মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাণিজ্যমেলা থেকে যাত্রীবেশে অটোরিকশায়, চালককে হত্যা করে ছিনতাই

ফাইল ছবি
প্রতিনিধি, রূপগঞ্জ
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, রূপগঞ্জ
প্রকাশিত : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২০:০২

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আব্দুল হক (৩৮) নামের এক চালককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার পর তার অটোরিকশা ছিনিয়ে নিয়েছে হত্যাকারীরা। এ ঘটনায় ধারালো অস্ত্রসহ অভিযুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে অটোরিকশাটিকেও।

মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার ইসলামবাগ কালী এলাকার হাজী আক্রম আলীর কাঠবাগানে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটে। আব্দুল হক উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কেরাবো এলাকার মৃত আজিম উদ্দিনের ছেলে।

গ্রেপ্তাররা হলেন, উপজেলার কালি এলাকার আলী হোসেনের ছেলে শাহজাহান, ডুলুরদিয়া এলাকার মুমিন মোল্লার ছেলে রাজিব, ইসলামবাগ এলাকার আহমদ বেপারীর ছেলে মাসুদ, আবুল হোসেনের ছেলে ইমন, টেংরাটেক এলাকার সিদ্দিক মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আলী।

পুলিশ বলছে, পূর্বাচলে বাণিজ্যমেলা থেকে যাত্রীবেশে আব্দুল হকের অটোরিকশায় ওঠেন ওই পাঁচজন। ছিনতাইয়ে বাধা দেয়ায় আব্দুল হককে হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন তারা।

রূপগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (ওসি-তদন্ত) আতাউর রহমান দৈনিক বাংলাকে জানান, প্রতিদিনই অটোরিকশা করে বিভিন্ন এলাকায় যাত্রী আনা-নেয়া করতেন আব্দুল হক। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাণিজ্যমেলা থেকে যাত্রীবেশে একদল ছিনতাইকারী তার অটোরিকশায় ওঠেন। এরপর ছিনতাইকারীরা ইসলামবাগ কালী কবরস্থান এলাকার হাজী আক্রম আলীর কাঠবাগানের নির্জন স্থানে নিয়ে আব্দুল হকের কাছ থেকে অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। এসময় চালক বাধা দেন এবং ছিনতাইকারীদের প্রতিরোধের চেষ্টা চালান। এক পর্যায়ে আব্দুল হকের বুকের ডান পাশে ও ডান হাতের বাহুতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন ছিনতাইকারীরা। এতে আব্দুল হক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে বুধবার ভোরে চালক আব্দুল হকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

ওসি জানান, অভিযুক্তরা সকালে তারাবো বরপা এলাকায় ছিনতাই করা অটোরিকশা বিক্রি করতে নিয়ে গেলে সেখানকার দোকানদার ও স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয়। তখন তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ও ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তিতে বলেছেন, অটোরিকশা ছিনতাইয়ে বাধা দেয়ায় ও তাদের প্রতিরোধ করায় বাধ্য হয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।


নির্বাচিত

রাঙামাটিতে হারানো ৪৭টি মোবাইল ফোন উদ্ধার ও মালিকদের হস্তান্তর

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিজয় ধর, রাঙামাটি 

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের সফল প্রচেষ্টায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় উদ্ধার করা হয়েছে হারিয়ে যাওয়া ৪৭টি মোবাইল ফোন। উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনগুলো মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রকৃত মালিকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব। তিনি বলেন, ‘জনসেবার মান উন্নয়নে এবং অপরাধ দমনে প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংকে আরও কার্যকর করতে জেলা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

পুলিশ সূত্র জানা গেছে, রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনগুলো তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শনাক্ত ও উদ্ধার করে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেল।

অনুষ্ঠানে মোবাইল ফোন ফিরে পেয়ে ভুক্তভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং পুলিশ সুপারসহ রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ইকবাল হোছাইন, সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সেলের অন্যান্য সদস্যরা।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জনসেবায় সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকে প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের মাধ্যমে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


নির্বাচিত

শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে নড়াইল মহাসড়ক আবরোধ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নড়াইল প্রতিনিধি

নড়াইলে শিশুকন্যা জান্নাতুল মাওয়া (৫) ওরফে জান্নাতিকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মো. রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোরে ঢাকা-বেনাপোল ভায়া নড়াইল অংশের দত্তপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জান্নাতি নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের মফিজুর রহমানের কন্যা। অভিযুক্ত মো. রবিউল ইসলাম একই গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে।

