সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
১৬ চৈত্র ১৪৩২

খুলনায় বিএনপির ৬৬ নেতাকর্মী কারাগারে

বুধবার খুলনা বিএনপির ৬৬ নেতা-কর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
২৫ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৭:৪৫
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশিত
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশিত : ২৫ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৭:১১

খুলনায় নাশকতার তিনটি মামলায় বিএনপির ৬৬ নেতাকর্মীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে খুলনার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস এম আশিকুর রহমান মামলার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছেন খুলনা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পী, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ পারভেজ বাবু, মহানগর বিএনপির সদস্য গাজী আফসারউদ্দিন, মোল্লা ফরিদ আহমেদ, কাজী শফিকুল ইসলাম, মাসুদ খান বাদল, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইবাদুল হক রুবায়েদ, মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইসতিয়াক আহমেদ, সদস্য সচিব মো. তাজিম বিশ্বাস, স্বেচ্ছাসেবক দল সদর থানার আহ্বায়ক খায়রুজ্জামান সজীব, নগর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদ সুমন, বিএনপি নেতা জালু মিয়া, ফারুক আহমেদ, জামাল উদ্দিন মোড়ল, শহিদ খান, যুবদল নেতা নাসিম আহমেদ ও মাহমুদ হাসাস বিপ্লব।

গত ৬ থেকে ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সদর, সোনাডাঙ্গা এবং লবনচরা থানায় মামলা তিনটি দায়ের হয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে খুলনা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল আলম মনা বলেন, ‘১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ বানচাল করতে খুলনার বিভিন্ন থানায় পুলিশ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানিমূলক নাশকতা ও সরকার উৎখাত পরিকল্পনার অভিযোগে মামলা করে। এসব মামলায় প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দি ছিলেন। অন্যরা উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন পান। আজ তারা আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে তা নামঞ্জুর হয়।’

তিনি বলেন, ‘ওই তিনটি মামলায় যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, আসলে সেই সময়ে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ গায়েবি ও বানোয়াট অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে।’

এদিকে আদেশ ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার, নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি এবং সরকারের পদত্যাগ দাবি করে মিছিল করেন।


মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত আত্মনির্ভরশীল সমাজ গড়ার আহ্বান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পিরোজপুর প্রতিনিধি

পিরোজপুরে শিশু-কিশোরদের নিয়ে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এক আলোচনা সভায় নতুন প্রজন্মকে আত্মনির্ভরশীল হয়ে গড়ে ওঠার পাশাপাশি মাদক ও কিশোর গ্যাং থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা।
সোমবার (৩০ মার্চ) পিরোজপুরে '২৫শে মার্চ গণহত্যা ও ঐতিহাসিক মহান মুক্তিযুদ্ধ' শীর্ষক এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সদর উপজেলার কদমতলা জর্জ হাই স্কুলে জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মামুনুর রশিদ বলেন, “দেশভাগের পর থেকে পশ্চিম পাকিস্তান আমাদের ওপর চরম বৈষম্য চাপিয়ে দিয়েছিল। আজকের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অবকাঠামো এবং সরকারি দপ্তরে বাঙালিদের যে পদায়ন আমরা দেখছি, তা স্বাধীন দেশ না হলে কল্পনা করা যেত না।তাই আজকের শিশু কিশোর ও তরুণ সমাজকে দেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে পর্যাপ্ত পড়াশোনা করে আত্মশক্তিতে বলীয়ান হতে হবে।” তিনি আরও বলেন, আজকের এই উন্নয়ন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মহান আত্মত্যাগের ফসল।

মূল আলোচক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেন মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মে মাসের শুরুতে পাক বাহিনী জাহাজযোগে পিরোজপুরের হুলারহাটে এসে পৌঁছায়। বীরাঙ্গনা ভাগীরথীকে মোটরসাইকেলের পেছনে বেঁধে শহরজুড়ে টেনে নিয়ে হত্যার নির্মম ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান সময়ের কিশোর গ্যাং ও মাদকের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “কিশোর গ্যাং মানেই ধ্বংস। এটি পরিবার, শিক্ষা, সম্পদ ও দেশ সবকিছু ধ্বংস করে দেয়।”

সভাপতির বক্তব্যে জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক পরীক্ষিত চৌধুরী বলেন, “ইতিহাস নিজে থেকে বানানো যায় না, এটি ধারণ করতে হয়। যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেননি, তাদেরকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকেই সঠিক ইতিহাস জেনে নিতে হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, সঠিক জ্ঞান থাকলে কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নত করতে হয় না।

