সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

সার্ভারে ঢুকে পাঁচ হাজার জন্মনিবন্ধন তথ্য হ্যাক  

হ্যাকিংয়ের প্রতীকী ছবি।
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত : ২৪ জানুয়ারি, ২০২৩ ২১:০৯

বিভিন্ন সময়ে সার্ভারে অনুপ্রবেশ করে চট্টগ্রামে পাঁচ হাজারেরও বেশি জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি করেছে একটি হ্যাকার চক্র। ৫০০ থেকে ৮০০ টাকার বিনিময়ে তারা রোহিঙ্গাসহ বিভিন্নজনকে এই সনদ তৈরি করে দিতেন।

গত সোমবার অভিযান চালিয়ে চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর এই তথ্য জানতে পারে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে হ্যাকার চক্রের আদ্যোপান্ত জানান কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপকমিশনার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ৮ থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৫টি ওয়ার্ডের আইডি ব্যবহার করে সার্ভারে অনুপ্রবেশ করে ৫৪৭টি জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যু করা হয়। গত শনিবার বিষয়টি জানাজানি হলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের পক্ষ থেকে থানাগুলোতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপরই অনুসন্ধানে নামে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। সোমবার পাঁচজনকে আটকের পর যাচাই-বাছাই করে চারজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

গ্রেপ্তার চারজন হলেন মোস্তাকিম (২২), দেলোয়ার হোসাইন সাইমন (২৩), আব্দুর রহমান আরিফ (৩৫) ও ১৬ বছরের এক কিশোর। নগরের খুলশী থানার পাহাড়তলী ওয়ার্ডে আইডি হ্যাকিংয়ের ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় এই চারজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপকমিশনার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ বলেন, ‘গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হ্যাকার চক্রের সদস্য। তাদের কাজ ছিল মাঠপর্যায়ে জন্মনিবন্ধন-প্রত্যাশীদের ডাটা এন্ট্রি করে হ্যাকার গ্রুপের পরের পর্যায়ে পাঠিয়ে দেয়া। মূল হ্যাকার পরে অবৈধভাবে জন্মনিবন্ধন সার্ভারে প্রবেশ করে একটি জাল জন্মসনদ প্রস্তুত করে পুনরায় চক্রের সদস্যদের কাছে পাঠাতেন।'

মূল হ্যাকারকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলেও জানান কাউন্টার টেররিজমের এই উপকমিশনার।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৪টি সিপিইউ, ৩টি মনিটর, ১টি স্ক্যানার ও প্রিন্টার এবং ৪টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এসব ডিভাইস প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে হ্যাকিংয়ের অসংখ্য আলামত পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

মনজুর মোরশেদ আরও বলেন, ‘ফেসবুকে জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরির বিষয়ে বিভিন্ন গ্রুপ রয়েছে। ওই গ্রুপে প্রবেশ করে যারা ভুয়া জন্মনিবন্ধন করতে আগ্রহী, তাদের চক্রের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেয়া হয়। এ ছাড়া মাঠপর্যায়েও গ্রাহক সংগ্রহ করে থাকে চক্রের অন্য সদস্যরা। এ পর্যন্ত চক্রটি ৫ হাজারের বেশি ভুয়া জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি ও বিতরণ করেছে বলে জানতে পেরেছি। সারা দেশে একাধিক চক্র ছড়িয়ে রয়েছে। একেকটি চক্রের সদস্য সংখ্যা ৩০ থেকে ১০০।’

জন্মসনদ পাওয়াদের মধ্যে রোহিঙ্গা নাগরিক থাকতে পারেন আশঙ্কা করে মনজুর মোরশেদ বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি, আইডি হ্যাক করে যেসব ভুয়া জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যু করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রোহিঙ্গা নাগরিক থাকতে পারে।’ তবে জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যুর ঘটনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কারোর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপকমিশনার আসিফ মহিউদ্দীনসহ অন্যরা।

বিষয়:

নির্বাচিত

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রদলের পদবঞ্চিত ও পদপ্রাপ্তদের সংঘর্ষ, আহত ৫

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে অসন্তোষের জেরে পদপ্রাপ্ত ও পদবঞ্চিতদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

আহতরা হলেন নবগঠিত কমিটির সভাপতি ওমর ফারুক মানিকের অনুসারী শাকিল ও প্রতাপ এবং পদবঞ্চিত পক্ষের তালহা জোবায়ের, মো. রায়হান ও বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমান। আহতরা সবাই ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, গত রোববার (৩০ আগস্ট) কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে ওমর ফারুক মানিককে সভাপতি ও ফাতিন ইশরাককে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই নতুন কমিটিতে পদ না পাওয়া নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এ নিয়ে গত রোববার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন মন্তব্য ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেখা যায়।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার সকালে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী পদবঞ্চিত পক্ষের নেতাকর্মীরা কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। একপর্যায়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে পদপ্রাপ্ত ও পদবঞ্চিত দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

