শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

পশুর চ্যানেলে সার বোঝাই কার্গো জাহাজডুবি

ফাইল ছবি
প্রতিনিধি, মোংলা (বাগেরহাট)
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, মোংলা (বাগেরহাট)
প্রকাশিত : ২৫ জানুয়ারি, ২০২৩ ১১:০১

মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলের হাড়বাড়ীয়া এলাকায় সার বোঝাই একটি কার্গো ডুবে গেছে। গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে একটি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা লেগে কার্গোটি ডুবে যায়। জাহাজটিতে থাকা ৮ জন ষ্টাফকে উদ্ধার করেছে আশপাশের নৌযানের ষ্টাফ ও কোস্ট গার্ড সদস্যরা। কার্গোটি মূল চ্যানেলে ডুবলেও এ চ্যানেল দিয়ে নৌ চলাচল স্বাভাবিক ও ঝুঁকিমুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বন্দরের হারবার বিভাগ।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাষ্টার ক্যাপ্টেন শাহীন মজিদ জানান, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বন্দর চ্যানেলের হাড়বাড়ীয়ার ৯ নম্বর এ্যাংকোরেজে থাকা বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ এম ভি ভিটা অলিম্পিক থেকে প্রায় ৫শ মেট্টিক টন সার (এমওপি) বোঝাই করে কার্গো জাহাজ এম ভি শাহজালাল এক্সপ্রেস খুলনার শিরোমনির উদ্দেশে ছেড়ে আসে। পথিমধ্যে অন্ধকার ও ঘন কুয়াশার কারণে ৮ নম্বর এ্যাংকোরেজে থাকা বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ এম ভি সুপ্রীম ভেলরের পেছনে ধাক্কা লাগে। এতে কার্গোটি ডুবে যায়।

খবর পেয়ে তাদের উদ্ধার করেন কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদস্যরা ও অপর নৌযানের ষ্টাফেরা ডুবে যাওয়া কার্গো জাহাজে থাকা ৮ ষ্টাফকে রাতেই উদ্ধার করে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাষ্টার ক্যাপ্টেন শাহীন মজিদ বলেন, ৫শ মেট্টিক টন সার নিয়ে কার্গো জাহাজ এম ভি শাহজালাল এক্সপ্রেস মূল চ্যানেলে ডুবে গেলেও বর্তমানে ওই চ্যানেল দিয়ে অন্য নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও ঝুঁকিমুক্ত রয়েছে। বুধবার সকালে দুর্ঘটনাকবলিত স্থানে রেড মার্কিং করার জন্য হারবার বিভাগের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। ডুবে যাওয়া কার্গোটির ফিটনেস সার্টিফিকেট রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিদেশি জাহাজ এম ভি ভিটা অলিম্পিক জাহাজের স্থানীয় শিপিং এজেন্ট পার্ক শিপিংয়ের খুলনার ম্যানেজার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ডুবে যাওয়া জাহাজের মালিক কে তা জানা যায়নি। ওই জাহাজের সাতজন ষ্টাফ ও ১জন নিরাপত্তা কর্মী পাশে থাকা এম ভি নয়ন শয়ন ও মাহমুদ রায়হান নামক কার্গো জাহাজে রয়েছেন।

সার বোঝাই কার্গো জাহাজ ডুবির ঘটনায় সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, পশুর চ্যানেলের সুন্দরবনের অভ্যন্তরে সার বোঝাই নৌযান ডুবিতে প্রথমত ক্ষতির আশঙ্কা হলো সার জলজপ্রাণীর কোনো খাবার নয়। এতে জলজপ্রাণীর ক্ষতি হতে পারে। অপরদিকে বিভিন্ন সময়ে ডুবন্ত নৌযান উত্তোলনে বিলম্ব হওয়ায় চ্যানেলে পলি পড়ে নাব্যতা সংকটের ঝুঁকি বাড়ছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

নওগাঁয় ৬ মাসে দুই কোটি টাকার মাদক উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৭৩৩

