শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

এপিবিএনের জন্য বাস রিকুইজিশন: পথেই নামিয়ে দেয়া হলো যাত্রীদের

পুলিশ সদস্যরা যাত্রী নামিয়ে বাস রিকুইজিশন করে নিয়ে গেলে এভাবেই অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন যাত্রীরা। বগুড়া শহরের তিনমাথা নিরালা পাম্প এলাকায়। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
২৬ জানুয়ারি, ২০২৩ ২২:২০
প্রতিনিধি, বগুড়া
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, বগুড়া
প্রকাশিত : ২৬ জানুয়ারি, ২০২৩ ২২:১৯

স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে কর্মস্থল ময়মনসিংহের পথে রওনা হয়েছিলেন আনোয়ার হোসেন। বগুড়ার তিনমাথা এলাকায় পৌঁছাতেই পুলিশ থামিয়ে দিয়েছে সেই বাস। নামিয়ে দিয়েছে যাত্রীদের। মাঘ মাস হলেও বেলা ১টায় সূর্য যখন ঠিক মাথার ওপর, সেই সময়টিতে আনোয়ার হোসেনকে পাশে স্ত্রী আর কোলে বাচ্চা নিয়ে উদ্বাস্তুর মতো দাঁড়িয়ে থাকতে হয় মহাসড়কে।

দিনাজপুর থেকে আসা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘যেই বাসে চড়ে ময়মনসিংহে যাচ্ছিলাম, পুলিশ সদস্যরা ওই বাসটি জব্দ করে নিয়ে গেছে। বাসে প্রায় অর্ধশত যাত্রী ছিল, সবাইকে নামিয়ে দিয়েছে। ঘণ্টাখানেক হলো এখানে দাঁড়িয়ে আছি। কিছু পাচ্ছি না।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়া শহরের তিনমাথা নিরালা পাম্প এলাকার বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কের প্রথম বাইপাসে গিয়ে দেখা যায় এমন চিত্র। সেখানে আনোয়ার হোসেনের মতো আরও প্রায় অর্ধশত যাত্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পরিবার-পরিজনসহ সবাইকে এভাবে বাস থেকে রাস্তায় নামিয়ে দেয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ সবাই।

বাধ্য হয়ে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে অধৈর্য যাত্রীরা যা বললেন তার সারমর্ম এ রকম, ‘মাঝপথে এভাবে নামিয়ে দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে রাখা মানে গায়ে পড়ে হয়রানি করা। পরিবার ও বেডিংপত্র নিয়ে রাস্তায় দিশেহারার মতো দাঁড়িয়ে আছি। চারপাশের রাস্তার ধুলায় দম বন্ধ হয়ে আসছে। কিছু বলারও নেই। শক্তি থাকলে সবাই প্রয়োগ করে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিভাগীয় জনসভা। সেখানে নিরাপত্তা দিতে কাজ করবেন বগুড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা। আর তাদের যাতায়াতের জন্য প্রয়োজন ছয়টি বাস। সেই বাস সংগ্রহ করতেই মহাসড়কে নেমেছে পুলিশ, রাস্তায় যাত্রী নামিয়ে দিয়ে বাসগুলো রিকুইজিশনে জব্দ করছে। ভুক্তভোগী যাত্রীরা বলছেন, বগুড়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের অবস্থান ওই তিনমাথা থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরত্বে। সেখানে গিয়ে থেমে থাকা বাসগুলো রিকুইজিশন করলে অন্তত যাত্রাপথে থাকা যাত্রীদের ভোগান্তি হতো না।

তিনমাথার নিরালা পাম্প এলাকায় গিয়ে একাধিক বাসের অন্তত ৫০ জন যাত্রীকে দেখা গেল সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে। কেউ মালামাল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, কেউ রাস্তার ওপর বসে পড়েছেন। অনেকে রিকশা-ভ্যান খোঁজার চেষ্টা করছেন, যেন সামনে কিছুটা এগিয়ে যাওয়া যায়। পাশেই বগুড়া জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের দুই কর্মকর্তা ও এপিবিএনের দুই সদস্যকে মহাসড়ক দিয়ে ঢাকাগামী বাসগুলো থামিয়ে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করতে দেখা গেল।

এ সময় কয়েকজন বাসযাত্রীর সঙ্গে কথা হয় দৈনিক বাংলার। তাদের একজন জহুরুল ইসলাম, পেশায় কাপড় ব্যবসায়ী। পাঁচ সহযোগীকে নিয়ে কাপড় বিক্রি করতে গিয়েছিলেন দিনাজপুরে। সেখান থেকে বাসে ফিরছিলেন টাঙ্গাইলে। কিছু মালামালও ছিল সঙ্গে। পথে বগুড়ার তিনমাথায় তাদের নামিয়ে দেয় পুলিশ।

জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমিসহ বাসের সব যাত্রীকে নামিয়ে দিয়েছে। ড্রাইভার সব কাগজ দেখিয়ে পুলিশদের অনেক অনুরোধ করেছিল। তবু গাড়ি ধরে নিয়ে গেছে। আমি তো মূর্খ মানুষ, এত কিছু বুঝি না। শুধু বুঝি, এই দুপুরে ঘণ্টাখানেক হলো রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি। আজ রোদও বেশি, ক্ষুধাও লেগেছে অনেক। এই মালামাল নিয়ে কই যাব এখন?’

ঠাকুরগাঁও থেকে ময়মনসিংহ যাচ্ছিলেন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ফারজানা রহমান। তিনি বলেন, ‘একাই রওনা দিয়েছিলাম। এখন ১ ঘণ্টা হলো রাস্তায় দাঁড়িয়ে। বাসায় বলার সাহস পাচ্ছি না। জানলে আম্মু-আব্বু টেনশনে জ্ঞান হারাবে। ওনারা সরকারি কাজে গাড়ি জব্দ করবেন ভালো কথা, তবে এভাবে মাঝপথে কেন? এখন কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না। ওনারা বলেছেন অন্য গাড়িতে উঠিয়ে দেবেন।’

পরে অবশ্য যাত্রীদের অন্য বাস পেতে সহযোগিতা করেছে পুলিশ। তবে সে ক্ষেত্রেও স্বাভাবিকভাবেই বেগ পেতে হয়েছে। কারণ মহাসড়কে আন্তজেলা বা দূরপাল্লার বাসগুলোতে মাঝপথে ফাঁকা আসন পাওয়া যায় না বললেই চলে। সে কারণেই রিকুইজিশন করা বাসগুলো থেকে নামিয়ে দেয়া যাত্রীদের বাস পেতেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।

জানতে চাইলে বগুড়ার ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) মাহাবুবর রশিদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘রাজশাহীতে সমাবেশে আসবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে এপিবিএন সদস্যরা ডিউটিতে যাবেন। তাদের যাতায়াতে ছয়টি বাস প্রয়োজন। সেগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে। চারটি বাস এরই মধ্যে রিকুইজিশন করা হয়েছে।’

মহাসড়কে মাঝপথে বাস থামিয়ে রিকুইজিশন নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে যাত্রীদের অসুবিধার কথা স্বীকার করে নিলেন পুলিশের এ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘সাময়িকভাবে কিছু অসুবিধা হয়েছে যাত্রীদের। তবে পরের বাসগুলোতে আমরাই তাদের উঠিয়ে দিচ্ছি।’

অদূরেই টার্মিনাল রয়েছে- জানাতেই মাহাবুবর রশিদ বলেন, ‘মহাসড়ক ছাড়া টার্মিনালে গিয়ে বাস রিকুইজিশন করা সম্ভব হয় না। সেখানে পরিবহনসংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে সহযোগিতা করেন না।’

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম তুহিন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এটি আইনের মধ্যে না থাকলে রাস্তায় যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে বাস রিকুইজিশন করা মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে। এই ব্যবস্থাটার পরিবর্তন হওয়া উচিত। রাষ্ট্রের অনেক অর্থ আছে, ব্যয়ের খাত আছে। সাধারণ মানুষ কোথাও ভ্রমণ করতে গেলে গাড়ি ভাড়া করে। তেমনি সরকারি দপ্তরের লোকজনও গাড়ি ভাড়া করে গন্তব্যে যাবে।’

জানতে চাইলে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) হেলেনা আকতার দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘রাস্তায় যাত্রী নামিয়ে গাড়ি রিকুইজিশন করার কথা নয়। তবে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশের জন্য এপিবিএন সদস্যরা আগামীকাল রওনা দেবেন। এ জন্য গাড়ি জরুরি ছিল। রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে আমাদের এ কাজ করতে হয়েছে।’

বিষয়:

নির্বাচিত

শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবক সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং বিদ্যালয় ও অভিভাবকদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে যশোরের কেশবপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কারিগরি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হাসানপুরে অভিভাবক সমাবেশ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের সুপারিন্টেন্ডেন্ট সামছুন নাহার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎসাহী সদস্য ও কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনার রশীদ বুলবুল।

সভাপতির বক্তব্যে সামছুন নাহার বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় গড়ে তুলতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই। অভিভাবকদের সচেতনতা ও নিয়মিত তদারকি শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. হারুনার রশীদ বুলবুল বলেন, ‘বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না, তাদের নৈতিক শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতাও অর্জন করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মো. আশরাফুজ্জামান, শাহানা পারভীন, শুভাশীষ দত্ত ও গোবিন্দ দাম। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন হাসানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আজিজুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা এস.এম. তহিদুজ্জামান, বিএনপি নেতা আব্দুল বারিক বিশ্বাস, অভিভাবক তরিকুল ইসলাম, সিদ্দিকুর রহমান, ঝর্না দাম, রেশমা খাতুন, ইরা রানী, রত্না খাতুনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

সমাবেশে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

ষষ্ঠ শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করে বর্ণ দাম, দ্বিতীয় জিমিয়া খাতুন এবং তৃতীয় তাহসিন জামান সিয়াম। সপ্তম শ্রেণিতে প্রথম মোছা. মুসফিকা, দ্বিতীয় রিয়াদ হাসান এবং তৃতীয় জুয়েল রানা। অষ্টম শ্রেণিতে প্রথম মো. রিফাত হোসেন, দ্বিতীয় বনলতা দাস এবং তৃতীয় মো. ফাইম হোসেন। নবম শ্রেণিতে প্রথম মাহামুদুল হাছান, দ্বিতীয় এসএম তামিম ইসলাম এবং তৃতীয় তানমিন আক্তার মিম। দশম শ্রেণিতে প্রথম মোহনা জামান, দ্বিতীয় অপূর্ব পাল এবং তৃতীয় শাওন রেজা।


নির্বাচিত

তিস্তার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৫টি পরিবার পেল সরকারি সহায়তা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি

তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের ৩৫টি পরিবারের মাঝে ঢেউটিন, নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে এক বান্ডিল করে টিন ও ৫ হাজার টাকা এবং খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার। একই সঙ্গে তাদের খাদ্যসামগ্রীও দেওয়া হয়।

ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া, গঙ্গাচড়া থানার ওসি আব্দুস ছবুর, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাঈদুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি চান সরকার, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী।

এর আগে নোহালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চর নোহালী কাচারীপাড়া, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় তিস্তার ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। নদীর পানি কমতে শুরু করার পর ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। প্রচণ্ড স্রোতে প্রতিদিনই নদীতীরের মাটি ধসে পড়ছে। বসতভিটা ও ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্কে অনেক পরিবার ঘরের টিন, কাঠ, দরজা-জানালা ও গৃহস্থালির মালামাল সরিয়ে নিয়েছেন। স্থানীয়দের তথ্যমতে, গত কয়েক দিনের ভাঙনে অন্তত ৩৬টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ আবাদি জমিও নদীতে হারিয়ে গেছে। নদীতীরবর্তী শতাধিক পরিবার বর্তমানে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করেন এবং দুর্গত পরিবারের মাঝে সরকারি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। ভাঙন পরিস্থিতি সম্পর্কে জেলা প্রশাসককে অবহিত করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন তিনি। ইউএনওর পাঠানো প্রতিবেদন ও সুপারিশের ভিত্তিতে গত ২৩ জুলাই রংপুরের জেলা প্রশাসক বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে চিঠি পাঠান। চিঠিতে নোহালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চর নোহালী কাচারীপাড়ায় ২২টি এবং ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে আরও ১৪টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়।


নির্বাচিত

ওএমএসের আটা আত্মসাৎ ৩ খাদ্য কর্মকর্তা বরখাস্ত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় খোলাবাজারে বিক্রির (ওএমএস) আটা আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাসহ তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। একই সঙ্গে তাদেরকে কালাই উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর আগে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার একটি গোপনে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

বরখাস্ত ব্যক্তিরা হলেন উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ুন আহম্মেদ, খাদ্য পরিদর্শক মো. মাহমুদুন্নবী সরকার এবং সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক আব্দুল মোমিন।

জানা যায়, কালাই উপজেলায় প্রতিদিন দুই টন আটা ও দুই টন চাল বরাদ্দ রয়েছে। একজন সুবিধাভোগী ২৭০ টাকায় পাঁচ কেজি আটা ও পাঁচ কেজি চাল কিনতে পারেন।

‎স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিদিন দুই টন আটার বিপরীতে বিক্রয়কেন্দ্রে ৪০ বস্তা আটা থাকার কথা থাকলেও সেখানে রাখা হতো মাত্র ২০ বস্তা। ফলে অনেক সুবিধাভোগী চাল পেলেও আটা পেতেন না। বাকি ২০ বস্তা আটার কোনো হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না বলে তাদের দাবি।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন দুই টন আটার বিপরীতে বিক্রয়কেন্দ্রে ৪০ বস্তা আটা থাকার কথা থাকলেও সেখানে রাখা হয় মাত্র ২০ বস্তা। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সুবিধাভোগী আটা না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যান। গত সোমবার বিষয়টি জানাজানি হয়।

‎এ নিয়ে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ুন আহম্মেদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে গোপনে ধারণ করা একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘এত কথা কওয়া লাগবে ক্যা, কয় টন বরাদ্দ, এতদিন পর আচ্ছে। সবাই মিলেমিশে খাই। এখানে তেমন কিছু নাই। যা হবে ভাই-ব্রাদার মানুষ, সবাই মিলেমিশে খামু। আর আপনারা যদি কন বন্ধ করে দিতে, কালকে থেকে বন্ধ করে দিমু।’

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে গত মঙ্গলবার তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। প্রাথমিক তদন্তেই আটা আত্মসাৎ এবং দায়িত্বে অবহেলার সত্যতা পাওয়া যায়। এরই ভিত্তিতে গত বুধবার মহাপরিচালকের নির্দেশে অভিযুক্ত তিনজনকে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।’


নির্বাচিত

ব্যস্ত মহাসড়কের সেতুতে বড় গর্ত, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

* দ্রুত সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আষাঢ়িয়াচর ২ৎনং সেতুর ঢাকামুখী লেনে মাঝখানে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। যেন মরণফাঁদে তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন এ সেতুর উপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজারো যানবাহন। সেতুর ডেক স্ল্যাবের ওই গর্ত দিয়ে নিচের পানি পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। দেশের অন্যতম ব্যস্ত এ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সেতুর এমন অবস্থা যেন দেখার কেউ নেই। দ্রুত স্থায়ী সংস্কার না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে এ সড়কের পথচারী ও স্থানীয়রা।

এদিকে শুধু সেতুর অবস্থা নয়, এ সেতুর দু’পাশে পথচারীদের জন্য নির্মিত ওয়াকওয়ে রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশায় পরিণত হয়। এতে পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয় সেতুর রাস্তা দিয়ে ।

সরেজমিনে দেখা যায়, গত কয়েক দিন ধরে সেতুর মাঝামাঝি অংশের ডেক স্ল্যাব ভেঙে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গর্তটি এড়িয়ে চলতে গিয়ে বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনকে গতি কমিয়ে সতর্কতার সঙ্গে সেতু পার হতে হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছে, ভারী যানবাহন চলাচলের সময় সেতুতে কম্পনও অনুভূত হয়। রাতের অন্ধকার বা বৃষ্টির সময় গর্তটি স্পষ্টভাবে দেখা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের পরিধি ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে ঝুঁকি কমাতে এখনো দৃশ্যমান কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সেতুটি ব্যবহার করছেন সাধারণ মানুষ।

এদিকে শুধু সেতুর মূল অংশই নয়, পথচারীদের জন্য নির্মিত ওয়াকওয়ে রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশায় পরিণত হয়। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে স্ল্যাব ভেঙে গেছে, কংক্রিট উঠে গেছে এবং কোথাও কোথাও বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় আগাছায় ঢেকে পথটি প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তার উপরে স্ল্যাব না থাকায় পথচারীরা ঝুঁকি নিয়ে সেতুর রাস্তা দিয়ে সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ কোম্পানি, বসুন্ধরা কোম্পানি, আল-মোস্তফা কোম্পানি, টাইগার পাওয়ার হাউসসহ আশপাশের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিক, স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন হেটে চলাচল করছেন। সামান্য অসাবধানতায় দ্রুতগতির যানবাহনের নিচে পড়ে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তারা।

ট্রাকচালক মহসিন মিয়া বলেন, ‘আষাঢ়িয়াচর দ্বিতীয় সেতুর বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। সেতুর মাঝখানে বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় যেকোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত স্থায়ীভাবে সংস্কার না করলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।’

স্থানীয় আষাঢ়িয়াচর গ্রামের সুমন আলম বলেন, ‘কয়েক মাস আগেও একই স্থানে গর্ত হওয়ার পর নামমাত্র সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু কাজটি টেকসই না হওয়ায় আবারও বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। শুরু থেকেই মানসম্মতভাবে সংস্কার করা হলে আজ এ পরিস্থিতি তৈরি হতো না। বর্তমানে সেতুর বিভিন্ন স্থানে স্ল্যাব ভেঙে গেছে, কংক্রিট উঠে গেছে এবং প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা দ্রুত ও স্থায়ীভাবে সেতুটি সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।’

উপজেলার পিরোজপুরের রতনপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মো. সালাউদ্দিন মধু বলেন, ‘প্রতিদিন তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যায় এ সড়ক দিয়ে। আষারিয়ারচর ২য় সেতুর এ বেহাল অবস্থা মাঝখানে মরণফাঁদ যেন দেখার কেউ নেই। সেতুর সাইডে মানুষ যাতায়াতের রাস্তার স্ল্যাব কি হইছে তাও কর্তৃপক্ষ দেখে না। সেখানে এখন ঘাস হয়ে গেছে। এই রাস্তাটি দিয়ে সাধারণ নিম্ন আয়ের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করে। একটু হোচট খেলেই গাড়ির তলে পড়বে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতু ও পথচারীদের চলাচলের অংশ ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামত, ওয়াকওয়ে নিরাপদ করা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, ‘মহাসড়কের আষাঢ়িয়াচর ২ নম্বর সেতুর গর্তের বিষয়ে আমরা অবগত আছি। প্রাথমিকভাবে গর্তের ওপর স্টিলের প্লেট বসানো হয়েছে। পরে নিচ দিয়ে শাটারিং করে স্থায়ীভাবে কংক্রিট ঢালাইয়ের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করা হবে। বৃষ্টির কারণে রাস্তার কাজ শেষ করা যায়নি। আশা করছি, কয়েক দিনের মধ্যেই সংস্কারকাজ সম্পন্ন হবে।’


নির্বাচিত

মৌসুমের শেষে সাপাহারের আমের বাজারে কোটি টাকার বেচাকেনা

* ঊর্ধ্বমুখী দামে হাসি ফিরেছে আমচাষিদের মুখে
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সবুজ হোসেন, নওগাঁ

মৌসুম প্রায় শেষের পথে হলেও নওগাঁর সাপাহারের ঐতিহ্যবাহী আমের হাটে এখনো ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় কমেনি। বাজারে আমের সরবরাহ আগের তুলনায় কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। বর্তমানে প্রতিদিন এই বাজারে প্রায় ৫ থেকে ৭ কোটি টাকার আম কেনাবেচা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চাষিরা ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও শ্যালোচালিত যানবাহনে ক্যারেট ভর্তি আম নিয়ে বাজারে আসছেন। তবে মৌসুমের শেষ দিকে আমের পরিমাণ কমে যাওয়ায় প্রতিটি চালান ঘিরেই ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে চলছে দামের তীব্র দর-কষাকষি।

এখন বাজারে মূলত ব্যানানা ম্যাংগো, আশ্বিনা, গৌড়মতি, কাটিমন, বারি-৪ এবং অল্প পরিমাণ আম্রপালি পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে আম্রপালির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। মানভেদে প্রতি মণ আম্রপালি ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ব্যানানা ম্যাংগোর দাম ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা, বারি-৪ চার থেকে আট হাজার টাকা, আশ্বিনা দুই থেকে তিন হাজার টাকা এবং গৌড়মতি ও কাটিমন তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় আমচাষিদের ভাষ্য, ‘মৌসুমের শুরুতে অতিরিক্ত গরমের কারণে অধিকাংশ আম নির্ধারিত সময়ের আগেই পেকে যায়। ফলে বাজারে একসঙ্গে প্রচুর আম ওঠায় দাম কমে যায় এবং অনেক কৃষক উৎপাদন খরচ তুলতেও হিমশিম খেয়েছেন। তবে এখন সরবরাহ কমে যাওয়ায় অবশিষ্ট আমের ভালো মূল্য মিলছে।’

আমচাষি জামাল হোসেন বলেন, ‘মৌসুমের শুরুতে বাজারমূল্য আশানুরূপ না থাকায় অনেক কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। শেষ সময়ে এসে দাম বাড়লেও শুরুতে হওয়া লোকসান পুরোপুরি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।’

আরেক চাষি লতিফ হোসেন জানান, তার আড়াই বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের আমের বাগান রয়েছে। মৌসুমের শুরুতে আম্রপালির ভালো দাম না পেলেও বর্তমানে বারি-৪ জাতের আম বিক্রি করে সন্তোষজনক মূল্য পাচ্ছেন।

সাপাহার আম ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন রিফাত বলেন, ‘বর্তমানে নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছাড়া দেশের অন্য কোথাও তেমন আম নেই। বাজারে আমের সরবরাহ আরও কমলে দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এর সুফল পাচ্ছেন কৃষকরা।’

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, ‘বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটির বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে নওগাঁর আমের স্বাদ ও গুণগত মান আলাদা। তাই কৃষকদের লেট ভ্যারাইটি আমের চাষে উৎসাহিত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে মৌসুমের শেষভাগেও তারা লাভজনক দামে আম বিক্রি করতে পারেন।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি মৌসুমে নওগাঁ জেলায় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৮৭ হাজার ২৩৫ টন। এ বছর আমকে কেন্দ্র করে জেলায় প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হওয়ার আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।


নির্বাচিত

রাজবাড়ীতে সবজির বাজারে আগুন, কাঁচামরিচ ৪০০ ছুঁই ছুঁই 

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

টানা বৃষ্টির অজুহাত ছাড়েনি সবজির বাজারকে। বৃষ্টির কারণ দেখিয়ে এখনো চড়া দাম সব ধরনের সবজির। যার মধ্যে বেগুনের দাম সবচেয়ে বেশি। বাজারে লম্বা বেগুন ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হলেও গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা, বাকি সবজিগুলোর ৬০-১০০ টাকার ঘরে। এ ছাড়া কাঁচামরিচের কেজি প্রায় ৪০০ ছুঁই ছুঁই। মান ও জাত ভেদে বাজারে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৭০ টাকায়।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজবাড়ী গোয়ালন্দ ও সদর উপজেলার খানখানাপুর বাজার ঘুরে সবজির দামের এমন চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, ‘বৃষ্টির কারণে ফসলের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাই সবজির দাম বাড়তি। আরও কিছুদিন সবজির এমন বাড়তি দামই থাকবে।’

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আজকের বাজারে প্রতি কেজি ঢ্যাঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়, কাঁকরোল প্রতি কেজি ৯০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৬০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৪০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৮০ টাকা, পটল প্রতি কেজি ৮০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া লম্বা বেগুন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকায়, গোল বেগুন প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৯০ টাকা, কচুর লতি প্রতি কেজি ৬০-৮০ টাকা, ধন্দুল প্রতি কেজি ৮০-৯০ টাকা, বরবটি প্রতি কেজি ৮০-১০০ টাকা এবং কাঁচামরিচ জাত ও মান ভেদে প্রতি কেজি ৩২০ থেকে ৩৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ও শুক্রবার খানখানাপুর হাটের দিনে বাজারে বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী হামিদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘গত ৪-৫ দিন যাবৎ সবজির দাম অতিরিক্ত বেশি যাচ্ছে। কিছুদিন আগে বৃষ্টি ছিল, এখন সেভাবে বৃষ্টি নেই, তবুও দাম অতিরিক্ত বেশি। আজকে বাজারে বেগুন ১০০ টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে। আর কাঁচামরিচ ৩২০ টাকা থেকে ৩৭০ টাকা পর্যন্ত তার মানে প্রায় ৪০০ টাকা ছুঁই ছুঁই।’ বিক্রেতারা বলছেন, ‘বাজারে মালের সরবরাহ কম, কারণ বৃষ্টিতে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাজারে এখন বলতে গেলে কিছু সবজি ১০০ টাকার নিচে, বাকি সব ১০০ টাকার উপরে। এত বেশি দামে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য সবজি কিনে খাওয়া কঠিন।’


নির্বাচিত

লামায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২০ হাজার চারা রোপণ ও বিতরণ করেছে কৃষক দল

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় বৃক্ষ রোপণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদল। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃক্ষ রোপণের এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৮দিনে উপজেলার সরই, গজালিয়া, ফাইতং, ফাঁসিয়াখালী, আজিজনগর, রুপসীপাড়া ও লামা সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২০ হাজার ফলদ বনজ গাছের চারা রোপণ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হয়। উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইব্রাহিম পৃথকভাবে এসব চারা রোপণ ও বিতরণ কার্যক্রমের উদ্ভোধন করেন।

এতে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উপজেলা আহ্বায়ক জাকির হোসেন, উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুল হক মিলন, উপজেলা মহিলা দলের সাবেক সভানেত্রী জোছনা বেগমসহ স্থানীয় কৃষক দলের নেতাকর্মী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ গ্রহণ করেন।

এ বিষয়ে ফাইতং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জতীয়তাবাদী কৃষক দলের বৃক্ষ রোপণ ও বিতরণ একটি ভালো উদ্যোগ।

বৃক্ষ রোপণকালে কৃষকদলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ‘একটি গাছ শুধু আমাদের অক্সিজেনই দেয় না, এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সহায়তা করে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত বছরে অন্তত একটি গাছ লাগানো এবং সেটির পরিচর্যা করা।’ মানুষের মধ্যে বৃক্ষপ্রেম জাগিয়ে তুলতে কৃষক দল বরাবরের মতোই এ ধরনের সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করবে বলেও জানান কৃষক দলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইব্রাহিম।


নির্বাচিত

ফেনীতে শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করে টিকটকে ভিডিও পোস্ট, গ্রেপ্তার ১

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফেনী প্রতিনিধি

ফেনীতে শিশু শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করে টিকটকে ভিডিও প্রকাশ করার ঘটনায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় মোজাম্মেল হোসেন প্রকাশ হোসাইন (২০) নামের ওই যুবককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ ছাড়া মামলায় নাম থাকা অন্য দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। পরে রাতে ফেনী শহরতলির লালপোল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে পুলিশ।

অন্য আসামিরা হলেন, পশ্চিম সিলোনিয়া এলাকার সালমান (২০) ও যাত্রাসিদ্ধি এলাকার মাহফুজ (১৯)।

​জানা যায়, গ্রেপ্তার মোজাম্মেল হোসেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মৈশাইল এলাকার মনির হোসেনের ছেলে। তিনি পরিবারের সঙ্গে ফেনী সদর উপজেলার উত্তর সিলোনিয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

​মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই দুপুরের পর ফেনী সদরের গোবিন্দপুর এলাকায় স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল ৬ বছর বয়সি এক শিশু। পথে কয়েকজন যুবক তার গতিরোধ করে। তাদের মধ্যে দুজন শিশুটির হাত ধরে টানাটানি শ্লীলতাহানি ও উত্ত্যক্ত করে। অন্য এক যুবক পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে পরবর্তীতে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে পোস্ট করে। পরে ৩০ জুলাই বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে সর্বস্তরে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি নজর এড়ায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও। গত বৃহস্পতিবার রাতে ফেনী শহরতলির লালপোল এলাকা থেকে অভিযুক্ত মোজাম্মেল হোসেনকে আটক করে পুলিশ। পরে একই রাতে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলায় মোজাম্মেলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

​ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নিশাত তাবাসসুম বলেন, ‘ভিডিওটি নজরে আসার পরপরই অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’


নির্বাচিত

বই না পড়ে কেউ স্মরণীয় ও বরণীয় হতে পারে না: বিভাগীয় কমিশনার 

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ে পাঠক সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান গতকাল শুক্রবার (৩১ জুলাই) বয়রাস্থ বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সহযোগিতায় দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (৩য় সংশোধিত) প্রকল্প এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘বই না পড়ে কেউ স্মরণীয় ও বরণীয় হতে পারে না। একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়তে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করে তুলতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার। শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে নিয়মিত বই পড়ার বিকল্প নেই।’

ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য তাদের বই পড়ায় উৎসাহিত করতে হবে এবং মোবাইল ফোনের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘বই আমাদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে। বইকেনা ও পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে জাতি মননে আরও সমৃদ্ধ হবে।’

খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও প্রকল্প পরিচালক মু. বিল্লাল হোসেন খান ও গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মোছা. মরিয়ম বেগম। স্বাগত বক্তৃতা করেন বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারে সিনিয়র লাইব্রেরিয়ান মো. সাইফুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ৬৪ জেলায় ৭৬টি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি পরিচালনা করা হচ্ছে।

পাঠক সমাবেশ উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিরা। অতিথিরা ভ্রাম্যমাণ বইমেলা পরিদর্শন করেন। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

এর আগে বয়রাস্থ বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগার প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। উল্লেখ্য, পাঠক সমাবেশ উপলক্ষে বয়রাস্থ বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে চার দিনব্যাপী বইমেলায় পাঁচটি স্টলে ৩০ শতাংশ ছাড়ে বই বিক্রি করা হচ্ছে। আজ ১ আগস্ট বইমেলা শেষ হবে।


নির্বাচিত

রুনা হত্যা মামলার তদন্তে ধীরগতি, বিচার দাবিতে ক্ষুব্ধ ইবি পরিবার

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইবি প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের মামলার চার্জশিট এখনো না হওয়া ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামতের ফরেনসিক রিপোর্ট প্রাপ্তিতে ধীরগতি হওয়ায় ক্ষুব্ধ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। তবে, মামলার অগ্রগতির নিমিত্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত রিপোর্ট প্রাপ্তির জন্য আবেদন করলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো সরবারহ করেনি বলে জানা গেছে।

জানা যায়, গত ৫ মার্চ এ ঘটনায় ইবি থানায় ফজলুকে প্রধান আসামিসহ মোট চারজনকে আসামি করে মামলা করেন নিহতের স্বামী ইমতিয়াজুর সুলতান। পরে পুলিশ অভিযুক্ত ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করলেও ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মচারী ও উম্মুল মুমিনিন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমানকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থা।

হত্যাকাণ্ডের পর কয়েক দিনের মধ্যে সিআইডি স্পেশাল ফোর্স ঘটনাস্থল থেকে আলামতগুলো উদ্ধার করে পরবর্তীতে সেগুলো ফরেনসিকের জন্য প্রেরণ করা হয়। এখনো রিপোর্ট আসেনি বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।

বিভাগের শিক্ষার্থী বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শ বলেন, ‘ম্যামের হত্যাকাণ্ডের সাড়ে চার মাস হয়ে গেছে। তবুও প্রশাসনের অসম্পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছে। এখনো পর্যন্ত ম্যামের হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি। ম্যামের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। ম্যামের পাওনাকৃত অর্থ (পেনশন) দেওয়া হয়নি। ম্যামের পরিবারের কর্মক্ষম ব্যক্তির জন্য কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়নি। চার্জশিট এখনো পর্যন্ত জমা করা হয়নি। ফরেনসিক রিপোর্ট এখনো পর্যন্ত আসেনি। ম্যামের নামে হলের নামকরণ করা হয়নি। শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ম্যামের সন্তানরা অনেক সহ্য করে আছে। কিন্তু ম্যামের প্রতি, পরিবারের প্রতি এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রশাসনের এত অন্যায়; কিন্তু সৃষ্টিকর্তাও মেনে নেবে না। আমি প্রশাসনকে বলতে চাই, আমাদের ধৈর্য্যের পরীক্ষা নেবেন না। অযৌক্তিক এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে আহ্বান করছি। অন্যথায় এবার যদি ম্যামের সন্তানদের মাঠে নামতে হয়, তাহলে কিন্তু প্রশাসনের ব্যক্তিদের গদি লইড়া যাবে।’

বিভাগের শিক্ষার্থী পাভেল জামান আকাশ বলেন, ‘আমরা আন্দোলনে নামলে প্রশাসনের নজরে আসে অন্যথায় তারা বিষয়টাকে গুরুত্ব সহকারে নেয় না। আন্দোলন কঠোর রূপ ধারণ করলে প্রশাসন পদক্ষেপ নেয়। ম্যামের হত্যাকারী দৃশ্যমান তবুও বিচারিক প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা সুস্পষ্ট যা ক্ষোভ তৈরি করছে। আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হব।’

নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজুর সুলতান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় বা তদন্ত কর্মকর্তার নিকট থেকে তেমন আপডেট পাই না। তাদের সাথে যোগাযোগ করলে মামলার অগ্রগতি হচ্ছে বলে আশ্বস্ত করেন।’

অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ সাইদ বলেন, ‘মামলা আদালতের গতানুগতিক ধারায় চলমান রয়েছে। আসামির পক্ষে কেউ এখনো জামিন ধরেনি। ফলে অভিযুক্ত ফজলু জেলে আটক রয়েছেন। মামলার শুনানি কবে শুরু হবে বা অভিযুক্ত ফজলু রিমান্ড চলাকালীন সময়ে কি জবানবন্দি দিয়েছে সেসব আদালতের গোপনীয় বিষয়। এগুলো এই মুহূর্তে জানার কোনো সুযোগ নাই আমাদের।’

এ বিষয় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত রিপোর্ট প্রাপ্তির জন্য আবেদন করেছি। সে রিপোর্টের তথ্য সমন্বয় করলে মামলার অগ্রগতিতে সহায়তা হবে। ঘটনাস্থল থেকে সিআইডির ফরেনসিক টিম গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করে আমাদের নিকট হস্তান্তর করেছিলেন। এ ছাড়া ঘটনার সময়কালীন একটি ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গিয়েছিল। ফুটেজগুলো জব্দ করে প্রকৃত কি না পরীক্ষার জন্য ঢাকা সিআইডির ফরেনসিক ইউনিটে বিজ্ঞ আদালতের অনুমতিসাপেক্ষে প্রেরণ করা হয়েছে। এখনো আমরা ফরেনসিক রিপোর্ট পাইনি। ফরেনসিক রিপোর্ট পেলে সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে বিজ্ঞ আদালতে পেশ করব।’

চার্জশিটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মূল হত্যাকারী জেলহাজতে আছেন এবং মামলা চলমান। বাকি যারা আছে তারা পলাতক। তাদের আনুষঙ্গিক তথ্যাদি সংগ্রহসহ তাদের গ্রেপ্তার করার জন্য বিভিন্ন থানা ও অন্যান্য সংস্থায় চিঠিও দেওয়া আছে। যাতে পলাতকদের গ্রেপ্তার করতে পারে। হত্যাকারী ফজলুর রহমানকে আরও অন্য কেহ হত্যার প্ররোচনা দিয়েছিল কি না সে বিষয়ে নিয়েও কাজ করছি। হত্যার মোটিভ উদঘাটনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সকল স্টেকহোল্ডারের সাথে কথা বলে তাদের নিকট থেকে সাক্ষ্য নিচ্ছি। আমরা কোনো ধরনের তড়িঘড়ি করছি না যাতে মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে বাধাগ্রস্ত হয়।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘আসমা সাদিয়া রুনার হত্যাকাণ্ডের তদন্ত রিপোর্ট সিন্ডিকেটে উত্থাপিত হয়েছে এবং সিন্ডিকেট মনে করেছে উচ্চতর তদন্ত হওয়া উচিত সেই জন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তারা কাজ করছে। সুতরাং যতক্ষণ তদন্তাধীন জিনিস থাকবে ততক্ষণ পূর্বের তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার সুযোগ নাই।’


নির্বাচিত

চা-শ্রমিকদের মজুরি ৫০০ টাকা ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে কমলগঞ্জে গণবিক্ষোভ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

জাতীয় সংসদে উত্থাপিত চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা অবিলম্বে কার্যকর, শ্রম অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার দাবিতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে গণবিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী কমলগঞ্জ উপজেলার মিরতিংগা চা-বাগানে ‘বাংলাদেশের সাধারণ চা-শ্রমিক ও ছাত্র-যুবক’ এর যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে স্থানীয় চা-বাগানের শ্রমিক, ছাত্র-যুবকসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

মিরতিংগা চা-বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি মন্টু অলমিকের সভাপতিত্বে এবং ইমরান নাজিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, চা শ্রমিক নেতা জনক লাল দেশোয়ারা (জনি), শমশেরনগর চা-বাগানের ছাত্রনেতা গোপাল যাদব, জগদীশ বাউরী, দেওরাছড়া চা-বাগানের ছাত্রনেতা অনুরাগ কর্মকার রাজু, গিয়াসনগর চা-বাগানের ছাত্রনেতা মুমিন আহমেদ এবং চা-ছাত্র যুব পরিষদ মনু-ধলই ভ্যালীর যুগ্ম আহ্বায়ক ও মিরতিংগা চা-বাগানের শ্রমিক সন্তান মানিক প্রসাদ পাল।

সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের বাজারে বর্তমান মজুরি দিয়ে চা-শ্রমিকদের সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। জাতীয় সংসদে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা বাস্তবায়নের বিষয়টি উত্থাপিত হলেও তা আটকে আছে।’ বক্তারা এই দাবি অবিলম্বে কার্যকর করার জোর আহ্বান জানান।

এ ছাড়া শ্রম অধিদপ্তরের অযাচিত ও অবৈধ হস্তক্ষেপ বন্ধ করে বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান তারা। বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন যে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাধা দিলে পরবর্তীতে চা-শিল্পে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যা কারও জন্যই মঙ্গলজনক নয়।’

অন্যান্যর মধ্যে সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন লাইন চৌকিদার সুজন মাল, মহিলা দফার সর্দারনি নিয়তি গৌর, গীতা পাইনক্কাসহ বিভিন্ন চা-বাগানের শ্রমিক প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

সমাবেশ থেকে নেতারা সতর্কবার্তা দিয়ে জানান, তাদের এই যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে মেনে না নেওয়া হলে পুরো চা অঞ্চলজুড়ে কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।


নির্বাচিত

প্রকৃতি ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় ভদ্রা খালে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ভদ্রা খালে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও অবৈধ মৎস্য আহরণ প্রতিরোধে এক বিশাল যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানের মাধ্যমে খাল থেকে বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকারক নেট-পাটা ও রিং জাল (চায়না দুয়ারি) অপসারণ করে তাৎক্ষণিকভাবে তা জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

​সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা মৎস্য দপ্তর এবং ডুমুরিয়া থানা পুলিশ যৌথভাবে অংশ নেয়।

​দীর্ঘদিন ধরে একশ্রেণির অসাধু জেলে ও দখলদার ভদ্রা খালের বিভিন্ন পয়েন্টে বাঁশের বেড়া বা নেট-পাটা দিয়ে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ আটকে রেখেছিল। এ ছাড়া ক্ষতিকারক ‘চায়না দুয়ারি’ জালের অবাধ ব্যবহারে রুই, কাতলা, মৃগেল থেকে শুরু করে ছোট আকারের দেশীয় প্রজাতি যেমন—টেংরা, পুঁটি, খোলসে ও বাইম মাছের রেনু পোনাও ধ্বংস হচ্ছিল। এতে স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ যৌথভাবে পুরো ভদ্রা খালজুড়ে এই বিশেষ অভিযান চালায়।

​ডুমুরিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘স্থানীয় কিছু অসাধু লোক খালের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি ও পানিপ্রবাহ আটকে অবৈধ নেট-পাটা ও চায়না দুয়ারি জাল বসিয়েছিল। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। সরকারি নির্দেশনানুযায়ী আমরা কোনো প্রকার বেআইনি কাজ সহ্য করব না। ডুমুরিয়ার কোনো খাল বা উন্মুক্ত জলাশয়ে কোনো অবৈধ জাল বা নেট-পাটা থাকবে না। জলাশয়গুলো জনসাধারণের, এখানে কৃত্রিম বাধা সৃষ্টি করে প্রকৃতিকে ধ্বংস করতে দেওয়া হবে না। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আগামীতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে এবং প্রয়োজনে কঠোর আইনি শাস্তির আওতায় আনা হবে।’

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মো. জিল্লুর রহমান রিগান বলেন, ‘চায়না দুয়ারি এবং নেট-পাটা মাছের জন্য এক ধরনের ‘‘নীরব ঘাতক’’। এর ফাঁদ এতই ছোট যে, পানির একদম তলদেশ দিয়ে চলাচলকারী মাছের ডিম ও রেনু পোনা পর্যন্ত এতে আটকে মারা যায়। ডুমুরিয়া উপজেলাকে মৎস্যসম্পদে সমৃদ্ধ রাখতে হলে এই ক্ষতিকর প্রবণতা বন্ধ করতেই হবে।’

​অভিযান চলাকালে ভদ্রা খালের দুই পারের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যায়। মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের এ ধরনের শক্ত পদক্ষেপে তারা আনন্দ প্রকাশ করেছেন।

​স্থানীয় এক বয়োবৃদ্ধ বাসিন্দা বলেন, ‘আমাদের এলাকায় আগে কখনো এমন অভিযান দেখিনি। অফিসে বসে সেবা দেওয়ার পাশাপাশি কর্মকর্তারা এখন সরাসরি খালে-বিলে নেমে এই ক্ষতিকর জালউচ্ছেদ করছেন, যা প্রশংসার দাবিদার। খালটি মুক্ত হলে দেশি মাছ যেমন বাঁচবে, তেমনি পানির প্রবাহও ঠিক থাকবে।’

​সংশ্লিষ্ট পরিবেশবিদ ও স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তরের এই যৌথ উদ্যোগ নিয়মিত বজায় থাকলে ভদ্রা খালসহ আশেপাশের জলাশয়ে অবৈধ মৎস্য আহরণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে, যা দেশীয় মাছের প্রাকৃতিক বংশবৃদ্ধি ও দক্ষিণাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।


নির্বাচিত

মাদারীপুরে ছেলেকে জমি লেখে না দেওয়ায় বৃদ্ধ পিতাকে মারধর

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুর সদরের দত্ত কেন্দুয়ায় জমি লেখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে ৭০ বছরের বৃদ্ধ পিতাকে মারধর করার ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

জানা যায়, সদর উপজেলার দত্ত কেন্দুয়ার বৃদ্ধ করম আলী ঘরামি (৭০) তার মেঝ ছেলে আজিজুল ঘরামীকে বাড়ির পাশের একটি জমি লেখে দেন। এতে তার অন্য দুই ছেলে আ. সোবহান ও ইমামুল এবং এক পুত্রবধূ আকলিমা বেগম ক্ষিপ্ত হয়ে পিতা করম আলীকে লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে এবং বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

বৃদ্ধ পিতাকে অমানুষিক মারধরের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা প্রকাশ করে বলেন, ‘জমি লেখে দেওয়ার বিষয়টি পারিবারিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে ফায়সালা করা যেত; কিন্তু সে জন্য সন্তান কর্তৃক বৃদ্ধ পিতাকে মারধর করা অমানবিক কাজ।’

আহত করম আলী ঘরামী জানান, আক্রমণ করা তার ওই দুই ছেলে তাকে ভরণ-পোষণ দেয় না বরং প্রায়ই মানষিক ও শারিরীক নির্যাতন করে, অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে।

ওই ঘটনায় মেঝ ছেলে আজিজুল ঘরামীর স্ত্রী মুক্তা বেগম অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বিষয়টি হাসপাতালে কর্তব্যরত পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ রাজ্জাক ‘হাসপাতাল ইন্সিডেন্ট রিপোর্ট’ হিসেবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী পরিবার কর্তৃক লিখিত অভিযোগ পেলে সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ।


নির্বাচিত

banner close