পদবঞ্চিত পক্ষের নেতা ও নতুন কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি পদপ্রার্থী ওমর ফারুক বলেন, ‘পদবঞ্চিতরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করছিলেন। এ সময় তাদের ওপর অযথা হামলা করা হয়। এতে আমাদের তিনজন আহত হয়েছেন। আমরা এসে দেখি আমাদের ছোট ভাইদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। এগিয়ে গেলে আমাদের ওপরও হামলা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রদল করে আমরা কোনো অন্যায় করিনি। অযোগ্যদের নেতৃত্বে এই কমিটি আমরা মানি না। ছাত্রদলকে ধ্বংস করার জন্যই এই কমিটি করা হয়েছে। হামলায় বহিরাগতরাও জড়িত ছিল। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নবগঠিত কমিটির সভাপতি ওমর ফারুক মানিক বলেন, ‘আমরা কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে অবস্থান করছিলাম। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল করছিলেন। আমার সঙ্গে থাকা কয়েকজন আজান হচ্ছে তাই মিছিল বন্ধ করতে বলেন তাদের। এ কথা বলায় তারা ভুল বুঝে আমাদের ওপর হামলা করেন। এতে আমার দুই কর্মী আহত হয়েছেন।’

কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদুজ্জামান রানা বলেন, ‘ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে অসন্তোষ থেকেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরে তারা কলেজে অবস্থান করে পদপ্রাপ্ত ও পদবঞ্চিত দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের নিবৃত্ত করেন।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় অনেক যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে। আমরা বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জানিয়েছি। কেন্দ্র থেকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার কথা জানানো হয়েছে।’

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ কলেজে অবস্থান নেয়। বর্তমানে কলেজের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।’


নির্বাচিত

খুলনায় উদ্যোগের কমতি নেই, তবু বাড়ছে ডেঙ্গু

* তিন মাস ধরে প্রতিরোধ কার্যক্রম, বাড়িঘর ও আশপাশ   পরিষ্কার রাখার আহ্বান কেসিসি প্রশাসকের
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো    

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে খুলনায় তিন মাস ধরে চলছে একের পর এক উদ্যোগ। পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশকনিধনে ফগিং ও হ্যান্ড স্প্রে, মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে অভিযান—চলছে সবই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও বাড়ানো হয়েছে সচেতনতামূলক কার্যক্রম। কিন্তু এত উদ্যোগের পরও কমছে না ডেঙ্গু। বরং আগস্টের শেষ সপ্তাহে সংক্রমণের গতি আরও বেড়েছে। নতুন করে ২৮৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে চলতি বছরে বিভাগে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮৪৮ জনে।

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৭৬০ জন ডেঙ্গুরোগী। চলতি বছর এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪ হাজার ৯৫৪ জন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১১৪ জনকে অন্যত্র পাঠানো হয়েছে। নতুন কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে খুলনা বিভাগে মৃতের সংখ্যা ২০ জনে দাঁড়িয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসকের ভাষ্য, শুধু সড়ক-ড্রেন পরিষ্কার করলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; বাড়ি ও আশপাশের জমে থাকা পানি ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখার দায়িত্বও নিতে হবে নগরবাসীকে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে নগরীর সোনাডাঙ্গা পিডব্লিউডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেসিসি প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা মেনে তিন মাস আগে থেকেই কাজ শুরু করা হয়েছে। শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেও সর্বশক্তি নিয়োজিত করা হয়েছে। কিন্তু ডেঙ্গু সংক্রমণ কমাতে আশানুরূপ ফল আসছে না।

তিনি বলেন, নগরবাসীকে নিরাপদ রাখতে শুধু সড়ক ও ড্রেন পরিষ্কার করলেই হবে না। প্রত্যেকের বাড়ি ও আশপাশে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ঝোপঝাড় পরিষ্কার করার পাশাপাশি বদ্ধ পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে।

খুলনা মহানগরীতে ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া সংক্রমণ কমাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে পিডব্লিউডি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ আলোচনা ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। এতে পিডব্লিউডি স্কুল ছাড়াও সোনাডাঙ্গা থানা এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে কেসিসি প্রশাসক শিক্ষার্থীদের নিজেদের বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সপ্তাহে অন্তত এক দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ক্যাম্পাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নিতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সচেতনতা ছড়িয়ে পড়লে ডেঙ্গু জ্বরের সংক্রমণ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ডেঙ্গু বিষয়ে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন কেসিসি প্রশাসক।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লিয়াকত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম ছায়েদুর রহমান।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মিউল ইসলাম, কনজারভেন্সি অফিসার মো. অহিদুজ্জামান খান, সমাজসেবক আসাদুজ্জামান মুরাদ, শেখ জামিরুল ইসলাম জামিল, কেসিসির সাবেক কাউন্সিলর রাবেয়া ফাহিদ হাসনাহেনাসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

আবহাওয়াও কি ঝুঁকি বাড়াচ্ছে?

