স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে কর্মস্থল ময়মনসিংহের পথে রওনা হয়েছিলেন আনোয়ার হোসেন। বগুড়ার তিনমাথা এলাকায় পৌঁছাতেই পুলিশ থামিয়ে দিয়েছে সেই বাস। নামিয়ে দিয়েছে যাত্রীদের। মাঘ মাস হলেও বেলা ১টায় সূর্য যখন ঠিক মাথার ওপর, সেই সময়টিতে আনোয়ার হোসেনকে পাশে স্ত্রী আর কোলে বাচ্চা নিয়ে উদ্বাস্তুর মতো দাঁড়িয়ে থাকতে হয় মহাসড়কে।
দিনাজপুর থেকে আসা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘যেই বাসে চড়ে ময়মনসিংহে যাচ্ছিলাম, পুলিশ সদস্যরা ওই বাসটি জব্দ করে নিয়ে গেছে। বাসে প্রায় অর্ধশত যাত্রী ছিল, সবাইকে নামিয়ে দিয়েছে। ঘণ্টাখানেক হলো এখানে দাঁড়িয়ে আছি। কিছু পাচ্ছি না।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়া শহরের তিনমাথা নিরালা পাম্প এলাকার বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কের প্রথম বাইপাসে গিয়ে দেখা যায় এমন চিত্র। সেখানে আনোয়ার হোসেনের মতো আরও প্রায় অর্ধশত যাত্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পরিবার-পরিজনসহ সবাইকে এভাবে বাস থেকে রাস্তায় নামিয়ে দেয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ সবাই।
বাধ্য হয়ে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে অধৈর্য যাত্রীরা যা বললেন তার সারমর্ম এ রকম, ‘মাঝপথে এভাবে নামিয়ে দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে রাখা মানে গায়ে পড়ে হয়রানি করা। পরিবার ও বেডিংপত্র নিয়ে রাস্তায় দিশেহারার মতো দাঁড়িয়ে আছি। চারপাশের রাস্তার ধুলায় দম বন্ধ হয়ে আসছে। কিছু বলারও নেই। শক্তি থাকলে সবাই প্রয়োগ করে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিভাগীয় জনসভা। সেখানে নিরাপত্তা দিতে কাজ করবেন বগুড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা। আর তাদের যাতায়াতের জন্য প্রয়োজন ছয়টি বাস। সেই বাস সংগ্রহ করতেই মহাসড়কে নেমেছে পুলিশ, রাস্তায় যাত্রী নামিয়ে দিয়ে বাসগুলো রিকুইজিশনে জব্দ করছে। ভুক্তভোগী যাত্রীরা বলছেন, বগুড়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের অবস্থান ওই তিনমাথা থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরত্বে। সেখানে গিয়ে থেমে থাকা বাসগুলো রিকুইজিশন করলে অন্তত যাত্রাপথে থাকা যাত্রীদের ভোগান্তি হতো না।
তিনমাথার নিরালা পাম্প এলাকায় গিয়ে একাধিক বাসের অন্তত ৫০ জন যাত্রীকে দেখা গেল সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে। কেউ মালামাল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, কেউ রাস্তার ওপর বসে পড়েছেন। অনেকে রিকশা-ভ্যান খোঁজার চেষ্টা করছেন, যেন সামনে কিছুটা এগিয়ে যাওয়া যায়। পাশেই বগুড়া জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের দুই কর্মকর্তা ও এপিবিএনের দুই সদস্যকে মহাসড়ক দিয়ে ঢাকাগামী বাসগুলো থামিয়ে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করতে দেখা গেল।
এ সময় কয়েকজন বাসযাত্রীর সঙ্গে কথা হয় দৈনিক বাংলার। তাদের একজন জহুরুল ইসলাম, পেশায় কাপড় ব্যবসায়ী। পাঁচ সহযোগীকে নিয়ে কাপড় বিক্রি করতে গিয়েছিলেন দিনাজপুরে। সেখান থেকে বাসে ফিরছিলেন টাঙ্গাইলে। কিছু মালামালও ছিল সঙ্গে। পথে বগুড়ার তিনমাথায় তাদের নামিয়ে দেয় পুলিশ।
জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমিসহ বাসের সব যাত্রীকে নামিয়ে দিয়েছে। ড্রাইভার সব কাগজ দেখিয়ে পুলিশদের অনেক অনুরোধ করেছিল। তবু গাড়ি ধরে নিয়ে গেছে। আমি তো মূর্খ মানুষ, এত কিছু বুঝি না। শুধু বুঝি, এই দুপুরে ঘণ্টাখানেক হলো রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি। আজ রোদও বেশি, ক্ষুধাও লেগেছে অনেক। এই মালামাল নিয়ে কই যাব এখন?’
