বিভিন্ন সময়ে সার্ভারে অনুপ্রবেশ করে চট্টগ্রামে পাঁচ হাজারেরও বেশি জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি করেছে একটি হ্যাকার চক্র। ৫০০ থেকে ৮০০ টাকার বিনিময়ে তারা রোহিঙ্গাসহ বিভিন্নজনকে এই সনদ তৈরি করে দিতেন।
গত সোমবার অভিযান চালিয়ে চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর এই তথ্য জানতে পারে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে হ্যাকার চক্রের আদ্যোপান্ত জানান কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপকমিশনার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ৮ থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৫টি ওয়ার্ডের আইডি ব্যবহার করে সার্ভারে অনুপ্রবেশ করে ৫৪৭টি জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যু করা হয়। গত শনিবার বিষয়টি জানাজানি হলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের পক্ষ থেকে থানাগুলোতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপরই অনুসন্ধানে নামে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। সোমবার পাঁচজনকে আটকের পর যাচাই-বাছাই করে চারজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গ্রেপ্তার চারজন হলেন মোস্তাকিম (২২), দেলোয়ার হোসাইন সাইমন (২৩), আব্দুর রহমান আরিফ (৩৫) ও ১৬ বছরের এক কিশোর। নগরের খুলশী থানার পাহাড়তলী ওয়ার্ডে আইডি হ্যাকিংয়ের ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় এই চারজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপকমিশনার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ বলেন, ‘গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হ্যাকার চক্রের সদস্য। তাদের কাজ ছিল মাঠপর্যায়ে জন্মনিবন্ধন-প্রত্যাশীদের ডাটা এন্ট্রি করে হ্যাকার গ্রুপের পরের পর্যায়ে পাঠিয়ে দেয়া। মূল হ্যাকার পরে অবৈধভাবে জন্মনিবন্ধন সার্ভারে প্রবেশ করে একটি জাল জন্মসনদ প্রস্তুত করে পুনরায় চক্রের সদস্যদের কাছে পাঠাতেন।'
মূল হ্যাকারকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলেও জানান কাউন্টার টেররিজমের এই উপকমিশনার।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৪টি সিপিইউ, ৩টি মনিটর, ১টি স্ক্যানার ও প্রিন্টার এবং ৪টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এসব ডিভাইস প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে হ্যাকিংয়ের অসংখ্য আলামত পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
মনজুর মোরশেদ আরও বলেন, ‘ফেসবুকে জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরির বিষয়ে বিভিন্ন গ্রুপ রয়েছে। ওই গ্রুপে প্রবেশ করে যারা ভুয়া জন্মনিবন্ধন করতে আগ্রহী, তাদের চক্রের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেয়া হয়। এ ছাড়া মাঠপর্যায়েও গ্রাহক সংগ্রহ করে থাকে চক্রের অন্য সদস্যরা। এ পর্যন্ত চক্রটি ৫ হাজারের বেশি ভুয়া জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি ও বিতরণ করেছে বলে জানতে পেরেছি। সারা দেশে একাধিক চক্র ছড়িয়ে রয়েছে। একেকটি চক্রের সদস্য সংখ্যা ৩০ থেকে ১০০।’
জন্মসনদ পাওয়াদের মধ্যে রোহিঙ্গা নাগরিক থাকতে পারেন আশঙ্কা করে মনজুর মোরশেদ বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি, আইডি হ্যাক করে যেসব ভুয়া জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যু করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রোহিঙ্গা নাগরিক থাকতে পারে।’ তবে জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যুর ঘটনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কারোর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপকমিশনার আসিফ মহিউদ্দীনসহ অন্যরা।
ফেনীতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসেই জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৬শ’ ছাড়িয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ৪০৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। অপরদিকে গত বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা তিনগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন জেলাবাসী।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য মতে, জেলায় গত ৯ মাসে মোট ৬৫২ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। গত বছর ২০২৫ সালে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২০১ জন।
ফেনী সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৬২ ডেঙ্গু পরীক্ষা হলে ২৪ জনের ডেঙ্গু পজিটিভ এসেছে।
জেলায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে ফেনী সদর উপজেলায়। মোট ৬৫২ জন আক্রান্তের মধ্যে ৪৭৭ জনই এই উপজেলার । বাকি সব অন্যান্য উপজেলায়।
চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে জেলার হাসপাতালগুলোতে ৪৭১জন ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা ছাড়পত্র প্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা ৪৩০ জন। বর্তমানে জেলার হাসপাতালগুলোতে ৪১ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছেন, জেলায় ডেঙ্গুর কিট মজুদ আছে ৬৬৯২ টি। এর মধ্যে ফেনী সদর উপজেলায়- ৫৩৭৭, দাগনভূঞা- ৩৮, সোনাগাজী- ৬৪, ছাগলনাইয়া-৮৩২, পরশুরাম- ৩৪১ ও ফুলগাজী উপজেলায়-৪০টি।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: মোবারক হোসেন দুলাল বলেন, এখনতো ডেঙ্গুর বিগ সিজন। ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে যারা ভর্তি হয়েছেন, তাদের মধ্যে প্রায় ভালো হয়ে গেছেন। আমাদের হাসপাতালে ডেঙ্গুতে কোন মৃত্যু নেই। আতংক হওয়ার কিছুই নেই। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, বাড়ির আশপাশের আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। খাল-বিল পরিষ্কার রাখতে হবে এবং মশারি ব্যবহার করতে হবে। মানুষ সতর্ক না হলে এ রোগ প্রতিরোধ করা যাবে না। দিন দিন আরও বাড়বে। তাই সতর্ক হওয়ার কোন বিকল্প নেই।
ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ফেনী জেলায় বর্তমানে ৪১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। ২০২৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৬৫২ জন ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা আমরা দিয়েছি।
আমাদের ফেনী জেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ ডেঙ্গুর কিট মজুদ আছে। আমাদের চিকিৎসকগণ এবং আমাদের টিমসমূহ জেনারেল হসপিটাল এবং উপজেলা হসপিটালগুলোতে সার্বক্ষণিকভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ইনশাআল্লাহ, আমরা আশা করি যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারব।
শিক্ষার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত জোর দিয়েছেন। শিক্ষার ক্ষেত্রে পার্বত্য অঞ্চল অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। তাই পার্বত্যাঞ্চলের শিক্ষার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছেন। আমরা সেই বরাদ্দকে কাজে লাগাতে চাই বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত শহিদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
দীপেন দেওয়ান এমপি আরো বলেন, অতীতের সরকার শিক্ষার বরাদ্দের নামে লুটপাট করেছে। শিক্ষার উন্নয়নের ক্ষেত্রে যাতে দুর্নীতি না হয় সে ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করবো। এক্ষেত্রে কোন আপস করবো না। শিক্ষার ক্ষেত্রে সার্বিক সহযোগিতা থাকবে। সৃজনশীল শিক্ষার প্রসারে শহিদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি সংসদ যে উদ্যোগ নিয়েছে তার ভুয়ষী প্রশংসা করেন।
শহিদ হালিম লিয়াকত স্মৃতি সংসদ রাঙামাটি জেলা আয়োজিত আলোচনা সভা, সনদ ও পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শহিদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি সংসদ রাঙামাটি জেলার উপদেষ্টা মাওলানা আনোয়ারুল মোস্তফা হেজাজী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সাবেক পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, শহিদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি সংসদের সাবেক কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মোঃ আখতার হোসেন চৌধুরী, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ ফাউন্ডেশনের পরিচালক ইয়াছিন রানা সোহেল, সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট জামাল হোসেন ও রাঙামাটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবির আলম প্রমুখ। শহিদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি সংসদ রাঙামাটি জেলা সমন্বয়ক হাফেজ তানজিলুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় পরিচালক নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ খোবাইব। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিক্ষক মোঃ হাসান ও ইসমাঈল হোসেন মুন্না। এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শহিদ আবদুল আলী একাডেমির সহকারী শিক্ষক মোঃ আলমগীর, তৈয়বিয়া আইডিয়াল স্কুলের উপাধ্যক্ষ মোঃ মনসুর আলী , শহিদ হালিম লিয়াকত স্মৃতি সংসদ রাঙামাটি জেলার উপদেষ্টা মোঃ আলী খান ও মোঃ শহিদুল ইসলাম।
আলোচনা সভা শেষে শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে বৃত্তির অর্থ, সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেয়া হয়।
সুন্দরবনকে বাঁচিয়ে রাখতে ক্ষতিকর সবকিছু অপসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, আগামীতে সুন্দরবন এলাকায় গড়ে ওঠা শিল্পকারখানাগুলোও তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা সোলার পার্কে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) ও বিকাশের যৌথ বনায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু সুন্দরবন নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সারা পৃথিবীর জন্যই বৃক্ষায়ন প্রয়োজন। বাংলাদেশ পৃথিবীর একটি অংশ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার মানুষের জন্য কাজ করছে। এ কাজে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফান্ড ও সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে। এসব অর্থ ও উদ্যোগ যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষায় প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে প্রতিটি স্কুল-কলেজকে পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণমুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকসহ সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। বক্তব্য দেন খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান মনি, কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাজিব আহমেদ, বিকাশের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও রেগুলেটরি এবং করপোরেট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান হুমায়ুন কবির এবং খুলনার বন সংরক্ষক মো. ইমরান আহমেদ।