খুলনায় ডেঙ্গু বৃদ্ধির সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, উষ্ণতা এবং মৌসুমের অস্বাভাবিক পরিবর্তন বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। বৃষ্টির পানি বিভিন্ন স্থানে জমে থাকলে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে পারে। বৃষ্টির পর উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশ মশার বংশবিস্তারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. আহসান হাবীবের আশঙ্কা, বৃষ্টিপাতের ধরন ও বর্ষাকালের স্থায়িত্বে পরিবর্তন আসায় এবার ডেঙ্গুর মৌসুম দীর্ঘায়িত হতে পারে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে প্রকোপ আরও বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

ডেঙ্গুর বর্তমান ধরনে জেনেটিক পরিবর্তন বা মিউটেশন এসেছে কি না, সেটিও গবেষণার বিষয় বলে মনে করেন তিনি। এ জন্য আগের ও বর্তমান ডেঙ্গু ভাইরাসের হোল জিনোম তুলনা করে গবেষণা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

হাসপাতালেও বাড়ছে চাপ

রোগীর এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ডেঙ্গুর জন্য এখনো পৃথক ডেডিকেটেড ওয়ার্ড চালু হয়নি। মেডিসিন ওয়ার্ডের পুরুষ ও নারী বিভাগের নির্দিষ্ট অংশে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর চাপ বাড়লে ওয়ার্ডের বাইরের জায়গাতেও রোগী রাখতে হচ্ছে।

খুমেক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড তৈরি করা হয়নি। তবে ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডের আইসিইউ-২-এর নিচে দুটি কক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। সেগুলো চালু হলে কিছুটা চাপ কমতে পারে।

বেসরকারি হাসপাতালেও একই ধরনের চাপ রয়েছে। গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. হামিদুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, রোগীর চাপ বাড়ায় নির্ধারিত জায়গার পাশাপাশি ওয়ার্ডের বাইরেও রোগী রাখতে হচ্ছে।

খুলনা জেনারেল হাসপাতাল ২৫০ শয্যার হলেও পূর্ণাঙ্গ ২৫০ শয্যার সেবা এখনো চালু হয়নি। ফলে ডেঙ্গুর পাশাপাশি অন্যান্য রোগীরও শয্যা পেতে ভোগান্তি হচ্ছে।

হাসপাতালকেন্দ্রিক প্রস্তুতিও বাড়ছে

ডেঙ্গুরোগীর চাপ সামাল দিতে হাসপাতালকেন্দ্রিক কিছু উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ১৭ আগস্ট কেসিসি, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও খুলনা মহানগর পুলিশের এক বৈঠকে হাসপাতালটিতে স্বেচ্ছাসেবী সেবা জোরদারের সিদ্ধান্ত হয়। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির খুলনা সিটি ইউনিটের ৫০ জন যুব সদস্যকে ডেঙ্গু রোগীদের সহায়তায় মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্যালাইন, ওষুধ ও ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট নিশ্চিত করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

বাগেরহাটের ফকিরহাটেও ডেঙ্গু পরীক্ষার কিটের চাহিদা বেড়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কিট সংকট দেখা দেওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৮০০টি এনএস১ পরীক্ষার কিট দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং নতুন করে ১০ জন শনাক্ত হন।


নির্বাচিত

চট্টগ্রামে জোড়া খুন, নেপথ্যে আধিপত্য ও পুরোনো শত্রুতা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের দুটি ভিন্ন এলাকায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ঘটে যাওয়া জোড়া খুনের নেপথ্যে উঠে এসেছে চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার ও পুরোনো শত্রুতার ভয়াবহ চিত্র। সাতকানিয়ায় গাছের গুঁড়ি ফেলে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে সিএমপির তালিকাভুক্ত এক নম্বর সন্ত্রাসী জাহেদুল ইসলামকে। আর চান্দগাঁওয়ে ফুটপাতে রিকশা-ভ্যান বসিয়ে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় ধাক্কা ও চড়-ঘুষিতে প্রাণ গেছে ওয়ার্ড যুবদল নেতা ফজলুল আমিনের।

সাতকানিয়ার পুরানগড় ইউনিয়নের দক্ষিণ পুরানগড় গ্রামের গ্রামীণ সড়কটিতে গত রোববার (৩০ আগস্ট) রাতের আঁধারে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন জাহেদুল ইসলাম ওরফে ‘পিচ্চি জাহেদ’। ফরিদ সওদাগরের দোকানের সামনে হঠাৎ মোটরসাইকেলের হেডলাইটের আলোয় ভেসে ওঠে একটি বিশালাকার গাছের গুঁড়ি। মুহূর্তের মধ্যেই সেই মৃত্যুফাঁদে আটকে যান জাহেদ। পেছনে বসা বন্ধু ওয়াহিদ কিছু বুঝে ওঠার আগেই চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে ছয়-সাতজনের সশস্ত্র দল। মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দিয়ে জাহেদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে চলে যায় দুর্বৃত্তরা।