ঠাকুরগাঁও থেকে ময়মনসিংহ যাচ্ছিলেন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ফারজানা রহমান। তিনি বলেন, ‘একাই রওনা দিয়েছিলাম। এখন ১ ঘণ্টা হলো রাস্তায় দাঁড়িয়ে। বাসায় বলার সাহস পাচ্ছি না। জানলে আম্মু-আব্বু টেনশনে জ্ঞান হারাবে। ওনারা সরকারি কাজে গাড়ি জব্দ করবেন ভালো কথা, তবে এভাবে মাঝপথে কেন? এখন কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না। ওনারা বলেছেন অন্য গাড়িতে উঠিয়ে দেবেন।’
পরে অবশ্য যাত্রীদের অন্য বাস পেতে সহযোগিতা করেছে পুলিশ। তবে সে ক্ষেত্রেও স্বাভাবিকভাবেই বেগ পেতে হয়েছে। কারণ মহাসড়কে আন্তজেলা বা দূরপাল্লার বাসগুলোতে মাঝপথে ফাঁকা আসন পাওয়া যায় না বললেই চলে। সে কারণেই রিকুইজিশন করা বাসগুলো থেকে নামিয়ে দেয়া যাত্রীদের বাস পেতেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।
জানতে চাইলে বগুড়ার ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) মাহাবুবর রশিদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘রাজশাহীতে সমাবেশে আসবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে এপিবিএন সদস্যরা ডিউটিতে যাবেন। তাদের যাতায়াতে ছয়টি বাস প্রয়োজন। সেগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে। চারটি বাস এরই মধ্যে রিকুইজিশন করা হয়েছে।’
মহাসড়কে মাঝপথে বাস থামিয়ে রিকুইজিশন নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে যাত্রীদের অসুবিধার কথা স্বীকার করে নিলেন পুলিশের এ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘সাময়িকভাবে কিছু অসুবিধা হয়েছে যাত্রীদের। তবে পরের বাসগুলোতে আমরাই তাদের উঠিয়ে দিচ্ছি।’
অদূরেই টার্মিনাল রয়েছে- জানাতেই মাহাবুবর রশিদ বলেন, ‘মহাসড়ক ছাড়া টার্মিনালে গিয়ে বাস রিকুইজিশন করা সম্ভব হয় না। সেখানে পরিবহনসংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে সহযোগিতা করেন না।’
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম তুহিন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এটি আইনের মধ্যে না থাকলে রাস্তায় যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে বাস রিকুইজিশন করা মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে। এই ব্যবস্থাটার পরিবর্তন হওয়া উচিত। রাষ্ট্রের অনেক অর্থ আছে, ব্যয়ের খাত আছে। সাধারণ মানুষ কোথাও ভ্রমণ করতে গেলে গাড়ি ভাড়া করে। তেমনি সরকারি দপ্তরের লোকজনও গাড়ি ভাড়া করে গন্তব্যে যাবে।’
জানতে চাইলে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) হেলেনা আকতার দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘রাস্তায় যাত্রী নামিয়ে গাড়ি রিকুইজিশন করার কথা নয়। তবে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশের জন্য এপিবিএন সদস্যরা আগামীকাল রওনা দেবেন। এ জন্য গাড়ি জরুরি ছিল। রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে আমাদের এ কাজ করতে হয়েছে।’
ঢাকার তুরাগ নদীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাত নেতা-কর্মীর লাশ ভাসার খবর ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। বাহিনীটি বলছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই তথ্য প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে এই ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সদরদপ্তর এই অনুরোধ জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, একটি মহল এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। যারা এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে তৎপর রয়েছে।
কেউ এ ধরনের অপপ্রচারে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
এই ধরনের মিথ্যা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
ফেনীর ছাগলনাইয়ায় নিজ বাড়ির সামনে যোবায়ের হোসেন পারভেজ নামে এক যুবকের গলা ও হাতকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদিকে ফুলগাজীতে এক কুয়েতপ্রবাসীর স্ত্রীর হাত-পা বেঁধে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
শনিবার (২৭ জুন) ছাগলনাইয়ায় ঘোপাল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিজকুঞ্জরা গ্রামে যোবায়ের হোসেন পারভেজকে হত্যা করা হয়। এ বিষয়ে নিহতের বাবা আবু তাহের বাদী হয়ে ছাগলনাইয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত পারভেজ ওয়ার্ড যুবলীগের কর্মী ছিলেন। অনেকেই বলছেন তিনি ঘোপাল ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