অনুষ্ঠান শেষে সোনাডাঙ্গা সোলার পার্কে বৃক্ষরোপণ করা হয়। বিকাশ কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় এ বনায়ন কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের খয়েরপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আব্দুল হালিম (৬৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে খয়েরপুর গ্রামে মান্নান ও ইউসুফ মেম্বার গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুল হালিমকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহতের মরদেহ বর্তমানে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
নিহত আব্দুল হালিম খয়েরপুর গ্রামের মৃত কলম সর্দারের ছেলে। তিনি ইউসুফ মেম্বারের পক্ষের বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ইকবাল হোসেন বলেন, আব্দুল হালিম নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন। আরেকজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আহত ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মান্নান ও ইউসুফ মেম্বার গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। গত তিন দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এর মধ্যে কয়েকজনকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয়দের দাবি। এরই জেরে শনিবার সকালে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত আব্দুল হালিমকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মান্নান গ্রুপের বকুল নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, মসজিদের ব্যাটারি চুরিকে কেন্দ্র করে আলামপুর ইউনিয়নের রাজাপুর খয়েরপুর এলাকায় মান্নান মেম্বার ও বকুল এবং ইউসুফ মেম্বার ও মেহেদী সমর্থকদের মধ্যে বেশ কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা চলছিলো। ভোরবেলায় চাপাইগাছি বিলের পাশে দুই গ্রুপ সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার জন্য জড়ো হয়। সেই ঘটনাস্থলে যাওয়ার জন্য হালিম বাড়ি থেকে বের হলে পথিমধ্যে মান্নান মেম্বার সমর্থকের নজরুলের বাড়ির ছাদ থেকে ফালা ছুড়ে মারলে হালিমের গলায় লাগে।
নিহত আব্দুল হালিমের ছেলে হাবিবুর রহমান বলেন, কয়েকদিন আগে তাঁদের লোকজনকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করে গুরুতর আহত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে যাওয়ায় তাঁদের মধ্যে আর কোনো বিরোধ ছিল না ।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি তাঁদের এক ব্যক্তি আলমপুর থেকে ভ্যানে করে আসার সময় কয়েকজন তাঁকে মারধরের হুমকি দেন। তাঁর অভিযোগ, বকুলের নির্দেশে খালেক, মান্নান, সাগর, শফি, রনি ও জনিসহ কয়েকজন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরে তাঁর বাবা আব্দুল হালিমকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়।
এদিকে পুলিশ জানায়, ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।এলাকাটি দুই থানার সীমান্তবর্তী হয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কুষ্টিয়া মডেল থানা ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানা পুলিশসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে এসআরবি টিমও রয়েছে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এই ঘটনায় একজন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের বিসিক শিল্পনগরীতে নিরাপদ খাদ্য আইনে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের অভিযানে তিনটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার পুরো অর্থ তাৎক্ষণিক আদায় করা হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সিনিয়র জুডিসিয়িয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট (বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত) ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. এমরান এবং জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত এম এম খান ফুডসকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি, দই ও দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণের দায়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া এশিয়া ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন এবং মোড়কে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার দায়ে ৩ লাখ টাকা এবং আজহার ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বনরুটি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিক্রির দায়ে আরও ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিক আদায় করা হয়েছে।
অভিযানে সুগন্ধা ফুড প্রোডাক্টস, গাংচিল রেস্তোরা, কাচ্চি ভাই, হোটেল খাওয়া-দাওয়া, তাজ রেস্টুরেন্ট ও মাটির হাড়ি রেস্তোরাসহ বিভিন্ন খাদ্য প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম দূর করতে সংশ্লিষ্টদের মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