পুলিশের টানা অভিযানে ৩৯৪টি মাদক মামলা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁয় গত ছয় মাসে মাদকবিরোধী অভিযানে প্রায় দুই কোটি টাকার মাদক উদ্ধারসহ ৭৩৩জনকে গ্রেপ্তার করে জেলা পুলিশ। এসব অভিযানে নিয়মিত মামলা, গ্রেপ্তার, মোবাইল কোর্ট, জরিমানা ও কারাদন্ডের মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জানান দেওয়া হয়েছে মাদকের সাথে জড়িত থাকলে নেই কোনো ছাড়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও ১১টি থানার পুলিশ সদস্যরা মাদকের বিরোধী এসব অভিযান চালিয়েছে।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম নওগাঁয় এসপি হিসেবে যোগদানের পর থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেন। এই জেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন জায়গায় চালানো হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অভিযান। উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ মাদক, গ্রেপ্তার করা হয়েছে বেশ কিছু মাদক সম্রাটকে। এর মধ্যে সফল ও প্রশংসিত অভযান চালানো হয়েছে মাদকের হটস্পট হিসেবে খ্যাত শহরের নুনিয়া পট্রিতে। কাজেই এসপির নির্দেশে সেখানে অভিযান চালানোয় স্থানীয়ভাবে হয়েছেন প্রশংসিত। তিনি মূলত যুব সমাজকে মাদকের হাত থেকে দূরে রাখতে মাদকের নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার হিসেবে নিয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এই ৬মাসে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে হেরোইন ৪৮৬গ্রাম, ফেন্সিডিল ৬২৮বোতল, ইয়াবা ৪হাজার ২৩৯পিচ, গাঁজা ২২৩কেজি ১৯গ্রাম ও গাছ ১৯কেজি, এ্যাম্পুল ইনজেকশনন ১হাজার ১৬পিচ, চোলাই মদ ৮হাজার ৭৮লিটার, উপকরণ ৩হাজার ২৯৬লিটার, বিদেশীমদ ৪লিটার এবং ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ১৯হাজার ৬৪৪পিচ। যার মোট মূল্য ২কোটি ৫লাখ ৩৯হাজার ৮৪০টাকা।

এসব ঘটনায় ৩৯৪টি মামলায় এজাহার নামীয় ৬০৮জন আসামীর মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫২৬জনকে এবং ১৭২টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ২০৭জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়া মন্ডল বলেন, এসপি স্যারের কড়া নির্দেশ মাদকের সাথে জড়িত কারো ছাড় নেই। সেই জন্য এই উপজেলায় বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত আছে।

একইভাবে এসপি স্যারের কড়া নির্দেশ আছে জানিয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান বলেন, ইতিমধ্যে আমরা বেশ কিছু জায়গায় অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধার ও ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করেছি। অন্যান্য অপরাধীদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি আমরা মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছি। চালিয়ে যাচ্ছি মাদক বিরোধী অভিযান।

ডিবির অফিসার ইনচার্জ হাসিবুল্লাহ হাবিব বলেন, বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করতে হয়। তারপরও এসপি স্যারের নির্দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণকে প্রাধান্য দিয়ে জেলায় মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারসহ বেশ কিছু মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণে আমাদের এই অভিযান চলমান থাকবে।

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ জেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা কঠোর ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। মোট কথা এই জেলাকে মাদকমুক্ত ও নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীরা যেন পুনরায় সুযোগ নিতে না পারে এই জন্য আমাদের জেলা পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া যুবসমাজকে মাদকের ছোবল থেকে দূরে রাখতে এর কুফল সম্পর্কে প্রতিনিয়ত সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

ওরা আমাকে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দিচ্ছে: সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষিকা 

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোহেল রানা, ঠাকুরগাঁও

বিবাহ বিচ্ছেদের পরেও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সাবেক স্বামীর দ্বারা হেওপতিপন্ন হচ্ছেন কলেজ শিক্ষিকা। মানসিকভাবে চরমভাবে বিপর্যস্ত করে তাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেয়ার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শনিবার (১১ জুলাই) ঠাকুরগাঁওয়ের একটি রেস্টুরেন্টে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগে করেন পুরাতন ঠাকুরগাঁও টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নারগিস খাতুন। এ সময় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

গত ৮ জুলাই এই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিয়ের তথ্য গোপন করা, অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণাসহ নানা অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেন তার সাবেক স্বামী হুমায়ুন কবির। সেই সংবাদ সম্মেলনের সমস্ত তথ্যকে ভুল ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন এই শিক্ষিকা।

এরই প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে নারগিস খাতুন বলেন, বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার পরেও হুমায়ুন কবির ও একটি কুচক্রী মহল জোগসাজস করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি দাবি করেন, আমার বিয়ের বিষয়সহ কোন তথ্য কখনোই গোপন রাখা হয়নি। আইনগতভাবে বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার পরেই তৃতীয় বিয়েতে আবদ্ধ হই।

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষিকা বলেন, যদি সত্যিই আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের সত্যতা থাকত, তাহলে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতো। হুমায়ুন কবির আইনের পথে শ্রদ্ধাশীল না হয়ে আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করছে। আমাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করছে।

এসি, ফ্রিজ ও অন্যান্য আসবাবপত্র আত্মসাতের অভিযোগ প্রসঙ্গে শিক্ষিকা বলেন, এসব সামগ্রী তিনি ২০২৩ সালে নিজ অর্থে ক্রয় করেছেন এবং প্রয়োজনে ক্রয়রসিদ ও ওয়ারেন্টি সংক্রান্ত কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারবেন। পাশাপাশি হুমায়ুন কবির অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে দাবি অনুযায়ী অর্থ ফেরত দিতেও প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

শেষে তিনি এসব অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আইন অনুযায়ী সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন। এসব ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেয়ারও কথা বলেন এই শিক্ষিকা।

এ বিষয়ে জানতে শিক্ষিকার সাবেক স্বামী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর দক্ষিণবঙ্গে আগমন ঘিরে মাদারীপুরে ব্যাপক প্রস্তুতি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন দক্ষিণবঙ্গে আগমনকে ঘিরে মাদারীপুরে ব্যাপক প্রস্তুতিসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছো। গত শুক্রবার (৯ জুলাই) বিকেলে মাদারীপুরের কেন্দুয়া, মস্তফাপুর, ঘটমাঝি, ঝাউদি ও খোয়াজপুর এই ০৫ ইউনিয়নের বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী-সমর্থক, সাধারণ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে মস্তফাপুর চাতালে এই প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কালকিনি-মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিসহ গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন এমপি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি নেতা ও জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মর্তুজা আলম ঢালী, বিএনপি নেতা লেলিন ভূইয়া, স্বেচ্ছাসেবক দল জেলা শাখার সেক্রেটারী এডভোকেট মাসুদ পারভেজ, যুবদল জেলা শাখার আহবায়ক ফারুক বেপারী, ছাত্রদল জেলা শাখার আহবায়ক কামরুল ইসলাম সহ অঙ্গসংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও কর্মী সমর্থক।

এসময় প্রধান অতিথি এমপি আনিসুর রহমান প্রস্তুতি সভায় নেতা-কর্মী-সমর্থক ও ৫ টি ইউনিয়ন থেকে আগত গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের দক্ষিণবঙ্গে আগমন আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার আগমনে দক্ষিণবঙ্গবাসীর উন্নয়নের দুয়ার খুলে যাবে। তাই আমাদের দলে-দলে তার জনসভায় যোগদান করতে হবে, যাতে তিনি এই অঞ্চলের মানুষের গণজোয়ার দেখে অবহেলিত দক্ষিণবঙ্গবাসীর সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নে তার উদারহস্ত প্রসার করে দেন। অনুষ্ঠান থেকে বক্তারা প্রধানমন্ত্রীর পথ নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখাসহ ব্যাপক সংখ্যক জনসমাগমের আশ্বাস দেন।


নির্বাচিত

চট্টগ্রাম বিভাগে বন্যায় ৩৯ জনের প্রাণহানি, নয় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং ভূমিধসে চট্টগ্রাম বিভাগে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ পর্যন্ত ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং পাঁচটি জেলায় প্রায় ৯ লাখ ২৮ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কক্সবাজারেই সর্বোচ্চ ২৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, যাদের মধ্যে ১৩ জনই রোহিঙ্গা শরণার্থী। এছাড়া চট্টগ্রাম জেলায় ৮ জন, বান্দরবানে ৬ জন এবং রাঙামাটিতে ২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও পানির নিচে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, জেলার ১৬টি উপজেলাসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১ লাখ ৮৮ হাজার পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলার পরিস্থিতি সবচেয়ে শোচনীয় আকার ধারণ করেছে, যেখানে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়ে বাঁশখালীতে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বহু এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকা এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক অকেজো হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বেশ কিছু অংশ এখনও পানির নিচে থাকায় যান চলাচল অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি উপচে সাতকানিয়ার বিপুল এলাকা প্লাবিত হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যসংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার ইতিমধ্যে ৭০০ টন চাল ও ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে এবং সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সংস্থা উদ্ধার অভিযানে সক্রিয় রয়েছে। রাঙামাটির সাজেক উপত্যকায় আটকা পড়া ৪৬১ জন পর্যটককে সেনাবাহিনী সফলভাবে উদ্ধার করে নিরাপদে গন্তব্যে পাঠিয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বান্দরবানের সকল পর্যটন কেন্দ্র ১৫ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে যে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ১২ জুলাই পর্যন্ত ওই অঞ্চলে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যা পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রামের বাইরেও সিলেট ও খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং বাগেরহাটের নিম্নাঞ্চলেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার জন্য বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছেন। তাঁর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন। প্রতিকূল এই পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।


নির্বাচিত

বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট বায়ুচাপের তীব্র তারতম্য এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী পাঁচ দিন সারা দেশে বৃষ্টিপাতের দাপট অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এই সময়ে দেশের প্রতিটি বিভাগেই দমকা হাওয়াসহ হালকা হতে মাঝারি এবং অনেক স্থানে মাঝারি ধরনের ভারী হতে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৯টা হতে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সাথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি ধরনের ভারী হতে অতি ভারী বর্ষণের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। এই সময়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

রবিবারও আবহাওয়ার এই ধারা অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আটটি বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি ভারী বর্ষণের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সোমবারও দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টির দাপট বজায় থাকবে, তবে মঙ্গলবার হতে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সামান্য কমে আসতে পারে। ওইদিন হতে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

পরবর্তী দিনগুলোতে অর্থাৎ বুধবারের দিকে ঢাকা, রাজশাহী ও ময়মনসিংহসহ কয়েকটি বিভাগে বৃষ্টির প্রকোপ কিছুটা কমতে শুরু করলেও দেশের অনেক স্থানেই মাঝারি ধরনের বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে যে, আগামী পাঁচ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর সারা দেশে বৃষ্টিপাতের বর্তমান প্রবণতা ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে পারে। সাগরে বৈরী পরিস্থিতির কারণে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

চট্টগ্রামের বন্যা: দুর্গতদের উদ্ধারে ৭ উপজেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

টানা প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের ফলে চট্টগ্রামে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জেলার সাতটি উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে। ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে সেনাসদস্যরা শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত থেকেই মাঠে নেমেছেন। এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের জরুরি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন ও ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যরা দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান শুরু করেছেন। টানা বৃষ্টি ও ঢলে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী উপজেলা ব্যাপকভাবে প্লাবিত হওয়ায় সেখানকার প্রায় ৪ লাখ মানুষ চরম সংকটের মুখে পড়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১০ পদাতিক ডিভিশনের একটি শক্তিশালী উদ্ধারকারী দল প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ দ্রুত ওই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে।

পাশাপাশি ভারী বর্ষণে বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলাতেও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করতে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দুর্গত এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে ২৪ পদাতিক ডিভিশন ইতিমধ্যে তিনটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেছে। আইএসপিআর জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীর অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


নির্বাচিত

২য় দফায় প্রকাশ্যে গণনা হচ্ছে শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০৪
সিলেট প্রতিনিধি

সিলেটের ঐতিহাসিক হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে সংগৃহীত অর্থ আজ শনিবার (১১ জুলাই) পুনরায় প্রকাশ্যে গণনা করা হচ্ছে। মাত্র ১৯ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো এই অর্থ গণনার কার্যক্রম সকাল ১০টায় মাজার প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে। গত ৯ জুলাই মাজারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত কমিটির প্রথম সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর আগে গত ২২ জুন সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম দীর্ঘ ৭০০ বছরের প্রচলিত প্রথা ভেঙে প্রথমবারের মতো মাজারের টাকা প্রকাশ্যে গণনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনি গত ১৮ জুন চারটি নতুন দানবাক্স স্থাপন করেন এবং পুরনো তিনটি ডেগ ও একটি দানবাক্স সিলগালা করে দিয়েছিলেন। ওই ঘটনার পর সারা দেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলে গত ২১ জুন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়।

পরবর্তীতে গত ২৬ জুন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় আরও শৃঙ্খলা আনতে ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। গত বৃহস্পতিবার সিলেট সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠক শেষে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান যে, মাজার কর্তৃপক্ষ, কমিটির সদস্য, মাদরাসা শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে এই অর্থ গণনার কার্যক্রম পরিচালিত হবে। গণনাকৃত সকল অর্থ পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের নামে নির্ধারিত একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় একটি আধুনিক ও কার্যকর কাঠামো গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

বাড়ছে ডিম মাছ মুরগির দাম, সবজিতে স্বস্তি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভরা বর্ষায় রাজধানীর বাজারগুলোতে মাছ, মুরগি ও ডিমের মুরগির দাম বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনে ১০-১৫ টাকা বেড়েছে। ফার্মের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ১১০ থেকে ১২০ টাকা ডজন ছিল। শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