এর আগে জেলা তথ্য অফিসার সাইফুদ্দিন আল মাদানী স্বাগত বক্তব্য দেন। সহকারী তথ্য অফিসার আব্দুল্লাহ আল মাসুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল করিম খান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। শেষে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।


৪ প্রতিবন্ধী মেয়ে নিয়ে বৃদ্ধের কষ্টের জীবন, চাইলেন সরকারের সহায়তা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মেথিকান্দা রেলওয়ে স্টেশন-সংলগ্ন রেলের সরকারি জায়গায় একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘরে বসবাস করছেন মোহাম্মদ গোলাপ মিয়া ও ফিরোজা বেগম দম্পতি। চার প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে তাদের দিন কাটছে চরম কষ্ট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে।

ঘরের ভেতরে ঢুকলেই চোখে পড়ে হৃদয়বিদারক এক দৃশ্য। টলমলিয়ে তাকিয়ে থাকে বাবার চার রাজকন্যা। একজন অকারণে হাসে, আরেকজনের হাত-পা সিকলে বাঁধা। কেউই স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারে না। অন্যসব শিশুর মতো তাদের বেড়ে ওঠা হয়নি জন্ম থেকেই তারা প্রতিবন্ধী।

প্রায় ৪৫ বছর আগে শুরু হওয়া এই দাম্পত্য জীবনে জন্ম নেয় চার কন্যা ফেরদৌসি, সুমি, পেয়ারা ও ছামিদা। কিন্তু সুখের সেই সংসার আজ দুঃখের ভারে ন্যুব্জ। মাথার ওপর থাকা টিনের ছাউনিও এখন আর নিরাপদ নয়। বৃষ্টি নামলেই চুপচুপ করে পানি পড়ে ঘরের ভেতরে, ভিজে যায় বিছানা, কাপড় আর সেই সঙ্গে ভিজে যায় তাদের স্বপ্ন।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি গোলাপ মিয়া এখন শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে আক্রান্ত। কাজ করার মতো শক্তি নেই তার। একসময় রিকশা চালানো, মাটির কাজ করা কিংবা মৌসুমি ফল বিক্রি করে সংসার চালালেও এখন তিনি প্রায় কর্মক্ষমতাহীন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে গোলাপ মিয়া বলেন, ‘আমি রেলের জায়গায় থাকি, আমার শ্বাসকষ্ট, হার্টের সমস্যা। কোনো কাজ করতে পারি না, ৫ কেজি মাল নিয়ে হাটতে পারি না। দম বন্ধ হয়ে যায়। আমার ৪টা প্রতিবন্ধী মেয়ে, ওদের নিয়ে যে কী করি। মানুষের হায়াত মওতের কথা বলা যায় না আমার কিছু হলে ওদের কী হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানুষকে সাহায্য করতেছে আমার পরিবারকেও যদি সাহায্য করে তাহলে আমি একটু চলতে পারমু।’

মা ফিরোজা বেগম বলেন, ‘তারেক জিয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার একটা আবেদন—আমি ৪টা মেয়ে লইয়া চলতে পারি না। আমারে যদি সাহায্য করে তাহলে আমি ওদের নিয়ে চলতে পারমু।’

স্থানীয় বাসিন্দা খোদেজা খাতুন বলেন, ‘গোলাপ ভাই আগে সব কাজ করতে পারত আখ বেচত, পেয়ারা বেচত, বরই বেচত। এখন শ্বাসকষ্টের কারণে কিছুই করতে পারে না। তার ৪টা মেয়ে প্রতিবন্ধী একবার ভাবেন, তারা দুজন মারা গেলে মেয়েগুলোর কী হবে?’

এ বিষয়ে রায়পুরা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ‘তাদের বিষয়ে আমরা অবগত রয়েছি। সরকারিভাবে বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম রয়েছে। ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় দোকানপাট করে দেওয়া হচ্ছে, ৫০ হাজার টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’

এ ছাড়া জটিল রোগে আক্রান্তদেরও ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। গোলাপ মিয়ার পরিবার আবেদন করলে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

চার প্রতিবন্ধী কন্যাকে নিয়ে এই অসহায় দম্পতির জীবন এখন অনিশ্চয়তার দোলাচলে। সমাজ ও রাষ্ট্রের সামান্য সহানুভূতি ও সহায়তাই পারে তাদের জীবনে স্বস্তির পরশ বয়ে আনতে এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।


গাজীপুরে রেলক্রসিং দখলমুক্ত, জনমনে স্বস্তি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধ 

গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলক্রসিং এলাকায় আবারও উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে দখলমুক্ত করা হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে গাজীপুর সিটি করপোরেশন প্রশাসন ও রেলওয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে রেলক্রসিং ঘিরে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট, অস্থায়ী স্থাপনা ও হকারদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল, হকার ও অটোরিকশার বিশৃঙ্খলায় এ এলাকা নগরবাসীর জন্য এক বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে প্রকাশিত হওয়ার পর সিটি প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে এ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছে।

উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহেল হাসান, জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

অভিযান চলাকালে প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার বলেন, ‘গাজীপুরকে একটি পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব ‘গ্রীন সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এই উচ্ছেদ অভিযান একদিনের নয়-এটি চলমান প্রক্রিয়া।

তিনি আরও বলেন, ‘উচ্ছেদের পর যেন পুনরায় দখল না হয়, সে জন্য নিয়মিত তদারকি করা হবে। প্রতিদিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি দখল প্রতিরোধে আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে কোনোভাবেই অবৈধ দখল পুনরায় মাথাচাড়া দিতে না পারে এবং কোনো চাঁদাবাজির ঘটনা আমরা কঠোর হস্তে দমন দমন করব।’

একই সঙ্গে তিনি ব্যবসায়ীদের দিকটিও বিবেচনায় নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি দেখছি। আলোচনা ও পরামর্শের ভিত্তিতে ব্যবসায়ীদের জন্য স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে তারা সুশৃঙ্খল পরিবেশে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন।’

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহেল হাসান বলেন, ‘জয়দেবপুর রেলক্রসিং গাজীপুরের প্রাণকেন্দ্র-এখানে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করে। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর করতে আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করছি। এই উচ্ছেদ অভিযান নগর ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন শৃঙ্খলার সূচনা।’

তিনি আরও জানান, রেলক্রসিং এলাকা ও আশপাশকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার আওতায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, ফুটপাত সংস্কার এবং নাগরিক চলাচল সহজীকরণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

অভিযানের পর স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, দীর্ঘদিন পর রেলক্রসিং এলাকা কিছুটা স্বাভাবিক রূপ ফিরে পাচ্ছে। তবে তারা এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার দাবি জানান, যাতে পুনরায় দখলদাররা জায়গা দখল করতে না পারে।

অন্যদিকে উচ্ছেদ হওয়া ভাসমান ব্যবসায়ীরা জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া হঠাৎ উচ্ছেদে তারা আর্থিক সংকটে পড়বেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নগরকে দখলমুক্ত ও চলাচলযোগ্য রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে আইনানুগ উপায়ে পুনর্বাসনের মাধ্যমে একটি সুশৃঙ্খল নগর ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জয়দেবপুর রেলক্রসিং, যা একসময় গাজীপুরবাসীর ‘গলার কাঁটা’ হিসেবে পরিচিত ছিল, সেই এলাকাকে পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের এ ধারাবাহিক উদ্যোগ কতটা স্থায়ী সমাধান দিতে পারে-সেটিই এখন দেখার বিষয়।


১২ বছর ভাঙা সেতু, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল ৪০ হাজার মানুষের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

বরগুনার আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের সোনাখালী বাজার-সংলগ্ন সোনাখালী খালের ওপর নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ লোহার সেতু দীর্ঘ ১২ বছর ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। মাঝখানের অংশ ধসে যাওয়ায় স্থানীয়দের বসানো নড়বড়ে কাঠের পাটাতনের ওপর দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন অন্তত ছয়টি গ্রামের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষ।

সোমবার (৩০ মার্চ) সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর মাঝ বরাবর বড় একটি অংশ ভেঙে খালে পড়ে আছে। সেখানে অস্থায়ীভাবে কাঠের পাটাতন বসানো হলেও তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সেতুর উত্তর পাশও আংশিক ডেবে গেছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ, শিক্ষার্থী ও হালকা যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পারাপার করছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০০৭ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) লোহার কাঠামোর ওপর ঢালাই দিয়ে সেতুটি নির্মাণ করে। তবে ২০১৪ সালে সেতুর মাঝখান ভেঙে পড়ে একটি পণ্যবাহী ট্রলি খালে পড়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও সেতুটি সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল সোনাখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সোনাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য সোনাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গেরাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব সোনাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাহবুব আলম মোল্লা মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে।

সোনাখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মারিয়া বলেন, ‘প্রতিদিন ভয়ে ভয়ে সেতু পার হই। কখন যে ভেঙে পড়ে, সেই আশঙ্কা সবসময় থাকে। একই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র রাকিব জানায়, বিকল্প রাস্তা না থাকায় বাধ্য হয়েই এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ব্যবহার করতে হচ্ছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা মো. কবির খান বলেন, ‘সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে কয়েক হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে আছে। দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।’

আঠারোগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রিপন বলেন, ‘সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পরপরই উপজেলা প্রকৌশল বিভাগকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা নিজেরাই কাঠের পাটাতন বসিয়েছে।’

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস বলেন, ‘সেতুটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। অর্থ বরাদ্দ না থাকায় সংস্কার সম্ভব হয়নি। সেখানে একটি নতুন গার্ডার সেতু নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।’


কেশবপুরে বিনামূল্যে বীজ-সার পেয়ে স্বস্তিতে কৃষকরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় খরিপ মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন মুগ, তিল, পাট ও উফশী আউশ ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কেশবপুরে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কেশবপুর, যশোর। কর্মসূচির আওতায় মোট ১,৩৯০ জন কৃষকের মাঝে বিভিন্ন ফসলের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে পাট বীজ পেয়েছেন ৬০০ জন, মুগ বীজ ৩০ জন, তিল বীজ ৬০ জন এবং উফশী আউশ ধানের বীজ পেয়েছেন ৭০০ জন কৃষক। এই কর্মসূচি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। বিনামূল্যে উন্নত মানের বীজ ও সার সরবরাহের ফলে কৃষকরা সহজেই খরিপ মৌসুমে আবাদ সম্প্রসারণে উৎসাহিত হবেন এবং ফসলের উৎপাদনও বাড়বে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচি গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করার পাশাপাশি কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহী করে তোলে, যা দেশের সামগ্রিক কৃষি উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অলোকেশ কুমার সরকার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনার রশীদ বুলবুল, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন বিশ্বাস, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পৌর শাখার আমীর প্রভাষক মো. জাকির হোসেন এবং এনসিপির সমন্বয়ক সম্রাট হোসেন প্রমুখ।


সংবাদপত্রের ফেরিওয়ালা, কোনো ঋতুতেই দমে না যাওয়া এক সংগ্রামী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ভোরবেলা যখন চারপাশ নিস্তব্ধ থাকে, তখন থেকেই শুরু হয় তার কর্মযজ্ঞ। রোদ কিংবা হাড়কাঁপানো শীত কোনো কিছুই তাকে দমাতে পারে না। তিনি ফরহাদ হোসেন, ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার এক সংবাদপত্র বিক্রেতা। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এভাবেই মানুষের দোরগোড়ায় খবর পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি।

ফরহাদ হোসেনের বাড়ি উপজেলা সদর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে রামপুর ইউনিয়নের শেখ বাজার এলাকায়। প্রতিদিন ফজরের নামাজ শেষ করেই তিনি ছুটে চলেন দরিরামপুর বাসস্ট্যান্ডের দিকে। ঢাকা থেকে আসা বাসের জন্য চলে দীর্ঘ অপেক্ষা। বাস এলে পত্রিকা নামিয়ে একে একে প্যাকেট খুলে তা সাজিয়ে নেন। এরপর শুরু হয় তাঁর মূল কর্মব্যস্ততা। সকাল সাতটা বাজতে না বাজতেই গ্রাহকদের ফোনের ভিড় জমে। "পত্রিকা কখন আসবে?" এমন সব প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতেই তিনি পায়ে হেঁটে ছুটে চলেন পৌর শহরের বিভিন্ন অফিস ও বাসা বাড়িতে। যান্ত্রিক যানবাহনের যুগেও মূলত পায়ে হেঁটেই তিনি পত্রিকা বিলি করেন।

পত্রিকা শিল্পের বর্তমান নাজুক অবস্থার কথা তুলে ধরে স্থানীয় পত্রিকা এজেন্ট বাদশা মিয়া জানান, "এক সময় পত্রিকা বিক্রি হতো প্রচুর। কিন্তু এখন অনলাইনের প্রভাবে মানুষ মুঠোফোনেই খবর পড়ে নেয়। ফলে আগের তুলনায় গ্রাহক অনেক কমে গেছে। একদিকে বিক্রি কম, অন্যদিকে আমাদের কমিশনও এখন অনেক নগণ্য। ফলে এই পেশার সাথে জড়িতদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।" ত্রিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুররহমান নোমান বলেন,"ফরহাদ হোসেনের মতো সংবাদপত্রের হকাররা মূলত আমাদের সংবাদ শিল্পের প্রাণভোমরা। রোদ-বৃষ্টি বা কনকনে শীত উপেক্ষা করে প্রতিদিন মানুষের দুয়ারে খবর পৌঁছে দেওয়া এক অন্যরকম লড়াই। আধুনিক প্রযুক্তির দাপটে পত্রিকা পড়ার অভ্যাস কমলেও ফরহাদদের গুরুত্ব কমেনি। ত্রিশালের সিনিয়র সাংবাদিক মোখলেছুর রহমান সবুজ বলেন, দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতির বাজারে তার সামান্য লাভে জীবন চালানো সত্যিই কষ্টসাধ্য। এই পেশার মানুষদের প্রতি সমাজের বিত্তবান ও প্রশাসনের সুদৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন যাতে তাদের এই নিরলস সেবা অব্যাহত থাকে। এই পেশায় টিকে থাকাটা এখন ফরহাদ হোসেনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পাঁচ সদস্যের সংসার চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। মাস শেষে যে সামান্য টাকা আসে, তাতেই কোনোমতে দিন পার করেন তিনি। তবুও সংবাদপত্রের প্রতি এক গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা থেকে তিনি এই কাজ আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। অন্যান্য পেশার মানুষেরা ঈদে বোনাস বা বাড়তি আয়ের সুযোগ পেলেও ফরহাদের কপালে তা জোটে না। পত্রিকা বিলি করে যাদের জ্ঞানপিপাসা মেটান, তাদের কাছ থেকে ঈদ সালামি বা বিশেষ কোনো সহযোগিতাও তেমন একটা মেলে না তাঁর। তবুও তার কোনো অভিযোগ নেই, হাসিমুখেই বিলিয়ে যান প্রতিদিনের টাটকা খবর।


তেল সংকট: নওগাঁয় কমেছে মোটরসাইকেল বিক্রি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরাইল সংঘাত দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলেছে। দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে নওগাঁর মোটরসাইকেল বিক্রিতেও। আগের মতো নেই কোন বেচাকেনা। চলমান যুদ্ধের ফলে জেলায় মোটরসাইকেল বিক্রি কমে এসেছে প্রায় কয়েকগুন। এছাড়া তেল সংকটের কারণে অনেকেই কিনছেন না এই মূহুর্তে মোটরসাইকেল।

মোটরসাইকেল বিক্রেতাদের দাবি, যুদ্ধ পরিস্থিতির আগে দিনে ৭-৮টি মোটরসাইকেল বিক্রি হলেও এখন তা নেমে এসেছে শূন্যে। সারাদেশে তেলের সরবরাহ ঠিক না থাকায় সেভাবে বিক্রি হচ্ছে না কোন মোটরসাইকেল। আবার কিছু পাম্পে মোটরসাইকেলের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া তেল দিচ্ছে না। যার কারণে অনেকেই সার্ভিসিংয়ের জন্য গাড়ি বের করছেন না। চলমান এই পরিস্থিতিতে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) নওগাঁ শহরের বিভিন্ন মোটরসাইকেল শোরুম ঘুরে দেখা যায়, শোরুমগুলোতে নেই কোন ক্রেতা। আবার সার্ভিসিং সেন্টারগুলোতেও সেভাবে আসছে না কোন মোটরসাইকেল। ফলে অবসর সময় পার করছেন এখানে কর্মরতরা।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিএ) নওগাঁ কার্যালয়ের তথ্য মতে, জেলায় মোট নিবন্ধনকৃত মোটরসাইকেল রয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার। এছাড়া আরও প্রায় ১ লাখ মোটরসাইকেল অনিবন্ধিত রয়েছে। জেলার ১১ টি উপজেলায় প্রায় শতাধিক মোটরসাইকেল বিক্রয়ের দোকান রয়েছে।

নওগাঁর তালতলী এলাকার স্কুল শিক্ষক নাসির হায়দার বলেন, দীর্ঘদিন টাকা জমিয়ে রেখে ঈদের আগে একটি মোটরসাইকেল কিনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন যে পরিস্থিতি তাতে আর মোটরসাইকেল কেনার সাহস পাচ্ছি না। তেলের পাম্প গুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখে মোটরসাইকেল কেনার চিন্তা আপাতত স্থগিত রেখেছি। জানিনা এ পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে।

হিরো মোটরসাইকেলের ডিলার ও নওগাঁ পল্লী এন্টার প্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ঈদের তৃতীয় দিনের পর থেকে একজন কাস্টমার ও দোকানে আসেনি। চলমান পরিস্থিতির আগে দিনে ৫-৭টা মোটরসাইকেল বিক্রি হলেও এখন কোন মোটরসাইকেল বিক্রি নেই। অন্যান্য বছর ঈদে ৩০০-৪০০ পিস মোটরসাইকেল বিক্রি হয়। কিন্তু এ বছর তেলের সরবরাহ ঠিক না থাকায় মাত্র ১০০টি মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে। আমার এখানে ২৮ জন লোক কর্মরত রয়েছে। শোরুম পরিচালনা থেকে তাদের বেতনসহ প্রতিদিন গড়ে ৪০-৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়ে থাকে। এখন কোন মোটরসাইকেল বিক্রি নাই। খরচ উঠানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

নওগাঁ আরিস মোটরস এর স্বত্বাধিকারী মোতাহার হোসেন বলেন, আমরা এসিআই ইয়ামাহা মোটরসাইকেল বিক্রি করি। ৯ বছরের ব্যবসায় জীবনে এ বছর সবচেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি। এবার ঈদে টার্গেট ছিল ২৫০ টা মোটরসাইকেল বিক্রি হবে। কিন্তু চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মাত্র ১১০ টা মোটরসাইকেল বিক্রি করতে পেরেছি। সার্ভিসিং এর জন্য কোন গাড়ি আসছে না। সার্ভিসিং এর জন্য কাউকে ফোন দেওয়া হলে বলে তেল কিনে দেন আমরা গাড়ি নিয়ে যাচ্ছি। পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের কারণে অনেক মোটরসাইকেল চালক মোটরসাইকেল বাড়ি থেকে বের করছেন না। এমন অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের মোটরসাইকেল বিক্রেতাদের চরম লোকসানের মধ্যে পড়তে হবে।

নওগাঁ টিভিএস বাইক ওয়ার্ল্ডের সেলস এক্সিকিউটিভ সাদনান আনসারী বলেন, চলমান এই পরিস্থিতির পর থেকে সার্ভিসিংয়ে কোন গাড়িই আসছে না। আগে দিনে ২৫-৩০ টা গাড়ি আসলেও এখন দিনে এক থেকে দুইটার বেশি আসেনা। মানুষ ঠিকমতো তেল পাচ্ছে না, গাড়ি নিয়ে কিভাবে আসবে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিএ) নওগাঁর মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বলেন,আমরা সচরাচর তিন মাস পরপর ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য পরীক্ষা নিয়ে থাকি। আমরা একসাথে ২০০-৩০০ জনের ড্রাইভিংয়ের পরীক্ষা নেই। বিভিন্ন জেলাতে ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন ছাড়া তেল না দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ড্রাইভিং লাইসেন্সে এখনো সেভাবে কোন চাপ লক্ষ্য করা যায়নি। তবে মাস খানেক গেলে সেটি হয়তো বুঝা যাবে।


আমির হামজার নামে শত কোটি টাকার মানহানি মামলা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী বলে মন্তব্য করার অভিযোগে কুষ্টিয়ার সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মুফতি আমির হামজার নামে শত কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতে জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. এস এম নাজমুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় শত কোটি টাকার মানহানির অভিযোগটি আদালতের বিচারক সুমন কুমার কর্মকার মামলাটি আমলে নিয়ে আদেশের অপেক্ষায় রেখেছেন।

মামলার বাদী অ্যাড. এস এম নাজমুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, মুফতি আমির হামজা বিদ্যুৎমন্ত্রীকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে তার সম্মানহানি করেছেন। তাই আমি আদালতে মানহানির মামলা করেছি।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় জামে মসজিদে জুম্মার নামাজের খুতবা-পূর্ব আলোচনায় কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ‘নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী’ বলে মন্তব্য করেন।


লামায় স্কুল কলেজ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কারিতাস―র বৃক্ষ রোপন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি

বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় পরিবেশ দূষণ ও বৃক্ষ রোপন সম্পর্কে বিদ্যালয়- ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে সচেসনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গাছের চারা রোপন শুরু করেছে বেসরকারি সংস্থা কারিতাস বাংলাদেশ। সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে উপজেলার লামা সদর স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে একটি জলপাই গাছের চারা রোপনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির উদ্ভোধন করা হয়।

এ উপলক্ষ্যে স্কুল এন্ড কলেজ মিলনায়তনে অর্ধশত শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, লামা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শহীদুল ইসলাম। স্কুল ও কলেজের প্রধান শিক্ষক রিজওয়ান'র সভাপতিত্বে আলোচনায় উপ- সহকারী প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মুমিনুল হক, প্রকল্পের উপজেলা ম্যানেজার জেভার্স ত্রিপুরা, সহকারী শিক্ষক সাগরিকা ও সাংবাদিক মো. নুরুল করিম আরমান বিশেষ অতিথি ছিলেন।

এতে অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন, শিক্ষার্থী মনিষা দে ও আবরার মুহাম্মদ উল্লাহ। এর আগে রুপসীপাড়া ইউনিয়নের উত্তর দরদরী নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠেও গাছের চারা রোপন করা হয়। এ উপলক্ষ্যে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অংছিংহ্লা মার্মার সভাপতিত্বে দূষণ ও বৃক্ষ রোপন সম্পর্কে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এক স্কুলে ২০ টি করে জলপাই ও আরেক স্কুলে ২০ টি করে কাঠ বাদাম গাছের চারা রোপন করা হয় বলে জানান, প্রকল্পের ম্যানেজার জেভার্স ত্রিপুরা। তিনি বলেন, একইভাবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও এ বৃক্ষ রোপনের পরিকল্পনা আছে।

আলোচনায় বক্তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তারা বলেন, পরিবেশ দূষণ রোধ ও ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ অপরিহার্য। গাছ বাতাস থেকে বিষাক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড, ধূলিকণা ও ক্ষতিকারক গ্যাস শোষণ করে অক্সিজেন সরবরাহ করে, যা বায়ু বিশুদ্ধ রাখে। তায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে, তাপমাত্রা কমাতে এবং মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য প্রত্যেককে বেশি করে গাছ লাগানোর আহবান জানান বক্তারা।


বাসভবনের বাথরুমে পড়ে গুরুতর আহত চট্টগ্রামের এসপি, হেলিকপ্টারে আনা হলো ঢাকায়

আপডেটেড ৩০ মার্চ, ২০২৬ ১৭:১৪
চট্রগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) নাজির আহমেদ খান তাঁর সরকারি বাসভবনের বাথরুমে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ সোমবার সকালে নগরের সিআরবি এলাকায় অবস্থিত এসপির বাংলো বাড়িতে এই ঘটনা ঘটেছে। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য এসপিকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, আজ বেলা দুইটার দিকে এসপিকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (নিটোর) ভর্তি করা হয়।

অতিরিক্ত চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অভিযান) সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, সকালে বাথরুমে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন এসপি। পরে বাসার কর্মচারীরা তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর বাম পা মারাত্মকভাবে ভেঙে গেছে।

সিরাজুল ইসলাম আরও জানান, হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় রেফার করেন। এরপর তাঁকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় পাঠানো হয়।


বেড়াতে গিয়ে পানিতে ডুবে যমজ ভাইয়ের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে যমজ দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। উপজেলার জিরুইন গ্রামে রবিবার (২৯ মার্চ) এ ঘটনা ঘটে।

মৃত শিশুরা হলো পার্শ্ববর্তী বুড়িচং উপজেলার গিলাতলা গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে আলী ও অলী, তাদের বয়স চার বছর।

স্থানীয়রা জানায়, কয়েক দিন আগে আলী ও অলী তাদের মায়ের সঙ্গে নানাবাড়ি জিরুইন গ্রামে বেড়াতে যায়। রবিবার বিকেলে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে সবার অগোচরে পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায় তারা। পরে পরিবারের সদস্যরা শিশুদের দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।একপর্যায়ে পুকুরে তাদের ভাসতে দেখে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত টমাস বড়ুয়া বলেন, এ ঘটনায় এখন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কাভার্ডভ্যানের পেছনে ট্রাকের ধাক্কা, চালক নিহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফেনী জেলা প্রতিনিধি

ফেনীতে কাভার্ডভ্যানের পেছনে মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ট্রাকচালক নিহত হয়েছেন। রোববার (২৯ মার্চ) দিবাগত রাত ২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লালপোল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ট্রাকের মালিক বগুড়া সদর উপজেলার বুজুরুক মাজিরা গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে জিল্লুর হোসেন (৪৫)। নিহত চালকের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে আসা ঢাকাগামী একটি কাভার্ডভ্যানের পেছনে মালবাহী ট্রাকটি সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ট্রাকচালকের মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় ট্রাকের মালিক জিল্লুর হোসেনকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আহত জিল্লুরের জামাতা ইস্রাফিল হাসান বলেন, আমার শ্বশুর চট্টগ্রাম থেকে সরকারি চাল নিয়ে ঢাকার তেজগাঁও যাচ্ছিলেন। গাড়ির চালকের নাম জানা নেই। তবে গাড়িটি আমার শ্বশুরের মালিকানাধীন। উনার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত ঢাকায় আনা হয়েছে।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত ডা. রায়হান হোসেন বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় জিল্লুর হোসেনকে হাসপাতালে আনা হয়। তার ডান পায়ের একাধিক হাড় ভেঙে গেছে এবং মাথাসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে গুরুতর আঘাত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

মহিপাল হাইওয়ে থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মাজেদ বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। ট্রাকচালক ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত ব্যক্তিকে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। পরে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি মহাসড়ক থেকে সরিয়ে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।


শাহজালালে বিমানের শৌচাগারে মিলল ১৮ কেজি স্বর্ণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১৮ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি ৩৪৮-এর কার্গো কম্পার্টমেন্টের শৌচাগারের প্যানেলের ভেতর থেকে ১৫৩টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। এগুলোর মোট ওজন ১৭ কেজি ৯০১ গ্রাম এবং বাজার মূল্য প্রায় ৩৮ কোটি টাকা।

রোববার (২৯ মার্চ) বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শনিবার রাত ৯টায় দুবাই থেকে ছেড়ে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করে। গোপন খবরের ভিত্তিতে বিমানবন্দর গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থা যৌথভাবে ফ্লাইটে তল্লাশি চালায়। এক পর্যায়ে বিমানের কার্গো হোল্ডের একটি শৌচাগারের প্যানেলের ভেতর থেকে ১৫৩টি স্বর্ণের বার জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে শনাক্ত করা যায়নি।

জানা গেছে, বিমানের শৌচাগারের স্প্যানের ভেতর স্বর্ণ বা কোনো ধাতব জাতীয় বস্তু রাখতে হলে স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে স্প্যানের নাটবল্টু খুলতে হয়।

সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শৌচারগারের নাটবল্টু খোলা কোনো যাত্রীর পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ একজন যাত্রী বিমানবন্দর প্রবেশের সময় নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন তল্লাশি করা হয়। এছাড়া বিমানে ওঠার আগে সর্বশেষ তল্লাশিতে তার হাত লাগেজে, শরীরে কোনো আগ্নেয়স্ত্র, দিয়াশলাই, কাঁচি, স্ক্রু ড্রাইভার, নেইল কাটার ও চাকু জাতীয় বস্তু পাওয়া গেলে তা জব্দ করে রাখেন বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাকর্মীরা। ফলে যাত্রীর পক্ষে বিমানের টয়েলটের স্প্যান খোলা সম্ভব নয়।

গোয়েন্দা এ কর্মকর্তা আরও জানান, জব্দ করা ১৮ কেজি স্বর্ণ পাচারের সঙ্গে বিমানের কোনো না কোনো কর্মী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। এ বিষয়ে সঠিকভাবে তদন্ত হলে শনাক্ত হবে এর নেপথ্যে থাকা চক্র।

এ ব্যাপারে ঢাকা কাস্টম হাউসের জয়েন্ট কমিশনার (জেসি) কামরুল হাসান সমকালকে জানান, বিমানবন্দর গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ অভিযানে এসব স্বর্ণবার জব্দ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত জড়িত কোনো ব্যক্তিকে শনাক্ত করা যায়নি।

বিমানবন্দর থানার ওসি মোবারক হোসেন জানান, ৩৮ কোটি টাকার স্বর্ণ জব্দের ঘটনায় থানায় মামলা হলে তদন্তে পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রকে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এখনো কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়নি। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কেউ থানায় যোগাযোগও করেননি।

ঢাকা কাস্টম হাউসের অপর এক কর্মকর্তা জানান, জব্দ করা স্বর্ণের বারগুলো নিয়ম অনুযায়ী বিমানবন্দর কাস্টমসের গুদামে জমা রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। বিমানবন্দর কর্তৃপকক্ষের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চোরাচালান প্রতিরোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।


banner close