স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে কর্মস্থল ময়মনসিংহের পথে রওনা হয়েছিলেন আনোয়ার হোসেন। বগুড়ার তিনমাথা এলাকায় পৌঁছাতেই পুলিশ থামিয়ে দিয়েছে সেই বাস। নামিয়ে দিয়েছে যাত্রীদের। মাঘ মাস হলেও বেলা ১টায় সূর্য যখন ঠিক মাথার ওপর, সেই সময়টিতে আনোয়ার হোসেনকে পাশে স্ত্রী আর কোলে বাচ্চা নিয়ে উদ্বাস্তুর মতো দাঁড়িয়ে থাকতে হয় মহাসড়কে।
দিনাজপুর থেকে আসা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘যেই বাসে চড়ে ময়মনসিংহে যাচ্ছিলাম, পুলিশ সদস্যরা ওই বাসটি জব্দ করে নিয়ে গেছে। বাসে প্রায় অর্ধশত যাত্রী ছিল, সবাইকে নামিয়ে দিয়েছে। ঘণ্টাখানেক হলো এখানে দাঁড়িয়ে আছি। কিছু পাচ্ছি না।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়া শহরের তিনমাথা নিরালা পাম্প এলাকার বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কের প্রথম বাইপাসে গিয়ে দেখা যায় এমন চিত্র। সেখানে আনোয়ার হোসেনের মতো আরও প্রায় অর্ধশত যাত্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পরিবার-পরিজনসহ সবাইকে এভাবে বাস থেকে রাস্তায় নামিয়ে দেয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ সবাই।
বাধ্য হয়ে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে অধৈর্য যাত্রীরা যা বললেন তার সারমর্ম এ রকম, ‘মাঝপথে এভাবে নামিয়ে দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে রাখা মানে গায়ে পড়ে হয়রানি করা। পরিবার ও বেডিংপত্র নিয়ে রাস্তায় দিশেহারার মতো দাঁড়িয়ে আছি। চারপাশের রাস্তার ধুলায় দম বন্ধ হয়ে আসছে। কিছু বলারও নেই। শক্তি থাকলে সবাই প্রয়োগ করে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিভাগীয় জনসভা। সেখানে নিরাপত্তা দিতে কাজ করবেন বগুড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা। আর তাদের যাতায়াতের জন্য প্রয়োজন ছয়টি বাস। সেই বাস সংগ্রহ করতেই মহাসড়কে নেমেছে পুলিশ, রাস্তায় যাত্রী নামিয়ে দিয়ে বাসগুলো রিকুইজিশনে জব্দ করছে। ভুক্তভোগী যাত্রীরা বলছেন, বগুড়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের অবস্থান ওই তিনমাথা থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরত্বে। সেখানে গিয়ে থেমে থাকা বাসগুলো রিকুইজিশন করলে অন্তত যাত্রাপথে থাকা যাত্রীদের ভোগান্তি হতো না।
তিনমাথার নিরালা পাম্প এলাকায় গিয়ে একাধিক বাসের অন্তত ৫০ জন যাত্রীকে দেখা গেল সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে। কেউ মালামাল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, কেউ রাস্তার ওপর বসে পড়েছেন। অনেকে রিকশা-ভ্যান খোঁজার চেষ্টা করছেন, যেন সামনে কিছুটা এগিয়ে যাওয়া যায়। পাশেই বগুড়া জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের দুই কর্মকর্তা ও এপিবিএনের দুই সদস্যকে মহাসড়ক দিয়ে ঢাকাগামী বাসগুলো থামিয়ে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করতে দেখা গেল।
এ সময় কয়েকজন বাসযাত্রীর সঙ্গে কথা হয় দৈনিক বাংলার। তাদের একজন জহুরুল ইসলাম, পেশায় কাপড় ব্যবসায়ী। পাঁচ সহযোগীকে নিয়ে কাপড় বিক্রি করতে গিয়েছিলেন দিনাজপুরে। সেখান থেকে বাসে ফিরছিলেন টাঙ্গাইলে। কিছু মালামালও ছিল সঙ্গে। পথে বগুড়ার তিনমাথায় তাদের নামিয়ে দেয় পুলিশ।
জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমিসহ বাসের সব যাত্রীকে নামিয়ে দিয়েছে। ড্রাইভার সব কাগজ দেখিয়ে পুলিশদের অনেক অনুরোধ করেছিল। তবু গাড়ি ধরে নিয়ে গেছে। আমি তো মূর্খ মানুষ, এত কিছু বুঝি না। শুধু বুঝি, এই দুপুরে ঘণ্টাখানেক হলো রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি। আজ রোদও বেশি, ক্ষুধাও লেগেছে অনেক। এই মালামাল নিয়ে কই যাব এখন?’
ঠাকুরগাঁও থেকে ময়মনসিংহ যাচ্ছিলেন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ফারজানা রহমান। তিনি বলেন, ‘একাই রওনা দিয়েছিলাম। এখন ১ ঘণ্টা হলো রাস্তায় দাঁড়িয়ে। বাসায় বলার সাহস পাচ্ছি না। জানলে আম্মু-আব্বু টেনশনে জ্ঞান হারাবে। ওনারা সরকারি কাজে গাড়ি জব্দ করবেন ভালো কথা, তবে এভাবে মাঝপথে কেন? এখন কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না। ওনারা বলেছেন অন্য গাড়িতে উঠিয়ে দেবেন।’
পরে অবশ্য যাত্রীদের অন্য বাস পেতে সহযোগিতা করেছে পুলিশ। তবে সে ক্ষেত্রেও স্বাভাবিকভাবেই বেগ পেতে হয়েছে। কারণ মহাসড়কে আন্তজেলা বা দূরপাল্লার বাসগুলোতে মাঝপথে ফাঁকা আসন পাওয়া যায় না বললেই চলে। সে কারণেই রিকুইজিশন করা বাসগুলো থেকে নামিয়ে দেয়া যাত্রীদের বাস পেতেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।
জানতে চাইলে বগুড়ার ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) মাহাবুবর রশিদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘রাজশাহীতে সমাবেশে আসবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে এপিবিএন সদস্যরা ডিউটিতে যাবেন। তাদের যাতায়াতে ছয়টি বাস প্রয়োজন। সেগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে। চারটি বাস এরই মধ্যে রিকুইজিশন করা হয়েছে।’
মহাসড়কে মাঝপথে বাস থামিয়ে রিকুইজিশন নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে যাত্রীদের অসুবিধার কথা স্বীকার করে নিলেন পুলিশের এ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘সাময়িকভাবে কিছু অসুবিধা হয়েছে যাত্রীদের। তবে পরের বাসগুলোতে আমরাই তাদের উঠিয়ে দিচ্ছি।’
অদূরেই টার্মিনাল রয়েছে- জানাতেই মাহাবুবর রশিদ বলেন, ‘মহাসড়ক ছাড়া টার্মিনালে গিয়ে বাস রিকুইজিশন করা সম্ভব হয় না। সেখানে পরিবহনসংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে সহযোগিতা করেন না।’
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম তুহিন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এটি আইনের মধ্যে না থাকলে রাস্তায় যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে বাস রিকুইজিশন করা মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে। এই ব্যবস্থাটার পরিবর্তন হওয়া উচিত। রাষ্ট্রের অনেক অর্থ আছে, ব্যয়ের খাত আছে। সাধারণ মানুষ কোথাও ভ্রমণ করতে গেলে গাড়ি ভাড়া করে। তেমনি সরকারি দপ্তরের লোকজনও গাড়ি ভাড়া করে গন্তব্যে যাবে।’
জানতে চাইলে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) হেলেনা আকতার দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘রাস্তায় যাত্রী নামিয়ে গাড়ি রিকুইজিশন করার কথা নয়। তবে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশের জন্য এপিবিএন সদস্যরা আগামীকাল রওনা দেবেন। এ জন্য গাড়ি জরুরি ছিল। রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে আমাদের এ কাজ করতে হয়েছে।’
নদীর নাম পায়রা। শান্ত, স্নিগ্ধ, আবার কখনো রুদ্রমূর্তি। এই নদীর পাড়েই পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়ি বাঁধের এক টুকরো খাস জমিতে দাঁড়িয়ে আছে একটি ঝুপড়ি ঘর। দূর থেকে দেখলে মনে হবে একদলা পলিথিন আর গোলপাতা কেউ যত্রতত্র ফেলে রেখেছে। কিন্তু কাছে গেলে চেনা যায়, এটি কোনো আবর্জনা নয়, বরং তীব্র এক জীবনযুদ্ধের সাক্ষী। এখানেই কেটে গেছে হাবিব হাওলাদার (৫০) ও হালিমা বেগমের (৪৫) দাম্পত্য জীবনের ৩০টি বসন্ত।
আজকের এই করপোরেট আর বস্তুবাদী যুগে যেখানে সামান্য অভাব-অনটনে সম্পর্কের দেওয়াল ভেঙে চুরমার হয়ে যায়, সেখানে এই দম্পতি এক জীবন্ত ব্যতিক্রম। তাদের ঘরে আসবাবপত্র নেই, আলমারি ভর্তি দামি পোশাক নেই, নেই তিন বেলা পেট পুরে ভালো খাবার খাওয়ার নিশ্চয়তা। যা আছে, তা হলো একে অপরের প্রতি এক অদ্ভুত, অলিখিত এবং অবিচ্ছেদ্য সমর্পণ।
যেখানে প্রেম মানে একসাথে জাল টানা: হাবিব হাওলাদার পেশায় কখনো দিনমজুর, কখনো ফেরিওয়ালা, আবার কখনো জেলে। যখন যে কাজ পান, তাই করে সংসার টানার চেষ্টা করেন। তবে এখন বয়স হয়েছে, শরীর আর আগের মতো চলে না। তাই ইদানিং নদীতে মাছ ধরাই তার মূল জীবিকা।
তবে এই লড়াইয়ে হাবিব একা নন। প্রতিদিন ভোররাতে যখন কুয়াশার চাদর ভেঙে হাবিব নৌকা নিয়ে নদীতে নামেন, তার ঠিক পাশটিতেই বসেন হালিমা বেগম। গ্রামীণ সমাজে যেখানে নারীদের ঘরের ভেতরের কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ভাবা হয়, সেখানে হালিমা স্বামীর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উত্তাল নদীতে জাল ফেলেন।
নদী থেকে মাছ ধরে আনা, মাছ বাছাই করা, জাল শুকানো থেকে শুরু করে জালের ছেঁড়া সুতো সেলাই করা—সব কাজ দুজনে মিলে হাসিমুখে করেন। হাবিব বলেন, ‘সুহে (সুখে) থাহার লাইগ্গা আমি শুধু একলা না, আমার সাথে আমার স্ত্রী হালিমাও কাম করে। শুধু এই ভাবি যদি ভাগ্যের চাকা ঘুরাইতে পারি।’
কিন্তু ভাগ্যের চাকা ঘোরেনি। সন্তান ও নাতি-নাতনিদের রোগ-বালাই আর অভাবের পেছনে ছুটতে ছুটতে দিনশেষে তাদের হিসেবের খাতা সবসময় শূন্যই রয়ে গেছে।
সংসারের টানাপোড়েন আর তীব্র কষ্টের কথা বলতে গিয়ে হালিমা বেগমের চোখ ভিজে আসে। তবে সেই অশ্রুতে কোনো ক্ষোভ নেই, আছে এক বুক চাপা হাহাকার।
হালিমা বলেন, ‘স্বামীর সংসারে আইয়া তার ভালোবাসা পাইছি ঠিকই, এ্যাছাড়া আর কিছুই পাইনাই। না পারছি পেন্দনে (পড়নে) ভালো কাপড় পড়তে, না পারছি ভালো জিনিসটা খাইতে। তয় ও ব্যাডারে আর কি কমু, চেষ্টা হরে; কিন্তু পাইরা ওডেনা।’
স্বামীর এই অক্লান্ত চেষ্টাকে সম্মান জানাতে জানেন হালিমা। তাই ছেঁড়া শাড়ি আর আধপেটা পেটেও স্বামীর হাতটি ছাড়েননি কখনো। আর হাবিবের কষ্ট অন্য জায়গায়। ঝড়-বৃষ্টির রাতে যখন পলিথিনের চাল চুইয়ে পানি পড়ে হালিমা ভিজে যান, কিংবা শীতের রাতে হিমেল বাতাসে কাঁপেন, তখন হাবিবের বুকটা ফেটে যায়। নিজের গামছায় চোখ মুছতে মুছতে হাবিব বলেন, ‘শীতে কষ্ট, বৃষ্টিতে ভিজি, বইন্নার (ঝড়ের) সময় ডর করে। ভাবি এই বুঝি ঘর উইড়া গেল। এখন একটু আরামে থাকতে শুধু একটা ভালো ঘর প্রয়োজন। কিন্তু স্বাদ আছে, সাধ্য নাই।’
প্রতিবেশীদের চোখে এক আদর্শ জুটি: প্রতিবেশী পারভিন বেগম এই দম্পতিকে খুব কাছ থেকে দেখছেন বছরের পর বছর। তিনি জানান, তাদের সন্তানরা নিজেরাও অত্যন্ত দরিদ্র এবং বিয়ে করে দূরে থাকেন। নিজেরা স্বাবলম্বী না হওয়ায় বাবা-মার তেমন একটা খোঁজ নিতে পারেন না, বড়জোর মাঝে মাঝে কিছু ওষুধ কিনে দেন।
পারভিন বেগম বলেন, ‘ঝড়-বাদল আইলে অনেক সময় আমাদের ঘরে ডাকি; কিন্তু ওনারা আয় না। ঘরের অবস্থা খুবই খারাপ। এখন কেউ যদি ঘরটা তাদের করে দেয় বা সরকার হইতে যদি পায় তবে ওনাদের অনেক উপকার হয়।’ এই ‘না আসার’ পেছনেও লুকিয়ে আছে এক আত্মমর্যাদাবোধ। অভাব তাদের গ্রাস করেছে ঠিকই, কিন্তু তাদের আত্মসম্মান আর পরস্পরের ওপর নির্ভরশীলতাকে কেড়ে নিতে পারেনি।
আশার আলো; প্রশাসনের আশ্বাস: হাবিব ও হালিমার এই মানবিক ও হৃদয়স্পর্শী গল্পটি পৌঁছায় স্থানীয় প্রশাসনের কান পর্যন্ত। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউসার হামিদ এই প্রতিবেদকের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন।
তিনি জানান, এই মুহূর্তে সরকারি টিনের কোনো বরাদ্দ না থাকলেও, আগামী জুন মাসেই নতুন বরাদ্দ আসবে। এই ভূমিহীন ও নিঃস্ব দম্পতি যদি একটি লিখিত আবেদন করেন, তবে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের একটি নিরাপদ আবাসন বা ঘর তৈরি করে দেওয়ার সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে।
‘নুন আনতে পান্তা ফুরানোর’ এই সংসারে হাবিব আর হালিমার একমাত্র চাওয়া—বাকি জীবনটুকু যেন অন্তত একটা শক্ত চালের নিচে শান্তিতে ঘুমাতে পারেন।
পায়রা নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে যখন হাবিব ও হালিমা বেগম একসাথে জালের গিট বাঁধেন, তখন মনে হয়—পৃথিবীর সমস্ত সুখ আর ঐশ্বর্য একদিকে, আর এই দুই নিঃস্ব মানুষের একে অপরের প্রতি নিখাদ ভালোবাসা আরেকদিকে। তাদের এই ভালোবাসার গল্প যেন ইট-পাথরের দেওয়ালের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী, অনেক বেশি স্থায়ী। এখন শুধু অপেক্ষা, সরকারি বা কোনো বিত্তবানের হাত ধরে কবে পূর্ণতা পাবে তাদের এই মাথা গোঁজার যৎসামান্য আকুতি।
গোপালগঞ্জ-কোটালীপাড়া সড়কের কাজুলিয়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গরুবাহী ট্রাক খালে পড়ে ৪টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) সকাল সাড়ে ৫টার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঋণ করে গরু কেনা দুই বেপারির কোরবানি ঈদকে ঘিরে দেখা সব স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেছে।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার শিয়ালমারী হাট থেকে ৮টি গরু কিনে বরিশালের বানারীপাড়া বাওলিয়া হাটে নিয়ে যাচ্ছিলেন উজিরপুরের দুই বেপারি রানা ও লিটন।
ফায়ার সার্ভিসের মতে, চালক ঘুমের ঘোরে থাকায় ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খালে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর চালক নজরুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও কোটালীপাড়া ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রুত চেষ্টা চালিয়ে ৪টি গরু জীবিত উদ্ধার করলেও ৪টি গরু ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে পানিতেই মারা যায়।
মারা যাওয়া ৪টি গরুর কারণে বেপারিদের মূল পুঁজি ও লাভের আশা এক নিমেষেই শেষ।
বেপারি রানা ও লিটন জানান, তারা চড়া সুদে এবং ধারদেনা করে এই গরুগুলো কিনেছিলেন। এখন হাটে পৌঁছানোর আগেই সব হারিয়ে তারা সম্পূর্ণ নিঃস্ব এবং ঋণের টাকা পরিশোধের কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না।
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রতি বছর হাজারো ব্যবসায়ী এভাবে ধারদেনা করে দেশের বিভিন্ন হাটে পশু নিয়ে যান। কিন্তু চালকদের অসতর্কতা ও সড়ক দুর্ঘটনার কারণে মুহূর্তেই খামারি ও ব্যবসায়ীদের সব স্বপ্ন, পুঁজি ও ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে যাচ্ছে। কাজুলিয়ার এ ঘটনা তারই এক নির্মম উদাহরণ।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুটি খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) সকালে উপজেলার লক্ষীটারী ইউনিয়নের চর ইশরকুল খাল এবং বড়বিল ইউনিয়নের পুকুরখুড়ি খালের পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রংপুর জেলা প্রশাসক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা, গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও), গঙ্গাচড়া মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত), লক্ষীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, বড়বিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, গঙ্গাচড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে লক্ষীটারী ইউনিয়নের জয়রামওঝা মৌজার ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে চর ইশরকুল খালের ২ হাজার ৫০০ মিটার অংশ পুনঃখনন করা হবে। প্রকল্পটিতে ১৪৯ জন উপকারভোগী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এতে শ্রমিক মজুরি বাবদ ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ১৭৫ টাকা, ননওয়েজ কস্ট বাবদ ৩২ লাখ ৩৯ হাজার ৯৪৪ টাকা এবং সর্দার মজুরি বাবদ ৪ হাজার ৩০০ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া বড়বিল ইউনিয়নের দক্ষিণ পানাপুকুর মৌজার ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে পুকুরখুড়ি খালের ২ হাজার ১৬০ মিটার অংশ পুনঃখনন করা হবে। এ প্রকল্পে ১২৮ জন উপকারভোগী রয়েছেন। এতে শ্রমিক মজুরি বাবদ ২৭ লাখ ৬২ হাজার ৩৫৯ টাকা, ননওয়েজ কস্ট বাবদ ২৭ লাখ ৯৯ হাজার ৩১২ টাকা এবং সর্দার মজুরি বাবদ ৪ হাজার ৩০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, ‘প্রকল্পের প্রতিটি কাজ প্রশাসনের তদারকিতে পরিচালিত হবে এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।’
রংপুর জেলা প্রশাসক বলেন, ‘খালগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করা হবে।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী বলেন, ‘খাল পুনঃখননের ফলে পানি নিষ্কাশন সহজ হবে এবং কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।’
স্থানীয় কৃষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হতো। পুনঃখননের মাধ্যমে খালগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে এলে কৃষি ও মৎস্য খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
সুন্দরবন আমাদের জন্য একটি অক্সিজেন ব্যাংক। এই বন আমাদের অস্তিত্বের সাথে সম্পৃক্ত। সে কারণে খুলনাবাসীসহ সারা দেশের মানুষের এ বনকে, এ বনের জীববৈচিত্র্যকে রক্ষা করতে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে হবে। খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু শুক্রবার (২২ মে) সকালে নগরীর সিএসএস আভা সেন্টারে সুন্দরবন সামিট-২০২৬ এর ‘সহনশীল সুন্দরবন: যুবসমাজ, জলবায়ু ও উপকূলীয় ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থায়নে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ গবেষণা কেন্দ্র (সিথ্রিইআর), মিশন গ্রিন বাংলাদেশ (এমজিবি) এবং স্বপ্নপুরী কল্যাণ সংস্থা যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে।
প্রশাসক বিভিন্ন দেশের বন সংরক্ষণে গৃহীত কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য খুব লজ্জার যে আমরা আমাদের সম্পদ রক্ষার চেষ্টা করি না।’ সুন্দরবন রক্ষায় তিনি সুন্দরবন বোর্ড গঠনের পাশাপাশি এই বনের মধ্য দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধ করা, সন্দুরবনকেন্দ্রিক বাণিজ্য বন্ধেসংলগ্ন অধিবাসীদের জন্য বিকল্প পেশার ব্যবস্থা করাসহ বন সংরক্ষণ আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাতের সভাপতিত্বে সংলাপে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) ড. মনজুরুল কিবরিয়া, ওয়াটারকিপার্সের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর শরীফ জামিল, সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস) এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মোখলেসুর রহমান, ডিএসকের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. দিবালোক সিংহা, ফ্রেন্ডশিপের সিনিয়র ডিরেক্টর কাজী এমদাদুল হক, নবপল্লবের চিফ অব পাটি মিস সেলিনা শেলি খান, সাজেদা ফাউন্ডেশনের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর শামিরা মোস্তফা। স্বাগত বক্তৃতা করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিথ্রিইআর প্রকল্পের উপপরিচালক রউফা খানম ও মিশন গ্রিন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আহসান রনি। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কেয়ারের মানবিক ও স্থিতিস্থাপক ফিউচারস প্রোগ্রামের উপপরিচালক মৃত্যুঞ্জয় দাস ও সাজেদা ফাউন্ডেশনের প্রধান গবেষক নুরুল ইসলাম বিপ্লব। সংলাপে যুব জলবায়ু নেতা, কমিউনিটি প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক ও শিক্ষাবিদ, এনজিও ও উন্নয়ন সহযোগী, সিএসআর প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও পেশাজীবীসহ প্রায় ২৫০ জন প্রতিনিধি অংগ্রহণ করেন।
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় রাতের আঁধারে এক প্রান্তিক কৃষকের জমিতে রোপণ করা পেঁপে, মাল্টা ও আনারস গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। গত বুধবার (২০ মে) রাতে প্রায় আড়াইশ ফলজ গাছ কেটে ফেলা হয়।
উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিলজুড়াইল গ্রামের মজিবর রহমান ওরফে কালা চানের অনেক কষ্টে তৈরি করা ফলজ বাগানে এ জঘন্য ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
ভুক্তভোগী কৃষক মজিবুর রহমান কালা চান জানান, তার ইচ্ছা ছিল কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার। তাই তিনি কৃষিকে পেশা ও নেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। অন্যের জমি লিজ নিয়ে ২ বিঘা জমিতে মিশ্র ফলের একটি বড় খামার গড়ে তুলেন। এর মধ্যে পেঁপে, মাল্টা, আনারসহ বিভিন্ন ধরনের ফলের গাছ রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মজিবুর রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা বাগানের অনেক ফলজ গাছ কেটে ফেলে। সকালে মাঠে গিয়ে দেখি ১০০টি মাল্টা গাছ, ৫০টি পেঁপে গাছ, ৫০টি আনারস ও ৪৫টি রাম্বুটান চারা গাছের গোড়া থেকে কেটে ফেলে দিয়েছে। আমি ৭-৮ বছর যাবৎ বহু কষ্ট ও পরিশ্রম করে ১০ থেকে ১১ লাখ টাকা খরচ করে মিশ্র ফলের বাগান গড়ে তুলি।’ মাল্টা, পেঁপে ও আনারসের বাগান রাতের অন্ধকারে দুষ্কৃতিকারীরা কেটে ফেলে আমার বুক ভরা স্বপ্ন মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। এতে আমার অনেক টাকার ক্ষতি হয়েছে। লাখ টাকার ফল উৎপাদনের স্বপ্ন ছিল, সব শেষ হয়ে গেল আমার।’
গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে খবর পেয়ে এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মজিবুর রহমানের বাগান পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত সকলেই এ রকম ন্যক্কারজনক ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং তীব্র নিন্দা জানান। তারা তাকে শান্ত্বনা ও সাহস প্রদান করেন। তারা অপরাধীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
সিলেটে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে মো. ইমন আচার্য নামে র্যাব-৯ এর এক সদস্য নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে সিলেট নগরীর কোতোয়ালি থানার সামনে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত ইমন আচার্য র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দুপুরে বাপ্পি নামের এক চিহ্নিত ছিনতাইকারীকে নগরীর কীন ব্রিজ এলাকা থেকে ধাওয়া করে পুলিশ। বাপ্পি বাঁচার জন্য থানা রোড হয়ে পালানোর চেষ্টা করার সময় সেখানে সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালনরত র্যাব সদস্য ইমন আচার্য তাকে ঝাপটে ধরার চেষ্টা করেন। এ সময় নিজেকে মুক্ত করতে ছিনতাইকারী বাপ্পি ধারালো ছুরি দিয়ে ইমনকে উপর্যুপরি আঘাত করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) নেওয়া হয়।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বাপ্পিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দ্রুত বাপ্পির বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক কারবার ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
নওগাঁয় দাদা-নাতিসহ তিনজন, বরিশালে দুই শ্রমিক এবং নাটোরে একজনের বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদে এ তথ্য উঠে এসছে।
নওগাঁ : রাণীনগরে বজ্রপাতের পৃথক দুটি ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত তিনজনের মধ্যে দুই কৃষক ফসলের মাঠে ধান কাটতে গিয়ে ও এক যুবক মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতের শিকার হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে নওগাঁর রাণীনগরে উপজেলার পারইল গ্রামের জ্যাঠা মাঠে ও গুয়াতা আটনিতাপাড়া গ্রামের মাঠে এই মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন উপজেলার পারইল ফকিরপাড়া গ্রামের মৃত আসাদ ফকিরের ছেলে আক্কাস ফকির (৫৮) ও আমিনুরের ছেলে তারেক ফকির (২৪) এবং গুয়াতা আটনিতাপাড়া গ্রামের হাশেম তালুকদারের ছেলে নয়ন তালুকদার (২৬)। কৃষক আক্কাস ফকির ও তারেক ফকির সম্পর্কে দুজন দাদা-নাতি।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে উপজেলার পারইল গ্রামের জ্যাঠা মাঠে আক্কাস ফকির ও তারেক ফকির ধান কাটার কাজ করছিলেন। ধান কাটার সময় দুপুরের দিকে বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হলে সেখানেই তাদের দুইজনের মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, বৃষ্টির সময় গুয়াতা আটনিতাপাড়া গ্রামের যুবক নয়ন তাকুলদার মাঠ থেকে গরু আনতে যান। এরপর স্থানীয় লোকজন মাঠে গিয়ে দেখতে পান বজ্রপাতে যুবক নয়ন তাকুলদার মারা গেছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাণীনগর থানার ওসি মো. জাকারিয়া মন্ডল বলেন, বজ্রপাতের পৃথক ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় ইউডি (অপমৃত্যু) মামলা হয়েছে।
বরিশাল: জেলার গৌরনদীতে আকস্মিক বজ্রপাতে পানবরজের দুইজন শ্রমিক ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। এসময় গুরুতর আহত হয়েছেন আরো এক শ্রমিক। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়ার ভিমেরপাড় এলাকায়।
তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. তৌকির হোসেন জানিয়েছেন, মৃত অবস্থায় দুইজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তারা হলেন-মাহিলাড়ার ভিমেরপাড় গ্রামের আবু তালেব হাওলাদারের ছেলে আলিম হাওলাদার (৬০) ও উজিরপুরের খাটিয়ালপাড়া গ্রামের মুকুন্দ বালার ছেলে সুকান্ত বালা (৩৮)।
একইসাথে হাসপাতালে আনা গুরুতর আহত দেওপাড়া গ্রামের জীতেন সরকারের ছেলে গোপাল সরকারকে (৪০) প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, উল্লেখিত তিনজনে ভীমেরপাড় এলাকার একটি পানবরজে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটারদিকে বৃষ্টি শুরু হলে তারা পানবরজের পাশের একটি ছাউনীতে আশ্রয় নেয়।
এ সময় আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই দুইজন মারা যায় এবং গোপাল গুরুতর আহত হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. তারিক হাসান রাসেল তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নাটোর: জেলার লালপুরে ইটভাটায় কাজ করার সময় বজ্রপাতে এসকেন আলী ভোলা (৬০) নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও দুই নারী শ্রমিক। গতকাল বৃহস্পতিবার লালপুরের সিরাজীপুর এলাকায় সুপার ইটভাটায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত এসকেন আলী ভোলা লালপুরের বালিতিতা গ্রামের মৃত আদুর ছেলে।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এক্সকাভেটর দিয়ে অবৈধ মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জেরে ওসমান গনি (৪০) নামে এক বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত বুধবার (২০ মে) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচগাঁও চরপাড়া এলাকার বিলসংলগ্ন কাউন্দার চক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ওসমান গনি উপজেলার বড় বিনাইরচর এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে। ওসমান ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব জুবায়ের হোসেন জিকুর ছোট চাচা তিনি।
এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে ওসমানের স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীরা আড়াইহাজার-গাউছিয়া সড়ক অবরোধ করে কয়েকটি যানবাহনে ভাঙচুর চালান। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপ্তারা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রমজান আলীর সঙ্গে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে তার লোকজন ওসমানের ওপর হামলা চালিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয় লোকজন ওসমানকে উদ্ধার করে আড়াইহাজার জবেদ আলী মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে সেখানে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সড়কে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, রাস্তায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করছে পুলিশ।
সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ বনদস্যু ‘ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমনসহ ৭ দস্যু অস্ত্র ও গুলি জমা দিয়ে কোস্ট গার্ডের কাছে আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২১ মে) কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তর চত্বরে জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেজবা উল ইসলামের কাছে ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২৫ রাউন্ড তাজা গুলি জমা দিয়ে তারা আত্মসমর্পণ করেন।
এসময় কোস্ট গার্ড, বিজিবি, পুলিশ, বনবিভাগ, র্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ২০১৮ সালেও এই বাহিনীটি র্যাবের কাছে একবার আত্মসমর্পণ করেছিল।
কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেজবা উল ইসলাম জানান, সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই অভিযানের মুখে কোণঠাসা হয়ে গত ১৭ মে রাত ১১টার দিকে মোংলার নন্দবালা খাল সংলগ্ন এলাকায় কোস্ট গার্ডের কাছে অনানুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে বাহিনীটি। সে সময় তাদের কাছ থেকে ৩টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ২টি দেশীয় পাইপগান, ২৫ রাউন্ড তাজা গুলি ও ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি উদ্ধার করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে তাদের আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
আত্মসমর্পণকারী দস্যুরা হলেন মোংলার বাসিন্দা বাহিনী প্রধান সুমন হাওলাদার (৩২), রবিউল মল্লিক (২৫), রফিক শেখ (২৯), সিদ্দিক হাওলাদার (৪০), গোলাম মল্লিক (৩৮), ইসমাইল খান (৩১) ও রামপালের মাহফুজ মল্লিক (৩৪)।
বাহিনী প্রধান সুমন হাওলাদার বলেন, ২০১৮ সালে একবার আত্মসমর্পণ করে ব্যবসা-বাণিজ্য করে ভালোই চলছিলাম। কিন্তু বিগত ৫ আগস্টের পর হামলা, মামলা ও জেল-জুলুমের শিকার হয়ে বাধ্য হয়ে আবারও এই পথে নামতে হয়। এবার সুযোগ পেয়ে আত্মসমর্পণ করলাম। সরকারের কাছে দাবি, আমাদের মামলাগুলো যেন সহজ করা হয় এবং নতুন করে কোনো হয়রানির শিকার না হয়ে যেন স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে পারি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এখন বিরাট চ্যালেঞ্জ। রক্তপাতহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিতে চাই। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনও ভালো হবে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনের সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেছেন।
জাতীয় নির্বাচন সুন্দরভাবে আয়োজন করতে পারলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চ্যালেঞ্জ দেখছেন জানিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে যাতে সহিংসতা না হয়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। বর্তমান সরকার জনগণের সরকার। সরকার দেশের মঙ্গল চাইবে—আমাদের বিশ্বাস, তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সহায়তা করবে। চ্যালেঞ্জ তো অবশ্যই থাকবে।
এদিকে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনের চেয়ারম্যান রোহানা হেতিয়ারাসসি বলেন, কোনো নির্বাচনই পারফেক্ট হয় না। তবে বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসের তুলনায় এটি তাৎপর্যপূর্ণ ভোট ছিল। এটি ছিল অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন, কারণ ভোটাররা তাদের ভোট দিতে পেরেছেন। গণতন্ত্র উন্নত হচ্ছে।
শর্তহীনভাবে কাঁচা পাট রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ক্ষতিপূরণ দাবিতে দৌলতপুর জুটপ্রেস অ্যান্ড বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত তারা খুলনা যশোর মহাসড়কের রেলিগেট থেকে দৌলতপুর পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করেন তারা। তারা সড়কে কাঠের গুঁড়ি এবং বাঁশ ফেলে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন। সড়কের দু’পাশে আটকে পড়ে যানবাহনের চালক এবং পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আন্দোলনরত শ্রমিকরা বলেন, ‘গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে। সেই থেকে বিদেশে পাট রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। এ কারণে খুলনা এবং নারায়ণগঞ্জের লক্ষাধিক প্রেস এবং বেলিং শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। কাজ বন্ধ থাকায় আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে দারুণ অর্থাভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছি।’
তারা বলেন, ‘খুলনার দৌলতপুর হচ্ছে পাট রপ্তানিকারক জোন। এই এলাকায় উল্লেখযোগ্য শ্রমিকের বাসস্থান। পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় গত ১৭ মে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়ায় কাঁচা পাট বিদেশে রপ্তানি দেওয়া সম্ভব নয়। এরই প্রতিবাদে আমরা দৌলতপুর জুট প্রেস ও বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের শ্রমিকরা দাবি আদায়ে আন্দোলনে নেমেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’
আদর করে নাম রাখা হয়েছিল ‘ভোলা’। শান্ত স্বভাব আর সরল আচরণে পরিবারের সদস্যের মতোই জায়গা করে নিয়েছে সে। দেখতে দেখতে খামারের ছোট্ট বাছুরটি এখন প্রায় ৪০ মণ ওজনের বিশাল আকৃতির এক ষাঁড়ে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ পাঁচ বছরের যত্ন আর ভালোবাসায় বেড়ে ওঠা হলিস্টান ফ্রিজিয়ান জাতের এই গরুটি এবার কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বিক্রির জন্য প্রস্তুত। দাম হাঁকা হয়েছে ৮ লাখ টাকা।
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার তিলাবুদুরী গ্রামের খামারি জাহাঙ্গীর আলমের গোয়াল ঘরেই জন্ম হয়েছিল ভোলার। জন্মের পর থেকেই পরম মমতা আর যত্নে তাকে বড় করে তুলেছেন জাহাঙ্গীর আলম ও তার দুই ছেলে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সদস্যের মতোই সবার আপন হয়ে ওঠে ভোলা। গত বছরের কোরবানির ঈদে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় এবার নতুন আশায় ভোলাকে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ভোলার দেখভালেই ব্যস্ত থাকেন পরিবারের সদস্যরা।
খামারি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ভোলাকে বড় করে তুলতে কম ত্যাগ স্বীকার করতে হয়নি খামারি পরিবারকে।’ জাহাঙ্গীর আলম জানান, গরুটির খাবার ও পরিচর্যায় ব্যয় হয়েছে বিপুল অর্থ। প্রতিদিন ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকার খাবার খায় ভোলা। ভুষি, খৈল, ফিড ও খড়ের পাশাপাশি প্রতিদিন কলাও খেতে হয় তাকে। নিজের শখ আর ভালোবাসা থেকে খামারের পাশের বাগান থেকেই কলা এনে খাওয়ানো হয় ভোলাকে।
জাহাঙ্গীর বলেন, ‘গত বছর ঈদের জন্য হাটে তুলেছিলাম দাম ভালো পাইনি তাই এবার আবার বিক্রি করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। ৬ থেকে ৭ লাখ পর্যন্ত দাম বলছে অনেকে তবে ৮ লাখ হলে বিক্রি করব।’
ভোলার বিশাল আকৃতি দেখতে প্রতিদিনই জাহাঙ্গীর আলমের খামারে ভিড় করছেন আশপাশের মানুষ। স্থানীয়দের দাবি, এত বড় গরু এর আগে খুব কমই দেখেছেন তারা। স্থানীয় মুসছুর রহমান ও জয়নাল হোসেন বলেন, ‘এত বড় ষাঁড় আমরা আগে কখনো দেখিনি। দীর্ঘদিনের শ্রম, মমতা আর ব্যয়ের যথাযথ মূল্য যেন পাক খামারি সেই প্রত্যাশাই আমাদের।’
আত্রাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু আনাস বলেন, ‘বর্তমানে বাজারে অতিরিক্ত বড় গরুর চাহিদা তুলনামূলক কম। কোরবানির ঈদে সাধারণ ক্রেতারা এত বড় গরু কিনতে অনেক সময় আগ্রহ দেখান না। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে খামারিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে গরু বিক্রির উপযুক্ত বয়স ও ওজন হলেই দ্রুত বাজারজাত করতে। এতে দীর্ঘমেয়াদে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে। পাশাপাশি খামারিদের লাভজনক ও আধুনিক পদ্ধতিতে গবাদিপশু পালনে উদ্বুদ্ধ করতে নিয়মিত কাজ করছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।’
সাতক্ষীরার সুন্দরবন ঘেঁষা উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগরের গাবুরায় সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে একটি বিদ্যুতের খুঁটি। আপাতদৃষ্টিতে এটি কেবলই একটি খুঁটি মনে হলেও, স্থানীয় হাজারো মানুষের জন্য এটি এখন এক চরম আতঙ্কের নাম। গাবুরা ১০ নং সোরা সড়কের ঠিক মাঝ বরাবর এই খুঁটির অবস্থান হওয়ায় প্রতিনিয়ত চরম অস্বস্তি ও ঝুঁকির মধ্য দিয়ে চলাচল করছেন পথচারী ও যানবাহনচালকরা। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় দিন কাটছে এলাকাবাসীর।
স্থানীয় সচেতন মহল এবং সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চাইছেন। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনার জন্য তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সমন্বয়হীনতা নাকি অবহেলা: স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেক আগে থেকেই খুঁটিটি সরিয়ে রাস্তার পাশে স্থাপন করার জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও কোনো কাজ হয়নি। তবে এই সংকটের পেছনে উঠে এসেছে সরকারি দুই দপ্তরের চরম সমন্বয়হীনতার চিত্র।
গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপি নেতা মাসুদ আলম জানান, মূল সমস্যাটি তৈরি হয়েছে রাস্তা ও খাল সংস্কারের পর। তিনি বলেন, ‘খাল খননের পূর্বে খুঁটিটি রাস্তার মাঝখানে ছিল না, পাশেই ছিল। কিন্তু খাল খনন করার ফলে খাল ও রাস্তা উভয়ই প্রশস্ত হয়। যার কারণে খুঁটিটি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে রাস্তার মাঝ বরাবর চলে আসে। বিষয়টি বুঝতে পেরে আমি তৎক্ষণাৎ বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে জানাই এবং এটি স্থানান্তরের অনুরোধ করি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তখন বিষয়টি কোনো গুরুত্বই পায়নি।’
তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমানে সাধারণ জনগণ এই ভুলের খেসারত দিচ্ছে। তাই জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত খুঁটিটি স্থানান্তরের জন্য তিনি পুনরায় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
পথচারী রফিক গাইন নিজের ক্ষোভ ও আতঙ্ক প্রকাশ করে বলেন, ‘রাতে এই রাস্তায় চলাচল করতে প্রচণ্ড ভয় লাগে। কারণ চলতে চলতে সামান্য বেখেয়াল হলেই বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা লাগবে, নতুবা বাঁচার জন্য ডানে-বামে সরতে গেলে খালের মধ্যে পড়তে হবে। বিশেষ করে কুয়াশাচ্ছন্ন রাত বা ঝড়-বৃষ্টির দিনে এই ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
দাপ্তরিক নিয়মের বেড়াজাল: জনগণের এই চরম ভোগান্তি ও জীবনঝুঁকির বিষয়ে সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আজিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাপ্তরিক নিয়মের দোহাই দেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম আছে, আমরা সেই নিয়ম অনুসারেই কাজ করি। আমরা যখন বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন করেছিলাম, তখন ওখানে কোনো রাস্তা ছিল না। তবে সড়ক বিভাগ যদি আমাদের কাছে এ বিষয়ে লিখিতভাবে জানায়, তাহলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি: একটি খুঁটি সরানোর মতো সাধারণ বিষয় যখন দাপ্তরিক চিঠির অপেক্ষায় ঝুলে থাকে, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বড় প্রশ্নের মুখে পড়ে। বড় কোনো প্রাণহানি বা দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও স্থানীয় সড়ক বিভাগের উচিত যৌথ উদ্যোগে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা। জনস্বার্থে এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত খুঁটিটি রাস্তার পাশে সরিয়ে নেওয়াই এখন গাবুরাবাসীর একমাত্র দাবি।