পারভেজের বাবা আবু তাহের দাবি করেন, প্রতিবেশী সাদেক মিয়ার ছেলে শাহাদাত হোসেন ও মামুনুর রশিদ মামুনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পারভেজের বিরোধ চলছিল। শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যায় একটি দোকানে মোবাইল ফোন নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। ওই বিরোধের জেরেই পারভেজকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের এশিয়া পোস্টকে বলেন, নিহতের বাবা বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পারভেজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ২৫টি মামলা রয়েছে। কিছুদিন আগে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি যুবলীগের সমর্থক ছিলেন বলে জানতে পেরেছি।
ওসি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং নিহতের স্বজনদের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে, ফেনীর ফুলগাজীতে এক কুয়েতপ্রবাসীর স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এই নৃশংস ঘটনার পর থেকে গোটা এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ তালবাড়িয়া গ্রামের ইসমাইল মাস্টার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূর নাম কাজল (৩৫)। তিনি তিন সন্তানের জননী এবং ওই বাড়ির কুয়েতপ্রবাসী নুরুল আমিনের স্ত্রী।
জানা গেছে, নিহত কাজলের তিন সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে সিলোনীয়া মাদরাসা এবং মেজো ছেলে তালবাড়িয়া মাদরাসার বোর্ডিংয়ে থেকে পড়াশোনা করে। গত শুক্রবার রাতে কাজল তার মাত্র দুই বছর বয়সী ছোট সন্তানকে নিয়ে ঘরে একাই ছিলেন। গভীর রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা ঘরের উপরের টিনের চাল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে কাজলের হাত-পা বেঁধে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
খবর পেয়ে ফুলগাজী থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় শত শত মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় জমান।
এ বিষয়ে ফুলগাজী থানার ওসি এম এম মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং এর সাথে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
সুন্দরবনের গহীনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের পর কুখ্যাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধানসহ দুই ডাকাতকে আটক করা হয়েছে। এ সময় বাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুন্দরবনে সক্রিয় বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং বনজীবী, জেলে ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ড ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ পরিচালনা করছে। এরই অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, খুলনার কয়রা উপজেলার বনপাড়া সংলগ্ন সুন্দরবনের গহীনে কুখ্যাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র সদস্যরা অবস্থান করছে।
এ তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৫ জুন বিকেল ৫টা থেকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা, স্টেশন কয়রা ও স্টেশন নলিয়ান যৌথভাবে টানা দুই দিন বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে ডাকাতদের বহনকারী দুটি বোট শনাক্ত করে কোস্ট গার্ড সদস্যরা থামার সংকেত দেন। তবে সংকেত অমান্য করে ডাকাতরা কোস্ট গার্ডকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ডও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলির সময় ডাকাতদের একটি বোটে আগুন ধরে যায় এবং অপর একটি বোট ডুবে যায়।
এ সময় কোস্ট গার্ড ২১৬ রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি ব্ল্যাঙ্ক কার্টিজ ফায়ার করে।
বন্দুকযুদ্ধ শেষে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধান রবিউল ইসলাম (৫০) এবং ডাকাত শওকত সরদারকে (৫৫) উদ্ধার করে আটক করা হয়। তাদের কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক শওকত সরদারকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে গুরুতর আহত রবিউল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অভিযান চলাকালে পালিয়ে যাওয়া অন্য ডাকাতদের ধরতে কোস্ট গার্ড ও বাংলাদেশ পুলিশ যৌথভাবে চিরুনি অভিযান শুরু করে।