নিহত জান্নাতির চাচা মো.আতিয়ার হোমেন বলেন, ‘অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম গত সোমবার বিকালের দিকে শিশু জান্নাতিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ শেষে একটি কাঁথার মধ্যে পেঁচিয়ে রেখে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। জান্নাতির বাবা-মা স্বজনরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে তারা রবিউলের বাড়িতে যায়। সেখানে কাঁথায় পেঁচিয়ে রাখা একটি শিশুর দুই পা দেখতে পেয়ে চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসে। শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া অভিযুক্ত রবিউলকে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালের দিকে লোকাল একটি বাস থেকে মহাসড়কের দত্তপাড়া নামক বাসস্ট্যান্ডে নামতে দেখে এলাকার মানুষ তাকে ধরে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ জনতার কাছ থেকে তাকে উদ্ধার করে সদর থানায় নিয়ে আসে। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত রবিউলের ফাঁসির দাবিতে ঢাকা-বেনাপোল ভায়া নড়াইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েকশ যানবাহন আটকা পড়ে। নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ সুপার আল মামুন শিকদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর-ই-আলম সিদ্দিক, সদর থানার ওসি অজয় কুমার কুন্ডু ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আসামির বিরুদ্ধে খুব তাড়াতাড়ি উপযুক্ত বিচারের নিশ্চয়তা দেওয়ার পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘শিশু জান্নাতুল মাওয়া জান্নাতিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে অপরাধীকে ধরতে পুলিশ সব ধরনের চেষ্টা চালিয়েছে।’


নির্বাচিত

পাবনার ভাঙ্গুড়ার সাবেক এমপিপুত্র রাসেল ও তার সহযোগী গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার ভাঙ্গুড়ার নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম হাসনাইন রাসেল ও তার সহযোগী বশির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ‎

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনা ডিবির ওসি রাশিদুল ইসলাম। এর আগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত সোমবার রাত ৩টার দিকে পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। ‎‎ ‎রাসেল পাবনা-৩ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মকবুল হোসেনের বড় ছেলে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আর তার সহযোগী বশির আহমেদ উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ও স্থানীয় এপিক প্রিন্টার্সের মালিক। ‎

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৬ বছর এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল রাসেল ও তার ছোট ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইবনুল হাসান শাকিলসহ প্রভাবশালী কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা। তাদের ক্ষমতার দাপটে এলাকার সব শ্রেণিপেশার মানুষ ছিলেন অসহায়। সে সময়কার বিরোধী দল বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের নামে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দিয়ে হয়রানি করা হতো। এমনকি নিজ দলের একটি অংশকে দল থেকে বিতাড়িত করার মিশন চালিয়েছিলেন তারা।

‎‎এ ছাড়া ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর ও চাটমোহর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ-বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে ওই নেতার বিরুদ্ধে। ‎

‎এরপর ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর জনগণের রোষানল থেকে বাঁচতে রাতের আঁধারে এলাকা থেকে পালিয়ে যান তিনি।

পাবনা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকায় গ্রেপ্তারের পর পাবনা ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে পাবনা আদালতে পাঠানো হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।’


নির্বাচিত

পুলিশে ডিআইজি ও এসপিসহ ১৪ কর্মকর্তার বড় রদবদল

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশ প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল করেছে সরকার। বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি), অতিরিক্ত ডিআইজি এবং পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার মোট ১৪ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করে নতুন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পদায়ন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের প্রজ্ঞাপন শাখা থেকে জারি করা পৃথক তিনটি প্রশাসনিক আদেশে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। জনস্বার্থে জারি করা বিশেষ এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য প্রজ্ঞাপনে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনের বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মো. আতাউল কিবরিয়াকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) ডিআইজি পদে বদলি করা হয়েছে। তাঁর স্থলে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসানকে ময়মনসিংহ রেঞ্জের নতুন ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। একই সাথে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার আবদুল কুদ্দুস চৌধুরীকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি সারোয়ার মোর্শেদ শামীমকে এসএমপির নতুন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি সিআইডির ডিআইজি মাসুদ করিমের পূর্বের একটি বদলি আদেশ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ও পুলিশ সদর দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতেও নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। এন্টি টেররিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন আহমেদকে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি বা পদায়ন দিয়ে র‍্যাবে পাঠানো হয়েছে। আর শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কফিল উদ্দিনকে পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে বদলি করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ের রদবদলে পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছফি উল্লাহকে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়ে আসা হয়েছে এবং তাঁর স্থানে এন্টি টেররিজম ইউনিটের আবু আশরাফকে পাবনার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও প্রশাসনিক প্রয়োজনে বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে নতুন রেঞ্জে যুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ স্টাফ কলেজের অতিরিক্ত ডিআইজি নাসিয়ান ওয়াজেদ, পুলিশ সদর দপ্তরের আ ফ ম নিজাম উদ্দিন এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) বিশেষ পুলিশ সুপার তাহসিন মাশরুফ হোসেন মাসফিকে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের মোহাম্মদ আশিকুর রহমানকে খুলনা রেঞ্জে, ট্যুরিস্ট পুলিশের মো. আপেল মাহমুদকে রাজশাহী রেঞ্জে এবং সিআইডির মীর আবু তৌহিদকে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব তৌহিদ আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে ও প্রশাসনিক গতিশীলতা আনতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

