মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সার্ভারে ঢুকে পাঁচ হাজার জন্মনিবন্ধন তথ্য হ্যাক  

হ্যাকিংয়ের প্রতীকী ছবি।
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত : ২৪ জানুয়ারি, ২০২৩ ২১:০৯

বিভিন্ন সময়ে সার্ভারে অনুপ্রবেশ করে চট্টগ্রামে পাঁচ হাজারেরও বেশি জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি করেছে একটি হ্যাকার চক্র। ৫০০ থেকে ৮০০ টাকার বিনিময়ে তারা রোহিঙ্গাসহ বিভিন্নজনকে এই সনদ তৈরি করে দিতেন।

গত সোমবার অভিযান চালিয়ে চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর এই তথ্য জানতে পারে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে হ্যাকার চক্রের আদ্যোপান্ত জানান কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপকমিশনার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ৮ থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৫টি ওয়ার্ডের আইডি ব্যবহার করে সার্ভারে অনুপ্রবেশ করে ৫৪৭টি জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যু করা হয়। গত শনিবার বিষয়টি জানাজানি হলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের পক্ষ থেকে থানাগুলোতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপরই অনুসন্ধানে নামে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। সোমবার পাঁচজনকে আটকের পর যাচাই-বাছাই করে চারজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

গ্রেপ্তার চারজন হলেন মোস্তাকিম (২২), দেলোয়ার হোসাইন সাইমন (২৩), আব্দুর রহমান আরিফ (৩৫) ও ১৬ বছরের এক কিশোর। নগরের খুলশী থানার পাহাড়তলী ওয়ার্ডে আইডি হ্যাকিংয়ের ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় এই চারজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপকমিশনার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ বলেন, ‘গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হ্যাকার চক্রের সদস্য। তাদের কাজ ছিল মাঠপর্যায়ে জন্মনিবন্ধন-প্রত্যাশীদের ডাটা এন্ট্রি করে হ্যাকার গ্রুপের পরের পর্যায়ে পাঠিয়ে দেয়া। মূল হ্যাকার পরে অবৈধভাবে জন্মনিবন্ধন সার্ভারে প্রবেশ করে একটি জাল জন্মসনদ প্রস্তুত করে পুনরায় চক্রের সদস্যদের কাছে পাঠাতেন।'

মূল হ্যাকারকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলেও জানান কাউন্টার টেররিজমের এই উপকমিশনার।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৪টি সিপিইউ, ৩টি মনিটর, ১টি স্ক্যানার ও প্রিন্টার এবং ৪টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এসব ডিভাইস প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে হ্যাকিংয়ের অসংখ্য আলামত পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

মনজুর মোরশেদ আরও বলেন, ‘ফেসবুকে জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরির বিষয়ে বিভিন্ন গ্রুপ রয়েছে। ওই গ্রুপে প্রবেশ করে যারা ভুয়া জন্মনিবন্ধন করতে আগ্রহী, তাদের চক্রের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেয়া হয়। এ ছাড়া মাঠপর্যায়েও গ্রাহক সংগ্রহ করে থাকে চক্রের অন্য সদস্যরা। এ পর্যন্ত চক্রটি ৫ হাজারের বেশি ভুয়া জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি ও বিতরণ করেছে বলে জানতে পেরেছি। সারা দেশে একাধিক চক্র ছড়িয়ে রয়েছে। একেকটি চক্রের সদস্য সংখ্যা ৩০ থেকে ১০০।’

জন্মসনদ পাওয়াদের মধ্যে রোহিঙ্গা নাগরিক থাকতে পারেন আশঙ্কা করে মনজুর মোরশেদ বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি, আইডি হ্যাক করে যেসব ভুয়া জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যু করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রোহিঙ্গা নাগরিক থাকতে পারে।’ তবে জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যুর ঘটনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কারোর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপকমিশনার আসিফ মহিউদ্দীনসহ অন্যরা।

বিষয়:

নির্বাচিত

ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহে প্রেস কনফারেন্স

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সহিদ চৌধুরী, গোপালগঞ্জ

গোপালগঞ্জে ‘ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম’-এর তথ্য সংগ্রহ বিষয়ে এক অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে এবং জেলা প্রশাসনের সহায়তায় গত সোমবার (১২ অক্টোবর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ‘স্বচ্ছতা’ সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, স্বাবলম্বী পরিবার গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় প্রতি মাসে একজন ফ্যামিলি কার্ডধারী পাবেন ২৫০০ টাকা। প্রাথমিক পর্যায়ে এলাকার অসচ্ছল পরিবারগুলোকে এবং পর্যায়ক্রমে সব পরিবারকে এ সেবার আওতায় আনা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. কে এম বাবর।

গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক আরিফ-উজ-জামানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ড. কে এম বাবর বলেন, সঠিক ও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে হবে। এ কার্যক্রমে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা ভুল তথ্য যাতে অন্তর্ভুক্ত না হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

প্রেস কনফারেন্সে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুল্লাহ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শরিফ রফিক উজ্জামান সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মুরাদ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. তারেক সুলতান এবং শহর সমাজসেবা অফিসার আলামিন মোল্লা।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিক সহিদ চৌধুরী ও মোজাম্মেল হোসেন মুন্নার প্রশ্নের জবাব দেন যৌথভাবে জেলা প্রশাসক ও সংসদ সদস্য।


নির্বাচিত

জামালপুরে ২০ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুরের ইসলামপুরে ২০ কেজি গাঁজাসহ আব্দুর রশিদ (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত সোমবার বিকেলের দিকে ইসলামপুর পৌর এলাকার গাওকুড়া খালেরপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে জামালপুর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-১)।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইসলামপুর পৌর এলাকার গাওকুড়া খালেরপাড় এলাকার স্থানীয় অনুশেখের মনোহারি দোকানের সামনের পাকা রাস্তায় অভিযান পরিচালনা করে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। অভিযান চলাকালে আব্দুর রশিদকে আটক করা হয় এবং তার কাছ থেকে ২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আব্দুর রশিদ ইসলামপুর উপজেলার পলবান্ধা উজান পাড়া গ্রামের বাসিন্দা। সে একই এলাকার মৃত আব্দুল হকের ছেলে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, ডিবি-১) মো. শাহীনুর ইসলাম তালুকদার জানান, এ ঘটনায় ইসলামপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে জামালপুর জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। মাদক আমাদের তরুণ সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক হুমকি। জেলায় মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাচালানের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আমাদের মাদকবিরোধী এ বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, মাদক নির্মূলে সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। মাদক সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানাচ্ছি। তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।


নির্বাচিত

শৈলকুপায় শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের চিঠির বক্স উদ্বোধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় শিক্ষার্থীদের মনের কথা, স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রকাশের সুযোগ করে দিতে ‘স্বপ্নের চিঠির বক্স’ উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ফুলহরি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ বক্সের উদ্বোধন করেন ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী সেলিম রেজা। এ সময় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লক্ষণ প্রসাদ সাহা এবং সার্ভিস অ্যান্ড ভিশন এডিফাই (সেভ)-এর নির্বাহী পরিচালক আয়শা সিদ্দীকাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সেভের ‘এমপাওয়ারিং অ্যাডোলেসেন্ট গার্লস অ্যান্ড সিভিল সোসাইটি মেম্বারস টু এন্ড চাইল্ড ম্যারেজ’ (গার্লপাওয়ার) প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

আয়োজকরা জানান, স্বপ্নের চিঠির বক্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের মনের কথা, জীবনের লক্ষ্য, প্রত্যাশা ও বিভিন্ন সমস্যার কথা চিঠির মাধ্যমে তুলে ধরতে পারবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ, সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি এবং নিজেদের স্বপ্ন পূরণে উৎসাহিত করা সম্ভব হবে।

তারা আরও জানান, প্রতি মাসে বক্স থেকে চিঠি সংগ্রহ করা হবে। চিঠিতে শিক্ষার্থীদের তুলে ধরা স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করে সেগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মতামত ও চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের সম্ভাবনা বিকাশে কাজ করা হবে বলে জানান আয়োজকরা।


নির্বাচিত

পড়াশোনার ফাঁকে ঢেঁকিশাক বিক্রি করে সপ্তম শ্রেণির রেজাউল

* বাবা বাক্প্রতিবন্ধী, মায়ের নেই এক চোখ
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মিজানুর রহমান, পঞ্চগড়

পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের সংগ্রহ করা ঢেঁকিশাক বাজারে বিক্রি করছে পঞ্চগড় সদর উপজেলার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. রেজাউল করিম। বয়সে ছোট হলেও পরিবারের বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজের সংগ্রহ করা শাক বিক্রি করে জীবনের অভিজ্ঞতা অর্জন করছে সে।

গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে পঞ্চগড় বাজারে ঢেঁকিশাক বিক্রি করতে দেখা যায় রেজাউল করিমকে। তার বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজেলার ১নং অমরখানা ইউনিয়নের ছোট কামাত এলাকায়। সে শালমারা ভিতরগড় উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ে তার শ্রেণি রোল ৫৫।