মিরপুরের ডিম ব্যবসায়ীরা বলেন, ডিমের দাম আগের তুলনা ১০-১৫ টাকা ডজনে বেড়েছে। এক ডজন সাদা ব্রয়লার মুরগির ডিমের দাম ১২০ টাকা আর ব্রাউন কালারের ১৩০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ১১০ থেকে ১১৫ টাকা ডজন ছিল।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি গরুর মাংসের কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস কিনতে গেলে কেজিতে খরচ করতে হবে এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। এছাড়াও মুরগির বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালী মুরগি ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে স্বস্তি নেই মাছের বাজারেও। মানভেদে চিংড়ির কেজি ৬০০ থেকে ৮০০, পাবদা ৩০০ থেকে ৪০০, বড় আকারের রুই ৪০০ থেকে ৪৫০ ও ট্যাংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, তেলাপিয়া প্রতি কেজি ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কৈ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ইলিশের গায়ে যেন হাত দেওয়া যায় না। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা। আর এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে চাষের কৈ, তেলাপিয়া, পাঙাশ ও মাঝারি আকারের রুই মাছের দাম।

আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। এছাড়া রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বোয়াল মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হবে।

বাজারে মাছ কিনতে আসা ধানমন্ডির এক বাসিন্দা জানান, শোল মাছ ৭০০ টাকা কেজি কিনেছি। ভেটকি ৪০০ টাকায় নিয়েছে। সব মাছের দাম বেশি। বৃষ্টি কারণে দাম বেশি কিনা জানি না।

বর্ষাকাল হওয়ায় বাজারে শাকের সরবরাহ বেড়েছে। লাল শাক প্রতি আটি ১০ টাকা। পুইশাক ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতি আটি। কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়। লাউ ৫০ টাকা। ৬০-৮০ টাকায় সাধারণ মানের বেগুন বিক্রি হলেও শুক্রবার (১০ জুলাই) বাজারভেদে তা ছিল ৭০-৮০ টাকা। ৪০-৬০ টাকার পটোল বিক্রি হয় ৫০-৬০ টাকায়। মিষ্টিকুমড়ার দাম অপরিবর্তিত।

কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে করলা বিক্রি হয় ৬০-৮০ টাকায়। ঝিঙ্গা ৬০-৭০, কাঁকরোল ৭০-৮০, ঢ্যাঁড়শ ও চিচিঙ্গা ৫০-৬০, কচুরলতি ৭০-৯০, বরবটি ৬০-৮০, শসা ৬০-৯০ টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়া কাঁচামরিচ ৮০-১৬০ টাকায় বিক্রি হয়।


নির্বাচিত

সেনাবাহিনীর উদ্ধার-ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পার্বত্য চট্টগ্রামে চলমান ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের ফলে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন, অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাসমূহের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার, ত্রাণ সহায়তা, নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দুর্যোগের কারণে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার ফলে সড়ক যোগাযোগ বিঘ্নিত হলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্রয়োজনীয় প্রকৌশল সরঞ্জাম ও ভারি যন্ত্রপাতির সহায়তায় মাটি ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনে কাজ করছেন। একই সঙ্গে ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা এলাকা থেকে প্রায় ২২১ টি পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এছাড়াও, দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে উদ্ধারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এ পর্যন্ত বান্দরবান থেকে ১৪০ জন এবং সাজেকে আটকে পড়া প্রায় ৬০০ জন পর্যটকের মধ্যে প্রথম ধাপে ১৫০ জনকে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট পর্যটকদের পর্যায়ক্রমে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন এলাকায় রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং অন্যান্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি ও বাঙালি পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, তেল, আলুসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্ধার, ত্রাণ সহায়তা, যোগাযোগ পুনঃস্থাপন ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলেও জানায় আইএসপিআর।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা দেশের যেকোনো দুর্যোগ ও জাতীয় সংকটে জনগণের জীবন, সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।


নির্বাচিত

উজানের ঢল ও ভারি বৃষ্টিপাতে তীব্র হচ্ছে বন্যা পরিস্থিতি

* চট্টগ্রামে সাত লাখেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি * নতুন আরও পাঁচ জেলায় বন্যার আশঙ্কা * আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত হচ্ছে সিলেটের নিম্নাঞ্চল * মৌলভীবাজারে বাঁধ বেঙে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও উজানের ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় নতুন করে পাঁচ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আরও পাঁচ জেলা বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সর্বশেষ পানি সমতল পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

এদিকে, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোর পানি নামতে শুরু করলেও পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার সাড়ে সাত লাখের বেশি মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। বান্দরবানে পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের মেয়াদ আরও তিন দিন বাড়িয়ে ১৫ জুলাই পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ভারি বর্ষণ আর ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। জেলার রাজনগর ও কমলগঞ্জ উপজেলায় মনু ও ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে এবং উপচে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অন্যদিকে ফেনী, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

কেন্দ্রটি জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে ভারী থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের উত্তর-পূর্ব ও পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য এলাকার কিছু স্থানে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও যমুনার পানি বাড়ছে। তবে উভয় নদীই বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী পাঁচ দিনে এ অববাহিকায় ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় পানি কিছুটা কমলেও কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ ও মারকুলি পয়েন্ট সতর্কসীমায় রয়েছে। আগামী দুই দিনে এ অঞ্চলের পানি আবার বাড়তে পারে।

উত্তরাঞ্চলে তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্ট সতর্কসীমায় রয়েছে। তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী দুই দিনে বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গোমতী, মুহুরি, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসব নদীর পানি কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির কিছু এলাকায় বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যার সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর কিছু নিম্নাঞ্চলও সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানিও বাড়তে পারে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

চট্টগ্রামে পানিবন্দি সাড়ে ৭ লাখ মানুষ: প্লাবিত চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোর পানি নামতে শুরু করলেও পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকালে চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় যে তথ্য দিয়েছে, তাতে বিভিন্ন উপজেলার সাড়ে সাত লাখের বেশি মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে।

গত রোববার থেকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালীর অনেক জায়গা প্লাবিত হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছিলেন, প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় থেকে জানানো হয়, শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ১৭৬টি ইউনিয়ন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবারের ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০ জন লোক বন্যা আক্রান্ত হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে মোট ১০ জন নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তরফে জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভিন্ন উজেলার মধ্যে সাতকানিয়া উপজেলা সবচেয়ে বেশি প্লাবিত হওয়ার কথা বলেছেন জেলা প্রশাসক। এ উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রত্যেকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় ইউএনও মাহমুদুল বলেন, সাতকানিয়া উপজেলার পৌরসভার পানি নামতে শুরু করেছে। তবে পৌরসভাসহ বিভিন্ন দিক থেকে পানি নামলেও সেগুলো অন্যদিকে গিয়ে পড়ছে। যার কারণে পরিস্থিতিটি অনেকটা জটিল।

সাতকানিয়ার বাসিন্দাদের ভাষ্য, সাতকানিয়া উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি নির্ভর করে পাহাড়ে বৃষ্টির উপর ভিত্তি করে। সাঙ্গু নদী, ডলু ও হাঙ্গর খালের মাধ্যমে পাহাড়ি ঢল নেমে আসে উজানের দিকে। বান্দরবানের দিকে বৃষ্টি হলে তার প্রভাব পড়বে সাতকানিয়া অঞ্চলে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ তথ্য মতে, শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় পর্যন্ত সাঙ্গু নদীর দোহাজারি অংশে পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যা বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ছিল ১৪ সেন্টিমিটার।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার বিকাল থেকে বিভিন্ন গ্রাম বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। কিছু কিছু স্থানে বিদ্যুৎ এলেও অনেক স্থানে নেই। সবমিলিয়ে বিদ্যুৎ আসা যাওয়ার মধ্যে রয়েছে। পাশাপশি ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্কও পাওয়া যাচ্ছে না।

ইউএনও মাহমুদুল বলেন, বিদ্যুতের কারণে মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যা হচ্ছে। অনেকের মোবাইলে চার্জ না থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে।

বাঁশখালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, বিভিন্ন স্থানে রাস্তা কেটে দিয়ে পানি সরানোর হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের সাথে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে কমবেশি সবগুলো ইউনিয়নের লোকজন পানিবন্দি হয়েছে। দুপুরের পর থেকে পানি কমতে শুরু করেছে।

বাহারছড়া, সরল, শেখের খিল, বৈলছড়ি ও কাথারিয়া ইউনিয়নের এখনও পানি রয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আঁকন বলেন, গতরাতে বৃষ্টির কারণে অনেক এলাকায় আবার পানি বেড়েছে। যার কারণে অনেকেই আবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকাল পর্যন্ত অন্তত ৫৫ হাজার লোক উপজেলাটিতে পানিবন্দি হয়েছেন বলে জানান সহকারী কমিশনার আঁকন, যা বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ছিল ৩৮ হাজারের মত।

এদিকে দুর্যোগ মোকবেলিয়া ৭০০ মেট্রিক টন চাল ও ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়ার তথ্য দিয়েছে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়।

বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র ১৫ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ: টানা ভারি বৃষ্টির কারণে বান্দরবানে পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের মেয়াদ আরও তিন দিন বাড়িয়ে ১৫ জুলাই পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত জারি করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বান্দরবানে অব্যাহত ভারি বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ঝুঁকির আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যমান আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য ঝুঁকির বিবেচনায় পর্যটক ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ৮ জুলাই জারি করা জরুরি গণবিজ্ঞপ্তির ধারাবাহিকতায় বান্দরবান জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র ১৫ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

সিলেটে নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা: টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সিলেটের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। জেলার কয়েকটি পয়েন্টে পানির উচ্চতা বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। আগামী কয়েক দিন উজানে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সীমান্তবর্তী এলাকাসহ জেলার নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা (ফ্লাশ ফ্লাড) দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তবে এখন পর্যন্ত জেলার কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেল সোয়া ৩টায় পাউবোর প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।

পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, কুশিয়ারা নদীর অমলশিদ পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ দশমিক ৫৬ মিটার, যা বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি। সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানির সমতল ছিল ১২ দশমিক ৪১ মিটার, যেখানে বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৭৫ মিটার। সিলেট পয়েন্টে বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮০ মিটারের বিপরীতে পানির সমতল ছিল ৯ দশমিক ৬৮ মিটার। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কানাইঘাট পয়েন্টে পানি শূন্য দশমিক ০১ মিটার কমলেও সিলেট পয়েন্টে শূন্য দশমিক ০৩ মিটার বেড়েছে। এছাড়া সারিগোয়াইন নদীর সারিঘাট পয়েন্টে পানির সমতল ছিল ১০ দশমিক ২৭ মিটার, যেখানে বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৩৫ মিটার। গোয়াইনঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮২ মিটারের বিপরীতে পানির উচ্চতা ছিল ৯ দশমিক ৫৪ মিটার। পিয়াইন নদীর জাফলং পয়েন্টে পানির সমতল ছিল ৯ দশমিক ৮৯ মিটার। অন্যদিকে লোভাছড়া নদীর লোভা পয়েন্ট এবং ধলাই নদীর ইসলামপুর পয়েন্টে পানির উচ্চতা কিছুটা কমেছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, আগামী কয়েক দিন ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এর প্রভাবে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সিলেটের নদ-নদীর পানির স্তর আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি: মৌলভীবাজারের বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। জেলার রাজনগর ও কমলগঞ্জ উপজেলায় মনু ও ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে এবং উপচে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। দুই উপজেলায় অন্তত ৫০টিরও বেশি গ্রাম ইতোমধ্যে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে পানিবন্দি হয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন হাজার হাজার মানুষ। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বিঘার পর বিঘা আউশ ধানের ক্ষেত। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। উজান থেকে ঢল নামা অব্যাহত থাকায় মনু ও কুশিয়ারা নদীর অববাহিকায় বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়ার আশঙ্কায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা।

গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকালের পর থেকে রাজনগর উপজেলায় মনু নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট উপচে পানি প্রবেশ করছে লোকালয়ে। বিশেষ করে কামারচাক ইউনিয়নের টুপিরমহল এলাকায় বাঁধের ওপর দিয়ে তীব্র গতিতে পানি প্রবাহিত হওয়ায় পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। এতে কামারচাক ও টেংরা ইউনিয়নসহ নদী তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন, তলিয়ে গেছে শত শত ঘরবাড়ি।
রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বিপুল সিকদার জানান, আমরা বুধবার রাত থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি। স্থানীয় লোকজন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় বালুর বস্তা ফেলে বাঁধের ফাটল মেরামতের কাজ চলছে। পানিবন্দি মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে ও আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে কমলগঞ্জ উপজেলায় ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে কমপক্ষে ২৫টি গ্রাম। উপজেলার ইসলামপুর, আদমপুর ও মাধবপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন ৩-৪ ফুট পানির নিচে। স্থানীয় সূত্র জানায়, মোকাবিল ও গঙ্গানগর এলাকায় বাঁধের বড় অংশ ধসে পড়ায় লোকালয়ে তীব্র গতিতে পানি প্রবেশ করছে। ইসলামপুর-আদমপুর প্রধান সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বন্যার পানিতে ভান্ডারীগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়সহ কমপক্ষে ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করায় পাঠদান ও চলমান পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বাঁধ ভাঙনের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতিকে দায়ী করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।

ভয়াবহ এই বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন। দুর্গত মানুষদের জন্য জেলায় ইতোমধ্যে ১৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং পানিবন্দি মানুষকে সেখানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকবলিত উপজেলাগুলোতে জরুরি খাদ্যসামগ্রী ও ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মৌলভীবাজার সদর ৩৩০ ব্যাগ রাজনগর ২১০ ব্যাগ, কমলগঞ্জ ২০৫ ব্যাগ, জুড়ী ১৫৭ ব্যাগ।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান জানান, পানিবন্দি মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনার পাশাপাশি শুকনো খাবার ও জরুরি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন সার্বক্ষণিক মাঠে রয়েছে।


নির্বাচিত

মেট্রো স্টেশনের নিচের অবৈধ দখল উচ্ছেদ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১০ জুলাই, ২০২৬ ২২:৩৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

এমআরটি লাইন-৬-এর মিরপুর-১০ মেট্রো রেল স্টেশনের গ্রাউন্ড লেভেলে অবৈধ দখল উচ্ছেদে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

শুক্রবার (১০ জুলাই) ডিএমটিসিএলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাজাহান আলী, মো. জাহিদুল ইসলাম ও নজরুল ইসলামের উপস্থিতিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে ডিএমটিসিএলের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), র‍্যাব, ফায়ার সার্ভিস, বাংলাদেশ আনসার, ডেসকো, ওয়াসা ও এমআরটি পুলিশ অংশ নেয়। এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন এবং ডিএমটিসিএলের উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আবু হাসান সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এতে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা দেয়।

অভিযানের সময় স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় যাত্রী চলাচল ও নিরাপত্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছিল, এমন সব অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও অপসারণ করা হয়।

ভবিষ্যতেও এ ধরনের অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।


নির্বাচিত

গোমতীর পানি বৃদ্ধি পেলেও নেই বন্যার আশংকা, গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১০ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৩৮
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই। তবে ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার পুরনো ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন গোমতীপাড়ের বাসিন্দারা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

সরেজমিনে শুক্রবার (১০ জুলাই) কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার চিকারচর, জগন্নাথপুর এবং বুড়িচং উপজেলার কামারখাড়া, বালিখাড়া ও ভান্তি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীর চরে পানি প্রবেশ করলেও তা এখনো বেড়িবাঁধের ৬ থেকে ৮ ফুট নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কোথাও কোথাও চরাঞ্চলের নিচু জমি তলিয়ে গেলেও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গোমতী নদীর পানির উচ্চতা ১১ দশমিক ৩০ ফুটে পৌঁছালে বিপৎসীমা ধরা হয়। বর্তমানে নদীর পানি সেই সীমার অনেক নিচে রয়েছে। টানা ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল না হলে বন্যার আশঙ্কা নেই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব ভিডিও ও ছবি ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো ২০২৪ সালের বন্যার সময়কার বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান জানান, জানিয়েছে, নদীর পানি বাড়ায় চরাঞ্চলের প্রায় ৬ হেক্টর জমির আগাম সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত না বাড়লে ক্ষতির পরিমাণ আর বাড়বে না।

কুমিল্লা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছৈয়দ আরিফুর রহমান জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। আগামী দুই দিনও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।


নির্বাচিত

ধলাই নদীর বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদী থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং ভাঙনের কবল থেকে বসতবাড়ি, কবরস্থান ও কৃষিজমি রক্ষার দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নদী তীর রক্ষা বাঁধ ও স্থাপনা সংরক্ষণের দাবিতে শুক্রবার (১০ জুলাই) কমলগঞ্জ পৌর এলাকায় এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উক্ত কর্মসূচিতে উত্তর আলেপুর, চণ্ডীপুর ও দক্ষিণ কুমড়াকাপন গ্রামের প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ ব্যানার-ফেস্টুন হাতে অংশ নেন। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, কৃষক ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ সংহতি প্রকাশ করেন।

মানববন্ধন শেষে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ড্রেজার মেশিন দিয়ে ধলাই নদীর তলদেশ থেকে বাণিজ্যিকভাবে বালু উত্তোলন করছে। বিশেষ করে নদীর তীর সংলগ্ন এলাকা থেকে অবাধে বালু তোলার কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট হচ্ছে এবং তলদেশের ভারসাম্য বজায় থাকছে না। ফলে উত্তর আলেপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বসতবাড়ি, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, কবরস্থান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

সমাবেশে বক্তব্য দেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আবুল হোসেন, জমসেদ মিয়া, আজাদ মিয়া, মহরম মিয়া, মনাই মিয়া, মন্নান মিয়া, নজরুল মিয়া, আলাল মিয়া, নূরুল ইসলাম, শিবলু এবং নজরুল ইসলাম বুলবুলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে আন্দোলনকারীরা আমরা বৈধ ইজারার বিরোধী নই, তবে তীর ঘেঁষে ড্রেজার বসানো বন্ধ করতে হবে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, ধলাই নদীর পাশের বাঁধগুলোর অবস্থা আসলেই নাজুক। ইজারাদারদের সঙ্গে কথা বলে নদী তীরসংলগ্ন এলাকা থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ নদীতীর রক্ষা বাঁধ দ্রুত সংস্কার ও নতুন বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে বলেও আশ্বাস দেন এই কর্মকর্তা।


নির্বাচিত

banner close