এরই অংশ হিসেবে মঠবাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনে স্থানীয়দের সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে হাতের আঙুলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ইসরাফিল হাওলাদার (২৬) নামে আরেক ডাকাতকে আটক করা হয়। পরে তাকে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
আটক রবিউল ইসলাম ও নিহত শওকত সরদার খুলনার কয়রা উপজেলার এবং ইসরাফিল হাওলাদার সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
অভিযান শেষে সুন্দরবনের আরশিবসা নদীর বেসুখাল এলাকা থেকে ডাকাতদের ব্যবহৃত ৬টি একনলা বন্দুক, ৬৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, একটি দেশীয় অস্ত্র, একটি মোবাইল ফোন ও একটি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়।
কোস্ট গার্ড জানায়, আটক ব্যক্তিদের উদ্ধার করা অস্ত্র-গোলাবারুদ এবং নিহত ডাকাতের মরদেহ পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা ও ময়নাতদন্তের জন্য কয়রা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে কোস্ট গার্ডের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
মাদারীপুর ডাসার উপজেলার নবগ্রাম এলাকায় বিচিত্রা হালদারের কন্যা পিতৃহীবনলতা হালদার মানসিক প্রতিবন্ধী হয়ে ১৮ বছর ধরে গাছের সাথে শিকলবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা ও নবগ্রামের শশিকর ইউনয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুলাল তালুকদারে কাছ থেকে আলাদাভাবে জানা যায়, তার মানসিক প্রতিবন্ধী হয়ে যাবার বিষয়টি তাদের নজরে এলে যথাক্রমে সমাজসেবা অধিদপ্তর ও ইউনিয়ন কার্যালয় দপ্তর হতে তার জন্য প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড চালু করা হয়েছে।
তারা আরও জানান, সরকারিভাবে তার সুচিকিৎসা সহায়তার জন্য উক্ত পরিবারের অভিভাবকদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে আরও ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঘটনার বিবরণে মানসিক প্রতিবন্ধী বনলতার বৃদ্ধা মা বিচিত্রা হালদার, তার দুই ভাই ও দুই বৌদি জানান, প্রায় ১৮ বছর আগে বনলতা সম্পূর্ণ সুস্থ্য ছিল, স্কুলে যেত, লেখাপড়া করত কিন্তু হঠাৎ করে পেটে প্রচণ্ড ব্যাথার জন্য ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হলে তার পেটে অস্ত্রোপচার করা হয় এবং এতে সে অনেকটা সুস্থ্য হয়েও উঠলেও তার মধ্যে ক্রমান্বয়ে অস্বাভাবিক আচরণ পরিলক্ষিত হয়।
পরবর্তীতে সে মানসিক বিকারগ্রস্থ হয়ে পড়ে। প্রথম-প্রথম তাকে খোলামেলা রাখা হলেও পাগলামি বেড়ে যাওয়ায় পরে তাকে গাছের সাথে শিকলে আবদ্ধ করা হয়। সেই থেকে বনলতা হালদার দেড় যুগ তথা ১৮ বছর যাবৎ খোলা আকাশের নিচে রোদ-ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেও শিকলবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। অসহায় ও গরিব পরিবারটির আশা সরকারিভাবে তাকে উন্নত চিকিৎসা করা হলে পিতৃহারা বনলতা সুস্থ্য হয়ে
আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সক্ষম হবে এবং পরিবারের সবার সীমাহীন কষ্ট, দুঃখ-দুর্দশা ঘুচে যাবে। এছাড়াও তারা সমাজের বিত্তবান সহ সবাইকে তার সুচিকিৎসায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবার অনুরোধ করেছেন।
বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে আউটসোর্সিং ভিত্তিতে জনবল নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও তদবির বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও চূড়ান্ত নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে সুপারিশ এবং প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন চাকরি প্রত্যাশী ও সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, হাসপাতালের ৯৪ জন কর্মী সরবরাহের দায়িত্ব পেয়েছে ঢাকাভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এইচআরডি অ্যান্ড ই এজেন্সি। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব সক্ষমতার চেয়ে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় কাজটি লাভ করেছে। এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সাবেক এক প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, আবেদন গ্রহণ, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার মতো আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও চূড়ান্ত তালিকা তৈরিতে পরীক্ষার ফলাফলের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। বরং ব্যক্তিগত সুপারিশ ও তদবিরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি পূর্ববর্তী সরকারের আমলে আউটসোর্সিং ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া প্রায় ৬৬ জন কর্মীকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত কর্মীদের মধ্যে চাকরি হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে অভিযোগমুক্ত কর্মীদের বহাল রাখার পক্ষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একটি অংশ মত দিলেও এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মতপার্থক্য রয়েছে।
চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও পরবর্তীতে জীবনবৃত্তান্ত (বায়োডাটা) জমা দিয়ে নিয়োগ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। অভিযোগটি সত্য হলে পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের কয়েকজন আউটসোর্সিং কর্মী বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমাদের পরিবার এই আয়ের ওপর নির্ভরশীল। হঠাৎ করে চাকরি হারালে পরিবার নিয়ে সংকটে পড়তে হবে।’
তারা যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে বিদ্যমান কর্মীদের বহাল রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, ‘আউটসোর্সিং নিয়োগ পরীক্ষায় যারা মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে নিয়োগ নিশ্চিত করা উচিত। একই সঙ্গে পূর্বে কর্মরত যেসব কর্মীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই এবং যারা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের যেন অযৌক্তিকভাবে বাদ না দেওয়া হয়, সে বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।’
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে এইচআরডি অ্যান্ড ই এজেন্সির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক ও চাকরিপ্রার্থীরা। তাদের মতে, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার মা ও তিন মেয়ের মরদেহ শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে কুমিল্লার হোমনা উপজেলার নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে। রাত ১০টা ৫ মিনিটে হোমনা পৌরসভার লটিয়া ঈদগাহ মাঠে তাদের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবরে মা ও তিন মেয়েকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন মুফতি সামসুল হক আরিফী।
হৃদয়বিদারক এ দৃশ্য দেখতে জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে হাজারো মানুষ ভিড় করেন।
জানাযায় উপস্থিত ছিলেন হোমনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি কাজী মো. ইব্রাহিমসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।
এ মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো পরিবার হারিয়ে এখন সম্পূর্ণ একা হয়ে গেছে মো. সিফাত এখন বাকরুদ্ধ। ঘটনার সময় বাসার বাইরে থাকায় সে প্রাণে বেঁচে যায়।
এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া সিফাত একাই মা ও তিন বোনের মরদেন নিয়ে হোমনায় পৌঁছেন। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজন ও এলাকাবাসী জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করেন। প্রিয়জনদের হারানোর শোকে সিফাত এখন বাকরুদ্ধ। তার আপন বলতে আর কেউ রইল না।
জানাযার নামাজে উপস্থিত হোমনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা এ ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে তারা বদ্ধপরিকর। এছাড়াও সিফাতের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করতে তারা সহযোগিতা করবেন।
উল্লেখ্য, ২৫ জুন লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোড এলাকার একটি পাঁচ তলা ভবনের ভাড়া বাসায় ঢুকে অন্তর মজুমদার নামে এক যুবক ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাহীনূর আক্তার (৩৮) ও তার তিন মেয়ের ওপর হামলা চালায়। ঘটনাস্থলেই শাহীনূর আক্তার, বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১) এবং ছোট মেয়ে সিফা আক্তার (১০) নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যান মেঝো মেয়ে ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইকরা আক্তার। নিহত সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে হামলাকারী অন্তর মজুমদারও নিহত হয়।
মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে ফেনীতে বর্ণাঢ্য র্যালি আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ জুন) জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ফেনী জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক। মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবদুল হামিদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে মাদকের ভয়াবহতা ও এর কুফল রোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদীর ভাঙনকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। এ সময় তিনি ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন।
গত শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেল ৪টার দিকে তিনি উপজেলার সুন্দরদিঘী ইউনিয়নের লক্ষ্মীনারায়ণী এলাকা এবং দেবীডুবা ইউনিয়নের দাড়ারহাট তেলীপাড়া এলএলপি, দাড়ারহাট ডাক্তারপাড়া ও সোনাপোতা ঢাকাইয়াপাড়া এলাকায় নদীভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, করতোয়া নদীর ভাঙন রোধে প্রায় ১০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের (ডিপিপি) টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। দাড়ারহাট ও তেলীপাড়া এলাকার প্রতিরক্ষা কাজ খুব শিগগিরই শুরু হবে।
তিনি স্থানীয়দের উদ্দেশে বলেন, ‘এ কাজ জনগণের টাকায় বাস্তবায়িত হবে। তাই কাজের মান সঠিকভাবে বুঝে নেবেন এবং তদারকি করবেন। কোথাও যেন প্রকল্প এলাকার আশপাশ থেকে বালু উত্তোলন করে কাজ না করা হয়, সেদিকে সবাইকে নজর রাখতে হবে।’
এ সময় তিনি করতোয়া নদীতে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কৃষ্ণ কমল সরকার, পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশুতোষ বর্মন এবং দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহাসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী।
নওগাঁর ধামইরহাটে মায়ের সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেওয়ার উদ্দেশে বৃদ্ধ মায়ের ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগে এক ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ছেলে প্রথমে ইট দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মায়ের পায়ের রগ কেটে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধামইরহাট উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের বস্তাবর গ্রামের বাসিন্দা ৬৭টি বছর বয়সি আনজুমান আরার নামে কিছু জমিজমা রয়েছে। ওই সম্পত্তি জোরপূর্বক নিজের নামে লিখে নেওয়ার জন্য তার ছেলে আসাদুজ্জামান শামীম (৩৭) দীর্ঘদিন ধরে চাপ সৃষ্টি করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৭ জুন শামীম হত্যার উদ্দেশে ইট দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় আনজুমান আরা চিকিৎসা গ্রহণ করেন। পরে তিনি বাড়িতে ফিরে গেলে গত ১৪ জুন পুনরায় তার ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় শামীম ধারালো চাকু দিয়ে তার ডান পায়ের রগ কেটে দেয় বলে গত ২৪জুন করা মামলায় উল্লেখ করা হয়।
ঘটনাটি নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এর নজরে আনা হলে তার নির্দেশনায় ধামইরহাট থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান শুরু করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কয়েকদিনের ধারাবাহিক অভিযানের পর বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত ৯টার দিকে আলমপুর ইউনিয়নের বস্তাবর গ্রাম থেকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আসাদুজ্জামান শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, পিতামাতার প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতনের মতো ঘৃণ্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পবিত্র মহররম উপলক্ষে আঞ্জুমান-এ-পাঞ্জাতানী ট্রাস্টের উদ্যোগে ১০ দিনব্যাপী শোক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় চৌদ্দশত বছর আগের এই দিনে ইরাকের কারবালা প্রান্তরে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (আ.) ও তার ৭২ জন সঙ্গী-সাথী সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
১লা হতে ১০ মহররম পর্যন্ত এই আলোচনা সভায় মূল বক্তা হিসেবে আলোচনা করেন ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহীম খলিল রাজাভী। সমাপনী দিনে হযরত ইমাম হোসাইন (আ.)-এর পবিত্র শাহাদত স্মরণে নগরীর আলতাপোল লেনস্থ কাসরে হোসাইনী ইমামবাড়ি হতে এক শোক মিছিল বের করা হয়।
শোক মিছিলপূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহীম খলিল রাজাভী বলেন: ‘কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনায় মুসলমানদের জন্য এক গভীর শিক্ষা রয়েছে। কারবালার আদর্শ মুসলমানদের অন্যায় ও মিথ্যার সাথে আপোস না করা এবং সত্যের পতাকাকে সমুন্নত রাখার চেতনা জাগ্রত করে। ইমাম হুসাইন (আ.)-এর এই আত্মত্যাগ কেবল কোনো ক্ষমতার লড়াই ছিল না, এটি ছিল জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের এবং অসত্যের বিরুদ্ধে সত্যের চিরন্তন সংগ্রাম। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, জীবন দিয়ে হলেও কীভাবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হয়। আজ বিশ্বজুড়ে যেখানেই নিপীড়ন, সেখানেই কারবালার চেতনা আমাদের প্রেরণা জোগায়।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা এবং ইমাম হুসাইন (আ.) ও তার বিশ্বস্ত সঙ্গীদের শাহাদাতের পর শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও এর গুরুত্ব ও মর্যাদা এতটুকুও কমেনি; বরং সময়ের সাথে সাথে আশুরার চেতনা বিশ্বব্যাপী আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
মিছিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানর বিএনপির সভাপতি ও কেডিএ’র চেয়ারম্যান এ্যাড. শফিকুল আলম মনা। আলোচনা সভা শেষে একটি বিশাল শোক মিছিল নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ইমামবাড়িতে এসে শেষ হয়। এই শোক মিছিলে বিপুল সংখ্যক শিয়া মুসলিম নারী ও পুরুষ অংশ নেন।
সমগ্র মিছিল পরিচালনা করেন আঞ্জুমান-এ-টাঞ্জাতানী ট্রাস্ট এর সভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল ও সাধারণ সম্পাদক মো. নাসিরুল হাসান।
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার পশ্চিম বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সিগারেট বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
গত বুধবার (২৪ জুন) বোরহানউদ্দিন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রনজিৎ চন্দ্র দাস'র নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয় এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ধারায় এ জরিমানা করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সিগারেট বিক্রি করা হচ্ছিল। বাজেট ঘোষণার আগেই বিপুল পরিমাণ সিগারেট মজুদ করে পরে অতিরিক্ত দামে বাজারজাত করার মাধ্যমে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
প্রশাসনের সাম্প্রতিক অভিযানের পর স্থানীয়দের দাবি, এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তাদের অভিযোগ, একটি তামাক কোম্পানির স্থানীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তির নির্দেশনায় দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, একই ধরনের অভিযোগ গত বছরও উঠেছিল। সে সময়ও বিপুল পরিমাণ সিগারেট মজুদ করে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করেছেন।
অভিযানের পর এক ব্যক্তি নিজেকে জেলা বিএনপির সভাপতি পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মহলে প্রশ্ন উঠেছে—কোনো রাজনৈতিক পরিচয় কি সরকার নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষা করে পণ্য বিক্রির বৈধতা দিতে পারেন? আইন কি সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়? তিনি কি আইনের উর্ধ্বে?
ভোলা জেলা প্রশাসক, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, সাধারণ ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের দাবি, সরকার নির্ধারিত মূল্য নিশ্চিত করতে এবং অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পুরো নেটওয়ার্কের তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হোক।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বিরল জেনেটিক রোগ 'উইলসন ডিজিজ'-এ আক্রান্ত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন দুই সহোদর শুভ ওঝা (২২) ও চয়ন ওঝা (১৫)। দীর্ঘদিন ধরে এই মরণব্যাধির সাথে লড়াই করতে গিয়ে অর্থাভাবে তাদের চিকিৎসা এখন বন্ধের পথে। উপজেলার ঘটিচোরা (সবুজনগর) গ্রামের এই অসহায় পরিবারটি এখন সরকার ও সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা কামনা করছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৯ বছর আগে বড় ভাই শুভ ওঝার শরীরে এবং ৩ বছর আগে ছোট ভাই চয়ন ওঝার শরীরে এই বিরল রোগটি শনাক্ত হয়। উন্নত চিকিৎসার আশায় ধারদেনা করে বড় ছেলেকে ভারতের ভেলোরে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে কিছুদিন চিকিৎসা চললেও করোনা মহামারি ও চরম আর্থিক সংকটের কারণে তা আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ছোট ভাই চয়নও একই রোগে আক্রান্ত হলে পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়ে।
দিনমজুর বাবা সংকর ওঝা অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, “দুই ছেলের চিকিৎসায় আমরা সর্বস্ব হারিয়েছি। বড় ছেলে বিছানালগ্ন। এখন অভাবের সংসারে প্রতিদিনের ওষুধ কেনাই দায় হয়ে পড়েছে। মানুষের মানবিক সহায়তা ছাড়া তাদের বাঁচিয়ে রাখা আমার পক্ষে অসম্ভব।"
ওই পরিবারের সাথে যোগাযোগ ও সহায়তার জন্য ফোন করতে পারেন ০১৭২৮১৯৭৪৫২ এই নাম্বারে। আর সহয়তা পাঠাতে ব্যবহার করতে পারেন বিকাশ ০১৭২৮১৯৭৪৫২ নাম্বারটি।
পরিবারের দাবি, সময়মতো উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে দুই ভাইয়ের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি রোধ করা সম্ভব। এই দুই ভাইয়ের প্রাণ বাঁচাতে বিত্তবান ও মানবিক সংগঠনগুলোর এগিয়ে আসা জরুরি।
বিয়েতে ‘আনন্দ-ফুর্তির’ নামে অতিরিক্ত অর্থ অপচয় ও বিত্ত-বৈভবের প্রদর্শনী বন্ধ করতে অতিথি সংখ্যা ১০০ জনের বেশি হলে প্রতি অতিরিক্ত অতিথির জন্য ১০০০ টাকা করে বিশেষ ট্যাক্স বা কর নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহাদাত হোসেন সেলিম।
এই সংসদ সদস্যের এমন দাবি সংবলিত একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে, যা দেশজুড়ে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীতে আয়োজিত একটি সামাজিক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এই সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উত্থাপন করেন। ভিডিওতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁকে বলতে শোনা যায়, দেশের বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে, বিশেষ করে বিয়েশাদিতে বর্তমানে যে পরিমাণ অর্থের অপচয় করা হচ্ছে, তা সাধারণ মানুষের কল্পনারও বাইরে।
আলোচনা সভায় সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম বিয়ের নানাবিধ অনুষ্ঠানকে ‘অশ্লীল প্রদর্শনী’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, আজকাল বিয়ে ও গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে নাচের মহড়ার জন্য পেশাদার কোরিওগ্রাফার এনে এক মাস পর্যন্ত ট্রেনিং বা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এসব জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে লাখ লাখ টাকা অপব্যয় করা হচ্ছে এবং নাচ-গানের অনুষ্ঠানগুলোতে হাজার হাজার মানুষ এসে অংশগ্রহণ করছে।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমন্ত্রিত অতিথিরা এসব অনুষ্ঠানে যে পরিমাণ খাবার খান, তার অর্ধেকেরও বেশি অপচয় হয়ে ডাস্টবিনে চলে যায়, যা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং এই অনাকাঙ্ক্ষিত অপচয়কে যেকোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে।
এই সংকট নিরসনে অতীত আইনি কাঠামোর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, বিগত সময়ে দেশে একটি কার্যকর ‘অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইন’ ছিল, যেখানে নির্দিষ্ট সীমার বেশি অতিথি আপ্যায়ন করলেই সেখানে কঠোর ট্যাক্স বা জরিমানা আদায়ের নিয়ম রাখা হয়েছিল। সেই আইনের আদলে নতুন প্রস্তাব পেশ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকারের উচিত বিয়ের অনুষ্ঠানে ১০০ জন অতিথির বাইরে প্রতিজন অতিরিক্ত অতিথির জন্য বাধ্যতামূলকভাবে ১০০০ টাকা করে রাষ্ট্রীয় ট্যাক্স নির্ধারণ করা।
তিনি পূর্বের অর্থনৈতিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে দাবি করেন, যদি সামাজিক ক্ষেত্রে এই বিশাল অপচয়টা আইন করে পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়, তবে দেশের বাজারে কৃত্রিম চাপ কমবে এবং একদিনের ব্যবধানেই সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর দাম অন্তত ১০ শতাংশ কমে আসবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২২ জুন জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে অংশ নিয়েও সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম বিয়ে ও গায়েহলুদের অতিরিক্ত খরচ বন্ধে অতীতের সেই অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইনটি অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছিলেন।