মঙ্গলবার, ৬ জুন ২০২৩

বাণিজ্যমেলা থেকে যাত্রীবেশে অটোরিকশায়, চালককে হত্যা করে ছিনতাই

ফাইল ছবি
প্রতিনিধি, রূপগঞ্জ
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, রূপগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আব্দুল হক (৩৮) নামের এক চালককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার পর তার অটোরিকশা ছিনিয়ে নিয়েছে হত্যাকারীরা। এ ঘটনায় ধারালো অস্ত্রসহ অভিযুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে অটোরিকশাটিকেও।

মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার ইসলামবাগ কালী এলাকার হাজী আক্রম আলীর কাঠবাগানে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটে। আব্দুল হক উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কেরাবো এলাকার মৃত আজিম উদ্দিনের ছেলে।

গ্রেপ্তাররা হলেন, উপজেলার কালি এলাকার আলী হোসেনের ছেলে শাহজাহান, ডুলুরদিয়া এলাকার মুমিন মোল্লার ছেলে রাজিব, ইসলামবাগ এলাকার আহমদ বেপারীর ছেলে মাসুদ, আবুল হোসেনের ছেলে ইমন, টেংরাটেক এলাকার সিদ্দিক মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আলী।

পুলিশ বলছে, পূর্বাচলে বাণিজ্যমেলা থেকে যাত্রীবেশে আব্দুল হকের অটোরিকশায় ওঠেন ওই পাঁচজন। ছিনতাইয়ে বাধা দেয়ায় আব্দুল হককে হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন তারা।

রূপগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (ওসি-তদন্ত) আতাউর রহমান দৈনিক বাংলাকে জানান, প্রতিদিনই অটোরিকশা করে বিভিন্ন এলাকায় যাত্রী আনা-নেয়া করতেন আব্দুল হক। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাণিজ্যমেলা থেকে যাত্রীবেশে একদল ছিনতাইকারী তার অটোরিকশায় ওঠেন। এরপর ছিনতাইকারীরা ইসলামবাগ কালী কবরস্থান এলাকার হাজী আক্রম আলীর কাঠবাগানের নির্জন স্থানে নিয়ে আব্দুল হকের কাছ থেকে অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। এসময় চালক বাধা দেন এবং ছিনতাইকারীদের প্রতিরোধের চেষ্টা চালান। এক পর্যায়ে আব্দুল হকের বুকের ডান পাশে ও ডান হাতের বাহুতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন ছিনতাইকারীরা। এতে আব্দুল হক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে বুধবার ভোরে চালক আব্দুল হকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

ওসি জানান, অভিযুক্তরা সকালে তারাবো বরপা এলাকায় ছিনতাই করা অটোরিকশা বিক্রি করতে নিয়ে গেলে সেখানকার দোকানদার ও স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয়। তখন তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ও ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তিতে বলেছেন, অটোরিকশা ছিনতাইয়ে বাধা দেয়ায় ও তাদের প্রতিরোধ করায় বাধ্য হয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।


নিখোঁজের পরদিন প্রতিবেশীর আম গাছে কৃষকের ঝুলন্ত মরদেহ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, বরগুনা

বরগুনার আমতলী উপজেলায় নিখোঁজের পরের দিন প্রতিবেশীর একটি আম গাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় এক কৃষকের মরদেহ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করেছে।

উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নে কুলাইরচর গ্রামে সোমবার সকালে উদ্ধার করা হয় কৃষক মাহাতাব মোল্লার (৫৫) মরদেহ। কুলাইরচর গ্রামের মৃত আব্দুল রশিদ মোল্লার ছেলে মাহাতাব রোববার সকাল থেকেই নিখোঁজ ছিলেন।

আমতলী থানা পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মাহাতাব মোল্লা রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর আর ফিরে আসেননি তিনি। ওই দিন পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো হদিস পাননি। পরে সোমবার ভোরে মাহাতাব মোল্লার প্রতিবেশী আনছার মৃধা (চাচাতো ভগ্নিপতি) বাড়ির সামনের খালপাড়ের একটি আমগাছে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায় আত্মীয় স্বজন ও স্থানীয়রা। খবর পেয়ে আমতলী থানা পুলিশ মরদেহ নামিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে যায়।

মাহতাব মোল্লার মেয়ে রিয়া মনি বলেন, বাবা গতকাল (রোববার) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। কোথায় যাচ্ছেন, কেন যাচ্ছেন, এসব বিষয়ে কাউকে কিছু বলেননি। এরপর দিনভর এবং রাতেও বাবার কোনো সন্ধান আমরা পাইনি। আজ (সোমবার) প্রতিবেশী আনছার মৃধার বাড়ির সামনের একটি গাছে পাওয়া গেল বাবার লাশ। বাবা আত্মহত্যা করেছে নাকি কেউ তাকে মেরে গাছে ঝুলিয়ে রেখেছে, তা বলতে পারছি না।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে ‍কৃষক মাহাতাবের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে জানা যাবে এটি হত্যা না অত্মহত্যা। এ ঘটনায় পরিবার এখনো কোনো মামলা করেনি।

বিষয়:

আন্দোলনের মুখে বেলকুচি থানার ওসিকে প্রত্যাহার

ওসি আসলাম হোসেন। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ

একেক পর এক জনপ্রতিনিধির ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও মিথ্যা মামলার ঘটনায় স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি ফোরামের আন্দোলনের মুখে অবশেষে বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেনকে প্রত্যাহার সিরাজগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল জানান, সোমবার বিকেলে ওসি আসলামকে প্রত্যাহার করে সিরাজগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। বেলকুচি থানায় তার জায়গায় নতুন ওসি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে খায়রুল বাশারকে।

এর আগে বেলকুচি পৌর কাউন্সিলর মাহাবুবুল আজাদ তারেকের ওপর সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলার ঘটনায় এখনো আসামি গ্রেপ্তার না করায় গত রোববার দুপুরে মানববন্ধন করেন জনপ্রতিনিধিরা।

উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সোনিয়া সবুর আকন্দ অভিযোগ করে বলেন, প্রায় ছয় মাস ধরে বেলকুচি থানায় ওসি হিসেবে আসলাম হোসেন দায়িত্ব পালন করছেন। এই সময়ে বেলকুচি উপজেলার অন্তত ছয়জন জনপ্রতিনিধি সন্ত্রাসী হামলার স্বীকার হয়েছেন।

সোনিয়া সবুর আকন্দ আরও বলেন, এসব ঘটনায় থানায় মামলা পর্যন্ত নেয়া হয়নি। বরং এসব ঘটনায় আমাদের ওপর মিথ্যা মামলা সাজিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। তাই ওসির অপসারণ না করা হলে জনপ্রতিনিধিরা কলম বিরতির হুমকি দেন।

এর পরদিনই ওসিকে প্রত্যাহার করা হলো বেলকুচি থানা থেকে।

বিষয়:

ফেলে যাওয়া গামছায় মিলল ৩ কোটি টাকার সোনা

জব্দ করা সোনার বারগুলোর একাংশ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, যশোর

যশোরের চৌগাছা সীমান্ত থেকে ভারতে পাচারের সময় ২৬টি সোনার বার জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তরক্ষী বাহিনীটির টহল দলের ধাওয়ায় দুই ব্যক্তির ফেলে যাওয়া এক গামছায় মিলেছে এসব সোনা, যার বাজারদর তিন কোটি টাকারও বেশি।

সোমবার সকাল ১০টার দিকে চৌগাছার কাবিলপুর সীমান্ত এলাকার ক্লিনিক মোড়ে বিজিবি অভিযান চালিয়ে ওই সোনার বারগুলো জব্দ করে।

যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আহমেদ হাসান জামিল জানান, ঘটনাস্থলে টহল দল দুই ব্যক্তির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে করলে তাদের থামতে বলে। এ সময় ওই দুজন দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি তাদের ধাওয়া দেয়।

বিজিবির এই কর্মকর্তা জানান, ধাওয়ায় একজন তার পরিহিত শার্ট ছিড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ভেতরে এবং আরেকজন বাংলাদেশের ভেতরে কাবিলপুর গ্রামের দিকে পালিয়ে যান। মাঠের কাদার মধ্যে তাদের ফেলে যাওয়া গামছা মোড়ানো একটি প্যাকেট পাওয়া যায়। ওই প্যাকেটেই মেলে তিন কেজি ২৩ গ্রাম ওজনের মোট ২৬টি সোনার বার। গামছায় স্কচ টেপে মোড়ানো অবস্থায় ছিল বারগুলো।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল আহমেদ হাসান জামিল বলেন, জব্দ করা সোনার বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় চৌগাছা থানায় মামলা করে সোনা ট্রেজারিতে জমা দেয়া হয়েছে।

বিষয়:

পরিবেশ দিবসে পাটলাই নদীতে নৌ র‌্যালি

পাটলাই নদীতে নৌ র‌্যালি। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ের পাটলাই নদীতে ছোট নৌকা দিয়ে নৌ র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘সবাই মিলে করি পণ বন্ধ হবে প্লাস্টিক দূষণ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে এই নৌ র‌্যালি আয়োজন করে উন্নয়ন সংস্থা সিএনআরএস।

সোমবার সকাল ১১টায় টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ের গ্রাম গোলাবাড়ি থেকে জনতা উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার অংশে অনুষ্ঠিত হয় এ নৌ র‌্যালি। এতে অংশ নেয়া নৌকাগুলোতে ছিল পরিবেশবিষয়ক বিভিন্ন স্লোগান-সংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন।

র‌্যালি শেষে জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকা থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন প্লাস্টিক ও পলিথিনজাতীয় পণ্য অপসারণ করা হয়। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সিএনআরএসের ফিল্ড ডিরেক্টর ও প্রতিবেশ অ্যাকটিভিটি কমিউনিকেশন মাজহারুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, রিজিওনাল অ্যাকটিভিটি কো-অর্ডিনেটর আশরাফুল ইসলাম, সিএনআরএস তাহিরপুর উপজেলার সমন্বয়কারী ইয়াহিয়া সাজ্জাদ, ওবায়দুল ফাত্তাহ তানভির, জনতা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মুদাচ্ছির আলম সুবল প্রমুখ।

এদিকে একই সময়ে তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ইউএনও সুপ্রভাত চাকমার সভাপতিত্বে উপজেলা বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে বিশ্ব পরিবেশ দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিষয়:

লোডশেডিংয়ে ভোট কমার ভয় আওয়ামী লীগের

আওয়ামী লীগ মনোনীত কেসিসির মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক নগরীর মিস্ত্রীপাড়া বাজার এলাকায় গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৬ জুন, ২০২৩ ০০:০১
খুলনা ব্যুরো

জ্বালানিসংকটে দেশের কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ফলে সারা দেশে চলছে ধারাবাহিক লোডশেডিং। এই পরিস্থিতিতে আসন্ন খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে ভোটের ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেসিসি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক।

সোমবার সকালে নগরীর মিস্ত্রীপাড়া বাজার এলাকায় গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকায় তীব্র লোডশেডিং চলছিল। ফলে এলাকার মানুষের জীবনযাপন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। এতে আমাদের প্রচারে বাধা হচ্ছিল। এ ছাড়া এ কারণে ভোটে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিষয়টি জানানোর জন্য আমি বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীকে ফোন করেছিলাম। তবে তাকে ফোনে না পাওয়ায় আমার স্ত্রী পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহারকে জানিয়েছিলাম সংসদে দেখা হলে লোডশেডিং নিয়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে। তিনি আলোচনা করার পর খুলনা শহরের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এখন আর তেমন লোডশেডিং নেই।’

তবে দেশের বর্তমান লোডশেডিং পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করেছেন জাতীয় পার্টির মনোনীত মেয়র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মধু। সকালে নগরীর ফুল মার্কেট এলাকায় গণসংযোগকালে সাংবাদিক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘দেশে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ভয়াবহ খারাপ। খুলনাবাসী ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। ভোট চাইতে গেলে ভোটাররা বিদ্যুৎ নিয়ে কথা বলছেন। তারা বলছেন, লোডশেডিং থাকলে গরমে মারা যাবে। বিদ্যুৎ নিয়ে দেশে ব্যাপক দুর্নীতি রয়েছে, সে দুর্নীতির কারণেই এই লোডশেডিং হচ্ছে। একই সঙ্গে তীব্র গরম পড়ায় মানুষের বেঁচে থাকা মুশকিল হয়ে পড়েছে। দেশে কেন বিদ্যুৎ পরিস্থিতি খারাপ, তার জবাব সরকারকে দিতে হবে।’

শফিকুল ইসলাম মধু আরও বলেন, ‘আমরা যখন ক্ষমতায় ছিলাম, তখন তো বিদ্যুতের সমস্যা ছিল না। বিদ্যুৎ যদি না থাকে, তাহলে দেশের অনেক বড় ক্ষতি হবে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাবে।’


তানোরে নতুন ইউএনওর যোগদান

তানোরের নতুন ইউএনও বিল্লাল হোসেন। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহীর তানোরে নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে যোগ দিয়েছেন মো. বিল্লাল হোসেন। সোমবার তানোরের ইউএনও কার্যালয়ে নতুন ইউএনও হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি।

এর আগে রোববার রাজশাহীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) শামীম আহমদের কাছে যোগদানপত্র দাখিল করেন বিল্লাল হোসেন। তার নিজ জেলা ঝিনাইদহ।

বিল্লাল হোসেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এ ছাড়াও তিনি যুক্তরাজ্যের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অভিবাসন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন।

তানোরের নবাগত ইউএনও মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, সবার সহযোগিতায় এ উপজেলাকে আরও সমৃদ্ধ করতে আমি বদ্ধপরিকর। তানোর উপজেলা প্রশাসনকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। সেক্ষেত্রে সরকারি দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তানোর উপজেলার জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম কর্মীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করছি।

বিষয়:

নোয়াখালীতে বিদ্যুৎ সরবরাহে ‘বৈষম্য’

নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীতে ‘ভিআইপি লাইন’ থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে চলছে বাণিজ্য মেলা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, নোয়াখালী

নোয়াখালীতে বিদ্যুৎ বিতরণে চলছে চরম বৈষম্য। গত কয়েক দিন ধরে তীব্র গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় দিশেহারা সাধারণ মানুষ। অথচ এর মধ্যেই ‘ভিআইপি লাইন’ থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিয়ে চলছে বাণিজ্য মেলা, সুপার মার্কেট ও সরকারি আবাসিক এলাকা। ক্ষুব্ধ শহরবাসী নির্দিষ্ট লাইনে অগ্রাধিকার না দিয়ে বিদ্যুতের সমবণ্টনের দাবি জানিয়েছেন।

শহরের বাসিন্দারা বলছেন, নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীর বিভিন্ন এলাকায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা করে লোডশেডিং হচ্ছে। তবে এমন ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের আওতার বাইরে রয়েছে সুপার মার্কেট, বাণিজ্য মেলা, সরকারি দপ্তর, সার্কিট হাউস, টেনিস কমপ্লেক্স ও সরকারি আবাসিক এলাকা। এসব জায়গায় ‘ভিআইপি লাইন’ থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এর ফলে অন্যান্য জায়গায় চাহিদামতো বিদ্যুৎ দেয়া সম্ভব হয় না।

মাইজদীর কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগ সুষমভাবে বিদ্যুৎ বণ্টন করছে না। তারা ‘ভিআইপি ফিডারে’ ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সুবিধা দেয়। অথচ লক্ষ্মীনারায়ণপুর, সোনাপুর, দত্তের হাট, ফকিরপুর, কাদির হানিফ, মাইজদী বাজারসহ কয়েকটি এলাকায় এক ঘণ্টা পর পর দুই ঘণ্টা লোডশেডিং এখন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণে চরম বৈষম্য চলছে। লোড ম্যানেজমেন্ট বলতে এখানে দৃশ্যমান কিছুই নেই।

লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার মিজানুর রহমান বলেন, ‘লোডশেডিংয়ে আমাদের ভোগান্তি চরমে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০-১২ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। অথচ এর মধ্যেই কেউ কেউ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছেন।’

দত্তেরহাট এলাকার নাছির উদ্দিন রায়হান বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগ এসব বৈষম্য আর অনিয়ম করে ইচ্ছাকৃত জনরোষ তৈরি করছে। সংকটের মধ্যে বিদ্যুতের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা জরুরি।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা তারেকশ্বর দেবনাথ নান্টু বলেন, বিদ্যুতের এই সংকটে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে রেখে কিছু কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ী সুবিধা ভোগ করছেন। এটি সম্পূর্ণ অনৈতিক।

সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নুর আলম ছিদ্দিকী বলেন, কয়েকটি দপ্তরের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পর্যায়ের কিছু নেতার পকেট ভারী করার জন্য বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এ মেলায় বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে। এ নিয়ে কথা উঠলে তারা ক্ষেপে গিয়ে আলোকসজ্জা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর এদিকে সাধারণ মানুষ লোডশেডিংয়ের ভোগান্তিতে আছেন।

নোয়াখালী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে জেলা শহরে প্রতিদিন গড়ে বিদ্যুতের চাহিদা ৩০ থেকে ৩৫ মেগাওয়াট। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে ১২ থেকে ১৫ মেগাওয়াট। এ জন্য ১৮ থেকে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি শামাল দিতে লোডশেডিং বেড়েছে। অন্যদিকে বর্তমানে নোয়াখালী সুপার মার্কেটে দেড় মেগাওয়াট ও বাণিজ্য মেলায় ১৫০ কিলোওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। বিউবো অবশ্য বলছে, বিদ্যুতের চাহিদা ও প্রাপ্যতার সমন্বয় করতে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করা হচ্ছে।

নোয়াখালী বিউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী (মাইজদী) মো. নুরুল আমিন বলেন, নোয়াখালী চেম্বার অব কমার্সের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্য মেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। তারা দৈনিক ১৫০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ ব্যয় করে। এর ফলে অন্য এলাকায় প্রভাব পড়ে না।

নোয়াখালী সুপার মার্কেটে ‘ভিআইপি লাইনে’র সংযোগ প্রসঙ্গে নুরুল আমিন বলেন, সুপার মার্কেটে প্রতিদিন এক থেকে দেড় মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা আছে। সেখানে ভিআইপি লাইনের সংযোগ আগে থেকেই দেয়া ছিল। এখন চাইলেই তো আর তা বাদ দেয়া যায় না।

জানতে চাইলে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আজ (গতকাল) বাণিজ্য মেলার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। আর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে রাত ৮টার পর দোকান ও সুপার মার্কেট বন্ধ করতে নিদর্শনাও দেয়া হয়েছে।’

বিষয়:

বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে লাগানো হচ্ছে ৪০০ তাল গাছ

তাল গাছ লাগানো কর্মসূচির উদ্বোধন হয় সোমবার। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে সড়কের দুই ধারে তাল গাছ লাগাচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। প্রথম পর্যায়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চৌহদ্দীটোলা কালুপুর সড়কের দুই ধারে ৪০০ তাল গাছ লাগানো হচ্ছে।

সোমবার বিশ্ব পরিবেশ দিবসে অনুষ্ঠানিকভাবে তালগাছ লাগানোর এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তসিকুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কানিজ তাসনোভা, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা সলেহ আকরামসহ অন্যরা।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কানিজ তাসনোভা বলেন, সম্প্রতিক সময়ে বজ্রপাতের ঝুঁকি অনেক বেড়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জেও বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষিপ্রধান এলাকায় সড়কের ধারে তালগাছ রোপণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।


টেকনাফে এবার স্কুলছাত্র অপহরণ, ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

অপহরণের শিকার মোহাম্মদ হোছাইন (সূর্য)
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, টেকনাফ (কক্সবাজার)

কক্সবাজারের টেকনাফে এবার মোহাম্মদ হোছাইন (সূর্য) নামে দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রকে অপহরণ করা হয়েছে। অপহৃত শিশু টেকনাফের হ্নীলার লেদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র এবং লেদা এলাকার সোলতান আহমেদের ছেলে।

সোলতানের অভিযোগ, রোববার বিকেলে স্কুল থেকে ফেরার পথে তাকে অপহরণ করা হয়। এরপর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তার কাছে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে অপহরণকারীরা। এ ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠাতেও ভয় পাচ্ছেন অভিভাবকরা।

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মুহাম্মদ আলী বলেন, ‘সন্ত্রাসী রোহিঙ্গা কর্তৃক সম্প্রতি অপহরণের ঘটনা বেড়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে কিছু বিপথগামী স্থানীয় দুর্বৃত্তও এসব ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাই প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ ও যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করার দাবি করছেন সচেতন মহল।’

চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় রোহিঙ্গারা নিজে টমটম গাড়ি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে যত্রতত্র দেদারসে ঘোরাঘুরি করছে। এসব গাড়িতে অপহরণ করার অভিযোগ উঠেছে। তাই রোহিঙ্গাদের হাতে এসব গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ করার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন ভুক্তভোগীরা।’

এ ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হালিম বলেন, ‘শিশু মোহাম্মদ হোছাইনের বাবা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

এর আগে গত শুক্রবার লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পাঁচ যুবককে অপহরণ করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে দুর্বৃত্তরা। মুক্তিপণ না দেয়ায় গত শনিবার রাতে এক যুবকের হাতের কবজি কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। পরে ওই হাতসহ তাকে ফেরত পাঠায় অভিভাবকের কাছে। মুক্তিপণ না দিলে বাকিদের হত্যা করা হবে বলেও পরিবারকে হুমকি দেয় অপহরণকারীরা।

গত ২৮ এপ্রিলে পাত্রী দেখতে গিয়ে অপহরণের শিকার হন কক্সবাজার চৌফলদন্ডী উত্তরপাড়ার মোহাম্মদ আলমের ছেলে জমির হোসেন রুবেল, তার দুই বন্ধু ঈদগাঁও উপজেলার জালালাবাদ সওদাগরপাড়ার মোহাম্মদ ইউছুপ ও কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়া এলাকার ইমরান। প্রায় এক মাসের মাথায় গত ২৪ মে টেকনাফ পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিরা এখন রিমান্ডে রয়েছেন।


রাজশাহী সিটিতে প্রার্থী: বহিষ্কার হচ্ছেন ১৬ বিএনপি নেতা

আপডেটেড ৫ জুন, ২০২৩ ২৩:৩৮
রাজশাহী ব্যুরো

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আসন্ন রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় ১৬ নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে কেন্দ্রে চিঠি পাঠিয়েছে রাজশাহী মহানগর বিএনপি। আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা ও সদস্যসচিব মামুন-অর-রশিদের সই করা চিঠিটি রোববার কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার দুপুরে রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা জানান, চিঠিতে রাসিক নির্বাচনে সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ১১ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে অংশ নেয়া পাঁচজনসহ বিএনপির ১৬ নেতার নাম ও দলীয় পদ উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির ওই ১৬ নেতা দল থেকে আজীবন বহিষ্কার হতে যাচ্ছেন।

সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে অংশ নেয়া নগর বিএনপির ১১ নেতা হলেন— নগর বিএনপির রাজপাড়া থানা কমিটির সাবেক সহসভাপতি বদিউজ্জামান বদি, ১১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু বকর কিনু, শাহ মখদুম থানা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মো. টুটুল, শাহ মখদুম থানা বিএনপির সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক আব্দুস সোবহান লিটন, নগর যুবদলের সাবেক সহসভাপতি মো. বেলাল হোসেন, নগর যুবদলের সাবেক শ্রম বিষয়ক সম্পাদক রনি হোসেন রুহুল, নগর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুজ্জামান টিটু, ২২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মির্জা রিপন, বোয়ালিয়া থানা (পূর্ব) যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলিফ আল মাহমুদ লুকেন, নগর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আনোয়ারুল আমিন আজব ও মতিহার থানা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আশরাফুল হাসান বাচ্চু।

অন্যদিকে সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে অংশ নেয়া বিএনপির পাঁচ নেতা হলেন— নগর মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মুসলিমা বেগম বেলী, নগর মহিলা দলের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আলতাফুন নেসা পুতুল, নগর মহিলা দলের ১ নম্বর যুগ্ম সম্পাদক সামসুন নাহার, নগর মহিলা দলের সহসভাপতি শাহনাজ বেগম শিখা এবং নগর মহিলা দলের ৪ নম্বর যুগ্ম সম্পাদক আয়েশা খাতুন মুক্তি।

এর আগে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে প্রার্থী হওয়ায় সিলেট ও গাজীপুরেও একই পদ্ধতিতে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নেতাদের দল থেকে আজীবন বহিষ্কার করে বিএনপি। সেই ধারাবাহিকতায় রাজশাহীতেও ১৬ নেতার বিরুদ্ধে শিগগিরই দলের বহিষ্কারাদেশ আসতে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক আব্দুস সোবহান লিটন বলেন, বহিষ্কারের চিঠির বিষয়ে আমার জানা নেই। আমি দলের কোনো পদেও নেই। ২০০৮ সালে নির্বাচনের সময় বলা হয়েছিল, দলের পদে থেকে কাউন্সিলর ভোট করা যাবে না। তখন আমি দল থেকে পদত্যাগ করেছি। এরপর আর দলের কোনো পদে আমি নেই। তখন থেকেই আমি কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করছি। এখন দল কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেটা তাদের ব্যাপার।

তবে নগর মহিলা দলের ১ নম্বর যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা সামসুন নাহার এবার সংরক্ষিত ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী হয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দল যা ভালো মনে করবে, তাই করবে। এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে আমাদের কিছু বলার নেই।