রেলের ইঞ্জিন সংকটে কমেছে পণ্য সরবরাহ, যাত্রী খাতে বেড়েছে আয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সম্প্রসারণ, নতুন ট্রেন চালু, টিকিট বিক্রিতে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির ফলে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজস্ব আয়। বিশেষ করে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যাত্রীভাড়া অপরিবর্তিত থাকা সত্ত্বেও আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে আয়-ব্যয়ের ব্যবধানও কমেছে, যা রেলওয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির মোট রাজস্ব আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ আয় ছিল ১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে রাজস্ব আয় বেড়েছে ২২১ কোটি টাকা। যদিও ইঞ্জিন সংকটের কারণে পণ্য পরিবহন খাতে আয় কমেছে প্রায় ৯ কোটি টাকা। গত রবিবার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ রেলওয়ের জনসংযোগ শাখার পরিচালক আনিসুর রহমান আয়-ব্যয়ের এ তথ্য প্রকাশ করেন।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায় , বর্তমান রেলওয়ে সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম এবং মহাপরিচালক আফজাল হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক সংস্কার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তাদের নেতৃত্বে বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত, নিয়মিত যাচাই-বাছাই ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক তদবির, অনিয়ম, ঘুষ এবং প্রভাবমুক্ত প্রশাসনিক পরিবেশ বজায় রাখার উদ্যোগ রেলওয়ের আর্থিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

তথ্যসূত্র বিশ্লেষনে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের রাজস্ব বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় অবদান এসেছে যাত্রী পরিবহন খাত থেকে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে আয় বেড়েছে ২৫৬ কোটি টাকা। নতুন ট্রেন সংযোজন, যাত্রীসেবা সম্প্রসারণ, অনলাইন ও ডিজিটাল টিকিটিং ব্যবস্থা এবং যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এ খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। অন্যদিকে, ইঞ্জিন সংকটের কারণে মালামাল পরিবহন থেকে আয় কমেছে প্রায় ৯ কোটি টাকা। এছাড়া পরিবহন ও বাণিজ্যিক খাত, যার মধ্যে ভেন্ডিং লাইসেন্স এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক আয় অন্তর্ভুক্ত, সেখানেও রাজস্ব কমেছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। রেল সংশ্লিষ্টদের মতে, ইঞ্জিনের ঘাটতি দূর করা গেলে এবং মালবাহী ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হলে এ খাতেও রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

এদিকে, অন্যান্য কয়েকটি খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ভূসম্পত্তি ব্যবস্থাপনা থেকে আয় বেড়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা এবং রেলওয়ের অপটিক্যাল ফাইবার লিজ থেকে আয় বেড়েছে প্রায় ১২ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালন ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন, রেলপথ ও রোলিং স্টকের রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে চলতি অর্থবছরে আয়-ব্যয়ের অনুপাত (ঙঢ়বৎধঃরহম জধঃরড়) দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৯১, যেখানে আগের অর্থবছরে এ অনুপাত ছিল ২ দশমিক ৯। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে আয়-ব্যয়ের ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক শৃঙ্খলা বৃদ্ধির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা যায় , প্রতিবছর প্রায় এক হাজার কোটি টাকা পেনশন খাতে ব্যয় হয়, যা প্রকৃত পরিচালন ব্যয়ের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। কারণ এটি সরাসরি ট্রেন পরিচালনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এ ব্যয় বাদ দিলে পরিচালন ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা এবং অপারেটিং রেশিও নেমে আসে ১ দশমিক ৪৩-এ। অর্থাৎ, পেনশন ব্যয় বাদ দিলে রেলের পরিচালন ব্যয় রাজস্ব আয়ের তুলনায় মাত্র ৪৩ শতাংশ বেশি থাকে। বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি রাষ্ট্রীয় গণপরিবহন প্রতিষ্ঠান হওয়ায় যাত্রীভাড়া দীর্ঘদিন ধরে রেয়াতি হারে নির্ধারিত রয়েছে। ২০১৬ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত যাত্রীভাড়া বৃদ্ধি করা হয়নি। অথচ এই সময়ে রেলপথ ও ট্রেন রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয়, আমদানিনির্ভর যন্ত্রাংশের মূল্য, ডলারের বিনিময় হার, জ্বালানি তেলের দাম এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও পেনশন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত প্রায় এক দশক ধরে যাত্রীভাড়া অপরিবর্তিত থাকায় বর্তমান বাজারদর এবং অন্যান্য পরিবহনব্যবস্থার ভাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যৌক্তিকভাবে ভাড়া পুনর্র্নিধারণ করা হলে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান আরও কমে আসবে। একই সঙ্গে সেবার মান উন্নয়ন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ রেলওয়েকে আর লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখার সুযোগ থাকবে না বলেও তারা মনে করছেন।


নির্বাচিত

পিরোজপুরের ৩ উপজেলায় পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নামবে জেলা তথ্য অফিস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২১ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৫৬
​পিরোজপুর প্রতিনিধি

