মনোবিদ-সমাজবিজ্ঞানীরা প্রায়ই বলে থাকেন, স্বামী-স্ত্রীর কলহ বা বিচ্ছেদের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হয় তাদের সন্তানেরা। বিশেষ করে সন্তান যদি হয় শিশু। এমনই এক পরিণতির শিকার জামালপুরের শিশু সুমির। বিচ্ছেদের পর আলাদা সংসার করছেন তার মা-বাবা। সুমির থাকছিল তার নানির কাছে। কিন্তু এখন নানিও রাখছেন না শিশুটিকে। শেষ পর্যন্ত তার দায়িত্ব নিয়েছেন জামালপুর পৌরসভার মেয়র ছানুয়ার হোসেন ছানু।
জামালপুর শহরের পশ্চিম ফুলবাড়িয়া এলাকায় নানার বাড়ি থেকে গত ১১ জানুয়ারি ‘হারিয়ে যায়’ সুমির। পরে তাকে খুঁজে পান শহরের ভ্যানগাড়ি চালক জুয়েল মিয়া। তিনি শিশু সুমিরকে ৯ দিন তার কাছে রেখে ঠিকানা খোঁজ করেন। এরপর মঙ্গলবার সকালে নানি ফরিদা বেওয়ার কাছে সুমিরকে ফিরিয়ে দিতে যান। কিন্তু ‘অভাবের সংসারে’ নাতিকে নিতে অস্বীকার করেন ফরিদা।
এ বিষয়ে ভ্যানগাড়ি চালক জুয়েল মিয়া দৈনিক বাংলাকে বলেন, অনেক খোঁজাখুজির পর নানা-নানির সন্ধান পেয়ে তাদের কাছে দিতে গেলেও তারা নিতে অস্বীকার করেন।
জুয়েল মিয়ার ভাষ্য, তার কাছে শিশুটির নানি ফরিদা বেওয়া বলেন, সুমিরের বাবা আক্কাস অটোবাইক চালক। মায়ের নাম সুফিয়া। তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয় বেশ কয়েক বছর আগে। আক্কাস আলাদা সংসার পাতেন এবং কোনোদিন সন্তানের খোঁজ নেননি। সুফিয়াকেও আরেক জায়গায় বিয়ে দেয়া হয়। এরপর থেকে আমি সুমিরকে লালন-পালন করে আসছিলাম।
শিশুটিকে ঘরে ফেরত না নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, অভাবের সংসারে নিজের খাওনই জোগাড় করতে পারি না, নাতিকে পালবো ক্যামনে?
আক্কাসের ঠিকানা বা পরিচয় জানতে চাইলেও ফরিদা বেওয়ার কাছে নেই বলে জানান।
পরে ভ্যানচালক জুয়েল মিয়া শিশুটিকে নিয়ে পৌর মেয়র ছানুয়ার হোসেন ছানুর কাছে যান। শিশু সুমিরের এই পরিণতি শুনে মর্মাহত হন মেয়র। ছানু নিজেই শিশুটির দায়িত্ব নেন।
এ বিষয়ে মানবাধিকারকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, শিশুটির দায়িত্ব নিয়ে মেয়র ছানুয়ার হোসেন ছানু মানবতার উজ্জ্বল নজির গড়েছেন। মেয়রের মতো এভাবে দায়িত্বশীল লোকজন যদি কুড়িয়ে পাওয়া বা হারিয়ে যাওয়া পথশিশুদের পাশে দাঁড়ান, সেটা সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ বিষয়ে জামালপুর পৌরসভার মেয়র ছানুয়ার হোসেন ছানু দৈনিক বাংলাকে বলেন, আমি সুমিরের জীবন কাহিনি শুনে দায়িত্ব নেয়ার সিদ্ধান্ত নেই। তাকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবো। একদিন বড় হয়ে শিশু সুমিরই অবহেলিত শিশুদের পাশে দাঁড়াবে, সামাজিক ও মানবিক কাজ করে সমাজে আলো ছড়াবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
সদ্য ঘোষিত ‘ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ-২০২৬’ কে ব্যবসা-বিরোধী ও ‘কালো অধ্যাদেশ’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছেন এই খাতের শীর্ষ নেতা ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা। রোববার (৪ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই নতুন অধ্যাদেশ কার্যকর হলে দেশের প্রায় পাঁচ হাজার ট্রাভেল এজেন্সি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হবে। আটাবের সাবেক সভাপতি মনজুর মোর্শেদ মাহবুব সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন এবং এই আইনের বিভিন্ন ধারা কীভাবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করবে তা তুলে ধরেন।
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) প্রকাশিত এই অধ্যাদেশের গেজেটে এমন কিছু বিধান রাখা হয়েছে যা সাধারণ এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম কার্যত অচল করে দেবে। বিশেষ করে, অন্য কোনো এজেন্সি থেকে টিকিট কেনাবেচা নিষিদ্ধ করার ফলে প্রায় পাঁচ হাজার নন-আয়াটা সদস্য বিপাকে পড়বেন। কারণ, বাংলাদেশে নিবন্ধিত পাঁচ হাজার আটশো এজেন্সির মধ্যে মাত্র আটশোটি সরাসরি বিমান সংস্থার টিকিট ইস্যু করতে পারে। বাকিদের অন্য এজেন্সির ওপর নির্ভর করতে হয়। এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে তারা বার্ষিক ৫০ লাখ টাকার বিক্রয় বিবরণী দেখাতে ব্যর্থ হবে এবং লাইসেন্স নবায়ন করতে পারবে না। এছাড়া অফলাইন এজেন্সির জন্য ১০ লাখ টাকা ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদানের শর্তটিকেও একটি অসম্ভব দাবি হিসেবে বর্ণনা করেছেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আটাব সদস্য কল্যাণ ঐক্যজোটের আহ্বায়ক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন টিপু রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে একই ঠিকানায় ব্যবসা পরিচালনার নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেন। তিনি জানান, একই অফিস ব্যবহারের ফলে অভিবাসী কর্মীদের সেবার খরচ কম থাকে; পৃথক অফিস বাধ্যতামূলক হলে বিদেশগামীদের ওপর খরচের বোঝা আরও বাড়বে। পাশাপাশি, শুনানি ছাড়া লাইসেন্স স্থগিত করার বিধান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিত করা হলে তা চরম হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
বঙ্গোপসাগর দিয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে নারী, শিশু ও পুরুষসহ ২৭৩ জনকে আটক করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। শনিবার (৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে সেন্টমার্টিন দ্বীপ সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে বড় একটি অংশ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক বলে জানা গেছে। নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে রোববার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
নৌবাহিনী সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বঙ্গোপসাগরে টহলরত জাহাজ ‘বানৌজা স্বাধীনতা’ সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে প্রায় ৩০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি কাঠের বোটের সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে। নৌবাহিনীর জাহাজ থেকে বোটটিকে থামার সংকেত দেওয়া হলেও তারা পালানোর চেষ্টা করে। পরে ধাওয়া দিয়ে বোটটি আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, একটি দালালচক্রের মাধ্যমে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছিল। অভিযানে বোটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০ জন দালালকেও আটক করা হয়েছে।
উদ্ধার করা বোটটিতে জীবনরক্ষাকারী কোনো সরঞ্জাম বা পর্যাপ্ত খাদ্য ও পানীয় ছিল না। নৌবাহিনী জানিয়েছে, ন্যূনতম নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই গভীর সমুদ্রে এমন যাত্রা বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের কারণ হতে পারতো। নৌবাহিনীর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের ফলে সম্ভাব্য সেই প্রাণহানি ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। আটককৃত ব্যক্তি ও বোটটি পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বর্তমানে দেশে খাদ্যের মজুত পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে খাদ্য সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই। রোববার (৪ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি উল্লেখ করেন, গত পাঁচ বছরের তুলনায় বর্তমানে সরকারি গুদামগুলোতে খাদ্যশস্যের মজুত সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। উপদেষ্টার দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৬ সালের শুরুতেই সরকারি গুদামে ২০ লাখ ২৭ হাজার ৪২০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য জমা ছিল, যার বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে চাল ও গম।
দেশের গমের চাহিদা ও উৎপাদন প্রসঙ্গে আলী ইমাম মজুমদার জানান, প্রতি বছর দেশে গমের চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন হলেও অভ্যন্তরীণ উৎপাদন হয় মাত্র ১০ লাখ মেট্রিক টন। ফলে চাহিদার সিংহভাগ মেটাতে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। তবে চালের ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদনই প্রধান উৎস এবং এরই মধ্যে কিছু চাল আমদানি করা হয়েছে ও আরও কিছু আমদানির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। যদিও এই মুহূর্তে চাল আমদানির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ বলা সম্ভব নয়, তবে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার আমদানির প্রয়োজনীয়তা কম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ভারত ও বাংলাদেশের বর্তমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে খাদ্য উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, দুই দেশের অর্থনৈতিক লেনদেনে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তিনি বলেন, ভারত থেকে চাল আমদানি এবং বাংলাদেশের পণ্য ক্রয়ের বিষয়টি বাজারব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল এবং এই বাণিজ্য কার্যক্রম বর্তমানে স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। রাজনৈতিক বিষয়কে বাণিজ্যের সাথে গুলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বাজারদর ও আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, গত বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চালের দাম কিছুটা বাড়লেও সরকারের সময়োপযোগী প্রস্তুতির ফলে বর্তমানে তা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। তিনি আশা করেন যে, পর্যাপ্ত মজুতের কারণে এই স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। এছাড়া সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি নিশ্চিত করেন যে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো ঘাটতি নেই এবং নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে তিন অতিরিক্ত সচিবকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি দপ্তরে পদায়ন করেছে সরকার। রোববার (৪ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এই নতুন নিয়োগ ও পদোন্নতির আদেশ নিশ্চিত করা হয়। সরকারের এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
নতুন এই আদেশ অনুযায়ী, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত অতিরিক্ত সচিব মো. সাইদুর রহমান খানকে সচিব পদে পদোন্নতি প্রদান করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনরত অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান খানকে সচিব পদে উন্নীত করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
এ ছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল আলমকেও সচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। তাকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত এই প্রজ্ঞাপনগুলোর মাধ্যমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই তিন প্রশাসনিক দপ্তরে নতুন নেতৃত্বের যাত্রা শুরু হলো।
সুন্দরবনের পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়া একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ বাঘকে সফলভাবে উদ্ধার করেছে বনবিভাগের একটি বিশেষ দল। রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে বাঘটিকে ‘ট্রানকুইলাইজার গান’ ব্যবহার করে ইনজেকশন পুশ করার মাধ্যমে অচেতন করে ফাঁদ থেকে মুক্ত করা হয়। বনবিভাগ সূত্র জানায়, মোংলার শরকির খাল এলাকা থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার গভীরে বাঘটি কয়েকদিন ধরে আটকে ছিল। শনিবার দুপুরের দিকে বাঘটি ফাঁদে পড়ার খবর প্রথম বনবিভাগের নজরে আসে এবং এরপর থেকেই নিবিড় উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। উদ্ধারকৃত বাঘটি কেবল পূর্ণবয়স্কই নয় বরং এটি একটি পুরুষ বাঘ, যা দীর্ঘ চার-পাঁচ দিন ধরে ফাঁদে আটকে থাকায় শারীরিকভাবে বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বাঘটির সামনের বাম পা শিকল সদৃশ ফাঁদে আটকে থাকায় সেখানে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
উদ্ধারকাজটি সফল করতে ঢাকা থেকে ভেটেরিনারি সার্জনসহ একটি বিশেষ দল এবং খুলনা থেকে বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। উদ্ধার অভিযান শেষে বাঘটিকে একটি মজবুত খাঁচায় বন্দি করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য খুলনায় বনবিভাগের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেসকিউ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির জানিয়েছেন, বাঘটি দীর্ঘ সময় আটকে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে আপাতত প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। খুলনার রেসকিউ সেন্টারে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়ার পর বাঘটি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলে তাকে পুনরায় বনে অবমুক্ত করা হবে কি না, সে বিষয়ে বনবিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিকারিদের এমন অবৈধ তৎপরতা সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার জাহানপুর গ্রামে বসবাস ৫০ বছর বয়সি মসুদা বেগমের। জন্ম থেকেই তিনি স্বাভাবিকভাবে দাঁড়িয়ে হাঁটতে পারেন না। শুধু হাঁটতে পারা নয়, সে একজন বাকপ্রতিবন্ধীও। দুটি হাত ও দুটি পা ভর করে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলাই তার জীবনের একমাত্র ভরসা। এইভাবেই প্রতিদিন তিনি লড়াই করে টিকে আছেন।
মসুদার জীবন যেন দুঃখ আর সংগ্রামের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। অন্যদের মতো সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে হাঁটা তার কল্পনার বাইরের বিষয়। গ্রামের আঁকাবাঁকা পথ ধরে তিনি যখন দুই হাত ও দুই পা মাটিতে ঠেকিয়ে সামনের দিকে এগোন, তখন অনেকেই বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন, আবার কেউ কেউ চোখ ফিরিয়ে নেন। কিন্তু কারও দৃষ্টি তার জীবনের যন্ত্রণাকে লাঘব করতে পারেনি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মসুদা জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। সে পাঁচ বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবার বড়। বর্তমানে বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। একমাত্র ভাইয়ের কাছেই তার আশ্রয়। তার ভাই দিনমজুরি কাজ করেন। সংসার চালানোয় দায়, বোনের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হয় ভাইটির। কেউ দয়া করে কিছু দিলে তা দিয়েই কোনরকম দিন কাটাতে পারেন।
প্রতিবেশী মাওলানা শাহে আলম বলেন, ‘চিকিৎসার অভাবে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। মসুদা সরকারি কোন সহায়তাও পান না। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সহায়তার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পেলে হয়তো একটি হুইলচেয়ার বা অন্তত চলাচলের উপযোগী কোনো সহায়ক যন্ত্র পেতে পারতেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্য আর অবহেলার কারণে সে স্বপ্ন আজও অধরাই রয়ে গেছে।’
একই এলাকার ইউনুস বলেন, ‘মসুদা বেগম মায়ের গর্ভ থেকেই প্রতিবন্ধী। একজন ভাই আছে, তাও অসহায়। মানুষ কিছু সহযোগিতা করলে খরচ চলে। সে সরকারি কোন সহযোগিতা পায়না। তবে সরকার সহযোগিতা করলে কোন রকম চলতে পারবে।
মসুদা বেগমের ভাই বেল্লাল বলেন, ‘আমার পাঁচ বোন ও আমি সবার ছোট। প্রতিবন্ধী বোনটি সবার বড়। আমার বোন কোন ধরনের ভাতা পাচ্ছে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কোন সহযোগিতা করেনি। আমি একা মানুষ কাজ করে নিজের সংসার চালাই, এবং বোনেরও খরচ চালাই। সরকারের কাছে সাহায্য চাই।’
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মামুন হোসাইন বলেন, ‘বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। মসুদাকে সরকারি ভাতার আওতায় আনা হবে।’
ষাটের দশকে নারী শিক্ষা ছিল অনেক কঠিন। তেমনটা ছিল না পাঠ চুকানোর বিদ্যালয়। সহপাঠীরও ছিল অভাব। বিদ্যালয়ে সহপাঠী পাওয়া যেমন ছিল কষ্ট সাধ্য, তেমনি পাঠ চালিয়ে যাওয়াও ছিল আরো কঠিন। অভাব অনটন খাদ্য পোশাক পরিচ্ছদের মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণটাও ছিল অনেক পরিবারের পক্ষে সাধ্যের বাহিরে। এমন সময় নিজের পড়াশোনা চালিয়ে নিজেরদের জাতিগোষ্ঠীর মানুষদের শিক্ষা প্রদান করা আলো ছড়ানোর মধ্যে একজন হলো জাসিন্তা নকরেক। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ে। শালবন এলাকার টেলকি মান্দি গ্রামের এই নারী ১৯৬৩ সালে জন্ম গ্রহন করে। তার বাবার নাম স্বর্গীয় মার্টিন হাদিমা। ঐ সময় শালবন ছিল ঘন অরণ্যেঘেরা। নানা বৃক্ষ রাজি লতা পাতা নানা জীবজন্তুর অভয়ারণ্য। হতো জুম চাষও। তার বেড়ে উঠা শৈশব কৈশোর জীবন যৌবনের সবটুকু সময় কেটেছে লাল মাটির এ গড় অঞ্চলে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মধুপুর শহর থেকে ১০/১২ কিলোমিটার দূরে অরণখোলা ইউনিয়নের টেলকি গ্রামে গিয়ে তার সাথে কথা বলে জানা যায় জাসিন্তা নকরেকের আলো ছড়ানোর গল্প। ২০২৫ সালে তিনি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সমাজ সেবায় অসামান্য অবদান রাখায় নির্বাচিত হয়ে অর্জন করেছে শ্রেষ্ঠ জয়িতা সম্মাননা।
জাসিন্তা নকরেক তার গ্রাম থেকে বন পাড়ি দিয়ে পায়ে হেঁটে পড়তে আসতেন। বন পাড়ি দিতে ভয় হতো। কখনও সাথী পাওয়া যেত, কখনো পাওয়া যেত না এমন পরিস্থিতি নিত্যদিন আসতে হতো পড়তে। ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে ১৯৬৯ সালে ৫ম পাশ করে ষষ্ঠ শ্রেনী ভর্তি হন জলছত্র কর্পোস উচ্চ বিদ্যালয়ে। ঐ সময় তার মা অসুস্থ ও দেশে যুদ্ধ বাঁধার কারণে বিদ্যালয়ের যাতায়াত নিরাপদ না থাকায় পড়া বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় তার বোনের কাছে ১৯৭২ সালে সেলাই শিখে কাজ করে সংসারের ভাইবোনদের দেখাশোনা শুরু করে। মায়ের অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব পড়ে যায় তার উপর। এভাবে সংসারের কাজের পাশাপাশি ২৯৭৫ সালে আবার ভর্তি হয়ে অষ্টম পাশ করে নবাব গঞ্জের গোল্লা মিশন সেন্ট গালর্স হাইস্কুলে ভর্তি হয়ে এসএসসি পাশ করে। নিজ এলাকায় এসে কর্পোস খ্রীস্টি হাইস্কুলে এসে শিক্ষকতা শুরু করে। পরে মধুপুর কলেজ হয়ে ট্রান্সফার হয়ে চলে যায় টাঙ্গাইল কুমুদিনী কলেজে।
তিনি জানান, নিজেদের এলাকায় তেমন স্কুল না থাকায় ১৯৮৩ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে শুরু করে শিক্ষকতা। প্রথমে সাইনামারী ও পরে বেরিবাইদ মিশনারী স্কুলে। এভাবে গায়রা, টেলকি, গেৎচুয়া ও পরে আবার গায়রা মিশনারী স্কুলে এখন তিনি টেলকি মিশনারী স্কুলে শিক্ষকতা পেশায় রয়েছে। ৪৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনে তিনি আলো ছড়িয়েছে বন এলাকায় নিজের জাতিগোষ্ঠীসহ স্থানীয়দের মাঝে। শুধু শিক্ষকতাই নয় সামাজিক সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে রেখেছে অবদান।
তিন মেয়ে স্বামী নিয়ে তার জীবন সংসার। তিন মেয়েকে করেছে উচ্চ শিক্ষিত। বড় মেয়ে ঢাকায় ব্যবসা করে। মেঝো মেয়ে ব্যুরো বাংলাদেশের প্রশাসন বিভাগে কর্মরত। ছোট মেয়ে জাপানে পড়াশোনা শেষ করে ঐ দেশেই চাকরি করছে।
এছাড়াও তিনি গারো সম্প্রদায়ের নারীদের বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছে। তাদের নিজেদের বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন কর্মকান্ডে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রেখে যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।