নিহত জাহেদুল ইসলাম চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) তালিকাভুক্ত অপরাধীদের একজন ছিলেন। সিএমপির তৈরি করা ৩৩০ জন তালিকাভুক্ত দুষ্কৃতকারীর তালিকায় এক নম্বর নামটিই ছিল তার। অবৈধ অস্ত্রের মহড়া, ইয়াবা কারবার, চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে নগরে একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। চলতি বছরের শুরুতেই নগরে তার প্রবেশ ও অবস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। কিছুদিন আগে যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেপ্তার হলেও জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরেন তিনি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জামিনের পর থেকেই পুরানগড় ও আশপাশের এলাকায় মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ ও পুরোনো কোন্দল নতুন রূপ নেয়।

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আঞ্চলিক অপরাধচক্রের অভ্যন্তরীণ পূর্বশত্রুতা উঠে এসেছে। জাহেদের ওপর নজর রাখছিল একটি প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী। সুযোগ বুঝেই জনমানবহীন সড়কে এই হামলা চালানো হয়।

সাতকানিয়ার এই ঘটনার পরদিনই নগরের চান্দগাঁও এলাকার ওমর আলী মাতব্বর বাড়ি সড়কে প্রকাশ্যে আসে আরেক মৃত্যুর খবর। নগরের চান্দগাঁও এলাকার সড়কে রিকশা-ভ্যান বসিয়ে ফুটপাত দখলের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ গড়ে তুলেছিলেন স্থানীয় মো. শাহজাহান। কিন্তু বিএনপি ‘নেতা’ পরিচয়ধারী শাহজাহানের এই চাঁদাবাজি ও ভাসমান দোকান বসানোর তীব্র বিরোধিতা করে আসছিলেন পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল আমিন। সকালে হকার তোলাকে কেন্দ্র করে শাহজাহান ও ফজলুল আমিনের বাকবিতণ্ডা পৌঁছায় চরম পর্যায়ে। একপর্যায়ে শাহজাহান ও তার ছেলে সিফাতসহ সহযোগীরা ফজলুল আমিনকে লক্ষ্য করে চড়-ঘুষি মারেন এবং জোরে ধাক্কা দেন। আগে থেকেই হৃদরোগে ভুগতে থাকা ফজলুল আমিন সড়কেই লুটিয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।

চট্টগ্রাম নগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ জানান, এটি দলীয় কোনো বিষয় নয়, ফুটপাত দখল ও স্থানীয় বিরোধের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে। চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, ‘শারীরিক আঘাতের কারণে নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের পর স্পষ্ট হবে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শাহজাহান ও তার অনুসারীরা পলাতক।


নির্বাচিত

মাদারীপুরে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ দুই আসামি গ্রেপ্তার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুরের কালকিনিতে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার ও নগদ ২ লাখ ৪০ হাজার টাকাসহ চোরাইকাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামসহ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৩১ আগস্ট) এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিষয়টি জানিয়েছে মাদারীপুর জেলা পুলিশ। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কয়েকদিন পূর্বে কালকিনি থানার অন্তর্গত পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের ঝাউতলা এলাকায় একটি তিনতলা ফ্ল্যাটের ২য় তলায় দুর্ধর্ষ চুরি সংঘটিত হয়।

ফ্ল্যাটের বাসিন্দা জান্নাতুল হুসনার পরিবার এ পরিপ্রেক্ষিতে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে কালকিনি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন, তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তদন্ত শুরু করে এবং একপর্যায়ে সুজন সর্দার (৩৪) নামে একজন আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সক্ষম হয়।

ওই ঘটনায় অধিক জিজ্ঞাসাবাদে সুজন সর্দার চুরির ঘটনা স্বীকার করে সঙ্গী অপর আসামি কালিকিনি বাজারের বিসমিল্লাহ জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী এনামুল হক (৪৬) এর নাম বললে তাকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এনামুল হকের জুয়েলারি দোকান থেকে স্বর্ণের গলার হার, কানের দুল, টিকলি, ব্রেসলেটসহ গলিত স্বর্ণের টুকরা উদ্ধার করা হয়। আটক আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি জহিরুল আলম।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী পুলিশ ডিপার্টমেন্টকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।


নির্বাচিত

৭৫০ বিষধর সাপ উদ্ধার করে অবমুক্ত করেছেন ফেনীর অয়ন

ছবি: তরুণ বন্যপ্রাণী প্রেমী নজরুল ইসলাম অয়নের।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মুহাম্মদ আবু তাহের ভূঁইয়া, ফেনী   

যেখানে সাধারণ সাপ দেখলেই মানুষ আতঙ্কে শিউরে ওঠেন এবং মেরে ফেলার চেষ্টা করেন, সেখানে বিভিন্ন বিষধর সাপের সঙ্গেই নিত্য বসবাস তরুণ বন্যপ্রাণী প্রেমী নজরুল ইসলাম অয়নের। ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামসহ দেশের যেকোনো প্রান্তে লোকালয়ে সাপ ঢোকার খবর পেলেই পরম মমতায় ছুটে যান তিনি। সঠিক পূর্ব-প্রশিক্ষণ ও নিরাপদ কৌশলে প্রাণীটি উদ্ধার করে ফিরিয়ে দেন প্রকৃতির নিরাপদ আবাসে।

অয়ন কোনো ওঝা বা সাপুড়ে নন; সাপ নিয়ে কোনো বাণিজ্যও করেন না। শুধুমাত্র প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে গত ১৫ বছর ধরে জীবন ঝুঁকিতে ফেলে এই কঠিন কাজ করে চলেছেন। অয়ন বর্তমানে ফেনী ইউনিভার্সিটির ইংরেজি সাহিত্য বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র।

বিপুল পরিমাণ প্রাণী উদ্ধার ও সামাজিক সচেতনতা: ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতির প্রতি গভীর অনুরাগী অয়ন এ পর্যন্ত শঙ্খিনী, রাসেলস ভাইপার, কোবরা (গোখরো), কালনাগিনী ও দাঁড়াশসহ ১০ প্রজাতির সাড়ে ৭০০টিরও বেশি বিষধর ও নির্বিষ সাপ উদ্ধার করেছেন।

এছাড়া বনবিড়াল, চিতাবিড়াল, গন্ধগোকুল ও শঙ্খচিলসহ ৩,০০০-এরও বেশি বন্যপ্রাণী উদ্ধার, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন করেছেন।

শুধুমাত্র মাঠপর্যায়ে উদ্ধারকাজেই সীমাবদ্ধ নন অয়ন; জনসচেতনতা তৈরিতেও তিনি সমান সক্রিয়। তিনি বর্তমানে এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ সংগঠন ‘Wildlife and Snake Rescue Team in Bangladesh’-এর সাধারণ সম্পাদক ও ফিল্ড ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের প্রায় ৬০টি জেলায় বিস্তৃত অয়নের এই সংগঠনটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ইতোমধ্যে অর্জন করেছে মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় পুরস্কার।

অয়ন বিশ্বাস করেন, সাপের আতঙ্ক দূর করতে বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের প্রসার জরুরি। তাই তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মশালা পরিচালনা করে ওঝা দিয়ে বিষ নামানো বা সাপে কাটার স্থানে বাঁধার মতো মারাত্মক সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলছেন। সাপে কাটা রোগীকে ঝাড়ফুঁক না করে দ্রুততম সময়ে চিকিৎসালয়ে পৌঁছানোই যে জীবন বাঁচানোর একমাত্র উপায়, সে বার্তা তিনি ছড়িয়ে দিচ্ছেন। পাশাপাশি, সাপের বিষ থেকে জীবনরক্ষাকারী অ্যান্টিভেনম তৈরি এবং ক্ষতিকর ইঁদুর দমনের মাধ্যমে কৃষিতে সাপের অপরিহার্য ভূমিকার কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রকৃতি রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

নজরুল ইসলাম অয়ন ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার জিএম হাট ইউনিয়নের পশ্চিম বশিকপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম মাহবুবুল আলম এবং মা পারভীন আক্তার। শিক্ষক ও প্রশাসনের প্রশংসাঅয়নের এই মহতী কার্যক্রমের প্রশংসায় পঞ্চমুখ তার শিক্ষক ও স্থানীয় বন বিভাগ।

ফেনী ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক রেজোয়ান হোসেন বলেন, নজরুলের বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও সংরক্ষণে নিবেদিত কাজ আমাদের গর্বিত করে। তার মতো তরুণদের নিষ্ঠাই সমাজে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

বিভাগের শিক্ষক সুদ্বীপ দাশ ও প্রধান সাদিয়া তাবাসসুম নোশিন অয়নের কাজের সাহসিকতা ও আন্তরিকতার প্রশংসা করে বলেন, সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে ও অর্থায়নে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অয়ন যেভাবে বন্যপ্রাণী রক্ষা করছেন, তা সত্যি প্রশংসনীয় এবং তিনি এজন্য যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ডিজার্ভ করেন।

একই সুর মিলিয়ে সামাজিক বন বিভাগ ফেনীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, অয়ন একজন ভলেন্টিয়ার রেস্কিউয়ার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বন বিভাগের সাথে ওতপ্রোতভাবে কাজ করে আসছেন। নজরুল ইসলাম অয়নের মূল স্বপ্ন—একটি নিরাপদ, সচেতন ও প্রকৃতিবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে মানুষ ভয়ের পরিবর্তে জ্ঞান ও সহমর্মিতা দিয়ে বন্যপ্রাণী তথা পরিবেশকে রক্ষা করবে।


নির্বাচিত

আগামী বছর থেকে প্রাথমিকের ১ কোটি শিশু স্কুল ফিডিংয়ের আওতায় আসবে: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

দিনাজপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দিনাজপুর প্রতিনিধি

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আগামী বছর থেকে দেশের ১ কোটি ১০ লাখ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে পুষ্টিকর খাবারের আওতায় আনা হবে। আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝড়ে পড়ার হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে চাই। ঝড়ে পড়া শিশু আর আমাদের দেশে থাকবে না।’

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে দিনাজপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে ওরিয়েন্টেশন কর্মমালা ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘স্কুল ফিডিংয়ে যারা নিম্ন মানের খাবার পরিবেশন করবে ও কোনো অনিয়ম করবে তাদের খাবার সরবরাহের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।’

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামরুল হাসান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) আবুল আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বাজেট ও অডিট) মিজ ইসরাত জাহান, দিনাজপুর পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা ও দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মোফাজ্জল হোসেন দুলাল প্রশাসক।


নির্বাচিত

অষ্টগ্রামে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মো. নজরুল ইসলাম, অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে দেশব্যাপী সকল পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট ২০২৬) সকালে উপজেলা সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনের পর পরই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আতিকুর রহমানের সঞ্চালনায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়।

এসময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল আহাদ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল, সহ-সভাপতি শাহআলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক নজরুল, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গিয়াস উদ্দিন আশরাফি, একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল লতিফ এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মজনু মিয়া জামায়াতে ইসলামীর আমির আশরাফুল আলম, অষ্টগ্রাম সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবেশ চন্দ্র দাস, বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার, হক সাহেব উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান চৌধুরী, অষ্টগ্রাম হোসাইনিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নুরুল আফসার, অষ্টগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি দেবপদ চক্রবর্তী এবং উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম সাগরসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে নজরুল বর্ষের অংশ হিসেবে সোমবার (৩১ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে অষ্টগ্রামের স্বপ্নীল গণগ্রন্থাগার তাদের নিজস্ব কার্যালয়ে গণগ্রন্থাগারের সভাপতি নজরুল ইসলাম সাগরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও কবিতা আবৃত্তির আয়েজন করে। উক্ত অনুষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, স্থানীয় সাহিত্যপ্রেমী ও পাঠকরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

৪ খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে: রংপুরে ত্রাণমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রংপুর জেলা প্রতিনিধি

রংপুরে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের ৪ সদস্যকে হত্যার ঘটনায় স্বল্প সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু । রোববার দুপুরে নগরীর মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে পুলিশ। জনগণ ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়া মাদক নির্মূল সম্ভব নয় মন্তব্য করে মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, আমি এখানে এসে জানতে পারলাম মাদকাসক্তরা গণপতি স্যারকে অনেক ডিস্টার্ব করতো। মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় স্যারসহ তার পরিবারকে হত্যা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশ বাহিনী দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এসব হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। রামিশা হত্যা মামলায় দ্রুত সময়ের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। তার বিচারকার্য শেষ হয়েছে। আমরা এলাকায় নন্দিনী নামে একটি বাচ্চা মেয়েকে হত্যার ঘটনায় ১৫ দিনের মধ্যে বিচারকার্য শেষ হয়েছে। অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে চার্জশিট দাখিল করে স্বল্প সময়ের মধ্যে জঘন্যতম এ হত্যাকাণ্ডের মামলায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাদক রয়েছে। আমাদের সরকার মাদকের বিষয়ে সবো©চ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড করেছে। আমরা আশা করছি জনগণের মধ্যে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে কাজ না করলে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করা যাবে না। পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী, পরিবহনকারী ও সেবনকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ অন্যরা।


নির্বাচিত

টাঙ্গাইলের বাসাইলে নির্জন বাড়িতে ১০ ঘোড়া জবাই

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের বাসাইলে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে ১০টি ঘোড়া জবাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে জবাইকৃত তিনটি ঘোড়া ও সাতটি ঘোড়ার মাথা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাসাইল পৌরসভার বর্ণীকিশোরী এলাকায় পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। গত শনিবার রাতের কোনো এক সময় ১০টি ঘোড়া জবাই করা হয়। দুর্বৃত্তরা সাতটি ঘোড়ার মাংস নিতে পারলেও জবাই করা তিনটি ঘোড়ার মাংস নিতে পারেনি। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও পৌর কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

তিনটি জবাইকৃত ঘোড়া, সাতটি ঘোড়ার মাথা, হাড়, চামড়া ও নাড়িভুঁড়ি সেখান থেকে এনে অন্যত্র পুঁতে রাখা হয়েছে। আর ঘটনাস্থল পরিষ্কার করা হয়েছে।

আবদুর রাজ্জাক, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা, বাসাইল পৌরসভা

বাসাইল পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক বলেন, তিনটি জবাইকৃত ঘোড়া, সাতটি ঘোড়ার মাথা, হাড়, চামড়া ও নাড়িভুঁড়ি সেখান থেকে এনে অন্যত্র পুঁতে রাখা হয়েছে। আর ঘটনাস্থল পরিষ্কার করা হয়েছে।

স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, বাসাইল বা আশপাশের এলাকায় খুব বেশি ঘোড়া লালনপালন করা হয় না। অন্য কোথাও থেকে ঘোড়াগুলো এনে নির্জন পরিত্যক্ত বাড়িটিতে জবাই করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে মফিজ মিয়া নামের একজন বলেন, ‘বিষয়টি জানতে পেরে দেখতে এসেছি। এখানে ১০টি ঘোড়া জবাই করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতটির মাংস নিয়ে গেছে আর তিনটি রেখে গেছে। তারা হয়তো কোনো হোটেলে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে গেছে। এর আগেও উপজেলার নাইকানীবাড়ী ও গাজীর ভাঙ্গা এলাকায় ঘোড়া মাথা, হাড়, চামড়া ও নাড়িভুঁড়ি ফেলে গিয়েছিল।’

বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর কবিরের ধারণা, রাত একটা থেকে চারটার মধ্যে ঘোড়াগুলো জবাই করা হয়েছে। ভোর হয়ে যাওয়ায় সাতটি ঘোড়ার মাংস নিয়ে তিনটি জবাইকৃত ঘোড়া ফেলে রেখে চলে গেছে। ওই বাড়িতে কেউ থাকে না। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।


নির্বাচিত

পটুয়াখালীতে যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ নকল সিগারেট জব্দ করল কোস্ট গার্ড

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

পটুয়াখালীতে যৌথ অভিযানে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বাজারজাতকরণের উদ্দেশ্যে মজুদকৃত বিপুল পরিমাণ নকল সিগারেট জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। রবিবার ৩০ আগস্ট ২০২৬ সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, পটুয়াখালীর সদর থানাধীন সবুজবাগ সংলগ্ন এলাকায় গত ২৯ আগস্ট ২০২৬ রাত ২ টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন পটুয়াখালী কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় সন্দেহজনক ৩ টি গোডাউন তল্লাশি করে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বাজারজাতকরণের উদ্দেশ্যে মজুদকৃত প্রায় ১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৩০০ টাকা মূল্যের ১৮ হাজার ৪০০ শলাকা নকল সিগারেট, ২ হাজার ৮২০ শলাকা বিদেশি সিগারেট ও ৭৪ প্যাকেট রোলিং পেপার এবং ৬০ বোতল নিষিদ্ধ যৌন উত্তেজক সিরাপ জব্দ করা হয়। এসময়, অসাধু ব্যবসায়ীরা যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

জব্দকৃত আলামতের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পটুয়াখালী সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

তিনি আরও বলেন, চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।


নির্বাচিত

সস্ত্রীক তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় পাঁচ জেলায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে নীলফামারীর ডালিয়ায় অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ এলাকা পরিদর্শন করেছেন নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। রোববার দুপুরে তিনি এই বিশেষ পরিদর্শনে যান বলে নিশ্চিত করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড রংপুর উত্তরাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহা. সরফরাজ বান্দা।

এই সফরে রাষ্ট্রদূতের সাথে ছিলেন তার সহধর্মিণী মিসেস ডিয়ান ডাও এবং মার্কিন দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন মেগান বোল্ডিনসহ দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল। ওইদিন সকালে আকাশপথে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণের পর তিনি রংপুরের গঙ্গাচড়ায় অবস্থিত ‘প্যারাগন ডেইরি’ পরিদর্শন করেন এবং পরবর্তীতে তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় পৌঁছান। পরিদর্শনকালে সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক প্রকৌশলী রুহুল আমিনসহ রংপুর ও নীলফামারী অঞ্চলের উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক ও প্রকৌশল কর্মকর্তাবৃন্দ। তিস্তা ব্যারাজের চারপাশের সবুজ প্রকৃতি ও নান্দনিক পরিবেশে মুগ্ধ হয়ে রাষ্ট্রদূত ও তার স্ত্রী সেখানে কিছু সময় অতিবাহিত করেন এবং আলোকচিত্র ধারণ করেন।

পাউবোর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহা. সরফরাজ বান্দা জানান, রাষ্ট্রদূত তিস্তা নদীর বর্তমান গতিপ্রকৃতি, নাব্য সংকট এবং সেচ প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেছেন। পরিদর্শন শেষে স্থানীয় কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি অংশগ্রহণ করেন, যেখানে তাকে তিস্তা অববাহিকার পানি ব্যবস্থাপনা, নদী সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে স্থানীয় কৃষকদের সংকটের বিষয়ে অবহিত করা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত আঞ্চলিক পানি ব্যবস্থাপনা এবং তিস্তা পাড়ের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, সফরের প্রথম দিন শেষে তিনি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ সোমবার রাষ্ট্রদূতের মহানন্দা নদী, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল এবং রকস মিউজিয়াম পরিদর্শনের কথা রয়েছে। এরপর মঙ্গলবার সফরের শেষ দিনে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী সূর্যপুরী আম গাছ, দিনাজপুরের কান্তজির মন্দির এবং পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা পরিদর্শন করবেন। ওইদিন বিকেলেই সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শন শেষে আকাশপথে তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই দীর্ঘ সফরকে কেন্দ্র করে উত্তরাঞ্চলের সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে নিবিড় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁন গণমাধ্যমকে জানান, “মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সফরকে কেন্দ্র করে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তার সফরসূচি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সফর নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে।”