সার্বিক বিষয়ে নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ আলী ঈশা বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে রাসিক নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় নাম ও পদবী উল্লেখসহ কেন্দ্র থেকে চিঠি চাওয়া হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই ১৬ জনের নাম ও পদবী উল্লেখসহ তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এরশাদ আলী ঈশা আরও বলেন, বিএনপি এই সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অথচ তারা দলের অংশ হয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চিন্তা করে দলীয় সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাই তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রের কাছে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে।


সেই রিকশাচালকের পরিবার পেল ৫ লাখ টাকা

রিকশাচালক জাহেদুলের মাথায় বিদ্যুতের তার জড়ানোর পর তিনি সড়কে এভাবেই পড়েছিলেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৫ জুন, ২০২৩ ১৬:৪৯
প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের অক্সিজেন মোড়ে চলন্ত রিকশার ওপর তার ছিঁড়ে পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত রিকশাচালক জাহেদুলের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকার এফডিআর (স্থায়ী আমানত) দেয়া হয়েছে।

সোমবার চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাসুদ কামাল স্থায়ী আমানতের নথিপত্র জাহেদুলের স্বজনদের হাতে তুলে দেন।

জেলা প্রশাসন থেকে জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের অনুরোধে ওই রিকশাচালকের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকার স্থায়ী আমানত করে দেয়ার জন্য বিদ্যুৎ সচিব ও পিডিবির চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। এর প্রেক্ষিতে সোমবার সোনালী ব্যাংকের চট্টগ্রাম কোর্টহিল শাখায় জাহেদুলের স্ত্রী উম্মে কুলসুম ও বাবা মো. মাহাতাব আলীর নামে পাঁচ লাখ টাকার একটি স্থায়ী আমানত খোলে পিডিবি।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা হুছাইন মুহাম্মদ বলেন, ‘পিডিবির কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাসুদ কামাল স্থায়ী আমানতের নথিপত্র জাহেদুলের স্বজনদের হাতে তুলে দিয়েছেন।’

গত ১৪ মে সকালে নগরীর অক্সিজেন মোড়ে হাজি ওয়াজেদ পেট্রল পাম্পের দিক থেকে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের দিকে রিকশা চালিয়ে যাওয়া পথে তার ছিঁড়ে পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দগ্ধ হন রিকশাচালক জাহেদুল। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে মারা যান জাহেদুল।

ঘটনার দুদিন পর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের অনুরোধের প্রেক্ষিতে নিহত রিকশাচালকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বিদ্যুৎ সচিব ও পিডিবির চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

সেসময় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেছিলেন, “আমি প্রতিমন্ত্রী সাহেবের সঙ্গে কথা বলেছি, মারা গেলেন যে রিকশাচালক, ওনার তো সাত মাসের একটা বাচ্চা আছে, ওনাকে কোনো আর্থিক সহায়তা দেয়া যায় কি না। তো ওনি আমার কাছ থেকে বিস্তারিত জানলেন। জিজ্ঞেস করলেন যে এটা কাদের, পিডিবির কি না। লাইনটা পিডিবির জানার পর উনি বললেন যে, ‘আমি পিডিবির চেয়ারম্যানকে বলে দেব পাঁচ লাখ টাকার এফডিআর করে দেয়ার জন্য।’ ওনি আমাকে বললেন যে, পিডিবির চেয়ারম্যান ও বিদ্যুৎ সচিব সাহেবের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য।”

‘তো আমি বিদ্যুৎ সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। বিদ্যুৎ সচিব হাবিবুর রহমান মহোদয় বললেন যে, নিহত রিকশাচালকের পরিবারে উপর্যুক্ত কেউ থাকলে একটি চাকরির ব্যবস্থা করবেন’, বলেন জেলা প্রশাসক।

দুর্ঘটনায় নিহতের পর ওই রিকশাচালকের পরিবারকে দাফন-কাফনের জন্য ২৫ হাজার টাকাও দেয়া হয়েছিল জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে।

