে ফরহাদ এগিয়ে আসলে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় কামাল মিয়ার পরিবারের লোকজন আবুল খায়ের ও তার ছেলে ফরহাদসহ আরও তিনজন ছুরিকাঘাত করে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসক বাবা-ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন।

মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে চেষ্টা চলছে। মামলাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান পরিদর্শক ফারুক হোসেন।


আমি প্রার্থী না হলে ভোটাররা ঘর থেকে বের হতো না: হিরো আলম

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন হিরো আলম। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৭:৩৫
প্রতিনিধি, বগুড়া

একতারা প্রতীক নিয়ে বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৪ আসনের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র পার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম বলেছেন, ‘আমি ভোটে না দাঁড়ালে ভোটাররা ঘর থেকে বের হতো না।’

বুধবার বেলা তিনটার দিকে বগুড়া-৪ আসনের (নন্দীগ্রাম-কাহালু) চাকলমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকের এসব কথা বলেন তিনি।

কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে হিরো আলমের ভাষ্য, ‘খুব বেশি ভোটার উপস্থিত হবে না। ভোট নিয়ে মানুষের মনে ভয় আছে। ভোটারদের আগের সেই সাহস কিংবা বিশ্বাস নেই। এই ভয় দূর করার জন্য নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোট দরকার।’

কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, ‘ভোটার উপস্থিতি খুবই কম। এ কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ৫৫৯। বেলা ২ টা ৫৫ পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন ৫৫৪ জন।’

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বগুড়া সদরের এরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজের ভোট দেন হিরো আলম।

ভোট দেয়া শেষে হিরো আলম সাংবাদিকদের বলেন, 'সুষ্ঠুভাবে ভোট হলে আমি দুই আসনেই বিপুল ভোটে জয়লাভ করব। এখন পর্যন্ত সব পরিবেশ ভালো আছে। তবে সদরের এক কেন্দ্রে আমার এজেন্টদের ঢুকতে দেয়া হয়নি। ভোটারদের কাছে অনুরোধ, সবাই এসে ভোট দিবেন।'

বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) ও বগুড়া-৬ (সদর) দুই আসনেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আলোচিত-সমালোচিত এই কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ।

এই উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলার কথা বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

নির্বাচন উপলক্ষে দুই আসনে ৩ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ৩৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছেন। পাশাপাশি ১৪ প্লাটুন বিজিবি ও র‌্যাব-১৭ টহল দল মোতায়ন আছে। ভোটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাড়ে ৪ হাজার নিরাপত্তাকর্মী কাজ করছেন।


banner close