রেজাউল নিজেই বিভিন্ন জায়গা থেকে ঢেঁকিশাক সংগ্রহ করে বাজারে নিয়ে আসে এবং তা বিক্রি করে। একদিকে বিদ্যালয়ে পড়াশোনা, অন্যদিকে নিজের হাতে শাক সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি—তার এই চিত্র গ্রামীণ জীবনের বাস্তবতা ও পরিবারের প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, রেজাউলের বাবা মো. আব্দুল মতিন একজন বাক্প্রতিবন্ধী এবং তার মায়ের একটি চোখ নেই। রেজাউলের বাবা দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। পরিবারের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে জীবনযাপন করতে হয় তাদের। এমন পরিস্থিতিতে রেজাউলের বাজারে ঢেঁকিশাক বিক্রির বিষয়টি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

শিক্ষাজীবনের এই বয়সে রেজাউলের প্রধান কাজ পড়াশোনা করে ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। তবে পারিবারিক বাস্তবতার কারণে তার এমন উদ্যোগ অনেকের মনে সহমর্মিতা জাগাতে পারে। শিশুটির পড়াশোনা যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজের সহানুভূতিশীল সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।

পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা জানান, আমি শিশুটির পরিবারের সাথে যোগাযোগ এবং সার্বিক বিষয়ে জানার চেষ্টা করছি।


নির্বাচিত

গোদাগাড়ীতে ইউএনও কার্যালয়ে তালা, ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে তালা দেওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে উপজেলা প্রশাসন। অন্যদিকে, এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সংগঠনগুলো।

জানা গেছে, ইউএনও কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে সরকারি কাজে বাধা ও জনভোগান্তি সৃষ্টির অভিযোগে গত সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে গোদাগাড়ী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গোদাগাড়ী উপজেলার উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোক্তার হোসেন বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে এই মামলা করেন।

এদিকে, ইউএনও অফিসে তালা দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে জড়িত জামায়াত, এনসিপি ও পলাতক ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা ১২টায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে গোদাগাড়ী উপজেলা, বিভিন্ন পৌরসভা বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ ও সাধারণ জনগণ।

গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা চত্বরে এসে ইউএনও কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে বিএনপি নেতারা ‘মব কালচার’-এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তারা সরকারের যেকোনো উন্নয়নের অংশীদার হয়ে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রশাসনের কাজে সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়ে তারা ইউএনও কার্যালয়ে তালা দেওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন—কাঁকনহাট পৌর বিএনপির সভাপতি জিয়াউল সরকার, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর, গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব, সহ-সভাপতি মোস্তফা ও নাসির উদ্দিন বাবু, রাজশাহী জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক অরণ্য কুসুম, জেলা যুবদলের সদস্য ডালিম, গোদাগাড়ী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ ও সদস্য সচিব বাবু, কাঁকনহাট পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মশি ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরসালান, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক বিদ্যুৎ ও সদস্য সচিব কাওসার, পৌর ছাত্রদলের মোবিনসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য, সার ডিলার নিয়োগে নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে ইউএনও ইসরাত জাহানের অপসারণ দাবিতে কার্যালয় ঘেরাও করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা। আন্দোলনকারীরা উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে কর্মসূচি শুরু করেন এবং একপর্যায়ে ফটকে তালা দিয়ে অবস্থান নেন। দুই ঘণ্টা তালাবদ্ধ থাকায় প্রশাসনিক ভবনের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ। মূলত এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই মামলা দায়ের ও আজকের প্রতিবাদ সমাবেশের ঘটনা ঘটে।


নির্বাচিত

হালুয়াঘাটে বিজিবির অভিযানে হামলা, গুলিতে নিহত ১

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সুমন আহম্মেদ, হালুয়াঘাট প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তে গরু চোরাচালানবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের সঙ্গে কথিত চোরাকারবারিদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিজিবির গুলিতে রুমান (৩২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) ভোর আনুমানিক ৫টা ৪৫ মিনিটে তেলিখালী বিওপির একটি টহল দল ঝলঝলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারটি গরু জব্দ করে। পরে গরুগুলো নিয়ে ফেরার পথে একদল কথিত চোরাকারবারি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিজিবির ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন-৩৯-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে সতর্ক করা হয়। পরে বিজিবি সদস্যরা তিন থেকে চারটি সতর্কতামূলক গুলি ছোড়েন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে এক ব্যক্তি আহত হন। এ ঘটনায় বিজিবির নায়েক রফিকের ডান হাতে আঘাত লাগে। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পরে গুলিবিদ্ধ রুমানকে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত রোমান উপজেলার ১ নম্বর ভূবনকুড়া ইউনিয়নের বেতকুড়ী গ্রামের আলাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয় বাঘাইতলা বাজারের ইজারাদার ছিলেন।

রোমানের পরিবার থেকে জানানো হয়, রাতে এলাকায় ভারতীয় গরুর অভিযান চালান বিজিবি সদস্যরা। খবর পেয়ে রুমান ঝলঝলিয়া গ্রামে যান। সেখানে বাঘাইতলা বাজারের ইজারাসংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে তাঁকে গুলি করা হয়। ভোর সাড়ে চারটার দিকে গুলির ঘটনা ঘটলেও প্রায় তিন ঘণ্টা রুমানকে ঘটনাস্থলে আটকে রাখা হয়। এ সময় তাঁকে হাসপাতালে নিতে দেওয়া হয়নি।

ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে স্থানীয় লোকজন হালুয়াঘাটে সড়ক অবরোধ করেন।

হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, ‘বিজিবির গুলিতে একজন মারা গেছেন। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন। সুরতহালে দেখা গেছে ৪ জায়গায় গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর আরও বিস্তারিত জানা যাবে।


নির্বাচিত

দেশের সিনেমা হলের উন্নয়নে পদক্ষেপ নেবে সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশ, সিনেমা হলের আধুনিকায়ন এবং দর্শক ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

সোমবার (১২ অক্টোবর) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী সমিতিসহ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় হল মালিকদের সমস্যাগুলো জানতে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘হল মালিকদের উত্থাপিত কিছু দাবি বাস্তবায়নে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। কিছু বিষয় আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। সিনেমা হল বাঁচাতে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের যে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে, তা তিনি খতিয়ে দেখবেন। এ অর্থ ছাড়ের বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকলে তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘মোবাইল ফোন কিংবা হোম থিয়েটারের কারণে সিনেমা হল বিলুপ্ত হয়ে যাবে-এমন ধারণার সঙ্গে তিনি একমত নন। কারণ, সিনেমা হলে গিয়ে বড় পর্দায় সম্মিলিতভাবে চলচ্চিত্র উপভোগ করার অভিজ্ঞতা ঘরে বসে বা মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা থেকে আলাদা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও সিনেমা হল ও সিনেপ্লেক্স সফলভাবে চলছে। তাই বাংলাদেশের সিনেমা হলগুলো কেন টিকে থাকতে পারবে না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘সিনেমা হলের দর্শক বাড়াতে ভালো মানের চলচ্চিত্র নির্মাণের বিকল্প নেই। শুধু বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানির ওপর নির্ভর না করে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে চলচ্চিত্র আমদানি ও প্রদর্শনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানির অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার আন্তরিক থাকবে। তবে আমদানি ও রপ্তানির মাধ্যমে দেশের রাজস্ব আয় এবং জনগণের স্বার্থ কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, তা-ও বিবেচনায় নিতে হবে।’

চলচ্চিত্র রপ্তানির সম্ভাবনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের চলচ্চিত্র বিদেশে প্রদর্শন ও রপ্তানির মাধ্যমে রাজস্ব আয়ের সুযোগ রয়েছে কি না, তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। এ ক্ষেত্রে রপ্তানি থেকে অর্জিত আয়ের কতটা বাংলাদেশের জনগণ ও অর্থনীতির উপকারে আসছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’

দেশীয় চলচ্চিত্রের দর্শক সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনেক সিনেমা হলে পর্যাপ্ত দর্শক পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো কোনো সিঙ্গেল স্ক্রিনে বিপুল আসন সংখ্যার বিপরীতে দর্শকের উপস্থিতি অত্যন্ত কম। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে হল মালিক, প্রযোজক ও পরিচালকদের যৌথভাবে আলোচনা করে দর্শকের চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রদর্শনের উদ্যোগ নিতে হবে। ভালো চলচ্চিত্র নির্মিত হলে প্রযোজক, হল মালিক ও দর্শক-সব পক্ষই উপকৃত হবে।’

চলচ্চিত্রে দক্ষ শিল্পী তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অভিনেতা-অভিনেত্রী ও পরিচালকদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।’

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) মাধ্যমে ‘প্রতিভার সন্ধানে’ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে ভবিষ্যতেও প্রতিভাবান শিল্পী উঠে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সিনেমা হলগুলোতে ই-টিকিটিং ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে ইতোমধ্যে বিএফডিসিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

আধুনিক টিকিটিং ব্যবস্থা চালু হলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি হল মালিকদের কার্যক্রমেও স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আসতে পারে। এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নে হল মালিকদেরও আন্তরিক হতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সিনেমা হলের আধুনিকায়নে অর্থ ছাড়ের বিষয়টি নিয়ে অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বরাদ্দের অর্থ শুধু সিনেপ্লেক্সের জন্য নয়, প্রচলিত সিনেমা হলগুলোর ক্ষেত্রেও কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন।’

তিনি চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতাদেরকে তাদের দাবি-দাওয়াগুলো লিখিতভাবে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার আহ্বান জানান। এসব দাবি পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শরফুদ্দীন এলাহী চৌধুরীসহ সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা দেশের সিনেমা হলগুলোর সংকট, আধুনিকায়ন, অর্থায়ন, চলচ্চিত্র আমদানি-রপ্তানি এবং দর্শক বাড়ানোর বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।


নির্বাচিত

ডিসেম্বরে খুলবে হাটিকুমরুল ক্লোভারলিফ ইন্টারচেঞ্জ, কমবে উত্তরের দুর্ভোগ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোলাম মোস্তফা কামাল, সিরাজগঞ্জ

যমুনা সেতু পার হওয়ার পরই উত্তরবঙ্গের পথে শুরু হয় যানজট ও ধীরগতির চিরচেনা ভোগান্তি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকতে হয় যাত্রী ও পণ্যবাহী যানকে। বিশেষ করে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় দূরপাল্লার যানবাহনের চাপ বাড়লে ঢাকা থেকে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলগামী ২২ জেলার মানুষের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। গত বছরও ঈদে ঘরমুখো মানুষের এই দুর্ভোগ পিছু ছাড়েনি। যমুনা সেতুর দুই প্রান্তে সৃষ্টি হওয়া যানজটের প্রভাব পড়ে সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ, কড্ডার মোড় ও হাটিকুমরুল মোড়েও।

আগামী ঈদের আগেই এ দুর্ভোগ কমাতে নির্মাণাধীন গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারচেঞ্জসহ সাসেক-২ চারলেন সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এর অংশ হিসেবে হাটিকুমরুল মোড়ে নির্মাণাধীন ক্লোভারলিফ ইন্টারচেঞ্জ ফ্লাইওভার আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৭৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়কের চারলেন প্রকল্পের এ অংশের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে দিন-রাত দুই শিফটে চলছে নির্মাণকাজ।

ইন্টারচেঞ্জটি চালু হলে উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি রাজধানীর সঙ্গে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে নির্ধারিত সময়ে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া নিয়ে কিছুটা শঙ্কাও রয়েছে। সাসেক-টু প্রকল্পের অধীন রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ কাজ শুরু হয় প্রায় ১০ বছর আগে ২০১৬ সালে। ২০২২ সালে সিরাজগঞ্জের হাটি- কুমরুল মোড়ে ক্লোভার লিভ ইন্টার চেঞ্জ ফ্লাইওভার প্রকল্পে কাজ শুরু হয়। ২০২২ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির প্রাথমিক মেয়াদ ছিল ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। ভূমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি। পরে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। বর্ধিত মেয়াদও শেষ হওয়ার পথে। ফলে ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত প্রধান কাঠামো যান চলাচলের উপযোগী করার চাপ রয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নকারীদের ওপর।

সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২-এর আওতায় চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ব্রিজ করপোরেশন ইন্টারচেঞ্জটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, বালু ভরাট, বাউন্ডারি ওয়াল, ব্রিজ নির্মাণ ও সার্ভিস এরিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজের বড় অংশ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। মহাসড়কে যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ছয়টি সার্ভিস লেনও খুলে দেওয়া হয়েছে।

সাসেক-২-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সরফরাজ হোসাইন বলেন, ‘ডিসেম্বরের মধ্যে ইন্টার চেঞ্জ ফ্লাইওভারের মূল স্ট্রাকচার বা প্রধান কাঠামোর নির্মাণকাজ শেষ করে যান চলাচলের উপযোগী করাই লক্ষ্য। এ জন্য শ্রমিক ও প্রকৌশলীরা দুই শিফটে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন।’ প্রকল্পের নির্মাণ ও তদারকিতে আধুনিক প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হচ্ছে।

সাসেক-২-এর প্রকল্প পরিচালক ড. মো. ওয়ালিউর রহমান জানান, জরিপকাজের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে জিপিএস প্রযুক্তি এবং নির্মাণকাজের নিবিড় তদারকিতে বিল্ডিং ইনফরমেশন মডেলিং (বিআইএম) সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে ‘যমুনা সেতুর উপরিভাগের’ পুরোনো রেললাইন, যা ইতোমধ্যে অপসারণ করা হয়েছে, সেখানে দুই লেন সম্প্রসারণের কাজও শেষ করতে না পারলে সাসেক প্রকল্পের সুফল পুরোপুরি ভোগ করা যাবে না। যানজটের স্থায়ী সমাধানও হবে না। ইতোমধ্যেই যমুনা সেতু ও রেল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। পাশাপাশি মহাসড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও আধুনিকিকরণ করা প্রয়োজন।’

ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশাও কম নয়। সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘ইন্টারচেঞ্জ ফ্লাইওভার প্রকল্প সহ পুরো চারলেন রাস্তা চালু হলে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিপণ্য ও শিল্পসামগ্রী দ্রুত রাজধানীতে পৌঁছানো যাবে। পরিবহন সময় ও ব্যয় কমলে এর সুফল পাবেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোক্তা উভয়েই।’

এদিকে যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘যমুনা সেতুর উপরিভাগে রেলট্র্যাক অপসারণের পর আন্তর্জাতিকভাবে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। ২৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুর উপরিভাগ সম্প্রসারণের জন্য চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গত মে মাসে চুক্তি হয়েছে। তবে ১৮ মাসের চুক্তির মধ্যে ঠিকাদারি মালামাল সংগ্রহ ও তাদের এস্টাবলিশমেন্টের জন্য ইতোমধ্যে পাঁচ মাস পার হয়ে গেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে, আগামী রোজার ঈদের আগে সেতুর সম্প্রসারণ অংশে চলাচলের উপযোগী করে দিতে হবে। তা না হলে চলাচলে বিড়ম্বনার সৃষ্টি হতে পারে।’

যমুনা সেতু দেশের উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের অন্যতম প্রধান সড়কপথ। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন এ পথ ব্যবহার করে। সেতু পার হওয়ার পর বিভিন্ন পয়েন্টে যানজট ও ধীরগতির কারণে বাড়ে যাত্রার সময়। হাটিকুমরুল ক্লোভারলিফ ইন্টারচেঞ্জ চালু হলে সেই চাপ কতটা কমে, এখন সেটিই দেখার বিষয়। তবে ডিসেম্বরের মধ্যে এটি চালু করা গেলে উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি রাজধানীর সঙ্গে উত্তরের বাণিজ্যিক যোগাযোগেও নতুন গতি আসবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।


নির্বাচিত

নওগাঁ সরকারি কলেজে ক্যান্টিনের দাবিতে বিক্ষোভ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁ সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও মানসম্মত ক্যান্টিন স্থাপনের দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে কলেজ চত্বরে নওগাঁ সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের ব্যানারে এই বিক্ষোভ হয়। পরে কলেজের অধ্যক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেন ছাত্রদলের নেতা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এ সময় নওগাঁ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রেদোয়ানুর রহমান রওনক, সাধারণ সম্পাদক সজিব হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি সাব্বির হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মারুফ, সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদ হাসান রাব্বিসহ ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিক্ষোভে বক্তারা বলেন, ‘উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠে হাজার হাজার শিক্ষার্থী পড়ালেখা করলেও মানসম্মত ও সুনির্দিষ্ট কোনো ক্যান্টিন নেই। ফলে দুপুরের খাবার, টিফিন ও বিশুদ্ধ পানির জন্য দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে কলেজের বাইরে যেতে হচ্ছে। এতে যেমন মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন; যা ছাত্রীদের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও নিরাপত্তাহীনতারও কারণ।’

তারা আরও জানান, ক্যাম্পাসে সুলভ মূল্যে একটি পরিচ্ছন্ন ক্যান্টিন থাকলে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যকর খাবারের নিশ্চয়তা মিলবে এবং পড়াশোনায় স্বস্তি ফিরবে। তাই শিক্ষার্থীদের এই দীর্ঘদিনের যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে দ্রুত একটি আধুনিক ক্যান্টিন স্থাপনের জোর দাবি জানান বক্তারা।

নওগাঁ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রেদোয়ানুর রহমান রওনক বলেন, ‘ছাত্রদল সবসময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার ও সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীদের গণস্বাক্ষরসহ অধ্যক্ষের কাছে আমাদের এই যৌক্তিক দাবি পেশ করেছি। আমরা আশা করি, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসন দ্রুত ক্যাম্পাসে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও সুলভ মূল্যের মানসম্মত ক্যান্টিন স্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’


নির্বাচিত

বকেয়া ১,২৬৩ টাকার বলি চা-বিক্রেতা দুরুদ মিয়া, ঘাতকের ফাঁসির রায়

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

দোকানের বাকি মাত্র ১ হাজার ২৬৩ টাকা চাওয়াই কাল হয়েছিল চা-বিক্রেতা দুরুদ মিয়ার। সেই তুচ্ছ পাওনা টাকার জেরে দিনদুপুরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল তাকে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সেই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ছাদিক মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার বাকি সাত আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) মৌলভীবাজার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শামসাদ বেগম এ রায় ঘোষণা করেন। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন তছকির মিয়া, সিরাজ মিয়া, নুরুল ইসলাম, ছাইফুর রহমান, আতাউর রহমান, শফিক মিয়া ও আছাব মিয়া।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত ২০০৮ সালের ১২ জুন সকালে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নাজিরাবাদ ইউনিয়নের নারাইনপাশা এলাকায় নিজের চায়ের দোকানে বসে পাওনা ১ হাজার ২৬৩ টাকা ছাদিক মিয়ার কাছে চান দুরুদ মিয়া। সামান্য টাকা চাওয়ায় তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন ছাদিক। দোকান থেকে তক্ষুণি চলে গিয়ে কিছুক্ষণ পরই দলবল নিয়ে ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ফিরে আসেন তিনি। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রকাশ্য দিবালোকে দুরুদ মিয়ার ওপর চালানো হয় অতর্কিত হামলা; ধারালো অস্ত্রের এলোপাতাড়ি কোপে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন তিনি।

স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত দুরুদ মিয়াকে উদ্ধার করে দ্রুত মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বর্বরোচিত ঘটনার পর ওই দিন রাত সাড়ে ১১টায় নিহতের ছেলে মকবুল মিয়া বাদী হয়ে আটজনকে অভিযুক্ত করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ড. আব্দুল মতিন চৌধুরী বলেন, ‘মাত্র ১ হাজার ২৬৩ টাকার জন্য একজন নিরীহ মানুষকে এভাবে প্রাণ দিতে হয়েছিল। এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে আইনের শাসনের প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় হলো।’

আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট নিয়ামুল হক সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, বিচারিক কার্যক্রম ও সাক্ষ্যগ্রহণ দ্রুত শেষ করায় মামলাজট কমার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ দ্রুত বিচার পাওয়ার সুফল পাচ্ছেন। বিচার বিভাগের এই গতিশীলতা বজায় থাকলে অপরাধীদের কাছে একটি কঠোর বার্তা পৌঁছাবে।


নির্বাচিত

জীবন বাজি রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেন ওসি নয়ন কুমার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার বেড়ায় ওয়ার্ডভিত্তিক ফুটবল প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে দুই মহল্লার বাসিন্দাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, যদি পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের তাৎক্ষণিক ও সাহসী ভূমিকা না থাকত, তবে বড় ধরনের রক্তক্ষয় ও বহু প্রাণহানির মারাত্মক ঘটনা ঘটতে পারত। জীবন বাজি রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার সরকার ও তার সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স।

গত রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত প্রায় ৯টা পর্যন্ত বেড়া পৌর এলাকার নাজিম বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ সংঘর্ষ চলে। এতে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কয়েকটি দোকান ও অন্তত ১৫টি বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেড়া পৌর এলাকার বেড়া বিবি পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বেশ কিছুদিন ধরে ওয়ার্ডভিত্তিক ফুটবল প্রতিযোগিতা চলছিল। গত রোববার (১১ অক্টোবর) টুর্নামেন্টের খেলায় পৌরসভার ২ নম্বর ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দল মুখোমুখি হয়। নির্ধারিত সময়ে খেলা ১-১ গোলে ড্র হলে পেনাল্টি শুটআউটের মাধ্যমে ফলাফল নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময়ই দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও বিরোধের সৃষ্টি হয়।

একপর্যায়ে ২ নম্বর ওয়ার্ডের সওদাগরপাড়া এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বনগ্রাম মহল্লার বাসিন্দারা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পুরো নাজিম বাজার এলাকা মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মাঝে বেশ কিছু দোকানপাটে অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি অন্তত ১৫টি বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।

খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুলান্ট চাকমা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরিস্থিতি চরম রূপ নিলে জীবনঝুঁকি উপেক্ষা করে পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে নামেন বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পার্শ্ববর্তী সাঁথিয়া ও সুজানগর থানা থেকেও অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুই মুখোমুখি অবস্থানরত পক্ষের মাঝখানে দাঁড়ান এবং টানা দুই ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, পুলিশ যদি সময়মতো চরম সাহস ও ধৈর্যের পরিচয় না দিত, তবে এই সংঘর্ষে দুই পক্ষের একাধিক তাজা প্রাণ অকালে ঝরে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা ছিল।

বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার সরকার সংঘর্ষের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ থাকা সত্ত্বেও আমাদের পুলিশ সদস্যরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ এবং এসআরবি মোতায়েন রয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে।

সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে ভাব থাকলেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।


নির্বাচিত

মঞ্চ ছেড়ে শিক্ষার্থীদের কাছে ফুল দিয়ে নবীনদের বরণ করলেন এমপি জিলানী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া সরকারি আদর্শ কলেজে উৎসবমুখর পরিবেশে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়েছে। প্রচলিত আনুষ্ঠানিকতার বাইরে গিয়ে মঞ্চ ছেড়ে শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে তাদের হাতে ফুল তুলে দিয়ে স্বাগত জানান গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দিনব্যাপী কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত নবীনবরণ ও কৃতি শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন তিনি। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়।

কোটালীপাড়া সরকারি আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. এনায়েত বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ গৌরাঙ্গ লাল চৌধুরী ও কার্তিক চন্দ্র বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল বসার হাওলাদার, পৌর বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী দাড়িয়া, সাধারণ সম্পাদক ওলিউর রহমান হাওলাদার এবং সাবেক ভিপি ও বিএনপি নেতা ফায়েকুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, নবীন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য এসএম জিলানী নবীন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি মাদক থেকে দূরে থাকা এবং নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান। শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই সুশিক্ষা ও ভালো চরিত্র গঠনের মাধ্যমে দেশ ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে অত্র কলেজ থেকে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গত বছর ভর্তি হওয়া ৯ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।


নির্বাচিত

রাজবাড়ীতে ডিবির অভিযানে ৩০ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার তিন, ট্রাক জব্দ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মইনুল হক মৃধা, রাজবাড়ী

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৯০ লাখ টাকা। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি টাটা কার্গো ট্রাক ও তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোররাত সাড়ে ৫টার দিকে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া মহাসড়কের দৌলতদিয়া বাস টার্মিনালসংলগ্ন গোয়ালন্দঘাট থানার শাহ্‌ মেম্বারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকাল ৩টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন, যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার গয়রা এলাকার মো. রমজান আলী (৩৪), দিঘীরপাড় এলাকার মো. আরমান হোসেন ইউনুস (৩০) এবং কাগমারী এলাকার মো. আরিফ হোসেন (৩২)। পুলিশ জানিয়েছে, রমজান আলীকে মাদক চালানের মূল কারবারি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আরমান ট্রাকচালক এবং আরিফ হেলপার হিসেবে কাজ করতেন।

রাজবাড়ী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের প্রেস রিলিজ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল একটি ট্রাকে করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালান পরিবহন করা হচ্ছে এরকম জানতে পারে। এ তথ্যের ভিত্তিতে ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে দৌলতদিয়া বাস টার্মিনাল এলাকায় অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেয় পুলিশ।

পরে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা মেট্রো-ট-১৮-১১১৮ নম্বরের একটি টাটা কার্গো ট্রাকের গতিরোধ করা হয়। ট্রাকটির চালক, হেলপার ও চালকের পেছনের বক্সে থাকা এক ব্যক্তির কথাবার্তা ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তারা পালানোর চেষ্টা করলে ডিবি পুলিশের সদস্যরা তিনজনকে আটক করেন।

পরে ট্রাকের বক্স তল্লাশি করে ১৫০টি নীল রঙের জিপার ব্যাগে রাখা ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাকটি এবং রেডমি-১২-৫জি ও টেকনো কেএম৫ মডেলের দুটি স্মার্টফোন এবং উইনস্টার ডব্লিউ৫০০এমআইডি মডেলের একটি বাটন ফোন জব্দ করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিক্রির উদ্দেশ্যে ইয়াবার চালানটি পরিবহন করা হচ্ছিল। এ কাজে ট্রাকচালক ও হেলপার সহযোগিতা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন জানিয়েছেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জেলা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।


নির্বাচিত

banner close