পিরোজপুরে ডেঙ্গু পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক অবনতিতে প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপে নামছে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিস। জেলাজুড়ে ডেঙ্গুর গতি রোধ করা ও মাঠপর্যায়ে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ইউনিসেফ’-এর সহায়তায় পিরোজপুর সদর, ভাণ্ডারিয়া ও নেছারাবাদ উপজেলায় অতি শীঘ্রই ‘পরিচ্ছন্নতা অভিযান’ শুরু হতে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া ডেঙ্গু সংক্রান্ত দৈনিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরে জেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৯৬ জনে, যা সমগ্র বরিশাল বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। এদের মধ্যে সর্বমোট ৮৪৬ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ৪৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন (ভর্তি) রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১১ জন রোগী।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, উপজেলাভিত্তিক আক্রান্তের মধ্যে সর্বোচ্চ পিরোজপুর সদরে ৪৩৮ জন (ভর্তি ২৩ জন)। এছাড়া নেছারাবাদে ১৬৪ জন (ভর্তি ৭ জন), ভাণ্ডারিয়ায় ১৪৯ জন (ভর্তি ৭ জন), কাউখালীতে ৬৩ জন (ভর্তি ৪ জন), নাজিরপুরে ৫৫ জন (ভর্তি ৬ জন) এবং মঠবাড়িয়ায় ২৭ জন (ভর্তি ২ জন) আক্রান্ত হয়েছেন। তবে ইন্দুরকানী উপজেলায় এখন পর্যন্ত কোনো ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর তথ্য পাওয়া যায়নি।

জেলা তথ্য অফিস সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানে স্থানীয় তরুণ ও যুব সম্প্রদায়কে সরাসরি যুক্ত করা হচ্ছে। যুবদের সমন্বয়ে গঠিত দলটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ‘হটস্পট’ এলাকা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে টানা পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাবে।

এছাড়া রিস্ক কমিউনিকেশন অ্যান্ড কমিউনিটি এনগেজমেন্ট’ (RCCE) কর্মসূচির অধীনে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে সরকারি দপ্তর, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক ও বিভিন্ন সামাজিক নেটওয়ার্কের প্রতিনিধি নিয়ে বিশেষ সংলাপ সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ে অভিভাবক এবং কমিউনিটি নেতাদের সঙ্গে সচেতনতামূলক মতবিনিময় কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।

বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও সড়ক প্রচার চালিয়ে আসছে জেলা তথ্য অফিস। বড় পর্দায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে জনবহুল স্থানে প্রদর্শন করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সরবরাহকৃত বিশেষ ভিডিও বার্তা। জেলা তথ্য অফিসের অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নিয়মিত সচেতনতামূলক কনটেন্ট প্রচার করা হচ্ছে।

এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত সমন্বিত কমিটি নিয়মিত বৈঠক করে গৃহীত পদক্ষেপসমূহের অগ্রগতি পর্যালোচনা করছে। প্রতিরোধ কার্যক্রমকে একটি গণমুখী সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে গঠন করা হয়েছে ৩টি উপ-কমিটি। সমগ্র জেলায় সার্ভে ও ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে লার্ভিসাইড প্রয়োগসহ জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত শিশুরা, মান্দা শিশু পার্ক খুলে দেওয়ার দাবি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি

নওগাঁর মান্দা উপজেলা পরিষদ চত্বরে নির্মিত ‘শিশু পার্কটি’ দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে রহস্যজনকভাবে বন্ধ রয়েছে। সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই পার্কের সুফল থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছে স্থানীয় কোমলমতি শিশুরা। পার্কটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের ঠিক সামনে অবস্থিত হলেও বছরজুড়ে বন্ধ থাকার বিষয়টি কারও নজরে আসেনি।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পার্কটির প্রধান ফটক তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন জনসাধারণের প্রবেশাধিকার পুরোপুরি বন্ধ থাকায় শিশুরা এর ভেতরে প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে পার্কটি এখন সম্পূর্ণ ভুতুড়ে ও পরিত্যক্ত স্থানে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ এক বছর ধরে কোনো প্রকার রক্ষণাবেক্ষণ বা তদারকি না থাকায় পার্কের ভেতরের চারদিকে বড় বড় ঘাস জন্মে জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। শিশুদের আনন্দের জন্য সরকারি বরাদ্দে কেনা দৃষ্টিনন্দন দোলনা, স্লিপারসহ বিভিন্ন আধুনিক রাইডগুলো অবহেলায় পড়ে থেকে রোদ-বৃষ্টিতে মরিচা ধরে ও ক্ষয় হয়ে দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা কোয়ার্টারের মূল প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও এই পার্কটির সুফল না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। বাসিন্দারা জানান, বিকালে শিশুদের একটু মুক্ত বাতাস বা খেলাধুলার আর কোনো বিকল্প জায়গা নেই। পার্কের গেট বন্ধ থাকায় শিশুরা এখন গৃহবন্দি হয়ে মোবাইল ও ডিজিটাল ডিভাইসের প্রতি মারাত্মকভাবে আসক্ত হয়ে পড়ছে, যা তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশকে ব্যাহত করছে।