ছিঁড়ে পড়া ওই তার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবির। ঘটনার পর নিহত রিকশাচালকে ন্যূনতম ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা জানিয়েছিলেন পিডিবি চট্টগ্রাম শাখার প্রধান প্রকৌশলী রেজাউল করিমও। তবে তার পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকার স্থায়ী আমানত করে দেয়ার ঘোষণার পর আর এগোননি তিনি। রেজাউল করিম বলেন, ‘আমরা এখান থেকে (চট্টগ্রাম কার্যালয়) একটা আর্থিক ক্ষতিপূরণের চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু যেহেতু এখন (প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে) একটা হ্যান্ডসাম অ্যামাউন্টের বিষয়ে আমরা জানতে পেরেছি, তাই আর এগুচ্ছি না।’

বিষয়:

১০ ছাত্রীকে ‘মলমূত্র খাইয়ে’ নির্যাতনের অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

আপডেটেড ৫ জুন, ২০২৩ ১৬:৪৪
প্রতিনিধি, আমতলী (বরগুনা)

বরগুনার আমতলীতে একটি মাদ্রাসায় বিচারের নামে ১০ ছাত্রীকে মারধর এবং ‘মলমূত্র খাইয়ে’ নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে শিক্ষক ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে।

আমতলী পৌরসভার মাদানীনগর জামিয়া সাইয়্যেদা ফাতিমা বালিকা হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক তাসলিমা বেগম, তার স্বামী আব্দুর রশিদ, ছেলে তাইয়েব ও মেয়ে নুসরাত এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে আমতলীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ছাত্রীদের অভিভাবকরা।

ওই ঘটনায় তিন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের আমতলী হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নির্যাতনের শিকার ছাত্রীদের বয়স ১০ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। গত শনিবার এ ঘটনার পর বাড়ি গেলে তিনজন অসুস্থবোধ করতে শুরু করে। একপর্যায়ে তাদের পেটে ব্যথা ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। অবস্থা খারাপ হওয়ায় সোমবার সকালে তাদের ডাক্তার দেখানো হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অন্যতম অভিযুক্ত মাওলানা আব্দুর রশিদ ১০ ছাত্রীকে ‘মলমূত্র’ খাওয়ানোর কথা স্বীকার করে বলেন, গত শুক্রবার রাতে মোবাইলে আমার (আব্দুর রশিদের) মেয়ে নুসরাতের ছবি তোলায় শনিবার তাদের বিচার করেছি এবং ওই ছাত্রীদের মাদ্রাসা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছি।

যদিও নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রীরা বলছে, ছবি তোলার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যে ও বানোয়াট।

এ ঘটনায় ছাত্রীদের অভিভাকরা রোববার রাতে শিক্ষক তাসলিমা বেগমসহ চারজনের বিরুদ্ধে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

আমতলীর ইউএনও মুহাম্মদ আশরাফুল আলম এ বিষয়ে বলেন, ‘নোংরা এ ঘটনায় তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আমতলী হাসপাতালের চিকিৎসক কাঙ্ক্ষিতা মণ্ডল বলেন, ‘সোমবার সকালে মাদ্রাসায় পড়ুয়া তিন ছাত্রীকে চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।’

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) রনজিৎ কুমার সরকার বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিষয়:

বাড়িতে অসুস্থ স্ত্রীকে দেখে কর্মস্থলে ফেরার পথে প্রাণ গেল শিক্ষকের

মজনু মজুমদার
আপডেটেড ৫ জুন, ২০২৩ ১৫:৫৫
প্রতিনিধি, ফেনী

ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মজনু মজুমদার (৩৫) নামে এক কলেজশিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ছাগলনাইয়া উপজেলার কালাপুল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মজনু ফেনী কম্পিউটার ইনস্টিটিউটের ইন্সট্রাক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার শান্তির হাট এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, মজনু মোটরসাইকেলে ফেনীর দিকে আসার সময় তার বাহনটি কালাপুল নামক স্থানে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে তিনি ছিটকে পড়েন। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মজনুর সহকর্মীরা জানান, রোববার কলেজ কার্যক্রম শেষ করে মজনু তার অসুস্থ স্ত্রীকে দেখতে মোটরসাইকেলযোগে ফটিকছড়িতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর খবরে ফেনী কম্পিউটার ইনস্টিটিউটে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) সোয়াইব ইমতিয়াজ বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই মজনুর মৃত্যু হয়েছে।

ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুদ্বীপ রায় পলাশ বলেন, ‘হাসপাতালে নেয়ার পর স্বজনরা কাউকে কিছু না বলে মরদেহ নিয়ে চলে গেছেন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’


banner close