স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে কর্মস্থল ময়মনসিংহের পথে রওনা হয়েছিলেন আনোয়ার হোসেন। বগুড়ার তিনমাথা এলাকায় পৌঁছাতেই পুলিশ থামিয়ে দিয়েছে সেই বাস। নামিয়ে দিয়েছে যাত্রীদের। মাঘ মাস হলেও বেলা ১টায় সূর্য যখন ঠিক মাথার ওপর, সেই সময়টিতে আনোয়ার হোসেনকে পাশে স্ত্রী আর কোলে বাচ্চা নিয়ে উদ্বাস্তুর মতো দাঁড়িয়ে থাকতে হয় মহাসড়কে।
দিনাজপুর থেকে আসা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘যেই বাসে চড়ে ময়মনসিংহে যাচ্ছিলাম, পুলিশ সদস্যরা ওই বাসটি জব্দ করে নিয়ে গেছে। বাসে প্রায় অর্ধশত যাত্রী ছিল, সবাইকে নামিয়ে দিয়েছে। ঘণ্টাখানেক হলো এখানে দাঁড়িয়ে আছি। কিছু পাচ্ছি না।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়া শহরের তিনমাথা নিরালা পাম্প এলাকার বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কের প্রথম বাইপাসে গিয়ে দেখা যায় এমন চিত্র। সেখানে আনোয়ার হোসেনের মতো আরও প্রায় অর্ধশত যাত্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পরিবার-পরিজনসহ সবাইকে এভাবে বাস থেকে রাস্তায় নামিয়ে দেয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ সবাই।
বাধ্য হয়ে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে অধৈর্য যাত্রীরা যা বললেন তার সারমর্ম এ রকম, ‘মাঝপথে এভাবে নামিয়ে দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে রাখা মানে গায়ে পড়ে হয়রানি করা। পরিবার ও বেডিংপত্র নিয়ে রাস্তায় দিশেহারার মতো দাঁড়িয়ে আছি। চারপাশের রাস্তার ধুলায় দম বন্ধ হয়ে আসছে। কিছু বলারও নেই। শক্তি থাকলে সবাই প্রয়োগ করে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিভাগীয় জনসভা। সেখানে নিরাপত্তা দিতে কাজ করবেন বগুড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা। আর তাদের যাতায়াতের জন্য প্রয়োজন ছয়টি বাস। সেই বাস সংগ্রহ করতেই মহাসড়কে নেমেছে পুলিশ, রাস্তায় যাত্রী নামিয়ে দিয়ে বাসগুলো রিকুইজিশনে জব্দ করছে। ভুক্তভোগী যাত্রীরা বলছেন, বগুড়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের অবস্থান ওই তিনমাথা থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরত্বে। সেখানে গিয়ে থেমে থাকা বাসগুলো রিকুইজিশন করলে অন্তত যাত্রাপথে থাকা যাত্রীদের ভোগান্তি হতো না।
তিনমাথার নিরালা পাম্প এলাকায় গিয়ে একাধিক বাসের অন্তত ৫০ জন যাত্রীকে দেখা গেল সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে। কেউ মালামাল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, কেউ রাস্তার ওপর বসে পড়েছেন। অনেকে রিকশা-ভ্যান খোঁজার চেষ্টা করছেন, যেন সামনে কিছুটা এগিয়ে যাওয়া যায়। পাশেই বগুড়া জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের দুই কর্মকর্তা ও এপিবিএনের দুই সদস্যকে মহাসড়ক দিয়ে ঢাকাগামী বাসগুলো থামিয়ে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করতে দেখা গেল।
এ সময় কয়েকজন বাসযাত্রীর সঙ্গে কথা হয় দৈনিক বাংলার। তাদের একজন জহুরুল ইসলাম, পেশায় কাপড় ব্যবসায়ী। পাঁচ সহযোগীকে নিয়ে কাপড় বিক্রি করতে গিয়েছিলেন দিনাজপুরে। সেখান থেকে বাসে ফিরছিলেন টাঙ্গাইলে। কিছু মালামালও ছিল সঙ্গে। পথে বগুড়ার তিনমাথায় তাদের নামিয়ে দেয় পুলিশ।
জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমিসহ বাসের সব যাত্রীকে নামিয়ে দিয়েছে। ড্রাইভার সব কাগজ দেখিয়ে পুলিশদের অনেক অনুরোধ করেছিল। তবু গাড়ি ধরে নিয়ে গেছে। আমি তো মূর্খ মানুষ, এত কিছু বুঝি না। শুধু বুঝি, এই দুপুরে ঘণ্টাখানেক হলো রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি। আজ রোদও বেশি, ক্ষুধাও লেগেছে অনেক। এই মালামাল নিয়ে কই যাব এখন?’
ঠাকুরগাঁও থেকে ময়মনসিংহ যাচ্ছিলেন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ফারজানা রহমান। তিনি বলেন, ‘একাই রওনা দিয়েছিলাম। এখন ১ ঘণ্টা হলো রাস্তায় দাঁড়িয়ে। বাসায় বলার সাহস পাচ্ছি না। জানলে আম্মু-আব্বু টেনশনে জ্ঞান হারাবে। ওনারা সরকারি কাজে গাড়ি জব্দ করবেন ভালো কথা, তবে এভাবে মাঝপথে কেন? এখন কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না। ওনারা বলেছেন অন্য গাড়িতে উঠিয়ে দেবেন।’
পরে অবশ্য যাত্রীদের অন্য বাস পেতে সহযোগিতা করেছে পুলিশ। তবে সে ক্ষেত্রেও স্বাভাবিকভাবেই বেগ পেতে হয়েছে। কারণ মহাসড়কে আন্তজেলা বা দূরপাল্লার বাসগুলোতে মাঝপথে ফাঁকা আসন পাওয়া যায় না বললেই চলে। সে কারণেই রিকুইজিশন করা বাসগুলো থেকে নামিয়ে দেয়া যাত্রীদের বাস পেতেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।
জানতে চাইলে বগুড়ার ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) মাহাবুবর রশিদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘রাজশাহীতে সমাবেশে আসবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে এপিবিএন সদস্যরা ডিউটিতে যাবেন। তাদের যাতায়াতে ছয়টি বাস প্রয়োজন। সেগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে। চারটি বাস এরই মধ্যে রিকুইজিশন করা হয়েছে।’
মহাসড়কে মাঝপথে বাস থামিয়ে রিকুইজিশন নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে যাত্রীদের অসুবিধার কথা স্বীকার করে নিলেন পুলিশের এ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘সাময়িকভাবে কিছু অসুবিধা হয়েছে যাত্রীদের। তবে পরের বাসগুলোতে আমরাই তাদের উঠিয়ে দিচ্ছি।’
অদূরেই টার্মিনাল রয়েছে- জানাতেই মাহাবুবর রশিদ বলেন, ‘মহাসড়ক ছাড়া টার্মিনালে গিয়ে বাস রিকুইজিশন করা সম্ভব হয় না। সেখানে পরিবহনসংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে সহযোগিতা করেন না।’
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম তুহিন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এটি আইনের মধ্যে না থাকলে রাস্তায় যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে বাস রিকুইজিশন করা মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে। এই ব্যবস্থাটার পরিবর্তন হওয়া উচিত। রাষ্ট্রের অনেক অর্থ আছে, ব্যয়ের খাত আছে। সাধারণ মানুষ কোথাও ভ্রমণ করতে গেলে গাড়ি ভাড়া করে। তেমনি সরকারি দপ্তরের লোকজনও গাড়ি ভাড়া করে গন্তব্যে যাবে।’
জানতে চাইলে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) হেলেনা আকতার দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘রাস্তায় যাত্রী নামিয়ে গাড়ি রিকুইজিশন করার কথা নয়। তবে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশের জন্য এপিবিএন সদস্যরা আগামীকাল রওনা দেবেন। এ জন্য গাড়ি জরুরি ছিল। রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে আমাদের এ কাজ করতে হয়েছে।’
দক্ষিণে ব্রহ্মপুত্র নদ। উত্তরে দেওয়ানগঞ্জের বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের খুঠারচর, সরদারপাড়া, কুতুবেরচর, পূর্ববাহাদুরাবাদ, নাজিরপুর ও ঝালরচর। গ্রামগুলোর অন্তত ৫হাজার একর জমি বর্ষা থেকে শরতের শেষ অব্দি সময় দীর্ঘদিন থেকে জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত থাকে। জমিগুলোতে বছরের শুষ্ক মৌসুমে শুধুমাত্র রবি মৌসুমে ফসলের চাষ হয়। শরৎ হেমন্তে ঘরে তোলা খরিপ-২ মৌসুমে রোপা আমন বা অন্য ফসলের চাষ হয় না। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কয়েক হাজার কৃষক।
জলাবদ্ধতার চলমান এই দুরাবস্থা দূর করে জমিগুলোকে বছরে দুই বা ততোধিক ফসল চাষের আওতায় আনতে খালের মতো নালা কেটে প্রবাহের পথ বের করে পানি অপসারণের উদ্যোগ নিলেন স্থানীয় উপজেলা প্রসাশন। আনুষ্ঠানিক ভাবে খুঠারচরের কাছে পোল্যাকান্দি এলাকায় ব্রহ্মপুত্রের বামতীরে নালা কাটার কাজ উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ জহুরুল হোসেন।
স্থানীয়রা জানায়, বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের খুঠারচর, সরদারপাড়া, পূর্ববাহাদুরাবাদ, নাজিরপুর ও ঝালরচরের বিস্তির্ণ অঞ্চল বর্ষা মৌসুম থেকে শরৎ পর্যন্ত পানিতে ডুকে থাকে। এ জমিগুলোতে বছরে রবি বা বোরো মৌসুমে একটি ফসলের চাষ হয়। শরৎ হেমন্তের ফসল খরিপ-২ মৌসুমে রোপা আমন বা অন্য ফসলের চাষ হয় না অধিকাংশ জমিগুলোতে। জলাবদ্ধতার কারণে সে সময় অনাবাদি হয়ে পড়ে থাকে জমিগুলো। এতে প্রতিবছর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শত শত চাষি। তবে জমিগুলোর মাটি বেলে দো-আঁশ প্রকৃতির। মাটির গুণ বিচারে খরিপ-২ বা রোপা আমন মৌসুমে এখানে অল্প ব্যয়ে অধিক ফসল উৎপাদনের কথা।
উপজেলা পরিষদ সূত্র জানায়, নালার দৈর্ঘ্য হবে ২৫০ মিটার ও প্রস্থ হবে ১০ ফুট এবং গভীরতা হবে ৫ ফুট। লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ের জলাবদ্ধতা দূরীকরণের নালা কাটা কাজটির অর্থ জোগান দেবে উপজেলা প্রশাসনের এডিবি প্রকল্প থেকে। কাজটি সম্পন্ন করতে সময় লাগবে তিন থেকে চার দিন। সূত্রটি আরো জানায়, স্বল্প ব্যয়ে কঠিন কাজের সহজ সমাধানের প্রয়াস এটি।
জলাবদ্ধতা নিরসনে নালা কাটার কাজ উদ্বোধনকালে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ সাদা, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ হাবীব পলিন, উপজেলা প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ খবিরুজ্জামান খান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আল মামুন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছাইম উদ্দিন, বাহাদুরাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান শাজাহান মিয়া, বাহাদুরাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আনম মুছা আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা প্রমূখ।
খুঠারচর গ্রামের বাসিন্দা নান্ডা মিয়া জানান, এ জমিগুলো বছরে একটি ফসলের চাষ হয়ে আসছে। বর্ষার শেষে খরিপ-২ মৌসুমে রোপা আমন বা অন্য ফলের চাষ এখানে হয় না। জলাবদ্ধ জমির পাশের জমিগুলোতে খরিপ-২ মৌসুমে রোপা আমনসহ মৌসুমী সবজীর চাষ হয়। এতে কৃষকেরা ব্যাপক লাভবান হয়। জলাবদ্ধতা নিরসন হলে অর্ধপতিত জমিগুলো থেকে কৃষকের ব্যাপক লাভবান হবেন। উপজেলা প্রশাসনের জলাবদ্ধতা দূরীকরণের এই উদ্যোগে এ অঞ্চলের চাষিরা খুবই আনন্দিত।
সরদার পাড়া গ্রামের বাসিন্দা জমসেদ আলীর ভাষ্য, জলাবদ্ধতার কারণে সরদার পাড়া গ্রামের শতাধিক চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা বছরে শুধুমাত্র একটিমাত্র ফসলের চাষ করে থাকেন। তাতে সংসার চলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। নালা কেটে পানি নিষ্কাসন করা হলে জমিগুলোতে খরিপ-২ মৌসুমে রোপা আমনসহ মৌসুমী সবজীর চাষ হবে। এতে অনেক উপকৃত হবে তারা। তিনি ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগে খুব খুর্শি।
বাহাদুরবাদ গ্রামের চাষি হাবিবুর রহমান বলেন, সরদারপাড়া হয়ে উত্তরে ঝালরচর পর্যন্ত কয়েক হাজার একর জমি প্রতিবছর বর্ষা থেকে শরৎকাল অব্দি পানিতে নিমজ্জিত থাকে। এ জমিগুলোতে রোপা আমন চাষ হয় না। উপজেলা প্রশাসন খালের মতো নালা কেটে এই জমিগুলোর পানি নিষ্কাসনের কাজ শুরু করেছে। এতে আমার মতো শত শত চাষি উপকৃত হবেন। ওই জমিতে গুলোতে বছর দুই বা ততোধিক ফসল চাষ করা যাবে।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ সাদা বলেন, বাহাদুরাবাদের জলাবদ্ধ জমি থেকে পানি নিষ্কাসন করা হলে ওই জমিগুলোতে বছরে দুই বা ততোধিক ফসলের চাষ হবে। উপকৃত হবে কয়েক শত কৃষক। ওই অঞ্চলের অর্ধপতিত জমির জলাবদ্ধতা দূরীকরণের প্রকল্প শুরু করাতে এ অঞ্চলের চাষিরা খুব আনন্দিত।
কথা হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ জহুরুল হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা দূর করে জমিগুলোকে সারা বছর ফসল চাষের উপযোগী করা যায়, হঠাৎ এই ধারণা মাথায় আসে। ধারণা অনুযায়ী আজ তার উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে অন্তত পাঁচ হাজার একর জমি সারা বছর ফসল চাষের আওতায় আসবে। এতে এ অঞ্চলের শত শত চাষে উপকৃত হবেন।
‘রুপালী মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬-এর সমাপনী দিনে যশোরের কেশবপুরে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, মূল্যায়ন ও সমাপনী অনুষ্ঠান মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাসের সঞ্চালনায় ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) কাজী মো. মেশকাতুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, প্রেসক্লাব কেশবপুরের সভাপতি ওয়াজেদ খান ডবলু, কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনার রশীদ বুলবুল এবং উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আনজু মনোয়ারা বেগম।
সভাপতির বক্তব্যে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) কাজী মো. মেশকাতুল ইসলাম বলেন, ‘মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। জলাশয়, নদী-খাল ও অন্যান্য প্রাকৃতিক জলাধারের পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি দেশীয় মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সংরক্ষণে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও জলাশয়ের পরিবেশ সংরক্ষণে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রেসক্লাব কেশবপুরের সভাপতি ওয়াজেদ খান ডবলু বলেন, ‘মৎস্যসম্পদ দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এ খাত বিপুল মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে।’
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস বলেন, ‘মৎস্যসম্পদ শুধু আমাদের খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে না, এটি দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবিকার সঙ্গেও সরাসরি সম্পৃক্ত। মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’
আলোচনা শেষে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন গ্রুপে বিজয়ীদের মাঝে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ কারেন্ট জাল, চায়না জাল ও গাঁজা জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জব্দ করা মালামাল ও মাদকদ্রব্যের মোট আনুমানিক সিজার মূল্য ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৩২ হাজার ৫০০ টাকা।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ১৬ আগস্ট রাত ১০টার দিকে কুষ্টিয়া দৌলতপুর সিমান্তের চিলমারি ইউনিয়নের চরচিলমারী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পদ্মা নদীতে বিজিবির একটি টহল দল দেশীয় নৌকা ও স্পিডবোটযোগে অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ কারেন্ট জাল ও চায়না জাল জব্দ করে।
পরে কুষ্টিয়ার মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে জব্দ করা ভারতীয় ৫ হাজার ৫০ কেজি কারেন্ট জাল এবং চায়না জাল ৪ হাজার ৮৪৫ কেজি ব্যাটালিয়ন সদরে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। যার সিজার মূল্য ৫ কোটি ৭৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
এদিকে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে মেহেরপুরের গাংনী সিমান্তের রংমহল বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে বিজিবি। সীমান্ত পিলার ১৩৭/২-এস থেকে প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রংমহল এলাকায় মালিকবিহীন অবস্থায় সিজার মূল্য ৫২ হাজার ৫০০ টাকার গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানিয়েছে, সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, মাদকদ্রব্যের অনুপ্রবেশ রোধ এবং অবৈধভাবে মৎস্য আহরণ প্রতিহত করতে তাদের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
৬৬ বছরে পদার্পণ করেছে দেশের কৃষি শিক্ষার আঁতুড়ঘর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। এ উপলক্ষে আনন্দ র্যালি, বৃক্ষরোপণ ও মাছের পোনা অবমুক্তকরণসহ নানা বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া আনন্দ র্যালির উদ্বোধন করেন। র্যালিটি প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেনের সামনে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলিপ্যাডে গিয়ে শেষ হয়। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।
র্যালি শেষে হেলিপ্যাডে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে কবুতর ও বেলুন উড্ডয়নের মাধ্যমে দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।
প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন কমিটির উদ্যোগে হেলিপ্যাডসংলগ্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। আবাসিক হলগুলোতে বৃক্ষরোপণের জন্য হল প্রাধ্যক্ষদের হাতে চারা গাছও তুলে দেওয়া হয়।
বাকৃবির ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হকের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। এ সময় রেজিস্ট্রার ড. মো. হেলাল উদ্দীন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম, বাকৃবি সোনালি দলের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম ভূঁঞাসহ বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া তার ভাষণে ১৯৫২, ১৯৬৯, ১৯৭১, ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও সংস্কারের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি জানান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে বিশ্বপরিসরে একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৬১,৬৯৯ জন অ্যালামনাই দেশ-বিদেশে প্রশাসন, গবেষণা, শিক্ষা এবং শান্তিরক্ষা মিশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন।
তিনি আরও জানান, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা অ্যালামনাইদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে বিশ্ববিদ্যালয় শিগগিরই একটি অফিসিয়াল অ্যালামনাই পোর্টাল চালু করবে। এ সময় তিনি সততা, একাগ্রতা ও নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জনকে আরও সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান।
হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সদস্যসচিব মাহদী হাসানসহ তিনজনকে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টা আটকে রাখার পর মুচলেকা নিয়ে মুক্তি দিয়েছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে তাঁদের থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর আগে গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে শহরের কোর্ট মসজিদ এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়েছিল।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিভাবকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং মুচলেকা প্রদানের মাধ্যমে মাহদী হাসান ও সংগঠনের অপর দুই সদস্য মীর্জা সুমন ও রাজু আহমেদকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
থানা থেকে বের হয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের মুখোমুখি হয়ে মাহদী হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পুলিশ মুখে বলে আমার নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে আমাকে থানায় রেখেছে। অথচ যারা আমার জন্য হুমকি, তাদের কিছুই করল না। আমাকে ২১ ঘণ্টা আটকে রেখে অন্য রকম শাস্তি দিল।’
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এক জনসভায় বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন মাহদী হাসান। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম।’ ওই বক্তব্যের জেরে পুলিশ তাঁকে সেবারও আটক করেছিল, যদিও পরে তিনি ছাড়া পান।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গতকাল বিকেলে হবিগঞ্জ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে কোর্ট মসজিদের সামনে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হচ্ছিল। প্রস্তুতির একপর্যায়ে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার একদল পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে মাহদী হাসানসহ তিনজনকে হেফাজতে নেয়। এ সময় সংগঠনের উপস্থিত নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ করতে চাইলে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে মাহদী হাসানের পিতা তৈয়বুর রহমানসহ আটক অন্য দুই সদস্যের অভিভাবকরা থানায় উপস্থিত হন। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও মুচলেকা প্রদান শেষে বিকেল তিনটার দিকে তাঁদের ছাড়িয়ে নেওয়া হয়।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক তিনজনের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাঁদের অভিভাবকেরা মুচলেকা দিয়ে তাঁদের নিয়ে গেছেন। তবে ওই মুচলেকায় ঠিক কী শর্ত বা বক্তব্য লেখা ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।
টাঙ্গাইলের সখীপুরে অসুস্থ অবস্থায় রাস্তায় ফেলে যাওয়া জামাল উদ্দিন (৫৫) আর নেই। গত সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকাল ৩টা ১৫ মিনিটে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
জামাল উদ্দিনের ভাতিজিজামাই শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত ১ আগস্ট রাতে অসুস্থ জামাল উদ্দিনকে গাড়িতে করে সখীপুরের কালমেঘা গ্রামের পৈতৃক বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। পরদিন স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শাহ আলমের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সম্ভব হয়নি।
শাহ আলম বলেন, ‘জামাল উদ্দিন মূলত কিডনির জটিল রোগে ভুগছিলেন। চিকিৎসার জন্য লাখ লাখ টাকা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে সেই ব্যয় বহন করা সম্ভব হয়নি।’
জানা যায়, জামাল উদ্দিন কালমেঘা গ্রামের ফজর আলীর ছেলে। প্রায় ১৪ বছর আগে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে স্ত্রী রিনা আক্তারের সঙ্গে গাজীপুরের শ্রীপুরে শ্বশুরবাড়ির এলাকায় বসবাস শুরু করেন। পরে প্রায় ১০ বছর সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটান। স্থানীয়দের দাবি, প্রবাসে উপার্জিত অর্থের বেশিরভাগই তিনি স্ত্রী-সন্তানের জন্য ব্যয় করেছেন।
প্রায় চার মাস আগে দেশে ফেরার পর পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি হয়। পরে ছেলে আবু রায়হানের সঙ্গে গাজীপুরে থাকতেন তিনি। সেখানেই তার কিডনি জটিলতাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ধরা পড়ে।
অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসার পরিবর্তে তাকে গাড়িতে করে সখীপুরের পৈতৃক বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানান। বাড়ির সামনে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকা জামাল উদ্দিনকে উদ্ধারের পর বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
গত সোমবার (১৭ আগস্ট) তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফেরদৌস স্টিল রিসাইক্লিং শিপ ইয়ার্ডের সেই পুরনো জাহাজটি বিষাক্ত গ্যাসমুক্ত করতে এবার অনিক মেরিন ও প্রান্তিক মেরিন নামের দুই বেসরকারি উদ্ধারকারী কোম্পানির সহায়তা নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের সেই জাহাজটি দুই বেসরকারি উদ্ধারকারী কোম্পানি পরিদর্শন করে নমুণা সংগ্রহ করেছেন। এই দুই প্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গ ‘ঝুঁকি প্রশমন পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে বলে জানা গেছে।
বেসরকারি কোম্পানির সহায়তা কেন জানতে চাইলে বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের মহাপরিচালক এ এস এম শফিউল আলম তালুকদার বলেন, বেসরকারি হলেও দেশে-বিদেশে রেসকিউ কোম্পানি হিসেবে তাদের সুনাম আছে। তারা আগেও সফলভাবে এরকম পরিস্থিতি সামলেছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুই উদ্ধারকারী কোম্পানি জাহাজের গ্যাস অপসারণে একটি খসড়া পরিকল্পনা দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, মঙ্গলবার তারা আবার নিজস্ব যন্ত্রপাতি নিয়ে ঘটনাস্থলে যাবে। গ্যাসের উপস্থিতি ও তীব্রতা পরিমাপ শেষে বিস্তারিত মিটিগেশন প্ল্যান আমাদের জানাবে। এরপর করণীয় নির্ধারণ করা হবে। কোনো ধরনের ঝুঁকি ছাড়া শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আমরা জাহাজটি গ্যাসমুক্ত করতে চাই। এরপর কোম্পানি দুটির কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব পর্যালোচনা করে কারা কাজ করবে তা ঠিক করবে বিশেষজ্ঞ কমিটি। ঝুঁকি প্রশমন পরিকল্পনায় জাহাজটি বিষাক্ত গ্যাসমুক্ত করা, ব্যালাস্ট ট্যাংকের (জাহাজের জলাধার) পানি অপসারণ ও স্লাজযুক্ত পানি অপসারণ–এই তিনটি বিষয় বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে জানান শফিউল আলম তালুকদার।
ব্যালাস্ট ট্যাংকের ভেতরে এত বেশি মাত্রায় হাইড্রোজেন সালফাইড কীভাবে তৈরি হল, সে বিষয়ে তদন্ত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ট্যাংকের ভেতরে কোনো জৈব পদার্থ, পয়ঃবর্জ্য, স্লাজ বা অন্য কোনো দূষিত পদার্থ ঢুকেছিল কিনা, তা পরীক্ষা করা হবে। সেখানে স্লাজ বা পয়ঃবর্জ্য থেকে থাকলে তা কীভাবে এল তাও দেখা হবে।এদিকে এ দুর্ঘটনায় তদন্ত কমিটি ঘটনার তিন দিন পর দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজের ভেতরে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে ফেরদৌস স্টিল শিপ ইয়ার্ডে গ্যাসের বিষক্রিয়ায় ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় চার দিন পর পুলিশ বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করেছেন। নিহত বা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ মামলা করতে না আসায় সোমবার সীতাকুণ্ড মডেল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় ৯ জনের প্রাণহানি ঘটলেও কোনো পরিবার অভিযোগ নিয়ে আসেনি। এ কারণে পুলিশ বাদী হয়ে অপমৃত্যু মামলা করেছে। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপরদিকে গেল সোমবার বিকেলে শিল্প মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও বিএসবিআরএ গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দুর্ঘটনাস্থলে প্রবেশ করেন। তদন্ত দলের সঙ্গে ঢাকা থেকে আসা বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ, পরিবেশ ও নৌ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তর, বিস্ফোরক অধিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারাও তদন্ত দলের সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত টিমের প্রধান ও এ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী সোমবার জানিয়েছিলেন, শিল্প মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত টিম রোববার সকাল থেকে ইয়ার্ডে এসে তদন্তে শুরু করেছে। জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাংকারে থাকে পানি। ওখানে বিষাক্ত গ্যাসের পরিমাপ খুবই বেশি।
প্রান্তিক ও আলিফ নামে দুই প্রতিষ্ঠানের উদ্ধারকারী টিম গ্যাসের পরিমাণ নির্ণয় করার পর কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তা বিস্তারিত বলা যাবে। তবে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে জাহাজটির ব্যালাস্ট ট্যাংকে (জলাধার) বিপজ্জনক মাত্রায় গ্যাস জমে ছিল। সেখান থেকে বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস ছড়িয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
তদন্তে যুক্ত এইচআর শিপ ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা সোমবার সকাল থেকে জাহাজটিতে তদন্ত শুরু করেছি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত বলা যাবে না।’
এর আগে শিল্প মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও জাহাজের ভেতরে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের ঝুঁকির কারণে কোনো কমিটির সদস্যই দুর্ঘটনাস্থলে যেতে পারেননি।
বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের (বিএসআরবি) মহাপরিচালক এ এস এম শফিউল আলম তালুকদার বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয় গঠিত বিশেষজ্ঞ দলসহ অন্যান্য তদন্ত কমিটির সদস্যরা সোমবার সকাল থেকে ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ড পরিদর্শন করেছেন। জাহাজে কোনো বিষাক্ত গ্যাস রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধান করা হয়েছে।
বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটির বিভিন্ন চেম্বারে এখনো বিষাক্ত গ্যাস থাকার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে হাইড্রোজেন সালফাইডের তীব্রতা ও বিষক্রিয়ার ঝুঁকির কারণে নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে তদন্তকারীদের জাহাজের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
শিল্প মন্ত্রণালয় বুয়েটের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. ইয়াসির আরাফাত খানের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি বিশেষায়িত বিশেষজ্ঞ দল গঠন করে। গত সোমবার থেকে বিশেষজ্ঞ দলটিও কাজ শুরু করেছে।
গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল নয়টার দিকে ভাটিয়ারীর স্টেশন রোড এলাকায় ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে একটি স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর আহত কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
কুমিল্লায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যার দায়ে মো. আজাদ নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সুলতান উদ্দীন প্রধান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আজাদ আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, দণ্ডপ্রাপ্ত মো. আজাদ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের মো. কবির হোসেনের ছেলে। পারিবারিক কলহের জেরে ২০২৩ সালের ২৭ জুলাই রাতে তার স্ত্রী ও তিন সন্তানের জননী তানিয়া বেগমকে হাতে-পায়ে বৈদ্যুতিক তার জড়িয়ে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত তানিয়া বেগমের মা মায়া বেগম বাদী হয়ে জামাতা মো. আজাদকে আসামি করে চৌদ্দগ্রাম থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পাশাপাশি নিহত তানিয়া বেগমের ময়নাতদন্ত করা হয়। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে তার মৃত্যুর ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আজাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার বিচারিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন নথি ও তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামি আজাদকে দোষী সাব্যস্ত করেন। পরে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
রায় ঘোষণার পর নিহতের স্বজনরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর এ রায়ের মাধ্যমে তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন। একই সঙ্গে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান তারা।
দলিল লেখকদের পেশাগত অধিকার ও মর্যাদা রক্ষাসহ ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি ফরিদপুর জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে সংগঠনের পক্ষ থেকে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
এ সময় বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম সহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত না করা, প্রতিটি দলিলের বিপরীতে ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা বাস্তবায়ন এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক ছাড়া অন্য কাউকে দলিলের মুসাবিদা ও রেজিস্ট্রেশনের জন্য দাখিলের সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এছাড়া থানা, জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সুপারিশ ছাড়া অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দলিল লেখার লাইসেন্স প্রদান না করা, থানা ও জেলা কার্যালয়ে সরকারি খরচে দলিল লেখকদের বসার স্থান ও নামাজের জায়গা নির্মাণ এবং পক্ষগণের সরবরাহ করা কাগজপত্রের ভিত্তিতে দলিল প্রস্তুত করার কারণে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত দলিল লেখকদের আসামি না করার দাবি জানানো হয়েছে। স্মারকলিপিতে দলিল লেখক কাউন্সিল গঠনের অনুমতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলিল লেখকরা মানুষের জমি-জমা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাদের পেশাগত অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ সময় তারা সরকারের কাছে দ্রুত ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
সাইফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. এ রশিদ এবং মহাসচিব কে. এস. হোসেন টমাসের নেতৃত্বে এসব দাবি বাস্তবায়নে সারাদেশের দলিল লেখকেরা আজ ঐক্যবদ্ধ। সরকার দলিল লেখকদের যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাতক্ষীরা সদর থানা হাজতের ভেতরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমানকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় ডিউটি অফিসার পিংকি রায় ও সহকারী ডিউটি অফিসার এনিভা খাতুনকেও বদলি করা হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ এ সিদ্ধান্ত নেয়।
এর আগে, গত ১৫ আগস্ট সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর এলাকা থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আকতার হোসেন, কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মাস্টার শফিকুল ইসলাম, জেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন এবং পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ মোস্তাফিজুর রহমান শোভনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এরপর অভিযোগ ওঠে, থানার ভেতরে ওসির বিশেষ অনুমতি নিয়ে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী হাজতের সামনে গিয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ভিডিও ধারণ করেন। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে জেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনকে হাজতের ভেতর থেকে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আজ ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পুলিশ আমাদের অন্যায়ভাবে ধরে নিয়ে এসেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’ এ সময় তাকে ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দিতেও দেখা যায়।
সাতক্ষীরা সদর থানার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গত ১৫ আগস্ট দুপুর দুইটার দিকে জেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আলমগীর কবিরসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী থানায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় আর্জেন্টিনার জার্সি পরা এক ব্যক্তি থানায় এসে অনুমতি নিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন এবং ভিডিও ধারণ করেন। ঘটনাটির ভিডিও থানার সিসিটিভি ক্যামেরায় সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
এ ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মাসুদুর রহমানকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডিউটি অফিসার পিংকি রায় ও সহকারী ডিউটি অফিসার এনিভা খাতুনকে বদলি করা হয়েছে।
সদ্য প্রত্যাহার হওয়া ওসি মাসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। সম্প্রতি সাতক্ষীরা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এক সাংবাদিক ও এক জমিদাতা সিন্ডিকেটের হামলার শিকার হওয়ার ঘটনায় উল্টো ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা এবং পাল্টাপাল্টি মামলা দেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ভুক্তভোগীদের সহযোগিতা করার পরিবর্তে আর্থিক বা রাজনৈতিক স্বার্থে কাউন্টার মামলা বা পাল্টাপাল্টি মামলা দেওয়ার প্রবণতা ছিল। তার এমন ভূমিকার কারণে জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মনজুরুল আলম বাপ্পিসহ নেতা-কর্মীদের ওপর চিহ্নিত ব্যক্তিরা হামলার সাহস পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড বাড়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
এসব ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার বিকেলে ওসির স্থায়ী অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদল।
ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান ভুট্টো। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পরও দলটির নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন সময় সাতক্ষীরায় নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। এসব ঘটনায় সদর থানার ওসির পক্ষ থেকে সব সময় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না।
কামরুজ্জামান ভুট্টো বলেন, সম্প্রতি কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হওয়ার পর থানা হাজতের ভেতরে তাদের দিয়ে ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় শুধু ওসিকে বদলি করাই যথেষ্ট নয়, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তবে ভিডিও ধারণের ঘটনা সম্পর্কে ভিন্ন কথা বলেছেন সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিথুন সরকার। তিনি বলেন, ভিডিও ধারণের বিষয়টি তাদের জানা নেই। আর ওসিসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তার বদলির বিষয়টি নিয়মিত বদলির অংশ।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাতক্ষীরা সদর থানার সদ্য প্রত্যাহার হওয়া ওসি মাসুদুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাদ্যপণ্যের মোড়কে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ট্রান্স ফ্যাটের পরিমাণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ এবং ক্ষতিকর উপাদানসমৃদ্ধ খাবারে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা সংযুক্ত করার দাবিতে নরসিংদীর রায়পুরায় অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত সোমবার (১৭ আগস্ট) উপজেলা পরিষদ চত্বরে পিপলস ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (পিডিএস) ও সিটিজেন নেটওয়ার্কের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা খলিলুর রহমান সরকার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দিন, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা শিখা আক্তার এবং পিপলস ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির (পিডিএস) নির্বাহী পরিচালক মো. তাজুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার নিয়মিত গ্রহণের ফলে বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। খাদ্যপণ্যের মোড়কে এসব উপাদানের পরিমাণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হলে ভোক্তারা পণ্য কেনার আগে এর পুষ্টিমান ও ক্ষতিকর উপাদান সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং সচেতনভাবে খাদ্যপণ্য নির্বাচন করতে পারবেন।
বক্তারা আরও বলেন, শুধু উপাদানের পরিমাণ উল্লেখ করাই নয়, অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ট্রান্স ফ্যাটসমৃদ্ধ খাদ্যপণ্যের মোড়কে সহজে দৃশ্যমান স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা সংযুক্ত করা প্রয়োজন। এতে ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে এবং অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
পিপলস ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির (পিডিএস) নির্বাহী পরিচালক মো. তাজুল ইসলাম বলেন, “অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার গ্রহণের কারণে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাদ্যপণ্যের মোড়কে এসব উপাদানের পরিমাণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ ও স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা সংযুক্ত করা জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান এবং অ্যাডভোকেসি সভা করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
অবস্থান কর্মসূচি থেকে খাদ্যপণ্যের মোড়কে লবণ, চিনি ও ট্রান্স ফ্যাটের পরিমাণ উল্লেখ, ক্ষতিকর উপাদানসমৃদ্ধ খাবারে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা সংযুক্ত এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।
চোরের আস্তানা থেকে উদ্ধার হয়েছিল পাঁচটি গরু। কিন্তু উদ্ধার হওয়ার পরও শেষ হয়নি তাদের দুর্ভোগ। মালিকের সন্ধান না মেলায় গরুগুলোর ঠাঁই হয়েছে নওগাঁর রানীনগর থানার প্রাঙ্গণে। তবে সেখানে অবহেলায় নয়, বরং পরম যত্ন আর মমতায় চলছে তাদের লালন-পালন। আর এরই মধ্যে থানার শেড ঘরেই নতুন অতিথির আগমন একটি গাভী জন্ম দিয়েছে ফুটফুটে এঁড়ে বাছুর। ব্যতিক্রমী এ ঘটনায় এলাকায় যেমন কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তেমনি থানার ওসি মোহাম্মদ জাকারিয়া মণ্ডলের মানবিক উদ্যোগও প্রশংসা কুড়িয়েছে।
প্রায় এক মাস ধরে থানার প্রাঙ্গণেই রয়েছে উদ্ধার হওয়া পাঁচটি গরু। চুক্তিভিত্তিক একজন লোকের মাধ্যমে নিয়মিত খাবার, পরিচর্যা ও দেখভালের ব্যবস্থা করেছেন থানার ওসি। শুধু তাই নয়, উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের মাধ্যমে গরুগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষাও অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে মা ও বাছুরসহ সবগুলো গরুই সুস্থ ও স্বাভাবিক রয়েছে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত জুলাই মাসে নওগাঁর রানীনগর, আত্রাই, বদলগাছী ও মহাদেবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ধারাবাহিক এসব ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে কয়েকটি চৌকস দল গঠন করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তিগত ডাটা বিশ্লেষণ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রথমে শনাক্ত করা হয় গরু চুরির সঙ্গে জড়িত এক কুখ্যাত চোরকে।
এরই ধারাবাহিকতায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশে গত ১৪ জুলাই সন্ধ্যায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও রানীনগর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান শুরু করে। পরে র্যাবের সহযোগিতায় নাটোরের নলডাঙ্গা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নওগাঁর কুখ্যাত গরু চোর আসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আসলাম চোরাই গরু রাখার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন ১৫ জুলাই ভোর রাতে নাটোরের সিংড়া উপজেলার ছোট চৌগ্রামে অসিতের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে অসিতকে আটক করার পর তার গোয়ালঘরে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় পাঁচটি চোরাই গরু। উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর মধ্যে একটি ছিল গর্ভবতী।
এরপর গরুগুলোর প্রকৃত মালিকের সন্ধান শুরু করে পুলিশ। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও মালিকের সন্ধান না মেলায় আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গরুগুলোকে রানীনগর থানা প্রাঙ্গণে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। সেই থেকে থানার আঙিনাতেই চলছে তাদের নতুন জীবন।
এদিকে কিছুদিন পর গর্ভবতী গাভীটি একটি এঁড়ে বাছুর জন্ম দিলে থানার পরিবেশেও যেন যোগ হয় ভিন্ন এক আবহ। পুলিশ সদস্যদের ব্যস্ততার মাঝেই মা ও বাছুরের যত্নে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি নজর। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ ও সাড়া তৈরি হয়।
রানীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ জাকারিয়া মণ্ডল বলেন, ‘গরুগুলোর প্রকৃত মালিকের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী থানায় রাখা হয়েছে। গরুগুলোর যাতে কোনো ধরনের কষ্ট না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নিয়মিত দেখভালের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি গাভী বাছুর জন্ম দিয়েছে। বর্তমানে মা ও বাছুরসহ সবগুলো গরুই সুস্থ আছে।’
তিনি জানান, চলতি সপ্তাহের মধ্যে প্রকৃত মালিকের সন্ধান না পাওয়া গেলে আগামী সপ্তাহে আদালতের কাছে গরুগুলো প্রকাশ্য নিলামে বিক্রির অনুমতি চাওয়া হবে। আদালতের অনুমতি পাওয়া গেলে নিয়ম অনুযায়ী নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। নিলাম থেকে পাওয়া অর্থের মধ্য থেকে গরুগুলোর এতদিনের লালন-পালনের ব্যয়ও নিয়ম অনুযায়ী সমন্বয় করা হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় এক অদ্ভুত ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে বিয়ে ভেঙে গেছে। বিয়ের ভোজে বরপক্ষের জন্য সাজানো বড় থালায় (খদরে) খাসির মাংস না থাকায় চরম ক্ষুব্ধ হয়ে বিয়ে না করেই কনের বাড়ি ত্যাগ করেছেন জাপানপ্রবাসী বর জুনায়েদ। গত সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। বর জুনায়েদ পার্শ্ববর্তী কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের পুত্র।
প্রত্যক্ষদর্শী ও কনেপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, আনন্দঘন পরিবেশে আত্মীয়স্বজনসহ কনের বাড়িতে পৌঁছালে জুনায়েদকে ফুল দিয়ে সাড়ম্বরে বরণ করে নেওয়া হয়। গেট ও বরণ অনুষ্ঠান শেষে বরকে আপ্যায়নের জন্য নির্ধারিত স্থানে বসানো হয়। অন্যান্য অতিথিদের খাওয়া-দাওয়ার পর বরের জন্য বিশেষ থালায় খাবার পরিবেশন করা হয়। কিন্তু খাবারের মেন্যুতে খাসির মাংস অনুপস্থিত থাকায় জুনায়েদ হঠাৎ বেঁকে বসেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, খাসির মাংস ছাড়া তিনি ভোজন করবেন না এবং এই অবস্থায় বিয়ের কোনো আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন না।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কনেপক্ষের মুরুব্বি ও আত্মীয়স্বজনরা তাঁকে অনেক অনুনয়-বিনয় ও বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি তাঁর সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। এক পর্যায়ে কোনো উপায় না দেখে এবং নিজের জিদ বজায় রেখে তিনি একাই কনের বাড়ি থেকে চলে যান। কনের পিতা শফিক মিয়া অত্যন্ত ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলেন, “আমাকে আগে জানানো হলে খদরে খাসির ব্যবস্থা করতাম। এ বিষয়ে আমাকে আগে কিছুই বলা হয়নি। এরপরও আমরা সবাই ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি কিন্তু তিনি কোনোভাবেই রাজি হননি।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিক মিয়া এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ অভিহিত করে বলেন, সামান্য খাবারের বিষয় নিয়ে এমন অনমনীয় আচরণ কারও কাম্য নয়। একটি সুন্দর সম্পর্কের এমন অপমৃত্যুতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।