নির্বাচিত

যশোরে আনসার-ভিডিপির তৎপরতায় স্কুলছাত্রীর বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলায় আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের সময়োপযোগী ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপে এক স্কুলছাত্রীর বাল্যবিবাহ সফলভাবে প্রতিরোধ করা হয়েছে। গত ২৯ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে সন্ধ্যার দিকে মনিরামপুর উপজেলার কুলটিয়া ইউনিয়নের ডাঙ্গামহিষদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আনসার ও ভিডিপি সূত্রে জানা যায়, ডাঙ্গামহিষদিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের ১৫ বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক স্কুলপড়ুয়া কন্যার সঙ্গে ঝিকরগাছা উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের কাদের আলীর পুত্র প্রবাসী মো. হাসান আলীর বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছিল। এই অনৈতিক ও বেআইনি আয়োজনের সংবাদ পেয়ে ১৫নং কুলটিয়া ইউনিয়ন দলনেতা মো. রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে ৮-১০ জন নিবেদিতপ্রাণ আনসার-ভিডিপি সদস্য তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং দ্রুত সেখানে পৌঁছান।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে আনসার-ভিডিপি সদস্যরা উভয় পক্ষের অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং বাল্যবিবাহের আইনি পরিণতিসহ অপ্রাপ্তবয়স্ক বয়সে বিয়ের ফলে কিশোরীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ জীবনের ওপর এর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে তাদের বিস্তারিত বোঝান। তাদের আন্তরিক ও দায়িত্বশীল প্রচেষ্টায় উভয় পক্ষ বাল্যবিবাহের আইনগত ঝুঁকি অনুধাবন করে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করতে সম্মত হয়।

পরবর্তীতে কন্যার পরিবারের পক্ষ থেকে মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কোনো অবস্থাতেই বিবাহ দেওয়া হবে না মর্মে মুচলেকা ও লিখিত অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে একজন সম্ভাবনাময় মেধাবী স্কুলছাত্রীকে বাল্যবিবাহের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়।

ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হলে তিনি আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের এই প্রশংসনীয় উদ্যোগ, তাৎক্ষণিক তৎপরতা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে তাদের কার্যকর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের এ ধরনের কার্যক্রম দেশব্যাপী ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করছে। জনগণের সঙ্গে সমন্বয় করে সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত তারা নিরাপদ, সচেতন ও বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।


নির্বাচিত

বগুড়ায় ড্রেন সংস্কারের সময় ৩৩৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় সিটি কর্পোরেশনের ড্রেন পুনর্নির্মাণ কাজের সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩৩৪ রাউন্ড এসএমজি রাইফেলের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে শহরের জিলা স্কুলের প্রাচীর সংলগ্ন এলাকায় ড্রেনের তলদেশ থেকে মাটি খননকালে শ্রমিকরা এই গুলিগুলো দেখতে পান।

নির্মাণকাজের সাথে সংশ্লিষ্টরা জানান, সকালে শ্রমিকরা যখন জিলা স্কুলের প্রাচীরঘেঁষে ড্রেন নির্মাণের জন্য মাটি খুঁড়ছিলেন, তখন হঠাৎ করে মাটির নিচ থেকে বেশ কিছু গুলি বেরিয়ে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নির্মাণ কাজের উপ-ঠিকাদার সিরাজকে জানানো হলে তিনি দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। সংবাদ পেয়ে বগুড়া সদর থানার একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং গুলিগুলো উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

পরবর্তীতে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং উদ্ধারকৃত গুলির সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করেন। গণনায় দেখা যায়, উদ্ধার হওয়া গুলিগুলো এসএমজি রাইফেলের এবং সেখানে মোট ৩৩৪ রাউন্ড গুলি ছিল। ড্রেন নির্মাণকাজের উপ-ঠিকাদার সিরাজ বলেন, “শ্রমিকরা মাটি কাটার সময় গুলিগুলো দেখতে পেয়ে আমাকে জানায়। আমি সাথে সাথেই পুলিশকে বিষয়টি জানাই।”

এই উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে ওসি ইব্রাহীম আলী জানান, উদ্ধার করা ৩৩৪ রাউন্ড গুলি সদর থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং এ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় বগুড়া সদর থানা থেকে লুণ্ঠিত হওয়া এসএমজি রাইফেলের গুলির সাথে এগুলোর মিল থাকতে পারে। তবে উদ্ধারকৃত গুলিগুলো কতদিনের পুরনো এবং সেগুলো বর্তমানে কার্যকর বা সচল কি না, তা বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।


নির্বাচিত

banner close