স্মরণিকা ফলক অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ৩ আগস্ট তৎকালীন সরকারের বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী পার্কটির প্রথম উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে, ২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বর তদানীন্তন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম মওলা এর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন কাজের শুভ উদ্বোধন করেছিলেন। কিন্তু উদ্বোধনের সুফল ধরে রাখতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন। সরকারের মূল্যবান সম্পদ এভাবে নষ্ট হতে দেখে অবিলম্বে পার্কটি পরিষ্কার করে সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার জোর দাবি উঠেছে। পার্ক উন্নয়নে বারবার বরাদ্দ নেওয়া হলেও বন্ধ থাকার কারণে এর অস্তিত্ব বিলীন হতে চলেছে।

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তার জাহান সাথী বলেন, ‘স্কুলের শিক্ষার্থীরা এসে বসে থাকে এখানে, তাই পার্কটি বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্ষার পর সংস্কার করে পার্কটি আবার খুলে দেওয়া হবে।’


নির্বাচিত

টাঙ্গাইলে যমুনার ভাঙনে বিলীন ৬০ ফুট সড়ক, যান চলাচল বন্ধ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শামীম আল মামুন, টাঙ্গাইল

যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের শাখারিয়া-নলিন এলাকায় তারাকান্দি-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক সড়কের পাশের একটি বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

গত কয়েক দিনের অব্যাহত ভাঙনে নলিন বাজারসংলগ্ন এলাকায় গত সোমবার (২০ জুলাই) রাতেও প্রায় ৬০ ফুট সড়ক নদীতে তলিয়ে যায় এবং সড়কের মাঝখানে নতুন করে ফাটল দেখা দেয়। ঝুঁকির কারণে টানা তৃতীয় দিনের মতো মহাসড়কটিতে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তারা কয়েক কিলোমিটার জায়গা ঘুরে যাতায়াত করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের চাপে শাখারিয়া স্লুইস গেটসংলগ্ন এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে সড়কের একটি বড় অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের আশঙ্কায় আশপাশের বাড়িঘরের বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, সড়ক কাম বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি সম্পূর্ণ ভেঙে গেলে গোপালপুরসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যাকবলিত হতে পারে। এতে কয়েক লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এর আগে ভাঙন দেখা দিলে প্রথমে স্থানীয়রা তা রোধের চেষ্টা করে। এ সময় নদীর স্রোত কমাতে সড়কের পাশে গাছের বড় বড় গুঁড়ি নদীতে ফেলা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় শিক্ষিকা ময়না আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘কার্যকর নদী শাসনের ব্যবস্থা না হলে ভবিষ্যতে যমুনা নদীর প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। একটি স্থায়ী বাঁধের ব্যবস্থা হলে সড়ক এবং নদীপাড়ের মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবে। মাসখানেক ধরে ভাঙন শুরু হয়েছে এলাকায়। প্রথমেই ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে এমন পরিস্থিতি হতো না। সড়কটি ভেঙে গেলে যোগাযোগ বন্ধসহ ক্ষতিগ্রস্ত হবে হাজারও পরিবার।’

এ ছাড়াও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান (দায়িত্বপ্রাপ্ত) শামসুল আলম বলেন, ‘শাখারিয়া ও নলিন এলাকার ভাঙনকবলিত স্থানে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আঞ্চলিক মহাসড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হবে এবং বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।’

সড়কে ফাটল ও ভাঙনের খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরে ভাঙনরোধে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে শাখারিয়া স্লুইস গেটসংলগ্ন ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১০০ ফুট এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং করতে দেখা যায়।

গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মঞ্জুরুল মোর্শেদ বলেন, ‘যমুনায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্রোতের চাপ বেড়েছে। ভাঙনের খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইন উদ্দিন বলেন, ‘পানির তীব্র চাপে আঞ্চলিক মহাসড়কের ওই অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে এবং নদীর গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’


নির্বাচিত

রক্তদাতাদের সম্মান জানাতে নওগাঁয় মানবিক আয়োজন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

জীবন বাঁচাতে রক্তদানের গুরুত্ব জরুরি মুহূর্তেই বোঝা যায়। নওগাঁয় সাড়ে ছয় হাজার ব্যাগ রক্তদান করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নওগাঁ ব্লাড সার্কেল। সেই রক্তদাতাদের সম্মান জানাতে মানবিক আয়োজন করেছে সংগঠনটি।

গত সোমবার (২০ জুলাই) শহরের নওগাঁ সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে প্রায় দেড়শ রক্তদাতাকে নিয়ে এই সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক রাহাদ হাসান আকাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. নাসিমুজ্জামান। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক্তার মো. আব্দুল মতিন।