জাসিনাতা নকরেক জানান, শালবনের পাশেই তার বেড়ে উঠা। এখানেই তার মায়ের বাড়ি। পাশেই তার দাদার বাড়ি। পাশের গ্রাম থেকে তাদের প্রথা অনুযায়ী জামাই এনেছে রাজাবাড়ি গ্রা থেকে। তিনি বলেন তার মায়ের সাথে মধুপুর বনে জুম চাষ করতে যেত। জুমের অনেক কথাই তার মনে পড়ে। জুমে ধান, দেওধান, কাউন, ভুটা, বরবটি, করল্লা, তিল, তুলা, শিমুল, কচুসহ বিভিন্ন ফসল চাষ হতো। এখন আর জুম চাষ নেই রয়েছে তার মনের স্মৃতিতে।
তিনি আরো জানান, মানুষ সৃষ্টি সেরা হিসেবে ভালো মানুষ হওয় দরকার। সৎ ও সহযোগিতা মূলক মনোভাব থাকা দরকার। যেন প্রত্যেকটা পরিবার আর্দশ পরিবার হিসেবে গড়ে উঠে। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে আধ্যাত্মিক নৈতিকতা মূলক পরিবার সমাজ যেন গড়ে উঠে। এতে সুন্দর হবে গ্রাম। শহর দেশ যেন ভালো সুন্দর হয়। সব মানুষ যেন ভালো মানুষ হয়।
কারো ক্ষতির মনোভাব যেন না থাকে, পরামর্শ দিয়ে যেন সহযোগী হয়, সুশিক্ষিত হয়ে গড়ে উঠে আগামী প্রজন্ম এমনটাই প্রত্যাশার কথা জানান তিনি।
জাসিন্তা নকরেকের স্বামী শৈলেস দালবত জানান, তারা স্বামী স্ত্রী মিলে এখন বাড়ি সংসার করছে। তিনি কৃষি কাজ করে, তার স্ত্রী শিক্ষকতা করে। মেয়েরাও চাকরি ব্যবসা করে। সুখের সংসার। মানুষের বিপদ আপদে জাসিন্তা ছুটে যায়। এগিয়ে আসে সমাজের বিভিন্ন কাজে। তার এমন কাজ ও অর্জনে তিনি খুশি বলে জানান।
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামানের নেতৃত্বে মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে জেলার সার্বিক চিত্রে এসেছে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত যোগাযোগ ব্যবস্থা, অপরিচ্ছন্ন নগর পরিবেশ, পরিবেশ দূষণ ও চা-শিল্পে অনিয়ম-সবকিছুতেই ধীরে ধীরে ফিরছে শৃঙ্খলা। প্রশাসনের ধারাবাহিক উদ্যোগে পঞ্চগড় এখন উন্নয়ন ও সুশাসনের নতুন পথে হাঁটছে। এক সময় পঞ্চগড় শহরের সড়কগুলো ছিল চলাচলের অনুপযোগী। ধুলাবালি, বালির স্তূপ ও ময়লা আবর্জনায় শহরবাসী চরম দুর্ভোগে পড়ত।
বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে ধুলার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হতো। বর্তমান জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় প্রতিদিন শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে নিয়মিত পানি ছেটানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ধুলাবালি ও আবর্জনা পরিষ্কারে জোরদার করা হয়েছে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম।
জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে নগর পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। রাস্তার দুই পাশে দীর্ঘদিন জমে থাকা বালির স্তূপ ও ময়লা পরিষ্কার করা হচ্ছে নিয়মিতভাবে। ফলে শহরের পরিবেশ যেমন পরিচ্ছন্ন হচ্ছে, তেমনি নাগরিকদের ভোগান্তিও কমে আসছে।
পরিবেশ সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় নিয়ে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
ইতোমধ্যে কয়েকটি অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে সেগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও জেলা প্রশাসকের সক্রিয় ভূমিকা লক্ষ্য করা গেছে।
পঞ্চগড় ট্রাক টার্মিনালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিক্ষিকা নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিক্ষোভে নামলে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
একইভাবে পঞ্চগড় রেলস্টেশনের একটি রেলক্রসিংয়ে মাইক্রোবাসচালক নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকাবাসী রেল চলাচল বন্ধ করে দিলে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে দ্রুত রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।
এসব ঘটনায় প্রশাসনের দ্রুত সিদ্ধান্ত ও মাঠপর্যায়ের উপস্থিতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়িয়েছে।
উন্নয়ন ও শৃঙ্খলার পাশাপাশি জেলার অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক খাত চা-শিল্পেও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সবুজ চা-পাতার মূল্য নির্ধারণী সভায় চা-শিল্প সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা, কারখানা মালিক ও চা-চাষিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে পঞ্চগড়ে প্রতি কেজি সবুজ চা-পাতার সর্বনিম্ন মূল্য ২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এতে দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্যমূল্য বঞ্চিত চা-চাষিরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে ইউনিয়ন পর্যায়ে সব চা-চাষিকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। আগামী দুই মাসের মধ্যে এই নিবন্ধন কার্যক্রম বাধ্যতামূলকভাবে শেষ করতে হবে। নিবন্ধন না করলে কোনো চা-চাষি সরকারি সার ও কৃষি সহায়তা পাবেন না। একই সঙ্গে নিবন্ধনবিহীন চা-চাষিদের উৎপাদিত সবুজ চা-পাতা কোনো কারখানা কিনতে পারবে না।
নিবন্ধিত চা-চাষিদের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এতে উৎপাদন বৃদ্ধি ও মানোন্নয়ন সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ছাড়া সবুজ চা-পাতার কর্তন ও বিপণন নিয়ন্ত্রণে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সবুজ চা-পাতার কর্তন কার্যক্রম শেষ করতে হবে।
নির্ধারিত সময়ের পর কোনো কারখানা সবুজ চা-পাতা কিনতে পারবে না। নিয়ম অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট কারখানার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ৩১ ডিসেম্বরের পর সংগৃহীত সবুজ চা-পাতা দিয়ে গ্রিন টি উৎপাদনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ চা বোর্ড প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জেলা প্রশাসনের এসব সমন্বিত ও সময়োপযোগী উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড় অদূর ভবিষ্যতে ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও চা-শিল্পে একটি শক্তিশালী, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং সম্ভাবনাময় অঞ্চলে পরিণত হবে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, প্রশাসনের দৃশ্যমান উপস্থিতি ও কঠোর তদারকি জেলার উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চার করেছে।
রাজধানী ঢাকায় গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং পরিবেশবান্ধব যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) উদ্ভাবিত তিন চাকার ই-রিকশার পাইলটিং কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার সকালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আফতাবনগর এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের জিগাতলা এলাকায় পৃথক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বিশেষ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ঢাকার সড়কগুলোতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকগুলোকে একটি সুশৃঙ্খল এবং বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষিত কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হলো। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন উদ্ভাবিত এই ই-রিকশাটি সাধারণ ব্যাটারিচালিত রিকশার তুলনায় অনেক বেশি আধুনিক এবং নিরাপদ। বুয়েটের প্রকৌশলীদের তৈরিকৃত এই নকশায় উন্নত ব্রেকিং সিস্টেম এবং কার্যকর গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। পরিবেশের কথা মাথায় রেখে এতে ব্যবহার করা হয়েছে ৩৮ ভোল্টের লিথিয়াম ব্যাটারি, যা একবার পূর্ণ চার্জে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। পাইলটিং পর্যায়ে এই রিকশাগুলোর ব্রেকিং সক্ষমতা, আরোহীর আরাম এবং চালকের নিয়ন্ত্রণ দক্ষতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান জানিয়েছেন যে, ঢাকার বাস্তবতায় যানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার কোনো বিকল্প নেই এবং এই কর্মসূচির সফলতার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সড়ক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এই ই-রিকশাগুলোতে ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির ফলে রিকশাগুলো নির্ধারিত এলাকার বাইরে বা কোনো প্রধান সড়কে প্রবেশ করতে পারবে না। এছাড়া একটি নির্দিষ্ট এলাকায় কতটি রিকশা চলাচল করবে, তা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নির্ধারণ করে দেবে। যাতায়াত ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজড করার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগে স্মার্ট প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে বলে জানান ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। সরকারের লক্ষ্য হলো ধাপে ধাপে বিদ্যমান সব প্যাডেল ও অবৈধ ব্যাটারি রিকশাকে এই আধুনিক ই-রিকশায় রূপান্তর করা।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ই-রিকশা চালকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন প্রায় ২৪ হাজার রিকশাচালককে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে এবং লাইসেন্স ইস্যু করেছে। ঢাকা উত্তরের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ এবং দক্ষিণের প্রশাসক মো. মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন যে, শুধুমাত্র লাইসেন্সধারী প্রশিক্ষিত চালকরাই নির্ধারিত এলাকায় এই যান চালাতে পারবেন। প্রাথমিক পর্যায়ে আফতাবনগর ও ধানমন্ডি এলাকায় নতুন ই-রিকশা এবং মতিঝিল এলাকায় রূপান্তরিত ই-রিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতার আলোকে ভবিষ্যতে পুরো ঢাকা শহরে এই সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে বলে সরকার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
ভোলার বোরহানউদ্দিনে শিক্ষা খাতে সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করল আল-হাইয়া বিজ্ঞান স্কুল। নতুন বছরের তৃতীয় দিন শনিবার (৩ জানুয়ারি) বোরহানউদ্দিন দক্ষিণ বাস স্টান্ড সংলগ্ন এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ভবনে শিক্ষার্থী ও অভিবাকদের নিয়ে প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়।
বই উৎসব ও দোয়া অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন অত্র প্রতিষ্ঠানের সভাপতি কাজী মো: শহীদুল আলম নাসিম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হামিম আহমেদ, সিনিয়র অফিসার জনতা ব্যাংক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মো: জাফরউল্লাহ, (অবঃপ্রাপ্ত) ম্যানেজার কৃষি ব্যাংক, আঃ হাই সহ সভাপতি আল-হাইয়া বিজ্ঞান স্কুল।
উদ্বোধনের পর দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ সফলতা কামনা করা হয়। পরে প্রধান অতিথিসহ বিশেষ অতিথিরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শ্রেণিকক্ষসহ সার্বিক বিষয়াদি পরিদর্শন করেন। এর আগে স্কুলের শিক্ষার্থীরা কোরআন তেলওয়াত, ছড়া, কবিতা আবৃত্তি সহ বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আল-হাইয়া বিজ্ঞান স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিম বলেন, ‘আমি মনে করি একটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সফলতা নির্ভর করে চারটি স্টেকহোল্ডারের ওপর। এর মধ্যে প্রথম স্টেকহোল্ডার ম্যানেজমেন্ট, দ্বিতীয় স্টেকহোল্ডার শিক্ষক ও স্টাফরা, তৃতীয় স্টেকহোল্ডার শিক্ষার্থীরা এবং চতুর্থ স্টেকহোল্ডার হচ্ছেন অভিভাবকরা। এই সবগুলো একত্রে মিললেই একজন শিক্ষার্থী সফল হয়ে উঠবে। শিশুদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির বিকাশ ঘটানো এবং নৈতিক অবক্ষয় রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রত্যয় নিয়ে এ স্কুল পরিচালনার কথা জানান তিনি'।
‘সাইন্স উইথ মোরালিটি’—এ আদর্শ ধারণ করে জাতীয়মানের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার অবারিত সুযোগ নিয়ে বোরহানউদ্দিন পৌর শহরের দক্ষিণ বাস স্টান্ড সংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান প্লাজার দোতলার ওপর আধুনিক ও স্থাপত্যর ছোয়ায় গড়ে উঠেছে স্কুল ক্যাম্পাস। জাতীয় শিক্ষাক্রমের বাংলা ভার্সনে স্কুলে শিশু থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকার্যক্রম চালু হচ্ছে। এ স্কুলের কারিকুলাম এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে যেন শিক্ষার্থীদের প্রতিভার বিকাশ ঘটে। এতে তারা আধুনিক জীবনের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের বাধা মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য দক্ষ হয়ে গড়ে উঠবে।
স্কুল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, আল-হাইয়া বিজ্ঞান স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যাধুনিক ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হরা হয়েছে। ভবনটিতে শিশু থেকে দশম শ্রেনী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পৃথক ক্লাস রুমের ব্যাবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া চারপাশে রয়েছে খোলা বারান্দা। এতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দে চলাফেরা করতে পারবেন। পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা রয়েছে শ্রেণিকক্ষে।
সরেজমিন স্কুল ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, সুপ্রশস্ত লম্বা সিঁড়ি উঠে গেছে দোতলায়। দোতলায় উঠে হাতের ডান পাশে রয়েছে সাইন্স ল্যাব ও কম্পিউটার ল্যাব। স্কুলটিকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে, অঙ্কনের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বাবা-মায়ের হাত ধরে প্রথম স্কুলে আসা ছোট্ট শিশুটির দুরন্ত শৈশব, উচ্ছলতায় ভরা কৈশোর পেরিয়ে তারুণ্যের উদ্দীপনায় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যাওয়ার গল্প। এখানে হাত বাড়ালেই শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অন্বেষণ করে আলোকিত মানুষ হয়ে গড়ে উঠতে পারবে।
স্কুলে প্রবেশ করার জন্য শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল আইডি কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ কার্ড ব্যবহার করে শিক্ষার্থী যখন স্কুলের অভ্যন্তরে প্রবেশ করবে সাথে সাথে অভিবাবকের কাছে মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ চলে যাবে। স্কুল ছুটির পর অনুরুপ পদ্ধতি অনুসরন করা হবে। অভিভাবক ঘরে বসেই জানতে পারবে বাচ্চা কখন স্কুলে প্রবেশ করেছে কখন ত্যাগ করেছে।
অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সখ্য গড়ে তুলতে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। এর ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিসর বিস্তৃত হবে এবং তারা আরও বেশি দক্ষ হয়ে গড়ে উঠবে।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর সীমান্তবর্তী এলাকায় বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) ক্যাম্প থেকে এক সদস্যের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দেড়টার দিকে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন গঙ্গারহাট বিওপি ক্যাম্প থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি ও পুলিশ কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বিজিবির গোয়েন্দা বিভাগ ও পুলিশ পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করছে।
নিহত বিজিবি সদস্য নাসিম উদ্দিন (২৩) ঝিনাইদহ সদর উপজেলার খাজুরা গ্রামের বাবুল মণ্ডলের ছেলে।
বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাতে নাসিম সীমান্ত টহলে যাওয়ার উদ্দেশে নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরে অস্ত্র গ্রহণ করেন। পরে ক্যাম্পের ব্যারাকের পূর্ব পাশের বাউন্ডারির ভেতরে অবস্থান নেন তিনি। কিছু সময় পর হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা যায়।
গুলির শব্দ শুনে সহকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং নাসিমকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পরে গতকাল শুক্রবার সকালে ফুলবাড়ী থানা পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গঙ্গারহাট বিজিবি ক্যাম্পটি সড়ক সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। ক্যাম্পটির কিছু দূরেই ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) একটি ক্যাম্প রয়েছে। গভীর রাতে হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ঘুম থেকে জেগে উঠে ক্যাম্পের দিকে ছুটে যান। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে বিজিবি সদস্যরা তাদের ক্যাম্পের ভেতরে প্রবেশ করতে দেননি। পরে জানা যায়, এক বিজিবি সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘নিহত সৈনিক নাসিম অবিবাহিত ছিলেন। তিনি পারিবারিক কিছু সমস্যায় ভুগছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে এসব বিষয়ের বিস্তারিত তিনি সহকর্মীদের জানাননি।’
তিনি আরও বলেন, ‘নাসিম বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে বিজিবির গোয়েন্দা বিভাগ। তদন্তে অন্য কোনো কারণ বা তথ্য পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মেহেদী ইমাম জানান, নিহত সৈনিকের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশ মরদেহ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করলে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ফুলবাড়ী থানার ওসি মাহমুদুল হাসান নাঈম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার না হলে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করবে বলে জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বেলা আড়াইটার দিকে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি থেকে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এই ঘোষণা দেন।
এর আগে জুমার নামাজ শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীরা। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার হয়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে দিয়ে শাহবাগে এসে শেষ হয়। সেখানে বক্তব্য দেন আবদুল্লাহ আল জাবের। তার বক্তব্য শেষে শাহবাগে অবস্থান নিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীরা। এতে শাহবাগ মোড়ের এক পাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে হাদি হত্যার বিচার দাবিতে শাহবাগে কর্মসূচি পালন করছে ইনকিলাব মঞ্চ। এর মধ্যে ২৯ ডিসেম্বর ‘স্যালুটিং আওয়ার কালচারাল হিরো’ শিরোনামে অনলাইন প্রচার কর্মসূচির ঘোষণা দেয় ইনকিলাব মঞ্চ। এরপর আবার শুক্রবার (২ জানুয়ারি) শাহবাগে অবস্থান নেন তারা।
সরেজমিন দেখা যায়, শাহবাগে অবস্থান নিয়ে হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন।
ওসমান হাদিকে খুনের কারণ উল্লেখ করে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘ওসমান হাদি বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং ইনসাফের আন্দোলন শুরু করেছিল। ফলে অনেকেই মনে করেছে হাদিকে যদি এখনই হত্যা করা না যায় তাহলে পরবর্তী সময় তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। সীমান্তে লাশ ফেলা যাবে না। দিল্লির তাঁবেদারি করা যাবে না। সবকিছু একই সূত্রে গেঁথে তারপর হাদিকে হত্যা করা হয়েছে।’
খুনিদের গ্রেপ্তারে সরকারের সদিচ্ছা নেই উল্লেখ করে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘হাদিকে গুলি করা আজ ২১ দিন অতিবাহিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এই খুনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ২১ জনকেও সরকার গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। খুনিদের বাপ, মা, বোন, ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে। খুনের সঙ্গে সম্পৃক্ত, এমন একজনকেও তারা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়নি। গ্রেপ্তারের বিষয়ে কোনো সদিচ্ছা আছে বলেও আমাদের কাছে মনে হচ্ছে না।’
আবদুল্লাহ আল জাবের আরও বলেন, ডিএমপি কমিশনার সংবাদ সম্মেলন করে বলে যে ওসমান হাদি খুনের সঙ্গে জড়িত দুজনকে মেঘালয় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। মেঘালয় পুলিশ বলছে, কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। তার মানে হলো ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
সরকার পতনের ঘোষণা দিয়ে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘আমাদের কথা খুব সুস্পষ্ট। সরকার ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় চেয়েছে, আমরা ৩০ কার্যদিবস সময় দিয়েছিলাম। আর বাকি আছে ২২ দিন। আমরা ওই কার্যদিবস ধরেই আগাইতেছি। আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে যদি সরকার এই খুনের বিচারকার্য সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয় তাহলে আমরা ৩০ কার্যদিবসের পর সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করব।’
৭ জানুয়ারির মধ্যে শুধু খুন যারা করেছেন, তারা নন, এই খুনের পেছনে যারা রয়েছেন, প্রত্যেককে চিহ্নিত করে অভিযোগপত্র দাখিল করার দাবি জানান আবদুল্লাহ আল জাবের।
আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য আজ শনিবার তারা সব রাজনৈতিক দলের কাছে যাবেন। তিনি বলেন, ‘যারা বাংলাদেশপন্থী তাদের কাছে যাব। যারা ভারতের তাঁবেদারি করে, তাদের কাছে যাব না। যত বাংলাদেশপন্থি সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে, প্রতিটির কাছে যাব। তাদের কাছে সহযোগিতা চাইব। তারা সহযোগিতা করলে আলহামদুলিল্লাহ, না করলে আমরা রাজপথে থাকব।’
সদ্যবিদায়ী বছরের মতো নতুন বছরেও গ্যাস সংকটি দিয়ে শুরু হলো। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতি, দেশীয় উৎস থেকে পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়া, এলএনজি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি এবং সমুদ্রবক্ষে অনুসন্ধান কার্যক্রমে স্থবিরতায় চাপে পড়া জ্বালানি খাত ভোগাচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এদিকে, লাইনে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সুযোগ নিচ্ছেন এলপিজি খাতের ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী সিন্ডিকেট। সরবরাহ সংকটের অজুহাত তুলে তারা দাম নিয়ে এক রকম নৈরাজ্যে মেতে উঠছেন; কাটছেন ভোক্তাদের পকেট।
গত কয়েক দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ১২ কেজি গ্যাসের সিলিন্ডার ১ হাজার ৮৫০ থেকে ২ হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভোক্তাদের সব সময় বিইআরসির নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি গুনতে হলেও এবার দাম বাড়া সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। চড়া দামের পাশাপাশি সংকটও তীব্র করে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতে স্বাভাবিকভাবে পাইপ লাইনের গ্যাস সরবরাহ কমে যায় বলে সিলিন্ডারের গ্যাসের চাহিদা বাড়ে। কিন্তু সেই তুলনায় বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। চাহিদা ও জোগানের এই অসামঞ্জস্যের সুযোগ নিয়ে খুচরা পর্যায়ে দাম অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে ভোক্তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
১২০০ টাকার এলপিজি ১৮০০ টাকায়ও মিলছে না বলে জানালেন রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা কাওসার খান। তিনি জানান, গত ২৪ ডিসেম্বর সকালে এলপিজি শেষ হওয়ার পর পাড়ার দোকানে ফোন করেন কিন্তু সেখানে এলপিজি সিলিন্ডার নেই। এরপর আরেক দোকানে ফোন করেও পাননি।
শেষে আরেকটি দোকানে একটি সিলিন্ডার পান। কাওসার খান বলেন, ‘এক সিলিন্ডারের দাম দিতে হয়েছে দেড় হাজার টাকা। হঠাৎ এমন দাম বৃদ্ধি চিন্তা করা যায় না।’
কল্যাণপুর নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা ফারজানা নীলা বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর সিলিন্ডার দোকানে খোঁজ করে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর ১২ কেজির এক সিলিন্ডার এলপিজি পাওয়া গেলেও দাম দিতে হয়েছে ১ হাজার ৮০০ টাকা। নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ টাকার বেশি গুনতে হয়েছে তাকে।
সিলিন্ডার খুঁজতে গিয়ে ৩১ ডিসেম্বর একই রকম বিপদে পড়েন মিরপুরের কাজীপাড়ার আসমা আখতার। তিনি ১ হাজার ৮০০ টাকায়ও পাননি। তিনি বলেন, ১২ কেজি এলপিজি কিনতে দিতে হয়েছে ২ হাজার ১০০ টাকা। অথচ ডিসেম্বরে সরকার নির্ধারিত এলপিজির দাম ১ হাজার ২৫৩ টাকা।
রাজধানীর মুগদাপাড়ার গৃহিণী মাহবুবা আলম সাথী জানান, ১২ কেজি এলপি গ্যাসের একটি সিলিন্ডার বিইআরসির নির্ধারণ করা দামে কখনোই কিনতে পারেন না। ২০০ টাকা বাড়তি গুনতে হলেও নিরুপায় হয়ে মেনে নেন। তবে গত মঙ্গলবার বাসায় ১২ কেজির সিলিন্ডার দিয়ে সরবরাহকারী ২ হাজার টাকা দাম চাইলে হতভম্ব হয়ে পড়েন তিনি। বিকল্প না থাকায় এক লাফে দেড় গুণ হওয়া দামই দিতে বাধ্য হন।
মাহবুবা আলম ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, বিইআরসি ডিসেম্বরে ১২ কেজি এলপিজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ২৫৩ টাকা নির্ধারণ করেছে। অথচ এই দাম মানছেন না বিক্রেতারা। তারা বিক্রি করছেন নিজেদের তৈরি বাড়তি দামে। এবার তো একেবারে নৈরাজ্য শুরু হয়েছে। তদারকিই যদি না থাকে, তাহলে দাম নির্ধারণ করে লাভ কী? এ ক্ষেত্রে সরকারের কঠোর তদারকি প্রয়োজন।
মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গ্যাস ব্যবহার না করেও প্রতি মাসে ১ হাজার ৮০ টাকা বিল নিচ্ছে তিতাস। এর ওপর সিলিন্ডারের জন্য আগে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়েছে। সে হিসাবে প্রতি মাসে গ্যাসের জন্যই প্রায় ৩ হাজার টাকা খরচ। এখন সেটাও বেড়েছে এক লাফে ৫০০-৬০০ টাকা। সিলিন্ডারের গ্যাস নিয়ে এই অরাজকতা কবে শেষ হবে?
রামপুরার বনশ্রীর বাসিন্দা আলী মোহাম্মদ বলেন, ‘১ হাজার ৮০০ টাকায় ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনেছি কয়েক দিন আগে। আগে কিছু কোম্পানি কিছুটা কম দাম রাখত। কিন্তু এখন সবারই এক দাম। দামের চেয়েও বড় সমস্যা হলো, অনেক দোকানে এখন গ্যাসসহ সিলিন্ডারই পাওয়া যাচ্ছে না।’
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মিত হয়েছে। আবাসিক খাতে গ্যাসের সংযোগ বন্ধ থাকায় এসব ভবনেও তিতাসের গ্যাসের সংযোগ নেই। এসব ভবনের বাসিন্দারাও রান্নার জন্য এলপি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। নিম্ন আয়ের অনেক মানুষও এখন এলপিজি-নির্ভর। ফলে বিপুল ভোক্তাশ্রেণিকে জিম্মি করে অধিক মুনাফার সুযোগ পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
অবশ্য দাম বাড়ার জন্য ব্যবসায়ীদের অজুহাত বরাবরের মতো সরবরাহের সংকটের। বনশ্রীর ‘আইডিয়াল এলপিজি’র স্বত্বাধিকারী ইউসুফ আলী বলেন, ‘আমরা এখন পাইকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত সরবরাহ পাচ্ছি না। কোম্পানিগুলো থেকে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। বিইআরসি ডিসেম্বরের নতুন দাম ঘোষণা করার পর সরবরাহ আরও কমে গেছে। শীত মৌসুমে গ্যাসের চাহিদা বাড়ে, কিন্তু সেই তুলনায় সরবরাহ না থাকায় বাজারে তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে।’ তিনি বলেন, পরিবেশক থেকে প্রতিটি ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৫২০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।
মোহাম্মদপুরের খুচরা বিক্রেতা বজলুর রহমান বলেন, পরিবেশকদের কাছ থেকে সময়মতো সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। আজ অর্ডার দিলে কয়েক দিন পর সরবরাহ পাওয়া যায়। সরকারি দাম ১ হাজার ২৫৩ টাকা হলেও পাইকারি পর্যায়ে কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকার বেশি দামে। ফলে তাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহকারী কোম্পানি ফ্রেশ এলপি গ্যাসের এরিয়া সেলস ম্যানেজার মো. আফজাল বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এলপিজি আমদানি কমেছে। এতে বাজারে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক কোম্পানির সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এলসি জটিলতার কারণে আমদানির সমস্যা হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।
গ্যাস সংকটে ৮ মাস ধরে বন্ধ সিইউএফএল, দৈনিক ক্ষতি ৩ কোটি: পেট্রোবাংলার তথ্যানুযায়ী, ২০২০ সালের এপ্রিলের পর এবার দেশে গ্যাসের সরবরাহ সর্বনিম্ন। এর মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে সরবরাহ হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। বাকিটা পূরণ হচ্ছে আমদানি করা এলএনজি থেকে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় যা খুব নগণ্য। এ ছাড়া দেশীয় কূপ খননের মাধ্যমে সহসা বাড়তি গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে স্থবির হয়ে আছে সমুদ্রবক্ষে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমও। ফলে এক চরম সংকটপূর্ণ অবস্থার মধ্য দিয়েই শুরু হলো গ্যাস খাতের বছরটি। এই অবস্থার মধ্যেই আগামীকাল রোববার বিইআরসির নতুন দাম ঘোষণার কথা রয়েছে।
বিইআরসি ও এলপিজি ব্যবসায়ীদের সংগঠন এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশ (লোয়াব) সূত্র বলছে, শীতের সময় বিশ্ববাজারে এলপিজির চাহিদা বেড়ে যায়। এতে দামও কিছুটা বাড়তি থাকে। এর সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে এলপিজি আমদানির জাহাজসংকট। নিয়মিত এলপিজি পরিবহনের ২৯টি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়েছে।
লোয়াবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও এনার্জিপ্যাকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন রশীদ বলেন, ডিসেম্বরে এলপিজি আমদানি কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ। সরবরাহের সংকটেই মূলত বাজারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না। তবু তারা পরিবেশকদের কাছে বিইআরসি নির্ধারিত দামে এলপিজি সরবরাহ করছেন। তবে খুচরা বিক্রেতারা তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
এই অবস্থার আগামীকাল রোববার চলতি মাসের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) নতুন মূল্য জানানো হবে। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, সৌদি আরামকো ঘোষিত জানুয়ারি (২০২৬) মাসের সৌদি সিপি অনুযায়ী, এই মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির মূল্য সমন্বয় সম্পর্কে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নির্দেশনা ওই বিকাল ৩টায় ঘোষণা করা হবে। গত ২ ডিসেম্বর সবশেষ সমন্বয় করা হয় এলপি গ্যাসের দাম। সে সময় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩৮ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ২৫৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আগামীকাল এলপিজির পাশাপাশি ঘোষণা করা হবে অটোগ্যাসের দামও।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ কর্পোরেশনের (পেট্রোবাংলার) তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে গ্যাসের সর্বোচ্চ চাহিদা রয়েছে চার হাজার মিলিয়ন বা ৪০০ কোটি ঘনফুট। বিপরীতে সরবরাহ রয়েছে দুই হাজার ৮ মিলিয়ন বা ২৮০ কোটি থেকে সর্বোচ্চ তিন হাজার মিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের। ফলে চাহিদার তুলনায় সংকট রয়েছে প্রায় ১০০০ মিলিয়ন বা ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের।