সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
২ ভাদ্র ১৪৩৩

এপিবিএনের জন্য বাস রিকুইজিশন: পথেই নামিয়ে দেয়া হলো যাত্রীদের

পুলিশ সদস্যরা যাত্রী নামিয়ে বাস রিকুইজিশন করে নিয়ে গেলে এভাবেই অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন যাত্রীরা। বগুড়া শহরের তিনমাথা নিরালা পাম্প এলাকায়। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
২৬ জানুয়ারি, ২০২৩ ২২:২০
প্রতিনিধি, বগুড়া
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, বগুড়া
প্রকাশিত : ২৬ জানুয়ারি, ২০২৩ ২২:১৯

স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে কর্মস্থল ময়মনসিংহের পথে রওনা হয়েছিলেন আনোয়ার হোসেন। বগুড়ার তিনমাথা এলাকায় পৌঁছাতেই পুলিশ থামিয়ে দিয়েছে সেই বাস। নামিয়ে দিয়েছে যাত্রীদের। মাঘ মাস হলেও বেলা ১টায় সূর্য যখন ঠিক মাথার ওপর, সেই সময়টিতে আনোয়ার হোসেনকে পাশে স্ত্রী আর কোলে বাচ্চা নিয়ে উদ্বাস্তুর মতো দাঁড়িয়ে থাকতে হয় মহাসড়কে।

দিনাজপুর থেকে আসা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘যেই বাসে চড়ে ময়মনসিংহে যাচ্ছিলাম, পুলিশ সদস্যরা ওই বাসটি জব্দ করে নিয়ে গেছে। বাসে প্রায় অর্ধশত যাত্রী ছিল, সবাইকে নামিয়ে দিয়েছে। ঘণ্টাখানেক হলো এখানে দাঁড়িয়ে আছি। কিছু পাচ্ছি না।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়া শহরের তিনমাথা নিরালা পাম্প এলাকার বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কের প্রথম বাইপাসে গিয়ে দেখা যায় এমন চিত্র। সেখানে আনোয়ার হোসেনের মতো আরও প্রায় অর্ধশত যাত্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পরিবার-পরিজনসহ সবাইকে এভাবে বাস থেকে রাস্তায় নামিয়ে দেয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ সবাই।

বাধ্য হয়ে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে অধৈর্য যাত্রীরা যা বললেন তার সারমর্ম এ রকম, ‘মাঝপথে এভাবে নামিয়ে দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে রাখা মানে গায়ে পড়ে হয়রানি করা। পরিবার ও বেডিংপত্র নিয়ে রাস্তায় দিশেহারার মতো দাঁড়িয়ে আছি। চারপাশের রাস্তার ধুলায় দম বন্ধ হয়ে আসছে। কিছু বলারও নেই। শক্তি থাকলে সবাই প্রয়োগ করে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিভাগীয় জনসভা। সেখানে নিরাপত্তা দিতে কাজ করবেন বগুড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা। আর তাদের যাতায়াতের জন্য প্রয়োজন ছয়টি বাস। সেই বাস সংগ্রহ করতেই মহাসড়কে নেমেছে পুলিশ, রাস্তায় যাত্রী নামিয়ে দিয়ে বাসগুলো রিকুইজিশনে জব্দ করছে। ভুক্তভোগী যাত্রীরা বলছেন, বগুড়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের অবস্থান ওই তিনমাথা থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরত্বে। সেখানে গিয়ে থেমে থাকা বাসগুলো রিকুইজিশন করলে অন্তত যাত্রাপথে থাকা যাত্রীদের ভোগান্তি হতো না।

তিনমাথার নিরালা পাম্প এলাকায় গিয়ে একাধিক বাসের অন্তত ৫০ জন যাত্রীকে দেখা গেল সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে। কেউ মালামাল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, কেউ রাস্তার ওপর বসে পড়েছেন। অনেকে রিকশা-ভ্যান খোঁজার চেষ্টা করছেন, যেন সামনে কিছুটা এগিয়ে যাওয়া যায়। পাশেই বগুড়া জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের দুই কর্মকর্তা ও এপিবিএনের দুই সদস্যকে মহাসড়ক দিয়ে ঢাকাগামী বাসগুলো থামিয়ে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করতে দেখা গেল।

এ সময় কয়েকজন বাসযাত্রীর সঙ্গে কথা হয় দৈনিক বাংলার। তাদের একজন জহুরুল ইসলাম, পেশায় কাপড় ব্যবসায়ী। পাঁচ সহযোগীকে নিয়ে কাপড় বিক্রি করতে গিয়েছিলেন দিনাজপুরে। সেখান থেকে বাসে ফিরছিলেন টাঙ্গাইলে। কিছু মালামালও ছিল সঙ্গে। পথে বগুড়ার তিনমাথায় তাদের নামিয়ে দেয় পুলিশ।

জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমিসহ বাসের সব যাত্রীকে নামিয়ে দিয়েছে। ড্রাইভার সব কাগজ দেখিয়ে পুলিশদের অনেক অনুরোধ করেছিল। তবু গাড়ি ধরে নিয়ে গেছে। আমি তো মূর্খ মানুষ, এত কিছু বুঝি না। শুধু বুঝি, এই দুপুরে ঘণ্টাখানেক হলো রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি। আজ রোদও বেশি, ক্ষুধাও লেগেছে অনেক। এই মালামাল নিয়ে কই যাব এখন?’

ঠাকুরগাঁও থেকে ময়মনসিংহ যাচ্ছিলেন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ফারজানা রহমান। তিনি বলেন, ‘একাই রওনা দিয়েছিলাম। এখন ১ ঘণ্টা হলো রাস্তায় দাঁড়িয়ে। বাসায় বলার সাহস পাচ্ছি না। জানলে আম্মু-আব্বু টেনশনে জ্ঞান হারাবে। ওনারা সরকারি কাজে গাড়ি জব্দ করবেন ভালো কথা, তবে এভাবে মাঝপথে কেন? এখন কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না। ওনারা বলেছেন অন্য গাড়িতে উঠিয়ে দেবেন।’

পরে অবশ্য যাত্রীদের অন্য বাস পেতে সহযোগিতা করেছে পুলিশ। তবে সে ক্ষেত্রেও স্বাভাবিকভাবেই বেগ পেতে হয়েছে। কারণ মহাসড়কে আন্তজেলা বা দূরপাল্লার বাসগুলোতে মাঝপথে ফাঁকা আসন পাওয়া যায় না বললেই চলে। সে কারণেই রিকুইজিশন করা বাসগুলো থেকে নামিয়ে দেয়া যাত্রীদের বাস পেতেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।

জানতে চাইলে বগুড়ার ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) মাহাবুবর রশিদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘রাজশাহীতে সমাবেশে আসবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে এপিবিএন সদস্যরা ডিউটিতে যাবেন। তাদের যাতায়াতে ছয়টি বাস প্রয়োজন। সেগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে। চারটি বাস এরই মধ্যে রিকুইজিশন করা হয়েছে।’

মহাসড়কে মাঝপথে বাস থামিয়ে রিকুইজিশন নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে যাত্রীদের অসুবিধার কথা স্বীকার করে নিলেন পুলিশের এ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘সাময়িকভাবে কিছু অসুবিধা হয়েছে যাত্রীদের। তবে পরের বাসগুলোতে আমরাই তাদের উঠিয়ে দিচ্ছি।’

অদূরেই টার্মিনাল রয়েছে- জানাতেই মাহাবুবর রশিদ বলেন, ‘মহাসড়ক ছাড়া টার্মিনালে গিয়ে বাস রিকুইজিশন করা সম্ভব হয় না। সেখানে পরিবহনসংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে সহযোগিতা করেন না।’

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম তুহিন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এটি আইনের মধ্যে না থাকলে রাস্তায় যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে বাস রিকুইজিশন করা মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে। এই ব্যবস্থাটার পরিবর্তন হওয়া উচিত। রাষ্ট্রের অনেক অর্থ আছে, ব্যয়ের খাত আছে। সাধারণ মানুষ কোথাও ভ্রমণ করতে গেলে গাড়ি ভাড়া করে। তেমনি সরকারি দপ্তরের লোকজনও গাড়ি ভাড়া করে গন্তব্যে যাবে।’

জানতে চাইলে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) হেলেনা আকতার দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘রাস্তায় যাত্রী নামিয়ে গাড়ি রিকুইজিশন করার কথা নয়। তবে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশের জন্য এপিবিএন সদস্যরা আগামীকাল রওনা দেবেন। এ জন্য গাড়ি জরুরি ছিল। রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে আমাদের এ কাজ করতে হয়েছে।’

বিষয়:

নির্বাচিত

শিবচরে আড়িয়াল খাঁ নদের গ্রাসে ভিটেমাটি, নেপথ্যে অবৈধ ড্রেজার সিন্ডিকেট

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় আড়িয়াল খাঁ নদের তীব্র ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় নদীপাড়ের মানুষ। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল থেকে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় বহেরাতলা ও কলাতলা গ্রামের বিশাল এলাকা এখন বিলীন হওয়ার পথে। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে ভাঙন আতঙ্কে থাকা এই জনপদে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের কারণে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, চলতি বছরে অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নতুন করে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বিপর্যয়।

যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত: বহেরাতলা বাজার থেকে কলাতলা যাওয়ার একমাত্র পাকা সড়কটির বেশ কিছু অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। ফলে দুটি গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

জন দুর্ভোগ: এই সড়কটি দিয়েই প্রতিদিন শত শত মানুষ হাটবাজার, স্কুল-কলেজে যাতায়াত করেন। এমনকি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে যাওয়া রোগীদের একমাত্র ভরসাও এই রাস্তাটি।

বেড়িবাঁধের ক্ষতি: পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন নির্মিত বেড়িবাঁধের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ভাঙনে ধসে গেছে।

ঝুঁকিতে প্রশাসনিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা: নদীর তীর থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরত্বে অবস্থান করছে বহেরাতলা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের স্থায়ী ভোটকেন্দ্রটি। যেকোনো সময় পুরো কেন্দ্রটি নদে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকৃতির খামখেয়ালিপনা নয়—বরং চরম মানবসৃষ্ট কারণেই এই অকাল ও তীব্র ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।

রাতের আঁধারে বালু খেকো সিন্ডিকেট: স্থানীয় একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী আইনের তোয়াক্কা না করে রাতের আঁধারে নদী তীরবর্তী তলদেশ থেকে শক্তিশালী ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছে।

তলদেশ ধসে পড়া: নদীর তীর ঘেঁষে অপরিকল্পিতভাবে গভীর থেকে বালু তোলায় নদীর পাড়ের তলদেশ ফাঁপা হয়ে ধসে পড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বেড়িবাঁধ ও জনপদের ওপর।

দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত ভিটেমাটি, ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট হারিয়ে ওই এলাকার মানুষ এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা অবিলম্বে সরকারি হস্তক্ষেপের জোর দাবি জানিয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছে রাতের আঁধারে সক্রিয় থাকা অবৈধ ড্রেজার সিন্ডিকেটের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করা, জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং মাদারীপুর জেলা প্রশাসন, শিবচর উপজেলা প্রশাসন ও মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) যৌথ সমন্বয়ে দ্রুত সময়ে অস্থায়ী জিও ব্যাগ ফেলা এবং স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণের কাজ শুরু করা।


নির্বাচিত

বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি নিম্নচাপ, ৪ বিভাগে ভারী বৃষ্টির আভাস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে বর্তমানে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় অঞ্চল ও সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অফিসের বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, এই নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় জেলাগুলোসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর ফলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভূমিধসের প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সাবধানে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আজ সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিশেষ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের প্রেক্ষাপটে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সর্বস্তরের জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।


নির্বাচিত

দেশজুড়ে জেএমবির সেই ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলার ভয়াল দিন আজ

ছবি: বিবিসি
আপডেটেড ১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০২
অনলাইন ডেস্ক

নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) কর্তৃক দেশব্যাপী পরিচালিত সেই বর্বরোচিত ও সুপরিকল্পিত সিরিজ বোমা হামলার আজ এক ভয়াল দিন। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট ঠিক এই দিনে মুন্সীগঞ্জ বাদে দেশের ৬৩টি জেলার প্রায় সাড়ে চারশ স্থানে একযোগে এই তণ্ডবলীলা চালানো হয়েছিল। আদালতের আঙিনা, বিমানবন্দর, মার্কিন দূতাবাসসহ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়গুলোকে লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় সেদিন মুহূর্তেই কেঁপে উঠেছিল পুরো দেশ। নজিরবিহীন এই নাশকতায় সারা দেশে দুইজন প্রাণ হারান এবং অন্তত ১০৪ জন গুরুতর আহত হন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঘটনার পর সারা দেশে মোট ১৫৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে ১৮টি, চট্টগ্রামে ৮টি, রাজশাহীতে ৪টি এবং খুলনায় ৩টিসহ বিভিন্ন বিভাগ ও রেঞ্জে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মামলা রুজু হয়। তদন্ত শেষে ১৪২টি মামলায় পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে বাকি ১৭টি মামলায় ঘটনার সত্যতা মিললেও সুনির্দিষ্ট অপরাধী শনাক্ত করতে না পারায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এই দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় এ পর্যন্ত মোট ৯৬১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ১ হাজার ৭২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।

সিরিজ বোমা হামলার এই ১৫৯টি মামলার মধ্যে এ পর্যন্ত ৯৪টির বিচারিক কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এসব রায়ে মোট ৩৩৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে ৫৫টি মামলা দেশের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে, যেখানে আসামির সংখ্যা ৩৮৬ জন। এখন পর্যন্ত ৩৪৯ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং খালাস পেয়েছেন ৩৫৮ জন। এছাড়া ২৭ জন জঙ্গিকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেওয়া হলেও এ পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। বর্তমানে ১৩৩ জন আসামি জামিনে রয়েছেন এবং ঢাকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা সাক্ষ্য গ্রহণের শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ঝালকাঠি জেলার দুই বিচারককে হত্যার দায়ে ২০০৭ সালের ৩০ মার্চ শীর্ষ ছয় জঙ্গি নেতা শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই, আতাউর রহমান সানি, আব্দুল আউয়াল, খালেদ সাইফুল্লাহ এবং সালাউদ্দিনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছিল। ১৭ আগস্টের সেই ঘটনার রেশ ধরে পরবর্তী কয়েক মাস দেশে ধারাবাহিক আরও কিছু আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। এসব ঘটনায় বিচারক, আইনজীবী ও উদীচীর কর্মীসহ প্রায় ৩০ জন নিহত এবং চার শতাধিক মানুষ আহত হন। বিশেষ করে ২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর গাজীপুর ও চট্টগ্রামে আদালত প্রাঙ্গণে এবং ৮ ডিসেম্বর নেত্রকোনায় উদীচী কার্যালয়ের সামনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো ছিল অত্যন্ত রক্তক্ষয়ী।


নির্বাচিত

বিদেশে বসে ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে বাবাকে হত্যা, পুত্রবধূসহ গ্রেপ্তার ৩

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে জমি লিখে না দেওয়ার জেরে মোহাম্মদ আলী (৭৫) নামে এক বৃদ্ধকে ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের পুত্রবধূসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সর্বশেষ রোববার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একইদিন ভোরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে গত ১৪ আগস্ট রাতে উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে নিজ শয়নকক্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় মোহাম্মদ আলীকে হত্যা করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের নাতনি মোছা. আছমা বেগম বাদী হয়ে দোয়ারাবাজার থানায় মামলা করেন।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জমির মালিকানা পুত্রবধূ হোসনা বেগম ও সৌদি প্রবাসী ছেলে ইসমাইল মিয়ার নামে লিখে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রবাসীর ছেলের ইন্ধনে একপর্যায়ে তার স্ত্রী হোসনা বেগম ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে রুহুল আমিনকে শ্বশুরকে হত্যার দায়িত্ব দেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার রাতে হোসনা বেগম ঘরের পেছনের দরজা খুলে দিলে রুহুল আমিন, নজরুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমান ঘরে প্রবেশ করেন। পরে ঘুমন্ত মোহাম্মদ আলীর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরদিন ঘটনাটি স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে প্রচার করে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও বৃদ্ধের মুখে রক্ত ও গলায় কালো দাগ দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

পরে দোয়ারাবাজার থানার এসআই আমির হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রোববার ভোর রাতে অভিযান চালিয়ে হোসনা বেগম (৩৮), রুহুল আমিন (২২) ও নজরুল ইসলামকে (২০) গ্রেপ্তার করে।

এদের মধ্যে হোসনা বেগম হত্যার শিকার বৃদ্ধার ছেলে ইসমাইল মিয়ার স্ত্রী এবং রুহুল আমিন ও নজরুল ইসলাম ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

দোয়ারাবাজার থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নির্বাচিত

রাঙামাটিতে যাত্রীবাহী পিকআপ উল্টে নিহত ৪

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিজয় ধর, রাঙামাটি

রাঙামাটির মানিকছড়িতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী একটি পিকআপ উল্টে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন। রোববার সকাল ৬টার দিকে রাঙামাটি-কুতুকছড়ি সড়কের মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যাত্রীবাহী পিকআপটি রাঙামাটি শহর থেকে কুতুকছড়ি বাজারের দিকে যাচ্ছিল। মানিকছড়ি এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি সড়কের ওপর উল্টে যায়। এতে কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

নিহতরা হলেন—মেঘরানী চাকমা, শান্তনা চাকমা, শোভা চাকমা ও শান্তি রঞ্জন চাকমা। তাদের মধ্যে তিনজনের মরদেহ রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রাখা হয়েছে।

আহতদের মধ্যে পিকআপচালক জ্ঞান বিকাশ চাকমা ও সুমন চাকমা রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় শোভা চাকমাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শওকত আকবর জানান, দুর্ঘটনায় মোট ছয়জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে তিনজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। একজন গুরুতর আহতকে চট্টগ্রামে রেফার করা হয়েছে এবং অপর দুইজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের হাসপাতালে আনা হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের কাজ চলছে। প্রতিবেদন শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।


নির্বাচিত

কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভোলার চরফ্যাশনে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। রোববার কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ভোলার চরফ্যাশন বাজার সংলগ্ন এলাকায় গত শনিবার বিকাল ৪টায় কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট লালমোহন কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় ৪টি দোকানে তল্লাশি করে প্রায় ৮ লক্ষ টাকা মূল্যের ২ হাজার কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয়।

জব্দকৃত পলিথিনের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর, ভোলা এর নিকট হস্তান্তর করা হয়।

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষায় কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।


নির্বাচিত

রাঙামাটিতে পিকআপ ভ্যান উল্টে নিহত ৪, আহত ২

দুর্ঘটনা কবলিত পিকআপ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাঙামাটি প্রতিনিধি

রাঙামাটি শহরের মানিকছড়ি এলাকায় আজ রোববার ভোরে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্পের সামনে একটি যাত্রীবাহী পিকআপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গাড়িটি রাঙামাটি শহর থেকে কুতুকছড়ি বাজারের অভিমুখে যাত্রা করছিল, কিন্তু মানিকছড়ি পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং গাড়িটি সড়কের ওপর উল্টে যায়।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন মেঘরানী চাকমা, শান্তনা চাকমা, শোভা চাকমা ও শান্তি রঞ্জন চাকমা। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে মৃত অবস্থায় রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়। এছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় শোভা চাকমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। বর্তমানে আহত অন্য দুজনের মধ্যে পিকআপ চালক জ্ঞান বিকাশ চাকমা ও সুমন চাকমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শওকত আকবর বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৬ জনকে হাসপাতালে আনা হয় যাদের মধ্যে ৩ জন মৃত ছিলেন। ১ জন গুরুতর আহতকে চট্টগ্রামে রেফার করেছি আমরা অন্য ২ জন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।’

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ বিষয়ে রাঙ্গামাটি কোতোয়ালি থানার উপ পরিদর্শক মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এবং নিহতদেরকে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়েছে। আমরা সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করছি। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’


নির্বাচিত

মানুষের সঙ্গে মানুষের আত্মিক যোগাযোগই দুই দেশের বন্ধুত্বের আসল শক্তি: দিনেশ ত্রিবেদী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে উদ্‌যাপিত হলো ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী

দুই দেশের জনগণের মধ্যে সুসম্পর্কের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে হাইকমিশনার বলেছেন, ‘ভাগাভাগি করা আকাঙ্ক্ষা ও পারস্পরিক সদিচ্ছার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা মানুষের সঙ্গে মানুষের এই আত্মিক যোগাযোগই দুটি দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের আসল শক্তি। ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের মধ্যকার সুসম্পর্ক এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যই দুটি বন্ধুপ্রতিম দেশের সম্পর্কের ‘প্রকৃত প্রাণভোমরা’।

শনিবার (১৫ আগস্ট) ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন প্রাঙ্গণে এই উদ্‌যাপনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিক এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পরে জাতীয় সংগীত এবং জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করা হয়। উপস্থিত অতিথিদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় হাইকমিশনার বলেন, ‘আজ আমরা কেবল আমাদের স্বাধীনতার শুভলক্ষণকেই স্মরণ করছি না, বরং আমাদের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের দীর্ঘস্থায়ী শক্তি এবং আধুনিক ভারতের অভাবনীয় প্রবৃদ্ধির গল্পকেও উদ্‌যাপন করছি।’

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, দুই দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল শেকড় অত্যন্ত নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। যৌথ ইতিহাস, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই এই সম্পর্ক অব্যাহতভাবে সমৃদ্ধ হচ্ছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাণিজ্য, আঞ্চলিক যোগাযোগ, নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে দুই দেশ যৌথ অংশীদারত্ব জোরদার করে এগিয়ে যাচ্ছে।

ভারতে উদীয়মান উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক প্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় প্রবাসী সম্প্রদায়কে ভারতের এই অগ্রযাত্রায় অংশীদার হয়ে থাকার আহ্বান জানান।

স্বাধীনতা দিবসের ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুযায়ী হাইকমিশনার অনুষ্ঠানে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর জাতির উদ্দেশে দেওয়া বার্ষিক ভাষণের অংশবিশেষ পাঠ করে শোনান। রাষ্ট্রপতির বক্তব্য উদ্ধৃত করে দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্টের গুরুত্ব কেবল ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীন হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এর মূল উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীন ভারতের ভাগ্য নির্ধারণে দেশের প্রতিটি নাগরিককে ক্ষমতায়িত করা।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ হলো প্রতিটি নাগরিক যেন নিজেদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের সুযোগ পান এবং ভারতকে বিশ্বের শীর্ষস্থানে উন্নীত করার লক্ষ্যে অবদান রাখতে পারেন।


নির্বাচিত

শিক্ষক সংকট হ্রাসে খণ্ডকালীন শিক্ষক পুল গড়বে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় বিষয়ভিত্তিক খণ্ডকালীন শিক্ষক পুল গঠন করবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। অবসরপ্রাপ্ত যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এ শিক্ষক পুল গঠন করা হবে। শনিবার (১৫ আগস্ট) গাজীপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের ১০৩তম সভায় এ সংক্রান্ত নীতিমালা অনুমোদন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় বিষয়টি জানানো হয়। এতে বলা হয়, ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মিশন ও ভিশন অনুমোদনসহ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও কর্মজীবনকে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রতিষ্ঠার ৩৪ বছর পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা হলো।

এতে আরও বলা হয়, সভায় স্নাতক (সম্মান) কোর্সের ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বিশেষ বিবেচনায় আরও একবার পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া স্কিল-বেইজড পিজিডি প্রোগ্রামে ফ্রিল্যান্সিংয়ের আওতায় গ্রাফিকস ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং ও ওয়েব ডিজাইন, কালিনারি সায়েন্স (শেফ) এবং হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিষয় অন্তর্ভুক্তির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্নাতক (পাস) ও স্নাতক (সম্মান) প্রোগ্রামের দ্বিতীয় বর্ষে চার ক্রেডিটের অ্যাপ্লাইড আইসিটি এবং প্রথম বর্ষে ফাংশনাল ইংরেজি কোর্স চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব কোর্সের সিলেবাস ও রেগুলেশনও অনুমোদন করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, সভায় ৩ বছর মেয়াদি ডিগ্রি (পাস) ও ১ বছর মেয়াদি মাস্টার্স (প্রিলিমিনারি) সম্পন্নকারীদের সনদকে চার বছর মেয়াদি ডিগ্রির সমতুল্য করার বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিসিএসসহ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় এসব শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরিতে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

এ ছাড়া সিজিপিএ ২ দশমিক ২৫-এর কম পাওয়া শিক্ষার্থীদের বিশেষ বিবেচনায় মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়ার প্রস্তাবও সভায় বিবেচনা করা হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে চার বছর মেয়াদি এলএলবি (সম্মান) কোর্সের অধিভুক্তি রেগুলেশনও অনুমোদন করা হয়েছে।

সভায় ভাইস-চ্যান্সেলর ড. আমানুল্লাহ বলেন, আমাদের প্রতিটি একাডেমিক সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ। একজন শিক্ষার্থী যেন নিজের পড়াশোনা শেষ করে দক্ষতা নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারেন—আমরা সেই জায়গাটিকেই গুরুত্ব দিচ্ছি। অবসর নেয়া অভিজ্ঞ শিক্ষকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ বিশেষজ্ঞদের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষার্থীদের শেখানোর সুযোগ তৈরি করতে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক পুল গঠন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, শুধু প্রচলিত ডিগ্রি যথেষ্ট নয়, শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রে সরাসরি ব্যবহারযোগ্য দক্ষতা অর্জন করতে হবে। একাডেমিক শিক্ষার সঙ্গে দক্ষতা ও বাস্তবমুখী শিক্ষার সমন্বয়ের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কর্মবাজারের জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্য রয়েছে।

সভায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নাজমুল হোসাইনসহ একাডেমিক কাউন্সিলের ৪৩ জন সদস্য, সরকারি-বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিভাগীয় প্রধান ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষার ফলাফল, শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশ ও সিদ্ধান্ত এবং নতুন কারিকুলাম অনুমোদন করা হয়।


নির্বাচিত

বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার, যাতে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে যায় এবং সেই অঙ্গীকার থেকেই বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ পরিমাণ বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। বাজেটটাকে যেন যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়- যাতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রত্যেকটি উপজেলার প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে ৫০ শয্যার সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং উদ্বোধনের পর বন্ধ থাকা হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অংশ হিসেবে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন ৫০ শয্যা বা ৩০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার। কিন্তু গতকাল একটি বৈঠক হয়েছে, সে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রত্যেকটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অর্থাৎ সাভার উপজেলা কমপ্লেক্সসহ প্রত্যেকটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে পরিণত হবে।

তিনি আরও বলেন, ১৫১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালগুলোতে মেডিসিন, গাইনি, শিশু রোগ- এগুলোর পাশাপাশি ধাপে ধাপে বিশেষায়িত সেবাগুলোও উপজেলা পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই। যাতে মানুষ তা নিজের উপজেলাতেই অধিকাংশ রোগব্যাধির চিকিৎসা পায়।

তিনি বলেন, বিগত সময়গুলোতে স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে, বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় করা হয়েছে এবং ব্যবহার সঠিকভাবে হয়নি। ফলশ্রুতিতে আমরা সে অবস্থা থেকে বের করে আনতে গেলে হয়ত একটু সময় লাগবে, আমাদের সবাইকে ধৈর্য ধরে সহযোগিতা করতে হবে এবং সরকার, চিকিৎসক জনপ্রতিনিধিরা আমরা সবাই মিলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নয়নে কাজ করছে। আগামী ৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তাদের নিজের এলাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সার্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির ব্যাপক পরিবর্তন এবং অগ্রগতি দেখবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।

উদ্বোধনের পর চালু না হওয়া হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ২০২২ সালে এই বিল্ডিংগুলো তৈরি হয়েছে, আজকে ২০২৬ সাল ৪টি বছর, এত সুন্দর করে রাষ্ট্রের অর্থে জনগনের অর্থে তৈরি করা হয়েছে কিন্তু এই বিল্ডিংটাকে কোনো কাজে লাগানো হচ্ছে না। আজকে আমি সরেজমিনে সেখানে দেখেছি সেখানে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব। এই হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট শুধু সাভারের জন্য নয়, সারা বাংলাদেশের সমস্ত উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স, সদর হাসপাতাল, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা যারা পরিচালনা করেন, ৬৪ জেলায় আমাদের সিভিল সার্জন, বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং উপজেলায় দায়িত্বরত কর্মকর্তা ডাক্তারদেরকে ধাপে ধাপে ম্যানেজমেন্টের ওপরে এখানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে- যাতে তারা প্রতিটি উপজেলায় সঠিকভাবে তাদের কাজ পরিচালনা করতে পারেন।

ডেঙ্গুর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা এক দেড় মাস আগে ডেঙ্গুর বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন স্টেক হোল্ডারদের সাথে বৈঠক করার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সিটি করপোরেশন, পৌরসভাগুলোর সাথে কথা বলেছি। ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হলে সবার আগে জনগণ ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা দরকার। ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু ওষুধ দিয়ে সম্ভব না, এর জন্য ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার, মশা যেখানে গড়ে ওঠে সেটি বন্ধে কাজ করা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি যাদের ডেঙ্গু হবে তারা যেন সঠিক সময়ে, সঠিক চিকিৎসা পায় সেজন্য একমাস আগেই হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু ম্যানেজমেন্টের বিষয়ে ট্রেনিং দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সবার আগে নাগরিকদের সচেতন হতে হবে।

এ সময় ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. ফজলে বারীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ফেরদৌস স্টিলের জাহাজে মিলল বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের যে জাহাজে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) গ্যাস লিক হয়ে ৯ জন শ্রমিক মারা গেছেন, ওই জাহাজের ভেতরে বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। জাহাজ ও তার চারপাশের এলাকা বিষমুক্ত করতে যৌথভাবে কাজ শুরু করছে কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (১৫ আগস্ট) ইয়ার্ড পরিদর্শনকালে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, দুর্ঘটনার প্রায় চার ঘণ্টা পর জাহাজের ভেতরে ১০.৮ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন) হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি মিলেছে।

কর্মকর্তাদের ধারণা, দুর্ঘটনার মুহূর্তে জাহাজটিতে অত্যন্ত বিষাক্ত এই গ্যাসের পরিমাণ ১০০ পিপিএমেরও বেশি ছিল। এ কারণেই সম্ভবত সংস্পর্শে আসার পর মাত্র এক থেকে তিন মিনিটের মধ্যেই আক্রান্ত শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সকালে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক, বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) নেতৃবৃন্দ ও কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের আব্দুন নাসের খান বলেন, ‘জাহাজভাঙা খাত একটি সম্ভাবনাময় শিল্প। এ শিল্পকে সরকার সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এইচকেসি গাইডলাইন পুরোপুরি মেনে চলার পরও ফেরদৌস স্টিলে এই ধরনের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। কর্তৃপক্ষ ও সরকার নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে সর্বোচ্চ সহায়তা করার জন্য যা যা প্রয়োজন, তা-ই করবে।’

এইচকেসি হলো হংকং ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দ্য সেফ অ্যান্ড এনভায়রন্মেন্টালি সাউন্ড রিসাইক্লিং অভ শিপস। এ আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে টেকসই জাহাজভাঙা নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

দুর্ঘটনার পর থেকেই ইয়ার্ডটি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য সরকারি সংস্থার নজরদারিতে রয়েছে।

বিস্ফোরক পরিদপ্তরের বিস্ফোরক পরিদর্শক শাখাওয়াত হোসেন জানান, জাহাজ ও এর আশপাশের এলাকা থেকে বিষাক্ত গ্যাস দূর করতে একটি যৌথ দল দ্রুত কাজ শুরু করবে।

এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে আরও দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয় একজন অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে ১১ সদস্যের একটি কমিটি ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। এর আগে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকারস অ্যান্ড রিসাইক্লারস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ) পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে।

এই কমিটিগুলো দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেবে। কর্মকর্তারা জানান, তদন্তে শিপইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিএসবিআরএর সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন চৌধুরী জানান, বাংলাদেশে জাহাজ ভাঙার জন্য আমদানিকৃত যেকোনো জাহাজকে ইয়ার্ডে প্রবেশের আগে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো সংস্থা থেকে গ্যাস-মুক্তকরণ সনদ নেওয়া বাধ্যতামূলক। গত শুক্রবার যে জাহাজে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেটিরও এ সনদ ছিল বলে জানান তিনি।

মহসিন আরও বলেন, এ সনদ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে জাহাজের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস রয়ে গেল, তদন্তে সেই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি এই কাজে কোনো অবহেলা প্রমাণ হলে যে আন্তর্জাতিক সংস্থা সনদ প্রদান করেছিল, তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, নিহত শ্রমিকদের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। মামলা করার পরেই প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিহত নয়জন শ্রমিকের মধ্যে আটজনেরই ময়নাতদন্ত হয়নি।


নির্বাচিত

গাজীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় যাত্রীবাহী বাস ও গরুর ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল ২ জনের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গরুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে শ্যামলী পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আরও তিনজন। এ ছাড়া এ ঘটনায় পাঁচটি গরু ঘটনাস্থলেই মারা যায় ও মুমূর্ষু অবস্থায় চারটি গরু জবাই করা হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জেলার ঢাকার টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর উপজেলার গোয়ালবাথান এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার গোয়াল বাথান এলাকায় ঢাকামুখী লেনে গরুবাহী ট্রাকের সঙ্গে একটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া খবরে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ গিয়ে ট্রাকের ভেতর থেকে দুজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন। এ ছাড়া বাকি তিনজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনায় ভ্যানে থাকা পাঁচটি গরু ঘটনাস্থলে মারা যায়। এ সময় স্থানীয় লোকজন আরও চারটি গরুকে মুমূর্ষু অবস্থায় জবাই করেন।

এ ঘটনায় মহাসড়কে কিছুক্ষণ যান চলাচলেও ব্যাঘাত ঘটে। পরে পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত যানদুটি উদ্ধার করলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

​হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


নির্বাচিত

মাদক কারবারিদের সঙ্গে গোলাগুলিতে পুলিশসহ আহত ৪, গ্রেপ্তার ২

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী অভিযানের সময় পুলিশের সঙ্গে অস্ত্রধারী মাদক ব্যবসায়ীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং পুলিশের পাল্টা গুলিতে এক মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। পরে ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে ফতুল্লা থানার ইসদাইর এলাকায় আরবান স্কুলের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন এসআই (নিঃ) মো. রফিক, এসআই (নিঃ) নন্দন চন্দ্র সরকার এবং কনস্টেবল রাশিদুল। অপরদিকে পুলিশের ছোড়া গুলিতে জসিম (২৪) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। তিনি ওই এলাকার রেজ্জাক বেপারীর ছেলে। গ্রেপ্তার হওয়া অপর ব্যক্তি হলেন একই এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে মোহন (২৩)।

পুলিশ জানায়, নিয়মিত সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ফতুল্লার ইসদাইর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। এ সময় জসিম ও মোহনসহ ৭ থেকে ৮ জন মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের আভিযানিক দলকে লক্ষ্য করে পিস্তল থেকে গুলি ছোড়ে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও আত্মরক্ষার্থে এসআই মো. রফিক ও এসআই নন্দন চন্দ্র সরকার তাদের সরকারি পিস্তল থেকে মোট আট রাউন্ড পাল্টা গুলি ছোড়েন। এতে জসিম উরুতে গুলিবিদ্ধ হন। মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় তিন পুলিশ সদস্যও আহত হন। ঘটনার পর পুলিশ একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করে এবং দুই অস্ত্রধারীকে আটক করে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম বলেন, সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানের সময় অস্ত্রধারীরা পুলিশের ওপর গুলি চালায়। তবে গুলি পুলিশের গায়ে লাগেনি। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি ছুড়লে এক মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


নির্বাচিত

banner close