অভিযানে জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর শংকর চন্দ্র পাল, জেলা পুলিশ, এসআরবি ও আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
"সুশিক্ষায় গড়ি দেশ, সবার বাংলাদেশ এবং বৃক্ষরোপণে সাজায় দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।" এই প্রতিপাদকে সামনে রেখে মাগুরা সদর উপজেলার বুজরুক শ্রীকুন্ডী মহাবিদ্যালয়ে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ, বৃক্ষরোপণ ও উপহার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে আনন্দ র্যালি ও নবীন শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন করা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের মাঝে কলেজ ব্যাগ, ক্যাপ, টি-শার্টসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এরপর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠ, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং শপথ বাক্য পাঠ অনুষ্ঠিত হয়।
পরে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন ঔষধি প্রজাতির বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে অতিথি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নেওয়াজ হালিমা আরলী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বুজরুক শ্রীকুন্ডী মহাবিদ্যালয়ের সভাপতি প্রকৌশলী মোঃ মঞ্জুরুল কবীর।
উৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও ৯ নম্বর চাউলিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ রেজাউল করিমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ পল্লব কুমার দে।
এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ডাঃ খলিলুর রহমান, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সরকার হারুন অর রশিদ, মাগুরা জেলা পরিষদের প্রশাসকের সহধর্মিণী সামসুন নাহার এবং যশোর শিক্ষা বোর্ডের সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট প্রকৌশলী মোঃ জাহাঙ্গীর কবির। এছাড়া অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট নেওয়াজ হালিমা আরলী বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না; নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ভবিষ্যতের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বৃক্ষরোপণ ও গাছের পরিচর্যায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রকৌশলী মোঃ মঞ্জুরুল কবীরের অর্থায়নে বুজরুক শ্রীকুন্ডী মহাবিদ্যালয়ে স্থাপিত স্যানিটারি প্যাড ভেন্ডিং মেশিন উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি অ্যাডভোকেট নেওয়াজ হালিমা আরলী।
পঞ্চগড়ের বোদায় ক্রীড়াঙ্গনের হারানো সোনালী অতীত ফিরিয়ে আনার প্রত্যয়ে আয়োজিত খেলায় মাঠে নেমে অংশ নিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব ফরহাদ হোসেন আজাদ। বোদা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এ খেলায় তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী, খেলোয়াড় ও তরুণদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
ক্রীড়াঙ্গনে প্রাণের স্পন্দন ফিরিয়ে আনা এবং নতুন প্রজন্মকে মাঠমুখী করতে প্রতিমন্ত্রী নিজেই খেলায় অংশ নেন। মাঠে তাঁর এমন সরাসরি অংশগ্রহণ উপস্থিত খেলোয়াড় ও ক্রীড়ানুরাগীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ সৃষ্টি করে। শুধু আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি নয়, খেলায় অংশ নিয়ে তিনি ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তুলে ধরেন।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, একসময় বোদা অঞ্চলের মাঠগুলোতে বিভিন্ন খেলাধুলাকে ঘিরে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। স্থানীয় পর্যায় থেকে উঠে এসেছেন অনেক কৃতি খেলোয়াড়। সময়ের পরিবর্তনে মাঠকেন্দ্রিক সেই প্রাণচাঞ্চল্য অনেকটাই কমে এলেও নিয়মিত আয়োজনের মাধ্যমে পুরোনো সেই পরিবেশ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
খেলায় প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের সঙ্গে অংশ নেন বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, বোদা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দিলরেজা ফেরদৌস চিন্ময়, সাংগঠনিক সম্পাদক মারুফ অনু এবং বোদা উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনের একসময়ের কৃতি খেলোয়াড়রা।
একই মাঠে বর্তমান ও সাবেক খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে তৈরি হয় ভিন্নরকম আবহ। পুরোনো দিনের ক্রীড়াঙ্গনের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। মাঠে উপস্থিত ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যেও এ আয়োজন ঘিরে ছিল ব্যাপক আগ্রহ।
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা মনে করেন, নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজনের পাশাপাশি স্থানীয় মাঠগুলোকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা গেলে তরুণদের মধ্যে ক্রীড়ার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে। একই সঙ্গে বিভিন্ন বয়সের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হলে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন প্রতিভা বিকাশের পথও সুগম হবে।
ক্রীড়া শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, তরুণদের শৃঙ্খলা, দলগত চেতনা ও সুস্থ প্রতিযোগিতার মানসিকতা গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই মাঠকেন্দ্রিক কার্যক্রম বাড়ানোর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন ক্রীড়াসংশ্লিষ্টরা।
বোদা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার এমন উদ্যোগে একদিকে যেমন পুরোনো ক্রীড়াঙ্গনের স্মৃতি ফিরে এসেছে, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তৈরি হয়েছে মাঠে ফেরার অনুপ্রেরণা। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত অব্যাহত থাকলে বোদার ক্রীড়াঙ্গনে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে এবং একসময়ের গৌরবময় ক্রীড়া ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের হাত ধরে এগিয়ে যাবে।
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় প্রথমবার পরীক্ষামূলকভাবে ভিয়েতনাম জাতের ব্ল্যাক রাইস বা কালো ধান চাষ করা হয়েছে। উপজেলার ১ নম্বর নাফানগর ইউনিয়নের দিঘড়ী গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা রকিবুল হক নিজ উদ্যোগে এই চাষাবাদ করেছেন। কম পরিচর্যা ও খরচে ভালো ফলনের সম্ভাবনায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝেও এই ধান চাষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
অনলাইনে ব্ল্যাক রাইস সম্পর্কে জানার পর রকিবুল হক এর চাষে উদ্বুদ্ধ হন। প্রাথমিকভাবে ৫৫০ টাকা দিয়ে এক কেজি চাল কিনে তা খেয়ে দেখার পর তিনি চাষের সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে অনলাইন থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকায় দুই কেজি বীজ সংগ্রহ করে বীজতলায় চারা তৈরি করেন।
পরিবারের কাছ থেকে পৈতৃক জমিতে চাষের অনুমতি না পেয়ে তিনি ২৪ হাজার টাকায় ৩৩ শতক জমি ইজারা নেন। গত ৯ জুলাই সেই জমিতে তিনি ব্ল্যাক রাইসের চারা রোপণ করেন। আগামী ১০ থেকে ১২ অক্টোবর এই ধান কাটার সময় নির্ধারিত রয়েছে।
রকিবুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্ল্যাক রাইস চাষে সাধারণ ধানের তুলনায় অতিরিক্ত সার, সেচ কিংবা আলাদা কোনো বিশেষ পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। ৩৩ শতক জমি থেকে তিনি ১৮ থেকে ২০ মণ ধান পাওয়ার আশা করছেন। বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি ব্ল্যাক রাইস প্রায় ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সেই হিসেবে উৎপাদনের অন্যান্য খরচ বাদ না দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফলন ও বাজারদর পেলে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার ধান বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ব্ল্যাক রাইস অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্থোসায়ানিন, ফাইবার এবং আয়রনসমৃদ্ধ একটি পুষ্টিকর খাদ্য। উচ্চ পুষ্টিগুণের কারণে বিশ্বজুড়ে একে 'সুপারফুড' বলা হয়ে থাকে। ডায়াবেটিস, স্নায়ুরোগ ও বার্ধক্য প্রতিরোধে এই চালের উপকারিতার কথা বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। শৌখিন ক্রেতা এবং চাইনিজ রেস্তোরাঁগুলোতে এই চালের বিশেষ কদর রয়েছে।
ধান কাটার আগেই খেত দেখতে স্থানীয়রা ভিড় জমাচ্ছেন এবং অনেকে আগাম বীজ সংগ্রহের জন্য রকিবুলের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। শম্ভু রায় ও জুয়েলের মতো স্থানীয় কৃষকরা জানান, ধানের ভালো ফলন ও সুন্দর লতা দেখে তারাও আগামীতে এই ধান চাষে আগ্রহী হয়েছেন।
শুরুতে ইন্টারনেটের প্রভাবে ছেলের এই উদ্যোগকে 'পাগলামি' ভেবেছিলেন রকিবুলের বাবা আমিনুল হক। যে কারণে তিনি পৈতৃক জমি দিতে অস্বীকৃতি জানান। তবে বর্তমানে খেতের সন্তোষজনক অবস্থা দেখে তিনি নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। আমিনুল হক জানান, ছেলের সফল উদ্যোগ দেখে আগামীতে তাকে যেকোনো সহযোগিতা করতে তিনি প্রস্তুত রয়েছেন।
বোচাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নয়ন কুমার সাহা বলেন, পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এই ধানের চাল উৎপাদন ও দেশব্যাপী বিস্তার লাভ করলে তা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মারুফ হাসান জানান, বোচাগঞ্জে এই প্রথম ব্ল্যাক রাইস চাষ হয়েছে। সঠিক উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করা গেলে এটি কৃষকদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক একটি ফসল হতে পারে। প্রশাসন এই উদ্যোক্তার সফলতার দিকে তাকিয়ে রয়েছে।