নওগাঁ ব্লাড সার্কেলের আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সহযোগিতায় ছিল বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাব। স্পন্সর হিসেবে ছিল নওগাঁ পিপলস সিটি এবং জিমা ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন।

নওগাঁ ব্লাড সার্কেলের সদস্য রাহাদ হাসান আকাশ বলেন, ‘ঢাকার মতো বড় শহরগুলোতে রক্তের খোঁজ পাওয়া যতটা সহজ, মফস্বল বা জেলা শহরগুলোতে সেই লড়াইটা অনেক বেশি কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। প্রত্যন্ত অঞ্চলে রক্তদাতার অভাব, যাতায়াতের সমস্যা এবং রক্তের গ্রুপ সম্পর্কে অসচেতনতার কারণে বহু রোগীকে চরম সংকটে পড়তে হয়। এই সংকট দূর করতে এবং নওগাঁ জেলায় রক্তের অভাবে যেন কোনো মানুষের প্রাণ না যায়, সেই স্বপ্ন নিয়ে একঝাঁক তরুণের হাত ধরে ২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নওগাঁ ব্লাড সার্কেল। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা এখন পর্যন্ত সাড়ে ছয় হাজার ব্যাগের বেশি রক্তদান করতে সক্ষম হয়েছি।’

প্রধান অতিথি অধ্যক্ষ মো. নাসিমুজ্জামান বলেন, ‘আমার শিক্ষার্থীদের এই মানবিক উদ্যোগ আমাকে আনন্দিত করেছে। আশা করি, তারা ভালো স্টুডেন্ট হওয়ার পাশাপাশি ভালো মানুষ হিসেবেও দেশ ও সমাজের জন্য ভূমিকা রাখবে।’

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নওগাঁ ব্লাড সার্কেলের উপদেষ্টা কাজী আলমগীর, আব্বাস আলী, আরমান হোসেন রুমন, সাজু রহমান সুজন, শাহনেওয়াজ রক্সি প্রমুখ।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাদিয়া আফরিন, রিজভী আহম্মেদ রিজোয়ান, সূচনা আফরিন, বর্ষা, কাজী জেরিন, স্নেহা নন্দী, সাব্বির আহমেদ প্রমুখ।


নির্বাচিত

বগুড়ায় ফুটবল ধুতে গিয়ে পানিতে ডুবে ভাই বোনসহ ৩ শিশুর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রবীর মোহন্ত, বগুড়া

বগুড়ার কাহালু উপজেলায় ফুটবল খেলা শেষে বল ধুতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে আপন ভাই-বোনসহ তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার মুরইল ইউনিয়নের ভালতা গুচ্ছগ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সাঁতার না জানায় তারা পানিতে তলিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

নিহত শিশুরা হলেন-ভালতা গুচ্ছগ্রামের আসাদুল ইসলামের ছেলে জাকিরুল (৬) একই গ্রামের ফারুক মন্ডলের ছেলে ফাইম (৮) ও মেয়ে সুরাইয়া (৫)। ফাইম ও সুরাইয়া আপন ভাই-বোন।

জানা যায়, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে তিন শিশু নিজ নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে খেলার পর বল ধোয়ার জন্য তারা গুচ্ছগ্রামের পাশের পুকুরে নামে। বেলা একটার দিকে স্থানীয় এক নারী পুকুরের পানিতে জাকিরুলের লাশ ভাসতে দেখে চিৎকার দেন।

পরে স্থানীয় বাসিন্দারা এসে জাকিরুলকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে ফাইম ও সুরাইয়া ঘরে না ফেরায় তাদের পরিবার খুঁজে না পেয়ে স্থানীয় মিন্টু প্রামানিক নামের এক ব্যক্তি পুকুরে নামেন। পুকুর থেকে তিনি ফাইমের লাশ উদ্ধার করেন। তবে সুরাইয়ার সন্ধান না মেলায় ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে খাসের পুকুর থেকে শিশু সুরাইয়ার লাশ উদ্ধার করেন।

কাহালু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান ওসি।


নির্বাচিত

বন্যাদুর্গত ৮০ পরিবারের পাশে দাঁড়াল বাকৃবির চট্টলা সমিতি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাকৃবি প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) চট্টলা সমিতির উদ্যোগে ৮০টি পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। এ কার্যক্রমে মোট ১ লাখ ৯০ হাজার ১৮০ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকৃবি চট্টলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাজিদ হোসেন।

তিনি জানান, সমিতির সভাপতি ও ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুনুর রশীদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ত্রাণ তহবিলে বিকাশ, নগদ ও ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে ২২ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া পূর্ববর্তী ত্রাণ তহবিল থেকে যুক্ত করা হয়েছে ৪০ হাজার ৫০০ টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল ও অনুষদের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অনুদান থেকে এসেছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৩১০ টাকা।

