নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আব্দুল হক (৩৮) নামের এক চালককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার পর তার অটোরিকশা ছিনিয়ে নিয়েছে হত্যাকারীরা। এ ঘটনায় ধারালো অস্ত্রসহ অভিযুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে অটোরিকশাটিকেও।
মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার ইসলামবাগ কালী এলাকার হাজী আক্রম আলীর কাঠবাগানে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটে। আব্দুল হক উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কেরাবো এলাকার মৃত আজিম উদ্দিনের ছেলে।
গ্রেপ্তাররা হলেন, উপজেলার কালি এলাকার আলী হোসেনের ছেলে শাহজাহান, ডুলুরদিয়া এলাকার মুমিন মোল্লার ছেলে রাজিব, ইসলামবাগ এলাকার আহমদ বেপারীর ছেলে মাসুদ, আবুল হোসেনের ছেলে ইমন, টেংরাটেক এলাকার সিদ্দিক মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আলী।
পুলিশ বলছে, পূর্বাচলে বাণিজ্যমেলা থেকে যাত্রীবেশে আব্দুল হকের অটোরিকশায় ওঠেন ওই পাঁচজন। ছিনতাইয়ে বাধা দেয়ায় আব্দুল হককে হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন তারা।
রূপগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (ওসি-তদন্ত) আতাউর রহমান দৈনিক বাংলাকে জানান, প্রতিদিনই অটোরিকশা করে বিভিন্ন এলাকায় যাত্রী আনা-নেয়া করতেন আব্দুল হক। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাণিজ্যমেলা থেকে যাত্রীবেশে একদল ছিনতাইকারী তার অটোরিকশায় ওঠেন। এরপর ছিনতাইকারীরা ইসলামবাগ কালী কবরস্থান এলাকার হাজী আক্রম আলীর কাঠবাগানের নির্জন স্থানে নিয়ে আব্দুল হকের কাছ থেকে অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। এসময় চালক বাধা দেন এবং ছিনতাইকারীদের প্রতিরোধের চেষ্টা চালান। এক পর্যায়ে আব্দুল হকের বুকের ডান পাশে ও ডান হাতের বাহুতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন ছিনতাইকারীরা। এতে আব্দুল হক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে বুধবার ভোরে চালক আব্দুল হকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
ওসি জানান, অভিযুক্তরা সকালে তারাবো বরপা এলাকায় ছিনতাই করা অটোরিকশা বিক্রি করতে নিয়ে গেলে সেখানকার দোকানদার ও স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয়। তখন তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ও ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তিতে বলেছেন, অটোরিকশা ছিনতাইয়ে বাধা দেয়ায় ও তাদের প্রতিরোধ করায় বাধ্য হয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আলীয়াবাদ খালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে খালের পূর্ব অংশে আলীয়াবাদ গোলচত্বর-সংলগ্ন সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ব্রিজের নিচ থেকে খননযন্ত্রের মাধ্যমে ময়লা-আবর্জনা অপসারণের কাজ শুরু করা হয়।
এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মাহমুদুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলীয়াবাদ খালটি বুড়ী নদী থেকে উৎপন্ন হয়ে ভাটা নদীতে গিয়ে মিলেছে। দীর্ঘদিন ধরে পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য ফেলার কারণে খালটি প্রায় ভরাট হয়ে বিলীন হওয়ার পথে। এ ছাড়া অপরিকল্পিতভাবে খালের মুখ বন্ধ করে রাস্তা নির্মাণ করায় পানি নিষ্কাশন ও স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।
খালের জমে থাকা ময়লা-আবর্জনার কারণে পানির মান মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। এতে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়েছে। দূষিত পানি কৃষিজমিতে গিয়ে ফসলের ক্ষতি করছে এবং খালটি মশার প্রজননস্থলে পরিণত হয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনেও খালটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছিল না।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান বলেন, ‘খালটি জনগুরুত্বপূর্ণ। এর অস্তিত্ব রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে পারলে এর সুফল জনগণ ভোগ করতে পারবে।’ তিনি খালের দুই পাশে রেলিং স্থাপন এবং রাস্তা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আলীয়াবাদ খালের অস্তিত্ব রক্ষা এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
মাদারীপুরের পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ২১ আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস্) জাহাঙ্গীর আলম।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও উন্নতিকল্পে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় সদর মডেল থানা ও কালকিনি থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ ও কালকিনি থানার ওসি এস,এম সোহেল রানার নেতৃত্বে ২৪ ঘণ্টায় পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ২১ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তাদের মধ্যে সদর মডেল থানায় বিভিন্ন মামলায় ১১ জন ও কালকিনি থানায় ১০ মিলে মোট ২১ জন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতিতে আমরা অটল। মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাসী, গোষ্ঠী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের সাঁড়াশি ও জোরালো অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রাজধানীর ডেমরায় বাবা-ছেলের ধস্তাধস্তির সময় ছুরিকাঘাতে বাবা মো. ইসরাফিল (৪৫) নিহত হয়েছেন। তিনি পেশায় নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। ঘটনার পর তার ছেলে (কিশোর হওয়ায় নাম দেওয়া হলো না) পলাতক রয়েছে। সোমবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ডেমরা উত্তর বাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা
ডেমরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মুরাদ হোসেন পরিবারের বরাত দিয়ে বলেন, ভোরে বাসায় এসে ইসরাফিল নেশা করার জন্য তার স্ত্রীর কাছে টাকা দাবি করেন। তখন ছেলে পাশের কক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন। বাবা-মায়ের ঝগড়া শুনে সে উঠে আসে। এরপর কথাকাটাকাটি থেকে এক পর্যায়ে বাবা-ছেলে ধস্তাধস্তি করে। এ সময় বাবার হাতে থাকা ছুরি কেড়ে নিয়ে ছেলে বাবার বুকে আঘাত করে। এতে ইসরাফিল মারা যান।
অন্যদিকে নিহত ব্যক্তির স্ত্রী সুরিয়া বেগম দাবি করেন, ধস্তাধস্তির সময় ইসরাফিলের নিজের ছুরিই তার বুকে লাগে।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় এখনো পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ইসরাফিলের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সুতাপাড়া গ্রামে। বর্তমানে তিনি ডেমরার উত্তর বাজার এলাকায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
ডেমরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মজিদ বলেন, সকালে খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে ইসরাফিলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বেলা পৌনে দুইটার দিকে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নতুন বছর ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে বরণ করতে বরিশালজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। জীর্ণতাকে পেছনে ফেলে নতুনের আহ্বানে শিল্পীদের রং-তুলির আঁচড়ে রঙিন হয়ে ওঠছে বরিশাল চারুকলা প্রাঙ্গণ। বাঙালির হাজার বছরের লোকজ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির শেকড়কে ধারণ করে এবারও বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে বরিশাল চারুকলায় গিয়ে দেখা যায়, পহেলা বৈশাখের প্রধান আকর্ষণ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করেন শিক্ষার্থী ও শিল্পীরা। বাঁশ, কাগজ, রং ও তুলির কাজে তারা তৈরি করেন বিভিন্ন শিল্পকর্ম ও মুখোশ, যা শোভাযাত্রাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।
চারুকলা সূত্রে জানা গেছে, এবারের শোভাযাত্রার সম্মুখভাগে থাকবে বিশাল আকৃতির টিয়া পাখি এবং বাঙালির লোকজ ঐতিহ্যভিত্তিক নানা রঙিন মুখোশ। এসব উপকরণ নববর্ষ উদযাপনে ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
শিল্পকর্ম তৈরিতে ব্যস্ত থাকা শিক্ষার্থী রনি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ আমাদের জন্য শুধু উৎসব নয়, এটি আমাদের পরিচয় ও সংস্কৃতির অংশ। প্রতি বছর আমরা পরিশ্রম করি এই আয়োজন সফল করতে।’
চারুকলা বরিশালের সমন্বয়ক সুশান্ত ঘোষ বলেন, ‘বাঙালির এই উৎসব ফসলের ঘ্রাণে মিশে আছে। হেমন্তে ধান কাটার পর নতুন বছরকে বরণ করার যে প্রথা ছিল, তা আজ সার্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। এবারের শোভাযাত্রায় লোকজ ঐতিহ্যের নানা প্রতীক তুলে ধরা হবে।’
বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি শুভঙ্কর চক্রবর্তী জানান, সকালে বিএম স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রা শুরু হবে। শোভাযাত্রার মাধ্যমে আমরা ঐক্য, সম্প্রীতি ও গণতন্ত্রের বার্তা দিতে চাই।
এদিকে বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে বরিশাল ব্রজমোহন (বিএম) স্কুল মাঠে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী আয়োজন করছে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। মেলায় প্রায় ৭০টি স্টল থাকবে এবং ইতোমধ্যে মাঠ প্রস্তুতের কাজ শেষ হয়েছে।
উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী বরিশাল জেলা সংসদের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল খায়ের সবুজ বলেন, ‘৪৪ বছর ধরে আমরা বিএম স্কুল মাঠে বৈশাখী মেলার আয়োজন করে আসছি। পহেলা বৈশাখের সকালে প্রভাতি অনুষ্ঠান শেষে গান, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হবে।’
তিনি আরও জানান, অনুষ্ঠান শেষে চারুকলার উদ্যোগে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হবে, যা বিএম স্কুল থেকে শুরু হয়ে নগরীর সদর রোডে গিয়ে শেষ হবে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
শুধু চারুকলা ও উদীচী নয়, বরিশালের অন্তত ৩৫টি সাংস্কৃতিক সংগঠনও বাংলা নববর্ষ উদযাপনে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যস্ত সময় পার করছে।
জীবননগরে তেলপাম্পে বিশৃঙ্খলার অভিযোগে এক যুবককে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সাথে কাগজপত্র না থাকাসহ বিভিন্ন অপরাধে ৫ জনকে জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) বেলা ১১ টার দিকে জীবননগর ফিলিং স্টেশনে ওই অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জমির উদ্দিন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, সকালে জীবননগর ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালানো হয়। এসময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে সিফাত হোসেন নামে এক যুবককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা জরিমানা করা করা হয়। এছাড়া একই অপরাধে ৪ জনকে ৪ হাজার টাকা ও সড়ক পরিবহন আইনে একজনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সিফাত হোসেন ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার তৈলটুপি গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে। অর্থদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- জীবননগর পৌরসভার সিকান্দার আলী, বিপ্লব কর্মকার, তেতুলিয়া গ্রামের ইয়াসিন আলী, হরিয়াননগর গ্রামের মোশারফ হোসেন ও বাঁকা গ্রামের শাহিন উদ্দিন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জমির উদ্দিন বলেন, নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে সোমবার জীবননগর ফিলিং স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় তেল পাম্পে ফুয়েল কার্ড ব্যতীত লাইন ভঙ্গকরে জ্বালানি তেল সংগ্রহে চাপ সৃষ্টি করেন সিফাত। আইন প্রয়োগের বিষয়ে তাকে সতর্ক করে ফুয়েল কার্ডসহ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি সংগ্রহের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি তা অমান্য করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও জনমনে ভীতির সৃষ্টি করেন। ওই অপরাধে তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া কাগজপত্র না থাকাসহ বিভিন্ন অপরাধে ৫ জনকে জরিমানা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
কৃষিনির্ভর মেহেরপুরে হঠাৎ করে সবজির দামে নাভিশ্বাস অবস্থা হয়েছে ভোক্তাদের। বাজারে গিয়ে বাড়তি দামে হতাশ ক্রেতারা। ভোক্তাদের অভিযোগ, ব্যাবসায়ীরা কোনো অযুহাত পেলেই চলবে, তাহলেই দ্রব্য মূল্যের দাম বেড়ে যাবে। আর প্রশাসন শুধু নামেই বাজার মনিটরিংয়ের কথা বলে। এতে বাজারে দামে কোনো প্রভাব পড়ে না।