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনী গ্রিড উপকেন্দ্রে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের প্রধান সোর্স ব্রেকার বিস্ফোরণে বিকল হয়ে পড়ায় জেলা শহর মাইজদীসহ পার্শ্ববর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে আকস্মিক এ বিস্ফোরণের পর ব্রেকারে আগুন ধরে যায়, যার ফলে চৌমুহনী থেকে মাইজদী উপকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) নোয়াখালী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা শহর মাইজদীতে পিডিবির আওতাধীন এলাকায় স্বাভাবিক সময়ে বিদ্যুতের মোট চাহিদা ২২ থেকে ২৫ মেগাওয়াট। তবে মূল সোর্স ব্রেকারটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থায় রিং সার্কিটের মাধ্যমে মাত্র ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। অর্ধেকেরও বেশি ঘাটতি থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রপাতি পুরোপুরি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত শহরজুড়ে রোটেশন পদ্ধতিতে অর্থাৎ এক ঘণ্টা পরপর এলাকাভিত্তিক পালাক্রমে বিদ্যুৎ রেশনিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে রাতভর চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়ে পিডিবি নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাবিবুল বাহার জানান, সোর্স ব্রেকারের পোল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বিকল্প উপায়ে জেলা শহরে সীমিত আকারে বিদ্যুৎ চালু রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করতে প্রকৌশলীরা রাত থেকেই নিরবচ্ছিন্ন মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বৃষ্টির কারণে কাজে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটলেও শনিবার বিকেলের মধ্যে নতুন ব্রেকার স্থাপন সম্পন্ন করে সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ফিড, বাচ্চা, ওষুধ, বিদ্যুৎ ও পরিবহন ব্যয় বাড়লেও উৎপাদিত মুরগি ও ডিমের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকার পোলট্রি খামারিরা লোকসানে পড়েছেন। বাড়তি ব্যয়ের সঙ্গে বাজারদরের সামঞ্জস্য না থাকায় ছোট ও প্রান্তিক খামারিদের একটি অংশ উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছেন। কোথাও কোথাও খামার বন্ধ হয়ে যাওয়ার তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর, গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় খামারিদের একই ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, পোলট্রি উৎপাদন ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ যায় ফিডে। আর সেই ফিডের প্রধান কাঁচামালের দাম সম্প্রতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত এক মাসে ভুট্টার দাম কেজিপ্রতি ৩১ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে ৩৮ টাকা ৮০ পয়সায় উঠেছে। ডি-অয়েলড রাইস ব্র্যানের দাম ২৬ থেকে ৩৩ টাকা, রাইস ব্র্যান অয়েল ৩৩ থেকে ৩৯ টাকা এবং সয়াবিন মিল ৫৮ থেকে ৬৬ টাকা হয়েছে। সরিষার খৈলের দামও বেড়েছে।
ফিডের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়ছে খামার পর্যায়ে। গত সপ্তাহেও বিভিন্ন ধরনের পোলট্রি ফিডের দাম কেজিপ্রতি ২ থেকে ৩ টাকা বাড়ার খবর পাওয়া গেছে।
জেলায় জেলায় বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়: দিনাজপুর সদর উপজেলার পাঁচবাড়ির খামারি মোমিনুল ইসলাম আগে মাসে প্রায় ৭০ বস্তা ফিড কিনতেন। দাম বাড়ার পর এখন ৬০ বস্তা কিনছেন। এতে মুরগির কাঙ্ক্ষিত ওজন হচ্ছে না, আবার বাজারেও প্রত্যাশিত দাম মিলছে না।
ময়মনসিংহের ত্রিশালে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট। সেখানে শতাধিক প্রান্তিক খামারি ফিডের মূল্যবৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় এবং ডিম-মুরগির ন্যায্য দাম না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে মানববন্ধন করেছেন। স্থানীয় খামারিদের কেউ কেউ লোকসানের কারণে খামার বন্ধের পথে রয়েছেন।
চাঁদপুরের মতলব উত্তরেও ফিড, ওষুধ ও লেয়ার বাচ্চার দাম বাড়ায় খামারিদের ব্যয় বেড়েছে। উৎপাদন খরচের সঙ্গে ডিমের বিক্রয়মূল্যের সামঞ্জস্য না থাকায় কয়েকটি খামার ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
গাজীপুরের শ্রীপুরে ফিডের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে প্রান্তিক খামারিরা মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ পর্যন্ত করেছেন। তাদের দাবি ছিল ফিডের দাম কমানো এবং উৎপাদন উপকরণের বাজারে কার্যকর নজরদারি।
নোয়াখালীর কবিরহাটের খামারি মাজেদুল হকের অভিজ্ঞতাও একই প্রবণতার উদাহরণ। তার খামারে ফিড ও ওষুধের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যয় বেড়েছে। এক মাস আগে প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৪০ টাকায় বিক্রি করলেও সম্প্রতি ১৩২ টাকা দরে বিক্রি করতে হয়েছে। ফলে চলতি ব্যাচ বিক্রির পর খামার বন্ধ করার কথা ভাবছেন তিনি।
খামারি ও ভোক্তার দামে ব্যবধান: শুধু উৎপাদন ব্যয় বাড়াই নয়, খামারি ও ভোক্তা পর্যায়ের দামের ব্যবধানও পোলট্রি খাতের অন্যতম সমস্যা। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পোলট্রি সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক বাপন দে বলেন, অনেক সময় ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি কেজি ব্রয়লার প্রায় ১৮০ টাকা হলেও খামারিরা পান ১৩৫-১৪০ টাকা। বিপণন ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরের কারণে এ ব্যবধান তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
এ অবস্থায় নিয়মিত বাজার তদারকি, মূল্যতালিকা প্রকাশ এবং খামার থেকে ভোক্তা পর্যন্ত বিপণনব্যবস্থায় নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
কাঁচামাল ও নীতিসহায়তার দাবি: ফিড শিল্পের উদ্যোক্তারা বলছেন, কাঁচামালের একটি বড় অংশ আন্তর্জাতিক বাজারনির্ভর। ফলে আমদানি ব্যয় বাড়লে স্থানীয় বাজারেও তার প্রভাব পড়ে। ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (এফআইএবি) কাঁচামাল আমদানিতে ভ্যাট, কর ও শুল্ক পুনর্বিবেচনা, স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার দাবি জানিয়েছে।
খামারিরাও ফিড, বাচ্চা ও ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং সহজ শর্তে ঋণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিক্রয়মূল্য নিশ্চিত না হলে ছোট খামারিদের টিকে থাকা কঠিন হবে।
পোলট্রি খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদন উপকরণের বাজার, ফিডের কাঁচামাল এবং খামারি থেকে ভোক্তা পর্যন্ত বিপণনব্যবস্থা—এই তিন জায়গায় সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। তা না হলে প্রান্তিক খামারির সংখ্যা কমে গিয়ে ভবিষ্যতে ডিম ও মুরগির সরবরাহব্যবস্থায়ও প্রভাব পড়তে পারে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে তার প্রভাব ক্রমশ স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। দাম বেড়েছে সব ধরনের সবজি, ডিম, গুঁড়া দুধ, আটা-ময়দা, মাছ ও বিভিন্ন রকম ফলের। তবে মাংস ও মুরগির দাম অপরিবর্তিত থাকলেও বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন ক্রেতারা। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
গত সপ্তাহের তুলনায় খুচরা বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।
মিরপুর-১ নম্বর কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে বেড়েছে বেগুনের দাম বেড়েছে। লম্বা বেগুনের দাম বাজারভেদে ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে এ ধরনের বেগুন ৯০-১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। করলার দাম কিছুদিন আগে কমে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় নেমেছিল। এখন মানভেদে তা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোট আকারের পটল ও ঢ্যাঁড়শের দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা হয়েছে। এক সপ্তাহ আগেও এসব সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
এছাড়া ঝিঙা, ধুন্দলসহ বিভিন্ন সবজির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে কাঁচা পেপে আগের মতো ৩০ টাকা কেজি এবং কাঁচামরিচ আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।
সবজি বিক্রেতা রাসেল হোসেন বলেন, পরিবহন খরচ বেড়েছে। তাই পাইকারি বাজারে সবজির দাম বেড়েছে। মিজান নামের আরেক ব্যবসায়ী বলেন, যশোর থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বেগুন আসে। প্রায় ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে পাইকাররা কিনে আনতেন। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আগে মাঝারি আকারের একটি ট্রাকের ভাড়া ছিল ১৮ হাজার টাকা। তেলের দাম বাড়ায় ট্রাকভাড়া বেড়ে ২১ হাজার টাকা হয়েছে। এখন কারওয়ান বাজারেই ১০০ টাকায় ওপরে বেগুন বিক্রি হচ্ছে।
জ্বালানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় মাছ পরিবহনেও বাড়তি ব্যয় হচ্ছে। বিক্রেতাদের হিসাবে, প্রতি ট্রাকে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। এর প্রভাবে মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। দাম বেড়েছে ইলিশ মাছেরও।
গত সপ্তাহের মতোই চলতি সপ্তাহে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে যথাক্রমে কেজি প্রতি ১৮০ ও ৩২০ টাকার মধ্যে। তবে লেয়ার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকায়। ব্রয়লার সাদা ডিম ১৪০ টাকা ডজন এবং ব্রাউন ডিম ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা ডজন দরে বিক্রি হয়েছিল গত সপ্তাহে। আজ ব্রয়লার সাদা ডিম ১৪০ টাকা ডজন। তবে ব্রাউন ডিমের দাম বেড়ে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা ডজন হয়েছে। অর্থাৎ ডজনপ্রতি ব্রাউন ডিমের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দামে ৫ টাকা করে বেড়েছে।
তবে গরু ও খাসির মাংসের দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের দামেই গরুর মাংস ৮০০ এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চালের দামেও এখন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বড় কোনো প্রভাব দেখা যায়নি।
দাম বেড়েছে পাস্তুরিত তরল দুধের। সম্প্রতি কয়েকটি বেসরকারি বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান প্রতি লিটার দুধের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এর আগে সরকারি প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটাও প্রতি লিটার দুধের দাম ১০ টাকা বাড়িয়েছিল। এরপর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও দাম বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে আটা ও ময়দার দামও আগের তুলনায় বেশি। রাজধানীর নাখালপাড়া, মহাখালী, কলমিলতা কাঁচাবাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি প্যাকেটজাত আটা বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা দরে। সপ্তাহখানেক আগেও প্যাকেটজাত আটা ও ময়দার দাম ছিল যথাক্রমে ৬০ ও ৭০ টাকা। সেই হিসাবে আটা-ময়দা কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে।
তবে খোলা আটা ও ময়দার দর কিছুটা কম। পণ্য দুটি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৫৫ ও ৬৫ থেকে ৭০ টাকা দরে। পাঁচ-ছয় দিনের ব্যবধানে খোলা আটা ও ময়দার দামও বেড়েছে পাঁচ টাকা করে। মহাখালী কাঁচাবাজারের কে বি স্টোরের স্বত্বাধিকারী বিকাশ বণিক বলেন, এক-দেড় মাস আগে আটা-ময়দার দাম বেড়েছিল। এখন আরেক দফা বাড়ল। নতুন করে দুই কেজির যে প্যাকেটজাত আটা ও ময়দা দিয়েছে কোম্পানিগুলো, সেগুলোর খুচরা মূল্য লেখা রয়েছে ১৪০ এবং ১৬০ টাকা।
বাজারে ফলের দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি মালটা ও কমলা ৪২০ থেকে ৪৫০ এবং আপেল ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল আঙুরের জন্য কেজিতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ার পেছনে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে দায়ী করছেন।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে পণ্যের দাম বাড়বে এবং তা মেনে নিতে হবে– বিষয়টা এমন নয়। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির জন্য কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া কত হওয়া উচিত; বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন ব্যয় কত হতে পারে– বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন থেকে এ বিষয়ে দ্রুত বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা উচিত।
বিষয়টি ব্যাখ্যা করে গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, কমিশনের বলা দরকার– জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে গ্রাম থেকে ঢাকায় সবজি নিয়ে আসতে পাঁচ বা ১০ পয়সা বাড়তি খরচ হবে। এর ভিত্তিতে বাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কৃষি, খাদ্য, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংস্থাগুলো বাজার তদারক করলে সুফল মিলবে। কারণ তথ্য-উপাত্ত হাতে থাকলে ব্যবসায়ীরাও দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্ক থাকবে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার-সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে বাজারে পণ্যমূল্যে সামান্য যে পরিমাণ প্রভাব পড়ার কথা, কিছু ক্ষেত্রে তার চেয়ে প্রভাব বেশি পড়ছে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে আমরা ব্যবসায়ীদের সেই সুযোগ দেব না। কারণ পরিবহন ভাড়া কেজিতে ২৫ পয়সা বাড়বে; সেই অজুহাতে দাম দ্বিগুণ বাড়াবে– এই অতি মুনাফা করার সুযোগ দেওয়া হবে না।’
জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন বাজার তদারক করছি। পরিবহন ভাড়া কত বাড়ছে আর পণ্যমূল্য কত বাড়ছে, সেটি পর্যবেক্ষণ করছি। বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি। নজরদারি আরও কঠোর হবে।
আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে দেশের সব উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের হাট ও বাজারে আবশ্যিকভাবে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
গত বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেশের সব উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদেরকে এ নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিটি হাট ও বাজারের স্থায়ী শেড এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বিভিন্ন বাজারে নির্মিত চার-পাঁচতলা ভবনের ছাদের আয়তন বিবেচনায় নিয়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ থেকে নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থানীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিদ্যমান দাপ্তরিক মূল ভবন ও আওতাধীন ভবনগুলোতে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এসব ব্যবস্থায় ন্যূনতম দুই ঘণ্টার ব্যাটারি ব্যাকআপ রাখতে হবে বলেও চিঠিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিং পদ্ধতিতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে হবে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার বিভাগ বলেছে, ‘নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫’ অনুযায়ী জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের বিপরীতে ১০ টাকা ৫০ পয়সা পাওয়া যাবে। এতে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব আয় বাড়বে।
‘হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) বিধিমালা, ২০২৫’ এর বিধি ১০-এর (ঙ) ও (চ) অনুযায়ী হাট ও বাজার থেকে পাওয়া ইজারার আয়ের ১০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট হাট ও বাজারের রক্ষণাবেক্ষণ বা উন্নয়নে এবং আরও ১০ শতাংশ উপজেলার অন্তর্গত হাট ও বাজারের রক্ষণাবেক্ষণ বা উন্নয়নে ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত রয়েছে। এই অর্থ ব্যবহার করে দেশের সব উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের হাট ও বাজারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণ করতে বলা হয়েছে নির্দেশনায়।
নির্দেশনা অনুযায়ী, সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনকারী কোম্পানির সঙ্গে পরবর্তী ২০ বছর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করতে হবে সংশ্লিষ্ট হাট-বাজার কর্তৃপক্ষকে।