করোনা পরিস্থিতির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে বলে দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি সাশ্রয়ী ও মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের ২৪তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সম্মেলনে তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে সারা বিশ্বে একটা দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি আমরা দেখতে পাচ্ছি, এর প্রভাব থেকে দেশের মানুষকে বাঁচাতে হবে। তাই এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে। যার পক্ষে যা সম্ভব, তা যেন উৎপাদন করে।’
সরকার প্রধান বলেন, ‘বাজারের ওপর চাপ কমাতে ছাদবাগানেও উৎপাদনে উদ্যোগী হতে হবে। তাহলে বাজারের ওপর চাপ কমবে। উৎপাদন বাড়াতে সবাই সক্রিয় হোন, যেন বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কায় বাংলাদেশের মানুষ কষ্ট না পায়।’
জনশক্তিকে জনসম্পদে রূপান্তরে সরকারের নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যে বিপুল শ্রমশক্তি আছে, তাদের এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। যুক্ত করতে হলে তাদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে, শিক্ষিত করতে হবে। আর দক্ষ জনশক্তি হিসেবে তৈরি করতে হবে।’
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে প্রকাশ্যে লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির (৩১) নামের এক সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে দুর্গাপুর পৌরসভার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উতরাইল বাজার এলাকায় এ বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। নিহত লুৎফুজ্জামান আলিফ পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বেসরকারি ইন্টারনেট প্রটোকল টেলিভিশন (আইপিটিভি) ‘চ্যানেল রূপসী বাংলা’র নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনার মাধ্যমে স্থানীয় নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত লেখালেখি করতেন তিনি।
এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
জানা যায়, রাত আটটার দিকে লুৎফুজ্জামান উতরাইল বাজারের একটি দোকানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই মুখোশধারী যুবক তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমদ খান জানান, নিহত সাংবাদিকের মাথা, গলা ও বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে খবর পেয়ে নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। রাত সাড়ে ৯টায় তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম ইতোমধ্যে চিরুনি অভিযানে নেমেছে।’
উল্লেখ্য, পেশাগত দায়িত্ব পালন ও লেখালেখির কারণে লুৎফুজ্জামান এর আগেও হামলার শিকার হয়েছিলেন। গত বছরের ১০ নভেম্বর দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছিল।
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলা ইউনিয়নে চরকুমারিয়া থেকে মৈশাটিকে সড়ক পর্যন্ত পাকাকরণ উন্নয়ন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ উন্নয়ন কাজের ফলক উন্মোচন ও শুভ উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটন বলেন, ‘এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। চরকুমারিয়া থেকে মৈশাটিকে সড়কটি পাকাকরণের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত একটি দাবির বাস্তবায়ন হলো।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী জোবায়েত হোসেন, ধানীখোলা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ফখরুল কবির, যুগ্ম আহ্বায়ক এবি সিদ্দিক এবং যুগ্ম আহ্বায়ক জসীমউদ্দীন। এ ছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সড়কটির পাকাকরণ কাজ শুরু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।
ফেনী সরকারি কম্পিউটার ইনস্টিটিউটে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রথম পর্বে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন, নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সোমবার (১২ অক্টোবর) ফেনী সরকারি কম্পিউটার ইনস্টিটিউট চত্বরে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফেনী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবুল করিম এবং সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী প্রদীপ খীসা, উপস্থাপনা করেন মোবারাহ আক্তার নিরা ও জান্নাতুল তাজ তনিমা।
আলোচনা করেন সিনিয়র শিক্ষক ইকবাল হায়দার, মো. আব্দুস ছোবহান শামীম, হেলাল উদ্দিন, কাজী মুহাম্মদ ইলিয়াস প্রমুখ।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন, স্বাগত বক্তব্য, ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর উপস্থাপনা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের বক্তব্য নতুন শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের শুরুতে প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ, শিক্ষা কার্যক্রম ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত বক্তব্য রাখেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