ত্রাণ কার্যক্রমের আওতায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নের ৪৫টি পরিবারকে জনপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা এবং বাহারছড়া ইউনিয়নের ১৫টি পরিবারকে একই হারে মোট ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার ২০টি পরিবারকে জনপ্রতি ২ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাজিদ হোসেন ও দপ্তর সম্পাদক জুলফিকার সুলতানুল আমির।

এসময় সাজিদ হোসেন বলেন, 'প্রথমবারের মতো বন্যাকবলিত এলাকায় গিয়ে মানুষের অসহনীয় দুর্ভোগ খুব কাছ থেকে দেখেছি। বাস্তবতা এতটাই কঠিন যে, একই দেশের নাগরিক হয়েও তা বিশ্বাস করা কঠিন। আমাদের সামর্থ্য সীমিত হলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতেও যেকোনো মানবিক দুর্যোগে চট্টলা সমিতির এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।'


নির্বাচিত

নানান সংকটে জৌলুস হারাচ্ছে ঠাকুরগাঁও শিল্পকলা একাডেমি

* আধুনিক শিল্পকলা একাডেমির প্রত্যাশা এলাকাবাসীর
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোহেল রানা, ঠাকুরগাঁও

যে ভবন থেকে ছড়িয়ে পড়ার কথা ছিল নাটক, আবৃত্তি, নৃত্য আর গানের সুর, আজ সেখানে অনেকাংশেই নীরবতার দীর্ঘশ্বাস। যেন বাধ্য হয়ে জীর্ণতাকে আলিঙ্গন করেছে সংস্কৃতি চর্চার এ ঘর। ঠাকুরগাঁও শিল্পকলা একাডেমি জেলার সাংস্কৃতিক চর্চার প্রাণকেন্দ্র হওয়ার কথা থাকলেও, জীর্ণতা আর অবহেলায় নিজেই যেন হারিয়ে ফেলতে বসেছে নিজের পরিচয়। এই জীর্ণতা কাটিয়ে আবারও প্রাণবন্ত পরিবেশ ও নিজের জৌলুস ফিরে পাবে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রত্যাশা জেলার সংস্কৃতিমনা মানুষের।

একটি জেলার সংস্কৃতি শুধু মঞ্চে সীমাবদ্ধ থাকে না। সেটি ছড়িয়ে পড়ে মানুষের চিন্তায়, মননে, নতুন প্রজন্মের স্বপ্নে। আর সেই স্বপ্নের কারিগর হওয়ার কথা যে শিল্পকলা একাডেমির, আজ সে একাডেমির দিকে তাকালেই মনে হয়— সময়ের ভারে ক্লান্ত এক পরিত্যক্ত ভবন। খসে পড়ছে দেয়ালের পলেস্তারা। বিভিন্ন জায়গায় ফুটে উঠেছে অবহেলার চিহ্ন। আধুনিকতার ছোঁয়া না পড়ায় জৌলুস হারিয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে আছে জেলা শিল্পকলা একাডেমি।

এখানে জনবল সংকট দীর্ঘদিনের। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দিন দিন হারাচ্ছে ভবনের চাকচিক্য। বিশুদ্ধ খাবার পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। অভিভাবকদের বসার উপযুক্ত স্থানও নেই। আধুনিক বাদ্যযন্ত্র, সাউন্ড সিস্টেম কিংবা প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের সুযোগ না থাকায় পিছিয়ে পড়ছে এখানকার প্রতিভাবান শিশু-কিশোররা। তাদের স্বপ্ন আছে, মেধা আছে, কিন্তু সেই স্বপ্নকে ডানা মেলার মতো পরিবেশ নেই।

একসময় ঠাকুরগাঁও ছিল সাংস্কৃতিক আয়োজনের প্রাণবন্ত জেলা। নাটক, সংগীত, নৃত্য আর আবৃত্তিতে মুখর থাকত শহর। এখান থেকে উঠে এসেছেন অনেক গুণী শিল্পী।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন প্রজন্মের জন্য সেই চর্চার পরিসর আর আগের মতো বিস্তৃত হয়নি। সুযোগ-সুবিধার সীমাবদ্ধতায় অনেক প্রতিভাই হারিয়ে যাচ্ছে অঙ্কুরেই।

মাহাবুব আলম বলেন, ‘সংস্কৃতি শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়। এটি একটি জাতির পরিচয়, মূল্যবোধ আর মানবিকতার ভিত্তি। তাই একটি শিল্পকলা একাডেমির অবহেলা মানে শুধু একটি ভবনের অবক্ষয় নয়— ধীরে ধীরে নিভে যাওয়া অসংখ্য স্বপ্নের আলো।’

গিটার শিখতে আসা মাসুদ রানা বলেন, ‘শিল্পকলা একাডেমিতে আধুনিক কোনো বাদ্যযন্ত্র না থাকায় আমরা যুগের সাথে তাল মিলিয়ে কোনোকিছু শিখতে পারছি না। এমন চলতে থাকলে আমরা পিছিয়ে পড়ব।’