ব্যাবসায়ীদের দাবি কৃষকদের কাছ থেকে অধিক দামে সবজি কিনতে হচ্ছে তাদের। তাছাড়া তেল সংকটের কারনে পরিবহন খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি হাট ইজারা সব হিসেব করে তারা দাম বৃদ্ধিতে বাধ্য হচ্ছেন।
কৃষকরা বলছেন, সার বীজ থেকে শুরু করে সবকিছুর দাম বাড়তি। আর বতর্মানে চলছে তেল সংকট। সেচ দিতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। যার ফলে উৎপাদন খরচ বেড়েছে অনেক। তাই দাম বাড়াটাই স্বাভাবিক।
আর জেলা প্রশাসন বলছে, আমরা সর্বদা বাজার মনিটরিং করে যাচ্ছি। ব্যাবসায়ীরা যদি সিন্ডিকেট করে বাড়তি মুনাফা করতে চাই। তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) জেলার ঐতিহ্যবাহী বামন্দী বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৬০ টাকা কেজির পটল আজ বিক্রি হচ্ছে ১০০টাকা করে, ৪০ টাকার বেগুন বিক্রি হচ্ছে বেগুন ১২০ টাকা করে,৪০ টাকা কেজি খিরা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা করে, ৪৫ টাকার গাজর বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা করে, ৪৫ টাকার ঢেড়স বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা করে, তরকারি খাওয়া কাচ কলা ২৫ টাকা বেড়ে আজ বিক্রি হচ্ছে ৪০টাকা করে, ৬৫ টাকার বরবটি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা করে, ৫০ টাকার কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকা করে, ৬০ টাকা কেজি দরের উস্তি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা করে, ৩০ টাকার পুইশাক বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা করে, ৩০ টাকার টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা করে, ৪০ টাকার ঝিঙে বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা করে, মুলা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা করে, আর আলতাপাটি আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা করে। আর প্রতি কেজি কাঠাল বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা করে।
সবজি ক্রেতা স্বপন আলী বলেন, বাজারে কোনো কিছু আর কেনার মতো নেই। যে বেগুন সপ্তাহ খানেক আগেও ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। আজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা করে। আর পটলের অবস্থা একই গত হাটে কিনেছি ৩০ টাকায়, আজ কিনছি ১শ টাকা করে।
আরেক ক্রেতা রাসেল আহমেদ বলেন, পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে কম। আর তার অযুহাতে বাজারে বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম। বাজারে ৫০ টাকার নিচে কোন সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। পুইশাক তা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। আমরা গরিব মানুষ খাব কি? এভাবে চলতে থাকলে মনে হচ্ছে না খেয়ে থাকতে হবে।
সবজি বিক্রেতা সামসুল হক বলেন, আমরা আড়তে গেলে দেখি সব সবজির দাম বাড়তি। তারা বলছে তেল সংকটের কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। এখন আমরা যেমন দামে কিনব, তেমন দামেইতো বিক্রি করব।
আরেক সবজি বিক্রেতা নবীর আলী বলেন, গত হাটে যে পঠল কিনেছি ৩৫ টাকা করে। আজ সেই পটল পাইকারি কিনছি ৮৫ টাকা করে। যে বেগুন সপ্তাহ খানেক আগে বিক্রি করেছি ৪০ টাকা করে,আজ সেই বেগুন কিনছি ৯০ টাকা করে।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার আলী বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বদা বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে অনৈতিক সুবিধা নিলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আর্থিক সংকট থাকায় একসঙ্গে পাঁচটি শিশুর জন্ম হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালীশুরী ইউনিয়নের চাঁদকাঠি গ্রামের ২৩ বছর বয়সি লামিয়া বেগম। গত বছরের ৬ অক্টোবর বরিশালের একটি বেসরকারি হাসপাতালে জন্ম নেয় এই পাঁচ নবজাতক।
শুরুতে পরিবার ও এলাকায় আনন্দের ঢেউ বয়ে গেলেও সেই আনন্দ এখন রূপ নিয়েছে কষ্ট, অনিশ্চয়তা আর আর্থিক সংকটের ভারে চাপা এক সংগ্রামে।
শিশুদের কান্নায় প্রতিদিনই ঘুম ভাঙে লামিয়ার। ভোর হওয়ার আগেই শুরু হয় তার দিন। একে একে পাঁচ শিশুকে কোলে নেওয়া, খাওয়ানো, গোসল করানো, কাপড় বদলানো সবকিছু একসঙ্গে সামলাতে হয় তাকে। একজন চুপ করলে আরেকজন কাঁদে, একজন ঘুমালে অন্যজন জেগে ওঠে। যেন এই ঘরের সময় থেমে আছে শুধু মায়ের ক্লান্ত হাতের মধ্যে।