ইনস্টিটিউট অধ্যক্ষ প্রকৌশলী প্রদীপ খীসা তার বক্তব্যে ফেনী সরকারি কম্পিউটার ইনস্টিটিউটের পেছনে খালি জায়গা ভরাট করে খেলার মাঠ তৈরি করে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় সুযোগ করে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের সহযোগিতা কামনা করেন।
শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে সারাদেশে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। এরই অংশ হিসেবে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন কার্যক্রম সরেজমিনে তদারকি করেছেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
১৫ অক্টোবর ( বৃহস্পতিবার) রাজধানীর ধানমন্ডি সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং দায়িত্বরত আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি নিরাপত্তা প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ সতর্কতা, পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মহাপরিচালক বলেন, এবারের দুর্গাপূজার নিরাপত্তাব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’-এর মাধ্যমে দায়িত্বরত সদস্যদের প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনায় সংযুক্ত করা হয়েছে, যা মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, তথ্য আদান-প্রদান এবং দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়তা করছে। যেকোনো ধরনের নাশকতা, অপ্রীতিকর ঘটনা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, পূজা উদযাপনকালে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আনসার-ভিডিপিসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেষ্ট থাকতে হবে। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতায় যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে, যা দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় করবে।
উল্লেখ্য, ৬০ লাখেরও বেশি সদস্যের বিশাল সাংগঠনিক কাঠামোর বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সারাদেশে দুই লক্ষাধিক প্রশিক্ষিত আনসার-ভিডিপি সদস্য-সদস্যা মোতায়েন করেছে। পূজামণ্ডপের গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা বিবেচনায় নির্ধারিত জনবল মোতায়েনের পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারাদেশে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের অংশ হিসেবে আনসার ব্যাটালিয়নের ১০৪ টি স্ট্রাইকিং টিম টহলে থাকবে।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের পূজামণ্ডপগুলোতেও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ডিজিটাল নজরদারি, আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও কঠোর শৃঙ্খলার মাধ্যমে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন বাহিনীর সদস্য-সদস্যারা। সার্বিক নিরাপত্তা কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে, যাতে যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হয়।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী আশা করে, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদযাপন কমিটি এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত সহযোগিতায় শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীর সদস্য-সদস্যারা নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দিরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা পরিদর্শনে যান কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মোঃ মঈনুল হাসান। পরিদর্শনকালে কোস্ট গার্ড মহাপরিচালক এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বিভিন্ন সময়ে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে নিরাপত্তা প্রদান, ধর্মীয় উপাসনালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং সর্বসাধারণের জান-মাল রক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় প্রতি বছরের ন্যায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড আওতাধীন এলাকাসমূহে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মহা উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ধর্মীয় উপাসনালয়সহ পূজা মণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে নিয়োজিত রয়েছে। পূজা চলাকালীন সময়ে দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় যেকোন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি রোধে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে আমাদের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার সদস্য। আপনারা জেনে খুশি হবেন, উপকূলীয় এলাকাসমূহের মধ্যে আমাদের পূর্ব জোন ৬৩ টি, পশ্চিম জোন ১৪৪ টি ও দক্ষিণ জোন ৩৭১ টি এবং ঢাকা জোন ৩৭ টি সর্বমোট ৬১৫ টি মন্দির ও পূজা মণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে কাজ করছে।
দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যেন তাদের ধর্মীয় উৎসবটি শান্তিপূর্ণ, প্রাণবন্ত ও নিরাপদে উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে আমরা আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছি এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
পূজা চলাকালীন সময়ে নৌ দুর্ঘটনা এড়াতে আমাদের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং সার্বক্ষণিক টহল অব্যাহত রয়েছে। প্রতিমা বিসর্জনের স্থানগুলোতে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা মোকাবেলায় আমাদের বিশেষ ডুবুরি দল সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। পাশাপাশি আমি অনুরোধ করবো, যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে সহায়তা নিতে কোস্ট গার্ড জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ যোগাযোগ করুন, আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিব।
আমাদের প্রত্যাশা, হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে তাদের ধর্মীয় উৎসবটি উদ্যাপন করবেন।
তিনি আরও বলেন, কোস্ট গার্ডের এধরনের জননিরাপত্তামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
মানিকগঞ্জে সাংসারিক কাজকর্ম করে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অবদান রাখায় জেলার ৩৬ জন গ্রামীণ নারীকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দিনব্যাপী মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের এগারশ্রী গ্রামের গুরুদাস মন্ডলের বাড়ির আঙিনায় আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যৌথভাবে বেসরকারি উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ (বারসিক) ও গ্রিন কোয়ালিশন, মানিকগঞ্জ।
গ্রামীণ নারী কৃষকদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া, তাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে তাদের নেতৃত্বকে উৎসাহিত করতেই গ্রামীণ নারীদের এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
এ সময় মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী নাসরিন, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রুশিয়া আক্তার, গ্রিন কোয়ালিশন মানিকগঞ্জের সভাপতি আব্দুল খালেক, বারসিকের জেন্ডার অ্যাডভাইজার খাদিজা সুলতানা লোপা, গ্রীন কোয়ালিশনের সদর উপজেলা কমিটির সদস্য আসমা আক্তার, বারসিকের পরিচালক সৈয়দ আলী বিশ্বাস, আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল রায় ও কর্মসূচি সমন্বয়কারী রাশেদা আক্তার, স্টেপ টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টের সমন্বয়ক খালেদা মাহবুব ছন্দা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এবারের অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ‘নারীর জ্ঞান, সমৃদ্ধ বাঁচার পরিবেশের প্রাণ’। অনুষ্ঠানে গ্রামীণ নারী কৃষকদের সম্মাননা প্রদান, দেশীয় বীজ ও অপ্রচলিত উদ্ভিদের বৈচিত্র্য প্রদর্শন, গ্রামীণ খাদ্য ও পিঠার বৈচিত্র্য, কৃষি উপকরণ ও নারীদের উদ্ভাবিত কৃষিপ্রযুক্তি প্রদর্শনী এবং গ্রামীণ নারীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।
সভায় জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, ‘গ্রামীণ নারীদের জ্ঞান, শ্রম, অধিকার ও অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে কৃষি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও টেকসই গ্রামীণ উন্নয়নে নারীদের নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।’
শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপনের লক্ষ্যে খুলনার রূপসায় ৭৬টি পূজামণ্ডপের কমিটির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১১টায় রূপসা উপজেলা অডিটোরিয়ামে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস কে আজিজুল বারী হেলাল শারদীয় দুর্গোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই যেন নির্বিঘ্নে উৎসব উদ্যাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় পূজামণ্ডপের নেতাদের সঙ্গে উৎসব আয়োজন ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে পূজা উদ্যাপন কমিটি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং উৎসবকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু ও মোল্লা খায়রুল ইসলাম, রূপসা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান এবং সদস্যসচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক।
সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী দল রূপসা উপজেলা শাখার পূজা উদ্যাপন পর্যবেক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক বিকাশ মিত্র।
মতবিনিময় সভা শেষে প্রধান অতিথি বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।
শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে সম্প্রীতি, নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এ মতবিনিময় সভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং কুড়িগ্রাম প্রশাসনের পাল্টাপাল্টি মতামতের কারণে দেশের একমাত্র প্রস্তাবিত কুড়িগ্রাম বালু গবেষণা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিভ্রান্তি। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি এবং এশিয়া মহাদেশের মধ্যে অন্যতম খনিজ সম্পদ আহরণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি আমূল পরিবর্তন আনার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা।
ব্রহ্মপুত্র নদে এবং যমুনা নদীতে যেসব খনিজ সম্পদ রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, ইলমেনাইট-টাইটানিয়াম উৎপাদনের উৎস, ব্যবহৃত রং, প্লাস্টিক, ওষুধ, ওয়েল্ডিং রডে ব্যবহৃত হয়। জিরকন-সিরামিক, পারমাণবিক প্রযুক্তি, মহাকাশযান ও ইলেট্রনিক্সে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
ম্যাগনেটাইট-চৌম্বুকধর্মী খনিজ যা ইস্পাত ও খনি যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়। রুটাইল-টাইটানিয়ামের পরিশোধিত রূপ ব্যবহৃত হয় প্রসাধনী ও ধাতু শিল্পে। গারনেট-অলংকার, জেট কাটিং ও পাইপ পরিষ্কারে ব্যবহৃত হয় এবং কোয়ার্টজ-ঘড়ি, কম্পিউটার ও চিকিৎসা যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, চলতি বছরের ১১ জুন বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের মোখলেসুর রহমান মিলনায়তনে ‘বালু গবেষণা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন’ কুড়িগ্রাম, বাংলাদেশ শীর্ষক প্রস্তাবিত প্রকল্প বিষয়ে এক মতবিনিময় সভায় যমুনা-ব্রহ্মপুত্র নদ ব্যবস্থার নবায়নযোগ্য বালু সম্পদকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম খনিজ-প্রযুক্তি, গবেষণা ও শিল্পভিত্তিক অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্যে ২০২৬-২০৭৫ সময়কালের জন্য একটি ৫০ বছরের মহাপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এরমধ্যে বাংলাদেশকে এশিয়ার অন্যতম খনিজ-প্রযুক্তি, গবেষণা, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, শিল্পায়ন, সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কুড়িগ্রামে বালু গবেষণা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর। এ কেন্দ্রের মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্রসহ জেলার বিভিন্ন নদ-নদী থেকে প্রাপ্ত বালু ও খনিজ সম্পদের গবেষণা এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
দীর্ঘদিন ধরে জিএসবি গবেষণা করে চিলমারী উপজেলায় ১৫ একর জমিতে একটি পাইলট রিসার্চ প্ল্যান্ট এবং রাজারহাট উপজেলার টগরাইহাট এলাকায় ১০ একর জমিতে একটি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তর প্রকল্পটির জরিপ ও সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন শেষ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।
এতে বছরে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়। আর দেশের অর্থনীতিতে কুড়িগ্রাম জেলা একটি হাব সেন্টারে পরিণত হবে। কিন্তু দেশের একমাত্র বালু গবেষণা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন নিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং কুড়িগ্রাম প্রশাসনের পাল্টাপাল্টি মতামতের কারণে সৃষ্টি হয়েছে বিভ্রান্তি।
গত ১৯ জুলাই জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সভায় ১০নং আলোচ্য বিষয়ে জানানো হয়, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক কর্তৃক প্রতিবেদনে ‘প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাব্য ব্যয়ের তুলনায় সরকারের প্রাপ্তি উল্লেখযোগ্য হবে না মর্মে অভিমত দেওয়া হয়।’ কিন্তু অনুসন্ধানে ও কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক জানান, এমন কোনো প্রতিবেদন পাঠায়নি। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কুড়িগ্রাম সদর, চিলমারী এবং রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা গত বছরের ৫ মার্চ সম্ভাব্য জমির তথ্য-উপাত্ত মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছে। আর খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীকে ঘিরে দ্রুত জেলায় প্রকল্পের কাজ শুরুর জোর দাবি জানিয়েছে জেলাবাসী।
জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ সভাপতি শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, ‘সম্ভাবনাময় এই প্রকল্পটি এখনো শুরুই হলো না, সেখানে কীভাবে কর্তৃপক্ষ বলতে পারে লাভ হবে না লস হবে? সরকার তো দেশে বহু প্রকল্প নেয় এবং নিচ্ছে। সম্ভাবনাময় এই প্রকল্পটি শুরুর জন্য সরকার কার্যকরী ও দ্রুত ব্যবস্থা নিবে এমনটাই প্রত্যাশা করছি।’
জেলা বিএনপি যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা এবং খনিজ সম্পদ আহরণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনাকে বাস্তবায়নের জন্য দল-মত সকলকে একসাথে কাজ করার আহবান জানান।
কুড়িগ্রাম গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায় অত্যন্ত মূল্যবান ও বিরল খনিজ সম্পদ পাওয়া যায়, ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর কর্তৃক বালু গবেষণা ও প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্পটির প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রকল্পটি ইতোমধ্যে জমির সম্ভাবতা ও কার্যকারিতা শেষ করে সংশ্লিস্টদের দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।’
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, ‘আমি যোগদানের আগে এই বিষয়ে সাবেক জেলা প্রশাসকদের সময় বালু গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের জন্য সম্ভাব্য জমির তথ্য কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করেছিল।’
বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর উপপরিচালক, (ভূতত্ত্ব) ড. সোহেল রানা বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর বালু পুনঃভরণযোগ্য। হিমালয় হতে কুড়িগ্রাম দিয়ে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীতে প্রতি বছর এক বিলিয়ন বালু আসছে। আমরা যদি এই বালু ব্যবহার করতে পারি তাহলে কোয়ার্টজ হেভি মিনারেল ও লাইট মিনারেল আছে। হেভি মিনারেলের মধ্যে রুটাইল, গারনেট, ইলমেনাইট, জিরকন, মুনাইজাইটের মতো মূল্যবান খনিজ সম্পদ। লাইট মিনারেলের মধ্যে কোয়ার্টজ রয়েছে।’
এ নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘এ বিষয়টি আমার জানা নেই। বালু গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন নিয়ে কোনো জটিলতা থাকলে সেটি নিরসনের ব্যবস্থা করা হবে।’
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামের ধলেশ্বরী নদীতে দেশীয় জাতের মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ধলেশ্বরী নদীর কাস্তুল বাজার লঞ্চঘাট এলাকায় উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে ২৭০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অমিত পণ্ডিত, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক নজরুল, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ইয়াকুব এবং উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম সাগর প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি ও দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ধলেশ্বরী নদীতে অবমুক্তকৃত এসব পোনা মাছ মুক্ত জলাশয়ে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠে স্থানীয় পুষ্টির চাহিদা মেটাতে এবং মৎস্যজীবীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
দুই মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বরগুনার পাথরঘাটা থানার ওসিকে কিশোর গ্যাং নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম মনি।
তিনি বলেন, ‘আগামী দুই মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাং যদি নির্মূল করতে না পারেন, আপনি থাকবেন না। আগামী দুই মাস টাইম, দুই মাস। কিশোরগ্যাং উল্টিয়ে ঝুলাইবেন গাছে। কোনও কিশোর গ্যাং থাকতে পারবে না।’
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ হুঁশিয়ারি দেন চিফ হুইপ। সভায় পাথরঘাটা থানার ওসি মো. আব্দুল আলীম উপস্থিত ছিলেন।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘চাঁদাবাজি করে যারা খাবেন, চাঁদাবাজির কোনও জায়গা পাথরঘাটায় নেই। ওসি সাহেব, আপনাকে আমি এখানে বললাম, চাঁদাবাজির প্রশ্নে যদি কোনও সমস্যা থাকে, হয় আপনি থাকবেন, না হয় চাঁদাবাজ থাকবে। সন্ত্রাসী আর দখলবাজ পাথরঘাটায় থাকতে পারবে না।’
ওসিকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার নাম নিয়ে আউয়াল নামের এক ব্যক্তি কোথায় কী করার কথা বলে চাঁদা খেয়েছে। আউয়ালসহ আরও একজন এখন পলাতক। আউয়ালকে আপনি ধরবেন এবং সেই মামলায় গ্রেফতার দেখাবেন। চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের কোনও জায়গা নেই। সন্ত্রাসীদের কোনও দল নেই।’
সভায় উপস্থিত সবার উদ্দেশে চিফ হুইপ বলেন, ‘আমার নাম নিয়ে যদি কেউ দখলবাজি করে, আমি টেলিফোন ধরতে পারি না, আপনারা আমাকে মেসেজ দিয়ে রাখবেন। আমি রাতে মেসেজ দেখি। কোস্টগার্ডের সোর্স যারা আছেন, তারা সাবধান হইয়েন। প্রয়োজন হলে আমি সবাইকে গ্রেফতার করাবো। তারা থানায়ও দালালি শুরু করেছে। থানায় দালালি বন্ধ কইরেন।’
ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, রাজশাহী রেশম কারখানার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হবে। এর অংশ হিসেবে কারখানায় আরও বেশি পাওয়ার লুম চালুর পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় তুঁতচারা রোপণ ও রাজশাহী রেশম কারখানার পাওয়ার লুম চালুকরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘রাজশাহী সিল্কের সুনাম রয়েছে বিশ্বব্যাপী। অতীতে রাজশাহীর অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি ছিল এটি। ধীরে ধীরে এই কারখানাটি তার ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলেছিল।’