শিশুকে নিয়ে আসা এক অভিভাবক বলেন, ‘এখানে অপেক্ষা করার মতো একটা ঘর বা বসার ব্যবস্থা নেই। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই। আমরা এ সমস্যাগুলোর সমাধান চাই।’

সাংস্কৃতিক প্রেমি জাফর ইকবাল বলেন, ‘আমাদের শিশুরা এখানে শিখবে, নিজেতের মেধার বিকাশ ঘটাবে। কিন্তু পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় তারা বঞ্চিত হচ্ছে। এখানে সংস্কৃতি চর্চার ব্যাপক প্রসার না ঘটলে সমাজে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।’

ঠাকুরগাঁও জেলা কালচারাল অফিসার মো. আলমগীর কবির বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও শিল্পকলা একাডেমিতে ধারাবাহিকভাবে সংস্কারের অভাব লক্ষণীয়। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এখানকার সকল শিল্পীগোষ্ঠীর জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে চাহিদামতো বরাদ্দ চেয়েছি। বরাদ্দ পেলে সংস্কৃতি চর্চার প্রসার ঘটবে।’

ঠাকুরগাঁও শান্তিপ্রিয়, সংস্কৃতিমনা মানুষের জেলা। এই জেলার শিশু-কিশোরদের প্রতিভার কোনো ঘাটতি নেই। তাদের প্রয়োজন শুধু একটি আধুনিক, প্রাণবন্ত আর যত্নে গড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক ঠিকানা। শিল্পকলার এই নীরব দেয়ালগুলো হয়তো আজও অপেক্ষা করছে— আবারও গান, নাটক আর করতালির শব্দে জেগে ওঠার জন্য।


নির্বাচিত

পদ্মা ট্রেনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ

* ভোগান্তিতে শত শত যাত্রী, টিটির শাস্তির দাবিতে ট্রেন চলাচল বন্ধ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী ব্যুরো

বাংলাদেশ রেলওয়ের পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে টিকিট এক্সামিনারের (টিটিই) বিরুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। টিটিইর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেন একদল শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় এই অবরোধের কারণে সারা দিন রাজশাহীর সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল। আন্তনগর ও লোকালসহ বেশ কয়েকটি ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা পড়েন ভোগান্তিতে।

ঢাকাগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেসে ওঠার অপেক্ষায় থাকা সাদমান হক বলেন, ‘চার ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি। তার পরেও ট্রেন আসার কোনো খবর নেই তাই বাধ্য হয়ে বসে আছি।

অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে ঢাকায় যাওয়া যাত্রী রোকসানা বেগম বলেন, 'আমার স্বামী অসুস্থ। জরুরি ভিত্তিতে আমাদের ঢাকায় যেতে হবে। কিন্তু ট্রেন কখন ছাড়বে, কেউ বলতে পারছে না। কেউ কোনো তথ্যও দিচ্ছে না। অপেক্ষা করব, নাকি বাসে চলে যাব, বুঝতে পারছি না।'

আরেক যাত্রী ফজলুল হকও ভ্রমণ না করেই স্টেশন ছেড়ে চলে যান।

তিনি বলেন, 'এভাবে মানুষকে কষ্ট দেওয়ার কোনো মানে হয় না। শুনেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ চলছে। কিন্তু এর ভোগান্তি আমাদের কেন পোহাতে হবে?'

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন ব্যবস্থাপক জিয়াউল আহসান জানান, ঢাকাগামী বনলতা এক্সপ্রেস, সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, ঢালারচর এক্সপ্রেস, মহানন্দা এক্সপ্রেস, ঢাকা মেইল এবং অন্যান্য যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

তিনি বলেন, 'এই সময়ে চলাচলের জন্য নির্ধারিত সব ট্রেনের কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়েছে।'

তিনি আরও জানান, রাজশাহী থেকে প্রতিদিন ৩২টি ট্রেন চলাচল করে।

তিনি বলেন, যেসব যাত্রী ভ্রমণ করতে পারছেন না, তাদের টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে।

আহসান বলেন, অভিযুক্ত টিটিইকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে বিক্ষোভকারীরা তাকে তাদের সামনে হাজির করার দাবি জানাচ্ছেন।

তিনি বলেন, 'অভিযুক্ত টিটিইর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনের মাধ্যমেই বিষয়টির সমাধান হওয়া উচিত।'

তিনি আরও জানান, অচলাবস্থা নিরসনে বিভাগীয় কমিশনার, রাবির উপাচার্য এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপককে নিয়ে একটি বৈঠক চলছে।

রাবির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফুরকান উদ্দিন অভিযোগ করেন, গত রোববার পদ্মা এক্সপ্রেসে সরকারি রসিদ ছাড়া যাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের প্রতিবাদ করায় তাকে মারধর করা হয়। এ ঘটনার পরই শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। তারা অভিযুক্তের শাস্তি, নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রেলওয়ে স্টেশনে সব আন্তনগর ট্রেনের নির্ধারিত যাত্রাবিরতির দাবি জানাচ্ছেন।


নির্বাচিত

banner close