সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

বাগেরহাট যুবলীগের সভাপতি নাসির, সম্পাদক জেমস

বাগেরহাট জেলা যুবলীগের নতুন সভাপতি সরদার নাসির উদ্দিন (বাঁয়ে) ও সাধারণ সম্পাদক মীর জায়েসী আশরাফি জেমস। ছবি: দৈনিক বাংলা
প্রতিনিধি, বাগেরহাট
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, বাগেরহাট

সরদার নাসির উদ্দিনকে সভাপতি ও মীর জায়েসী আশরাফি জেমসকে সাধারণ সম্পাদক করে বাগেরহাট জেলা যুবলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা হয়েছে। বুধবার রাতে বাগেরহাট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা যুবলীগের সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন থেকে শীর্ষ দুই পদের নাম ঘোষণা করা হয়। এর মধ্য দিয়ে ১৬ বছর পরে পূর্ণাঙ্গ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পেল বাগেরহাট জেলা যুবলীগ।

এ সময় বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিলসহ যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা এবং ২৭৪ জন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণার পর জানানো হয়, তারা দুজন আগামী একমাসের মধ্যে ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করবেন। জেলা যুবলীগের এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ২০২৪ সালে অনুষ্ঠেয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিরোধী দলের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখবেন বলে জানান নেতা-কর্মীরা।

নবনির্বাচিত সভাপতি সরদার নাসির উদ্দিন বাগেরহাট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সবাপতি ও বর্তমান বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে মীর জায়েসী আশরাফি জেমস বাগেরহাট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

এর আগে ২০০৬ সালে বাগেরহাট জেলা যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তখন খান মুজিবুর রহমানকে সভাপতি ও শামীম আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। ২০১২ সালে সেই কমিটি ভেঙে দেয়া হয়। এর চার বছর পর সরদার নাসির উদ্দিনকে আহ্বায়ক করে ২৪ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তারও অর্ধ যুগ পর সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি পেল বাগেরহাট জেলা যুবলীগ।

যুবলীগের সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন। ছবি: দৈনিক বাংলা

এর আগে জেলা যুবলীগের এই সম্মেলনে প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয় হয়। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু টানেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ দেশে উন্নয়নের জোয়ার বয়ে যায়। আর বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে হাওয়া ভবন করে। লুটপাট আর দুর্নীতি করে দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করে। তারা মোংলা বন্দর বন্ধ করে দেয়। শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় এসে বন্ধ করে দেয়া সেই মোংলা বন্দর চালু করে লাভজনক বন্দরে রূপান্তর করে।

স্থানীয় এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আদর্শকে বুকে লালন করি। আমরা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ মুজিব আর্দশের সৈনিকেরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে বিএনপি-জামায়াতকে রাজপথে নামতে পারবে না। ওরা কোনোদিনই ক্ষমতায় আসতে পারবে না।’ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে যুবলীগসহ দলীয় নেতাদের এখন থেকেই ঘরে-ঘরে গণসংযোগ করার আহ্বান জানান শেখ হেলাল।

সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, সময় এসেছে নিজেদের পরিবর্তন করার। ত্যাগী নেতা কর্মীদের মূল্যায়ন করার। চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজদের দল থেকে বহিষ্কার করার সময় হয়েছে। মানুষকে অত্যাচার-নিপীড়ন করা যাবে না। বরং কোথাও অত্যাচার-অবিচার দেখলে তার প্রতিবাদ করতে হবে। চাঁদাবাজ-টেন্ডারবাজদের স্থান যুবলীগে হবে না। কোন সাংগঠনিক পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যাবহার করা যাবে না। সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের সংগঠন গড়ে তুলতে হবে।

যুবলীগের সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখছেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ। ছবি: দৈনিক বাংলা

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের তৃতীয় প্রজন্ম বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময় বলেন, আমার ভাই শেখ ফজলে শামস পরশ যুবলীগ চেয়ারম্যান হওয়ায় যুব ও তরুণ সমাজ আজ উদ্বেলিত। যুবলীগ আজ অতীতের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। বিএনপি-জামায়াত এখন পেছনের দরজা দিয়ে অগণতান্ত্রিকভাবে আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাত করতে চায়। ওদের অগণতান্ত্রিক তৎপরতা রুখে দিতে যুব সমাজকে রাজপথে তৎপর থাকতে হবে।

সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল। বাগেরহাট জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সরদার নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের দুই কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক ও এস এম কামাল হোসেন, খুলনা সদরের সংসদ সদস্য শেখ সালাউদ্দিন, বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আমিরুল আলম মিলন, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সোহেল উদ্দিন, ফরিদপুরের সংসদ সদস্য ও যুবলীগ নেতা মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন, বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামরুজ্জামান টুকু ও সাধারণ সম্পাদক ভূইয়া হেমায়েত উদ্দিন, বাগেরহাট সদরের সাবেক সংসদ সদস্য মীর শওকাত আলী বাদশাসহ যুবলীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।

দীর্ঘ ১৬ বছর পর যুবলীগের এই সম্মেলন ঘিরে ক্ষমতাসীন দলের যুবসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। সম্মেলন ঘিরে সকালে গোটা শহর মিছিলের শহরে পরিণত হয়। বিভিন্ন উপজেলা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা সম্মেলনস্থলে জড়ো হন।

বিষয়:

ক্রেতা সেজে বাঘের চামড়া উদ্ধার করল র‌্যাব

বাঘের চামড়ার প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২০:৪৩
খুলনা ব্যুরো

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ক্রেতা সেজে সুন্দরবনের একটি বাঘের চামড়া উদ্ধার করেছে ‌র‌্যাব-৬। সোমবার বিকালে উপজেলার হরিনগর বাজারসংলগ্ন ধলপাড়া গ্রামের শেখ হাফিজুর রহমানের বাড়ি থেকে চামড়াটি উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-৬-এর সাতক্ষীরা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর গালিব হোসেন সোমবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে বাঘের চামড়া উদ্ধার করা হয়েছে। যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষে র‌্যাব-৬-এর খুলনার সদর দপ্তর থেকে সংবাদ সম্মেলন করে সব তথ্য জাননো হবে।’

আটক তিনজন হলেন ধলপাড়ার হাফিজুর রহমান (৪৩), শেখ আসিফ হাসান (২৬) ও শেখ ইসমাইল হোসেন (২৩)। তারা বর্তমানে র‌্যাব-৬-এর হেফাজতে রয়েছেন।

র‌্যাব-৬-এর একটি সূত্র জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যেমে তারা জানতে পেরেছিল, হাফিজুর রহমানের কাছে বাঘের চামড়া রয়েছে এবং চামড়াটি তিনি বিক্রির চেষ্টা করছেন। পরে র‌্যাবের গোয়েন্দা সদস্যরা ক্রেতা সেজে চামড়াটি কিনতে ইচ্ছুক হন। তাদের মধ্যে ৮০ লাখ টাকার বিনিময়ে চামড়া বিনিয়ের চুক্তি হয়। সোমবার বিকেলে ওই দলের এক তিন সদস্যকে আটক করে র‌্যাব। পরে তাদের সঙ্গে নিয়ে বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে বাঘের চামড়াটি উদ্ধার করা হয়।

বিষয়:

গমের ট্রাকে বালু ও পাথরভর্তি বস্তা

ট্রাকে পাওয়া বালু ও পাথরভর্তি বস্তাগুলো। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গায় খাদ্যগুদামে গমের চালান নিয়ে আসা ট্রাকে মিলেছে বালু ও পাথরভর্তি ২৮টি বস্তা। গত রোববার দুপুরে জেলা খাদ্যগুদামে ট্রাক থেকে গম নামানো সময় বালু ও পাথরগুলো পাওয়া যায়। তবে ট্রাকে পাথরগুলো কীভাবে এল, তা জানাতে পারছেন না চালক ও সহকারী।

এদিকে ঘটনা তদন্তে আলমডাঙ্গা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল হামিদকে প্রধান করে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনার সরকার এন্টারপ্রাইজ, জোনাকি এন্টারপ্রাইজ ও সানরাইজ এন্টারপ্রাইজের পরিবহন ঠিকাদারের মাধ্যমে চুক্তি অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গা খাদ্যগুদামে মোট ৩০০ টন গম পাঠানোর কথা ছিল। গত শুক্রবার গমের প্রথম চালানে ১০০ মেট্রিক টন আসে। এরপর রোববার ভোরে দ্বিতীয় চালানের ১০০ মেট্রিক টন গম চুয়াডাঙ্গা খাদ্যগুদামে আসে। পরে গমের বস্তা নামানোর সময় একটি ট্রাকে বালুভর্তি কয়েকটি বস্তা পাওয়া যায়। পরে সবগুলো ট্রাকে তল্লাশি করে সন্ধান মেলে বালু ও পাথরভর্তি ২৮টি বস্তার।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চুয়াডাঙ্গা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, সরকারি বিভিন্ন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৩০০ টন গম চুয়াডাঙ্গায় বরাদ্দ দেয়া হয়। এ চালানে ১০০ টন গম নিয়ে খুলনা থেকে ভোরে ৬টি ট্রাক এসে পৌঁছায় চুয়াডাঙ্গা খাদ্যগুদামে। পরে দুপুরে ট্রাক থেকে গমের বস্তা নামানোর সময় প্রথমে একটি ট্রাকে পাওয়া যায় ৬টি বালুর বস্তা। বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় প্রতিটি ট্রাক তল্লাশি করে ২৮টি বালু ও পাথরভর্তি বস্তাসহ চারটি বড় পাথরের টুকরা পাওয়া যায়।

নজরুল ইসলাম জানান, ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাক থেকে গম চুরি করে ওজন ঠিক রাখতে বালু আর পাথর দিয়ে তা সমন্বয় করার চেষ্টা করা হয়েছে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক একেএম শহীদুল ইসলাম জানান, খুলনার ৪ নম্বর ঘাট থেকে ট্রাকগুলোতে গম লোড হয়েছিল। সেখান থেকে বালুর বস্তা ট্রাকে তোলার কোনো সুযোগ নেই। রাস্তার মধ্যে এমন কোনো কারসাজি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছি। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। আগামী তিন কর্ম দিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে গম নিয়ে আসার পর রাস্তায় কোনো জায়গায় মালামাল ওঠানো এবং নামানো হয়নি বলে দাবি করছে ট্রাকটির চালক রাব্বী হোসেন ও সহকারী মেহেদী হাসান। তারা বলছেন, খুলনা থেকে গমভর্তি ট্রাক নিয়ে সরাসরি চুয়াডাঙ্গায় এসেছেন। কীভাবে বালু ও পাথরভর্তি বস্তা ট্রাকে রাখা হয়েছে, তারা বলতে পারছেন না।


বিদ্যুৎ অফিসে ঝুলছিল নিরাপত্তা প্রহরীর দেহ

আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৪:১৭
প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর কামারখন্দ সাব-জোনাল অফিস থেকে আব্দুল আলিম (৪৯) নামে এক নিরাপত্তা প্রহরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল পূর্ব বাজারের পল্লী বিদ্যুতের অফিস থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত আব্দুল আলিম বগুড়া জেলা শহরের ঠনঠনিয়া এলাকার মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে।

সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর কামারখন্দ সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) কাজী জসিম উদ্দিন জানান, রাতে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন আব্দুল আলিম। সকালে অফিসের নিচ তলার মুদি দোকানদার অফিসের ভেতরে আব্দুল আলিমের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে আমাদের জানান। পরে পুলিশে খবর দিলে তারা মরদেহ উদ্ধার করে।

কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরনবী প্রধান জানান, কামারখন্দ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের বিলিং শাখা থেকে নিরাপত্তা প্রহরী আব্দুল আলিমের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি কোনো কারণে আত্মহত্যা করেছেন। তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

বিষয়:

মধ্যরাতে সাঁতরে নদী পার হতে গিয়ে যুবক নিখোঁজ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৪:২৫
প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম

বিয়ে বাড়ি থেকে কনে নিয়ে ফেরার পথে বন্ধুদের সঙ্গে সাঁতরে নদী পার হওয়ার বাজি ধরেন বাবুল (২২) মিয়া। এরপর নদীতে ঝাঁপ দিয়ে স্বাভাবিকভাবে কিছুদূর সাঁতরে আসেন তিনি। তবে তীব্র স্রোত থাকায় নিজেকে ধরে রাখতে না পেরে তলিয়ে যান পানিতে। এ ঘটনার প্রায় ১১ ঘণ্টার পর হলেও এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুরের দুধকুমার নদের খেয়া পারাপারের শহিদুলের ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বাবুল মিয়া উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের মাওলানা পাড়ার গ্রামের আনিস আলীর ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানায়, পাইকেরছড়া মাওলানা পাড়ার মোজাম্মেল হকের ছেলে হাসেম আলীর সঙ্গে তিলাই ইউনিয়নের খোঁচা বাড়ির চর এলাকার মৃত হযরত আলী মেয়ের বিয়ে হয়। কনের বাড়িতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নৌকায় করে রোববার রাত ১২টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে সাঁতরে নদী পার হওয়া নিয়ে বাবুল তার বন্ধুদের সঙ্গে ৫০০ টাকা বাজি ধরেন। এরপর নদীতে ঝাঁপ দিয়ে কিছুদূর সাঁতরে এলে স্রোতের তোড়ে পানিতে তলিয়ে যান তিনি। এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, সকালে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়েছে। রংপুর থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এলে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হবে।

বিষয়:

মধ্যরাতে আগুনে পুড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু

আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৪:৩৩
প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলের বাসাইলে একটি বাজারে আগুন লেগে সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম (৬০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ সময় চারটি দোকানঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গত রোববার মধ্যরাতে উপজেলার আইসড়া বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম আইসড়া গ্রামের মৃত সৈয়দ আনোয়ার হোসেনের ছেলে। তিনি বাজারে টেইলার্সের দোকানি ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৩টার দিকে আইসড়া বাজারে হঠাৎ একটি দোকানে আগুন লাগে। পরে দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। এর মধ্যে চারটি দোকানে আগুনে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হলে, প্রায় দুই ঘণ্টা পর তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে এর আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় টেইলার্সের দোকানের ভেতরে থাকা মঞ্জুরুল ইসলামের মৃত্যু হয়। আগুনে চারটি দোকানের সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুল সরকার বলেন, দোকানে ঘুমিয়ে ছিলেন মঞ্জুরুল। আগুন লাগলে সে দোকান থেকে বের হতে পারেনি। পরে পুড়ে মারা যান। এ ছাড়া চারটি দোকানের মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

বাসাইল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মাজহারুল ইসলাম বলেন, টেইলার্সের দোকানে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। ধারণা করা হচ্ছে, টেইলার্সের দোকানে থাকা ব্যক্তিটি আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় চারটি দোকান ঘর পুড়ে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিষয়:

বাবাকে খুন করে থানায় হাজির ছেলে

গোলাম আজম।
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৪:৩৪
প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁও পৌর শহরে ছেলের ছুরিকাঘাতে বাবা খুন হয়েছেন। রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে শহরের শান্তিনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বাবা ফজলে আলমকে (৫৮) খুনের পর রাতেই থানায় গিয়ে স্বীকারোক্তি দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন গোলাম আজম। (২৮)।

ওমর আজম একটি সফটওয়্যার কোম্পানিতে চাকরি করতেন। পরে চাকরি ছেড়ে দেন। নিহত ফজলে আলম কাঠের ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি স’ মিলের মালিক ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক নির্মোল রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, নিজ বাড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে। তবে কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা এখন বলা যাচ্ছে না। মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনা তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

বিষয়:

ঘুমের মধ্যে আগুনে পুড়ে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

ফাইল ছবি
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৪:৩৫
প্রতিনিধি, পিরোজপুর

পিরোজপুরের সদর উপজেলায় আগুনে পুড়ে সোহেল হাওলাদার নামে এক মাছ ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোরে পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের ভাইজোড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সোহেল (২৮) ওই এলাকার নজরুল ইসলাম হাওলাদারের ছেলে।

নিহতের বড় ভাই নাসির উদ্দিন বলেন, সোহেলের ঘরে আগুন দেখতে পেয়ে ভোরে আমার স্ত্রী ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। পরে চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা এসে আগুন নিভানোর চেষ্টা করেন। তবে ঘরে ঘুমিয়ে রয়েছে সোহেল। এ সময় তাকে উদ্ধারে বেশ কয়েকবার ঘরে ঢুকার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিভালে ঘর থেকে সোহেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পিরোজপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাব-অফিসার আব্দুর রশিদ হক জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। কিন্তু ততক্ষণে ঘরে ঘুমিয়ে থাকা একজনের মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রান্নাঘরের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত।

বিষয়:

এমপি মোছলেম উদ্দীন মারা গেছেন

মোছলেম উদ্দিন আহমদ
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৫:৫৬
চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোছলেম উদ্দিন আহমদ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)। রোববার দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন ছিলেন এই প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা।

মোছলেম উদ্দিন আহমদের বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। মৃত্যুর সময় তিনি স্ত্রী, ৪ কন্যা, একমাত্র ভাই, আত্মীয়স্বজন ও বহু রাজনৈতিক শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

এই রাজনীতিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। তিনি জানান, ঢাকায় প্রথম জানাজা শেষে সোমবার মোছলেম উদ্দিনের মরদেহ চট্টগ্রামে আনার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে জানাজা শেষে গরীব উল্লাহ শাহ মাজারে মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।

চট্টগ্রামের রাজনীতিতে মোছলেম উদ্দিন বেশ পরিচিত নাম। ৫০ বছরেরও বেশি সময়ের রাজনীতিতে তিনি ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে ছিলন। ১৯৬৯ সালে ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ শাখার সহসভাপতি নির্বাচিত হওয়ার মধ্যে দিয়ে তার রাজনীতি শুরু। এরপর পর্যায়ক্রমে তিনি চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৭০ সালে ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম শহর শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনিও যুদ্ধে অংশ নেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি পুনরায় ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পরবর্তী সময় যুবলীগের রাজনীতিও করেন। এরপর দেড় দশক ধরে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

২০১২ সালের নভেম্বরে আখতারুজ্জামান বাবুর মৃত্যুর পর থেকে এই শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন মোছলেম উদ্দিন আহমদ।

২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারি চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-পাঁচলাইশ-চান্দগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য জাসদের মইন উদ্দীন খান বাদল মারা গেলে শূন্য হয় আসনটি। এরপর উপনির্বাচনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মোছলেম উদ্দিন আহমদ। এবার তার প্রয়াণে আবারও শূন্য হলো আসনটি।

বিষয়:

সড়কে প্রাণ গেল কলেজছাত্রের

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হাফিজুল ইসলাম
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, লালমনিরহাট

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার নওদাবাস এলাকায় মাইক্রোবাসকে জায়গা করে দিতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে হাফিজুল ইসলাম (২২) নামে এক কলেজছাত্র প্রাণ হারিয়েছেন।

রোববার সকালে হাতীবান্ধার নওদাবাস এলাকায় এ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলে হাফিজুলকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে মৃত্যু হয় তার।

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহা আলম দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহত হাফিজুল হাতীবান্ধা উপজেলার উত্তর পারুলিয়া গ্রামের জসীর উদ্দীনের ছেলে। তিনি বড়খাতা ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সকালে মোটরসাইকেল নিয়ে হাতীবান্ধা থেকে দইখাওয়া যাওয়ার পথে নওদাবাস এলাকায় একটি মাইক্রোবাসকে সাইড দিতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

হাতীবান্ধা থানার ওসি শাহ আলম বলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ আনার প্রক্রিয়া চলছে। লাশ এলে দাফনের অনুমতি দেয়া হবে।


বিএনপি ঘরে না ফিরে রাস্তায় থাকলেই ভালো: তোফায়েল

পথসভায় তোফায়েল আহমেদ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, ভোলা

বিএনপির নেতারা রাস্তায় রাস্তায় থাকলেই ভালো হয় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, বিএনপি দাবি আদায় না করা পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাবে না। আমার মনে হয় তাদের ঘরে না ফেরাই উচিত। তারা রাস্তায় রাস্তায় থাকুক, সেটাই ভালো।

ভোলায় পাঁচ দিনের সংক্ষিপ্ত সফরে নিজের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিদর্শন ও নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের অংশ হিসবে রোববার বিকেলে ভোলায় নিজ নির্বাচনী এলাকার শিবপুর, আলীনগর ও ধনিয়া ইউনিয়নে পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির দাবি পূরণ হবে না উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, মনে রাখতে হবে, বিএনপি যে দাবি করছে, এই দাবি কোনোদিনই বাস্তবায়ন হবে না। কারণ এই দাবি বাস্তবসম্মত না। তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়। ক্ষমতাসীন দলের অধীনে তারা নির্বাচন করবে না।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলি, তত্বাবধায়ক সরকার আর কোনোদিন আসবে না এবং বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে আমরা আওয়ামী লীগ পুনরায় বিজয়ী হব এবং বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দেশ পরিচালনা করবেন।

আওয়ামী লীগের এই নেতা আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে মানুষের ওপর অত্যাচার করে, নির্যাতন করে। সেজন্য বিএনপির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক কাতারে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে হবে।

ভোলার বিভিন্ন উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে এই সংসদ সদস্য বলেন, ভোলাতে পর্যপ্ত গ্যাস পাওয়া গেছে। সেই গ্যাসভিত্তিক শিল্প ভোলায় গড়ে উঠবে। আমি ভোলাকে শিল্পনগরীতে পরিণত করব ইনশাআল্লাহ। আওয়ামী লীগের শাসনামলে বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্বের মানুষ বাংলাদেশকে মর্যাদাসম্পন্ন রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে। আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত হয়েছি। আমরা আশা করি, ২০৪০ সালের মধ্যে আমরা একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হব।

এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল মমিন টুলু, সাধারণ সম্পাদক মইনুল হোসেন বিপ্লবসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়:

রেলের জমি দখল করে নেতার পিকনিক স্পট

হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পাশে রেলের জায়গা দখল করে হোটেল ও পিকনিক স্পট নির্মাণ করা হচ্ছে। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২১:৫৮
প্রতিনিধি, পাবনা

পাবনার পাকশীতে ঐতিহ্যবাহী হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পাশে রেলের জায়গা দখল করে হোটেল ও পিকনিক স্পট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে পাকশী ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সহসভাপতি মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) এলাকায় পাকা সীমানাপ্রাচীর ঘিরে স্থাপনা নির্মাণ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, লালনশাহ সেতু ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকায় এলাকাটিকে কেপিআই তালিকাভুক্ত করে নিরাপত্তার নির্দেশনা দেয়া আছে। সেই নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই হোটেল ও পিকনিক স্পট নির্মাণ করা হচ্ছে।

রোববার সকালে পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় দেখা যায়, লালনশাহ সেতুসংলগ্ন সড়ক বিভাগের পরিদর্শন বাংলোর সামনে কয়েকজন শ্রমিক ইট-সিমেন্টের দেয়ালে পাকা সীমনাপ্রাচীর তৈরিতে ব্যস্ত। ঝোলানো সাইনবোর্ডে লেখা হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পিকনিক স্পট অ্যান্ড লালনশাহ কফিশপ। বিশাল এলাকা ঘিরে তৈরি হচ্ছে মঞ্চ, বসার ছাউনি ও সিমেন্টের চেয়ার। নদীশাসনে ব্যবহৃত রেলের পাথর তুলেও নির্মাণকাজে ব্যবহার করতে দেখা গেল শ্রমিকদের। এসব নির্মাণাধীন স্থাপনায় ঢাকা পড়েছে সড়ক বিভাগের পরিদর্শন বাংলোর মূল ফটকও।

স্থানীয়রা জানান, বেশ কয়েক বছর আগে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে টং ঘরের মতো খাবারের দোকান করেন মোক্তার হোসেন। সেখানে ব্যবসা ভালো হওয়ায় কিছুদিন পর পরিসর বাড়িয়ে আধাপাকা দেয়াল ও টিনের চালের ঘর নির্মাণ করেন। সম্প্রতি পুরো এলাকা ঘিরে রিসোর্ট তৈরির কাজ চলছে।

শ্রমিক ও স্থানীয়দের সঙ্গে রিসোর্ট নিয়ে কথা বলার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে হাজির হন মোক্তার হোসেন। নিজেকে সাবেক যুবলীগ নেতা ও রেলওয়ের ঠিকাদার পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, জনস্বার্থেই তিনি রিসোর্ট ও পিকনিক স্পট তৈরি করেছেন। এ বিষয়ে কোনো অনুমোদন না থাকার কথাও স্বীকার করেন তিনি।

মোক্তার হোসেন বলেন, ১৯৮৪ সালে তার বাবা রেলের কিছু জমি কৃষিকাজের জন্য লিজ নেন। প্রতিদিন পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, লালনশাহ সেতু ও রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প দেখতে দেশের নানা প্রান্তের পর্যটক এখানে ছুটে আসেন। পিকনিক মৌসুমে আসেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। কিন্তু এখানে তাদের বসে সময় কাটানোর মতো ব্যবস্থা নেই। শৌচাগার, হাতমুখ ধোয়ার ব্যবস্থা না থাকায় তারা ভোগান্তিতে পড়তেন। তাদের স্বস্তি দিতেই এই হোটেল ও পিকনিক স্পট নির্মাণ করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেপিআই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কেপিআই এলাকা সাধারণ এলাকা থেকে পৃথক রাখতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে নিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকার ও সার্বক্ষণিক পাহারার ব্যবস্থা থাকতে হবে। একই নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কেপিআই এলাকায় কোনো অবৈধ স্থাপনা যাতে নির্মাণ না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সজাগ থাকবে এবং স্থাপনা নির্মাণ হলে উচ্ছেদসহ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাকশী বিভাগীয় রেলের এক কর্মচারী বলেন, রেলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করেই পিকনিক স্পট নির্মাণ করছেন মোক্তার।

কেপিআই এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তার দায়িত্ব পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির। নির্মাণাধীন পিকনিক স্পট থেকে ফাঁড়ির দূরত্ব ৫০ গজেরও কম।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব গোস্বামী বলেন, নিরাপত্তা নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো স্থাপনা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পশ্চিমাঞ্চলীয় বিভাগীয় রেলের প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, কেপিআই এলাকায় পিকনিক স্পট নির্মাণের কোনো অনুমতি দেয়া হয়নি। পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো কর্মকর্তার গাফিলতি আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।

বিষয়:

ঠাকুরগাঁওয়ে ১৪ মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর

ঠাকুরগাঁয়ে মন্দিরে ঢুকে প্রতিমা ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৮:৩১
প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে ১৪টি মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।

শনিবার দিনগত রাতের কোন এক সময় উপজেলার ধনতলা, চাড়োল ও পাড়িয়া ইউনিয়নে বিভিন্ন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল আনাম ডন।

খায়রুল আলম বলেন, ‘প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার পর থেকে উপজেলার প্রত্যেকটি মন্দিরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিদ্যা নাথ বর্মন বলেন, ‘রাতে কে বা কারা উপজেলার ধনতলা ইউনিয়নে নয়টি, চাড়োল ইউনিয়নে একটি ও পাড়িয়া ইউনিয়নে চারটি মন্দিরের প্রতিমাগুলো ভাঙচুর করেছে। ঘটনার পর থেকে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ধনতলা ইউনিয়নের সিন্দুরপিন্ডিতে একটি হরিবাসর মন্দির, একটি কৃষ্ণঠাকুর মন্দির, মনসা মন্দির ৫টি, লক্ষ্মীমন্দির একটা ও একটি কালি মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করেছে।’

বিদ্যা নাথ বর্মন আরও জানান, চাড়োল ইউনিয়নে একটি কালী মন্দির ও পাড়িয়া ইউনিয়নে একটি বুড়া-বুড়ি মন্দির, একটি লক্ষ্মী মন্দির, একটি আমাতি মন্দির ও একটি মাসানমাঠ মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে।

স্থানীয় ধীরেন নাথ বর্মন বলেন, ‘প্রতিমাগুলোর হাত-পা, মাথা ভেঙে ফেলা হয়েছে। আবার কিছু প্রতিমা ভেঙে পুকুরের পানিতে ফেলে রেখেছে। ধারণা করা হচ্ছে গ্রামে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতেই এমনটা করা হয়েছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা রঘুনাথ বলেন, প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনার পর থেকে আমরা আতঙ্কগ্রস্ত অবস্থায় আছি। যারা এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক।

এ দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেনসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলাম। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিষয়:

কাদেরকে ভোটে লড়ার চ্যালেঞ্জ দিলেন হিরো আলম

বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আশরাফুল আলম। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৬:৩৪
প্রতিনিধি, বগুড়া

আলোচিত কনটেন্ট নির্মাতা আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম তার সঙ্গে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে তার সঙ্গে ভোটে লড়তে এ চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন তিনি।

রোববার দুপুরে বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন হিরো আলম। তিনি বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের উপনির্বাচনে ভোট পুনঃগণনার আবেদন জমা দিতে আসেন সেখানে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি বগুড়ায় দুটি আসনে উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন হিরো আলম। এর মধ্যে বগুড়া-৪ আসনে মাত্র ৮৩৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি। নির্বাচনে ফলাফল পাল্টে দেয়ার অভিযোগ করেন হিরো আলম।

তার ভোট প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘হিরো আলমকে বিএনপি দাঁড় করিয়েছে। সংসদকে ছোট করার জন্য হিরো আলমকে প্রার্থী করেছে তারা। হিরো আলম এখন জিরো হয়ে গেছে।’

কাদেরের সেই বক্তব্যের সূত্র টেনে হিরো আলম বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের স্যার আমাকে তাচ্ছিল্য করে কথা বলেছেন। একজন মন্ত্রী দেশের নাগরিককে তাচ্ছিল্য করে কথা বলতে পারেন না। তিনি কথায় কথায় বলেন আসুন খেলা হবে। শক্তিশালী দলের সঙ্গে খেলতে চান। আমি ওবায়দুল স্যারকে জোর গলায় বলতে চাই, খেলা সবার সঙ্গে করতে হবে না। আমি হিরো আলমের সঙ্গে একটা নির্বাচনে আপনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এবং আপনি দলীয়ভাবে দাঁড়ান। এরপর আপনি সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে দেখেন খেলা হয় কি না। খেলার জন্য নাকি তিনি মাঠে প্লেয়ার খুঁজে পান না।’

এই পরাজিত প্রার্থী বলেন, ‘আমার সঙ্গে একটু প্রতি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে ভোটারদের ভয় না দেখিয়ে সুষ্ঠু ভোট দিয়ে দেখেন। তিনি কেন আমাকে ছোট করে কথা বলেন। তাকে বলবো, বগুড়া-৪ থেকে ভোট করুন, আমাকে যেই আসন থেকে পরাজিত করে দেয়া হয়েছে।’

হিরো আলম আরও বলেন, ‘আমি সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। আগামীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই, যেখানে সব দল অংশ নেবে। সবাই নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবে।’

এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর দাবি করেন, তার আসনের নির্বাচনী ফলাফল সুষ্ঠুভাবে দেয়া হয়নি। তাই সবগুলো ভোট কেন্দ্রের ফলাফল তিনি জোগাড় করেছেন।

হিরো আলম বলেন, ‘ওই কেন্দ্রগুলো উল্লেখ করে আমি জেলা প্রশাসকের কাছে ভোট পুনঃগণনার আবেদন দিয়েছি। তারা আমার আবেদন গ্রহণ করেছেন। তবে কবে ভোট আবারও গণনা করবেন, সেই বিষয়ে কিছু জানাননি। যদি তারা সাড়া না দেন, আমি হাইকোর্টে যাবো।’


banner close