প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেছেন, ‘যদি কোনো বিচারক বিচার বিক্রি করেন, তাকে সঙ্গে সঙ্গে অপসারণ করব। বিন্দুমাত্র হেজিটেড (দ্বিধা) করব না।’
শনিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আইনজীবীদের তার সঙ্গে যোগাযোগেরও পরামর্শ দেন।
জেলা আইনজীবী সমিতির শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে শহরের আইনজীবী চত্বরে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘দুর্নীতি হচ্ছে ক্যানসার। যদি কোনো আঙুলে ক্যানসার হয় তাহলে সবচেয়ে উত্তম পথ হচ্ছে আঙুলটা দ্রুত গোড়া থেকে কেটে ফেলা। তেমনি বিচারক বিচার বিক্রি করলে তাকেও অপসারণ করতে বিন্দুমাত্র হেজিটেড করব না।’
বিচারক ও আইনজীবীদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বিচার বিভাগ মহান সংবিধানের শেষ রক্ষা কবজ। আপনারা সেই বিচার বিভাগেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমি সবসময় বলি বার ও বেঞ্চ পরস্পরের পরিপূরক। বার না থাকলে বিচার হবে না, আবার বেঞ্চ না থাকলেও বিচার হবে না। কাজেই পরস্পরের প্রতি সহনশীলতা ও সম্মান দেখানো জরুরি। আপনাদের মধ্যে শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মনোভাব না থাকলে বিচারব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, বিচারপ্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জবদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বাংলাদেশ আইন কমিশনের সদস্য বিচারপতি এ.টি.এম ফজলে কবীর, জেলা ও দায়রা জজ আদীব আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খান, পুলিশ সুপার আবদুর রকিব প্রমুখ।
এর আগে সকালে শোভাযাত্রা, জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বেলুন-পায়রা উড়িয়ে শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। আদালতে আসা বিচারপ্রার্থীদের বিশ্রাম ও বসার সুবিধার্থে ‘ন্যায়কুঞ্জু’ ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। পরে আদালত চত্বরে দুটি আম গাছ ও একটি কৃষ্ণচূড়া ফুলের গাছ রোপণ করেন প্রধান বিচারপতি।
মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে ফেনীতে বর্ণাঢ্য র্যালি আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ জুন) জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ফেনী জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক। মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবদুল হামিদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে মাদকের ভয়াবহতা ও এর কুফল রোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদীর ভাঙনকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। এ সময় তিনি ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন।
গত শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেল ৪টার দিকে তিনি উপজেলার সুন্দরদিঘী ইউনিয়নের লক্ষ্মীনারায়ণী এলাকা এবং দেবীডুবা ইউনিয়নের দাড়ারহাট তেলীপাড়া এলএলপি, দাড়ারহাট ডাক্তারপাড়া ও সোনাপোতা ঢাকাইয়াপাড়া এলাকায় নদীভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, করতোয়া নদীর ভাঙন রোধে প্রায় ১০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের (ডিপিপি) টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। দাড়ারহাট ও তেলীপাড়া এলাকার প্রতিরক্ষা কাজ খুব শিগগিরই শুরু হবে।
তিনি স্থানীয়দের উদ্দেশে বলেন, ‘এ কাজ জনগণের টাকায় বাস্তবায়িত হবে। তাই কাজের মান সঠিকভাবে বুঝে নেবেন এবং তদারকি করবেন। কোথাও যেন প্রকল্প এলাকার আশপাশ থেকে বালু উত্তোলন করে কাজ না করা হয়, সেদিকে সবাইকে নজর রাখতে হবে।’
এ সময় তিনি করতোয়া নদীতে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কৃষ্ণ কমল সরকার, পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশুতোষ বর্মন এবং দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহাসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী।