ক্লান্ত কণ্ঠে লামিয়া বেগম বলেন, ‘আমি আর নিজের জন্য কিছু ভাবতে পারি না। সারাদিন বাচ্চাদের নিয়েই থাকি। ঘুম-খাওয়ার সময়ও ঠিক নেই। কিন্তু সবচেয়ে বড় চিন্তা হলো খরচ। পাঁচটা বাচ্চাকে মানুষ করা খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে। যদি কেউ আমাদের পাশে দাঁড়াত, তাহলে হয়তো একটু স্বস্তিতে বাঁচতে পারতাম।’
শিশুদের বাবা মো. সোহেল হাওলাদার একজন ছোট মুদি দোকানদার। তার সীমিত আয়ে কোনোভাবে সংসার চললেও পাঁচ সন্তানের ভরণ-পোষণ এখন তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিশুদের নানি শাহনাজ বেগম বলেন, ‘নাতি-নাতনি পাওয়ার আনন্দ আছে; কিন্তু সেই আনন্দ এখন কষ্টে পরিণত হয়েছে। ছোট দোকানের আয়ে কোনোভাবেই পাঁচ শিশুদের খরচ চালানো যাচ্ছে না। দুধ, কাপড়, ওষুধ সবকিছুতেই চাপ পড়ছে। আমরা সরকারের সহযোগিতা চাই।’
স্থানীয়রাও বলছেন, পরিবারটি এখন এক কঠিন বাস্তবতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। প্রয়োজনীয় সহায়তা না পেলে শিশুদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ফিল্ড সুপারভাইজার হুমায়ন কবির জানান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের সরাসরি এমন কোনো নির্দিষ্ট সহায়তা নেই, তবে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের তহবিল থেকে অনুদান পাওয়া যেতে পারে। আবেদন করলে আমরা সহযোগিতা করব।
কুড়িগ্রাম-২২ বিজিবি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলমান। এ বিষয়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার উত্তর ঝাউকুটি সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের অভিযোগে দুই বাংলাদেশী যুবককে আটক করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
কুড়িগ্রাম-২২ বিজিবি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলমান। এ বিষয়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে।
আটক দুজন হলেন— নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের অষ্টমীর চর এলাকার বাগমারা গ্রামের সোলাইমান হোসেন এবং ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দক্ষিণ বলদিয়া কুমারটারী গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে সোহাগ মিয়া।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে উত্তর ঝাউকুটি সীমান্তের ১০৩৭ নম্বর আন্তর্জাতিক সীমানা পিলারের পাশ দিয়ে তারা ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবরী জেলার টাকিমারী এলাকায় প্রবেশ করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় বিএসএফ সদস্যরা তাদের আটক করে।
নারায়ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান দুই বাংলাদেশীকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম-২২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব উল হক জানান, বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ফেরত আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
পিরোজপুর সদর উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খরিপ-১ মৌসুমে আউশ ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে সদর উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে পিরোজপুর সদর উপজেলার শহীদ ওমর ফারুক মিলনায়তনে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, "বর্তমান সরকার কৃষি বান্ধব সরকার। এই সরকার কৃষিকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। বাংলাদেশ একটি ছোট দেশ হওয়া সত্ত্বেও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পেরেছে মূলত কৃষকদের নিষ্ঠা এবং সরকারের সঠিক পরিকল্পনার কারণে।" এছাড়া তিনি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষক কার্ডসহ সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন এবং কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের আহ্বান জানান।
পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম সাইদুল ইসলাম কিসমত, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শওকত হোসেন এবং জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি শেখ আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুনুর রশিদ বলেন, "পিরোজপুর সদর উপজেলাকে কৃষি খাতে একটি আদর্শ উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। কৃষকরা এই প্রণোদনাকে কাজে লাগিয়ে আরও নিষ্ঠার সাথে কাজ করবেন এবং আপনারা সবাই মিলে একটি সফল ও উন্নত কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলবেন বলে আমার বিশ্বাস।"
অনুষ্ঠানে আউশ ধানের আবাদ ও ফলন বৃদ্ধির লক্ষ্যে পিরোজপুর সদর উপজেলার তালিকাভুক্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে উচ্চফলনশীল আউশ ধানের বীজ এবং প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়। উপস্থিত কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সঠিক সময়ে এই বীজ ও সার বিতরণের ফলে কৃষকরা উৎসাহিত হবেন এবং জেলায় আউশ ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। অনুষ্ঠানে কৃষি বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা ও স্থানীয় কৃষক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকার কেরানীগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাইসুল ইসলাম ও তার বাবার ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় আসামি এহসানুর হক মাহিমকে (২২) এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহমেদ এ নির্দেশ দিয়েছেন।
মাহিমকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত এক দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত শুক্রবার মাহিমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে কেরানীগঞ্জ থানা-পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শহিদুল ইসলাম পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ও রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আজ দিন ধার্য করেন।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪৫ মিনিটে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন কালিন্দী ইউনিয়নের মাদারীপুর সড়ক-২ এলাকায় জবি শিক্ষক ও তার বাবার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, জবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. রাইসুল ইসলামের বাড়ির সামনে দীর্ঘদিন ধরে আড্ডা ও মাদক সেবন করে আসছিলেন অভিযুক্ত মাহিম। বিষয়টিতে বাধা দিলে তিনি বিভিন্ন সময় শিক্ষক পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেন।
বৃহস্পতিবার শিক্ষক রাইসুল ইসলামের বাবা নজরুল ইসলাম (৬৭) অভিযুক্ত মাহিমকে আড্ডা দিতে নিষেধ করলে মাহিম ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে মাটিতে ফেলে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। পরে লোহার রড দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করলে তা চোখের নিচে লেগে তিনি রক্তাক্ত জখম হন। এ সময় শিক্ষকের বাবার পকেট থেকে ৬ হাজার টাকার মতো নিয়ে যান মাহিম। শিক্ষক রাইসুল ইসলামের ওপরও তারা হামলা করেন।
এ সময় শিক্ষকের বাবা নজরুল ইসলামের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত মাহিম পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
এ ঘটনায় জবি শিক্ষক রাইসুল ইসলাম কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ১৯ মামলার আসামি রফিকুল ইসলাম মাসুদ ওরফে ডাকাত মাইস্যাকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরের দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোম্পানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিমল কর্মকার।
এর আগে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার রংমালা বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শনিবার বিকেলে আসামিকে নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
গ্রেপ্তার মাইস্যা উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত জামাল উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বিমল কর্মকারের নেতৃত্বে উপজেলার রংমালা বাজারে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে খুন, ডাকাতি, ডাকাতির প্রস্তুতি, অস্ত্র, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজিসহ ১৯ মামলার আসামি মাইস্যা ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডাকাত মাইস্যা কোম্পানীগঞ্জ থানার একাধিক ডাকাতির মামলার সঙ্গে জড়িত বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিমল কর্মকার আরও বলেন, গ্রেপ্তার আসামি ১৯ মামলার আসামি। তার বিরুদ্ধে একাধিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও ছিল। এছাড়া একটি মামলায় অপর আসামির ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতেও তার সম্পৃক্ততার কথা উঠে এসেছে।
সারাদেশে গত এক মাসে সড়কে ৫৭৬টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫৩২ জন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ২ হাজার ২২১ জন। নিহতদের মধ্যে নারী ৬৬ জন এবং শিশু ৯৮ জন রয়েছেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পাঠানো প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক মাসে ১৪টি নৌদুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, ২৭ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। একই সময়ে ৪৮টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত এবং ২২৪ জন আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়—মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ২০৪ জন, বাসের যাত্রী ৪৫ জন, ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টরের আরোহী ২৮ জন, প্রাইভেট কার-মাইক্রোবাসের আরোহী ৪৬ জন, তিন চাকার যানবাহনের যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা) ৯৪ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-পাখিভ্যান-ভটভটি-টমটম-মাহিন্দ্র) ২৩ জন এবং সাইকেল আরোহী ১৩ জন নিহত হয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৭১টি জাতীয় মহাসড়কে, ২৬৪টি আঞ্চলিক সড়কে, ৭০টি গ্রামীণ সড়কে, ৬২টি শহরের সড়কে এবং ৯টি অন্যান্য স্থানে সংঘটিত হয়েছে। দুর্ঘটনাসমূহের মধ্যে ১৬৬টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২৩১টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৮৬টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়া, ৮২টি যানবাহনের পেছনে আঘাত এবং ১১টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ১ হাজার ৮টি। এর মধ্যে বাস ১৩৩টি, ট্রাক ১২০টি, কাভার্ড ভ্যান ৩৭টি, পিকআপ ৪১টি, ট্রাক্টর ১৬টি, ট্রলি ৬টি, লরি ৭টি, ড্রাম ট্রাক ১৬টি, হ্যান্ড ট্রলি ৩টি, পর্যটন জিপ ২টি, মাইক্রোবাস ১৯টি, প্রাইভেটকার ৪২টি, অ্যাম্বুল্যান্স ২টি, পাজেরো জিপ ৮টি, মোটরসাইকেল ২৪৪টি, তিন চাকার যানবাহন ২০০টি (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৬৫টি (নসিমন-পাখিভ্যান-ভটভটি-টমটম-মাহিন্দ্র), সাইকেল ১৫টি এবং অজ্ঞাত যানবাহন ৩২টি।
ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২৭টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৪৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত এবং ৬৯ জন আহত হয়েছেন।
ভোলায় অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগে এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মোঃ আবুল কাশেম রাতে গনমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস রিলিজে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস ভোলার একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। এসময় ভোলা সদর থানাধীন খেয়াঘাট ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি গত ৭ এপ্রিল দিনাজপুর জেলার বিরামপুর সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচারকারী চক্রের এক সদস্যের সহযোগিতায় আত্মগোপনের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।
আটক ব্যক্তির নাম আব্দুল মমিন (৩২)। তিনি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সোনামুড়া জেলার যাত্রাপুর থানার বাঁশপুকুর গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম বসার আলী।
পরবর্তীতে আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে ভোলা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মোঃ আবুল কাশেম বলেন, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।