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা আন্তরিকতার মাধ্যমে এই কারখানায় কাজ করুন। এই কারখানাটি যাতে আবার পূর্বের রূপে ফিরে আসে এইভাবে কাজ করুন। কারখানাকে জিম্মি করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিম্মি করে কোনো লাভ নেই। এ জন্য সবাইকে ভুগতে হবে।
আমি আপনাদের ভাই। সব সময় আপনাদের পাশে রয়েছি এবং থাকব। কারখানাটির ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে যত সহযোগিতা লাগে করা হবে।’ এরপর রেশম কারখানায় পাওয়ার লুম চালু ও বৃক্ষরোপণ করা হয়।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৬ আসনের এমপি আবু সাইদ চাঁদ, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. তৌফিক আল মাহমুদ, পরিচালক (অর্থ ও পরিকল্পনা) ড. এম এ মান্নান, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আসলাম সরকার প্রমুখ। এ ছাড়াও রাজশাহী রেশম কারখানার অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে অন্য জেলার কৃষকের কাছে বেশি দামে সার বিক্রয়ের অপরাধে হাবিবুর রহমান নামের এক সাব-ডিলার দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে দৌলতপুর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক প্রবীর বিশ্বাস তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে ১১ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়।
দণ্ডিত হাবিবুর রহমান দৌলতপুর বাজারের সার ব্যবসায়ী এবং তিনি মেসার্স দীপু ট্রেডার্সের সাব-ডিলার।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক প্রবীর বিশ্বাস জানান, গতকাল শুক্রবার সকালে দৌলতপুর বাজারের সার ব্যবসায়ী ও সাব-ডিলার হাবিবুর রহমানের দোকান থেকে পার্শ্ববর্তী টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার এক কৃষক বেশি দামে ১১ বস্তা সার ক্রয় করেন এবং সার নিয়ে যাওয়ার পথে দৌলতপুরের সমেতপুর এলাকার কৃষকরা বিষয়টি টের পেয়ে গাড়িসহ সার আটক করেন। এরপর বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বেশি দামে অন্য জেলায় সার বিক্রয়ের কথা স্বীকার করেন সাব-ডিলার হাবিবুর রহমান।
পরবর্তীতে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে সাব-ডিলার হাবিবুর রহমানকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ১১ বস্তা সার উপজেলার স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সরকারি দরে বিক্রি করা হয়। বেশি সার বিক্রয় বা সার কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে প্রশাসন সোচ্চার আছে। কোনো অভিযোগ পেলে এবং তা সত্য হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ফরিদপুরে চালককে চেতনানাশক দিয়ে অজ্ঞান করে হত্যা ও ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় সংঘবদ্ধ পেশাদার অজ্ঞান পার্টির তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১১টায় পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে পিবিআই পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ সুপার জানান, ২০২২ সালের ১৬ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে ৫ সদস্যের সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র শহরের গোয়ালচামট পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে ২শ টাকা ভাড়ায় তালমা যাওয়ার কথা বলে ইজিবাইকটি ভাড়া করে। ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের বাখুন্ডা এলাকায় পৌছালে রুমালের মধ্যে চেতনানাশক দিয়ে চালক বিশ্বনাথ সরকারকে অজ্ঞান করে রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে ইজিবাইক নিয়ে পালিয়ে যায় ওই চক্র। স্থানীয়রা চালককে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে পরদিন সকালে মারা যায় সে। এই ঘটনায় নিহতের ছেলে রবি কুমার সরকার বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় হত্যা ও ছিনতাই মামলা দায়ের করে।
তিন মাস পরে মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে তদন্তভার আসে। একটি গ্যারেজ থেকে ছিনতাই হওয়া ইজিবাইকের হুডের সূত্র ধরে দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তদন্ত শেষে একে একে তিন জনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই পুলিশ।
গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে শহরের ফলপট্টি থেকে মুরাদ শেখকে গ্রেপ্তার করে পরদিন আদালতে পাঠালে চালককে হত্যার বর্ণনা ও ইজিবাইক ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় আসামি। এই চক্রের বাকিদের গ্রেপ্তারে কাজ চলছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।
গ্রেপ্তারকৃত আসামি মুরাদ শেখ জেলার ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদাহ ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের সিরাজ শেখের ছেলে। এ ছাড়াও ইতোপূর্বে গ্যারেজ মালিক কামাল ও ছিনতাইকারী সুমন আহমেদ নামে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।