নওগাঁর ধামইরহাটে মায়ের সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেওয়ার উদ্দেশে বৃদ্ধ মায়ের ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগে এক ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ছেলে প্রথমে ইট দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মায়ের পায়ের রগ কেটে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধামইরহাট উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের বস্তাবর গ্রামের বাসিন্দা ৬৭টি বছর বয়সি আনজুমান আরার নামে কিছু জমিজমা রয়েছে। ওই সম্পত্তি জোরপূর্বক নিজের নামে লিখে নেওয়ার জন্য তার ছেলে আসাদুজ্জামান শামীম (৩৭) দীর্ঘদিন ধরে চাপ সৃষ্টি করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৭ জুন শামীম হত্যার উদ্দেশে ইট দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় আনজুমান আরা চিকিৎসা গ্রহণ করেন। পরে তিনি বাড়িতে ফিরে গেলে গত ১৪ জুন পুনরায় তার ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় শামীম ধারালো চাকু দিয়ে তার ডান পায়ের রগ কেটে দেয় বলে গত ২৪জুন করা মামলায় উল্লেখ করা হয়।
ঘটনাটি নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এর নজরে আনা হলে তার নির্দেশনায় ধামইরহাট থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান শুরু করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কয়েকদিনের ধারাবাহিক অভিযানের পর বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত ৯টার দিকে আলমপুর ইউনিয়নের বস্তাবর গ্রাম থেকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আসাদুজ্জামান শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, পিতামাতার প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতনের মতো ঘৃণ্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পবিত্র মহররম উপলক্ষে আঞ্জুমান-এ-পাঞ্জাতানী ট্রাস্টের উদ্যোগে ১০ দিনব্যাপী শোক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় চৌদ্দশত বছর আগের এই দিনে ইরাকের কারবালা প্রান্তরে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (আ.) ও তার ৭২ জন সঙ্গী-সাথী সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
১লা হতে ১০ মহররম পর্যন্ত এই আলোচনা সভায় মূল বক্তা হিসেবে আলোচনা করেন ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহীম খলিল রাজাভী। সমাপনী দিনে হযরত ইমাম হোসাইন (আ.)-এর পবিত্র শাহাদত স্মরণে নগরীর আলতাপোল লেনস্থ কাসরে হোসাইনী ইমামবাড়ি হতে এক শোক মিছিল বের করা হয়।
শোক মিছিলপূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহীম খলিল রাজাভী বলেন: ‘কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনায় মুসলমানদের জন্য এক গভীর শিক্ষা রয়েছে। কারবালার আদর্শ মুসলমানদের অন্যায় ও মিথ্যার সাথে আপোস না করা এবং সত্যের পতাকাকে সমুন্নত রাখার চেতনা জাগ্রত করে। ইমাম হুসাইন (আ.)-এর এই আত্মত্যাগ কেবল কোনো ক্ষমতার লড়াই ছিল না, এটি ছিল জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের এবং অসত্যের বিরুদ্ধে সত্যের চিরন্তন সংগ্রাম। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, জীবন দিয়ে হলেও কীভাবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হয়। আজ বিশ্বজুড়ে যেখানেই নিপীড়ন, সেখানেই কারবালার চেতনা আমাদের প্রেরণা জোগায়।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা এবং ইমাম হুসাইন (আ.) ও তার বিশ্বস্ত সঙ্গীদের শাহাদাতের পর শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও এর গুরুত্ব ও মর্যাদা এতটুকুও কমেনি; বরং সময়ের সাথে সাথে আশুরার চেতনা বিশ্বব্যাপী আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
মিছিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানর বিএনপির সভাপতি ও কেডিএ’র চেয়ারম্যান এ্যাড. শফিকুল আলম মনা। আলোচনা সভা শেষে একটি বিশাল শোক মিছিল নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ইমামবাড়িতে এসে শেষ হয়। এই শোক মিছিলে বিপুল সংখ্যক শিয়া মুসলিম নারী ও পুরুষ অংশ নেন।
সমগ্র মিছিল পরিচালনা করেন আঞ্জুমান-এ-টাঞ্জাতানী ট্রাস্ট এর সভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল ও সাধারণ সম্পাদক মো. নাসিরুল হাসান।
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার পশ্চিম বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সিগারেট বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
গত বুধবার (২৪ জুন) বোরহানউদ্দিন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রনজিৎ চন্দ্র দাস'র নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয় এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ধারায় এ জরিমানা করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সিগারেট বিক্রি করা হচ্ছিল। বাজেট ঘোষণার আগেই বিপুল পরিমাণ সিগারেট মজুদ করে পরে অতিরিক্ত দামে বাজারজাত করার মাধ্যমে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
প্রশাসনের সাম্প্রতিক অভিযানের পর স্থানীয়দের দাবি, এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তাদের অভিযোগ, একটি তামাক কোম্পানির স্থানীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তির নির্দেশনায় দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, একই ধরনের অভিযোগ গত বছরও উঠেছিল। সে সময়ও বিপুল পরিমাণ সিগারেট মজুদ করে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করেছেন।
অভিযানের পর এক ব্যক্তি নিজেকে জেলা বিএনপির সভাপতি পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মহলে প্রশ্ন উঠেছে—কোনো রাজনৈতিক পরিচয় কি সরকার নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষা করে পণ্য বিক্রির বৈধতা দিতে পারেন? আইন কি সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়? তিনি কি আইনের উর্ধ্বে?
ভোলা জেলা প্রশাসক, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, সাধারণ ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের দাবি, সরকার নির্ধারিত মূল্য নিশ্চিত করতে এবং অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পুরো নেটওয়ার্কের তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হোক।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বিরল জেনেটিক রোগ 'উইলসন ডিজিজ'-এ আক্রান্ত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন দুই সহোদর শুভ ওঝা (২২) ও চয়ন ওঝা (১৫)। দীর্ঘদিন ধরে এই মরণব্যাধির সাথে লড়াই করতে গিয়ে অর্থাভাবে তাদের চিকিৎসা এখন বন্ধের পথে। উপজেলার ঘটিচোরা (সবুজনগর) গ্রামের এই অসহায় পরিবারটি এখন সরকার ও সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা কামনা করছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৯ বছর আগে বড় ভাই শুভ ওঝার শরীরে এবং ৩ বছর আগে ছোট ভাই চয়ন ওঝার শরীরে এই বিরল রোগটি শনাক্ত হয়। উন্নত চিকিৎসার আশায় ধারদেনা করে বড় ছেলেকে ভারতের ভেলোরে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে কিছুদিন চিকিৎসা চললেও করোনা মহামারি ও চরম আর্থিক সংকটের কারণে তা আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ছোট ভাই চয়নও একই রোগে আক্রান্ত হলে পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়ে।
দিনমজুর বাবা সংকর ওঝা অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, “দুই ছেলের চিকিৎসায় আমরা সর্বস্ব হারিয়েছি। বড় ছেলে বিছানালগ্ন। এখন অভাবের সংসারে প্রতিদিনের ওষুধ কেনাই দায় হয়ে পড়েছে। মানুষের মানবিক সহায়তা ছাড়া তাদের বাঁচিয়ে রাখা আমার পক্ষে অসম্ভব।"
ওই পরিবারের সাথে যোগাযোগ ও সহায়তার জন্য ফোন করতে পারেন ০১৭২৮১৯৭৪৫২ এই নাম্বারে। আর সহয়তা পাঠাতে ব্যবহার করতে পারেন বিকাশ ০১৭২৮১৯৭৪৫২ নাম্বারটি।
পরিবারের দাবি, সময়মতো উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে দুই ভাইয়ের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি রোধ করা সম্ভব। এই দুই ভাইয়ের প্রাণ বাঁচাতে বিত্তবান ও মানবিক সংগঠনগুলোর এগিয়ে আসা জরুরি।
বিয়েতে ‘আনন্দ-ফুর্তির’ নামে অতিরিক্ত অর্থ অপচয় ও বিত্ত-বৈভবের প্রদর্শনী বন্ধ করতে অতিথি সংখ্যা ১০০ জনের বেশি হলে প্রতি অতিরিক্ত অতিথির জন্য ১০০০ টাকা করে বিশেষ ট্যাক্স বা কর নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহাদাত হোসেন সেলিম।
এই সংসদ সদস্যের এমন দাবি সংবলিত একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে, যা দেশজুড়ে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীতে আয়োজিত একটি সামাজিক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এই সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উত্থাপন করেন। ভিডিওতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁকে বলতে শোনা যায়, দেশের বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে, বিশেষ করে বিয়েশাদিতে বর্তমানে যে পরিমাণ অর্থের অপচয় করা হচ্ছে, তা সাধারণ মানুষের কল্পনারও বাইরে।
আলোচনা সভায় সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম বিয়ের নানাবিধ অনুষ্ঠানকে ‘অশ্লীল প্রদর্শনী’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, আজকাল বিয়ে ও গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে নাচের মহড়ার জন্য পেশাদার কোরিওগ্রাফার এনে এক মাস পর্যন্ত ট্রেনিং বা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এসব জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে লাখ লাখ টাকা অপব্যয় করা হচ্ছে এবং নাচ-গানের অনুষ্ঠানগুলোতে হাজার হাজার মানুষ এসে অংশগ্রহণ করছে।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমন্ত্রিত অতিথিরা এসব অনুষ্ঠানে যে পরিমাণ খাবার খান, তার অর্ধেকেরও বেশি অপচয় হয়ে ডাস্টবিনে চলে যায়, যা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং এই অনাকাঙ্ক্ষিত অপচয়কে যেকোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে।
এই সংকট নিরসনে অতীত আইনি কাঠামোর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, বিগত সময়ে দেশে একটি কার্যকর ‘অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইন’ ছিল, যেখানে নির্দিষ্ট সীমার বেশি অতিথি আপ্যায়ন করলেই সেখানে কঠোর ট্যাক্স বা জরিমানা আদায়ের নিয়ম রাখা হয়েছিল। সেই আইনের আদলে নতুন প্রস্তাব পেশ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকারের উচিত বিয়ের অনুষ্ঠানে ১০০ জন অতিথির বাইরে প্রতিজন অতিরিক্ত অতিথির জন্য বাধ্যতামূলকভাবে ১০০০ টাকা করে রাষ্ট্রীয় ট্যাক্স নির্ধারণ করা।
তিনি পূর্বের অর্থনৈতিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে দাবি করেন, যদি সামাজিক ক্ষেত্রে এই বিশাল অপচয়টা আইন করে পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়, তবে দেশের বাজারে কৃত্রিম চাপ কমবে এবং একদিনের ব্যবধানেই সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর দাম অন্তত ১০ শতাংশ কমে আসবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২২ জুন জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে অংশ নিয়েও সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম বিয়ে ও গায়েহলুদের অতিরিক্ত খরচ বন্ধে অতীতের সেই অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইনটি অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছিলেন।
নদীর জল, দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ আর রূপালি ঢেউয়ের মায়াজালে ঘেরা এক জনপদ কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম। তবে কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই নয়, ঐতিহ্যবাহী পনিরের সাথে এই হাওর উপজেলার আরেকটি বড় পরিচয় জড়িয়ে আছে এক অনন্য স্বাদ ও সুবাসে। শত বছরের প্রাচীন এই 'হোয়াইট গোল্ড' বা সাদা সোনা আজ দেশজুড়ে প্রশংসিত।
গত বছর এই পনির পেয়েছে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের অমূল্য স্বীকৃতি, যা এই শিল্পকে নিয়ে গেছে এক আন্তর্জাতিক উচ্চতায়। কিন্তু এই জৌলুসের আড়ালে অষ্টগ্রামের পনির কারিগর ও ব্যবসায়ীদের দিন কাটছে চরম সংকট আর অস্তিত্বের লড়াইয়ে। বাইরে থেকে যা উৎসবমুখর মনে হয়, ভেতরের বাস্তব চিত্রটা আসলে নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত।
অষ্টগ্রামের পনিরের মূল প্রাণ হলো খাঁটি দুধ। সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে এই পনির বুঝি কেবল মহিষের দুধ দিয়ে তৈরি। ঐতিহাসিকভাবে মহিষের দুধের পনিরের সুখ্যাতি থাকলেও, বর্তমানে চারণভূমি হ্রাসের কারণে হাওরে মহিষের সংখ্যা বেশ কম। ফলে এখন অষ্টগ্রামের পনিরের সিংহভাগই উৎপাদিত হয় গরুর খাঁটি দুধ থেকে। এই পনিরের উৎপাদন ও গবাদিপশু পালনের সাথে জড়িয়ে আছে হাওরের এক অদ্ভুত ঋতুচক্র।
শুকনো মৌসুমে যখন মাইলের পর মাইল চোখ জুড়ানো সবুজ মাঠ জেগে ওঠে, তখন পশুখাদ্য বা চারণভূমির কোনো অভাব থাকে না। চারদিকে তখন দুধের প্রাচুর্য দেখা যায়। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে বর্ষাকালে। বর্ষার উত্তাল জলরাশি যখন পুরো হাওরকে গ্রাস করে, তখন চারণভূমির তীব্র সংকট দেখা দেয়। চারিদিকে শুধু পানি থাকায় গবাদিপশু নিয়ে কৃষকদের চরম বিপাকে পড়তে হয়, যার সরাসরি প্রভাব গিয়ে পড়ে পনিরের বাজারে।
বর্ষার এই সংকটের কারণে বছরের একটি দীর্ঘ সময়জুড়ে এখানে তীব্র কাঁচা দুধের সংকট দেখা দেয়। ফলে দুধের দাম বেড়ে যাওয়ায় পনির উৎপাদনের খরচও হয়ে যায় আকাশচুম্বী। এই প্রাকৃতিক সংকটের সাথে যোগ হয়েছে কারিগর ও ব্যবসায়ীদের আর্থিক অসচ্ছলতা। বংশানুক্রমিকভাবে এই পেশা ধরে রাখলেও অর্থনৈতিকভাবে তারা অত্যন্ত প্রান্তিক। পুঁজির অভাব এবং সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ বা সরকারি আর্থিক প্রণোদনা না থাকায় অনেকেই এই ঐতিহ্যবাহী পেশা ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন; কেউ কেউ বাধ্য হচ্ছেন পেশা পরিবর্তন করতে।
অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি বাজারজাতকরণ ও আধুনিকায়নের সমস্যাও এই শিল্পকে দারুণভাবে পিছিয়ে রেখেছে। সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানোর মতো আধুনিক সাপ্লাই চেইন বা ই-কমার্স নেটওয়ার্ক এখনো এখানে গড়ে ওঠেনি। ফলে মধ্যস্বত্বভোগী বা ফড়িয়াদের হাতে পড়ে প্রকৃত কারিগররা প্রায়শই ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন।
এর চেয়েও বড় জটিলতা দেখা দেয় পনির সংরক্ষণের ক্ষেত্রে। কাঁচা দুধে তৈরি এই পনির অত্যন্ত পচনশীল ও সংবেদনশীল। এটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বৈজ্ঞানিক উপায়ে সংরক্ষণ করতে হয়। অথচ দুর্গম এই হাওর অঞ্চলে পনির সংরক্ষণে সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে এখনও পর্যন্ত কোনো হিমাগার গড়ে ওঠেনি। ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে পনির নষ্ট হয়ে ব্যবসায়ীদের কোটি টাকার লোকসান গুনতে হয়।
দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর পনির ব্যবসার সাথে জড়িত অষ্টগ্রামের তোরাব আলী এই প্রতিনিধিকে ক্ষোভ ও আক্ষেপের সুরে জানান, ”পনিরের জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার পর আমাদের আনন্দ হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু এই স্বীকৃতি কেবল কাগজে-কলমেই রয়ে গেছে। এই স্বীকৃতির পর বাস্তবে এ পর্যন্ত আমরা তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা বা সরকারি সাহায্য পাইনি। চারণভূমি আর হিমাগারের অভাবে দিন দিন পঙ্গু হয়ে যাচ্ছি।" ঐতিহ্যবাহী এই পেশাকে টিকিয়ে রাখতে দ্রুত সরকারের কার্যকর ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিলভিয়া স্নিগ্ধা বলেন, "আমরা পনিরের এই প্রাচীন ঐতিহ্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন। ইতিমধ্যেই পনির ব্যবসায়ীদের সাথে সরাসরি কথা বলে তাদের বিদ্যমান সমস্যা এবং বিভিন্ন চাহিদার কথা বিস্তারিত লিখিতভাবে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করছি, এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে বাঁচাতে দ্রুতই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার পর অষ্টগ্রামের পনির এখন শুধু কিশোরগঞ্জের নয়, পুরো বাংলাদেশের এক অনন্য গৌরব। তবে এই আন্তর্জাতিক সিলমোহর তখনই সার্থক হবে, যখন এই শিল্পের পেছনের মানুষগুলোর মুখে হাসি ফুটবে। এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে হলে বর্ষাকালের জন্য বিকল্প পশুখাদ্যের (যেমন সাইলেজ বা উন্নত খড়) ব্যবস্থা, সরকারি উদ্যোগে আধুনিক হিমাগার স্থাপন, কারিগরদের জন্য জামানতবিহীন স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা এবং সরাসরি বাজারজাতকরণের সুযোগ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। সরকারি সুদূরপ্রসারী পৃষ্ঠপোষকতা আর আধুনিক উদ্যোগই পারে শত বছরের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখে বিশ্বমঞ্চে নতুন করে এগিয়ে নিয়ে যেতে।
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ী এলাকায় একটি নারী পোশাক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) সকালে কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড পোশাক কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে মারা যাওয়া এক নারী শ্রমিককে স্মরণ করে আয়োজিত মিলাদ মাহফিল উপলক্ষে সকালে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কারখানার সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে তারা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিল্প পুলিশ তিন দফা সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। শ্রমিকদের অভিযোগ, পুলিশ এ সময় লাঠিচার্জও করে। সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন শ্রমিক আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেডের পরিচালক (প্রশাসন) শহিদুল ইসলাম জানান, কয়েক দিন আগে মারা যাওয়া নারী শ্রমিককে স্মরণ করে আয়োজিত মিলাদ মাহফিলকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের মধ্যে আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে সেটি উত্তেজনায় রূপ নেয়।
শিল্প পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করা হয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিবেশ স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে কারখানায় দুই দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক অবৈধভাবে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশ-ইনের একটি বড় ধরনের প্রচেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৫৫ বিজিবি)। শনিবার (২৭ জুন) রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জ বিজিবি ব্যাটালিয়নের তেলিয়াপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার ১৯৮২ নম্বর মেইন পিলারের ১১-এস সাব-পিলার সংলগ্ন জিরো লাইনে এই পুশ-ইনের চেষ্টা চালানো হয়। গভীর রাতের অন্ধকারে বিএসএফ সীমান্তে তাদের সিকিউরিটি লাইট বন্ধ করে দিয়ে অজ্ঞাতসংখ্যক ভারতীয় নাগরিককে জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে।
এ সময় ৫৫ বিজিবির একটি ক্ষিপ্র টহলদল তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সর্বোচ্চ সতর্কতা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে অনুপ্রবেশের সেই প্রচেষ্টা জিরো লাইনেই প্রতিহত করে। পরে বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে বিএসএফ বাধ্য হয়ে ওই ভারতীয় নাগরিকদের ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠায়।
অভিযান চলাকালে স্থানীয় সীমান্তবাসী ও সাধারণ মানুষও বিজিবিকে সার্বিক সহযোগিতা করেন বলে জানা গেছে।
৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করতে বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। বর্তমানে তেলিয়াপাড়া সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ৫৫ বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দিনরাত দায়িত্ব পালন করছে।
বাগেরহাটে ৪১৮ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে বৃত্তি ও সংবর্ধনা প্রদান করেছে জেলা পরিষদ। শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে শহরের জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম মিলনায়তনে এই বৃত্তি প্রদান ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোঃ জাকির হোসেন এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডঃ শেখ লায়ন ফরিদুল ইসলাম। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পি সি কলেজের অধ্যক্ষ শেখ জাহাংগীর আলী , সাবেক সচিব শেখ ফরিদুল ইসলাম,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( রাজস্ব এবং উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) অনুপ দাশ, খানহাজান আলী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ খন্দকার আসিফ উদ্দিন রাখি, জেলা বিএনপির আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার এটিএম আকরাম হোসেন তালিম, সদস্য সচিব শেখ মোজ্জাফ্ফর রহমান আলম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে জেলার ৯ উপজেলায় এসএসসি ও এইচএসসিতে ৩৬৩ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে ৬ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে অধ্যায়নরত ৫৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এর কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের উদ্যোগে “ইনোভেট টুডে, লিড টুমরো” শিরোনামে দুই দিনব্যাপী সিএসই কার্নিভাল শুক্রবার (২৬ জুন) শুরু হয়েছে। সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল প্রধান অতিথি হিসেবে কার্নিভালের শুভ উদ্বোধন করেন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, “আমরা চতুর্থ শিল্পবিপ্লব থেকে পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে প্রযুক্তির এই দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই এই তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে, যারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস, ডেটা সায়েন্স, সাইবার সিকিউরিটি, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ও রোবটিক্সসহ উদীয়মান প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে নতুন জ্ঞান, উদ্ভাবন ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। আজকের সিএসই কার্নিভাল সেই সম্ভাবনা বিকাশের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম এবং মেধা, উদ্ভাবন ও পারস্পরিক সহযোগিতার এক প্রাণবন্ত মিলনমেলা। এখানকার অভিজ্ঞতা, পারস্পরিক শিক্ষা ও নেটওয়ার্কিং ভবিষ্যতের গবেষণা, স্টার্টআপ এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পোন্নয়নের ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করবে। ডুয়েট এমন একটি একাডেমিক পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং শিল্প-একাডেমিয়ার সমন্বয়ে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে উঠবে।
উপাচার্য আরও বলেন, “আমরা এমন শিক্ষার্থী গড়ে তুলতে চাই, যারা শুধু চাকরিপ্রত্যাশী নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী, উদ্যোক্তা, গবেষক এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি নেতৃত্বের অংশীদার হবে। উদ্ভাবন, গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের শিক্ষার্থীদের সেই মেধা, সৃজনশীলতা ও সাহসিকতা আছে।
তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, তাদের হাত ধরেই বাংলাদেশ বৈশ্বিক প্রযুক্তি অঙ্গনে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবে।” উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর মাননীয় উপাচার্য ফোরডি চশমা ব্যবহার করে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যাদুঘরের ভ্রাম্যমান বিজ্ঞান প্রদর্শনী উপভোগ করেন। এছাড়াও তিনি হেড মাউন্টেড ডিভাইস ব্যবহার করে ভার্চুয়াল থ্রিডি এনভায়রনমেন্ট উপভোগ করেন।
এ সময় তিনি সিএসই বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত প্রতিযোগী, শিক্ষক, গবেষক, স্বেচ্ছাসেবক এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপ-উপাচার্য বলেন, “সিএসই কার্নিভালের মতো আয়োজন শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিকাশের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি করে। এখান থেকে অর্জিত জ্ঞান ব্যবহার করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নবতর গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে নিজেদের যথাযথভাবে প্রস্তুত করতে হবে এবং আগামী দিনে গবেষণা ও উদ্ভাবনে দেশকে নেতৃত্ব দিতে হবে।”
সিএসই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মমতাজ বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. রুমা, রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোহা. আবু তৈয়ব, সিএসসি কার্নিভালের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এমরান হোসেন, অনুষ্ঠানের অর্গানাইজিং সেক্রেটারি সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. উম্মে ফাওজিয়া রহিমসহ বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, পরিচালকবৃন্দ এবং সিএসই বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আগামীকাল সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া এবং বিডিরেন-এর চীফ এক্সিকিউটিভ অফিসার মোহাম্মদ তাওরিত এবং সম্মানীয় অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির প্রেসিডেন্ট ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ উপস্থিত থাকবেন।
ইনোভার্স বাংলাদেশের ন্যাশনাল সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি কার্নিভাল ২০২৬-এর অংশ হিসেবে ডুয়েট কম্পিউটার সোসাইটি এবং হোয়াইটবোর্ড ইনিশিয়েটিভসের সহযোগিতায় দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে দেশের একশোর অধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হাজার দুইশোর বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।
কার্নিভালের প্রথম দিনে আজ ইন্টার-ইউনিভার্সিটি প্রোগ্রামিং কনটেস্ট (আইইউপিসি), এআই হ্যাকাথন, আইসিটি অলিম্পিয়াড এবং প্রজেক্ট শোকেসিং কম্পিটিশন-এ অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা তাদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার পরিচয় তুলে ধরবে।
আগামীকাল শনিবার (২৭ জুন) কম্পিটিশনগুলোর ফাইনাল রাউন্ড অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিযোগিতার পর নেটওয়ার্কিং সেশন এবং পুরস্কার বিতরণীর মাধ্যমে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনের পর্দা নামবে।
জামালপুরের বকশীগঞ্জের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের গভীর বনাঞ্চলে লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে জয়নাল আবদীন (৬৬) নামে এক বৃদ্ধ বন্যহাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে মারা গেছে। লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে নিখোঁজের একদিন পর শনিবার (২৭ জুন) সকাল ১১টায় বকশীগঞ্জ উপজেলার ডুমুরতলা বিটের সংরক্ষিত বনভূমির বাগিচা টিলা এলাকা থেকে ওই বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত জয়নাল বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর মৃধাপাড়া গ্রামের মৃত আনিজ মিয়ার ছেলে।
বনবিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডুমুরতলা বিট শেরপুর বনবিভাগের শ্রীবরদী উপজেলার বালিজুরি রেঞ্জের আওতাভূক্ত। শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে ডুমুরতলা বিট এলাকার সংরক্ষিত বনভূমি ভারতের মেঘালয় রাজ্যঘেঁষা সীমান্তের ১০৮৮ ও ১০৮৯ পিলার সংলগ্ন ওয়াইল্ডলাইফ করিডোর ১০.০ হেক্টর বাগান এলাকায় লাকড়ি সংগ্রহ করতে যান বৃদ্ধ জয়নাল আবদিন। তবে রাত পেরিয়ে গেলেও তিনি বাড়ি ফিরেননি।
পরদিন ২৭ জুন শনিবার তার আত্মীয়-স্বজনরা স্থানীয় এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) এর সহায়তায় পাহাড়ে খোঁজাখুঁজি করার এক পর্যায়ে বাগিচা টিলা নামক স্থানে তার মৃতদেহ খুঁজে পাযন। ওইসময় তার এক হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ থেতলানো ছিলো। উদ্ধারকারী বন বিভাগ কর্মীদের ধারণা, হাতির আক্রমণে তিনি মারা গেছেন।
এ বিষয়ে শেরপুর বনবিভাগের বালিজুরি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সুমন মিয়া বলেন, ইআরটি এবং আমাদের বন বিভাগের স্টাফদের সহায়তায় নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সরকারি রীতি অনুযায়ী নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।