বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

প্রবীণ সাংবাদিক ডি এম তালেবুন নবী মারা গেছেন

ডি এম তালেবুন নবী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
২৫ জানুয়ারি, ২০২৩ ২০:০৮
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক ডি এম তালেবুন নবী মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ইসলামপুরে নিজ বাসভবনে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

ডি এম তালেবুন নবী বেশ কিছুদিন থেকে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। সর্বশেষ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে তাকে সোমবার বাসায় নেয়া হয়েছিল।

প্রয়াত ডি এম তালেবুন নবী কর্মজীবনে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও দৈনিক বাংলায় সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন। সর্বশেষ তিনি জনকণ্ঠে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দ্বায়িত্ব পালন করে গেছেন। এ ছাড়াও তিনি চাঁপাই সংবাদ নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

পরিবার জানিয়েছে, আগামীকাল বুধবার সকাল ১০টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহে ডি এম তালেবুন নবীর প্রথম জানাজা হবে। পরে সকাল সাড়ে ১১টায় দারিয়াপুর গোরস্থানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে সেখানেই তাকে দাফন করা হবে।

সাংবাদিক ডি এম তালেবুন নবীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবসহ জেলার সাংবাদিক সংগঠনের নেতা ও সংবাদকর্মীরা।


চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুই আসনেই নৌকার জয়

বেসরকারিভাবে নির্বাচিত আব্দুল ওদুদ (বাঁয়ে) ও জিয়াউর রহমান
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুই আসনের উপনির্বাচনেই জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগে প্রার্থী। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মু. জিয়াউর রহমান ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে আব্দুল ওদুদ বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

বুধবার রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্ত মো. দেলোয়ার হোসেন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা এ কে এম গালিভ খান এ ফল ঘোষণা করেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য বলছে, আসনের ১৮০টি কেন্দ্রের সবগুলো থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে জিয়াউর রহমান নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯৪ হাজার ৯২৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী (আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’) মোহাম্মদ আলী সরকার আপেল প্রতীকে পেয়েছেন ২৫ হাজার ৩৯৯ ভোট।

এ ছাড়া আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী মু. খুরশিদ আলম মাথাল প্রতীকে ১৪ হাজার ৩০৯ ভোট, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক লাঙ্গল প্রতীকে ৩ হাজার ৬১ ভোট, জাকের পার্টির মো. গোলাম মোস্তফা গোলাপ ফুল প্রতীকে ১ হাজার ৮৭০ ভোট এবং বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) মো. নবীউল ইসলাম টেলিভিশন প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৪৭৩ ভোট।

এই আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৫ হাজার ৪৫০ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৪০ ভোট। এ আসনে ভোট পড়েছে ৩৪ শতাংশের কিছু বেশি।

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও দলটির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর মধ্যে। এই আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ প্রার্থী আব্দুল ওদুদ নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫৯ হাজার ৬৩৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিউল হক লিটন আপেল প্রতীকে পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৯৮০ ভোট।

এই আসনে প্রার্থী ছিলেন মোট তিনজন। তৃতীয় প্রার্থী বিএনএফের কামরুজ্জামান খান টেলিভিশন প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৪০ ভোট।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫ জন। উপনির্বাচনে ভোট পড়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৫৮টি। ভোটের হার ২৯ শতাংশের কিছু বেশি।


বগুড়া সদরে জিতলেন নৌকার রাগেবুল

রাগেবুল আহসান রিপু
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, বগুড়া

বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রাগেবুল আহসান রিপু বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। বুধবার রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম ফলঘোষণা করেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই আসনের ১৪৩টি কেন্দ্রে রাগেবুল আহসান রিপু পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৩৩৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মান্নান আকন্দ ট্রাক প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২১ হাজার ৮৬৪ ভোট। মান্নানও আওয়ামী লীগের নেতা ছিলেন।

এই আসনে তৃতীয় হয়েছেন লাঙ্গল প্রতীকের নুরুল ইসলাম ওমর। আসনটির সাবেক এই সংসদ সদস্য পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৯৫ ভোট। অন্যদিকে একতারা প্রতীকের আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম পেয়েছেন ৫ হাজার ২৭৪ ভোট। তিনি রয়েছেন চতুর্থ অবস্থানে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নজরুল ইসলাম বটগাছ প্রতীকে ৪৬৮ ভোট, জাকের পার্টির মো. ফয়সাল বিন শফিক গোলাপ ফুলে ৪১৭ ভোট, জাসদের ইমদাদুল হক ইমদাদ মশাল প্রতীকে ১ হাজার ৩৪০ ভোট, গণফ্রন্টের প্রার্থী আফজাল হোসেন মাছ প্রতীকে ১৭০ ভোট, স্বতন্ত্র প্রাথী মাসুদার রহমান হেলাল আপেল প্রতীকে ১ হাজার ৬১৮ ভোট, রাবিক হাসান কুমির প্রতীকে ১ হাজার ৪৪৯ ভোট ও কুড়াল মার্কায় সরকার বাদল পেয়েছেন ২ হাজার ৮১১ ভোট।

বগুড়া-৬ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১০ হাজার ৭৪৩ জন। মোট ভোট পড়েছে ৯১ হাজার ৭৪২টি। ভোটের হার ২২ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

এই আসনে ১৪৩টি ভোটকেন্দ্রে ভোটকক্ষ ছিল ১ হাজার ১৭টি। এ আসনে ১৪৩ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ১ হাজার ১৭ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও ২ হাজার ৩৪ জন পোলিং কর্মকর্তা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এই আসনে ভোটার-খরা থাকলেও সারা দিন তেমন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে ভোট শুরুর পর থেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা অবশ্য জানান, দুয়েকটি কেন্দ্রের এ বিষয়ে অভিযোগ পেলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে কাউকে পাননি।

এদিকে সদর আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হলেও বগুড়া-৪ (নন্দীগ্রাম-কাহালু) আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম। এই আসনে তিনি মাত্র ৮৩৪ ভোটে হেরে গেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত জাসদ প্রার্থী এ কে এম রেজাউল করিম তানসেনের কাছে।


জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বাবা-ছেলে খুন

ছুরিকাঘাতে নিহত আবুল খায়ের ও ফরহাদ হোসেনের স্বজনদের আহাজারি ছবি। দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৮:৫৮
প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকদের ছুরিকাঘাতে বাবা ও ছেলে খুন হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও তিনজন।

নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার চুরখাই জামতলা গ্রামের আবুল খায়ের (৬০) ও তার ছেলে ফরহাদ হোসেন (২০)। আহতদের পরিচয় জানা যায়নি।

বুধবার বিকেল ৪টার দিকে সদর উপজেলার ভাবখালী ইউনিয়নের চুরখাই জামতলায় এ ঘটনা ঘটে।

কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফারুক হোসেন দৈনিক বাংলাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

নিহতদের পরিবারের বরাত দিয়ে ফারুক হোসেন বলেন, ‘বিকেলে বিরোধপূর্ণ জমিতে কামাল মিয়া, তিন ছেলে ও স্ত্রী মাপামাপি করছিলেন। এসময় আবুল খায়ের ও তার ছেলে ফরহাদ এগিয়ে আসলে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় কামাল মিয়ার পরিবারের লোকজন আবুল খায়ের ও তার ছেলে ফরহাদসহ আরও তিনজন ছুরিকাঘাত করে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসক বাবা-ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন।

মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে চেষ্টা চলছে। মামলাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান পরিদর্শক ফারুক হোসেন।


ভোট দিলেন সাত্তার, অনেক কেন্দ্রে নেই আসিফের এজেন্ট

ভোট দিতে পরমানন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান আব্দুস সাত্তার। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৫:২১
প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উপনির্বাচনে ভোট দিয়েছেন বিএনপির দলছুট নেতা কলার ছড়া প্রতীকের প্রার্থী আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া। বুধবার বেলা ১১টার দিকে সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের পরমানন্দপুর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ৪৬ নম্বর পরমানন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুইজনের কাঁধে ভর করে এসে ভোট দেন ‍তিনি।

এদিকে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নিখোঁজ আবু আসিফ আহমেদের কোনো এজেন্টকে ঢুকতে দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী মেহেরুন্নিসা মেহরিন। এ ছাড়া কয়েকটি কেন্দ্রে আব্দুস সাত্তারের এজেন্ট নেই বলে জানা গেছে।

মেহরিন সাংবাদিকদের বলেন, অনেক কেন্দ্রে আমাদের এজেন্টদের ঢুকতে দেয়া হয়নি। এ সময় তিনি নিজের ভোট দেয়া নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

ভোট দেয়ার পর আব্দুস সাত্তার সাংবাদিকদের বলেন, নিজের ভোটটি দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। জয়ী হতে পারলে সরাইলের উন্নয়ন কাজ আর এগিয়ে নিয়ে যাব।

এ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া (কলার ছড়া), আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু আসিফ আহমেদ (মোটরগাড়ি), জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব আবদুল হামিদ ভাসানী (লাঙ্গল) ও জাকের পার্টির জহিরুল ইসলাম (গোলাপ ফুল)।

বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হলেও সবগুলো কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি কম ছিল। ফলে অলস সময় পার করছেন কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

ভোট কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, সব কেন্দ্রে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল হামিদ ভাসানী, গোলাপ ফুল প্রতীকের প্রার্থী জহিরুল ইসলামমের এজেন্ট থাকলেও সবগুলো কেন্দ্রে নেই আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া ও আবু আসিফের এজেন্ট নেই। এ ছাড়া ভোটরের উপস্থিতিও অনেক কম। নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা বসে বসে অলস সময় পার করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আবু আসিফের এক সমর্থক জানান, আবু আসিফ নিখোঁজ থাকায় সমর্থক ও এজেন্টরা ভয়ে রয়েছেন। এ ছাড়া কিছু কিছু ভোটকেন্দ্রে আসিফের এজেন্টদের ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।

গত শুক্রবার বিকাল থেকে আসিফকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজের চারদিন পর আসিফের সন্ধান চেয়ে আবেদন করেন তার স্ত্রী মেহেরুন্নিসা মেহেরিন। তবে নিখোঁজের পর আসিফের স্ত্রী মেহেরুন্নিসা ও বাড়ির দারোয়ানের ইউসুফের একটি ফোনালাপ ফাঁস হওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়াকে জয়ী করতে মাঠে কাজ করছেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। তারা আব্দুস সাত্তারের প্রচারণা নিয়ে ভোটের দিনেরও কেন্দ্রে কেন্দ্রে ছুটে যাচ্ছেন।


ভোটার নেই, কেন্দ্রে অলস সময় পার নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের

ভোটকেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি নেই। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৪:৫৮
প্রতিনিধি, বগুড়া

বগুড়া-৬ এবং ৪ আসনের উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি একেবারেই কম। ফলে অলস সময় পার করছেন ভোটকেন্দ্রের কর্মকর্তারা। এদিকে ভোটকেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বলছেন, ভোট নির্বিঘ্নে হচ্ছে।

বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বগুড়া জিলা স্কুলে দেখা যায়, কেন্দ্রে ভোটার নেই বললেই চলে। হঠাৎ দু-একজন ভোটার আসছেন ভোট দিতে। তাদের মধ্যে পুরুষ বেশি। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ৭২ জন। সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সেখানে ভোট দিয়েছেন ৩১ জন।

এই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা কার্তিক চন্দ্র দেবনাথ জানান, শীতের সকাল হওয়ায় ভোটার উপস্থিতি কম। হয়তো দুপুরের দিকে ভোটার বাড়বে।

শহরের চকসূত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ভোটার ৩ হাজার ১০৭ জন। এর মধ্যে সকাল সোয়া ১০টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৪৬টি।

সদরের সবগ্রাম কুদরতিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের মোট ভোটার ৩ হাজার ৯৭২ জন। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন ৩০০ জন।

বগুড়া- ৪ আসনের কহুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ৩৪৮ জন। এদের মধ্যে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন ৭০ জন। অর্থাৎ ২ দশমিক ৯৮ শতাংশ ভোট পড়েছে।

বগুড়ার সদরের জুবিলি ইনস্টিটিউশনে পুরুষ কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ৪৮৬ জন। এর মধ্যে আধা ঘণ্টায় ভোট দিয়েছেন ৯৯ জন। নারী কেন্দ্রের ৩ হাজার ৬৫৪ ভোটারের মধ্যে সকাল ৯টা পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন ১২০ জন।

বগুড়ার জুবলি ইনস্টিটিউশনে নারী ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তাফিজার রহমান বলেন, সকাল থেকে কোনো প্রকার বাধা-বিঘ্ন ছাড়াই এই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। ভোটার উপস্থিতিও গড়ে ভালো রয়েছে। দিন শেষে ভালো ভোট উপহার দেয়া যাবে বলে প্রত্যাশা করেন এই কর্মকর্তা।

এই কেন্দ্রের প্রধান ফটকের ভেতরে ও বাইরে ১৫ থেকে ২০ জন নেতা-কর্মী নিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট চাচ্ছিলেন বগুড়ার যুবলীগের বহিষ্কৃত আলোচিত নেতা মতিন সরকার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এই নেতা বলেন, আমরা কারও কাছ থেকে ভোট চাচ্ছি না। আমাদের নেতা-কর্মীরা ভোটাদের বুথ দেখিয়ে দিচ্ছে।

কেন্দ্র দখলের অভিযোগ করেন বগুড়া-৬ আসনের ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মান্নান। বলেন, শুধু জুবিলি ইনস্টিটিউশন নয়, বগুড়া সদর আসনের ৭৮টি কেন্দ্র যুবলীগ দখল করেছে।

বগুড়া-৬ আসনে আপেল প্রতীকের স্বতন্ত্রপ্রার্থী ও জেলা সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি মাসুদার রহমানও অভিযোগ করেছেন ভোটকেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেয়ার।

বগুড়া-৬ সদর আসনে সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হয়েছে উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ। সকালে বগুড়া শহরের হাসনাজাহান উচ্চবিদ্যালয়ে ভোট দিয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী রাগেবুল আহসান রিপু।

তিনি জানান, নির্বিঘ্নে ভোট হচ্ছে, কোনো সমস্যা ছাড়াই। ভোটারদের মাঝে কোনো ভীতি নেই। সব দলের প্রার্থীর এজেন্ট এখানে রয়েছে।

তবে বগুড়া-৬ এবং ৪ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, জুবলি ভোটকেন্দ্রের বিষেয় আমাদের কাছে এমন অভিযোগ ছিল। কিন্তু সেখানে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাউকে পায়নি। তবে বাইরে কিছু লোকজনের জটলা ছিল। সেগুলোও আর নেই। আর দুই আসনের কোথাও এমন পরিস্থিতি হলে আমরা তৎপর আছি, ব্যবস্থা নেব।

নির্বাচন উপলক্ষে দুই আসনে তিনজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটে ও ৩৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছেন। পাশাপাশি ১৪ প্লাটুন বিজিবি ও র‍্যাবে ১৭ টহল দল মোতায়েন আছে। এ ছাড়া ভোটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাড়ে ৪ হাজার নিরাপত্তাকর্মী কাজ করছেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতি ভোটকেন্দ্রে গুরুত্ব বিবেচনায় নিরাপত্তার জন্য তিনজন পুলিশ সদস্য ছাড়াও এপিবিএন, আনসার ভিডিপিসহ ১৭ নিরাপত্তকর্মী দায়িত্বে আছেন। ভোটকেন্দ্রের বাইরে ও নির্বাচনী এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশের স্ট্রাকিং ফোর্স, বিজিবি ও র‍্যাব সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

বগুড়া-৪ আসনের ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৯ জন। এ আসনে আওয়ামী লীগ ১৪ দলীয় জোট থেকে জাসদ প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে। এর বাইরে পাঁচজন স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন। যাদের মধ্যে কুড়াল প্রতীকে নির্বাচন করছেন সাবেক বিএনপি নেতা কামরুল হাসান সিদ্দিকী জুয়েল। আর স্বতন্ত্র ট্রাক প্রতীকে নির্বাচন করছেন সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মো. মোশফিকুর রহমান কাজল।

বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ২৮ হাজার ৪৬৯। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১১২টি। আর ভোট কক্ষের সংখ্যা ৭৭৭টি। এর মধ্যে অস্থায়ী কক্ষ আছে ৪২টি। এই আসনে মোট প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আছেন ১১২ জন। সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ৭৭৭ এবং পোলিং অফিসার ১ হাজার ৫৫৪ জন।

বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে মোট প্রার্থী ১১ জন। পাঁচজন আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এদের মধ্যে ট্রাক প্রতীকের আব্দুল মান্নান আকন্দ সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি এই আসনের লীগের বিদ্রোহী হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া উপনির্বাচনে এই দুই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত-সমালোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম। মাঠে-ময়দানের পাশাপাশি ভার্চুয়াল জগতের প্রচার-প্রচারণায় ব্যাপক সাড়া দেখিয়েছেন এ প্রার্থী।

আর বগুড়া-৬ (সদর) আসনে মোট ভোটার রয়েছেন ৪ লাখ ১০ হাজার ৭৪৩ জন। ভোটকেন্দ্র হবে ১৪৩টি ও কক্ষ রয়েছে ১ হাজার ১৭টি। এ আসনে ১৪৩ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ১ হাজার ১৭ সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও ২ হাজার ৩৪ জন পোলিং কর্মকর্তা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করছেন ।

গত বছরের ১০ ডিসেম্বর বিকেলে রাজধানীর গোলাপবাগে ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ থেকে বিএনপির দলীয় সাতজন এমপির পদত্যাগ ঘোষণা আসে। পরদিন ১১ বিএনপির ছয়জন সংসদ সদস্য স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। একজন দেশের বাইরে ছিলেন। তিনি পরে জমা দেন পদত্যাগপত্র।

বিষয়:

মোংলা ইপিজেডে এখনো আগুন জ্বলছে

আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৬:০৬
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

মোংলা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ইপিজেড) ভিআইপি লাগেজ ফ্যাক্টরির কিছু কিছু জায়গায় আগুন এখনো জ্বলছে। বুধবার দুপুরের মধ্যে আগুন পুরোপুরি নিভে যাবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।

মোংলা ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক ও ভারতীয় মালিকানাধীন লাগেজ কোম্পানি ভিআইপি-১-এর প্রশাসনিক ও মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা মো. মিজান জানান, এখনো আগুন পুরোপুরি নিভেনি। কিছু কিছু জায়গায় জ্বলছে। ফেব্রিকস ও প্লাস্টিকে এখনো আগুন জ্বলছে।

খুলনা ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক মামুন মাহমুদ বলেন, রাতে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনো মাঝে মাঝে আগুন দেখা যাচ্ছে। ছয়টি পাম্প দিয়ে আগুন পুরোপুরি নিভানোর কাজ চলছে। আশা করছি, দুপুরের মধ্যে আগুন পুরোপুরি নিভে যাবে। বর্তমানে সেখানে ইপিজেড ইউনিট কাজ করছে।

বিষয়:

কামরানের বিকল্প কি আনোয়ারুজ্জামান?

বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ও আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দেবাশীষ দেবু, সিলেট

চলতি বছরের মাঝামাঝি সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) নির্বাচন হওয়ার কথা। এই সিটিতে অনুষ্ঠিত সব নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। ২০২০ সালের ১৫ জুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক এই সভাপতি। তাই এবারের নির্বাচনে কামরানের বিকল্প কে হচ্ছেন, তা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা দলটির ভেতরে।

নির্বাচন সামনে রেখে দলের মনোনয়ন পেতে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা দীর্ঘদিন ধরেই তৎপরতা চালাচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই আলোচনায় উঠে এসেছেন দলটির এক প্রবাসী নেতা। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী সিলেটে কামরানের বিকল্প হচ্ছেন বলে ব্যাপক গুঞ্জন চলছে সিলেটজুড়ে। দলের হাইকমান্ড থেকে তাকে ‘সবুজ সংকেত’ দেয়া হয়েছে বলেও প্রচার চালাচ্ছেন আনোয়ারুজ্জামানের অনুসারীরা। এমন ‘সংকেত’ পেয়ে সম্প্রতি দেশেও এসেছেন আনোয়ারুজ্জামান। যদিও এই প্রচারের সত্যতা নেই বলে দাবি করেছেন দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশী অন্য নেতারা।

কে এই আনোয়ারুজ্জামান?

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার বাসিন্দা আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাজ্যপ্রবাসী। দেশে থাকার সময় থেকেই তিনি আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বর্তমানে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। বঙ্গবন্ধু পরিবারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে জানা যায়। সেই ঘনিষ্ঠতার সূত্রে প্রবাসে থেকেও সিলেটের রাজনীতিতে প্রভাবশালী এই আনোয়ারুজ্জামান। সিলেটে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন কমিটি গঠন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে তার একটা বড় ভূমিকা থাকে বলে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা মনে করেন।

গত দুটি সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পেতে চেষ্টা করলেও তিনি মনোনয়ন পাননি। তবে গুঞ্জন রয়েছে, তার আপত্তির কারণেই এই আসনে মনোনয়নবঞ্চিত থাকতে হয় সাবেক সংসদ সদস্য ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরীকে। দলের দুই প্রভাবশালী নেতার বিভক্তির কারণে দুবারই এ আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ।

মেয়র পদে যেভাবে আলোচনায় আনোয়ারুজ্জামান

এতদিন সিলেট-২ আসনে মনোনয়ন পেতে তৎপরতা চালালেও চলতি মাসে হঠাৎ করেই সিলেট সিটি নির্বাচনের মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে উঠে আসে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর নাম।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক সংসদ সদস্য ও সিলেটের প্রবীণ নেত্রী সৈয়দা জেবুন্নেছা হককে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হয়। এরপর তিনি দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে যান। ওই সাক্ষাতেই সিলেট সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গ উঠে আসে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সিলেট সিটি নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে আনোয়ারুজ্জামানের নাম বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে দলীয় নেতা-কর্মীদের জানান জেবুন্নেছা হক। এর পর থেকেই আলোচনায় উঠে আসে আনোয়ারুজ্জামানের নাম। সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট নগর ছেয়ে গেছে তার ছবিসংবলিত পোস্টার-ফেস্টুনে।

এ ব্যাপারে জানতে গত রোববার সৈয়দা জেবুন্নেছা হকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে জেবুন্নেছা হকের বরাত দিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল বলেন, ‘সিটি নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে আনোরুজ্জামানের কথা বিবেচনা করার কথা প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এমনটি জেবুন্নেছা হক আমাকেও বলেছেন। আরও অনেককেই এ কথা বলেছেন তিনি।’

নাদেল আরও বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ আরও কিছু শীর্ষ নেতার কাছ থেকেও এ ব্যাপারে ইতিবাচক ইঙ্গিত পেয়েছি।’

এদিকে মেয়র পদে আলোচনায় আসার পর ২২ জানুয়ারি দেশে আসেন আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। তাকে শোভাযাত্রার মাধ্যমে বিমানবন্দর থেকে নগরে নিয়ে আসেন নেতা-কর্মীরা।

এরপর ২৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আনোয়ারুজ্জামান। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তাকে সবুজ সংকেত দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

মহানগর আওয়ামী লীগে ক্ষোভ

মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে আনোয়ারুজ্জামানকে ‘সবুজ সংকেত’ দেয়া হয়েছে- এ খবর চাউর হওয়ার পর থেকেই ক্ষোভ বিরাজ করছে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে। বিশেষত মেয়র পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী অন্য নেতারা এ নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। যদিও দলীয় প্রধানের বিরাগভাজন হওয়ার ভয়ে এ নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে এই আলোচনা শুরুর পর থেকেই উল্লসিত আনোয়ারুজ্জামানের অনুসারীরা।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, সিসিকের আগামী নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়ন পেতে অর্ধডজন নেতা তৎপরতা চালাচ্ছিলেন। এর মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আসাদ উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ টি এম হাসান জেবুল ও কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ এবং বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের পুত্র আরমান আহমদ শিপলু।

কামরানের মৃত্যুর পর থেকেই মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। শেষ সময়ে এসে প্রবাসী এক নেতার নাম আলোচনার শীর্ষে উঠে আসায় হতাশ তাদের সবাই।

মনোনয়নপ্রত্যাশীদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যারা দেশে থেকে দীর্ঘদিন ধরে দলের রাজনীতি করছেন, বিপদে-আপদে মানুষের পাশে রয়েছেন, তাদের বাদ দিয়ে প্রবাসে বিলাসী জীবন কাটানো কাউকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়া হবে আওয়ামী লীগের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

ওই নেতা বলেন, সিলেট নগরবাসীর জন্য আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর কোনো অবদান নেই। গত ভয়াবহ বন্যায়ও তাকে পাশে পাননি নগরবাসী। তিনি নগরের বাসিন্দাও নন।

মেয়র পদে আনোয়ারুজ্জামানকে দলীয় প্রধানের বিবেচনায় রাখার প্রচার সত্য না-ও হতে পারে উল্লেখ করে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া এত সহজ না। এমন প্রচার মিথ্যা হওয়ারই সম্ভাবনা বেশি। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভার আগে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে না।

এ প্রসঙ্গে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘আমি তৃণমূল থেকে উঠে আসা রাজনৈতিক কর্মী। গত সংসদ ও সিটি নির্বাচনে সিলেটে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে আমি নিরলসভাবে কাজ করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি এই শহরেই বড় হয়েছি, পড়ালেখা করেছি। তাই সিলেট নগরের মানুষ আমার আপনজন।’

প্রধানমন্ত্রী তাকে সবুজ সংকেত দিয়েছেন জানিয়ে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে। সিটি নির্বাচনের জন্য তিনি আমাকে কাজ করার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।’

এ প্রসঙ্গে সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বড় দল। দলের অনেক নেতাই মনোনয়ন চাচ্ছেন। এ ব্যাপারে দলীয় প্রধান ও মনোনয়ন বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে কে প্রার্থী হবেন, এ ব্যাপারে কিছু বলা যাবে না।’

বিষয়:

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভোটকেন্দ্রে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ককটেল উদ্ধার

দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। ছবি ভিডিও থেকে নেয়া
আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৬:১০
প্রতিনিধি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে-৩ আসনের উপনির্বাচনে একটি ভোটকেন্দ্রে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ভোট কেন্দ্রের মাঠ থেকে একটি ককটেল উদ্ধার করেছে র‌্যাব। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরুর পরই আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের আব্দুল ওদুদ ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী সামিউল হক লিটনের সমর্থকদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ১০টার দিকে আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের মাঠে বোমা পাওয়া যায়। পরে র‌্যাবের একটি দল ঘটনাস্থল থেকে অবিস্ফোরিত অবস্থায় বোমাটি উদ্ধার করে।

র‌্যাবের একটি দল এসে আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের মাঠ থেকে অবিস্ফোরিত অবস্থায় ককটেলটি উদ্ধার করে। ছবি: দৈনিক বাংলা

এ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৬১২ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৮৮৩ জন। আসনটির ১৭২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৯৭টি।

এই আসনে প্রার্থী মাত্র তিনজন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের আব্দুল ওদুদ (নৌকা), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) কামরুজ্জামান খান (টেলিভিশন) এবং আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী সামিউল হক লিটন (আপেল)।

এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫ হাজার ৪৫০ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৪ হাজার ২৮০ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১ হাজার ১৭০ জন। আসনটির ১৮০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ১২২টি।

নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে দলীয় প্রার্থী চারজন, স্বতন্ত্র দুজন। দলীয় প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগের মু. জিয়াউর রহমান (নৌকা), জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক (লাঙ্গল), জাকের পার্টির গোলাম মোস্তফা (গোলাপ ফুল) ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) নবীউল ইসলাম (টেলিভিশন)।

এ আসনে স্বতন্ত্র দুইজন আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী। তারা হলেন মোহাম্মদ আলী সরকার (আপেল) ও খুরশিদ আলম বাচ্চু (মাথাল)।


কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি কম, ৪০ মিনিটে ৪ ভোট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসানের উপনির্বাচনে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি একেবারেই কম। এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ইভিএমে ত্রুটি দেখা দেয়ায় ১২ মিনিটি দেরিতে আশুগঞ্জ উপজেলার তারুয়া শালুক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ৯টা পর্যন্ত কেন্দ্রটিতে মাত্রা পাঁচজন ভোটার উপস্থিত ছিলেন।

শুধু তাই নয়, এ কেন্দ্রের ছয়টি কক্ষের তিনটিতে নেই কোনো প্রার্থীর এজেন্ট। ১ ও ২ নম্বর কক্ষে ‍শুধু গোলাপ প্রতীকের প্রার্থী জহিরুল ইসলামে ও লাঙ্গল প্রতীকের আব্দুল হামিদ ভাসানীর এজেন্ট রয়েছে।

এদিকে একই উপজেলার আড়াইসিধা কাদির ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোটারদের উপস্থিতি কম দেখা গেছে। এই কেন্দ্রটিতে রয়েছে ১২টি কক্ষ। সবগুলোই মহিলাদের জন্য।

প্রিসাইডিং অফিসার জহিরুল ইসলাম জানান, ৪০ মিনিটে মাত্র ৪টি ভোট পড়েছে।

আড়াইসিধা গ্রামের বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী রাসিয়া বেগম ভোট দিতে আসে এই কেন্দ্রে। কোনো রকম সমস্যা হয়নি বলে জানান তিনি। গত মঙ্গলবার রাতে এক চিকিৎসকের কাছে জেনেছেন আজ ভোট হবে। তাই ভোট দিতে সকালে এসেছেন। একই গ্রামের সাফিয়া বেগম বাজার করতে এসে জেনেছে ভোট হচ্ছে। পরে তিনিও ভোট দিতে কেন্দ্রে আসেন।

এ ছাড়া রওশনারা জলিল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র ঘুরে ভোটারদের উপস্থিতি দেখা যায়নি।

এই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আশিক কায়সার জানান, কেন্দ্রটিতে ভোটার সংখ্যা রয়েছে ৩১৮৩ জন। তবে ভোট শুরুর এক ঘণ্টায় ভোট দিয়েছে মাত্র ২০ জন। শীতের কারণে ভোটারদের উপস্থিতি কম বলে ধারণা করছেন তিনি।

এ ব্যাপারে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরবিন্দ বিশ্বাস জানান, আশুগঞ্জ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে এক লাখ ৩২ হাজার ভোটার রয়েছেন। ভোট শান্তিপূর্ণভাবে হচ্ছে। কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।


নওগাঁ আইনজীবী সমিতির সভাপতি পিটু, সম্পাদক রাজ্জাক

আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১০:১৩
প্রতিনিধি, নওগাঁ

নওগাঁ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট খোদাদাদ খান পিটু ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক। গত মঙ্গলবার রাত ১০টায় নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট সুলতান মাহমুদ ভোট গণনা শেষে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

এর আগে এদিন বেলা ১১টা থেকে জেলা বার অ্যাসোসিয়েশন ভবনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলে। মোট ৪০৫ জন ভোটারের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ৩৯১ জন।

নির্বাচনে মোট ১৫টি পদের মধ্যে সভাপতিসহ বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত প্যানেল থেকে ১১ জন এবং সাধারণ সম্পাদকসহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল থেকে চারজন নির্বাচিত হয়েছেন।

এ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী পরিষদ থেকে নির্বাচিতরা হলেন— সহ-সভাপতি ময়েন উদ্দিন প্রামাণিক ও মোফাজ্জল হক, সহ-সাধারণ সম্পাদক (প্রশাসন) কাজী হাসানুজ্জামান হাসান, সহ-সাধারণ সম্পাদক (লাইব্রেরী) তানজিমুল হক লিঙ্কন, সহ-সাধারণ সম্পাদক (আপ্যায়ন, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি ) আশরাফুদ্দৌলা নয়ন এবং সদস্য পদে রফিকুল ইসলাম মণ্ডল, এ এস এম আলতাফ হোসেন, আবু সাঈদ সুমন, শাকিল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন প্রামাণিক।

অপরদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ থেকে নির্বাচিতরা হলেন— সদস্য পদে মনোয়ার হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম-২ ও গোলাম আজম।

বিষয়:

কমবে দুর্ঘটনা, পর্যটন নিয়েও আশা

কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কটি প্রশস্ত ও সংস্কার করে জাতীয় মহাসড়কে উন্নীত করার কাজ শেষ হয়েছে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর। সংস্কারের পর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকলেও সড়কটি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসু দাশ, বান্দরবান

পর্যটন নগরী হিসেবেই পরিচয় বান্দরবানের। দেশের নানা প্রান্ত থেকে বান্দরবানের পাহাড়গুলোতে ছুটে যান পর্যটকরা। কিন্তু জেলার প্রবেশ পথটিই ছিল অপ্রশস্ত, উঁচু-নিচু। ফলে এই সড়কে দুর্ঘটনা ছিল নিয়মিত। শুধু তা-ই নয়, বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টিতে তলিয়ে গেলে বা খানাখন্দের কারণে সড়ক ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গোটা জেলাই বাকি জেলাগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।

শেষ পর্যন্ত সরকারের উদ্যোগে দীর্ঘ প্রায় চার বছরের কর্মযজ্ঞ শেষে এই সড়কটির আধুনিকায়নের কাজ শেষ হয়েছে। আগের তুলনায় প্রশস্ত হয়ে এই সড়কটি এখন যুক্ত হয়েছে জাতীয় মহাসড়কে। এরই মধ্যে সড়কটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে। তবে শিগগিরই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। স্থানীয়রা বলছেন, সড়কটির আধুনিকায়নের ফলে দুর্ঘটনার প্রবণতা কমবে। একই সঙ্গে জেলার পর্যটনেও নতুন গতি আসবে, যা অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে।

বান্দরবানে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম চট্টগ্রামের কেরানীহাট-বান্দরবান সড়ক। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে দেশি-বিদেশি হাজার হাজার পর্যটকসহ স্থানীয়রা যাতায়াত করেন। কিন্তু সড়কটি আঁকাবাঁকা, ঢালু ও সরু হওয়ায় প্রায়ই সেখানে দুর্ঘটনা ঘটত। এ ছাড়া সড়কের বিভিন্ন স্থান উঁচু-নিচু হওয়ায় বর্ষা মৌসুমের বৃষ্টিতে তা তলিয়ে যেত। এতে বাস স্টেশনসহ সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ত। তখন সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত এই জেলা। পর্যটক তো বটেই, স্থানীয়দেরও এ ধরনের পরিস্থিতিতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হতো। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শেষ পর্যন্ত ২০১৮ সালে সড়কটি সংস্কার করে আধুনিক করে তোলার উদ্যোগ কার্যকর হয়।

সেনাবাহিনী এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৩ অক্টোবর কেরানীহাট-বান্দরবান সড়ককে জাতীয় মহাসড়কে উন্নীত করতে প্রকল্প একনেকে অনুমোদিত হয়। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে সওজের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ২৬৬ দশমিক ৫৬ কোটি টাকার প্রকল্পটির মেয়াদ ছিল সদ্য বিদায়ী বছরের শেষ দিন পর্যন্ত। সে অনুযায়ী সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদের দুই সপ্তাহ আগেই গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর সড়কটির কাজ শেষ করে ২০ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন। প্রকল্পের আওতায় ২১টি সেতু, ১৫টি কালভার্ট ও ২১ কিলোমিটার ড্রেনেজ নিষ্কাশন অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি সড়কও প্রশস্ত করা হয়েছে।

প্রকল্প কর্মকর্তা (২০ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন) মেজর মো. শাহ সাদমান রহমান বলেন, আগে সড়কটির গড় প্রস্থ ছিল মাত্র ৫ দশমিক ৫৮ মিটার (প্রায় ১৮ ফুট)। এ ছাড়া বিভিন্ন যানবাহন ও পণ্যবাহী বাহনের চাপ অনুযায়ী সড়কটি প্রয়োজন অনুযায়ী চওড়া ছিল না। তাই এ সড়কে উভয়মুখী যানবাহনের চলাচল ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। এর ফলে এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটত। এখন সড়কটি ৭ দশমিক ৩০ মিটারে (প্রায় ২৪ ফুট) উন্নীত করা হয়েছে। গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই সড়কটি প্রশস্ত করায় সবাই উপকৃত হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, কাজ শেষ হওয়ার পরই ২৩ কিলোমিটার দীর্ঘ কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কটি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এটিকে জাতীয় মহাসড়কে উন্নীত করায় পর্যটক ও স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হবে। সেই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নত হবে। সড়ক দুর্ঘটনা কমার সঙ্গে সঙ্গে পর্যটকদের আনাগোনাও বাড়বে বলে মনে করছেন তারা। গত মাস দেড়েক সময়ের মধ্যেই সড়কটি ব্যবহারে আগের তুলনায় অনেক ভালো অভিজ্ঞতা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বান্দরবানের বাস স্টেশন এলাকার বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ শেষে নতুন এই সড়ক খুব সুন্দর ও প্রশস্ত হয়েছে। এতে দুর্ঘটনাও অনেক কমে গেছে।’

বাসচালক মো. জসীম বলেন, ‘বান্দরবান সড়কে এখন বাস চালানো আগের চেয়ে অনেক সহজ। আগের চেয়ে সড়কের মান ভালো হওয়ায় এবং রোড ডিভাইডার থাকার কারণে নির্ভয়ে এখন গাড়ি চালানো যায়।’

সড়ক বিভাগ বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহ্ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘সেনাবাহিনীর অক্লান্ত পরিশ্রমে সড়কটির কাজ শেষ হয়েছে। এখন প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে সড়কটির উদ্বোধন করবেন। সড়কটি জাতীয় মহাসড়কে উন্নীত হওয়ায় এ জেলায় নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপিত হবে। এতে পর্যটন শিল্পের আরও প্রসার ঘটবে।

সংস্কার হওয়া এ সড়কটি নিয়ে পর্যটন খাতেও আশার কথা জানিয়ে বান্দরবান হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির অর্থ সম্পাদক রাজিব বড়ুয়া বলেন, ‘এই সড়কে আগে এত বেশি দুর্ঘটনা ঘটত যে পর্যটকরা বান্দরবানে আসতে ভয় পেতেন। এখন সড়কটি প্রশস্ত ও উন্নত হওয়ায় সড়ক দুর্ঘটনা কমে যাবে। সারা দেশের সঙ্গে বান্দরবানের যোগাযোগ নতুন গতি পাবে। জেলায় পর্যটকদের উপস্থিতিও বাড়বে বলেই আমরা আশা করছি।’

বিষয়:

৭ ঘণ্টায় মোংলা ইপিজেডের আগুন নিয়ন্ত্রণে, তদন্ত কমিটি

সাত ঘণ্টারও বেশি সময় পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে মোংলা ইপিজেডের ভিআইপি লাগেজ ফ্যাক্টরির আগুন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, মোংলা ও বাগেরহাট

সাত ঘণ্টারও বেশি সময় পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে মোংলা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ইপিজেড) ভিআইপি লাগেজ ফ্যাক্টরির আগুন। তবে আগুন পুরোপুরি নিভতে আরও দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগবে। নৌবাহিনী, খুলনা, বাগেরহাট ও মোংলা ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করছে।

ফায়ার সার্ভিস ও কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এর আগে মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে ওই কারখানায় আগুন লাগে। এ ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মোংলা ইপিজেড কর্তৃপক্ষ।

ভিআইপি লাগেজ ফ্যাক্টরির কর্মকর্তা মো. মিজান মঙ্গলবার রাত ১০টায় বলেন, এখন আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পুরোপুরি নেভাতে এখনো ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ করছেন। আরও দুই ঘণ্টা লাগতে পারে সে কাজে। আপাতত আগুন ছড়ানোর কোনো আশঙ্কা নেই।

বিকেল ৩টার দিকে ওই কারখানায় আগুন লাগে। ছবি: দৈনিক বাংলা

বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. গোলাম সরোয়ার বলেন, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে খবর পেয়ে নৌবাহিনীসহ ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করছে। ফ্যাক্টরিতে কাপড়, পলিথিনসহ নানা ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্য রয়েছে। সে কারণে আগুন নেভাতে সময় লেগেছে। এই মুহূর্তে আগুন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুরোপুরি নেভাতে আরও একটু সময় লাগবে।

আগুনে হতাহতের কোনো খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। গোলাম সরোয়ার বলেন, আগুন সম্পূর্ণভাবে নেভানোর পর আমরা পুরো ফ্যাক্টরি তল্লাশি করব। তখন চূড়ান্তভাবে বলা যাবে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না।

মোংলা ইপিজেডের এই কারখানায় আগুন লাগার কারণ প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট কিংবা ওই ফ্লোরে গ্যাস দিয়ে কাটার ওয়েল্ডিংয়ের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। আগুনে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ছবি: দৈনিক বাংলা

এদিকে আগুনে ভিআইপি লাগেজ ফ্যাক্টরির প্রায় তিন শ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান কারখানাটির কর্মকর্তা মো. মিজান। তিনি আরও বলেন, ইপিজেডে ভিআইপির আটটি কারখানা রয়েছে। যে কারখানায় আগুন লেগেছে সেটির শ্রমিকদের দুই দিনের ছুটি দেয়া হয়েছে। দুই দিন পর তাদের দিয়ে ভিআইপির অন্য কারখানায় কাজ করানো হবে।

মোংলা ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মো. মাহাবুব আহম্মেদ সিদ্দিক বলেন, দুপুরে হঠাৎ আগুন লাগে। এ কারখানায় কোম্পানিটির ফোম ও ব্যাগ ছিল। অগ্নিকাণ্ডের সময় দ্রুত সেখানকার কর্মরত শ্রমিকেরা বেরিয়ে আসেন।

ইপিজেডের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, আগুনে ওই কারখানার কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে আগুনে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর আমরা পাইনি। এ ছাড়া ইপিজেডের অতিরিক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী (হিসাব) আবুল হাসান মুন্সীকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বিষয়:

বিদ্যালয়ের দরজার তালা ভেঙে ১০‌টি ল‌্যাপটপ চুরি

সমিতিরহাট আবা খালেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, মাদারীপুর

মাদারীপুরের কালকিনিতে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দরজার তালা ভেঙে ১০টি ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার গভীর রাতে এ চুরির ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার দুপুরে খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ জানায়, উপজেলার সমিতিরহাট আবা খালেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষের দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চোর চক্র। এরপর রুমে থাকা ১০টি ল্যাপটপ চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা। মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি দেখে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানায়। পরে কালকিনি থানা পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিংকি সাহা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সামচুল হক জানান, রাতের আঁধারে আমাদের বিদ্যালয়ের দরজার তালা ভেঙে চোরেরা আমাদের ল্যাপটপগুলো নিয়ে গেছে। কারা করেছে, সেটি জানি না। তবে আমরা থানায় মামলা করব।

কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হোসেন বলেন, রাতে ওই এলাকায় আমাদের টহল দল তৎপর থাকে। তারপরও কোনো এক ফাঁকে হয়তো চোর চক্র চুরি করতে সক্ষম হয়েছে। যত দ্রুতসম্ভব চোরদের আইনের আওতায় আনা হবে।

বিষয়:

banner close